শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
১৩ চৈত্র ১৪৩২

ওয়েব ফিল্মে বিয়ের গান গাইলেন আঁখি আলমগীর

সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৩:৩১

আজ চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে ওয়েব ফিল্ম পূর্ণমিলনে। জনপ্রিয় নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ানের পরিচালনায় ফিল্মের গল্প তৈরি হয়েছে কাজিনদের সম্পর্কের নানান বাঁক-মাত্রা, আনন্দ-হাসি, টুকরো অভিমান, কিছু টানাপোড়ন, সংশয় আর দ্বন্দ্ব নিয়ে।

যেখানে আছে একটি বিয়ের গান। এই গানে কন্ঠ দিলেন জনপ্রিয় সংগীত তারকা আঁখি আলমগীর।

`আমরার সিলটী দামান/মুখত রুমাল দিয়া তাইনে চাবাইন ফান/ আমরার কইন্যা রূপবান/ আরশি পরশি মিইল্যা হলদি মেন্দি লাগান’ কথার এই গানটি লিখেছেন হালের জনপ্রিয় গীতিকার সোমেস্বর অলি। সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন জাহিদ নিরব। আর আঁখি আলমগীরের সঙ্গে গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন সাইফ জামান।

এরইমধ্যে গানটি প্রকাশ পেয়েছে। সবাই বেশ প্রশংসাও করছেন গানটির।

এদিকে এই সিনেমার মধ্যে দিয়ে প্রথমবারের মতো জুটি বাঁধছেন সিয়াম আহমেদ ও তাসনিয়া ফারিণ। সিয়াম-ফারিণ ছাড়াও এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাশ্বত দত্ত, নূর ইমরান মিঠু, তাজনূভা জাবীন, নওবা তাহিয়া, দীপ্ত দে, জান্নাতুল ফেরদৌস কাজল, টুনটুনি হামিদ, মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, শোয়েব মনির, হামিদুর রাহমান, গোলাম ফরিদা ছন্দা, মালা ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।

পরিচালক মিজানুর রহমান আরিয়ান সিনেমাটি নিয়ে বলেন, ‘কোনো ট্যুরে গেলে বন্ধুত্ব হয়, আবার অফিস ও ইউনিভার্সিটিতে বন্ধুত্ব হয়। আমরা স্কুল-কলেজের বন্ধুত্বের গল্প দেখি। তবে একটা গল্প দেখানো হয় না সেটা হলো কাজিনদের বন্ধু্ত্বের গল্প। এবার আমার গল্প হলো কাজিনদের বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে।

‘আমাদের ফান, ফর্তি ও পুনর্মিলনে সবাইকে নস্টালজিক ফিল দিবে। সিনেমাটা দর্শক একাও দেখতে পারবে আবার পরিবার, বন্ধু, কাজিন সবাইকে নিয়েই উপভোগ করতে পারবেন।‘

বিষয়:

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাগৃহে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’: অস্ট্রেলিয়ার পর এবার যুক্তরাজ্যের পথে

আপডেটেড ২৭ মার্চ, ২০২৬ ১৪:৩৯
বিনোদন ডেস্ক

দেশীয় দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টির পর এবার বিশ্বমঞ্চে যাত্রা শুরু করেছে নির্মাতা তানিম নূরের চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। দেশীয় বক্স অফিসে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে সিনেমাটি এখন প্রবাসী দর্শকদেরও মাতাতে প্রস্তুত।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) থেকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান প্রধান শহরগুলোর প্রেক্ষাগৃহে তারকাবহুল এই সিনেমাটি প্রদর্শিত হচ্ছে। নির্মাতা এবং ছবির পরিবেশক বঙ্গজ ফিল্মস আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পরিবেশক সূত্র জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংকস টাউন, ক্যাম্পবেল টাউন ও ক্যারোসলসহ মোট ১৯টি সিনেমা হলে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী এপ্রিল মাস থেকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহেও ছবিটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বরেণ্য লেখক হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমার মূল প্রেক্ষাপট একটি ট্রেনযাত্রা এবং এর যাত্রীদের যাপিত জীবনের নানা গল্প। এই চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরিফুল রাজ, সাবিলা নূর ও আজমেরী হক বাঁধন। মুক্তির পর থেকে গণমাধ্যমে আসা খবর অনুযায়ী, ছবিটির জনপ্রিয়তা ও বক্স অফিস সংগ্রহ প্রতিদিন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে।


একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান মারা গেছেন

সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান আর নেই। দীর্ঘ সংগীতজীবনের পর তার প্রস্থান দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করল।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন ভুগছিলেন এই গুণী শিল্পী।

সংগীতজীবনের শুরুটা হয়েছিল ১৯৪৭ সালে, যখন তৎকালীন ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ঢাকা কেন্দ্র থেকে তার গান প্রথম সম্প্রচারিত হয়। এরপর পঞ্চাশ থেকে সত্তর দশক পর্যন্ত রেডিও ও চলচ্চিত্রে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দেন তিনি। পল্লিগীতি ও আধুনিক গানে তার দক্ষতা তাকে বিশেষ উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন।

বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ সমর দাসের সুরে তার গাওয়া ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি আজও শ্রোতাদের মনে অমলিন। পাশাপাশি জহির রায়হান পরিচালিত ‘কখনো আসেনি’ ছবিতে খান আতাউর রহমানের সুরে ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’ এবং ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’ গানগুলো তাকে কিংবদন্তির আসনে প্রতিষ্ঠিত করে।

এছাড়া ‘জাগো হুয়া সাভেরা’, ‘আসিয়া’, ‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘সোনার কাজল’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ ও ‘সাত ভাই চম্পা’র মতো চলচ্চিত্রে নেপথ্য কণ্ঠ দিয়ে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা সিনেমার সংগীতভাণ্ডার।

ব্যক্তিজীবনে ১৯৫০ সালে আবুল হাসনাতের সঙ্গে তার প্রথম বিয়ে হলেও তা স্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে খান আতাউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। এই দম্পতির এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে, যাদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা ইসলাম।


সংসার ভাঙল অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদের

ছবি : অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ ও লেখক-নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানার দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটেছে। প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে হলেও শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক টেকেনি।

এই বিচ্ছেদের বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন মৌসুমী। তবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আপনারা যা শুনেছেন, ঠিকই শুনেছেন। এ নিয়ে বিস্তারিত বলার মতো মানসিক অবস্থায় নেই আমি।’

জানা যায়, গত বছরের নভেম্বর থেকেই তারা আলাদা বসবাস করছেন। এর আগে থেকেই রানার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে শোবিজ অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল।

শোনা যাচ্ছে, এক তরুণীর সঙ্গে রানার ঘনিষ্ঠতা থেকেই দাম্পত্য কলহের শুরু। ধীরে ধীরে সেই দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে ওঠে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

পরবর্তীতে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব না হওয়ায় বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন রানা। তিনি মৌসুমীর কাছে ডিভোর্স লেটার পাঠান।

এদিকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মৌসুমীর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন মৌসুমী ও রানা। দুই বছরের পরিচয়ের পর পরিবারের সম্মতিতেই তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছিল।

বিয়ের সময় মৌসুমী বলেছিলেন, ‘রানার সঙ্গে আমার দুই বছরের পরিচয়। এরপর আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই। দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলি। সবার সম্মতি নিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে নিচ্ছি।’

অভিনয়জীবনে মৌসুমীর পথচলা শুরু হয় লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। এরপর ছোটপর্দায় নিয়মিত কাজের পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।

এদিকে গুঞ্জন রয়েছে, রানার কথিত সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। নুসরাত তুবা নামে এক তরুণীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার খবর শোনা গেছে, যিনি একই নির্মাণ সংস্থায় কাজ করেন।

এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাদের সম্পর্কে অবিশ্বাস ও অস্থিরতা তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদে গড়ায়।


বক্স অফিসে সিয়ামের ‘রাক্ষস’ চমক: দর্শক চাহিদায় মাল্টিপ্লেক্সে বাড়ছে শো সংখ্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত ডার্ক-থ্রিলার ঘরানার চলচ্চিত্র ‘রাক্ষস’ দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদের ভিন্নধর্মী অভিনয় ও টানটান উত্তেজনার গল্প দেখতে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ভিড় করছেন সিনেমাপ্রেমীরা। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই ইতিবাচক আলোচনা ও দর্শক চাহিদার কারণে মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে সিনেমাটির প্রদর্শন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় এক প্রাপ্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

রাজধানীর জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স স্টার সিনেপ্লেক্সে ঈদের দিন মাত্র ১৪টি শো দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ‘রাক্ষস’। তবে দর্শকদের অভূতপূর্ব সাড়া দেখে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে শো সংখ্যা বাড়িয়ে ২০-এর অধিক করা হয়েছে। এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ছবির প্রযোজক শাহরিন আক্তার সুমি। তিনি জানিয়েছেন যে, দিন যত যাচ্ছে দর্শকদের আগ্রহ তত বাড়ছে এবং শো সংখ্যা বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে সিনেমাটি বড় ধরনের বাণিজ্যিক সাফল্য বয়ে আনবে বলে তারা আশাবাদী। মূলত সিয়াম আহমেদের লড়াকু ও রহস্যময় উপস্থিতি দর্শকদের বারবার প্রেক্ষাগৃহে টেনে আনছে।

তরুণ নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়ের পরিচালনায় এটি তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। এর আগে তিনি ‘বরবাদ’ সিনেমাটি নির্মাণ করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘রাক্ষস’ চলচ্চিত্রটি তাঁর আগের আলোচিত সিনেমা ‘বরবাদ’-এর একটি বিস্তৃত ইউনিভার্সের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করেছে। সিয়াম আহমেদের বিপরীতে এতে অভিনয় করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুষ্মিতা চ্যাটার্জি। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন গুণী অভিনেতা আলী রাজ ও সোহেল মণ্ডলের মতো দক্ষ অভিনয়শিল্পীরা।

সিনেমাটির অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক। একটি বিশেষ গানে তাঁর আকর্ষণীয় পারফরম্যান্স দর্শকদের মাঝে আলাদা কৌতূহল ও উত্তেজনা তৈরি করেছে। বড় ক্যানভাসের এই সিনেমাটির কারিগরি মান ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট নিশ্চিত করতে দৃশ্যধারণ করা হয়েছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের মুম্বাইয়ের বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি এর আগে শাকিব খান অভিনীত ‘বরবাদ’ নির্মাণ করে ব্যবসায়িক সফলতা পেয়েছিল এবং এবার সিয়ামের ‘রাক্ষস’ দিয়েও সেই সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে এবারের ঈদে ‘রাক্ষস’ তার নিজস্ব ঘরানার দর্শকদের মুগ্ধ করে জয়জয়কার বজায় রেখেছে।


ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আরিফিন শুভর রাজকীয় অভিষেক: সনি লিভে ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে 'জ্যাজ সিটি'

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেন। ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর অভিনীত প্রথম ওয়েব সিরিজ 'জ্যাজ সিটি' এখন ভারতে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে রয়েছে। মুক্তির মাত্র কয়েক দিনের মাথায় সিরিজটি দর্শকপ্রিয়তার সব রেকর্ড ভেঙে টানা দুই দিন ধরে ভারতের ট্রেন্ডিং তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে। আরিফিন শুভর এই অভাবনীয় সাফল্য কেবল তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেই নয়, বরং ঢালিউডের শিল্পীদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গেল ১৯ মার্চ সনি লিভে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পায় ১০ পর্বের এই দীর্ঘ ওয়েব সিরিজ। প্রায় ৮ ঘণ্টা ব্যাপ্তির এই প্রোডাকশনটি মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়তে শুরু করে। গত ২৩ মার্চ এটি প্রথমবারের মতো সনি লিভের ভারতীয় ট্রেন্ডিং চার্টের এক নম্বর অবস্থানে উঠে আসে এবং আজ ২৪ মার্চও সেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। শুধু সাধারণ দর্শকই নন, ভারতের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোতেও আরিফিন শুভর অনবদ্য অভিনয় নিয়ে ব্যাপক ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম আর আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণের মেলবন্ধনে এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

'জ্যাজ সিটি' সিরিজের পুরো কাহিনী আবর্তিত হয়েছে কেন্দ্রীয় চরিত্র 'জিমি রয়'-কে কেন্দ্র করে, যা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন আরিফিন শুভ। এই চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে চারটি ভিন্ন ভাষায় সংলাপ বলতে হয়েছে— বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি। বহুজাতিক প্রেক্ষাপটের এই সিরিজে শুভর সাবলীল বাচনভঙ্গি এবং অভিনয়শৈলী ভারতীয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। উল্লেখ্য যে, হিন্দি ও ইংরেজির পাশাপাশি এই সিরিজের মাধ্যমেই সনি লিভ প্রথমবারের মতো তাদের প্ল্যাটফর্মে বাংলা ভাষায় কোনো অরিজিনাল কন্টেন্ট প্রকাশ করল, যা বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের জন্য একটি বিশেষ প্রাপ্তি।

সিরিজটি পরিচালনা করেছেন বলিউডের খ্যাতিমান পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার সৌমিক সেন, যিনি এর আগে 'জুবিলি'র মতো জনপ্রিয় সিরিজের সহ-স্রষ্টা হিসেবে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছেন। সিরিজে আরিফিন শুভর বিপরীতে প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওপার বাংলার পরিচিত মুখ সৌরসেনী মিত্র। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শান্তনু ঘটক, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, সায়নদীপ সেন, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, শতফ ফিগার, অ্যালেক্সান্দ্রা টেলর এবং অমিত সাহার মতো দক্ষ অভিনয়শিল্পীরা। শিল্পীদের এই চমৎকার রসায়ন এবং গল্পের গভীরতা সিরিজটিকে পূর্ণতা দিয়েছে।

'জ্যাজ সিটি' নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সত্তরের দশকের উত্তাল পটভূমিতে। সেই সময়ের জটিল সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, মানুষের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এবং ইতিহাসের বাঁক বদলের এক নিখুঁত চিত্রায়ন এই সিরিজে তুলে ধরা হয়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে রোমাঞ্চকর গল্পের সংমিশ্রণ সিরিজটিকে সাধারণ থ্রিলারের চেয়ে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। প্রথম প্রজেক্টেই এমন রাজকীয় সাফল্য আরিফিন শুভকে ভারতের বিশাল বিনোদন বাজারে স্থায়ী ও শক্তিশালী অবস্থান তৈরিতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন চলচ্চিত্র বোদ্ধারা। এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক সুযোগ ও গল্পের অভাব না থাকলে বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীরা যেকোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম।


৫ দিনেই ৮০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করল ‘ধুরন্ধর ২’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বলিউড মেগাস্টার রণবীর সিং ও খ্যাতনামা পরিচালক আদিত্য ধরের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘ধুরন্ধর ২’ বক্স অফিসে আক্ষরিক অর্থেই এক বিধ্বংসী ঝড় তুলেছে। গত ১৯ মার্চ বিশ্বব্যাপী মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি একের পর এক রেকর্ড ভেঙে নতুন এক ইতিহাস রচনা করছে। আধুনিক বলিউডের ইতিহাসে এই সিনেমার সাফল্যকে নজিরবিহীন হিসেবে দেখছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষক ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা। মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে বিশ্বজুড়ে ছবিটির মোট আয় ৮০০ কোটির গণ্ডি অতিক্রম করেছে, যা বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক মন্দাভাবের মাঝেও ভারতীয় সিনেমার শক্ত অবস্থানকে পুনরায় প্রমাণ করল।

টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং বিভিন্ন ট্রেড অ্যানালিস্টদের তথ্যানুযায়ী, সিনেমাটি মুক্তির প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কেবল ভারতীয় বাজার থেকেই এর নিট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি রুপি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবিটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী এর সামগ্রিক সংগ্রহ ইতিমধ্যে ৮০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। মুক্তির প্রথম দিনেই ভারত থেকে ১০২.৫৫ কোটি রুপির ব্যবসা করে চমক দেখায় সিনেমাটি। এর সাথে প্রিমিয়ার শো মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রথম দিনের আয় ছিল প্রায় ২৪০ কোটি রুপি, যা বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী ওপেনিং হিসেবে রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছে।

সিনেমাটির এই অভাবনীয় অগ্রযাত্রা এখানেই থমকে থাকেনি। তিন দিনের মাথায় এটি ৩০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করে এবং চতুর্থ দিনেই ৫০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করে। বর্তমান ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, মুক্তির ছয় দিন শেষে ভারতের বাজার থেকে ৬২০ কোটির বেশি এবং বিশ্বব্যাপী ৭৫০ কোটি থেকে ৮০০ কোটির কাছাকাছি আয় বজায় রেখেছে ‘ধুরন্ধর ২’। নির্মাতারা অত্যন্ত আশাবাদী যে, সিনেমাটি অচিরেই কেবল ভারতীয় বাজারেই ৬৫০ কোটির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এবং বৈশ্বিক আয়ের ক্ষেত্রে ১০০০ কোটির ক্লাবের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাবে।

রেকর্ড ভাঙার প্রতিযোগিতায় ‘ধুরন্ধর ২’ ইতিমধ্যে শাহরুখ খানের ‘জওয়ান’, ‘পাঠান’ কিংবা আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা ২’-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমাগুলোর অগ্রযাত্রাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের মধ্যে দ্রুততম সময়ে ৭০০ কোটির আন্তর্জাতিক আয় ছোঁয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছে রণবীর সিংয়ের এই সিনেমা। দর্শকনন্দিত এই অ্যাকশন থ্রিলারটির বিশেষত্ব হলো, সাধারণত বড় বাজেটের সিনেমাগুলোর ভিড় কেবল শুরুর কয়েক দিনেই সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু ‘ধুরন্ধর ২’ এর ক্ষেত্রে টানা কয়েক দিন ধরে দর্শকদের উপস্থিতি ও টিকিটের চাহিদা একই রকম স্থিতিশীল রয়েছে।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, আদিত্য ধরের সুনিপুণ পরিচালনা আর রণবীর সিংয়ের দুর্দান্ত স্ক্রিন প্রেজেন্স দর্শকদের বারবার প্রেক্ষাগৃহে টেনে আনছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রেক্ষাগৃহে একচ্ছত্র রাজত্ব করার সব লক্ষণই সিনেমাটির মাঝে বিদ্যমান। যদি এই ধারা বজায় থাকে, তবে ‘ধুরন্ধর ২’ বলিউডের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্যবসা সফল সিনেমার তালিকায় শীর্ষস্থানে জায়গা করে নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারতসহ বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি সফলতার সাথে প্রদর্শিত হচ্ছে।


চিরবিদায় নিলেন ‘সুপারম্যান’ খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেত্রী ভ্যালেরি পেরিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

আশির দশকের বিশ্ববিখ্যাত ‘সুপারম্যান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকহৃদয় জয় করা প্রখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী ভ্যালেরি পেরিন আর নেই। গত ২৩ মার্চ সোমবার সকালে ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলসে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও পারকিনসন রোগের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্মাতা স্টেসি সাউদার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক শোকবার্তায় সাউদার জানিয়েছেন, ভ্যালেরি অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে তাঁর অসুস্থতা মোকাবিলা করেছেন এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জীবনের প্রতি তাঁর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় ছিল।

ভ্যালেরি পেরিনের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল ১৯৭৮ সালের ‘সুপারম্যান: দ্য মুভি’ এবং ১৯৮০ সালের ‘সুপারম্যান ২’। এই চলচ্চিত্রগুলোতে খলনায়ক লেক্স লুথরের প্রেমিকা ‘ইভ টেশম্যাকার’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তবে কেবল ব্লকবাস্টার বাণিজ্যিক ছবিতেই নয়, গম্ভীর ও শৈল্পিক অভিনয়েও তিনি ছিলেন অনন্য। ১৯৭৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লেনি’ চলচ্চিত্রে অভিনেতা ডাস্টিন হফম্যানের বিপরীতে তাঁর অভিনয় ছিল অনবদ্য, যার জন্য তিনি একাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তাঁর অভিনয় দক্ষতা তাঁকে হলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীদের তালিকায় স্থান করে দিয়েছিল।

ভ্যালেরির বিনোদন জগতে পথচলা শুরু হয়েছিল অনেকটা নাটকীয়ভাবে। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি লাস ভেগাসে একজন ‘শো-গার্ল’ হিসেবে কাজ করতেন। এক নৈশভোজে হঠাৎ এক চলচ্চিত্র এজেন্টের নজরে পড়াই বদলে দেয় তাঁর জীবনের গতিপথ। ২০২৫ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিনম্রভাবে স্বীকার করেছিলেন যে, অভিনেত্রী হওয়া তাঁর পূর্বপরিকল্পিত কোনো লক্ষ্য ছিল না, বরং ভাগ্যই তাঁকে রূপালি পর্দার সামনে নিয়ে এসেছিল। ‘লেনি’ এবং ‘সুপারম্যান’ ছাড়াও তিনি ‘স্লটারহাউস-ফাইভ’, ‘দ্য লাস্ট আমেরিকান হিরো’ এবং ‘দ্য ইলেকট্রিক হর্সম্যান’-এর মতো দর্শকপ্রিয় ও সমালোচিত চলচ্চিত্রে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ভ্যালেরি পেরিন ছিলেন অত্যন্ত প্রাণোচ্ছল এক মানুষ। তবে ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে ‘ক্যান্ট স্টপ দ্য মিউজিক’ ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ এবং সমালোচিত হওয়ার পর তিনি কিছুটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তা সত্ত্বেও হলিউডের নির্মাতা ও দর্শকদের কাছে তাঁর কদর কখনো কমেনি। জীবনের শেষ দিনগুলোতে পারকিনসন রোগের কারণে শারীরিক সক্ষমতা হারালেও তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল অমলিন। তাঁর শেষ বিদায়ে প্রয়োজনীয় সম্মান ও ব্যয়ভার বহনের জন্য তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা একটি অনলাইন তহবিল বা ‘গোফান্ডমি’ পেজও চালু করেছেন। ভ্যালেরি পেরিনের প্রয়াণে হলিউডের একটি গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটল, তবে তাঁর অনবদ্য কাজগুলো চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।


হ্যারি পটার সিরিজের প্রথম ঝলকে মুগ্ধ বিশ্বজুড়ে ভক্তরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

হ্যারি পটার ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে এলো এইচবিও-র বহুল আলোচিত নতুন সিরিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক ঝলক। সিরিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে প্রকাশিত একটি ছবি জাদুর জগতের নতুন হগওয়ার্টস এবং কুইডিচ মাঠের এক রোমাঞ্চকর দৃশ্য তুলে ধরেছে। বই এবং সিনেমা সিরিজের বিশ্বব্যাপী আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার পর এই নতুন সিরিজটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে শুরু থেকেই যে ব্যাপক কৌতূহল ছিল, এই প্রথম ঝলক যেন তাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রকাশিত প্রথম এই দৃশ্যে নতুন হ্যারি পটার হিসেবে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন তরুণ অভিনেতা ডমিনিক ম্যাকলাফলিন। ছবিতে তাঁকে গ্রিফিন্ডর হাউসের ঐতিহ্যবাহী লাল ও সোনালি রঙের আলখাল্লা পরে কুইডিচ মাঠের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যাচ্ছে। তাঁর সামনেই গ্রিফিন্ডর এবং হাফেলপাফ হাউসের পতাকা হাতে অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের মাঠে প্রবেশ করার দৃশ্যটি হগওয়ার্টসের সেই চিরচেনা জাদুকরী আবহের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ভ্যারাইটির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই ছবির মাধ্যমেই সিরিজের ভিজ্যুয়াল স্টাইল বা দৃশ্যপট কেমন হতে যাচ্ছে, তার একটি পরিষ্কার ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিশ্বখ্যাত লেখিকা জে কে রাউলিং-এর মূল বইগুলোর কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত এই সিরিজে এবার একঝাঁক প্রতিভাবান নতুন মুখকে দেখা যাবে। সিরিজটির শো-রানার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফ্রান্সেসকা গার্ডিনার এবং পরিচালনার গুরুদায়িত্বে রয়েছেন প্রখ্যাত নির্মাতা মার্ক মাইলোড। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লিভসডেন স্টুডিওতে এই মেগা প্রজেক্টের দৃশ্যধারণের কাজ পুরোদমে চলছে। নির্মাতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি বইয়ের কাহিনীকে আরও বিস্তারিতভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার লক্ষ্যেই এই নতুন সিরিজের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সিরিজের মূল কাহিনী পুরোনো চলচ্চিত্রের মতোই আবর্তিত হবে হ্যারি পটারের জাদুকরী উত্থানকে কেন্দ্র করে। মাগল বা সাধারণ মানুষের পরিবার ছেড়ে হগওয়ার্টসে জাদুর পাঠ নেওয়া এবং বন্ধুদের সাথে নিয়ে অন্ধকার জাদুকর লর্ড ভলডেমোর্টের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সেই ধ্রুপদী কাহিনী এবার নতুন আঙ্গিকে দর্শকদের সামনে আসবে। ভক্তরা আশা করছেন, নতুন এই সিরিজটি হ্যারি পটারের জাদুকরী জগতকে কেবল পুনর্নির্মাণই করবে না, বরং আরও গভীরভাবে গল্পের অজানা দিকগুলো অন্বেষণ করার সুযোগ করে দেবে। জাদুর কাঠি আর রহস্যময় হগওয়ার্টসের সেই পুরনো রোমাঞ্চ আবারও নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মুগ্ধ করতে প্রস্তুত হচ্ছে।


দর্শকদের অভাবনীয় সাড়ায় অভিভূত ‘প্রেশার কুকার’ নির্মাতা রায়হান রাফী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল নির্মাতা রায়হান রাফী আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি দর্শকদের আস্থার প্রতীক। এবারের ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর নতুন সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’ প্রেক্ষাগৃহগুলোতে রীতিমতো ঝড় তুলেছে। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে যে উন্মাদনা লক্ষ্য করা গেছে, তা নির্মাতাকে কেবল আনন্দিতই করেনি, বরং গভীরভাবে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দর্শকদের অভাবনীয় প্রতিক্রিয়া এবং প্রেক্ষাগৃহের উপচে পড়া ভিড় দেখে রাফী অত্যন্ত তৃপ্তির সঙ্গে জানিয়েছেন যে, এই সিনেমাটি নির্মাণ করে তিনি নিজেকে সার্থক মনে করছেন।

রায়হান রাফী তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রেক্ষাগৃহের একটি বিশেষ ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দর্শকদের উচ্ছ্বাস সরাসরি ফুটে উঠেছে। সিনেমা দেখে হল থেকে বের হওয়া দর্শকদের অনেকেই এটিকে রাফীর ক্যারিয়ারের ‘সেরা সিনেমা’ হিসেবে অভিহিত করছেন। ভিডিওর ক্যাপশনে নির্মাতা তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে লিখেছেন যে, দর্শকদের এমন স্বীকৃতিই তাঁর কাজের সার্থকতা। তিনি তাঁর আগের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘পরাণ’-এর কথা স্মরণ করে জানান, ‘পরাণ’ যেমন ধীরে ধীরে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল, ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাটির ক্ষেত্রেও একই ধরনের ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সাফল্যে তিনি দর্শকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।

‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাটি মূলত চারজন নারীর জীবন সংগ্রাম ও সামাজিক বাস্তবতার গল্প নিয়ে আবর্তিত হয়েছে। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন হালের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত এবং স্নিগ্ধা চৌধুরী। ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট থেকে আসা এই চার নারীর জীবন কীভাবে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় এবং তাঁদের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনগুলো কীভাবে ফুটে ওঠে, তা অত্যন্ত নিপুণভাবে পর্দায় উপস্থাপন করেছেন রাফী। বুবলী ও তুষিদের শক্তিশালী অভিনয় সিনেমাটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।

চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের মতে, পুরুষতান্ত্রিক বাণিজ্যিক সিনেমার ভিড়ে নারীকেন্দ্রিক গল্পের এমন অভাবনীয় জয়জয়কার বাংলা সিনেমার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। বুবলী, তুষি, মারিয়া ও স্নিগ্ধার রসায়ন এবং রায়হান রাফীর আধুনিক নির্মাণশৈলী সব মিলিয়ে ‘প্রেশার কুকার’ এবারের ঈদের অন্যতম সফল ও দর্শকপ্রিয় সিনেমা হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করে নিয়েছে। প্রেক্ষাগৃহের এই ভিড় এবং দর্শকদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া ইতিবাচক প্রচারণা সিনেমাটিকে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


শাকিব ঝড়ে কাঁপছে প্রেক্ষাগৃহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের নতুন সিনেমা 'প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা' বর্তমানে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের অভূতপূর্ব উপস্থিতিতে বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছে। যদিও মুক্তির শুরুতে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি এবং শো বিলম্বে দর্শকদের একাংশের মধ্যে সাময়িক অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল, তবে সেসব প্রতিবন্ধকতা ছাপিয়ে সিনেমাটির জয়জয়কার চলছে বলে দাবি করেছেন এর নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরের সব রেকর্ড ভেঙে 'প্রিন্স' সিনেমাটি দর্শকদের উপচে পড়া সাড়া পাচ্ছে এবং প্রতিটি শো 'হাউজফুল' যাচ্ছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমার মান ও কারিগরি দিক নিয়ে ওঠা বিভিন্ন নেতিবাচক আলোচনাকে উদ্দেশ্যমূলক ‘অপপ্রচার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পরিচালক। তিনি জানান, সিনেমা হলের ভিড় ও দর্শকদের আগ্রহ এখন আকাশচুম্বী। বিশেষ করে গত চার-পাঁচ বছরের মধ্যে প্রেক্ষাগৃহে এত বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি। কালেকশনের দিক থেকেও সিনেমাটি ঢালিউডের সাম্প্রতিক ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করতে যাচ্ছে বলে তাঁর বিশ্বাস। পরিচালক মনে করেন, অল্প কিছু মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য দিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করা ঠিক হবে না। একটি বড় প্রেক্ষাগৃহে কয়েকশ মানুষের মধ্যে গুটিকয়েক মানুষের হয়তো ব্যক্তিগত পছন্দ নাও মিলতে পারে, কিন্তু সিংহভাগ দর্শকই সিনেমাটি দেখে পূর্ণ তৃপ্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

কারিগরি মান বিশেষ করে সিজি (CG) বা কম্পিউটার গ্রাফিক্স নিয়ে অনলাইনে ছড়ানো বিভ্রান্তি সম্পর্কে আবু হায়াত মাহমুদ অত্যন্ত কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সিনেমার সিজি দৃশ্যগুলোর মান সুকৌশলে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছে। এমনকি মূল সিনেমার কালার গ্রেডিং বা রঙের বিন্যাস নষ্ট করে সেগুলোকে মানহীন হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। পরিচালক স্পষ্ট করে বলেন, কোনো দর্শক সিনেমা দেখে ব্যক্তিগতভাবে ভালো না লাগলে সেই গঠনমূলক সমালোচনাকে তিনি সবসময় সাধুবাদ জানান, কিন্তু পরিকল্পিতভাবে কোনো কাজকে হেয় করার চেষ্টাকে দর্শক ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সিনেমাটির মুক্তি পরবর্তী বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সুপারস্টার শাকিব খান নিজে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। নির্মাতা জানান, শাকিব খান সার্বক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ের খবরাখবর নিচ্ছেন এবং সিনেমার সাফল্যের বিষয়ে দারুণ আশাবাদী। যেসব এলাকায় যান্ত্রিক গোলযোগ বা সার্ভার জটিলতার কারণে শো শুরু করতে দেরি হয়েছিল, সেগুলো দ্রুত নিরসনের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছেন। দর্শকদের ভোগান্তি কমাতে এবং দ্রুততম সময়ে সব শো নিয়মিত করতে শাকিব খান অত্যন্ত ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে টিমের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সব মিলিয়ে যান্ত্রিক বাধা ও নেতিবাচক প্রচারণাকে পেছনে ফেলে 'প্রিন্স' সিনেমাটি এখন দেশজুড়ে ‘শাকিব ঝড়’ বজায় রাখতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


পর্দায় ‘দম’দার নিশো: গতানুগতিক মারপিট নয়, ভিন্নধর্মী অ্যাকশন সিনেমা নিয়ে হাজির হতে চান পর্দায়

আপডেটেড ২৪ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৫৬
বিনোদন ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই বড় পর্দায় নতুন সব চমক, আর বর্তমান সময়ে সেই উন্মাদনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ছোট পর্দার একসময়ের রাজপুত্র ও বর্তমানের বড় পর্দার সেনসেশন আফরান নিশো। ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে রাজকীয় অভিষেকের পর এবারের ঈদে তিনি দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন ‘দম’ নিয়ে। রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম: আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ’ সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের কৌতূহল এখন তুঙ্গে, যার অন্যতম প্রধান কারণ প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরীর একসঙ্গে অভিনয়। এই দুই শক্তিমান অভিনেতার দ্বৈরথ সিনেমাটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।

‘দম’ সিনেমাটি মূলত একটি সারভাইভাল ড্রামা বা বেঁচে থাকার লড়াইয়ের গল্প। কাজাখস্তানের হাড়কাঁপানো হাড়কাঁপানো শীত থেকে শুরু করে পাবনার গ্রামীণ মেঠোপথ—সর্বত্রই ‘শাহজাহান ইসলাম নূর’ চরিত্রের মধ্য দিয়ে নিশো ফুটিয়ে তুলেছেন একজন সাধারণ মানুষের অসাধারণভাবে টিকে থাকার গল্প। তবে এই সিনেমার প্রচারণার ফাঁকেই নিশো তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশের সিনেমার অ্যাকশন ঘরানা নিয়ে নিজের সুচিন্তিত দর্শনের কথা জানিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, গতানুগতিক বা অবাস্তব মারপিটের প্রতি তাঁর কোনো আগ্রহ নেই। বরং তিনি এমন এক ধরনের ‘অ্যাকশন’ সিনেমা করতে চান, যা দর্শকদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য এবং শৈল্পিক মনে হবে।

একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে আফরান নিশো দেশের প্রচলিত অ্যাকশন সিনেমার ধরন নিয়ে তাঁর অনীহার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বাংলা সিনেমায় অ্যাকশন দৃশ্যগুলো অনেক ক্ষেত্রেই অত্যন্ত সাধারণ বা ‘কনভেনশনাল’ ধাঁচের হয়, যা তাঁর কাছে বেশ একঘেয়ে ও বিরক্তিকর মনে হয়। তিনি মনে করেন, অ্যাকশন মানেই কেবল উদ্দেশ্যহীনভাবে গুলি চালানো কিংবা অতিরঞ্জিত মারপিট নয়। নিশো তাঁর বক্তব্যে কারো নাম উল্লেখ না করে বলেন যে, তিনি কারো প্রতিযোগী হিসেবে কাজ করছেন না। বড় পর্দায় তিনি নিজেকে একজন নতুন মুখ বা ‘নিউ কামার’ হিসেবেই দেখেন এবং তাঁর লক্ষ্য হলো অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করা।

অ্যাকশন সিনেমা নিয়ে নিজের ভিশন পরিষ্কার করতে গিয়ে নিশো জানান, তিনি ভবিষ্যতে এমন অ্যাকশন ফিল্ম করতে চান যা দেখে দর্শকের মনে হবে এটি একটি খাঁটি বাংলাদেশি সিনেমা। তিনি চান অ্যাকশন দৃশ্যের মধ্যেও শ্রম ও কষ্টের প্রতিফলন থাকুক, যা দেখে দর্শক অনুপ্রাণিত হবে। তিনি শৈশব থেকেই যুদ্ধের সিনেমা দেখে বড় হয়েছেন এবং সেই বাস্তবসম্মত অ্যাকশনই তাঁকে টানে। নিশোর ভাষ্যে, তিনি যদি ভবিষ্যতে হার্ডকোর অ্যাকশন সিনেমাও করেন, সেখানেও শারীরিক শ্রম ও বাস্তবতার সমন্বয় থাকবে। তিনি চান না এমন কিছু করতে যা দর্শকদের মনে স্থায়ী কোনো ছাপ ফেলবে না।

পরিশেষে আফরান নিশো তাঁর দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে বলেন, মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির একজন মানুষ হিসেবে তাঁর কিছু ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও পরিকল্পনা রয়েছে, যার প্রতিফলন তাঁর পরপর তিনটি সিনেমায় দেখা যাচ্ছে। তিনি কেবল উৎসব বা ঈদকে কেন্দ্র করে নয়, বরং সারা বছরই ভালো মানের সিনেমা উপহার দিতে চান। ইতিমধ্যে তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ প্রজেক্টগুলো নিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলেছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। নিশোর এই নতুন চিন্তাধারা ও সিনেমার প্রতি তাঁর ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে এক নতুন ধারার সূচনা করবে বলে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা মনে করছেন।


হুমায়ূন আহমেদের জাদুকরী গল্পে সিক্ত দর্শক: প্রেক্ষাগৃহে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এর জয়জয়কার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সিনেমা হলগুলোতে বইছে উৎসবের আমেজ। ঢাকাই সিনেমার পাড়ায় এখন পাঁচটি আলোচিত সিনেমার রাজত্ব—‘প্রিন্স’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’ এবং ‘প্রেশার কুকার’। তবে তারকাখ্যাতির চেয়েও এবার দর্শকরা গল্পের গাঁথুনিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। আর এই সমীকরণে সবাইকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নির্মাতা তানিম নূরের সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির প্রথম দিন থেকেই সাধারণ দর্শক ও সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসায় ভাসছে।

হুমায়ূন আহমেদের লেখনীর এক অদ্ভুত সম্মোহনী ক্ষমতা থাকে, যা মানুষের সূক্ষ্ম আবেগ ও দীর্ঘশ্বাসকে স্পর্শ করতে পারে। সেই চিরচেনা অনুভূতির নির্যাস সেলুলয়েডে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক তানিম নূর। সিনেমার প্রেক্ষাপট হিসেবে তিনি ২০০৭ সালের সময়কালকে বেছে নিয়েছেন, যা দর্শকদের এক ধরনের নস্টালজিয়ায় আচ্ছন্ন করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনেমাটি নিয়ে ইতিমধ্যে ইতিবাচক আলোচনার ঝড় উঠেছে। দর্শকরা বলছেন, গল্পের গভীরতা আর শৈল্পিক নির্মাণের সংমিশ্রণে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং এক মানবিক অভিজ্ঞতার নাম।

সিনেমার মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে এর শক্তিশালী তারকাবহর। বর্তমান সময়ের দুই দিকপাল অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও মোশাররফ করিমকে একই পর্দায় দেখার সুযোগ পাওয়া ছিল দর্শকদের জন্য এবারের ঈদের অন্যতম বড় চমক। তাঁদের সাবলীল অভিনয় চরিত্রগুলোকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এছাড়া আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম এবং শরীফুল রাজের মতো শক্তিমান অভিনয়শিল্পীরাও তাঁদের সেরাটা দিয়েছেন। মূলত একটি রেলযাত্রাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত এই গল্পে মানুষের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং জীবনের অপ্রাপ্তিগুলো বড়ই চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

প্রেক্ষাগৃহ থেকে বের হওয়া দর্শকদের মতে, ট্রেনের জানালার পাশে বসে থাকা সেই পুরনো দিনের স্মৃতি আর জীবনের নিঃশব্দ যন্ত্রণাগুলো সিনেমাটিতে দারুণভাবে প্রাণ পেয়েছে। নিটোল গল্প আর দক্ষ পরিচালনার কারণে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এবারের ঈদের অন্যতম সেরা নির্মাণ হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। দর্শকদের এমন অভাবনীয় সাড়া দেখে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভালো গল্পের সিনেমা বানালে দর্শকরা আবারও হলমুখী হন—এই সিনেমাটি তার আরও একটি বড় প্রমাণ হয়ে রইল। এক কথায়, তারার মেলা আর গল্পের গভীরতা মিলে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এখন দর্শকদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।


জন্মদিনে ভক্তদের বড় চমক দিচ্ছেন মোহনলাল: মে মাসে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে ‘দৃশ্যম ৩’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

মালয়ালম চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা মোহনলালের কালজয়ী ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘দৃশ্যম’-এর তৃতীয় কিস্তি দেখার জন্য দর্শকদের অপেক্ষার প্রহর আরও কিছুটা দীর্ঘ হলো। পূর্বনির্ধারিত ২ এপ্রিলের পরিবর্তে সিনেমাটি এখন আগামী ২১ মে মুক্তি পাবে। এই নতুন তারিখটি অভিনেতা মোহনলালের জন্মদিনের সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা তাঁর ভক্তদের জন্য একটি বিশেষ উপহার হিসেবে দেখা দিচ্ছে। নির্মাতা জিতু জোসেফ এবং অভিনেতা মোহনলাল স্বয়ং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পরিবর্তনের খবর নিশ্চিত করেছেন। ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে এই ঘোষণাটি বিনোদন জগতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

সিনেমাটির মুক্তি পিছিয়ে যাওয়ার পেছনে সরাসরি কোনো কারণ উল্লেখ না করা হলেও, আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মালয়ালম সিনেমার জন্য মধ্যপ্রাচ্য একটি অত্যন্ত লাভজনক এবং বিশাল বাজার। তাই ব্যবসায়িক নিরাপত্তা এবং দর্শকদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নির্মাতারা প্রায় দুই মাস সময় পিছিয়ে দিয়ে মে মাসকে বেছে নিয়েছেন। মোহনলাল তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন, জর্জকুট্টি চরিত্রটি আবারও বড় পর্দায় ফিরছে এবং এবারের প্রেক্ষাপট আরও রহস্যময় হতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত সিনেমাটির নতুন একটি পোস্টার ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পোস্টারে দেখা গেছে, জানালার পাশে অত্যন্ত গভীর ও বিষণ্ণ চিন্তায় মগ্ন হয়ে আছেন কেন্দ্রীয় চরিত্র জর্জকুট্টি। পোস্টারের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে—‘অতীত কখনো চুপ থাকে না, সে শুধু অপেক্ষা করে।’ এই রহস্যময় বাক্যটি দর্শকদের কৌতূহল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিচালক জিতু জোসেফ সিনেমাটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন, এবারের কিস্তিটি প্রথাগত থ্রিলারের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন মাত্রার হতে পারে। তবে গল্পের মূল ভিত্তি হিসেবে সেই পুরনো ‘অপরাধ’ এবং তার দীর্ঘস্থায়ী রেশ বজায় থাকবে, যা দর্শককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় রাখবে।

উল্লেখ্য যে, ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কেবল দক্ষিণ ভারতেই নয়, বরং হিন্দি সংস্করণের মাধ্যমে পুরো ভারতবর্ষে এবং আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়। মোহনলাল অভিনীত মালয়ালম ‘দৃশ্যম ৩’ মুক্তির অন্তত ছয় মাস পর অভিনেতা অজয় দেবগনের হিন্দি সংস্করণটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হিন্দি সংস্করণটি ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে প্রেক্ষাগৃহে আসতে পারে। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান মূলত মূল গল্পের আবেদন এবং দর্শকদের কৌতূহল ধরে রাখার একটি ব্যবসায়িক কৌশল। জর্জকুট্টির লড়াকু জীবন এবং পরিবারের সুরক্ষায় তাঁর অসামান্য বুদ্ধিমত্তার নতুন জয়গান দেখার জন্য এখন ২১ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ভক্তদের। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ ও জন্মদিনের মৌসুমে মোহনলালের এই প্রত্যাবর্তন বড় পর্দার এক অনন্য আকর্ষণ হতে যাচ্ছে।


banner close