সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
১ আষাঢ় ১৪৩৩

নজরুল সম্পর্কে ভাসা ভাসা জ্ঞান দিয়ে অন্বেষণ হবে না, এটা আরও গভীরভাবে অন্বেষণ করতে হবে

নজরুল সংগীতশিল্পী সম্পা দাস
আপডেটেড
১১ নভেম্বর, ২০২৩ ২১:২২
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১১ নভেম্বর, ২০২৩ ২১:১২

প্রখ্যাত নজরুল সংগীতশিল্পী সম্পা দাস। নজরুলের গানের চিত্রকল্প, প্রেম, দ্রোহ ও সমাজভাবনা- শীর্ষক শিরোনামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে সমাজকল্যাণ বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে সম্পা দাস শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি নিয়মিত গান করেন। সম্প্রতি তার কাজ নিয়ে কথা হয়েছে দৈনিক বাংলার সঙ্গে।

আপনাকে শুরু থেকে নজরুল সংগীত চর্চা ও নজরুল গবেষণায় দেখা গেছে। এখন ভিন্ন ধরনের গানও করছেন। এই যে ধরন পরিবর্তনের কারণ কী?

সম্পা দাস: আমি এটাকে পরিবর্তন বলব না। আমি শুরু থেকে নজরুলের গান করি। তবে সংগীতের তো সাত সুর রয়েছে। এই সাত সুর কিন্তু সব ধরনের গানে রয়েছে। নজরুল সংগীত, রবীন্দ্র সংগীত, আমাদের লোক গান, ঐতিহ্যবাহী সব ধরনের গানে রয়েছে। যেহেতু নজরুলের গানের সঙ্গে রাগরাগিণীর একটা সম্পর্ক রয়েছে। তা ছাড়া কাজী নজরুল ইসলামের সুর ও কাব্যের এক বিস্ময়কর সমন্বয় রয়েছে। তিনি গানকে এমনভাবে বেঁধেছেন, যেখানে গানের সঙ্গে সুরের এমন কিছু একাধিক রাগরাগিণী ব্যবহার করেছেন, যা বিস্ময়কর ও বৈচিত্র্যময়। নজরুলের গানে সুর ও কাব্যের যে অভিজ্ঞতাটা আমার হলো বা এখান থেকে যে শিক্ষা গ্রহণ করেছি, তাতে মনে হলো এটি যদি গণমানুষের গানের ভেতরে কোনোভাবে আনা যায়, তাহলে এটার আলাদা একটা ধরন তৈরি হবে। আলাদা একটা ব্যঞ্জনার সৃষ্টি হবে। উনার গানে হয়তো বাণী ও সুরের পার্থক্য থাকতে পারে, তবে অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কিন্তু আলাদা কোনো মাধ্যম তৈরি হচ্ছে না। একই জিনিস। তাই একটু পরিবর্তন আনতে চেয়েছি।

আপনি নজরুলকে নিয়ে গবেষণা করছেন। সেটার ফলাফল কী?

সম্পা দাস: গবেষণালব্ধ জ্ঞান কতটুকু অর্জন করেছি, তা জানি না। আমার গানের গবেষণার পিএইচডি শিরোনাম ছিল ‘নজরুলের গানের চিত্রাকল্প, প্রেম, দোহ ও সমাজ ভাবনা’। এখানে চিত্রাকল্প করতে গিয়ে একটি গানের যে রূপ, বৈশিষ্ট্য- সেটি স্রোতের মনুষ্যত্বকে কীভাবে ধরা দেবে সেটি ছিল মূল গবেষণার কেন্দ্র। সেই জায়গা থেকে যেকোনো গান আমার কাছে যখন আসে, তখন আমি চিন্তা করি গানটার রূপ কী হবে, কী ব্যঞ্জনা হবে, কোন জায়গায় অনুভূতিটা কেমন হবে, কীভাবে সেটা নিবেদন করলে একটি গানকে বোঝার ক্ষেত্র তৈরি হবে। নজরুলের প্রায় ৪ হাজার গান রয়েছে। যেগুলো এখনো অনাবিষ্কৃত, সেই ৪ হাজার গানের যদি চিত্রকর্ম লিখি আমার অভিজ্ঞতা অনুসারে, তাহলে সেটি একটি বিশাল অর্জন হবে। নজরুল সেই ব্যক্তি, যিনি সামাজিক পরিবর্তন এনেছেন। বিস্ময়কর দ্বৈত সত্তায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী এবং মানবতায় হৃদয়সংবেদী কবি ছিলেন। তিনিই একমাত্র কবি, যিনি সাধারণ মানুষের অনুভূতি ধারণ করে গান লিখেছেন।

নজরুলকে কত শতাংশ জানতে পেরেছেন?

সম্পা দাস: নজরুল তার কাব্যে কতটুকু দিয়েছেন, তা আমার জানা নেই। নজরুল নিজেই বলেছেন, কাব্য-সাহিত্যে কতটুকু তিনি দিতে পেরেছেন, তা তিনি জানেন না। আমারও নজরুল সম্পর্কে যতটুকু পড়াশোনা, গবেষণা, সেটা আমি ঠিক বলতে পারব না। আমি ছোট থেকেই তার গানে এমনভাবে মগ্ন থাকতাম, তখন গানগুলোকে বোঝার জন্য নজরুল নিয়ে পড়াশোনা করি। এবং একটা সময় এল, নজরুল সম্পর্কে এই ভাসা ভাসা জ্ঞান দিয়ে আসলে অন্বেষণ হবে না। এটা আরও গভীরভাবে অন্বেষণ করতে হবে। নজরুলের গানের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। আমি এর চিত্রকর্ম নিয়ে কাজ করি। চার হাজার গানের চিত্রকর্ম লেখার ভাবনা আমার রয়েছে। আমি মনে করি যে, অন্য গানগুলো, যেগুলো মানুষকে প্রশান্তি দেয়, এই যুগের সঙ্গে যদি আমি নজরুল যুক্ত করি, তাহলে মনে হয় অন্য একটা ক্ষেত্র তৈরি হলো। গানের পরিসর হলো।

নজরুলের গানের চর্চা যারা করছেন, তাদের নিয়ে আপনার বক্তব্য কী?

সম্পা দাস: নজরুলের গান অনেকেই গাইছেন। নজরুলকে বুঝে, ধারণ করে কন্ঠকে সেভাবে ডেলিভার দেয়া উচিত। তাহলেই নজরুলের গানগুলো ঠিকঠাকভাবে চর্চা হবে।

নজরুলের বাইরে অন্য কোনো ধরনের গান করছেন?

সম্পা দাস: আমি মেইনস্ট্রিম গান বলতে সিনেমার গানগুলো করছি। একটু ভিন্ন ধরনের গানের আগ্রহ আছে। বেশ কিছু সিনেমার গান করেছি। তাছাড়া বেশ কয়েকটি সিনেমার গানের কথা চলছে।

মৌলিক কোনো গান বের করার ইচ্ছা আছে কি না?

সম্পা দাস: কিছুদিন আগে অক্ষর স্টুডিও থেকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫২ জন শিল্পীর সঙ্গে ৫২টি গান হয়েছে। সেখানে আমিও গান করেছি। আরও কিছু একক গান আসছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ শহরে মুক্তি পাচ্ছে চলচ্চিত্র ‘বনলতা সেন’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পর দর্শকমহলে প্রশংসিত হওয়া আলোচিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা সেন’ এবার দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখছে। রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনাবর্ত, অনন্য সাহিত্যচর্চা এবং তাঁর বিখ্যাত কালজয়ী কবিতা ‘বনলতা সেন’ অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি খুব শীঘ্রই অস্ট্রেলিয়ার পাঁচটি বড় শহর—সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, পার্থ ও এডেলাইডে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় প্রবাসী দর্শকদের জন্য এই আনন্দের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

চলচ্চিত্রটির নির্মাণশৈলী, নান্দনিক দৃশ্যায়ন, প্রাঞ্জল সংলাপ এবং অভিনেতাদের অভিনয় ইতিমধ্যে সমালোচক ও সাধারণ দর্শক উভয়ের কাছেই সমাদৃত হয়েছে। চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল প্রবাসে ছবিটি মুক্তির বিষয়ে বলেন, “দেশে ‘বনলতা সেন’ যেভাবে দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছে, তা পুরো টিমকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী প্রবাসীদের কাছ থেকেও দীর্ঘদিন ধরে ছবিটি দেখার জন্য প্রচুর অনুরোধ আসছিল। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই আমরা সে দেশের পাঁচটি শহরে মুক্তির উদ্যোগ নিয়েছি।” খুব দ্রুতই সিনেমা হলগুলোর তালিকা ও প্রদর্শনের সময়সূচি প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক এই কাজটি আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতার। মাসুদ হাসান উজ্জ্বল আরও যোগ করেন, “শুধু অস্ট্রেলিয়াই নয়, পশ্চিমা বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। আমরা চাই আমাদের সাহিত্যনির্ভর এই শৈল্পিক সৃষ্টি বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে পড়ুক এবং আন্তর্জাতিক দর্শকেরা আমাদের সংস্কৃতির সমৃদ্ধ রূপটি দেখতে পারুক।”

উল্লেখ্য, ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘বনলতা সেন’ পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মুক্তি পায়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সিনেমা হলে সফলতার সঙ্গে ছবিটির নিয়মিত প্রদর্শনী চলছে। জীবনানন্দ দাশের মতো কালজয়ী সাহিত্যিকের জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমার আন্তর্জাতিক পরিবেশনা বাংলা চলচ্চিত্রের বৈশ্বিক যাত্রাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।


নির্বাচিত

‘স্পাইডার-ম্যান’ মুক্তির আগে বৈশ্বিক ট্যুরের ঘোষণা দিলেন টম হল্যান্ড

আপডেটেড ১৫ জুন, ২০২৬ ১৮:৪৮
বিনোদন ডেস্ক

মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের (MCU) অনুরাগীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রূপালি পর্দায় ফিরছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। তবে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই বিশ্বজুড়ে থাকা ভক্তদের জন্য এক দারুণ চমক নিয়ে হাজির হলেন হলিউডের জনপ্রিয় তারকা টম হল্যান্ড। ছবিটির প্রচারণাকে ভিন্ন মাত্রা দিতে পুরো টিমকে সাথে নিয়ে একটি বিশাল বৈশ্বিক ট্যুর বা বিশ্ব সফরে বের হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার (১৫ জুন) ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমার অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে টম হল্যান্ড নিজেই এই রোমাঞ্চকর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

ভিডিও বার্তায় অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে টম হল্যান্ড বলেন, “সবাই কেমন আছেন? আমি টম বলছি। ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমার জন্য আমরা এক বিশাল বৈশ্বিক সফরে বের হচ্ছি। সারাবিশ্বের ভক্তদের সাথে সরাসরি দেখা করতে এবং সবাই মিলে একসাথে স্পাইডার-ম্যানের নতুন গল্প উদ্‌যাপন করতে আমি আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করতে পারছি না।” এই ঘোষণার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্ভেল অনুরাগীদের মাঝে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিন শুধু বিশ্ব সফরের ঘোষণাই দেননি হল্যান্ড, বরং ভক্তদের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়াতে একটি চমৎকার কুইজেরও আভাস দিয়েছেন। সফরকারী দলটি সর্বপ্রথম কোন দেশে যাচ্ছে, তা ভক্তদের কমেন্ট বক্সে অনুমান করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া প্রচারণামূলক এই ভ্রমণের লাইভ আপডেট ও গতিবিধি নিয়মিত ট্র্যাক করার জন্য ‘স্পাইডি ট্র্যাকার’ নামের একটি বিশেষ ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করার কথাও জানান এই অভিনেতা। হল্যান্ড বলেন, “আমরা প্রথমে কোথায় যাচ্ছি বলে আপনার মনে হয়? কমেন্ট বক্সে জানান। আমি শুনেছি ‘স্পাইডি ট্র্যাকার’ নামের দারুণ কিছু একটা আসছে, যার মাধ্যমে আমাদের গতিবিধি ট্র্যাক করা যাবে। তাই সেখানে নজর রাখুন এবং দেখুন আপনার অনুমান মিলল কি না।”

‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ চলচ্চিত্রে পিটার পার্কার তথা স্পাইডার-ম্যানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন টম হল্যান্ড। তাঁর পাশাপাশি এই সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে জনপ্রিয় অভিনেত্রী জেন্দায়া এবং ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ খ্যাত তারকা স্যাডি সিঙ্ককে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩১ জুলাই, ২০২৬ তারিখে বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পাবে বহুল প্রতীক্ষিত এই সায়েন্স-ফিকশন চলচ্চিত্রটি। বড় পর্দায় মুক্তির আগেই হল্যান্ডের এই বৈশ্বিক সফর বিশ্বজুড়ে ছবিটির প্রতি আগ্রহ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকেরা।


নির্বাচিত

অরিজিতের পর এবার বলিউড ছাড়ার ঘোষণা দিলেন প্রীতম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

চলতি বছরের শুরুর দিকে কোটি ভক্তকে অবাক করে দিয়ে প্লেব্যাক বা বাণিজ্যিক গান থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং। এবার তাঁরই দেখানো পথে হেঁটে বলিউড ও বাণিজ্যিক সুরের দুনিয়া ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন ভারতের অন্যতম সফল সংগীত পরিচালক ও সুরকার প্রীতম চক্রবর্তী। গতকাল নিজের জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বিবৃতিতে তিনি তাঁর এই দীর্ঘ ও সফল বাণিজ্যিক কর্মজীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানান। অরিজিতের মতো প্রীতমও এখন থেকে শুধু নিজের আত্মতৃপ্তির জন্য ব্যক্তিগতভাবে গান তৈরির কাজে মন দেবেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া বিবৃতিতে প্রীতম লেখেন, “এবার নিজেকে কয়েকটি বছর উপহার দিতে চাই। এখন থেকে আমি সম্পূর্ণ অন্যভাবে বাঁচব। যে বিষয়গুলো এতদিন ব্যস্ততার কারণে মিস করেছি, সেগুলোর স্বাদ নেওয়ার জন্যই মূলত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া। আমার জন্য এটি নতুন সফরে পা রাখার সময়; যে কাজগুলো এতদিন ফেলে রেখেছিলাম, এখন সেগুলোই করতে চাই।” বাণিজ্যিক কাজের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত চমৎকার ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, বরাবরের মতোই তাঁর অজানা-অচেনা পথের প্রতি কৌতূহল বেশি। তাই আপাতত সব ধরনের বাণিজ্যিক কাজ থেকে তিনি বিরতি নিচ্ছেন।

কলকাতায় জন্ম নেওয়া প্রীতম চক্রবর্তীর সংগীতসফর শুরু হয়েছিল ২০০১ সালে ‘তেরে লিয়ে’ চলচ্চিত্রে সুরকার জিৎ গাঙ্গুলির সহকারী হিসেবে কাজ করার মধ্য দিয়ে। এর দুই বছর পর ২০০৩ সালে ‘স্টাম্পড’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে একক সুরকার হিসেবে তাঁর বলিউড ক্যারিয়ার শুরু হয়। তবে ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধুম’ চলচ্চিত্রের সুপারহিট গানগুলোর মাধ্যমে সাফল্যের মূল সিঁড়িতে পা রাখেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই সুরকারকে। একের পর এক দর্শকনন্দিত গান উপহার দিয়ে তিনি বলিউডের শীর্ষস্থানীয় সংগীত পরিচালকদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

দীর্ঘ আড়াই দশকের ক্যারিয়ারে ‘গ্যাংস্টার’, ‘লাইফ ইন আ… মেট্রো’, ‘ধুম ২’, ‘আওয়ারাপান’, ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘জান্নাত’, ‘সিং ইজ কিং’, ‘লাভ আজ কাল’, ‘রেডি’, ‘বডিগার্ড’, ‘বরফি’, ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’, ‘বজরঙ্গি ভাইজান’, ‘ফ্যান্টম’, ‘দঙ্গল’, ‘যাব হ্যারি মেট সেজাল’, ‘কলঙ্ক’ এবং ‘ছিচোড়ে’র মতো অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন প্রীতম। সুরের এই জাদুকরি অবদানের জন্য তিনি ভারতের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ছয়টি ফিল্মফেয়ারসহ অর্ধশতাধিক দেশি-বিদেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। তাঁর এই প্রস্থানের সিদ্ধান্ত হিন্দি চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সংগীতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংগীতপ্রেমীরা।


নির্বাচিত

রেকর্ড গড়ে বিলিয়ন ডলার আয়ের পথে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

‘কিং অব পপ’ খ্যাত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের জীবন অবলম্বনে নির্মিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ বক্স অফিসে দুর্দান্ত পথচলা বজায় রেখেছে। গত ২৪ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ব্যবসায়িক সফলতা লাভ করছে। এবার এটি সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়ের মিউজিক্যাল বায়োপিক হিসেবে রেকর্ড বুকে নিজের নাম লিখিয়েছে। ৯১১ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে ছবিটি ভেঙে দিয়েছে পূর্বের একটি দীর্ঘদিনের রেকর্ড।

এতদিন বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ আয়ের মিউজিক্যাল বায়োপিকের রেকর্ডটি ছিল ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসডি’র দখলে। ব্রিটিশ ব্যান্ড ‘কুইন’-এর প্রাণভোমরা ফ্রেডি মার্কারির জীবন অবলম্বনে তৈরি সেই ছবিটি বিশ্বজুড়ে ৯১০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। সম্প্রতি ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসডি’র সেই ঐতিহাসিক অর্জনকে টপকে গেছে ‘মাইকেল’। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ছবিটি ১ বিলিয়ন ডলার বা একশত কোটি ডলার আয়ের অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করবে। আর সেটি হলে ইতিহাসের প্রথম মিউজিক্যাল বায়োপিক হিসেবে বিলিয়ন ডলার আয়ের এক নতুন রেকর্ড স্পর্শ করবে ছবিটি।

প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের বড় বাজেটে নির্মিত ‘মাইকেল’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন বিশ্বখ্যাত পরিচালক অ্যান্টোইন ফুকোয়া। এতে মাইকেল জ্যাকসনের জুতোয় পা গলিয়েছেন তাঁরই বাস্তব জীবনের আপন ভাতিজা জাফার জ্যাকসন। বড় পর্দায় নিজের প্রয়াত চাচার চরিত্রে জাফারের অনবদ্য অভিনয়, নাচ ও নিখুঁত অঙ্গভঙ্গি দর্শক ও চলচ্চিত্র সমালোচক উভয়ের মাঝেই ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছে। জাফার ছাড়াও চলচ্চিত্রটিতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিয়া লং, জুলিয়ানো ভালদি, কেলিন ডারেল জোনস ও লরা হ্যারিয়ারসহ একঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পী।

পপ সম্রাটের জীবনের সাফল্য, সংগীতের প্রতি তাঁর একাগ্রতা ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের বিভিন্ন অধ্যায়কে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে এই বায়োপিকে। বিশ্বখ্যাত এই পপ আইকনের প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি একটি আকর্ষণীয় সিনেমা হিসেবেও ‘মাইকেল’ বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে, যার প্রমাণ মিলছে প্রেক্ষাগৃহের উপচে পড়া ভিড় এবং ক্রমাগত বাড়তে থাকা আয়ের অঙ্কে।


নির্বাচিত

আবার বড় পর্দায় ফিরছে পুঁচকে লিলো ও ভিনগ্রহী স্টিচের গল্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ দর্শকদের আবেগ ও ভালোবাসার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’ নিয়ে নতুন ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বখ্যাত বিনোদন প্রতিষ্ঠান ডিজনি। গত বছর মুক্তি পাওয়া লাইভ-অ্যাকশন ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’-এর অভূতপূর্ব সাফল্যের পর এবার এর সিক্যুয়েল নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ ২’ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল সহ-রূপকার, চিত্রনাট্যকার এবং স্টিচ চরিত্রের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ক্রিস স্যান্ডার্সকে। সিনেমাটি ২০২৮ সালের ২৬ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বলে ডিজনির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০০২ সালে ডিজনির চেনা রূপকথার আবহ থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ অপ্রচলিত ও অভিনব এক গল্প নিয়ে মুক্তি পেয়েছিল অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’। ক্রিস স্যান্ডার্স ও ডিন ডিব্লয়েসের পরিচালনায় তৈরি এই সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছিল মহাকাশের এক পাগল বিজ্ঞানীর তৈরি হিংস্র ও নীল রঙের ভিনগ্রহী প্রাণী ‘এক্সপেরিমেন্ট ৬২৬’-কে ঘিরে, যে কোনোভাবে পালিয়ে পৃথিবীতে এসে পড়ে। হাওয়াই দ্বীপের পুঁচকে মেয়ে লিলো তাকে সাধারণ কুকুর ভেবে নিজের কাছে আশ্রয় দেয় এবং তার নাম দেয় স্টিচ। একটি ভিনগ্রহী প্রাণীকে ভালোবেসে লিলোর পরিবার যেভাবে আপন করে নেয়, সেই আবেগঘন গল্পই বিশ্বজুড়ে সিনেমাটিকে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলে।

২০০২ সালের সেই অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রের অভূতপূর্ব সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে ডিজনির অন্যতম সফল রিমেক হিসেবে বড় পর্দায় আসে লাইভ-অ্যাকশন ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’। ডিন ফ্লেইশার ক্যাম্পের পরিচালনায় মুক্তি পাওয়া এই লাইভ-অ্যাকশন রিমেকটি বক্স অফিসে ১৮৩ মিলিয়ন ডলারের দুর্দান্ত ওপেনিং দেয়। পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে এটি ২০২৫ সালের হলিউডের প্রথম বিলিয়ন ডলার উপার্জনকারী সিনেমা হিসেবে রেকর্ড গড়ে। এই লাইভ-অ্যাকশনের ব্যাপক চাহিদাই মূলত ডিজনিকে সিক্যুয়েল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

লাইভ-অ্যাকশন সিক্যুয়েলের জন্য এবার পরিচালনার আসনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ডিজনি। আগের ডিন ফ্লেইশার ক্যাম্পের পরিবর্তে এবার এককভাবে পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন ক্রিস স্যান্ডার্স। উল্লেখ্য, মূল অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লেখা ও পরিচালনার পাশাপাশি স্টিচ চরিত্রের জন্য তাঁর দেওয়া অনন্য কণ্ঠস্বর দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিল। ‘হাউ টু ট্রেন ইয়োর ড্রাগন’, ‘দ্য ক্রুডস’ এবং ‘দ্য কল অব দ্য ওয়াইল্ড’-এর মতো সফল ছবি পরিচালনার পাশাপাশি ২০২৪ সালের অস্কার মনোনীত অ্যানিমেটেড ছবি ‘দ্য ওয়াইল্ড রোবট’ পরিচালনার কৃতিত্বও রয়েছে ক্রিস স্যান্ডার্সের ঝুলিতে। তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নতুন সিক্যুয়েলটিকে দর্শকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

বক্স অফিস কাঁপিয়ে ওটিটিতে আসছে মোহনলালের ‘দৃশ্যম ৩’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

প্রেক্ষাগৃহে তুমুল সাড়া ফেলার পর এবার জনপ্রিয় ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেতে যাচ্ছে মালয়ালম মেগাস্টার মোহনলালের বহুল আলোচিত ক্রাইম-থ্রিলার সিনেমা ‘দৃশ্যম ৩’। আগামী ১৮ জুন থেকে আমাজন প্রাইমে সিনেমাটির স্ট্রিমিং শুরু হবে। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা দর্শকদের জন্য এক দারুণ সুখবর।

গত ২১ মে মোহনলালের জন্মদিন উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল ‘দৃশ্যম ৩’। মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়ে সিনেমাটি বক্স অফিসে একের পর এক রেকর্ড ভাঙতে শুরু করে। ইতিমধ্যেই এটি বিশ্বব্যাপী ২৩৭ কোটি রুপির বেশি ব্যবসা করে অন্যতম সফল মালয়ালম সিনেমার গৌরব অর্জন করেছে। প্রেক্ষাগৃহের এই বিশাল সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ওটিটিতে মুক্তির তারিখ ঘোষণা করল আমাজন প্রাইম। জানা গেছে, মূল মালয়ালম ভাষার পাশাপাশি তামিল, তেলুগু এবং কন্নড় ভাষায় ডাব করা সংস্করণেও ২০০টির বেশি দেশে একযোগে দেখা যাবে সিনেমাটি।

ফ্র্যাঞ্চাইজির আগের দুটি পর্বের মতো ‘দৃশ্যম ৩’ পরিচালনা ও চিত্রনাট্য লিখেছেন জিতু জোসেফ। আশীর্বাদ সিনেমাসের ব্যানারে এটি প্রযোজনা করেছেন অ্যান্টনি পেরুম্বাভুর। এবারের পর্বেও জর্জকুট্টি চরিত্রে মোহনলালের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের চরিত্রে যথাক্রমে মীনা, আনসিবা হাসান ও এস্থার অনিল পর্দায় ফিরেছেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে সিদ্দিকের মতো শক্তিশালী অভিনেতাকে এবং অনিল জনসনের আবহ সংগীত সিনেমাটির থ্রিলার মেজাজকে আরও জমিয়ে তুলেছে। পরিচালক জিতু জোসেফ জানিয়েছেন, এবারের পর্বটি কেবল রহস্য-রোমাঞ্চের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে গিয়ে বছরের পর বছর জর্জকুট্টি যে মানসিক ট্রমা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গেছে, তাঁর সেই মনস্তাত্ত্বিক লড়াইও চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

অতীতের সেই অপরাধের ছায়া যখন আবারও জর্জকুট্টির পরিবারের ওপর এসে পড়ে, তখন আইনের চোখকে ফাঁকি দিতে শেষবারের মতো সে কতটা মরিয়া হয়ে ওঠে, তা নিয়েই এগিয়েছে ‘দৃশ্যম ৩’-এর মূল গল্প। এদিকে সাউথের এই অভূতপূর্ব সাফল্যের মাঝেই অজয় দেবগন অভিনীত ‘দৃশ্যম ৩’-এর হিন্দি রিমেকও চলতি বছরের শেষের দিকে প্রেক্ষাগৃহে আসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ছবির শুটিং শেষ করেছেন অজয় এবং আগামী ২ অক্টোবর তিনি দৃশ্যম ৩ নিয়ে বড় পর্দায় হাজির হবেন। ওটিটি সংস্করণ ও হিন্দি রিমেক—দুই মাধ্যম নিয়েই এখন সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল কাজ করছে।


নির্বাচিত

গাজী রাকায়েতের ৬০ বছর: দুই দিনব্যাপী নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, চলচ্চিত্র পরিচালক ও শিক্ষক গাজী রাকায়েত ৬০ বছরে পদার্পণ করতে চলেছেন। ১৫ জুন এই গুণী ব্যক্তিত্বের ৬০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। বিশেষ এই মাইলফলকটি উদ্‌যাপন করতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন তাঁর সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ১৫ ও ১৬ জুন শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে তাঁর পরিচালিত নাটক, স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

১৯৬৬ সালে ঢাকার গেন্ডারিয়ায় জন্ম নেওয়া গাজী রাকায়েতের অভিনয়ের প্রতি গভীর টান ছিল কৈশোর থেকেই। মেধাবী ছাত্র হওয়ায় পড়াশোনায় মনোযোগী থাকলেও পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়াকালীন এক বিষণ্নতা কাটানোর তাগিদে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের একটি অভিনয় প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হন তিনি। এরপর আর এই শিল্পজগৎ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেননি। দীর্ঘ এই পথচলায় অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নাটক রচনা, নির্দেশনা, চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

নিজের জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন করতে তেমন একটা পছন্দ না করলেও, ৬০ বছর পূর্তির কারণে শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই উদ্যোগে সায় দিয়েছেন গাজী রাকায়েত। দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের প্রথম দিন (১৫ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হবে তাঁর নির্দেশিত বিখ্যাত নাটক ‘নানা রঙের দিন’-এর ১০১তম প্রদর্শনী, যা তাঁরা গত ৩০ বছর ধরে নিয়মিত পরিবেশন করে আসছেন। নাটকের পর প্রদর্শিত হবে তাঁর পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘একটি লাশের গল্প’। উৎসবের দ্বিতীয় দিন (১৬ জুন) একই স্থানে সন্ধ্যা ৭টায় দর্শকেরা উপভোগ করতে পারবেন তাঁর পরিচালিত সাম্প্রতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মানুষটিকে দেখ’, যা গত ১ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল।

ষাট বছরে পদার্পণ করা নিয়ে নিজের জীবনবোধের এক সাবলীল উপলব্ধি প্রকাশ করেছেন গাজী রাকায়েত। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আল্লাহ আমাকে ৬০ বছর পর্যন্ত জীবিত রেখেছেন, এটা আমার জন্য এক বিরাট প্রাপ্তি। শিল্পী হিসেবে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি নিজের কাজটা সততার সাথে করে যাওয়ার; মানুষকে আনন্দ দেওয়া ও নিজের ভাবনাগুলো সকলের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করেছি। আল্লাহ যতদিন বাঁচিয়ে রাখবেন, আমি এই প্রয়াসটুকু চালিয়ে যেতে চাই।” এই বিশেষ আয়োজনে গাজী রাকায়েতকে শুভেচ্ছা জানাতে এবং তাঁর বর্ণিল কর্মজীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও গুণগ্রাহীরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকবেন।


নির্বাচিত

৮৩ বছর বয়সেও অনন্য অমিতাভ বচ্চন, এক দিনে করলেন ১২ ছবির শুটিং

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বয়স আশি পেরিয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই, বর্তমানে তাঁর বয়স ৮৩ বছর। তবুও বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনের কাজের স্পৃহা ও অসাধারণ কর্মক্ষমতা দেখে যে কারও চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। আক্ষরিক অর্থেই যেকোনো তরুণের চেয়েও তিনি অনেক বেশি উদ্দীপনা ও একাগ্রতা নিয়ে নিয়মিত ক্যামেরার সামনে সক্রিয় রয়েছেন। সম্প্রতি কাজের এক বিরল নজির স্থাপন করে ‘বিগ বি’ জানিয়েছেন যে, তিনি এক দিনে রেকর্ড ১২টি চলচ্চিত্রের শুটিং সম্পন্ন করেছেন।

বিগ বি-র এই কর্মব্যস্ততা কিন্তু কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার জন্য ছিল না; ছবিগুলো ছিল মূলত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বা শর্ট ফিল্ম। তবে একই দিনে ১২টি ভিন্ন ভিন্ন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের শুটিং সম্পন্ন করা নিঃসন্দেহে এক বিশাল কৃতিত্বের দাবিদার। অমিতাভ বচ্চন জানান, কেবল এই ১২টি চলচ্চিত্রের শুটিংই নয়, সেদিন আরও দুটি স্থিরচিত্রের (স্টিল ছবি) শুটিংয়ের কাজও শেষ করেছেন তিনি। গত শুক্রবার দিনভর এমন তীব্র ব্যস্ততায় কাটিয়ে মধ্যরাতে বাসায় ফেরার পর নিজের ব্লগে সক্রিয় হন এই প্রবীণ অভিনেতা এবং সেখানে ভক্তদের সঙ্গে এই অনন্য অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন।

নিজের ব্লগে অমিতাভ লিখেছেন, “কাজ তো কাজই, কাজ তো কাজই, কাজ তো কাজই। আজ (শুক্রবার) ১২টি শর্ট ফিল্মের শুটিং করেছি, আর দুটি স্থিরচিত্রের শুট। এখন আবার তোমাদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছি।” শুটিং বা অভিনয়ের কঠিন পরিশ্রমের পরেও ভক্তদের সঙ্গে অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখাকে তিনি তাঁর প্রতিদিনের অন্যতম প্রধান কাজ বলে মনে করেন। ভক্তদের উদ্দেশে তিনি আরও যোগ করেন, “কোনো বিলম্ব না করে ভক্তদের সাথে এই সংযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়াটাই হলো দিনের আসল কাজ। বাকি সব তো চলতে থাকবে, তবে এটি কোনোভাবেই থামানো উচিত নয়।”

অমিতাভ বচ্চনের এই পোস্টটি সামনে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত ও অনুরাগী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ তাঁর এই অসাধারণ মানসিকতা ও তেজোদ্দীপ্ত মনোভাবের প্রশংসা করছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি সত্যিকার অর্থেই বার্ধক্যের গণ্ডি পেরিয়ে এক জীবন্ত অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়েছেন। বর্তমানে তাঁর হাতে একাধিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কাজ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম বহুল আলোচিত ও বহুল প্রতীক্ষিত ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’র দ্বিতীয় কিস্তি। এই বিগ-বাজেট সায়েন্স-ফিকশন চলচ্চিত্রে তাঁর সঙ্গে আরও অভিনয় করছেন দক্ষিণী সুপারস্টার প্রভাস ও কিংবদন্তি কামাল হাসানের মতো শীর্ষ তারকারা।


নির্বাচিত

অভিনয়ে ফিরছেন ক্যাটরিনা কাইফ, ওটিটি-তে আগ্রহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও রূপালি জগতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলিউডের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও নন্দিত অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। গত বছরের ৭ নভেম্বর পুত্রসন্তানের মা হওয়ার পর থেকে তিনি অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছিলেন। মাতৃত্বকালীন সেই ছুটি কাটিয়ে এবার তিনি নতুন উদ্যমে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। তবে এবার তাঁর প্রত্যাবর্তনটা একটু ভিন্ন হতে যাচ্ছে, কারণ নিজেকে আর শুধু বড় পর্দায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছেন না এই অভিনেত্রী। ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রথমবার কোনো ওয়েব সিরিজ বা ওটিটি (OTT) প্রজেক্টে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ক্যাটরিনা মনে করেন, বর্তমান সময়ে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো শিল্পীদের নিজেদের মেলে ধরার চমৎকার ও ভিন্নধর্মী সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। মা হওয়ার পর এখন তিনি এমন কিছু চরিত্র খুঁজছেন, যা তাঁর পেশাগত ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের দায়িত্বের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এই লক্ষ্যে তিনি ইতিমধ্যেই নতুন নতুন গল্পের চিত্রনাট্য পড়া এবং যাচাই-বাছাই করা শুরু করেছেন। কোনো তাড়াহুড়ো না করে খুব ভেবেচিন্তে তিনি তাঁর পরবর্তী কাজগুলো নির্বাচন করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের শেষ দিকে তিনি নতুন সিনেমা বা ওটিটি প্রজেক্টের শুটিং শুরু করতে পারেন।

২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মেরি ক্রিসমাস’ ছিল ক্যাটরিনা কাইফ অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা। শ্রীরাম রাঘবনের পরিচালনায় এই থ্রিলার ঘরানার চলচ্চিত্রে তিনি দক্ষিণি তারকা বিজয় সেতুপতির সাথে জুটি বেঁধেছিলেন, যা সমালোচকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছিল। এরপর থেকে ক্যাটরিনা নিজেকে প্রচারের আলো ও গণমাধ্যম থেকে কিছুটা দূরেই রেখেছিলেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘ওয়েলকাম’, ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ এবং ‘এক থা টাইগার’-এর মতো অসংখ্য ব্লকবাস্টার ও ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে নিজেকে ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনে ২০২১ সালে বলিউড তারকা ভিকি কৌশলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ক্যাটরিনা কাইফ। পরবর্তীতে গত বছরের ৭ নভেম্বর এই তারকা দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম নেয় তাঁদের প্রথম পুত্রসন্তান, যাঁর নাম রাখা হয়েছে বিহান। সন্তান জন্মের পর পুরোপুরি সাংসারিক ও মাতৃত্বকালীন দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত থাকা ক্যাটরিনার অভিনয়ে ফেরার এই খবর বিনোদন অঙ্গনসহ তাঁর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। ভক্তরা এখন প্রিয় অভিনেত্রীকে ওটিটি বা বড় পর্দা—যেকোনো মাধ্যমে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।


নির্বাচিত

প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার ঘোষণা দিলেন নির্মাতা আদনান আল রাজীব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ছোটপর্দা ও বিজ্ঞাপন জগতের জনপ্রিয় ও নন্দিত নির্মাতা আদনান আল রাজীব এবার বড় পর্দায় পা রাখতে চলেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য প্রশংসিত বিজ্ঞাপনচিত্র ও নাটক উপহার দেওয়ার পর এবারই প্রথম একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের কথা শেয়ার করে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই সুখবর দিয়েছেন এই নির্মাতা।

বিজ্ঞাপন নির্মাণের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে আদনান আল রাজীব তাঁর প্রথম বড় হিটের কথা মনে করেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তাঁর পরিচালিত প্রেমের গল্প ‘কাছে আসার গল্প’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সেই কাজটির সফলতার পর থেকেই তাঁর মনে একটি স্বপ্নের বীজ রোপিত হয়েছিল যে, একদিন তিনি বড় পর্দার জন্য একটি প্রেমের সিনেমা বানাবেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নিজের মতো করে একটি নিখাদ ভালোবাসার গল্প খুঁজে ফিরেছেন তিনি, যা অবশেষে পূর্ণতা পেয়েছে।

সিনেমার গল্পটি তৈরি করার পেছনে তাঁর দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও ভালোবাসার গভীরতার কথা উল্লেখ করে আদনান আল রাজীব বলেন, গল্পগুলো অনেক সময় ভালোবাসার মানুষের মতো হয়—কেউ হুট করে দরজায় কড়া নাড়ে, আবার কেউ অনেক দূরে বসে থাকে। নিজের গল্পটির পেছনেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে নীরবে কাজ করেছেন; লিখেছেন, কেটেছেন এবং আবার লিখেছেন। অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত গল্পটি যখন স্পষ্ট রূপ নিয়েছে, তখনই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সিনেমার নাম, অভিনয়শিল্পী কিংবা শুটিং শুরু হওয়ার সময়কাল নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি তিনি।

এর আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন আদনান আল রাজীব। গত বছর বিখ্যাত কান চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর পরিচালিত ‘আলী’ নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি ইতিহাস গড়েছিল। প্রথম কোনো বাংলাদেশি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি হিসেবে উৎসবে মর্যাদাপূর্ণ ‘স্বর্ণপাম’ (Palme d'Or) লড়াইয়ের জন্য মনোনীত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে একটি ‘স্পেশাল মেনশন’ (Special Mention) সম্মাননা জিতে নেয়। এরপর বিশ্বের আরও একাধিক মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে পুরস্কার লাভ করা ছবিটি বাংলা সিনেমার জন্য বিশ্বমঞ্চে বিশেষ গৌরব বয়ে এনেছিল। এবার বড় পর্দায় তাঁর প্রথম ছবি বিনোদন জগতে কেমন সাড়া ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


নির্বাচিত

বিশেষ সম্মাননায় সিক্ত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বাংলা গানকে আপন কণ্ঠমাধুর্য ও শিল্পনিষ্ঠা দিয়ে সমৃদ্ধ করা কালজয়ী সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীকে বিশেষ সম্মাননা জানিয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনে অসামান্য অবদান রাখা এই গুণী শিল্পীকে যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রথমাংশে এই কিংবদন্তির জীবন, কর্ম ও অবদানের ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

সম্মাননা প্রদানের মূল পর্বে মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ডাঃ জাহেদ উর রহমান। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর আহ্বায়ক হেলাল খান। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

আলোচনা পর্বে স্বাগত বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ বাংলা সংগীতে সৈয়দ আব্দুল হাদীর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলা গানের মানদণ্ড ও উচ্চতা এখন তাঁর কণ্ঠস্বরকে ঘিরে মূল্যায়িত হয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম সংস্কৃতি অঙ্গনকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সম্মাননা প্রাপ্তির পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবাইকে অন্তর থেকে দেশকে ভালোবাসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা যেন নিজেদের ব্যক্তিগত প্রত্যাশার ভারে দেশটাকে ভারাক্রান্ত না করে ফেলি।

সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল সৈয়দ আব্দুল হাদীকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আয়োজিত বিশেষ ‘গীতসন্ধ্যা’। এই পর্বে স্মৃতিচারণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের একঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পী তাঁর বিখ্যাত গানগুলো পরিবেশন করেন। একক ও দ্বৈত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন আবদুল্লাহহেল রাফি তালুকদার, স্মরণ, নোলক বাবু, অনন্যা আচার্য, পিয়াল হাসান, নুজহাত সাবিহা পুষ্পিতা, অপু আমান, সোহানুর রহমান, স্বরলিপি, রাশেদ, রাকা পপি, আজিজুল বারি (সিপু), মুহাম্মদ আনিসুর রহমান ও আতিক। সবশেষে শিল্পীর কালজয়ী দুটি গান ‘আছেন আমার মোক্তার’ এবং ‘সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি’ সমবেত কণ্ঠে গাওয়ার মাধ্যমে এই সুপরিকল্পিত আয়োজনের সফল সমাপ্তি ঘটে।


নির্বাচিত

হাছন রাজাকে উৎসর্গ করে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান ‘সংস অব বেঙ্গল’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্ব সংগীত দিবস উদ্‌যাপন এবং বাংলার সমৃদ্ধ লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে সমসাময়িক উপস্থাপনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান ‘সংস অব বেঙ্গল: প্রাণ বন্ধের সনে’। এম ডব্লিউ ম্যাগাজিন বাংলাদেশ এবং স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ন্যাচারাল ওয়েলনেস ব্র্যান্ড ‘মায়া’ যৌথভাবে এই চমৎকার সন্ধ্যার আয়োজন করে। শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর আলোকি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এবারের উৎসবটি উৎসর্গ করা হয় বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মরমি কবি ও গীতিকার দেওয়ান হাছন রাজা চৌধুরীকে, যাঁর সৃষ্টি এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বাঙালির হৃদয়ে অনুরণিত হয়ে আসছে।

এই বিশেষ সংগীতানুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক শায়ান চৌধুরী অর্ণবের মিউজিক ডিরেকশন ও কিউরেশন। তাঁর অনন্য শিল্পভাবনা ও আধুনিক সংগীত বিন্যাসে হাছন রাজার ভালোবাসা, বৈরাগ্য ও আধ্যাত্মিক দর্শনের কালজয়ী গানগুলো এক নতুন আবহে পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত শ্রোতাদের মাঝে এক অনন্য সংগীতানুভূতির জন্ম দেয়। সুর, দর্শন ও মরমি আবেগের মেলবন্ধনে সংগীত ও গল্পকথনের মাধ্যমে হাছন রাজার হাওর সংস্কৃতি, লোকজ জীবনবোধ এবং ‘মনের মানুষ’ খোঁজার আধ্যাত্মিক সাধনাকে সমসাময়িক দর্শকদের সামনে আধুনিক উপায়ে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এম ডব্লিউ ম্যাগাজিন বাংলাদেশের সম্পাদক ও প্রকাশক রুমানা চৌধুরী। তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অর্থবহভাবে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন এবং শিল্প, সাহিত্য ও ঐতিহ্যকে সমসাময়িক দর্শকদের সঙ্গে সংযুক্ত করতে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরীর অব্যাহত সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্কয়ার টয়লেট্রিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মালিক মোহাম্মদ সাঈদ। তিনি বাংলা লোকসংগীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও উদ্‌যাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশের মূল্যবান সংগীত ঐতিহ্যের সঙ্গে পুনরায় পরিচিত হওয়ার চমৎকার সুযোগ করে দেয়।

স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের বিশেষ সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের কমিউনিকেশন পার্টনার হিসেবে কাজ করেছে সান কমিউনিকেশনস লিমিটেড। বাংলার সংগীত, দর্শন ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জীবন্ত ও প্রাসঙ্গিক করে তোলার এই উদ্যোগটি খুব শীঘ্রই টেলিভিশনে উপভোগ করা যাবে। বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে ‘সংস অব বেঙ্গল: প্রাণ বন্ধের সনে’ অনুষ্ঠানটি আগামী ২১ জুন ২০২৬ তারিখ রাত সাড়ে আটটায় মাছরাঙা টেলিভিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্প্রচারিত হবে।


নির্বাচিত

টরন্টোতে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, মঞ্চে নোরা ফাতেহি ও বাংলাদেশের সঞ্জয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

মেক্সিকোর প্রথম পর্বের পর এবার উত্তর আমেরিকার আরেক আয়োজক দেশ কানাডায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বের রাজকীয় সূচনা হয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা) টরন্টোর বিএমও ফিল্ড স্টেডিয়ামে প্রায় ৪৩ হাজার দর্শকের গর্জন আর উল্লাসের মধ্য দিয়ে এই ইতিহাস রচনা করে কানাডা। পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এবারই প্রথম নিজেদের ঘরের মাঠে কোনো ম্যাচ আয়োজনের গৌরবময় মাইলফলক অর্জন করল ম্যাপেল পাতার এই দেশটি। সুর, ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এক অপূর্ব কোলাজে সাজানো এই আয়োজনটি ফিফার ভাষায় ছিল ‘কানাডার নানা সম্প্রদায়, সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য এবং ফুটবলের এক মহোৎসব’।

বিশ্বখ্যাত ডিজে ফ্যাটবয় স্লিমের বিখ্যাত সুর ‘রাইট হিয়ার, রাইট নাও’-এর রিমিক্স দিয়ে পুরো স্টেডিয়ামকে সুরের স্রোতে ভাসিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপরই কানাডার প্রায় ২০ লাখ আদিবাসী মানুষের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মঞ্চে আসেন বিখ্যাত লোক ও কান্ট্রি সংগীতশিল্পী উইলিয়াম প্রিন্স। ঐতিহ্যবাহী নানা পোশাকে সজ্জিত আদিবাসী নৃত্যশিল্পীদের চমৎকার পরিবেশনা এবং মাটির গন্ধ মাখা গান পুরো স্টেডিয়ামে এক মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি করে। আদিবাসীদের শিকড়ের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শন অনুষ্ঠানটিকে বেশ গাম্ভীর্য এনে দেয়।

ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা শেষ হতেই অনুষ্ঠান রূপ নেয় জমকালো আধুনিকতায়, যেখানে লাল ট্র্যাকস্যুট পরা একদল নৃত্যশিল্পী বিশাল একটি সোনালী বলের আবরণ উন্মোচন করেন। সেখান থেকে আবির্ভূত হয়ে কানাডীয় পপ তারকা অ্যালেসিয়া কারা তাঁর জনপ্রিয় গান ‘ওয়াইল্ড থিংস’ পরিবেশন করেন, যা উপস্থাপিত হয়েছিল তিমিসহ কানাডার ১০টি প্রদেশের বন্যপ্রাণীদের চমৎকার শিল্পকর্ম প্রদর্শনের মাধ্যমে। এরপর মঞ্চ মাতাতে আসেন টরন্টোতে জন্ম নেওয়া বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহি। তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন ঢাকায় জন্ম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বড় হওয়া বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে ও প্রযোজক সঞ্জয় দেব এবং ফরাসি শিল্পী ভেজেড্রিম। তাঁরা সম্মিলিতভাবে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘সির সির’ পরিবেশন করেন। এছাড়া জেসি রেইয়েজ এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত গায়িকা এলিয়ানা বিশ্বকাপের আরেকটি অফিশিয়াল গান ‘ইলুমিনেট’ গেয়ে দর্শকদের আনন্দিত করেন।

আয়োজনের শেষার্ধে গ্যালারিতে রোমান্টিক আবহ ছড়িয়ে দিতে উপস্থিত হন বিশ্বখ্যাত জ্যাজ-পপ তারকা মাইকেল বুবলে এবং টুর্নামেন্টের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে মঞ্চে আসেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও কমেডিয়ান উইল আর্নেট। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তে কানাডার জাতীয় সংগীত গেয়ে শোনান কিংবদন্তি রকার অ্যালানিস মরিসেট এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন আলেকসান্দার গাজিক। পুরো অনুষ্ঠানটি সাউন্ড সিস্টেমে বন জোভির কালজয়ী গান ‘লিভিন অন অ্যা প্রেয়ার’-এর সুর ছড়িয়ে শেষ হয়। এই জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই স্বাগতিক কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মধ্যকার প্রথম ঐতিহাসিক ম্যাচটি শুরু হয়।


নির্বাচিত

banner close