রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩ ফাল্গুন ১৪৩২

উচ্ছ্বাসে ভাসছেন মিষ্টিকন্যা চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা

আপডেটেড
৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০৫
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০৪

না, নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয় করছেন না। এমনকি কাজ শেষ হওয়া তিন সিনেমার মুক্তির খবরও না। নতুন এক বিষয় নিয়ে উচ্ছ্বসিত চলচ্চিত্রের মিষ্টিকন্যা দিলার হানিফ পূর্ণিমা। ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর ফেসবুক পেজের ফলোয়ার্স ১ কোটি ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে তার পেজে চোখ রাখলে দেখা যাচ্ছে, ফলোয়ার্স ১০ মিলিয়ন প্লাস! তবে এগুলো নেহাত ফলোয়ার্স নয়, পূর্ণিমার ভাষায়, ‘১ কোটি ভালোবাসা। এগুলো আসলে অর্গানিক ভালোবাসা।’

শুধু বাংলাদেশ নয়- পূর্ণিমার অনুসারীরা পুরো উপমহাদেশ থেকে যুক্ত আছেন। পেজটি থেকে বিভিন্ন ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে অনুসারীরা তার আপডেট পায়। পূর্ণিমার পেজ থেকে নতুন ভিডিও-রিলস ছাড়লেই উঠে আসে ফেসবুক ট্রেন্ডিংয়ে! অনুসারীদের ভালোবাসা প্রকাশ দেখে পূর্ণিমা অনেক সময় বিস্মিত ও ইমোশনাল হন। তিনি বলেন, ‘আমার অনুসারীরা সব সময় পাশে থাকে। সবাইকে ধন্যবাদ ও ভালোবাসা জানাই।’

এই তারকা আরও বলেন, ‘পুরোটাই অর্গানিক ফলোয়ার্স। যেটাকে আমি অর্গানিক ভালোবাসা বলতে চাই। যখন পেজটি ওপেন করি, তখন জানতাম না এতদূর আসবে। যারা অ্যাডমিন তারা দেখভাল করত। আগে পেজ-ফলোয়ার্স, এসব ব্যাপারে খুব বেশি জানাশোনা ছিল না। সময় সবকিছু শিখিয়েছে। ঘোরাঘুরি বা বেড়াতে গেলে ছবি-ভিডিও বেশি পোস্ট হয়। আবার অনেক সময় গ্যাপ থাকে। অ্যাডমিনরা আমাকে ছবি-ভিডিও পোস্ট দিতে উৎসাহিত করে।’

এই এক কোটি দৃশ্যমান ভালোবাসার চেয়েও যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যান, তখন তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা সামনাসামনি আরও বেশি অনুভব করেন জানিয়ে পূর্ণিমা বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষ আমাকে পছন্দ করে ভালোবাসা জানায় এমনটা নয়। এর চেয়ে বেশি ভালোবাসা মানুষের সামনে গেলে পাই। এমনও দেখেছি মানুষ আছে, যারা ফেসবুক বা ইন্টারনেটে নেই, তারা আমাকে কাছে পেলে বেশি ভালোবাসা দেন। সোশ্যাল মিডিয়া এবং এর বাইরে যারা আমাকে পছন্দ করেন, দুই মাধ্যম থেকে আলাদা ভালোবাসা অনুভব করি এবং আমি এগুলো খুব উপভোগ করি।’


দীর্ঘ বিরতির পর এলো পার্থ বড়ুয়ার ‘মুখোশ’

আপডেটেড ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪০
বিনোদন ডেস্ক

দীর্ঘ ছয় বছরের প্রতীক্ষা আর সংগীতপ্রেমীদের নিরন্তর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখল জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও সোলস ব্যান্ডের প্রাণপুরুষ পার্থ বড়ুয়ার প্রথম একক অ্যালবাম ‘মুখোশ’-এর নামগান। শিল্পীর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে গানটি অবমুক্ত করার মধ্য দিয়ে তাঁর চার দশকের দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে এক নতুন পালক যুক্ত হলো। মূলত ছয় বছর আগে এই অ্যালবামের ঘোষণা এলেও সোলস ব্যান্ডের সুবর্ণজয়ন্তীর ব্যস্ততা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এর কাজ থমকে ছিল। এর আগে ‘শহর ও মেঘদল’ এবং ‘বৃষ্টির গান’ শিরোনামে দুটি গান প্রকাশিত হলেও দীর্ঘ বিরতির পর এবার পুরো অ্যালবামের মূল গানটি নিয়ে হাজির হলেন এই গুণী শিল্পী।

গীতিকবি রানার কলমে আর পার্থ বড়ুয়ার নিপুণ সুর ও সংগীতায়োজনে ‘মুখোশ’ গানটি মূলত মানুষের দ্বৈত সত্তার এক দার্শনিক প্রতিফলন। গানটি প্রসঙ্গে পার্থ বড়ুয়া জানান, এই সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের ভেতর এবং বাইরের বৈপরীত্যের দিকটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। সমাজের প্রতিটি মানুষ যে অদৃশ্য মুখোশ পরে বিচরণ করে এবং তাদের প্রকৃত রূপের বিপরীতে যে কৃত্রিম চরিত্র ধারণ করে, সেটিই এই গানের মূল উপজীব্য। বাণিজ্যিক কোনো ভাবনা মাথায় না রেখে কেবল সৃজনশীলতার তাগিদে তৈরি করা এই গানটি সোলস ব্যান্ডের চিরাচরিত পপ বা মেলোডি ধারার চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন আঙ্গিকের। গানটির ভিডিও প্রযোজনা করেছেন অভিক।

পার্থ বড়ুয়ার মতো একজন একনিষ্ঠ ব্যান্ড সংগীতশিল্পীর জন্য একক অ্যালবাম প্রকাশ করা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ ও ভাবনার বিষয়। তিনি জানান, চার দশকের দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি সবসময় সোলসের পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন এবং এককভাবে কিছু করার বিশেষ ইচ্ছা তাঁর ছিল না। তবে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ঘরানার পাঁচটি গান তৈরির পর সোলস ব্যান্ডের অন্যান্য সদস্যরাই তাঁকে একক অ্যালবামটি সম্পন্ন করতে এবং প্রকাশ করতে অনুপ্রাণিত করেন। ব্যান্ডের সদস্যদের পূর্ণ সমর্থনে এবং গীতিকবি রানার সবকটি গানের লিরিক নিয়ে তৈরি এই অ্যালবামটি পার্থ বড়ুয়ার শিল্পীজীবনের প্রথম মৌলিক একক কাজ হিসেবে ইতিহাসের অংশ হয়ে রইল।

বর্তমানে পার্থ বড়ুয়া তাঁর ব্যান্ড সোলসের সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বিতীয় পর্বের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য উদযাপনে ব্যান্ডটি নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে ৫০টি গান প্রকাশের অঙ্গীকার করেছিল। যদিও ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই আয়োজনে সাময়িক বিরতি টানতে হয়েছিল, তবে গত বছর মে মাস থেকে ‘সোলস আনপ্লাগড’ কনসার্টের মাধ্যমে তারা আবারও নিয়মিত হয়েছে। নকীব খান ও পিলু খানের মতো সাবেক সদস্যদের অংশগ্রহণ সোলসের এই সুবর্ণজয়ন্তীকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যার সমান্তরালে পার্থ বড়ুয়ার ‘মুখোশ’ অ্যালবামটি শ্রোতাদের কাছে এক বিশেষ প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।


বক্স অফিস কাঁপানো ‘এফ ওয়ান’-এর সিক্যুয়েল আসছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

গত বছরের অন্যতম আলোচিত ও ব্যবসায়িক সফল সিনেমা ‘এফ ওয়ান’ নিয়ে দর্শকদের জন্য বড় এক সুখবর নিয়ে এসেছেন এর নির্মাতা ও প্রযোজক সংশ্লিষ্টরা। হলিউড সুপারস্টার ব্র্যাড পিট অভিনীত এই ব্লকবাস্টার সিনেমার সিক্যুয়েল বা পরবর্তী কিস্তি নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে বার্ষিক অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস ‘লাঞ্চন’ অনুষ্ঠানে এবং পরবর্তীতে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজক জেরি ব্রুকহাইমার। ফর্মুলা ওয়ান রেসিংয়ের রোমাঞ্চকর জগৎ নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি গত বছর বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিল।

জেরি ব্রুকহাইমার তাঁর ঘোষণায় জানিয়েছেন যে, ‘এফ ওয়ান’-এর সিক্যুয়েল তৈরির প্রাথমিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে নতুন এই কিস্তিতে মূল অভিনেতা হিসেবে ব্র্যাড পিট আবারও ফিরছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনই কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি। একই সঙ্গে সিনেমার অন্যান্য অভিনয়শিল্পী এবং এটি কবে নাগাদ মুক্তি পেতে পারে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত কোনো সময়সূচি উল্লেখ করেননি তিনি। মূলত প্রজেক্টটির বর্তমান অবস্থা এবং এর প্রতি দর্শকদের প্রবল আগ্রহের কথা মাথায় রেখেই তিনি এই আগাম ঘোষণা দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, প্রথম কিস্তিতে সাতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন লুইস হ্যামিল্টন সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত থেকে সিনেমার কারিগরি দিকগুলোকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলেছিলেন।

সিনেমাটি কেবল বক্স অফিসেই সফল হয়নি, বরং সমালোচকদের কাছেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। আসন্ন অস্কার আসরে ‘এফ ওয়ান’ সেরা চলচ্চিত্রসহ মোট চারটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে, যা সিক্যুয়েল নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্মাতাদের আরও উৎসাহিত করেছে। ‘টপ গান: ম্যাভরিক’ সিনেমার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত পরিচালক জোসেফ কোসিনস্কি এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন। কোসিনস্কি এক সময় ব্র্যাড পিট ও টম ক্রুজকে নিয়ে রেসিংধর্মী সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা করলেও তা বাজেটের কারণে সম্ভব হয়নি। অবশেষে ‘এফ ওয়ান’-এর মাধ্যমে তিনি সেই স্বপ্ন পূরণ করেন এবং এখন এর দ্বিতীয় ধাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রথম কিস্তিতে ব্র্যাড পিট ছাড়াও ড্যামসন ইদ্রিস, জাভিয়ের বারডেম এবং কেরি ম্যাককেনার মতো শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীরা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন। ফর্মুলা ওয়ান রেসিংয়ের রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তগুলো যেভাবে বড় পর্দায় চিত্রায়িত হয়েছে, তা দর্শককে এক নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছিল। সিক্যুয়েলটির চিত্রনাট্য ও নির্মাণশৈলী আগের চেয়েও আরও উন্নত ও রোমাঞ্চকর হবে বলে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। ব্র্যাড পিট বর্তমানে তাঁর অন্যান্য প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, ভক্তদের প্রত্যাশা ‘সনি হেইস’ চরিত্রে তাঁকে আবারও ট্র্যাকের ওপর দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে দেখা যাবে। সিক্যুয়েলটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হলিউডের বিনোদন জগতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।


প্রথম দিনেই ‘বর্ডার ২’ ও ‘মারদানি ৩’কে পেছনে ফেলল ‘ও রোমিও’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বলিউড অভিনেতা শাহিদ কাপুর অভিনীত নতুন সিনেমা ‘ও রোমিও’ মুক্তির প্রথম দিনেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। গত শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সিনেমাটি আয়ের দিক থেকে এক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত এই সিনেমাটিতে শাহিদের বিপরীতে প্রথমবার অভিনয় করেছেন বর্তমান সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরি। বক্স অফিস বিশ্লেষক সংস্থা ‘স্যাকনিল্ক’-এর তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম দিনে ‘ও রোমিও’ ৮ কোটি ২৫ লাখ রুপি আয় করে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো সূচনা করেছে। একই দিনে মুক্তি পাওয়া অন্যান্য বড় বাজেটের সিনেমাগুলোর তুলনায় শাহিদের এই সিনেমাটি আয়ের দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে।

মুক্তির প্রথম দিনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ‘ও রোমিও’র বিপরীতে মুক্তি পাওয়া সানি দেওলের ‘বর্ডার ২’ আয় করেছে মাত্র ৮০ লাখ রুপি। অন্যদিকে রানি মুখার্জি অভিনীত ‘মারদানি ৩’ প্রথম দিনে প্রায় ৬০ লাখ রুপি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিযোগিতার এই চিত্র থেকে স্পষ্ট যে, দর্শক এই মুহূর্তে শাহিদ কাপুর ও তৃপ্তি দিমরির নতুন রসায়ন দেখতেই প্রেক্ষাগৃহে বেশি ভিড় করছেন। শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমাগুলোকেই নয়, ‘ও রোমিও’র মাধ্যমে শাহিদ তাঁর নিজের আগের কয়েকটি সিনেমার উদ্বোধনী দিনের আয়ের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন। এর আগে তাঁর অভিনীত ‘দেবা’ ৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি, ‘তেরি বাতোঁ মে অ্যায়সা উলঝা জিয়া’ ৬ কোটি ৭০ লাখ এবং ‘জার্সি’ ৩ কোটি ২০ লাখ রুপি আয় করেছিল প্রথম দিনে।

সিনেমাটির নির্মাণশৈলী এবং শাহিদ কাপুরের বিশেষ লুক ইতোমধ্যে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাহিদ কাপুর জানিয়েছিলেন, এই সিনেমার সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল তাঁর শরীরজুড়ে থাকা অসংখ্য ট্যাটুর বিশেষ লুকটি ফুটিয়ে তোলা। এই সাজসজ্জার জন্য প্রতিদিন তাঁকে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হতো। তিনি আরও জানান যে, সিনেমাটি সরাসরি সুপারহিরো ঘরানার না হলেও এর প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ পোশাক ও উন্নত ভিএফএক্সের (VFX) ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, যা অভিনয়ের ক্ষেত্রে তাঁর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। বিশাল ভরদ্বাজের সঙ্গে শাহিদের এটি চতুর্থ কাজ। এর আগে এই সফল জুটি ‘কামিনে’, ‘হায়দার’ এবং ‘রেঙ্গুন’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছিলেন।

নাদিয়াদওয়ালা গ্র্যান্ডসন এন্টারটেইনমেন্ট প্রযোজিত এই সিনেমায় শাহিদ ও তৃপ্তি ছাড়াও একঝাঁক তারকা অভিনয় করেছেন। পার্শ্ব চরিত্রে দেখা গেছে তামান্না ভাটিয়া, বিক্রান্ত ম্যাসি, অবিনাশ তিওয়ারি, নানা পাটেকর এবং ফরিদা জালালের মতো শক্তিমান অভিনয়শিল্পীদের। প্রথম দিনের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা এখন সিনেমাটির প্রথম সপ্তাহান্তের (উইকেন্ড) আয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে ‘ও রোমিও’ চলতি বছরের অন্যতম সফল সিনেমা হিসেবে নাম লেখাবে। শাহিদের অ্যাকশন আর তৃপ্তির অভিনয়ের মেলবন্ধনই এই সফলতার মূল চাবিকাঠি বলে মনে করা হচ্ছে।


অমিতাভ-শাহরুখের উত্তরসূরি হচ্ছেন না হৃতিক: ‘ডন ৩’ নিয়ে গুঞ্জনে ইতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাকশন ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ডন’-এর তৃতীয় কিস্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের গুঞ্জনে অবশেষে ইতি টানলেন অভিনেতা হৃতিক রোশন। ‘ডন ৩’ সিনেমায় তাকে দেখা যাবে—এমন জল্পনা বলিপাড়ায় বেশ কিছুদিন ধরে জোরালো হলেও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হৃতিক একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এই খবরের মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন কিংবা শাহরুখ খানের উত্তরসূরি হিসেবে ‘ডন’ চরিত্রে পর্দায় আসার কোনো সম্ভাবনা তাঁর নেই।

হৃতিক রোশন জানান, তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই জল্পনাটি আগুনের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, যা তাঁকে বেশ অবাক করেছে। বিষয়টি পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বলিউডের দুই কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন এবং শাহরুখ খানের ছেড়ে যাওয়া জুতোয় তিনি পা গলাচ্ছেন না। অর্থাৎ, আইকনিক এই চরিত্রে অভিনয় করার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। অভিনেতা আরও যোগ করেন, সবচেয়ে বড় কথা হলো নির্মাতা বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এই সিনেমার কোনো প্রস্তাব তাঁর কাছে কখনোই আসেনি। ফলে কেন এবং কীভাবে এই গুঞ্জন ডালপালা মেলল, তা তাঁর কাছেও রহস্যজনক।

উল্লেখ্য, ফারহান আখতার পরিচালিত ‘ডন ৩’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগে থেকেই ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এর আগে অমিতাভ বচ্চন এবং শাহরুখ খান এই চরিত্রে অভিনয় করে কালজয়ী জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। গুঞ্জন ছিল যে এবার হয়তো হৃতিককে এই চরিত্রে দেখা যাবে। তবে নির্মাতারা ইতোমধ্যে রণবীর সিংকে পরবর্তী ‘ডন’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং সিনেমাটির প্রাথমিক কাজও শুরু হয়েছে। হৃতিকের এই সরাসরি অস্বীকারের পর কাস্ট নিয়ে চলমান সব অস্পষ্টতা দূর হলো। বর্তমানে হৃতিক রোশন তাঁর নিজস্ব অন্যান্য প্রজেক্টের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং আপাতত এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।


ভালোবাসা দিবসে বাপ্পা-জুলফিকার-টিনা ত্রয়ীর নতুন চমক: মুক্তি পেল ‘তুমি বললেই’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ঋতুরাজ বসন্তের আগমন আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের বিশেষ আবহে দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার তাঁর ভক্তদের জন্য নিয়ে এসেছেন এক অনন্য উপহার। ‘তুমি বললেই’ শিরোনামের নতুন একটি রোমান্টিক দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি এবং তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন সুকণ্ঠী শিল্পী টিনা রাসেল। গানটির কথা লিখেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত খ্যাতিমান গীতিকবি জুলফিকার রাসেল এবং বরাবরের মতো এর সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন খোদ বাপ্পা মজুমদার। বনানীতে বাপ্পার নিজস্ব স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে। এই গানের মাধ্যমে বাপ্পা-জুলফিকার-টিনা ত্রয়ীর দ্বিতীয় সম্মিলিত সৃষ্টি শ্রোতাদের সামনে এল, যা সংগীতাঙ্গনে ইতিমধ্যে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

বাপ্পা মজুমদার ও জুলফিকার রাসেল জুটির দীর্ঘদিনের সফল ও প্রশংসিত সংগীতযাত্রায় ‘তুমি বললেই’ এক নতুন পালক যোগ করল। এর আগে দীর্ঘ ১২ বছরের বিরতি ভেঙে ২০২৩ সালে তাঁরা টিনা রাসেলের কণ্ঠের ‘কিছু নেই যার’ গানের মাধ্যমে আবারও একসঙ্গে কাজ শুরু করেছিলেন। নতুন এই দ্বৈত গানটি সেই পুনর্মিলনেরই ধারাবাহিকতা। গানটির একটি নান্দনিক মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন পরিচালক চন্দন রয় চৌধুরী। ঢাকার বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে চিত্রায়িত এই ভিডিওটি গতকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসের রাতে টিনা রাসেলের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

নতুন এই সৃষ্টি নিয়ে বাপ্পা মজুমদার অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। তিনি জানিয়েছেন, গীতিকবি জুলফিকার রাসেল তাঁর সংগীত জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাঁর লেখা পাঁচ শতাধিক গান করার অভিজ্ঞতা রয়েছে বাপ্পার। প্রিয় মানুষের লেখা গানের সুর করা তাঁর জন্য সবসময়ই আনন্দের। টিনা রাসেলের গায়কীর প্রশংসা করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই গানটি শ্রোতাদের মনে দীর্ঘস্থায়ী জায়গা করে নেবে। অন্যদিকে গীতিকবি জুলফিকার রাসেলও এই প্রজেক্ট নিয়ে তাঁর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, ভালো কথা আর সুন্দর সুরের মেলবন্ধনে তৈরি এই কাজটি যদি শ্রোতাদের ভালো লাগে, তবেই তাঁদের পরিশ্রম সার্থক হবে।

বাপ্পা মজুমদারের মতো কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে দ্বৈত গানে অংশ নিতে পেরে নিজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন টিনা রাসেল। তিনি জানান, এর আগে বাপ্পা মজুমদারের সুর ও সংগীতে গান গাইলেও তাঁর সঙ্গে দ্বৈত গাওয়ার অভিজ্ঞতাটি ছিল একেবারেই অন্যরকম। এমন গুনী দুই মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের জন্য সৌভাগ্য মনে করছেন। মূলত ভালোবাসা দিবসের রোমান্টিক মেজাজকে ধারণ করেই এই গানটি সাজানো হয়েছে, যা বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি সব শ্রেণির শ্রোতাদের মুগ্ধ করবে বলে সংগীতবোদ্ধারা মনে করছেন। দিনশেষে, ‘তুমি বললেই’ গানটি বাংলা আধুনিক গানে বাপ্পা-জুলফিকার জুটির সেই চিরচেনা আবেদনকেই আবারও নতুন করে ফিরিয়ে আনল।


হলিউডে কিংবদন্তি’র চরিত্রে ফারহান আখতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রতিভাবান অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক ফারহান আখতার এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক বড় চমক নিয়ে হাজির হতে যাচ্ছেন। হলিউডের অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এক প্রজেক্টে যুক্ত হয়ে তিনি এবার বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ ব্যান্ড ‘দ্য বিটলস’-এর বায়োপিকে অভিনয় করবেন। তবে সাধারণ কোনো চরিত্রে নয়, ফারহান আখতারকে দেখা যাবে বিশ্বসংগীতের কিংবদন্তি এবং ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রবাদপুরুষ পন্ডিত রবিশঙ্করের ভূমিকায়। অস্কারজয়ী প্রখ্যাত ব্রিটিশ পরিচালক স্যাম মেন্ডেসের এই বিশাল আয়োজনে ফারহানের যুক্ত হওয়ার খবরটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে বিনোদন প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সোনি পিকচার্সের প্রযোজনায় নির্মিত এই প্রজেক্টটির নাম রাখা হয়েছে ‘দ্য বিটলস – আ ফোর ফিল্ম সিনেম্যাটিক ইভেন্ট’। এটি মূলত কোনো একক চলচ্চিত্র নয়, বরং বিটলসের চারজন সদস্যের জীবন ও সংগীতের ওপর ভিত্তি করে চারটি আলাদা চলচ্চিত্রের একটি সমন্বিত প্রয়াস। বিটলসের ইতিহাসের সাথে পন্ডিত রবিশঙ্করের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে তাঁর গভীর বন্ধুত্ব এবং গুরু-শিষ্যের সম্পর্কটি ষাটের দশকের বিশ্বসংগীতের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। রবিশঙ্করের কাছে হ্যারিসনের সেতার শেখা এবং এর প্রভাবে বিটলসের কালজয়ী গানগুলোতে ভারতীয় সুরের প্রয়োগ—সব মিলিয়ে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোকেই ফারহান আখতারের মাধ্যমে পর্দায় পুনর্জীবিত করা হবে।

পন্ডিত রবিশঙ্কর ছিলেন বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সংস্কৃতির এক বলিষ্ঠ দূত। তাঁর মার্জিত ব্যক্তিত্ব, আধ্যাত্মিক সংগীত বোধ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর আকাশচুম্বী প্রভাবকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা যেকোনো অভিনেতার জন্যই এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ফারহান আখতার তাঁর ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে বহুমুখী চরিত্রে অভিনয় করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তবে একজন শাস্ত্রীয় সংগীত বিশেষজ্ঞের তপোবনসম গাম্ভীর্য ও আভিজাত্য পর্দায় ফুটিয়ে তোলা তাঁর জন্য এক নতুন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। বিটলস এবং পন্ডিত রবিশঙ্করের অনুরাগীসহ চলচ্চিত্রবোদ্ধারা মনে করছেন, ফারহানের মতো একজন সুনিপুণ শিল্পী এই ঐতিহাসিক চরিত্রের প্রতি সুবিচার করতে পারবেন।

বর্তমানে এই মেগা প্রজেক্টের প্রাথমিক কাজ ও শিল্পী নির্বাচন প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ চলছে। স্যাম মেন্ডেসের মতো নির্মাতার হাত ধরে ফারহান আখতারের এই হলিউড যাত্রা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেই নয়, বরং বিশ্ব চলচ্চিত্রে ভারতীয় শিল্পীদের উপস্থিতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। সিনেমাটির চিত্রনাট্যে রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের সেই আধ্যাত্মিক ও সংগীতময় ভ্রমণের দিকটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। খুব শীঘ্রই এই সিরিজের দৃশ্যধারণের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা হলিউড ও বলিউডের যৌথ প্রেক্ষাপটে আগামী কয়েক বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমা হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নতুন গানের মিউজিক ভিডিওতে টেইলর সুইফটের চমক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্ববিখ্যাত পপ সম্রাজ্ঞী টেইলর সুইফট তাঁর সৃজনশীলতার এক নতুন নজির স্থাপন করলেন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁর দ্বাদশ স্টুডিও অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’-এর নতুন একক গান ‘ওপালাইট’-এর মিউজিক ভিডিও। প্রকাশের পর থেকেই ভিডিওটি আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে ঝড় তুলেছে। এই মিউজিক ভিডিওটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর তারকাখচিত কুশীলব এবং নব্বই দশকের নস্টালজিক আবহ। সচরাচর দেখা যায় না এমন একঝাঁক প্রতিভাবান অভিনয়শিল্পীকে একই ফ্রেমে বন্দি করেছেন সুইফট, যা ভক্তদের জন্য ছিল এক অভাবনীয় উপহার। ভিডিওটির রচনা ও পরিচালনার দায়িত্বও পালন করেছেন সুইফট নিজেই, যেখানে তাঁর নির্মাণশৈলীর মুন্সিয়ানা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

‘ওপালাইট’ মিউজিক ভিডিওটির নির্মাণ প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে এক অত্যন্ত মজার ও আকস্মিক ঘটনা। টেইলর সুইফট নিজেই জানিয়েছেন যে, গত বছরের অক্টোবর মাসে যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় ‘গ্রাহাম নর্টন শো’-তে অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার সময় এই ভিডিওর পরিকল্পনাটি তাঁর মাথায় আসে। সেই নির্দিষ্ট পর্বে সুইফটের সঙ্গে ছিলেন অস্কারজয়ী অভিনেতা কিলিয়ান মারফি, ডমনাল গ্লিসন, গ্রেটা লি এবং জনপ্রিয় গায়ক লুইস ক্যাপালডি। অনুষ্ঠানের ফাঁকে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে ‘হ্যারি পটার’ খ্যাত অভিনেতা ডমনাল গ্লিসন কৌতুক করে সুইফটের কোনো একটি মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সেই মজার ছলে বলা কথাটিকেই পেশাদারিত্বের সঙ্গে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন সুইফট। তিনি তাঁর সেই পর্বের সকল সহ-অতিথিকে এই ভিডিওতে যুক্ত করেছেন, এমনকি খোদ উপস্থাপক গ্রাহাম নর্টনকেও একটি বিশেষ চরিত্রে দেখা গেছে।

ভিডিওটির চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছে এক কাল্পনিক ও জাদুকরী প্রেক্ষাপটে। এতে দেখা যায় ‘ওপালাইট স্প্রে’ নামের একটি রহস্যময় তরল, যা যেকোনো জড় বস্তুকে জীবন্ত মানুষে রূপান্তর করার ক্ষমতা রাখে। ভিডিওতে সুইফটকে দেখা যায় একটি পাথরকে নিজের প্রিয় বন্ধু হিসেবে সবসময় সঙ্গে রাখতে। অন্যদিকে, অভিনেতা ডমনাল গ্লিসনের একটি ক্যাকটাস গাছ ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। গল্পের নাটকীয় মোড়ে দেখা যায়, ডমনালের সেই ক্যাকটাসের ওপর ওপালাইট স্প্রে করার পর সেটি এক জাদুকরী প্রক্রিয়ায় মানবী টেইলর সুইফটে রূপান্তরিত হয়। সুইফট এই কাজটিকে বড়দের জন্য একটি ‘স্কুল গ্রুপ প্রজেক্ট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা মূলত বন্ধুত্বের এক ভিন্নধর্মী প্রকাশ।

গানের নাম ‘ওপালাইট’ রাখার পেছনে ভক্ত ও সংগীত সমালোচকরা একটি ব্যক্তিগত রোমান্টিক যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন। টেইলর সুইফটের বাগদত্তা ও আমেরিকান ফুটবল তারকা ট্রাভিস কেলসির জন্মরত্ন বা বার্থস্টোন হলো ‘ওপাল’। প্রিয় মানুষের জন্ম মাসের রত্নের নামানুসারে এই গানের শিরোনাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অনুরাগীদের ধারণা। একদিকে কিলিয়ান মারফির মতো শক্তিশালী অভিনেতার উপস্থিতি এবং অন্যদিকে নব্বই দশকের ভিডিও মেকিং স্টাইলের ব্যবহার—সব মিলিয়ে ‘ওপালাইট’ বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত মিউজিক ভিডিওতে পরিণত হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউটিউবসহ বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে কয়েক কোটি ভিউ অর্জন করে তাঁর জনপ্রিয়তার এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে।


কাশ্মীরের ‘ভয়ংকর সুন্দর’ রহস্যের সন্ধানে প্রসেনজিৎ: আসছে কাকাবাবু সিরিজের পঞ্চম চলচ্চিত্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

কথাসাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি কালজয়ী গোয়েন্দা চরিত্র ‘কাকাবাবু’ আবারও বড় পর্দায় ফিরছে। টালিউডের সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি আবারও রাজা রায়চৌধুরী ওরফে কাকাবাবু হিসেবে দর্শকদের সামনে হাজির হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জনপ্রিয় এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পঞ্চম কিস্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছে, যার নাম রাখা হয়েছে ‘ভয়ংকর সুন্দর’। ২০২৭ সালে এই নতুন অ্যাডভেঞ্চার সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে মুক্তি পাওয়া চতুর্থ কিস্তি ‘বিজয়নগরের হিরে’র অভাবনীয় সাফল্যের পর দর্শকদের প্রবল আগ্রহের কথা মাথায় রেখেই দ্রুত নতুন এই কিস্তির কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্মাতারা।

এবারের কিস্তিটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন তরুণ নির্মাতা চন্দ্রাশিস রায় এবং সিনেমার সংগীত পরিচালনা করবেন প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মূল কাহিনী অবলম্বনে নির্মিতব্য ‘ভয়ংকর সুন্দর’ সিনেমার দৃশ্যধারণ করা হবে কাশ্মীরের বিভিন্ন মনোরম ও রোমাঞ্চকর লোকেশনে। কাশ্মীরের প্রকৃতি যেমন সুন্দর, ঠিক তেমনি সেখানে লুকিয়ে থাকা রহস্যগুলোও হয়ে ওঠে ‘ভয়ংকর’—নির্মাতারা এই ভাবধারাকে কেন্দ্র করেই সিনেমার পটভূমি সাজিয়েছেন। যদিও প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি ছাড়া প্রধান অন্যান্য চরিত্রে কারা অভিনয় করবেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে সন্তু চরিত্রেও দেখা যেতে পারে কোনো পরিচিত মুখ।

সম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত হওয়া প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি এই চরিত্রটি নিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করতে পেরে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, কাকাবাবু চরিত্রটি কেবল একটি গোয়েন্দা চরিত্র নয়, এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা বাঙালির এক দীর্ঘস্থায়ী অনুভূতি। প্রতিটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁরা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি কাকাবাবুকে বর্তমান সময়ের দর্শকদের কাছে আরও আধুনিক ও প্রাসঙ্গিক করে তোলার চেষ্টা করেন। চতুর্থ সিনেমাটির প্রচারণার সময় প্রেক্ষাগৃহে সরাসরি দর্শকদের কাছ থেকে যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী কিস্তি নিয়ে প্রশ্ন পাওয়া গেছে, সেটিই মূলত এই দ্রুত ঘোষণার পেছনে বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

সিনেমা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে চিত্রনাট্য ও প্রাক-উৎপাদন পর্যায়ের কাজ পুরোদমে চলছে। কাশ্মীরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। তিন বছরের দীর্ঘ বিরতির পর বড় পর্দায় আসা ‘বিজয়নগরের হিরে’র পর এবার খুব বেশি দেরি করতে চাইছেন না নির্মাতারা। রহস্য, রোমাঞ্চ আর অ্যাডভেঞ্চারের এক নতুন মিশেল নিয়ে ‘ভয়ংকর সুন্দর’ আগামীতে বাংলা সিনেমার দর্শকদের জন্য এক বড় চমক হিসেবে হাজির হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রসেনজিতের দাপুটে অভিনয় আর কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধন এই সিনেমাকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে টালিগঞ্জ পাড়ায় কানাঘুষা চলছে।


টালিউডে চঞ্চল চৌধুরীর নতুন চমক: অভিনয়ের পাশাপাশি এবার প্লেব্যাকে অভিষেক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী মানেই পর্দায় নতুন কোনো বৈচিত্র্য আর বিষ্ময়। তবে এবার শুধু অভিনয় নয়, কলকাতার সিনেমায় প্রথমবারের মতো নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী বা প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন তিনি। গুণী নির্মাতা ব্রাত্য বসুর আসন্ন সিনেমা ‘শেকড়’-এর মাধ্যমে টালিউডে অভিনয়ের পাশাপাশি গান গেয়ে এই নতুন চমক দিতে যাচ্ছেন অভিনেতা। সম্প্রতি এই সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন স্টুডিওতে সংগীত পরিচালক প্রবুদ্ধ ব্যানার্জির সঙ্গে চঞ্চল চৌধুরীর মহড়ার ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

‘শেকড়’ সিনেমায় চঞ্চল চৌধুরী দুটি কালজয়ী বাউল গান নতুন আঙ্গিকে গেয়েছেন। এর মধ্যে একটি হলো কবিয়াল বিজয় সরকারের ‘এই পৃথিবী যেমন আছে তেমনি ঠিক রবে’ এবং অন্যটি গোষ্ঠ গোপাল দাসের জনপ্রিয় গান ‘ও জীবন রে ছাড়িয়া না যাও মোরে’। জানা গেছে, এই গান দুটি সিনেমায় ব্যবহারের ভাবনাটি ছিল চঞ্চল চৌধুরীর নিজেরই, যা পরে সংগীত পরিচালক প্রবুদ্ধ ব্যানার্জির সংগীতায়োজনে রেকর্ড করা হয়। এর আগে বাংলাদেশে বিভিন্ন নাটক ও চলচ্চিত্রে শখের বশে গান গাইলেও কলকাতার সিনেমায় প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে এটিই তার প্রথম কাজ।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি ছোটগল্প ‘দ্রবময়ীর কাশীবাস’ ও ‘দাদু’ অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে ‘শেকড়’। সিনেমায় চঞ্চল চৌধুরী ‘ইন্দ্র’ নামের একটি কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে পেশায় একজন কলকারখানার শ্রমিক। গল্পের প্রেক্ষাপটে দেখা যাবে ইন্দ্রর বাবা স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়া রোগে ভুগছেন। চঞ্চল চৌধুরী জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবনে তার বাবাও মৃত্যুর আগে একই সমস্যায় ভুগেছিলেন বলে এই চরিত্রের প্রতি তিনি এক ধরনের আত্মিক টান অনুভব করেছেন। মূলত এই ব্যক্তিগত আবেগ থেকেই তিনি সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বর্তমানে ‘শেকড়’ সিনেমার পোস্ট প্রোডাকশন বা সম্পাদনা পরবর্তী কাজ পুরোদমে চলছে। নির্মাতা ব্রাত্য বসু এর আগে বাংলাদেশের আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমকে নিয়ে ‘ডিকশনারি’ ও ‘হুব্বা’ নামের দুটি ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় চঞ্চল চৌধুরীকে নিয়ে তার এই নতুন সিনেমাটি দুই বাংলার দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি চঞ্চলের দরাজ কণ্ঠের গান এই সিনেমার আবেদনকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। খুব শীঘ্রই সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে প্রযোজনা সূত্রে জানা গেছে।


হলুদ সাজে হানিয়া ও আসিম আজহার, বিয়ের গুঞ্জন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

পাকিস্তানের বিনোদন জগতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির এবং গায়ক আসিম আজহার। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জুটির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাদের গোপন বিয়ের গুঞ্জন চারদিকে তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী হলুদ পোশাকে একটি জমকালো অনুষ্ঠানে নাচ ও উৎসবে মেতেছেন হানিয়া ও আসিম। তাদের চারপাশের রাজকীয় সাজসজ্জা এবং পরনের পোশাকের ধরন দেখে ভক্তদের মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না যে, এটি কোনো গায়ে হলুদের বা বিয়ের অনুষ্ঠান। অনেকে তো ধরেই নিয়েছিলেন যে, দীর্ঘ বিরতির পর এই তারকা জুটি হয়তো গোপনেই পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হয়েছেন।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই দুই তারকার অনুরাগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দনের বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছিলেন। ভক্তদের ধারণা ছিল, আসন্ন রমজানকে সামনে রেখেই হয়তো তারা তাদের সম্পর্কের একটি আনুষ্ঠানিক পরিণতি দিতে চলেছেন। বিশেষ করে আসিম ও হানিয়ার দীর্ঘদিনের পুরনো প্রেমের সম্পর্ক এবং তাদের মধ্যকার সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা এই জল্পনাকে আরও জোরালো করে তোলে। নেটিজেনরা তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করে বিভিন্ন কমেন্ট বক্সে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিলেন। তবে এই প্রবল উন্মাদনার মাঝে আসল সত্যটি সামনে আসতেই দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়।

প্রকৃতপক্ষে, ভাইরাল হওয়া সেই আয়োজনটি কোনো সত্যিকারের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল না। এটি ছিল মূলত হানিয়া আমিরের জন্মদিন উদযাপনের একটি বিশেষ এবং অভিনব আয়োজন। অভিনেত্রী তাঁর এই বছরের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের জন্য ‘বিয়ে’ থিম বেছে নিয়েছিলেন। ভিডিওর এক পর্যায়ে হানিয়াকে অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে বলতে শোনা যায়, ‘ওয়েলকাম টু মাই ফেক ওয়েডিং’ অর্থাৎ আমার নকল বিয়েতে আপনাদের স্বাগতম। এই একটি বাক্যেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে, বিয়ের যাবতীয় আড়ম্বরপূর্ণ সাজসজ্জা এবং পোশাক ছিল কেবলই একটি মজার অভিনয় ও উদযাপনের অংশ।

হানিয়া আমির তাঁর ইনস্টাগ্রামে এই ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে বেশ কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। যদিও এই ভিডিওর মাধ্যমে আসিম ও হানিয়ার পুরনো প্রেম জোড়া লাগার একটি জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তবুও তাদের বাস্তব জীবনের সম্পর্ক বা বিয়ের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউই কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি। আপাতত বিয়ের খবরটি নিছকই একটি জন্মদিনের ‘থিম’ হিসেবে প্রমাণিত হলেও, ভক্তদের একাংশ মনে করছেন এটি হয়তো বড় কোনো ঘোষণার পূর্বাভাস। পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনো কিছুটা ধোঁয়াশা থাকলেও, এই ভিডিওটি যে পাকিস্তানের শোবিজ অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


তরুণ শার্লক হোমসের গোয়েন্দাগিরি নিয়ে গাই রিচির নতুন সিরিজ: ৪ মার্চ আসছে প্রাইম ভিডিওতে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্ববিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র শার্লক হোমসকে নিয়ে আবারও পর্দায় ফিরছেন জনপ্রিয় ব্রিটিশ নির্মাতা গাই রিচি। তবে এবার বড় পর্দার সিনেমা হিসেবে নয়, শার্লক হোমসের রোমাঞ্চকর জীবনের শুরুর দিকের গল্প নিয়ে তিনি নির্মাণ করেছেন একটি ওয়েব সিরিজ। ‘ইয়াং শার্লক’ নামের এই সিরিজে গোয়েন্দার মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন উদীয়মান ব্রিটিশ অভিনেতা হিরো ফিয়েনস টিফিন। সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আমাজন প্রাইম ভিডিও এই সিরিজের ট্রেলার প্রকাশ করেছে, যা ইতিমধ্যে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। ১৮৭০ সালের ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই সিরিজের প্রেক্ষাপট, যেখানে কিশোর শার্লক হোমসকে তার মেধা ও সাহসের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে দেখা যাবে।

সিরিজটির গল্পে দেখা যাবে, অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করার সময় শার্লক হোমস তখনো গোয়েন্দা হিসেবে খুব একটা পরিচিত বা সামাজিকভাবে সম্মানিত ছিলেন না। বরং সেই সময় শার্লকের সঙ্গে প্রথম পরিচয় ঘটে জেমস মরিয়ার্টির, যিনি পরবর্তী সময়ে বিশ্ব কাঁপানো এক অপরাধ জগতের মাস্টারমাইন্ডে পরিণত হন। একটি খুনের অভিযোগে পুলিশের সন্দেহের তালিকায় যখন শার্লকের নাম চলে আসে, তখন নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে তদন্ত শুরু করেন তিনি। এই হত্যারহস্য সমাধান করতে গিয়ে তিনি এক বিশাল আন্তর্জাতিক চক্রের সন্ধান পান, যা তার পুরো জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। বুদ্ধিদীপ্ত কৌশলের পাশাপাশি ট্রেলারে অস্ত্র ও বোমার তাণ্ডব এবং অ্যাকশন দৃশ্যের ঝলক দেখা গেছে, যা গাই রিচির চিরচেনা পরিচালনার শৈলীকে মনে করিয়ে দেয়।

আটটি পর্বের এই সিরিজটি নির্মিত হয়েছে অ্যান্ডি লেনের ‘ইয়াং শার্লক হোমস’ উপন্যাস অবলম্বনে, যা মূলত স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের অমর সৃষ্টির অনুপ্রেরণায় লেখা। চিত্রনাট্যকার ম্যাথিউ পারখিলের কলমে এই সিরিজে শার্লকের তারুণ্য ও গোয়েন্দা হিসেবে গড়ে ওঠার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। হিরো ফিয়েনস টিফিন ছাড়াও সিরিজে অভিনয় করেছেন কলিন ফার্থ, ডোনাল ফিন, জাইন সেং এবং নাতাশা ম্যাকেলহোনের মতো গুণী অভিনয়শিল্পীরা। আগামী ৪ মার্চ থেকে প্রাইম ভিডিওতে দর্শকরা এই সিরিজটি উপভোগ করতে পারবেন।

এদিকে ইয়াং শার্লক সিরিজের ঘোষণার পাশাপাশি দর্শকদের জন্য আরও একটি বড় খবর রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, সিরিজের পর আবারও বড় পর্দার জন্য শার্লক হোমসের তৃতীয় কিস্তি বানানোর পরিকল্পনা করছেন গাই রিচি। সেখানে আবারও নাম ভূমিকায় ফিরবেন হলিউড মেগাস্টার রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। বর্তমানে মার্ভেল সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ও ‘সিক্রেট ওয়ারস’-এর কাজ শেষ হওয়ার পরই শার্লক হোমস-৩ সিনেমার কাজ শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০০৯ এবং ২০১১ সালে রিচির পরিচালনায় রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের শার্লক হোমস সিনেমা দুটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল, তাই নতুন সিরিজ ও সিনেমা মিলিয়ে শার্লক ভক্তদের জন্য সামনের সময়গুলো অত্যন্ত রোমাঞ্চকর হতে যাচ্ছে।


শহিদ-বিজয় ফিরছেন ‘ফারজি’র দ্বিতীয় সিজনে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ওটিটি প্ল্যাটফর্মের দর্শকপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘ফারজি’র দ্বিতীয় সিজন নিয়ে অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। জাল নোটের কারবার নিয়ে তৈরি এই টান টান উত্তেজনাপূর্ণ সিরিজের পরবর্তী কিস্তি নিয়ে ফেরার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন এর নির্মাতা জুটি রাজ ও ডিকে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রতীকি পোস্টার প্রকাশের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত করেছেন যে, সানি ও মাইকেলের সেই রোমাঞ্চকর ইঁদুর-বিড়াল দৌড় আবারও পর্দায় আসছে। ২০২৩ সালে প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়া এই সিরিজের প্রথম সিজনটি প্রায় চার কোটি দর্শক দেখে ইতিহাস গড়েছিল, যা ছিল ওই বছরের সর্বোচ্চ দেখা হিন্দি সিরিজ। সেই সাফল্যের রেশ ধরেই এবার আরও বড় পরিসরে নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘ফারজি ২’।

নির্মাতাদের প্রকাশিত নতুন পোস্টারে দেখা গেছে জাল টাকার বিশাল স্তূপের ওপর লেখা ‘দ্বিতীয় রাউন্ডের কাজ চলছে’। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী মার্চ মাস থেকেই এই বহুল প্রতীক্ষিত সিরিজের শুটিং শুরু হতে যাচ্ছে। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুর দিকে এটি প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাবে। প্রথম সিজনে সানি চরিত্রে শহিদ কাপুরের অসাধারণ অভিনয় এবং দুঁদে গোয়েন্দা অফিসার মাইকেল হিসেবে বিজয় সেতুপতির অনবদ্য পারফরম্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। সিরিজের শেষ পর্বে সানি পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর গল্পের যে রহস্য দানা বেঁধেছিল, দ্বিতীয় সিজনে তার জট খুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গল্পের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, প্রথম সিজনে একজন ব্যর্থ চিত্রশিল্পী সানি কীভাবে তার মেধা কাজে লাগিয়ে হুবহু আসল নোটের মতো নকল নোট তৈরি করে কোটিপতি হয়ে ওঠে এবং তার ঠাকুরদার মৃতপ্রায় সংবাদপত্র ‘ক্রান্তি’কে বাঁচানোর চেষ্টা করে, তা দেখানো হয়েছিল। দ্বিতীয় সিজনেও শহিদ কাপুর ও বিজয় সেতুপতির মুখোমুখি লড়াই বজায় থাকলেও গল্পের গভীরতা আরও বাড়বে। জানা গেছে, এবার কেবল কাগুজে নোটের জালিয়াতি নয়, বরং ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ডিজিটাল জালিয়াতির মতো আধুনিক ও জটিল সব আর্থিক অপরাধের রোমাঞ্চকর কাহিনী উঠে আসবে চিত্রনাট্যে। বিজয় সেতুপতির চরিত্রের চ্যালেঞ্জও এবার আরও কঠিন হতে যাচ্ছে।

অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে শহিদ কাপুর ও বিজয় সেতুপতি ছাড়াও দ্বিতীয় সিজনে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ফিরছেন রাশি খান্না, ভুবন অরোরা এবং নেতিবাচক চরিত্রে তুখোড় অভিনয় করা কে কে মেনন। সিরিজের বিশাল জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে বড় অংকের বাজেটও বরাদ্দ করা হয়েছে। বলিউড পাড়ায় গুঞ্জন রয়েছে, এই সিজনে অভিনয়ের জন্য শহিদ কাপুর প্রায় ৪৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিচ্ছেন, যা ওটিটি দুনিয়ায় কোনো অভিনেতার জন্য বিশাল একটি অংক। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সানি ও মাইকেলের সেই চিরচেনা টক্কর দেখার জন্য দর্শকরা এখন থেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।


২০০ মিলিয়ন ডলারে সব গানের স্বত্ব বিক্রি করলেন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্বখ্যাত পপ সম্রাজ্ঞী ব্রিটনি স্পিয়ার্স তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সকল গানের স্বত্ব বা মিউজিক ক্যাটালগ বিক্রি করে দিয়েছেন। বুধবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে পপসংগীতের দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই খবরটি নিশ্চিত করেছে। সংগীত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘প্রাইমারি ওয়েভ’-এর সঙ্গে এই বিশাল চুক্তি সম্পন্ন করেছেন তিনি। বিনোদন জগতের প্রভাবশালী ওয়েবসাইট টিএমজেড প্রথম এই খবরটি সামনে আনে, যেখানে বলা হয়েছে যে গত ৩০ ডিসেম্বর এই চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন ‘টক্সিক’ খ্যাত এই গায়িকা।

চুক্তির আর্থিক মূল্য সম্পর্কে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, এর পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ। এই চুক্তির ফলে ব্রিটনির কালজয়ী সব গানের বাণিজ্যিক ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে প্রাইমারি ওয়েভের হাতে থাকবে। উল্লেখ্য যে, এই প্রতিষ্ঠানটি ইতিপূর্বে হুইটনি হিউস্টন, প্রিন্স এবং স্টিভি নিক্সের মতো বিশ্ববরেণ্য শিল্পীদের গানের স্বত্বও কিনে নিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত ব্রিটনি স্পিয়ার্স বা প্রাইমারি ওয়েভ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্বত্ব বিক্রির এই তালিকায় রয়েছে ব্রিটনির ক্যারিয়ারের সেরা সব কালজয়ী সৃষ্টি। ১৯৯৮ সালে ‘বেবি ওয়ান মোর টাইম’ দিয়ে বিশ্বসংগীতে ঝড় তোলা এই গায়িকার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘উপস! আই ডিড ইট অ্যাগেইন’, ‘(ইউ ড্রাইভ মি) ক্রেজি’, ‘সারকাস’, ‘গিম্মি মোর’ এবং ‘আই অ্যাম অ্যা স্লেভ ফর ইউ’। ৪৪ বছর বয়সী এই শিল্পী গত কয়েক দশক ধরে পপ জগতের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন এবং সর্বকালের অন্যতম সফল সংগীতশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ব্রিটনির এই বিশাল চুক্তির খবরটি এমন এক সময়ে এল যখন তিনি তার দীর্ঘ ১৩ বছরের যন্ত্রণাদায়ক আইনি অভিভাবকত্ব বা ‘কনজারভেটরশিপ’ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নতুনভাবে জীবন সাজাচ্ছেন। ২০০৮ সাল থেকে তার বাবা জেমি স্পিয়ার্সের অধীনে থাকার পর ২০২১ সালের নভেম্বরে তিনি পূর্ণ স্বাধীনতা পান। যদিও ২০১৬ সালে তার নবম ও সর্বশেষ স্টুডিও অ্যালবাম ‘গ্লোরি’ প্রকাশিত হয়েছিল, তবে এই নতুন চুক্তির মাধ্যমে তিনি তার আর্থিক ও পেশাদার অবস্থানকে আরও সুসংহত করলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পপ জগতের এই নজিরবিহীন চুক্তি ব্রিটনি স্পিয়ার্সের ক্যারিয়ারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।


banner close