চলতি বছরের শুরু থেকেই বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন ঢালিউড কুইন-খ্যাত চিত্রনায়িকা ও চলচ্চিত্র প্রযোজক অপু বিশ্বাস। যদিও গত বছরও বিভিন্ন কারণে আলোচনায় ছিলেন তিনি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ইস্যু নিয়ে সরব ছিলেন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গত ১২ জানুয়ারি রাজধানীর আফতাবনগরের আবাসিক এলাকায় নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন অপু।
বর্তমানে নতুন সিনেমার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢালিউড অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি তার অভিনীত ‘ট্র্যাপ’ এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি ‘ছায়াবৃক্ষ’ নামের দুটি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।
গত শনিবার রাজধানীর আফতাবনগরের একটি রেস্তোরাঁয় ‘ট্র্যাপ’ সিনেমা মুক্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে চাওয়ার ইচ্ছার কথা জানান এই তারকা। যদিও গত বছরেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে অপু তার ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। এ জন্য আরও আগে থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন বলে জানান অপু বিশ্বাস।
নারীদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা থেকেই এবার সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম ক্রয় করবেন বলে জানান অপু বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধি নয়, প্রত্যেকটা মা-বোনদের কাছের এবং পাশের মানুষ হয়ে উঠতে চাই। আমি নারীদের নিয়ে কাজ করতে চাই। এটিই আমার মূল লক্ষ্য। আমার স্লোগান এটিই। আমি যদি এখন কাউকে সহায়তা করতে যাই তাহলে তারা সবাই প্রযোজক-অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচনায় রাখবেন। কিন্তু সেই পরিচয় ছাপিয়ে আমি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তাদের বিশ্বাস ও আস্থার মানুষ হতে চাই। তাদের জন্য কাজ করতে সংসদে যেতে চাই।’
রাজনীতিতে তিনি নতুন নয় বলে জানান অপু। আরও পাঁচ বছর আগে থেকেই রাজনীতি নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান। ২০১৯ সালে এই নায়িকা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। কিন্তু সেবার তার ভাগ্য সহায় হয়নি। তবে এবার সংরক্ষিত নারী আসনে আশাবাদী তিনি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফের নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানাতে সম্প্রতি গণভবনে যান অপু বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অপু বিশ্বাসের ফুল হাতে এমন ছবি অন্তর্জালে প্রকাশ্যে এলে সংরক্ষিত আসনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই নায়িকা।
শুটিং সেটে অনাকাঙ্ক্ষিত মারধরের অভিযোগ ও প্রকাশ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে অভিনেত্রী তানজিন তিশা এবং সামিয়া অথৈর প্রাতিষ্ঠানিক সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে টেলিভিশন অভিনয়শিল্পীদের পেশাজীবী সংগঠন ‘অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ’। দুই অভিনেত্রীর মধ্যকার চরম বিরোধ নিরসনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে কয়েক দফা সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। ফলে সামগ্রিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
শুক্রবার রাতে নিজেদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসে অভিনয়শিল্পী সংঘ। তিশার উদ্দেশ্যে প্রেরিত সেই দাপ্তরিক চিঠিতে গত ৪ অক্টোবরের তারিখ উল্লেখ রয়েছে, যাতে যৌথভাবে সই করেছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা মিঠু।
চিঠির সূত্রে জানা যায়, সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে গত ৭ জুলাই তানজিন তিশার ঠিকানায় একটি আনুষ্ঠানিক কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে নোটিশে উল্লেখিত নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত জবাব বা বক্তব্য সংগঠনের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো উদ্যোগ না থাকায় বিষয়টি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সালিশ ও বিরোধ নিষ্পত্তি সভায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচিত হয়। সেই সভার সুপারিশমালার ওপর ভিত্তি করেই কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, যা আনুষ্ঠানিক পত্রের মাধ্যমে উভয়কেই অবগত করেছে সংগঠনটি।
বলিউড তারকা রণবীর কাপুর ও কন্নড় তারকা যশ অভিনীত পৌরাণিক চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ: পার্ট ওয়ান’ মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করে বক্স অফিসে বিশাল সূচনা করেছে। এর মধ্যে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সিনেমাটি প্রথম দিনে তুলে নিয়েছে ৭৬ কোটি রুপি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ছবিটির মোট গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৪ লাখ মার্কিন ডলার বা ৫১ কোটি ৫০ লাখ রুপি। এই আন্তর্জাতিক আয়ের মধ্যে উত্তর আমেরিকার বুধবারের প্রিভিউ শো থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার এবং বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক মুক্তির দিনে বিশ্ববাজারের সব অঞ্চল মিলিয়ে বাকি ৩৫ লাখ ডলার যুক্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিনেমাটির আয়ের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে প্রথম দিনেই ছবিটি ২৮ লাখ ডলার ব্যবসা করেছে। এটি মার্কিন বাজারে কোনো বলিউড সিনেমার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড, যা ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর ২৯ লাখ ১০ হাজার ডলারের সামান্য পেছনে রয়েছে। এমনকি বৃহস্পতিবার স্থানীয় বক্স অফিস তালিকার শীর্ষস্থানটিও দখল করে নেয় ‘রামায়ণ’। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে যুক্তরাজ্যের বাজার থেকে; সেখানে ৪ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড আয় করে সর্বকালের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী দিনের বলিউড সিনেমার ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছে ছবিটি। এর আগে ৪ লাখ ২৭ হাজার পাউন্ড আয় নিয়ে শীর্ষে থাকা ‘ধুরন্ধর’-কে পেছনে ফেলেছে এটি, যেখানে স্থানীয় অন্যান্য ভাষার ডাবিং সংস্করণগুলোও টিকিট বিক্রিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে জার্মানিতে ১ লাখ ৬৫ হাজার ইউরো আয় করে সর্বকালের যেকোনো বলিউড ছবির সর্বোচ্চ উদ্বোধনী দিনের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে ‘রামায়ণ’। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় ৫০৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় নিয়ে এটি চতুর্থ বৃহত্তম উদ্বোধনী রেকর্ড গড়েছে এবং কানাডায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার কানাডিয়ান ডলার সংগ্রহ করেছে। আন্তর্জাতিক আয়ের তালিকায় নেপাল থেকে এসেছে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার, ইউরোপের অন্যান্য দেশ মিলিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার, অবশিষ্ট এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে আড়াই লাখ ডলার এবং বহির্বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে এসেছে ৫০ হাজার ডলার। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে মধ্যপ্রাচ্যে; সৌদি আরব ও কাতারে কোনো প্রদর্শনী না থাকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে টিকিট বিক্রি আশানুরূপ না হওয়ায় অঞ্চলটিতে বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে মাত্র ৪ লাখ ডলার আয় করে প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে সিনেমাটি।
মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও চার দিনের বর্ধিত উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে আন্তর্জাতিক বাজার থেকেই ছবিটির আয় ২ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৈশ্বিক পরিবেশক সনি পিকচার্স প্রচার ও বিজ্ঞাপনে বিপুল অর্থ ব্যয় করায় তাদের প্রত্যাশা আরও বেশি ছিল, যা মূলত দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের বাইরে আন্তর্জাতিক মূলধারার দর্শকদের আরও বড় অংশ সম্পৃক্ত হতে না পারার কারণে কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অবশ্য প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ দর্শক ও সমালোচকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং সপ্তাহান্তের জন্য অগ্রিম টিকিট বিক্রির জোরালো প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে সিনেমাটিকে আরও বড় বাণিজ্যিক সাফল্যের পথে রাখবে বলেই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
‘কারুপ্পু’ এবং ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সন্স’-এর পর চলতি বছরে নিজের তৃতীয় ছবি নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে হাজির হয়েছেন ভারতের দক্ষিণী মেগাস্টার সূরিয়া। জিতু মাধবন পরিচালিত অ্যাকশন ও ডার্ক-কমেডি ঘরানার নতুন চলচ্চিত্র ‘সিন’-এ সূরিয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী নজরিয়া নাজিম ফাহাদ এবং তরুণ অভিনেতা নাসলেন। দ্রাবিড় সেলভমের সংলাপে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটিকে বিনোদনবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘পিংকভিলা’ তাদের পর্যালোচনায় ৫-এর মধ্যে ৩ দশমিক ৫ রেটিং দিয়েছে। প্রচলিত ধার্মিক ও নির্ভীক ‘মাস হিরো’র ভাবমূর্তি ভেঙে সূরিয়ার খামখেয়ালি ও ত্রুটিপূর্ণ চরিত্রের অনন্য রূপায়ণ ছবিটিকে একটি উপভোগ্য বিনোদনধর্মী রূপ দিয়েছে।
চলচ্চিত্রটির কাহিনি গড়ে উঠেছে একটি গোপন ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানকে কেন্দ্র করে। পুলিশ প্রশাসন যখন তাদেরই এক বিপজ্জনক সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিজস্ব উদ্যোগে ‘ইনবারাজ’ নামের এক রহস্যময় অতীতসম্পন্ন খামখেয়ালি ও খাপছাড়া পুলিশকে দায়িত্ব দেন। প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ছাড়াই নিজের মতো করে একটি অদ্ভুত ও বিচিত্র দল গঠন করেন ইনবারাজ; যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হন মায়া (নজরিয়া নাজিম), যাঁর লুকানো দক্ষতা এই অনুসন্ধানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয় যখন তাদের এই অভিযানের মুখোমুখি হয় ঈশ্বরন (নাসলেন) নামের এক শান্ত, ধূর্ত ও ঠান্ডা মাথার প্রতিপক্ষের নেতৃত্বাধীন সুশৃঙ্খল দল, যা শেষ পর্যন্ত পুরো অনুসন্ধানকে জীবনের অস্তিত্ব রক্ষার এক মরণপণ লড়াইয়ে পরিণত করে।
অভিনয়ের ক্ষেত্রে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সাহসী ও ব্যতিক্রমী রূপ উপস্থাপন করেছেন সূরিয়া। নিখুঁত হিরো ভাবমূর্তি ঝেড়ে ফেলে শরীরী ভাষা, অনবদ্য কমিক টাইমিং এবং শক্তিশালী উপস্থিতির মাধ্যমে ইনবারাজ চরিত্রটিকে তিনি অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর পর তামিল চলচ্চিত্রে ফেরা নজরিয়া নাজিম কেবল চেনা রোমান্টিক নায়িকার গণ্ডিতে আটকে না থেকে অসাধারণ অ্যাকশন দৃশ্যে নিজেকে তুলে ধরেছেন এবং সূরিয়ার সঙ্গে তাঁর রসায়ন নজর কেড়েছে। অন্যদিকে চেনা পাশের বাড়ির ছেলের ইমেজ ভেঙে সম্পূর্ণ নেতিবাচক ও ভয়ংকর খলনায়ক হিসেবে অভিনয় করে বড় চমক দেখিয়েছেন তরুণ তারকা নাসলেন; যাঁর শীতল অভিব্যক্তি সূরিয়ার চরিত্রের সঙ্গে একটি দারুণ মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে। সেই সঙ্গে সুশিন শ্যামের আবহ সংগীত ছবির ডার্ক কমেডির আবহকে সফলভাবে আরও গভীর করেছে।
চলচ্চিত্রটিতে বেশ কিছু চমৎকার দৃশ্য ও অপ্রত্যাশিত ক্যামিও উপস্থিতি থাকলেও চিত্রনাট্যে কিছু ত্রুটি লক্ষণীয়। গল্পের প্রথমার্ধে অনুসন্ধানের গতি তৈরি হতে কিছুটা বেশি সময় নেয় এবং ধীরগতির কমেডি পর্ব থেকে দ্বিতীয়ার্ধের দ্রুতগতির অ্যাকশনে রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি কিছুটা আকস্মিক মনে হয়। এ ছাড়া তদন্তের কিছু জটলা সহজে ছুটিয়ে নেওয়ার জন্য কাকতালীয় ঘটনার ওপর নির্ভরতা এবং দলের কিছু পার্শ্বচরিত্রকে সঠিকভাবে বিকশিত না করায় থ্রিলারের বিশ্বাসযোগ্যতা কিছুটা ধাক্কা খায়। তবে এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গতিময় ডার্ক কমেডি, চমকপ্রদ মোড় এবং সূরিয়ার বাঁধভাঙা প্রাণবন্ত অভিনয়ের কারণে বড় পর্দায় একটি উপভোগ্য অভিজ্ঞতা হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে ‘সিন’।
‘সুড়ঙ্গ’ ও ‘দাগি’র সাফল্যের পর বড় পর্দায় জুটি হিসেবে হ্যাটট্রিক করতে যাচ্ছেন দর্শকপ্রিয় অভিনয়শিল্পী আফরান নিশো ও তমা মির্জা। মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ঘরানার নতুন চলচ্চিত্র ‘খলনায়ক’-এর মাধ্যমে তাঁদের এই তৃতীয় কাজের সম্মিলন ঘটছে। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন জনপ্রিয় নির্মাতা ভিকি জাহেদ, যা তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে নির্মিতব্য এই চলচ্চিত্রে নিশো ও তমার পাশাপাশি যুক্ত হয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন শক্তিশালী অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন লোকেশনে ছবিটির দৃশ্যধারণের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
নিশো-তমা জুটির বড় পর্দার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া রায়হান রাফীর ব্যবসাসফল ছবি ‘সুড়ঙ্গ’ দিয়ে। আফরান নিশোর অভিষেক চলচ্চিত্রে এই জুটির অনবদ্য অভিনয় ও রসায়ন দর্শকমহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে মুক্তি পায় শিহাব শাহীনের চলচ্চিত্র ‘দাগি’। সিনেমাটির ‘একটুখানি মন’ গানটির মাধ্যমে রোমান্টিক আবহের পাশাপাশি মুক্তি ও প্রায়শ্চিত্তের গল্পে নিজেদের বৈচিত্র্য তুলে ধরেছিলেন এই জুটি। এদিকে ‘খলনায়ক’-এর মাধ্যমে আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরীও খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে আবার মুখোমুখি হচ্ছেন। এর আগে গত রোজার ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দম’ সিনেমায় প্রথমবারের মতো একসঙ্গে বড় পর্দায় অভিনয় করেছিলেন এই দুই অভিনেতা।
নতুন সিনেমাটি নিয়ে শিল্পী ও পরিচালকের মধ্যেও রয়েছে দারুণ প্রত্যাশা। আফরান নিশো জানান, ভিকি জাহেদের গল্প বলার স্বতন্ত্র ধারার কারণেই তিনি এই কাজে আগ্রহী হয়েছেন এবং চিত্রনাট্যটিকে একটি দারুণ মনস্তাত্ত্বিক ক্যানভাস বলে মনে করছেন। অন্যদিকে তমা মির্জাও চিত্রনাট্য ও নিজের চরিত্র নিয়ে ভীষণ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পরিচালক ভিকি জাহেদ জানান, মানবচরিত্রের গভীর জটিলতা ও অন্তর্নিহিত রহস্যকে ফুটিয়ে তোলাই এই চলচ্চিত্রের মূল উদ্দেশ্য; যেখানে নিশো ও চঞ্চলের মতো দুজন শক্তিশালী অভিনেতাকে একসঙ্গে পরিচালনা করা তাঁর জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ও চ্যালেঞ্জিং এক অভিজ্ঞতা ছিল।
পর্দার এই ব্যস্ততার পাশাপাশি দুই অভিনয়শিল্পীর ব্যক্তি ও পেশাজীবনেও এসেছে নতুনত্ব। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফর করে ব্যক্তিগত সময় কাটিয়েছেন তমা মির্জা, যেখানে ব্রুকলিন ব্রিজসহ শহরের নানা স্মৃতি সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া অভিনয়ের পাশাপাশি কর্মজীবনে নতুন একটি পরিচয় যুক্ত করে সম্প্রতি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকের ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। অন্যদিকে ছোট পর্দা ও ওটিটির সাফল্য পেরিয়ে চলচ্চিত্রে এসে ভিন্নধর্মী চরিত্র ও মনস্তাত্ত্বিক গল্পের দিকেই মনোযোগ ধরে রেখেছেন আফরান নিশো।
দীর্ঘদিনের বিরতি কাটিয়ে আবারও রূপালি পর্দায় ফিরলেন অভিনেত্রী লারা লোটাস। অভিনয়ে ফেরার পর সম্প্রতি ছোট পর্দায় বেশ কিছু একক ও ধারাবাহিক নাটকে কাজ করেছেন তিনি। তবে এবার নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন এই অভিনেত্রী। নির্মাতা জুলফিকার জাহেদি পরিচালিত ‘জানালার ওপারে কেউ নেই’ সিনেমায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে।
চলচ্চিত্রে ফেরা প্রসঙ্গে লারা লোটাস জানান, বড় পর্দায় এর আগেও তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে মনের মতো মানসম্মত গল্প এবং শক্তিশালী চরিত্রের অভাবেই নিয়মিত সিনেমায় কাজ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। দীর্ঘদিন পর নিজের কাঙ্ক্ষিত গল্প ও মনমতো চরিত্রের সুযোগ পাওয়ায় তিনি আবারও চলচ্চিত্রের জন্য শুটিং শুরু করেছেন।
চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক রূপান্তর নিয়ে এই অভিনেত্রী জানান, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের সিনেমায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গতানুগতিক ধারার কাজ থেকে বেরিয়ে বর্তমান সময়ের নির্মাতারা এখন নতুন ও ব্যতিক্রমী গল্প পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, ‘জানালার ওপারে কেউ নেই’ সিনেমায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা বর্তমান প্রজন্মের রুচিশীল দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং এর মাধ্যমে দর্শকেরা তাঁকে সম্পূর্ণ নতুন এক রূপে দেখতে পাবেন।
উল্লেখ্য, ছোট পর্দায় অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি বড় পর্দাতেও নিজের অভিনয়দক্ষতার ছাপ রেখেছেন লারা লোটাস। এর আগে প্রখ্যাত নির্মাতা গাজী রাকায়েত পরিচালিত ‘মানুষটিকে দেখো’ এবং রাশেদ শামিম শ্যামের পরিচালনায় ‘পরী’ সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।
বলিউডে বৈচিত্র্যময় ও জীবনঘনিষ্ঠ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করা অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকর এবার নতুন ঘরানায় পা রাখতে যাচ্ছেন। সামাজিক বাস্তবতা ও সম্পর্কের গল্প পেরিয়ে এই অভিনেত্রী প্রথমবারের মতো ভৌতিক ঘরানার চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে চলেছেন। তাঁর অভিনীত নতুন এই হরর সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ‘জানি দুশমন-ডর কে আগে মউত হ্যায়’।
চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন নির্মাতা আরশাদ সৈয়দ। যুক্তরাজ্যের মনোরম ও রহস্যঘেরা পটভূমিতে সিনেমাটির দৃশ্যধারণের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এটি নিছক কোনো প্রচলিত ভৌতিক গল্প নয়; বরং মা ও মেয়ের গভীর সম্পর্ক, একটি পরিবারের লুকানো গোপন রহস্য এবং অতিপ্রাকৃত পরিস্থিতির টানটান উত্তেজনার মিশেলে এর চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভূষণ কুমারের টি-সিরিজের ব্যানারে নির্মিতব্য এই চলচ্চিত্রে সৃজনশীল প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রব্বি গ্রেওয়াল। নির্মাতাদের লক্ষ্য, সিনেমাটিকে একক কোনো প্রজেক্টে সীমাবদ্ধ না রেখে পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ হরর ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে বড় পর্দায় এগিয়ে নেওয়া।
সিনেমাটির অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে এর অ্যাকশন ও রোমহর্ষক স্টান্ট পরিচালনা। আন্তর্জাতিক মানের রোমাঞ্চকর পরিবেশ তৈরি করতে ছবিটিতে যুক্ত করা হয়েছে প্রখ্যাত হলিউড স্টান্ট বিশেষজ্ঞ পিটার পেড্রেরোকে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘হ্যারি পটার’, ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’, ‘দি এক্সপেন্ডেবলস’, ‘গেম অব থ্রোনস’ এবং কালজয়ী ভৌতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘দ্য কনজিউরিং’-এ কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ছবির ভৌতিক আবহ ও মারপিটের দৃশ্যগুলোতে বিশ্বমানের রূপ দিতে চান নির্মাতারা।
ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে ভাঙাগড়ার ধারাবাহিকতায় এই সিনেমাটি ভূমি পেডনেকরের অভিনয়জীবনেও যোগ করতে যাচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা। আন্তর্জাতিক মানের স্টান্ট, পারিবারিক আবেগ ও ভয়ের সংমিশ্রণে নির্মিতব্য এই চলচ্চিত্রটি আগামী ২০২৭ সালে প্রেক্ষাগৃহে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
স্পেনের ঐতিহ্যবাহী শহর বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত ‘এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল বার্সেলোনা’-য় বড় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশের দুটি চলচ্চিত্র। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সিনেমার অংশগ্রহণে আয়োজিত এই উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নিয়েছে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’। একই সঙ্গে উৎসবটির ‘আদার ন্যারেটিভ সেকশন’-এ বিশেষ সম্মাননা বা স্পেশাল মেনশন অর্জন করেছে তরুণ নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’।
গত ২২ অক্টোবর শুরু হওয়া এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবটি শেষ হয় ২ নভেম্বর। সমাপনী দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন বিভাগের চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে উৎসব কর্তৃপক্ষ। বিদেশের মাটিতে এমন মর্যাদাপূর্ণ অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন ও মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম; একই সঙ্গে তাঁরা উৎসব সংশ্লিষ্টদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এর আগেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একাধিক উৎসবে অংশ নিয়ে পুরস্কৃত হয়েছিল চলচ্চিত্র দুটি, যার ধারাবাহিকতায় স্পেনের এই সম্মাননা বিশ্বমঞ্চে দেশীয় চলচ্চিত্রের উপস্থিতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল।
লোকগাথা ও মিথের সঙ্গে গ্রামবাংলার চিরায়ত বাস্তবতার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে নির্মিত হয়েছে মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’। গল্পের আবহ, গভীরতা এবং নান্দনিক নির্মাণশৈলীর কারণে চলচ্চিত্রটি ইতিমধ্যে বোদ্ধামহলে সমাদৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক উৎসবের পাশাপাশি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরও সাধারণ দর্শকদের ব্যাপক সাড়া ও বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছিল ছবিটি। চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় দুটি চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি।
অন্যদিকে মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম পরিচালিত ‘দেলুপি’ চলচ্চিত্রটির প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে খুলনার উপকূলীয় অঞ্চল দেলুটি ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে। সেখানকার একটি বিধ্বংসী বন্যার বাস্তব অভিঘাতের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মেলবন্ধন ঘটিয়ে সিনেমাটির মূল চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই বাস্তবধর্মী গল্পের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিরঞ্জিৎ বিশ্বাস, অদিতি রায়, রুদ্র রায় এবং জাকির হোসেনসহ আরও অনেকে।
বক্স অফিসে সাফল্যের পর এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ভারতের মেগাস্টার রজনীকান্ত অভিনীত বহুল আলোচিত অ্যাকশন-কমেডি চলচ্চিত্র ‘জেলার টু’। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম প্রাইম ভিডিও তাদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ১২ নভেম্বর সিনেমাটি তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে। চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত এই সিক্যুয়েলটি মূল তামিল ভাষার পাশাপাশি হিন্দি, মালয়ালম, তেলুগু ও কন্নড়—এই চারটি ভাষায় ডাবিং করে একযোগে সম্প্রচার করা হবে।
চলচ্চিত্রটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে আগের পর্বের খলনায়ক বর্মনের সাম্রাজ্য ধ্বংসের তিন মাস পরের প্রেক্ষাপট নিয়ে। মুথুভেল পান্ডিয়ান তখন নিজের অতীত ছেড়ে কোয়েম্বাটোরের কাছে একটি সুপারমার্কেটের সুপারভাইজার হিসেবে স্ত্রী ভিজি, পুত্রবধূ শ্বেতা ও নাতি ঋত্বিককে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করছিলেন। কিন্তু বর্মনের সহযোগী দিলীপ তার নেতার পতনের জন্য দায়ীকে খুঁজে বের করতে মুকুন্দকে দায়িত্ব দিলে সেই শান্ত জীবনে বিঘ্ন ঘটে। এর মধ্যেই মুর্তি নামের এক ফল বিক্রেতার মাধ্যমে প্রাচীন মূর্তি পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন মুথুভেল এবং দিলীপের নেটওয়ার্কে গোপনে অনুপ্রবেশ করেন; কিন্তু একপর্যায়ে পরিচয় ফাঁস হয়ে গেলে তাঁর পরিবার চরম বিপদের মুখে পড়ে।
পরিবারকে বাঁচাতে মুথুভেল তাঁর পুরোনো বিশ্বস্ত সহযোগী ম্যাথিউ, নরসিমা ও কামদেবের সাহায্য নিয়ে বৃহত্তর এক মূর্তি পাচার সিন্ডিকেটের প্রধান বোধি কল্পকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেন। সংঘাত তীব্র রূপ নিলে অর্জুনের নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যের সত্য পরিবারের সামনে আসে এবং বোধি পুরো পরিবারকে জিম্মি করে ফেলে। এরপর পুরোনো সহযোগী রডির সহায়তায় পরিবারকে উদ্ধার করে এক চূড়ান্ত অভিযানের মাধ্যমে কল্পকদের পুরো সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দেন মুথুভেল। পরিবারের কাছ থেকে ক্ষমা পাওয়ার পর দুই সপ্তাহ বাদে মুথুভেল স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেও বোধির বোন কান্তা কল্পকের পাঠানো একটি রহস্যজনক বার্তা তাঁর জীবনে আরও একটি সংঘাতের ইঙ্গিত দিয়ে গল্প শেষ করে।
সান পিকচার্সের প্রযোজনায় নির্মিত এই তারকাবহুল সিনেমায় রজনীকান্তের সঙ্গে মূল চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন এস জে সুরিয়া, বিদ্যা বালান, সুরজ ভেঞ্জারমুডু, মিঠুন চক্রবর্তী, রাম্যা কৃষ্ণান, যোগী বাবু, নামো নারায়ণ, হাক্কিম শাহ এবং মিরনা। এ ছাড়া প্রথম পর্বের মতো এতেও ক্যামিও চরিত্রে ফিরেছেন মোহনলাল, শিব রাজকুমার ও জ্যাকি শ্রফ; আর বিশেষ চরিত্রে দেখা গেছে হৃতিক রোশন ও বিজয় সেতুপতিকে। চলচ্চিত্রটির সংগীত পরিচালনা করেছেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দর, চিত্রগ্রহণে ছিলেন বিজয় কার্তিক কান্নান এবং সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন আর. নির্মল।
তরুণ প্রজন্মের কাছে তুমুল জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর পঞ্চম সিজনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে চলতি মাসেই। নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত আলোচিত এই ধারাবাহিকটির কিছুদিন আগেই ১৬তম চ্যাপ্টার মুক্তি পেয়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নির্মাতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন যে, আসন্ন ১৭তম চ্যাপ্টার প্রকাশের মধ্য দিয়েই পর্দা নামবে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ৫’-এর।
বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি। বিশেষ করে দাঁত ও গলার জটিল সমস্যার কারণে তিনি কয়েক দিন স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারেননি। তবে বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে জানিয়ে ভিডিও বার্তায় অমি বলেন, ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ৫-এর শেষ চ্যাপ্টার এ মাসেই মুক্তি পাবে। দর্শক বহু বছর ধরে যেসব বিষয় ও মোড় দেখার অপেক্ষায় ছিলেন, তার অনেক কিছুই এই শেষ চ্যাপ্টারে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে ১৭তম এই সমাপনী চ্যাপ্টারটি চলতি মাসের কোন তারিখে প্রচারিত হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ এখনো জানাননি নির্মাতা।
সিজনের সমাপ্তি নিয়ে দেওয়া এই ঘোষণার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে। ভিডিও প্রকাশের মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় এক লাখ ভিউ হওয়ার পাশাপাশি সাড়ে আট হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া এবং পাঁচ শতাধিক মন্তব্য জমা পড়ে। নাটকের নিয়মিত দর্শকেরা বিভিন্ন মন্তব্যে তাঁদের প্রিয় চরিত্র ‘রোকেয়া’ বা ‘শিমুল’-কে পর্দায় দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে পঞ্চম সিজন শেষ হওয়ার পর জনপ্রিয় এই ফ্র্যাঞ্চাইজির ষষ্ঠ কিস্তি আসবে কি না, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলছেন ভক্তরা; তবে পরবর্তী সিজনের বিষয়ে নির্মাতা এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, সমকালীন বাস্তবতায় গড়ে ওঠা হাস্যরস ও সম্পর্কের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ শুরু থেকেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা বজায় রেখেছে। নাটকটির বিভিন্ন কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছেন মারজুক রাসেল, জিয়াউল হক পলাশ, তৌসিফ মাহবুব, চাষী আলম এবং শামীম হাসান সরকার। এ ছাড়া এতে আরও অভিনয় করেছেন মুসাফির সৈয়দ বাচ্চু ও অর্চিতা স্পর্শিয়াসহ একঝাঁক অভিনয়শিল্পী।
আগামী শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশজুড়ে পালিত হতে যাওয়া ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশেষ উন্মুক্ত কনসার্ট। ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’ শীর্ষক এই সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় সাতটি জনপ্রিয় ব্যান্ড এই কনসার্টে অংশ নিয়ে গান পরিবেশন করবে। ব্যান্ডগুলোর তালিকায় রয়েছে ‘নগরবাউল’, ‘ওয়ারফেজ’, ‘মাইলস’, ‘শিরোনামহীন’, ‘আর্টসেল’, ‘মেকানিক্স’ এবং ‘ফিডব্যাক’।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার বিকেল ৩টায় কনসার্টস্থলের প্রবেশদ্বার সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং বিকেল ৪টায় মূল সংগীতানুষ্ঠান শুরু হবে। দেশের জনপ্রিয় সাত ব্যান্ডের এই পরিবেশনা টানা প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে চলবে। এই পুরো আয়োজনটি সবার জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, ফলে সংগীতপ্রেমী সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের টিকিট ছাড়াই বিনামূল্যে কনসার্টটি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
গত দুই বছর ধরে নানামুখী নিরাপত্তাজনিত কারণ ও সীমাবদ্ধতায় দেশে খোলা আকাশের নিচে বা উন্মুক্ত স্থানে কনসার্ট আয়োজনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। অনেক বড় বড় আয়োজন শেষ মুহূর্তে বাতিল করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এমন দীর্ঘ স্থবিরতার পর এক মঞ্চে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাতটি ব্যান্ডকে নিয়ে উন্মুক্ত কনসার্টের এই উদ্যোগ শ্রোতা-দর্শকদের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
কনসার্টের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছে জনপ্রিয় হেভি মেটাল ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’। ব্যান্ডটির পক্ষ থেকে শ্রোতাদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে, একটি শহর, একটি মঞ্চ এবং সাতটি আইকনিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ঐক্য ও সংহতির চেতনা তুলে ধরা হবে। সুরের মূর্ছনায় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন উদযাপন করতে ঢাকাবাসীকে এক অবিস্মরণীয় সংগীত আয়োজনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
জনপ্রিয় অ্যানিমেশন কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘দ্য অ্যাংরি বার্ডস’-এর তৃতীয় কিস্তির নতুন ট্রেলার উন্মোচন করেছেন নির্মাতারা। জেসন সুডেইকিস অভিনীত রেড চরিত্রের নতুন অভিযান নিয়ে নির্মিত ‘দ্য অ্যাংরি বার্ডস মুভি ৩’ আগামী ২৩ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। নতুন প্রকাশিত ট্রেলারে রেড চরিত্রের পারিবারিক জীবন, বাবা হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ এবং আবারও নিজের দ্বীপকে বাঁচানোর এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
২ মিনিট ২৭ সেকেন্ড ব্যাপ্তির প্রকাশিত ট্রেলারে দেখা যায়, সিলভারের সঙ্গে সংসার শুরু করে পিতৃত্বের নতুন অভিজ্ঞতায় পা রেখেছে রেড। তবে একসঙ্গে একাধিক সন্তানের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তাকে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন পারিবারিক বাস্তবতার মাঝেই আবারও অস্তিত্বের সংকটে পড়ে পুরো দ্বীপটি। ফলে দ্বীপকে এক মহাবিপদ থেকে রক্ষা করতে পরিবারের পাশাপাশি পুরোনো বন্ধু চাক ও বম্বকে সঙ্গে নিয়ে আরেকটি যৌথ অভিযানে নামতে বাধ্য হয় রেড। চলচ্চিত্রটির বড় আকর্ষণ হিসেবে থাকছে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড ব্ল্যাকপিঙ্কের সদস্য জিসুর গাওয়া একটি বিশেষ মৌলিক গান।
ফ্র্যাঞ্চাইজিটির আগের কিস্তিগুলোর মতো এবারও পুরোনো চরিত্রগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন মূল অভিনয়শিল্পীরা। রেডের চরিত্রে জেসন সুডেইকিস, চাকের চরিত্রে জশ গ্যাড, বম্বের চরিত্রে ড্যানি ম্যাকব্রাইড এবং সিলভার চরিত্রে র্যাচেল ব্লুম ফিরেছেন। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন এমা মায়ার্স, ওয়াকার স্কোবেল, টিম রবিনসন, সাম ওয়েস্ট, জেমস অস্টিন জনসন এবং অ্যান্থনি পাডিলা। পাশাপাশি কিকে পামার, লিলি জেমস, স্যাম রিচার্ডসন, মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণন, নিকি গ্লেসার, মার্সেলো হার্নান্দেজ, আনা ক্যাথকার্ট এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার মিস্টারবিস্টও এতে কণ্ঠ দিয়েছেন, তবে তাঁদের চরিত্রের বিষয়টি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম চলচ্চিত্রে বদমেজাজি পাখি রেড একঘরে অবস্থা থেকে ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ ক্লাসে চাক ও বম্বের বন্ধুত্ব পায় এবং রাজা লিওনার্দোর নেতৃত্বে সবুজ শূকরদের চুরি করা ডিম উদ্ধার করে বীর বনে যায়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের সিক্যুয়েলে ঈগল দ্বীপের শাসক জেটার অস্ত্রের বিরুদ্ধে শূকর ও পাখিরা যৌথ জোট গঠন করে এবং সিলভারের সহায়তায় সেই হুমকি প্রতিহত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার পারিবারিক আবেগ ও অ্যাকশনের মেলবন্ধন নিয়ে বড় পর্দায় হাজির হতে চলেছে ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন এই অধ্যায়।
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও হুমকি প্রদর্শন মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে ভিড়ের মধ্যে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও গায়ে হাত তোলার অভিযোগ তুলে তিনি ভিডিও ফুটেজ দেখে তাঁকে শনাক্ত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্যামেরার তীব্র আলো সরাসরি চোখে ফেলার বিষয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জামিনের শুনানি শেষে আদালত ভবন থেকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ও সহকারীদের সুরক্ষায় নিজের গাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন পরীমনি। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকেরা জামিন বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য না করে তিনি দ্রুত গাড়ির দিকে এগোতে থাকেন। তবে গাড়িতে ওঠার ঠিক পূর্বমুহূর্তে এক ব্যক্তির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তিনি। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই আমার হাত দিয়েছিস ক্যান!’ জবাবে মুঠোফোন হাতে থাকা ওই ব্যক্তি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমি আপনার গায়ে হাত দিব কেন? আমি ভিডিও করছি।’ এ সময় অভিনেত্রীর সহকারীরাও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে শারীরিক স্পর্শের অভিযোগ তোলেন।
ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে প্রায় আধা মিনিট ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরীমনি। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘কত বড় সাহস, গায়ের মধ্যে হাত দেয়, সাহস দেখায়।’ পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সরিয়ে দিলে ক্ষুব্ধ অবস্থাতেই গাড়িতে উঠে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন তিনি। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের কারণ জানতে চান।
এর আগে গত বুধবার (৪ নভেম্বর) মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিনে আদালতে গরহাজির থাকায় অভিনেত্রীর জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। এছাড়া গত বছরের ২৬ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের নির্ধারিত দিনেও তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে প্রত্যাহার হয়। আইনি জটিলতার পাশাপাশি পেশাগত কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘সেপারেশন’ ওয়েব চলচ্চিত্রে অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণের বিপরীতে কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া তারেক রহমান পরিচালিত ‘ফারজানা’ চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করতেও বর্তমানে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন।
দীর্ঘ ২৭ বছরের অভিনয় ক্যারিয়ারে দেশ ও বিদেশের সত্তরেরও বেশি নায়িকার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের মডেল ও অভিনেত্রী কিনজা হাশমীর নাম। শাকিব খানের আসন্ন নতুন চলচ্চিত্র ‘মহব্বত’-এ তাঁর বিপরীতে এই পাকিস্তানি অভিনেত্রীর অভিনয় চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পরিচালক হিমেল আশরাফ কিংবা প্রযোজনা সংস্থা ভার্সেটাইল মিডিয়ার পক্ষ থেকে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
গত অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর থেকেই শাকিবের বিপরীতে কে থাকছেন, তা নিয়ে বিনোদনপাড়ায় নানা গুঞ্জন শুরু হয়। শুরুতে পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির, সজল আলি, ইয়ামনা জায়েদী ও দুর-ই-ফিশান সেলিমের নাম শোনা গেলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁদের কাউকেই নয় বরং কিনজা হাশমীকেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। এমনকি অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তির আনুষ্ঠানিকতাও শেষ হয়েছে। তবে প্রচারণার চমক ধরে রাখতে প্রথম পোস্টারে নায়িকার মুখ আড়ালে রেখে শুধু লাল ওড়না ও সাদা পোশাক পরিহিত একটি হাত প্রকাশ করা হয়; শিগগিরই এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে নতুন নায়িকাকে দর্শকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।
টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে ২০১৪ সালে পাকিস্তানের বিনোদন জগতে নিজের অভিনয়যাত্রা শুরু করেন কিনজা হাশমী। ‘ইশক তামাশা’ ধারাবাহিকে রুশনা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের ব্যাপক প্রশংসা ও পরিচিতি পান। পরবর্তীতে ‘গুল-ও-গুলজার’, ‘মোহলত’, ‘দিল আওয়াইজ’, ‘হুক’, ‘মেরে বান জাও’ এবং জনপ্রিয় টেলিছবি ‘রূপোশ’-এ অভিনয় করে তিনি নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন। ছোট পর্দার পাশাপাশি ‘কট্টর করাচি’ ও ‘শিরোস’ নামের দুটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। মডেলিং জগতেও সমান পরিচিত এই অভিনেত্রীর জন্য বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে পদার্পণ তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
শাকিব খানের বিপরীতে বিদেশি অভিনেত্রীদের অভিনয় করার নজির এবারই প্রথম নয়। এর আগে টালিউডের শ্রাবন্তী, শুভশ্রী, পাওলি দাম, স্বস্তিকা, সায়ন্তিকা, মিমি চক্রবর্তী ও ইধিকা পাল এবং বলিউডের সোনাল চৌহানসহ একাধিক আন্তর্জাতিক তারকা তাঁর সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছেন। বিশেষ করে শাকিব খান ও পরিচালক হিমেল আশরাফ জুটির আগের দুই ছবি ‘প্রিয়তমা’য় কলকাতার ইধিকা পাল এবং ‘রাজকুমার’-এ মার্কিন অভিনেত্রী কোর্টনি কফিকে যুক্ত করে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া গিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার পাকিস্তানি তারকাকে যুক্ত করা হলো। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে সিনেমাটির দৃশ্যধারণ শুরুর কথা রয়েছে এবং কাজ শেষ করে ২০২৭ সালের ঈদুল আজহায় ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।