সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪

শ্রীদেবীর মৃত্যু: ৬ বছরেও খুলল না  রহস্যজট

প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৩:৩৬

ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম লেডি সুপারস্টার বলা হয় প্রয়াত শ্রীদেবীকে। বলিউড আকাশের এই ধ্রুবতারা তামিল, তেলেগু, হিন্দি, মালয়ালমসহ বেশ কিছু কন্নড় ভাষার সিনেমাতেও দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। পাঁচ দশকের অভিনয় জীবনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থেকে শুরু করে কেরালা, তামিলনাড়ু, ফিল্মফেয়ার, নন্দী পুরস্কারসহ আজীবন সম্মাননা পুরস্কার ও দক্ষিণী সিনেমায় তিনটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন। শ্রীদেবী সংগ্রামী নারী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তিনি ৮০ ও ৯০ দশকের ভারতের বিনোদন শিল্পের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত নারী ছিলেন এবং তাকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও সবচেয়ে প্রভাবশালী অভিনেত্রী হিসেবে গণ্য করা হয় তাকে।

বিনোদন শিল্পে তার অবদানের জন্য ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাকে দেশটির চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত করে। এ ছাড়া তিনি তামিলনাড়ু, অন্ধ্র প্রদেশ ও কেরালা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানসূচক পুরস্কার লাভ করেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে ২০১৩ সালে সিএনএন-আইবিএনের এক জরিপে তিনি ‘১০০ বছরে ভারতের সেরা অভিনেত্রী’ হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক বনি কাপুরের স্ত্রী।

আজ এই কিংবদন্তির মৃত্যুর ৬ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৮ সালের এই দিনে (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুবাইয়ের জুমেইরাহ এমিরেটস টাওয়ারের বাথরুমের বাথটাবের পানিতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। অনেক পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শ্রীদেবীর মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে ঘোষণা করেন। যদিও নায়িকার মৃত্যুকে ঘিরে নানা সময়ে নানা গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। তবে সেসবের সত্যতা মেলেনি। এসব উত্তর আজও স্পষ্ট নয়। সংবাদ মাধ্যমের কাছে অভিনেতা সঞ্জয় কাপুর জানিয়েছিলেন যে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর। যদিও পরবর্তীকালে অভিনেত্রীর মৃত্যুর কারণ বদলে যায়। প্রথমে জানা যায়, হার্ট অ্যাটাক। কিন্তু দু’দিন পর সোমবার বিকালে দুবাই পুলিশ নিশ্চিত করে, জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর।

কোন জলে? দুবাইয়ের জুমেইরাহ এমিরেটস টাওয়ার্স নামে যে হোটেলে শ্রীদেবী কয়েক দিন ধরে ছিলেন, তারই বাথরুমের বাথটাবের জলে। সামান্য উচ্চতার একটা বাথটাব। জল ভরলেও উচ্চতা দেড় ফুটের বেশি হবে না! তাতে কী করে ডুবে গেলেন পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি উচ্চতার ওই অভিনেত্রী! অনেকের মনেই প্রশ্নটা ঘুরছে।

দুবাই পুলিশ জানিয়েছে, অচৈতন্য অবস্থায় জলে ডুবে গিয়েছিলেন শ্রীদেবী। কিন্তু অচৈতন্য হলেন কীভাবে? সে প্রশ্নেরও জবাব মেলেনি। বরং আশ্চর্যজনকভাবে দু’দিন ধরে বলা ‘হার্ট অ্যাটাক’ শব্দটাও উধাও হয়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে তাহলে কি হার্ট অ্যাটাক হয়নি? কারণ দুবাই পুলিশ বা সে দেশের মিডিয়া সেন্টার ওইদিন যে তথ্য দিয়েছে, সেখানে হার্ট অ্যাটাকের কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে অচৈতন্য হয়েই জলে ডুবে যাওয়ার কথা।

সুপারস্টার নায়িকার মৃত্যুতে শুরুতেই অভিযোগের আঙুল উঠেছিল স্বামী বনি কাপুরের দিকে। কিন্তু পরবর্তীতে গণমাধ্যমে নানা ব্যাখ্যা দিয়ে বণি কাপুর অবশ্য বলেছিলেন, শ্রীদেবীর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না।


হঠাৎ আলোচনায় প্রীতি জিনতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বলিউডের একসময়ের শীর্ষ তারকা প্রীতি জিনতা এখন অভিনয়ে অনেকটাই অনিয়মিত। আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, গালে টোলপড়া হাসি দিয়ে দর্শক হৃদয়ে ঝড় তোলা এ অভিনেত্রীকে সবশেষ দেখা গিয়েছিল ‘ভাইয়াজি সুপারস্টার’ ছবিতে। ওই ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন সানি দেওল। বিরতি ভেঙে ছবিটির মাধ্যমে বলিউডে ফেরার চেষ্টা করলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। কারণ ‘ভাইয়াজি সুপারস্টার’ ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল।

বর্তমানে ভারতে চলছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। এবারের আসরেও খেলছে তার দল পাঞ্জাব ইলেভেন কিংস। বর্তমানে আইপিএল ও তার দল নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এই তারকা। এর মধ্যেই পুরোনো একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন প্রীতি। ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারের সেই ভিডিওতে তিনি স্বীকার করেছেন, স্টারকিড কিংবা বলিউডে যাদের পরিচিত কেউ নেই, তাদের নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে মনের বিরুদ্ধে গিয়ে করতে হয় এমন কিছু কাজ, যা অনেকে কল্পনায়ও ভাবতে পারবেন না।

প্রীতি জিনতা বলেন, ‘বলিউডে ছবি পাওয়ার জন্য যতদূর খুশি যেতে পারে ছেলেমেয়েরা। যাদের কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড নেই, তারা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। তবে শুধু ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা বলছি না, যে কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলেই এ সমস্যা। সেসব ছেলেমেয়ের জন্য বলিউড নিরাপদ জায়গা নয়।’ ওই সাক্ষাৎকারে প্রীতি জানিয়েছেন, তিনি নিজেও ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ডের একজন হিসেবে এমন অনেক প্রস্তাব পেয়েছেন, যা তার কাছে কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো ছিল না। তবুও হাল ছেড়ে দেননি। নিজের অভিনয়ের প্রতি বিশ্বাস ধরে রেখেছিলেন। যার সুবাদে কারও সহযোগিতা ছাড়াই চলচ্চিত্র জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। তবে এও সত্য, নেপথ্যে কেউ না থাকলে অথবা কারও সহযোগিতা ছাড়া বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করা মুশকিল।

এদিক থেকে তিনি কিছুটা ভাগ্যবতী, কারণ যারা প্রতিভাকে মূল্যায়ন করেন, তেমনি কিছু মানুষের ছত্রছায়ায় কাজ করে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। অভিনেত্রীর এ কথা যে এখনও প্রাসঙ্গিক, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তা স্বীকারও করেছেন নেটিজেনদের অনেকে।

এদিকে পুরোনো ভিডিওর সূত্রে আলোচনায় আসা প্রীতি জিনতাকে নিয়ে দর্শক কৌতূহলও বেড়ে চলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, এ অভিনেত্রীকে আবারও বড় পর্দায় দেখা যাবে কিনা। যদিও এ বিষয়ে প্রীতির পক্ষ থেকে কোনো উত্তর মেলেনি। তিনি এখন আইপিএলে নিজের দল পাঞ্জাব কিংসের সমর্থনে ছুটছেন এক স্টেডিয়াম থেকে আরেক স্টেডিয়ামে। এর বাইরে তিনি সময় কাটাচ্ছেন স্বামী ও যমজ সন্তান নিয়ে।

বিষয়:

নতুন লুকে অমিতাভ বচ্চন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

চলতি বছর বলিউডের সবচেয়ে প্রত্যাশিত সিনেমার তালিকায় প্রথমেই যে নামটি আসে তা হলো নাগ অশ্বিন পরিচালিত ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’। এই ছবিতে রহস্যময় একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিগবি খ্যাত বলিউডের ‘শাহেনশাহ’ অমিতাভ বচ্চন। নিজের রহস্যময় চরিত্রের এই পোস্টার শেয়ার করে অমিতাভ লিখেছেন, ‘এবার জানার সময় হয়েছে যে তিনি কে!’

বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্রটিতে প্যান ইন্ডিয়া তারকা প্রভাসের সঙ্গে প্রথমবার জুটি বেঁধেছেন দীপিকা পাড়ুকোন। প্রভাস-দীপিকা ছাড়াও এই সিনেমার অন্যতম আকর্ষণ অমিতাভ বচ্চন, কমল হাসানের মতো দুই মহাতারকা। সিনেমার প্রচার শুরু করে অনেক আগেই ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’-এর কিছু ঝলক সামনে এনেছিলেন নির্মাতা। এবার অমিতাভ বচ্চনের রহস্যময় চরিত্রের লুক প্রকাশ করে সিনেমাপ্রেমীদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।

পোস্টার লুকে অভিতাভকে দেখা যাচ্ছে, আপাদমস্তক কাপড়ে ঢেকে রেখেছেন, শুধু চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে। উস্কোখুস্কো লম্বা পাকা চুল-দাড়ি। একটি মন্দিরের ভেতরে বসে উজ্জ্বল আলোর দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। রহস্যময় চরিত্রের এই পোস্টার শেয়ার করে টুইটারে লেখা হয়েছে ‘এবার জানার সময় হয়েছে তিনি কে!’

লুকটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ভক্তরা নানা মন্তব্য করছেন। একজন লিখেছেন, ‘আগামী আপডেটের অপেক্ষা করতে পারছি না।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে এই সিনেমাটির জন্য অপেক্ষা করছি।’

৬০০ কোটি রুপি বাজেটের ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমার একটি হতে চলেছে। ছবিতে ভিএফএক্সের চোখ ধাঁধানো কারিকুরি দেখা যাবে। সিনেমাটি বেশ বড় আকারে আনতে চাইছেন নির্মাতারা। অনেকেই ধরে নিয়েছেন, এ ছবি এ বছর বক্স অফিসের অনেক হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেবে। ছবিতে পৌরাণিক চরিত্র ‘কল্কি’র ভূমিকায় দেখা যাবে প্রভাসকে, আর দীপিকা আসবেন ‘পদ্মা’র ভূমিকায়।

অমিতাভ বচ্চন, কমল হাসান ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ আরও চরিত্রে রয়েছেন দুলকার সালমান, দিশা পাটানি, শ্বাসত চ্যাটার্জি, রাম গোপাল ভার্মাসহ অনেকে। আগামী ৯ মে সিনেমাটি মুক্তি পেতে পারে।

অমিতাভ বচ্চনকে শেষ দেখা গিয়েছিল অ্যাকশন সিনেমা ‘গণপথ: এ হিরো ইজ বর্ন’-এ। ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এ সিনেমাটি গেল বছরের অক্টোবরে মুক্তি পেয়েছিল। এ ছাড়াও তার ঝুলিতে রয়েছে কোর্টরুম ড্রামা ফিল্ম ‘সেকশন ৮৪’।

বিষয়:

না ফেরার দেশে অভিনেতা ওয়ালিউল হক রুমি

অভিনেতা ওয়ালিউল হক রুমি। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

না ফেরার দেশে চলে গেলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ওয়ালিউল হক রুমি। আজ সোমবার ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওয়ালিউল হক রুমির মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কোলন ক্যান্সারে ভুগছিলেন ওয়ালিউল হক রুমি। প্রাথমিক চিকিৎসা করাতে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসা শেষে দেশে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এই অভিনেতা।

দীর্ঘদিন মঞ্চে অভিনয় করা রুমির ১৯৮৮ সালে ‘এখন ক্রীতদাস’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয় জগতে যাত্রা শুরু হয়। নাটকে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর সিনেমাতেও অভিনয় করেন। ২০০৯ সালে ‘দরিয়া পাড়ের দৌলতী’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে প্রথমবার বড় পর্দায় কাজ করেন তিনি।
রুমি অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে‘ ঢাকা টু বরিশাল’, ‘আমেরিকান সাহেব’, ‘জার্নি বাই বাস’, ‘বাকির নাম ফাঁকি’, ‘যমজ সিরিজ’, ‘কমেডি ৪২০’, ‘চৈতা পাগল’, ‘জীবনের অলিগলি’, ‘মেঘে ঢাকা শহর’ ইত্যাদি।

বিষয়:

আশাহত পূর্ণিমা

আপডেটেড ২২ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০৪
বিনোদন প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরেই রুপালি পর্দা থেকে দূরে ছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের লাস্যময়ী অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এ নায়িকার দুটি সিনেমা ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’র কাজ শেষ হলেও কোনো এক রহস্যময় কারণে ছবিটি দুটি আলোর মুখ দেখছে না। দুটি সিনেমাতেই পূর্ণিমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন ফেরদৌস আহমেদ। তবে অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো হলেও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয় এই অভিনেত্রীর। এবার ঈদে নাম মাত্র কয়েকটি সিনেমা হলে মুক্তি পায় পূর্ণিমা অভিনীত ছটকু আহমেদ পরিচালিত সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘আহারে জীবন’। ছবিটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন পূর্ণিমা। অনেক প্রত্যাশাও ছিল তার। কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছিলেন, আহারে জীবন ছবির মাধ্যমে অনেকদিন পর সিনেমা পর্দার দর্শক এবং আমার নিজস্ব ভক্তদের সামনে যেতে পারবেন তিনি।

কিন্তু পূর্ণিমার সেই আশা পূর্ণ হলেও দর্শকের ভালোবাসা পেতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। কারণ ঈদের দিন থেকেই ছবিটি মুখ থুবড়ে পড়ে। ছবিটি মুক্তির আগে পূর্ণিমা ছবিটির গল্প, লোকেশন, নিজের চরিত্র ও নির্মাণশৈলীর প্রশংসা করে বেশ আশার বাণী শুনিয়েছিলেন; কিন্তু দর্শক ছবিটি প্রত্যাখ্যান করায় বেশ আশাহত হয়েছেন পূর্ণিমা। যদিও তার বিপরীতে চিত্রনায়ক ফেরদৌস ছিলেন; কিন্তু কোনোভাবেই সফলকাম হতে পারেনি আহারে জীবন চলচ্চিত্রটি। তবে সিনেমাটি যারা দেখেছেন তারা গল্প ও শিল্পীদের অভিনয়ে তৃপ্ত তারা। তবে এখন পর্যন্ত সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করার সময় করে উঠতে পারেননি পূর্ণিমা।

এদিকে হতাশাকে নতুন প্রত্যাশায় পরিণত করে আবার পেশাগত কাজে ফিরতে পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন পূর্ণিমা। পূর্ণিমা জানান, এই মুহূর্তে দেশজুড়েই প্রচণ্ড গরম পড়েছে। গরমটা একটু কমলেই তিনি তার পেশাগত কাজে ফিরবেন। পূর্ণিমা বলেন, অভিনয় যেহেতু আমার পেশা, অবশ্যই আমি ভালো গল্প পেলে অভিনয় করব। হতে পারে তা সিনেমার কোনো ভালো গল্প, হতে পারে তা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য কোনো ভালো গল্প কিংবা কোনো নাটকের ভালো গল্প। মূলকথা আমি ভালো গল্পে কাজ করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

গল্পসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয় যদি ব্যাটে বলে মিলে যায় তাহলে যেকোনো মুহূর্তেই আমি আবার পুরোদমে কাজে ফিরতে পারি। আর যেহেতু এখন স্টেজ মৌসুমও শুরু হয়ে গেছে, উপস্থাপনাটাও নিয়মিত করার ইচ্ছা আছে। আমি আমার পেশাগত কাজের দুনিয়া থেকে দূরে থাকতে চাই না। এ জায়গাটা আমার পরম ভালো লাগার, ভালোবাসার, এখানেই নিয়মিত কাজ করতে চাই।’


আসছেন নতুন এক মেহজাবীন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন প্রতিবেদক

টিভি নাটকের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বড় পর্দায় নাম লিখিয়েছেন। ছবির শুটিংও করেছেন তিনি। সম্প্রতি ‘প্রিয় মালতী’ নামে সে ছবির ঘোষণা এসেছে। তাহলে কি নাটক থেকে একেবারেই বিদায় নিলেন তিনি! মেহজাবীনের অবশ্য ভিন্ন উত্তর রয়েছে। নাটকে মেহজাবীনের কাজের আগ্রহ রয়েছে, কিন্তু ভালো গল্পের অভাবে কাজ করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি। ‘সাবা’ ও ‘প্রিয় মালতী’ শিরোনামের দুটি ছবিতে কাজ করতে যাচ্ছেন ভক্তদের মেহু। তার জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমা ঘোষণার অনুষ্ঠানে নাটকে অভিনয় কমিয়ে দেয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি নাটকে একেবারেই কাজ করতে চাই না, বিষয়টা তেমন না। আমি আসলে ভালো গল্প পাই না। ভালো গল্প পেলে অভিনয় অবশ্যই করব। আমার কাছে যে স্ক্রিপ্টগুলো আসে সেগুলো পছন্দ হয় না। দর্শক আসলে ভিন্নতা চায়। আমি অনেকদিন পর সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলের ‘অনন্যা’ করেছি। কারণ এটার গল্পটা ভিন্ন। এটার জন্য আমি সাড়াও পেয়েছি বেশ। তাই আমি এরকম ভিন্ন ভিন্ন গল্পের কাজ করতে চাই। তেমন স্ক্রিপ্ট পেলে কাজ করব।’

প্রিয় মালতী’ ছবিটির পরিচালক শঙ্খ দাশগুপ্ত। ফ্রেম পার সেকেন্ড ও চরকির যৌথ প্রযোজনায় সিনেমাটি এ বছরের কোনো একটা সময় মুক্তি দেওয়া হবে দেশের প্রেক্ষাগৃহে।

‘প্রিয় মালতী’ ছবির অন্যতম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফ্রেম পার সেকেন্ডের প্রযোজক আদনান আল রাজীব বলেন, ‘প্রডিউসিং কাজটা আমার জন্য একটু ভিন্ন। প্রথমত, পুরো বিশ্বে প্রডিউসিং মানে শুধু টাকা বিনিয়োগ না। এটা আসলে ক্রিয়েটিভের সঙ্গে থাকা, টিজি কারা হবে, গল্পটা কেমন হবে, সিনেমা মুক্তি নিয়ে কাজ করা। এটা পুরো একটা প্রক্রিয়া। আমি এই প্রক্রিয়াটার সঙ্গেই থাকতে চেয়েছি। আর দ্বিতীয়ত, ‘প্রিয় মালতী’র গল্পটা একদম ইউনিক। এই গল্পটা শঙ্খ (পরিচালক) যখন আমাদের সঙ্গে শেয়ার করে, তখনই সবাই পছন্দ করি। এমন গল্প আমরা কখনো দেখিনি। সেই সঙ্গে মেহজাবীন এই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় অন্য একটা মাত্রা যোগ হয়েছে।’

আরেক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘এই সিনেমার সঙ্গে থাকতে পারাটা আমার জন্য খুব ইমোশনের। প্রতিটা সিনেমা স্পেশাল। কাছের মানুষজন নিয়ে একটা সিনেমা নির্মাণ করার আনন্দটা ভাষার প্রকাশ করার না। গুণী পরিচালক, গুণী অভিনেত্রীসহ দুর্দান্ত একটা টিম এই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সিনেমা হলে দর্শকের কাছ পর্যন্ত পৌঁছানোটা এখন আমাদের অপেক্ষা। ‘প্রিয় মালতী’ ছবিতে মেহজাবীন ছাড়াও অভিনয় করেছেন নাদের চৌধুরী, শাহজাহান সম্রাট, রিজভী রিজু প্রমুখ।

বিষয়:

শিল্পী সমিতির নতুন কাণ্ডারি মিশা-ডিপজল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন প্রতিবেদক

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন সভাপতি হলেন মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক ডিপজল। সংগঠনটির নতুন কাণ্ডারি হলেন তারা। শুক্রবার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৪-২৬ মেয়াদের নির্বাচনের ভোট হয়। ভোট গণনা শেষে গতকাল শনিবার সকালে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ৫৭০ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে ৪৭৫টি। বৈধ ব্যালট ৪৩৪টি। বাতিল ব্যালট ৪১টি।

জানা গেছে, ২৬৫ ভোট পেয়ে এ মেয়াদের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেতা এবং দুই মেয়াদের সভাপতি মিশা সওদাগর। মাহমুদ কলি ১৭০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ২২৫ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। তার কাছে পরাজিত হয়েছেন নিপুণ আক্তার। তিনি পেয়েছেন ২০৯ ভোট।

সহসভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন মাসুম পারভেজ রুবেল ও ডি এ তায়েব। রুবেল পেয়েছেন ২৩১ ভোট, ডি এ তায়েব ২৩৪ ভোট। এ ছাড়া সহসাধারণ সম্পাদক আরমান ২৩৭, সাংগঠনিক সম্পাদক জয় চৌধুরী ২৫৫, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আলেকজান্ডার বো ২৯৬, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক জ্যাকি আলমগীর ২৪৫, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক মামনুন হাসান ইমন ২৩৫ ও কোষাধ্যক্ষ পদে কমল ২৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

এবার কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মিশা-ডিপজল পরিষদ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৯ জন। এর মধ্যে সুচরিতা ২২৮, রোজিনা ২৪৩, আলীরাজ ২৩৯, সুব্রত ২১৮, দিলারা ইয়াসমিন ২১৮, শাহনূর ২৪৫, নানা শাহ ২১০, রত্না কবির ২৬৩ ও চুন্নু ২৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। কলি-নিপুণ পরিষদ থেকে রিয়ানা পারভিন পলি ২২০ ও সনি রহমান ২৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিজয়ী হয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ডিপজল বলেন, ‘আমরা সবাই এক। সবাই একসঙ্গে কাজ করব।’ এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন খোরশেদ আলম। সদস্য হিসেবে ছিলেন এ জে রানা ও বিএইচ নিশান।

নির্বাচনের আগের দিন গত বৃহস্পতিবার ডিপজলের বিরুদ্ধে কমিশনে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন মাহমুদ কলি-নিপুণ পরিষদের সদস্য পদপ্রার্থী সাদিয়া মির্জা। অভিযোগের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার খোরশেদ আলম খসরুর কাছে প্রমাণ হিসেবে পেনড্রাইভে একটি ভিডিও সরবরাহ করা হয়েছিল। পরে ডিপজলকে নোটিশ দিয়ে ব্যাখ্যা চায় নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলে ডিপজল বলেছিলেন, ‘টাকা আমরা দিছি না; বরং উনারা দিছে। এ ফুটেজও অনেকের কাছে আছে। আমাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বানানো।’

বিষয়:

নাটকে এখন বাজেট নয়, সংকট ভালো গল্পের

আপডেটেড ২০ এপ্রিল, ২০২৪ ১৯:৪২
সৈয়দ ইকবাল

প্রতি বছর ঈদ উৎসবে দেশের বিভিন্ন টিভি ও ইউটিউব চ্যানেলসহ প্রায় তিন শ থেকে চার শ নাটক নির্মিত হয়ে থাকে। কখনও কখনও এই সংখ্যা কমবেশি হয়ে থাকে। এখনকার সময়ে টিভি চ্যানেল থেকে ইউটিউবেই নাটক নির্মাণের সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে কিছু ইউটিউব চ্যানেলের নাটক টিভিতে প্রচার হওয়ার পর সেগুলো আবার ইউটিউবেও প্রচার হচ্ছে। আবার বেশ কিছু ইউটিউব চ্যানেল আছে যারা শুধু নিজস্ব ইউটিউবের জন্যই নাটক নির্মাণ করে থাকে। অন্যদিকে বর্তমানে প্রায় সব টিভি চ্যানেলের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল থাকায় তাদের নিজেদের নির্মিত নাটক টিভিতে প্রচারের পর আবার সেগুলো নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। ফলে এখন একটি নাটক বানানোর লগ্নিকৃত টাকা দুই মাধ্যম থেকেই প্রযোজক বা লগ্নিকারক ফেরত পাচ্ছেন। যার কারণে নাটকের বাজেট এখন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। একটা সময় বলা হতো বাজেট নেই, নাটকে বাজেট কম- এটা এখনকার সময়ে নাটকের বাজেটের দিকে তাকালে বলা যাবে না।

বিশেষ করে ইউটিউবের আধিপত্য হওয়ার পর থেকেই গত কয়েক বছর ধরে একেকটি নাটক অনেক টাকায় বানানো হচ্ছে। একটা সময় নাটকের বাজেট নিয়ে নানান ধরনের কথা শোনা যেত। পরিচালক-অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে নাটকের কলাকুশলীরা সব সময় বলত- নাটকের বাজেট কমে গেছে, এত কম বাজেটে নাটক বানানো সম্ভব নয় ইত্যাদি ইত্যাদি। ইউটিউবের কল্যাণে এখন নাটকের সেই বাজেট কয়েকগুণ বেড়েছে। অথচ ইউটিউবের আগে নাটকের বাজেট অনেক কমে গিয়েছিল। ২০১৬-২০১৭ সালেও নাটক এখনকার মতো এত বাজেটে নির্মিত হতো না। ২০১৮ সাল থেকে আস্তে আস্তে নাটকের বাজেট বাড়তে থাকে। নরমালি এখন একটি নাটক বানাতে চার-পাঁচ-ছয় লাখ টাকা নির্মাতারা হরহামেশাই পাচ্ছেন। এর থেকেও কম বাজেটে ছোট কিছু কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। ওইদিকের হিসেবে না গিয়ে যেগুলো আমাদের মেইনস্ট্রিমের নাটক বলে চিহ্নিত তা নিয়েই কথা হচ্ছে।

আর্টিস্ট ভেদে এখন একেকটি নাটকের বাজেট দশ-বারো-পনেরো লাখ পর্যন্ত পাচ্ছেন নির্মাতারা। এবার ঈদে তো আঠারো-বিশ লাখ এমনকি পঁচিশ লাখে নাটক নির্মাণের খবর পাওয়া গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- এই যে এত এত বাজেট পাচ্ছেন নির্মাতারা, নাটকের গল্পে কতটা ভেরিয়েশন পাচ্ছেন দর্শক? সেই একই অভিনয়শিল্পীদের একই প্রেম কাহিনি, কমেডি গল্প, চিল্লাচিল্লি কিংবা প্রেম হওয়ার শুরুতে ঝগড়া, তারপর প্রেম, পরিবার মানে না- টাইপের গল্প অথবা প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, প্রেমিক চাকরি পায় না, পরিবার মানে না ইত্যাদি ইত্যাদি গল্প। অনেকটা নতুন বোতলে পুরোনো মদের মতো গল্প। আর এখন যোগ হয়েছে নাটকে গানের ব্যবহারসহ ঢাকার বাইরে শুটিং- দামি ক্যামেরা এবং বিজ্ঞাপনের মতো ইউনিট-ক্রু নিয়ে মুভ করা। বাজেট বাড়ছে, খরচ করতে সমস্যা নেই। কিন্তু যেই গল্পের জন্য নাটক- সেই গল্পের জন্য কতটা খরচ করে নাটক নির্মিত হচ্ছে? মানে ভালো গল্পের এবং ‘খরচওয়ালা’ গল্পের পেছনে কি সেই বাজেটটা যাচ্ছে?

বিশিষ্ট সাংবাদিক, নাট্যকার ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা রেজানুর রহমান বলেন, ‘নাটকে ভালো গল্পের সংকট রয়েছে এটা যেমন সত্যি, তেমনি অনেকের কাছে ভালো গল্প থাকার পরও সে বাজেটের জন্য তা বানাতে পারছেন না- এটাও সত্যি। আসলে এখন কোনো লেভেল কোম্পানি (ইউটিউব), টিভি কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্রথমেই নির্মাতার কাছে জিজ্ঞাসা করেন- ‘যে গল্প নিয়ে কাজ করবেন সেটির ভিউ হবে নাকি’- এই কথায় নির্মাতা নতুন কোনো কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করতে চান না। সেই একই ফর‌ম্যাটে কাজ করতে হচ্ছে তাকে। এখন দেখা গেছে কেউ একজন একটি গল্প নিয়ে কাজ করায় সেটির ভিউ হয়েছে- সবাই সেটা বানাতে ছুটে। মানে হলো ভিউয়ের পেছনে দৌঁড়াচ্ছি। ভিউ-ই যখন এখন একমাত্র বাণিজ্য তখন তো গল্প ফ্যাক্ট না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্মাতাদের স্বাধীনতা দিতে হবে। নির্মাতারা স্বাধীনতা না পেলে কাজ করা মুশকিল। অমুকটার মতো, তমুককে নিয়ে জুটি করে নাটক বানানোর জন্য প্রেসার না দিয়ে তাকে স্বাধীনতা দিতে হবে। এখন গল্পসহ ‘পাঁচজন- পাঁচজন’ জুটিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলে দেয়া হচ্ছে নাটক বানানোর জন্য। সেই ‘পাঁচজন-পাঁচজন’ জুটির দশজন এতো ব্যস্ত যে, তাদেরকে মেনটেইন করতে গেলে নাটকের দিকে নজর দেয়া যাচ্ছে না। তারা ব্যস্ত থাকতেই পারেন। কিন্তু জুটি বেঁধে দিলেই বিপদ। নির্মাতাকে বলতে হবে- স্বাধীনভাবে গল্পে যে ধরনের আর্টিস্ট যায়, তাদেরকে নিয়েই বানান। তাহলে নতুন গল্প এবং নতুন আর্টিস্টও ইন্ডাস্ট্রিতে তৈরি হবে। বর্তমানে যারা কম্প্রমাইজ করে কাজ করছেন যা হওয়ার তাই হচ্ছে। ফলে মনে রাখার মতো নাটক হচ্ছে না। এখন আমাদের লাখ লাখ টাকা বাজেট যাচ্ছে, শত শত নাটকও হচ্ছে। কিন্তু অর্জনের জায়গাটা ফাঁকাই থেকে যাচ্ছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে কেউ কথা বলছে না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ নাটকে লোকেশন (প্রয়োজন না হলেও), লাইট-ক্যামেরাসহ এগুলোতে অপ্রয়োজনীয় বাজেট ব্যবহার, মেইন আর্টিস্টদের বেশি রেম্যুনারেশন (আর্টিস্টরা নিজেরাই নিজেদের পারিশ্রমিক ঠিক করছেন), শুটিং ইউনিটে বিলাসবহুল খরচ করায় বেশির ভাগ নাটকের মূল বাজেট সেখানেই চলে যাচ্ছে। ফলে নাটকে এত এত বাজেট পাওয়ার পরও যেই ভিন্নধর্মী গল্পটির পেছনে বাজেটটা খরচ করার কথা- সেখানে কি খরচ হচ্ছে না। সেই একই গল্প, একই মেকিং এবং কমেডি টাইপ নাটকগুলোই নির্মিত হচ্ছে। এখন তো একটি নাটকের গল্পের সঙ্গে আরেকটি নাটকের নামেরও বেশ মিল পাওয়া যায়। যেমন- ‘তুই আমারই’, ‘তোর জন্য’, ‘আজকাল তুমি আমি’, ‘তোমাতে হারাই’, ‘তোমায় ভালোবেসে’- এবারের ঈদের এই নাটকগুলোর নাম প্রায় কাছাকাছি। এরকম ইউটিউবে খুঁজলে আরও অনেক নাটক পাওয়া যাবে যেগুলোর নাম প্রায় কাছাকাছি। আরও রয়েছে ইউটিউবে ‘কাটতি টাইপ’ নাটকের নাম। যা আসলে শিল্পমানের নাটকের নাম নয়। ফলে দর্শক আসলে একটি নাটক দেখে তার মনের মধ্যে সেটি ‘দাগ’ কাটাতে পারছেন না। আর এখনকার নাটকগুলোতে প্রায় একই অভিনয়শিল্পী (অমুকের সঙ্গে তমুক, তমুকের সঙ্গে অমুক- ধরাবান্দা জুটি) হওয়ায় দর্শক আরও বিভ্রান্ত হচ্ছেন যে সে আসলে কোন নাটকটা দেখেছেন। ফলে মনের মধ্যে অনুভূতি সৃষ্টি করা এবং খুব ভাবনায় ভাবানোর মতো নাটক এখন খুব একটা দেখা যায় না।

নাটকে বাজেট বাড়লেও গল্পের অভাব কিংবা শিল্পমান সম্পন্ন নাটক কম নির্মিত হওয়ার পেছনে কারণ কি? এই বিষয়ে কথা বলেন নির্মাতা রাকেশ বসু। তিনি বলেন, ‘বাংলা নাটকের এখন সব থেকে বড় সমস্যা হলো- গল্প সংকট। একটা সময় বাজেট নিয়ে সবাই কম-বেশি কথা বলতেন। কিন্তু এখন বাজেট সমস্যা থেকে গল্প সংকটটাই অনেক বড় ইস্যু একটা ভালো কাজের জন্য। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীরা যে ধরনের কাজ করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এবং ভিউ কাউন্ট হয় সেই একই ধরনের গল্প নিয়েই কাজ করেন। সে ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা হলো ভিউ হওয়া একই গল্পের পুনরাবৃত্তি। ফলে অভিনয়শিল্পীরা জনপ্রিয়তার দিকে নজর দিতে গিয়ে ভালো গল্পের কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বারবার।’

আগে একটি নাটকের স্ক্রিপ্ট ফাইনাল হতো। টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান প্রধানসহ ক্রিয়েটিভ টিম মিলে গল্পটি ফাইনাল হওয়ার পর কোন অভিনয়শিল্পী কোন চরিত্রে অভিনয় করবে সেটা ভেবেচিন্তে কাস্টিং ফাইনাল করা হতো। এরমধ্যে স্ক্রিপ্ট নিয়ে কয়েকদফায় রাইটার ও পরিচালকসহ মিটিং হতো। তারপর ফাইনালি নাটকটি নির্মাণে যাওয়া হতো। নাটক নির্মাণের পর তা দেখে প্রিভিউ কমিটির মতামত থাকত এবং সেখানে পাস হলেই তা ফাইনালি সম্প্রচারে যেত।

আর এখন অনেকটা ঝালমুড়ি বানানোর মতোই নাটক বানানো হয়। মানে অমুক-তমুকের ভিউ আছে- আগে তাদের ডেট ‘লক’ করা হোক। তারপর তারা যেই গল্প পছন্দ করবেন কিংবা অনেক সময় অভিনয়শিল্পীও গল্প দিচ্ছেন সেটা নিয়ে- ডে নাইটের কিছু সিক্যুয়েন্স বানিয়ে (শুটিংয়ের সুবিধার্থে) শুটিংয়ে চলে যাওয়া হচ্ছে। স্লো-মো শট, গানের কিছু শট, নায়ক-নায়িকার দেখাদেখি-চোখাচোখি আর বিয়ে দিবে না বাবা-মা, ছেলে বেকার, চাকরি হয় না, পরিবার মেয়েকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দেয় আর চিল্লাচিল্লি ভরা কমেডি গল্প। বেশির ভাগ নাটকই এখন এভাবে নির্মিত হচ্ছে বলে জানা যায়। পাশাপাশি এখন সেট বানানোতেও ভালো খরচ করে নাটক নির্মাণের খবর পাওয়া গেছে।

ইউটিউবের সঠিক নিয়মনীতি না থাকা, নাটকে প্রিভিউ সিস্টেম না থাকায় এবং ‘ভিউই’ একমাত্র বাণিজ্য হওয়ায় দিনকে দিন মানহীন নাটক বানানোর প্রতিযোগিতা হচ্ছে এবং তা নিম্নমানের তলানিতে যাচ্ছে বলে অনেকে অভিমত দেন। এর পাশাপাশি একটা গুরুত্বপূর্ণ দিকের কথাও তারা উল্লেখ করেন তা হলো- একটা সময় যারা নাটক নির্মাণ ও ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তারা টেলিভিশন ও থিয়েটারে দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতা ছিল। আর এখন শুধু ব্যবসার উদ্দেশ্যেই (বেশির ভাগ) ইউটিউব চ্যানেল করে নাটকের নামে ‘কনটেন্ট’ বানানো হয়।

অথচ গল্পনির্ভর, জীবনবোধের নাটক, সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের গল্প, আমাদের চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কত কত গল্প। প্রতিদিন সংবাদের পাতায় কত গল্প প্রকাশ পায়, অথচ আমাদের দেশের নাটক নির্মাতারা এসব গল্প দেখেন না। কারণ এসব গল্পে ভিউ পাওয়া যায় না। তাই ইউটিউব মালিক তথা প্রযোজকরা ওই ধরনের গল্প নিয়ে কাজ করতে বা নির্মাণে আগ্রহ পান না।

ইউটিউবে ভিউ হচ্ছে সস্তা-চটুল, কমেডি তথা সুরসুরি প্রেম মার্কা গল্পের। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। লাখ লাখ টাকা বাজেট দিয়ে যেসব ‘নাটক’ বানানো হচ্ছে তা আসলে কতটা সমাজে প্রভাব ফেলছে? কি শিখছেন তরুণ প্রজন্ম? অবশ্য তরুণ প্রজন্ম নাকি যা বানানো হচ্ছে- তাই দেখতে চায় বলে তাদের অভিমত। এত এত বাজেটের টাকা আদতে ‘শ্রাদ্ধ’ করাই হচ্ছে বলে প্রকৃত নাট্যপ্রেমী তথা সত্যিকারের সংস্কৃতপ্রেমীরা অভিমত দেন। তাদের মতে, বেশি বাজেট এলে বেশির ভাগ নাটককে ঝকঝকে তকতকে বানানো আর ‘ফুটেজ’ ছাড়া আর কিছুই না বলেও অনেকে অভিমত দেন। তাই ভালো বাজেট দিয়ে ভালো গল্প এবং ভিন্নধর্মী চরিত্রসহ জীবনবোধের নাটক বানানোর তাগিদ দেন তারা।

বর্তমানে নাটক নির্মাণের একটা চিত্র তুলে ধরলে এখনকার পরিস্থিতিটা আরও পরিষ্কার বোঝা যাবে। এখন নাটকের কয়েকজন মেইন নায়ক তারা তাদের নিজেদের প্রযোজনা হাউস থেকে নাটক বানিয়ে তা নিজেই বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল এবং টিভি চ্যানেলে তাদের চাহিদামতো সরবরাহ করছেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক নাট্য নির্মাতা বলেন, ‘এভাবে আসলে কাজ করে অভ্যস্ত না। এই ভিউ বাণিজ্য এসে একজন নির্মাতার হাত-পা বন্দি হয়ে গেছে। আমরা আসলে বিক্রি হয়ে গেছি। এখন তো চাহিদাসম্পন্ন নায়করা তাদের প্রযোজনা হাউস থেকে নাটক তৈরি করেন। তারা নিজেদের বানানো ডিরেক্টর টিম, প্রোডাকশন টিমসহ ডিওপি এবং কো-আর্টিস্ট- সবই তারা ঠিক করেন। ডিরেক্টরকে দিয়ে শুধু ডিরেকশন (আসলে নামে ডিরেকশন) দেওয়ান। কোথায় এডিটিং হবে, কোথায় মিউজিক হবে এবং কীভাবে কাজটা কোথায় কত টাকায় বিক্রি হবে- সবই তিনি (নায়করা) ঠিক করেন। এভাবে চললে তো আসলে নাটকের ‘মান’ বলে কিছু থাকবেই না। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে।’

ভালো নাটক বানানোর কিছু ব্যতিক্রম চিত্রও রয়েছে। কিছু যে ভালো গল্পের নাটক নির্মিত হচ্ছে না তা বলা যাবে না। যারা সত্যিকারের ভালো গল্পের খোঁজ করেন এবং জীবনবোধের গল্পসহ ভিন্নরকম কিছু বা আইডলজির জায়গা থেকে কাজ করছেন তারা ঠিকই শত প্রতিকূলতায় কিছু নাটক বানাচ্ছেন। আমাদের দেশে ওটিটিতে ওয়েবসিরিজ ও ওয়েবফিল্মে ভিন্নধর্মী গল্পের কাজ হওয়ায় সেগুলো দর্শকদের কাছে সাড়া ফেলেছে। ফলে তার কিছুটা ছোঁয়া নাটকেও লেগেছে বলা যায়। এবারের ঈদে ভিন্নধর্মী গল্পের তেমনকিছু নাটক হচ্ছে- ‘স্মৃতিসারক’, ‘বিদায় বসন্তে মধ্যাহ্ন রোদে’, ‘নিখোঁজ’, ‘বোঝা’, ‘শেষমেষ’, ‘সম্ভবত প্রেম’, ‘কিছু কথা বাকি’, ‘দুনিয়া’, ‘অভাব’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘অভিশাপ’, ‘অভাব, ‘জাদুর শহর’, ‘গর্ভ’, ‘কলিজার টুকরা’, ‘স্বপ্নটা সামান্যই’সহ আরও কিছু নাটক।

এখন প্রায় একই মুখ ঘুরেফিরে সব নাটকেই দেখতে হচ্ছে বলে সব নাটক একইরকম লাগার কথা দর্শকরা অভিমত দিয়েছেন। এক সময় নাটকে নিশো, মেহজাবীন, অপূর্ব, তানজিন তিশাকে জুটি বেঁধে অভিনয় করতে দেখা যেত। এখনকার সময়ে অপূর্ব ও তানজিন তিশাকে নাটকে দেখা গেলেও নিশো-মেহজাবীনকে দেখা যায় না। নিশো চলচ্চিত্র ও ওটিটির কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় গত কয়েক ঈদ উৎসবে তাকে নাটকে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে মেহজাবীনও বর্তমানে ওটিটির কাজের সঙ্গে সম্প্রতি সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন। তারপরও নাটকে মেহজাবীনের কাজের আগ্রহ রয়েছে; কিন্তু ভালো গল্পের অভাবে কাজ করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি। ‘সাবা’ ও ‘প্রিয় মালতী’ শিরোনামের দুটি ছবিতে কাজ করতে যাচ্ছেন ভক্তদের মেহু। তার জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমা ঘোষণার অনুষ্ঠানে নাটকে অভিনয় কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি নাটকে একেবারেই কাজ করতে চাই না, বিষয়টা তেমন না। আমি আসলে ভালো গল্প পাই না। ভালো গল্প পেলে অভিনয় অবশ্যই করব। আমার কাছে যে স্ক্রিপ্টগুলো আসে সেগুলো পছন্দ হয় না। দর্শক আসলে ভিন্নতা চায়। আমি অনেক দিন পর সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলের ‘অনন্যা’ করেছি। কারণ এটার গল্পটা ভিন্ন। এটার জন্য আমি সাড়াও পেয়েছি বেশ। তাই আমি এরকম ভিন্ন ভিন্ন গল্পের কাজ করতে চাই। তেমন স্ক্রিপ্ট পেলে কাজ করব।’

ঈদে রাফাত মজুমদার রিংকুর পরিচালনায় ‘রূপান্তর’ নাটকটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। ট্রান্সজেন্ডার এবং তৃতীয় লিঙ্গের ইস্যুতে নাটকটিকে শেষমেশ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা শ্রেণি ধর্মের বিষয়ের সঙ্গে তুলনা করে। ফলে কর্তৃপক্ষ নাটকটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়। ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে নাটক বানাতে গেলেও নানান সমস্যার কথা উল্লেখ করেন নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকু। তিনি বলেন, ‘আগের চেয়ে ভিন্ন ধরনের গল্পের নাটক বানানো হচ্ছে। তবে সেটা সংখ্যায় কম। এখন আলাদা টাইপের গল্পের নাটক বানাতে গেলেও নানান ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। আমি নিজেও ‘রূপান্তর’ নিয়ে একপ্রকার জটিলতায় রয়েছি। তাই যারা ইউটিউবের মালিক এবং প্রযোজক তারা ভিন্ন টাইপের গল্পের নাটক বানাতে রিস্ক নেয় না। বাধ্য হয়েই গদবাঁধা গল্পের নাটক বানায়। নাচ-গান আর বিউটি লোকেশনসহ কাজগুলো হচ্ছে।’

নাট্যপ্রেমী-বিনোদনপ্রেমী তথা সংস্কৃতিপ্রেমীদের প্রত্যাশা, নাটকের গল্পে সমাজের বাস্তবচিত্র থাকবে। কারণ ‘সমাজের দর্পণই হচ্ছে নাটক’। একটা সময় বিটিভিতে নাটক প্রচারের মাধ্যমে মধ্যবিত্তের ড্রয়িংরুমের সাজটা কেমন হবে- তা সেই নাটক থেকে শিখত মধ্যবিত্ত সমাজ। সময় বদলেছে, মানুষের রুচির পরিবর্তন হয়েছে। সমাজের আমূল পরিবর্তনে নিজেদের ‘রুচির দুর্ভিক্ষ’ যেন নাটকের মাধ্যমে প্রচার হয়ে তা আবার সমাজে প্রভাব ফেলুক- তা কারোরই কাম্য নয়। কারণ আজকে পর্দায় যা দেখানো হবে তাই দেখবেন দর্শক। সংস্কৃতিকর্মী তথা ক্রিয়েটিভরাই প্রকৃত ‘দর্শক’ তৈরি করেন। সারা পৃথিবীতেই রুচিহীন-সস্তা কনটেন্টেরই ‘ভিউ’ বেশি, এটাই স্বাভাবিক। এরমধ্যেও নিজেদের দর্শক নিজস্ব গল্প দিয়ে নিজেদেরই তৈরি করতে হবে- এমনটাই মনে করেন প্রকৃত সংস্কৃতিপ্রেমীরা।


প্রথমবার পরিচালকের আসনে জনি ডেপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ তারকা জনি ডেপ ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়-ঝাপটা সামলে আবার কাজে মন দিয়েছেন। তবে এবার নতুন আঙ্গিকে ক্যামেরার পেছনেই নিজেকে জাহির করতে যাচ্ছেন তিনি। বিগত ২৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো পরিচালকের চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন। জনপ্রিয় এই অভিনেতা ইতালীয় শিল্পী অ্যামেডিও মোদিগ্লিয়ানির ওপর একটি বায়োপিক পরিচালনা করছেন, যার নাম ‘অ্যামেডিও মোদিগ্লিয়ানি’ (মোদি)।

প্রায় ২৫ বছর পরে পরিচালকের আসনে নিজেকে ফিরে পেয়ে খুশি জনি ডেপ; কিন্তু খুশি নন ভক্তরা। তারা তাদের প্রিয় তারকাকে পর্দার পেছনে নয়, সামনে চান। জনি যদি অভিনয়ে না ফেরেন, তাহলে ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ অথবা ‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ডস’-এর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে জনি ডেপের পরিবর্তে অন্য কোনো অভিনেতাকে দর্শক কতটা মেনে নিতে পারবেন তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সামাজিক মাধ্যমে চোখ রাখলেই দেখা যায়, জনিকে উদ্দেশ্য করে ভক্তদের আকুতি। ‘পাইরেটস অফ দি ক্যারিবিয়ান’-এর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে জনি ডেপকেই চান তার বিশ্বব্যাপী অনুরাগীরা।

এদিকে নিজের পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মোদি’ নিয়ে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন জনি ডেপ। ইটালির চিত্রকর আমেদেও মোদিগ্লিয়ানির জীবন নিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে এই সিনেমা। বর্তমানে এর সম্পাদনার কাজ চলছে। এতে অভিনয় করছেন আল পাচিনো। ফরাসি চিত্রকর মরিস উট্রিলোর চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। আল পাচিনো ছাড়াও সিনেমাটিতে থাকছেন রিচার্দো স্ক্যামারসিও এবং পিয়েরে নিনে।

ডেনিস ম্যাকইনটায়ারের নাটক ‘মোদিগ্লিয়ানি’ অবলম্বনে তৈরি করা হচ্ছে এটি। গল্প লিখেছেন চিত্রনাট্যকার জের্জি ও মেরি ক্রোমোলস্কি। ৪৮ ঘণ্টার ঘটনা নিয়ে তৈরি করা হবে সিনেমাটি। পুলিশের থেকে পালানোর সময় মোদিগ্লিয়ানির ইচ্ছা হয় তার ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার এবং ভবঘুরে ফরাসি চিত্রকর মরিস উট্রিলো, বেলারুশিয়ান বংশোদ্ভূত চেইম সাউটিন এবং প্রেমিকা বিট্রিস হেস্টিংস-এর সঙ্গে শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার। মোদিগ্লিয়ানি তার পোলিশ আর্ট ডিলার ও বন্ধু লিওপোল্ডের কাছে যান পরামর্শ নিতে। বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছে যায় যখন তিনি একজন চিত্র সংগ্রাহকের মুখোমুখি হন যিনি তার জীবন পরিবর্তন করতে পারেন।

বিষয়:

উৎসবমুখর পরিবেশে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জাহাঙ্গীর বিপ্লব

কঠোর নিরাপত্তা বলয়, অভিযোগ-আপত্তি সত্ত্বেও অনেকটা উৎসবমুখর পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। শুক্রবার বিএফডিসিতে সকাল ৯টা নাগাদ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ভোট গ্রহণ শুরু হয় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। ভোট গ্রহণ চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। শিল্পী নির্বাচনের সাত-সতের জানাচ্ছেন জাহাঙ্গীর বিপ্লব

কড়া নিরাপত্তায় অসন্তোষ…

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এফডিসিতে নিরাপত্তার কড়াকড়িতে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ভোট দিতে আসা শিল্পীরা। অনেকে ক্ষোভও প্রকাশ করেন। পরিবেশ ঠিক রাখতে ও সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে পুরো এফডিসিজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সমিতির সদস্য, শিল্পী ও কলাকুশলী পরিচয়পত্র এবং সাংবাদিকদের এফডিসিতে ঢোকার পাস পরীক্ষা করে তবেই ঢুকতে দেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এদিন মূল ফটক থেকে এফডিসির বিভিন্ন জায়গায় প্রায় আড়াই শ পুলিশ সদস্য ও সাদা পোশাকে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে এফডিসির বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়তি ৩১টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। এ ছাড়া এই প্রথম নির্বাচনে আচরণবিধি রক্ষায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতও দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া মিশা-ডিপজল প্যানেলের সহসভাপতি পদপ্রার্থী অভিনেতা মাসুম পারভেজ রুবেল বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমাদের মধ্যে বিরোধ থাকতে পারে। তবে আমি মনে করি তা মাত্র ৫-৭ দিনের মতো। এরপর তো আবার আমরা এক। নব্বই সাল থেকে নির্বাচন করি, এভাবে প্রশাসনের পাহারায় নির্বাচন দেখিনি। আমরা সবাই আনন্দ করতে করতেই ভোট দিয়েছি, চেয়েছি।’ পরিচয়পত্র পরীক্ষার বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘নায়ক আলমগীর বা উজ্জ্বলের মতো লোককে যদি আইডি কার্ড শো করে ঢোকা লাগে, তাহলে তো দুঃখকজনক। এটা খুব খারাপ। এভাবে কার্ড চেক করে ঢোকানো নিজেদের অপমান করা।’

নিরাপত্তার এমন কড়াকড়িতে সাধারণ শিল্পীরা ক্ষোভ ঝাড়লেও কেউ কেউ একে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। নির্বাচন কমিশনার খোরশেদ আলম খসরু জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু রাখতেই এই কড়াকড়ি।

ছিলেন না চাহিদাসম্পন্ন তারকারা…

উৎসবের আমেজ থাকলেও এবারের নির্বাচনে ছিল না সময়ের চাহিদাসম্পন্ন তারকাদের উপস্থিতি। তবে সিনিয়র শিল্পীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এবার ভোট দিতে দেখা আসেননি সময়ের শীর্ষ তারকা শাকিব খান, চিত্রনায়ক ফেরদৌস, অভিনেত্রী মৌসুমী, অরুণা বিশ্বাস, আনিসুর রহমান মিলন, আজিজুল হাকিম, বিপাশা কবির, রেসি, পুষ্পিতা পপি ও সোহানা সাবাসহ আরও কয়েকজন। এসব তারকার ভোট দিতে না পারার পেছনে অবশ্য বিশেষ কোনো কারণ নেই। তাদের অধিকাংশই ব্যক্তিগত কাজে বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করার জন্য ভোট প্রদান করতে পারেননি। জানা গেছে, বর্তমানে ভারতে অবস্থান করায় এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারলেন না শাকিব খান। ভারতের হায়দরাবাদে তার ‘দরদ’ সিনেমার শুটিং চলছে। ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকে যাবেন যুক্তরাষ্ট্রে। আগামী ২০-২১ এপ্রিল নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে আয়োজিত ‘সুচিত্রা সেন আন্তর্জাতিক বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব’-এ অতিথি হিসেবে থাকবেন তিনি। অন্যদিকে বর্তমানে চিত্রনায়িকা মৌসুমী আমেরিকাতে অবস্থান করছেন। মৌসুমীর মেয়ে ফাইজার লেখাপড়ার জন্য এ বছরটা তাকে আমেরিকায় থাকতে হবে।

অর্থ প্রদানের অভিযোগ…

ভোটারদের অর্থ প্রদানের অভিযোগ উঠেছে দুই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ডিপজল ও নিপুণের বিরুদ্ধে। এই নির্বাচনে মূলত ডিপজল ও নিপুণই শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। কেউই কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। দুজনের বিরুদ্ধেই ভোটারদের অর্থ প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের আগের দিন বৃহস্পতিবার ডিপজলের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন মাহমুদ কলি-নিপুণ আক্তার পরিষদের সদস্য পদপ্রার্থী সাদিয়া মির্জা। অভিযোগের সঙ্গে দ্বিবার্ষিক এ নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার খোরশেদ আলম খসরুর কাছে প্রমাণ হিসেবে পেনড্রাইভে করে একটি ভিডিও সরবরাহ করেছেন অভিযোগকারী। পরে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ছয় ঘণ্টার মধ্যে তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে ভোটের জন্য টাকা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ডিপজল বলেছেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। তার দাবি, এটা মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ।

এবারও একসঙ্গে তিন কন্যা…

পিকনিক, নির্বাচন এমনকি চলচ্চিত্রের যেকোনো আয়োজনেই একসঙ্গে দেখা মেলে ‘তিন কন্যা’ কোহিনূর আক্তার সুচন্দা, ফরিদা আক্তার ববিতা ও গুলশান আরা চম্পাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রায় পৌনে ৩টার দিকে এফডিসিতে আসেন চলচ্চিত্রের এই তিন বোন। তাদের দেখে গণমাধ্যমকর্মীরা ভিড় করতে থাকেন। ভিড় ঠেলে সহকর্মীরা চলচ্চিত্রের তিন জাঁদরেল অভিনেত্রীকে পেয়ে আনন্দিত হয়ে সোগ্লান দিতে থাকেন। এসময় সুচন্দা বলেন, ‘আমি অনেক আশা নিয়ে ভোট দিতে এসেছি। এফডিসিতে আসা হয় না, নির্বাচনের জন্যই আসা। এফডিসি হচ্ছে আমাদের সংস্কৃতির আঁতুড়ঘর। এখানে শিল্পী সমিতির কোনো বিকল্প নেই। এটা গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন।’ ববিতা বলেন, ‘এফডিসিতে আসা বন্ধই করে দিয়েছিলাম। অনেক দিন পর এসেছি, খুব ভালো লাগছে। নির্বাচন উপলক্ষে সবার সঙ্গে দেখা হবে এ কারণেই আসা। ভোট দিব যারা শিল্পীদের জন্য সত্যিকারের কাজ করবে তাদেরই।’ আরেক বোন চম্পা বলেন, ‘নতুন-পুরাতন যারাই নির্বাচন করছে প্রত্যেকে আমার প্রিয়। শিল্পী শব্দটা ভীষণভাবে আমাদের পরিবারের মনে হয়। তাই আমি মনে করি আমরা সবাই মিলে এক। সবাই মিলে যদি এগিয়ে যেতে পারতাম তাহলে আমাদের শিল্পটাকে অনেক এগিয়ে নিতে পারতাম।’

বিষয়:

তবুও মন খারাপ পরিণীতির

আপডেটেড ২০ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:৩৪
বিনোদন ডেস্ক

প্রায় এক দশকের ক্যারিয়ারে কোনো সিনেমা দিয়েই তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। তবে সম্প্রতি তার ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। ওটিটিতে মুক্তি পাওয়া ‘চমকিলা’য় অভিনয় করে ফের খবরের শিরোনামে চলে এসেছেন এই অভিনেত্রী চিত্রসমালোচক থেকে শুরু করে দর্শক সবাই পরিণীতির অভিনয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তবুও মন খারাপ পরিণীতির। কথা উঠলেই, পরিণীতি শুধু বলছেন, ‘জীবনে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লোকের প্রচুর ভুল কথাও শুনেছি!’ হঠাৎ এমন কেন উপলব্ধি রাঘব চাড্ডার স্ত্রীর? সব ঠিক আছে তো!

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো থেকে জানা গেছে, রাঘব তরুণ রাজনীতিবিদ রাঘব চাড্ডার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই নিজেকে যেন একটু বেশি গুটিয়ে ফেলেছেন পরিণীতি। ব্যক্তিগত জীবনকে রেখেছেন আড়ালেই। এমনকি, কয়েক দিন আগেই রটে যায় পরিণীতি নাকি অন্তঃসত্ত্বা। তবে সেই গুঞ্জনকে নিজেই উড়িয়েছেন। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন কিছু কথা বললেন যা শুনে রীতিমতো চমকে উঠেছেন অনুরাগীরা।

পরিণীতির কথায়, ‘ক্যারিয়ারের শুরুতেই আমি অনেক ভুল করেছি। প্রচুর ভুল পরামর্শ মেনে চলেছি। আসলে, তখন ঠিক বুঝতাম না। লোকে বলত, ওই অভিনেত্রী ওরকমটা করেছে, তোমাকেও সেরকমটা করতে হবে। আর আমিও সেটা মেনে নিতাম। তবে এখন বুঝতে পারি। তাই প্রযোজক ও পরিচালকদের বলতে চাই, এখন আমাকে কাস্ট করুন, আমার বর্তমানটা দেখে, অতীত দেখে নয়।’

বলিউডে পরিণীতি চোপড়ার অভিষেক হয়েছে প্রায় এক দশক আগে। ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লেডিস ভার্সেস রিকি বহল’ সিনেমায় পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় পরিণীতিকে। বক্স অফিসে এই সিনেমা তেমন ব্যবসা করতে পারেনি। তার ঠিক পরের বছরই ২০১২ সালে যশরাজ ফিল্মসের প্রযোজনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘ইশকজ়াদে’। এই সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান পরিণীতি। এরপর আসে পরিচিতি।

২০২৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গোধূলি লগ্নে পাঞ্জাবি রীতি রেওয়াজ মেনে উদয়পুরে রাজকীয় বিয়ে সেরেছেন পরিণীতি ও রাঘব চাড্ডা। নিজের গলায় ‘ও পিয়া’ গান রেকর্ডিং করে রাঘবের প্রতি প্রেমও উজাড় করেছিলেন পরিণীতি চোপড়া। ‘আম আদমি’ সাংসদের সঙ্গে বলিউড অভিনেত্রীর হাই প্রোফাইল বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে দেশজুড়ে চর্চা চলেছিল।


শিল্পী বশির আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কণ্ঠশিল্পী বশির আহমেদ। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বাংলা সংগীতজগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র কণ্ঠশিল্পী বশির আহমেদের আজ দশম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৪ সালের এই দিনে (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজ বাসায় তিনি মারা যান।

বশির আহমেদের জনপ্রিয় গানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘অনেক সাধের ময়না আমার’, ‘আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো’, ‘আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে’, ‘যারে যাবি যদি যা; পিঞ্জর খুলে দিয়েছি’, ‘ডেকো না আমাকে তুমি, কাছে ডেকো না’, ‘খুঁজে খুঁজে জনম গেল’, ‘সজনী গো ভালোবেসে এত জ্বালা কেন বল না’।

বশির আহমেদ একাধারে শিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক ছিলেন। দিল্লির সওদাগর পরিবারের সন্তান বশির আহমেদ ১৯৩৯ সালের ১৯ নভেম্বর কলকাতার খিদিরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম নাসির আহমেদ। ১৯৬৪ সালে বশির আহমেদ সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় আসার আগেই উর্দু চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি।

বিষয়:

আজ আসছেন আতিফ আসলাম

পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

১১ বছর পর আজ ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। এই তারকা তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছিলেন। বসুন্ধরা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ভক্তদের আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন।

এর আগে রোববার (৭ এপ্রিল) আতিফ আসলাম তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশে আসার তারিখটি। পোস্টে তিনি জানান, আগামী ১৯ এপ্রিল (শুক্রবার) রাজধানীর বসুন্ধরার ক্রিকেট গ্রাউন্ডে লেট’স ভাইবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কনসার্টে পারফর্ম করবেন তিনি। এর আগেই পা রাখবেন ঢাকার মাটিতে। মুহূর্তের মধ্যেই আতিফের এই পোস্ট ঝড় তুলেছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

আতিফকে বাংলাদেশে দেখতে উদগ্রীব হয়ে আছেন তার ভক্তরা, সেই মন্তব্যে ভরে ওঠে কমেন্টবক্স। এর আগে ২০১৩ সালে বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে ঢাকায় এসেছিলেন আতিফ আসলাম।

বিষয়:

তোপের মুখে পড়ে মুখ খুললেন জোভান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৯ এপ্রিল, ২০২৪ ১০:৫৭
বিনোদন প্রতিবেদক

এবার ঈদে ইউটিউবে উন্মুক্ত হয় ‘রূপান্তর’ শিরোনামের একটি নাটক। আর নাটকটি প্রচারের পর থেকেই তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয় দর্শক মহলে। তীব্র সমালোচনার মুখে পরদিন সকালেই নাটকটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাফাত মজুমদার রিংকুর পরিচালনায় এই নাটকটিতে সৌরভ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জোভান আহমেদ আর রিমঝিম চরিত্রে সামিরা খান মাহি।

বর্তমানে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে নাটকটি। নাটকটি নিয়ে রীতিমতো সমালোচনার ঝড় উঠেছে নেট দুনিয়ায়। এসবের মাঝেই হঠাৎ উধাও জোভান-মাহির ফ্যানপেজ। জোভানের ১৯ লাখ ও মাহির ২৪ লাখ ফলোয়ারের পেজ দুটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি কেবল সমালোচনায় থেমে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনেতা জোভানকে তুলোধোনা করছেন দর্শক।

‘রূপান্তর’ নাটকে অভিনয়ের কারণে নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েছেন জোভান। এই অভিনেতা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের চরিত্রে আর অভিনয় করবেন না তিনি। তার কথায়, ‘বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই। তবে আমি বুঝতে পারছি না, এটি নিয়ে কেন এত সমালোচনা হবে! নাটকের ভিউ কিন্তু খুব বেশি হয়নি। আমার মনে হয়, মানুষ না দেখেই নাটকটির সমালোচনা করছে। যাই হোক, ভক্ত-দর্শকরা এ ধরনের কাজ পছন্দ করে না- এটি বুঝেছি। যেহেতু তারা এসব পছন্দ করে না তাই আগামীতে এসব কাজ আর করব না।’

নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য জোভানের বিরুদ্ধে বয়কটের ডাক দেওয়ার বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করছেন এই অভিনেতা। জোভানের ভাষ্য, হতে পারে এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কেননা সামগ্রিকভাবে কথা বলার থেকে ব্যক্তিগত আক্রমণই বেশি করা হচ্ছে। দর্শক যেহেতু পছন্দ করছে না, তাহলে এমন চরিত্রে আর কাজ করা যাবে না। এরপর থেকে এসব করব না আর। একই সঙ্গে নেটিজেনদের উদ্দেশে জোভান বলেন, ভেবেছি এটা নিয়ে একটি বিবৃতি দেব। সেখানে আমার সব কথা জানাব।

বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে নির্মাতা রিংকু বলেন, ‘আমি কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে আসিনি। আমি আসলে একজন একা মানুষের গল্প বলতে চেয়েছি। এ ধরনের ঘটনা কিন্তু আমাদের চারপাশে ঘটে। এটা হরমোনজনিত শারীরিক ঘটনা। আমি দেখানোর চেষ্টা করেছি হরমোনজনিত কারণে একজন মানুষের ক্রমেই একা হয়ে যাওয়ার গল্প। কিন্তু এ বিষয়টিকে অনেকেই ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। আমি এর জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং হতাশ। এই সরল গল্পটি যদি আমরা না গ্রহণ করি, তাহলে নতুন গল্প বলব কেমন করে?’

বিষয়:

banner close