প্রতি বছর ঈদ উৎসবে দেশের বিভিন্ন টিভি ও ইউটিউব চ্যানেলসহ প্রায় তিন শ থেকে চার শ নাটক নির্মিত হয়ে থাকে। কখনও কখনও এই সংখ্যা কমবেশি হয়ে থাকে। এখনকার সময়ে টিভি চ্যানেল থেকে ইউটিউবেই নাটক নির্মাণের সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে কিছু ইউটিউব চ্যানেলের নাটক টিভিতে প্রচার হওয়ার পর সেগুলো আবার ইউটিউবেও প্রচার হচ্ছে। আবার বেশ কিছু ইউটিউব চ্যানেল আছে যারা শুধু নিজস্ব ইউটিউবের জন্যই নাটক নির্মাণ করে থাকে। অন্যদিকে বর্তমানে প্রায় সব টিভি চ্যানেলের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল থাকায় তাদের নিজেদের নির্মিত নাটক টিভিতে প্রচারের পর আবার সেগুলো নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। ফলে এখন একটি নাটক বানানোর লগ্নিকৃত টাকা দুই মাধ্যম থেকেই প্রযোজক বা লগ্নিকারক ফেরত পাচ্ছেন। যার কারণে নাটকের বাজেট এখন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। একটা সময় বলা হতো বাজেট নেই, নাটকে বাজেট কম- এটা এখনকার সময়ে নাটকের বাজেটের দিকে তাকালে বলা যাবে না।
বিশেষ করে ইউটিউবের আধিপত্য হওয়ার পর থেকেই গত কয়েক বছর ধরে একেকটি নাটক অনেক টাকায় বানানো হচ্ছে। একটা সময় নাটকের বাজেট নিয়ে নানান ধরনের কথা শোনা যেত। পরিচালক-অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে নাটকের কলাকুশলীরা সব সময় বলত- নাটকের বাজেট কমে গেছে, এত কম বাজেটে নাটক বানানো সম্ভব নয় ইত্যাদি ইত্যাদি। ইউটিউবের কল্যাণে এখন নাটকের সেই বাজেট কয়েকগুণ বেড়েছে। অথচ ইউটিউবের আগে নাটকের বাজেট অনেক কমে গিয়েছিল। ২০১৬-২০১৭ সালেও নাটক এখনকার মতো এত বাজেটে নির্মিত হতো না। ২০১৮ সাল থেকে আস্তে আস্তে নাটকের বাজেট বাড়তে থাকে। নরমালি এখন একটি নাটক বানাতে চার-পাঁচ-ছয় লাখ টাকা নির্মাতারা হরহামেশাই পাচ্ছেন। এর থেকেও কম বাজেটে ছোট কিছু কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। ওইদিকের হিসেবে না গিয়ে যেগুলো আমাদের মেইনস্ট্রিমের নাটক বলে চিহ্নিত তা নিয়েই কথা হচ্ছে।
আর্টিস্ট ভেদে এখন একেকটি নাটকের বাজেট দশ-বারো-পনেরো লাখ পর্যন্ত পাচ্ছেন নির্মাতারা। এবার ঈদে তো আঠারো-বিশ লাখ এমনকি পঁচিশ লাখে নাটক নির্মাণের খবর পাওয়া গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- এই যে এত এত বাজেট পাচ্ছেন নির্মাতারা, নাটকের গল্পে কতটা ভেরিয়েশন পাচ্ছেন দর্শক? সেই একই অভিনয়শিল্পীদের একই প্রেম কাহিনি, কমেডি গল্প, চিল্লাচিল্লি কিংবা প্রেম হওয়ার শুরুতে ঝগড়া, তারপর প্রেম, পরিবার মানে না- টাইপের গল্প অথবা প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, প্রেমিক চাকরি পায় না, পরিবার মানে না ইত্যাদি ইত্যাদি গল্প। অনেকটা নতুন বোতলে পুরোনো মদের মতো গল্প। আর এখন যোগ হয়েছে নাটকে গানের ব্যবহারসহ ঢাকার বাইরে শুটিং- দামি ক্যামেরা এবং বিজ্ঞাপনের মতো ইউনিট-ক্রু নিয়ে মুভ করা। বাজেট বাড়ছে, খরচ করতে সমস্যা নেই। কিন্তু যেই গল্পের জন্য নাটক- সেই গল্পের জন্য কতটা খরচ করে নাটক নির্মিত হচ্ছে? মানে ভালো গল্পের এবং ‘খরচওয়ালা’ গল্পের পেছনে কি সেই বাজেটটা যাচ্ছে?
বিশিষ্ট সাংবাদিক, নাট্যকার ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা রেজানুর রহমান বলেন, ‘নাটকে ভালো গল্পের সংকট রয়েছে এটা যেমন সত্যি, তেমনি অনেকের কাছে ভালো গল্প থাকার পরও সে বাজেটের জন্য তা বানাতে পারছেন না- এটাও সত্যি। আসলে এখন কোনো লেভেল কোম্পানি (ইউটিউব), টিভি কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্রথমেই নির্মাতার কাছে জিজ্ঞাসা করেন- ‘যে গল্প নিয়ে কাজ করবেন সেটির ভিউ হবে নাকি’- এই কথায় নির্মাতা নতুন কোনো কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করতে চান না। সেই একই ফরম্যাটে কাজ করতে হচ্ছে তাকে। এখন দেখা গেছে কেউ একজন একটি গল্প নিয়ে কাজ করায় সেটির ভিউ হয়েছে- সবাই সেটা বানাতে ছুটে। মানে হলো ভিউয়ের পেছনে দৌঁড়াচ্ছি। ভিউ-ই যখন এখন একমাত্র বাণিজ্য তখন তো গল্প ফ্যাক্ট না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্মাতাদের স্বাধীনতা দিতে হবে। নির্মাতারা স্বাধীনতা না পেলে কাজ করা মুশকিল। অমুকটার মতো, তমুককে নিয়ে জুটি করে নাটক বানানোর জন্য প্রেসার না দিয়ে তাকে স্বাধীনতা দিতে হবে। এখন গল্পসহ ‘পাঁচজন- পাঁচজন’ জুটিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলে দেয়া হচ্ছে নাটক বানানোর জন্য। সেই ‘পাঁচজন-পাঁচজন’ জুটির দশজন এতো ব্যস্ত যে, তাদেরকে মেনটেইন করতে গেলে নাটকের দিকে নজর দেয়া যাচ্ছে না। তারা ব্যস্ত থাকতেই পারেন। কিন্তু জুটি বেঁধে দিলেই বিপদ। নির্মাতাকে বলতে হবে- স্বাধীনভাবে গল্পে যে ধরনের আর্টিস্ট যায়, তাদেরকে নিয়েই বানান। তাহলে নতুন গল্প এবং নতুন আর্টিস্টও ইন্ডাস্ট্রিতে তৈরি হবে। বর্তমানে যারা কম্প্রমাইজ করে কাজ করছেন যা হওয়ার তাই হচ্ছে। ফলে মনে রাখার মতো নাটক হচ্ছে না। এখন আমাদের লাখ লাখ টাকা বাজেট যাচ্ছে, শত শত নাটকও হচ্ছে। কিন্তু অর্জনের জায়গাটা ফাঁকাই থেকে যাচ্ছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে কেউ কথা বলছে না।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ নাটকে লোকেশন (প্রয়োজন না হলেও), লাইট-ক্যামেরাসহ এগুলোতে অপ্রয়োজনীয় বাজেট ব্যবহার, মেইন আর্টিস্টদের বেশি রেম্যুনারেশন (আর্টিস্টরা নিজেরাই নিজেদের পারিশ্রমিক ঠিক করছেন), শুটিং ইউনিটে বিলাসবহুল খরচ করায় বেশির ভাগ নাটকের মূল বাজেট সেখানেই চলে যাচ্ছে। ফলে নাটকে এত এত বাজেট পাওয়ার পরও যেই ভিন্নধর্মী গল্পটির পেছনে বাজেটটা খরচ করার কথা- সেখানে কি খরচ হচ্ছে না। সেই একই গল্প, একই মেকিং এবং কমেডি টাইপ নাটকগুলোই নির্মিত হচ্ছে। এখন তো একটি নাটকের গল্পের সঙ্গে আরেকটি নাটকের নামেরও বেশ মিল পাওয়া যায়। যেমন- ‘তুই আমারই’, ‘তোর জন্য’, ‘আজকাল তুমি আমি’, ‘তোমাতে হারাই’, ‘তোমায় ভালোবেসে’- এবারের ঈদের এই নাটকগুলোর নাম প্রায় কাছাকাছি। এরকম ইউটিউবে খুঁজলে আরও অনেক নাটক পাওয়া যাবে যেগুলোর নাম প্রায় কাছাকাছি। আরও রয়েছে ইউটিউবে ‘কাটতি টাইপ’ নাটকের নাম। যা আসলে শিল্পমানের নাটকের নাম নয়। ফলে দর্শক আসলে একটি নাটক দেখে তার মনের মধ্যে সেটি ‘দাগ’ কাটাতে পারছেন না। আর এখনকার নাটকগুলোতে প্রায় একই অভিনয়শিল্পী (অমুকের সঙ্গে তমুক, তমুকের সঙ্গে অমুক- ধরাবান্দা জুটি) হওয়ায় দর্শক আরও বিভ্রান্ত হচ্ছেন যে সে আসলে কোন নাটকটা দেখেছেন। ফলে মনের মধ্যে অনুভূতি সৃষ্টি করা এবং খুব ভাবনায় ভাবানোর মতো নাটক এখন খুব একটা দেখা যায় না।
নাটকে বাজেট বাড়লেও গল্পের অভাব কিংবা শিল্পমান সম্পন্ন নাটক কম নির্মিত হওয়ার পেছনে কারণ কি? এই বিষয়ে কথা বলেন নির্মাতা রাকেশ বসু। তিনি বলেন, ‘বাংলা নাটকের এখন সব থেকে বড় সমস্যা হলো- গল্প সংকট। একটা সময় বাজেট নিয়ে সবাই কম-বেশি কথা বলতেন। কিন্তু এখন বাজেট সমস্যা থেকে গল্প সংকটটাই অনেক বড় ইস্যু একটা ভালো কাজের জন্য। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীরা যে ধরনের কাজ করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এবং ভিউ কাউন্ট হয় সেই একই ধরনের গল্প নিয়েই কাজ করেন। সে ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা হলো ভিউ হওয়া একই গল্পের পুনরাবৃত্তি। ফলে অভিনয়শিল্পীরা জনপ্রিয়তার দিকে নজর দিতে গিয়ে ভালো গল্পের কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বারবার।’
আগে একটি নাটকের স্ক্রিপ্ট ফাইনাল হতো। টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান প্রধানসহ ক্রিয়েটিভ টিম মিলে গল্পটি ফাইনাল হওয়ার পর কোন অভিনয়শিল্পী কোন চরিত্রে অভিনয় করবে সেটা ভেবেচিন্তে কাস্টিং ফাইনাল করা হতো। এরমধ্যে স্ক্রিপ্ট নিয়ে কয়েকদফায় রাইটার ও পরিচালকসহ মিটিং হতো। তারপর ফাইনালি নাটকটি নির্মাণে যাওয়া হতো। নাটক নির্মাণের পর তা দেখে প্রিভিউ কমিটির মতামত থাকত এবং সেখানে পাস হলেই তা ফাইনালি সম্প্রচারে যেত।
আর এখন অনেকটা ঝালমুড়ি বানানোর মতোই নাটক বানানো হয়। মানে অমুক-তমুকের ভিউ আছে- আগে তাদের ডেট ‘লক’ করা হোক। তারপর তারা যেই গল্প পছন্দ করবেন কিংবা অনেক সময় অভিনয়শিল্পীও গল্প দিচ্ছেন সেটা নিয়ে- ডে নাইটের কিছু সিক্যুয়েন্স বানিয়ে (শুটিংয়ের সুবিধার্থে) শুটিংয়ে চলে যাওয়া হচ্ছে। স্লো-মো শট, গানের কিছু শট, নায়ক-নায়িকার দেখাদেখি-চোখাচোখি আর বিয়ে দিবে না বাবা-মা, ছেলে বেকার, চাকরি হয় না, পরিবার মেয়েকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দেয় আর চিল্লাচিল্লি ভরা কমেডি গল্প। বেশির ভাগ নাটকই এখন এভাবে নির্মিত হচ্ছে বলে জানা যায়। পাশাপাশি এখন সেট বানানোতেও ভালো খরচ করে নাটক নির্মাণের খবর পাওয়া গেছে।
ইউটিউবের সঠিক নিয়মনীতি না থাকা, নাটকে প্রিভিউ সিস্টেম না থাকায় এবং ‘ভিউই’ একমাত্র বাণিজ্য হওয়ায় দিনকে দিন মানহীন নাটক বানানোর প্রতিযোগিতা হচ্ছে এবং তা নিম্নমানের তলানিতে যাচ্ছে বলে অনেকে অভিমত দেন। এর পাশাপাশি একটা গুরুত্বপূর্ণ দিকের কথাও তারা উল্লেখ করেন তা হলো- একটা সময় যারা নাটক নির্মাণ ও ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তারা টেলিভিশন ও থিয়েটারে দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতা ছিল। আর এখন শুধু ব্যবসার উদ্দেশ্যেই (বেশির ভাগ) ইউটিউব চ্যানেল করে নাটকের নামে ‘কনটেন্ট’ বানানো হয়।
অথচ গল্পনির্ভর, জীবনবোধের নাটক, সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের গল্প, আমাদের চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কত কত গল্প। প্রতিদিন সংবাদের পাতায় কত গল্প প্রকাশ পায়, অথচ আমাদের দেশের নাটক নির্মাতারা এসব গল্প দেখেন না। কারণ এসব গল্পে ভিউ পাওয়া যায় না। তাই ইউটিউব মালিক তথা প্রযোজকরা ওই ধরনের গল্প নিয়ে কাজ করতে বা নির্মাণে আগ্রহ পান না।
ইউটিউবে ভিউ হচ্ছে সস্তা-চটুল, কমেডি তথা সুরসুরি প্রেম মার্কা গল্পের। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। লাখ লাখ টাকা বাজেট দিয়ে যেসব ‘নাটক’ বানানো হচ্ছে তা আসলে কতটা সমাজে প্রভাব ফেলছে? কি শিখছেন তরুণ প্রজন্ম? অবশ্য তরুণ প্রজন্ম নাকি যা বানানো হচ্ছে- তাই দেখতে চায় বলে তাদের অভিমত। এত এত বাজেটের টাকা আদতে ‘শ্রাদ্ধ’ করাই হচ্ছে বলে প্রকৃত নাট্যপ্রেমী তথা সত্যিকারের সংস্কৃতপ্রেমীরা অভিমত দেন। তাদের মতে, বেশি বাজেট এলে বেশির ভাগ নাটককে ঝকঝকে তকতকে বানানো আর ‘ফুটেজ’ ছাড়া আর কিছুই না বলেও অনেকে অভিমত দেন। তাই ভালো বাজেট দিয়ে ভালো গল্প এবং ভিন্নধর্মী চরিত্রসহ জীবনবোধের নাটক বানানোর তাগিদ দেন তারা।
বর্তমানে নাটক নির্মাণের একটা চিত্র তুলে ধরলে এখনকার পরিস্থিতিটা আরও পরিষ্কার বোঝা যাবে। এখন নাটকের কয়েকজন মেইন নায়ক তারা তাদের নিজেদের প্রযোজনা হাউস থেকে নাটক বানিয়ে তা নিজেই বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল এবং টিভি চ্যানেলে তাদের চাহিদামতো সরবরাহ করছেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক নাট্য নির্মাতা বলেন, ‘এভাবে আসলে কাজ করে অভ্যস্ত না। এই ভিউ বাণিজ্য এসে একজন নির্মাতার হাত-পা বন্দি হয়ে গেছে। আমরা আসলে বিক্রি হয়ে গেছি। এখন তো চাহিদাসম্পন্ন নায়করা তাদের প্রযোজনা হাউস থেকে নাটক তৈরি করেন। তারা নিজেদের বানানো ডিরেক্টর টিম, প্রোডাকশন টিমসহ ডিওপি এবং কো-আর্টিস্ট- সবই তারা ঠিক করেন। ডিরেক্টরকে দিয়ে শুধু ডিরেকশন (আসলে নামে ডিরেকশন) দেওয়ান। কোথায় এডিটিং হবে, কোথায় মিউজিক হবে এবং কীভাবে কাজটা কোথায় কত টাকায় বিক্রি হবে- সবই তিনি (নায়করা) ঠিক করেন। এভাবে চললে তো আসলে নাটকের ‘মান’ বলে কিছু থাকবেই না। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে।’
ভালো নাটক বানানোর কিছু ব্যতিক্রম চিত্রও রয়েছে। কিছু যে ভালো গল্পের নাটক নির্মিত হচ্ছে না তা বলা যাবে না। যারা সত্যিকারের ভালো গল্পের খোঁজ করেন এবং জীবনবোধের গল্পসহ ভিন্নরকম কিছু বা আইডলজির জায়গা থেকে কাজ করছেন তারা ঠিকই শত প্রতিকূলতায় কিছু নাটক বানাচ্ছেন। আমাদের দেশে ওটিটিতে ওয়েবসিরিজ ও ওয়েবফিল্মে ভিন্নধর্মী গল্পের কাজ হওয়ায় সেগুলো দর্শকদের কাছে সাড়া ফেলেছে। ফলে তার কিছুটা ছোঁয়া নাটকেও লেগেছে বলা যায়। এবারের ঈদে ভিন্নধর্মী গল্পের তেমনকিছু নাটক হচ্ছে- ‘স্মৃতিসারক’, ‘বিদায় বসন্তে মধ্যাহ্ন রোদে’, ‘নিখোঁজ’, ‘বোঝা’, ‘শেষমেষ’, ‘সম্ভবত প্রেম’, ‘কিছু কথা বাকি’, ‘দুনিয়া’, ‘অভাব’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘অভিশাপ’, ‘অভাব, ‘জাদুর শহর’, ‘গর্ভ’, ‘কলিজার টুকরা’, ‘স্বপ্নটা সামান্যই’সহ আরও কিছু নাটক।
এখন প্রায় একই মুখ ঘুরেফিরে সব নাটকেই দেখতে হচ্ছে বলে সব নাটক একইরকম লাগার কথা দর্শকরা অভিমত দিয়েছেন। এক সময় নাটকে নিশো, মেহজাবীন, অপূর্ব, তানজিন তিশাকে জুটি বেঁধে অভিনয় করতে দেখা যেত। এখনকার সময়ে অপূর্ব ও তানজিন তিশাকে নাটকে দেখা গেলেও নিশো-মেহজাবীনকে দেখা যায় না। নিশো চলচ্চিত্র ও ওটিটির কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় গত কয়েক ঈদ উৎসবে তাকে নাটকে দেখা যায়নি।
অন্যদিকে মেহজাবীনও বর্তমানে ওটিটির কাজের সঙ্গে সম্প্রতি সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন। তারপরও নাটকে মেহজাবীনের কাজের আগ্রহ রয়েছে; কিন্তু ভালো গল্পের অভাবে কাজ করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি। ‘সাবা’ ও ‘প্রিয় মালতী’ শিরোনামের দুটি ছবিতে কাজ করতে যাচ্ছেন ভক্তদের মেহু। তার জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমা ঘোষণার অনুষ্ঠানে নাটকে অভিনয় কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি নাটকে একেবারেই কাজ করতে চাই না, বিষয়টা তেমন না। আমি আসলে ভালো গল্প পাই না। ভালো গল্প পেলে অভিনয় অবশ্যই করব। আমার কাছে যে স্ক্রিপ্টগুলো আসে সেগুলো পছন্দ হয় না। দর্শক আসলে ভিন্নতা চায়। আমি অনেক দিন পর সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলের ‘অনন্যা’ করেছি। কারণ এটার গল্পটা ভিন্ন। এটার জন্য আমি সাড়াও পেয়েছি বেশ। তাই আমি এরকম ভিন্ন ভিন্ন গল্পের কাজ করতে চাই। তেমন স্ক্রিপ্ট পেলে কাজ করব।’
ঈদে রাফাত মজুমদার রিংকুর পরিচালনায় ‘রূপান্তর’ নাটকটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। ট্রান্সজেন্ডার এবং তৃতীয় লিঙ্গের ইস্যুতে নাটকটিকে শেষমেশ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা শ্রেণি ধর্মের বিষয়ের সঙ্গে তুলনা করে। ফলে কর্তৃপক্ষ নাটকটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়। ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে নাটক বানাতে গেলেও নানান সমস্যার কথা উল্লেখ করেন নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকু। তিনি বলেন, ‘আগের চেয়ে ভিন্ন ধরনের গল্পের নাটক বানানো হচ্ছে। তবে সেটা সংখ্যায় কম। এখন আলাদা টাইপের গল্পের নাটক বানাতে গেলেও নানান ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। আমি নিজেও ‘রূপান্তর’ নিয়ে একপ্রকার জটিলতায় রয়েছি। তাই যারা ইউটিউবের মালিক এবং প্রযোজক তারা ভিন্ন টাইপের গল্পের নাটক বানাতে রিস্ক নেয় না। বাধ্য হয়েই গদবাঁধা গল্পের নাটক বানায়। নাচ-গান আর বিউটি লোকেশনসহ কাজগুলো হচ্ছে।’
নাট্যপ্রেমী-বিনোদনপ্রেমী তথা সংস্কৃতিপ্রেমীদের প্রত্যাশা, নাটকের গল্পে সমাজের বাস্তবচিত্র থাকবে। কারণ ‘সমাজের দর্পণই হচ্ছে নাটক’। একটা সময় বিটিভিতে নাটক প্রচারের মাধ্যমে মধ্যবিত্তের ড্রয়িংরুমের সাজটা কেমন হবে- তা সেই নাটক থেকে শিখত মধ্যবিত্ত সমাজ। সময় বদলেছে, মানুষের রুচির পরিবর্তন হয়েছে। সমাজের আমূল পরিবর্তনে নিজেদের ‘রুচির দুর্ভিক্ষ’ যেন নাটকের মাধ্যমে প্রচার হয়ে তা আবার সমাজে প্রভাব ফেলুক- তা কারোরই কাম্য নয়। কারণ আজকে পর্দায় যা দেখানো হবে তাই দেখবেন দর্শক। সংস্কৃতিকর্মী তথা ক্রিয়েটিভরাই প্রকৃত ‘দর্শক’ তৈরি করেন। সারা পৃথিবীতেই রুচিহীন-সস্তা কনটেন্টেরই ‘ভিউ’ বেশি, এটাই স্বাভাবিক। এরমধ্যেও নিজেদের দর্শক নিজস্ব গল্প দিয়ে নিজেদেরই তৈরি করতে হবে- এমনটাই মনে করেন প্রকৃত সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
দেশের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা তারিকুজ্জামান তপন আর নেই। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ‘অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ’ তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে শোক প্রকাশ করেছে। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে দেশের সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এই প্রবীণ অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। গত ডিসেম্বরে তাঁর খাদ্যনালিতে ক্যানসার ধরা পড়ে, যা পরবর্তী সময়ে চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। জীবন বাঁচাতে তাঁর তিন দফায় কেমোথেরাপিও সম্পন্ন হয়েছিল। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র) ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তিনি শেষ বিদায় নেন।
দীর্ঘ বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তারিকুজ্জামান তপন টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে অত্যন্ত পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। বিশেষ করে কৌতুক চরিত্রে তাঁর সাবলীল ও প্রাণবন্ত অভিনয় দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল। ‘আলতা বানু’, ‘ঠিকানা’, ‘জোড়া শালিক’ ও ‘হাতছানি’র মতো অসংখ্য দর্শকনন্দিত নাটক ও সিনেমায় কাজ করে তিনি নিজের অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।
অভিনয়শিল্পী সংঘের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বলা হয়েছে, তারিকুজ্জামান তপন কেবল একজন দক্ষ অভিনেতাই ছিলেন না, বরং সংগঠনের একজন অত্যন্ত প্রিয় সহকর্মী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের অভিনয় জগত একজন নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীকে হারাল। সহকর্মীরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সহকর্মী ও অনুরাগীরা শোক প্রকাশ করছেন। সাধারণ মানুষের হাসির খোরাক জোগানো এই গুণী শিল্পীর প্রস্থান কৌতুক অভিনয়ের ক্ষেত্রে একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্তিম বিদায়ের পর তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও অনুরাগীরা তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন।
আগামী ৮ মে সারা দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘সর্দারবাড়ির খেলা’। অনেক প্রতীক্ষার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ ট্রেলার প্রকাশের মাধ্যমে সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়। এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় জুটি হিসেবে হাজির হচ্ছেন জিয়াউল রোশান ও শবনম বুবলী। লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ লাঠিখেলা ও প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রামকে উপজীব্য করে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে।
সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা ও লাঠিয়ালদের পারিবারিক সংকটকে কেন্দ্র করে। এতে একজন নামকরা লাঠি খেলোয়াড়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রোশান, যাকে চরম অভাবের কারণে সংসারের আসবাবপত্র পর্যন্ত বন্ধক রাখতে হয়। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী তরুলতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন শবনম বুবলী। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে তরুলতা বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও মানব পাচারকারী দালালের খপ্পরে পড়ে তাঁর জীবন এক বিষাদময় পরিণতির দিকে ধাবিত হয়।
রাখাল সবুজের পরিচালনায় ‘সর্দারবাড়ির খেলা’ তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পাওয়া এই সিনেমাটির নির্মাণকাজ বেশ আগেই শেষ হয়েছিল। মাঝপথে এর নাম পরিবর্তন করে ‘পুলসিরাত’ রাখা হলেও প্রিভিউ কমিটির আপত্তির মুখে নির্মাতা পুনরায় আগের নামে ফিরে আসেন। সিনেমায় রোশান ও বুবলী ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন গুণী অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম ও আজাদ আবুল কালামসহ আরও অনেকে।
পরিবেশক সংস্থা টাইগার মিডিয়ার পক্ষ থেকে ট্রেলার প্রকাশ করা হলেও সিনেমাটির প্রচার নিয়ে প্রধান অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও রোশান বা বুবলীকে এই সিনেমা নিয়ে কোনো পোস্ট শেয়ার করতে দেখা যায়নি। একই চিত্র দেখা গেছে নির্মাতা ও প্রযোজকের ক্ষেত্রেও। গত বছরের রোজার ঈদে মুক্তির কথা থাকলেও পিছিয়ে যাওয়া এই সিনেমাটি অবশেষে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দর্শকদের সামনে আসছে।
বাংলার বিলুপ্তপ্রায় লোকজ ঐতিহ্য এবং লড়াকু মানুষের বাস্তবসম্মত চিত্রায়নের ফলে সিনেমাটি দর্শকদের মনে জায়গা করে নেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বড় পর্দার নিয়মিত অ্যাকশন বা রোমান্টিক গল্পের বাইরে লাঠিখেলার মতো একটি ব্যতিক্রমী বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি বাংলা সিনেমায় নতুনত্ব যোগ করবে। এখন দেখার বিষয়, প্রচারণার ঘাটতি কাটিয়ে মুক্তির পর বক্স অফিসে সিনেমাটি কতটা সাড়া ফেলতে পারে।
অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম তাঁর প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছেন ‘হক’ সিনেমার মাধ্যমে। এই চলচ্চিত্রে সাজিয়া বানু নামের এক মুসলিম নারীর চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। চরিত্রটিকে পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে ইয়ামি ব্যাপক পরিশ্রম করেছেন। বিশেষ করে একজন মুসলিম নারীর বিশ্বাস ও সংস্কৃতি সঠিকভাবে উপস্থাপনের জন্য তিনি টানা চার মাস পবিত্র কোরআন পাঠ করা শিখেছেন, যা তাঁর অভিনয়কে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
সিনেমার পরিচালক সুপর্ণ ভার্মা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, সাজিয়া বানুর আবেগ ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরাই ছিল তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। ইয়ামি কেবল তাঁর সংলাপগুলো মুখস্থ করেননি, বরং চিত্রনাট্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন আয়াত এবং সেগুলোর অর্থ গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করেছেন। এই দীর্ঘ প্রস্তুতির কারণেই পর্দায় চরিত্রটি অত্যন্ত জীবন্ত ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে বলে নির্মাতা মনে করেন।
কেবল ইয়ামি গৌতম একা নন, এই সিনেমার লেখক ও নির্মাতা দল প্রায় দেড় বছর ধরে ইসলামি শরিয়াহ আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিবিড় গবেষণা করেছেন। সিনেমার গল্পটি যেহেতু আইনি লড়াই ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তাই কোনো ভুল তথ্য যেন দর্শকদের কাছে না যায়, সেদিকে কড়া নজর ছিল তাঁদের। পরিচালক জানান, বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রচুর ভুল তথ্য প্রচলিত থাকায় তাঁরা চেয়েছিলেন ‘হক’ সিনেমাটি যেন তথ্যের বিশুদ্ধতা ও যুক্তির একটি বলিষ্ঠ মাধ্যম হয়ে ওঠে।
সিনেমার গল্পটি ১৯৬৭ সালে উত্তর প্রদেশের একটি বাস্তব ঘটনা এবং ‘বানু: ভারত কি বেটি’ বইয়ের ছায়া অবলম্বনে তৈরি হয়েছে। এখানে দেখা যায়, আইনজীবী আব্বাস খানের সঙ্গে বিয়ে হওয়া সাজিয়া বানুর সাজানো সংসার তছনছ হয়ে যায় যখন তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সন্তানদের ভরণপোষণের অধিকার আদায়ে সাজিয়া আইনি লড়াই শুরু করেন। পারিবারিক আদালতে প্রত্যাখ্যাত হয়ে এবং স্বামীর কাছ থেকে তালাক পেয়েও তিনি দমে যাননি। প্রায় এক দশকের দীর্ঘ সংগ্রামের পর ভারতের সুপ্রিম কোর্টে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন তিনি, যা দেশটির আইনি ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
গত বছরের ৭ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি ইতিবাচক সাড়া পেতে শুরু করে। তবে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি নেটফ্লিক্সে আসার পর এটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ভারত ছাড়াও আন্তর্জাতিক অঙ্গন এবং বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও এই কোর্টরুম ড্রামাটি দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ইয়ামি গৌতমের পাশাপাশি এই সিনেমায় সাজিয়ার স্বামী আব্বাস খানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমরান হাশমি, যাঁর নেতিবাচক চরিত্রটিও বেশ সমাদৃত হয়েছে।
কোরীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মাইলফলক সৃষ্টি করা সিনেমা ‘প্যারাসাইট’-এর ওপর ভিত্তি করে নির্মিতব্য এইচবিও সিরিজটি নিয়ে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা কাটল। অস্কারজয়ী পরিচালক বোং জুন হো সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন যে, আলোচিত এই সিরিজটির কাজ বাতিল হয়ে যায়নি, বরং তা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ২০২০ সালে ইংরেজি ভাষায় এই সিরিজ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় কোনো আপডেট না থাকায় ভক্তদের মাঝে এটি বন্ধ হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল।
পরিচালক বোং জুন হো জানিয়েছেন, সিরিজের কাজ এখনো চলমান থাকলেও এটি চূড়ান্ত রূপ নিতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন। কাজের গতি কিছুটা ধীর হলেও চিত্রনাট্য তৈরি এবং সামগ্রিক পরিকল্পনা নিয়মিতভাবে এগোচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সিনেমার মূল নির্যাস বজায় রেখে একটি মানসম্পন্ন টেলিভিশন সিরিজ বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরাই বর্তমানে তাদের মূল লক্ষ্য এবং এ বিষয়ে তারা কোনো তাড়াহুড়া করতে চাইছেন না।
এই প্রজেক্টে বোং জুন হোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন হলিউডের খ্যাতিমান প্রযোজক ও পরিচালক অ্যাডাম ম্যাকে। নির্মাতারা আগেই স্পষ্ট করেছিলেন যে, এই সিরিজটি সিনেমার কোনো সরাসরি ইংরেজি রিমেক বা অনুবাদ হবে না। বরং এটি সম্পূর্ণ মৌলিক একটি গল্প হিসেবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে হাজির হবে, যা সিনেমার পরিচিত জগতকে আরও বিস্তৃত করবে এবং নতুন প্রেক্ষাপট যোগ করবে।
বোং জুন হো আরও জানান, মূল সিনেমার আড়াই ঘণ্টার সময়সীমায় তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্লট ও উপ-গল্প তুলে ধরতে পারেননি। সেই অসম্পূর্ণ অংশগুলোই এই ছয় ঘণ্টা ব্যাপ্তির সিরিজে বিস্তারিতভাবে দেখানো হবে। এর মাধ্যমে আধুনিক সমাজের গভীর শ্রেণিবৈষম্য, মানুষের সীমাহীন লোভ এবং বেঁচে থাকার কঠোর সংগ্রামের চিত্রগুলো আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ৯২তম অস্কারে ইতিহাস গড়া ‘প্যারাসাইট’ কান, গোল্ডেন গ্লোব ও বাফটাসহ প্রায় সব শীর্ষ উৎসবে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। বক্স অফিসেও অবিশ্বাস্য সাফল্য পাওয়া এই সিনেমার সিরিজ সংস্করণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। দীর্ঘ বিরতির পর পরিচালকের এই ইতিবাচক বার্তা সিনেমা প্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই অনেকটা মরুজড়ের গতিতে মুম্বাই বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন বিশ্বখ্যাত পপ সম্রাজ্ঞী রিহানা। তার এই আচমকা উপস্থিতিতে বিমানবন্দরের টার্মিনাল এলাকায় এক অভূতপূর্ব চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, যা দেখে খোদ পেশাদার আলোকচিত্রীরাও বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়েন। কালো পোশাকে নিজেকে আবৃত করে এবং ডার্ক সানগ্লাসের আড়ালে গাম্ভীর্য বজায় রেখেও রিহানা যখন মৃদু হেসে হাত নাড়লেন, তখন উপস্থিত সবার মাঝে এক ধরণের শিহরণ খেলে যায়।
পপ তারকার এই আকস্মিক ভারত সফরের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক তথ্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর তিনি ভারতে আসলেন। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আগমনের ভিডিওটি দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকাশিত সেই ফুটেজে দেখা যায়, কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে একটি গাড়িতে চড়ে বসছেন রিহানা।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে অনন্ত আম্বানি ও রাধিকা মার্চেন্টের প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে জামনগরে এসেছিলেন তিনি। সেই সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই রিহানার এবারের অপ্রত্যাশিত সফর দেখে নেটিজেনদের মনে কৌতূহলী প্রশ্ন জেগেছে, ‘এবার কার বিয়েতে পারফর্ম করতে এসেছেন এই সুন্দরী?’
বর্তমানে রিহানার এই সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে রহস্যের জাল ঘনীভূত হচ্ছে। এটি কি আম্বানিদের কোনো নিভৃত পারিবারিক অনুষ্ঠান, নাকি বলিউডের কোনো বড়মাপের প্রকল্পের কাজ—তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সাধারণত নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের হালনাগাদ তথ্য নিয়মিত প্রচার করলেও, এবারের সফরটি নিয়ে অদ্ভুত গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন এই পপ কুইন। এর ফলে তার এই ঝটিকা সফরের নেপথ্য কারণ জানতে উৎসুক হয়ে আছে ভক্ত ও অনুরাগী মহল।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে কিংবদন্তি পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’। এতে মাইকেল জ্যাকসনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তার ভাইয়ের ছেলে জাফার জ্যাকসন। তার অভিনয়, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, পোশাক এবং নৃত্যভঙ্গিতে যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছেন কিংবদন্তি এই শিল্পী।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই বাংলাদেশেও স্টার সিনেপ্লেক্সে এটি উপভোগ করতে পারছেন দর্শকরা। চলচ্চিত্রটিতে মাইকেলের শৈশব, বেড়ে ওঠা, সংগীতে পথচলা এবং কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করার নানা অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে।
এই সিনেমার মাধ্যমে মৃত্যুর ১৬ বছর পর আবারও রুপালি পর্দায় ফিরে এলেন মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, গীতিকার, অভিনেতা, সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মাইকেল জ্যাকসন।
১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহরে এক আফ্রিকান-আমেরিকান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১০ ভাইবোনের মধ্যে ছিলেন অষ্টম। সংগীতমুখর পারিবারিক পরিবেশেই ছোটবেলা থেকে গানের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় তার। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ভাইদের সঙ্গে গঠিত ‘দ্য জ্যাকসন ৫’-এর লিড ভোকালিস্ট হিসেবে পেশাদার সংগীতজীবন শুরু করেন।
১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে ব্যান্ডটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ‘আই ওয়ান্ট ইউ ব্যাক’ ও ‘এবিসি’-এর মতো একাধিক গান চার্টের শীর্ষে জায়গা করে নেয়।
১৯৭১ সালে একক ক্যারিয়ার শুরু করেন মাইকেল। তবে ১৯৮২ সালে প্রকাশিত ‘থ্রিলার’ অ্যালবাম তাকে নিয়ে যায় অনন্য উচ্চতায়। এটি ইতিহাসের অন্যতম সর্বাধিক বিক্রীত অ্যালবাম হিসেবে স্বীকৃত।
২০০৯ সালের ২৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রোপোফল ও বেনজোডিয়াজেপাইনের প্রভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার বর্ণাঢ্য ও নাটকীয় জীবনকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে ‘মাইকেল’।
চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্টোইন ফুকুয়া। কিংবদন্তির শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য এবং মঞ্চজয়ের গল্পকে এক সুতোয় গেঁথেছেন তিনবার অস্কার মনোনীত চিত্রনাট্যকার জন লোগান।
লায়ন্সগেট প্রযোজিত এই সিনেমায় জাফার জ্যাকসনের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন নিয়া লং, লরা হ্যারিয়ার, জুলিয়ানো ক্রু ভালদি, মাইলস টেলার এবং কোলম্যান ডোমিঙ্গো।
দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর দুটি সিনেমা বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যেই তিনি যুক্ত হয়েছেন নতুন আরেকটি চলচ্চিত্রে। নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূনের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মুভিং বাংলাদেশ’-এ অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে, সিনেমাটি হলিউডের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হচ্ছে। এতে থাকছে একাধিক চমকও। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চঞ্চল চৌধুরী এখনো শুটিংয়ে অংশ নেননি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তার দৃশ্যধারণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
গত এপ্রিলের শুরুতে সিনেমাটির শুটিং শুরু করেছেন নুহাশ হুমায়ূন। যদিও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে পুরো অভিনয়শিল্পীদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। নির্মাতা শুটিং শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য জানাবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, সিনেমাটির জন্য অনেক নতুন মুখের অডিশন নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর জন্য শিল্পী নির্বাচন করা হয়েছে।
সিনেমার গল্প একজন মোটরবাইক চালকের জীবনসংগ্রাম, স্বপ্ন এবং জীবনের নানা উত্থান-পতনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু একজন মানুষের ব্যক্তিগত কাহিনি নয়, বরং এর মাধ্যমে উঠে আসবে সময়ের বাস্তবতা, তরুণদের সংগ্রাম এবং সমাজের নানা দিক।
জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর ধরে এই সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছেন নুহাশ হুমায়ূন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে চিত্রনাট্যটি অনুদানও অর্জন করেছে। দেশের গুপী বাঘা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থাও সিনেমাটির প্রযোজনায় যুক্ত রয়েছে।
বিগত এক দশকে হিন্দি সিনেমার জগতে এক আমূল রূপান্তর ঘটেছে। দর্শকরা এখন আর কেবল বড় তারকাদের জৌলুসে মুগ্ধ নন, বরং রুপালি পর্দায় তাঁরা প্রাত্যহিক জীবনের ছোঁয়া খোঁজেন। এই নতুন ধারার অন্যতম কারিগর আয়ুষ্মান খুরানা সাফল্যের সাথে বাণিজ্যিক ও সৃজনশীল ধারার সমন্বয় ঘটিয়ে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ২০২৬ সালে তাঁর অভিনীত তিনটি বিশেষ চলচ্চিত্র তাঁর এই সফল যাত্রাকে আরও বেগবান করবে বলে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
আসন্ন বছরে আয়ুষ্মান দর্শকদের সামনে তিনটি ভিন্ন স্বাদের চলচ্চিত্র নিয়ে হাজির হচ্ছেন। এর মধ্যে ‘পতি পত্নী অউর ও দো’ সিনেমাটিতে দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপড়েন ও পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝিকে এক আকর্ষণীয় রসায়নের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এটি লঘু মেজাজের কাহিনী হলেও এতে দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক চিত্র ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে, ‘উড়তা তীর’ চলচ্চিত্রটি প্রথাগত নির্মাণের ছক ভেঙে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দর্শক এক সম্পূর্ণ নতুন ও অচেনা আয়ুষ্মানকে আবিষ্কার করবেন। আর ‘ইয়ে প্রেম মোল লিয়া’ ছবিটি নির্মিত হয়েছে ধ্রুপদী পারিবারিক গল্পের আবহে, যেখানে ভারতীয় ঐতিহ্য ও সম্পর্কের নিবিড় বন্ধন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের স্বকীয় ভাবনার কথা জানিয়েছেন আয়ুষ্মান। তিনি কোনো নির্দিষ্ট ফর্মুলা মেনে সিনেমা বাছাই করেন না। অভিনেতা জানিয়েছেন, "তিনি কোনো ছক কষে ছবি নির্বাচন করেন না। বরং একজন দর্শক হিসেবে যে চিত্রনাট্য তার মন ছুঁয়ে যায়, সেটিকেই তিনি আপন করে নেন।" তাঁর মতে, "একই বছরে তিনটি সম্পূর্ণ আলাদা চরিত্রে অভিনয় করা যেমন আনন্দের, তেমনি বড় দায়িত্বের।"
আধুনিক দর্শকদের মনস্তত্ত্ব বুঝে গতানুগতিক গল্পের বাইরে নতুন কিছু করাই আয়ুষ্মানের মূল বৈশিষ্ট্য। তাঁর এই নতুন তিনটি প্রজেক্টের সাথে যুক্ত হয়েছেন বলিউডের তিন প্রভাবশালী প্রযোজক ভূষণ কুমার, করণ জোহর এবং সুরজ বরজাতিয়া। বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ এসব প্রযোজকের ছোঁয়ায় এই চলচ্চিত্রগুলো বক্স অফিসে যেমন প্রভাব ফেলবে, তেমনি দর্শকদের হৃদয়েও দীর্ঘস্থায়ী জায়গা করে নেবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী। এর মাধ্যমে আয়ুষ্মান খুরানা নিজের বহুমুখী অভিনয় প্রতিভাকে আরও একবার প্রমাণ করার সুযোগ পাবেন।
এক দশক পর অস্ট্রেলিয়ার দর্শকদের গান শোনাতে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পী ও সুরকার রুনা লায়লা। আগামী আগস্ট মাসে দেশটির দুটি প্রধান শহরে বড় পরিসরের দুটি কনসার্টে অংশ নেবেন তিনি। কিংবদন্তি এই শিল্পীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও সংগীত পরিচালক ইমন চৌধুরী এবং তাঁর গানের দল ‘বেঙ্গল সিম্ফনি’। প্রায় ১০ বছর পর রুনা লায়লার এই অস্ট্রেলিয়া সফরকে কেন্দ্র করে সিডনি ও মেলবোর্নের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে ইতোমধ্যেই ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
সফরের সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ আগস্ট সিডনির নরওয়েস্ট কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশ নাইট’ শীর্ষক কনসার্ট। লিসেন ফর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রুনা লায়লা ও বেঙ্গল সিম্ফনির পাশাপাশি গান পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় শিল্পী পিন্টু ঘোষ। এরপর ৮ আগস্ট মেলবোর্ন রিসাইটাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে ‘রুনা লায়লা অ্যান্ড সিম্ফনি লিগাসি ট্যুর’। এই কনসার্টটি আয়োজন করেছে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ কালচারাল এক্সচেঞ্জ ইনক (এবিসিএক্স)। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কনসার্ট দুটির অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে এবং আয়োজকদের দাবি, দর্শকদের পক্ষ থেকে আশাতীত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
এই দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে রুনা লায়লা বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি জানিয়েছেন, দর্শকদের পছন্দের সব গান নিয়েই তিনি মঞ্চে হাজির হবেন। আগামী ২৯ জুলাই সাতজন দক্ষ যন্ত্রশিল্পীকে নিয়ে তিনি সিডনির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। কিংবদন্তি এই শিল্পী এক ভিডিও বার্তায় তাঁর ভক্তদের এই সংগীতময় আয়োজনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আয়োজকদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ কনসার্ট নয়, বরং প্রবাসীদের জন্য রুনা লায়লার জাদুকরী কণ্ঠ ও ধ্রুপদী গানগুলো সরাসরি শোনার এক অনন্য সুযোগ হতে যাচ্ছে।
বেঙ্গল সিম্ফনির পক্ষ থেকে ইমন চৌধুরী জানিয়েছেন, তাঁরা অসাধারণ সব ভেন্যুতে পারফর্ম করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। কনসার্টে ‘কথা কইও না’, ‘সাদা সাদা কালা কালা’, ‘টেকা পাখি’ ও ‘বাজি’র মতো জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। ইমন চৌধুরীর মতে, কিংবদন্তি রুনা লায়লার সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করা তাঁদের দলের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি। আধুনিক যন্ত্রসংগীত ও চিরায়ত সুরের মেলবন্ধনে দর্শকদের একটি প্রাণবন্ত মিউজিক্যাল অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের গৌরবময় সংগীত ঐতিহ্য তুলে ধরার এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, একটি ঐতিহাসিক ও মনে রাখার মতো সংগীতানুষ্ঠান উপহার দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর রুনা লায়লার এই প্রত্যাবর্তন এবং সঙ্গে বেঙ্গল সিম্ফনির নতুন প্রজন্মের সুরের সমন্বয় কনসার্ট দুটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত বাংলা গানের প্রতি প্রবাসীদের ভালোবাসা ও নস্টালজিয়াকে সম্মান জানাতেই এই জাঁকজমকপূর্ণ সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বলিউডে কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকলেও তিন খানের (শাহরুখ, সালমান ও আমির) সঙ্গে কাজ করা হয়নি অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুরের। দীর্ঘদিনের সেই অপূর্ণতা অবশেষে ঘুচতে যাচ্ছে। নতুন একটি সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় জুটি বাঁধতে যাচ্ছেন আমির খান ও শ্রদ্ধা কাপুর। ভারতীয় ব্যবসায়ী অশনির গ্রোভারের জীবনের রোমাঞ্চকর উত্থান-পতনের গল্প নিয়ে নির্মিত এই বায়োপিকে তাঁদের দুজনকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে।
এই বায়োপিকে আমির খান অভিনয় করবেন অশনির গ্রোভারের নামভূমিকায়। ব্যবসায়িক লড়াই এবং অশনিরের ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলতে নির্মাতারা আমিরকেই যোগ্য মনে করেছেন। অন্যদিকে, শ্রদ্ধাকে দেখা যাবে অশনিরের স্ত্রী মাধুরী জৈন গ্রোভারের চরিত্রে। তাঁদের শূন্য থেকে শীর্ষে পৌঁছানো এবং কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকার মানবিক গল্পটি সিনেমার মূল উপজীব্য হবে। কেবল সাফল্য নয়, বরং অশনিরের জীবনের নানা বিতর্কিত ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের দিকগুলোও এখানে উঠে আসবে।
সিনেমাটি পরিচালনা করবেন রাহুল মোদি, যিনি এর আগে ‘সোনু কে টিটু কি সুইটি’র মতো হিট সিনেমার চিত্রনাট্য লিখে পরিচিতি পেয়েছেন। জানা গেছে, অশনির গ্রোভারের এই বায়োপিকের চিত্রনাট্য তিনি দীর্ঘ তিন বছর ধরে নিবিড়ভাবে তৈরি করেছেন। চিত্রনাট্য লেখার প্রতিটি ধাপের সঙ্গে শ্রদ্ধা কাপুর ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। শুরু থেকেই চূড়ান্ত ছিল যে মাধুরী জৈন গ্রোভারের চরিত্রে অভিনয় করবেন শ্রদ্ধাই, তবে আমিরের অন্তর্ভুক্তি প্রজেক্টটিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।
আমির আর শ্রদ্ধার মধ্যে বয়সের ব্যবধান প্রায় ২২ বছর হওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে কিছুটা আলোচনা-সমালোচনা চললেও নির্মাতা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত নন। প্রোস্থেটিক মেকআপ ও উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় এই দম্পতির জীবনের বিভিন্ন পর্যায় পর্দায় জীবন্ত করে তোলা হবে। সিনেমাটির নাম এখনও চূড়ান্ত না হলেও চলতি বছরই দৃশ্যধারণের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। বর্তমানে সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
তরুণ নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূনের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মুভিং বাংলাদেশ’-এ যুক্ত হয়েছেন বরেণ্য অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন। সিনেমাটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তাঁকে দেখা যাবে বলে অভিনেতা নিজেই গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। বরেণ্য এই অভিনেতার অন্তর্ভুক্তি সিনেমাটির গুরুত্ব ও দর্শকদের প্রত্যাশা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতিমধ্যে আফজাল হোসেন তাঁর অংশের প্রাথমিক কিছু দৃশ্যধারণের কাজ শেষ করেছেন বলে জানা গেছে।
নুহাশ হুমায়ূনের সঙ্গে আফজাল হোসেনের কাজের অভিজ্ঞতা এটিই প্রথম নয়। এর আগে নুহাশের আলোচিত ওয়েব সিরিজ ‘ষ’ এবং এর পরবর্তী কিস্তিতে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। তখন থেকেই তরুণ এই নির্মাতার সৃজনশীল কাজের প্রশংসা করে আসছেন আফজাল হোসেন। তবে ‘মুভিং বাংলাদেশ’ নিয়ে এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি এই অভিনেতা। নির্মাতার পক্ষ থেকেও অভিনয়শিল্পীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিয়ে এক ধরনের গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে।
সিনেমাটির মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন বাইক রাইডারের জীবনসংগ্রাম, স্বপ্ন এবং শহুরে জীবনের নানা চড়াই-উতরাইকে ঘিরে। তরুণ প্রজন্মের প্রাত্যহিক লড়াই এবং সমাজের সমসাময়িক বাস্তবতাকে এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হবে। নুহাশ হুমায়ূন জানিয়েছেন, এই সিনেমার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অনেক নবীন অভিনয়শিল্পীর অডিশন নেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকেই মূল চরিত্রগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। অভিজ্ঞ আফজাল হোসেনের পাশাপাশি একদল নতুন মুখ এই সিনেমায় বড় চমক হিসেবে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য তৈরি এবং প্রি-প্রোডাকশনের কাজে নুহাশ গত ছয় বছর ধরে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে চিত্রনাট্যটি নিয়ে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন নামী চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছেন এবং একাধিক সম্মানজনক আন্তর্জাতিক অনুদান লাভ করেছেন। ‘মুভিং বাংলাদেশ’ কেবল দেশীয় বাজারের জন্য নয়, বরং বিশ্ব চলচ্চিত্রের দর্শকদের কথা মাথায় রেখেই নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের ‘গুপী বাঘা প্রোডাকশন’ ছাড়াও বেশ কিছু নামী আন্তর্জাতিক প্রযোজনা সংস্থাও যুক্ত রয়েছে।
চলতি এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই সিনেমাটির দৃশ্যধারণের কাজ শুরু হয়েছে। নুহাশ হুমায়ূন আপাতত শুটিংয়ের কাজ নির্বিঘ্নে শেষ করতে চান এবং এরপরই বড় আয়োজনের মাধ্যমে সব অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের পরিচয় সবার সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা করছেন। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও বড় বাজেটের এই সিনেমাটি নুহাশের ক্যারিয়ারে যেমন মাইলফলক হবে, তেমনি বাংলা চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রসারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা সিরোহী অকালে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। গত মঙ্গলবার রাতে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে এই উদীয়মান অভিনেত্রীর বয়স হয়েছিল মাত্র ৩০ বছর। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে আঞ্চলিক চলচ্চিত্র ও সংগীত অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে হঠাৎ মাথা ঘোরা শুরু হয় দিব্যাঙ্কার। এক পর্যায়ে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে মেঝেতে পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণেই তিনি পড়ে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আজ বুধবার সকালে গাজিয়াবাদে দিব্যাঙ্কার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শেষ বিদায়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক জিতু, শিল্পী বিকাশসহ হরিয়ানভি ও উত্তরপ্রদেশের বিনোদন জগতের অনেক তারকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সহকর্মী ও ভক্তরা এই মেধাবী অভিনেত্রীর অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে মেধাবী দিব্যাঙ্কা চৌধুরী চরণ সিংহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং সিকিমের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
আঞ্চলিক বিনোদন অঙ্গনে দিব্যাঙ্কা দ্রুত নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছিলেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় গায়ক মাসুম শর্মার সঙ্গে বেশ কিছু মিউজিক ভিডিওতে কাজ করে তিনি দর্শকদের নজরে আসেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও পারদর্শী ছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রকাশিত ভিডিওগুলো প্রায়ই ভাইরাল হতো, যা তাঁকে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। নিজের বিশেষ অঙ্গভঙ্গি ও অভিব্যক্তির জন্য তিনি অল্প সময়েই ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন।
শৈশব থেকেই অভিনয় ও নাচের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল দিব্যাঙ্কা সিরোহীর। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, সৃজনশীল কাজের মাধ্যমেই তিনি মানুষের মনে জায়গা করে নিতে চান। নিজের পরিশ্রম ও প্রতিভা দিয়ে যখন তিনি ক্যারিয়ারের সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই আকস্মিক মৃত্যু তাঁর সব স্বপ্নের অবসান ঘটাল। তাঁর প্রয়াণ আঞ্চলিক বিনোদন জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারে বর্তমান সময়টি অত্যন্ত সফলভাবে কাটছে। বর্তমানে তিনি তার আসন্ন সিনেমা ‘কিং’-এর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও এর মধ্যেই নতুন এক চমকপ্রদ খবর সামনে এসেছে। শাহরুখ ও দক্ষিণী পরিচালক অ্যাটলি জুটির ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা ‘জওয়ান’-এর সিক্যুয়েল বা দ্বিতীয় কিস্তি নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই খবরটি বিনোদন দুনিয়ায় এবং ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘জওয়ান ২’ নির্মাণের পরিকল্পনা এখন আর কেবল আলোচনার পর্যায়ে নেই। দীর্ঘ কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রমের পর ছবিটির চিত্রনাট্য বা পাণ্ডুলিপির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। নির্মাতারা এখন পুরোপুরি শুটিং ফ্লোরে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। ধারণা করা হচ্ছে, শাহরুখের বর্তমান প্রজেক্ট ‘কিং’-এর শুটিং শেষ হওয়ার পরপরই আগামী বছর থেকে নতুন এই মেগা প্রজেক্টের দৃশ্যধারণ শুরু হতে পারে।
এবারের সিক্যুয়েলে দর্শকদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে খলনায়ক চরিত্রটি। পরিচালক অ্যাটলি পরিকল্পনা করছেন কিং খানের বিপরীতে পর্দায় টক্কর দিতে একজন বড় মাপের দক্ষিণ ভারতীয় সুপারস্টারকে খলনায়ক হিসেবে কাস্ট করার। এর আগে ‘জওয়ান’-এ বিজয় সেতুপতির অভিনয় দারুণ প্রশংসিত হয়েছিল, তাই এবারও কোনো প্রভাবশালী দক্ষিণি তারকাকে শাহরুখের মুখোমুখি পর্দায় দেখার প্রত্যাশা আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া শাহরুখ-অ্যাটলি জুটির ‘জওয়ান’ বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে রেকর্ড ভাঙা সাফল্য পেয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় সিক্যুয়েলটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ শুরু থেকেই তুঙ্গে। যদিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বা নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে চিত্রনাট্য সম্পন্ন হওয়ার খবরে সিনেমা সংশ্লিষ্ট মহলে শুরু হয়েছে তোলপাড়। ধারণা করা হচ্ছে, আগের কিস্তির মতো এটিও বড় কোনো ধামাকা নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে হাজির হবে।