চলতি বছর বলিউডের সবচেয়ে প্রত্যাশিত সিনেমার তালিকায় প্রথমেই যে নামটি আসে তা হলো নাগ অশ্বিন পরিচালিত ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’। এই ছবিতে রহস্যময় একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিগবি খ্যাত বলিউডের ‘শাহেনশাহ’ অমিতাভ বচ্চন। নিজের রহস্যময় চরিত্রের এই পোস্টার শেয়ার করে অমিতাভ লিখেছেন, ‘এবার জানার সময় হয়েছে যে তিনি কে!’
বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্রটিতে প্যান ইন্ডিয়া তারকা প্রভাসের সঙ্গে প্রথমবার জুটি বেঁধেছেন দীপিকা পাড়ুকোন। প্রভাস-দীপিকা ছাড়াও এই সিনেমার অন্যতম আকর্ষণ অমিতাভ বচ্চন, কমল হাসানের মতো দুই মহাতারকা। সিনেমার প্রচার শুরু করে অনেক আগেই ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’-এর কিছু ঝলক সামনে এনেছিলেন নির্মাতা। এবার অমিতাভ বচ্চনের রহস্যময় চরিত্রের লুক প্রকাশ করে সিনেমাপ্রেমীদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।
পোস্টার লুকে অভিতাভকে দেখা যাচ্ছে, আপাদমস্তক কাপড়ে ঢেকে রেখেছেন, শুধু চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে। উস্কোখুস্কো লম্বা পাকা চুল-দাড়ি। একটি মন্দিরের ভেতরে বসে উজ্জ্বল আলোর দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। রহস্যময় চরিত্রের এই পোস্টার শেয়ার করে টুইটারে লেখা হয়েছে ‘এবার জানার সময় হয়েছে তিনি কে!’
লুকটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ভক্তরা নানা মন্তব্য করছেন। একজন লিখেছেন, ‘আগামী আপডেটের অপেক্ষা করতে পারছি না।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে এই সিনেমাটির জন্য অপেক্ষা করছি।’
৬০০ কোটি রুপি বাজেটের ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমার একটি হতে চলেছে। ছবিতে ভিএফএক্সের চোখ ধাঁধানো কারিকুরি দেখা যাবে। সিনেমাটি বেশ বড় আকারে আনতে চাইছেন নির্মাতারা। অনেকেই ধরে নিয়েছেন, এ ছবি এ বছর বক্স অফিসের অনেক হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেবে। ছবিতে পৌরাণিক চরিত্র ‘কল্কি’র ভূমিকায় দেখা যাবে প্রভাসকে, আর দীপিকা আসবেন ‘পদ্মা’র ভূমিকায়।
অমিতাভ বচ্চন, কমল হাসান ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ আরও চরিত্রে রয়েছেন দুলকার সালমান, দিশা পাটানি, শ্বাসত চ্যাটার্জি, রাম গোপাল ভার্মাসহ অনেকে। আগামী ৯ মে সিনেমাটি মুক্তি পেতে পারে।
অমিতাভ বচ্চনকে শেষ দেখা গিয়েছিল অ্যাকশন সিনেমা ‘গণপথ: এ হিরো ইজ বর্ন’-এ। ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এ সিনেমাটি গেল বছরের অক্টোবরে মুক্তি পেয়েছিল। এ ছাড়াও তার ঝুলিতে রয়েছে কোর্টরুম ড্রামা ফিল্ম ‘সেকশন ৮৪’।
আসন্ন ঈদুল ফিতরে দর্শকদের ভিন্নধর্মী এক অভিজ্ঞতার স্বাদ দিতে বড় পর্দায় আসছে নির্মাতা তানিম নূরের নতুন চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে ইতিমধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। ইতিপূর্বে ‘উৎসব’ সিনেমার মাধ্যমে প্রশংসা কুড়ানো এই নির্মাতা এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। নির্মাতার মতে, এটি একটি ‘শতভাগ খাঁটি বাংলা ছায়াছবি’, যার কলাকুশলী থেকে শুরু করে দৃশ্যধারণ ও পোস্ট প্রোডাকশনের পুরো কারিগরি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে খোদ বাংলাদেশে।
বর্তমানে সিনেমাটির শেষ মুহূর্তের ‘কালার গ্রেডিং’ ও ঘষামাজার কাজ চলছে। দিন দুয়েকের মধ্যেই ছবিটি চূড়ান্ত ছাড়পত্রের জন্য চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডে জমা দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তানিম নূর। সিনেমাটির মূল আকর্ষণ আবর্তিত হয়েছে ট্রেনের একদল বৈচিত্র্যময় যাত্রীর ব্যক্তিগত গল্প ও নাটকীয় সব ঘটনাকে ঘিরে। যেখানে মানসিকভাবে অসুস্থ মাকে নিয়ে ডাক্তার আশহাবের যাত্রা, অজানার পথে চিত্রার অনিশ্চিত ভ্রমণ, খামখেয়ালি পর্যটক রশীদ উদ্দিন এবং দাপুটে এক মন্ত্রীর জীবন—সবাই যখন একই কামরায় একীভূত হয়, তখন এই দীর্ঘ রেল যাত্রা তাঁদের জীবনের গতিপথকে আমূল বদলে দেয়। জীবনের ছোট ছোট অনুভূতি আর নাটকীয় টানাপোড়েনের এই গল্পটি সেলুলয়েডের পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন পরিচালক।
ছবির তারকা বহরও সিনেমাটিকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘ দিন পর আবারও একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে দেশের দুই শক্তিশালী অভিনয়শিল্পী মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরীকে। তাঁদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বিভিন্ন চরিত্রে রূপদান করেছেন সাবিলা নূর, শরিফুল রাজ, শ্যামল মাওলা, জাকিয়া বারী মম এবং আজমেরি হক বাঁধনের মতো একঝাঁক গুণী অভিনয়শিল্পী। নির্মাতার সৃজনশীলতা ও এত সব তুখোড় শিল্পীর মেলবন্ধন দর্শকদের প্রথম দিন থেকেই প্রেক্ষাগৃহে টানতে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
প্রচারের ক্ষেত্রেও বিশেষ চমক রেখেছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ টিম। আগের সিনেমা ‘উৎসবে’ আর্টসেল ব্যান্ডের গান ব্যবহারের পর এবার দর্শকদের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিতে সিনেমায় রাখা হয়েছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড অর্থহীনের বিখ্যাত গান ‘চাইতেই পারো তুমি’। ইতিমধ্যে প্রকাশিত টিজার ও গানে দর্শকের অভাবনীয় সাড়া দেখে আশার আলো দেখছেন নির্মাতা ও প্রযোজক পক্ষ। সময় খুব কম থাকলেও নতুন এই ইউনিক পরিকল্পনা নিয়ে দর্শকদের সরাসরি কানেক্ট করতে বেশ কিছু অনুষ্ঠান আয়োজনের তোড়জোড় চলছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ আসরে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ একটি সার্থক জীবনমুখী বিনোদন হতে যাচ্ছে বলেই প্রত্যাশা দর্শকদের।
বিশ্ববিখ্যাত নির্মাতা জেমস ক্যামেরনের হাত ধরে শুরু হওয়া ‘অ্যাভাটার’ ফ্র্যাঞ্চাইজি বিশ্বজুড়ে যে পরিমাণ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে, তা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক বিরল নজির। তবে সম্প্রতি এই জনপ্রিয় সিরিজের চতুর্থ কিস্তি ‘অ্যাভাটার ৪’ নির্মাণ হওয়া নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া সিরিজের তৃতীয় কিস্তি ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এর ব্যবসায়িক পরিসংখ্যানকে। ছবিটি বক্স অফিসে ভালো সাড়া ফেললেও এর আকাশচুম্বী নির্মাণ ব্যয়ের তুলনায় তা লাভের মুখ দেখতে এখনও হিমশিম খাচ্ছে, যা খোদ নির্মাতার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
এই গুঞ্জন আর আলোচনার মাঝেই সম্প্রতি পরবর্তী কিস্তি নিয়ে মুখ খুলেছেন পরিচালক জেমস ক্যামেরন। গত সোমবার এক জমকালো ‘স্যাটার্ন অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে সিনেমাটির চতুর্থ কিস্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে জেমস ক্যামেরন বেশ কৌশলী জবাব দিয়েছেন। পরবর্তী কিস্তি আসবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও শুধু বলেছেন যে এর একটি বড় ধরণের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই ছোট জবাবের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছেন, কিন্তু চতুর্থ কিস্তি আসার পথ যে আগের মতো অবারিত নয়, তা বেশ স্পষ্ট।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘অ্যাভাটার ৪’ আলোর মুখ দেখবে কি না তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তৃতীয় কিস্তির দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক ফলাফল এবং দর্শকদের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়ার ওপর। বর্তমান বিশ্ব বাজারে ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ প্রায় ১.৪৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা অন্য যেকোনো সিনেমার জন্য অসামান্য অর্জন হলেও অ্যাভাটার সিরিজের জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ, এর আগের কিস্তি ‘দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’-এর তুলনায় এই ছবির আয় অন্তত ৮৭০ মিলিয়ন ডলার কম হয়েছে। নির্মাণ ব্যয় এবং বিশাল পরিসরের বিপণন খরচের হিসাব মিলিয়ে দেখলে তৃতীয় কিস্তিটি এখনও লাভের কাঙ্ক্ষিত সীমানা স্পর্শ করতে পারেনি।
জেমস ক্যামেরন বর্তমানে পরিস্থিতির কঠোর বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, বিশ্ব চলচ্চিত্র শিল্প এখন এক চরম প্রতিযোগিতামূলক ও প্রতিকূল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় সামনের প্রজেক্টগুলোর সফলতার জন্য কেবল প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, বরং নির্মাণ ব্যয় কমিয়ে আনার কৌশলটিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। ‘টাইটানিক’ বা ‘টার্মিনেটর’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দেওয়া এই মাস্টারমেকার বর্তমানে নিবিড়ভাবে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন। প্যানডোরা জগতের মায়াবী গল্প বড় পর্দায় আরও এগিয়ে যাবে নাকি আপাতত এখানেই স্থগিত হবে, তা জানতে দর্শকদের আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
জনপ্রিয় বলিউড কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ওয়েলকাম’-এর চতুর্থ কিস্তি নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে চলচ্চিত্র প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উন্মাদনা সৃষ্টি করেছেন প্রযোজক ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালা। অক্ষয় কুমার অভিনীত এই কালজয়ী সিরিজের পরবর্তী পর্বেও বিনোদনের মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রযোজক জানিয়েছেন, বর্তমানে ‘ওয়েলকাম ৪’ সিনেমার চিত্রনাট্য গুছিয়ে আনার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং খুব শীঘ্রই এই প্রজেক্টের চূড়ান্ত তারকা তালিকার নামগুলো প্রকাশ করা হবে।
একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালা আভাস দিয়েছেন যে, চতুর্থ কিস্তিটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে আরও বড় পরিসরে নির্মিত হবে। এই সিনেমাটিতে উদয় ভাই, মজনু ভাই ও ডক্টর ঘুঙরুর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজির আইকনিক চরিত্রগুলো যেমন ফিরবে, তেমনি বাড়তি উত্তেজনা হিসেবে থাকবে একাধিক প্রভাবশালী খলনায়কের উপস্থিতি। শুধু তাই নয়, সিনেমার গান এবং অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে বৈশ্বিক আমেজ ধরে রাখতে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের খ্যাতিমান সংগীতশিল্পীদের যুক্ত করার একটি প্রক্রিয়া চলছে। এই আন্তর্জাতিক মেলবন্ধন দর্শকদের জন্য এক বিশাল বড় সারপ্রাইজ হবে বলেই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির তৃতীয় কিস্তি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’-এর মুক্তি পিছিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন অসমর্থিত গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন নাদিয়াদওয়ালা। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তৃতীয় কিস্তির চিত্রগ্রহণের কাজ ইতিমধ্যে পুরোপুরি শেষ হয়েছে এবং সিনেমাটি এখন বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে আসার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্মাণে কোনো কৃপণতা না রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই সিনেমায় কয়েকশ ঘোড়া ও সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহারের পাশাপাশি দুবাইয়ের একটি গানে প্রায় ৫৭০ কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি প্রদর্শিত হয়েছে। অক্ষয় কুমারের পাশাপাশি তৃতীয় পর্বে থাকছেন আরশাদ ওয়ারসি, সুনীল শেঠি ও পরেশ রাওয়ালের মতো জনপ্রিয় মুখেরা।
উল্লেক্ষ্য, ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়েলকাম’ সিনেমার অভূতপূর্ব সাফল্যের পর ২০১৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল এর দ্বিতীয় কিস্তি ‘ওয়েলকাম ব্যাক’। আনিস বাজমি পরিচালিত প্রথম দুটি পর্ব দর্শকদের মাঝে হাসির এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এক বছরের ব্যবধানে পর পর দুটি সিক্যুয়েলের আপডেট বিনোদন পাড়াকে নতুন করে চাঙ্গা করে তুলেছে। কমেডি এবং জাঁকজমকপূর্ণ কাস্টিংয়ের সুবাদে ‘ওয়েলকাম’ ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এবার বক্স অফিসেও নতুন রেকর্ড গড়বে বলে প্রত্যাশা প্রযোজকের।
বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান অভিনীত এবং দর্শকপ্রিয় সিনেমা ‘সিতারে জামিন পার’ এবার ঘরোয়া আয়োজনে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ভক্তরা। গত বছরের জুন মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর বক্স অফিসে বড় ধরণের ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি প্রশংসিত হওয়া এই ছবিটি নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। মূলত সিনেমা হলের স্বার্থ রক্ষায় এতদিন এটি ওটিটিতে মুক্তি দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন স্বয়ং আমির খান। প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের প্রায় আট মাস পর ছবিটি এখন ডিজিটাল মাধ্যমে প্রদর্শনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘সোনি লিভ’-এ মুক্তি পেতে যাচ্ছে এই বহুল আলোচিত সিনেমাটি। আমিরের ভক্তদের জন্য এই খুশির খবরটি সংশ্লিষ্ট ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অভিনেতা নিজেই নিশ্চিত করেছেন। বড় পর্দার ব্যবসায় যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই তিনি মুক্তির আট মাস পর এই ডিজিটাল রিলিজের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও সোনি লিভ-এ মুক্তির চূড়ান্ত তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে ভক্তদের মধ্যে এই সংবাদ আসার পরপরই বাড়তি উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই সিনেমার ওটিটি স্বত্ত্ব ক্রয়ের জন্য বিশ্বখ্যাত প্ল্যাটফর্ম ‘অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও’র পক্ষ থেকে ইতিমধেই আমির খানকে ১২০ কোটি টাকার এক বিশাল অংকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রেক্ষাগৃহ চাঙ্গা রাখা এবং হল মালিকদের অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়ানোর প্রশ্নে তখনকার সেই আকাশচুম্বী অফার নির্দ্বিধায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এই সুপারস্টার। ভক্তদের প্রত্যাশা এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে দীর্ঘ কয়েক মাস নিজের অবস্থানে অনড় থাকার পর অবশেষে সোনি লিভ-এর মাধ্যমে ডিজিটাল মুক্তির অনুমতি দিলেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, এর আগে গত আগস্টে সিনেমাটি ইউটিউবে ‘পে-পার-ভিউ’ বা অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে দেখার জন্য স্বল্প পরিসরে অবমুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ ওটিটি ব্যবহারকারীদের ব্যাপক চাহিদার কারণে এখন এটি পূর্ণাঙ্গ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে আসতে যাচ্ছে। ভিন্নধর্মী গল্পের এই সিনেমাটি ওটিটিতে উন্মুক্ত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী নতুন করে আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছাবে বলে ধারণা করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। বড় পর্দার ম্যাজিক এবার আমিরের ভক্তরা তাঁদের হাতের স্মার্টফোনে বা স্মার্ট টিভিতে উপভোগের সুযোগ পাবেন খুব শীঘ্রই।
আসন্ন ঈদুল ফিতরে মুক্তির প্রতীক্ষায় থাকা চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘রাক্ষস’ নিয়ে নতুন এক চমক প্রকাশ পেয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমার একটি বিশেষ গানের দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয় নানা জল্পনা। সেই রহস্যের অবসান ঘটিয়ে সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশন এবং পরিচালক মেহেদি হাসান হৃদয় নিশ্চিত করেছেন যে, সিনেমার আইটেম গানটিতে সিয়ামের সঙ্গে পারফর্ম করেছেন বলিউড ও হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো বাংলা চলচ্চিত্রে দেখা যাবে এই ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত অভিনেত্রীকে।
মুম্বাইতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ধারণ করা এই গানটির দৃশ্য নিয়ে আশাবাদী পুরো নির্মাণ দল। সিনেমার প্রযোজক আজিম হারুন জানান, গানটি আন্তর্জাতিক মানের করার লক্ষ্যেই তাঁরা নাতালিয়ার মতো বিশ্বখ্যাত অভিনয়শিল্পীকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। নাতালিয়া কেবল হলিউডেই নয়, বলিউডেও বেশ সুপরিচিত। তিনি সালমান খান সঞ্চালিত ভারতের জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘বিগ বস’-এ অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ‘হাউজফুল ৫’, ‘মাস্তি ৪’ এবং বৈশ্বিক খ্যাতি পাওয়া নেটফ্লিক্স মুভি ‘৩৬৫ ডেইজ’-এর মতো বড় প্রজেক্টে কাজ করেছেন। পরিচালক মেহেদি হাসান হৃদয় বলেন, সিয়ামের সঙ্গে নাতালিয়ার রসায়ন ও নাচ গানটিকে ভিন্ন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা দর্শকদের মাঝে দারুণ উত্তজনা তৈরি করবে।
গানের কারিগরি দিকগুলোতেও ছিল পেশাদারত্বের ছোঁয়া। গানটির সংগীত পরিচালনা ও কণ্ঠ দিয়েছেন জি এম আশরাফ, যেখানে নারী কণ্ঠে তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন দোলা। কোরিওগ্রাফির দায়িত্ব পালন করেছেন বলিউডের স্বনামধন্য কোরিওগ্রাফার আদিল শেখ। বড় পরিসরে করা এই নির্মাণ ‘রাক্ষস’ সিনেমাটিকে অন্যান্য ঈদের ছবির চেয়ে কিছুটা আলাদা ও সাহসী করবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। ইতিপূর্বে পরিচালকের নির্মিত ‘বরবাদ’ সিনেমাটি বেশ আলোচনায় থাকলেও তিনি দাবি করেছেন, ‘রাক্ষস’-এ তার চেয়ে তিন গুণ বেশি অ্যাকশন ও ভায়োলেন্স রাখা হয়েছে যা দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।
সিনেমায় সিয়াম আহমেদের বিপরীতে কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়। থ্রিলার ও অ্যাকশনধর্মী গল্পের মিশেলে তৈরি এই ছবিটিকে ঘিরে এখন সিনেমা পাড়ায় সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। হলিউড ও বলিউডের ছোঁয়ায় দেশি মেজাজে নির্মিত এই আইটেম গানটি মুক্তির আগেই দর্শকদের আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে। সব মিলিয়ে এই ঈদে সিয়াম আহমেদ এবং নাতালিয়ার নতুন এই চমক বড় পর্দায় কী ম্যাজিক দেখায়, তার অপেক্ষায় আছেন হাজারো ভক্ত।
উপস্থাপনা ও অভিনয়—উভয় মাধ্যমেই বর্তমান প্রজন্মের পরিচিত মুখ আইশা খান। টানা পাঁচ মাস রিয়ালিটি শো ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা’-র উপস্থাপনা নিয়ে চরম ব্যস্ত থাকার কারণে অভিনয়ের ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ পাননি তিনি। দীর্ঘ এই বিরতির অবসান ঘটিয়ে সম্প্রতি তিনি আবারও পুরোদমে অভিনয়ে ফিরেছেন। বিরতি থেকে ফিরেই আসন্ন ঈদুল ফিতরের আয়োজনে ভক্তদের বড় চমক দিতে যাচ্ছেন তিনি। আইশা নিশ্চিত করেছেন যে, এবারের ঈদের জন্য তিনি ইতোমধ্যে মোট ছয়টি ভিন্নধর্মী নাটকে অভিনয় সম্পন্ন করেছেন।
আইশার এবারের ঈদের কাজের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো অভিনেতা মোশাররফ করিমের সাথে তাঁর উপস্থিতি। প্রখ্যাত নির্মাতা সাগর জাহানের পরিচালনায় ‘সদা সত্য বলিব’ এবং ‘আদু ভাই’ নামক দুটি জনপ্রিয় হাস্যরসাত্মক নাটকে তাঁকে দেখা যাবে। এই নাটক দুটি যথাক্রমে এনটিভি এবং বাংলাভিশনের ঈদ তালিকায় স্থান পেয়েছে। নির্মাতা সাগর জাহানের সুনিপুণ নির্মাণশৈলী এবং সহশিল্পী মোশাররফ করিমের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত নতুন শিক্ষা তাঁর অভিনয় জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করেন আইশা। প্রিয় শিল্পীর সাথে স্ক্রিন শেয়ার করার এই সুযোগ তাঁর কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
কমেডি ছাড়াও অন্যান্য জনরার বেশ কিছু চ্যালেঞ্জিং নাটকে অভিনয় করেছেন আইশা খান। রাফাত মজুমদার রিংকুর নির্দেশনায় ‘আমি একজন খুনী বলছি’ নাটকে তাঁর বিপরীতে রয়েছেন ফারহান আহমেদ জোভান। অন্যদিকে সাইদুর ইমনের ‘সে কী আসবে না’ এবং মোহন আহমেদের ‘হৃদয়ে তুমি’ নাটক দুটিতে তিনি ইয়াশ রোহানের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন। এছাড়া মিফতাহ আনানের ‘বাবুই পাখির বাসা’ নাটকেও তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে হাজির হবেন। বৈচিত্র্যময় সব সহশিল্পী আর পরিচালকদের সাথে করা এই কাজগুলো ঈদের উৎসবে ভিন্নমাত্রা যোগ করবে বলে তাঁর ধারণা।
উপস্থাপনার মঞ্চ থেকে নাটকের সেটে ফিরে আসতে পেরে দারুণ আনন্দিত এই তরুণ তারকা। চিত্রনাট্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবসময় গল্পের গভীরতা ও মানকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন তিনি। আইশা জানিয়েছেন, ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা’-র দীর্ঘ ব্যস্ততা সত্ত্বেও যেসব চিত্রনাট্য তাঁর হাতে এসেছিল, সেগুলোর মধ্য থেকে বাছাই করে সেরা কাজগুলোতেই তিনি সময় দিয়েছেন। প্রতিটি গল্পের স্বকীয়তা এবং অভিনয়ের সুযোগ তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে। দর্শকরা বড় একটি বিরতির পর তাঁকে এই সবকটি ভিন্ন ভিন্ন রূপের নাটকে সাদরে গ্রহণ করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন অভিনেত্রী।
ওপার বাংলার চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের অন্যতম পরিচিত মুখ, বরেণ্য অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরী আর নেই। সোমবার ভোররাতে ঘুমের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে টলিউড এবং নাট্যপাড়ায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মঞ্চ এবং রুপালি পর্দায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করা এই অভিনেতার প্রস্থানকে বাংলা চলচ্চিত্রের এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন তাঁর সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস থাকলেও আজ সকালে দেরি হওয়ায় পরিচারিকা তাঁকে ডাকতে যান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরেও কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক এসে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জনপ্রিয় অভিনেতা দেবদূত ঘোষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথম এই শোকবার্তাটি প্রচার করেন। তিনি গভীর সমবেদনা জানিয়ে লেখেন, অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরী কোনো প্রকার শারীরিক কষ্ট ছাড়াই ঘুমের মধ্যে চিরতরে পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।
ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগের জটিলতায় ভুগছিলেন তমাল রায়চৌধুরী। তাঁর শারীরিক অসুস্থতা এতটাই ছিল যে হার্টে পেসমেকারও বসাতে হয়েছিল। মূলত এই শারীরিক প্রতিকূলতার কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিনয় জগত থেকে তিনি অনেকটা দূরে সরে ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর কারণ হার্ট ফেইলর বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া।
অভিনয় জীবনে তমাল রায়চৌধুরী অসংখ্য কালজয়ী কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ থেকে শুরু করে ‘চ্যালেঞ্জ’, সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘জাতিস্মর’, এবং নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘রামধনু’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। এছাড়া ‘চাঁদের পাহাড়’ ও ‘অ্যামাজন অভিযান’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবিতেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। বড় পর্দায় তাঁকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল তথাগত মুখোপাধ্যায়ের ফ্যান্টাসি ফিল্ম ‘ভটভটি’-তে।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ বিকেল ৪টায় অভিনেতার মরদেহ শেষ শ্রদ্ধার জন্য কলকাতার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে চলচ্চিত্র জগতের সকল কলাকুশলী ও ভক্তরা তাঁকে শেষ বিদায় জানাবেন। এরপর কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। বিনয়ী স্বভাব আর অভিনয়ের অসামান্য দক্ষতা দিয়ে তিনি যে উত্তরাধিকার রেখে গেলেন, তা চিরকাল বাংলা সিনেমার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
বর্তমান সময়ে ভারতীয় সংগীতের আঙিনায় একক আধিপত্য বজায় রাখছেন মেলোডি কুইনখ্যাত গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল। কেবল কণ্ঠের জাদুই নয়, বরং আকাশচুম্বী পারিশ্রমিক নিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন এই শিল্পী। বিভিন্ন আর্থিক ও বিনোদন ভিত্তিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শ্রেয়া ঘোষাল এখন প্রতিটি গান রেকর্ডিংয়ের জন্য ২৫ থেকে ৩০ লাখ রুপি পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে তিনি এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ার নারী সংগীতশিল্পীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানী পাওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। আর্থিক বিবেচনায় ভারতের সংগীত জগতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সংগীত পরিচালক এ আর রহমানের ঠিক পরেই এখন তাঁর অবস্থান, আর নারী শিল্পীদের তালিকায় সুনিধি চৌহানকে পেছনে ফেলে তিনি শীর্ষস্থান দখল করে আছেন।
শ্রেয়ার এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের শুরুটা হয়েছিল অত্যন্ত সাদামাটাভাবে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে রিয়ালিটি শো ‘সারেগামাপা’-তে অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে সংগীতে তাঁর যাত্রা শুরু। সেখানে তাঁর অসামান্য মেধা দেখে মুগ্ধ হন খ্যাতিমান নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালি। পরবর্তীতে তাঁর হাত ধরেই ‘দেবদাস’ সিনেমার গানে প্লেব্যাক করার সুবর্ণ সুযোগ পান এবং রাতারাতি ভারতসহ পুরো বিশ্বের সংগীতপ্রেমীদের প্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। দীর্ঘ দুই দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি বাংলা, হিন্দি ও দক্ষিণ ভারতীয় ভাষাসহ প্রায় ২০টি ভাষায় ৩ হাজারেরও বেশি গান উপহার দিয়েছেন। প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নির্মাতা ও সংগীত পরিচালকদের প্রধান পছন্দের নাম এখন শ্রেয়া ঘোষাল।
চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বড় বড় কনসার্ট বা স্টেজ শো এবং জনপ্রিয় সব রিয়ালিটি শো-তে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেও বিপুল অংকের অর্থ উপার্জন করেন এই তারকা। তাঁর দীর্ঘ পরিশ্রমের ফল হিসেবে বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪০ কোটি রুপি। যাপনের ক্ষেত্রেও আভিজাত্যের ছাপ রেখেছেন শ্রেয়া। ভারতের প্রধান দুই বাণিজ্যিক শহর মুম্বাই ও কলকাতায় তাঁর নিজস্ব বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বাড়ি রয়েছে। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে বিএমডব্লিউ ৫ সিরিজ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ ও রেঞ্জ রোভার স্পোর্টের মতো বিশ্বের নামী দামী সব ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল গাড়ি।
পেশাগত জীবনে আকাশচুম্বী সফলতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও সুখী একজন মানুষ শ্রেয়া। ২০১৫ সালে তাঁর দীর্ঘদিনের বাল্যবন্ধু শিলাদিত্য সান্যালের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাঁদের সুখী দাম্পত্যে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। নিজের কর্মনিষ্ঠা আর শৃঙ্খলার মাধ্যমে একজন উঠতি কিশোরী গায়িকা থেকে যেভাবে নিজেকে বর্তমান সময়ের সর্বোচ্চ সম্পদশালী ও জনপ্রিয় নারীতে পরিণত করেছেন, তা নবীন শিল্পীদের কাছে বড় এক অনুপ্রেরণা। উপমহাদেশীয় সংগীতে শ্রেয়া ঘোষাল কেবল একটি নাম নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন বললেও ভুল হবে না।
বলিউড সুপারস্টার রণবীর সিং অভিনীত বছরের অন্যতম আলোচিত এবং প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ধুরন্ধর টু: দ্য রিভেঞ্জ’ মুক্তির আগেই বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড়ের আভাস দিচ্ছে। আগামী ১৯ মার্চ সিনেমাটি বড় পর্দায় আসার কথা থাকলেও এর আগেই অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে এটি। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির ৯ দিন আগেই ভারতজুড়ে সিনেমাটি অগ্রিম বুকিং থেকে ২০ কোটি টাকার বেশি আয় করে নিয়েছে। রুদ্ধশ্বাস অ্যাকশন আর টানটান উত্তেজনার গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমাটি দর্শকহৃদয়ে কতটা প্রভাব ফেলেছে, এই নজিরবিহীন অগ্রিম বুকিংই তার প্রমাণ দিচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সিনেমাটি এখন পর্যন্ত সরাসরি টিকিট বিক্রি থেকে প্রায় ১৪ কোটি ৬৯ লাখ রুপি আয় করেছে, যা প্রেক্ষাগৃহের সংরক্ষিত বা ব্লক করা আসনসহ ২০ কোটি ৩২ লাখ রুপি ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছেন। বরাবরের মতোই সবচেয়ে বেশি সাড়া মিলছে হিন্দি সংস্করণ থেকে, যা থেকে আয়ের পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি ৩৭ লাখ রুপি। দেশজুড়ে ৭ হাজার ৮৯০টি শো নিয়ে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের, যা বর্তমান সময়ের হিন্দি চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপটে একটি বিশাল পরিসর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরেকটি মজার দিক হলো এই সিনেমার টিকিটের দামে রাখা বড় ধরণের বৈচিত্র্য। শহর ভেদে এবং আসন বিন্যাস অনুযায়ী টিকেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে একেবারেই আলাদাভাবে। মুম্বাইয়ের মতো ব্যয়বহুল শহরে একটি প্রিমিয়াম বা আরামদায়ক সিটের টিকিট দাম ৩ হাজার রুপি পর্যন্ত ছুঁয়েছে, যা উচ্চবিত্ত দর্শকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে রাখা হয়েছে। আবার অন্যদিকে চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে মাত্র ৬০ রুপির মতো সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ দর্শকরা এই ব্লকবাস্টার মুভিটি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্মাতাদের এমন বহুমুখী দাম নির্ধারণ পদ্ধতি সব শ্রেণির দর্শককে হলমুখী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধুমাত্র উত্তর ভারতেই নয়, সিনেমাটি ঘিরে দক্ষিণ ভারতেও ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মূল হিন্দি ভাষার পাশাপাশি ‘ধুরন্ধর টু’ তামিল, তেলেগু, কন্নড় ও মালয়ালম ভাষায় একযোগে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ভারতের প্রতিটি প্রান্তেই এর জয়গান ছড়িয়ে দেওয়াই এখন বিপণন দলের মূল লক্ষ্য। প্রথম কিস্তির অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার রণবীরের বিধ্বংসী লুকে এবং শ্বাসরুদ্ধকর চিত্রনাট্যে নির্মিত দ্বিতীয় পর্বটি যে বড় পর্দার বাণিজ্যিক ইতিহাস ওলটপালট করে দিতে প্রস্তুত, প্রাথমিক লক্ষণগুলো সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। সব মিলিয়ে ১৯ মার্চ এক মহাধামাকা দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন বিশ্বজুড়ে রণবীর ভক্তরা।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ডজনখানেক সিনেমা মুক্তির জোর সম্ভাবনা তৈরি হলেও সময়ের সাথে সাথে সেই তালিকা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। বিশেষ করে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও অভিনেতা আব্দুন নূর সজলের বহু প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘দুর্বার’ মুক্তি নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ঢালিউড পাড়ায় জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, দীর্ঘ দুই বছর পর বড় পর্দায় ফেরার অপেক্ষায় থাকা এই নায়িকার সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত ঈদের এই হাই-ভোল্টেজ প্রতিযোগিতামূলক লড়াই থেকে ছিটকে যেতে পারে। মূলত প্রচারহীনতা এবং সংশ্লিষ্টদের অনাগ্রহই এই জল্পনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
যেখানে এই ঈদে মুক্তির তালিকায় থাকা ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘প্রেশার কুকার’ ও ‘পিনিক’-এর মতো সিনেমাগুলো বড় বড় প্রজেক্ট নিয়ে সরব প্রচারণা চালাচ্ছে, সেখানে ‘দুর্বার’ ঘিরে এখনো সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের মতে, প্রচারের এই অনুপস্থিতি মূলত মুক্তির অনিশ্চয়তাকেই ইঙ্গিত দেয়। বড় বাজেটের ছবিগুলোর সাথে হলের প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারার শঙ্কা থেকে অনেক নির্মাতা শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে অপুর এই ছবিটির ওপরেও।
সিনেমাটির মুক্তি প্রসঙ্গে পরিচালক কামরুল হাসান ফুয়াদ সম্প্রতি জানিয়েছেন যে বর্তমানে তাঁরা সম্পাদনার কাজে ব্যস্ত আছেন। তবে এডিটিং টেবিলে থাকা ছবিটি ঈদে বড় পর্দায় আসার জন্য কতটুকু প্রস্তুত এবং সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ আছে কি না—সেই প্রশ্নে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি। অন্যদিকে অপু বিশ্বাস নিজেও তাঁর আসন্ন ফেরার পথে আশার আলো দেখছেন না। সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছুটা নিস্পৃহতা দেখিয়ে জানিয়েছেন, সিনেমাটি আসার বিষয়ে বড় কোনো পরিকল্পনা থাকলেও শেষ সিদ্ধান্ত তাঁর হাতে নয়। প্রোডাকশন হাউস তাদের ইচ্ছেমতো ছবি মুক্তির সময় নির্ধারণ করে, তাই এবারের ঈদে দর্শকরা ‘দুর্বার’ দেখার সুযোগ পাবেন কি না, সেটিও অনিশ্চিত।
চিত্রনায়িকা অপুর এই মন্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্ভবত একধরণের সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। বড় পর্দায় ফেরার এক দারুণ মোক্ষম সুযোগ হতে পারত ঈদুল ফিতর, কিন্তু প্রচারণা না থাকায় সেই সম্ভাবনা প্রায় ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। অপুর দীর্ঘদিনের ভক্তরা এই সংবাদের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের হতাশার কথা প্রকাশ করছেন। সব মিলিয়ে ‘দুর্বার’ এর মুক্তি ঘিরে যে কুয়াশা তৈরি হয়েছে, তা ঈদে মুক্তি পাওয়া অন্যান্য ছবির ভিড়ে অপু বিশ্বাসকে এক অনিশ্চিত অবস্থানে ফেলে দিয়েছে।
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন উন্মাদনা ছড়িয়েছে ‘দম’ সিনেমার প্রথম ঝলক বা ফার্স্ট লুক। গতকাল দুপুরে ৫৪ সেকেন্ডের একটি রুদ্ধশ্বাস টিজার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই এটি নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ভিডিওটির একদম শেষ দৃশ্যে অভিনেতা আফরান নিশোর দেওয়া একটি সংলাপে মজেছেন দর্শকরা। নির্মাতা রেদওয়ান রনির পরিচালনায় এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি ও এসভিএফ আলফা-আইয়ের প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবিটি এবার ঈদে অন্যতম সেরা চমক হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রকাশিত ফার্স্ট লুকের শুরুটা বেশ ছিমছাম হলেও দ্রুতই তা গম্ভীর হয়ে ওঠে। পাহাড় ঘেরা শান্ত মনোরম প্রান্তর, সূর্যোদয়ের মায়াবী আলোর নিচে হঠাৎ এক নিঃসঙ্গ মানুষের বিচরণ—এমন শান্ত দৃশ্যপট খুব দ্রুতই বদলে যায় বিপদের অশনিতে। অদৃশ্য কোনো শক্তির তাড়া আর ভারী মারণাস্ত্র হাতে বাহিনীর উপস্থিতিতে টিজার জুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। প্রতিটি ফ্রেমে যেন বাঁচার জন্য এক অসম লড়াইয়ের সংকেত দেওয়া হয়েছে। এতে দৃশ্যমান হয়েছে জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী এবং পূজা চেরীর গুরুত্বপূর্ণ সব লুক, যা নিয়ে ইতিমধেই সিনেমা প্রেমীদের মাঝে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
টিজারে পুরোটা সময় ক্লান্ত, বিধ্বস্ত ও শংকিত চেহারায় দেখা গেছে নিশোকে, যা তাঁর আগের কাজগুলো থেকে অনেকটাই ভিন্ন। বিপরীতে পূজা চেরীর চাহনিতে ছিল অনিশ্চয়তা এবং চঞ্চল চৌধুরীকে দেখা গেছে তীব্র বিস্ময় আর আতঙ্ক নিয়ে। ভিডিওর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল আফরান নিশোর গম্ভীর কণ্ঠের একমাত্র সংলাপ— ‘আমি শাজাহান ইসলাম নূর, বাংলাদেশী মুসলমান, মনে রাইখ’। ছোট এই বাক্যটি যেন পুরো ছবির মূল আকর্ষণ ও বীরত্বের আভাস হিসেবে ধরা দিয়েছে। দর্শকদের মতে, এই একটি সংলাপই দম সিনেমাকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিনেমাটি নিয়ে নির্মাতা রেদওয়ান রনি বলেন, দুর্গম ও বিরূপ লোকেশনে দৃশ্যধারণের মাধ্যমে তিনি নতুন ঘরানার এক অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ‘দম’ সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এবং আড়াই বছর ধরে তিলে তিলে এই প্রজেক্টটি গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল। ‘আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ’ স্লোগানকে পুঁজি করে নির্মিত এই ছবিটিতে শাজাহান ইসলাম নূর চরিত্রে অভিনয় করা নিশো একে একটি গভীর ইমোশনাল ও সারভাইভাল স্টোরি হিসেবে অভিহিত করেছেন। সব মিলিয়ে ঈদ মৌসুমে ‘দম’ যে দর্শকদের হলমুখী করার শক্ত সামর্থ্য রাখে, প্রথম ঝলকেই তার বলিষ্ঠ ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন নির্মাতারা।
কলকাতার মালবাজারের সাধারণ এক মানুষ থেকে বিশ্বখ্যাত ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’ হয়ে ওঠার অবিশ্বাস্য ও অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনকাহিনী নিয়ে নির্মিত হচ্ছে টলিউড মেগাস্টার দেবের ৫০তম চলচ্চিত্র। তবে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বিশেষ লগ্নে এই ছবির নির্মাতারা সকল আলো কেড়ে নিলেন করিমুল হকের জীবনের সেই মূল শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, যিনি দীর্ঘ কয়েক দশকের সংগ্রাম আর পথচলায় সবসময় স্বামীর পাশে ছায়ার মতো ছিলেন। তিনি করিমুল হকের স্ত্রী ‘অঞ্জু’, যাঁর চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র। গত শুক্রবার সকালে দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চারসের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রুক্মিণীর সেই কাঙ্ক্ষিত লুকটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়।
প্রকাশিত ছবিতে রুক্মিণীকে দেখা গেছে অত্যন্ত স্নিগ্ধ ও সরল এক গ্রামীণ গৃহবধূর অবতারে। ভারী মেকআপ ছাড়াই সাধারণ সুতির শাড়িতে তাঁর সেই শান্ত চাহনি চরিত্রটির গভীরতা ফুটিয়ে তুলেছে। পোস্টের ক্যাপশনে নির্মাতারা অঞ্জুকে বর্ণনা করেছেন একজন ‘নিবেদিত প্রাণ’ নারী হিসেবে। সেখানে অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অঞ্জুর নিঃশব্দ সমর্থন আর অমূল্য ত্যাগ ছাড়া হয়তো করিমুল হকের এই মহান সমাজসেবা বা বিশ্বজুড়ে তাঁর এই পরিচিতি কখনোই সম্ভব হতো না। তাঁর নীরব সাহচর্যের মধ্য দিয়েই করিমুল হক মানুষের সেবা করার মনোবল খুঁজে পেয়েছেন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে অঞ্জুর এই লুকটি প্রকাশ্যে এনে একটি গভীর সামাজিক বার্তা দিয়েছেন নির্মাতারা। তাঁরা স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো পুরুষের সাফল্যের চূড়ায় আরোহণ বা নিঃস্বার্থ সমাজসেবার নেপথ্যে পর্দার আড়ালে থাকা নারীর আত্মত্যাগের গল্প অনেক ক্ষেত্রে অজানাই থেকে যায়। পর্দায় করিমুল হক এবং অঞ্জুর সম্পর্কের রসায়ন সেই না বলা আত্মত্যাগের কাহিনীকেই জীবন্ত করে তুলবে। একজন গৃহবধূর নিভৃত সংগ্রামের এই বাস্তব রূপ রুক্মিণীর মাধ্যমে সেলুলয়েডের পর্দায় দেখা যাবে, যা তাঁর ক্যারিয়ারে একটি শক্তিশালী পালক যোগ করবে বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
দেবের মাইলফলক ছোঁয়া এই প্রজেক্ট এবং রুক্মিণীর সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার এই অবতার দুই তারকার অগণিত ভক্তের মাঝে নতুন করে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদার মানবিক কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি পরিবারের অন্তর্গত সংঘাত ও প্রেমের এই মহাকাব্য দেখার জন্য এখন থেকেই অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে দর্শক। সব মিলিয়ে দেবের ৫০তম এই ছবিটি নিছক বিনোদনের সীমানা ছাড়িয়ে বাস্তবধর্মী এক শৈল্পিক আখ্যানে পরিণত হতে যাচ্ছে।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেতা জায়েদ খান বর্তমানে বেশ কয়েক মাস ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর নেটদুনিয়ায় ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়। ওই ছবিতে দেখা যায়, প্রথাগত পরিপাটি সাজ ছেড়ে নিউ ইয়র্কের ব্যস্ত রাস্তায় এক সাধারণ শ্রমিকের কাজ করছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে যখন নেটিজেনদের মধ্যে নানামুখী জল্পনা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়, ঠিক তখনই নিজের ফেসবুকে নতুন একটি প্রজেক্টের পোস্টার প্রকাশ করে সেই রহস্যের সমাধান দেন এই চিত্রনায়ক।
আসলে সেই ভাইরাল ছবিটি ছিল ‘আমেরিকান ড্রিম’ নামক একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের অংশ। নিউ ইয়র্কভিত্তিক প্রাচীন ও জনপ্রিয় বাংলাদেশি মিডিয়া আউটলেট ‘ঠিকানা’-র প্রথম অরিজিনাল শর্টফিল্ম হিসেবে এটি নির্মিত হয়েছে। সংগীতশিল্পী ও নির্মাতা জন কবিরের নিপুণ নির্দেশনায় আড়াই মিনিটের এই কন্টেন্টটি গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘ঠিকানা’-র অফিশিয়াল পাতায় মুক্তি দেওয়া হয়। গত ৩৭ বছর ধরে প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি প্রসারে কাজ করে আসা এই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘ইমিগ্রেন্ট ডায়েরিস’ সিরিজের অংশ হিসেবে এই কাজটি করেছেন তাঁরা।
শর্টফিল্মটির মূল প্রেক্ষাপট সাজানো হয়েছে প্রবাসীদের কঠিন বাস্তব জীবনকে ঘিরে। ঠিকানা কর্তৃপক্ষের মতে, বাইরের পৃথিবী থেকে ‘আমেরিকান ড্রিম’ বিষয়টি যতোটা মোহনীয় মনে হয়, একজন অভিবাসীর জীবনে তার বাস্তবতা অনেক বেশি শ্রমসাধ্য এবং ত্যাগের। সেখানে থিতু হওয়ার দীর্ঘ পথে যে অদেখা সংগ্রাম ও অপ্রাপ্তির বেদনা থাকে, জায়েদ খানের চরিত্রের মধ্য দিয়ে তার একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন পরিচালক জন কবির।
মুক্তির পরপরই মাত্র আড়াই মিনিটের এই চলচ্চিত্রটি দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দীর্ঘ বিরতির পর সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটি চরিত্রে জায়েদ খানের প্রাণবন্ত অভিনয় ও অভিব্যাক্তি দেখে অবাক হয়েছেন অনেকে। নেটিজেনদের মন্তব্য—অভিনয় জীবনের সেরা পারফরম্যান্স দিয়েছেন জায়েদ এবং এমন মার্জিত ও গভীর চরিত্রে তাঁকে আগে কখনো দেখা যায়নি। প্রচলিত ইমেজের বাইরে গিয়ে এক লড়াকু প্রবাসীর চরিত্রে তাঁর এই অভিষেক বিনোদন অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে ‘আমেরিকান ড্রিম’ জায়েদ খানের ক্যারিয়ারে একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।