দক্ষিণী অভিনেত্রী তাপসী পান্নু। তবে নিজেকে দক্ষিণী অভিনেত্রী ভাবতে আপত্তি এই নায়িকার। নিজেকে কেবল ভারতীয় তারকা বলতেই বেশি পছন্দ তার। ২০২৩ সালের শেষের দিকে শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘ডাঙ্কি’ সিনেমায় অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় আসেন। কিছুদিন আগে বিয়ে করে নতুন জীবনে প্রবেশ করে আরেক অধ্যায় সূচনা করেন। বলা চলে, পেশাগত ও ব্যক্তিগত দুই জীবনেই ফুরফুরে মেজাজে আছেন তাপসী পান্নু।
অভিনয় জীবনের এক যুগ পেরিয়ে এখনো নিজের বৈশিষ্ট্য ও সাফল্য ধরে রেখেছেন তাপসী। এর পুরো কৃতিত্ব নিজের মেধা ও প্রচেষ্টাকেই দিতে চান অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, ‘আমি এখন এমন এক অবস্থানে আছি, মনে হচ্ছে কিছু কাজ তো করেছি। আমি সত্যিই অনেক পরিশ্রম করেছি এবং নিজের যোগ্যতায় সব করেছি। সুতরাং আমার সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা বা ভাগ্যের জোরে পাওয়া না। প্রতিনিয়ত চেষ্টার মধ্যে থেকেছি। তাই এই অবস্থানটা আমার জন্য বেশ আনন্দের ও সন্তুষ্টির।’
বর্তমানে কাজ থেকে কিছুটা বিশ্রামে আছেন তাপসী। বললেন, ‘আমার এখন বিরতি দরকার। সময়টা উপভোগ করা, বিশ্রাম নেওয়া দরকার। এরপর এমন কিছু দিয়ে কাজে ফেরা উচিত, যেটা পুনরায় আমাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।’
নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে তাপসীর পর্যালোচনা এ রকম, “এখন বিশ্ব যখন অ্যাকশন, স্পাই ঘরানার ছবিতে মেতে আছে, আমি এগুলো ক্যারিয়ারের শুরুতেই করেছি ‘বেবি’ (২০১৫) ও ‘নাম শাবানা’ (২০১৭) ছবিতে। আবার ২০১৯ সালেই ‘বদলা’ ছবিতে খল চরিত্রে কাজ করেছি। নিজের চেহারা আমূল পরিবর্তন করে ‘সান্ড কি আঁখ’ (২০১৯) ছবিতে অভিনয় করেছি। স্পোর্টস-ড্রামা জনরার ছবিতেও আমাকে দেখা গেছে। হত্যা রহস্য, টাইম ট্রাভেল, থ্রিলার, ভৌতিক, বায়োপিক কত রকম ছবি করেছি। এত ধরনের ছবিতে কাজ করা নিঃসন্দেহে কঠিন ব্যাপার।”
তাপসী পান্নুকে আগামীতে দেখা যাবে জয়াপ্রদ দেসাই নির্মিত ‘ফির আয়ি হাসিন দিলরুবা’ সিনেমায়। এটি ২০২১ সালের ‘হাসিন দিলরুবা’ ছবির দ্বিতীয় কিস্তি। এতে তাপসীর সঙ্গে আছেন বিক্রান্ত ম্যাসি ও সানি কৌশল। ছবিটি মুক্তি পাবে নেটফ্লিক্সে।
সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক চলচ্চিত্র বাজারে বড় বাজেটের সিনেমার পাশাপাশি অল্প বাজেটের হরর সিনেমাগুলো অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে। বড় তারকা বা জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারণা ছাড়াই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে 'অবসেশন' ও 'ব্যাকরুমস' নামের দুটি চলচ্চিত্র। মজার বিষয় হলো, আলোচিত এই দুটি সিনেমার নেপথ্যে রয়েছেন দুই তরুণ ইউটিউবার। ২৬ বছর বয়সী ক্যারি বার্কার নির্মাণ করেছেন 'অবসেশন' এবং মাত্র ২০ বছর বয়সী কেন পারসনস পরিচালনা করেছেন 'ব্যাকরুমস'। ইউটিউবকে 'ফিল্ম স্কুল' হিসেবে ব্যবহার করে এই দুই তরুণ নির্মাতা প্রমাণ করেছেন যে মেধা আর সৃজনশীলতা থাকলে সীমিত সম্পদেও বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া সম্ভব।
ক্যারি বার্কারের পথচলা শুরু হয়েছিল তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে, যেখানে তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্য গল্প ও ভিডিও নির্মাণের মাধ্যমে দর্শক মনস্তত্ত্ব আয়ত্ত করেন। ২০২৪ সালে মাত্র ৮০০ ডলার বাজেটে বন্ধুদের নিয়ে 'মিল্ক অ্যান্ড সিরিয়াল' বানিয়ে তিনি প্রথম চমক দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র 'অবসেশন' টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হওয়ার পর ফোকাস ফিচারস এর স্বত্ব কিনে নেয়। মুক্তির পর সিনেমাটি ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয় এবং এটি ইতোমধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। ছবিটির রহস্যময় প্রচারণা এবং কাল্পনিক জাদুকরি বস্তুর বাণিজ্যিক বিপণন এই সাফল্যকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
অন্যদিকে, কেন পারসনস তাঁর 'ব্যাকরুমস' সিনেমার মাধ্যমে হলিউডে এক নতুন রেকর্ড গড়েছেন। ইন্টারনেটের জনপ্রিয় একটি হরর কিংবদন্তিকে কেন্দ্র করে ২০২২ সালে ইউটিউবে তাঁর তৈরি করা ভিডিও সিরিজটি ২০০ মিলিয়নের বেশি ভিউ অর্জন করে। এই প্রতিভা দেখে এ২৪ স্টুডিও তাঁকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের দায়িত্ব দেয়। মাত্র ২০ বছর বয়সে কেনের পরিচালনায় মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি প্রথম সপ্তাহান্তেই ৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার আয় করে, যা এ২৪ স্টুডিওর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড। বাস্তব জগতের পরিচিত সীমানা ছাড়িয়ে এক অন্তহীন হলুদ দেয়ালের গোলকধাঁধায় আটকা পড়ার ভীতি দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে।
এই সিনেমাগুলোর অভাবনীয় সাফল্যের মূলে রয়েছে আধুনিক দর্শকদের গতানুগতিক হলিউড ব্লকব্লাস্টারের প্রতি অনীহা। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, দর্শকরা এখন প্রথাগত রক্তারক্তি বা সস্তা চমকের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক ও আবহভিত্তিক ভীতি বেশি পছন্দ করছেন। 'ব্যাকরুমস'-এ নিঃসঙ্গতা আর অজানা শব্দের মাধ্যমে যে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছে, তা দর্শকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্যান কমিউনিটি ও মিম সংস্কৃতির কারণে এই ছবিগুলো দ্রুত পপ কালচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুই তরুণের সাফল্য হলিউডের বড় স্টুডিওগুলোকে এখন ইউটিউব ও স্বাধীন নির্মাতাদের দিকে আরও বেশি মনোযোগী হতে বাধ্য করছে।
শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কার্টুন ‘স্কুবি-ডু’ ও তার গোয়েন্দা দলটি এবার নতুন এক আঙ্গিকে ফিরছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে। সম্প্রতি ওটিটি জায়ান্টটি তাদের আসন্ন লাইভ-অ্যাকশন সিরিজ ‘স্কুবি-ডু: অরিজিনস’-এর একটি প্রাথমিক ঝলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে। ছোট এই ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের ঘন জঙ্গলে দৌড়ানোর সময় শ্যাগির সাথে প্রথমবার দেখা হয় গ্রেট ডেন জাতের কুকুর স্কুবি-ডুর। জনপ্রিয় এই কার্টুনটির আধুনিক ও বাস্তবসম্মত রূপান্তর ভক্তদের মাঝে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।
সিরিজটির শুটিং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় পুরোদমে চলছে এবং এটি ২০২৭ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ওয়ার্নার ব্রাদার্স টেলিভিশনের ব্যানারে সিরিজটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছে বার্লান্টি প্রোডাকশনস ও মিডনাইট রেডিও। সিরিজের মূল গোয়েন্দা দল ‘মিস্ট্রি ইনক’-এর চিরচেনা চরিত্রগুলোতে দেখা যাবে একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ তারকাকে। এছাড়া জনপ্রিয় অভিনেতা পল ওয়াল্টার হাউজার এই সিরিজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করছেন। সিরিজটির লেখক ও প্রধান পরিচালক হিসেবে রয়েছেন জশ অ্যাপেলবাম ও স্কট রোজেনবার্গ, আর এর প্রথম পর্বটি পরিচালনা করছেন প্রখ্যাত পরিচালক টবি হেইন্স।
‘স্কুবি-ডু: অরিজিনস’-এর গল্পটি মূলত এই গোয়েন্দা দলের একদম শুরুর দিকের কাহিনী নিয়ে সাজানো হয়েছে। ক্যাম্পের শেষ গ্রীষ্মের ছুটিতে পুরনো দুই বন্ধু শ্যাগি ও ড্যাফনি একটি রহস্যময় ঘটনার মুখোমুখি হয়। কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি হারিয়ে যাওয়া গ্রেট ডেন কুকুরছানা, যে সম্ভবত একটি অতিপ্রাকৃত হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ছিল। পরবর্তীতে দলের বাকি দুই সদস্য ভেলমা এবং নতুন ছেলে ফ্রেডিকে সাথে নিয়ে তারা এই জটিল রহস্যের সমাধানে নামে। পুরো সিরিজ জুড়ে এই দলের গড়ে ওঠার পেছনে থাকা রোমাঞ্চকর সব অভিযান ফুটিয়ে তোলা হবে।
গল্পটি কেবল সাধারণ রহস্য সমাধান নয়, বরং গভীর এক মনস্তাত্ত্বিক মোড় নিতে যাচ্ছে বলে নির্মাতারা আভাস দিয়েছেন। তদন্ত করতে গিয়ে মিস্ট্রি ইনক দলটি এমন এক দুঃস্বপ্নের জালে জড়িয়ে পড়ে, যা তাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এই আধুনিক রূপান্তরটি আগের অ্যানিমেশন সিরিজের তুলনায় অনেকটা রহস্যময় এবং রোমহর্ষক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছেলেবেলার প্রিয় চরিত্রগুলোকে রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে নতুনভাবে পর্দায় দেখার অপেক্ষায় থাকা দর্শকদের জন্য নেটফ্লিক্সের এই উদ্যোগ একটি বড় উপহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঢাকার শোবিজের অন্যতম জনপ্রিয় ও স্নিগ্ধতম অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত আফসান আরা বিন্দু দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পর্দায় ফিরছেন। অনিয়মিত কাজের ভিড়েও দর্শকপ্রিয়তা ধরে রাখা এই অভিনেত্রী এবার একটি ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে নতুন করে দর্শকদের সামনে হাজির হতে যাচ্ছেন। সালেহ সোবহান অনীম পরিচালিত ‘হেডলাইন’ নামের এই সিরিজটি আগামী ২৫ জুন জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-তে মুক্তি পাবে। সোমবার বিকেলে সিরিজটির একটি টানটান উত্তেজনার টিজার প্রকাশের মাধ্যমে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিন্দুর ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, দীর্ঘ ১০ বছরের বিরতি কাটিয়ে তিনি ২০২৩ সালে ‘উনিশ ২০’ ওয়েব চলচ্চিত্র দিয়ে অভিনয়ে ফিরেছিলেন। এরপর আবারও তিন বছরের জন্য পর্দার আড়ালে চলে যান তিনি। তবে এবার ‘হেডলাইন’ সিরিজের মাধ্যমে তাঁর সেই দীর্ঘ নীরবতা ভাঙছে। এই সিরিজে বিন্দু অভিনয় করেছেন ‘আইরিন’ নামক একটি চরিত্রে, যাকে প্রকাশিত টিজারে মূলত একজন দক্ষ ‘সমস্যা সমাধানকারী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই রহস্যময় উপস্থিতি ও ভিন্নধর্মী চরিত্রটি দর্শকদের মাঝে নতুন করে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
১ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের এই টিজারে সিরিজের গল্পের একটি প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা গেছে সংবাদের পেছনে সাংবাদিকদের নিরন্তর ছুটে চলা এবং তার অন্তরালে লুকিয়ে থাকা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের অন্ধকার জাল। সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্রে বিন্দুর পাশাপাশি আরও অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও উদীয়মান তারকা ইয়াশ রোহান। অপূর্বকে এখানে একজন অভিজ্ঞ সিনিয়র সাংবাদিক এবং ইয়াশকে একজন উদ্যমী তরুণ রিপোর্টারের ভূমিকায় দেখা যাবে। পেশাদার সাংবাদিকতার পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও টানাপোড়েন এই গল্পের মূল উপজীব্য।
জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, ইয়াশ রোহান এবং বিন্দু ছাড়াও এই তারকাবহুল সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সারিকা সাবরিন, শ্যামল মাওলা, ফারহানা হামিদ ও ইন্তেখাব দিনারের মতো জনপ্রিয় সব শিল্পী। পরিচালক সালেহ সোবহান অনীম জানান, বর্তমান সময়ের অস্থিরতার মাঝে দর্শকদের একটি ভিন্নধর্মী ও স্বস্তির গল্প উপহার দিতেই ‘হেডলাইন’ নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি মূলত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আবহে তৈরি একটি ধ্রুপদী পারিবারিক ড্রামা। যে ধরনের গল্পে মানুষ সাধারণত অভ্যস্ত বা যা মনের খুব কাছের, ঠিক সেই ঘরানার আবহেই সিরিজটি তৈরি করা হয়েছে।
টিজার প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে বেশ ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। বিশেষ করে অপূর্বর সাথে বিন্দুর নতুন রসায়ন এবং ইয়াশ রোহানের উপস্থিতি নিয়ে ভক্তরা ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই তাদের দর্শকদের জন্য এই মাসে অন্যতম আকর্ষণীয় কনটেন্ট হিসেবে ‘হেডলাইন’-কে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সাংবাদিকতা আর পারিবারিক রহস্যের এই মেলবন্ধন দর্শকদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার কতটুকু প্রতিফলন ঘটাতে পারে। আগামী ২৫ জুন থেকেই দর্শকরা পূর্ণাঙ্গ সিরিজটি উপভোগ করতে পারবেন।
থিয়েটার ও মঞ্চনাটকের জগতের সবথেকে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি ‘টনি অ্যাওয়ার্ডস’-এর ৭৯তম আসরে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন প্রখ্যাত মার্কিন অভিনেতা জন লিথগো। গত ৭ জুন নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক রেডিও সিটি মিউজিক হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘জায়ান্ট’ নাটকে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতে নেন। সিনেমার জন্য অস্কার বা টেলিভিশনের জন্য এমি যেমন প্রভাবশালী, মঞ্চনাটকের ক্ষেত্রে টনি অ্যাওয়ার্ডস ঠিক ততটাই গুরুত্ব বহন করে। এবারের আসরে জন লিথগোর এই জয় কেবল একটি ট্রফি প্রাপ্তি নয়, বরং এটি বয়সভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদী সফলতার এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে।
৮০ বছর বয়সে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জয়ের মাধ্যমে জন লিথগো টনি অ্যাওয়ার্ডসের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে বিজয়ী হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে ডিক লাটেসা এবং আন্দ্রে দে শিল্ডস ৭৩ বছর বয়সে এই পুরস্কার জিতে এতদিন পর্যন্ত বয়োজ্যেষ্ঠ বিজয়ীর তালিকায় শীর্ষে ছিলেন। তাঁদের সেই দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে লিথগো প্রমাণ করেছেন যে, শিল্প ও অভিনয়ের ক্ষেত্রে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। তাঁর এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এবং জয়লাভ উপস্থিত দর্শক ও থিয়েটার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এক অনন্য উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
রেকর্ডের এই তালিকায় আরও একটি বিষয় সবাইকে অবাক করেছে, যা হলো জন লিথগোর প্রথম ও তৃতীয় টনি জয়ের মধ্যবর্তী বিশাল সময়। এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের তৃতীয় টনি ট্রফি, যার প্রথমটি তিনি অর্জন করেছিলেন ১৯৭৩ সালে ‘দ্য চেঞ্জিং রুম’ নাটকের জন্য। প্রথম এবং সাম্প্রতিক এই জয়ের মাঝখানে অতিবাহিত হয়েছে দীর্ঘ ৫৩ বছর। টনি অ্যাওয়ার্ডসের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে আর কোনো অভিনয়শিল্পীর জীবনে দুটি পুরস্কার জয়ের মাঝে এত বিশাল সময়ের ব্যবধান দেখা যায়নি। এটি তাঁর দীর্ঘ পাঁচ দশকের বর্ণিল ক্যারিয়ারের এক অনন্য ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন।
পুরস্কার হাতে নিয়ে জন লিথগো তাঁর স্বভাবসুলভ হাস্যরসের মাধ্যমে অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তিনি তাঁর ক্যাটাগরিতে মনোনীত তরুণ অভিনেতাদের কাজের প্রশংসা করে মজা করে বলেন যে, ট্রফিটি শেষ পর্যন্ত এক ‘বুড়ো মানুষের’ কাছেই চলে এলো। তিনি উল্লেখ করেন যে, ৫৩ বছরের এই দীর্ঘ ব্যবধানে তিনি থিয়েটার ও মঞ্চের নানা রূপান্তর এবং বিবর্তন খুব কাছ থেকে দেখেছেন। লিথগোর মতে, এই শেষ বয়সে এসে এমন সম্মাননা প্রাপ্তি তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন এবং এটি তাঁকে নতুনভাবে প্রাণশক্তি যুগিয়েছে।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের দাপট ধরে রাখা জন লিথগো কেবল থিয়েটারেই নয়, সিনেমা ও টেলিভিশনেও সমানভাবে সফল। তাঁর অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে সাতটি এমি পুরস্কার, দুটি গোল্ডেন গ্লোব এবং অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা। এছাড়াও তিনি চারবার গ্র্যামি এবং দুবার অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। মঞ্চনাটকের প্রতি গভীর ভালোবাসা আর অদম্য নিষ্ঠাই তাঁকে ব্রডওয়ের মঞ্চে আজ এক অমর কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে। এবারের টনি অ্যাওয়ার্ডসের আসরটি মূলত তাঁর এই ঐতিহাসিক কীর্তির জন্যই বিশ্বজুড়ে বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত তাঁর নতুন সিনেমা ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ নিয়ে পুনরায় বড় পর্দায় ফিরছেন। গত বছর ‘ইমার্জেন্সি’ সিনেমার ব্যর্থতার পর এটিই হতে যাচ্ছে এ বছর প্রেক্ষাগৃহে তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত কাজ। ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার এক লোমহর্ষক এবং বীরত্বপূর্ণ সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন পরিচালক মনোজ তাপাডিয়া। এতে কঙ্গনা কামা হাসপাতালের সাহসী স্টাফ নার্স অঞ্জলি কুলথের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি সেই ভয়াবহ রাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ৪০০ রোগীর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। আগামী ১২ জুন সিনেমাটি দেশজুড়ে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
সিনেমাটির প্রচারণার অংশ হিসেবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা রনৌত নার্সিং পেশার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নার্সদের হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হলেও তাঁদের বেতন দেওয়া হয় অত্যন্ত নগণ্য। অভিনেত্রীর মতে, সাধারণ মানুষ চিকিৎসার ক্ষেত্রে শুধু চিকিৎসকদের অবদানের কথাই মনে রাখেন, কিন্তু লাখ লাখ নার্স যারা দিনরাত সেবা দিয়ে হাসপাতাল সচল রাখছেন, তাঁদের অবদান বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যায়। এমনকি বিনোদন জগতে বা পপ-কালচারে নার্সদের যেভাবে খাটো করে উপস্থাপন করা হয়, তাতে এই মহান পেশার মর্যাদা ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নার্সদের কাজের পরিবেশের পাশাপাশি তাঁদের প্রচলিত ইউনিফর্ম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কঙ্গনা। তাঁর দাবি, বর্তমানের নার্সদের পোশাকে এখনো ঔপনিবেশিক আমলের ছাপ স্পষ্ট রয়ে গেছে। পিন, ক্যাপ কিংবা বেল্টের মতো উপকরণের সাথে বিদেশি সামরিক সংস্কৃতির যোগসূত্র রয়েছে, যা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে খুব একটা আরামদায়ক বা প্রয়োজনীয় নয়। তিনি মনে করেন, আমাদের দেশের আবহাওয়া এবং স্থানীয় বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে এই পোশাকে আধুনিক ও সুবিধাজনক পরিবর্তন আনা জরুরি। কঙ্গনার মতে, একজন নার্সের প্রকৃত পরিচয় তাঁর বাহ্যিক পোশাকে নয়, বরং তাঁর কর্তব্যনিষ্ঠা এবং সেবার মানসিকতায় নিহিত।
অভিনয়ের পাশাপাশি এই সিনেমার অন্যতম প্রযোজক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন কঙ্গনা রনৌত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অঞ্জলি কুলথের মতো একজন অকুতোভয় নার্সের জীবন সংগ্রাম পর্দায় দেখার পর এই পেশাজীবীদের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। যদি এই সিনেমার মাধ্যমে নার্সরা তাঁদের যোগ্য সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা ফিরে পান, তবেই তাঁর সৃজনশীল পরিশ্রম সার্থক হবে বলে তিনি মনে করেন। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি দর্শকদের মাঝে নতুন করে দেশপ্রেম ও মানবিকতার বোধ জাগ্রত করবে বলে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন।
রুপালি পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নতুন এক চমক নিয়ে আসছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। দেশের শীর্ষস্থানীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির জন্য নির্মিত নতুন একটি অরিজিনাল ওয়েব ফিল্মে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। ‘লাইফলাইন’ শিরোনামের এই বিশেষ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন নির্মাতা কাজী আসাদ। দীর্ঘ বিরতির পর মিমের ওটিটিতে ফেরার এই সংবাদটি বিনোদন জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে ওটিটি জায়ান্ট চরকি এই নতুন প্রজেক্টের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছবিটির প্রথম প্রমোশনাল পোস্টার প্রকাশ করা হয়। পোস্টারটিতে একটি রহস্যময় আবহ বজায় রাখা হয়েছে এবং ক্যাপশনে সময়ের গুরুত্বকে ইঙ্গিত করে লেখা হয়েছে, ‘লাইফের এই জার্নিতে সময় যখন এক বিশাল প্রতিপক্ষ’। কাজী আসাদ পরিচালিত এই অরিজিনাল ফিল্মটি খুব শীঘ্রই দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
‘লাইফলাইন’ সিনেমাটির কাহিনী বা অন্যান্য প্রধান চরিত্রগুলোতে কারা অভিনয় করেছেন, সে বিষয়ে এখনও এক ধরনের গোপনীয়তা বজায় রেখেছে নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। জীবনের চড়াই-উতরাই আর সময়ের জটিল সমীকরণ পর্দায় কীভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা নিয়ে দর্শকদের মনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মিমকে এই চলচ্চিত্রে কোন ধরনের অবতারে দেখা যাবে, সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয়। চরকি কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এটি জীবনঘনিষ্ঠ এবং ভিন্নধর্মী একটি গল্প হতে যাচ্ছে।
বর্তমান সময়ে বিদ্যা সিনহা মিম তাঁর ক্যারিয়ারের বেশ তুঙ্গে রয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘মালিক’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। বড় পর্দায় ‘মালিক’-এর রেশ কাটতে না কাটতেই ওটিটির পর্দায় তাঁর এই নতুন যাত্রা মিমের পেশাগত বৈচিত্র্যকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলছে। আধুনিক নির্মাণশৈলী আর চিত্রনাট্যের গুণে ‘লাইফলাইন’ তাঁর ক্যারিয়ারে আরও একটি সাফল্যের পালক যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি গত কয়েক বছরে মানসম্পন্ন কনটেন্ট উপহার দিয়ে দর্শকদের আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। কাজী আসাদের নির্দেশনায় এবং মিমের শক্তিশালী অভিনয়ে ‘লাইফলাইন’ সিনেমাটিও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। দর্শকরা এখন সিনেমাটির মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছেন। খুব শীঘ্রই এর টিজার ও ট্রেলার প্রকাশের মাধ্যমে গল্পের প্রেক্ষাপট ও মুক্তির চূড়ান্ত তারিখ জানানো হবে বলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে।
গত বছর কানাডার টরন্টোতে আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়ায় প্রিমিয়ার হওয়া আলোচিত সিনেমা ‘শেকড়’ এখনই দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে না। নির্মাতা প্রসূন রহমান এই কোরবানির ঈদে ছবিটি মুক্তির যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়িয়েছেন। মূলত প্রেক্ষাগৃহে একসাথে অনেক সিনেমার ভিড় এবং আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ উন্মাদনার কথা মাথায় রেখেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্মাতার মতে, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরপরই দর্শক যখন খেলাধুলার আমেজ কাটিয়ে সিনেমা হলে ফিরবেন, তখনই ‘শেকড়’ বড় পর্দায় আসার জন্য সবথেকে উপযুক্ত সময়।
সিনেমাটি নির্দিষ্ট সময়ে মুক্তি না দেওয়া প্রসঙ্গে প্রসূন রহমান জানান যে, সুস্থ প্রতিযোগিতায় তাঁর কোনো অনীহা নেই, তবে একসাথে অনেক সিনেমা মুক্তি পাওয়ায় তিনি কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছেন। তিনি মনে করেন, ‘শেকড়’-এর মতো পারিবারিক ও আবেগনির্ভর একটি গল্পের জন্য শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ প্রয়োজন। দর্শকরা যেন কোনো তাড়াহুড়ো বা হট্টগোলের মধ্যে না থেকে স্থিরভাবে এবং গভীর মনোযোগ দিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই প্রতীক্ষা। ঈদের আমেজ ও বিশ্বকাপ মৌসুমের পর ছবিটির আবেদন আরও বাড়বে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
‘শেকড়’ সিনেমার মূল উপজীব্য হলো মানুষ ও মাটির চিরন্তন টান। এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়া অভিবাসী মানুষের আত্মপরিচয়ের সংকট এবং জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার হাহাকার। দীর্ঘ সময় পর আবারও শেকড়ের টানে ফিরে আসা এবং পেছনে ফেলে যাওয়া প্রিয়জনদের সাথে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপনের এক মানবিক লড়াই এই সিনেমার গল্পের প্রাণ। প্রসূন রহমানের শৈল্পিক ঢঙে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনের এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ সমাদৃত হয়েছে।
এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা এফ এস নাঈম ও আইশা খান। তাঁদের সাবলীল অভিনয় দর্শকদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন একঝাঁক অভিজ্ঞ শিল্পী, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন দিলারা জামান, সমু চৌধুরী, সঙ্গীতা চৌধুরী, নাফিস আহমেদ, নাইরুজ সিফাত, রওনক রিপন, ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা এবং শিশুশিল্পী মুনতাহা এমিলিয়া। গুণী শিল্পীদের এই বিশাল সমাগম সিনেমাটিকে দর্শকদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রচার হওয়া অসংখ্য নাটকের ভিড়ে স্বতন্ত্র গল্পের গুণে দর্শকদের বিশেষ নজর কেড়েছে ‘বই পোকা’। গত ২ জুন ইউটিউব চ্যানেল ‘ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্ট’-এ প্রকাশের পর থেকেই নাটকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রচারের মাত্র চার দিনের মাথায় প্রায় ৯ লাখেরও বেশি দর্শক এটি উপভোগ করেছেন। গড়পড়তা কমেডি কিংবা ট্রেন্ডি গল্পের বিপরীতে এক শৈল্পিক ও পারিবারিক ঘরানার রোমান্টিক গল্প দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে ভিডিওর কমেন্ট বক্সে থাকা হাজারো ইতিবাচক মন্তব্যে।
আকবর হায়দার মুন্নার মূল গল্প ভাবনায় নাটকটি রচনা করেছেন লিমন আহমেদ এবং পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা তপু খান। এই নাটকের মূল উপজীব্য হলো বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর মানুষের অতিমাত্রায় আসক্তি এবং এর নেতিবাচক প্রভাব। গল্পের মাধ্যমে এই প্রজন্মের তরুণদের সাহিত্যের প্রতি মনোযোগী হওয়ার এক বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। পরিচালক তপু খান জানিয়েছেন, নির্মাণের সময়ই তাঁর ধারণা ছিল যে সমাজ ও জীবনধর্মী এই বিষয়টি দর্শকদের স্পর্শ করবে। প্রত্যাশা অনুযায়ী সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়ায় পুরো টিম এখন দারুণভাবে উৎসাহিত।
নাটকটিতে প্রধান চরিত্রে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার এবং এ প্রজন্মের উদীয়মান অভিনেত্রী সাদনিমা বিনতে নোমান। তাঁদের অনবদ্য অভিনয় ও পর্দার রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। অভিনেতা খায়রুল বাসার নাটকটি সম্পর্কে বলেন যে ‘বই পোকা’র সংলাপগুলো ছিল অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী, যা চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছে। অন্যদিকে অভিনেত্রী সাদনিমা জানান, দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে এটি তাঁর অন্যতম সেরা একটি কাজ এবং নিজের অভিনীত চরিত্রটির প্রতি তিনি নিজেই মায়ায় পড়ে গেছেন।
গল্পকার আকবর হায়দার মুন্না বর্তমানে সমাজে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে চলা বাড়াবাড়ি ও পারিবারিক সম্পর্কের অবনতির বিষয়টি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তাঁর মতে, মানুষ এখন বই পড়া থেকে দূরে সরে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, তা তুলে ধরাই ছিল এই গল্পের প্রধান লক্ষ্য। নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন দেশের গুণী শিল্পী আজিজুল হাকিম, মুনীরা ইউসুফ মেমী, আব্দুল্লাহ রানা এবং রোজি সিদ্দিকী। এছাড়া একটি বিশেষ চরিত্রে প্রবীণ অভিনেতা তারিক আনাম খানের উপস্থিতি গল্পের গভীরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে ‘বই পোকা’ নাটকটি কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং একটি সামাজিক দলিল হিসেবে দর্শকদের কাছে সমাদৃত হয়েছে। বর্তমানে প্রচার হওয়া নাটকের ভিড়ে এমন জীবনমুখী ও গঠনমূলক গল্প দেশের নাট্য অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। নির্মাতারা মনে করছেন, এই ধরনের কাজের সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বেশি মানসম্পন্ন এবং বার্তাভিত্তিক নাটক নির্মাণের পথ প্রশস্ত করবে। দর্শকদের ভালোবাসায় ‘বই পোকা’ এখন চলতি বছরের অন্যতম সফল ঈদের নাটকের তালিকায় নাম লিখিয়েছে।
বিশ্ববিখ্যাত ইতালীয় তারকা মনিকা বেলুচ্চি প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের চমকে দিয়েছেন। ‘সেভেন ডগস’ শিরোনামের এই বিগ বাজেটের আন্তর্জাতিক সিনেমাটির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলচ্চিত্র শিল্পে তাঁর নতুন যাত্রা শুরু হলো। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিচালক জুটি আদিল এল আরবি ও বিলাল ফল্লাহ, যাঁরা এর আগে ‘ব্যাড বয়েজ’ সিরিজের সিনেমা পরিচালনা করে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। রিয়াদে চিত্রায়িত এই চলচ্চিত্রটি কেবল একটি বড় প্রযোজনা নয়, বরং এটি সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান চলচ্চিত্র খাতের সক্ষমতার এক নতুন উদাহরণ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মনিকা বেলুচ্চি এই সিনেমায় কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, রিয়াদের বিশাল স্টুডিও এবং অত্যন্ত পেশাদার উৎপাদন ব্যবস্থা তাঁকে রীতিমতো মুগ্ধ করেছে। তাঁর মতে, পুরো নির্মাণ প্রক্রিয়াটি ছিল আন্তর্জাতিক মানের এবং অত্যন্ত সুসংগঠিত। প্রথমবারের মতো সৌদি আরবে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন যে, সেখানকার পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার ছিল, যা তাঁকে বড় মাপের একটি গ্লোবাল সিনেমায় কাজ করার অনুভূতি দিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সিনেমার এক নতুন রূপ প্রত্যক্ষ করেছেন।
‘সেভেন ডগস’ মূলত একটি অ্যাকশনধর্মী ‘বাডি-কপ’ ঘরানার সিনেমা, যেখানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক তারকাদের সমন্বয়ে একটি দুর্ধর্ষ অপরাধ চক্র দমনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমায় মনিকা বেলুচ্চি অভিনয় করেছেন জুলিয়া লিওন নামের এক রহস্যময়ী ও কুখ্যাত অপরাধীর চরিত্রে। নিজের চরিত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, জুলিয়া এমন একজন নারী যিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেয়ে সব সময় এক কদম এগিয়ে থাকেন এবং পুরো ইউরোপজুড়ে তাঁর শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। একজন ঠান্ডা মেজাজের কিন্তু প্রভাবশালী নারী চরিত্রে অভিনয় করাটা তাঁর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ও উপভোগ্য ছিল।
এই সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি সহ-অভিনেতা ও পরিচালকদের শৈল্পিক দক্ষতারও প্রশংসা করেছেন মনিকা। তিনি মিসরের দুই জনপ্রিয় সুপারস্টার আহমেদ এজ ও করিম আবদেল আজিজের সাথে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন। বেলুচ্চি তাঁদের অত্যন্ত উদার ও সহানুভূতিশীল সহশিল্পী হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া পরিচালকদের কাজের ধরনের প্রশংসা করে তিনি বলেন যে, আদিল ও বিলাল অ্যাকশন দৃশ্যগুলোকে অত্যন্ত গতিশীল এবং সিনেম্যাটিকভাবে উপস্থাপন করতে জানেন। থ্রিলার এবং আধুনিক চিত্রায়নের সংমিশ্রণে তাঁরা সিনেমাটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
বেলুচ্চির মতে, সৌদি আরবসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে দ্রুতই বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। তিনি মনে করেন, সিনেমা এখন আর নির্দিষ্ট কোনো একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়েছে। ‘সেভেন ডগস’ সিনেমাটি গত ২৭ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক দর্শকদের মধ্যে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলতে শুরু করেছে। বিশ্বখ্যাত তারকাদের এই অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের সিনেমাকে আগামী দিনে আরও বড় বাজারের দিকে নিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত ও ব্যয়বহুল বলিউড সিনেমা ‘ককটেল ২’ মুক্তির আগেই বড় ধরনের ব্যবসায়িক সাফল্যের মুখ দেখেছে। শহীদ কাপুর, কৃতি স্যানন এবং রাশমিকা মান্দানা অভিনীত এই রোমান্টিক ছবিটি ২০১২ সালের সুপারহিট সিনেমা ‘ককটেল’-এর সিক্যুয়েল হিসেবে নির্মিত হয়েছে। মুম্বাইয়ে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্প্রতি ছবিটির ট্রেলার উন্মোচন করা হয়েছে। সেখানেই জানা গেছে যে, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার আগেই ছবিটি তার মোট বাজেটের ৫০ শতাংশ অর্থ তুলে নিতে সক্ষম হয়েছে। হোমি আদাজানিয়ার পরিচালনায় এই ছবিটি এখন সিনেমা প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ককটেল ২’ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় বাজেটের রোমান্টিক ছবিগুলোর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। সিনেমাটির মোট বাজেট প্রায় ১৫০ কোটি রুপি, যার মধ্যে নির্মাণ ব্যয় হিসেবে ৯৫ কোটি রুপি খরচ হয়েছে। ছবির প্রধান তিন তারকা শহীদ, কৃতি ও রাশমিকার পারিশ্রমিক বাবদ ব্যয় করা হয়েছে ৩৫ কোটি রুপি এবং বাকি ২০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রচার ও বিজ্ঞাপনের জন্য। ছবিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাডডক ফিল্মস ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, টেলিভিশন ও মিউজিক স্বত্ব বিক্রির মাধ্যমেই ইতিমধ্যে ৭৫ কোটি রুপি আয় করে ফেলেছে।
প্রযোজক দিনেশ ভিজান ছবিটি আন্তর্জাতিক মানে এবং অত্যন্ত বড় পরিসরে নির্মাণ করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন নয়নাভিরাম লোকেশনে মাত্র ৭০ দিনে এই ছবির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। দর্শকদের বড় পর্দায় ভিন্নধর্মী ও দৃষ্টিনন্দন অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্যে ছবিটির সিনেমাটোগ্রাফি, ফ্যাশন ও সংগীতে আধুনিকতার ছোঁয়া রাখা হয়েছে। প্রথম কিস্তির মতো এটিও একটি প্রেমের ত্রিভুজ কাহিনি হলেও এর উপস্থাপনা সম্পূর্ণ নতুন হবে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এবারের কাহিনির গভীরতা ও চরিত্রের বিন্যাস দর্শকদের কাছে আরও বেশি চমকপ্রদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিশেষ গুজব ছড়িয়েছিল যে ছবিতে কৃতি স্যানন ও রাশমিকা মান্দানার মধ্যে সমকামী প্রেমের সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। এই বিষয়ে ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে কৃতি স্যানন মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, দুজন ছেলে একসাথে থাকলে তাকে বন্ধু ভাবা হলেও দুজন মেয়ে ভালো বন্ধু হলে সমাজ সেটা সহজে মানতে চায় না। পরিচালক হোমি আদাজানিয়াও বিষয়টি পরিষ্কার করে জানান যে, শুটিংয়ের সময় কৃতি ও রাশমিকার মধ্যে চমৎকার এক বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল এবং তাঁদের পর্দার রসায়নও ছিল চমৎকার। তবে সমকামী প্রেমের ধারণাটি নিছক গুঞ্জন ছাড়া আর কিছু নয়।
পরিচালক হোমি আদাজানিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আগের ‘ককটেল’ সিনেমার কাহিনির সাথে এই সিক্যুয়েলের গল্পের কোনো সরাসরি মিল নেই। মূলত একটি সতেজ ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তরুণ জৈন ও লাভ রঞ্জন এই ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন। ১৯ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাওয়া এই ছবিটি বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আগের ছবিতে সাইফ আলী খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও ডায়না পেন্টির যে রসায়ন ছিল, নতুন এই ত্রয়ীর রসায়ন দর্শকদের মাঝে সেই আবেদন ফিরিয়ে আনবে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা।
ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর ব্যবসায়িক লড়াইয়ে দশম দিনে এসে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। দর্শক উপস্থিতি এবং আয়ের হিসাবে মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’ শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমাটিকে ছাড়িয়ে গেছে। বাংলা চলচ্চিত্রের বাণিজ্য বিশ্লেষক ফেসবুক পেজ বিএমআরের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির দশম দিনে ই-টিকিটভুক্ত মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে আয়ের দিক থেকে ‘রইদ’ প্রথম স্থানে উঠে এসেছে। যদিও শো সংখ্যায় ‘রকস্টার’ অনেক এগিয়ে ছিল, তবুও দর্শক চাহিদার বিচারে ‘রইদ’ বর্তমানে শহরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাগৃহগুলোতে একচ্ছত্র দাপট দেখাচ্ছে।
মুক্তির দশম দিনে স্টার সিনেপ্লেক্স ও লায়ন সিনেমাস মিলিয়ে ‘রইদ’-এর মোট ২২টি শো প্রদর্শিত হয়। এর মধ্যে তিনটি শো প্রায় শতভাগ দর্শক উপস্থিতি নিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, যা মাল্টিপ্লেক্সের জন্য একটি বড় সাফল্য। ওই দিন সিনেমাটি ১০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা আয় করেছে, যার ফলে মাল্টিপ্লেক্সগুলো থেকে এর মোট গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ টাকায়। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে ‘রইদ’ চলতি বছরের অষ্টম চলচ্চিত্র হিসেবে ই-টিকেটিংয়ের আওতাভুক্ত প্রেক্ষাগৃহগুলো থেকে এক কোটি টাকার ক্লাবে প্রবেশ করার গৌরব অর্জন করল। নাজিফা তুষি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরানের অভিনয় দর্শকদের মাঝে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে মুক্তির দশম দিনে মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে ‘রকস্টার’ তার শুরুর দিকের দাপট বজায় রাখতে কিছুটা হিমশিম খেয়েছে। এদিন স্টার সিনেপ্লেক্স, লায়ন সিনেমাস এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১০টি মাল্টিপ্লেক্সে মোট ৬৯টি শো চললেও কোনোটিই পুরোপুরি হাউসফুল হয়নি। একদিনে ‘রকস্টার’-এর আয় ছিল ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যা ‘রইদ’-এর দৈনিক আয়ের তুলনায় সামান্য কম। তবে মুক্তির প্রথম ১০ দিন শেষে মাল্টিপ্লেক্সগুলো থেকে ‘রকস্টার’ মোট ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা আয় করেছে, যা এখনো মোট আয়ের বিচারে অনেক এগিয়ে রয়েছে। আজমান রুশো পরিচালিত এই সিনেমাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও শাকিব ভক্তদের আনাগোনা মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে এখনো চোখে পড়ার মতো।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সামগ্রিক আয়ের বিচারে ‘রকস্টার’ এখনো অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে কারণ সিনেমাটি দেশের অধিকাংশ সিঙ্গেল স্ক্রিন বা একক প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সগৌরবে চলছে। গ্রাম ও মফস্বল এলাকার দর্শকরা এখনো বড় পর্দায় শাকিব খানকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। তবে মাল্টিপ্লেক্সে সীমিত সংখ্যক শো নিয়ে ‘রইদ’-এর এই জয়জয়কার প্রমাণ করে যে, শহর এলাকার দর্শকদের রুচি ও চাহিদাতে বড় পরিবর্তন আসছে। বিশেষ করে জীবনঘনিষ্ঠ ও শৈল্পিক গল্পের প্রতি সাধারণ মানুষের ঝোঁক বাড়ছে, যা দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক ইঙ্গিত।
মাল্টিপ্লেক্সে ‘রইদ’ ও ‘রকস্টার’ ছাড়াও ঈদের অন্য সিনেমাগুলো তাদের দর্শক ধরে রাখার চেষ্টা করছে। তবে লড়াইটা মূলত এই দুটি ভিন্ন ধারার সিনেমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আগামী দিনগুলোতে মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ দর্শক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে শোর সংখ্যা আরও সমন্বয় করতে পারে। সব মিলিয়ে ঈদের এই সিনেমা যুদ্ধ কেবল আয়ের লড়াই নয়, বরং বাণিজ্যিক বনাম শৈল্পিক চলচ্চিত্রের এক নতুন পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন সিনেমাটি সবচেয়ে বেশি ব্যবসা সফল হয়, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে শনিবার জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে মঞ্চস্থ হয়েছে নাট্যদল বটতলার শিশু বিভাগের নতুন প্রযোজনা ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’। এটি মূলত শিশুদের অভিনয়ের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স ‘অভিনয়ে হাতেখড়ি’র ষষ্ঠ আবর্তনের সমাপনী প্রদর্শনী। দীর্ঘ চার মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তী কয়েক মাসের মহড়া শেষে একদল প্রাণবন্ত শিশু শিল্পী এই নাটকটি দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করে। অভিনয়ের প্রথম পাঠ শেষ করেই শিশুরা যেভাবে মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা মেলে ধরেছে, তা উপস্থিত সুধীমহলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
নাটকটি নির্মিত হয়েছে জার্মান প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক ওটফিল্ড প্রুশলারের কালজয়ী রচনা ‘ডাকাত হটজেনপ্লটজ’ অবলম্বনে। দেশীয় প্রেক্ষাপটে ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ শিরোনামে এর চমৎকার নাট্যরূপ দিয়েছেন শাম্মি আক্তার এবং নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যব্যক্তিত্ব হুমায়ূন আজম রেওয়াজ। নাটকটিতে শিশুদের সহজাত অভিনয় ও শৈল্পিক দক্ষতার মধ্য দিয়ে গল্পের বৈচিত্র্যময় ও হাস্যরসাত্মক দিকগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শিশুতোষ এই প্রযোজনাটি কেবল বিনোদনই নয়, বরং শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের দিকটিও নির্দেশ করে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সফল প্রদর্শনী শেষে অংশগ্রহণকারী শিশুদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র ও বিশেষ উপহার তুলে দেওয়া হয়। এই আনন্দঘন আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম এভারেস্ট বিজয়ী নুরুন্নাহার নিম্মি, প্রখ্যাত আয়রনম্যান মোহাম্মদ শামসুজ্জামান আরাফাত, লেখক ও গবেষক সামীও শীশ এবং কবি সাকিরা পারভীন সুমা। এছাড়াও বটতলার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মিজানুর রহমান এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শিল্পী লায়েকা বশীর শিশুদের উৎসাহিত করতে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা শিশুদের সৃজনশীল চর্চার এই নিয়মিত প্রয়াসকে সাধুবাদ জানান।
বটতলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ প্রযোজনাটি তারা ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন মঞ্চে প্রদর্শন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। শিশুদের মধ্যে থিয়েটার বা নাট্যচর্চার একটি স্বতন্ত্র ও শৈল্পিক আবহ তৈরির লক্ষ্যেই তাদের বিশেষায়িত স্কুল ‘এক্টরস স্টুডিও’ এই কর্মশালা পরিচালনা করে আসছে। উল্লেখ্য, এর আগে ‘অভিনয়ে হাতেখড়ি’র অধীনে বটতলা সাফল্যের সাথে ‘গুপীবাঘা’, ‘গালিভারস ট্রাভেলস’, ‘আমরা সবাই রাজা’, ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’ ও ‘ফাংসাং’ এর মতো জনপ্রিয় শিশুতোষ নাটক মঞ্চে নিয়ে এসেছে।
দীর্ঘ ছয় মাসের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির ফসল এই মঞ্চায়ন মূলত নতুন প্রজন্মের শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং শিশুদের সাবলীল পরিবেশনা পুরো মিলনায়তনে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেছিল। বটতলার এই নিয়মিত সৃজনশীল উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের নাট্যঙ্গনে দক্ষ ও সংবেদনশীল শিল্পী উপহার দিতে বড় অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। শিশুদের মেধা ও মনন বিকাশে এমন আয়োজন নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নাট্যদলটি।
ভারতের জনপ্রিয় মালয়ালম অভিনেতা সেলিম কুমার আর নেই। গত ৭ জুন রাতে কোচিতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন এবং কয়েক বছর আগে তাঁর লিভার প্রতিস্থাপনও করা হয়েছিল। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে ভারতের দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ সারা দেশের অভিনয় জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর সাবলীল অভিনয় আর হাস্যরসের ধরন কয়েক দশক ধরে দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল।
সেলিম কুমারের বর্ণিল ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল মঞ্চে একজন মিমিক্রি শিল্পী হিসেবে। ১৯৬৯ সালে কেরালার নর্থ পারাভুরে জন্মগ্রহণ করা এই শিল্পী ছাত্রজীবন থেকেই অভিনয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহী ছিলেন। কেরালা তথা দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কালাভবনের হয়ে মঞ্চে পারফর্ম করার মাধ্যমে তিনি দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন। মিমিক্রি করার সময় তাঁর চমৎকার কমিক টাইমিং এবং উপস্থিত বুদ্ধির কারণে তিনি দর্শকদের পছন্দের শীর্ষে চলে আসেন। মঞ্চের এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাই শেষ পর্যন্ত ১৯৯৭ সালে তাঁকে বড় পর্দার পথে নিয়ে যায়।
১৯৯৭ সালে ইস্তামানুর নুরু ভাত্তাম চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিষেক হওয়ার পর সেলিম কুমারকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া সত্যমেবা জায়তি ছবিতে মাট্টানচেরি মাম্মাথু চরিত্রটি করার পর তিনি মালয়ালম সিনেমার অপরিহার্য কৌতুক অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। একসময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে, সে দেশের চলচ্চিত্রে কৌতুক দৃশ্যের কথা ভাবলেই পরিচালকদের প্রথম পছন্দ ছিলেন সেলিম কুমার। শত শত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনের আবেগ-অনুভূতির এক জাদুকরী মুখপাত্র হয়ে উঠেছিলেন।
সেলিম কুমার কেবল কৌতুক অভিনেতা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং গম্ভীর ও জীবনঘনিষ্ঠ চরিত্রে অভিনয় করেও তাঁর সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া আদামিনতে মাকান আবু চলচ্চিত্রে একজন বৃদ্ধ মুসলিম ব্যক্তির চরিত্রে তাঁর হৃদয়স্পর্শী অভিনয় চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই অসাধারণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সেই বছর শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ভারতের মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কৌতুক অভিনেতার ইমেজ ভেঙে জাতীয় পুরস্কার জয় করার মতো বিরল কীর্তি হাতেগোনা যে কয়েকজন অভিনেতার রয়েছে, সেলিম কুমার ছিলেন তাঁদের অন্যতম।
ডিজিটাল যুগে এসে সেলিম কুমার এক নতুন প্রজন্মের কাছে মিম কিং হিসেবে পরিচিতি পান। তাঁর সিনেমার বিভিন্ন অভিব্যক্তি এবং সংলাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিম ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গ হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। তাঁর প্রতিটি মুভমেন্ট যেন নেটিজেনদের কাছে কোনো না কোনো অনুভূতির ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্পষ্টভাষী এবং সত্যনিষ্ঠ মানুষ। স্ত্রী সুনীতা এবং দুই ছেলে চন্দু ও অরোমলকে নিয়ে ছিল তাঁর সংসার। তাঁর বিদায়ে কেবল একটি প্রাণবন্ত মানুষেরই সমাপ্তি ঘটেনি, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্র তার একজন দক্ষ ও বৈচিত্র্যময় অভিনেতা হারাল।