বলিউডের সময়ের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। নিজের মেধা, দক্ষতা দিয়ে গত দুই-তিন বছর ধরে সুনামের সঙ্গে অভিনয় করে আসছেন এ মহেশ ভাটকন্যা। যদিও মহেশ ভাটের পরিচয় দূরে সরিয়ে রেখে এখন আলিয়া নিজের পরিচয়েই প্রতিষ্ঠিত। একের পর এক সফল ছবি উপহার দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বড় বড় নির্মাতার সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ানোর পাশাপাশি গত বছর ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ চলচ্চিত্রের বাঘা বাঘা পুরস্কারও অর্জন করেন আলিয়া ভাট। এ ছাড়া হলিউডের ছবিতেও কাজ করে ফেলেছেন ইতোপূর্বে।
এবার আরও এক নতুন খবরের শিরোনামে এলেন রণবীর কাপুর ঘরণী। বিশ্ব সিনেমার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অস্কার। পুরস্কারের বাইরে সারা বছরই অন্তর্জালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সিনেমা, শিল্পী-কুশলীদের উৎসাহ দেয় সংস্থাটি। যেমন এবার অস্কারের পাতায় জায়গা করে নিলেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট।
বুধবার দ্য অ্যাকাডেমির ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। যেটা মূলত ২০১৯ সালের ‘কলঙ্ক’ সিনেমার গান ‘ঘর মোরে পারদেসিয়া’র ক্লিপ। ভিডিওর সঙ্গে অস্কার কর্তৃপক্ষ ক্যাপশনে লিখেছে, ‘কলঙ্ক’ সিনেমার ‘ঘর মোরে পারদেসিয়া’ গানে পারফর্ম করছেন আলিয়া ভাট। গানটি গেয়েছেন শ্রেয়া ঘোষাল ও বৈশালী মাড়ে।
এ ছাড়া ছবিটির আরও কিছু তথ্যও যোগ করা হয়েছে পোস্টে। যেমন ছবির নির্মাতা অভিষেক বর্মণ, অভিনয়শিল্পী বরুণ ধাওয়ান, আলিয়া ভাট, সোনাক্ষী সিনহার নাম। পাশাপাশি গানের কম্পোজার হিসেবে প্রীতম চক্রবর্তী ও গীতিকবি অমিতাভ ভট্টাচার্যের কথাও উল্লেখ রয়েছে পোস্টে। এদিকে অস্কার কর্তৃপক্ষের পোস্ট দেখে উচ্ছ্বসিত আলিয়া। পোস্টটি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেছেন তিনি।
অন্যদিকে ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ধর্মা প্রোডাকশন থেকে মন্তব্য করা হয়েছে ‘আইকনিক’। এর আগেও একাধিকবার বলিউড ছবির ঝলক দেখা গেছে অস্কারের পাতায়। যেমন গত এপ্রিলে দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত ‘বাজিরাও মাস্তানি’ ছবির ‘দিওয়ানি হো গায়ি’ গানের একটি ক্লিপ পোস্ট দিয়েছিল সংস্থাটি। তারও আগে জানুয়ারিতে কালজয়ী ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’র ঝলক জায়গা করে নিয়েছিল এই অন্তর্জাল ঠিকানায়।
এদিকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাচ্ছে আলিয়া ভাট অভিনীত ‘জিগরা’ ছবিটি। ভাসান বালা পরিচালিত এই সিনেমাতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আলিয়া।
দক্ষিণী সিনেমার দুই হার্টথ্রব তারকা বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার প্রেমের রসায়ন নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই। ‘গীতা গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমায় তাঁদের অনবদ্য অভিনয় ও পর্দার বাইরের বিশেষ বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের এক অমীমাংসিত রহস্য। তবে এবার সেই রহস্যের জট হয়তো খুলতে চলেছে। ইন্টারনেটে হঠাৎ করেই এই তারকা জুটির একটি কথিত ‘বিয়ের কার্ড’ ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে এখন সরগরম পুরো ভারত। ভাইরাল হওয়া সেই কার্ড অনুযায়ী, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরের একটি ঐতিহ্যবাহী ভেন্যুতে ঘরোয়া পরিবেশে সাতপাকে বাঁধা পড়তে যাচ্ছেন এই জনপ্রিয় জুটি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই আমন্ত্রণপত্রে দেখা যাচ্ছে, ওপরের দিকে বড় অক্ষরে বিজয় দেবরাকোন্ডার নাম এবং নিচে স্বাক্ষর হিসেবে লেখা আছে ‘বিজয় (রাশমিকা ও আমার পক্ষ থেকে)’। কার্ডের তথ্যানুসারে, উদয়পুরের সেই রাজকীয় বিয়ের অনুষ্ঠানের পর ৪ মার্চ হায়দরাবাদের বিলাসবহুল ‘তাজ কৃষ্ণা’ হোটেলে একটি জাঁকজমকপূর্ণ বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। আমন্ত্রণপত্রের বয়ানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরিবারের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ নিয়ে তাঁরা একটি নিভৃত ও ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জীবনের নতুন যাত্রা শুরু করতে চান, যেখানে শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতি এই মুহূর্তটিকে আরও বিশেষ করে তুলবে।
বিয়ের এই গুঞ্জন কেবল এই কার্ডেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং চলতি মাসের শুরু থেকেই উদয়পুরের ঐতিহ্যবাহী ‘সিটি প্যালেস’-এ বিশেষ সাজসজ্জার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় ভক্তদের মনে বিশ্বাস আরও জোরালো হয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, এই রাজকীয় আয়োজন মূলত বিজয় ও রাশমিকার বিশেষ দিনটির জন্যই করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে এই দুই তারকাকে প্রায় একই সময়ে প্রবেশ করতে দেখা যাওয়ায় জল্পনার পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। যদিও তাঁরা ক্যামেরার সামনে সরাসরি পোজ দেননি, তবে একই সময়ে নিজেদের টিমের সঙ্গে তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে ভক্তদের মাঝে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে।
তবে ভাইরাল হওয়া এই বিয়ের কার্ডের সত্যতা নিয়ে এখনো এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিজয় কিংবা রাশমিকা—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। অনুরাগী ও নেটিজেনদের একটি অংশ মনে করছেন এটি হয়তো অতি উৎসাহী কোনো ভক্তের শৈল্পিক কারুকাজ বা ‘ফটো এডিট’। তবে এর বিপরীতে অন্য এক পক্ষ মনে করছেন, গোপনীয়তা বজায় রাখতেই হয়তো এই কার্ডটি অনানুষ্ঠানিকভাবে ফাঁস হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই জনপ্রিয় জুটির পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি একটি রোমাঞ্চকর রহস্য হিসেবেই থেকে যাচ্ছে। বর্তমানে চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্তরা—সবাই উন্মুখ হয়ে আছেন তাঁদের প্রিয় ‘ডিয়ার কমরেড’ জুটির বাস্তব জীবনের শুভ পরিণয়ের খবরের অপেক্ষায়।
দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও সংগীতাঙ্গনে নিজেদের সরব উপস্থিতি জানান দিল জনপ্রিয় অল্টারনেটিভ রক ব্যান্ড ‘ব্যান্ড সিক্স’। প্রায় এক যুগ আগে এফএম রেডিওর মাধ্যমে শ্রোতাপ্রিয়তা পাওয়া কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে অপ্রকাশিত গান ‘ভালোবাসি’ এবার মিউজিক্যাল ফিল্ম আকারে মুক্তি পেয়েছে। গত শুক্রবার রাত থেকে ব্যান্ডের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল, স্পটিফাইসহ বিশ্বের সকল জনপ্রিয় মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে গানটি উপভোগ করতে পারছেন শ্রোতারা। দীর্ঘ সময় পর প্রিয় ব্যান্ডের নতুন কাজ হাতে পেয়ে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
ব্যান্ড সিক্সের এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক নীরবতার ইতিহাস। ২০১২ সালে তরুণ রক মিউজিশিয়ানদের আলোচিত রিয়েলিটি শো ‘নেসক্যাফে গেট সেট রক’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সংগীত জগতে পা রেখেছিল ব্যান্ডটি। প্রথম অ্যালবামের সাফল্যের পর দ্বিতীয় অ্যালবামের কাজ শুরু করলেও ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কারণে ব্যান্ডের পথচলা হঠাৎ থেমে যায়। ফলে মাঝপথে আটকে গিয়েছিল তাদের নতুন গানের কাজ। দীর্ঘ আট বছর পর গত বছর থেকে আবারও একত্রিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ব্যান্ড সিক্স। বর্তমানে ব্যান্ডের গিটারিস্ট ও প্রডিউসার রেজোয়ান আশরাফ দেশের বাইরে অবস্থান করলেও সেখান থেকেই ব্যান্ডের সংগীতায়োজন ও পরিচালনার কাজ সামলাচ্ছেন।
মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভালোবাসি’ গানটির কথা ও সুর করেছেন ব্যান্ডের ড্রামার আরিফ শিশির। তিনি জানিয়েছেন, গানটির পেছনে রয়েছে তাঁর নিজের জীবনের একটি সত্য ও বিরহমাখা প্রেমের গল্প। এক যুগ আগে গানটি যখন রেডিওতে প্রথম বাজানো হয়েছিল, তখনই এটি তরুণ প্রজন্মের মন জয় করে নিয়েছিল। এবার আধুনিক সংগীতায়োজনে নির্মিত এই গানটির মিউজিক্যাল ফিল্ম পরিচালনা করেছেন শৌরিন। গানটিতে ভালোবাসার আকুতি আর হারিয়ে ফেলার বিষাদময় অনুভূতি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
ব্যান্ডের দলনেতা ও বেজিস্ট রাকিবুল রোমান্স জানান, ‘ভালোবাসি’ মূলত তাদের দ্বিতীয় অ্যালবামের দ্বিতীয় গান হিসেবে মুক্তি পেয়েছে। এর আগে তারা ‘এই তো সময় ২’ শিরোনামে এই অ্যালবামের প্রথম গানটি প্রকাশ করেছিলেন। এখন থেকে নিয়মিত বিরতিতে অ্যালবামের বাকি গানগুলো একটি একটি করে একক বা সিঙ্গেল হিসেবে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা কাটিয়ে আবারও নিজেদের সৃজনশীল ধারায় ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত ব্যান্ডের সদস্যরা। দীর্ঘদিনের এই অপেক্ষার পর ব্যান্ড সিক্সের এই ফেরা বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীত জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংগীতবোদ্ধারা।
বলিউডের প্রবাদপ্রতিম চিত্রনাট্যকার এবং সুপারস্টার সালমান খানের বাবা সেলিম খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি বর্তমানে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ৯০ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মুম্বাইয়ের বিনোদন জগতে এবং ভক্তদের মাঝে গভীর উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রবীণ এই ব্যক্তিত্বের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ব্রেন হেমোরেজ হয়েছে, যার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকরা তাঁকে বর্তমানে ‘ভেন্টিলেশন সাপোর্টে’ রেখেছেন। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল সার্বক্ষণিকভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। সব কিছু অনুকূলে থাকলে আজ বুধবার তাঁর মস্তিষ্কে একটি অত্যন্ত জটিল ও জরুরি অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পরবর্তী ফলাফলের ওপরই তাঁর শারীরিক উন্নতির বিষয়টি নির্ভর করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাবার অসুস্থতার খবর পাওয়া মাত্রই শুটিং এবং অন্যান্য পূর্বনির্ধারিত সকল কাজ বাতিল করে হাসপাতালে ছুটে গেছেন সালমান খান। মেগাস্টারের পাশাপাশি তাঁর ভাই আরবাজ খান, সোহেল খান এবং বোন আলভিরা অগ্নিহোত্রীসহ পুরো খান পরিবার এখন হাসপাতালেই অবস্থান করছে। গতকাল রাতে প্রবীণ এই চিত্রনাট্যকারকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী ও কালজয়ী সব চিত্রনাট্যের সহ-লেখক জাভেদ আখতার। এছাড়াও অভিনেতা সঞ্জয় দত্তসহ বলিউডের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি হাসপাতালে গিয়ে তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করা হয়নি। তবে পারিবারিক একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন এবং প্রয়োজনীয় সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পরই অস্ত্রোপচারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা এখন কেবল সফল অস্ত্রোপচার ও তাঁর দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য প্রার্থনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বলিউডের বহু তারকা ও সাধারণ ভক্তরা তাঁর সুস্থতা কামনা করে বার্তা দিচ্ছেন।
হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সেলিম খান কেবল একজন লেখক নন, বরং তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের নাম। সত্তর ও আশির দশকে জাভেদ আখতারের সঙ্গে তাঁর ‘সেলিম-জাভেদ’ জুটি বলিউডের বাণিজ্যিক ধারার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। তাঁদের কলম থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘জঞ্জির’, ‘দিওয়ার’, ‘শোলে’ এবং ‘ডন’-এর মতো মাইলফলক ছোঁয়া চলচ্চিত্র। পরবর্তী সময়ে এককভাবেও তিনি ‘নাম’ ও ‘জুর্ম’-এর মতো প্রশংসিত ছবির চিত্রনাট্য লিখে নিজের মুন্সিয়ানা প্রমাণ করেছেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রের এই অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্বের সুস্থ হয়ে ফেরার অপেক্ষায় এখন পুরো সিনেমা জগত।
গাজায় চলমান সংঘাত নিয়ে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব বা বার্লিনেলের রহস্যময় নীরবতা এবং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলা শিল্পীদের কণ্ঠরোধ করার অভিযোগে বিশ্বজুড়ে বিনোদন অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। উৎসবের নীতিনির্ধারকদের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা জাভিয়ের বারডেম, টিলডা সুইন্টন এবং প্রখ্যাত পরিচালক মাইক লেই-সহ ৮০ জনেরও বেশি বিশ্বখ্যাত অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা। ২০২৬ সালের বার্লিনেল চলাকালীন এই প্রভাবশালী তারকাদের প্রকাশিত একটি খোলা চিঠি উৎসবের গ্ল্যামার ছাপিয়ে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক ও নৈতিক সংকট সামনে নিয়ে এসেছে।
উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে যখন উৎসবের জুরিবোর্ডের প্রধান, প্রখ্যাত জার্মান পরিচালক উইম ওয়েন্ডার্স মন্তব্য করেন যে, চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক থাকা উচিত নয় এবং শিল্পীদের উচিত রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে দূরে থাকা। তার এই ‘রাজনীতিমুক্ত শিল্পের’ দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রতিবাদী শিল্পীরা। চিঠিতে তাঁরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শিল্প এবং রাজনীতিকে কোনোভাবেই একে অপরের থেকে আলাদা করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে যখন চোখের সামনে মানবিক বিপর্যয় ঘটে, তখন শিল্পের দোহাই দিয়ে নীরব থাকা অপরাধের শামিল। আন্দোলনকারী শিল্পীরা বার্লিনেলের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন—এই উৎসব যদি অতীতে ইরান বা ইউক্রেনের সংঘাত নিয়ে রাজপথে সরব হতে পারে, তবে গাজার ক্ষেত্রে কেন তারা এমন রহস্যময় নীরবতা পালন করছে?
প্রতিবাদী এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারী তারকারা বার্লিনেল কর্তৃপক্ষকে তাদের নৈতিক দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন যে, ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিরুদ্ধে উৎসবের একটি স্বচ্ছ ও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তাঁরা পাঁচ হাজারেরও বেশি চলচ্চিত্র কর্মীর সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন, যেখানে ইসরায়েলি চলচ্চিত্র কোম্পানি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। শিল্পীদের স্পষ্ট অভিযোগ, গাজা ইস্যুতে নীরব থেকে উৎসব কর্তৃপক্ষ পরোক্ষভাবে এই সহিংসতায় জড়িত থাকার দায় এড়াতে পারে না। তাঁদের মতে, শিল্পের মঞ্চকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না করে বরং ন্যায়বিচারের পক্ষে একটি সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা জরুরি।
তারকাদের এই নজিরবিহীন সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান ট্রিসিয়া টাটল একটি রক্ষণাত্মক বিবৃতি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি তাঁর অবস্থানে অনড় থেকে বলেন যে, শিল্পীদের কাছ থেকে সব ধরনের জটিল রাজনৈতিক বিতর্কে মন্তব্য আশা করা উচিত নয়, বিশেষ করে যে বিষয়গুলো তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে তাঁর এই বক্তব্যে বিক্ষোভ আরও উসকে গেছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা। বিশ্বখ্যাত তারকাদের এই কঠোর অবস্থান ২০২৬ সালের বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবকে এক চরম ভাবমূর্তি সংকটের কেন্দ্রে ঠেলে দিয়েছে। চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের মতে, এই বিতর্ক কেবল বার্লিনেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি বৈশ্বিক অন্যান্য উৎসবেও শিল্পীদের নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন এক আলোচনার দ্বার উন্মোচন করল। সব মিলিয়ে, গাজা ইস্যু এখন সিনেমার রূপালি পর্দা ছাপিয়ে বার্লিনের রাজপথ ও গ্যালারিগুলোকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
ভারতীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী প্রবীণা দেশপাণ্ডে ক্যানসারের সাথে দীর্ঘ পাঁচ বছরের যুদ্ধ শেষে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মুম্বাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। হিন্দি ও মারাঠি উভয় ভাষার বিনোদন জগতেই অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় এই ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে দুই দেশেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গতকাল বিকেলেই মুম্বাইয়ে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
প্রবীণা দেশপাণ্ডের অভিনয় ক্যারিয়ার ছিল বৈচিত্র্যময়। তিনি বড় পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দায়ও অত্যন্ত সাবলীল পদচারণা বজায় রেখেছিলেন। সালমান খান অভিনীত ব্লকবাস্টার ছবি ‘রেডি’, অক্ষয় কুমারের ‘গব্বর’ এবং রিয়া চক্রবর্তী অভিনীত ‘জালেবি’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে ‘জালেবি’ ছবিতে শাশুড়ির চরিত্রে তাঁর শক্তিশালী উপস্থিতি সবার নজর কেড়েছিল। এছাড়া টেলিভিশন ধারাবাহিকের স্বর্ণযুগে ‘ঘর এক মন্দির’-এ তাঁর অভিনয় তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। প্রতিটি চরিত্রেই তিনি বাস্তবসম্মত অভিনয়ের মাধ্যমে প্রাণ সঞ্চার করতেন।
২০১৯ সালে প্রবীণার শরীরে ‘মাইলোমা’ নামক এক ধরনের রক্ত ক্যানসার ধরা পড়ে। তবে এই মারণরোগ তাঁর অভিনয়ের প্রতি নিবেদনকে বিন্দুমাত্র কমাতে পারেনি। অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণা ও অসুস্থতাকে সঙ্গী করেই তিনি গত পাঁচ বছর নিয়মিত কাজ করে গেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শুটিং ফ্লোরের সাথে তাঁর গভীর সখ্য ছিল। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি আবেগালুত হয়ে বলতেন যে, লাইট-ক্যামেরা আর অ্যাকশনের জগতই তাঁকে বেঁচে থাকার মানসিক শক্তি যোগায়। তাঁর এই অদম্য কর্মস্পৃহা পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন প্রবীণা। মনোজ বাজপেয়ীর জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘ফ্যামিলি ম্যান ৩’-এ খুব অল্প সময়ের জন্য পর্দায় এসেও তিনি তাঁর অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি ইমরান হাশমির সাথে ‘তস্করি’ নামক একটি সিরিজের কাজ শেষ করেছিলেন, যা তাঁর অভিনীত সর্বশেষ সৃষ্টি হিসেবে মুক্তি পাবে। গুণী এই শিল্পীর মৃত্যুতে তাঁর সহকর্মী ও অনুরাগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করছেন। সবাই তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন এবং ক্যানসারের বিরুদ্ধে তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ লড়াইকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছেন।
বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা হিসেবে যে প্রজেক্টটি ঘিরে দীর্ঘ দিন ধরে জল্পনা চলছিল, সেই ‘টাইগার ভার্সেস পাঠান’ নিয়ে এল এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুঃসংবাদ। একই পর্দায় দুই মহাতারকা শাহরুখ খান ও সালমান খানের ঐতিহাসিক লড়াই দেখার জন্য যখন বিশ্বজুড়ে ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন, ঠিক তখনই যশ রাজ ফিল্মসের এই মেগা প্রজেক্টটি স্থগিত করার খবর পাওয়া গেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আকাশচুম্বী নির্মাণ ব্যয় এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বাণিজ্যিক ঝুঁকির আশঙ্কায় প্রযোজনা সংস্থা আপাতত সিনেমাটির কাজ সামনে না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে বলিউডের বহুল প্রতীক্ষিত এই ‘স্পাই ইউনিভার্স’ সিনেমাটি নিয়ে এক গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সিনেমার প্রি-প্রোডাকশন বা প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ চলাকালীন ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব মেলাতে গিয়ে বড় ধরনের জটিলতা ধরা পড়ে। বিশেষ করে শাহরুখ খান ও সালমান খানের মতো বিশ্বখ্যাত দুই সুপারস্টারের পারিশ্রমিকই এই বাজেটের সিংহভাগ দখল করে আছে। গুঞ্জন রয়েছে, কেবল এই দুই অভিনেতার পারিশ্রমিক বাবদই প্রযোজনা সংস্থাকে খরচ করতে হতো প্রায় ২০০ কোটি রুপিরও বেশি। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল আন্তর্জাতিক বিভিন্ন লোকেশনে দীর্ঘ সময় ধরে শুটিংয়ের খরচ, হলিউড মানের দুর্ধর্ষ স্টান্ট এবং ব্যয়বহুল ভিএফএক্সের (VFX) বিশাল বাজেট। সবকিছু মিলিয়ে সিনেমার মোট খরচ এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা বর্তমানের অস্থিতিশীল বক্স অফিস পরিস্থিতিতে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি হতে পারে বলে মনে করছে প্রযোজক আদিত্য চোপড়ার প্রতিষ্ঠান।
মূলত শাহরুখ খানের ব্লকবাস্টার ‘পাঠান’ সিনেমার অভাবনীয় সাফল্যের পর এই ক্রসওভার সিনেমার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। করোনা-পরবর্তী সময়ে হিন্দি সিনেমার ব্যবসায় যখন চরম মন্দা চলছিল, তখন ‘পাঠান’ বিশ্বজুড়ে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করে ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছিল। সেই সাফল্যের রেশ ধরে টাইগার ও পাঠান চরিত্র দুটিকে মুখোমুখি করার মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন মাইলফলক স্পর্শ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন আদিত্য চোপড়া। কিন্তু বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে বড় বাজেটের সিনেমাগুলোর ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এবং নির্মাণ ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হলো যশ রাজ ফিল্মস।
তবে ভক্তদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলো এই যে, প্রকল্পটি একেবারে বাতিল বা ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়নি। প্রযোজনা সংস্থা বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও বাণিজ্যিক সমীকরণ অনুকূলে না আসা পর্যন্ত সিনেমাটির কাজ সাময়িকভাবে ‘পজ’ বা বিরতিতে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, আদিত্য চোপড়া হয়তো সঠিক সময়ের অপেক্ষায় আছেন যখন ব্যয়ের সাথে আয়ের একটি টেকসই ভারসাম্য তৈরি হবে। সঠিক সময়ে বাণিজ্যিক হিসাব মিলে গেলে ভবিষ্যতে আবারও টাইগার ও পাঠানের সেই কাঙ্ক্ষিত সংঘাত বড় পর্দায় দেখার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। আপাতত দুই মহাতারকার মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্নটি বড় বাজেটের বেড়াজালে আটকা পড়ে রইল।
বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন হলিউডের কালজয়ী অভিনেতা ও অস্কারজয়ী শিল্পী রবার্ট ডুভল। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। সোমবার রাতে সিএনএন-এর মাধ্যমে তাঁর স্ত্রী লুসিয়ানা পেদ্রাজা এই কিংবদন্তি অভিনেতার প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করেন। তাঁর প্রয়াণে বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও বিনোদন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৯৩১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মগ্রহণ করা রবার্ট ডুভল কেবল একজন অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন চলচ্চিত্রের এক জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। অভিনয়ে আসার আগে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে নিউইয়র্কে অভিনয়ের ওপর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। মজার বিষয় হলো, সেখানে তাঁর সহপাঠী ছিলেন ডাস্টিন হফম্যান ও জিন হ্যাকম্যানের মতো কালজয়ী তারকারা, যাঁদের সাথে মিলে তিনি হলিউডের এক নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন। ছয় দশকের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।
রবার্ট ডুভল বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি পান সর্বকালের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র ‘দ্য গডফাদার’-এ কর্লিওন পরিবারের অত্যন্ত বিচক্ষণ ও বিশ্বস্ত উপদেষ্টা ‘টম হ্যাগেন’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। তাঁর সেই শান্ত অথচ দৃঢ়তাপূর্ণ অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি আসে ১৯৮৩ সালে, যখন তিনি ‘টেন্ডার মার্সিস’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার একাডেমি অ্যাওয়ার্ড (অস্কার) লাভ করেন। ‘দ্য গডফাদার’ ছাড়াও তিনি ‘অ্যাপোক্যালিপস নাউ’, ‘টু কিল আ মকিংবার্ড’ এবং ‘লোনসাম ডাভ’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়ে গেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও তিনি মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন, যার প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর পরিচালিত ‘দ্য অ্যাপোস্টল’ ও ‘অ্যাসাসিনেশন ট্যাঙ্গো’ চলচ্চিত্রে।
ব্যক্তিগত জীবনে ডুভল ছিলেন অত্যন্ত নীতিবান ও স্পষ্টভাষী এক মানুষ। কাজের ক্ষেত্রে তিনি কখনোই আপস করেননি। বিশেষ করে ১৯৯০ সালে পারিশ্রমিক বৈষম্যের প্রতিবাদে তিনি ‘দ্য গডফাদার পার্ট থ্রি’-তে অভিনয় করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, যা সেই সময় হলিউডে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানজনক ‘ন্যাশনাল মেডেল অব আর্টস’ প্রদান করা হয়।
এই মহান অভিনেতার প্রয়াণে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা শেষকৃত্য অনুষ্ঠান হবে না। বরং তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানাতে ভক্তদের প্রতি বিশেষ এক অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা। পরিবার চায় ভক্তরা যেন তাঁর অভিনীত প্রিয় কোনো সিনেমা দেখেন অথবা বন্ধুদের সঙ্গে তাঁর সুন্দর কোনো কাজের গল্প শেয়ার করেন। এভাবেই পর্দা ও স্মৃতির পাতায় বেঁচে থাকবেন টম হ্যাগেন বা রবার্ট ডুভল। তাঁর প্রয়াণে হলিউডের একটি সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
দীর্ঘ সাত বছরের অনিশ্চয়তা আর প্রতীক্ষা কাটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে গুণী নির্মাতা নূরুল আলম আতিকের নতুন চলচ্চিত্র ‘মানুষের বাগান’। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড প্রযোজিত এই সিনেমাটি সম্প্রতি সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডের চূড়ান্ত ছাড়পত্র লাভ করেছে। ২০২৬ সালের প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে সেন্সর সার্টিফিকেট পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে এই সিনেমাটি। দীর্ঘ সময় আইনি ও সেন্সর জটিলতায় আটকে থাকার পর প্রাপ্ত এই ছাড়পত্র সিনেমাটির মুক্তি নিশ্চিত করেছে, যা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাঝে নতুন করে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
সিনেমাটির নির্মাণ ও সম্পাদনার কাজ মূলত ২০১৯ সালের শেষদিকেই সম্পন্ন করেছিলেন নূরুল আলম আতিক। তবে নানা আমলাতান্ত্রিক ও কারিগরি কারণে দীর্ঘ সাত বছর এটি সেন্সর বোর্ডে আটকে ছিল। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বছরের প্রথম সিনেমা হিসেবে সেন্সর সার্টিফিকেট পাওয়া ‘মানুষের বাগান’ এখন দর্শকদের সামনে আসার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। দ্রুতই একটি শুভ দিন দেখে প্রেক্ষাগৃহে এর মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে। নির্মাতা আতিকের প্রতিটি চলচ্চিত্রেই যেমন ভিন্নধর্মী গল্পের ছোঁয়া থাকে, এই সিনেমাটিও তার ব্যতিক্রম নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিনেমাটির মূল উপজীব্য হলো মানুষের সম্পর্কের গভীরতা এবং জীবনের নানা জটিল মোড়। চিত্রনাট্যে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন গল্পকে নিজস্ব জীবনদর্শনের আলোকে ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা। এই বিশাল আয়োজনে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন একঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পী, যাদের মধ্যে রয়েছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, মাহমুদ আলম, প্রসুন আজাদ, দিপান্বিতা মার্টিন, ইকবাল আহমেদ ও জয়রাজসহ আরও অনেকে। দক্ষ অভিনয়শিল্পীদের এই সম্মিলন সিনেমাটিকে ভিন্ন মাত্রা দেবে বলে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা মনে করছেন।
সিনেমাটির সংগীত বিভাগেও রয়েছে বড় চমক। ‘মানুষের বাগান’ শিরোনামের মূল গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘চিরকুট’। গানটির কথা লিখেছেন নাহিদুর রহমান আনন্দ, যিনি এর আগে চিরকুটের কালজয়ী গান ‘যাদুর শহর’-এর রচয়িতা হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন। গানের কথা ও চিরকুটের দরাজ কণ্ঠ সিনেমার আবহের সঙ্গে চমৎকার এক মেলবন্ধন তৈরি করেছে। আতিকের চলচ্চিত্রে গানের ব্যবহার সবসময়ই প্রশংসিত হয়, এবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ সময় পর সিনেমা মুক্তি পাওয়া নির্মাতা নূরুল আলম আতিকের জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে তাঁর আলোচিত সিনেমা ‘পেয়ারার সুবাস’ নির্মাণের আট বছর পর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘লাল মোরগের জুটি’, ‘ডুব সাঁতার’ ও ‘কিত্তনখোলা’, যা ঢালিউডে তাঁকে একজন মননশীল ও শক্তিশালী নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ‘মানুষের বাগান’ মুক্তির মাধ্যমে তাঁর সেই শৈল্পিক যাত্রায় আরও একটি নতুন পালক যুক্ত হতে যাচ্ছে। আপাতত দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বড় পর্দায় এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সিনেমাটি দেখার জন্য।
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ এবার আন্তর্জাতিক আঙিনায় নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পুরোপুরি প্রস্তুত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জানা গেল তাঁর অভিনীত প্রথম বলিউড ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’-র মুক্তির চূড়ান্ত তারিখ। আগামী ১৯ মার্চ থেকে জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘সনি লিভ’ (Sony LIV)-এ বিশ্বব্যাপী সিরিজটি স্ট্রিমিং শুরু হবে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে অভিনেতা তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের স্টোরিতে একটি জাঁকজমকপূর্ণ পোস্টার শেয়ার করে এই বিশেষ খবরটি ভক্তদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন। পোস্টার ও টিজার প্রকাশের পর থেকেই সিরিজটি নিয়ে দুই বাংলার দর্শকদের মাঝে এক অভূতপূর্ব আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রকাশিত নতুন পোস্টারটিতে সত্তর দশকের এক বর্ণিল ও ধ্রুপদী আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পোস্টারের ঠিক মাঝখানে স্পটলাইটের নিচে দাঁড়িয়ে আছেন আরিফিন শুভ, যার পরনে রয়েছে সাদা টাক্সিডো, কালো বো-টাই এবং আভিজাত্যে ঘেরা ট্রাউজার। শুভর এই রেট্রো লুক ভক্তদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। পোস্টারে তাঁর সামনে থাকা মাইক্রোফোন এবং পেছনে পিয়ানোতে মগ্ন এক গ্ল্যামারাস নারীর উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, সিরিজের গল্পটি সংগীত ও গ্ল্যামার জগতকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে। তবে কেবল সুরের মূর্ছনা নয়, পোস্টারের এক পাশে বন্দুকধারী পুলিশ ও ধ্বংসস্তূপের ছবি বারুদের গন্ধমাখা এক উত্তাল সময়ের সংঘাত ও রহস্যময় আখ্যানের পূর্বাভাস দিচ্ছে।
ভারতীয় খ্যাতিমান নির্মাতা সৌমিক সেনের পরিচালনায় এই সিরিজে আরিফিন শুভকে দেখা যাবে ‘জিমি রায়’ নামক একটি কেন্দ্রীয় চরিত্রে। এর আগে প্রকাশিত টিজারে শুভর সত্তর দশকের সেই চনমনে ভাব, আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গি এবং ধূসর রঙের স্যুটে ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ অবতার ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। টিজারে শুভর সাবলীল হিন্দি সংলাপ এবং পর্দার উপস্থিতি দেখে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন যে, বলিউডের মাটিতে নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিতে যাচ্ছেন এই বাংলাদেশী তারকা। সিরিজে শুভর বিপরীতে রসায়ন জমাবেন কলকাতার প্রতিভাবান অভিনেত্রী সৌরসেনী মৈত্র। এছাড়া এতে ভারত ও বাংলাদেশের একঝাঁক অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীকে দেখা যাবে।
সনি লিভের এই মেগা প্রজেক্টটি আরিফিন শুভর ক্যারিয়ারে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সত্তর দশকের বোম্বাইয়ের জ্যাজ সংগীতের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কোনো রহস্য বা উত্তেজনার গল্পই এই সিরিজের মূল উপজীব্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুভ তাঁর কাজের প্রতি নিষ্ঠা আর সত্তর দশকের সেই বিশেষ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য ইতিমধ্যে নেটিজেনদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এখন কেবল ১৯ মার্চের অপেক্ষা, যখন দর্শকরা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘জিমি রায়’ হিসেবে শুভর জাদুকরী অভিনয় উপভোগ করতে পারবেন। শুভর এই সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশী শিল্পীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আদিত্য ধর পরিচালিত এবং রণবীর সিং অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ধুরন্ধর টু’ মুক্তির আগেই বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছে। শুটিং সেটে নজিরবিহীন নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘন এবং একাধিক অনিয়মের দায়ে নির্মাতা আদিত্য ধরের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘বি সিক্সটি টু স্টুডিওস’-কে কালো তালিকাভুক্ত বা ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি)। একই সঙ্গে এই সংস্থাকে এক লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়েছে। দক্ষিণ মুম্বাইয়ের অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকায় শুটিং চলাকালীন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করার ফলে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, গত ৩০ জানুয়ারি থেকে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের ব্যস্ততম ফোর্ট এলাকায় ‘ধুরন্ধর টু’ সিনেমার দৃশ্যধারণের কাজ শুরু হয়। ওই এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতির কারণে উচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ উঠেছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তোয়াক্কা না করেই শুটিং টিম সেখানে ড্রোন ব্যবহার করেছে, যা আইনত দণ্ডনীয়। এছাড়া বিএমসিকে পূর্বাহ্নে কোনো তথ্য না জানিয়েই বারবার শুটিং স্পট পরিবর্তন করা হয়েছে। সেটে রান্নার কাজে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকির সৃষ্টি করেছিল বলে মনে করছে নগর কর্তৃপক্ষ।
বিএমসির ‘এ’ ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছেন যে, শুটিং টিমকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তারা নিয়মনীতির প্রতি চরম উদাসীনতা প্রদর্শন করেছে। এর ফলে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রযোজনা সংস্থাটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডেপুটি মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগে অবৈধভাবে ড্রোন উড়ানোর অভিযোগে মুম্বাই পুলিশ সিনেমার লোকেশন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেছে। বিএমসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়ম অমান্য করার এই প্রবণতা বন্ধ করতেই তারা ‘বি সিক্সটি টু স্টুডিওস’-কে কালো তালিকাভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রদান করা হবে।
আগামী ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ব্লকবাস্টার ‘ধুরন্ধর’-এর এই সিক্যুয়েল। সম্প্রতি প্রকাশিত টিজারে রণবীর সিংয়ের ‘হামজা আলি’ চরিত্রটি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করলেও বর্তমানের এই আইনি বিতর্ক সিনেমার ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সিনেমায় রণবীর সিং ছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে শক্তিমান অভিনেতা সঞ্জয় দত্তকে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মুক্তির মাত্র এক মাস আগে এমন নজিরবিহীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা সিনেমার প্রচারণায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রযোজনা সংস্থাটি এখন কীভাবে এই আইনি সংকট কাটিয়ে ওঠে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী দীর্ঘ তিন বছর ধরে বড় পর্দা থেকে দূরে থাকলেও আবারও অভিনয়ে ফিরছেন তাঁর নতুন সিনেমা ‘অর্ধাঙ্গিনী’র মাধ্যমে। তবে আলোচিত এই সিনেমাটি প্রথাগত কোনো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না পেয়ে সরাসরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে। নির্মাতা সৈয়দ আর ইমন পরিচালিত এই সিনেমাটি সম্পূর্ণভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মনোরম সব লোকেশনে চিত্রায়িত হয়েছে। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পর মৌসুমী অভিনীত এই নতুন কাজটি নিয়ে তাঁর ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
সিনেমাটির নির্মাণ প্রক্রিয়ায় একটি বৈচিত্র্য রয়েছে যা সচরাচর দেখা যায় না। নির্মাতা সৈয়দ আর ইমনের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অর্ধাঙ্গিনী’র কাজ মূলত একটি টেলিফিল্ম হিসেবে শুরু হয়েছিল। তবে নির্মাণের পর এর বিষয়বস্তু এবং শৈল্পিক মান বিবেচনা করে সেটিকে সম্পাদনার মাধ্যমে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত এক বিশেষ প্রিমিয়ার শো-তে এর ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট দৈর্ঘ্যের একটি সংস্করণ প্রদর্শিত হয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সিনেমাটি ২০২৪ সালেই মুক্তি দেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিদেশের হল প্রাপ্তিতে কিছু জটিলতা তৈরি হওয়ায় মুক্তির সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়।
মানবিক সম্পর্ক, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং আধুনিক জীবনের আত্মকেন্দ্রিকতার সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ‘অর্ধাঙ্গিনী’র কাহিনী। মৌসুমীর পাশাপাশি এই সিনেমায় আরও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তরিকুল ইসলাম মিঠু, জলি আহমেদ ও সারোয়ার প্রেমেল। সিনেমার প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন তরিকুল ইসলাম মিঠু এবং সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মেহেদী হাসান তামজিদ। প্রবাস জীবনের বিভিন্ন সামাজিক জটিলতা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন এই সিনেমার মূল উপজীব্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জানা গেছে যে, ‘অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী দর্শকদের জন্য ‘বিডিফিল্মস ইউএসএ’ নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে উন্মুক্ত করা হবে। বড় পর্দার বদলে ইউটিউবে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্মাতা ও প্রযোজক জানান, প্রযুক্তির এই যুগে দর্শকদের কাছে দ্রুত ও সহজে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই তারা এই মাধ্যমটিকে বেছে নিয়েছেন। দীর্ঘদিন পর প্রিয় নায়িকাকে নতুন কোনো চরিত্রে দেখার অপেক্ষায় থাকা বাংলা সিনেমার দর্শকদের জন্য এই খবরটি একটি বিশেষ প্রাপ্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। খুব শীঘ্রই
গাজায় চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জুরিবোর্ডের সদস্যদের বিতর্কিত ও উদাসীন মন্তব্যের প্রতিবাদে উৎসব বর্জনের ডাক দিয়েছেন বিশ্বখ্যাত ভারতীয় লেখিকা ও মানবাধিকার কর্মী অরুন্ধতী রায়। গত শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়্যার'-এ প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। অরুন্ধতী রায় স্পষ্ট করেছেন যে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা ‘গণহত্যা’ নিয়ে জুরি সদস্যদের উদাসীনতা এবং ‘শিল্পের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক থাকা উচিত নয়’—এমন অবস্থান তাঁকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে। তাঁর এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র ও মানবাধিকার অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার উৎসবের উদ্বোধনী সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে জুরিবোর্ডের প্রধান ও প্রখ্যাত জার্মান পরিচালক উইম ওয়েন্ডার্সকে গাজা যুদ্ধে জার্মানির একপাক্ষিক সমর্থন এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এর এক বিতর্কিত উত্তর দেন। ওয়েন্ডার্স মন্তব্য করেন যে, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সরাসরি রাজনীতি থেকে দূরে থাকা উচিত এবং রাজনীতির মাঠে ঢোকা তাঁদের কাজ নয়। তাঁর সুরেই কথা বলেন জুরিবোর্ডের আরেক সদস্য পোলিশ প্রযোজক ইওয়া পুসজিনস্কা। তিনি ফিলিস্তিন বিষয়ক প্রশ্নটিকে ‘অন্যায্য’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে বিশ্বের আরও অনেক স্থানে গণহত্যা ঘটলেও তা নিয়ে সমপর্যায়ের আলোচনা হয় না। জুরিদের এমন অবস্থানকে মানবতার বিরুদ্ধে চলমান অপরাধকে আড়াল করার কৌশল হিসেবে দেখছেন অরুন্ধতী রায়।
বিবৃতিতে অরুন্ধতী রায় জুরি সদস্যদের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, যখন চোখের সামনে একটি জাতির ওপর প্রকাশ্য গণহত্যা চালানো হচ্ছে, তখন শিল্পীদের নীরব থাকা বা নিরপেক্ষতার দোহাই দেওয়া কার্যত অপরাধীদের পক্ষ নেওয়ারই নামান্তর। তিনি মনে করেন, শিল্পী ও লেখকদের উচিত তাঁদের মেধা ও শিল্পকে মানুষের অধিকার রক্ষায় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা। অরুন্ধতী রায়ের মতে, গাজায় ইসরায়েলের এই নৃশংসতায় যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো শক্তিশালী দেশগুলো সরাসরি মদদ দিচ্ছে, আর সেই দেশের মাটিতে আয়োজিত উৎসবে শিল্পের অরাজনৈতিক হওয়ার দাবি মূলত এক ধরনের ভণ্ডামি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সময় শিল্পের রাজনৈতিক হওয়াটা কেবল প্রয়োজনই নয়, বরং এটি নৈতিক দায়িত্ব।
উল্লেখ্য যে, অরুন্ধতী রায়ের চিত্রনাট্য ও অভিনয়ে ১৯৮৯ সালে নির্মিত কালজয়ী চলচ্চিত্র 'ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট দোজ ওয়ানস' এবারের বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের সম্মানজনক ‘বার্লিনেল ক্ল্যাসিক’ বিভাগে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল। ১২ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত এই উৎসবে সশরীরে উপস্থিত থেকে নিজের ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের নীতিগত অবস্থানে অটল থেকে তিনি উৎসবের সমস্ত কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। অরুন্ধতী রায়ের এই সাহসী পদক্ষেপ গাজা ইস্যুতে বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক মহলে চলমান প্রতিবাদের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে। এর ফলে উৎসবের ভাবমূর্তি ও শিল্পীদের দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় দীর্ঘ সময় ধরে দিল্লির মান্ডোলি কারাগারে বন্দি থাকলেও বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের প্রতি নিজের অনুরাগের প্রকাশে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়তে দেননি বিতর্কিত ব্যবসায়ী সুকেশ চন্দ্রশেখর। এবারের বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে কারান্তরীণ এই ব্যবসায়ী জ্যাকলিনকে একটি অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল হেলিকপ্টার উপহার দিয়ে বিনোদন জগতে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। উপহারের পাশাপাশি তিনি কারাগার থেকে একটি আবেগঘন প্রেমপত্রও পাঠিয়েছেন, যেখানে জ্যাকলিনের প্রতি তাঁর গভীর মমতা ও একাকিত্বের কথা ফুটে উঠেছে।
সুকেশের পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি জ্যাকলিনকে তাঁর চিরচেনা ‘বেবি বম্মা’ সম্বোধন করে লিখেছেন যে, দীর্ঘদিন এই অভিনেত্রীকে কাছে না পেয়ে তাঁর জীবন এখন মরুভূমিতে পথ হারানো কোনো তৃষ্ণার্থ মানুষের মতো হয়ে পড়েছে। ভালোবাসা দিবসের বিশেষ চমক হিসেবে পাঠানো এই কালো রঙের হেলিকপ্টারটির গায়ে জ্যাকলিনের নামের আদ্যক্ষর বিশেষভাবে খোদাই করা হয়েছে। সুকেশ তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, মুম্বাইয়ের তীব্র যানজটে জ্যাকলিনকে যেন আর কষ্ট পেতে না হয় এবং তিনি যেন দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারেন, সেই ভাবনা থেকেই এই বিশেষ উপহারের আয়োজন।
তবে এই দামি উপহার নিয়ে আইনি মহলে জল্পনা তৈরি হতে পারে ভেবে সুকেশ তাঁর চিঠিতে একটি বিশেষ ব্যাখ্যাও যোগ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই হেলিকপ্টারটি তিনি কোনো অপরাধলব্ধ বা দুর্নীতির অর্থ দিয়ে ক্রয় করেননি, বরং এটি তাঁর নিজের ‘কষ্টার্জিত’ সৎ উপার্জন দিয়ে কেনা। এর আগে বিভিন্ন উৎসবে জ্যাকলিনকে হীরা ও দামী ব্র্যান্ডের গাড়ি উপহার দিয়ে সিবিআই ও ইডির নজরদারিতে এসেছিলেন সুকেশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই হেলিকপ্টার উপহারের খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেমন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে, তেমনি জ্যাকলিনের আইনি লড়াইয়ে এটি কোনো নতুন জটিলতা তৈরি করবে কি না, তা নিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চলছে নানা বিশ্লেষণ। যদিও জ্যাকলিন এখন পর্যন্ত এই উপহার বা সুকেশের চিঠির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।