দেশীয় শোবিজের সু-অভিনেত্রীদের একজন অপি করিম। তার মিষ্টি হাসি, মায়াবী চাহনি আর নিখাদ অভিনয়শৈলীর মুগ্ধতায় হারিয়ে যাননি, এমন দর্শক খুঁজে পাওয়া ভার। তবে তার বিরুদ্ধে বরাবরই অভিযোগ অভিনয়ে নিয়মিত নন এই নন্দিত অভিনেত্রী। তবে ভালো গল্প পেলে নাটক, টেলিফিল্ম, বিজ্ঞাপনচিত্র কিংবা ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেন এই অভিনেত্রী। অপি করিম বুয়েটে শিক্ষকতা করছেন। অভিনয়, শিক্ষকতা ও সংসার নিয়ে নানামুখী ব্যস্ততা রয়েছে এ অভিনেত্রীর।
এবার নতুন একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ করলেন অপি করিম। তার সঙ্গে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন নবাগত মডেল ও অভিনেতা আরেফিন জিলানী। আদনান আল রাজীবের পরিচালনায় ম্যাগি স্যুপের বিজ্ঞাপনটির কাজ শেষ করেছেন সম্প্রতি। কিছুদিনের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিজ্ঞাপনচিত্রটি সম্প্রচারিত হবে।
এ সম্পর্কে অপি করিম জানান, ‘বিজ্ঞাপনটির কাজ ভালো হয়েছে। আদনান আল রাজীব খুব যত্ন করে কাজটি করেছেন। তরুণ মডেল অভিনেতা জিলানীও বেশ ভালো কাজ করেছে। সব মিলিয়ে বিজ্ঞাপনটি দর্শকদের ভালো লাগবে।’
অপি করিমের সঙ্গে কাজ করতে পেরে বেশ আনন্দিত জিলানী। তিনি বলেন, ‘অপি করিম আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন অভিনেত্রী। তার সঙ্গে জীবনে প্রথম কাজ করার সুযোগ পেলাম। এক অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী তিনি। শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হলো, সুযোগ হলো তার শিক্ষাজীবন নিয়ে অর্থাৎ বুয়েটে পড়াশোনা করার সুযোগ পাওয়াসহ আরও নানান বিষয়ে কথা বলার। তিনি আমাকেও নতুন হিসেবে অনুপ্রেরণা দিলেন। সময়টা আমার কাছে ভীষণ উপভোগ্য ছিল। আশা করছি বিজ্ঞাপনটি সবার ভালো লাগবে।’
এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সহিংসতায় শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপি করিম লিখেছেন, ‘আমি সালাম, রফিক, জব্বারদের দেখিনি। তবে আসিফ, রাফি, আদনান, সাঈদ, ওয়াসিমদের দেখেছি।’ সেই সঙ্গে কালো রঙের একটি ব্যানার পোস্ট করেছেন।
অপি করিম অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘মায়ার জঞ্জাল’। এ সিনেমার মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর অপি প্রেক্ষাগৃহে ফিরেছেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একযোগে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। এতে অপি করিমের বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী।
ওপার বাংলার চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের অন্যতম পরিচিত মুখ, বরেণ্য অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরী আর নেই। সোমবার ভোররাতে ঘুমের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে টলিউড এবং নাট্যপাড়ায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মঞ্চ এবং রুপালি পর্দায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করা এই অভিনেতার প্রস্থানকে বাংলা চলচ্চিত্রের এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন তাঁর সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস থাকলেও আজ সকালে দেরি হওয়ায় পরিচারিকা তাঁকে ডাকতে যান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরেও কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক এসে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জনপ্রিয় অভিনেতা দেবদূত ঘোষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথম এই শোকবার্তাটি প্রচার করেন। তিনি গভীর সমবেদনা জানিয়ে লেখেন, অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরী কোনো প্রকার শারীরিক কষ্ট ছাড়াই ঘুমের মধ্যে চিরতরে পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।
ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগের জটিলতায় ভুগছিলেন তমাল রায়চৌধুরী। তাঁর শারীরিক অসুস্থতা এতটাই ছিল যে হার্টে পেসমেকারও বসাতে হয়েছিল। মূলত এই শারীরিক প্রতিকূলতার কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিনয় জগত থেকে তিনি অনেকটা দূরে সরে ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর কারণ হার্ট ফেইলর বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া।
অভিনয় জীবনে তমাল রায়চৌধুরী অসংখ্য কালজয়ী কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ থেকে শুরু করে ‘চ্যালেঞ্জ’, সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘জাতিস্মর’, এবং নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘রামধনু’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। এছাড়া ‘চাঁদের পাহাড়’ ও ‘অ্যামাজন অভিযান’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবিতেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। বড় পর্দায় তাঁকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল তথাগত মুখোপাধ্যায়ের ফ্যান্টাসি ফিল্ম ‘ভটভটি’-তে।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ বিকেল ৪টায় অভিনেতার মরদেহ শেষ শ্রদ্ধার জন্য কলকাতার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে চলচ্চিত্র জগতের সকল কলাকুশলী ও ভক্তরা তাঁকে শেষ বিদায় জানাবেন। এরপর কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। বিনয়ী স্বভাব আর অভিনয়ের অসামান্য দক্ষতা দিয়ে তিনি যে উত্তরাধিকার রেখে গেলেন, তা চিরকাল বাংলা সিনেমার ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
বর্তমান সময়ে ভারতীয় সংগীতের আঙিনায় একক আধিপত্য বজায় রাখছেন মেলোডি কুইনখ্যাত গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল। কেবল কণ্ঠের জাদুই নয়, বরং আকাশচুম্বী পারিশ্রমিক নিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন এই শিল্পী। বিভিন্ন আর্থিক ও বিনোদন ভিত্তিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শ্রেয়া ঘোষাল এখন প্রতিটি গান রেকর্ডিংয়ের জন্য ২৫ থেকে ৩০ লাখ রুপি পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে তিনি এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ার নারী সংগীতশিল্পীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানী পাওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। আর্থিক বিবেচনায় ভারতের সংগীত জগতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সংগীত পরিচালক এ আর রহমানের ঠিক পরেই এখন তাঁর অবস্থান, আর নারী শিল্পীদের তালিকায় সুনিধি চৌহানকে পেছনে ফেলে তিনি শীর্ষস্থান দখল করে আছেন।
শ্রেয়ার এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের শুরুটা হয়েছিল অত্যন্ত সাদামাটাভাবে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে রিয়ালিটি শো ‘সারেগামাপা’-তে অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে সংগীতে তাঁর যাত্রা শুরু। সেখানে তাঁর অসামান্য মেধা দেখে মুগ্ধ হন খ্যাতিমান নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালি। পরবর্তীতে তাঁর হাত ধরেই ‘দেবদাস’ সিনেমার গানে প্লেব্যাক করার সুবর্ণ সুযোগ পান এবং রাতারাতি ভারতসহ পুরো বিশ্বের সংগীতপ্রেমীদের প্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। দীর্ঘ দুই দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি বাংলা, হিন্দি ও দক্ষিণ ভারতীয় ভাষাসহ প্রায় ২০টি ভাষায় ৩ হাজারেরও বেশি গান উপহার দিয়েছেন। প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নির্মাতা ও সংগীত পরিচালকদের প্রধান পছন্দের নাম এখন শ্রেয়া ঘোষাল।
চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বড় বড় কনসার্ট বা স্টেজ শো এবং জনপ্রিয় সব রিয়ালিটি শো-তে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেও বিপুল অংকের অর্থ উপার্জন করেন এই তারকা। তাঁর দীর্ঘ পরিশ্রমের ফল হিসেবে বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪০ কোটি রুপি। যাপনের ক্ষেত্রেও আভিজাত্যের ছাপ রেখেছেন শ্রেয়া। ভারতের প্রধান দুই বাণিজ্যিক শহর মুম্বাই ও কলকাতায় তাঁর নিজস্ব বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বাড়ি রয়েছে। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে বিএমডব্লিউ ৫ সিরিজ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ ও রেঞ্জ রোভার স্পোর্টের মতো বিশ্বের নামী দামী সব ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল গাড়ি।
পেশাগত জীবনে আকাশচুম্বী সফলতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও সুখী একজন মানুষ শ্রেয়া। ২০১৫ সালে তাঁর দীর্ঘদিনের বাল্যবন্ধু শিলাদিত্য সান্যালের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাঁদের সুখী দাম্পত্যে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। নিজের কর্মনিষ্ঠা আর শৃঙ্খলার মাধ্যমে একজন উঠতি কিশোরী গায়িকা থেকে যেভাবে নিজেকে বর্তমান সময়ের সর্বোচ্চ সম্পদশালী ও জনপ্রিয় নারীতে পরিণত করেছেন, তা নবীন শিল্পীদের কাছে বড় এক অনুপ্রেরণা। উপমহাদেশীয় সংগীতে শ্রেয়া ঘোষাল কেবল একটি নাম নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন বললেও ভুল হবে না।
বলিউড সুপারস্টার রণবীর সিং অভিনীত বছরের অন্যতম আলোচিত এবং প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ধুরন্ধর টু: দ্য রিভেঞ্জ’ মুক্তির আগেই বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড়ের আভাস দিচ্ছে। আগামী ১৯ মার্চ সিনেমাটি বড় পর্দায় আসার কথা থাকলেও এর আগেই অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে এটি। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির ৯ দিন আগেই ভারতজুড়ে সিনেমাটি অগ্রিম বুকিং থেকে ২০ কোটি টাকার বেশি আয় করে নিয়েছে। রুদ্ধশ্বাস অ্যাকশন আর টানটান উত্তেজনার গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমাটি দর্শকহৃদয়ে কতটা প্রভাব ফেলেছে, এই নজিরবিহীন অগ্রিম বুকিংই তার প্রমাণ দিচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সিনেমাটি এখন পর্যন্ত সরাসরি টিকিট বিক্রি থেকে প্রায় ১৪ কোটি ৬৯ লাখ রুপি আয় করেছে, যা প্রেক্ষাগৃহের সংরক্ষিত বা ব্লক করা আসনসহ ২০ কোটি ৩২ লাখ রুপি ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছেন। বরাবরের মতোই সবচেয়ে বেশি সাড়া মিলছে হিন্দি সংস্করণ থেকে, যা থেকে আয়ের পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি ৩৭ লাখ রুপি। দেশজুড়ে ৭ হাজার ৮৯০টি শো নিয়ে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের, যা বর্তমান সময়ের হিন্দি চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপটে একটি বিশাল পরিসর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরেকটি মজার দিক হলো এই সিনেমার টিকিটের দামে রাখা বড় ধরণের বৈচিত্র্য। শহর ভেদে এবং আসন বিন্যাস অনুযায়ী টিকেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে একেবারেই আলাদাভাবে। মুম্বাইয়ের মতো ব্যয়বহুল শহরে একটি প্রিমিয়াম বা আরামদায়ক সিটের টিকিট দাম ৩ হাজার রুপি পর্যন্ত ছুঁয়েছে, যা উচ্চবিত্ত দর্শকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে রাখা হয়েছে। আবার অন্যদিকে চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে মাত্র ৬০ রুপির মতো সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ দর্শকরা এই ব্লকবাস্টার মুভিটি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। নির্মাতাদের এমন বহুমুখী দাম নির্ধারণ পদ্ধতি সব শ্রেণির দর্শককে হলমুখী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধুমাত্র উত্তর ভারতেই নয়, সিনেমাটি ঘিরে দক্ষিণ ভারতেও ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মূল হিন্দি ভাষার পাশাপাশি ‘ধুরন্ধর টু’ তামিল, তেলেগু, কন্নড় ও মালয়ালম ভাষায় একযোগে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ভারতের প্রতিটি প্রান্তেই এর জয়গান ছড়িয়ে দেওয়াই এখন বিপণন দলের মূল লক্ষ্য। প্রথম কিস্তির অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার রণবীরের বিধ্বংসী লুকে এবং শ্বাসরুদ্ধকর চিত্রনাট্যে নির্মিত দ্বিতীয় পর্বটি যে বড় পর্দার বাণিজ্যিক ইতিহাস ওলটপালট করে দিতে প্রস্তুত, প্রাথমিক লক্ষণগুলো সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। সব মিলিয়ে ১৯ মার্চ এক মহাধামাকা দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন বিশ্বজুড়ে রণবীর ভক্তরা।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ডজনখানেক সিনেমা মুক্তির জোর সম্ভাবনা তৈরি হলেও সময়ের সাথে সাথে সেই তালিকা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। বিশেষ করে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও অভিনেতা আব্দুন নূর সজলের বহু প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘দুর্বার’ মুক্তি নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ঢালিউড পাড়ায় জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, দীর্ঘ দুই বছর পর বড় পর্দায় ফেরার অপেক্ষায় থাকা এই নায়িকার সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত ঈদের এই হাই-ভোল্টেজ প্রতিযোগিতামূলক লড়াই থেকে ছিটকে যেতে পারে। মূলত প্রচারহীনতা এবং সংশ্লিষ্টদের অনাগ্রহই এই জল্পনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
যেখানে এই ঈদে মুক্তির তালিকায় থাকা ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘প্রেশার কুকার’ ও ‘পিনিক’-এর মতো সিনেমাগুলো বড় বড় প্রজেক্ট নিয়ে সরব প্রচারণা চালাচ্ছে, সেখানে ‘দুর্বার’ ঘিরে এখনো সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের মতে, প্রচারের এই অনুপস্থিতি মূলত মুক্তির অনিশ্চয়তাকেই ইঙ্গিত দেয়। বড় বাজেটের ছবিগুলোর সাথে হলের প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারার শঙ্কা থেকে অনেক নির্মাতা শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে অপুর এই ছবিটির ওপরেও।
সিনেমাটির মুক্তি প্রসঙ্গে পরিচালক কামরুল হাসান ফুয়াদ সম্প্রতি জানিয়েছেন যে বর্তমানে তাঁরা সম্পাদনার কাজে ব্যস্ত আছেন। তবে এডিটিং টেবিলে থাকা ছবিটি ঈদে বড় পর্দায় আসার জন্য কতটুকু প্রস্তুত এবং সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ আছে কি না—সেই প্রশ্নে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি। অন্যদিকে অপু বিশ্বাস নিজেও তাঁর আসন্ন ফেরার পথে আশার আলো দেখছেন না। সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছুটা নিস্পৃহতা দেখিয়ে জানিয়েছেন, সিনেমাটি আসার বিষয়ে বড় কোনো পরিকল্পনা থাকলেও শেষ সিদ্ধান্ত তাঁর হাতে নয়। প্রোডাকশন হাউস তাদের ইচ্ছেমতো ছবি মুক্তির সময় নির্ধারণ করে, তাই এবারের ঈদে দর্শকরা ‘দুর্বার’ দেখার সুযোগ পাবেন কি না, সেটিও অনিশ্চিত।
চিত্রনায়িকা অপুর এই মন্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্ভবত একধরণের সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। বড় পর্দায় ফেরার এক দারুণ মোক্ষম সুযোগ হতে পারত ঈদুল ফিতর, কিন্তু প্রচারণা না থাকায় সেই সম্ভাবনা প্রায় ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। অপুর দীর্ঘদিনের ভক্তরা এই সংবাদের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের হতাশার কথা প্রকাশ করছেন। সব মিলিয়ে ‘দুর্বার’ এর মুক্তি ঘিরে যে কুয়াশা তৈরি হয়েছে, তা ঈদে মুক্তি পাওয়া অন্যান্য ছবির ভিড়ে অপু বিশ্বাসকে এক অনিশ্চিত অবস্থানে ফেলে দিয়েছে।
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন উন্মাদনা ছড়িয়েছে ‘দম’ সিনেমার প্রথম ঝলক বা ফার্স্ট লুক। গতকাল দুপুরে ৫৪ সেকেন্ডের একটি রুদ্ধশ্বাস টিজার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই এটি নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ভিডিওটির একদম শেষ দৃশ্যে অভিনেতা আফরান নিশোর দেওয়া একটি সংলাপে মজেছেন দর্শকরা। নির্মাতা রেদওয়ান রনির পরিচালনায় এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি ও এসভিএফ আলফা-আইয়ের প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবিটি এবার ঈদে অন্যতম সেরা চমক হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রকাশিত ফার্স্ট লুকের শুরুটা বেশ ছিমছাম হলেও দ্রুতই তা গম্ভীর হয়ে ওঠে। পাহাড় ঘেরা শান্ত মনোরম প্রান্তর, সূর্যোদয়ের মায়াবী আলোর নিচে হঠাৎ এক নিঃসঙ্গ মানুষের বিচরণ—এমন শান্ত দৃশ্যপট খুব দ্রুতই বদলে যায় বিপদের অশনিতে। অদৃশ্য কোনো শক্তির তাড়া আর ভারী মারণাস্ত্র হাতে বাহিনীর উপস্থিতিতে টিজার জুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। প্রতিটি ফ্রেমে যেন বাঁচার জন্য এক অসম লড়াইয়ের সংকেত দেওয়া হয়েছে। এতে দৃশ্যমান হয়েছে জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী এবং পূজা চেরীর গুরুত্বপূর্ণ সব লুক, যা নিয়ে ইতিমধেই সিনেমা প্রেমীদের মাঝে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
টিজারে পুরোটা সময় ক্লান্ত, বিধ্বস্ত ও শংকিত চেহারায় দেখা গেছে নিশোকে, যা তাঁর আগের কাজগুলো থেকে অনেকটাই ভিন্ন। বিপরীতে পূজা চেরীর চাহনিতে ছিল অনিশ্চয়তা এবং চঞ্চল চৌধুরীকে দেখা গেছে তীব্র বিস্ময় আর আতঙ্ক নিয়ে। ভিডিওর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল আফরান নিশোর গম্ভীর কণ্ঠের একমাত্র সংলাপ— ‘আমি শাজাহান ইসলাম নূর, বাংলাদেশী মুসলমান, মনে রাইখ’। ছোট এই বাক্যটি যেন পুরো ছবির মূল আকর্ষণ ও বীরত্বের আভাস হিসেবে ধরা দিয়েছে। দর্শকদের মতে, এই একটি সংলাপই দম সিনেমাকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিনেমাটি নিয়ে নির্মাতা রেদওয়ান রনি বলেন, দুর্গম ও বিরূপ লোকেশনে দৃশ্যধারণের মাধ্যমে তিনি নতুন ঘরানার এক অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ‘দম’ সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এবং আড়াই বছর ধরে তিলে তিলে এই প্রজেক্টটি গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল। ‘আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ’ স্লোগানকে পুঁজি করে নির্মিত এই ছবিটিতে শাজাহান ইসলাম নূর চরিত্রে অভিনয় করা নিশো একে একটি গভীর ইমোশনাল ও সারভাইভাল স্টোরি হিসেবে অভিহিত করেছেন। সব মিলিয়ে ঈদ মৌসুমে ‘দম’ যে দর্শকদের হলমুখী করার শক্ত সামর্থ্য রাখে, প্রথম ঝলকেই তার বলিষ্ঠ ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন নির্মাতারা।
কলকাতার মালবাজারের সাধারণ এক মানুষ থেকে বিশ্বখ্যাত ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’ হয়ে ওঠার অবিশ্বাস্য ও অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনকাহিনী নিয়ে নির্মিত হচ্ছে টলিউড মেগাস্টার দেবের ৫০তম চলচ্চিত্র। তবে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বিশেষ লগ্নে এই ছবির নির্মাতারা সকল আলো কেড়ে নিলেন করিমুল হকের জীবনের সেই মূল শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, যিনি দীর্ঘ কয়েক দশকের সংগ্রাম আর পথচলায় সবসময় স্বামীর পাশে ছায়ার মতো ছিলেন। তিনি করিমুল হকের স্ত্রী ‘অঞ্জু’, যাঁর চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র। গত শুক্রবার সকালে দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চারসের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রুক্মিণীর সেই কাঙ্ক্ষিত লুকটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়।
প্রকাশিত ছবিতে রুক্মিণীকে দেখা গেছে অত্যন্ত স্নিগ্ধ ও সরল এক গ্রামীণ গৃহবধূর অবতারে। ভারী মেকআপ ছাড়াই সাধারণ সুতির শাড়িতে তাঁর সেই শান্ত চাহনি চরিত্রটির গভীরতা ফুটিয়ে তুলেছে। পোস্টের ক্যাপশনে নির্মাতারা অঞ্জুকে বর্ণনা করেছেন একজন ‘নিবেদিত প্রাণ’ নারী হিসেবে। সেখানে অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অঞ্জুর নিঃশব্দ সমর্থন আর অমূল্য ত্যাগ ছাড়া হয়তো করিমুল হকের এই মহান সমাজসেবা বা বিশ্বজুড়ে তাঁর এই পরিচিতি কখনোই সম্ভব হতো না। তাঁর নীরব সাহচর্যের মধ্য দিয়েই করিমুল হক মানুষের সেবা করার মনোবল খুঁজে পেয়েছেন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে অঞ্জুর এই লুকটি প্রকাশ্যে এনে একটি গভীর সামাজিক বার্তা দিয়েছেন নির্মাতারা। তাঁরা স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো পুরুষের সাফল্যের চূড়ায় আরোহণ বা নিঃস্বার্থ সমাজসেবার নেপথ্যে পর্দার আড়ালে থাকা নারীর আত্মত্যাগের গল্প অনেক ক্ষেত্রে অজানাই থেকে যায়। পর্দায় করিমুল হক এবং অঞ্জুর সম্পর্কের রসায়ন সেই না বলা আত্মত্যাগের কাহিনীকেই জীবন্ত করে তুলবে। একজন গৃহবধূর নিভৃত সংগ্রামের এই বাস্তব রূপ রুক্মিণীর মাধ্যমে সেলুলয়েডের পর্দায় দেখা যাবে, যা তাঁর ক্যারিয়ারে একটি শক্তিশালী পালক যোগ করবে বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
দেবের মাইলফলক ছোঁয়া এই প্রজেক্ট এবং রুক্মিণীর সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার এই অবতার দুই তারকার অগণিত ভক্তের মাঝে নতুন করে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদার মানবিক কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি পরিবারের অন্তর্গত সংঘাত ও প্রেমের এই মহাকাব্য দেখার জন্য এখন থেকেই অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে দর্শক। সব মিলিয়ে দেবের ৫০তম এই ছবিটি নিছক বিনোদনের সীমানা ছাড়িয়ে বাস্তবধর্মী এক শৈল্পিক আখ্যানে পরিণত হতে যাচ্ছে।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেতা জায়েদ খান বর্তমানে বেশ কয়েক মাস ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর নেটদুনিয়ায় ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়। ওই ছবিতে দেখা যায়, প্রথাগত পরিপাটি সাজ ছেড়ে নিউ ইয়র্কের ব্যস্ত রাস্তায় এক সাধারণ শ্রমিকের কাজ করছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে যখন নেটিজেনদের মধ্যে নানামুখী জল্পনা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়, ঠিক তখনই নিজের ফেসবুকে নতুন একটি প্রজেক্টের পোস্টার প্রকাশ করে সেই রহস্যের সমাধান দেন এই চিত্রনায়ক।
আসলে সেই ভাইরাল ছবিটি ছিল ‘আমেরিকান ড্রিম’ নামক একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের অংশ। নিউ ইয়র্কভিত্তিক প্রাচীন ও জনপ্রিয় বাংলাদেশি মিডিয়া আউটলেট ‘ঠিকানা’-র প্রথম অরিজিনাল শর্টফিল্ম হিসেবে এটি নির্মিত হয়েছে। সংগীতশিল্পী ও নির্মাতা জন কবিরের নিপুণ নির্দেশনায় আড়াই মিনিটের এই কন্টেন্টটি গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘ঠিকানা’-র অফিশিয়াল পাতায় মুক্তি দেওয়া হয়। গত ৩৭ বছর ধরে প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি প্রসারে কাজ করে আসা এই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘ইমিগ্রেন্ট ডায়েরিস’ সিরিজের অংশ হিসেবে এই কাজটি করেছেন তাঁরা।
শর্টফিল্মটির মূল প্রেক্ষাপট সাজানো হয়েছে প্রবাসীদের কঠিন বাস্তব জীবনকে ঘিরে। ঠিকানা কর্তৃপক্ষের মতে, বাইরের পৃথিবী থেকে ‘আমেরিকান ড্রিম’ বিষয়টি যতোটা মোহনীয় মনে হয়, একজন অভিবাসীর জীবনে তার বাস্তবতা অনেক বেশি শ্রমসাধ্য এবং ত্যাগের। সেখানে থিতু হওয়ার দীর্ঘ পথে যে অদেখা সংগ্রাম ও অপ্রাপ্তির বেদনা থাকে, জায়েদ খানের চরিত্রের মধ্য দিয়ে তার একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন পরিচালক জন কবির।
মুক্তির পরপরই মাত্র আড়াই মিনিটের এই চলচ্চিত্রটি দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দীর্ঘ বিরতির পর সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটি চরিত্রে জায়েদ খানের প্রাণবন্ত অভিনয় ও অভিব্যাক্তি দেখে অবাক হয়েছেন অনেকে। নেটিজেনদের মন্তব্য—অভিনয় জীবনের সেরা পারফরম্যান্স দিয়েছেন জায়েদ এবং এমন মার্জিত ও গভীর চরিত্রে তাঁকে আগে কখনো দেখা যায়নি। প্রচলিত ইমেজের বাইরে গিয়ে এক লড়াকু প্রবাসীর চরিত্রে তাঁর এই অভিষেক বিনোদন অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে ‘আমেরিকান ড্রিম’ জায়েদ খানের ক্যারিয়ারে একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
হিন্দি সিনেমার স্বর্ণযুগের চিরন্তন সুন্দরী ও কিংবদন্তি অভিনেত্রী মধুবালার জীবন এবার রুপালি পর্দায় জীবন্ত হয়ে উঠতে যাচ্ছে। ‘মুঘল-এ-আজম’, ‘নীলকমল’, কিংবা ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস ৫৫’-এর মতো কালজয়ী সিনেমার এই নায়িকাকে নিয়ে বায়োপিক নির্মাণের পরিকল্পনা চলছিল দীর্ঘ দিন ধরে। নানা কারণে বারবার পিছিয়ে যাওয়া এই প্রজেক্টটি নিয়ে এবার নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। চলচ্চিত্র পাড়ায় জোর গুঞ্জন উঠেছে, পর্দায় মধুবালার আইকনিক চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন হালের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি। একই সঙ্গে সিনেমাটির প্রযোজনার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রখ্যাত নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালি, যা এই কাজটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটি ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাঁকজমকপূর্ণ সিনেমা নির্মাণের কারিগর সঞ্জয় লীলা বানসালি এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই সব কাজ নতুন গতি পেয়েছে। মধুবালার বায়োপিকটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন ‘ডার্লিংস’ খ্যাত নারী পরিচালক জসমিত কে রিন। চিত্রনাট্যের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং চলতি বছরের শেষের দিকেই সিনেমাটির দৃশ্যধারণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বড় পর্দায় মধুবালার সাথে জড়িয়ে থাকা অন্য দুই কিংবদন্তি দীলিপ কুমার এবং কিশোর কুমারের চরিত্রে কারা অভিনয় করবেন, তা নিয়ে বর্তমানে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও শিল্পী বাছাই চলছে।
ক্যারিয়ারের শুরুতে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে কিয়ারা আদভানি বহুবার তাঁর মনের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন যে, সুযোগ পেলে তিনি বড় পর্দায় মধুবালার চরিত্রটি রূপায়ন করতে চান। তাঁর সেই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবার বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে বলে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, কিয়ারার সামনে মীনা কুমারীর বায়োপিকে অভিনয়ের প্রস্তাব থাকলেও তিনি বেছে নিয়েছেন মধুবালার এই জাঁকজমকপূর্ণ চ্যালেঞ্জটিকে। দর্শক মনে করেন, কিয়ারার আধুনিকতা ও স্নিগ্ধতা মধুবালার চরিত্রের আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
যদিও আন্তর্জাতিক একটি সংবাদমাধ্যম এই খবরের জোরালো দাবি করছে, কিন্তু বিপরীতে ভিন্ন কথা বলছে ‘বলিউড হাঙ্গামা’র মতো প্রভাবশালী দেশীয় কিছু সংবাদমাধ্যম। তারা এই তথ্যটিকে আপাতত ‘স্রেফ গুঞ্জন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, বায়োপিকটি নিয়ে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত থাকলেও কিয়ারা বা বানসালির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। আপাতত গুঞ্জন ও অসমর্থিত সূত্রের খবরের ওপর ভিত্তি করে ভক্তরা কিয়ারাকে নতুন এই অবতারে দেখার অপেক্ষা করছেন। শেষ পর্যন্ত গ্ল্যামারকুইন মধুবালার চরিত্রে কার অভিষেক ঘটে, সেটিই এখন বলিউড তথা সারা বিশ্বের চলচ্চিত্র প্রেমীদের কাছে বড় আলোচনার বিষয়।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছোট পর্দার দর্শকদের জন্য এক রোমাঞ্চকর ও আবেগঘন গল্পের নাটক নিয়ে হাজির হচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির ও অভিনেতা মুশফিক আর. ফারহান। নাটকের নাম ‘লেলিন’। দয়াল সাহা ও দেবাশীষ চক্রবর্তীর রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন সুব্রত সঞ্জীব। প্রেম, ক্ষমতার লড়াই এবং পারিবারিক প্রতিশোধের মিশেলে নির্মিত এই নাটকটি বর্তমান সময়ের এক রূঢ় বাস্তবতাকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরবে।
নাটকের গল্পে সাফা কবির অভিনয় করেছেন ‘আঁখি’ চরিত্রে, যে এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ধনী পরিবারের মেয়ে। অন্যদিকে, মুশফিক ফারহানকে দেখা যাবে ‘লেলিন’ চরিত্রে, যে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরের এক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতা। লেলিনের স্বপ্ন আকাশচুম্বী—সে দ্রুত ধনী হয়ে আঁখিকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু সঠিক পথ বেছে না নিয়ে সে অন্ধকারের পথে পা বাড়ায়। সাইফুল, বিটলা ও রুস্তমদের নিয়ে গড়ে তোলা লেলিনের বাহিনী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। আঁখি বারবার তাকে এই অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও বেপরোয়া লেলিন ক্ষমতার নেশায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
গল্পের মোড় ঘুরে যায় যখন লেলিনের বাবা সামাদ মাঝি নির্মমভাবে খুন হন। পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে লেলিন আরও বেশি নৃশংস হয়ে ওঠে এবং প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর ফলে পুরো এলাকায় যেমন অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি পুলিশের তালিকায় লেলিন এক নম্বর অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়। এই পরিস্থিতিতে আঁখির সাজানো স্বপ্নগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। প্রিয় মানুষের এই অধঃপতন আঁখির কাছে প্রেমকে এক অভিশাপ হিসেবে দাঁড় করায়। লজ্জা ও ঘৃণায় সে নিজেকে সমাজ থেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
পারিবারিক টানাপড়েন আর প্রেমের করুণ পরিণতি নিয়ে নির্মিত ‘লেলিন’ নাটকটি আগামী ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন রাত ৮টায় মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত হবে। সাফা কবির ও মুশফিক ফারহানের এই নতুন রসায়ন দর্শকদের মনে দাগ কাটবে বলেই নির্মাতা আশা করছেন। থ্রিলার ও ড্রামার এই সংমিশ্রণ ঈদের বিশেষ আয়োজনে দর্শকদের জন্য এক অন্যরকম বিনোদনের খোরাক হবে।
গত রোজার ঈদে শাকিব খানকে নিয়ে ‘বরবাদ’ নির্মাণ করে আলোচনায় এসেছিলেন তরুণ নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়। এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিনি নিয়ে আসছেন তাঁর নতুন সিনেমা ‘রাক্ষস’, যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন হালের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ। বর্তমানে সিনেমাটির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং পোস্ট প্রোডাকশন বা এডিটিং ও ডাবিং টেবিলে ব্যস্ত সময় পার করছে পুরো টিম। নির্মাতা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই সিনেমাটি ছাড়পত্রের জন্য চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডে জমা দেওয়া হবে।
যেকোনো সিনেমার সফলতায় প্রচারণার গুরুত্ব মাথায় রেখে ‘রাক্ষস’-এর প্রচার কৌশল সাজিয়েছেন নির্মাতা। ইতিমধ্যে একটি অ্যানাউন্সমেন্ট ভিডিও এবং সিয়ামের একটি স্টিল ছবি প্রকাশ করা হয়েছে যা দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। এই ধারবাহিকতায় এ সপ্তাহেই সিনেমার অফিশিয়াল পোস্টার এবং প্রথম টিজার মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে গান ও ট্রেলার প্রকাশ করে সিনেমাটি দর্শকদের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের।
গত ডিসেম্বরে ঢাকায় মহরতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ‘রাক্ষস’-এর বড় একটি অংশের দৃশ্যধারণ করা হয়েছে শ্রীলঙ্কার মনোরম সব লোকেশনে। নির্মাতার দাবি, এটি কেবল একটি সাধারণ সিনেমা নয়, বরং বড় পর্দায় দর্শকরা একটি ‘পাগলাটে প্রেমের গল্প’ বা ‘ক্রেজি লাভ স্টোরি’ দেখতে পাবেন। ফ্যামিলি ড্রামার পাশাপাশি এই সিনেমায় তাঁর আগের কাজ ‘বরবাদ’-এর তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ভায়োলেন্স বা অ্যাকশন রাখা হয়েছে। সিয়ামের বিপরীতে ওপার বাংলার অভিনেত্রী সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়ের রসায়ন বাস্তব জীবনের গল্পের মতোই দর্শকদের মনে দাগ কাটবে বলে আশা করছেন নির্মাতা।
আসন্ন ঈদে শাকিব খানের ‘প্রিন্স’, আফরান নিশোর ‘দম’, রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ এবং চঞ্চল-মোশাররফ অভিনীত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর মতো বড় বড় সব সিনেমা মুক্তির কথা রয়েছে। এতগুলো বিগ বাজেটের সিনেমার ভিড়ে ‘রাক্ষস’ কতটা প্রেক্ষাগৃহ পাবে, তা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও নির্মাতা হৃদয় বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, সিয়ামের অভিনয় এবং গল্পের ভিন্নতা দর্শকদের বারবার প্রেক্ষাগৃহে টেনে আনবে। ‘বরবাদ’-এর আকাশচুম্বী সাফল্যের পর ‘রাক্ষস’ দিয়ে পরিচালক হৃদয় নিজের সফলতার ধারা বজায় রাখতে পারবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খানের আসন্ন ঈদুল ফিতরের ধামাকা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমার প্রচারণায় যোগ হলো নতুন মাত্রা। গত শুক্রবার সিনেমাটির তৃতীয় পোস্টার প্রকাশের মাধ্যমে দর্শকদের চমকে দিয়েছেন নির্মাতারা। বিশেষ করে এই পোস্টারে ভারতীয় শক্তিমান অভিনেতা দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যের দুর্ধর্ষ লুক সামনে আসতেই ভক্তদের মাঝে এক নজিরবিহীন উত্তেজনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। নব্বই দশকের ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড ও আভিজাত্যের লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমায় দিব্যেন্দুকে দেখা যাবে শাকিব খানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে।
প্রকাশিত পোস্টারে দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যকে একজন ‘আফগান পাঠান’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর চেহারার অর্ধেকটা জুড়ে জমাট বাঁধা রক্ত এবং চোখের তীক্ষ্ণ ও নিষ্ঠুর দৃষ্টি এক ধরণের ভীতি জাগানিয়া রহস্যের জন্ম দিয়েছে। পোস্টারের একদম উপরে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে, ‘আর মাত্র ১৩ দিন বাকি’, যা সিনেমাটি মুক্তির জন্য দর্শকদের অপেক্ষাকে আরও দীর্ঘতর করছে। পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ এই লুকটিকে একটি ‘রহস্যময় উপস্থিতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি বাংলা চলচ্চিত্রের প্রচলিত ধারা বদলে দেবে।
ভারতীয় বিনোদন জগতে দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য একটি অতি পরিচিত নাম। বিশেষ করে ‘মির্জাপুর’-এর মতো জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজে তাঁর দুর্দান্ত অভিনয় তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এছাড়া ‘সেক্রেড গেমস’, ‘জামতারা’ এবং ‘দ্য রেলওয়ে মেন’-এর মতো জনপ্রিয় সব প্রজেক্টে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। এবার প্রথমবারের মতো শাকিব খানের বিপরীতে তাঁর এই খল-উপস্থিতি সিনেমাটিকে এক আন্তর্জাতিক আবহ দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তরা মন্তব্য করছেন যে, শাকিবের মতো বড় তারকার বিপরীতে দিব্যেন্দুর মতো দক্ষ অভিনেতাকে খলচরিত্রে নেওয়া একটি সময়োপযোগী ও জুতসই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত এই সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে দেখা যাবে অভিনেত্রী তসনিয়া ফারিণ এবং পশ্চিমবঙ্গের জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুকে। এছাড়াও সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন শরীফ সিরাজ, লোকনাথ দে ও মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে। কারিগরি দিক থেকেও সিনেমাটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ; কারণ এর সাথে যুক্ত আছেন বলিউডের ‘অ্যানিম্যাল’ খ্যাত প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক অমিত রায়। সব মিলিয়ে দুই দেশের তারকাদের অভিনয় আর দুর্ধর্ষ সব অ্যাকশন দৃশ্যে ভরপুর ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি এবারের ঈদে দেশের প্রেক্ষাগৃহে এক নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বড় পর্দায় এক নতুুন চমক নিয়ে আসছেন জনপ্রিয় নির্মাতা রায়হান রাফী। তাঁর নতুন সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’-এর প্রায় দেড় মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত ঝলক গত শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমুক্ত করা হয়েছে। এই ঝলকটিকে প্রথাগত ‘টিজার’ না বলে রাফী আখ্যা দিয়েছেন ‘ফার্স্ট হুইসেল’। ভিডিওটি শেয়ার করে নির্মাতা লিখেছেন, “নীরব চাপে জমছে এক বিস্ফোরণ… ঢাকনা উঠলেই বের হবে সেই হুইসেল।” তাঁর এমন রহস্যময় ক্যাপশন এবং টিজারের টানটান উত্তেজনা ইতিমধেই দর্শকদের মনে শিহরণ জাগিয়েছে।
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও কানন ফিল্মসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাটি মূলত চারজন নারীর ভিন্ন ভিন্ন জীবন সংগ্রাম ও সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এতে প্রধান চার চরিত্রে অভিনয় করেছেন শবনম বুবলি, নাজিফা তুষি, স্নিগ্ধা চৌধুরী ও মারিয়া শান্ত। টিজারে এই চার অভিনেত্রীর চরিত্রের নানা টানাপোড়েন এবং রহস্যের আভাস পাওয়া গেছে। পুরো ভিডিও জুড়ে ব্যাকগ্রাউন্ডে ভেসে এসেছে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর গম্ভীর কণ্ঠস্বর। তাঁকে ‘মৌমাছি, মৌমাছি/ কোথা যাও নাচি নাচি’ কবিতার লাইনগুলো আবৃত্তি করতে শোনা যায়, যা টিজারের আবহে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক উত্তাপ ও গাম্ভীর্য যোগ করেছে।
নির্মাতা রায়হান রাফীর মতে, ঢাকা শহরটা আধুনিক মেয়েদের জন্য আসলে একটা প্রেশার কুকারের মতো, যেখানে প্রতিনিয়ত তাঁরা সামাজিক ও ব্যক্তিগত চাপের মধ্য দিয়ে ‘সেদ্ধ’ হচ্ছেন। যখন এই চাপ অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখনই সেই প্রেশার কুকার থেকে জোরালো প্রতিবাদের ‘হুইসেল’ বেজে ওঠে। সিনেমাটিতে এই নাগরিক জীবনের রূঢ় সত্যগুলোকেই সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমায় এই চার নায়িকা ছাড়াও ফজলুর রহমান বাবু, শহীদুজ্জামান সেলিম, মিশা সওদাগর ও আজিজুল হাকিমের মতো শক্তিশালী অভিনেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে।
টিজারটি প্রকাশের পর থেকেই নেটদুনিয়ায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। স্বয়ং চঞ্চল চৌধুরীও রাফীর এই নতুন কাজের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন এবং দর্শকদের উদ্দেশ্যে একটি কৌতূহলী প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন যে, রাফীর আগের হিট সিনেমা ‘তুফান’ এবং ‘প্রেশার কুকার’-এর ট্রেলারের মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় কি না। এর আগে ‘পোড়ামন ২’, ‘পরাণ’ ও ‘তুফান’-এর মতো দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দেওয়া রাফী এবারও এক ভিন্নধর্মী গল্প দিয়ে বক্স অফিস কাঁপাতে প্রস্তুত। ঈদুল ফিতরে আপনার কাছের প্রেক্ষাগৃহে বাজবে এই ‘প্রেশার কুকার’-এর চূড়ান্ত হুইসেল।
জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র এবারের ঈদ আয়োজনে দর্শকদের জন্য থাকছে এক বড় ধরণের চমক। প্রথমবারের মতো পেশাদার গায়িকা হিসেবে পর্দায় হাজির হতে যাচ্ছেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। তাঁর সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে থাকছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল। বুবলীর এই নতুন পরিচয় এবং ইমরানের সাথে তাঁর এই অনন্য যুগলবন্দি এবারের ‘ঈদ ইত্যাদি’র অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হতে যাচ্ছে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।
গানটির নেপথ্যে রয়েছেন দেশের দুই প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব। এর কথা লিখেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকবি কবির বকুল এবং সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন ইমরান মাহমুদুল নিজে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, বুবলী পেশাদার কণ্ঠশিল্পী না হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত নিপুণভাবে গানটি গেয়েছেন, যা দর্শকদের মুগ্ধ করবে। গত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের বহিরঙ্গনে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন সেটে গানটির চিত্রধারণ করা হয়েছে।
এর আগেও ‘ইত্যাদি’র মঞ্চে বিভিন্ন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী গান গেয়ে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তাসনিয়া ফারিণ, সিয়াম আহমেদ এবং জান্নাতুল সুমাইয়া হিমির মতো তারকাদের সেই ধারাবাহিকতায় এবার নাম লেখালেন বুবলী। ফাগুন অডিও ভিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুবলী ও ইমরানের গায়কীর পাশাপাশি এর নির্মাণশৈলী এবং লোকেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে, যা গতানুগতিক মিউজিক ভিডিও থেকে সম্পূর্ণ আলাদা মাত্রা যোগ করবে।
হানিফ সংকেতের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ‘ইত্যাদি’ সবসময়ই সৃজনশীল এবং ভিন্নধর্মী পরিবেশনা নিয়ে হাজির হয়। এর আগে ইলিয়াস কাঞ্চন, মৌসুমী কিংবা নোবেলের মতো তারকারা এই মঞ্চে গান গেয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। এবারের ঈদে বুবলীর এই নতুন রূপ দর্শকদের মাঝে কেমন সাড়া ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। আগামী ঈদের পরদিন রাত ৮টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিশেষ এই ‘ইত্যাদি’ প্রচারিত হবে।