বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। অনেকে তাকে বলিউড শাহেন শাহ এবং বিগ বি বলেও মন্তব্য করেন। এক কথায়, ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তিত্ব তিনি। বচ্চন পরিবার ঘিরে অভিষেক-ঐশ্বরিয়ার ‘বিবাহ-বিচ্ছেদের গুঞ্জন’-এর খবরে এ অভিনেতা এমনিতেই ভীষণ বিব্রত। এর ওপর ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসে হঠাৎ ক্ষমা চাইলেন বর্ষিয়ান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। কেন ক্ষমা চাইলেন এ অভিনেতা? তিনি কোনো ‘বড়সড় ভুল’ করে ফেলেছেন কি না! বিষয়টা কী? এ নিয়ে অনেক নেটিজেনদের মনে তুমুল আগ্রহের জন্ম নেয়। মূলত ঘটনার শুরু সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্টের মাধ্যমে।
কয়েকদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন বিগ বি। ছবিতে দেখা যায়, ক্যামেরার সামনে ছুটছেন তিনি। তিনি ভেবেছিলেন এটা ১৯৯১ সালের অগ্নিপথ সিনেমার ক্লিপ। সেভাবেই ক্যাপশন লিখেছিলেন। ভিডিও দেখে নেটিজেনরা তো যারপর নাই অবাক! এটা তো অগ্নিপথের ক্লিপ নয়। এ তো অমিতাভ অভিনীত ‘আকাইলা’সিনেমার ভিডিও। এ বিষয় নিয়ে অনেকেই কমেন্ট বক্সে মন্তব্যও করেছেন। এরপরই অমিতাভ ক্ষমা চেয়ে ইনস্টাগ্রাম পোস্ট করে লেখেন, আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এই পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও যেটা আমি শেয়ার করে লিখেছি অগ্নিপথের। সেটা একেবারেই ভুল ছিল। কারণ, ওই দৃশ্যটি আকেলা ছবির। যারা বিষয়টি আমায় মনে করিয়ে দিয়েছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ।
এদিকে বৃহস্পতিবার ছিল বিশ্ব স্কাউট দিবস। আর সেই বিশেষ দিনে নিজের ছোটবেলার স্মৃতি মনে করলেন অমিতাভ বচ্চন। তিনি এমন একটি স্কাউট গ্রুপের সদস্য ছিলেন যেটা ১৯৫৪ সালে এলাহাবাদ জেলার ইন্টার ট্রুপ চ্যালেঞ্জ শিল্ড জয় করেছেন। আর সেই জয়ের মুহূর্তের একটি গ্রুপ ছবিই এদিন তিনি পোস্ট করেন। সেখানে তার সঙ্গে তার সহপাঠীদের দেখা যাচ্ছে। আরেকটি ছবিতে তিনি নিজেকে জুম করে দেখিয়েছেন। এদিন এই ছবিগুলো পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘সেই সুন্দর সোনালি বয়েজ স্কাউটের দিনগুলো। সেই বিশেষ স্কার্ফ, সেই ব্যাজ, সেই বিশেষ স্যালুট। বেডেন পাওয়েল প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। আর সেই সময় শেখা শিক্ষাগুলো আজও অভ্যাস করে চলেছি।’ অমিতাভ বচ্চন যে এদিন কেবল ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন সেটাই নয়, ব্লগেও লিখেছেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন ১ অগস্ট বিশ্ব স্কাউট ডে হিসেবে পালিত হয়। জানিয়েছেন তিনি যখন স্কাউট শিখতেন সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথাও।
দক্ষিণ ভারতীয় (তেলেগু) চলচ্চিত্র অঙ্গনে দারুণ সাড়া জাগিয়েছে সামান্থা রুথ প্রভু অভিনীত নতুন সিনেমা ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’। গত ১৯ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসায় ভাসছে ছবিটি। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে বক্স অফিসে ৬০ কোটি রুপিরও বেশি আয় করে সিনেমাটি ইতিমধ্যেই ব্লকবাস্টার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। আর এই দুর্দান্ত ও অভাবনীয় সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ছবিটির দ্বিতীয় কিস্তি বা সিকুয়েল নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন এর জনপ্রিয় প্রযোজক রাজ নিদিমোরু (রাজ অ্যান্ড ডিকে জুটি খ্যাত)।
প্রযোজক রাজ নিদিমোরু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রথম পর্বের প্রতি দর্শকের এই বিপুল ভালোবাসা ও বাণিজ্যিক সফলতার কারণেই তাঁরা গল্পটিকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’-এর সিকুয়েলটি প্রথম পর্বের তুলনায় আরও অনেক বড় ক্যানভাসে এবং বিশাল পরিসরে নির্মাণ করা হবে।
সিনেমা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামান্থার নিখুঁত অভিনয় এবং রাজ নিদিমোরুর আধুনিক নির্মাণশৈলীর যুগলবন্দি তেলেগু সিনেমার দর্শকদের নতুন এক অভিজ্ঞতা দিয়েছে। প্রথম পর্বের এই বিশাল সাফল্যের পর সিকুয়েল নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেড়ে গেল। এখন দেখার বিষয়, আগামী পর্বে সামান্থা রুথ প্রভুর এই চরিত্রটি কোন নতুন গল্প ও চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে পর্দায় হাজির হয়।
প্রয়াত প্রখ্যাত নাট্যকার, শিক্ষক ও বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জিয়া হায়দারের স্মৃতি ও কর্মকে উৎসর্গ করে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে এক বর্ণাঢ্য নাট্যমেলা। আজ সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) বিকেল ৫টা থেকে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী এই বিশেষ নাট্যোৎসব, যা চলবে আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত। ‘আগামীর মঞ্চ: জিয়া হায়দার নাট্যমেলা ২০২৬’ শীর্ষক এই মেগা উৎসবের মূল আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নাট্যকলা বিভাগ। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নাট্যপ্রেমী দর্শকদের জন্য মেলার দরজা খোলা থাকবে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরুণ নাট্যকর্মীদের সুপ্ত সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো, প্রাতিষ্ঠানিক ও গবেষণাভিত্তিক নাট্যচর্চাকে সাধারণ মানুষের মাঝে সম্প্রসারণ করা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করাই এই মেলার মূল লক্ষ্য। এই মেলায় কেবল মূল মঞ্চের নাটকই নয়, পাশাপাশি পুতুলনাট্য (পাপেট শো), বিশেষ তথ্যচিত্র এবং নাটকের পোস্টার, সেট ও কস্টিউম (পোশাক) প্রদর্শনীর মতো বৈচিত্র্যময় আয়োজন রাখা হয়েছে। উৎসবের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, মেলায় প্রদর্শিত হতে যাওয়া সবকটি নাটকের সার্বিক নির্দেশনা দিয়েছেন চবি নাট্যকলা বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের একঝাঁক প্রতিভাবান শিক্ষার্থী।
আজ সোমবার বিকেল ৫টায় এই নাট্যমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমিন এবং উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম। উদ্বোধনের ঠিক পর পরই সন্ধ্যা ৬টায় মঞ্চস্থ হবে উৎসবের উদ্বোধনী নাটক—জিয়া হায়দার রচিত এবং ঋজু লক্ষ্মী অবরোধের নব-নাট্যরূপে নির্মিত ‘উম্মাদ সাক্ষাৎকার’। একই দিন রাত ৮টায় মঞ্চস্থ হবে সাঈদ আহমদ রচিত নাটক ‘তৃষ্ণায়’।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ৩০ জুন সন্ধ্যা ৬টায় পরিবেশিত হবে জিয়া হায়দারের আরেকটি জনপ্রিয় নাটক ‘শুভ্র সুন্দর কল্যাণী আনন্দ’ এবং রাত ৮টায় দেখা যাবে ইয়ারোস্লাভা পুলিনোভিচ রচিত ও সনজিত কুমার দে’র নব-নাট্যরূপে নির্মিত নাটক ‘আকাশ কেন ডাকে’। মেলার সমাপনী দিন ১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় দর্শকরা উপভোগ করতে পারবেন আন্তন চেখভের বিশ্বখ্যাত কালজয়ী নাটক ‘দ্য বিয়ার’। এরপর রাত ৮টায় নিকোলা এরডম্যান রচিত ‘দ্য সুইসাইড’ নাটকটি মঞ্চস্থ হওয়ার মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে তরুণ প্রাণের এই তিন দিনব্যাপী জমকালো নাট্যোৎসবের।
বিয়ে, ডিভোর্স এবং সাবেক ও বর্তমানের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কালজয়ী পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় যে ‘অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমাটি বানিয়ে তিন বছর আগে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও বক্স অফিস সাফল্য পেয়েছিলেন, এবার তারই বহুল প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েল আসতে যাচ্ছে। কলকাতার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটির দ্বিতীয় কিস্তির নাম রাখা হয়েছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। ইতিমধ্যে সিনেমাটির অফিশিয়াল ট্রেইলার বা ঝলক প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে ওপার বাংলার চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় ও কৌশিক সেনের পাশাপাশি আবারও এপার বাংলার জয়া আহসানের দুর্দান্ত অভিনয় সম্পর্কের এক জটিল ও ‘ভয়ংকর’ ধাঁধাকে সামনে এনেছে।
এবারের সিক্যুয়েলের চিত্রনাট্যে জয়া আহসান, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় এবং কৌশিক সেনের যার যার জীবন সামলে চলার এক কঠিন মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ট্রেইলারে দেখা যায়, জয়া আহসান অভিনীত চরিত্র ‘মেঘনা’ এক তীব্র মানসিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তার মনে এক গভীর ধারণা বাসা বেঁধেছে যে, পরিবারের সবাই মুখে কিছু না বললেও তার স্বামী ‘সুমন’ (কৌশিক সেন অভিনীত চরিত্র) সবসময় তার কাজের সঙ্গে তাঁর প্রথম পক্ষের স্ত্রী ‘শুভ্রা’র (চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়) তুলনা টানে।
অন্যদিকে, সিনেমার গল্পে সুমনের ভেতরের দ্বন্দ্বও বেশ জটিল। সে মেঘনাকে বিয়ে করে নতুন ঘর বাঁধলেও মানসিকভাবে সুখী নয়, বরং দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করলেও বারবার তার বিবেকে দাগ কাটে অতীত ও প্রথম স্ত্রীর স্মৃতি। সম্পর্কের এই জটিলতা আরও চরম রূপ নেয় যখন স্বামী সুমনের বিরুদ্ধে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ নিয়ে বর্তমান স্ত্রী মেঘনা স্বয়ং হাজির হয় সাবেক স্ত্রী শুভ্রার দরজায়। কিন্তু শুভ্রার শরণাপন্ন হলেও মেঘনার ভাগ্যে কোনো সহানুভূতি বা সমর্থন মেলে না। তিন বছর আগের সেই অমীমাংসিত আবেগের ওপর দাঁড়িয়ে সাবেক ও বর্তমানের এই ‘ভয়ংকর পুনর্মিলন’ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তাই নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। জয়া আহসান ও চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিনয়ের এই তীব্র সংঘাত রুপালি পর্দায় দেখার জন্য দর্শকরা এখন মুখিয়ে আছেন।
আষাঢ়ের মেঘলা আকাশ আর বর্ষার আগমনী বার্তার আবহকে সুরের মূর্ছনায় রাঙিয়ে তুলতে কোক স্টুডিও বাংলা সিজন ৪-এ মুক্তি পেতে যাচ্ছে নতুন গান ‘মেঘ’। শ্রোতাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কোক স্টুডিও বাংলার অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলসহ সব ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে গানটি একযোগে অবমুক্ত করা হবে। আর এই বিশেষ গানের হাত ধরেই কোক স্টুডিওর মঞ্চে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করছেন দেশের প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও সুরকার মোহাম্মদ শোয়েব। তাঁর সঙ্গে সমকালীন কণ্ঠের জাদু ছড়াতে এবার যুক্ত হয়েছেন তরুণ প্রজন্মের দুই জনপ্রিয় মুখ মাশা ইসলাম ও মৌসুমি।
বর্ষার চিরচেনা রূপকে কেন্দ্র করে তৈরি ‘মেঘ’ গানটি মূলত বাংলা শাস্ত্রীয় সংগীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং সমকালীন আধুনিক পপ-ফিউশনের এক অনন্য মেলবন্ধন। গানটির নেপথ্যে সংগীত পরিচালক হিসেবে রয়েছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ সংগীতশিল্পী শায়ান চৌধুরী অর্ণব। এই গানের অন্যতম বড় চমক হলো বাংলা সংস্কৃতির চিরায়ত উপাদানকে একেবারে নতুন ঘরানায় উপস্থাপন করা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী সাহিত্য থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে, এর সঙ্গে আধুনিক ‘স্পোকেন ওয়ার্ড’ বা কথ্য রূপের চমৎকার সংযোজন করা হয়েছে। ফলে চেনা বর্ষার পরিচিত ভাবনাটিই শ্রোতাদের সামনে হাজির হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন এবং ভিন্ন এক আধুনিক আঙ্গিকে।
বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিতে বর্ষা বরাবরই কবি-শিল্পীদের বিশেষ অনুপ্রেরণার উৎস। সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক সংগীতের ভাষায় নতুনভাবে তুলে ধরেছে ‘মেঘ’। এই গানের শাস্ত্রীয় সুরের পেছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক গল্প। মোগল সম্রাট আকবরের রাজসভার নবরত্নের অন্যতম সংগীতসম্রাট তানসেন প্রাচীন মল্লার রাগের পরিমার্জন করে ‘মিয়াঁ কি মল্লার’ রাগটি সৃষ্টি করেছিলেন। লোকগাথা রয়েছে, তানসেন যখন এই রাগ গাইতেন, তখন নাকি মেঘ জমে আকাশ ভেঙে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামত! মল্লার পরিবারের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও কঠিন এই রাগের ছোঁয়াতেই ‘মেঘ’ গানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মানুষের অন্তহীন প্রতীক্ষা, নতুন শুরুর আশা এবং জীবনের পুনর্জাগরণের এক অলৌকিক অনুভূতি। শাস্ত্রীয় প্রভাব ও সমকালীন সংগীতের নিখুঁত সংমিশ্রণে তৈরি এই গানটি শ্রোতাদের জন্য বর্ষাকে নতুনভাবে অনুভব করার এক অনন্য অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের তরুণ ও প্রতিভাবান নির্মাতা মোহাম্মদ তৌকির ইসলাম পরিচালিত প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’ এবার জয় করে নিল ভারতের তথা বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী ও বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপের মন। বন্যা-বিধ্বস্ত পটভূমি ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মিশেলে নির্মিত এই বাংলাদেশি সিনেমাটি দেখার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গভীর মুগ্ধতা ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’ খ্যাত এই আন্তর্জাতিক মানের পরিচালক।
সম্প্রতি অনুরাগ কাশ্যপের পাঠানো একটি বিশেষ বার্তা নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তরুণ পরিচালক তৌকির ইসলাম। আবেগঘন ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “যখন অনুরাগ কাশ্যপ ‘দেলুপি’ দেখেন এবং তার মূল্যবান চিন্তাভাবনা শেয়ার করেন! নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছি না।” অনুরাগ কাশ্যপ সিনেমাটির ভূয়সী প্রশংসা করে লিখেছেন, “শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পর বন্যায় বাংলাদেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া দেলুপি গ্রামের একেবারে ক্ষুদ্রতম স্তরের পাওয়ার প্লে (ক্ষমতার খেলা)।”
অনুরাগ কাশ্যপ তাঁর বার্তায় সিনেমাটির মানবিক দিকটির প্রশংসা করে আরও যোগ করেন, “এটি খুবই মানবিক এবং দেখে মনে হয়েছে যেন আমাদের নিজেদেরই পেছনের উঠোন, দারুণ লেগেছে। একটি ছোট গ্রাম যেন পুরো দেশের রূপক হয়ে উঠেছে। বাঁধ পুনর্নির্মাণ করা যেন কোনো সম্পদ ছাড়াই শূন্য থেকে দেশ পুনর্নির্মাণের মতো। এটি আমাকে এমনভাবে নাড়া দিয়েছে যা আমি ভাষায় বর্ণনা করতে পারব না।”
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ তৌকির ইসলাম পরিচালিত ‘দেলুপি’ সিনেমাটি ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন মহলে এবং চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটির মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে বন্যা-বিধ্বস্ত এবং রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের দৃশ্যপটকে কেন্দ্র করে। যেখানে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চরম একতা, প্রেম ও তীব্র লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে সমাজের দুর্নীতি, ক্ষমতার লোভ ও হতাশার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। অনুরাগ কাশ্যপের মতো বিশ্বমানের এক চলচ্চিত্রকারের এই অকপট প্রশংসা ও স্বীকৃতি নিশ্চিতভাবেই স্বাধীন ধারার এই বাংলাদেশি সিনেমাটির ঝুলিতে এক নতুন ও গৌরবময় পালক যুক্ত করল।
ছোটপর্দার জনপ্রিয় ও আলোচিত অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা মেয়েদের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা ও পরামর্শ দিয়েছেন। সংসারে অশান্তির অজুহাত দেখিয়ে যেসব বিবাহিত পুরুষ অন্য মেয়েদের সঙ্গে সখ্য বা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন, তাদের থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি ভিডিওবার্তা ও পোস্টের মাধ্যমে ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে প্রভা সাফ জানিয়েছেন, বিবাহিত পুরুষদের ফাঁদে পড়ে প্রেম তো দূরে থাক, কখনো বন্ধুত্ব করাও উচিত নয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার ওই পোস্টে প্রভা মেয়েদের অনুরোধ করে লিখেছেন, “মেয়েরা শোনো, আমার ছোট-বড় প্রত্যেককে একটা অনুরোধ করি, যত কিছুই হোক, কোনোভাবেই একটা বিবাহিত ছেলের প্রেমে পড়া যাবে না।” তিনি বিবাহিত পুরুষদের সাধারণ মনস্তত্ত্ব ও চাতুরতা উল্লেখ করে বলেন, “যতই কোনো ছেলে বলুক— ‘বউ ভালো না, সমাজের জন্য বা সন্তানের জন্য সংসার টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে’; মনে রাখবে এদের সবার স্ক্রিপ্ট বা অজুহাত একই রকম হয়। এসব কথা কখনো শুনবে না এবং বিশ্বাসও করবে না।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ফাঁদে পা দিলে সারাজীবন আফসোস করতে হবে।
অভিনেত্রী প্রভা জানান, সম্প্রতি তিনি নিজেও বাস্তব জীবনে ঠিক এমনই এক প্রতারণামূলক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। নিজের সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে আমাকেও এক বিবাহিত পুরুষের কাছ থেকে এমন সব কথা শুনতে হয়েছে। এসব কথা শুনতে শুনতে আমার অলরেডি মুখস্থ হয়ে গেছে যে এরা আসলে কী কী বলে ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করে।” তিনি সেই পুরুষকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, যদি সংসারে এতই সমস্যা থাকে তবে আগে ডিভোর্সের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আসতে, তারপর অন্য কিছু ভাবা যাবে।
প্রভার এমন অনড় ও যৌক্তিক অবস্থানের পর সেই ব্যক্তি এখন সমাজে প্রভাকে নিয়ে নানা কুৎসা রটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন অভিনেত্রী। প্রভা বলেন, “এখন সেই লোক চারদিকে বলে বেড়ায়, আমি নাকি সাইকো! তবে আমি বলব— আই অ্যাম হ্যাপি টু বি আ সাইকো। আমি অন্তত গ্ল্যাড যে, ওই প্রতারণামূলক সংসারে আমি পা বাড়াইনি।” প্রভার এই সাহসী এবং বাস্তবসম্মত ভিডিওবার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং অসংখ্য নারী প্রভার এই বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়ে নিজেদের সহমত প্রকাশ করছেন।
নেটফ্লিক্সের অন্যতম সফল ও কালজয়ী সায়েন্স ফিকশন সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এ বাবা-মেয়ের ভূমিকায় বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছিলেন অভিনেতা ডেভিড হারবার ও মিলি ববি ব্রাউন। ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ বছর ধরে সিরিজটির টানা পাঁচটি সিজনে তাঁদের অন-স্ক্রিন রসায়নই ছিল বিশ্বজুড়ে দর্শকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। গত বছর এই তুমুল জনপ্রিয় সিরিজটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যাওয়ার পর ভক্তদের জন্য নতুন সুখবর নিয়ে এসেছে ওটিটি জায়ান্ট নেটফ্লিক্স। প্রিয় এই বাবা-মেয়ে জুটিকে আবারও পর্দায় ফিরিয়ে আনছে তারা।
ডেভিড হারবার ও মিলি ববি ব্রাউন এবার নেটফ্লিক্সের সম্পূর্ণ নতুন আরেকটি সিরিজে একসঙ্গে অভিনয় করতে চলেছেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে যে, বিশ্বখ্যাত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘এ টুয়েন্টিফোর’ (A24)-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তারা একটি হাই-ভোল্টেজ স্পাই থ্রিলার সিরিজ তৈরি করতে যাচ্ছে। এই মেগা প্রজেক্টে মিলি ও ডেভিড কেবল প্রধান চরিত্রেই অভিনয় করবেন না, বরং তাঁরা দুজনে যৌথভাবে সিরিজটির নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।
নাম চূড়ান্ত না হওয়া এই নতুন সিরিজের চিত্রনাট্য লেখার ভার দেওয়া হয়েছে জনপ্রিয় লেখক জ্যাক থর্নকে। এর আগে মিলির সুপারহিট ‘এনোলা হোমস’ ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং ‘অ্যাডোলেসেন্স’ প্রজেক্টের চিত্রনাট্য লিখে তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি ও প্রশংসা পেয়েছেন। ফলে নতুন এই স্পাই থ্রিলারেও তিনি দর্শকদের একটি দুর্দান্ত ও টানটান গল্পের অভিজ্ঞতা উপহার দিতে পারবেন বলে আশা করছেন ওটিটি সংশ্লিষ্টরা।
‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ সিরিজে ডেভিড হারবার ও মিলি ববি ব্রাউনের মধ্যে একটি গভীর পারিবারিক ও আবেগঘন বন্ধন দেখা গেলেও, এবার তাঁরা পর্দায় হাজির হচ্ছেন বাবা-মেয়ের সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং আরও এক জটিল সমীকরণ নিয়ে। নতুন এই সিরিজের মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে ‘ম্যাট উলফ’ নামের একজন সাবেক এফবিআই (FBI) এজেন্টকে কেন্দ্র করে। তার শান্ত ও অবসরপ্রাপ্ত জীবন আচমকা ওলটপালট হয়ে যায়, যখন সে জানতে পারে তার মেয়ে ‘রেবেকা’ একটি বিপজ্জনক গোপন মিশনে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে। মূলত নিজের আদরের মেয়েকে উদ্ধারের জন্য সমস্ত বিপদ মাথায় নিয়ে আবারও গোয়েন্দা হিসেবে মাঠে নামে ম্যাট উলফ, যা দর্শকদের রোমাঞ্চিত করবে।
দীর্ঘ ২৬ বছর পর আবারও বাংলা চলচ্চিত্রের আঙিনায় ফিরছেন বলিউডের বরেণ্য ও বর্ষীয়ান অভিনেতা অনুপম খের। তবে এবার তিনি রুপালি পর্দায় অভিনেতা হিসেবে নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুন ভূমিকায় অর্থাৎ প্রযোজক হিসেবে হাজির হচ্ছেন। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে নির্মিত হতে যাচ্ছে নতুন বাংলা সিনেমা ‘শুরু থেকে শুরু’। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে প্রখ্যাত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ‘বাড়িওয়ালি’ চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে বাংলা সিনেমা জগৎ থেকে দূরে থাকার পর এই নতুন প্রজেক্টের মাধ্যমে তার প্রত্যাবর্তন ঘটছে।
মাঝের সময়ে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ চলচ্চিত্রের মুক্তিকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন সরকারের সঙ্গে তৈরি হওয়া আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় বেশ হতাশ হয়েছিলেন অনুপম খের। তবে রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আবারও বাংলায় কাজ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। কলকাতায় পৌঁছেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনুপম খের নতুন রাজ্য সরকারের প্রতি নিজের পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন এবং বাংলায় একটি আন্তর্জাতিক মানের অ্যাক্টিং স্কুল বা অভিনয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ইচ্ছার কথা জানান, যে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীও তাকে পূর্ণ সমর্থন ও শুভকামনা জানিয়েছেন।
অনুপম খের প্রযোজিত নতুন ছবি ‘শুরু থেকে শুরু’ যৌথভাবে প্রযোজনা করছেন ফিরদৌসুল হাসান এবং এটি পরিচালনা করবেন শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপন নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত থাকা শমীকের জন্য এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এই সিনেমার প্রধান তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রূপদান করবেন টোটা রায়চৌধুরী, পাওলি দাম এবং রাহুল বোস। ছবির মূল গল্পের বুননও বেশ ব্যতিক্রমী হতে যাচ্ছে, যেখানে একদিকে বাবা-মেয়ের আবেগঘন সম্পর্ক এবং অন্যদিকে এক দম্পতির জীবনের কঠিন বাস্তবতার দুটি সমান্তরাল কাহিনী একসাথে ফুটিয়ে তোলা হবে।
সিনেমার একটি বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশের দৃশ্যধারণ করা হবে পাহাড়ের শান্ত ও নৈসর্গিক পরিবেশে। বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্যের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধাবোধের কথা উল্লেখ করে অনুপম খের জানান, সিনেমা ও পরিচালনার অনেক কিছুই তিনি এই বাংলা থেকে শিখেছেন, তাই এখানকার চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করতে তিনি কাজ করে যাবেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে ছবিটির আনুষ্ঠানিক শুটিং শুরু হবে এবং আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিনেমাটি বড় পর্দায় মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘সির সির’ গান দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে, গায়ক ও সংগীত পরিচালক সঞ্জয় দেব এবং বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ও তারকা নোরা ফাতেহি। সেই আন্তর্জাতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আবারও এই দুই তারকা নতুন একটি বৈশ্বিক প্রজেক্ট নিয়ে ভক্তদের মাঝে হাজির হতে যাচ্ছেন। আগামী ২৯ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তাদের নতুন মিউজিক ট্র্যাক ‘চ্যাম্পিয়ন’। ডালাস থেকে গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সঞ্জয় দেব এই নতুন কোলাবরেশনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংগীত পরিচালক সঞ্জয় দেব জানিয়েছেন, ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানটি শুধু কোনো নির্দিষ্ট খেলার আসরকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়নি, বরং এটি মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ও সমাজের প্রতিটি স্তরের বিজয়, আত্মবিশ্বাস এবং যেকোনো সংগ্রাম শেষে পাওয়া সাফল্যকে উদযাপনের এক সর্বজনীন বার্তা বহন করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই গানটি শ্রোতাদের মাঝে ইতিবাচক শক্তি ছড়াবে এবং সবাইকে মানসিকভাবে অনুপ্রাণিত করবে। গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি এর কথা লিখন, সুর তৈরি এবং সামগ্রিক সংগীত পরিচালনার দায়িত্বও এককভাবে সামলেছেন সঞ্জয় দেব নিজেই।
প্রায় দুই মাস ধরে নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে তৈরি হওয়া এই গানটি মূলত চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের বৈশ্বিক আবহকে ঘিরেই প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সঞ্জয় ও নোরা ফাতেহি। গানটির অডিওর পাশাপাশি এর দৃশ্যপটেও রাখা হয়েছে বড় চমক। সম্পূর্ণ মিউজিক ভিডিওটির চিত্রধারণ করা হয়েছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ার জানজিবারে। মাত্র দুই দিনের একটি সংক্ষিপ্ত সফরে সেখানে গিয়ে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে মাত্র এক দিনেই ভিডিওর পুরো শুটিং সম্পন্ন করেন এই দুই তারকা। জানজিবারের নৈসর্গিক সমুদ্রসৈকত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভিডিওটিতে একটি আন্তর্জাতিক রূপ দিয়েছে।
আগামী ২৯ জুন গানটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নিয়ে জোর প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। সম্প্রতি নোরা ফাতেহি নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ভক্তদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, ‘বন্ধুরা, তোমরা সবাই চ্যাম্পিয়নের জন্য প্রস্তুত তো?’, যা মুহূর্তেই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। তার এই পোস্টের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্ত ও শ্রোতাদের মাঝে গানটি নিয়ে তীব্র কৌতুহল ও উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, যা ‘সির সির’ গানের মতো এটিকেও হিট করাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারো রুপালি পর্দায় একসঙ্গে ফিরছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সাইফ আলী খান ও খ্যাতনামা নির্মাতা-প্রযোজক ফারহান আখতার। ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম ক্লাসিক এবং ব্লকবাস্টার ‘দিল চাহতা হ্যায়’ সিনেমায় এই জুটি শেষবার একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। দীর্ঘ আড়াই দশক পর এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে একটি সম্পূর্ণ নতুন থ্রিলার সিনেমার মাধ্যমে তারা নতুনভাবে জুটি বাঁধছেন, যা বলিউড পাড়ায় বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে।
‘ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া’-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রযোজক রিতেশ সিধওয়ানি ও ফারহান আখতারের এই নতুন প্রজেক্টে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ইতিমধ্যেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন সাইফ আলী খান। তবে সিনেমাটির নাম এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। চলচ্চিত্রটি মূলত একটি থ্রিলার ঘরানার সিনেমা হতে যাচ্ছে, যা সমাজের বিভিন্ন জটিল ইস্যু, মানুষের নৈতিকতা এবং মূল্যবোধের গল্পকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে। সাইফ আলী খানের বিপরীতে একজন প্রথম সারির বলিউড অভিনেত্রীকে নেয়ার পরিকল্পনা থাকলেও কাস্টিংয়ের কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পরিচালকের নামও প্রকাশ করা হয়নি।
২০০১ সালে ফারহান আখতারের পরিচালনায় ‘দিল চাহতা হ্যায়’ সিনেমাটি সমসাময়িক গল্প, বন্ধুত্ব ও আধুনিক জীবনযাত্রার চমৎকার উপস্থাপনের মাধ্যমে তৎকালীন তরুণ প্রজন্মের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সিনেমাটিতে সাইফ আলী খানের ‘সমীর’ চরিত্রটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায় এবং এটি তার অভিনয় ক্যারিয়ারে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছিল। দীর্ঘ ২৫ বছর পর এই দুই প্রতিভাবান তারকার পুনর্মিলন এবং নতুনভাবে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাঝে এরই মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
সাইফ আলী খান বর্তমানে ওটিটি ও বড় পর্দা উভয় মাধ্যমেই একাধিক আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময় প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন ধারার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত এই অভিনেতাকে সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের ‘কর্তব্য’ সিরিজে একজন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে দেখা গেছে। এছাড়া সামনে অক্ষয় কুমারের সঙ্গে প্রিয়দর্শনের ‘হায়ওয়ান’ এবং ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তৈরি রাহুল ঢোলাকিয়ার একটি বড় বাজেটের চলচ্চিত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে হাজির হবেন। এর মাঝেই ফারহানের সাথে তার নতুন এই প্রজেক্টের চিত্রনাট্য লেখার কাজ চলছে, যা আগামী বছরের শেষ নাগাদ শুটিং ফ্লোরে গড়াতে পারে।
নেটফ্লিক্সের বহুল আলোচিত ও জনপ্রিয় সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এ ‘ইলেভেন’ চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তুমুল পরিচিতি পাওয়া ব্রিটিশ অভিনেত্রী ও মডেল মিলি ববি ব্রাউন এবার বলিউডে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় এই তরুণ হলিউড তারকা জানিয়েছেন, উপযুক্ত সুযোগ পেলে তিনি ভারতের হিন্দি চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে, বিশেষ করে একটি কমেডি সিনেমায় নিজের অভিনয়ের দক্ষতা প্রকাশ করতে চান। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবে নাম কামানো এই তারকার এমন আগ্রহের কথা প্রকাশ্যে আসার পর ভারতীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।
বর্তমানে মিলি ববি ব্রাউন তার আসন্ন বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘এনোলা হোমস ৩’-এর প্রচারণার কাজে বিশ্বজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই প্রচারণার অংশ হিসেবে সম্প্রতি ‘ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলিউডের চলচ্চিত্রে কাজ করার এই সুপ্ত বাসনার কথা জানান। হলিউডের এই অভিনেত্রী বলেন, ভারত তার ভ্রমণের শীর্ষ তালিকায় রয়েছে এবং তিনি সেখানে যেতে ও নতুন যেকোনো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে পুরোপুরি প্রস্তুত। নিজেকে একজন মজার মানুষ হিসেবে দাবি করে তিনি ভারতের একটি পুরোদস্তুর কমেডি সিনেমায় কাজ করার প্রবল আগ্রহ দেখান।
বলিউড চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রঙিন নাচ-গানের সংস্কৃতি নিয়েও নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এই ব্রিটিশ তারকা। সাক্ষাৎকারে হিন্দি সিনেমার ঐতিহ্যবাহী ঘরানার নাচে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে মিলি হাসিমুখে ইতিবাচক সাড়া দেন এবং জানান যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নাচতে অত্যন্ত ভালোবাসেন। ফলে বলিউডের বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় কাজ করার যে মূল অনুষঙ্গ, সেই নাচ এবং কমেডি—উভয় বিষয়ের প্রতিই তার এই আগ্রহ ভারতীয় সিনেমা সংশ্লিষ্টদের নজর কেড়েছে।
সাক্ষাৎকারে নিজের নতুন সিনেমা ‘এনোলা হোমস ৩’-এর বিভিন্ন অ্যাকশন দৃশ্য এবং নিজের চরিত্রটি নিয়ে কথা বলেন মিলি। তিনি জানান, আগের দুটি কিস্তির তুলনায় এবার তার এনোলা চরিত্রটির হাতে কিছু নতুন সরঞ্জাম ও যুদ্ধাস্ত্র দেখা যাবে, যা নিয়ে শুটিং করতে তার দারুণ লেগেছে। উল্লেখ্য, এই সিরিজের প্রথম সিনেমা ২০২০ সালে এবং দ্বিতীয় কিস্তি ২০২২ সালে মুক্তি পেয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় আগামী ১ জুলাই নেটফ্লিক্সে এর তৃতীয় কিস্তি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। মিলির বলিউডে কাজ করার এই ইচ্ছা প্রকাশ পাওয়ায় ভারতের নির্মাতারা ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে কোনো বৈশ্বিক প্রজেক্টের কথা ভাববেন কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ওটিটি ও প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে পরিচালক সুভাষ কে রাজের নতুন তামিল অ্যাকশন-ড্রামা চলচ্চিত্র ‘ব্লাস্ট’। প্রথাগত পুরুষ অ্যাকশন হিরোর চেনা ছক ভেঙে এক সাধারণ আইটি কর্মী তরুণীর মার্শাল আর্টস এক্সপার্ট হয়ে ওঠার ভিন্নধর্মী ও চমকপ্রদ গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই সিনেমাটি। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় মুখ প্রীতি মুকুন্দন এবং তার বাবার ভূমিকায় দেখা গেছে অভিজ্ঞ অ্যাকশন তারকা অর্জুনকে। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মার্শাল আর্টসের ভয়ঙ্কর রূপ এবং পারিবারিক আবহের সংমিশ্রণে ছবিটির গল্প আবর্তিত হয়েছে।
সিনেমার কাহিনী গড়ে উঠেছে ‘নিলা’ নামের এক তরুণীকে কেন্দ্র করে, যে পেশায় একজন সাধারণ আইটি প্রফেশনাল। কারাতে মাস্টার বাবা রাজারাম ও গৃহিণী মাকে নিয়ে তার সুখী সংসার। আপাতদৃষ্টিতে শান্ত ও সাধারণ এই পরিবারের আড়ালে যে তারা প্রত্যেকে একেকজন অত্যন্ত দক্ষ মার্শাল আর্টস বিশেষজ্ঞ, তা বাইরের কেউ জানত না। গল্পে বড় ধরনের মোড় আসে যখন একদল বিপজ্জনক অপরাধী নিলার চেনা পরিমণ্ডলে হানা দেয়। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাবার দেওয়া আদর্শকে ঢাল বানিয়ে এই সাধারণ পরিবারটি তাদের লুকিয়ে রাখা যুদ্ধকৌশল নিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে বাধ্য হয়।
চলচ্চিত্রটির অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো এর সমসাময়িক সামাজিক বার্তা ও গল্প বলার চমৎকার ধরন। সমাজে নারীদের দুর্বল ভাবার মানসিকতা এবং খলনায়কদের নারীদের অবমূল্যায়ন করার প্রবণতাকেই পরিচালক এখানে মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কোনো কাল্পনিক সুপারপাওয়ার ছাড়াই খাঁটি কারাতে ও মার্শাল আর্টসের বাস্তবসম্মত অ্যাকশন দৃশ্যগুলো পর্দায় দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রীতি মুকুন্দনের চোখধাঁধানো ফাইটিং স্কিল এবং অ্যাকশন কিং অর্জুনের অনবদ্য অভিনয় এই সিনেমার মূল আকর্ষণ হিসেবে কাজ করেছে।
তবে ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি সিনেমার কিছু দুর্বলতাও লক্ষ্য করা গেছে। প্রথমার্ধে নিলার অ্যাকশন হিরো ইমেজকে অতিরিক্ত উদযাপন করার কারণে মূল সংঘাত শুরু হতে কিছুটা দেরি হয়, যার ফলে কাহিনীর গতি মাঝেমধ্যে ধীর মনে হতে পারে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে নারীদের হ্যারাসমেন্ট বা হয়রানির মতো একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে যেভাবে কমেডি বা হাসির ছলে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা কিছুটা হালকা বা গুরুত্বহীন লেগেছে। তা সত্ত্বেও, চমৎকার পারিবারিক রসায়ন ও বিনোদনের মাধ্যমে সমাজে নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর এক দারুণ বার্তা দিয়েছে এই সিনেমাটি।
ওটিটি দর্শকদের জন্য বড় চমক নিয়ে মুক্তি পেয়েছে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘হেডলাইন’। এই সিরিজের মাধ্যমে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অভিষেক ঘটে এক নতুন চমক দেখিয়েছেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী সারিকা সাবরিন। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘হইচই’-এ গত ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) মেগা সিরিজটি আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। নির্মাতা সালেহ সোবহান অনীমের পরিচালনায় এই সিরিজে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অভিনয় করেছেন দেশের তিন প্রজন্মের তিন শীর্ষ অভিনেতা—চঞ্চল চৌধুরী, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব এবং ইয়াশ রোহান। মুক্তির পর থেকেই এই তারকাদের পর্দায় একসঙ্গে দেখার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘হেডলাইন’ সিরিজের মূল প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে সমসাময়িক সমাজ, সংবাদমাধ্যম এবং ক্ষমতার আড়ালের এক টানটান থ্রিলার গল্পকে কেন্দ্র করে। সিরিজে চঞ্চল চৌধুরীকে বরাবরের মতোই একটি শক্তিশালী ও ভিন্নধর্মী চরিত্রে দেখা গেছে এবং অপূর্ব হাজির হয়েছেন সম্পূর্ণ নতুন এক লুকে। তরুণ অভিনেতা ইয়াশ রোহানও তার চরিত্রের মাধ্যমে গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। নির্মাতা সালেহ সোবহান অনীম জানিয়েছেন, চারপাশের অস্থিরতার মধ্যে দর্শককে একটি চেনা আবহের স্বস্তির গল্প উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এটি নির্মাণ করা হয়েছে, যা কেবল সাংবাদিকতা বা অনুসন্ধানের গল্প নয়, বরং এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা একটি পারিবারিক কাহিনীও বটে।
এই সিরিজে ‘দোলন’ নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সারিকা সাবরিন, যেখানে তাকে একজন সাংবাদিকের স্ত্রীর ভূমিকায় দেখা যাবে। গল্পে তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবেই একটি বড় রহস্যের জালে জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নাটকে অনিয়মিত হওয়া প্রসঙ্গে সারিকা জানান, ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রের প্রস্তাব কম আসাতেই তিনি বর্তমানে বেছে বেছে কাজ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকা এই অভিনেত্রী সিরিজটি নিয়ে বেশ আশাবাদী এবং ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সহকর্মী ও পরিচিতদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
থ্রিলার ও পারিবারিক ড্রামার মিশেলে তৈরি এই সিরিজে অপূর্ব, চঞ্চল, ইয়াশ ও সারিকা ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন আফসান আরা বিন্দু, ফারহানা হামিদ, অর্নিল বিরল ও রায় রাজন্যাসহ একঝাঁক তারকা। এই প্রজেক্টের পাশাপাশি সারিকা অভিনীত পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের বহুল আলোচিত আরেকটি ওয়েব সিরিজ ‘অ্যানি’ নিয়েও বেশ চর্চা চলছে, যার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার ইতিমধ্যে জার্মানির কোলনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব মিলিয়ে ওটিটি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তারকাখচিত এবং শক্তিশালী গল্পের ‘হেডলাইন’ সিরিজটি চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত কনটেন্ট হতে যাচ্ছে।