বলিউডের প্রথম লেডি সুপারস্টার বলে খ্যাতি পাওয়া বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শ্রীদেবী কন্যা জাহ্নবী কাপুর। শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, অনবদ্য অভিনয়ের জন্যও আলোচিত এই স্টার কিড। সর্বশেষ শরণ শর্মা পরিচালিত ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস মাহি’ সিনেমায় অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ক্রিকেটভিত্তিক এই সিনেমায় রাজকুমার রাওয়ের বিপরীতে মহিমা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন জাহ্নবী। সিনেমায় অনবদ্য অভিনয় করে সবার মন জয় করে নিয়েছিলেন তিনি ঠিকই; কিন্তু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলো এমন একটি ভিডিও, যা দেখে অভিনেত্রীর ক্রিকেট প্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। ভিডিওটি কিছু মাস আগের, যখন ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস মাহি’র প্রচার করছিলেন জাহ্নবী।
ভিডিওতে তিনটি ইন্টারভিউকে কোলাজ করে দেখানো হয়েছে। দেখে বোঝাই যাচ্ছে, তিনটি ইন্টারভিউই একই দিনের কারণ অভিনেত্রী একই শাড়ি পরেছিলেন তিনটি ভিডিও। তিনটি সাক্ষাৎকারেই অভিনেত্রীকে বিভিন্ন প্রশ্নের পাশাপাশি একটি কমন প্রশ্ন করা হয়।
‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস মাহি’ সিনেমাটি যেহেতু ক্রিকেটভিত্তিক এ কারণে স্বভাবতই ক্রিকেট নিয়ে প্রশ্ন করা হয় জাহ্নবী কাপুরকে। শ্রীদেবী কন্যাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘তার প্রিয় ক্রিকেটার কে?’ খুব অদ্ভুতভাবে তিনি একই দিনে তিনজন ক্রিকেটারের নাম উচ্চারণ করেন। প্রথম ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জাহ্নবী মাহি অর্থাৎ মহেন্দ্র সিং ধোনির ফ্যান বলছেন নিজেকে।
দ্বিতীয় ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অভিনেত্রী নিজেকে রোহিত শর্মার ফ্যান জানাচ্ছেন এবং তৃতীয় সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে বিরাট কোহলির ডাই হার্ট ফ্যান বলে উল্লেখ করেছেন। একই দিনে তিনজন আলাদা আলাদা ক্রিকেটারের নাম বলায় স্বাভাবিকভাবেই মজা পেয়েছেন নেট পাড়ার বাসিন্দারা।
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে নেটিজেনরা নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একজন লিখেছেন, ‘এই ভাবেই মুড সুইং হয়’। অন্য একজন লিখেছেন, ‘সবাইকেই সম্মান দিতে জানেন এই অভিনেত্রী।’ আবার একজন লিখেছেন, ‘সকলেই তার কাছে সমান।’ অভিনেত্রীর পক্ষে কথা বলে একজন লিখেছেন, ‘তিনি বলেছেন ধোনি তার প্রিয়। রোহিতের তিনি ভক্ত। বিরাটের বিশাল বড় ভক্ত। তিনি পয়েন্ট করে উল্লেখ করে দিয়েছেন আলাদা আলাদা ক্রিকেটারকে তিনি কেমনভাবে দেখেন।’
কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে বিশেষ একক নাটক ‘শঙ্খ সকাল প্রকৃতি’। নাটকটির চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনা করেছেন প্রখ্যাত নির্মাতা অরুণ চৌধুরী। এতে কেন্দ্রীয় ‘প্রকৃতি’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নন্দিত অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ। দেশের শীর্ষস্থানীয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের ২৮ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে নির্মিত এই বিশেষ নাটকটির দৃশ্যধারণ সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন লোকেশনে সম্পন্ন হয়েছে।
নাটকটিতে সাদিয়া ইসলাম মৌয়ের পাশাপাশি কাহিনির অন্য দুই মূল চরিত্র ‘শঙ্খ’ ও ‘সকাল’-এর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন যথাক্রমে অভিনেতা আহসান হাবিব নাসিম ও গোলাম কিবরিয়া তানভীর। এ ছাড়া এতে বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেত্রী ফারজানা চুমকিকে। নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমসাময়িক পারিবারিক আবহের পাশাপাশি গভীর সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের নানা দিক এই নাটকের গল্পের পরতে পরতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
নতুন এই নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে সাদিয়া ইসলাম মৌ জানান, গল্প ও চরিত্রের গভীর বৈচিত্র্যের কারণেই তিনি কাজটি করতে মূলত আগ্রহী হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সবসময় ভালো গল্পে কাজ করার এবং বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করার যে তাগিদ তাঁর থাকে, এ নাটকের ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটেছে; নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে বলে তিনি বেশ আশাবাদী। সহশিল্পী আহসান হাবিব নাসিম জানান, নির্মাতার রুচিশীল নির্দেশনায় তৈরি এই গল্পে সুন্দর একটি নৈতিক বার্তা রয়েছে। অন্যদিকে অভিনেতা গোলাম কিবরিয়া তানভীর ছোটবেলা থেকে যার অভিনয় দেখে বড় হয়েছেন, সেই মৌয়ের বিপরীতে কাজ করাকে দারুণ এক অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা বলে অভিহিত করেন।
নাটকটির সমস্ত দৃশ্যধারণের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে এটি সম্প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রযোজনা দল জানিয়েছে, চ্যানেল আইয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে খুব শীঘ্রই নাটকটি চ্যানেলটির পর্দায় প্রচারিত হবে।
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রথম দিনেই বক্স অফিসে নজিরবিহীন আয়ের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে অজয় দেবগন অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ক্রাইম থ্রিলার ‘দৃশ্যম ৩: দ্য কনক্লুশন’। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির এই শেষ কিস্তিটি গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। বক্স অফিস ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনী দিনেই ভারতীয় বাজার থেকে সিনেমাটির নিট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। দেশীয় বাজারে এর গ্রস আয় হয়েছে ৮০ কোটি ১০ লাখ রুপি এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে আরও ১৫ কোটি রুপি; যার ফলে মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বজুড়ে ছবিটির সর্বমোট গ্রস সংগ্রহ গিয়ে ঠেকেছে ৯৫ কোটি ১০ লাখ রুপিতে।
প্রথম দিনের এই অভাবনীয় বাণিজ্যিক সাফল্যের মধ্য দিয়ে ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির অতীতের সমস্ত নজির ভেঙে গেছে। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিরিজের প্রথম সিনেমা ‘দৃশ্যম’ উদ্বোধনী দিনে ভারতের বাজারে নিট ৫ কোটি ৮৫ লাখ রুপি আয় করেছিল এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালের ‘দৃশ্যম ২’ প্রথম দিনে তুলেছিল প্রায় ১৫ কোটি ৩৮ লাখ রুপি। পূর্বের দুটি পর্বের প্রথম দিনের সম্মিলিত আয়কেও অনায়াসে ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এই ঐতিহাসিক ওপেনিংয়ের মাধ্যমে অভিনেতা অজয় দেবগন নিজের সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের নতুন ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
আড়াই ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের এই শ্বাসরুদ্ধকর সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন অভিষেক পাঠক। পর্দায় বিজয় সালগাঁওকর চরিত্রের উপস্থিতি বরাবরই দর্শকদের মাঝে রহস্য ও তীব্র মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন তৈরি করে এসেছে। যেকোনো মূল্যে নিজের পরিবারকে বাঁচাতে আইনি ফাঁকফোকর ও বুদ্ধির লড়াইয়ে নিখুঁত ছক কষে যাওয়ার যে ধারা প্রথম দুই পর্বে তৈরি হয়েছিল, পরিচালক শেষ পর্বেও সেই উত্তেজনাকর আবহ পুরোপুরি বজায় রেখেছেন।
সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অজয় দেবগনের পাশাপাশি বরাবরের মতো আইজি মীরা দেশমুখের চরিত্রে অভিনেত্রী তাবু তাঁর দৃঢ় অভিনয় ফুটিয়ে তুলেছেন। এ ছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজির এই শেষ পর্বে নতুন সংযোজন হিসেবে এসপি রাজবীর সিংয়ের চরিত্রে অভিনেতা জয়দীপ অহলাওয়াতের বলিষ্ঠ উপস্থিতি ও চরিত্রায়ণ কাহিনিকে আরও গতিশীল ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে; যার ফলে মুক্তির শুরুতেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ও সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা পাচ্ছে সিনেমাটি।
আসন্ন ২০২৭ সালের একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের (অস্কার) ‘বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তথ্যচিত্র ‘হ্যাঙ্গিং বাই আ ওয়্যার’-কে মনোনীত করেছে পাকিস্তান। অস্কারের দীর্ঘ ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ তথ্যচিত্রকে নিজেদের অফিশিয়াল এন্ট্রি হিসেবে আন্তর্জাতিক ফিচারের লড়াইয়ে পাঠাল দেশটি। এমি পুরস্কারজয়ী প্রখ্যাত পাকিস্তানি নির্মাতা মোহাম্মদ আলী নকভির পরিচালনায় নির্মিত এই তথ্যচিত্রটি বিশ্বমঞ্চে পাঠানোর এই সিদ্ধান্তকে দেশটির চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটি ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চলচ্চিত্রটির মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকা বাট্টাগ্রামে ঘটে যাওয়া এক বাস্তব ও রোমহর্ষক কেব্ল কার দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলটিতে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী কোনো পাকা সড়ক না থাকায় স্থানীয়দের নদী ও গভীর খাদ পারাপারের একমাত্র ভরসা সেখানকার বিপজ্জনক অস্থায়ী কেব্ল কার। এমন একটি কেব্ল কারে হঠাৎ তার ছিঁড়ে গিয়ে খরস্রোতা নদীর প্রায় ৯০০ ফুট ওপরে মাঝআকাশে আটকা পড়েছিল ছয় শিশুসহ মোট আটজন যাত্রী। সেই চরম বিপদে পড়া মানুষদের নিরাপদে নামিয়ে আনার শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযান এবং এতে অংশ নেওয়া স্থানীয় সাধারণ মানুষের অসীম সাহসিকতার বাস্তব চিত্রই এই তথ্যচিত্রের মূল উপজীব্য। প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করা দুর্লভ দৃশ্য, বেঁচে ফেরা যাত্রীদের সরাসরি বয়ান এবং ঘটনার নিখুঁত পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে কাজটিকে একটি রুদ্ধশ্বাস ‘ডকু-থ্রিলার’-এর রূপ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডেডলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক মোহাম্মদ আলী নকভি জানান, এটি নিছক কোনো বানানো গল্প নয়, বরং একটি বাস্তব মানবিক বিপর্যয়ের নিখুঁত দলিল। তিনি উল্লেখ করেন, চরম সংকটের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোবাইল ফোনে সেই মুহূর্তগুলো ধারণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বিশ্বাস করে সেই অমূল্য ফুটেজগুলো তাঁর হাতে তুলে দেন। সে কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষদেরই এই চলচ্চিত্রের অন্যতম সহনির্মাতা আখ্যা দিয়ে নকভি বলেন, উদ্ধারকাজের জটিল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কতটা সাহসী ও কৌশলী ভূমিকা রেখেছিল, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরাই ছিল এই কাজের মূল লক্ষ্য।
পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত এই তথ্যচিত্রটির সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে যুক্ত রয়েছে বিখ্যাত প্রযোজনা সংস্থা ‘ইউনিভার্সাল পিকচার্স কনটেন্ট গ্রুপ’। অস্কারে মনোনয়ন পাওয়ার আগেই তথ্যচিত্রটি বিশ্ব চলচ্চিত্রের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সানড্যান্স এবং ট্রাইবেকা চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রেক্ষাগৃহ ও উৎসবের পাট চুকিয়ে চলতি মাসের শেষ ভাগে বৈশ্বিক ওটিটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম প্যারামাউন্ট প্লাসে ‘হ্যাঙ্গিং বাই আ ওয়্যার’ বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৪ সালে প্রতিম ডি গুপ্তর ‘চালচিত্র’ সিনেমার মাধ্যমে টালিউডে অভিষেক ঘটেছিল বাংলাদেশি অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর। সেই আলোচিত চলচ্চিত্রের দুই বছর পর এবার বড় পর্দায় নয়, বরং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য তৈরি হয়েছে সিনেমাটির একটি প্রিকুয়েল ওয়েব সিরিজ। ‘চালচিত্র: দ্য একচালা মার্ডারস’ নামের এই সিরিজে এক রহস্যময় চরিত্রের রূপদান করেছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। সম্প্রতি সিরিজে চঞ্চলের লুক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে আগামী ডিসেম্বর মাসে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে এটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে।
মূল সিনেমায় ব্রাত্য বসু অভিনীত চরিত্র ‘ভুবন হালদার’-এর তরুণ বয়সের ভূমিকায় পর্দায় হাজির হবেন চঞ্চল। একজন সাধারণ মানুষের ধীরে ধীরে ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠার পেছনের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও অতীত ইতিহাসই এই সিরিজের মূল উপজীব্য। নিজের চরিত্রটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চঞ্চল চৌধুরী জানান, তিনি ব্রাত্য বসুর চরিত্রটির অতীত রূপে অভিনয় করেছেন, যার ভেতর ব্যক্তিত্বের অনেকগুলো জটিল স্তর রয়েছে। গল্পটি রহস্যে ঘেরা হওয়ায় বিস্তারিত তথ্য এখনই না দিয়ে দর্শকদের কিছুটা সময় অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। সিরিজটিতে চঞ্চলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন টোটা রায়চৌধুরী, শ্বেতা মিশ্র ও বরুণ চন্দ।
এদিকে কলকাতার ওটিটি সিরিজের পাশাপাশি সেখানকার মূলধারার সিনেমাতেও নিয়মিত কাজ করছেন চঞ্চল চৌধুরী। সম্প্রতি তিনি টালিউডের আরও দুটি নতুন চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো ব্রাত্য বসু পরিচালিত ‘শেকড়’, যাতে অভিনয়ের পাশাপাশি দুটি মৌলিক গানে কণ্ঠও দিয়েছেন এই অভিনেতা। অপরটি হলো সুমন মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় নির্মিত ‘আজাদি’। দুটি সিনেমাই আগামী বছর পর্যায়ক্রমে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের কাজের পাশাপাশি দেশের মাটিতেও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে চঞ্চল অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র ‘আন্ধার’। নির্মাতা রায়হান রাফী পরিচালিত এই ভৌতিক ঘরানার বড় বাজেটের সিনেমাটি চলতি দুর্গাপূজার মৌসুমে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও কারিগরি মান নিখুঁত রাখার স্বার্থে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছরের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সিনেমাটি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) নগরবাউল খ্যাত তারকা জেমস ৬৩-তে পা রেখেছেন। তবে সময়ের স্রোতে পাল্টেছে অনেক কিছুই। পাল্টেছে গান শোনার ধরণ, পরিবর্তন হয়েছে প্রজন্মের রুচি, অথচ মঞ্চে দাঁড়িয়ে গিটার হাতে নিলেই যেন সেই চিরচেনা রূপে ফিরে যান। কিন্তু আজকের এই দিনে জেমসের আগমন ঘটলেও তার শ্রোতা-ভক্ত ও সহশিল্পীদের জন্য দিনটি বিশেষ একটি দিন। তাদের সকলের শুভেচ্ছার সাগরে ভাসছেন বাংলা ব্যান্ডের এই পথপ্রদর্শক।
জেমসের জন্মদিনে সংগীত অঙ্গনের সহকর্মীরা ভেসে যাচ্ছেন নস্টালজিয়ায়। তাদের একজন ব্যান্ড ‘আর্ক’-এর প্রধান ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হাসান। সামাজিক মাধ্যমে অতীতের স্মৃতি বুলিয়ে জেমসকে সংগীত জগতের ‘বটবৃক্ষ’ বলে আখ্যায়িত করলেন।
হাসানের সেই পোস্টে উঠে আসে আবেগঘন বার্তা। নব্বইয়ের দশকের ব্যান্ড তারকাদের এক ফ্রেমে বাঁধানো একটি ছবি, ও জেমস এর সঙ্গে তখনকার সময়ের আলাদা একটি মুহূর্ত প্রকাশ করেন হাসান। সংগীতের সোনালী দিনের কথা প্রকাশ করে হাসান লিখেছেন, ‘আমাদের দেশের ব্যান্ড সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি এবং আমাদের সবার প্রিয় জেমস ভাইকে ‘আর্ক’ ব্যান্ডের পক্ষ থেকে জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। নব্বইয়ের দশকের সেই সোনালী দিনগুলো থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আপনার সাথে একই মঞ্চে গান গাইতে পারা এবং বাংলা রক সংগীতের এই দীর্ঘ পথচলা ভাগ করে নিতে পারাটা সবসময়ই ভীষণ আনন্দের এবং গর্বের।’
১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন মাহফুজ আনাম জেমস। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। পরিবারের ইচ্ছা বা নিয়মের ছক ভেঙে কেবল গানের টানে খুব অল্প বয়সেই ঘর ছাড়েন তিনি। এরপর চট্টগ্রামের‘আজিজ বোর্ডিং’-এর ছোট্ট একটি কক্ষে শুরু হয় তার নিভৃত সাধনা ও রকস্টার হয়ে ওঠার রূপকথা। সেই আজিজ বোর্ডিং থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে ‘ফিলিংস’ ও ‘নগরবাউল’ ব্যান্ডের হয়ে তিনি বাংলা সংগীতকে দিয়েছেন একের পর এক কালজয়ী গান।
আশির দশকে ‘স্টেশন রোড’ দিয়ে শুরু করে ‘অনন্যা’, ‘জেল থেকে বলছি’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করো না’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কি দিয়া’, ‘পাগলা হওয়া, কিংবা বলিউডের ‘ভিগি ভিগি’, ‘আলবিদা’ দিয়ে যুগের পর যুগ শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন তিনি। ষাট পেরোনো এই সংগীত তারকা আজও ভক্তদের হৃদয়ে একই অনুভূতি, উন্মাদনার এক অনন্য নাম।
দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নকর্মী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা পেশাগত জীবনে নতুন এক গৌরবময় অধ্যায়ে পা রেখেছেন। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সঙ্গে দীর্ঘ দুই দশকের কর্মজীবনের সমাপ্তি টেনে এবার তিনি উচ্চশিক্ষায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগদান করেছেন। সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে নতুন এই দায়িত্বের সুখবরটি ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি।
কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ‘আর্ভিং ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চ’-এ ‘অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট’ বা সহযোগী গবেষণা বিজ্ঞানী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন মিথিলা। প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি মূলত নিউইয়র্কে অবস্থিত ‘আর্লি চাইল্ডহুড অ্যান্ড ফ্যামিলি হাব’ প্রকল্পের কাঠামোগত রূপরেখা প্রণয়ন এবং মূল্যায়নে নেতৃত্ব দেবেন। এই বিশেষ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, পারিবারিক সম্পৃক্ততা এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা; যেখানে নবজাতক থেকে শুরু করে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের পরিবারগুলোকে তাদের বেড়ে ওঠার উপযোগী সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের দীর্ঘদিনের কর্মঅভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গবেষণার ডেটা ও বাস্তব প্রমাণের মাধ্যমে তিনি এই কার্যক্রমকে সফলভাবে এগিয়ে নিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
উচ্চপর্যায়ের গবেষণাকাজের পাশাপাশি একই সঙ্গে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গেও নিজেকে যুক্ত করেছেন মিথিলা। তিনি জানিয়েছেন, সমান্তরালভাবে তিনি ‘সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক’-এ (সিইউএনওয়াই) ‘অ্যাডজাঙ্কট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর’ হিসেবে অ্যাকাডেমিক ক্লাস নেওয়া শুরু করেছেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের ‘ননপ্রফিট ম্যানেজমেন্ট’ বা অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পাঠদান করছেন এবং বাস্তব জগতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাঠপর্যায়ের কাজের জটিল অভিজ্ঞতা ও ধারণার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।
পেশাগত জীবনের এই অনন্য অর্জনের মুহূর্তে দীর্ঘদিনের চেনা কর্মস্থল ব্র্যাকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মিথিলা। তিনি উল্লেখ করেন, বিনোদন জগতের বাইরে উন্নয়ন খাতে কাটানো দুই দশকের মধ্যে প্রায় ১৫ বছরই তিনি ‘ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল’-এর হয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কাজ করেছেন, যা তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গড়ে তুলেছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আন্তর্জাতিক গবেষণা অবকাঠামো ও শীর্ষ মেধাবীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এই নতুন যাত্রায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। আপাতত ক্যামেরার নিয়মিত গ্ল্যামার থেকে খানিকটা দূরে থেকে নিজের মেধা ও অভিজ্ঞতাকে গবেষণার মতো সৃষ্টিশীল কাজেই নিয়োজিত রাখতে চান এই তারকা।
ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান এবার অ্যাকশন ঘরানার বাইরে এসে আবারও পুরোদস্তুর প্রেমের চলচ্চিত্রে ফিরছেন। তাঁর নতুন এই রোমান্টিক সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ‘মহব্বত’। বিগত কয়েক বছরে ‘তুফান’, ‘তাণ্ডব’, ‘বরবাদ’ কিংবা ‘প্রিন্স’-এর মতো চলচ্চিত্রে মারকুটে অ্যাকশন অবতারে দেখা গেছে তাঁকে এবং সর্বশেষ কোরবানির ঈদে ‘রকস্টার’ সিনেমায় একজন রক সংগীতশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন তিনি। তবে এবার সেই ধারা বদলে খাঁটি ভালোবাসার গল্পে দর্শকদের সামনে হাজির হতে যাচ্ছেন এই অভিনেতা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক টাইটেল অ্যানাউন্সমেন্ট পোস্টার প্রকাশ করে এ খবর নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা হিমেল আশরাফ।
‘মহব্বত’ পরিচালনার মাধ্যমে দুই বছরেরও বেশি সময় পর আবারও শাকিব খানের সঙ্গে ক্যামেরার পেছনে জুটি বাঁধছেন নির্মাতা হিমেল আশরাফ। ইতিপূর্বে তাঁদের যৌথ কাজের সিনেমা ‘প্রিয়তমা’ ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভাবনীয় ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল এবং পরবর্তীতে ‘রাজকুমার’ সিনেমাটিও সাফল্য পেয়েছিল। আগের দুটি সিনেমার মতোই এই নতুন প্রজেক্টটিও প্রযোজনা করছেন প্রযোজক আরশাদ আদনান। ফলে সফল এই অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক ত্রয়ীর নতুন সমন্বয়ে নির্মিতব্য এই সিনেমাটিকে ঘিরে সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে ইতিমধ্যেই বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
প্রকাশিত ফার্স্ট লুক পোস্টারে দেখা গেছে, কালো রঙের ওভারকোট পরিহিত এক যুবক হেঁটে যাচ্ছেন এবং এক তরুণী তাঁর হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছেন; যার ঠিক ওপরে লাল হরফে ফুটে উঠেছে সিনেমার নাম ‘মহব্বত’। পোস্টারটি শেয়ার করে পরিচালক হিমেল আশরাফ লিখেছেন, কখনো কখনো ভালোবাসার জন্য চরম মূল্য চোকাতে হয়, কখনো এটি কেবলই এক প্রতিজ্ঞা কিংবা দীর্ঘ এক লড়াই; আর সেই প্রেক্ষাপট থেকেই এই নতুন যাত্রার সূচনা। সিনেমায় শাকিব খান মূল নায়ক হিসেবে নিশ্চিত হলেও তাঁর বিপরীতে নায়িকা হিসেবে কে অভিনয় করছেন, সে বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রেখেছে প্রযোজনা দল।
সিনেমার নামকরণের পাশাপাশি এর আনুষ্ঠানিক মুক্তির সময়সীমাও ঘোষণা করা হয়েছে। নির্মাতা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে আগামী বছরের কোরবানির ঈদে দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পাবে ‘মহব্বত’। বড় উৎসবকে লক্ষ্য করে নির্মিতব্য আবেগঘন এই চলচ্চিত্রটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে আবারও দর্শকদের হৃদয় জয় করবে বলে আশাবাদী চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
নব্বইয়ের দশকের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ মুক্তির দীর্ঘ ২৮ বছর পর নতুন প্রজন্মের সামনে বড় পর্দায় এসেছে এর আধুনিক সংস্করণ ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’। তরুণ নির্মাতা কামরুজ্জামান পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশের অন্তত ১৪টি প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পেয়েছে। ১৯৯৮ সালে বাসুদেব চ্যাটার্জির পরিচালনায় বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত মূল সিনেমায় অভিনয় করে খ্যাতি পেয়েছিলেন ফেরদৌস আহমেদ ও প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী। সেই মিষ্টি প্রেমের মূল গল্পকে অক্ষুণ্ণ রেখে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সিনেমাটি নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে; যেখানে মূল সিনেমার মতো এবারও কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে অভিষেক ঘটছে নতুন দুই অভিনয়শিল্পী আরিয়ান সারোয়ার ও রাদিফা নারমিনের।
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও আশীর্বাদ চলচ্চিত্রের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই নতুন জুটিকে নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পরিচালক। চলচ্চিত্রটিতে নবীন দুই মুখের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, ফারজানা ছবি, ক্রিস্টিয়ানো তন্ময়, কায়েস আরজু, মৌ খান এবং ঝুনা চৌধুরীসহ একঝাঁক অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পী। মূল চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয়তার বড় কারণ ছিল নচিকেতা চক্রবর্তীর সুর ও কণ্ঠের গানগুলো। সেই নস্টালজিয়া ধরে রাখতে ‘ছোট ছোট স্বপ্নের নীল মেঘ’, ‘একদিন স্বপ্নের দিন’ কিংবা ‘সোনালি প্রান্তরে’র মতো জনপ্রিয় পুরোনো ছয়টি গানের মধ্য থেকে তিনটি কালজয়ী গানের রিমেক করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে সমসাময়িক দর্শকের পছন্দ মিলিয়ে যুক্ত হয়েছে আরও দুটি নতুন মৌলিক গান।
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের দর্শকদের জন্য বেশ কয়েকটি আধুনিক সিনেপ্লেক্স ও প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। ঢাকার দর্শকেরা বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্স, মিরপুরের সনি স্কয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্স, ঐতিহ্যবাহী শ্যামলী সিনেমা হল এবং কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসে চলচ্চিত্রটি উপভোগ করতে পারছেন। এর বাইরে রাজধানীর উপকণ্ঠ কাঁচপুরের চাঁদমহল সিনেমা হল এবং নারায়ণগঞ্জের সীমান্ত টাওয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্স ও জনপ্রিয় মিনি মাল্টিপ্লেক্স সিনেস্কোপে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি।
ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরের প্রেক্ষাগৃহগুলোতেও প্রদর্শিত হচ্ছে ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’। বিভাগীয় পর্যায়ের হলগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের সুগন্ধা সিনেমা হল, সিলেটের গ্র্যান্ড সিলেট মুভি থিয়েটার, খুলনার লিবার্টি এবং যশোরের ঐতিহ্যবাহী মণিহার সিনেমা হল। এ ছাড়া ঢাকার বাইরের দর্শকদের জন্য কুমিল্লার কে স্ক্রিন, কুষ্টিয়ার স্বপ্নীল সিনেমা হল এবং বগুড়ার মমইন প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির নিয়মিত প্রদর্শনী চলছে।
২০০৯ সালের সাড়াজাগানো চলচ্চিত্র ‘পা’ মুক্তির দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও একসঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা বালন এবং খ্যাতনামা নির্মাতা আর বাল্কি। তবে এবার কোনো হিন্দি প্রজেক্টে নয়, সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের একটি নতুন তামিল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় ফিরছে এই জুটি। সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে চিত্রনাট্য হাতে দৃশ্যধারণের নেপথ্যের একটি ছবি প্রকাশ করে নতুন এই কাজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন ৪৭ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ছবিতে বিদ্যাকে চশমা পরা ও পরিপাটি বেণী বাঁধা লুকে গভীর মনোযোগ দিয়ে চিত্রনাট্য পড়তে দেখা গেছে। ছবির ক্যাপশনে বিদ্যা লেখেন, ‘নতুন সূচনা, আর বাল্কির সঙ্গে নতুন তামিল ছবি।’ অভিনেত্রীর এই পোস্টের মাধ্যমে সিনেমাটির শুটিং শুরুর বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এর নাম কিংবা মূল গল্প নিয়ে এখনই কিছু জানাননি নির্মাতারা। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘পা’ সিনেমায় অমিতাভ বচ্চনের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বিদ্যা। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর তাঁদের এই নতুন মেলবন্ধন নিয়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাঝে বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালের শেষভাগে বেশ কয়েকটি বিগ বাজেটের বাণিজ্যিক ছবি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিদ্যা বালন। তামিল মেগাস্টার রজনীকান্তের বহুল প্রতীক্ষিত ‘জেলার ২’ সিনেমায় ‘কান্থা’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি; যেখানে প্রবীণ অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর বড় মেয়ের ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। সম্প্রতি চরিত্রটির ফার্স্ট লুক টিজার প্রকাশিত হয়ে দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে এবং সিনেমাটি আগামী ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া পরিচালক আনিস বাজমির নাম চূড়ান্ত না হওয়া একটি কমেডি-ড্রামা ছবিতেও অভিনয় করছেন তিনি। চলচ্চিত্রটিতে বলিউড তারকা অক্ষয় কুমার ও অভিনেত্রী রাশি খান্নার সঙ্গে পর্দা ভাগ করবেন বিদ্যা। ইতিমধ্যে ভারতের কেরালায় ছবিটির প্রথম ধাপের শুটিং সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে সিনেমাটি আগামী ৪ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
জনপ্রিয় ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ের নতুন একটি রহস্য-রোমাঞ্চ ঘরানার ওয়েব সিরিজে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন অভিনেত্রী তৃণা সাহা। ‘শলাকা রহস্য’ শিরোনামের এই সিরিজটি পরিচালনা করছেন নির্মাতা অদিতি রায়। সম্প্রতি সিরিজটির আনুষ্ঠানিক ফার্স্টলুক পোস্টার প্রকাশের মাধ্যমে প্রজেক্টটির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে হইচইয়ের আলোচিত সিরিজ ‘গভীর জলের মাছ’-এ চার বন্ধুর একজন হিসেবে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তৃণা। বর্তমানে তিনি স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পরশুরাম’-এ নিয়মিত কাজ করছেন; আর এর মাঝেই নতুন এই ওটিটি কনটেন্টে যুক্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এলো।
দর্শক ধরে রাখতে কিছুদিন আগে টেলিভিশন মেগা ধারাবাহিকের আদলে নতুন ফরম্যাটে দীর্ঘস্থায়ী ওয়েব সিরিজ উপহার দেওয়া শুরু করেছে হইচই। সেই ধারাবাহিকতার প্রথম সংযোজন ছিল ‘শাখা প্রশাখা’, যার দ্বিতীয় পর্ব সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে। এ ছাড়া অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুন্ডু অভিনীত একই ঘরানার ‘আতঙ্ক’ সিরিজটিও ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায় এবং দর্শকেরা এর পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই সফল ট্রেন্ড ধরে রেখে এবার তৃতীয় টিভি-ধারাবাহিক ধাঁচের ওয়েব সিরিজ হিসেবে ‘শলাকা রহস্য’ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল প্ল্যাটফর্মটি।
ইতিমধ্যেই সিরিজটির প্রথম অফিশিয়াল পোস্টার দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পোস্টারে অভিনেত্রী তৃণা সাহাকে এক ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ির নববধূ বা বধূর সাজে বসে থাকতে দেখা গেছে। তাঁর এক হাতে শোভা পাচ্ছে পদ্মফুল এবং অন্য হাতে রয়েছে ছুঁচ-সুতো; তবে তাঁর চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে এক অজানা আতঙ্ক ও শঙ্কা। অভিনেত্রীর পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ডে বিশালাকার দুর্গা প্রতিমার উপস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে গল্পটি একটি সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী বনেদি পরিবারের প্রেক্ষাপটে আবর্তিত হয়েছে।
পোস্টারের সঙ্গে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত বিবরণীতেও সিরিজটির রহস্যময় গল্পের কিছুটা আভাস দেওয়া হয়েছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—একটি অচেনা বাড়িতে নতুন এক গৃহবধূর আগমন এবং এরপরই সেখানে একের পর এক ঘটে যাওয়া রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা। এই রাজবাড়ির লুকিয়ে থাকা অন্ধকার রহস্যের শেষ কোথায় এবং কীভাবে মৃত্যুর এই ফাঁদ থেকে নববধূকে রক্ষা করা যাবে—তা নিয়েই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও অনুসন্ধানী সাসপেন্স নিয়ে এগিয়ে যাবে পুরো কাহিনি। অদিতি রায়ের দক্ষ পরিচালনায় তৃণা সাহা আবারও দর্শকদের বড় পর্দায় নতুন এক উপভোগ্য থ্রিলার উপহার দেবেন বলে প্রত্যাশা করছেন সিনেমাপ্রেমীরা।
বলিউডের বর্ষীয়ান মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন একটি শুটিং চলাকালে হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গিয়ে বাঁ হাঁটুতে চোট পেয়েছেন। চোটের কারণে দাঁড়িয়ে থাকতে সমস্যা হওয়া সত্ত্বেও কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রেখে জনপ্রিয় টেলিভিশন কুইজ শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮’-এর সঞ্চালনা অব্যাহত রেখেছেন ৮৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা। সম্প্রতি শোয়ের একটি পর্বে স্বাভাবিক নিয়মের কিছুটা ব্যত্যয় ঘটিয়ে তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকার বদলে সঞ্চালকের চেয়ারে বসে অনুষ্ঠানের সূচনা করতে দেখা যায়, যা দেখে উপস্থিত দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের মনে সাময়িক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
সাধারণত ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র প্রতিটি পর্বের শুরুতে মঞ্চের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজের গম্ভীর কণ্ঠ ও ট্রেডমার্ক সংলাপে দর্শকদের মুগ্ধ করে থাকেন অমিতাভ বচ্চন। তবে সাম্প্রতিক পর্বটিতে মঞ্চে প্রবেশ করেই কোনো ভূমিকা ছাড়া দ্রুত নিজের নির্ধারিত আসনে বসে পড়েন বিগ বি। দীর্ঘদিনের চেনা ধারার বাইরে গিয়ে তাঁকে এভাবে শুরুতেই বসে পড়তে দেখে সেটে উপস্থিত দর্শকদের মাঝে জল্পনা ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।
দর্শকদের উদ্বেগ দূর করতে নিজের বাঁ হাঁটুর দিকে ইঙ্গিত করে অমিতাভ বচ্চন নিজেই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, আগের দিন একটি শুটিংয়ে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে পড়ে গেলে তাঁর বাঁ হাঁটুতে আঘাত লাগে। চোটের কারণে দীর্ঘক্ষণ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টদায়ক হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়েই বসে থেকে পর্বের উদ্বোধনী মনোলগ দিতে হয়েছে। তবে এই আঘাত নিয়ে ভক্তদের আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, চোটটি খুব বেশি মারাত্মক নয় এবং ভয়ের কোনো কারণ নেই।
শারীরিক যন্ত্রণা থাকা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানের মূল ধারা বজায় রাখার কথা উল্লেখ করেন অমিতাভ বচ্চন। তিনি জানান, পর্বের সূচনা বসে করলেও মূল খেলায় অংশ নিতে আসা প্রতিযোগীদের বরণ করে নেওয়ার সময় তিনি যথারীতি দাঁড়িয়েই তাঁদের স্বাগত জানাবেন। ৮৩ বছর বয়সেও চোট উপেক্ষা করে তাঁর এমন অনন্য পেশাদারত্ব ও কাজের প্রতি একাগ্রতা দেখে সেটে উপস্থিত দর্শক ও কলাকুশলীরা করতালির মাধ্যমে অভিনেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্বব্যাপী মুক্তির একই দিনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি পেতে যাচ্ছে হলিউডের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘ডিগার’। আগামী ২ অক্টোবর ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ব্যানারে বিশ্বজুড়ে মুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের শীর্ষ মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সে একযোগে প্রদর্শিত হবে সিনেমাটি। স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজ অভিনীত ‘ডিগার’-এর পাশাপাশি একই দিনে হরর ঘরানার বিখ্যাত ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘রেসিডেন্ট ইভিল’-এর নতুন সিনেমাটিও বাংলাদেশের দর্শকের জন্য বড় পর্দায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব চলচ্চিত্রে ‘মিশন: ইম্পসিবল’ সিরিজের ইথান হান্ট চরিত্রের চোখধাঁধানো অ্যাকশন, ঝুঁকিপূর্ণ সব স্টান্ট আর দুর্বার গতির জন্য জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন টম ক্রুজ। তবে মেক্সিকোর দুইবারের অস্কারজয়ী প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেহান্দ্রো জি. ইনারিতু পরিচালিত ‘ডিগার’ সিনেমায় দর্শক তাঁকে একেবারেই ব্যতিক্রমী এক রূপ ও চরিত্রে দেখতে পাবেন। চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই এই তারকা অভিনেতার বাহ্যিক অবয়ব ও অভিনয়শৈলীর নতুন রূপান্তর নিয়ে সিনেমাপ্রেমী ও চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
একই দিনে মুক্তি পেতে যাওয়া হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় হরর ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘রেসিডেন্ট ইভিল’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় দুই যুগ আগে। জাপানি ভিডিও গেম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ক্যাপকমের জনপ্রিয় ভিডিও গেম সিরিজকে উপজীব্য করে ২০০২ সালে মুক্তি পায় সিরিজের প্রথম চলচ্চিত্রটি। পল ডব্লিউ. এস. অ্যান্ডারসন পরিচালিত এবং অভিনেত্রী মিলা জোভোভিচ অভিনীত সেই ছবিটির ব্যাপক সাফল্যের ওপর ভর করে পরবর্তীতে এটি সাতটি সিনেমার একটি দীর্ঘ ও ব্যবসাসফল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে রূপ লাভ করেছিল।
মূল সিরিজের সফল সমাপ্তির পর ২০২১ সালে ‘রেসিডেন্ট ইভিল: ওয়েলকাম টু র্যাকুন সিটি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পুরো গল্পটিকে নতুন আঙ্গিকে রিবুট করা হয়েছিল। দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিরতি কাটিয়ে এবার দর্শকদের সামনে আসছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নতুন সিনেমা ‘রেসিডেন্ট ইভিল’। এটি মূলত এই হরর ফ্র্যাঞ্চাইজির দ্বিতীয় রিবুট এবং সামগ্রিক হিসাবের অষ্টম চলচ্চিত্র হিসেবে প্রেক্ষাগৃহে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে, যা ঢাকার বড় পর্দায় অ্যাকশন ও হররপ্রেমী দর্শকদের জন্য দারুণ এক বিনোদনের সুযোগ তৈরি করেছে।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের হাঁড়ির খবর ফাঁস ও নানা মুখরোচক বিতর্কের জন্ম দেওয়া আলোচিত সেলিব্রিটি চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’ অবশেষে সমাপ্তির পথে। নির্মাতা ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক করণ জোহর নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে আসন্ন নবম মৌসুমের মধ্য দিয়েই ২২ বছরের পথচলার চূড়ান্ত ইতি ঘটতে যাচ্ছে। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিওহটস্টারে শুরু হতে যাচ্ছে অনুষ্ঠানটির এই বিদায়ী মৌসুম।
দীর্ঘদিনের এই জনপ্রিয় শো বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি নিজের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন বলে জানিয়েছেন করণ জোহর। তিনি উল্লেখ করেন, জীবনের পরবর্তী এক দশকে তিনি সঞ্চালনা বা টক শোর গণ্ডি পেরিয়ে নিজেকে পুরোপুরি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও নতুন নতুন গল্প বলার কাজে নিয়োজিত রাখতে চান বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারাক্রান্ত মনে বিদায় নেওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি জানান, ‘কফি উইথ করণ’ তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা ও স্মরণীয় একটি অধ্যায় ছিল এবং চোখের পলকে কীভাবে ২২টি বছর পার হয়ে গেল তা এখনো তাঁর কাছে এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি।
২০০৪ সালে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল স্টার ওয়ার্ল্ডে বলিউড তারকা শাহরুখ খান ও কাজলকে অতিথি করে জমকালোভাবে শুরু হয়েছিল এই অনুষ্ঠানের ঐতিহাসিক যাত্রা। বিগত দুই দশকে আটটি মৌসুমে অনুষ্ঠানটির মোট ১৬১টি পর্ব সম্প্রচারিত হয়েছে। প্রায় প্রতিটি পর্বেই হিন্দি সিনেমার শীর্ষ তারকাদের প্রেম, বন্ধুত্ব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এনে দর্শকদের বিনোদনের পাশাপাশি শোবিজ পাড়ায় জন্ম দিয়েছে অসংখ্য চাঞ্চল্যকর বিতর্কের।
টেলিভিশনের পর্দায় টানা ছয়টি মৌসুম চলার পর সময়ের চাহিদায় ২০২২ সালে শোটি পুরোপুরি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘ডিজনি প্লাস হটস্টার’-এ স্থানান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্ল্যাটফর্মটির নাম বদলে ‘জিওহটস্টার’ হওয়ার পর এবার সেখানেই ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম তথা শেষ মৌসুমটি প্রচারের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক পর্দা নামতে যাচ্ছে।