মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

এবারের পূজায় পূজা চেরী

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ অক্টোবর, ২০২৪ ২১:৪১

শিশুশিল্পী থেকে নায়িকা হয়ে ওঠার পরিক্রমায় অসংখ্য দর্শকের মন কেড়েছেন চিত্রনায়িকা পূজা চেরী। সৌন্দর্যের মাধ্যমে খুব অল্প সময়েই দ্যুতি ছড়িয়েছেন। বলা চলে, ঢালিউডের এ সময়ের প্রতিভাধর অভিনেত্রীর তালিকায় শীর্ষেই তার অবস্থান।

সে কারণে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিলেন। বড় বাজেট আর ভালো গল্প পেলেই পর্দায় হাজির হবেন তিনি। দর্শকের মনে বেঁচে থাকতে গেলে এর বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে পূজা চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ওয়েব সিরিজে। ‘ব্ল্যাক মানি’ শিরোনামের ওয়েব সিরিজটি পরিচালনা করবেন রায়হান রাফী।

এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্যারিয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, ‘বড় কোনো প্রজেক্ট ছাড়া কাজ করব না। দরকার হলে বাসায় বসে থাকব।

তবে আসন্ন শারদীয় দুর্গা উৎসব ঘিরে কোনো পরিকল্পনা নেই পূজা চেরীর। কয়েক মাস আগে সব সময়ের সঙ্গী মাকে হারিয়েছেন। সেই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এখনো প্রতি মুহূর্তে মাকে মনে পড়ে। তাই তো পূজার পরিকল্পনা জানতে প্রশ্ন করা হলে চোখ ভিজে ওঠে তার। পূজা বলেন, ‘সবাই জানেন, মা আমার সঙ্গে নেই। তিনি মারা গেছেন ছয় মাস হতে চলেছে।

গতবারও মা আমার সঙ্গে ছিলেন। বিভিন্ন পূজামণ্ডপে মা আমার হাত ধরে গেছেন। বিষয়টা এমন, আমি তার মা। তিনি আমার সন্তান। ওই ব্যাপারটা আসলে রিকল হচ্ছে। এবার আসলে সেভাবে কোনো পরিকল্পনা নেই। নিজের জন্য একটা সুতাও কিনিনি। কিনবও না। কাজে ব্যস্ত থাকব।’

চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সব সময়ই মাকে পাশে পেয়েছেন পূজা। মেয়ের সাফল্যে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন মা ঝর্ণা রায়। মায়ের সহযোগিতার কথা কখনো ভুলতে পারেন না তিনি। যেকোনো সাক্ষাৎকারে মায়ের সমর্থনের কথা বলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়েও মত জানান অভিনেত্রী। তবে যাননি গভীরে। শান্তির বার্তা দিয়ে পূজা বলেন, ‘আমি একজন হিন্দু। আমাদের উচিত সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করা। আমিও মুসিলম, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মকে শ্রদ্ধা করি। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।’

এদিকে দেশের জনপ্রিয় নির্মাতা অমিতাভ রেজার নির্দেশনায় নতুন একটি বিজ্ঞাপনে যুক্ত হয়েছেন পূজা। শুটিংও শেষ করেছেন। শিগগিরই এটা প্রচারিত হবে বলে জানান তিনি।

বিষয়:

ঈদের ইত্যাদিতে থাকছেন অর্ধশতাধিক বিদেশি নাগরিক

আপডেটেড ৩ মার্চ, ২০২৬ ১৪:৩৫
বিনোদন ডেস্ক

জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র এবারের ঈদের বিশেষ আয়োজনে দর্শকদের জন্য অন্যতম বড় আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বিদেশি নাগরিকদের নিয়ে তৈরি একটি ব্যতিক্রমী পর্ব। গত তিন দশক ধরে হানিফ সংকেত তাঁর এই কালজয়ী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে বিদেশিদের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার যে ধারা বজায় রেখেছেন, এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা তাঁদের ব্যস্ততার মাঝেও অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এই বিশেষ পর্বে অংশ নিয়েছেন।

এবারের আয়োজনে জাপান, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, পোল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া এবং যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় অর্ধশতাধিক নাগরিক অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁরা কেবল মঞ্চে উপস্থিতই হননি, বরং শুদ্ধ বাংলা ভাষায় অভিনয়, নাচ এবং গানের মাধ্যমে আমাদের সমাজের মানবিক গুণাবলি, সামাজিক অসংগতি এবং সুবিধাবাদী মানসিকতার নানা বিচিত্র চিত্র দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছেন। পেশাদার অভিনেতা না হওয়া সত্ত্বেও মহড়ার সময় তাঁদের সময়জ্ঞান, নিয়মানুবর্তিতা এবং বাংলা ভাষার প্রতি মমতা দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন নির্মাতা হানিফ সংকেত। তিনি জানিয়েছেন, অল্প দিনের এই অনুশীলনে বিদেশিদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক বন্ধনটি তাঁর কাছে সবসময়ই বিশেষ হয়ে থাকে।

এই বিশেষ পর্বটির জন্য একটি বিষয়ভিত্তিক গান তৈরি করা হয়েছে, যাতে কণ্ঠ দিয়েছেন শিল্পী রাজিব ও তানজিনা রুপা। গানটির সংগীত পরিচালনা করেছেন মেহেদী এবং নান্দনিক নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন মামুন। প্রতিবছরের মতো এবারও বিদেশিদের মাধ্যমে আমাদের সমাজকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরার এই প্রয়াস দর্শকদের বাড়তি বিনোদন দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফাগুন অডিও ভিশনের নির্মাণে ও হানিফ সংকেতের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় এই বিশেষ ‘ইত্যাদি’ প্রচারিত হবে ঈদের পরদিন রাত ৮টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) পর্দায়। সব মিলিয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক এক মেলবন্ধনের সাক্ষী হতে অপেক্ষায় আছেন কোটি দর্শক।


‘দাদাগিরি’র পর এবার ‘বিগ বস’ সঞ্চালনায় ফিরছেন সৌরভ গাঙ্গুলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘বিগ বস’-এর বাংলা সংস্করণের মধ্য দিয়ে নতুন এক অবতারে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন ‘মহারাজ’ সৌরভ গাঙ্গুলি। দীর্ঘ সময় ধরে ‘দাদাগিরি’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছোট পর্দার দর্শকদের মাতিয়ে রাখার পর এবার তাঁকে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ও রোমাঞ্চকর এই শো-তে সঞ্চালকের ভূমিকায় দেখা যাবে। স্টার জলসার পক্ষ থেকে আগামী ৬ মার্চ কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই রিয়ালিটি শো’র আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

প্রায় এক দশক আগে অন্য একটি বেসরকারি চ্যানেলে বাংলার ‘বিগ বস’ প্রচারিত হলেও দীর্ঘ বিরতির পর সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে এবং সৌরভের হাত ধরে এটি আবারও পর্দায় ফিরছে। আগামী শুক্রবারের সেই অনুষ্ঠানে সৌরভ গাঙ্গুলির উপস্থিত থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও শো-টি ঠিক কবে থেকে এবং কোন সময়ে সম্প্রচারিত হবে তা এখনো চূড়ান্তভাবে জানানো হয়নি, তবে প্রতিযোগীদের তালিকায় বড় কোনো চমক থাকছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধেই ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।

শুধু রিয়ালিটি শো নয়, বর্তমানে সৌরভ গাঙ্গুলির বায়োপিক নিয়েও বিনোদন পাড়ায় জোর আলোচনা চলছে। বড় পর্দায় ‘প্রিন্স অফ ক্যালকাটা’র চরিত্রে অভিনয় করবেন বলিউডের শক্তিমান অভিনেতা রাজকুমার রাও। একদিকে নিজের বায়োপিকের কাজ আর অন্যদিকে ‘বিগ বস’-এর মতো বড় প্রজেক্টের সঞ্চালনা—সব মিলিয়ে খেলার মাঠের পর গ্ল্যামার জগতেও আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন ভারতের এই প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক। দাদাগিরির ‘মহারাজ’ এবার বিগ বসের ঘরে কেমন ‘দাদাগিরি’ দেখান, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় আছেন কোটি ভক্ত।


হাসপাতালে ফজলুর রহমান বাবু, রয়েছেন নিবিড় পর্যবেক্ষণে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দেশের বরেণ্য অভিনেতা ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ফজলুর রহমান বাবু অসুস্থ হয়ে বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও এনজিওগ্রাম করার পর তাঁর হৃদযন্ত্রে বেশ কিছু গুরুতর ব্লক ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের জরুরি পরামর্শ অনুযায়ী গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর সফলভাবে ওপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে।

নাট্য নির্মাতা ও সংগঠক কামরুজ্জামান সাগর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রিয় এই অভিনেতার অসুস্থতা ও বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে ফজলুর রহমান বাবু চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন আগের চেয়ে কিছুটা স্থিতিশীল এবং তিনি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছেন। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবারও চিরচেনা ছন্দে ক্যামেরার সামনে ফেরার জন্য তাঁকে আরও কিছুদিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

ফজলুর রহমান বাবুর মতো শক্তিমান শিল্পীর অসুস্থতার খবরে বিনোদন জগতে এবং তাঁর অগণিত ভক্তদের মাঝে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বড় পর্দা ও ছোট পর্দা—উভয় মাধ্যমেই তাঁর সাবলীল অভিনয় এবং দরদী কণ্ঠের গান জয় করেছে কোটি মানুষের হৃদয়। সহকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় বার্তা দিচ্ছেন। নির্মাতারা ও তাঁর পরিবার দেশবাসীর কাছে প্রিয় এই গুণী শিল্পীর জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছেন। সবার প্রত্যাশা, খুব দ্রুতই সুস্থ হয়ে তিনি আবার সংস্কৃতি অঙ্গনে ফিরে আসবেন।


দুলাভাই পরিচয়ে ড্রাইভারের সঙ্গে পরকীয়া, ভেঙে যায় ডলি সায়ন্তনীর সংসার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

সংগীত জগতের একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় দম্পতি ডলি সায়ন্তনী ও রবি চৌধুরীর বিচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে অনেক জল্পনা-কল্পনা থাকলেও প্রকৃত কারণ অজানাই ছিল। দীর্ঘ সময় পর এক পডকাস্টে অতিথি হয়ে এসে সেই অজানা ও তিক্ত সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন গায়ক রবি চৌধুরী। তাঁর দাবি অনুযায়ী, কোরিয়া প্রবাসী এক গাড়ি চালকের সঙ্গে ডলি সায়ন্তনীর পরকীয়ার কারণেই তাঁদের সাজানো সংসার ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে রবি চৌধুরী এত দিন চুপ থাকলেও সম্প্রতি সত্য প্রকাশের তাগিদে বিষয়টি জনসমক্ষে এনেছেন।

রবি চৌধুরী জানান, কোরিয়া সফরকালে বিপ্লব নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়, যিনি সেখানে তাঁদের গাড়ি চালাতেন। পরবর্তীতে ডলির ব্যবহৃত ফোনে একটি নম্বর ‘দুলাভাই’ নামে সেভ করা দেখে রবির মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। ডলির বড় ভাই এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাদশা বুলবুলের মাধ্যমে নম্বরটি যাচাই করে জানা যায়, এই নামে তাঁদের কোনো আত্মীয় বা দুলাভাই নেই। অধিকতর খোঁজ নিয়ে রবি নিশ্চিত হন যে, ফোনে ‘দুলাভাই’ হিসেবে সংরক্ষিত ব্যক্তিটি আসলে সেই কোরিয়ান ড্রাইভার বিপ্লব। এই ঘটনা সামনে আসার পরপরই রবি চৌধুরী ডলিকে ডিভোর্স দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

গায়ক রবি চৌধুরীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি যখন জানাজানি হয়, তখন ডলি সায়ন্তনী গণমাধ্যমের কাছে বিপ্লবকে তাঁর ‘ভাগিনা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে বিচ্ছেদের কয়েক মাস পরেই ডলি সায়ন্তনী ওই বিপ্লবের গ্রামের বাড়ি ‘ফুলজানি’তে যান এবং সেই খবরটি সংবাদমাধ্যমে বড় করে প্রচার হয়। রবির মতে, ডলির এই পদক্ষেপই প্রমাণ করে দেয় যে তাঁর আগের সন্দেহগুলো শতভাগ সঠিক ছিল। বিপ্লবের বাড়িতে ডলির যাওয়াকে কেন্দ্র করে সেই সময় শোবিজ অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

পুরনো এই তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে রবি চৌধুরী বলেন, শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে স্বস্তি বোধ করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ডলির এই অনৈতিক সম্পর্কের কারণেই তাঁদের সুন্দর দিনগুলো শেষ হয়ে গিয়েছিল। তবে ব্যক্তিগত তিক্ততা থাকলেও ডলি সায়ন্তনী তাঁর সন্তানের মা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি কাদা ছোড়াছুড়ি করতে চান না তিনি। রবি চৌধুরীর এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই তারকার ভক্তদের মাঝে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে ডলি সায়ন্তনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


দেশে ফিরলেও খোঁজ মিলছে না আলভীর, গ্রেফতার অভিযানে পুলিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় অভিযুক্ত ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভী দেশে ফিরলেও বর্তমানে তাঁর কোনো হদিস মিলছে না। গত রবিবার (১ মার্চ) বিকেলে নেপাল থেকে শুটিং শেষ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই তিনি রহস্যজনকভাবে আত্মগোপনে রয়েছেন। আলভীর দেশে ফেরার খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযানে নামলেও তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করতে পারছে না। বর্তমানে অভিনেতার মোবাইল ফোন এবং ফেসবুকসহ সকল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ থাকায় তাঁর অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা।

সূত্র মতে, নেপালে থাকাকালীন আলভী সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, দেশে ফিরেই তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন। গত রবিবার বিকেলে বিমানবন্দরে নামার পর এক মধ্যস্থতাকারীর সহায়তায় তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। তবে কথা অনুযায়ী তিনি গণমাধ্যমের সামনে আসেননি, বরং লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছেন। পুলিশের ধারণা, মামলার প্রধান আসামি হিসেবে তিনি গ্রেপ্তারের হাত থেকে বাঁচতে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, এভাবে আত্মগোপন করা আলভীর জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।

ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় জাহের আলভীকে প্রধান আসামি করার পাশাপাশি অভিনেত্রী তিথি এবং আলভীর মাকেও আসামি করা হয়েছে। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইকরার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে আলভীর পরকীয়া এবং নিয়মিত মানসিক নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

২০১০ সালে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন আলভী ও ইকরা এবং তাঁদের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকরার কিছু ব্যক্তিগত চ্যাট ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথোপকথন ফাঁস হওয়ার পর এই ট্র্যাজেডির নেপথ্যে থাকা পরকীয়া ও নির্যাতনের বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আলভীকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আলভীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে বিনোদন জগতে এই ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


পপ সংগীতের স্বর্ণযুগের অবসান: না ফেরার দেশে চলে গেলেন কিংবদন্তি নিল সেডাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বিশ্ব কাঁপানো জনপ্রিয় পপ সংগীতশিল্পী এবং অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা নিল সেডাকা আর নেই। গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ৮৬ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আধুনিক পপ সংগীতের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীর মৃত্যুর খবরটি তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর প্রয়াণে সংগীত জগতে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ভক্তরা হারিয়েছেন সুরের জাদুর এক মহান কারিগরকে।

নিল সেডাকার পরিবার তাঁদের শোকবার্তায় জানিয়েছে, ‘রক অ্যান্ড রোলের একজন প্রকৃত কিংবদন্তি এবং লাখ লাখ মানুষের অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ স্বামী, পিতা এবং পিতামহ। তাঁর এই চলে যাওয়া আমাদের জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।’ যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ করা হয়নি।

নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম নেওয়া নিল সেডাকা শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং বিখ্যাত জুলিয়ার্ড স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৫০-এর দশকে ‘দ্য টোকেনস’ নামক গ্রুপের মাধ্যমে তাঁর সংগীত জীবনের শুরু। কিশোর বয়সেই তিনি গীতিকার হিসেবে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৫৮ সালে তাঁর লেখা ‘স্টুপিড কিউপিড’ গানটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। গায়ক, গীতিকার এবং দক্ষ পিয়ানোবাদক—এই ত্রিমাত্রিক পরিচয়ে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর গাওয়া ‘ব্রেকিং আপ ইজ হার্ড টু ডু,’ ‘ক্যালেন্ডার গার্ল’, ‘লাফটার ইন দ্য রেইন’ এবং ‘ব্যাড ব্লাড’-এর মতো গানগুলো আজও সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে অম্লান।

ষাট দশকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশ ব্যান্ডগুলোর দাপটে তাঁর জনপ্রিয়তা কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও সত্তরের দশকে তিনি রাজকীয়ভাবে ফিরে আসেন। ১৯৭৫ সালে এলটন জনের রেকর্ড লেবেলের হয়ে কাজ করে তিনি আবারও বিলবোর্ড চার্টের শীর্ষে জায়গা করে নেন। তাঁর কালজয়ী গান ‘লাভ উইল কিপ আস টুগেদার’ সংগীত ইতিহাসের এক অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। পাঁচবার গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়া এই শিল্পী কেবল পপ জগতেই নয়, ধ্রুপদী বা ক্লাসিক্যাল মিউজিকের প্রতিও গভীর ভালোবাসা পোষণ করতেন।

সংগীত জগতে দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে নিল সেডাকা কেবল নিজের জন্যই গান তৈরি করেননি, বরং সমসাময়িক আরও অনেক প্রথিতযশা শিল্পীর জন্য হিট গান উপহার দিয়েছেন। ২০১২ সালে লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে এক কনসার্টে তিনি বলেছিলেন, গান ও সুরের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষের ভালোবাসা পাওয়াই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা। নিল সেডাকার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব সংগীতের একটি বর্ণিল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল, তবে তাঁর সুর ও সৃষ্টি চিরকাল সুরপিপাসুদের মনে বেঁচে থাকবে।


বাংলা নববর্ষ উদযাপনে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘শিরোনামহীন’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বাংলা নববর্ষের বিশেষ আয়োজনে অংশ নিতে আবারও বিদেশ সফরে যাচ্ছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘শিরোনামহীন’। এবারের গন্তব্য হিসেবে তারা বেছে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ব্যান্ডের দলনেতা, বেজ গিটারিস্ট ও গীতিকার জিয়াউর রহমান জিয়া জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে তাদের এই বিশেষ মিউজিক্যাল ট্যুর শুরু হবে। ‘বাংলা নববর্ষ সাংস্কৃতিক উৎসব ও মেলা’ শিরোনামের একটি উন্মুক্ত বা ওপেন এয়ার কনসার্টে অংশ নেবে দলটি। সিডনির এই বড় আয়োজন শেষে ব্যান্ডের সদস্যরা অস্ট্রেলিয়ার আরও বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে তাদের জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করবেন।

ব্যান্ডের দলনেতা জিয়ার মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো সংগীতের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছে দেশের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শেকড়কে পৌঁছে দেওয়া। শিরোনামহীন ব্যান্ডের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারফর্ম করার অভিজ্ঞতা বেশ দীর্ঘ। এ পর্যন্ত দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে তারা দুই হাজার পাঁচশোর বেশি কনসার্টে অংশ নিয়েছে। এর আগে মালয়েশিয়ার মালায়া বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রীলঙ্কার গল সংগীত উৎসব এবং ফ্রান্সের প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের আমন্ত্রণে ‘স্তাদ দ্য স্তেইন’ স্টেডিয়ামে গান গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে তারা। এছাড়া ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া এবং ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো সফলভাবে কানাডা সফর সম্পন্ন করেছে ব্যান্ডটি।

১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় তিন দশক ধরে বাংলা গানের জগতে নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে ‘শিরোনামহীন’। ২০০৪ সালে তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘জাহাজী’ প্রকাশের পর ‘হাসিমুখ’ ও ‘জাহাজী’র মতো কালজয়ী গানের মাধ্যমে শ্রোতামহলে ব্যাপক পরিচিতি পায় দলটি। এ পর্যন্ত আটটি পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম, একাধিক একক গান ও চলচ্চিত্রের গান উপহার দিয়েছে তারা। তাদের সর্বশেষ প্রকাশিত অ্যালবাম ‘বাতিঘর’ও শ্রোতাদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। বর্তমানে ব্যান্ডের বর্তমান লাইনআপে জিয়ার সঙ্গে রয়েছেন কাজী আহমেদ শাফিন, শেখ ইশতিয়াক, সাইমন চৌধুরী এবং সুদীপ্ত সিনহা দীপু। আবারও বিদেশের মাটিতে বাংলা নববর্ষের উৎসবে শামিল হওয়ার এই সুযোগ নিয়ে ব্যান্ডের সকল সদস্য অত্যন্ত উৎসাহিত।


বিজয়-রাশমিকার বিয়েতে আভিজাত্যের ছোঁয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের ঐতিহাসিক শহর উদয়পুরে এক ঘরোয়া কিন্তু রাজকীয় আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। তাঁদের এই বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মধ্যে বিপুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিশেলে তৈরি এই বিশেষ মুহূর্তগুলো কেবল প্রশংসাই কুড়ায়নি, বরং জনপ্রিয়তার দিক থেকে ইন্টারনেটে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

এই রাজকীয় বিয়ের সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ছিল প্রথাগত পালকিতে (দোলী) চড়ে রাশমিকার প্রবেশ এবং হাতে রাজকীয় তলোয়ার নিয়ে বিজয় দেবরাকোন্ডার অপেক্ষা। আলোকোজ্জ্বল পালকির ভেতরে হাস্যোজ্জ্বল রাশমিকার সাবলীল ভঙ্গি আর অন্যদিকে রাজার মতো মর্যাদায় বিজয়ের দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। পালকির ভেতরে সূক্ষ্ম অলংকরণ, ফুলের সাজসজ্জা এবং প্রথাগত ঢেউযুক্ত কাপড়ের ব্যবহার আভিজাত্যের এক নিখুঁত চিত্রায়ন তৈরি করেছিল, যা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

বিয়ের মণ্ডপ ও সামগ্রিক সাজসজ্জায় ছিল ভারতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রাঞ্জল প্রকাশ। বিশেষ করে দুই তারকার নামের আদ্যাক্ষর ‘ভিআর’ সম্বলিত নকশা মণ্ডপজুড়ে এক ব্যক্তিগত ও ঐতিহাসিক আবহ তৈরি করেছিল। টেরাকোটা রঙের ব্যবহার এবং মাটির প্রাকৃতিক টোনের মাধ্যমে পুরো পরিবেশকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ করে তোলা হয়। ডিজাইনারদের লক্ষ্য ছিল অনুষ্ঠানটিকে একাধারে অন্তরঙ্গ ও অর্থবহ করে তোলা, যেখানে অতিরিক্ত জাঁকজমক না থাকলেও প্রতিটি কোণ থেকে শৈল্পিক আভিজাত্য ফুটে উঠেছে।

পোশাক নির্বাচনেও দুই তারকা ছিলেন অনন্য ও রুচিশীল। রাশমিকা পরেছিলেন মন্দির থেকে অনুপ্রাণিত সূক্ষ্ম নকশার লাল-বাদামি শাড়ি, যা তাঁকে এক জীবন্ত দেবীর মতো উপস্থাপন করেছে। অন্যদিকে বিজয় পরেছিলেন আভিজাত্যের প্রতীক ধুতি ও অঙ্গবস্ত্র, যার নকশায় ফুটে উঠেছিল তাঁর পারিবারিক শক্তি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। উভয়ই স্বর্ণের ঐতিহ্যবাহী অলংকারের মাধ্যমে নিজেদের সাজ পূর্ণ করেছিলেন, যা অনুষ্ঠানের ঐশ্বরিক সৌন্দর্যকে আরও প্রগাঢ় করেছে।

বিজয়-রাশমিকার এই বিয়ের ছবি কেবল ভক্তদের মন জয় করেনি, বরং ইনস্টাগ্রামে গড়েছে নতুন এক বিশ্বরেকর্ড। রাশমিকা মান্দানার বিয়ের পোস্টটি এখন পর্যন্ত ২৪ মিলিয়নের বেশি লাইক অর্জন করেছে, যা কোনো ভারতীয় অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা স্থিরচিত্রের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল কিংবদন্তি ক্রিকেটার বিরাট কোহলির দখলে; ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর তাঁর দেওয়া পোস্টে লাইক ছিল ২২.৮ মিলিয়ন। বিজয়ের পোস্টটিও ১৯.৩ মিলিয়ন লাইক পেয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় অ্যাকাউন্টের তালিকায় কিশোর মণ্ডলের একটি ভাইরাল রিল ছাড়া রাশমিকার এই পোস্টটিই লাইকের দিক থেকে সবার উপরে অবস্থান করছে। সব মিলিয়ে এই তারকা জুটির বিয়ে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অনন্য দলিল হয়ে রইল।


ঈদুল ফিতরে আসছে রেদওয়ান রনির অ্যাকশন থ্রিলার ‘দম’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বড় পর্দায় ঝড় তুলতে আসছে নির্মাতা রেদওয়ান রনির নতুন অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘দম’। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটির প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশ করে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছেন নির্মাতা। পোস্টারটিতে অভিনেতা আফরান নিশোকে অত্যন্ত ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত চেহারায় দেখা গেছে, যা সিনেমার গল্পের গভীরতা ও সংগ্রামের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পোস্টারটি শেয়ার করে রেদওয়ান রনি ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শুধু লড়াই নয়, অস্তিত্বের প্রশ্ন! যত বাধাই আসুক, দম থাকলে ঠেকায় কে?’। দেশের শোবিজ অঙ্গনের দুই প্রভাবশালী অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও আফরান নিশো প্রথমবারের মতো এই সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করছেন, যা দর্শকদের জন্য একটি বড় চমক।

সিনেমাটিতে কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা পূজা চেরী। এই প্রজেক্টের সাথে যুক্ত হওয়াকে নিজের অভিনয় জীবনের ‘পুনর্জন্ম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। পূজা জানান, ‘দম’ সিনেমায় তাঁকে সম্পূর্ণ মেকআপ ছাড়াই অভিনয় করতে হয়েছে, যা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই চরিত্রের জন্য তাঁকে কঠোর অডিশন দিতে হয়েছে এবং নিয়মিত রিহার্সালের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন তিনি। অন্যদিকে, কিংবদন্তি অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী এই নতুন গল্পের চরিত্রের জন্য প্রায় দুই বছর ধরে অপেক্ষা করছেন বলে জানিয়েছেন। শিল্পীদের এমন নিবেদন ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা সিনেমাটিকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সিনেমাটির জন্য নিজেকে আমূল বদলে ফেলেছেন অভিনেতা আফরান নিশো। দমের চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে ওজন ঝরিয়ে ৯৬ কেজি থেকে ৭৫ কেজিতে নামিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে। নিশো জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর ওজন ৮৩ কেজি এবং তিনি লক্ষ্য পূরণে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সিনেমার চিত্রনাট্য তৈরিতে কাজ করেছেন রবিউল আলম রবি, সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান ও সাইফুল্লাহ রিয়াদের মতো প্রতিভাবান নির্মাতারা। একটি বিশাল ক্যানভাসে নির্মিত এই সিনেমার উল্লেখযোগ্য অংশের শুটিং হয়েছে কাজাখস্তানে, যা সিনেমাটির ভিজ্যুয়াল আবেদনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড প্রযোজিত এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি সহপ্রযোজিত ‘দম’ মুক্তি পাবে পবিত্র ঈদুল ফিতরে। দুই মেগাস্টার নিশো ও চঞ্চলের উপস্থিতি এবং রেদওয়ান রনির নির্মাণশৈলী সব মিলিয়ে প্রেক্ষাগৃহে এক নতুন আমেজ তৈরির অপেক্ষায় রয়েছেন চলচ্চিত্র প্রেমীরা। একটি মানবিক ও শক্তিশালী গল্পের মিশেলে নির্মিত এই অ্যাকশন থ্রিলারটি বর্তমান সময়ের বাংলা সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম মাইলফলক হবে বলেই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


‘কিং’ সিনেমায় শাহরুখের বড় চমক, অকল্পনীয় লুকে হাজির হচ্ছেন বলিউড বাদশাহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের আসন্ন সিনেমা ‘কিং’ নিয়ে দর্শকদের উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। সিনেমাটি নিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে যা ভক্তদের কৌতূহলকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সম্প্রতি এই সিনেমার সংগীত পরিচালক জুটি শচীন-জিগার এক সাক্ষাৎকারে এমন কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন যা রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তাদের মতে, ‘কিং’ সিনেমায় শাহরুখ খানকে এমন এক অবতারে দেখা যাবে যা আগে কখনও কল্পনাও করেনি দর্শক।

শচীন-জিগার জানান, এই সিনেমায় শাহরুখ খান কেবল তাঁর অভিনয়ের জাদু দেখাবেন না, বরং তাঁর উপস্থাপনায় থাকবে আমূল পরিবর্তন। বিশেষ করে গানে তাঁর লিপ-সিং বা ঠোঁট মেলানোর পদ্ধতিতে এক নতুন ধারা লক্ষ্য করা যাবে। শচীনের দাবি অনুযায়ী, এই সিনেমার জন্য শাহরুখের লুক এবং চরিত্রের ধরনে এমন কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে যা সাধারণ সব ধারণার বাইরে। পর্দায় তাঁর এই অভাবনীয় রূপ দেখে ভক্তরা বিস্মিত হবেন বলেই তাঁরা বিশ্বাস করেন।

এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শাহরুখের নতুন লুক এবং অকল্পনীয় পারফরম্যান্স নিয়ে ভক্তদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সিনেমায় বলিউড বাদশাহর হাত ধরে নতুন কোনো ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন বিশ্বজুড়ে তাঁর কোটি কোটি ভক্ত। সব মিলিয়ে ‘কিং’ সিনেমাটি এখন বিনোদন জগতের অন্যতম শীর্ষ চর্চার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।


স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনার প্রধান আসামি জাহের আলভী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ছোট পর্দার পরিচিত অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই মৃত্যুর ঘটনায় ইকরার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে প্রধান আসামি করা হয়েছে অভিনেতা জাহের আলভীকে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পল্লবী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় জাহের আলভী নাটকের শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থান করছিলেন। তবে ইকরার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখছে। পল্লবী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জানিয়েছেন, মামলার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আলভী ও ইকরার দাম্পত্য জীবনের গল্পটিও ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর তাঁরা পরিবারের অগোচরে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখার পর ২০২৪ সালে তাঁরা জনসমক্ষে তাঁদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ করেন। এই দম্পতির সংসারে ‘প্রিয়মায়া’ নামে একটি সন্তান রয়েছে। ১৪ বছরের দীর্ঘ সম্পর্কের এমন করুণ পরিণতিতে শোকাভিভূত তাঁদের পরিচিত মহল।

স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে নেপাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন জাহের আলভী। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে থাকাকালীন এই দুঃসংবাদ পাওয়ার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন। এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকতে এবং কোনো ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়াতে তিনি গণমাধ্যম ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

পুলিশের তদন্তে এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে ইকরার আত্মহত্যার পেছনে প্রকৃত কোনো প্ররোচনা ছিল কি না। মিরপুর পল্লবী থানার ওসি জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একজন জনপ্রিয় অভিনেতার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিনোদন অঙ্গনেও চলছে নানা আলোচনা।


দীর্ঘ দুই দশক পর ফিরছে দেবাশীষ বিশ্বাসের জনপ্রিয় স্ট্রিট শো ‘পথের প্যাঁচালী’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে একুশে টেলিভিশনের পর্দায় পথচলতি সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা আর মজার সব প্রশ্নে মেতে উঠতেন এক তরুণ উপস্থাপক। সেই অনুষ্ঠান ‘পথের প্যাঁচালী’ আর তার উপস্থাপক দেবাশীষ বিশ্বাস রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ ২৬ বছর পার হয়ে গেলেও আজও দর্শকদের মনে সেই অনুষ্ঠানের রেশ রয়ে গেছে। দর্শকদের সেই দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ছোট পর্দায় ফিরছে কালজয়ী এই স্ট্রিট শো। নির্মাতা ও উপস্থাপক দেবাশীষ বিশ্বাস নিশ্চিত করেছেন যে, আসন্ন রোজার ঈদের পর একুশে টেলিভিশনেই শুরু হতে যাচ্ছে ‘পথের প্যাঁচালী’র নতুন সিজন।

নিজের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে আবারও ফিরতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত দেবাশীষ বিশ্বাস। তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে জানান, একুশে টেলিভিশন এবং ‘পথের প্যাঁচালী’ই তাঁকে আজকের দেবাশীষ বিশ্বাস হিসেবে গড়ে তুলেছে। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকরা তাঁকে যেখানেই দেখেছেন, সেখানেই এই অনুষ্ঠানটি পুনরায় শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছেন। ভক্তদের সেই ভালোবাসার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আবারও মাইক্রোফোন হাতে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি একুশে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এই নতুন সিজন শুরুর বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের পরপরই একুশে টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ‘পথের প্যাঁচালী’র নতুন পথচলা শুরু হবে। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে অনুষ্ঠানের ধরনে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। আগে যেমন আউটডোরে ঘুরে ঘুরে পথচলতি মানুষকে অপ্রস্তুত সব মজার প্রশ্ন করা হতো, এবারও মূল কাঠামো একই থাকবে কিন্তু উপস্থাপনায় আধুনিকতার ছোঁয়া থাকবে। দেবাশীষ বিশ্বাস অকপটে স্বীকার করেছেন যে, ২৬ বছর আগের সেই বয়স বা পরিস্থিতি এখন না থাকলেও, দর্শকদের নির্মল বিনোদন দেওয়ার সেই চিরচেনা আমেজ বজায় রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তিনি।

চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে সফল ক্যারিয়ার গড়া দেবাশীষ বিশ্বাসের কাছে এই শোটি কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং শেকড়ে ফেরার এক অনন্য মাধ্যম। গত ২০ বছর ধরে যারা নিয়মিত এই শোটি ফেরার অপেক্ষা করছিলেন, তাঁদের জন্য এটি হবে এক বড় চমক। নতুন আঙ্গিকে ‘পথের প্যাঁচালী’ আবারও সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং বিনোদনের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারবে বলে আশা করছে একুশে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। দর্শকদের সেই পুরোনো স্মৃতি আর নতুন প্রজন্মের কৌতূহল—সব মিলিয়ে রাজপথের এই আড্ডা আবারও জমার অপেক্ষায় রয়েছে।


প্রেক্ষাগৃহে ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি না পাওয়ার কারণ জানালেন নির্মাতা সরয়ার ফারুকী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

গুলশানের হোলি আর্টিজানে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ছায়া অবলম্বনে নির্মিত মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বহুল আলোচিত সিনেমা ‘শনিবার বিকেল’ কেন দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা ও প্রশ্নের অবসান ঘটিয়েছেন নির্মাতা নিজেই। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সেন্সর বোর্ডের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে সিনেমাটি দীর্ঘ সময় আলোর মুখ দেখেনি। তবে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ফারুকী নিজে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত হওয়ার পর ভক্তদের মাঝে জোরালো প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল যে এবার হয়তো বড় পর্দায় দেখা যাবে এই সিনেমাটি। কিন্তু প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি না পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। অবশেষে গতকাল ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে এই নীরবতা ভেঙে নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ফারুকী।

ফারুকী জানিয়েছেন, মূলত ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটি আগেই মুক্তি পাওয়ায় প্রেক্ষাগৃহে এটি প্রদর্শনের বাণিজ্যিক গুরুত্ব হারিয়েছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন এই একই ঘটনা নিয়ে বলিউড সিনেমা ‘ফারাজ’ মুক্তি পায়, তখন ফারুকী আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন তার আগেই ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি দিতে। অনেক দৌড়ঝাঁপ ও প্রতিবাদের পরও সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র না মেলায় শেষ পর্যন্ত ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘সনি লিভ’-এ সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হয়। নির্মাতার মতে, অনলাইনে একবার মুক্তি পাওয়ার পর সিনেমাটির হাজার হাজার লিঙ্ক ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে এবং যারা দেখার তারা ইতিমধ্যে দেখে ফেলেছেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ডিস্ট্রিবিউশন খরচ দিয়ে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া ব্যবসায়িক দিক থেকে কোনোভাবেই লাভজনক নয়।

নির্মাতা তাঁর লেখায় স্পষ্ট করেছেন যে, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না দেওয়ার পেছনে কোনো ভয় বা রাজনৈতিক চাপ কাজ করেনি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যারা অনলাইনে সহজলভ্য একটি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার দাবি তুলছেন, তারা আসলে চলচ্চিত্র ব্যবসার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নন। ফারুকী তাঁর উদাহরণ হিসেবে নিজের জনপ্রিয় সিনেমা ‘ব্যাচেলর’-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, সেটিও এখন আর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হয় না কারণ সেখানে আর কোনো নতুন ব্যবসা বাকি নেই। বাণিজ্যিক ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে কোনো ডিস্ট্রিবিউটর বা প্রযোজক এমন সিদ্ধান্ত নেবেন না বলেই তিনি মনে করেন।

সবশেষে ফারুকী তাঁর শিল্পসত্তার অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, তিনি তাঁর নির্মিত সকল সিনেমাকেই ধারণ করেন এবং কোনো বিশেষ আদর্শের কাছে তিনি মাথানত করেননি। তিনি ভবিষ্যতে ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক—যেকোনো ধরণের উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সিনেমা নির্মাণ অব্যাহত রাখবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ফারুকীর মতে, একজন শিল্পীর যেমন ধর্মীয় উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলায় কোনো সংকট থাকার কথা নয়, তেমনি চেতনার নামে মানুষ গুম বা খুনের বিরুদ্ধে কথা বলতেও কোনো দ্বিধা থাকা উচিত নয়। মূলত ব্যবসায়িক বাস্তবতা এবং ওটিটি মুক্তির কারণেই ‘শনিবার বিকেল’ প্রেক্ষাগৃহে আসেনি, অন্য কোনো রহস্যময় কারণে নয়।


banner close