এই তো কয়েক বছর আগেই নাটক, সিনেমা ও মডেলিংয়ে দ্যুতি ছড়িয়েছেন কুসুম শিকদার। ‘ছয় বছর বিরতি কাটিয়ে এবার তিনি হাজির হচ্ছেন চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে। বইমেলায় প্রকাশিত নিজের লেখা গল্পগুচ্ছর ‘শরতের জবা’ নিয়ে তিনি নির্মাণ করেছেন একটি সিনেমা। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো সিনেমা প্রযোজনা ও পরিচালনা করছেন। এরই মধ্যে মুক্তি পেয়েছে শরতের জবার টিজার ও পোস্টার। সিনেমা ও অন্যান্য বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার-
অভিষেকের অপেক্ষায়…
সত্যি কথা বলতে, আমি নিজেও ভীষণ উতলা হয়ে আছি নির্মাতা হিসেবে অভিষেকের জন্য। আমি জানি না, দেশের চলমান পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাগৃহের অবস্থা, তাতে আমি কিছুটা সংশয়ে আছি। জীবনের প্রথম পরিচালনা কেমন হবে, কি হবে, দর্শকই বা কীভাবে গ্রহণ করবেন? তারপরও আমি চাই দ্রুত আমার প্রথম পরিচালনার সিনেমাটা মুক্তি দিতে। ছবির কাহিনি, চিত্রনাট্য, দৃশ্যায়ন, লোকেশন ও গান-সবকিছুতেই ভালো লাগার আবেশ রয়েছে। আমার বিশ্বাস ছবিটি পরিপূর্ণ বিনোদন দেবে দর্শকদের।
কবে আসবে শরতের জবা…
ওই যে বললাম, আমি চাই দ্রুত ছবিটিকে মুক্তি দিতে। ‘শরতের জবা’ সিনেমাটি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। শুরু থেকেই আমি জানিয়েছিলাম সিনেমাটি আমি যেকোনো উৎসবে মুক্তি দিতে চাই। সেই জায়গা থেকে দুর্গাপূজার উৎসবে এটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। কারণ সিনেমার ডিস্ট্রিবিউশন এবং প্রযোজনার দায়িত্বে যারা আছেন, তাদেরও মতামত রয়েছে। আমি এবং তারা সবাই মিলে সুন্দর একটি সময় ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা করছি। দেখা যাক কী হয়। সবমিলিয়ে আগামী মাসে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি নভেম্বরেই মুক্তি পাবে।
পরিচালনার অভিজ্ঞতা…
সিনেমাটিকে শূন্য থেকে সন্তানের মতো বড় করছি। প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে কলাকুশলী, সবার শিডিউল, কাজের তালিকা– নিজেকেই করতে হয়েছে। সিনেমার গল্প, চিত্রনাট্য, সংলাপ এমনকি সম্পাদনা, কালার গ্রেডিং, সাউন্ড ডিজাইন সবই নিজে করেছি। অন্যরা সহযোগিতা করছেন, কিন্তু মূল কাজটা নিজেকেই বুঝে নিতে হয়েছে। তুলনামূলক অভিনয়ের চেয়ে নির্মাণের বিষয়টি একটু কঠিন। আর এটাই স্বাভাবিক, একজন অভিনয়শিল্পী যখন কোনো একটি কাজে অংশ নেন, তখন তিনি শুধু তার অভিনয় নিয়েই ভাবেন। কিন্তু একজন নির্মাতাকে অভিনয়শিল্পীর অভিনয় থেকে শুরু করে নির্মাণের প্রতিটি ধাপ খুব যত্ন নিয়ে ধৈর্য ধরে শেষ করতে হয়। পরিচালক হিসেবে প্রতিমুহূর্তে নতুন কিছু শিখেছি। এত চাপ কিন্তু পরিচালনা আমি এনজয় করেছি।
কী আছে সিনেমায়…
‘শরতের জবা’ সিনেমার প্রধান শক্তি হচ্ছে গল্প। যেই গল্পের বই আগেই প্রকাশ করেছি। আমার লেখা ‘অজাগতিক ছায়া’ বইটি যারা পড়েছেন, তারা সিনেমাটি দেখলেই বুঝতে পারবেন এর মধ্যে আমি কোনো পরিবর্তন রেখেছি কি না। এক কথায় গল্পে যা আছে, দর্শকের জন্য সিনেমায় আমি তাই তুলে ধরেছি। আলাদা করে চমক দেওয়ার জন্য তেমন কিছুই রাখিনি। সিনেমার চিত্রনাট্য, পরিচালনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রেও অভিনয় করেছি। আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান। প্রথমবার একসঙ্গে জুটি বাঁধলাম আমরা।
জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দীর্ঘদিনের গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে এবার বিচ্ছেদের খবর সামনে এসেছে। গত বছর ৪ জানুয়ারি মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর ভক্তদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা পেলেও, বছর ঘুরতেই সেই সম্পর্কে ইতি টানার ঘোষণা দিলেন এই তারকা।
জানা গেছে, বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় তাদের দাম্পত্য জীবনে টানাপড়েন শুরু হয় এবং গত জুলাই মাস থেকেই তারা আর একসঙ্গে বসবাস করছেন না। বিষয়টি নিশ্চিত করে তাহসান জানিয়েছেন, শিগগিরই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিচ্ছেদের ঘোষণা দেবেন।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত আড়ালে থাকতে পছন্দ করলেও বিবাহবার্ষিকী ঘিরে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে নিজেই মুখ খোলার সিদ্ধান্ত নেন তাহসান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, দীর্ঘদিন ধরেই তারা একে অপরের থেকে আলাদা থাকছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে একসঙ্গে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। বিচ্ছেদের চূড়ান্ত প্রক্রিয়াটি এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি মাত্র চার মাসের পরিচয়ে রোজা আহমেদকে বিয়ে করেছিলেন তাহসান, যিনি পেশায় একজন সফল মেকআপ আর্টিস্ট এবং নিউইয়র্কে নিজের ব্যবসা পরিচালনা করেন।
এটি তাহসান খানের দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। এর আগে ২০০৬ সালে অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলার সঙ্গে তার প্রথম বিবাহ সম্পন্ন হয় যা দীর্ঘ ১১ বছর টিকে থাকার পর ২০১৭ সালে বিচ্ছেদে রূপ নেয়। রোজা আহমেদের সাথে তার এই নতুন অধ্যায়টি দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় শোবিজ অঙ্গনসহ ভক্ত মহলে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন সবার অপেক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে এই সম্পর্কের চূড়ান্ত সমাপ্তি দেখার।
দেশজুড়ে একের পর এক সিঙ্গেল স্ক্রিন বা মান্ধাতা আমলের সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার নেতিবাচক খবরের মাঝে নতুন আশার আলো হয়ে আসছে আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স ও উন্নত মানের প্রেক্ষাগৃহ। ২০২৬ সালে দেশের চলচ্চিত্র প্রেমীদের জন্য বড় সুখবর হলো—নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়ায় দুটি নতুন মাল্টিপ্লেক্স এবং শরীয়তপুরে একটি আধুনিক সিঙ্গেল স্ক্রিন চালুর জোর প্রস্তুতি চলছে। এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে ঝিমিয়ে পড়া চলচ্চিত্র প্রদর্শনী খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বিশ্বমানের পরিবেশ ও উন্নত প্রযুক্তিতে সিনেমা দেখার সুযোগ প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে কাজ করছে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো।
দেশের শীর্ষস্থানীয় মাল্টিপ্লেক্স চেইন ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’ তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়ায় নতুন শাখা স্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (বিপণন) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন যে, নারায়ণগঞ্জের জালকুঁড়িতে অবস্থিত সীমান্ত টাওয়ারে স্টার সিনেপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ৩টি আধুনিক হল সমৃদ্ধ এই শাখাটি আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, বগুড়ার পুলিশ প্লাজাতেও স্টার সিনেপ্লেক্সের অন্য একটি শাখার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ২টি হল বিশিষ্ট এই শাখাটিও ২০২৬ সালের মধ্যেই সচল করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মেসবাহ উদ্দিন আরও জানান যে, প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই দেশজুড়ে ১০০টি পর্দা চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং বড় শহরগুলোর পর পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মাল্টিপ্লেক্সের পাশাপাশি আধুনিক সিঙ্গেল স্ক্রিন নির্মাণের ক্ষেত্রেও বড় উদ্যোগ দেখা গেছে শরীয়তপুরে। জেলার জাজিরায় পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার পাশে নির্মিত হচ্ছে ‘পদমা সিনেপ্লেক্স’, যার মালিকানা ও পরিকল্পনায় রয়েছেন চলচ্চিত্র প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল। বর্তমানে এই প্রেক্ষাগৃহটির নির্মাণ কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং আগামী পবিত্র ঈদুল আজহায় এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের লক্ষ্য রয়েছে। মোহাম্মদ ইকবালের মতে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ওই এলাকায় অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়লেও বিনোদনের জন্য কোনো উন্নত মানের সিনেমা হল ছিল না। দর্শকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই তিনি এই ঝুঁকি নিয়েছেন এবং আশা করছেন এটি স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে। এই নতুন হলগুলোর সংযোজন ২০২৬ সালের ঈদ বিনোদনে দর্শকদের জন্য এক বাড়তি মাত্রা যোগ করবে। পাশাপাশি আরও বেশ কিছু নতুন মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।
দক্ষিণ ভারতের মেগাস্টার প্রভাসের নতুন সিনেমা ‘দ্য রাজা সাব’ মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই তাঁর ভক্তদের মধ্যে এক ধরণের উন্মাদনা কাজ করছে, তবে সেই উন্মাদনা অনেক সময় মাত্রা ছাড়িয়ে বিপজ্জনক রূপ নিচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের ওড়িশার একটি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি চলাকালীন একদল ভক্ত হলের ভেতরেই আগুন জ্বালিয়ে উল্লাস করেছেন, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেক্ষাগৃহের ভেতরে থাকা দর্শকরা ‘কনফেটি’ বা উৎসবের জন্য ব্যবহৃত রঙিন কাগজের টুকরোতে আগুন ধরিয়ে উল্লাস প্রকাশ করছেন। একটি বদ্ধ সিনেমা হলের ভেতরে এভাবে আগুন জ্বালানো যেকোনো বড় ধরণের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে নেটিজেনরা একে অত্যন্ত ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ভক্তদের এমন উগ্র ও অসংলগ্ন আচরণ নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রভাসের সচেতন অনুরাগীদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক ভক্তই মনে করছেন যে, প্রিয় নায়কের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের এই ধরণের পথ কেবল অভিনেতাকেই লজ্জিত করছে না বরং অন্যদের জীবনকেও বিপন্ন করে তুলছে। যদিও এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ বা অভিনেতা প্রভাসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগেও এই সিনেমার প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে অদ্ভুত সব কাণ্ড ঘটিয়েছেন ভক্তরা; যার মধ্যে একটি ছিল প্রেক্ষাগৃহের ভেতর কুমিরের ডামি নিয়ে আসা, যা শেষ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলার কারণে প্রদর্শনী বাতিলের দিকে গড়িয়েছিল।
পরিচালক মারুতি নির্মিত ‘দ্য রাজা সাব’ একটি হরর-কমেডি ঘরানার সিনেমা যেখানে প্রভাসের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলিউডের দাপুটে অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। সিনেমায় প্রভাসের নতুন লুক ও অ্যাকশন দৃশ্যগুলো দর্শকদের মুগ্ধ করলেও প্রেক্ষাগৃহের ভেতরে দর্শকদের এমন লাগামহীন আচরণ পুরো সিনেমার আমেজকে বিষিয়ে তুলছে। নিরাপত্তার অজুহাতে অনেক সাধারণ দর্শক এখন সিনেমা হলে গিয়ে এই ছবি দেখতে ইতস্ততবোধ করছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো এবং এই ধরণের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। মূলত সৃজনশীল কাজের আনন্দকে ছাপিয়ে ভক্তদের এমন বিশৃঙ্খলাই এখন গণমাধ্যমে প্রধান সংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু ছায়ানট দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ধ্রুপদী সুরের মূর্ছনায় মুখর হয়ে উঠেছে। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) থেকে ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘শুদ্ধসংগীত উৎসব’। কালজয়ী সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁকে উৎসর্গ করা এই উৎসবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বড় মাপের পাবলিক ইভেন্টে ফেরার বলিষ্ঠ বার্তা দিল। উদ্বোধনী দিনে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং প্রথম অধিবেশনটি বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সফলভাবে চলে। আজ শনিবারও উৎসবের সমাপনী দিনের কর্মসূচি চলছে; যেখানে সকাল থেকে দুপুর এবং দুপুর ২টা থেকে রাত পর্যন্ত পৃথক অধিবেশনে দেশের প্রথিতযশা শিল্পীরা তাঁদের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করছেন।
ছায়ানটের এই ফেরা কেবল একটি সাধারণ আয়োজন নয়, বরং এটি একটি বড় সংকট কাটিয়ে ওঠার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী তৈরি হওয়া অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত ছায়ানট ভবনে ন্যাক্কারজনক হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছিল। যদিও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে ওই হামলার সঙ্গে হাদির প্রকৃত সমর্থকদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না, বরং বিশৃঙ্খলাকারীরা নিজেদের হীন স্বার্থ হাসিলে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছিল। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ছায়ানটের সকল পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর গত ১ জানুয়ারি থেকে দাপ্তরিক কাজ এবং ৩ জানুয়ারি থেকে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও এই সংগীত উৎসবের মাধ্যমেই দর্শকরা আবারও ছায়ানটে সশরীরে সমবেত হওয়ার সুযোগ পেলেন।
উৎসবের উদ্বোধনী ভাষণে ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়ে জোরালো বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, একটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন স্বদেশ গড়ে তোলাই এখন আমাদের প্রধান প্রত্যাশা, যেখানে কোনো ভয় বা বাধা ছাড়াই সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত থাকবে। তিনি মনে করেন, শিল্প ও সংস্কৃতিই পারে সমাজের অস্থিরতা দূর করে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতে। সংগীত প্রেমীদের জন্য এই আয়োজনটি ছিল দীর্ঘদিনের তৃষ্ণা মেটানোর মতো এক মুহূর্ত। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পরিচালিত এই উৎসবে শিল্পী ও দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, শিল্পের জয়যাত্রা কোনো অশুভ শক্তির বাধায় দমে থাকতে পারে না। মূলত একটি সুশৃঙ্খল ও সংস্কৃতিমনা সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যেই ছায়ানট পুনরায় তাঁদের এই সংগীত যাত্রার সূচনা করল।
জনপ্রিয় নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’ বর্তমান সময়ে বিনোদন জগতে এক নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ বিরতির পর পারিবারিক আবেগ এবং সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন নিয়ে নির্মিত কোনো ধারাবাহিককে ঘিরে দর্শকদের মাঝে এমন অভাবনীয় সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবের ‘সিনেমাওয়ালা’ চ্যানেলে নাটকটির প্রতিটি পর্ব মুক্তি পাওয়া মাত্রই তা লুফে নিচ্ছেন দর্শক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় প্রতিটি পর্বই ইতিমধ্যে ১০ থেকে ১৫ মিলিয়নের বেশি ভিউ অর্জন করেছে এবং একেকটি পর্ব মুক্তির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে।
পারিবারিক বন্ধনের মায়া এবং বাস্তব জীবনের আবেগঘন মুহূর্তগুলোই এই নাটকের জনপ্রিয়তার মূল চাবিকাঠি। ‘পরিবারই শুরু, পরিবারই শেষ’—এই শক্তিশালী বার্তাটি দর্শকদের মনে গভীরভাবে গেঁথে গেছে। নাটকের বিভিন্ন চরিত্র যেমন সামির, মেহরিন, ফাহাদ বা আঞ্জুমান বেগম এখন আর নিছক পর্দার চরিত্র নয়, বরং দর্শকদের কাছে একেকজন ঘরের মানুষ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। বিশেষ করে নাটকের বিভিন্ন সংলাপ এবং হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিনিয়ত ভাইরাল হচ্ছে, যা এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।
নাটকটির অসামান্য সাফল্যের পেছনে নির্মাতা রাজের মুনশিয়ানার পাশাপাশি এর বিশাল তারকা বহরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন ইরফান সাজ্জাদ, কেয়া পায়েল, খায়রুল বাসার, সুনেরাহ বিনতে কামাল, ইন্তেখাব দিনার, দীপা খন্দকার এবং মনিরা আক্তার মিঠুর মতো প্রতিভাবান একঝাঁক শিল্পী। তাঁদের সাবলীল অভিনয় এবং গল্পের সাথে একাত্ম হয়ে যাওয়ার ক্ষমতা দর্শকদের প্রতিটি পর্বের সাথে যুক্ত রাখতে সক্ষম হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সমসাময়িক জীবনের সম্পর্কের জটিলতা ও মমত্ববোধকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার কারণেই সব বয়সের মানুষের কাছে নাটকটি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ইউটিউবে কমেন্ট বক্স খুললেই দর্শকদের অকুণ্ঠ প্রশংসা ও নতুন পর্বের জন্য ব্যাকুল অপেক্ষা সেই ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে।
বলিউডের অত্যন্ত প্রতিভাবান ও সুপরিচিত অভিনেতা শহিদ কাপুর তাঁর বৈচিত্র্যময় অভিনয় শৈলী দিয়ে বরাবরই দর্শকদের চমকে দিতে পছন্দ করেন। ‘কাবীর সিং’ ও ‘দেবা’র মতো আলোচিত সিনেমার পর এবার তাঁর পরবর্তী বড় প্রজেক্ট ‘ও রোমিও’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন এই অভিনেতা। সম্প্রতি সিনেমাটির প্রথম লুক পোস্টার প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে। জনপ্রিয় নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজের সাথে এই সিনেমার মাধ্যমে আবারও জুটি বেঁধেছেন শহিদ, যা দর্শকদের প্রত্যাশাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রকাশিত পোস্টারটিতে শহিদ কাপুরকে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও রুক্ষ অবতারে দেখা গেছে। সুঠাম ও পেশিবহুল শরীরের সাথে তাঁর আক্রমণাত্মক ও বিদ্রোহী ভঙ্গিটি যে কাউকে আতঙ্কিত করার জন্য যথেষ্ট। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তাঁর শরীরজুড়ে থাকা অসংখ্য ট্যাটু। সিনে-বিশ্লেষকদের মতে, নিজের ক্যারিয়ারে কোনো একটি চরিত্রের জন্য এমন বিশাল শারীরিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে তিনি আগে কখনো যাননি। প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে একটি রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে নামার চূড়ান্ত প্রস্তুতি তাঁর এই বিধ্বংসী লুকে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। পোস্টারটি দেখে দর্শক ও সমালোচকরা মনে করছেন যে, বড় পর্দায় এবার এক দুর্ধর্ষ অ্যাকশন থ্রিলার উপহার দিতে চলেছেন এই তারকা।
বিশাল ভরদ্বাজের শক্তিশালী নির্মাণে এই সিনেমায় শহিদ কাপুরের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরি। এছাড়াও নানা পাটেকর ও গৌরব শর্মার মতো গুণী অভিনেতাদের উপস্থিতি সিনেমাটিতে ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘ বিরতির পর এমন এক শক্তিশালী কাস্টিং নিয়ে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল কাজ করছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘ও রোমিও’। ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাঁদের প্রিয় অভিনেতার এই ভয়ংকর ও লড়াকু রূপ রূপালি পর্দায় দেখার জন্য।
আদিত্য ধর পরিচালিত ও রনবীর সিং অভিনীত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘ধুরন্ধর’ ভারতীয় বক্স অফিসে হিন্দি ভাষার সিনেমার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন রেকর্ড গড়েছে। হিন্দি ডাব সংস্করণসহ মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’-এর মতো মেগা বাজেটের ছবিকে পেছনে ফেলে আয়ের দিক থেকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এই স্পাই থ্রিলার। জিও স্টুডিওস ও B62 স্টুডিওস প্রযোজিত এই সিনেমাটি কেবল হিন্দি ভাষার নিরিখে এখন ভারতের সর্বকালের সেরা আয়ের মুকুট পরেছে। আয়ের এই অভাবনীয় সাফল্য ভারতীয় চলচ্চিত্রের বাজারে রনবীর সিংয়ের অবস্থানকে পুনরায় শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত করল। ভারতের স্থানীয় বাজারে সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের তালিকায় বর্তমানে ছবিটি চতুর্থ স্থানে থাকলেও, শুধুমাত্র হিন্দি ভাষার ছবি হিসেবে এটি এখন সবার শীর্ষে।
সিনেমাটির অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভারতের স্থানীয় বাজার থেকে এটি ইতিমধ্যে ৯৮১.০৫ কোটি রুপি সংগ্রহ করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ‘ধুরন্ধর’ তার দাপট বজায় রেখেছে, যেখান থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৩০.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আয় করা হিন্দি চলচ্চিত্রের খেতাব পেয়েছে। পাশাপাশি কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় সর্বোচ্চ আয় করা ভারতীয় সিনেমা এবং যুক্তরাজ্যে সর্বকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ আয় করা ভারতীয় চলচ্চিত্রের তালিকায় নাম লিখিয়েছে এই ছবিটি। বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ আয় করা ভারতীয় ছবির তালিকায় বর্তমানে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে ‘ধুরন্ধর’, যেখানে এর সামনে রয়েছে কেবল ‘দঙ্গল’, ‘বাহুবলী ২’, ‘পুষ্পা ২’ ও ‘RRR’।
‘ধুরন্ধর’ সিনেমার বিশেষত্ব এর গল্প বলার ধরণ এবং শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয়। দুই পর্বে বিভক্ত এই কাহিনীর প্রথম অংশে একজন ভারতীয় গুপ্তচরের করাচির অপরাধ ও রাজনৈতিক জগতের গভীরে প্রবেশের এক রোমাঞ্চকর অভিযান ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রনবীর সিংয়ের দাপুটে অভিনয়ের পাশাপাশি খল চরিত্রে অক্ষয় খন্নার অনবদ্য শৈলী দর্শক ও সমালোচক উভয়েরই অকুণ্ঠ প্রশংসা কুড়িয়েছে। এছাড়াও এই মেগা প্রজেক্টে অভিনয় করেছেন সঞ্জয় দত্ত, আর. মাধবন, অর্জুন রামপাল ও সারা অর্জুনের মতো খ্যাতিমান সব তারকারা। প্রথাগত বাণিজ্যিক ঘরানার বাইরে গিয়ে একটি টানটান উত্তেজনার রাজনৈতিক থ্রিলার উপহার দেওয়ার কারণেই সিনেমাটি এই বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রথম কিস্তির এই বিশাল জয়জয়কারের পর নির্মাতারা এখন দ্বিতীয় কিস্তি তথা ‘ধুরন্ধর ২’ নিয়ে আসার জোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ একযোগে হিন্দি, তেলুগু, তামিল, কন্নড় ও মালায়ালম—এই পাঁচটি ভাষায় সিনেমাটি বড় পর্দায় মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের বড় বাজারগুলোর চাহিদার কথা মাথায় রেখে এমন বহুভাষিক মুক্তির উদ্যোগ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথম পর্বের রহস্যময় সেই ক্লিফহ্যাঙ্গার বা অসম্পূর্ণ মোড় থেকেই দ্বিতীয় পর্বের কাহিনী শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক আদিত্য ধর। সাফল্যের এই জয়যাত্রা বজায় থাকলে ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে ভারতীয় স্পাই ঘরানার এক নতুন পরিচয় তৈরি করবে।
ইছামতী নদীর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা সীমান্তবর্তী এক গ্রামের জীবনযাত্রা এবং এর অন্তরালে থাকা অপরাধের অন্ধকার জগতকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে নতুন ক্রাইম থ্রিলার সিনেমা ‘মাটি’। পরিচালক তারিফ সৈয়দ নিজেই এই সিনেমার গল্প ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন। ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তবর্তী মহেশপুর এবং ইছামতী নদীর বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে বর্তমানে ছবিটির শেষ পর্যায়ের দৃশ্যধারণের কাজ চলছে। সিনেমাটিতে মূলত একটি সীমান্তবর্তী গ্রামের বিবর্তনের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে একসময় মানুষ ছিল পুরোপুরি নদী নির্ভর। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইছামতী নদী শুকিয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসী বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে ফুলের চাষে ঝুঁকে পড়েন। সময়ের পরিক্রমায় সেই ফুলের বাজার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়।
তবে এই নয়নাভিরাম ফুলের সৌরভ আর সুন্দর জীবনের আড়ালে লুকিয়ে আছে সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধের এক ভয়ংকর চিত্র। পরিচালক তারিফ সৈয়দ জানান, সিনেমার কাহিনীতে মাদক চোরাচালান এবং নারী ও শিশু পাচার সিন্ডিকেটের সক্রিয়তাকে ক্রাইম থ্রিলার ঘরানায় অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে। গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপের সমান্তরালে সীমান্তের এই অস্থিরতা ও টানাপোড়েন দর্শকদের এক নতুন ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করবে। ছবিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন রাফাহ নানজীবা তোরসা, আলভী মামুন, এম ডি ইকবাল হোসেন, মাহামুদ আলম ও আশিক সরকার। নির্মাতার আশা, সুস্থ ধারার বিনোদনের পাশাপাশি সীমান্তের এই রূঢ় বাস্তবতা দর্শকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে কিছু অংশের দৃশ্যধারণ বাকি থাকলেও খুব শীঘ্রই সিনেমাটি মুক্তির প্রক্রিয়ায় যাবে বলে জানা গেছে।
‘বাহুবলী’ খ্যাত মহাতারকা প্রভাসের আসন্ন সিনেমা ‘দ্য রাজা সাব’ মুক্তির আগেই বক্স অফিসে নজিরবিহীন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভারতের ইতিহাসের বৃহত্তম বাজেটের হরর-কমেডি হিসেবে পরিচিত এই চলচ্চিত্রটি বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার বাজারে অগ্রিম টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। মারুথির পরিচালনায় নির্মিত এই সিনেমাটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৪১৯টি ভিন্ন স্থানে এক হাজার ১৮০টির বেশি শো বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখান থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ হাজার টিকিট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রি-সেলের মাধ্যমে ছবিটির আয় প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যার একটি বড় অংশই এসেছে উদ্বোধনী প্রিমিয়ার শো থেকে। শুরুর দিকে বুকিংয়ের গতি কিছুটা ধীর থাকলেও মুক্তির দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ভক্তদের উন্মাদনা তত বাড়ছে।
আগামী ৯ জানুয়ারি সংক্রান্তি বা পোঙ্গল উৎসবকে সামনে রেখে বড় পর্দায় অভিষেক হবে ‘দ্য রাজা সাব’-এর। তবে একই সময়ে মুক্তি পাচ্ছে তামিল সুপারস্টার বিজয়ের নতুন সিনেমা এবং কিংবদন্তি চিরঞ্জীবীর একটি চলচ্চিত্র। প্রতিযোগী সিনেমাগুলোর তুলনায় প্রভাসের ছবির শোর সংখ্যা বেশি হলেও অগ্রিম বুকিংয়ের দৌড়ে বর্তমানে একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উত্তর আমেরিকার বাজারে প্রভাসের জনপ্রিয়তা যেকোনো সমসাময়িক অভিনেতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রভাসের নিজের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় এখনো অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়নি, যা দেশীয় দর্শকদের মাঝে চূড়ান্ত আগ্রহ ও কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিনেমাটিতে প্রভাসের বিপরীতে গ্ল্যামার যোগ করেছেন মালবিকা মোহনন, নিধি আগারওয়াল ও ঋদ্ধি কুমার। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ও দাপুটে চরিত্রে রয়েছেন সঞ্জয় দত্ত এবং বোমান ইরানির মতো ডাকসাইটে অভিনেতারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটির টিজার ও ট্রেলার ইতিমধ্যেই দর্শকদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে। নতুন বছরে প্রভাসের এটি প্রথম বড় কাজ হলেও তাঁর ঝুলিতে আরও কয়েকটি মেগা প্রজেক্ট রয়েছে, যা নিয়ে সিনেমা প্রেমীদের উন্মাদনা তুঙ্গে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ‘দ্য রাজা সাব’ ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারে আয়ের নতুন রেকর্ড গড়বে এবং প্রভাসের ক্যারিয়ারে আরও একটি মাইলফলক যোগ করবে। বর্তমানে সারা বিশ্বের প্রভাস ভক্তরা ৯ জানুয়ারির সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
২০১৯ সালের ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ খেতাবজয়ী মডেল ও অভিনেত্রী রাফা নানজিবা তোরসা নতুন বছরের শুরুতেই তাঁর ভক্তদের জন্য বড় এক সুখবর নিয়ে হাজির হয়েছেন। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে তিনি এখন একগুচ্ছ নতুন সিনেমা নিয়ে দর্শকদের সামনে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিতব্য ‘মাটি’ নামের একটি সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই সিনেমায় তোরসার বিপরীতে অভিনয় করছেন নবাগত অভিনেতা আলভী মামুন। সিনেমাটির কাহিনী ও চিত্রনাট্য তৈরি করার পাশাপাশি এটি পরিচালনা করছেন তারিফ সৈয়দ। তোরসা জানিয়েছেন যে, এই সিনেমার বেশিরভাগ দৃশ্যধারণ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং সব ঠিক থাকলে আগামী ঈদুল আজহায় সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই সিনেমায় আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু চরিত্রে দেখা যাবে এমডি ইকবাল হোসেন, মাহামুদ আলম ও আশিক সরকারকে।
কেবল ‘মাটি’ নয়, তোরসার ঝুলিতে রয়েছে আরও বৈচিত্র্যময় কিছু কাজ। সম্প্রতি তিনি নারী অধিকার ও সামাজিক বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘রক্তছায়া’ নামের একটি বিশেষ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করেছেন। এটি পরিচালনা করেছেন আলী জুলফিকার জাহেদী। একই পরিচালকের অন্য একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নির্জন স্বাক্ষর’-এও তিনি প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেখানে তাঁর বিপরীতে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার। এই দুটি কাজেরই নির্মাণ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে তা সেন্সর ও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তোরসা মনে করছেন, এই ধরণের গল্পনির্ভর কাজগুলো তাঁর ক্যারিয়ারে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং দর্শকরা তাঁকে ভিন্ন ভিন্ন রূপে আবিষ্কার করতে পারবেন।
এই তিনটি কাজের পাশাপাশি তোরসা আরও একটি নতুন সিনেমার কাজও গোপনেই শেষ করে ফেলেছেন। তবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার শর্তানুযায়ী এবং পরিচালকের পক্ষ থেকে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশ থাকায় তিনি এখনই এই সিনেমাটি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি কেবল এতটুকু জানিয়েছেন যে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর দর্শকরা এই চমক সম্পর্কে জানতে পারবেন। চারটি ভিন্নধর্মী সিনেমার কাজ নিয়ে উচ্ছ্বসিত তোরসা জানান যে, প্রতিটি সিনেমাতেই তিনি নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন এবং চরিত্রের প্রয়োজনে অনেক পরিশ্রম করেছেন। নতুন বছরে তাঁর এই ব্যস্ততা এবং সৃজনশীল কাজগুলো বড় পর্দায় কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। মূলত নিজের অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘মির্জাপুর’ এবং এর অন্যতম প্রধান চরিত্র ‘মুন্না ত্রিপাঠী’ যেন একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সিরিজের কাহিনীতে মুন্না ভাই চরিত্রের আকস্মিক মৃত্যু দর্শকদের মনে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল, যা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। তবে ভক্তদের সেই দীর্ঘদিনের আক্ষেপ মেটাতে এবার বড় ধরনের সুখবর নিয়ে হাজির হয়েছেন অভিনেতা দিব্যেন্দু শর্মা। ছোট পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে দাপুটে এই চরিত্রটি এবার সরাসরি সিনেমার বড় পর্দায় ফিরছে। ‘মির্জাপুর দ্য মুভি’-এর মাধ্যমে দর্শকদের মাঝে আবারও স্বমহিমায় পুনর্জন্ম হতে যাচ্ছে কালজয়ী এই মুন্না ভাই চরিত্রের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন ৪২ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান অভিনেতা।
দিব্যেন্দু তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানান যে, আবারও মুন্না চরিত্রের পোশাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো তাঁর কাছে একটি দ্বিতীয় জীবন ফিরে পাওয়ার মতো। তিনি মনে করেন, একই মানুষ, একই চরিত্র এবং সেই চেনা অপরাধ জগতের দুনিয়াটি যখন বড় পর্দায় আসবে, তখন এর তেজ ও এনার্জি আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি থাকবে। সিনেমার বিশাল ক্যানভাসে মুন্না ত্রিপাঠীর কর্মকাণ্ড দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে এই ফেরাটি যতটা আনন্দের, দিব্যেন্দুর কাছে তা ততটাই বড় একটি চ্যালেঞ্জের। বিশেষ করে মির্জাপুর নিয়ে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের যে আকাশচুম্বী উন্মাদনা রয়েছে, তা তাঁকে কিছুটা নার্ভাস বা দুশ্চিন্তার মধ্যেও রেখেছে। তিনি চান না মুন্না চরিত্রের সেই চিরচেনা আবেদন ম্লান হোক, তাই নতুন এই কিস্তিতে কী ধরনের চমক রাখা যায় তা নিয়ে তিনি বেশ নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।
ক্যারিয়ারের ১৪টি বছর পার করে আসা দিব্যেন্দু শর্মা এখন অভিনয় ও চরিত্রের নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি পরিপক্ব ও সতর্ক। তিনি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বা ছকে বেঁধে ফেলতে পছন্দ করেন না, বরং চরিত্রের প্রতি তাঁর এক ধরণের খুঁতখুঁতে ভাব সবসময় কাজ করে। নিজেকে বারবার একই ভূমিকায় দেখতে তাঁর অনীহা থাকলেও মুন্না চরিত্রের প্রতি দর্শকদের যে অকৃত্রিম ভালোবাসা, তা উপেক্ষা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। দিব্যেন্দু স্পষ্টভাবে জানান যে, এখন তিনি বড় প্রজেক্টে কাজের প্রস্তাব পাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের ইগো বা টাকাকে প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখেন না, বরং কাজের মান ও সৃজনশীলতাকেই প্রাধান্য দেন। সম্প্রতি তাঁর ‘শালী মহব্বত’ নামের একটি কাজ মুক্তি পেয়েছে যা দর্শকদের মাঝে বেশ সমাদৃত হয়েছে।
একজন নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী হিসেবে দিব্যেন্দুর কাজের দর্শন বেশ গভীর। তিনি মনে করেন, দিনশেষে বড় পর্দায় নিজের কাজ দেখে যেন লজ্জিত হতে না হয়, সেই দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি প্রতিটি দৃশ্য ফুটিয়ে তোলেন। নিজের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তিনি সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এবং সহশিল্পীদের দক্ষতার বিষয়েও বিশেষ নজর দেন। দিব্যেন্দুর মতে, সীমিত সুযোগের মধ্যেও নতুন কিছু সৃষ্টি করার চেষ্টাই একজন প্রকৃত অভিনেতার সার্থকতা। ‘মির্জাপুর দ্য মুভি’ নিয়ে তাঁর এই প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বড় পর্দায় মুন্না ভাই হিসেবে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হতে চলেছে। ভক্তরা এখন কেবল প্রেক্ষাগৃহে সেই বিধ্বংসী ‘মুন্না ভাই’ ম্যাজিক দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
কখনো কখনো পর্দার কল্পকাহিনী বাস্তব জীবনের ঘটনাপ্রবাহকে কতটা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে, তার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাক রায়ান’। ২০১৯ সালে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়া এই স্পাই থ্রিলার সিরিজের দ্বিতীয় সিজনের একটি বিশেষ দৃশ্য বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পিপল ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ছয় বছর আগে সিরিজের একটি কাল্পনিক সংলাপে ভেনেজুয়েলার যে পরিণতির কথা বলা হয়েছিল, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এসে ঠিক তেমন এক ঘটনারই সাক্ষী হলো বিশ্ববাসী। এই অদ্ভুত মিল দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে রীতিমতো বিস্ময় ও তোলপাড় শুরু হয়েছে।
সিরিজের সেই চর্চিত দৃশ্যে দেখা যায়, জন ক্রাসিনস্কি অভিনীত মূল চরিত্র ‘জ্যাক রায়ান’ সিআইএ-র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি কোন রাষ্ট্র হতে পারে। কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে রাশিয়া ও চীনের নাম প্রস্তাব করা হলেও জ্যাক রায়ান দ্বিমত পোষণ করে ভেনেজুয়েলার প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিপুল পরিমাণ তেল, স্বর্ণ ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দেশটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে, যা পরবর্তীতে সরাসরি মার্কিন নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে। ছয় বছর আগের সেই কাল্পনিক শঙ্কা এখন বাস্তব রূপ পাওয়ায় সিরিজের জনপ্রিয়তা ও গুরুত্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বাস্তব ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলায় এক ঝটিকা সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে দেশটির দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়। অভিযানের পরপরই ট্রাম্পের এক হুঙ্কার—‘এখন থেকে আমেরিকাই ভেনেজুয়েলাকে পরিচালনা করবে’—পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সিরিজের কাল্পনিক চিত্রনাট্যে ভেনেজুয়েলাকে নিয়ে যে কৌশলগত আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল, ট্রাম্পের এই সরাসরি পদক্ষেপ যেন তারই একটি বাস্তব প্রতিফলন। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও এই ধরণের আশ্চর্যজনক মিল দেখে অবাক হয়ে গেছেন।
সিরিজটি নিয়ে সাধারণ মানুষের তুমুল আগ্রহ ও নানা তত্ত্বের মাঝে মুখ খুলেছেন এর সহ-নির্মাতা কার্লটন কিউস। তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, চিত্রনাট্য লেখার সময় তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক থ্রিলার দর্শকদের উপহার দেওয়া। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তাঁরা কোনোভাবেই ভবিষ্যৎবাণী করার চেষ্টা করেননি, বরং কেবল তৎকালীন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য কিছু সংকট তুলে ধরেছিলেন। তবে কিউস স্বীকার করেছেন যে, অনেক সময় বাস্তবের রাজনীতি কল্পনাকেও হার মানায়, যার প্রমাণ ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি। পর্দার গোয়েন্দা চরিত্রের সেই দূরদৃষ্টি এখন আক্ষরিক অর্থেই বিশ্ব রাজনীতির এক নিষ্ঠুর সত্যে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘জ্যাক রায়ান’ সিরিজের দর্শকদের সংখ্যা পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা কেন্দ্রিক দ্বিতীয় সিজনটি এখন বিশ্বজুড়ে ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। দর্শক ও সমালোচকরা বলছেন, শিল্প অনেক সময় ভবিষ্যতের বার্তাবহ হয়ে ওঠে এবং এই সিরিজটি তারই একটি ধ্রুপদী উদাহরণ। এক সময়ের জনপ্রিয় বিনোদনমূলক এই কাজ এখন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষের কাছে একটি গভীর পর্যালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, পর্দার জ্যাক রায়ানের সেই অমোঘ বাণী আর হোয়াইট হাউসের বর্তমান পদক্ষেপের মেলবন্ধন ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত বৈশ্বিক ঘটনায় রূপ নিয়েছে।
বিগত বছরটি তামান্না ভাটিয়ার জীবনের জন্য ছিল অনেকটা সিনেমার গল্পের মতো—যেখানে ছিল বিচ্ছেদ, বেদনা এবং পরবর্তীতে এক শক্তিশালী পুনর্জন্মের কাহিনী। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আঘাত তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করলেও পেশাদার জীবনে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেননি এই অভিনেত্রী। চোখের জল আড়াল করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে ব্যক্তিগত জীবনের কোনো ক্ষত তাঁর ক্যারিয়ারের জয়যাত্রাকে থামিয়ে দিতে পারে না। বরং সব বাধা পেরিয়ে তামান্না এখন ফিরেছেন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে, যা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর গুরুত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি এখন আর নিজেকে সাধারণ নিয়মে বেঁধে রাখেন না, বরং তাঁর সফলতার পাল্লা এখন সময়ের কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
বর্তমানে তামান্না তাঁর পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি এখন আর সাধারণ দিন বা সিনেমার চুক্তিতে সীমাবদ্ধ নন; বরং ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর সময়ের মূল্য এখন মিনিটে মাপা হচ্ছে। ২০২৬ সালের শুরুতেই তাঁর এই আকাশচুম্বী পারিশ্রমিক নিয়ে বিনোদন জগতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের গোয়ায় আয়োজিত একটি অত্যন্ত অভিজাত ও হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করতে দেখা যায় তাঁকে। সেখানে দেশি-বিদেশি অনেক নামী তারকা উপস্থিত থাকলেও সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তামান্নাই। জানা গেছে, সেই মেগা ইভেন্টে মাত্র ৬ মিনিটের একটি নাচের পারফরম্যান্সের জন্য এই অভিনেত্রী দাবি করেছিলেন ৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মঞ্চে তাঁর উপস্থিতির প্রতি এক মিনিটের বিনিময়ে তিনি ১ কোটি টাকা করে পারিশ্রমিক নিয়েছেন।
তামান্নার এই আকাশছোঁয়া চাহিদার প্রতিফলন দেখা গেছে অনুষ্ঠানটির টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রেও। টিকিটের দাম সাধারণের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নাম শোনার পর কোনো টিকিটই অবিক্রীত ছিল না। মঞ্চে তামান্নার উপস্থিতি দর্শকদের উন্মাদনাকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল, যা অনুষ্ঠানের বাণিজ্যিক সাফল্যকেও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। নতুন এই বছরেও তাঁর হাতে রয়েছে একগুচ্ছ বড় বাজেটের কাজ। মিনিট প্রতি কোটি টাকার এই রেকর্ড কেবল তামান্নার জনপ্রিয়তাই প্রমাণ করে না, বরং এটি বুঝিয়ে দেয় যে বর্তমান বিনোদন বাজারে তাঁর অবস্থান এখন অনন্য উচ্চতায়। ব্যক্তিগত জীবনের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তামান্না ভাটিয়া এখন গ্ল্যামার জগতের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী রানি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।