কিছুদিন আগেই ক্লোজআপ ওয়ান তারকা নোলক বাবুর কণ্ঠে প্রার্থনামূলক গান ‘ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম’ প্রকাশিত হলো। গানটির কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন আনিসুল ইসলাম। মিউজিক করেছেন রোজেন রহমান।
গীতিকার, সুরকার আনিসুল ইসলামের ভাষ্যমতে, নোলকের কণ্ঠে এই প্রার্থনামূলক গানটি শুনলে শ্রোতাদের ভীষণ ভালো লাগবে। কারণ এ ধরনের গান নোলক খুব কমই গেয়েছেন। নোলক বাবুর আরও একটি সুখবর হলো তিনি বাংলাদেশের গানের গর্ব শ্রোতাপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আলম আরা মিনুর সঙ্গে গান গেয়েছেন এবার।
তরুণ সিং-এর কথায় ও নোলক বাবুরই সুরে একটি নতুন মৌলিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আলম আরা মিনু ও নোলক বাবু। এস ডি সাগরের সংগীতায়োজনে গত সোমবার রাতে গানটির রেকর্ডিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
আলম আরা মিনু বলেন, ‘গানের কথা ও সুর আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। নোলক তো এমনিতেই খুব ভালো গায়। আর যেহেতু তার নিজের সুর করা গান, তাই এই গানের প্রতি তার আলাদা একটা দরদও ছিল। যে কারণে গানটি আরও বেশি ভালো হয়েছে। আর আমিও চেষ্টা করেছি মন দিয়ে গানটি গাইতে। সবমিলিয়ে গানটি সত্যিই এত ভালো হয়েছে যে, গানটি সংগীতপ্রেমী শ্রোতাদের মন জয় করবে বলেই আমার বিশ্বাস।’
নোলক বাবু বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় মিনু আপা বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের গর্ব। তার সঙ্গে প্রথমবার দ্বৈত গান গাইতে পারা সত্যিই আমার জন্য ভীষণ সৌভাগ্যের। সত্যিই ভীষণ ভীষণ ভালো লাগলো মিনু আপার সঙ্গে গানটি গাইতে পেরে। আমারও বিশ্বাস গানটি শ্রোতা-দর্শকের ভীষণ ভালো লাগবে। কারণ গানের কথা ও সুরের মধ্যে একটা অন্যরকম ভালোলাগা আছে, যা সব গানে সহজে পাওয়া যায় না।’
১৯৯০ সালে বিটিভির একটি নাটকের জন্য আলম আরা মিনু ‘যে বাতাসে ফোটে ফুল’ গানটি গাওয়ার পর গায়িকা হিসেবে দারুণ সাড়া পেতে শুরু করেন। ‘বেদনার বালুচরে’ অ্যালবামের ‘রাজ প্রাসাদের সুখ চাই না আমি’ গানটি মিনুর প্রিয় গানের মধ্যে একটি। এই গানটি গাইবার কথা ছিল প্রয়াত শিল্পী জুয়েলের। কিন্তু প্রণব ঘোষের আগ্রহে গানটিতে মিনুই শেষ পর্যন্ত কণ্ঠ দিয়েছিলেন। এই গান মিনুর ভীষণ প্রিয়। আলম আরা মিনুর বিশটিরও একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। শতাধিক মিক্সড অ্যালবামে গান গেয়েছেন তিনি। একশত সিনেমাতে প্লে-ব্যাক করেছেন তিনি।
১৯৮৯ সালে ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চুর সুরে মিনুর প্রথম অ্যালবাম ‘তোমার দেয়া সে কথার মালা’ প্রকাশিত হয়। এই অ্যালবামে মিনুই প্রথম গেয়েছিলেন ‘সে তারা ভরা রাতে’ গানটি। পরে গানটি আইয়ুব বাচ্চু গেয়েছিলেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) নগরবাউল খ্যাত তারকা জেমস ৬৩-তে পা রেখেছেন। তবে সময়ের স্রোতে পাল্টেছে অনেক কিছুই। পাল্টেছে গান শোনার ধরণ, পরিবর্তন হয়েছে প্রজন্মের রুচি, অথচ মঞ্চে দাঁড়িয়ে গিটার হাতে নিলেই যেন সেই চিরচেনা রূপে ফিরে যান। কিন্তু আজকের এই দিনে জেমসের আগমন ঘটলেও তার শ্রোতা-ভক্ত ও সহশিল্পীদের জন্য দিনটি বিশেষ একটি দিন। তাদের সকলের শুভেচ্ছার সাগরে ভাসছেন বাংলা ব্যান্ডের এই পথপ্রদর্শক।
জেমসের জন্মদিনে সংগীত অঙ্গনের সহকর্মীরা ভেসে যাচ্ছেন নস্টালজিয়ায়। তাদের একজন ব্যান্ড ‘আর্ক’-এর প্রধান ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হাসান। সামাজিক মাধ্যমে অতীতের স্মৃতি বুলিয়ে জেমসকে সংগীত জগতের ‘বটবৃক্ষ’ বলে আখ্যায়িত করলেন।
হাসানের সেই পোস্টে উঠে আসে আবেগঘন বার্তা। নব্বইয়ের দশকের ব্যান্ড তারকাদের এক ফ্রেমে বাঁধানো একটি ছবি, ও জেমস এর সঙ্গে তখনকার সময়ের আলাদা একটি মুহূর্ত প্রকাশ করেন হাসান। সংগীতের সোনালী দিনের কথা প্রকাশ করে হাসান লিখেছেন, ‘আমাদের দেশের ব্যান্ড সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি এবং আমাদের সবার প্রিয় জেমস ভাইকে ‘আর্ক’ ব্যান্ডের পক্ষ থেকে জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। নব্বইয়ের দশকের সেই সোনালী দিনগুলো থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আপনার সাথে একই মঞ্চে গান গাইতে পারা এবং বাংলা রক সংগীতের এই দীর্ঘ পথচলা ভাগ করে নিতে পারাটা সবসময়ই ভীষণ আনন্দের এবং গর্বের।’
১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন মাহফুজ আনাম জেমস। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। পরিবারের ইচ্ছা বা নিয়মের ছক ভেঙে কেবল গানের টানে খুব অল্প বয়সেই ঘর ছাড়েন তিনি। এরপর চট্টগ্রামের‘আজিজ বোর্ডিং’-এর ছোট্ট একটি কক্ষে শুরু হয় তার নিভৃত সাধনা ও রকস্টার হয়ে ওঠার রূপকথা। সেই আজিজ বোর্ডিং থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে ‘ফিলিংস’ ও ‘নগরবাউল’ ব্যান্ডের হয়ে তিনি বাংলা সংগীতকে দিয়েছেন একের পর এক কালজয়ী গান।
আশির দশকে ‘স্টেশন রোড’ দিয়ে শুরু করে ‘অনন্যা’, ‘জেল থেকে বলছি’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করো না’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কি দিয়া’, ‘পাগলা হওয়া, কিংবা বলিউডের ‘ভিগি ভিগি’, ‘আলবিদা’ দিয়ে যুগের পর যুগ শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন তিনি। ষাট পেরোনো এই সংগীত তারকা আজও ভক্তদের হৃদয়ে একই অনুভূতি, উন্মাদনার এক অনন্য নাম।
দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নকর্মী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা পেশাগত জীবনে নতুন এক গৌরবময় অধ্যায়ে পা রেখেছেন। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সঙ্গে দীর্ঘ দুই দশকের কর্মজীবনের সমাপ্তি টেনে এবার তিনি উচ্চশিক্ষায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগদান করেছেন। সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে নতুন এই দায়িত্বের সুখবরটি ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি।
কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ‘আর্ভিং ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চ’-এ ‘অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট’ বা সহযোগী গবেষণা বিজ্ঞানী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন মিথিলা। প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি মূলত নিউইয়র্কে অবস্থিত ‘আর্লি চাইল্ডহুড অ্যান্ড ফ্যামিলি হাব’ প্রকল্পের কাঠামোগত রূপরেখা প্রণয়ন এবং মূল্যায়নে নেতৃত্ব দেবেন। এই বিশেষ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, পারিবারিক সম্পৃক্ততা এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা; যেখানে নবজাতক থেকে শুরু করে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের পরিবারগুলোকে তাদের বেড়ে ওঠার উপযোগী সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের দীর্ঘদিনের কর্মঅভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গবেষণার ডেটা ও বাস্তব প্রমাণের মাধ্যমে তিনি এই কার্যক্রমকে সফলভাবে এগিয়ে নিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
উচ্চপর্যায়ের গবেষণাকাজের পাশাপাশি একই সঙ্গে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গেও নিজেকে যুক্ত করেছেন মিথিলা। তিনি জানিয়েছেন, সমান্তরালভাবে তিনি ‘সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক’-এ (সিইউএনওয়াই) ‘অ্যাডজাঙ্কট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর’ হিসেবে অ্যাকাডেমিক ক্লাস নেওয়া শুরু করেছেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের ‘ননপ্রফিট ম্যানেজমেন্ট’ বা অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পাঠদান করছেন এবং বাস্তব জগতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাঠপর্যায়ের কাজের জটিল অভিজ্ঞতা ও ধারণার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।
পেশাগত জীবনের এই অনন্য অর্জনের মুহূর্তে দীর্ঘদিনের চেনা কর্মস্থল ব্র্যাকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মিথিলা। তিনি উল্লেখ করেন, বিনোদন জগতের বাইরে উন্নয়ন খাতে কাটানো দুই দশকের মধ্যে প্রায় ১৫ বছরই তিনি ‘ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল’-এর হয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কাজ করেছেন, যা তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গড়ে তুলেছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আন্তর্জাতিক গবেষণা অবকাঠামো ও শীর্ষ মেধাবীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এই নতুন যাত্রায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। আপাতত ক্যামেরার নিয়মিত গ্ল্যামার থেকে খানিকটা দূরে থেকে নিজের মেধা ও অভিজ্ঞতাকে গবেষণার মতো সৃষ্টিশীল কাজেই নিয়োজিত রাখতে চান এই তারকা।
ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান এবার অ্যাকশন ঘরানার বাইরে এসে আবারও পুরোদস্তুর প্রেমের চলচ্চিত্রে ফিরছেন। তাঁর নতুন এই রোমান্টিক সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ‘মহব্বত’। বিগত কয়েক বছরে ‘তুফান’, ‘তাণ্ডব’, ‘বরবাদ’ কিংবা ‘প্রিন্স’-এর মতো চলচ্চিত্রে মারকুটে অ্যাকশন অবতারে দেখা গেছে তাঁকে এবং সর্বশেষ কোরবানির ঈদে ‘রকস্টার’ সিনেমায় একজন রক সংগীতশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন তিনি। তবে এবার সেই ধারা বদলে খাঁটি ভালোবাসার গল্পে দর্শকদের সামনে হাজির হতে যাচ্ছেন এই অভিনেতা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক টাইটেল অ্যানাউন্সমেন্ট পোস্টার প্রকাশ করে এ খবর নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা হিমেল আশরাফ।
‘মহব্বত’ পরিচালনার মাধ্যমে দুই বছরেরও বেশি সময় পর আবারও শাকিব খানের সঙ্গে ক্যামেরার পেছনে জুটি বাঁধছেন নির্মাতা হিমেল আশরাফ। ইতিপূর্বে তাঁদের যৌথ কাজের সিনেমা ‘প্রিয়তমা’ ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভাবনীয় ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল এবং পরবর্তীতে ‘রাজকুমার’ সিনেমাটিও সাফল্য পেয়েছিল। আগের দুটি সিনেমার মতোই এই নতুন প্রজেক্টটিও প্রযোজনা করছেন প্রযোজক আরশাদ আদনান। ফলে সফল এই অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক ত্রয়ীর নতুন সমন্বয়ে নির্মিতব্য এই সিনেমাটিকে ঘিরে সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে ইতিমধ্যেই বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
প্রকাশিত ফার্স্ট লুক পোস্টারে দেখা গেছে, কালো রঙের ওভারকোট পরিহিত এক যুবক হেঁটে যাচ্ছেন এবং এক তরুণী তাঁর হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছেন; যার ঠিক ওপরে লাল হরফে ফুটে উঠেছে সিনেমার নাম ‘মহব্বত’। পোস্টারটি শেয়ার করে পরিচালক হিমেল আশরাফ লিখেছেন, কখনো কখনো ভালোবাসার জন্য চরম মূল্য চোকাতে হয়, কখনো এটি কেবলই এক প্রতিজ্ঞা কিংবা দীর্ঘ এক লড়াই; আর সেই প্রেক্ষাপট থেকেই এই নতুন যাত্রার সূচনা। সিনেমায় শাকিব খান মূল নায়ক হিসেবে নিশ্চিত হলেও তাঁর বিপরীতে নায়িকা হিসেবে কে অভিনয় করছেন, সে বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রেখেছে প্রযোজনা দল।
সিনেমার নামকরণের পাশাপাশি এর আনুষ্ঠানিক মুক্তির সময়সীমাও ঘোষণা করা হয়েছে। নির্মাতা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে আগামী বছরের কোরবানির ঈদে দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পাবে ‘মহব্বত’। বড় উৎসবকে লক্ষ্য করে নির্মিতব্য আবেগঘন এই চলচ্চিত্রটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে আবারও দর্শকদের হৃদয় জয় করবে বলে আশাবাদী চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
নব্বইয়ের দশকের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ মুক্তির দীর্ঘ ২৮ বছর পর নতুন প্রজন্মের সামনে বড় পর্দায় এসেছে এর আধুনিক সংস্করণ ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’। তরুণ নির্মাতা কামরুজ্জামান পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশের অন্তত ১৪টি প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পেয়েছে। ১৯৯৮ সালে বাসুদেব চ্যাটার্জির পরিচালনায় বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত মূল সিনেমায় অভিনয় করে খ্যাতি পেয়েছিলেন ফেরদৌস আহমেদ ও প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী। সেই মিষ্টি প্রেমের মূল গল্পকে অক্ষুণ্ণ রেখে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সিনেমাটি নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে; যেখানে মূল সিনেমার মতো এবারও কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে অভিষেক ঘটছে নতুন দুই অভিনয়শিল্পী আরিয়ান সারোয়ার ও রাদিফা নারমিনের।
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও আশীর্বাদ চলচ্চিত্রের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই নতুন জুটিকে নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পরিচালক। চলচ্চিত্রটিতে নবীন দুই মুখের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, ফারজানা ছবি, ক্রিস্টিয়ানো তন্ময়, কায়েস আরজু, মৌ খান এবং ঝুনা চৌধুরীসহ একঝাঁক অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পী। মূল চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয়তার বড় কারণ ছিল নচিকেতা চক্রবর্তীর সুর ও কণ্ঠের গানগুলো। সেই নস্টালজিয়া ধরে রাখতে ‘ছোট ছোট স্বপ্নের নীল মেঘ’, ‘একদিন স্বপ্নের দিন’ কিংবা ‘সোনালি প্রান্তরে’র মতো জনপ্রিয় পুরোনো ছয়টি গানের মধ্য থেকে তিনটি কালজয়ী গানের রিমেক করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে সমসাময়িক দর্শকের পছন্দ মিলিয়ে যুক্ত হয়েছে আরও দুটি নতুন মৌলিক গান।
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের দর্শকদের জন্য বেশ কয়েকটি আধুনিক সিনেপ্লেক্স ও প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। ঢাকার দর্শকেরা বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্স, মিরপুরের সনি স্কয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্স, ঐতিহ্যবাহী শ্যামলী সিনেমা হল এবং কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসে চলচ্চিত্রটি উপভোগ করতে পারছেন। এর বাইরে রাজধানীর উপকণ্ঠ কাঁচপুরের চাঁদমহল সিনেমা হল এবং নারায়ণগঞ্জের সীমান্ত টাওয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্স ও জনপ্রিয় মিনি মাল্টিপ্লেক্স সিনেস্কোপে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি।
ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরের প্রেক্ষাগৃহগুলোতেও প্রদর্শিত হচ্ছে ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’। বিভাগীয় পর্যায়ের হলগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের সুগন্ধা সিনেমা হল, সিলেটের গ্র্যান্ড সিলেট মুভি থিয়েটার, খুলনার লিবার্টি এবং যশোরের ঐতিহ্যবাহী মণিহার সিনেমা হল। এ ছাড়া ঢাকার বাইরের দর্শকদের জন্য কুমিল্লার কে স্ক্রিন, কুষ্টিয়ার স্বপ্নীল সিনেমা হল এবং বগুড়ার মমইন প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির নিয়মিত প্রদর্শনী চলছে।
২০০৯ সালের সাড়াজাগানো চলচ্চিত্র ‘পা’ মুক্তির দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও একসঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা বালন এবং খ্যাতনামা নির্মাতা আর বাল্কি। তবে এবার কোনো হিন্দি প্রজেক্টে নয়, সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের একটি নতুন তামিল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় ফিরছে এই জুটি। সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে চিত্রনাট্য হাতে দৃশ্যধারণের নেপথ্যের একটি ছবি প্রকাশ করে নতুন এই কাজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন ৪৭ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ছবিতে বিদ্যাকে চশমা পরা ও পরিপাটি বেণী বাঁধা লুকে গভীর মনোযোগ দিয়ে চিত্রনাট্য পড়তে দেখা গেছে। ছবির ক্যাপশনে বিদ্যা লেখেন, ‘নতুন সূচনা, আর বাল্কির সঙ্গে নতুন তামিল ছবি।’ অভিনেত্রীর এই পোস্টের মাধ্যমে সিনেমাটির শুটিং শুরুর বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এর নাম কিংবা মূল গল্প নিয়ে এখনই কিছু জানাননি নির্মাতারা। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘পা’ সিনেমায় অমিতাভ বচ্চনের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বিদ্যা। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর তাঁদের এই নতুন মেলবন্ধন নিয়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাঝে বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালের শেষভাগে বেশ কয়েকটি বিগ বাজেটের বাণিজ্যিক ছবি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিদ্যা বালন। তামিল মেগাস্টার রজনীকান্তের বহুল প্রতীক্ষিত ‘জেলার ২’ সিনেমায় ‘কান্থা’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি; যেখানে প্রবীণ অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর বড় মেয়ের ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। সম্প্রতি চরিত্রটির ফার্স্ট লুক টিজার প্রকাশিত হয়ে দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে এবং সিনেমাটি আগামী ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া পরিচালক আনিস বাজমির নাম চূড়ান্ত না হওয়া একটি কমেডি-ড্রামা ছবিতেও অভিনয় করছেন তিনি। চলচ্চিত্রটিতে বলিউড তারকা অক্ষয় কুমার ও অভিনেত্রী রাশি খান্নার সঙ্গে পর্দা ভাগ করবেন বিদ্যা। ইতিমধ্যে ভারতের কেরালায় ছবিটির প্রথম ধাপের শুটিং সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে সিনেমাটি আগামী ৪ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
জনপ্রিয় ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ের নতুন একটি রহস্য-রোমাঞ্চ ঘরানার ওয়েব সিরিজে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন অভিনেত্রী তৃণা সাহা। ‘শলাকা রহস্য’ শিরোনামের এই সিরিজটি পরিচালনা করছেন নির্মাতা অদিতি রায়। সম্প্রতি সিরিজটির আনুষ্ঠানিক ফার্স্টলুক পোস্টার প্রকাশের মাধ্যমে প্রজেক্টটির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে হইচইয়ের আলোচিত সিরিজ ‘গভীর জলের মাছ’-এ চার বন্ধুর একজন হিসেবে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তৃণা। বর্তমানে তিনি স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পরশুরাম’-এ নিয়মিত কাজ করছেন; আর এর মাঝেই নতুন এই ওটিটি কনটেন্টে যুক্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এলো।
দর্শক ধরে রাখতে কিছুদিন আগে টেলিভিশন মেগা ধারাবাহিকের আদলে নতুন ফরম্যাটে দীর্ঘস্থায়ী ওয়েব সিরিজ উপহার দেওয়া শুরু করেছে হইচই। সেই ধারাবাহিকতার প্রথম সংযোজন ছিল ‘শাখা প্রশাখা’, যার দ্বিতীয় পর্ব সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে। এ ছাড়া অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুন্ডু অভিনীত একই ঘরানার ‘আতঙ্ক’ সিরিজটিও ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায় এবং দর্শকেরা এর পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই সফল ট্রেন্ড ধরে রেখে এবার তৃতীয় টিভি-ধারাবাহিক ধাঁচের ওয়েব সিরিজ হিসেবে ‘শলাকা রহস্য’ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল প্ল্যাটফর্মটি।
ইতিমধ্যেই সিরিজটির প্রথম অফিশিয়াল পোস্টার দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পোস্টারে অভিনেত্রী তৃণা সাহাকে এক ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ির নববধূ বা বধূর সাজে বসে থাকতে দেখা গেছে। তাঁর এক হাতে শোভা পাচ্ছে পদ্মফুল এবং অন্য হাতে রয়েছে ছুঁচ-সুতো; তবে তাঁর চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে এক অজানা আতঙ্ক ও শঙ্কা। অভিনেত্রীর পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ডে বিশালাকার দুর্গা প্রতিমার উপস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে গল্পটি একটি সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী বনেদি পরিবারের প্রেক্ষাপটে আবর্তিত হয়েছে।
পোস্টারের সঙ্গে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত বিবরণীতেও সিরিজটির রহস্যময় গল্পের কিছুটা আভাস দেওয়া হয়েছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—একটি অচেনা বাড়িতে নতুন এক গৃহবধূর আগমন এবং এরপরই সেখানে একের পর এক ঘটে যাওয়া রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা। এই রাজবাড়ির লুকিয়ে থাকা অন্ধকার রহস্যের শেষ কোথায় এবং কীভাবে মৃত্যুর এই ফাঁদ থেকে নববধূকে রক্ষা করা যাবে—তা নিয়েই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও অনুসন্ধানী সাসপেন্স নিয়ে এগিয়ে যাবে পুরো কাহিনি। অদিতি রায়ের দক্ষ পরিচালনায় তৃণা সাহা আবারও দর্শকদের বড় পর্দায় নতুন এক উপভোগ্য থ্রিলার উপহার দেবেন বলে প্রত্যাশা করছেন সিনেমাপ্রেমীরা।
বলিউডের বর্ষীয়ান মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন একটি শুটিং চলাকালে হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গিয়ে বাঁ হাঁটুতে চোট পেয়েছেন। চোটের কারণে দাঁড়িয়ে থাকতে সমস্যা হওয়া সত্ত্বেও কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রেখে জনপ্রিয় টেলিভিশন কুইজ শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮’-এর সঞ্চালনা অব্যাহত রেখেছেন ৮৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা। সম্প্রতি শোয়ের একটি পর্বে স্বাভাবিক নিয়মের কিছুটা ব্যত্যয় ঘটিয়ে তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকার বদলে সঞ্চালকের চেয়ারে বসে অনুষ্ঠানের সূচনা করতে দেখা যায়, যা দেখে উপস্থিত দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের মনে সাময়িক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
সাধারণত ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র প্রতিটি পর্বের শুরুতে মঞ্চের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজের গম্ভীর কণ্ঠ ও ট্রেডমার্ক সংলাপে দর্শকদের মুগ্ধ করে থাকেন অমিতাভ বচ্চন। তবে সাম্প্রতিক পর্বটিতে মঞ্চে প্রবেশ করেই কোনো ভূমিকা ছাড়া দ্রুত নিজের নির্ধারিত আসনে বসে পড়েন বিগ বি। দীর্ঘদিনের চেনা ধারার বাইরে গিয়ে তাঁকে এভাবে শুরুতেই বসে পড়তে দেখে সেটে উপস্থিত দর্শকদের মাঝে জল্পনা ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।
দর্শকদের উদ্বেগ দূর করতে নিজের বাঁ হাঁটুর দিকে ইঙ্গিত করে অমিতাভ বচ্চন নিজেই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, আগের দিন একটি শুটিংয়ে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে পড়ে গেলে তাঁর বাঁ হাঁটুতে আঘাত লাগে। চোটের কারণে দীর্ঘক্ষণ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টদায়ক হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়েই বসে থেকে পর্বের উদ্বোধনী মনোলগ দিতে হয়েছে। তবে এই আঘাত নিয়ে ভক্তদের আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, চোটটি খুব বেশি মারাত্মক নয় এবং ভয়ের কোনো কারণ নেই।
শারীরিক যন্ত্রণা থাকা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানের মূল ধারা বজায় রাখার কথা উল্লেখ করেন অমিতাভ বচ্চন। তিনি জানান, পর্বের সূচনা বসে করলেও মূল খেলায় অংশ নিতে আসা প্রতিযোগীদের বরণ করে নেওয়ার সময় তিনি যথারীতি দাঁড়িয়েই তাঁদের স্বাগত জানাবেন। ৮৩ বছর বয়সেও চোট উপেক্ষা করে তাঁর এমন অনন্য পেশাদারত্ব ও কাজের প্রতি একাগ্রতা দেখে সেটে উপস্থিত দর্শক ও কলাকুশলীরা করতালির মাধ্যমে অভিনেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্বব্যাপী মুক্তির একই দিনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি পেতে যাচ্ছে হলিউডের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘ডিগার’। আগামী ২ অক্টোবর ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ব্যানারে বিশ্বজুড়ে মুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের শীর্ষ মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সে একযোগে প্রদর্শিত হবে সিনেমাটি। স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজ অভিনীত ‘ডিগার’-এর পাশাপাশি একই দিনে হরর ঘরানার বিখ্যাত ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘রেসিডেন্ট ইভিল’-এর নতুন সিনেমাটিও বাংলাদেশের দর্শকের জন্য বড় পর্দায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব চলচ্চিত্রে ‘মিশন: ইম্পসিবল’ সিরিজের ইথান হান্ট চরিত্রের চোখধাঁধানো অ্যাকশন, ঝুঁকিপূর্ণ সব স্টান্ট আর দুর্বার গতির জন্য জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন টম ক্রুজ। তবে মেক্সিকোর দুইবারের অস্কারজয়ী প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেহান্দ্রো জি. ইনারিতু পরিচালিত ‘ডিগার’ সিনেমায় দর্শক তাঁকে একেবারেই ব্যতিক্রমী এক রূপ ও চরিত্রে দেখতে পাবেন। চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই এই তারকা অভিনেতার বাহ্যিক অবয়ব ও অভিনয়শৈলীর নতুন রূপান্তর নিয়ে সিনেমাপ্রেমী ও চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
একই দিনে মুক্তি পেতে যাওয়া হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় হরর ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘রেসিডেন্ট ইভিল’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় দুই যুগ আগে। জাপানি ভিডিও গেম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ক্যাপকমের জনপ্রিয় ভিডিও গেম সিরিজকে উপজীব্য করে ২০০২ সালে মুক্তি পায় সিরিজের প্রথম চলচ্চিত্রটি। পল ডব্লিউ. এস. অ্যান্ডারসন পরিচালিত এবং অভিনেত্রী মিলা জোভোভিচ অভিনীত সেই ছবিটির ব্যাপক সাফল্যের ওপর ভর করে পরবর্তীতে এটি সাতটি সিনেমার একটি দীর্ঘ ও ব্যবসাসফল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে রূপ লাভ করেছিল।
মূল সিরিজের সফল সমাপ্তির পর ২০২১ সালে ‘রেসিডেন্ট ইভিল: ওয়েলকাম টু র্যাকুন সিটি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পুরো গল্পটিকে নতুন আঙ্গিকে রিবুট করা হয়েছিল। দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিরতি কাটিয়ে এবার দর্শকদের সামনে আসছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নতুন সিনেমা ‘রেসিডেন্ট ইভিল’। এটি মূলত এই হরর ফ্র্যাঞ্চাইজির দ্বিতীয় রিবুট এবং সামগ্রিক হিসাবের অষ্টম চলচ্চিত্র হিসেবে প্রেক্ষাগৃহে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে, যা ঢাকার বড় পর্দায় অ্যাকশন ও হররপ্রেমী দর্শকদের জন্য দারুণ এক বিনোদনের সুযোগ তৈরি করেছে।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের হাঁড়ির খবর ফাঁস ও নানা মুখরোচক বিতর্কের জন্ম দেওয়া আলোচিত সেলিব্রিটি চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’ অবশেষে সমাপ্তির পথে। নির্মাতা ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক করণ জোহর নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে আসন্ন নবম মৌসুমের মধ্য দিয়েই ২২ বছরের পথচলার চূড়ান্ত ইতি ঘটতে যাচ্ছে। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিওহটস্টারে শুরু হতে যাচ্ছে অনুষ্ঠানটির এই বিদায়ী মৌসুম।
দীর্ঘদিনের এই জনপ্রিয় শো বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি নিজের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন বলে জানিয়েছেন করণ জোহর। তিনি উল্লেখ করেন, জীবনের পরবর্তী এক দশকে তিনি সঞ্চালনা বা টক শোর গণ্ডি পেরিয়ে নিজেকে পুরোপুরি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও নতুন নতুন গল্প বলার কাজে নিয়োজিত রাখতে চান বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারাক্রান্ত মনে বিদায় নেওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি জানান, ‘কফি উইথ করণ’ তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা ও স্মরণীয় একটি অধ্যায় ছিল এবং চোখের পলকে কীভাবে ২২টি বছর পার হয়ে গেল তা এখনো তাঁর কাছে এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি।
২০০৪ সালে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল স্টার ওয়ার্ল্ডে বলিউড তারকা শাহরুখ খান ও কাজলকে অতিথি করে জমকালোভাবে শুরু হয়েছিল এই অনুষ্ঠানের ঐতিহাসিক যাত্রা। বিগত দুই দশকে আটটি মৌসুমে অনুষ্ঠানটির মোট ১৬১টি পর্ব সম্প্রচারিত হয়েছে। প্রায় প্রতিটি পর্বেই হিন্দি সিনেমার শীর্ষ তারকাদের প্রেম, বন্ধুত্ব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এনে দর্শকদের বিনোদনের পাশাপাশি শোবিজ পাড়ায় জন্ম দিয়েছে অসংখ্য চাঞ্চল্যকর বিতর্কের।
টেলিভিশনের পর্দায় টানা ছয়টি মৌসুম চলার পর সময়ের চাহিদায় ২০২২ সালে শোটি পুরোপুরি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘ডিজনি প্লাস হটস্টার’-এ স্থানান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্ল্যাটফর্মটির নাম বদলে ‘জিওহটস্টার’ হওয়ার পর এবার সেখানেই ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম তথা শেষ মৌসুমটি প্রচারের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক পর্দা নামতে যাচ্ছে।
টেলিভিশন ও ওটিটি মাধ্যমের দুনিয়া কাঁপিয়ে এবার বড় পর্দায় রূপালি জগৎ শাসন করতে আসছে বিশ্বখ্যাত ফ্যান্টাসি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘গেম অব থ্রোনস’। লেখক জর্জ আর আর মার্টিনের কালজয়ী মহাকাব্যিক উপন্যাসমালা ‘আ সং অব আইস অ্যান্ড ফায়ার’ অবলম্বনে তৈরি হতে যাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘গেম অব থ্রোনস: এগন’স কনকোয়েস্ট’। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রাদার্স আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ২০২৯ সালের ৬ জুন বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পাবে এই সিনেমাটি।
চলচ্চিত্রটি পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পেয়েছেন ওভেন হ্যারিস, যিনি এর আগে এইচবিওর আসন্ন প্রিকুয়েল সিরিজ ‘আ নাইট অব দ্য সেভেন কিংডমস’-এর নির্বাহী প্রযোজক ও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের পরিচালকের ভূমিকা পালন করেছেন। আর এর চিত্রনাট্য রচনার কাজে যুক্ত হয়েছেন নেটফ্লিক্সের আলোড়ন সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক সিরিজ ‘হাউস অব কার্ডস’-এর স্রষ্টা ও ‘অ্যান্ডোর’খ্যাত অস্কার মনোনীত চিত্রনাট্যকার বো উইলিমোন। সিনেমার মূল প্লট আবর্তিত হবে টারগারিয়েন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম এগন টারগারিয়েনকে কেন্দ্র করে। মূল সিরিজের ঘটনার কয়েক শতাব্দী আগে ড্রাগনের শক্তি ব্যবহার করে কীভাবে তিনি সমগ্র ওয়েস্তেরোস জয় করেছিলেন এবং খণ্ড খণ্ড সাতটি রাজ্যকে এক ছাতার নিচে এনেছিলেন—সেই মহাকাব্যিক জয়গাথা পর্দায় জীবন্ত করা হবে। প্রথম এগন চরিত্রটি এর আগে কোনো টিভি সিরিজে দেখা যায়নি বলে কে এই নামভূমিকায় অভিনয় করবেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মাঝে তুমুল জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।
গেম অব থ্রোনসের মহাবিশ্ব নিয়ে হলিউডে সিনেমা নির্মাণের আলোচনা চলছিল প্রায় এক দশক ধরে। তবে নিজের উপন্যাসের সুবিশাল পটভূমি ও চরিত্রগুলোর গভীরতাকে মাত্র আড়াই-তিন ঘণ্টার চলচ্চিত্রে বেঁধে ফেলা সম্ভব হবে কি না—সেই আশঙ্কায় লেখক জর্জ আর আর মার্টিন দীর্ঘদিন এ ধরনের প্রস্তাবে সায় দিতে চাননি। অবশেষে দীর্ঘ আলোচনা ও সতর্ক চিত্রনাট্য পরিকল্পনার পর সিনেমা হলের বিশাল পর্দার সম্পূর্ণ উপযুক্ত একটি গল্প দাঁড় করানো সম্ভব হওয়ায় মার্টিন এই প্রজেক্টের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা আটটি মৌসুম সম্প্রচারিত হয়ে বিশ্বজুড়ে রাজত্ব করেছে মূল ‘গেম অব থ্রোনস’ সিরিজ এবং টেলিভিশনের ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক এমি পুরস্কার অর্জন করেছে এটি। পরবর্তীতে প্রিকুয়েল সিরিজ ‘হাউস অব দ্য ড্রাগন’ এবং ‘আ নাইট অব দ্য সেভেন কিংডমস’-এর মাধ্যমে টারগারিয়েনদের সুদীর্ঘ ইতিহাসকে ছোট পর্দায় আরও বিস্তৃত করে এইচবিও। এবার প্রেক্ষাগৃহে ‘এগন’স কনকোয়েস্ট’ নির্মাণের মাধ্যমে বড় পর্দায় বাণিজ্যিক ও শৈল্পিক আধিপত্য বিস্তার করতে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজি ধরতে যাচ্ছে ওয়ার্নার ব্রাদার্স।
দেশের শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক বিকাশ ও সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ঐতিহাসিক ও জনপ্রিয় আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি’র নতুন আসর শুরু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে গত বছর পুনরায় চালু হওয়ার পর ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় এবার ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে এই প্রতিযোগিতার নিবন্ধন প্রক্রিয়া, যা চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। শিল্প-সংস্কৃতির নানা শাখায় পারদর্শী আগ্রহী প্রতিযোগীরা ঘরে বসে অনলাইন অথবা সরাসরি অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই নিজেদের আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন।
সারাদেশ থেকে যোগ্য প্রতিভাবানদের বাছাই করে আনতে পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়াটিকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ধাপে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রথমে সমগ্র দেশকে ১৮টি অঞ্চলে ভাগ করে আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রাথমিক অডিশন অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে আঞ্চলিক পর্বে বিজয়ী প্রতিযোগীদের নিয়ে দেশের আটটি বিভাগে বিভাগীয় পর্যায়ের বাছাই পর্ব পরিচালিত হবে। বিভাগীয় ধাপ পেরিয়ে আসা সফল প্রতিযোগীদের নিয়ে রাজধানী ঢাকায় বিটিভি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত বাছাই বা সেরা দশের প্রতিযোগিতা এবং সবশেষে এই চূড়ান্ত পর্বের বিজয়ীদের নিয়েই মঞ্চস্থ হবে বহুল প্রতীক্ষিত গ্র্যান্ড ফাইনাল।
এবারের আসরে মোট ১৮টি ভিন্ন শিল্পশাখায় ‘ক’ ও ‘খ’ শাখায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে অভিনয়, আবৃত্তি, গল্প বলা, উপস্থিত বক্তৃতা, সাধারণ নৃত্য, লোকনৃত্য, উচ্চাঙ্গ নৃত্য, দলীয় নৃত্য, দেশাত্মবোধক গান, আধুনিক গান, একক ও দলীয় নজরুল সংগীত, রবীন্দ্র সংগীত, লোকসংগীত, যন্ত্রসংগীত, হামদ-নাত এবং ক্বিরাত; যার পাশাপাশি ‘ক’ শাখার জন্য বিশেষভাবে যুক্ত থাকছে ছড়াগান। বয়সের ক্ষেত্রে ‘ক’ শাখার ছেলে ও মেয়েদের বয়সসীমা ৬ থেকে ১১ বছরের নিচে এবং ‘খ’ শাখার ক্ষেত্রে ১১ থেকে ১৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ক্বিরাত প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে সম্পূর্ণ একক একটি বিশেষ শাখায়; যেখানে অংশ নিতে পারবে ১২ থেকে অনূর্ধ্ব ১৭ বছর বয়সীরা এবং এই প্রতিযোগিতাটি কেবল বিভাগীয় ও ফাইনাল—এই দুই ধাপে সম্পন্ন হবে।
অংশগ্রহণে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আবেদনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রতিযোগী অনলাইন কিংবা অফলাইনের যেকোনো একটি মাধ্যমে সর্বোচ্চ তিনটি একক বিষয়ে অথবা দলীয় বিষয়সহ সর্বোচ্চ চারটি ক্যাটাগরিতে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রতিযোগিতা ও আবেদনসংক্রান্ত যাবতীয় বিস্তারিত তথ্য ও নির্দেশিকা বাংলাদেশ টেলিভিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.btv.gov.bd) এবং নতুন কুঁড়ির নিজস্ব পোর্টালে (www.notunkuri.gov.bd) পাওয়া যাবে।
পাঁচ বছরের বিরতির পর বলিউডের বহুল প্রতীক্ষিত রোমান্টিক-অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ দিয়ে বড় পর্দায় পরিচালনায় ফিরছেন খ্যাতিমান নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালি। চলচ্চিত্রটিতে কেন্দ্রীয় তিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর, আলিয়া ভাট ও ভিকি কৌশল। সম্প্রতি এই তিন তারকার চরিত্রের আনুষ্ঠানিক ফার্স্টলুক পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শকদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। বড় বাজেট ও নান্দনিক ভিজ্যুয়ালের জন্য পরিচিত এই মেগা প্রজেক্টটি আগামী ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
চলচ্চিত্র বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত বানসালির সিনেমাগুলো বড় অঙ্কের উদ্বোধনী আয়ের চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রেক্ষাগৃহে চলে ধারাবাহিক ব্যবসা করার জন্য পরিচিত হলেও ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ সেই চেনা ধারা ভেঙে দিতে পারে। তাঁদের ধারণা, মুক্তির প্রথম দিনেই ছবিটি বানসালির ক্যারিয়ারের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে হিন্দি সিনেমার অন্যতম সেরা ওপেনিংয়ের ইতিহাস গড়তে পারে। এখন পর্যন্ত প্রথম দিনে বানসালির সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড রয়েছে ‘পদ্মাবত’-এর দখলে; যা উদ্বোধনী দিনে ১৯ কোটি রুপি এবং পেইড প্রিভিউসহ মোট ২৪ কোটি রুপি ঘরে তুলেছিল। তবে বিশ্লেষকদের দৃঢ় বিশ্বাস, নতুন এই ছবিটি সেই রেকর্ডকে বেশ বড় ব্যবধানে ছাড়িয়ে যাবে।
বিহারের রূপবাণী সিনেমার প্রধান নির্বাহী বিশেক চৌহানের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বানসালির সর্বশেষ পরিচালিত ছবি ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’ মুক্তি পেয়েছিল ২০২২ সালে এবং এর পর থেকে মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে টিকিটের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাশাপাশি ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এর তিন অভিনয়শিল্পীই সাম্প্রতিক সময়ে বক্স অফিসে বড় বড় একক সাফল্য পেয়েছেন। চৌহান জানান, রণবীরের প্রথম পোস্টারে রক্তাক্ত হাত নিয়ে গাড়ি চালানোর দৃশ্যটিতে প্রচলিত প্রেমের গল্পের বাইরে একটি ভিন্নধর্মী ও তীব্র ‘গ্যাংস্টার’ মেজাজ স্পষ্ট। তাঁর হিসাবমতে, তিন তারকার সমন্বিত গ্রহণযোগ্যতা কাজে লাগিয়ে ছবিটি প্রথম দিনেই অনায়াসে ৩০ কোটি রুপি বা তার চেয়ে বেশি ব্যবসা করতে পারে; বিশেষ করে এর গানগুলো যদি শ্রোতাদের মাঝে দারুণভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
আশীর্বাদ থিয়েটার্স প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক ও বিশিষ্ট চলচ্চিত্র প্রদর্শক অক্ষয় রাঠিও ছবিটিকে ঘিরে একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বানসালির কালজয়ী সিনেমা ‘দেবদাস’-এর শাহরুখ খান, মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের ঐতিহাসিক ত্রয়ীর সঙ্গে ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এর রণবীর, আলিয়া ও ভিকির বর্তমান রসায়নের তুলনা টানেন। তাঁর মতে, যুদ্ধের টানাপোড়েনের পটভূমিতে একটি আবেগঘন প্রেমের সম্পর্ক এবং বানসালির স্বভাবসুলভ নিখুঁত শৈল্পিক নির্মাণশৈলী পর্দায় যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলা গেলে ছবিটি দর্শককে গভীরভাবে স্পর্শ করবে এবং হিন্দি সিনেমার বাণিজ্যিক মানদণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
নাট্যনির্মাণে সফলতার ২৫ বছর পূর্ণ করলেন দেশের প্রখ্যাত নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। দীর্ঘ আড়াই দশকের এই পথচলায় দেশের বিভিন্ন প্রজন্মের গুণী অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটক উপহার দিয়েছেন তিনি। নিজের রজতজয়ন্তীর এই বিশেষ মাইলফলককে স্মরণীয় করে রাখতে তিনি নির্মাণ করেছেন একক নাটক ‘রিহার্সেল’। এতে কেন্দ্রীয় দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তরুণ অভিনেতা পার্থ শেখ এবং অভিনেত্রী সাদনিমা বিনতে নোমান। নাটকটির গল্প, সংলাপ ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন চয়নিকা চৌধুরীর ছেলে অনন্য প্রতীক চৌধুরী।
চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় এর আগেও একাধিক নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে পার্থ শেখের। এই বিশেষ প্রযোজনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, গুণী এই নির্মাতার সঙ্গে কাজ করা সবসময়ই ভীষণ ভালো লাগার এবং তাঁর নির্মাণজীবনের ২৫ বছর পূর্তির স্মারক নাটকে যুক্ত হতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন। অন্যদিকে চয়নিকার নির্দেশনায় এবারই প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন সাদনিমা বিনতে নোমান। অতীতে কাজের কথা উঠলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি জানিয়ে সাদনিমা বলেন, নির্মাতার ২৫ বছর পূর্তির মতো একটি ঐতিহাসিক আয়োজনে প্রথমবার কাজের সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত অর্থবহ ও বিশেষ অনুভূতির।
নিজের এই দীর্ঘ নির্মাণ অধ্যায় নিয়ে দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন চয়নিকা চৌধুরী। তিনি জানান, দেশের নাটকপ্রেমী দর্শকদের নিরবচ্ছিন্ন ভালোবাসাই এতদিন ধরে তাঁর নিয়মিত কাজ করে যাওয়ার প্রধান চালিকাশক্তি ও অনুপ্রেরণা। নাটকের কাহিনি প্রসঙ্গে নির্মাতা উল্লেখ করেন, অনন্য প্রতীক অত্যন্ত চমৎকার ও অপ্রচলিত একটি গল্প লিখেছেন যা দর্শকেরা সচরাচর পর্দায় দেখতে পান না; গল্পটির ভিন্নধর্মী বাঁক দর্শকদের মনে বিশেষ চমক ও মুগ্ধতা তৈরি করতে সক্ষম হবে।
প্রযোজনা সূত্রে জানা গেছে, নাটকটির সব ধরনের কারিগরি কাজ শেষ হয়েছে এবং খুব দ্রুতই এটি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচার করা হবে। পরবর্তীতে টেলিভিশনে প্রচারের পর নাটকটি ডিজিটাল মাধ্যমে দর্শকদের উপভোগের সুবিধার্থে ‘রঙ্গন এন্টারটেইনমেন্ট’-এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে উন্মুক্ত করা হবে।