শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৮ ফাল্গুন ১৪৩২

চলে গেলেন মাসুদ আলী খান

মাসুদ আলী খান। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর, ২০২৪ ২১:৪৯

‘না ফেরার দেশে’ পাড়ি জমালেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা মাসুদ আলী খান। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে রাজধানীর গ্রিন রোডের নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এ অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। মাসুদ আলী খানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ভাগনের স্ত্রী শারমিনা আহমেদ। তবে এ প্রতিবেদন লেখার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত মাসুদ আলী খানের দাফন কোথায় ও কখন হবে তা নিশ্চিত করতে পারেননি শারমিনা। তিনি জানিয়েছেন, তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দাফন করা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন মাসুদ আলী খান। বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসাতেই ছিলেন অভিনেতা। চিকিৎসার জন্য কয়েকবার নেওয়া হয়েছিল হাসপাতালে। চিকিৎসাও চলছিল; কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেল।

বরেণ্য এ অভিনেতার ক্যারিয়ার শুরু হয় মঞ্চ নাটক দিয়ে। ঢাকায় টেলিভিশন কেন্দ্র চালু হওয়ার পর ছোট পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও নজর কাড়েন ‍তিনি। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে প্রায় ৫০০ নাটকে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে হয়ে উঠেছেন বাংলা নাটকের চেনা মুখ। মাসুদ আলী খানের জন্ম ১৯২৯ সালে ৬ অক্টোবর মানিকগঞ্জের পারিল নওধা গ্রামে। বাবা আরশাদ আলী খান ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। মা সিতারা খাতুন। মাসুদ আলী খান ১৯৫২ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। দুই বছর পর জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। ১৯৬৪ সালে ঢাকায় টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপিত হওয়ার পরপর নূরুল মোমেনের নাটক ‘ভাই ভাই সবাই’ দিয়ে ছোট পর্দায় মাসুদ আলী খানের অভিষেক হয়। আর সাদেক খানের ‘নদী ও নারী’ দিয়ে বড় পর্দায় তার পথচলা শুরু। মাসুদ আলী খান ১৯৫৫ সালে বিয়ে করেন তাহমিনা খানকে। ব্যক্তিজীবনে এই অভিনেতার এক ছেলে ও এক মেয়ে। চাকরিজীবনে সরকারের নানা দপ্তরে কাজ করেছেন। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সচিব হিসেবে চাকরি থেকে অবসর নেন। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে একের পর এক বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাসুদ আলী খান। তার অভিনীত কয়েকটি সিনেমা- ‘দুই দুয়ারি’, ‘দীপু নাম্বার টু’, ‘মাটির ময়না’। তার অভিনীত আলোচিত কয়েকটি নাটক হচ্ছে ‘কূল নাই কিনার নাই’, ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘কোথাও কেউ নেই’।


হলিউড অভিনেতা এরিক ডেন মারা গেছেন

আপডেটেড ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:১৪
বিনোদন ডেস্ক

হলিউডের পরিচিত অভিনেতা এরিক ডেন মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ৫৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এএলএস (অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস) নামক জটিল স্নায়বিক রোগের সঙ্গে লড়াই করছিলেন।

এরিক ডেনের প্রতিনিধি মেলিসা ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানান, প্রিয় এই অভিনেতা তার শেষ দিনগুলো পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কাটিয়েছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী রেবেকা গেহার্ট এবং দুই কন্যা বিলি ও জর্জিয়াকে রেখে গেছেন।

গত বছর প্রথমবার জনসম্মুখে নিজের এই বিরল রোগের কথা প্রকাশ করেছিলেন এরিক। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, এ কারণে তার ডান হাতের কর্মক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। মৃত্যুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে একটি সম্মাননা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি অংশ নিতে পারেননি।

তবে অসুস্থতা তাকে থামাতে পারেনি। শেষ দিনগুলোতে তিনি এই রোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং গবেষণার কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

এরিক ডেন জনপ্রিয় মেডিক্যাল ড্রামা সিরিজ ‘গ্রে’স অ্যানাটমি’-তে ডক্টর মার্ক স্লোয়ান চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেয়েছিলেন। এছাড়া এইচবিও সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’-তে তার ‘ক্যাল জ্যাকবস’ চরিত্রও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।


মুম্বাইয়ে বাসা থেকে নির্মাতা এমএম বেগের পচাগলা লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

মুম্বাইয়ে নিজ বাসা থেকে পচাগলা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলিউডের আলোচিত নির্মাতা এমএম বেগের মরদেহ। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার জনসংযোগ কর্মকর্তা হানি জাওয়েরি।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। টানা চার-পাঁচ দিন বাড়ি থেকে বের না হওয়ায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশে খবর দিলে দরজা ভেঙে ভেতরে তার পচাগলা মরদেহ পাওয়া যায়।

মরদেহ গভীর রাতে ময়নাতদন্তের জন্য কুপার হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে বলিউড অঙ্গনে।

চলচ্চিত্রজীবনের শুরুতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন এমএম বেগ। তিনি জে ওম প্রকাশ, বিমল কুমার ও রাকেশ রোশানের মতো নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেন। এ সময় তিনি ‘আদমি খিলোনা হ্যায়’, ‘জৈসি করনি ওয়াইস ভরনি’, ‘কর্জ চুকানা হ্যায়’, ‘কালা বাজার’ ও ‘কিশন কানহাইয়া’সহ একাধিক মূলধারার সিনেমার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পরিচালক হিসেবে তিনি নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত ‘মাসুম গাওয়াহ’ নির্মাণ করেন, যদিও ছবিটি মুক্তি পায়নি। এছাড়া শিল্পা শিরোদকর অভিনীত ‘ছোটি বাহু’ পরিচালনা করেন তিনি।

তার মেয়ে শাহিন্দা বেগ, যিনি ইন্ডাস্ট্রিতে বেডি গুড্ডু নামে পরিচিত ছিলেন, শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করে পরিচিতি পেয়েছিলেন।


দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে বড় পর্দায় ফিরছেন সায়রা: মুক্তির অপেক্ষায় দুই ভিন্ন জনরার সিনেমা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

২০১৮ সালে প্রসূন রহমানের ‘জন্মভূমি’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালি জগতে পা রেখেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী সায়রা আক্তার জাহান। প্রথম সিনেমাটি টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অঙ্গনে প্রশংসিত হলেও পরিবারের ইচ্ছে পূরণ করতে গিয়ে চার বছরের জন্য অভিনয় থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন তিনি। এই সময়ে একটি কর্পোরেট চাকরিতে নিয়োজিত থাকলেও অভিনয়ের প্রতি টান তাঁকে আবারও ক্যামেরার সামনে ফিরিয়ে এনেছে। ২০২৪ সালে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার পর বর্তমানে সায়রার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা ‘বিশ্বাস করেন ভাই’ ও ‘ট্রাইব্যুনাল’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, যা তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সায়রা অভিনীত ‘বিশ্বাস করেন ভাই’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন তরুণ নির্মাতা রাইসুল ইসলাম অনিক। বর্তমান সময়ের আলোচিত বিষয় ‘কালো টাকা’ বা ব্ল্যাক মানিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই সিনেমার কাহিনী। গল্পের প্রয়োজনে বিভিন্ন পেশার কয়েকজন মানুষকে এক অনন্য মিশনে নামতে দেখা যাবে, যাদের ব্যক্তিগত স্বপ্ন ও সামাজিক বাস্তবতার দ্বন্দ্ব পরিচালক কমেডি, সাসপেন্স ও থ্রিলারের চমৎকার মিশ্রণে ফুটিয়ে তুলেছেন। সিনেমাটি ইতোমধ্যে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হয়েছে। তবে বিশেষ কারণে ঢাকার বাইরে থাকায় নিজের সিনেমার প্রিমিয়ারে থাকতে না পেরে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন সায়রা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পর দর্শকরা সিনেমাটির ভিন্নধর্মী নির্মাণশৈলী পছন্দ করবেন। খুব শীঘ্রই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে এর মুক্তির আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করা হবে।

অন্যদিকে, সায়রা আক্তার জাহানের আরেকটি বহুল আলোচিত কাজ হলো ‘ট্রাইব্যুনাল’। প্রখ্যাত নির্মাতা রায়হান খানের পরিচালনায় নির্মিত এই সিনেমাটির প্রেক্ষাপট সাজানো হয়েছে চট্টগ্রামের একটি মর্মান্তিক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এটি মূলত একটি কোর্টরুম ড্রামা, যেখানে সায়রাকে একজন অসফল আইনজীবীর স্ত্রীর চরিত্রে দেখা যাবে। নিজের চরিত্রটি সম্পর্কে সায়রা জানান, এটি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং একই সাথে চ্যালেঞ্জিং একটি চরিত্র। এই সিনেমায় সায়রার বিপরীতে অভিনয় করেছেন আদর আজাদ। এছাড়া তারিক আনাম খান, নুসরাত ফারিয়া, তানিয়া বৃষ্টি ও মৌসুমী হামিদের মতো একঝাঁক শক্তিমান অভিনয়শিল্পী এই প্রজেক্টের সাথে যুক্ত রয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোজার ঈদে সিনেমাটি বড় পর্দায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে ফিরে আসা এই অভিনেত্রী বর্তমানে চিত্রনাট্য নির্বাচনে বেশ সতর্ক। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে মান ধরে রাখতেই তিনি বেশি আগ্রহী। গতানুগতিক চরিত্রের বাইরে বিভিন্ন ভিন্নধর্মী জনরা বা ধারার কাজ করতে চান তিনি। ইতিমধ্যে আরও বেশ কয়েকটি নতুন প্রজেক্ট নিয়ে তাঁর সাথে নির্মাতাদের আলোচনা চলছে। সায়রার এই প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর অভিনীত নতুন সিনেমাগুলো ঢালিউডে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তাঁর এই সাহসী পথচলা এবং অভিনয়ের প্রতি একাগ্রতা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


নতুন রূপে ফিরছে ‘চার্লিস এঞ্জেলস’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

সত্তরের দশকের কালজয়ী অ্যাকশন এবং নারী গোয়েন্দা কাহিনীর অমর আখ্যান ‘চার্লিস এঞ্জেলস’ আবারও বড় পর্দায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘ ছয় বছরের বিরতি কাটিয়ে সনি পিকচার্স জনপ্রিয় এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে নতুন করে দর্শকদের সামনে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিনোদন জগতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’। ২০১৯ সালের সর্বশেষ সিনেমাটি ব্যবসায়িক ভাবে আশানুরূপ ফল না করতে পারলেও, বিশ্বজুড়ে এই থ্রিলার ঘরানার প্রতি দর্শকদের আকর্ষণ মাথায় রেখেই স্টুডিওটি নতুন করে বড় প্রজেক্টের পরিকল্পনা করছে।

এবারের নতুন এই কিস্তিটিকে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় করে সাজানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খ্যাতনামা লেখক পিট কিয়ারেলিকে। ‘দ্য প্রোপোজাল’ এবং ‘ক্রেজি রিচ এশিয়ানস’-এর মতো ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার হিসেবে কিয়ারেলির বিশেষ সুনাম রয়েছে। তাঁর অন্তর্ভুক্তিতে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এবারের ‘চার্লিস এঞ্জেলস’ সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে অনেক বেশি টান টান উত্তেজনাপূর্ণ ও বুদ্ধিদীপ্ত হবে। সনি পিকচার্স মূলত এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটির হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারে অভিজ্ঞ লেখকদের ওপরই আস্থা রাখছে।

যদিও সিনেমার নির্বাহী প্রযোজক বা কলাকুশলীদের নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে গুঞ্জন রয়েছে যে ২০০০ সালের সফল সিরিজের অন্যতম প্রধান তারকা ড্রু ব্যারিমোর এবং তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ফ্লাওয়ার ফিল্মস’ এই প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। ড্রু ব্যারিমোরের সম্পৃক্ততা সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ ও নস্টালজিয়া কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সনি পিকচার্স বা ড্রু ব্যারিমোরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য যে, ‘চার্লিস এঞ্জেলস’-এর জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৬ সালে একটি জনপ্রিয় টিভি সিরিজের মাধ্যমে, যা ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দর্শক মাতায়। সেই সময় জ্যাক্লিন স্মিথ, কেইট জনসন এবং ফারাহ ফসেটের অনবদ্য অভিনয় সিরিজটিকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দেয়। পরবর্তীতে ২০০০ সালে ‘চার্লিস এঞ্জেলস’ এবং ২০০৩ সালে ‘চার্লিস এঞ্জেলস: ফুল থ্রটল’ সিনেমা দুটি বক্স অফিস কাঁপিয়ে বিপুল মুনাফা অর্জন করে। তবে সনি পিকচার্সের পরবর্তী প্রচেষ্টাগুলো খুব একটা সফল হয়নি; ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া টিভি সিরিজটি মাত্র সাত পর্বের পর বন্ধ হয়ে যায় এবং ২০১৯ সালের এলিজাবেথ ব্যাঙ্কস পরিচালিত সিনেমাটিও দর্শকদের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন এই উদ্যোগ হলিউডে এক নতুন রোমাঞ্চের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কিয়ারেলির কলমে ‘চার্লিস এঞ্জেলস’ আগের সেই জাদুকরী সাফল্য পুনরায় ফিরে পায় কি না।


বিশ্বখ্যাত মিউজিক প্ল্যাটফর্ম স্প্লাইসে আরমীন মুসার ‘বাংলা বাউল ফোক ভোকাল’ প্রকাশিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে সংগীত প্রযোজক, সুরকার এবং ডিজেদের অন্যতম প্রধান অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘স্প্লাইস’-এ জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের লোকজ সুর। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও প্রযোজক আরমীন মুসা সম্প্রতি এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করেছেন তাঁর নতুন মিউজিক প্রজেক্ট ‘বাংলা বাউল ফোক ভোকাল’। শত বছরের পুরোনো বাংলার আধ্যাত্মিক বাউল গানের শক্তি ও আবেগীয় গভীরতাকে আধুনিক সংগীতের সাথে সমন্বয় করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রজেক্টটি মূলত বিশ্বমানের মিউজিক স্যাম্পল প্যাক হিসেবে কাজ করবে, যা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানের ইলেকট্রনিক মিউজিক, চলচ্চিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর কিংবা পরীক্ষামূলক সংগীত আয়োজন করা সম্ভব হবে।

প্রজেক্টটি তৈরি করা হয়েছে ভারতীয় প্রখ্যাত সুরকার ধ্রুব গোয়েলের মিউজিক লেবেল ‘আরহ’-র সাথে যৌথভাবে। বাংলার বাউল দর্শনের আধ্যাত্মিক ও কাব্যিক নির্যাস যেন আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, সেই চিন্তা থেকেই আরমীন মুসা এটি প্রযোজনা করেছেন। এই সংগ্রহে থাকা রয়্যালটি-মুক্ত ভোকালগুলো বিদেশি প্রযোজকদের জন্য বাংলা লোকসংগীত নিয়ে কাজ করার এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই স্যাম্পল প্যাকটির সাউন্ড মিক্সিং করেছেন ইফতেখারুল আলম শুভ।

‘বাংলা বাউল ফোক ভোকাল’-এর মূল আকর্ষণ হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রখ্যাত বাউলশিল্পী বেবি আখতার এবং লোকমান সিদ্দিকী। তাঁদের কণ্ঠে বাউল সংগীতের সেই চিরাচরিত স্বতঃস্ফূর্ততা এবং মাটির গন্ধ নিখুঁতভাবে ধারণ করা হয়েছে। আরমীন মুসা জানান, বেবি আখতার এবং লোকমান সিদ্দিকীর গায়কী এই প্রকল্পের মূল প্রাণ। তাঁদের কণ্ঠের গভীরতা আন্তর্জাতিক সংগীত বোদ্ধাদের মুগ্ধ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এর আগে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রযোজক কিশোন খানও বেবি আখতারকে নিয়ে কাজ করেছিলেন, যেখানে বাউল সুরকে জ্যাজ ও সমসাময়িক ঘরানায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। আরমীন মুসার এই প্রজেক্টটি বাউল সুরকে কেবল একটি ঐতিহ্য হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক সংগীতের একটি শক্তিশালী উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।

উল্লেখ্য যে, বিশ্বখ্যাত এই প্ল্যাটফর্মে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় কোনো স্যাম্পল প্যাক। এর আগে আরমীন মুসাই ‘সমকালীন বাংলা কোরাস’ শিরোনামে প্রথম বাংলাদেশি প্রজেক্টটি স্প্লাইসে নিয়ে এসেছিলেন। দ্বিতীয় এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংগীত বাজারে বাংলাদেশের লোকসংগীতের অবস্থান আরও সুসংহত হলো। আরমীন মুসার এই উদ্যোগ কেবল দেশীয় ঐতিহ্যের সংরক্ষণই নয়, বরং আধুনিক সংগীত জগতের সাথে একে মানানসই করে তোলার এক সময়োপযোগী প্রচেষ্টা হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে। সংগীতাঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্পের ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন ফিউশন ও ইলেকট্রনিক সংগীতে বাংলার বাউল সুরের সরব উপস্থিতি দেখা যাবে।


হিরো আলম গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মাঝিড়া বন্দর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেলেই তাঁকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত ও আদালতের পরোয়ানা জারির পর এই বিতর্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্বের গ্রেফতারের খবরটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে হিরো আলম একটি গাড়িতে করে মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। দুপুরে তিনি মাঝিড়া বন্দর এলাকায় পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁর গাড়ির পিছু নেন এবং একপর্যায়ে ধাওয়া করে গাড়িটি থামিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেন। পুলিশ জানিয়েছে, সাদিয়া রহমান মিথিলা নামের এক নারীর দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পর আদালত হিরো আলমের বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, বাদী সাদিয়া রহমান মিথিলা অভিযোগ করেছেন যে, হিরো আলম তাঁকে সিনেমায় নায়িকা বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এমনকি হিরো আলম তাঁকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করাতেও বাধ্য করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল বগুড়ার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন মিথিলা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১০ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আনোয়ারুল হক হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

হিরো আলমের গ্রেফতারের বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানিয়েছেন, নিয়মিত অভিযান ও আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করার অংশ হিসেবেই হিরো আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পরপরই তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হিরো আলম শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন এবং একে ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করেছিলেন। তবে পিবিআই-এর তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা মেলায় এখন তাঁকে আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠিত হবে বলে আদালত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।


চিত্রনাট্যকার হিসেবে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন জেমস ক্যামেরন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে জেমস ক্যামেরন এক কিংবদন্তি নাম। পরিচালক হিসেবে তাঁর সাফল্যের ঝুলিতে রয়েছে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় এবং তিনটি অস্কারসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার। তবে এক অনবদ্য নির্মাণশৈলীর আড়ালে তাঁর লেখক সত্তা বরাবরই কিছুটা আড়ালে রয়ে গিয়েছিল। ‘টাইটানিক’ বা ‘অ্যাভাটার’-এর মতো কালজয়ী সিনেমাগুলো পরিচালনা করে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হলেও, চিত্রনাট্যকার হিসেবে বড় কোনো আসরে সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি তাঁকে। এমনকি চিত্রনাট্যের জন্য অস্কারের মনোনয়নও কখনো জোটেনি তাঁর কপালে। দীর্ঘ চার দশকের সেই আক্ষেপ এবার ঘুচতে যাচ্ছে, কারণ হলিউডে চিত্রনাট্যকার হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মাননায় ভূষিত হতে যাচ্ছেন তিনি।

হলিউড চিত্রনাট্যকারদের প্রভাবশালী সংগঠন ‘রাইটারস গিল্ড অব আমেরিকা ওয়েস্ট’ ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘লরেল অ্যাওয়ার্ড ফর স্ক্রিনরাইটিং অ্যাচিভমেন্ট’-এর জন্য জেমস ক্যামেরনের নাম ঘোষণা করেছে। এটি এই সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বোচ্চ আজীবন সম্মাননা, যা চিত্রনাট্য রচনায় অসাধারণ ও যুগান্তকারী অবদানের জন্য প্রদান করা হয়। আগামী ৮ মার্চ এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৭৮তম রাইটারস গিল্ড অ্যাওয়ার্ডের মঞ্চে তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। ক্যামেরনের সৃজনশীল লেখনী এবং সিনেমার প্রতিটি শব্দকে জীবন্ত করে তোলার ক্ষমতার স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গিল্ডের সভাপতি মিশেল মুলরোনি এই ঘোষণা দিয়ে বলেন, জেমস ক্যামেরন কেবল একজন ভিজ্যুয়াল জাদুকর নন, বরং তিনি একজন অসাধারণ গল্পকার। ‘দ্য টার্মিনেটর’ থেকে ‘এলিয়েন’, এবং ‘টাইটানিক’ থেকে ‘অ্যাভাটার’—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি তাঁর কালজয়ী সংলাপ এবং বহুমাত্রিক চরিত্রের মাধ্যমে সহ-চিত্রনাট্যকার ও দর্শকদের বিমোহিত করেছেন। তাঁর সৃষ্টি করা জগত এবং চরিত্রগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লেখকদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে আসছে। চিত্রনাট্য পেশায় তাঁর এই অবদান অবিস্মরণীয় এবং লরেল অ্যাওয়ার্ড তাঁর প্রাপ্য সম্মানেরই একটি বহিঃপ্রকাশ।

এই বিরল অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও নিজের দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়টি নিয়ে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন জেমস ক্যামেরন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি অত্যন্ত নিবিষ্ট মনে চিত্রনাট্য লিখে আসছেন। পরিচালক পরিচয়ের ভিড়ে তাঁর লেখক পরিচয়টি এত বছর পর বড় পরিসরে স্বীকৃত হওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। ক্যামেরন তাঁর বিবৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য মনে করিয়ে দিয়ে বলেন যে, দর্শক রুপালি পর্দায় যা দেখেন, তার পুরো নির্মাণ প্রক্রিয়াটি মূলত শুরু হয় একটি সাদা পাতায় লেখা কিছু শব্দ দিয়ে। সেই শব্দগুলোকে আজীবন সম্মাননা দিয়ে মূল্যায়িত করায় তিনি তাঁর সহকর্মী চিত্রনাট্যকারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জেমস ক্যামেরনের আগে এই অনন্য লরেল অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন ডেভিড লিঞ্চ, অলিভার স্টোন, জেমস এল ব্রুকস এবং ন্যান্সি মেয়ার্সের মতো বিশ্ববিখ্যাত চিত্রনাট্যকাররা। এবার সেই অভিজাত তালিকায় নিজের নাম লেখালেন ক্যামেরন। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই স্বীকৃতি কেবল জেমস ক্যামেরনের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে বড় বাজেটের বাণিজ্যিক সিনেমার সাফল্যের নেপথ্যেও থাকে এক শক্তিশালী ও সুনিপুণ চিত্রনাট্যের ভিত্তি। আগামী মাসের এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে হলিউডে এখন সাজ সাজ রব বিরাজ করছে।


বলিউড বক্স অফিসে ইতিহাস গড়ল রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর’: প্রথম সিনেমা হিসেবে ভারতে ৮০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বড় পর্দায় মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে বলিউড সুপারস্টার রণবীর সিং অভিনীত স্পাই-থ্রিলার সিনেমা ‘ধুরন্ধর’। গত ৫ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়ে ছবিটি এখন অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এই ব্লকবাস্টার সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে সগৌরবে ৭৫ দিন পূর্ণ করেছে, যা বর্তমান সময়ের সিনেমার বাজারের প্রেক্ষাপটে একটি বিরল ও বিস্ময়কর ঘটনা। সাধারণত বড় বাজেটের ছবিগুলো কয়েক সপ্তাহ পর ওটিটি প্ল্যাটফর্মে চলে এলে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক কমে যায়, কিন্তু ‘ধুরন্ধর’-এর ক্ষেত্রে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। ওটিটিতে মুক্তি পাওয়ার পরও সিনেমা হলে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় নির্মাতাদের অবাক করে দিয়েছে।

সিনেমার প্রযোজনা সংস্থা ‘বি৬২’ (B62) অত্যন্ত আনন্দের সাথে এই সাফল্যের খবরটি ভক্তদের সাথে ভাগ করে নিয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘ধুরন্ধর’ স্রেফ একটি সিনেমা নয়, বরং এটি এখন বক্স অফিসের একটি অপ্রতিরোধ্য ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। ছবিটির আয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ৭৫ দিনে কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকেই এটি ৮৩৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। এর মাধ্যমে বলিউডের ইতিহাসে প্রথম কোনো সিনেমা হিসেবে ভারতের মাটিতে ৮০০ কোটির গণ্ডি পেরোনোর ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ল ‘ধুরন্ধর’। দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছবিটি দাপট দেখাচ্ছে, যেখানে এর মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকায়। আয়ের এই বিশাল অংক শাহরুখ খানের ‘জওয়ান’ এবং দক্ষিণী মেগাহিট ‘পুষ্পা ২’-এর মতো রেকর্ড ভাঙা সিনেমাগুলোর ব্যবসাকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে।

রাজনৈতিক ও সামরিক আবহে নির্মিত এই স্পাই-থ্রিলারটি পরিচালনা করেছেন মেধাবী নির্মাতা আদিত্য ধর। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ারের সাম্প্রতিক কয়েক বছরের ব্যর্থতা কাটিয়ে এই ছবিটি তাঁকে পুনরায় সিংহাসনে বসিয়েছে। ছবিতে রণবীর সিংয়ের দাপুটে অভিনয়ের পাশাপাশি অন্য শক্তিমান অভিনেতাদের উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে অভিনেতা অক্ষয় খান্নাকে এক নতুন রূপে আবিষ্কার করেছে দর্শক। ছবিতে ব্যবহৃত ‘FA9LA’ শিরোনামের র‍্যাপ গানে অক্ষয়ের নাচ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং রীতিমতো ভাইরালে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও অর্জুন রামপাল, আর মাধবন এবং সঞ্জয় দত্তের মতো তারকাদের রহস্যময় ও বলিষ্ঠ চরিত্রগুলো সিনেমার টানটান উত্তেজনা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

‘ধুরন্ধর’-এর এই অবিশ্বাস্য জয়যাত্রার মধ্যেই ভক্তদের জন্য নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়েছেন নির্মাতারা। প্রথম কিস্তির এই বিশাল সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রকাশ পেয়েছে এর সিক্যুয়েলের টিজার। ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ শিরোনামের এই নতুন কিস্তির এক ঝলক ইতিমধ্যে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। নির্মাতারা ঘোষণা করেছেন যে, আগামী ১৯ মার্চ বিশ্বজুড়ে বড় পর্দায় মুক্তি পাবে এই সিক্যুয়েলটি। বক্স অফিস বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, প্রথম কিস্তি যে ধরনের রেকর্ড গড়েছে, সিক্যুয়েলটি যদি সেই মান বজায় রাখতে পারে তবে এটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আয়ের সকল রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে। আপাতত সিনেমাপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন রণবীর সিংয়ের সেই দুর্ধর্ষ প্রত্যাবর্তনের পরবর্তী ধাপটি দেখার জন্য।


নেটপাড়ায় ফাঁস হলো বিজয় ও রাশমিকার বিয়ের আমন্ত্রণপত্র, ২৬ ফেব্রুয়ারি কি তবে মালাবদল?

আপডেটেড ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:০৪
বিনোদন ডেস্ক

দক্ষিণী সিনেমার দুই হার্টথ্রব তারকা বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার প্রেমের রসায়ন নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই। ‘গীতা গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমায় তাঁদের অনবদ্য অভিনয় ও পর্দার বাইরের বিশেষ বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের এক অমীমাংসিত রহস্য। তবে এবার সেই রহস্যের জট হয়তো খুলতে চলেছে। ইন্টারনেটে হঠাৎ করেই এই তারকা জুটির একটি কথিত ‘বিয়ের কার্ড’ ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে এখন সরগরম পুরো ভারত। ভাইরাল হওয়া সেই কার্ড অনুযায়ী, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরের একটি ঐতিহ্যবাহী ভেন্যুতে ঘরোয়া পরিবেশে সাতপাকে বাঁধা পড়তে যাচ্ছেন এই জনপ্রিয় জুটি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই আমন্ত্রণপত্রে দেখা যাচ্ছে, ওপরের দিকে বড় অক্ষরে বিজয় দেবরাকোন্ডার নাম এবং নিচে স্বাক্ষর হিসেবে লেখা আছে ‘বিজয় (রাশমিকা ও আমার পক্ষ থেকে)’। কার্ডের তথ্যানুসারে, উদয়পুরের সেই রাজকীয় বিয়ের অনুষ্ঠানের পর ৪ মার্চ হায়দরাবাদের বিলাসবহুল ‘তাজ কৃষ্ণা’ হোটেলে একটি জাঁকজমকপূর্ণ বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। আমন্ত্রণপত্রের বয়ানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরিবারের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ নিয়ে তাঁরা একটি নিভৃত ও ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জীবনের নতুন যাত্রা শুরু করতে চান, যেখানে শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতি এই মুহূর্তটিকে আরও বিশেষ করে তুলবে।

বিয়ের এই গুঞ্জন কেবল এই কার্ডেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং চলতি মাসের শুরু থেকেই উদয়পুরের ঐতিহ্যবাহী ‘সিটি প্যালেস’-এ বিশেষ সাজসজ্জার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় ভক্তদের মনে বিশ্বাস আরও জোরালো হয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, এই রাজকীয় আয়োজন মূলত বিজয় ও রাশমিকার বিশেষ দিনটির জন্যই করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে এই দুই তারকাকে প্রায় একই সময়ে প্রবেশ করতে দেখা যাওয়ায় জল্পনার পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। যদিও তাঁরা ক্যামেরার সামনে সরাসরি পোজ দেননি, তবে একই সময়ে নিজেদের টিমের সঙ্গে তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে ভক্তদের মাঝে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে।

তবে ভাইরাল হওয়া এই বিয়ের কার্ডের সত্যতা নিয়ে এখনো এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিজয় কিংবা রাশমিকা—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। অনুরাগী ও নেটিজেনদের একটি অংশ মনে করছেন এটি হয়তো অতি উৎসাহী কোনো ভক্তের শৈল্পিক কারুকাজ বা ‘ফটো এডিট’। তবে এর বিপরীতে অন্য এক পক্ষ মনে করছেন, গোপনীয়তা বজায় রাখতেই হয়তো এই কার্ডটি অনানুষ্ঠানিকভাবে ফাঁস হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই জনপ্রিয় জুটির পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি একটি রোমাঞ্চকর রহস্য হিসেবেই থেকে যাচ্ছে। বর্তমানে চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্তরা—সবাই উন্মুখ হয়ে আছেন তাঁদের প্রিয় ‘ডিয়ার কমরেড’ জুটির বাস্তব জীবনের শুভ পরিণয়ের খবরের অপেক্ষায়।


এক যুগের অপেক্ষার অবসান: নতুন মিউজিক্যাল ফিল্ম ‘ভালোবাসি’ নিয়ে ফিরল ব্যান্ড সিক্স

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও সংগীতাঙ্গনে নিজেদের সরব উপস্থিতি জানান দিল জনপ্রিয় অল্টারনেটিভ রক ব্যান্ড ‘ব্যান্ড সিক্স’। প্রায় এক যুগ আগে এফএম রেডিওর মাধ্যমে শ্রোতাপ্রিয়তা পাওয়া কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে অপ্রকাশিত গান ‘ভালোবাসি’ এবার মিউজিক্যাল ফিল্ম আকারে মুক্তি পেয়েছে। গত শুক্রবার রাত থেকে ব্যান্ডের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল, স্পটিফাইসহ বিশ্বের সকল জনপ্রিয় মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে গানটি উপভোগ করতে পারছেন শ্রোতারা। দীর্ঘ সময় পর প্রিয় ব্যান্ডের নতুন কাজ হাতে পেয়ে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।

ব্যান্ড সিক্সের এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক নীরবতার ইতিহাস। ২০১২ সালে তরুণ রক মিউজিশিয়ানদের আলোচিত রিয়েলিটি শো ‘নেসক্যাফে গেট সেট রক’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সংগীত জগতে পা রেখেছিল ব্যান্ডটি। প্রথম অ্যালবামের সাফল্যের পর দ্বিতীয় অ্যালবামের কাজ শুরু করলেও ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কারণে ব্যান্ডের পথচলা হঠাৎ থেমে যায়। ফলে মাঝপথে আটকে গিয়েছিল তাদের নতুন গানের কাজ। দীর্ঘ আট বছর পর গত বছর থেকে আবারও একত্রিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ব্যান্ড সিক্স। বর্তমানে ব্যান্ডের গিটারিস্ট ও প্রডিউসার রেজোয়ান আশরাফ দেশের বাইরে অবস্থান করলেও সেখান থেকেই ব্যান্ডের সংগীতায়োজন ও পরিচালনার কাজ সামলাচ্ছেন।

মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভালোবাসি’ গানটির কথা ও সুর করেছেন ব্যান্ডের ড্রামার আরিফ শিশির। তিনি জানিয়েছেন, গানটির পেছনে রয়েছে তাঁর নিজের জীবনের একটি সত্য ও বিরহমাখা প্রেমের গল্প। এক যুগ আগে গানটি যখন রেডিওতে প্রথম বাজানো হয়েছিল, তখনই এটি তরুণ প্রজন্মের মন জয় করে নিয়েছিল। এবার আধুনিক সংগীতায়োজনে নির্মিত এই গানটির মিউজিক্যাল ফিল্ম পরিচালনা করেছেন শৌরিন। গানটিতে ভালোবাসার আকুতি আর হারিয়ে ফেলার বিষাদময় অনুভূতি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

ব্যান্ডের দলনেতা ও বেজিস্ট রাকিবুল রোমান্স জানান, ‘ভালোবাসি’ মূলত তাদের দ্বিতীয় অ্যালবামের দ্বিতীয় গান হিসেবে মুক্তি পেয়েছে। এর আগে তারা ‘এই তো সময় ২’ শিরোনামে এই অ্যালবামের প্রথম গানটি প্রকাশ করেছিলেন। এখন থেকে নিয়মিত বিরতিতে অ্যালবামের বাকি গানগুলো একটি একটি করে একক বা সিঙ্গেল হিসেবে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা কাটিয়ে আবারও নিজেদের সৃজনশীল ধারায় ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত ব্যান্ডের সদস্যরা। দীর্ঘদিনের এই অপেক্ষার পর ব্যান্ড সিক্সের এই ফেরা বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীত জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংগীতবোদ্ধারা।


মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে সেলিম খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বলিউডের প্রবাদপ্রতিম চিত্রনাট্যকার এবং সুপারস্টার সালমান খানের বাবা সেলিম খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি বর্তমানে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ৯০ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মুম্বাইয়ের বিনোদন জগতে এবং ভক্তদের মাঝে গভীর উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রবীণ এই ব্যক্তিত্বের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ব্রেন হেমোরেজ হয়েছে, যার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকরা তাঁকে বর্তমানে ‘ভেন্টিলেশন সাপোর্টে’ রেখেছেন। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল সার্বক্ষণিকভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। সব কিছু অনুকূলে থাকলে আজ বুধবার তাঁর মস্তিষ্কে একটি অত্যন্ত জটিল ও জরুরি অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পরবর্তী ফলাফলের ওপরই তাঁর শারীরিক উন্নতির বিষয়টি নির্ভর করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাবার অসুস্থতার খবর পাওয়া মাত্রই শুটিং এবং অন্যান্য পূর্বনির্ধারিত সকল কাজ বাতিল করে হাসপাতালে ছুটে গেছেন সালমান খান। মেগাস্টারের পাশাপাশি তাঁর ভাই আরবাজ খান, সোহেল খান এবং বোন আলভিরা অগ্নিহোত্রীসহ পুরো খান পরিবার এখন হাসপাতালেই অবস্থান করছে। গতকাল রাতে প্রবীণ এই চিত্রনাট্যকারকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী ও কালজয়ী সব চিত্রনাট্যের সহ-লেখক জাভেদ আখতার। এছাড়াও অভিনেতা সঞ্জয় দত্তসহ বলিউডের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি হাসপাতালে গিয়ে তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করা হয়নি। তবে পারিবারিক একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন এবং প্রয়োজনীয় সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পরই অস্ত্রোপচারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা এখন কেবল সফল অস্ত্রোপচার ও তাঁর দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য প্রার্থনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বলিউডের বহু তারকা ও সাধারণ ভক্তরা তাঁর সুস্থতা কামনা করে বার্তা দিচ্ছেন।

হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সেলিম খান কেবল একজন লেখক নন, বরং তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের নাম। সত্তর ও আশির দশকে জাভেদ আখতারের সঙ্গে তাঁর ‘সেলিম-জাভেদ’ জুটি বলিউডের বাণিজ্যিক ধারার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। তাঁদের কলম থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘জঞ্জির’, ‘দিওয়ার’, ‘শোলে’ এবং ‘ডন’-এর মতো মাইলফলক ছোঁয়া চলচ্চিত্র। পরবর্তী সময়ে এককভাবেও তিনি ‘নাম’ ও ‘জুর্ম’-এর মতো প্রশংসিত ছবির চিত্রনাট্য লিখে নিজের মুন্সিয়ানা প্রমাণ করেছেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রের এই অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্বের সুস্থ হয়ে ফেরার অপেক্ষায় এখন পুরো সিনেমা জগত।


বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে গাজা নিয়ে নীরবতার প্রতিবাদে জাভিয়ের-টিলডা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

গাজায় চলমান সংঘাত নিয়ে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব বা বার্লিনেলের রহস্যময় নীরবতা এবং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলা শিল্পীদের কণ্ঠরোধ করার অভিযোগে বিশ্বজুড়ে বিনোদন অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। উৎসবের নীতিনির্ধারকদের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা জাভিয়ের বারডেম, টিলডা সুইন্টন এবং প্রখ্যাত পরিচালক মাইক লেই-সহ ৮০ জনেরও বেশি বিশ্বখ্যাত অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা। ২০২৬ সালের বার্লিনেল চলাকালীন এই প্রভাবশালী তারকাদের প্রকাশিত একটি খোলা চিঠি উৎসবের গ্ল্যামার ছাপিয়ে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক ও নৈতিক সংকট সামনে নিয়ে এসেছে।

উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে যখন উৎসবের জুরিবোর্ডের প্রধান, প্রখ্যাত জার্মান পরিচালক উইম ওয়েন্ডার্স মন্তব্য করেন যে, চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক থাকা উচিত নয় এবং শিল্পীদের উচিত রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে দূরে থাকা। তার এই ‘রাজনীতিমুক্ত শিল্পের’ দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রতিবাদী শিল্পীরা। চিঠিতে তাঁরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শিল্প এবং রাজনীতিকে কোনোভাবেই একে অপরের থেকে আলাদা করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে যখন চোখের সামনে মানবিক বিপর্যয় ঘটে, তখন শিল্পের দোহাই দিয়ে নীরব থাকা অপরাধের শামিল। আন্দোলনকারী শিল্পীরা বার্লিনেলের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন—এই উৎসব যদি অতীতে ইরান বা ইউক্রেনের সংঘাত নিয়ে রাজপথে সরব হতে পারে, তবে গাজার ক্ষেত্রে কেন তারা এমন রহস্যময় নীরবতা পালন করছে?

প্রতিবাদী এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারী তারকারা বার্লিনেল কর্তৃপক্ষকে তাদের নৈতিক দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন যে, ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিরুদ্ধে উৎসবের একটি স্বচ্ছ ও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তাঁরা পাঁচ হাজারেরও বেশি চলচ্চিত্র কর্মীর সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন, যেখানে ইসরায়েলি চলচ্চিত্র কোম্পানি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। শিল্পীদের স্পষ্ট অভিযোগ, গাজা ইস্যুতে নীরব থেকে উৎসব কর্তৃপক্ষ পরোক্ষভাবে এই সহিংসতায় জড়িত থাকার দায় এড়াতে পারে না। তাঁদের মতে, শিল্পের মঞ্চকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না করে বরং ন্যায়বিচারের পক্ষে একটি সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা জরুরি।

তারকাদের এই নজিরবিহীন সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান ট্রিসিয়া টাটল একটি রক্ষণাত্মক বিবৃতি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি তাঁর অবস্থানে অনড় থেকে বলেন যে, শিল্পীদের কাছ থেকে সব ধরনের জটিল রাজনৈতিক বিতর্কে মন্তব্য আশা করা উচিত নয়, বিশেষ করে যে বিষয়গুলো তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে তাঁর এই বক্তব্যে বিক্ষোভ আরও উসকে গেছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা। বিশ্বখ্যাত তারকাদের এই কঠোর অবস্থান ২০২৬ সালের বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবকে এক চরম ভাবমূর্তি সংকটের কেন্দ্রে ঠেলে দিয়েছে। চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের মতে, এই বিতর্ক কেবল বার্লিনেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি বৈশ্বিক অন্যান্য উৎসবেও শিল্পীদের নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন এক আলোচনার দ্বার উন্মোচন করল। সব মিলিয়ে, গাজা ইস্যু এখন সিনেমার রূপালি পর্দা ছাপিয়ে বার্লিনের রাজপথ ও গ্যালারিগুলোকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।


ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান: মারা গেছেন বরেণ্য অভিনেত্রী প্রবীণা দেশপাণ্ডে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ভারতীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী প্রবীণা দেশপাণ্ডে ক্যানসারের সাথে দীর্ঘ পাঁচ বছরের যুদ্ধ শেষে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মুম্বাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। হিন্দি ও মারাঠি উভয় ভাষার বিনোদন জগতেই অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় এই ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে দুই দেশেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গতকাল বিকেলেই মুম্বাইয়ে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

প্রবীণা দেশপাণ্ডের অভিনয় ক্যারিয়ার ছিল বৈচিত্র্যময়। তিনি বড় পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দায়ও অত্যন্ত সাবলীল পদচারণা বজায় রেখেছিলেন। সালমান খান অভিনীত ব্লকবাস্টার ছবি ‘রেডি’, অক্ষয় কুমারের ‘গব্বর’ এবং রিয়া চক্রবর্তী অভিনীত ‘জালেবি’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে ‘জালেবি’ ছবিতে শাশুড়ির চরিত্রে তাঁর শক্তিশালী উপস্থিতি সবার নজর কেড়েছিল। এছাড়া টেলিভিশন ধারাবাহিকের স্বর্ণযুগে ‘ঘর এক মন্দির’-এ তাঁর অভিনয় তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। প্রতিটি চরিত্রেই তিনি বাস্তবসম্মত অভিনয়ের মাধ্যমে প্রাণ সঞ্চার করতেন।

২০১৯ সালে প্রবীণার শরীরে ‘মাইলোমা’ নামক এক ধরনের রক্ত ক্যানসার ধরা পড়ে। তবে এই মারণরোগ তাঁর অভিনয়ের প্রতি নিবেদনকে বিন্দুমাত্র কমাতে পারেনি। অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণা ও অসুস্থতাকে সঙ্গী করেই তিনি গত পাঁচ বছর নিয়মিত কাজ করে গেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শুটিং ফ্লোরের সাথে তাঁর গভীর সখ্য ছিল। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি আবেগালুত হয়ে বলতেন যে, লাইট-ক্যামেরা আর অ্যাকশনের জগতই তাঁকে বেঁচে থাকার মানসিক শক্তি যোগায়। তাঁর এই অদম্য কর্মস্পৃহা পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন প্রবীণা। মনোজ বাজপেয়ীর জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘ফ্যামিলি ম্যান ৩’-এ খুব অল্প সময়ের জন্য পর্দায় এসেও তিনি তাঁর অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি ইমরান হাশমির সাথে ‘তস্করি’ নামক একটি সিরিজের কাজ শেষ করেছিলেন, যা তাঁর অভিনীত সর্বশেষ সৃষ্টি হিসেবে মুক্তি পাবে। গুণী এই শিল্পীর মৃত্যুতে তাঁর সহকর্মী ও অনুরাগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করছেন। সবাই তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন এবং ক্যানসারের বিরুদ্ধে তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ লড়াইকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছেন।


banner close