সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১০ ফাল্গুন ১৪৩২

পেনশন স্কিম জনপ্রিয় করতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে নানা পরিকল্পনা # প্রথম বছরেই পাওয়া যাবে ৮ শতাংশ মুনাফা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০৩

দেশের সর্বস্তরের মানুষকে টেকসই সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর আওতায় আনতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম (ইউপিএস) জোরদারের পরিকল্পনা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, সম্প্রতি জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ (এনপিএ) পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় গ্রাহকের মধ্যে আস্থা বাড়াতে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে।

গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখতে কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর অক্টোবরের মধ্যে জমানো অর্থের ওপর কমপক্ষে আট শতাংশ মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘শুরুর বছরের আমানতের ওপর ভিত্তি করে মুনাফা সর্বনিম্ন ৮ শতাংশ হবে। অক্টোবরের মধ্যে প্রত্যেক হিসাবধারী নিজ নিজ অ্যাকাউন্টে তার মুনাফার পরিমাণ দেখতে পারবেন।’

তিনি বলেন, প্রতি বছর জুনের মধ্যে এই হিসাব করা হবে এবং অক্টোবরের মধ্যে মুনাফা গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, পেনশন কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান পেনশন স্কিমগুলো আরও আকর্ষণীয় করতে স্বাস্থ্য বিমা এবং এককালীন গ্র্যাচুইটি চালুর বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে।

তারা জানান, ট্রেজারি বন্ড ছাড়া বিনিয়োগের জন্য আরও লাভজনক ও কম ঝুঁকিপূর্ণ খাত খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।

এ বছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা এই চারটি পেনশন স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭২ হাজার গ্রাহক তালিকাভুক্ত হয়েছেন এবং প্রায় ১৩১ কোটি টাকা জমা হয়েছে।

পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে নিরাপদ ও লাভজনক বিকল্প হিসেবে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে ১২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

সর্বজনীন পেনশন প্রকল্পের চারটি স্কিমের মধ্যে সমতা স্কিম সবচেয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং মোট গ্রাহকের ৭৮ শতাংশ এই স্কিমের। সমতা স্কিমের মাসিক কিস্তি এক হাজার টাকা।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) নির্বাহী পরিচালক এম আবু ইউসুফ সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের এই প্রকল্পগুলোকে জনপ্রিয় ও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।’

পেনশন স্কিমের চারটি স্কিম নিয়ে গণশুনানির আয়োজন করার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, গ্রাহকের ‘সংশয়’ দূর করা ও তাদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পেনশন কর্তৃপক্ষকে কাজ করতে হবে। ওই বৈঠকে পেনশন কর্তৃপক্ষকে আরও শক্তিশালী করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে একটি পৃথক প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে এডিবির কাছে প্রস্তাব পাঠাতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে কাজ করতে পেনশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, তারা ইতোমধ্যে ৩২০ মিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের খসড়া তৈরি করেছেন। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

অবকাঠামো, সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সুবিধা, জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান নিয়োগ, পেনশন কর্তৃপক্ষের স্থায়ী অফিস স্থাপন, পরামর্শক নিয়োগ সবই এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে এডিবির সঙ্গে প্রাথমিকভাবে আলোচনা করেছি এবং তারা এই প্রকল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে।’

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বোর্ড বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তাদের প্রগতি স্কিমে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই স্কিমটি বেসরকারি সংস্থার কর্মচারীদের জন্য চালু করা হয়েছে। চারটি প্রকল্পের পাশাপাশি সরকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বায়ত্তশাসিত এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে প্রত্যয় নামে একটি পেনশন স্কিম চালু করেছিল। তবে আগস্টের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরোধিতার মুখে সরকার প্রত্যয় স্কিম বাতিল করে দেয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই প্রকল্পটি পুনরায় চালুর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে।


বঙ্গবিভূষণ পেলেন নচিকেতা

আপডেটেড ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:২০
বিনোদন ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের শিল্প, সংস্কৃতি ও সংগীতের জগভে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একঝাঁক গুণীজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’ ও ‘বঙ্গভূষণ’। গতকাল শনিবার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গুণীজনদের এই বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। এ বছর সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য ‘বঙ্গবিভূষণ-২০২৬’ সম্মাননা পেয়েছেন জীবনমুখী গানের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী। তাঁর পাশাপাশি সংগীতে এই বিশেষ সম্মান পেয়েছেন প্রখ্যাত শিল্পী শিবাজী চট্টোপাধ্যায় এবং শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগীতে নতুন প্রজন্মের আইকন ও সাংস্কৃতিক জগতে বিশেষ প্রভাব রাখার জন্য লোপামুদ্রা মিত্র, বাবুল সুপ্রিয়, ইমন চক্রবর্তী ও কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া চিত্রকলায় বিশেষ কৃতির জন্য বরেণ্য শিল্পী গণেশচন্দ্র হালুইকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

একই মঞ্চ থেকে এদিন বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতি ব্যক্তিদের হাতে ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মানও তুলে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মানিত হয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী মনোময় ভট্টাচার্য, রাঘব চট্টোপাধ্যায়, রূপঙ্কর বাগচি, অদিতি মুন্সি, কার্তিক দাস বাউল ও নাজমুল হক। লোকসংস্কৃতি ও সমাজসেবায় অবদানের জন্য কলেন্দ্রনাথ মান্ডি, শ্যামচাঁদ বাগদি, নন্দলাল বাউড়ি, মৃণাল কান্তি বিশ্বাস এবং চন্দন লোমজেলকেও বঙ্গভূষণ সম্মান প্রদান করা হয়। এছাড়া শিল্পকলা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, আমলা বিবেক কুমার এবং প্রয়াত সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। টেলিভিশন সংবাদ ও বিনোদনে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করায় এবার স্টার জলসা ও জি বাংলা চ্যানেলকেও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে সম্মানিত ব্যক্তিদের কৃতি ও সমাজের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতার প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সম্মাননা কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি বাংলার গৌরবোজ্জ্বল সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। অনুষ্ঠানটিতে সংগীতাঙ্গনের তারকাদের উপস্থিতিতে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নচিকেতা চক্রবর্তীর মতো প্রথিতযশা শিল্পীর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়ায় তাঁর অগণিত ভক্ত ও অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস পরিলক্ষিত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই আয়োজনটি বাংলার গুণীজনদের কাজের মূল্যায়ন এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে এক বিশেষ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।


ভারতীয় চলচ্চিত্রের মাহেন্দ্রক্ষণ: দীর্ঘ ৪৭ বছর পর এক পর্দায় রজনীকান্ত ও কমল হাসান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার দুই প্রবাদপ্রতিম মহাতারকা রজনীকান্ত ও কমল হাসান দীর্ঘ প্রায় ৪৭ বছরের ব্যবধান ঘুচিয়ে আবারও একসাথে বড় পর্দায় ফিরছেন। বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত এই পুনর্মিলনীটি ঘটাতে যাচ্ছেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় নির্মাতা নেলসন দীলিপ কুমার। ২০২৩ সালে রজনীকান্তকে নিয়ে সুপারহিট সিনেমা ‘জেলার’ উপহার দেওয়ার পর এবার তিনি দুই কিংবদন্তিকে এক ফ্রেমে আনার সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন। সিনেমাটির প্রাথমিক নাম রাখা হয়েছে ‘কেএইচ অ্যান্ড আরকে’ (KH & RK), যা মূলত দুই তারকার নামের আদ্যক্ষর নিয়ে তৈরি। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই দুই মহাতারকার একসাথে ফেরা এক অভাবনীয় আবেগ ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি এই সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রোমো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে রজনীকান্ত ও কমল হাসানকে তাঁদের চিরচেনা স্টাইলিশ ভঙ্গিতে উপস্থিত হতে দেখা যায়। হালকা রসিকতা ও খুনসুটিতে ভরপুর এই প্রোমোতে দেখা যায়, দুজনে পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে একটি গ্যারেজে প্রবেশ করছেন এবং পরবর্তীতে একটি গাড়িতে গিয়ে বসছেন। সেই গাড়ির পেছনের সিটে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং পরিচালক নেলসন এবং তরুণ সংগীত পরিচালক অনিরুদ্ধ রবি চন্দর। ভিডিওটির শেষে একটি মজার দৃশ্যপট তৈরি হয় যখন অনিরুদ্ধ সিনেমাটির গান শোনাতে চান। তখন কমল হাসান ও রজনীকান্ত দুজনেই কৌতুকভরে প্রশ্ন তোলেন—আসলে এই সিনেমার মূল নায়ক কে? পরিচালক নেলসন কোনো উত্তর না দিয়ে রহস্যময় হাসি দিয়ে প্রোমোটি শেষ করেন, যা দর্শকদের কৌতূহল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

রজনীকান্ত ও কমল হাসান সর্বশেষ ১৯৭৯ সালে ‘আলাউদ্দিনুম আথবুথা ভিলাক্কুম’ নামক চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্রে একসাথে অভিনয় করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ চার দশকে তাঁদের বিভিন্ন সময়ে একে অপরের সিনেমায় অতিথি চরিত্রে দেখা গেলেও পূর্ণাঙ্গ প্রধান চরিত্রে একসাথে আর কাজ করা হয়নি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই কিংবদন্তিকে এক সুতোয় গাঁথা তাদের জন্য কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রজেক্ট নয়, বরং এটি একটি স্বপ্নপূরণ এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। এই ঘোষণার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার। দুই মহারথীর রসায়ন আধুনিক প্রেক্ষাপটে নেলসন কীভাবে রূপালি পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি সিনেমাপ্রেমী।


হুসেন জাইদির লেখনীতে মুম্বাইয়ের অন্ধকার জগত: এক বই থেকে দুই কালজয়ী চলচ্চিত্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

জনপ্রিয় অপরাধ বিষয়ক লেখক হুসেন জাইদির কালজয়ী নন-ফিকশন বই ‘মাফিয়া কুইনস অব মুম্বাই’ পুনরায় বিনোদন জগতের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে সম্প্রতি ভারতে মুক্তি পেয়েছে বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ও’ রোমিও’। শহীদ কাপুর ও তৃপ্তি দিমরি অভিনীত এই সিনেমাটি বক্স অফিসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও লেখক হুসেন জাইদি আবারও নিজের লেখনীর সার্থকতা প্রমাণ করেছেন। কারণ ‘ও’ রোমিও’ সিনেমাটি তাঁর আলোচিত বই ‘মাফিয়া কুইনস অব মুম্বাই’-এর একটি বিশেষ অধ্যায় অবলম্বনে নির্মিত। এর আগে বলিউডের প্রভাবশালী নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালিও একই বইয়ের আরেকটি অধ্যায় থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মাণ করেছিলেন ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’। একটি বইয়ের বিভিন্ন অংশ থেকে দুটি ভিন্ন ধারার ও বিশাল বাজেটের সিনেমার জন্ম হওয়া সমসাময়িক চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।

‘ও’ রোমিও’ সিনেমার গল্পটি মূলত গ্যাংস্টার হুসেন উস্তারার জীবনের ছায়া অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছে। এখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন শহীদ কাপুর, আর তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন বর্তমান সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরি। তৃপ্তির চরিত্রটি স্বপ্না দিদি নামক এক বাস্তব জীবনের রহস্যময় নারীর চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত, যিনি বিশ্বাস করতেন যে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিম তাঁর স্বামীকে হত্যা করেছেন। এই প্রতিশোধের আগুন এবং হুসেন উস্তারার সঙ্গে স্বপ্না দিদির সম্পর্কই সিনেমার মূল উপজীব্য। শহীদ কাপুর উস্তারার চরিত্রে এবং তৃপ্তি দিমরি আফশা খানের ভূমিকায় নিজেদের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন বিক্রান্ত ম্যাসি, তামান্না ভাটিয়া ও নানা পাটেকরের মতো শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীরা।

অন্যদিকে ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’ ছিল আলিয়া ভাটের ক্যারিয়ারের অন্যতম মোড় পরিবর্তনকারী চলচ্চিত্র। ১৯৬০-এর দশকের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমায় মুম্বাইয়ের কামাথিপুরা এলাকার এক নারীর যৌনপল্লী থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণের গল্প বলা হয়েছে। নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তিনি যখন জাইদির বইটির স্বত্ব কিনতে চেয়েছিলেন, তখন খোদ লেখকও অবাক হয়েছিলেন। কারণ বইটির ১৩টি গল্পের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে অন্ধকার ও বিষাদময় একটি অধ্যায়। বানসালি মুম্বাইয়ের সেই গলিগুলোর খুব কাছেই দীর্ঘকাল বসবাস করেছেন বলে এই বাস্তব জীবনের ট্র্যাজেডিকে পর্দার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ব্যাপক বাণিজ্যিক সাফল্য ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

২০১১ সালে প্রকাশিত হুসেন জাইদির এই নন-ফিকশন বইটিতে মোট ১৩ জন প্রভাবশালী নারীর জীবনকাহিনী স্থান পেয়েছে। এই তালিকায় গাঙ্গুবাই ও স্বপ্না দিদি ছাড়াও রয়েছেন জেনাবাই দারুওয়ালি, নীতা নায়েক, মনিকা বেদি, সুজাতা নিখালজে এবং পদ্মা পূজারীর মতো নামগুলো। পুরুষশাসিত মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডে কীভাবে এই নারীরা নিজেদের অদম্য সাহস ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন এবং অপরাধ জগতের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছিলেন, জাইদি তাঁর বইয়ে তা অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। অপরাধ জগতের এই দুর্ধর্ষ নারীদের জীবনের পরতে পরতে থাকা রোমাঞ্চ ও ক্ষমতার লড়াই বর্তমানে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য এক অফুরন্ত অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।


আসছে ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স: দি ইম্মর্টাল ম্যান’, টমাস শেলবি হয়ে ফিরছেন কিলিয়ান মারফি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে ঝড় তোলা জনপ্রিয় ব্রিটিশ ক্রাইম ড্রামা সিরিজ ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এর ভক্তদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স নিয়ে আসছে এই সিরিজের সিক্যুয়াল চলচ্চিত্র ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স: দি ইম্মর্টাল ম্যান’। অস্কারজয়ী অভিনেতা কিলিয়ান মারফি পুনরায় তাঁর আইকনিক চরিত্র ‘টমাস শেলবি’ রূপে পর্দায় ফিরছেন, যা দর্শকদের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ৬ মার্চ বিশ্বজুড়ে সিনেমাটি একযোগে মুক্তি পাবে।

সম্প্রতি সিনেমার প্রথম ট্রেলারটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। ট্রেলারটিতে বার্মিংহামের সেই অন্ধকার জগত এবং টমাস শেলবির রহস্যময় ও বিধ্বংসী উপস্থিতি দর্শকদের আবারও নস্টালজিক করে তুলেছে। সিরিজের মূল কাহিনী যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই সিনেমার গল্প শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রেলারটি দেখে দর্শকরা মন্তব্য করেছেন যে, সিরিজের মতোই এই চলচ্চিত্রেও নির্মাতা স্টিভেন নাইট টানটান উত্তেজনা ও শৈল্পিক নির্মাণশৈলী বজায় রেখেছেন।

সিনেমাটি মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। এতে বার্মিংহামের গ্যাংস্টার পরিবার শেলবিদের টিকে থাকার লড়াই এবং টমাস শেলবির জীবনের চূড়ান্ত এক অধ্যায় ফুটে উঠবে। কিলিয়ান মারফির পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী এই চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সিরিজের বিশাল জনপ্রিয়তাকে মাথায় রেখে অত্যন্ত বড় পরিসরে এবং প্রিমিয়াম মান বজায় রেখে ছবিটি নির্মাণ করেছে নেটফ্লিক্স। গত কয়েক বছর ধরে যারা এই সিরিজের সমাপ্তি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স: দি ইম্মর্টাল ম্যান’ একটি বিশেষ উপহার হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সমালোচকরা। মার্চের প্রথম সপ্তাহেই দর্শকরা ঘরে বসে উপভোগ করতে পারবেন শেলবি গ্যাংয়ের এই মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন।


ভারতে আসছেন শাকিরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

আবারো ভারতের মাটিতে সরাসরি পারফর্ম করতে আসছেন বিশ্বখ্যাত পপ সাম্রাজাজ্ঞী শাকিরা। আগামী ১০ এপ্রিল মুম্বাই এবং ১৫ এপ্রিল দিল্লিতে তাঁর বর্ণাঢ্য কনসার্টে মঞ্চ মাতানোর কথা রয়েছে। 'ফিডিং ইন্ডিয়া' নামের একটি দাতব্য সংস্থা এবং 'ডিস্ট্রিক্ট বাই জোমাটো' যৌথভাবে 'ফিডিং ইন্ডিয়া কনসার্ট ২০২৬'-এর তৃতীয় সংস্করণের ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে এবারের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন এই কলম্বিয়ান তারকা। শাকিরার এই সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ভারতজুড়ে তাঁর অগুনতি ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা ও উন্মাদনা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এই বিশেষ আয়োজনে শাকিরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আরও বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী এবং ভারতের নামী তারকারাও পারফর্ম করবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত ক্ষুধার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং দাতব্য কাজে তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যেই এই মেগা কনসার্টের আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগেও বিভিন্ন বড় ইভেন্টে শাকিরার ভারত সফর নিয়ে আলোচনা থাকলেও, এবারের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মুম্বাই ও দিল্লির এই দুটি শো তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সফর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর শাকিরার উপস্থিতিতে ভারতের বিনোদন অঙ্গনে এক নতুন জোয়ার আসবে বলে ধারণা করছেন আয়োজকরা। কনসার্টের টিকিট ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য দ্রুতই ডিস্ট্রিক্ট বাই জোমাটো প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হবে।


বিতর্কের মাঝেও 'টক্সিক' সিনেমার জন্য যশের আকাশচুম্বী পারিশ্রমিক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

কন্নড় সুপারস্টার যশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক: এ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন আপস’ নিয়ে বর্তমানে বিনোদন জগতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এই সিনেমার জন্য যশের নেওয়া পারিশ্রমিক ভক্ত ও সমালোচকদের রীতিমতো চমকে দিয়েছে। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, কেজিএফ খ্যাত এই তারকা অভিনেতা সিনেমাটির জন্য ১৫০ কোটি রুপি পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। শুরুতে তাঁর পারিশ্রমিক ৫০ কোটি রুপি ধরা হলেও, অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার এই সিনেমায় ‘রায়া’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শেষ পর্যন্ত তিনগুণ বেশি অর্থ দাবি করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি যশ এই বিগ বাজেট প্রজেক্টে সহ-প্রযোজক হিসেবেও সরাসরি যুক্ত রয়েছেন, যা তাঁর এই বিশাল আয়ের পেছনে বড় একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই অবিশ্বাস্য অঙ্কের পারিশ্রমিক নিয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কারো পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

পরিচালক গীতু মোহনদাসের নির্দেশনায় নির্মিত ‘টক্সিক’ সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয়েছে শক্তিশালী মাদক কার্টেলগুলোর মধ্যকার নৃশংস লড়াইকে কেন্দ্র করে। ভারতের গোয়ার একটি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে সাজানো হয়েছে এর চিত্রনাট্য। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির দ্বিতীয় টিজারে এক অন্ধকার ও সহিংস জগত ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি করেছে। সার্কাস ও পূর্ব এশীয় আবহে ঘেরা এই টিজারে যশকে দেখা গেছে অত্যন্ত বিধ্বংসী ও নতুন এক লুকে, যা তাঁর আগের কাজগুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তবে কিছু দৃশ্যের অতি সহিংসতা এবং সাহসী উপস্থাপনার কারণে সিনেমাটি মুক্তির আগেই বেশ কিছু বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সিনেমাটিতে যশের পাশাপাশি বড় পর্দার জনপ্রিয় মুখ কিয়ারা আদভানি, হুমা কুরেশি ও তারা সুতারিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। মূল কন্নড় ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বড় পরিসরে মুক্তির লক্ষ্যে এটি আরও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভাষায় ডাবিং করা হচ্ছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে এই হাই-ভোল্টেজ অ্যাকশন সিনেমার। যশের ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং এই প্রজেক্টটি বক্স অফিসে নতুন কোনো রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর কোটি কোটি ভক্ত।


বিমানবন্দরে মদসহ আটক মেহজাবীন চৌধুরী, রহস্যজনক অব্যাহতির অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীকে ঘিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিদেশ থেকে ফেরার সময় তার কাছে ১৪ বোতল অ্যালকোহল পাওয়ার পরও কোনো আইনি ব্যবস্থা ছাড়াই তাকে রহস্যজনক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, গত বছরের ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে বিএস-২১৮ ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন মেহজাবীন চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী ও নির্মাতা আদনান আল রাজীব এবং পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্ত। গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় কাস্টমসের তল্লাশিতে তাদের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল অ্যালকোহল উদ্ধার করা হয়।

প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের এভাবে মদ বহন বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। জব্দকৃত পণ্যের বিপরীতে ডি শিফটের রেভিনিউ কর্মকর্তা মো. মোতাকাব্বির আলী একটি আটক রশিদ (নং-ডিসিএইচ-ডিই-২০২৫০৮১৫২০) প্রস্তুত করেন।

নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে হস্তান্তর করে মামলা হওয়ার কথা থাকলেও, অভিযোগ রয়েছে যে তাদের কেবল মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মেহজাবীনের কাছ থেকে কোনো মুচলেকা নেওয়া হয়নি বলেও জানা গেছে।

আটককারী কর্মকর্তা মো. মোতাকাব্বির আলী জানিয়েছেন, তিনি নিয়ম মেনে মালামাল জব্দ করে সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কীভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তাদের প্রটোকল দিতে আসা দুই অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি কর্মকর্তাও লিখিত মুচলেকা দিয়ে দায় এড়িয়েছেন বলে জানা গেছে।


আন্তর্জাতিক বাফটার মঞ্চে আলিয়া ভাটের ঝলমলে উপস্থিতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক লালগালিচায় আলিয়া ভাটের পদক্ষেপ যেমন স্বাভাবিক মনে হয়, তেমনই প্রতিবারই তা নতুন আলোকে উজ্জ্বল করে। এবার সেই আলো ছড়াচ্ছে বিশ্বসেরা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন পুরস্কারের বাফটার অনুষ্ঠানে। মঙ্গলবার আয়োজকরা ঘোষণার মাধ্যমে জানিয়েছেন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও অতিথিদের তালিকা, যেখানে আলিয়ার নামও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে আলিয়ার সঙ্গে থাকবেন কিলিয়াম মার্ফি, ব্রায়ান ক্র্যানস্টন, ডেভিড জনসন, এমিলি ওয়াটসন, এরিন ডটারি, কেট হাডসন, স্যাডি সিঙ্কসহ আরও অসংখ্য আন্তর্জাতিক শিল্পী। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন অভিনেতা অ্যালেন কামিং। ২২ ফেব্রুয়ারি, রবিবার, লন্ডনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে মিলিত হবেন বিশ্বের সেরা চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন তারকারা। আলিয়ার উপস্থিতি ভারতীয় সিনেমাপ্রেমীদের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

আলিয়ার আন্তর্জাতিক পথচলা নতুন নয়। ‘মেট গালা’র লালগালিচা থেকে শুরু করে কান চলচ্চিত্র উৎসবের ঝলমলে মঞ্চে তিনি নিজের স্বকীয় স্টাইল, আত্মবিশ্বাস ও উপস্থিতি দিয়ে নজর কেড়েছেন। ফ্যাশন বিশ্লেষকরা প্রতিবারই আলিয়ার পোশাক, ভঙ্গিমা ও স্টাইল নিয়ে আলোচনা করেন, এবং এবার বাফটার মঞ্চেও তা হবে। প্রশ্ন উঠেছে– এবার কি তিনি ভারতীয় ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করবেন, নাকি পশ্চিমা গ্ল্যামারের সঙ্গে নতুন মিশ্রণ দেখাবেন?

এর আগে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও দীপিকা পাড়ুকোন বাফটার মঞ্চে উপস্থাপক হিসেবে আন্তর্জাতিক দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আলিয়া ভাটও আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের সিনেমার প্রতিনিধিত্ব করবেন। বলিউড থেকে হলিউড– ভাষা ও ভূগোলের সীমা অতিক্রম করে আলিয়া ভাটকে দেখা যাচ্ছে একজন বৈশ্বিক প্রতিভা হিসেবে।

সামাজিক মাধ্যমে এই সাফল্যের খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অনুরাগীরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আলিয়ার এই আন্তর্জাতিক উপস্থিতি শুধু একজন অভিনেত্রীর নয়, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিশ্বমঞ্চে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।


বাংলাদেশ এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ পেশাদার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে পারেনি: চঞ্চল চৌধুরী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী সম্প্রতি কলকাতায় এক আড্ডায় দুই বাংলার চলচ্চিত্র জগতের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, “বাংলাদেশ এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ পেশাদার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে পারেনি।”

চঞ্চল বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সবকিছু খুব ছকবাঁধা এবং পেশাদার। শুটিং কত দিনে শেষ হবে কিংবা বাজেট কেমন, সবকিছুই আগে থেকে স্পষ্ট থাকে। আমাদের এখানে সেই জায়গায় ঘাটতি রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশ এখনও পেশাদার ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করতে পারেনি। এটা আমাদের নেতিবাচক দিক।”

নির্মাতাদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় কোনো ছবির খরচ জোগাড় করতে। চঞ্চল বলেন, “আমি নিজেও এক কোটি থেকে শুরু করে ১০ কোটি টাকার বাজেটের ছবিতে কাজ করেছি। এই যে বাজেটের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই, এটা আমাদের অন্যতম নেতিবাচক দিক।”

তিনি উল্লেখ করেন, “সারা বিশ্বেই বাংলা ছবির বড় সংখ্যক দর্শক আছে। সেই দর্শকের জন্য আমাদের একসঙ্গে বড় বড় কাজ করা উচিত।”

চঞ্চল চৌধুরী সম্প্রতি ব্রাত্য বসুর ‘শেকড়’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। গত বছর শান্তিনিকেতনে ছবির শুটিং হয়েছে। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে একটি ছবিতে পরীমণির সঙ্গেও অভিনয় করছেন তিনি।


ঢাবিতে দুই দিনব্যাপী ভাষা আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে ‘ঢাকা ফিল্ম ক্লাব’-এর উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সড়ক দ্বীপে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ভাষা আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে চলবে এই আয়োজন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় প্রদর্শনীটি সকলের জন্য উন্মুক্ত।

প্রদর্শনীর প্রথম দিনে দেখানো হয়েছে কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হানের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’। ১৯৭০ সালে নির্মিত এই ছবিটি বাংলা চলচ্চিত্রে রাজনৈতিক রূপকের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত। একটি পরিবারের ভেতরের দমন-পীড়নের গল্পের মাধ্যমে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের প্রতীকী চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ড্রাকুলা চরিত্রের রূপক ব্যবহার করে শাসনব্যবস্থার নির্মমতা এবং জনগণের প্রতিবাদী চেতনা তুলে ধরেছেন নির্মাতা।

চলচ্চিত্রটিতে ভাষা আন্দোলনের আবহ আরও শক্তিশালী হয়েছে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত অমর সংগীত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’-র মাধ্যমে। শুটিং চলাকালে ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক চলচ্চিত্র’ নির্মাণের অভিযোগে জহির রায়হানকে ক্যান্টনমেন্টে নেওয়া হলেও পরে প্রমাণের অভাবে মুক্তি দেওয়া হয়। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, সুচন্দা, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান, রওশন জামিল ও আনোয়ার হোসেনসহ প্রখ্যাত শিল্পীরা।

দ্বিতীয় দিনে, শনিবার, প্রদর্শিত হবে শহীদুল হক খান পরিচালিত ‘কলমীলতা’। ১৯৮১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পারিবারিক গল্পের আবহে একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন কবরী, বুলবুল আহমেদ, সুচরিতা, ইলিয়াস কাঞ্চন, গোলাম মুস্তাফা, রোজী সামাদ ও টেলি সামাদসহ আরও অনেকে।

আয়োজকদের মতে, বাংলা চলচ্চিত্রে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নির্মাণের সংখ্যা এখনও সীমিত। নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসনির্ভর গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র পৌঁছে দেওয়া এবং ভাষা আন্দোলনের চেতনা পুনরুজ্জীবিত করাই এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সী দর্শকের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আয়োজনকে ঘিরে এক ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে।


হলিউড অভিনেতা এরিক ডেন মারা গেছেন

আপডেটেড ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:১৪
বিনোদন ডেস্ক

হলিউডের পরিচিত অভিনেতা এরিক ডেন মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ৫৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এএলএস (অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস) নামক জটিল স্নায়বিক রোগের সঙ্গে লড়াই করছিলেন।

এরিক ডেনের প্রতিনিধি মেলিসা ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানান, প্রিয় এই অভিনেতা তার শেষ দিনগুলো পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কাটিয়েছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী রেবেকা গেহার্ট এবং দুই কন্যা বিলি ও জর্জিয়াকে রেখে গেছেন।

গত বছর প্রথমবার জনসম্মুখে নিজের এই বিরল রোগের কথা প্রকাশ করেছিলেন এরিক। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, এ কারণে তার ডান হাতের কর্মক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। মৃত্যুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে একটি সম্মাননা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি অংশ নিতে পারেননি।

তবে অসুস্থতা তাকে থামাতে পারেনি। শেষ দিনগুলোতে তিনি এই রোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং গবেষণার কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

এরিক ডেন জনপ্রিয় মেডিক্যাল ড্রামা সিরিজ ‘গ্রে’স অ্যানাটমি’-তে ডক্টর মার্ক স্লোয়ান চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেয়েছিলেন। এছাড়া এইচবিও সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’-তে তার ‘ক্যাল জ্যাকবস’ চরিত্রও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।


মুম্বাইয়ে বাসা থেকে নির্মাতা এমএম বেগের পচাগলা লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

মুম্বাইয়ে নিজ বাসা থেকে পচাগলা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলিউডের আলোচিত নির্মাতা এমএম বেগের মরদেহ। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার জনসংযোগ কর্মকর্তা হানি জাওয়েরি।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। টানা চার-পাঁচ দিন বাড়ি থেকে বের না হওয়ায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশে খবর দিলে দরজা ভেঙে ভেতরে তার পচাগলা মরদেহ পাওয়া যায়।

মরদেহ গভীর রাতে ময়নাতদন্তের জন্য কুপার হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে বলিউড অঙ্গনে।

চলচ্চিত্রজীবনের শুরুতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন এমএম বেগ। তিনি জে ওম প্রকাশ, বিমল কুমার ও রাকেশ রোশানের মতো নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেন। এ সময় তিনি ‘আদমি খিলোনা হ্যায়’, ‘জৈসি করনি ওয়াইস ভরনি’, ‘কর্জ চুকানা হ্যায়’, ‘কালা বাজার’ ও ‘কিশন কানহাইয়া’সহ একাধিক মূলধারার সিনেমার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পরিচালক হিসেবে তিনি নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত ‘মাসুম গাওয়াহ’ নির্মাণ করেন, যদিও ছবিটি মুক্তি পায়নি। এছাড়া শিল্পা শিরোদকর অভিনীত ‘ছোটি বাহু’ পরিচালনা করেন তিনি।

তার মেয়ে শাহিন্দা বেগ, যিনি ইন্ডাস্ট্রিতে বেডি গুড্ডু নামে পরিচিত ছিলেন, শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করে পরিচিতি পেয়েছিলেন।


দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে বড় পর্দায় ফিরছেন সায়রা: মুক্তির অপেক্ষায় দুই ভিন্ন জনরার সিনেমা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

২০১৮ সালে প্রসূন রহমানের ‘জন্মভূমি’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালি জগতে পা রেখেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী সায়রা আক্তার জাহান। প্রথম সিনেমাটি টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অঙ্গনে প্রশংসিত হলেও পরিবারের ইচ্ছে পূরণ করতে গিয়ে চার বছরের জন্য অভিনয় থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন তিনি। এই সময়ে একটি কর্পোরেট চাকরিতে নিয়োজিত থাকলেও অভিনয়ের প্রতি টান তাঁকে আবারও ক্যামেরার সামনে ফিরিয়ে এনেছে। ২০২৪ সালে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার পর বর্তমানে সায়রার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা ‘বিশ্বাস করেন ভাই’ ও ‘ট্রাইব্যুনাল’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, যা তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সায়রা অভিনীত ‘বিশ্বাস করেন ভাই’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন তরুণ নির্মাতা রাইসুল ইসলাম অনিক। বর্তমান সময়ের আলোচিত বিষয় ‘কালো টাকা’ বা ব্ল্যাক মানিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই সিনেমার কাহিনী। গল্পের প্রয়োজনে বিভিন্ন পেশার কয়েকজন মানুষকে এক অনন্য মিশনে নামতে দেখা যাবে, যাদের ব্যক্তিগত স্বপ্ন ও সামাজিক বাস্তবতার দ্বন্দ্ব পরিচালক কমেডি, সাসপেন্স ও থ্রিলারের চমৎকার মিশ্রণে ফুটিয়ে তুলেছেন। সিনেমাটি ইতোমধ্যে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হয়েছে। তবে বিশেষ কারণে ঢাকার বাইরে থাকায় নিজের সিনেমার প্রিমিয়ারে থাকতে না পেরে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন সায়রা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পর দর্শকরা সিনেমাটির ভিন্নধর্মী নির্মাণশৈলী পছন্দ করবেন। খুব শীঘ্রই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে এর মুক্তির আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করা হবে।

অন্যদিকে, সায়রা আক্তার জাহানের আরেকটি বহুল আলোচিত কাজ হলো ‘ট্রাইব্যুনাল’। প্রখ্যাত নির্মাতা রায়হান খানের পরিচালনায় নির্মিত এই সিনেমাটির প্রেক্ষাপট সাজানো হয়েছে চট্টগ্রামের একটি মর্মান্তিক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এটি মূলত একটি কোর্টরুম ড্রামা, যেখানে সায়রাকে একজন অসফল আইনজীবীর স্ত্রীর চরিত্রে দেখা যাবে। নিজের চরিত্রটি সম্পর্কে সায়রা জানান, এটি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং একই সাথে চ্যালেঞ্জিং একটি চরিত্র। এই সিনেমায় সায়রার বিপরীতে অভিনয় করেছেন আদর আজাদ। এছাড়া তারিক আনাম খান, নুসরাত ফারিয়া, তানিয়া বৃষ্টি ও মৌসুমী হামিদের মতো একঝাঁক শক্তিমান অভিনয়শিল্পী এই প্রজেক্টের সাথে যুক্ত রয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোজার ঈদে সিনেমাটি বড় পর্দায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে ফিরে আসা এই অভিনেত্রী বর্তমানে চিত্রনাট্য নির্বাচনে বেশ সতর্ক। তিনি জানিয়েছেন, কাজের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে মান ধরে রাখতেই তিনি বেশি আগ্রহী। গতানুগতিক চরিত্রের বাইরে বিভিন্ন ভিন্নধর্মী জনরা বা ধারার কাজ করতে চান তিনি। ইতিমধ্যে আরও বেশ কয়েকটি নতুন প্রজেক্ট নিয়ে তাঁর সাথে নির্মাতাদের আলোচনা চলছে। সায়রার এই প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর অভিনীত নতুন সিনেমাগুলো ঢালিউডে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তাঁর এই সাহসী পথচলা এবং অভিনয়ের প্রতি একাগ্রতা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


banner close