শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

‘ইমার্জেন্সি’র নয়া ট্রেলারে ঝাঁজালো কঙ্গনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৯:৫৩
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৯:৫৩

ছবি নিষিদ্ধ করার ডাক, তথ্য বিকৃতির অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকিসহ একাধিক বিতর্কের জাল পেরিয়ে অবশেষে ‘এমার্জেন্সি’ মুক্তির আলো দেখতে চলেছে আগামী ১৭ জানুয়ারি। তার প্রাক্কালেই নতুন ট্রেলার প্রকাশ্যে এনে ঝাঁজালো কঙ্গনা রানাউত। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে ‘সবচেয়ে বিতর্কিত নেত্রী’ বলে সম্বোধন করলেন। ‘ইন্দিরাই ইন্ডিয়া’, নতুন ট্রেলারে সত্তর দশকের উত্তাল সময়ের ঝলক দেখা গেল। নেতা-মন্ত্রীদের দাবার চালে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কতটা প্রভাবিত হয়েছিল, ‘ইমার্জেন্সি’র নয়া ট্রেলারে সেই আওয়াজও স্পষ্ট। জয়প্রকাশ নারায়ণের ভূমিকায় অনুপম খের, যুব অটল বিহারি বাজপেয়ীর চরিত্রে শ্রেয়স তলপড়ে, ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেকশর চরিত্রে মিলিন্দ সোমানকে দেখা গেল সেই ঝলকে। কঙ্গনার ‘ইমার্জেন্সি’তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন মহিমা চৌধুরী এবং সতীশ কৌশিকও।

ট্রেলার প্রকাশ্যে এনে কঙ্গনার মন্তব্য, ‘বহু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়ার পর এমার্জেন্সি অবশেষে ১৭ জানুয়ারি বড়পর্দায় আসছে। আমি খুব খুশি। এই গল্প শুধু এক বিতর্কিত নেত্রীর নয়, এই ছবি বর্তমান প্রেক্ষাপটেও ভীষণ প্রাসঙ্গিক। সাধারণতন্ত্র দিবসের মাত্র এক সপ্তাহ আগে রিলিজ করছে। সপরিবারে কিংবা কাছের মানুষকে নিয়ে দেশপ্রেম উদযাপন করার একেবারে যোগ্য সময়।’

সত্তর দশকের প্রেক্ষাপটে তৈরি কঙ্গনার ‘ইমার্জেন্সি’। ছবিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী। প্রথমে ২০২৩ সালের অক্টোবর বা নভেম্বরে ছবিটির মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। তা পিছিয়ে রিলিজ ডেট হিসেবে চলতি বছরের ১৪ জুন তারিখটি নিশ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের কারণে ফের ছবির মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়। ৬ সেপ্টেম্বর নতুন মুক্তির তারিখ হিসেবে ধার্য করা হয়। কিন্তু সেই সময়েও সেন্সর বোর্ডের চোখ রাঙানিতে মুক্তির আলো দেখতে পারেনি ‘ইমার্জেন্সি’।

প্রসঙ্গত, ‘ইমার্জেন্সি’ সিনেমা নিয়ে প্রবল আপত্তি ছিল ‘শিরোমনি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটি’র। ছবিটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই শিরোমণি অকালি দলের তরফ থেকেও আপত্তি ওঠে। অভিযোগ ওঠে ছবিটি শিখ সম্প্রদায়ের জন্য অপমানজনক। এই সম্প্রদায় সম্পর্কে ভুল তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই অভিযোগে চণ্ডীগড়ের জেলা আদালতে মামলা নথিভূক্ত করার আর্জি জানিয়েছিলেন আইনজীবী রবিন্দর সিং। তার জেরে অভিনেত্রী তথা সাংসদকে নোটিশও পাঠানো হয়েছিল। আগস্ট মাসে প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছিলেন তারকা সাংসদ। তবে এবারে সেন্সরের ছাড়পত্র নিয়েই এমার্জেন্সি মুক্তি পাচ্ছে।


‘ককটেল ২’-এর ফার্স্ট লুক প্রকাশ, ত্রিভুজ প্রেমের সমীকরণে কৃতী ও রশ্মিকা

আপডেটেড ১৪ মার্চ, ২০২৬ ১৩:২৬
বিনোদন ডেস্ক

২০১২ সালের ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ‘ককটেল’-এর জনপ্রিয়তার রেশ দর্শক হৃদয়ে আজও অম্লান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বড় পর্দায় ফিরছে সেই স্মৃতি, তবে একদমই ভিন্ন মাত্রায়। গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পরবর্তী কিস্তি ‘ককটেল ২’-এর ফার্স্ট লুক পোস্টার। তিনটি ভিন্ন আঙ্গিকে প্রকাশিত এই পোস্টারে ধরা দিয়েছেন কৃতী স্যানন, রশ্মিকা মান্দানা ও শাহিদ। সিনেমাটি নিয়ে আগে থেকেই ব্যাপক কৌতূহল থাকলেও ফার্স্ট লুক সামনে আসতেই শুরু হয়েছে নতুন এক তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।

প্রকাশিত পোস্টারগুলোতে তারকারা হাজির হয়েছেন আলাদা মেজাজে। প্রথম পোস্টারে কৃতী স্যাননকে একটি গাড়িতে রিল্যাক্স মুডে দেখা গেছে, যা দর্শকদের মনে অনেকটা আগের কিস্তির দীপিকা পাড়ুকোনের কালজয়ী সেই 'ভেরোনিকা' চরিত্রটির আদল ফিরিয়ে এনেছে। অন্য একটি পোস্টারে রশ্মিকাকে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় প্রকৃতির ছবি তোলায় এবং আরেকটি ছবিতে শাহিদকে ধরা গেছে রহস্যময় এক মেজাজে। যদিও ছবিটি মূলত প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিত, তবে এবার কাহিনীর প্রধান আকর্ষণ কোনো ত্রিভুজ প্রেম নয় বরং এক অন্যরকম সাহসী মোচড়। জানা গেছে, এই সিনেমায় কৃতী স্যানন ও রশ্মিকা মান্দানার চরিত্রের মধ্যকার সমকাম প্রেমের আখ্যান তুলে ধরবেন পরিচালক হোমী আদাজানিয়া। রশ্মিকার বিয়ের প্রাক্কালেই এই চাঞ্চল্যকর খবরটি সামাজিক মাধ্যমে বেশ গুরুত্ব পায়।

ইতোমধ্যেই ‘ককটেল ২’-এর দৃশ্যধারণের কাজ গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে ছবিটির সংগীত ও সম্পাদনা বা পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ পুরোদমে চলছে। সিনেমাটি নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে একটি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন নির্মাতারা। আগামী ১৮ মার্চ বড় ধামাকাসহ মুক্তি পাবে ছবিটির টিজার। চমকপ্রদ তথ্য হলো, চলতি মাসের মেগাবাজেট ছবি ‘ধুরন্ধর ২’-এর প্রিভিউ শো-এর সময় বড় পর্দায় দর্শকদের জন্য এই টিজারটি প্রথমবারের মতো উন্মোচন করা হবে।

২০১২ সালের মূলে সিনেমার সইফ আলী খান, দীপিকা পাড়ুকোন এবং ডায়ানা পেন্টি যেভাবে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার মিশেলে দর্শকের মন জয় করেছিলেন, সেই একই আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বহন করার চেষ্টা রয়েছে সিক্যুয়েলটিতেও। তবে প্রথাগত বন্ধুত্বের বাইরে এবার সমকাম প্রেমের মতো একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়বস্তু কীভাবে বড় পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা নিয়ে দর্শক মহলে এখন ব্যাপক আগ্রহ। আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি আর সৃজনশীলতার এই ‘ককটেল’ নতুন প্রজন্মের সিনেমাপ্রেমীদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হয়, তা দেখার অপেক্ষাই এখন সিনেমা পাড়ার প্রধান চর্চিত বিষয়।


ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় অস্কার সফর অনিশ্চিত ফিলিস্তিনি অভিনেতা মোতাজ মালহিসের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবথেকে মর্যাদাপূর্ণ আসর 'অস্কার'-এর পর্দা উঠতে আর মাত্র কিছুদিনের অপেক্ষা। তবে এই বর্ণিল আয়োজনে বড় এক বাধার সম্মুখীন হয়েছেন ফিলিস্তিনি অভিনেতা মোতাজ মালহিস। তাঁর অভিনীত ও সমাদৃত সিনেমা ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ এবারের অস্কারে সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে। একটি ফিলিস্তিনি সিনেমার জন্য এমন অর্জন উদযাপনের কথা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই অনুষ্ঠানে সশরীরে যোগ দিতে পারছেন না তিনি। গত শুক্রবার অভিনেতা নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মনোকষ্টের কথা ভক্তদের জানিয়েছেন।

গাজার বাস্তব করুণ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই সিনেমায় মোতাজ মালহিস একজন কল সেন্টার অপারেটরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কাহিনীর কেন্দ্রে রয়েছে পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজব, যে ২০২৪ সালে ইসরায়েলি হামলায় নির্মমভাবে প্রাণ হারায়। সিনেমায় সেই সংকটাপন্ন অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য সাহায্য করার মরিয়া এক চেষ্টা চালিয়েছিলেন মোতাজের চরিত্রটি। এমন একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সিনেমার মূল অভিনয়শিল্পী হয়েও রাজনৈতিক বিধিনিষেধের কারণে অভিনেতা অস্কারে তাঁর দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছেন না।

নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মোতাজ লিখেছেন, শুধুমাত্র ফিলিস্তিনি নাগরিক হওয়ার অপরাধে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে অস্কারের মঞ্চে উপস্থিত থাকতে না পারাকে তিনি নিজের এবং ফিলিস্তিনি চলচ্চিত্রের জন্য বড় ধরণের বঞ্চনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও ভূ-রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মূলত গত ডিসেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের এক বিশেষ নির্দেশনায় জানানো হয়েছিল যে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা ভ্রমণ নথিপত্র ব্যবহার করে কোনো নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের ওপর কার্যকর করা সেই কঠিন শৃঙ্খলই এবার ফিলিস্তিনি এই প্রতিভাবান অভিনেতার পথে দেয়াল হয়ে দাঁড়াল। যদিও এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি, তবুও বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র মহলে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠছে।

সিনেমাটি যে বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে তৈরি হয়েছে, তা সারা বিশ্বের মানুষের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালে গাজায় একটি গাড়িতে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে হিন্দ রজবসহ তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্য এবং শিশুটিকে বাঁচাতে যাওয়া রেড ক্রিসেন্টের দুই জরুরি অ্যাম্বুলেন্স কর্মী নিহত হন। শিশুটি ফোনে তাঁর স্বজনদের সাথে কথা বলা এবং উদ্ধারের যে করুণ আকুতি জানিয়েছিল, সেটিই পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই সিনেমার মাধ্যমে। ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ অস্কার জয় করুক বা না করুক, এই সিনেমাটি ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের এক অমোঘ দলিলে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


অ্যাকশন আর রোমান্টিক সংলাপে ‘রাক্ষস’-এর ট্রেলার প্রকাশ, ভিন্ন লুকে তাক লাগালেন সিয়াম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢালিউডে বইছে নতুন সিনেমার হাওয়া। সেই লড়াইয়ে অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে মুক্তি পেয়েছে চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ অভিনীত সিনেমা ‘রাক্ষস’-এর বহুল প্রতীক্ষিত ট্রেলার। ২ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের এই ট্রেলারটি এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সাথে অন্ধ প্রেমের এক মিশেল বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ট্রেলারটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন সিয়াম আহমেদ এবং কলকাতার অভিনেত্রী সুস্মিতা চ্যাটার্জি।

ট্রেলারটির শুরুতেই শোনা যায় অন্ধকার ঘরে সিয়ামের গভীর ও রহস্যময় কণ্ঠ। সিগারেটের ধোঁয়ায় উড়তে উড়তে তিনি দার্শনিক ঢঙে বলছেন, ‘মানুষ বলে নারী কিসে আটকায়? নারী আটকায় মায়ায়, ভালোবাসায়। আমি বলি না, নারী আটকায় লোভে।’ তাঁর এই গম্ভীর সংলাপের রেশ কাটতে না কাটতেই পর্দায় ভেসে ওঠে চরম নৃশংস ও ভায়োলেন্ট সব খুনের দৃশ্য। নিমিষেই শান্ত পরিবেশ পাল্টে রক্তগঙ্গায় ভেসে যায় ট্রেলারটি, যেখানে ধারালো চাপাতির কোপে একে একে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে নিথর দেহ। পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় যে দাবি করেছিলেন যে তাঁর আগের সিনেমা ‘বরবাদ’-এর চেয়ে এখানে তিনগুণ বেশি অ্যাকশন থাকবে, ট্রেলারে সেই ধ্বংসযজ্ঞেরই প্রতিফলন দেখা গেছে।

তবে ট্রেলারটির মূল বৈশিষ্ট্য কেবল লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভয়ংকর এই গ্যাংস্টার চরিত্রের আড়ালে ঢাকা পড়া এক আবেগী প্রেমিকের ছায়াও দেখা গেছে। সুস্মিতা চ্যাটার্জির প্রতি সিয়ামের নিরেট অনুরাগের প্রমাণ মেলে তাঁর সংলাপে— ‘তোরে ভালোবাইসা আমি এমন একটা জায়গায় চলে গেছি, তোর হাসিতে আমি হাসতাম, তোর খুশিতে আমি খুশি হইতাম।’ সমুদ্রের বুকে সি-প্লেনে চড়ে ভ্রমণ কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের বিলাসবহুল মূহূর্তগুলো ট্রেলারে এক মায়াবী স্নিগ্ধতা যোগ করেছে। যদিও এই শান্তি বেশিক্ষণ টেকেনি, ট্রেলারের মাঝপথে আবারও বিস্ফোরণ, গুলি আর শত্রুদের উদ্দেশ্যে সিয়ামের সেই অমোঘ গর্জন ফিরে আসে— ‘তুই যদি ওদের বাপ হোস, তাইলে আমি তোর বাপেরও বাপ!’

ট্রেলারের একটি বড় চমক ছিল সিয়ামের পুরনো সহযোদ্ধা সেই ‘জিল্লু’-র প্রত্যাবর্তন। ভিডিও কলে সিয়াম যখন হুঙ্কার দেন, ‘হেয় জিল্লু্‌, খাইয়া দে’, তখন দর্শকসারিতে উত্তেজনার মাত্রা বেড়ে যায় বহু গুণ। তবে ভিডিওটির একেবারে শেষে একটি বিশেষ দৃশ্যে ডার্ক কমেডির চমৎকার রেশ রেখেছেন পরিচালক। যেখানে স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে আসা সিয়াম তাঁর একান্ত জীবন নিয়ে অত্যন্ত সাবলীল ও সাহসী এক অদ্ভুত প্রশ্ন করে বসেন চিকিৎসকের কাছে। রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত এই ছবিটির মাধ্যমে কলকাতার সুস্মিতা চ্যাটার্জির ঢালিউড অভিষেক ঘটছে। সব মিলিয়ে রহস্য, টানটান উত্তেজনা আর প্রতিশোধের এই ‘রাক্ষস’ ঈদুল ফিতরে দর্শকদের হলে নতুন অভিজ্ঞতা উপহার দেবে বলেই আশা করা যাচ্ছে।


প্রথমবার বড় পর্দায় অভিষেক হচ্ছে বিলি আইলিশের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্বখ্যাত পপ তারকা বিলি আইলিশকে এতদিন ভক্তরা মঞ্চে গান ও সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্যেই দেখেছেন। এবার তিনি অভিনয়শিল্পী হিসেবে বড় পর্দায় হাজির হতে যাচ্ছেন।

বিনোদনবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ডেডলাইন জানিয়েছে, মার্কিন লেখিকা সিল্ভিয়া প্লাথের বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য বেল জার’ অবলম্বনে নির্মিত হতে যাওয়া একটি সিনেমায় অভিনয় করবেন এই তারকা।

চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করবেন অস্কারজয়ী নির্মাতা সারাহ পলি। তিনি ২০২২ সালে ‘উইমেন টকিং’ সিনেমার জন্য সেরা অ্যাডাপ্টেড স্ক্রিনপ্লে বিভাগে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।

১৯৬৩ সালে প্রকাশিত ‘দ্য বেল জার’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র এস্থার গ্রিনউডের ভূমিকায় দেখা যাবে বিলি আইলিশকে।

এই উপন্যাস অবলম্বনে এর আগে ১৯৭৭ সালে একই নামের একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল। সেই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ম্যারিলিন হ্যাসেট ও জুলি হ্যারিস। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছিলেন ল্যারি পিয়ার্স।

পরবর্তী সময়েও হলিউডের কয়েকটি স্টুডিও এই উপন্যাসকে নতুন করে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ২০০৭ সালে জুলিয়া স্টাইলসকে নিয়ে একটি প্রজেক্ট শুরু হলেও সেটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

২০১৯ সালেও আরেকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় কার্স্টেন ডানস্টের পরিচালনায় সিনেমাটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয় এবং কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল ডেকোটা ফ্যানিং এর। তবে সেই প্রজেক্টটিও শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

অভিনয়ে এটিই বিলি আইলিশের বড় পর্দায় প্রথম উপস্থিতি হলেও চলচ্চিত্র জগত তার কাছে একেবারে নতুন নয়। তিনি ‘বার্বি’ ও জেমস বন্ডের ‘নো টাইম টু ডাই’ সিনেমার অরিজিনাল গানের জন্য অস্কার অর্জন করেছেন।

তবে ডেডলাইন জানিয়েছে, ‘দ্য বেল জার’ সিনেমার জন্য আইলিশ কোনো গান গাইবেন বা সুর করবেন না; এই ছবিতে তিনি কেবল অভিনয়েই মনোযোগ দেবেন।


ঈদে ইত্যাদিতে একঝাঁক জনপ্রিয় তারকা নিয়ে চার মিউজিক্যাল ড্রামা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ঈদ আনন্দকে বহুগুণে বাড়াতে বরাবরের মতো এবারও হাজির হচ্ছে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদি। অনুষ্ঠানটি বিনোদনের পাশাপাশি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে দেয়।

পরিচালক ও উপস্থাপক হানিফ সংকেত এবারও দর্শকদের জন্য তৈরি করেছেন চারটি ব্যতিক্রমী মিউজিক্যাল ড্রামা, যেখানে অভিনয় করেছেন একঝাঁক জনপ্রিয় তারকা। প্রতি ঈদে নতুন বিষয়ভিত্তিক এই ড্রামাগুলোই ইত্যাদিকে বিশেষ করে তোলে।

এবারের প্রথম তিনটি ড্রামায় উঠে এসেছে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নানান সমস্যা। এতে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব, সারিকা সাবরিন, সজল নূর, কুসুম শিকদার, নাসির উদ্দিন খান ও আরফান আহমেদ।

বিশ্বাস ভঙ্গ ও প্রতারিত হওয়ার সমস্যা নিয়েও একটি ড্রামা তৈরি হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, রোজী সিদ্দিকী, এবং বিক্রেতার চরিত্রে ইকবাল হোসেন ও শাওন মজুমদার।

মিউজিক্যাল ড্রামাগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন আকাশ মাহমুদ, রাজিব, পুলক অধিকারী, মৌরী, নোশিন তাবাসসুম স্মরণ ও তানজিনা রুমা। সংগীত পরিচালনা করেছেন মেহেদী ও আকাশ মাহমুদ।

এছাড়া বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ, তমা মির্জা ও জান্নাতুল সুমাইয়া হিমির নাচসহ ইত্যাদি’র চিরচেনা সব বৈচিত্র্যময় আয়োজন তো থাকছেই।

ইত্যাদি ঈদ স্পেশাল দর্শকদের আনন্দকে দ্বিগুণ করবে। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হবে ঈদের পরদিন রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর। রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। স্পন্সর করেছে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।


নারায়ণগঞ্জে স্টার সিনেপ্লেক্সের নতুন শাখা, ঈদের দিন পর্দা উঠছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দেশের জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্স এবার নারায়ণগঞ্জে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের দিন শহরের জালকুঁড়ি এলাকায় অবস্থিত সীমান্ত টাওয়ারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মাল্টিপ্লেক্সটির উদ্বোধন করা হবে বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও বিশ্বমানের প্রযুক্তিতে নির্মিত এই নতুন শাখায় দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছে মোট তিনটি হল। এর মধ্যে দুটি হলে ১৭৮টি করে আসন রয়েছে এবং ছোট হলটিতে রয়েছে ৭৫টি আসন, যেখানে উন্নত সাউন্ড সিস্টেম ও নান্দনিক পরিবেশের সমন্বয়ে বড় পর্দায় সিনেমা উপভোগের সুব্যবস্থা থাকছে।

স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, "এটি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য ঈদের উপহার। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার দর্শকদের একটি আধুনিক মাল্টিপ্লেক্সের চাহিদা ছিল।"

দর্শকদের নিরাপত্তা ও উন্নত প্রেক্ষাগৃহের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তারা রাজধানী ছাড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে শাখা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমান বছরের মধ্যেই দেশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে নতুন শাখা চালুর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।


৪৪ বছর পর আবারও গানের প্লেব্যাকে কিংবদন্তি সাবিনা ইয়াসমিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে অবিস্মরণীয় এবং তুমুল জনপ্রিয় গান ‘এই মন তোমাকে দিলাম’। সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ৪৪ বছর পর আবারও নিজের গাওয়া কালজয়ী এ গানে প্লেব্যাক করেছেন। ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘দম’ সিনেমার জন্য নতুন সংগীতায়োজনে — ‘এই মন তোমাকে দিলাম’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন এই কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী।

এবার ঈদে মুক্তি পাচ্ছে এসভিএফ, আলফা-আই ও চরকির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘দম’ সিনেমাটি। রেদওয়ান রনির পরিচালনায় এ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, পূজা চেরি ও চঞ্চল চৌধুরী প্রমুখ।

বুধবার (১১ মার্চ) গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে চরকি প্রযোজনা কর্তৃপক্ষ। এর আগে ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মানসী’ সিনেমার সেই তুমুল জনপ্রিয় গানটি এবার নতুন আবহে দর্শকদের সামনে আসতে চলেছে।

নতুন করে গাওয়া প্রসঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, নতুন এই গানটি আমার ভালো লেগেছে বলেই কাজটি করছি। তা ছাড়া নতুনদের সঙ্গে কাজ করতে আমার খুব ভালো লাগে। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ও আনোয়ার পারভেজের সুরে মূল গানটির কাঠামোর সঙ্গে নতুন সংস্করণে যুক্ত হয়েছে তন্ময় পারভেজের লেখা কিছু নতুন কথা। আরাফাত মহসীন নিধির সংগীত পরিচালনায় এ গানে বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে সহশিল্পী হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন মোমিন বিশ্বাস।

‘মানসী’ সিনেমার সেই তুমুল জনপ্রিয় গানটি 'দম’ সিনেমায় ব্যবহারের প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মাতা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘দম’ মূলত সাধারণ মানুষের জ্বলে ওঠার এবং আবেগঘন গল্পের একটি সিনেমা। এমন একটি গল্পে সব রকম অনুভূতিকে স্পর্শ করতেই এ গানটি বেছে নেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি জাতির ভালোবাসা, স্মৃতি এবং আনন্দ–বেদনা।

তিনি বলেন, প্রয়াত গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের সন্তান সরফরাজ আনোয়ার উপল এবং দিঠি আনোয়ার অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গেই সিনেমাটিতে গানটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন এবং রেকর্ডিংয়ের সময় তারা উপস্থিত ছিলেন।


বলিউডের শীর্ষ ধনী অভিনেতা শাহরুখ

বলিউড তারকা শাহরুখ খান। ছবি : এএফপি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা শাহরুখ খান আবারও প্রমাণ করেছেন যে তিনি শুধু চলচ্চিত্রের পর্দাতেই নয়, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। সম্পদের দিক থেকে তিনি এখনও ভারত ও বলিউডের সবচেয়ে ধনী অভিনেতাদের তালিকায় শীর্ষে আছেন।

গত ৫ মার্চ প্রকাশিত ২০২৬ সালের ‘হুরুন গ্লোবাল রিচ লিস্ট’ অনুযায়ী এই অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।

তালিকায় ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হিসাব অনুযায়ী শাহরুখ খানের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি এবং ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৮০০ কোটি টাকার সমান। বৈশ্বিক বিলিয়নিয়ার তারকাদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় তার অবস্থান মূলত অভিনয়ের পাশাপাশি বিস্তৃত ব্যবসা ও শক্তিশালী ব্র্যান্ড মূল্য থেকেই এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় তার সম্পদের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালে শাহরুখ খানের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি।

তবে সম্পদের সামান্য হ্রাস সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি এখনও শীর্ষ ধনী তারকাদের কাতারেই রয়েছেন। জোনাথন ‘জে জেড’ (২.৮ বিলিয়ন ডলার), টেইলর সুইফট (১.৬ বিলিয়ন ডলার) এবং রিয়ানার (১.৫ বিলিয়ন ডলার) মতো বিশ্বখ্যাত সংগীত তারকাদের সঙ্গে একই তালিকায় তার নামও উল্লেখযোগ্যভাবে রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ৩০৮ জন বিলিয়নিয়ার নিয়ে বিশ্বে ধনী ব্যক্তিদের সংখ্যায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত; তালিকার শীর্ষে আছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।

শাহরুখ খানের বিপুল সম্পদের পেছনে রয়েছে বহুমাত্রিক আয়ের উৎস। চলচ্চিত্র থেকে প্রাপ্ত পারিশ্রমিক ছাড়াও তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট’ বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী প্রযোজনা সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

এ ছাড়া আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘কলকাতা নাইট রাইডার্স’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট লিগে তার বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দিয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি থেকেও বিপুল অর্থ আয় করছেন তিনি। দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে শাহরুখ নিজেকে শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার আসন্ন সিনেমা ‘কিং’ ঘিরে ইতোমধ্যে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সিদ্ধার্থ আনন্দের পরিচালনায় নির্মিত এই ছবিতে শাহরুখ খানের সঙ্গে তার মেয়ে সুহানা খানও অভিনয় করবেন, যা ছবিটিকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে।

এ ছাড়া সিনেমাটিতে দীপিকা পাড়ুকোন, অভিষেক বচ্চন ও অনিল কাপুরের মতো জনপ্রিয় তারকারাও থাকবেন। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা ও বিনিয়োগের দক্ষতার মাধ্যমে শাহরুখ খান এখন বিশ্ব বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম সম্পদশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।


ডিক্যাপ্রিওকে অস্কার এনে দেওয়া ‘দ্য রেভেন্যান্ট’ ১০ বছর পর ফের প্রেক্ষাগৃহে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

চলচ্চিত্র দুনিয়ার জনপ্রিয় তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক সিনেমা ‘দ্য রেভেন্যান্ট’ আবারও বড় পর্দায় ফিরছে। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করা এই ছবিটি মুক্তির দশ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণ উদযাপনের অংশ হিসেবে দর্শকদের জন্য সিনেমাটি পুনরায় প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর ক্যারিয়ারের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র অস্কার এনে দেওয়া এই ঐতিহাসিক সিনেমাটি ঘিরে ভক্তদের মাঝে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেজান্দ্রো গনজালেজ ইনারেত্তুর সুনিপুণ পরিচালনায় নির্মিত এই সিনেমায় ডিক্যাপ্রিওর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রিটিশ অভিনেতা টম হার্ডি। বরফে ঢাকা প্রতিকূল প্রকৃতি আর ভয়ংকর লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে একজন মানুষের বেঁচে থাকার অদম্য গল্প পর্দায় এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল, যা আজও সিনেমা প্রেমীদের চোখে সেরা এক প্রাপ্তি। নিজের চরিত্রের প্রতি একনিষ্ঠতা আর জীবনবাজি রেখে অভিনয় করে সে বছর সমালোচকদের নজর কেড়েছিলেন ডিক্যাপ্রিও, যার স্বীকৃতি হিসেবেই ধরা দিয়েছিল বহুল প্রতীক্ষিত সেই সোনালি অস্কার ট্রফিটি।

দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ১৩ মার্চ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুনরায় সিনেমাটির প্রদর্শনী শুরু হবে। প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং স্পেনের মতো প্রভাবশালী সব দেশের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও মেক্সিকোর নির্দিষ্ট কিছু সিনেমা হলেও ‘দ্য রেভেন্যান্ট’ দেখা যাবে। যদিও এটি অনেক আগের সিনেমা, তবুও বড় পর্দার রোমাঞ্চ আর ডিক্যাপ্রিও-হার্ডির অনবদ্য দ্বৈরথ থিয়েটারে উপভোগ করার সুযোগ করে দিতেই ডিস্ট্রিবিউটররা এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। শৈল্পিক আবেদন এবং জাদুকরী সিনেমাটোগ্রাফির কারণে সিনেমাটি পুনরায় বক্স অফিসে সফল হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।


শাকিবের ‘প্রিন্স’ দিয়ে আবারও চালু হচ্ছে বগুড়ার মধুবন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও দর্শকদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত হচ্ছে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী মধুবন সিনেপ্লেক্স। ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ প্রদর্শনের মাধ্যমে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন থেকে এটি পুনরায় যাত্রা শুরু করবে। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর টানা লোকসানের মুখে বন্ধ ঘোষণা করা প্রেক্ষাগৃহটি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে শাকিবের মেগা ছবির মাধ্যমে, যা স্থানীয় চলচ্চিত্র প্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

প্রেক্ষাগৃহের মালিক আর এম ইউনুস রুবেল জানিয়েছেন, মাসের পর মাস আর্থিক ক্ষতির ভার বইতে গিয়ে তারা এক পর্যায়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই গত সেপ্টেম্বরে মধুবন সিনেপ্লেক্স অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করতে হয় এবং ভবনটি কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয়েছিল। তিনি অপেক্ষায় ছিলেন দেশে একটি নির্বাচিত সরকার আসার, যাতে শিল্পটি নিয়ে নতুন কোনো পরিকল্পনার পথ প্রশস্ত হয়। ইউনুস রুবেলের কাছে এই সিনেপ্লেক্সটি নিছক ব্যবসা নয়, বরং তাঁর বাবার হাতের ছোঁয়া আর পারিবারিক আবেগ-স্মৃতির এক অমূল্য প্রতীক।

প্রেক্ষাগৃহ ব্যবসার বর্তমান সংকট মোকাবিলা করতে তিনি বড় ধরণের উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন সরকারের কাছে। মালিক পক্ষের দাবি, দেশে নির্মিত মানসম্পন্ন চলচ্চিত্রের পাশাপাশি কলকাতা, মুম্বাই কিংবা হলিউডের ব্লকবাস্টার সিনেমা আমদানির অনুমতি না দিলে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত এসব আধুনিক সিনেপ্লেক্স টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। বিশেষ করে আমদানিকৃত মানসম্মত বিদেশি ছায়াছবি সিনেমা হল সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য, বগুড়া জেলা একসময় চলচ্চিত্রের উর্বর ভূমি ছিল, যেখানে একযোগে ৩৮টি সিনেমা হল চলত। সময়ের বিবর্তনে ৩১টি প্রেক্ষাগৃহ ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং বর্তমানে সারা জেলায় টিকে আছে মাত্র ৭টি হল। এর মধ্যে শহরের মূল কেন্দ্রে টিকে থাকা দুটি হলের একটি হলো এই মধুবন। তাই মধুবনের আবারও সচল হওয়ার খবরটি গোটা উত্তরের চলচ্চিত্র পাড়ায় একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচিত নতুন সরকার সিনেমা হল মালিকদের বাঁচাতে কার্যকর ভূমিকা নেবে এবং বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করবে—এমনই জোরালো আশা ব্যক্ত করেছেন মধুবন কর্তৃপক্ষ।


‘সুবেদার’ ছবিতে ৬৯ বছর বয়সেও ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ অনিল কাপুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ ধারণাটি বেশ পুরনো। সচরাচর পর্দার সেই নায়করা হন স্বল্পভাষী, প্রতিবাদী আর দুর্ধর্ষ। কিন্তু বয়স যদি হয় ৬৯, তবে সেই তকমা কি মানায়? জৌলুসহীন বাস্তবধর্মী অ্যাকশন ড্রামা ‘সুবেদার’-এর মাধ্যমে অভিনেতা অনিল কাপুর প্রমাণ করেছেন, প্রতিভা আর ব্যক্তিত্ব থাকলে বয়সের সংখ্যাটা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যায়। চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক সুরেশ ত্রিবেণীর হাত ধরে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি মূলত অনিল কাপুরের অতিমানবীয় অভিনয়ের ওপর ভর করেই দাঁড়িয়ে আছে।

সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা অর্জুন মৌর্যকে ঘিরে। সীমান্তের দীর্ঘ দায়িত্ব পালন শেষে অর্জুন যখন ঘরে ফেরেন, তখন চারপাশের পরিবেশ অনেকটাই বদলে গেছে। গল্পে এক দিকে যেমন পেশাগত জীবনের কঠোরতা রয়েছে, অন্যদিকে ফুটে উঠেছে পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন। অর্জুনের অনুপস্থিতিতে স্ত্রী মারা যান, যে সময়ে তাঁর মেয়ে শ্যামা (রাধিকা মদন) বারবার সাহায্য চেয়েও বাবাকে পাশে পায়নি। বাবার প্রতি মেয়ের এই চাপা ক্ষোভ এবং বিচ্ছেদের বেদনাই ছবির অন্যতম মানবিক ভিত্তি। অর্জুনের প্রিয় ‘লাল জিপসি’ গাড়িটি যখন স্থানীয় অপরাধীদের লালসার মুখে পড়ে, তখন থেকেই শুরু হয় মূল সংঘাত।

পুরো সিনেমায় অনিল কাপুর সংলাপের চেয়ে চোখের ভাষা এবং অভিব্যক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। স্বল্প সংলাপের অর্জুন চরিত্রটি যেন কোনো আগ্নেয়গিরি, যা নিভৃতে দাউদাউ করে জ্বলছে। এই বয়সে এসেও যেভাবে তিনি অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। অর্জুনের মেয়ে হিসেবে রাধিকা মদনের অভিনয় ছিল অত্যন্ত বলিষ্ঠ। আধুনিক মেয়ে শ্যামা চরিত্রটি কেবল অসহায় এক সন্তান নয়, বরং নিজের ওপর আসা অ্যাসিড আক্রমণ কিংবা ধর্ষণের হুমকির মতো প্রতিকূলতা সে একাই মোকাবিলা করার সাহস রাখে। সৌরভ শুক্লা, মোনা সিং এবং আদিত্য রাওয়ালদের মতো দক্ষ অভিনয়শিল্পীরা ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করলেও ছবির কাহিনীকে আরও সংহত করেছেন।

পরিচালক সুরেশ ত্রিবেণী উত্তর ভারতের একটি ছোট, মলিন এবং আধিপত্যবাদী শহরের প্রেক্ষাপট নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। ভাঙাচোরা অলিগলি আর দুর্নীতিগ্রস্ত ক্ষমতার চক্র দর্শকদের সহজেই বাস্তব এক জগতে নিয়ে যায়। সাউন্ড ডিজাইন আর অধ্যায়ভিত্তিক গল্প বলার ধরন ছবিটির শৈল্পিক মান বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও কাহিনীর পরিণতি বা ক্লাইম্যাক্স কিছুটা অনুমেয়, তবুও এটি নিছক এক রিভেঞ্জ ড্রামা নয়; বরং ব্যক্তিগত ক্ষোভের আড়ালে সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধ যোদ্ধার লড়ে যাওয়ার গল্প।

সিনেমাটি গতিতে মাঝে মাঝে কিছুটা হোঁচট খেলেও বা দৈর্ঘ্য নিয়ে কিছু প্রশ্ন থাকলেও, ‘সুবেদার’ নিঃসন্দেহে একবার দেখার মতো ছবি। বলিউডে যেখানে চকচকে আভিজাত্যের প্রদর্শনী বেশি থাকে, সেখানে এই ছবি অন্ধকার শহরের নিষ্ঠুর বাস্তবতা দেখানোর পাশাপাশি বুড়ো হাড়ের এক জাদুকরী অভিনয় দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। মূলত অনিল কাপুরের রাজকীয় পদচারণা এবং সুরেশ ত্রিবেণীর পরিপক্ক নির্মাণের জন্যই এই অ্যাকশন থ্রিলারটি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে।


বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ‘দ্য রিপ’: বড় পর্দায় বেন অ্যাফ্লেক ও ম্যাট ডেমনের জাদুকরী প্রত্যাবর্তন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

হলিউড অভিনেতা বেন অ্যাফ্লেক এবং ম্যাট ডেমনের দীর্ঘ কয়েক দশকের অটুট বন্ধুত্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম এক উদাহরণ। এই দুই বন্ধু যখনই বড় পর্দায় এক হয়েছেন, তখনই দর্শকরা নতুন ও ব্যতিক্রমী কিছুর স্বাদ পেয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তাঁদের নতুন ক্রাইম-থ্রিলার সিনেমা ‘দ্য রিপ’ (The RIP) বক্স অফিসে বড় ধরণের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দর্শক ও সমালোচক উভয়েই ছবিটির নির্মাণশৈলী নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। অনেক দর্শকই মন্তব্য করেছেন যে, ছবিটি দেখার সময় নব্বইয়ের দশকের সেই কালজয়ী রোমাঞ্চকর আবহ পুনরায় ফিরে পাওয়ার অনুভূতি হয়।

‘দ্য রিপ’ সিনেমার গল্পের মূল উৎস হিসেবে কাজ করেছে একটি রোমহর্ষক ও অবিশ্বাস্য বাস্তব ঘটনা। ২০১৬ সালের ২৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি পুলিশ বিভাগ পামগাছে ঘেরা একটি সাধারণ আবাসিক বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল। দীর্ঘ দিনের মাদক পাচার সংক্রান্ত একটি তদন্তের শেষ অংশ হিসেবে ওই অভিযানের পরিকল্পনা করা হলেও পুলিশ সদস্যরা কল্পনাও করতে পারেননি তাঁরা সেখানে কী দেখতে যাচ্ছেন। বাড়ির চিলেকোঠার একটি কৃত্রিম দেয়ালের আড়ালে পাওয়া গিয়েছিল ২৪টি কমলা রঙের বিশাল বালতি। সেই বালতিগুলো ছিল ১০০ ডলারের নোটের বান্ডিলে ঠাসা, যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। মায়ামি পুলিশের ইতিহাসে এটি ছিল ইতিহাসের বৃহত্তম নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা।

এই অবিশ্বাস্য সম্পদ উদ্ধারকে কেন্দ্র করেই পরিচালক জো কারনাহান ‘দ্য রিপ’ সিনেমার টানটান উত্তজনাপূর্ণ চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন। ছবিটি কেবল একটি গতানুগতিক পুলিশি অভিযানের কাহিনী নয় বরং বিপুল অর্থপ্রাপ্তি কীভাবে মানুষের মগজধোলাই করে এবং বছরের পর বছর লালন করা আস্থার সম্পর্কের ভীত নাড়িয়ে দেয়, সেটিই এখানে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ক্ষমতার রদবদল কীভাবে বন্ধুত্বের সংজ্ঞাকে বদলে দেয়, তা পর্দায় তুলে ধরার জন্য বেন অ্যাফ্লেক ও ম্যাট ডেমনের দীর্ঘ বাস্তব জীবনের বন্ধুত্বই ছিল বড় সম্পদ। পর্দায় তাঁদের কথোপকথন আর মানসিক বোঝাপড়া সিনেমাটির আবেগের মাত্রাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সিনেমায় ম্যাট ডেমনকে দেখা গেছে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া ইউনিট প্রধান ডুমার্স চরিত্রে, যাঁর অধীনে এখন কাজ করতে হচ্ছে তাঁর দীর্ঘদিনের পুরনো সহকর্মী সার্জেন্ট জে ডি বার্নকে। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন বেন অ্যাফ্লেক। বন্ধু যখন বস্ বা কর্তৃত্বে আসীন হয়, তখন তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণে যে অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি হয়, তারই চমৎকার শৈল্পিক উপস্থাপন এটি। পরিচালক দেখিয়েছেন, প্রথাগত ধাওয়া বা গুলির লড়াই নয়, বরং ঘন্টার পর ঘন্টা কোটি কোটি টাকা গোনার মুহূর্তে মানুষের চোখের ভাষার যে পরিবর্তন, সেখানেই ছবির আসল রোমাঞ্চ লুকানো।

জো কারনাহান এই সিনেমার মাধ্যমে এক গভীর জীবনদর্শনের বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। তিনি মনে করেন, মানুষের জীবনে বন্ধুত্বের মূল্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে। অঢেল প্রাচুর্যের হাতছানির মাঝে প্রিয়জনের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই তিনি এমন প্রেক্ষাপট বেছে নিয়েছেন। ‘দ্য রিপ’ একাধারে একটি অ্যাকশন ড্রামা এবং অন্যদিকে মানুষের জটিল মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের এক সার্থক দলিল। অবিশ্বাসের চরম ধোঁয়াশার মাঝে কার হাত ধরা উচিত আর কার নয়—এমন প্রশ্নের এক রহস্যময় উত্তরের দিকে দর্শকদের নিয়ে যায় ছবিটি। বিনোদন জগতের বর্তমান ব্যস্ত সময়ে বেন ও ডেমনের এই অনন্য ফিরে আসা হলিউডের ইতিহাসে দীর্ঘকাল অম্লান থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।


হলিউডের তিন আইকনিক ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ফিরছেন শোয়ার্জনেগার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দীর্ঘ বিরতির পর হলিউডের রূপালি পর্দায় আবারও ঝড় তুলতে আসছেন কালজয়ী অ্যাকশন কিংবদন্তি আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার। সম্প্রতি ওহাইওর কলম্বাসে আয়োজিত ‘আর্নল্ড স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল’-এ এই বর্ষীয়ান অভিনেতা নিজেই তাঁর ভক্তদের জন্য এক বড় ধরণের চমকপ্রদ খবর নিশ্চিত করেছেন। ৭৮ বছর বয়সী এই তারকা জানিয়েছেন, তাঁর ক্যারিয়ারের অত্যন্ত জনপ্রিয় তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি—‘কন্যান দ্য বারবেরিয়ান’, ‘কমান্ডো’ ও ‘প্রিডেটর’-এর পরবর্তী কিস্তিগুলোতে অভিনয়ের বিষয়ে তাঁর আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। রাজনীতি ও দীর্ঘ অবসরের পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন বিনোদন বিশ্বে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি করেছে।

বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে আর্নল্ড বেশ বিচক্ষণতার পরিচয় দিচ্ছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক এই গভর্নর স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বর্তমান বয়সে এসে তিনি আর পর্দায় ৪০ বছরের যুবকের সাজে ফিরতে চান না। তাই প্রতিটি ছবির স্ক্রিপ্টই লেখা হচ্ছে তাঁর বর্তমান বয়স ও শারীরিক অবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে। তিনি বিশ্বাস করেন, বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র; বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে আরও বাস্তবসম্মত এবং ভিন্নধর্মী শক্তিশালী সব অ্যাকশন দৃশ্যে তিনি নিজেকে ফুটিয়ে তুলবেন। চিত্রনাট্যকাররা ইতিমধ্যেই তাঁর বয়স উপযোগী নতুন ধাঁচের অ্যাকশন গল্প সাজাতে কাজ শুরু করেছেন।

আলোচিত এই প্রজেক্টগুলোর মধ্যে ‘কিং কন্যান’ নিয়ে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এই সিনেমার প্রেক্ষাপট সাজানো হয়েছে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এক রাজার বীরত্বপূর্ণ রাজত্বের গল্প দিয়ে, যাঁকে এক গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে রাজ্য ত্যাগ করতে হয়। পরবর্তীতে হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারের সংঘাত, রাজকীয় লড়াই এবং বিভিন্ন অশুভ শক্তির মোকাবিলার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে এই কাহিনী। ছবিটির নির্মাণ গুরুত্ব বাড়িয়ে দিতে হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজের ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রগুলোর সফল নির্মাতা ও লেখকের একটি টিমকে এই প্রজেক্টে যুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, ‘প্রিডেটর’ ও ‘কমান্ডো ২’ নিয়েও আশাব্যঞ্জক তথ্য দিয়েছেন এই অ্যাকশন হিরো। ফক্স স্টুডিওসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং ‘প্রিডেটর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির পরবর্তী ছবির জন্য পরিচালক ড্যান ট্র্যাচেনবার্গ স্বয়ং তাঁর সাথে শলাপরামর্শ করছেন। এছাড়া আশির দশকের তুমুল জনপ্রিয় ছবি ‘কমান্ডো’-র সিক্যুয়েলের পান্ডুলিপিও ইতিমধ্যে প্রস্তুত বলে তিনি জানান। স্টুডিওর পক্ষ থেকে এসব ছবির জন্য বিশাল বাজেটের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণে এই ক্লাসিক চলচ্চিত্রগুলোকে দর্শকদের কাছে নতুন রূপ ও আবহে উপস্থাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে ‘কন্যান দ্য বারবেরিয়ান’ দিয়ে ক্যারিয়ারের শুভসূচনা করা এই অভিনেতা ১৯৮৪ সালে ‘দ্য টার্মিনেটর’-এর অসামান্য সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে এক অপরাজিত মহাতারকায় পরিণত হন। তাঁর কালজয়ী প্রতিটি চরিত্রই চলচ্চিত্র ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আবারও সেই চেনা প্রাঙ্গণে এবং তাঁর প্রিয় সব চরিত্রে শোয়ার্জনেগার কতটা সপ্রতিভ হয়ে ফিরে আসতে পারেন, তা দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর কোটি অনুরাগী ও সিনেমা বোদ্ধারা।


banner close