শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পারিশ্রমিকে রেকর্ড গড়লেন প্রিয়াঙ্কা

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০১:১৬
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০১:১৫

বিয়ে করে আমেরিকায় স্থায়ী হওয়ার পর মাঝেমধ্যে নিজ দেশ ভারতে এলেও কোনো ভারতীয় সিনেমায় অভিনয় করতে দেখা যায়নি বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে। তবে প্রস্তাব যে পান না, তা কিন্তু না। প্রতিবারই দেশে ফিরলে অনেক বড় বড় নির্মাতা তাকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ব্যাটে-বলে মেলেনি। তবে এবার মিলেছে। কয়েকদিন আগে ভারতে এসেছেন এই হলিউড-বলিউড তারকা। আর এসেই ভারতের ব্লকবাস্টার নির্মাতা এস এস রাজামৌলির সিনেমায় কাজ করার বিষয়ে দফায় দফায় কথাবার্তা চলে প্রিয়াঙ্কার। এরই মধ্যে রাজামৌলির ‘এসএসএমবি২৯’ সিনেমার জন্য চুক্তিবদ্ধও হয়েছেন অভিনেত্রী।

আর এর মারফতে প্রায় ৬ বছর পর ভারতীয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তাও আবার বলিউড নয়, তাকে দেখা যাবে দক্ষিণী সিনেমায়। খবরটা দুদিন আগের হলেও এবার সামনে এসেছে ছবিতে প্রিয়াঙ্কার আকাশ ছোঁয়া পারিশ্রমিকের বিষয়টি। জানা গেছে, যার জন্য বলিউডের এই দেশি গার্লকে দেওয়া হবে ৩০ কোটি রুপি। যা এই সময়ের অভিনেত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক।

নির্মাতার ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে জানা যায়, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এস এস ‘জঙ্গল অ্যাডভেঞ্চার’ ধাঁচে নির্মিত এই ছবিতে মহেশ বাবুর বিপরীতে অভিনয় করবেন। যার জন্য তিনি ৩০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেবেন- যা ভারতীয় সিনেমায় যেকোনো অভিনেত্রীর জন্য সর্বোচ্চ। এর আগে এই নায়িকা ভারতে একটি সিনেমা করার জন্য ১৫ কোটি রুপি নিতেন। বর্তমানে ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রী দীপিকা পাডুকোন। তার সবশেষ মুক্তি পাওয়া ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ সিনেমার জন্য তিনি ২০ কোটি রুপি নিয়েছিলেন।

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সুপারহিট নির্মাতা এস এস রাজামৌলি। ব্লকবাস্টার হিট ‌‘বা‌হুবলি’ সিরিজের দুই সিনেমা দিয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। এরপর তিনি নিজের কাজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন ‘আরআরআর’ সিনেমায়। তারকাবহুল সেই সিনেমা অস্কারেও বাজিমাত করেছিল।

এবার রাজামৌলি আসছেন নতুন সিনেমা নিয়ে। যার গল্পে দেখানো হবে আফ্রিকান জঙ্গলে রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চার। এতে মহেশ বাবু একটি অনুসন্ধানকারী চরিত্রে অভিনয় করবেন। তার চরিত্রে দেখা যাবে লর্ড হনুমানের বৈশিষ্ট্য। প্রিয়াঙ্কার চরিত্রটি হবে শক্তিশালী এবং অ্যাকশনে ভরপুর। ভারতে প্রিয়াঙ্কার সবশেষ সিনেমা ছিল ‌‘দ্য স্কাই ইজ পিঙ্ক।’ যে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল ২০১৮ সালে।


নির্বাচিত

ফুটবল বিশ্বকাপের রঙে রঙিন শোবিজ, তারকাদের প্রিয় দলের খতিয়ান

কোলাজ-দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১২ জুন, ২০২৬ ১৯:৫৭
শামীম চৌধুরী

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশে শুরু হয় এক উৎসবমুখর আবহ। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন আর উন্মাদনায় মেতে ওঠে আপামর জনতা। এই উত্তেজনার ঢেউ থেকে বাদ পড়েন না বিনোদন জগতের জনপ্রিয় মুখগুলোও। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে সমর্থন দেওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের কথা জানানো এখনকার সাধারণ চিত্র। বাংলাদেশের শোবিজ তারকাদের একটি বড় অংশ ঐতিহ্যগতভাবেই লাতিন আমেরিকার দুই ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক।
সাদা-কালো পর্দার আমল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অনেকেরই হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। জ্যেষ্ঠ অভিনেতা আবুল হায়াত থেকে শুরু করে এই প্রজন্মের জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও বিদ্যা সিনহা মিম—সবাই ব্রাজিলের খেলার ছন্দের ভক্ত। এই শিবিরে আরও রয়েছেন মোশাররফ করিম, জয়া আহসান, আফরান নিশো, শবনম বুবলী এবং অপু বিশ্বাস। সঙ্গীত জগতের আসিফ আকবর, বাপ্পা মজুমদার ও পড়শীর মতো তারকারাও ফুটবল শৈলীর কারণে ব্রাজিলকেই এগিয়ে রাখেন। এছাড়া মিশা সওদাগর, আনিসুর রহমান মিলন, বাপ্পি চৌধুরী, কোনাল ও সামিরা খান মাহিও হলুদ-সবুজ পতাকাধারীদের দলে।
অন্যদিকে নীল-সাদা জার্সির ভক্তদের তালিকাও বেশ দীর্ঘ। এই দলে রয়েছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, জাহিদ হাসান এবং আব্দুন নূর সজল। কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে বর্তমানের মহাতারকা লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সের কারণে পরীমনি, মেহজাবীন চৌধুরী ও রাফিয়াথ রশীদ মিথিলা আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেন। ঢালিউড তারকা মাহিয়া মাহি ও পূজা চেরী থেকে শুরু করে জায়েদ খান, মামনুন ইমন ও পূজা চেরীও এই শিবিরের অংশ। সঙ্গীত শিল্পী কর্ণিয়া ও ঝিলিকও আর্জেন্টিনার জয়ের জন্য প্রার্থনা করেন। ছোট পর্দার পরিচিত মুখ সজল ও মেহজাবীনের কাছে এটি কেবল একটি দল নয়, বরং ফুটবলীয় আবেগের নাম। এছাড়া এই তালিকায় আরও রয়েছেন দীপা খন্দকার, সুমাইয়া শিমু, নাদিয়া আহমেদ, নুসরাত ইমরোজ তিশা, কচি খন্দকার ও মোনালিসার মতো জনপ্রিয় তারকারা।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দ্বৈরথের বাইরে ভিন্ন ধারার ফুটবল পছন্দ করেন এমন তারকার সংখ্যাও একেবারে কম নয়। অভিনেতা সিয়াম আহমেদ স্পেনের তিকিতাকা ফুটবলের অনুরাগী। আবার সাবেক ফুটবলার ও অভিনেতা আজিজুল হাকিম জার্মান ফুটবলের শৃঙ্খলা ও কৌশলগত দিকের কারণে দলটিকে সমর্থন করেন। তবে দেশের শীর্ষ চলচ্চিত্র তারকা শাকিব খানের সমর্থন নিয়ে ভক্তদের মাঝে সবসময় এক ধরনের কৌতূহল কাজ করে। বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্যে ভিন্ন ভিন্ন দলের প্রতি সমর্থন প্রকাশ পাওয়ায় তার প্রকৃত পছন্দের দল কোনটি, তা নিয়ে এক ধরনের রহস্য আজও বিদ্যমান।
তারকাদের মধ্যে পছন্দের দল নিয়ে মতভেদ থাকলেও খেলার মাঠে সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতা দেখার বিষয়ে সবাই একমত। চার বছর পর পর বিশ্বমঞ্চের এই আসরকে কেন্দ্র করে শোবিজ অঙ্গনে তৈরি হওয়া এই বন্ধুত্বপূর্ণ রেষারেষি মূলত ফুটবলের প্রতি বাঙালির নিখাদ ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।


নির্বাচিত

বিশ্বকাপ উদ্বোধনীতে শাকিরার ‘ডামি পারফরম্যান্স’ বিতর্কে সয়লাব সামাজিক মাধ্যম

মেক্সিকোতে ‘দাই দাই’ পরিবেশনায় শাকিরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নাইজেরিয়ার শিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে এবারের অফিশিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ লাইভ পরিবেশন করে মঞ্চ মাতিয়েছেন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা।

২০১০ বিশ্বকাপের সেই কালজয়ী ‘ওয়াকা ওয়াকা’র পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে কলম্বিয়ান এই তারকার প্রত্যাবর্তন সন্ধ্যার সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হলেও, তা রূপ নিয়েছে এক নতুন বিতর্কে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক দর্শক দাবি করছেন যে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে পারফর্ম করা ব্যক্তিটি আসলে প্রকৃত শাকিরা ছিলেন না, বরং তাঁর কোনো ‘ডামি’ বা প্রতিরূপ (বডি ডাবল) ছিল।

মাদ্রিদভিত্তিক ক্রীড়া দৈনিক মার্কার এক প্রতিবেদনে এই গুঞ্জনের বিষয়টি উঠে এসেছে, যেখানে নেটিজেনরা গায়িকার চেনা শারীরিক ভঙ্গি ও চলাফেরার অমিল এবং পারফরম্যান্সের সময় একটি নির্দিষ্ট নাচের স্টেপ মিস করার বিষয়টিকে সন্দেহের কারণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন।

এ ছাড়া পুরো পরিবেশন জুড়েই শাকিরার গাঢ় রঙের সানগ্লাস পরে থাকা এবং সাম্প্রতিক সময়ে লাতিন আমেরিকায় তাঁর হুবহু সদৃশ ভেনেজুয়েলীয় ছদ্মবেশী শিল্পী ‘শাকিবেকা’র তুমুল জনপ্রিয়তার বিষয়টি এই জল্পনাকল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে; তবে এই গুঞ্জনের বিপরীতে এখন পর্যন্ত শাকিরা কিংবা তাঁর টিমের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


নির্বাচিত

‘আলফা’র টিজারে দুর্ধর্ষ আলিয়া, উঠল নকলের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

যশরাজ ফিল্মসের স্পাই ইউনিভার্সের নতুন ছবি ‘আলফা’। এর প্রধান চরিত্রে আছেন আলিয়া ভাট। এ খবর পুরনো। নতুন খবর হলো, বুধবার প্রকাশিত হয়েছে ছবিটির টিজার। আর প্রথম ঝলকে অ্যাকশন-গার্ল হিসেবে চমকে দিয়েছেন অভিনেত্রী।

তবে প্রশংসার সঙ্গে উঠেছে নকলের অভিযোগও। অনেকে বলছেন, ‘আলফা’ নির্মিত হয়েছে ১৯৯০ সালের ফরাসি থ্রিলার ছবি ‘লা ফেমে নিকিতা’ অবলম্বনে। টিজারে অধিকাংশ দৃশ্যের সঙ্গে ওই ছবির হুবহু মিল খুঁজে পাওয়া গেছে।

শুরুতে দেখা যায়, তরুণী আলিয়া ভাটের সঙ্গে একসঙ্গে খাবার খাচ্ছেন তার বাবা ববি দেওল। আলিয়ার ১৮তম জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে একটি কার্ড দেন তিনি; যেখানে একটি কক্ষের নম্বর লেখা থাকে। ববি তাকে বলেন, এত বছর ধরে যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, এবার সেটা কাজে লাগানোর সময় এসেছে। অতঃপর আলিয়ার ধুন্দুমার অ্যাকশনের কিছু দৃশ্য দেখানো হয় টিজারে।

এরকম দৃশ্য ‘লা ফেমে নিকিতা’ ছবিতেও রয়েছে। অনেকে ইনস্টাগ্রাম ও এক্স-এ দুই ছবির সামঞ্জস্যপূর্ণ দৃশ্যগুলো নিয়ে সমালোচনা করছেন। এখানেই শেষ নয়, ‘আলফা’র টিজারের একটি সংলাপ ২০১৪ সালের আমেরিকান ছবি ‘আমেরিকান স্নাইপার’-এর সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে। এগুলো কাকতালীয় নাকি অনুপ্রেরণা, তা নিয়ে এখনো ‘আলফা’ টিম কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

‘আলফা’য় আলিয়া ও ববির সঙ্গে আরো থাকছেন শর্বরী ওয়াগ, অনিল কাপুর প্রমুখ। ৩ জুলাই ছবিটি মুক্তি পাবে প্রেক্ষাগৃহে।


নির্বাচিত

দেশের প্রেক্ষাগৃহে স্পিলবার্গের নতুন ছবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্ব চলচ্চিত্রের নন্দিত নাম স্টিভেন স্পিলবার্গ। ‘শিন্ডলারস লিস্ট’ থেকে শুরু করে ‘ইন্ডিয়ানা জোনস’, ‘জুরাসিক পার্ক’, ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’ কিংবা ‘দ্য টার্মিনাল’-এর মতো ছবি দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন চলচ্চিত্রের ইতিহাস। তার ছবির বক্স অফিস আয় ছাড়িয়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার, যা এক অপরাজেয় রেকর্ড। অস্কার জিতেছেন তিনবার। ফলে কিংবদন্তি এ নির্মাতার নতুন ছবির খবরে উচ্ছ্বসিত হন দর্শক-ভক্তরা।

শুক্রবার বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেতে যাচ্ছে স্পিলবার্গের নতুন ছবি ‘ডিসক্লোজার ডে’। একই দিনে বাংলাদেশেও মুক্তি পাবে ছবিটি। মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সের বিভিন্ন শাখায় চলবে এটি।

মাঝে অনেকদিন ধরে তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল গল্পে ছবি বানিয়েছেন স্পিলবার্গ। ‘ডিসক্লোজার ডে’ দিয়ে তিনি ফিরছেন তার চেনা ময়দানে; যেখানে রহস্য, প্রযুক্তি, বিস্ময় আর অজানার আকর্ষণ মিলেমিশে একাকার। জানা গেছে, ভিনগ্রহের প্রাণী, তাদের পৃথিবীতে আগমন এবং সেই সত্যকে আড়াল করার এক বিশাল সরকারি ষড়যন্ত্রকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ছবিটি।

এ ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন এমিলি ব্লান্ট, জশ ও’কনার, কলিন ফার্থ, ইভ হসন, কলম্যান ডমিঙ্গো প্রমুখ। ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে ছবির প্রিমিয়ার। সেখানে ছবিটি দেখার পর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সাংবাদিক ও সমালোচকরা। অনেকে বলছেন, এটি গত দুই দশকে স্পিলবার্গের সেরা ছবি। এখন দেখার পালা, সে ছবি সাধারণ দর্শককে কতখানি ছুঁতে পারে।


নির্বাচিত

নতুন নাটক নিয়ে শিল্পকলায় ৮ দিনব্যাপী উৎসব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

‘নতুন নাটক, নতুন সময়—মঞ্চে জাগুক মানুষের কথা’ প্রতিপাদ্যে শুরু হতে যাচ্ছে ৮ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হল মিলনায়তনে ১২ জুন থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার বিষয়টি জানিয়েছে একাডেমি।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রথম মঞ্চায়িত নাটকগুলো থেকে নির্বাচিত প্রযোজনা নিয়ে এই উৎসব সাজানো হচ্ছে। আট দিনের এ উৎসবে মোট আটটি নাটক মঞ্চায়িত হবে। প্রথম দিন থেকে যথাক্রমে থাকছে দিনাজপুর নাট্য সমিতির ‘চোরের নাম চরনদাস’, ইয়াং বংহুং থিয়েটারের ‘রিনা পুং’, দৃশ্যকাব্যের ‘ইডিপাস’, হান্ট থিয়েটারের ‘ক্যাফে দ্যা ভলতে’, প্রাচ্যনাটের ‘ব্যতিক্রম ও নিয়ম’, ঢাকা থিয়েটারের ‘রঙমহাল’, নাট্যায়ন সিলেটের ‘মহাকালের অন্তর্যাত্রা’ ও শব্দ থিয়েটারের ‘দি গ্রেট স্মাগলার’।

প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে মঞ্চায়ন। উপভোগ করা যাবে দর্শনীর বিনিময়ে। তবে এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলের লবিতে বসবে বাংলা নাটকের গানের অনুষ্ঠান। সেটা বিনামূল্যে উপভোগ করা যাবে।

এই উৎসবের অংশ হিসেবে থাকছে উদীয়মান নাট্যনির্দেশকদের জন্য বিশেষ কর্মশালা। 'সমকালীন বিশ্ব বাস্তবতায় নাট্যসৃজন: দর্শন, নন্দন ও কৃৎকৌশল' শীর্ষক এই কর্মশালা ১৫ থেকে ১৯ জুন জাতীয় নাট্যশালায় প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। কর্মশালায় তরুণ নির্মাতাদের নাট্যপ্রযোজনার দর্শন, নন্দনতত্ত্ব ও নির্মাণকৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।


নির্বাচিত

নেটফ্লিক্সে ঝড় তুলেছে মাধুরীর এই ছবি, কী আছে এতে?

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ওটিটিতে মনোনিবেশ করেছেন বলিউডের নামি অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত। ৪ জুন নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ছবি ‘মা বেহেন’। আর মুক্তির পর থেকে বিপুল সাড়া পাচ্ছে এটি। উঠে এসেছে ট্রেন্ডিংয়ে। হিন্দুস্তান টাইমসের খবর, নেটফ্লিক্সের গ্লোবাল নন-ইংলিশ ছবির তালিকায় ‘মা বেহেন’ অবস্থান করছে দ্বিতীয় স্থানে।

শীর্ষে রয়েছে স্প্যানিশ ছবি ‘দ্য মার্কড ওম্যান’। তবে যেভাবে ‘মা বেহেন’ নিয়ে দর্শকের আগ্রহ বাড়ছে, চর্চা হচ্ছে, তাতে এটিই এক নম্বরে উঠে আসার সম্ভাবনা প্রবল।

বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মাধুরী বলেন, ‘ছবিটি দর্শকদের কাছ থেকে যে সাড়া পাচ্ছে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব। এ ছবির প্রতি আমি আকৃষ্ট হয়েছিলাম এর গল্প বলার ধরন দেখে, যেটা একইসঙ্গে হৃদয়স্পর্শী, হাস্যরসাত্মক এবং সৎ। দর্শকরা চরিত্রগুলোর সঙ্গে, তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের সঙ্গে এবং গল্পজুড়ে ঘটে যাওয়া সব বিশৃঙ্খলা ও নাটকীয়তার সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পেয়েছেন; এটা আমার জন্য ভীষণ তৃপ্তিদায়ক।’

ছবিটিতে মাধুরীর সঙ্গে আছেন তৃপ্তি দিমরি। তার একটি মনোলগ প্রশংসা পাচ্ছে বেশ। তিনি বলেন, ‘ওই দৃশ্যটি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি এর জন্য অনেক সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, জয়ার (তৃপ্তির চরিত্রের নাম) আবেগময় যাত্রা এবং তার মনের ভেতরে জমে থাকা সব অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করেছি। দর্শকরা দৃশ্যটির সঙ্গে যেভাবে একাত্ম হচ্ছেন, তাতে আমি অনেক খুশি।’

সুরেশ ত্রিবেণী নির্মিত ‘মা বেহেন’ ছবির গল্প এক মধ্যবিত্ত পরিবারকে ঘিরে। গল্পের কেন্দ্রে আছে সিঙ্গেল মাদার রেখা (মাধুরী দীক্ষিত) এবং তার দুই মেয়ে জয়া (ত্রিপ্তি দিমরি) ও সুষমা (ধর্ণা দুর্গা)। একদিন হঠাৎ তাদের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় পাড়ার এক ব্যক্তিকে। এরপর মা-মেয়েরা ঘটনাটি সামাল দিতে গিয়ে একের পর এক হাস্যকর, বিশৃঙ্খল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন রবি কিষাণ, গীতাঞ্জলি কুলকার্নি, অরুণোদয় সিং এবং শার্দুল ভরদ্বাজ।


নির্বাচিত

এবার লন্ডনের উৎসবে পুরস্কৃত বাংলাদেশের ‘আলী’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

গত বছর বিখ্যাত কান উৎসবে ইতিহাস গড়েছিল আদনান আল রাজীবের ‘আলী’। প্রথম বাংলাদেশি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি হিসেবে উৎসবে স্বর্ণপামের লড়াইয়ে সামিল হয়েছিল, জিতে নিয়েছিল স্পেশাল মেনশন। এরপর আরও একাধিক আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে ছবিটি, জিতেছে পুরস্কারও।

এবার ‘আলী’র লন্ডন-জয়। ‘সাউথ বাই সাউথওয়েস্ট লন্ডন উৎসব’-এর শর্টফিল্ম প্রাইজ জিতেছে ছবিটি। গতকাল পুরস্কার ঘোষণা করে উৎসব কর্তৃপক্ষ। ওই বার্তায় লেখা হয়েছে, “দারুণ খবর! উপকূলীয় এক অঞ্চলে নারীদের গান গাওয়া নিষেধ, সে গল্পের ছবি আমাদের শর্ট ফিল্মের পুরস্কার জিতে নিয়েছে।’

পুরস্কার হিসেবে নির্মাতা আদনান তার পরবর্তী প্রজেক্টের জন্য পাবেন ১০ হাজার ডলার মূল্যের পোস্ট-প্রডাকশন সুবিধা। ছবিটি নিয়ে উৎসবটির জুরি সদস্যদের মতামত এরকম, ‘একজন নির্মাতার প্রথম নির্মাণ থেকে এরকম নতুন ধারার গল্প ও নির্মাণ সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

এদিকে পুরস্কার জয়ের খবরটি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন আদনানও। সঙ্গে লিখেছেন, “আলী’ আবারও পুরস্কার জিতল। এটা অসাধারণ একটা খবর। ধন্যবাদ উৎসব কর্তৃপক্ষকে।”

উল্লেখ্য, ‘আলী’র নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আল আমিন।


নির্বাচিত

রেইনড্যান্স উৎসবে বাংলাদেশের দুই চলচ্চিত্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

৩৪তম রেইনড্যান্স আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে যাচ্ছে দুটি চলচ্চিত্র। উৎসবের অফিশিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নিয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র ‘ইন দ্য পাথ অব জায়ান্টস’ এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আলী’। আগামী ১৭ জুন লন্ডনে শুরু হতে যাওয়া এই মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবটি চলবে ২৬ জুন পর্যন্ত। বিশ্বখ্যাত এই মঞ্চে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশীয় নির্মাতাদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ও সৃজনশীলতার এক বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘ইন দ্য পাথ অব জায়ান্টস’ মূলত বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত একটি শক্তিশালী কাজ। এটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের ফায়াদ খান ও যুক্তরাজ্যের কার্স্টি ওয়েলস। উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় এটি ‘বেস্ট ফিচার ডকুমেন্টারি’ এবং ‘বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফি ইউকে’—এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে লড়াই করার গৌরব অর্জন করেছে। আগামী ২১ ও ২৩ জুন উৎসব প্রাঙ্গণে প্রামাণ্যচিত্রটির বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক ফায়াদ খান।

এই তথ্যচিত্রের মূল উপজীব্য হলো বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির সংলগ্ন এলাকার এক জটিল সংকট। ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে সেখানে মানুষ ও বন্য হাতির মধ্যে যে তীব্র দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, তা এখানে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে চিত্রিত হয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী, স্থানীয় বাঙালি বাসিন্দা এবং আদিবাসী কৃষকদের জীবন সংগ্রাম, নিরাপত্তার অভাব ও বসতি রক্ষার লড়াইয়ের চিত্র এতে ফুটে উঠেছে। উল্লেখ্য যে, গত এপ্রিলে এটি ইন্টারন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে ‘লিভিং উইথ নেচার’ বিভাগে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান অর্জন করেছিল।

প্রামাণ্যচিত্রটির পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগেও বাংলাদেশের বলিষ্ঠ প্রতিনিধিত্ব থাকছে। জনপ্রিয় নির্মাতা আদনান আল রাজীবের স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘আলী’ এই বিভাগে প্রদর্শনের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে। বড় পর্দার আন্তর্জাতিক এ আসরে একই সাথে দুটি ভিন্ন ধারার কাজের এই অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি গৌরবময় মাইলফলক। এই ধরনের বৈশ্বিক স্বীকৃতি আগামী দিনে তরুণ নির্মাতাদের জীবনঘনিষ্ঠ ও শৈল্পিক কাজ করতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে বলে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


নির্বাচিত

শিল্পকলায় বিবেকানন্দ থিয়েটারের ‘ভাসানে উজান’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

রাজধানীর মঞ্চে আবারও ফিরছে বিবেকানন্দ থিয়েটারের প্রশংসিত নাটক ‘ভাসানে উজান’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে আগামীকাল বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে নাটকটির নবম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের নভেম্বরে উদ্বোধনী প্রদর্শনীর পর থেকে এটি দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। ইতোমধ্যে আটটি সফল প্রদর্শনী সম্পন্ন হওয়া এই প্রযোজনাটি আবারও মঞ্চে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নাট্যপ্রেমীরা।

বিশ্ববিখ্যাত রুশ সাহিত্যিক ফিওদর দস্তয়ভস্কির অমর ছোটগল্প ‘দ্য জেন্টেল স্পিরিট’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এই নাটকটি। মানুষের অন্তর্নিহিত নীরবতা, গভীর অপরাধবোধ, ভালোবাসা ও একাকিত্বের সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বগুলোকে কেন্দ্র করেই এর কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। এটি মূলত একটি অন্তর্মুখী জীবনযাত্রা, যেখানে গতানুগতিক সংলাপের চেয়ে অনুভবের ভাষাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। নাটকের কেন্দ্রীয় একক চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিজ্ঞ অভিনেতা মো. এরশাদ হাসান, যাঁর শক্তিশালী অভিনয় মানুষের অন্তর্লোকের জটিল রহস্যগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছে।

‘ভাসানে উজান’ নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন বিশিষ্ট নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুণ্ডু এবং নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। নির্দেশকের মতে, দস্তয়ভস্কির জটিল মনস্তত্ত্বকে সংবেদনশীল নাট্যরূপের মাধ্যমে একটি একক চরিত্রের আধারে ফুটিয়ে তোলা ছিল বেশ বড় এক চ্যালেঞ্জ। নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুণ্ডু জানিয়েছেন, একজন মানুষ প্রকৃত অর্থে ভালো হয়ে শেষ পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে কি না—সেই গভীর জীবনবোধের প্রশ্নই এই নাটকের মূল উপজীব্য। এরশাদ হাসানের অভিনয়ের মাধ্যমে সেই প্রশ্নগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

এই প্রযোজনাটিকে শিল্পমণ্ডিত করতে নেপথ্যে কাজ করেছেন একঝাঁক দক্ষ কুশলী। নাটকটির মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন পলাশ হেনড্রী সেন, সংগীত পরিচালনায় হামিদুর রহমান পাপ্পু এবং পোশাক পরিকল্পনায় এনাম তারা সাকি। এছাড়া প্রপস পরিকল্পনায় ফজলে রাব্বি সুকর্ণো এবং কোরিওগ্রাফিতে রয়েছেন রবিন বসাক। শৈল্পিক কারুকার্যে সমৃদ্ধ এই নাটকটি ইতোমধ্যে দেশি ও আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ নাট্যোৎসবে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।

বিবেকানন্দ থিয়েটারের ২৫তম এই প্রযোজনাটি মূলত মানুষের আত্মিক সংকটের এক নিবিড় চিত্রায়ন। একক অভিনয়ের দাপট আর আধুনিক নির্মাণশৈলীর সংমিশ্রণে নাটকটি দর্শকদের এক ভিন্নধর্মী থিয়েটার অভিজ্ঞতা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এই প্রদর্শনীটি সর্বস্তরের দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা এই গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় রাজধানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। নির্মাতারা আশা করছেন, পূর্বের প্রদর্শনীর মতো এটিও দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করবে।


নির্বাচিত

দর্শক খরায় প্রেক্ষাগৃহ, পাইরেসির কবলে ‘রকস্টার’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে ঈদ মানেই প্রেক্ষাগৃহে উপচে পড়া ভিড় আর রমরমা ব্যবসা। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় অন্তত এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে ঈদের সিনেমার রেশ থাকলেও, এবারের কোরবানির ঈদের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মুক্তির দুই সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রেক্ষাগৃহগুলোতে তীব্র দর্শক খরা দেখা দিয়েছে। বড় বড় প্রত্যাশা আর ব্যাপক প্রচারণা নিয়ে মুক্তি পাওয়া ৮টি সিনেমার কোনোটিই বক্স অফিসে কাঙ্ক্ষিত সাড়া জাগাতে পারেনি। ফলে সিনেমা হলগুলো থেকে দ্রুতই ঈদের আমেজ হারিয়ে যাচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ও হল মালিকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এবারের ঈদে শাকিব খানের ‘রকস্টার’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, আরিফিন শুভর ‘মালিক’ এবং সৈকত নাসিরের ‘মাসুদ রানা’-সহ মোট আটটি ছবি মুক্তি পেয়েছিল। স্টার সিনেপ্লেক্স ও যমুনা ব্লকবাস্টারের মতো মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে সাধারণত ঈদের সময় দেশি সিনেমার চাপে বিদেশি সিনেমার প্রদর্শন বন্ধ রাখতে হতো। কিন্তু এবার দর্শক উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সিনেপ্লেক্সগুলো পুনরায় ‘মাইকেল’ ও ‘সিকিন নাইন’-এর মতো বিদেশি সিনেমা প্রদর্শন শুরু করেছে। প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের মতে, সাফল্যের যে ধারা গত কয়েক বছর ধরে চলছিল, তা এবার বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে।

স্টার সিনেপ্লেক্সের বিপণন ব্যবস্থাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, কোনো সিনেমাই তাঁদের প্রত্যাশিত ব্যবসায়িক সীমানা অতিক্রম করতে পারেনি। মন্দের ভালো হিসেবে হাতেগোণা দু-তিনটি সিনেমা চললেও তা ধারণক্ষমতার তুলনায় নগণ্য। একই সুরে হতাশা প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল। তিনি উল্লেখ করেন, সারা দেশের সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতেও দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে সিনেমাগুলো। এমনকি শাকিব খানের সিনেমাকে ঘিরে যে গণউন্মাদনা প্রতি বছর দেখা যায়, এবার মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন খুব একটা লক্ষ্য করা যায়নি।

এই ব্যবসায়িক মন্দার মাঝে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’ মুক্তির মাত্র এক সপ্তাহ পরেই অনলাইনে ফাঁস হয়ে গেছে। বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছবিটির ভিডিও লিংক ছড়িয়ে পড়ায় হলের আয়ে এর চূড়ান্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর আগে শাকিব খানের ‘বরবাদ’ ও ‘তাণ্ডব’ পাইরেসির শিকার হলেও শক্তিশালী ‘হাইপ’ থাকায় সেগুলো ভালো ব্যবসা করেছিল। কিন্তু ‘রকস্টার’-এর ক্ষেত্রে পাইরেসি সিনেমাটির ব্যবসায়িক সম্ভাবনাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশকরা।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চিত্রনাট্যের দুর্বলতা এবং দর্শকদের রুচির সাথে মিল না থাকা এই ভরাডুবির অন্যতম কারণ। রোজার ঈদে যেখানে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দীর্ঘ সময় ধরে প্রেক্ষাগৃহে দাপট দেখিয়েছিল, সেখানে কোরবানির ঈদের সিনেমাগুলোর এমন দ্রুত প্রস্থান ইন্ডাস্ট্রিকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং প্রেক্ষাগৃহে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে ভবিষ্যতে আরও মানসম্মত ও আধুনিক গল্পের সিনেমা নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সিনেমা বোদ্ধারা।


নির্বাচিত

‘পথ’ সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে নাট্যজন আসাদুজ্জামান দুলাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

থিয়েটারকে কেন্দ্র করে যাপিত জীবন এবং একজন শিল্পীর শৈল্পিক সংগ্রামের গল্প নিয়ে নির্মাতা নিয়ামুল মুক্তা নির্মাণ করেছেন তাঁর নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পথ’। সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন পাবনার বিশিষ্ট নাট্যকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান দুলাল। চিলেকোঠা ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত এই সিনেমাটির কাহিনি, সংলাপ ও চিত্রনাট্য রচনার পাশাপাশি এটি প্রযোজনাও করেছেন নিয়ামুল মুক্তা নিজেই। সম্প্রতি চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়পত্র লাভ করেছে, যা সিনেমাটি মুক্তির পথে প্রথম বড় ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সিনেমাটির মূল উপজীব্য হলো একজন থিয়েটার অন্তপ্রাণ মানুষের জীবনযাত্রা, যিনি আজীবন কাঁধে করে নাটকের সরঞ্জাম এবং থিয়েটারের দর্শন বয়ে বেরিয়েছেন। নির্মাতা নিয়ামুল মুক্তা বাস্তবধর্মী এই চরিত্রটিকে পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে স্থানীয় নাট্যচর্চার সাথে সম্পৃক্ত একজন প্রকৃত শিল্পীর খোঁজ করছিলেন। সেই ভাবনা থেকেই তিনি আসাদুজ্জামান দুলালকে বেছে নিয়েছেন। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে তৃণমূল পর্যায়ে নিবিড় নাট্যচর্চার সাথে জড়িত দুলালের জীবনের অভিজ্ঞতাই মূলত এই চরিত্রটিকে আরও প্রাণবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে বলে নির্মাতা মনে করেন।

আসাদুজ্জামান দুলাল দেশের নাট্য অঙ্গনে একটি পরিচিত নাম, বিশেষ করে লোকজ ও তৃণমূল পর্যায়ের নাট্য আন্দোলনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি দীর্ঘদিন প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদের ‘মুক্তনাটক’-এর সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি ‘সমন্বয় থিয়েটার’ নামক একটি স্থানীয় নাট্যদলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক রচনা ও নির্দেশনায়ও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্মাতার মতে, দুলালের ব্যক্তিজীবন এবং পর্দার চরিত্রের মধ্যে এক ধরনের জাদুকরী মিল রয়েছে যা সিনেমাটিকে সাধারণ দর্শকদের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

‘পথ’ সিনেমাটি নিয়ে নির্মাতার বড় ধরনের আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের প্রেক্ষাগৃহে সাধারণ দর্শকদের জন্য মুক্তির আগে তাঁরা বেশ কিছু মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এটি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উৎসবের যাত্রা সফলভাবে শেষ করে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সিনেমাটি দেশজুড়ে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আসাদুজ্জামান দুলাল বাদে এই চলচ্চিত্রে আর কারা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন, সে বিষয়ে নির্মাতা এখনো এক ধরনের গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন। খুব শীঘ্রই টিজার বা ট্রেলার প্রকাশের মাধ্যমে অন্যান্য কুশলীদের নাম জনসমক্ষে আনা হবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে, নিয়ামুল মুক্তা বর্তমানে তাঁর পরবর্তী প্রজেক্টগুলো নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। ‘পথ’ ছাড়াও তিনি ‘বৈদ্য’ নামে আরেকটি নতুন সিনেমার শুটিং সফলভাবে শেষ করেছেন। এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। নির্মাতা জানিয়েছেন যে, ‘বৈদ্য’ সিনেমাটিও খুব দ্রুত সেন্সরের জন্য জমা দেওয়া হবে। পর পর দুটি ভিন্নধর্মী এবং জীবনঘনিষ্ঠ কাজ নিয়ে নিয়ামুল মুক্তা এখন দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছেন, যা সুস্থ ধারার সিনেমা প্রেমীদের জন্য এক বড় প্রাপ্তি।


নির্বাচিত

‘ট্রেজার আইল্যান্ড’-এর কুখ্যাত জলদস্যু হচ্ছেন হিউ জ্যাকম্যান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা হিউ জ্যাকম্যান তাঁর বর্ণিল ক্যারিয়ারে আরও একটি কালজয়ী চরিত্র যোগ করতে যাচ্ছেন। বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক রবার্ট লুইস স্টিভেনসনের ক্ল্যাসিক উপন্যাস ‘ট্রেজার আইল্যান্ড’-এর নতুন রূপান্তরে কুখ্যাত জলদস্যু লং জন সিলভারের ভূমিকায় অভিনয় করবেন তিনি। এর আগে উলভারিন, রবিন হুড, ভ্যান হেলসিং কিংবা জঁ ভালজঁ-এর মতো শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেতার জন্য এটি হতে যাচ্ছে এক নতুন চ্যালেঞ্জ। বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় এই খলচরিত্রটি হিউ জ্যাকম্যান কীভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন, তা দেখতে এখন মুখিয়ে আছেন ভক্তরা।

এই বিশাল বাজেটের চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করবেন কিংবদন্তি নির্মাতা রিডলি স্কট। সিনেমাটির চিত্রনাট্য তৈরির দায়িত্ব পেয়েছেন এমি পুরস্কারজয়ী ব্রিটিশ নাট্যকার ও চিত্রনাট্যকার জ্যাক থর্ন, যিনি সম্প্রতি ‘অ্যাডোলেসেন্স’ সিরিজের মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। রিডলি স্কট এবং মাইকেল প্রুস যৌথভাবে এই ছবিটি প্রযোজনা করছেন এবং জ্যাক থর্ন নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে এর সাথে যুক্ত থাকবেন। দীর্ঘ কয়েক দশকের বিরতির পর এমন এক ধ্রুপদী গল্প নিয়ে বিশ্বখ্যাত নির্মাতাদের এই সমন্বয় সিনেমাটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আঙিনায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

অষ্টাদশ শতকের প্রেক্ষাপটে রচিত ‘ট্রেজার আইল্যান্ড’ বিশ্বসাহিত্যের সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী জলদস্যুদের কাহিনী হিসেবে পরিচিত। এর কাহিনী আবর্তিত হয় জিম হকিন্স নামের এক তরুণ এবং ক্যাপ্টেন ফ্লিন্টের লুকিয়ে রাখা বিপুল গুপ্তধনের রোমাঞ্চকর অনুসন্ধানকে ঘিরে। হিউ জ্যাকম্যান যে লং জন সিলভারের চরিত্রে অভিনয় করছেন, সেটি মূলত একজন চতুর ও ছদ্মবেশী জলদস্যুর চরিত্র, যে জিমের দলে যোগ দিয়ে গুপ্তধন লুট করার পরিকল্পনা সাজায়। মজার বিষয় হলো, বর্তমানে পপ কালচারে জলদস্যুদের যে বিশেষ অবয়ব আমরা দেখি—যেমন চোখে কালো পট্টি, কাঁধে তোতা পাখি কিংবা কাঠের পা—তার অধিকাংশেরই উৎপত্তি হয়েছিল এই কালজয়ী উপন্যাস থেকে।

সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের বাড়তি আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো নির্মাতা ও প্রধান অভিনেতার বর্তমান ব্যস্ততা ও সাফল্য। রিডলি স্কট বর্তমানে তাঁর নতুন পোস্ট-আপোক্যালিপ্টিক সায়েন্স ফিকশন ‘দ্য ডগ স্টারস’ মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা আগামী আগস্টে বড় পর্দায় আসার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, হিউ জ্যাকম্যান অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘দ্য ডেথ অব রবিন হুড’ আগামী ১৯ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এই ব্যস্ত শিডিউলের মাঝেই ‘ট্রেজার আইল্যান্ড’-এর এই নতুন প্রকল্পের ঘোষণা জলদস্যুদের এই মহাকাব্যিক গল্পটিকে পুনরায় বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তুলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


নির্বাচিত

হলিউডকে টেক্কা দিচ্ছে অল্প বাজেটের দুই হরর ছবি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৯ জুন, ২০২৬ ১৭:৫১
বিনোদন ডেস্ক

সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক চলচ্চিত্র বাজারে বড় বাজেটের সিনেমার পাশাপাশি অল্প বাজেটের হরর সিনেমাগুলো অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে। বড় তারকা বা জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারণা ছাড়াই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে 'অবসেশন' ও 'ব্যাকরুমস' নামের দুটি চলচ্চিত্র। মজার বিষয় হলো, আলোচিত এই দুটি সিনেমার নেপথ্যে রয়েছেন দুই তরুণ ইউটিউবার। ২৬ বছর বয়সী ক্যারি বার্কার নির্মাণ করেছেন 'অবসেশন' এবং মাত্র ২০ বছর বয়সী কেন পারসনস পরিচালনা করেছেন 'ব্যাকরুমস'। ইউটিউবকে 'ফিল্ম স্কুল' হিসেবে ব্যবহার করে এই দুই তরুণ নির্মাতা প্রমাণ করেছেন যে মেধা আর সৃজনশীলতা থাকলে সীমিত সম্পদেও বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া সম্ভব।

ক্যারি বার্কারের পথচলা শুরু হয়েছিল তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে, যেখানে তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্য গল্প ও ভিডিও নির্মাণের মাধ্যমে দর্শক মনস্তত্ত্ব আয়ত্ত করেন। ২০২৪ সালে মাত্র ৮০০ ডলার বাজেটে বন্ধুদের নিয়ে 'মিল্ক অ্যান্ড সিরিয়াল' বানিয়ে তিনি প্রথম চমক দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র 'অবসেশন' টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হওয়ার পর ফোকাস ফিচারস এর স্বত্ব কিনে নেয়। মুক্তির পর সিনেমাটি ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয় এবং এটি ইতোমধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। ছবিটির রহস্যময় প্রচারণা এবং কাল্পনিক জাদুকরি বস্তুর বাণিজ্যিক বিপণন এই সাফল্যকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

অন্যদিকে, কেন পারসনস তাঁর 'ব্যাকরুমস' সিনেমার মাধ্যমে হলিউডে এক নতুন রেকর্ড গড়েছেন। ইন্টারনেটের জনপ্রিয় একটি হরর কিংবদন্তিকে কেন্দ্র করে ২০২২ সালে ইউটিউবে তাঁর তৈরি করা ভিডিও সিরিজটি ২০০ মিলিয়নের বেশি ভিউ অর্জন করে। এই প্রতিভা দেখে এ২৪ স্টুডিও তাঁকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের দায়িত্ব দেয়। মাত্র ২০ বছর বয়সে কেনের পরিচালনায় মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি প্রথম সপ্তাহান্তেই ৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার আয় করে, যা এ২৪ স্টুডিওর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড। বাস্তব জগতের পরিচিত সীমানা ছাড়িয়ে এক অন্তহীন হলুদ দেয়ালের গোলকধাঁধায় আটকা পড়ার ভীতি দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

এই সিনেমাগুলোর অভাবনীয় সাফল্যের মূলে রয়েছে আধুনিক দর্শকদের গতানুগতিক হলিউড ব্লকব্লাস্টারের প্রতি অনীহা। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, দর্শকরা এখন প্রথাগত রক্তারক্তি বা সস্তা চমকের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক ও আবহভিত্তিক ভীতি বেশি পছন্দ করছেন। 'ব্যাকরুমস'-এ নিঃসঙ্গতা আর অজানা শব্দের মাধ্যমে যে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছে, তা দর্শকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্যান কমিউনিটি ও মিম সংস্কৃতির কারণে এই ছবিগুলো দ্রুত পপ কালচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুই তরুণের সাফল্য হলিউডের বড় স্টুডিওগুলোকে এখন ইউটিউব ও স্বাধীন নির্মাতাদের দিকে আরও বেশি মনোযোগী হতে বাধ্য করছে।


নির্বাচিত

banner close