বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
৮ মাঘ ১৪৩২

বিশ্বের জনপ্রিয় সিনেমার তালিকায় ‘বরবাদ’

বরবাদ সিনেমার একটি দৃশ্য। ছবি : সংগৃহীত
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল, ২০২৫ ২১:২৮

এবারের ঈদে মোট ছয়টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘বরবাদ’ সিনেমাটি রীতিমতো ঝড় তুলেছে দেশজুড়ে। নির্মাতা প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এবং সরেজমিনে বিভিন্ন সিনেমা হলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের প্রথম দিন থেকেই শাকিবের ‘বরবাদ’ এর জয়জয়কার চলছে সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতে। একই অবস্থা সিনেপ্লেক্সগুলোতেও। ঈদের দ্বিতীয় সপ্তাহ চলছে এখন। এখন পর্যন্ত সিঙ্গেল স্ক্রিন ও সিনেপ্লেক্সে শাকিব খানের ‘বরবাদ’ সিনেমা হাউসফুল চলছে। এর মধ্যেই বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় অনলাইনভিত্তিক ডাটাবেজ আইএমডিবির (ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজ) তালিকায় উঠে এসেছে মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত এই সিনেমাটি।

ডাটাবেজটির সেরা ১০০ জনপ্রিয় সিনেমার তালিকায় ৪৪তম স্থানে রয়েছে শাকিবের ‘বরবাদ’ চার্ট ঘেঁটে দেখা গেছে, চার্টবাস্টারটির প্রথমে রয়েছে হলিউড সিনেমা ‘আ মাইনক্রাফট মুভি’, সেই তালিকায় স্নো হোয়াইট, অ্যানোরা, সুপারম্যান, মিশন ইম্পসিবল: ফাইনাল রেকনিং, সিকান্দার, ক্যাপ্টেন আমেরিকা: ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড-এর পাশাপাশি স্থান পেয়েছে বাংলাদেশি সিনেমা ‘বরবাদ’। আইএমডিবিতে সিনেমাটি ৭.৪ রেটিং পেয়েছে।

হলিউড, বলিউডের সঙ্গে আইএমডিবি চার্টে বাংলাদেশি সিনেমার স্থান পাওয়াকে গর্ব হিসেবে দেখেছেন ‘বরবাদ’ নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়। উচ্ছ্বসিত এই পরিচালক বলেন, ‘আইএমডিবি চার্টে আমাদের সিনেমা ৪৪তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে, তাও জনপ্রিয় সিনেমা ক্যাটাগরিতে; এটা তো আমাদের জন্য অনেক আনন্দের, গর্বের। আমাদের দেশি সিনেমা এখন বিদেশে মুক্তি পাচ্ছে, এখন আইএমডিবিতে জায়গা করে নিচ্ছে। তার মানে আমাদের বাংলাদেশের সিনেমা আন্তর্জাতিক স্তরে যাচ্ছে। এটা অবশ্যই আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য খুবই আনন্দের।’

শাকিব খান বরাবরই ঢালিউডের সুপারস্টার, তবে ‘প্রিয়তমা’র পর যেন তিনি নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন। একরকম দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা এ শাকিবকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছিলেন রায়হান রাফী ‘তুফান’ দিয়ে। কিন্তু এবার সেই ইনিংসকেও ছাপিয়ে গেলেন মেহেদী হাসান হৃদয়। ‘বরবাদ’-এ শাকিব খানকে এমনভাবে তুলে ধরেছেন, যা আগে কেউ কল্পনাও করেনি। একদম নতুন এক রূপে, যেন রূপালি পর্দায় ফিনিক্স পাখির মতোই যেন পুনর্জন্ম হয়েছে তার।

বরবাদ সিনেমার গল্পে কোনো জটিলতা নেই, কিন্তু গভীরতা রয়েছে। এটি মূলত এক বিত্তশালী পরিবারের বখে যাওয়া সন্তান আরিয়ান মির্জার গল্প, যে ভালোবাসে নীতুকে। তার জন্য সে পুরো দুনিয়া তছনছ করতেও প্রস্তুত! তবে সেই নীতুর কারণেই একসময় সে গ্রেপ্তার হয়। চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে শাকিব খান ভয়েস মডুলেশন, সংলাপ বলার ধরন, দেহভঙ্গিমা- সবকিছুতেই এক অনন্য আকর্ষণ তৈরি করেছেন।

শুধু শাকিব নন, ছবির নায়িকা ইধিকা পালও বেশ চমক দেখিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ কিছু দৃশ্যে তিনি এমনভাবে শাকিবের বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন যে দর্শক অবাক না হয়ে পারেনি। সাপোর্টিং কাস্টেও মিশা সওদাগর, শ্যাম ভট্টাচার্য, ফজলুর রহমান বাবু এবং মানব সচদেব দারুণ পারফর্ম করেছেন। সিনেমার গানগুলোর মধ্যে ‘মহামায়া’ ও ‘নিঃশ্বাস’ বিশেষভাবে হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো।

তবে দারুণ সব মুহূর্তের মাঝেও কিছু দুর্বলতা চোখে পড়ে। গ্রিন স্ক্রিনের ব্যবহার অনেক জায়গায় একটু কৃত্রিম লেগেছে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আরও কিছুটা শক্তিশালী হলে সিনেমার ইমপ্যাক্ট আরও বাড়ত। তবে সবচেয়ে বড় আফসোস যীশু সেনগুপ্তকে নিয়ে। তার চরিত্রটি যতটা ভয়ংকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, পর্দায় সেই শক্তিশালী উপস্থিতি ঠিকঠাক ফুটিয়ে তোলা হয়নি। অনেকেই সন্দিহান ছিলেন, নবাগত পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় কি পারবেন শাকিব খানকে নতুনভাবে হাজির করতে? কিন্তু ‘বরবাদ’ দেখার পর সে সন্দেহের অবসান ঘটে। বলা চলে ‘বরবাদ’ শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি শাকিব খানের ক্যারিয়ারে আরেকটি মাইলফলক।


নেটফ্লিক্সে ফিরছে বহুল প্রশংসিত ক্রাইম থ্রিলার ‘কোহরা’, ফেব্রুয়ারিতেই মুক্তি দ্বিতীয় সিজনের

আপডেটেড ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:১৯
বিনোদন ডেস্ক

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত ক্রাইম থ্রিলার সিরিজ ‘কোহরা’ আবারও দর্শকদের মাঝে ফিরে আসছে। টানটান উত্তেজনা আর রহস্যে ঘেরা এই সিরিজের প্রথম সিজন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর এবার দ্বিতীয় সিজন নিয়ে হাজির হচ্ছেন নির্মাতারা। বুধবার স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিরিজের মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বজুড়ে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিম হবে বহুল প্রতীক্ষিত ‘কোহরা টু’।

সিরিজের নতুন সিজনেও কাস্টিংয়ে থাকছে বড় চমক। এবার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা বরুণ সোবতি এবং শক্তিশালী অভিনেত্রী মোনা সিং। নেটফ্লিক্স কর্তৃপক্ষ তাদের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলে সিরিজের দ্বিতীয় সিজনের একটি রহস্যঘেরা পোস্টার প্রকাশ করার মাধ্যমে মুক্তির এই দিনক্ষণ নিশ্চিত করেছে। পোস্টারটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই থ্রিলারপ্রেমী দর্শকদের মাঝে নতুন করে আগ্রহ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘কোহরা’র প্রথম সিজনটি এর গভীর কাহিনী, নির্মাণশৈলী এবং অভিনয়শিল্পীদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিল। পাঞ্জাবের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সেই ইনভেস্টিগেটিভ ড্রামাটি ওটিটি দুনিয়ায় বেশ সাড়া ফেলেছিল। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় সিজনেও নতুন কোনো লোমহর্ষক রহস্য এবং অপরাধের গল্প নিয়ে হাজির হবে ‘কোহরা’, যা দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ঢালিউডের মিলনমেলা, চার নায়কের মাঝে চিরসবুজ শাবনূর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ঢাকাই সিনেমার কোটি মানুষের হৃদয়ের রানি হিসেবে পরিচিত জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন ধরে বড় পর্দা থেকে দূরে থাকলেও তার জনপ্রিয়তায় যে এতটুকু ভাটা পড়েনি, তা আবারও প্রমাণিত হলো। সুদূর বিদেশের মাটিতে ঢালিউডের চার জনপ্রিয় নায়কের সঙ্গে এক ফ্রেমে বন্দি হয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর প্রবাসে সহকর্মীদের কাছে পেয়ে বেশ আনন্দঘন ও উচ্ছল সময় কাটিয়েছেন এই অভিনেত্রী। শাবনূরের সঙ্গে দেখা করা এই চার চিত্রনায়ক হলেন কাজী মারুফ, জায়েদ খান, মামনুন হাসান ইমন এবং আলেকজান্ডার বো। উল্লেখ্য, এই চারজনের মধ্যে আলেকজান্ডার বো ছাড়া বাকি তিন নায়কের বিপরীতেই বিভিন্ন সময়ে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন শাবনূর।

এই বিশেষ মুহূর্তটি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ভুলেননি চিত্রনায়ক জায়েদ খান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শাবনূরের সঙ্গে তোলা একটি ছবি প্রকাশ করেছেন এবং ক্যাপশনে লিখেছেন, নায়িকাকে আমাদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা। ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই নেটিজেনরা মন্তব্যের ঘরে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। শাবনূরের চিরসবুজ রূপ ও লাবণ্য দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন ভক্তরা। একজন ভক্ত মন্তব্য করেছেন যে শাবনূর মানেই এক আলাদা মায়া এবং আজও তার সৌন্দর্য ও সৌম্যতা একই রকম রয়েছে। আরেকজন লিখেছেন, শাবনূর বাংলা সিনেমার চিরসবুজ সৌন্দর্য, যাকে দেখলে মনে হয় সময় যেন তার জন্য থেমে গেছে। তার নির্মল হাসি ও শান্ত উপস্থিতি ভক্তদের নস্টালজিক করে তুলেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের এপ্রিল মাসে সিডনি থেকে মাত্র ৮ ঘণ্টার জন্য ঢাকায় এসেছিলেন শাবনূর। সে সময় অসুস্থ মাকে নিয়ে তড়িঘড়ি করে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যেতে বাধ্য হলেও তিনি জানিয়েছিলেন যে বছর শেষে দেশে ফিরবেন। তবে একমাত্র ছেলে আইজান নেহানের ইচ্ছার কারণে তার গন্তব্য বদলে যায়। ছেলেকে যখন তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন সে আমেরিকা যেতে চায় কি না, তখন আইজান সম্মতি জানায়। মূলত ছেলের সেই আবদার মেটাতেই শাবনূরের এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফর।

গত প্রায় এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন ঢালিউডের এই গুণী অভিনেত্রী। এই সময়ের মধ্যে তিনি শুধু চার নায়কের সঙ্গেই নয়, বরং এর আগে দেখা করেছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী, অভিনেতা অমিত হাসান ও কাজী মারুফের সঙ্গেও। জানা গেছে, শাবনূর আরও বেশ কিছুদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন এবং সেখানে বসবাসরত প্রিয়জন ও সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। প্রবাসে থাকলেও দেশের মানুষের ভালোবাসা যে তাকে ঘিরে থাকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের উচ্ছ্বাস তারই প্রমাণ।


শাহরুখ খানকে ‘আংকেল’ ডাকার অভিযোগ তুর্কি অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে, নেটদুনিয়ায় তোলপাড়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত জমকালো ‘জয় অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এর আসর তারার মেলায় পরিণত হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান এবং তুরস্কের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হান্দে এরচেল। কিন্তু এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনা। ঘটনার সূত্রপাত একটি ভিডিও ও পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়া একটি স্ক্রিনশটকে ঘিরে, যেখানে শাহরুখ খানকে ‘আংকেল’ বলে সম্বোধন করার অভিযোগ উঠেছে তুর্কি অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে।

অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরুতে নেটিজেনদের ধারণা ছিল, শাহরুখ খানকে মঞ্চে দেখে মুগ্ধ হয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছেন হান্দে এরচেল। ভক্তরা বিষয়টিকে কিং খানের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার আরেকটি নিদর্শন হিসেবেই দেখছিলেন এবং একে একটি ‘ফ্যানগার্ল মোমেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করছিলেন। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে আসতে শুরু করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হান্দে মূলত শাহরুখ খানকে নয়, বরং তার বন্ধু মিশরের অভিনেত্রী আমিনা খালিলকে ভিডিও করছিলেন। কারণ সেই সময় মঞ্চে শাহরুখের সঙ্গেই পুরস্কার বিতরণী পর্বে অংশ নিচ্ছিলেন আমিনা।

বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি স্ক্রিনশট। অভিযোগ ওঠে, হান্দে এরচেল তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শাহরুখ খানের দিকে তীর চিহ্ন দিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেছেন এবং ক্যাপশনে লিখেছেন, এই আংকেল কে? একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন যে তিনি তার বন্ধুর ভিডিও করছিলেন এবং ভুল তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানান। এই কথিত স্ক্রিনশটটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই শাহরুখ ভক্তদের একাংশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন এবং অভিনেত্রীর আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।

তবে হান্দে এরচেলের সমর্থকরা দাবি করছেন যে ছড়িয়ে পড়া ওই স্ক্রিনশটটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এডিটেড। তারা প্রমাণ হিসেবে অভিনেত্রীর ভেরিফায়েড অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টের কথা উল্লেখ করছেন, যেখানে এমন কোনো স্টোরি বা পোস্টের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অবশ্য অন্য একটি পক্ষের মত, হয়তো বিতর্কের মুখে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলে থাকতে পারেন। সব মিলিয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহরুখ ও হান্দে ভক্তদের মধ্যে নেটদুনিয়ায় এখন চলছে তুমুল তর্ক-বিতর্ক।


শ্রীলঙ্কায় শাকিব খানের সঙ্গে ‘প্রিন্স’ সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত টলিউড অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

টলিউডের উদীয়মান অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু বর্তমানে অবস্থান করছেন সুদূর শ্রীলঙ্কায়। সেখানে ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের বিপরীতে ‘প্রিন্স’ সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এই সিনেমার শুটিং গত পাঁচ দিন ধরে জোরকদমে চলছে। নতুন এই প্রজেক্ট এবং শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বাঁধা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী। শুটিংয়ের ব্যস্ততা এতটাই বেশি যে, নিজের প্রথম সিনেমার সাফল্য উদযাপনেও তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি।

গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) কলকাতায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়েছে দেব অভিনীত ‘প্রজাপতি ২’ সিনেমার ২৫ দিন পূর্তি। এই সিনেমার অন্যতম নায়িকা জ্যোতির্ময়ী হলেও শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে তিনি সেই উদযাপনে উপস্থিত থাকতে পারেননি। দেব যখন কেক কেটে সিনেমার পরিচালক ও প্রযোজকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছিলেন, তখন জ্যোতির্ময়ী শ্রীলঙ্কার হোটেলে বসে শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নিজের প্রথম সিনেমার এমন সাফল্যে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারায় কিছুটা মন খারাপের কথা স্বীকার করেছেন তিনি। তিনি জানান, যাদের হাত ধরে বড়পর্দায় এসেছেন, তাদের খুশির দিনে পাশে থাকতে না পারাটা কষ্টের, তবে পেশাগত দায়িত্বের কারণে তিনি মন খারাপ ভুলে বর্তমানে কাজেই ডুবে আছেন।

সিনেমার শুটিং শিডিউল নিয়ে জ্যোতির্ময়ী জানান, তারা দিনরাত এক করে কাজ করছেন। ঘড়ি ধরে কাজ করার সুযোগ নেই, প্রয়োজন হলে রাত জেগেও শুটিং চলছে। কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ রয়েছে সবার মধ্যেই। ঢালিউড ইউনিটের কাজের পরিবেশ সম্পর্কে অত্যন্ত ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন জ্যোতির্ময়ী। তিনি জানান, ইউনিটের সবাই তাকে খুব সহযোগিতা করছেন, বিশেষ করে বাংলা উচ্চারণের ক্ষেত্রে তাকে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ফলে নিজেকে নতুন বলে মনে হচ্ছে না তার। দেব ও শাকিব খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার তুলনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দুজন ব্যক্তি হিসেবে আলাদা হলেও সহ-অভিনেতা হিসেবে তারা অনেকটা একই রকম। দুজনেই প্রচণ্ড সহযোগিতা করেন এবং নিজেদের তারকাখ্যাতি বুঝতে দেন না। কাজের ফাঁকে শ্রীলঙ্কার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন তিনি। মজার ছলে ডেট করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি শাকিব বা দেব কাউকে না বেছে বরং নিজের সঙ্গেই সময় কাটানোর কথা জানান।


কিংবদন্তী অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রখ্যাত নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। আজ বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী ও এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভিনেতা জাভেদ দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার কারণে তাকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বাসায় এনে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তার চিকিৎসার সুবিধার্থে হাসপাতাল থেকে নিয়মিত চিকিৎসক ও নার্স বাসায় গিয়ে সেবা প্রদান করতেন। ডলি চৌধুরী জানান, আজ সকালে হঠাৎ করেই জাভেদের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। দায়িত্বরত নার্সরা সকালে তার শরীর অস্বাভাবিক ঠান্ডা অনুভব করেন। পরিস্থিতি সংকটাপন্ন দেখে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে উত্তরার সেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি দীর্ঘকাল চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইলিয়াস জাভেদের চলচ্চিত্র জীবন ছিল অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ও বৈচিত্র্যময়। তিনি মূলত ষাটের দশকে নৃত্য পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার যাত্রা শুরু করেন। প্রখ্যাত পরিচালক কায়সার পাশার উর্দু সিনেমা মালান-এর মাধ্যমে নৃত্য পরিচালক হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। ঢাকাই চলচ্চিত্রে নাচের ক্ষেত্রে আধুনিকতা ও নতুনত্ব আনার পেছনে তার অবদান অনস্বীকার্য। পরবর্তীতে তিনি অভিনয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং সেখানেও অভাবনীয় সাফল্য পান।

১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র নয়ে জিন্দেগি দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন জাভেদ। এরপর সত্তর ও আশির দশকে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এক দাপুটে নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বিশেষ করে ফোক-ফ্যান্টাসি ও অ্যাকশন ঘরানার সিনেমায় তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার অভিনীত মালকা বানু, অনেক দিন আগে, শাহজাদী, নিশান, রাজকুমারী চন্দ্রবান, কাজল রেখা, সাহেব বিবি প্রভৃতি সিনেমা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। নিশান সিনেমায় তার আইকনিক চরিত্র ও স্টাইল আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


অনিয়মের বিরুদ্ধে রিলিজ হলো র‍্যাপার নোমানের প্রতিবাদী গান ‘পরিবর্তন চাই’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটকে উপজীব্য করে এবং বিদ্যমান বাস্তবতাকে সাহসী ভাষায় প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রকাশিত হয়েছে নতুন প্রতিবাদী র‍্যাপ গান ‘পরিবর্তন চাই’। গতকাল একযোগে অ্যাপল মিউজিক, স্পটিফাই, ইউটিউব মিউজিক ও ফেসবুকসহ সকল জনপ্রিয় ডিজিটাল মিউজিক প্ল্যাটফর্মে গানটি অবমুক্ত করা হয়েছে। গানটির কথা ও সুরের মাধ্যমে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা অসংগতিগুলো তুলে ধরা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে শ্রোতামহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

গানটির প্রতিটি স্তবকে সমসাময়িক বাংলাদেশের চালচিত্র ফুটে উঠেছে। এতে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক জবাবদিহির অভাব এবং সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের বঞ্চনার চিত্র অত্যন্ত নিপুণভাবে গানের কথায় গেঁথে দেওয়া হয়েছে। গানের মূল স্লোগান বা পুনরাবৃত্ত পঙ্‌ক্তি ‘পরিবর্তন চাই পরিবর্তন, দেশটা চলবে না আগের মতন’—এর মাধ্যমে কেবল প্রতিবাদই নয়, বরং সাধারণ মানুষকে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে জেগে ওঠার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গানটির লিরিকে সাহসিকতার সঙ্গে বেশ কিছু তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে। রাজনীতিবিদদের আয়ের উৎস, ক্ষমতার সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক, দেশে চলমান মিথ্যা মামলার সংস্কৃতি, রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি অবহেলা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে সরাসরি কথা বলা হয়েছে। গানটির বিশেষত্ব হলো, এতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করা হয়নি; বরং পুরো সিস্টেম বা ব্যবস্থাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। এই নিরপেক্ষ অথচ প্রতিবাদী অবস্থানই গানটিকে শ্রোতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

গানের অডিওর পাশাপাশি এর ভিজ্যুয়াল বা পোস্টারেও শক্তিশালী প্রতীকী ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। পোস্টারে একটি চলমান স্কুটারে দুজন চরিত্রকে বিপরীতমুখী হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। এই চিত্রকল্পের মাধ্যমে যেন একই দেশে থেকেও ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতায় বাস করা মানুষের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক স্যাটায়ার ও প্রতিবাদী হিপ-হপ ধারায় এই গানটিকে অনেকেই একটি সময়োপযোগী সংযোজন বলে মনে করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গানটি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে এবং অনেকেই এটি শেয়ার করছেন।

গানটি প্রসঙ্গে র‍্যাপার নোমান তার ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই গান কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার জন্য তৈরি করা হয়নি। বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখানো। ভোট দেওয়ার আগে, কাউকে বিশ্বাস করার আগে কিংবা নেতা বাছাই করার আগে মানুষ যেন অন্তত একবার চিন্তা করে—এটাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। সাইফ আলির কথায় গানটিতে সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন এ বি এম নোমান আজাদ। মিউজিক কম্পোজিশন করেছেন আমির হামজা খান এবং গানটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নাজমুল মুহাম্মদ।


এক যুগ পর নতুন অ্যালবাম নিয়ে ফিরছেন বালাম, ঈদুল ফিতরে আসছে ‘মাওলা’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বালাম দীর্ঘ এক যুগের বিরতি ভেঙে আবারও নতুন একক অ্যালবাম নিয়ে শ্রোতাদের মাঝে ফিরছেন। সোমবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে শিল্পী নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তার পঞ্চম এই একক অ্যালবামের নাম রাখা হয়েছে ‘মাওলা’, যা চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাবে। অ্যালবামে মোট ছয়টি গান থাকছে এবং ইতিমধ্যেই শিরোনাম গানসহ অধিকাংশ গানের সুর ও সংগীতায়োজনের কাজ শেষ হয়েছে।

অ্যালবামে ফিরে আসা প্রসঙ্গে বালাম জানান, তিনি আবারও গান নিয়ে সিরিয়াসলি কাজ করছেন। গত কয়েক বছরে বেশ কিছু সিঙ্গেল ট্র্যাক বা একক গান প্রকাশ করলেও তিনি অনুভব করেছেন যে, একটি করে গান দিয়ে ভক্তদের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার মতে, একটি অ্যালবামে নানা ধাঁচের গান থাকে, যা একজন শিল্পীকে বিভিন্ন রুচির শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণের সুযোগ করে দেয়। তাই নতুন অ্যালবামে বৈচিত্র্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, যেন তা সব বয়সী শ্রোতাদের ভালো লাগে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের বা জেন-জি শ্রোতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বিষয়টি মাথায় রেখেই গানগুলো তৈরি করা হয়েছে। অ্যালবামের সব গানে মেলোডিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

অ্যালবামের শিরোনাম সংগীত ‘মাওলা’ নিয়ে বালাম জানান, এটি একটি সুফি ঘরানার গান এবং নিজের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো তিনি এ ধরনের গান গাইলেন। কোভিডকালীন সময়ের উপলব্ধি এবং বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতাকে কেন্দ্র করেই এই গানটি তৈরি হয়েছে, যা তার কাছে এখনো প্রাসঙ্গিক মনে হয়। অ্যালবামের সব কটি গানের সুর ও সংগীতায়োজন বালাম নিজেই করেছেন। গানগুলো মূলত অডিও আকারে প্রকাশিত হবে, তবে একটি গানের মিউজিক ভিডিও প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে। গীতিকারদের নাম এখনই প্রকাশ করেননি তিনি।

উল্লেখ্য, বালামের সর্বশেষ একক অ্যালবাম ‘ভুবন’ প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৩ সালে। এর আগে ২০০৭ সালে ‘বালাম’, ২০০৮ সালে ‘বালাম ২’ এবং ২০১০ সালে ‘বালাম ৩’ নামে তার তিনটি অ্যালবাম বাজারে আসে। তার ‘এক মুঠো রোদ্দুর’, ‘নেশা’, ‘একাকী মন’-এর মতো গানগুলো তুমুল শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। দীর্ঘ বারো বছর কোনো অ্যালবাম না এলেও ২০২৩ সালে ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়ে তিনি রাজকীয়ভাবে ফিরে আসেন এবং পরবর্তীতে ‘রাজকুমার’ সিনেমার টাইটেল ট্র্যাকেও কণ্ঠ দেন। এবার নিজের পঞ্চম অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি আবারও পূর্ণাঙ্গরূপে শ্রোতাদের মাঝে ফিরছেন।


এবার মিথলজিক্যাল সিনেমায় অভিনেতা অক্ষয় খান্না

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বলিউডের অন্যতম প্রতিভাবান এবং নিভৃতচারী অভিনেতা অক্ষয় খান্না এবার তার অভিনয় জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত সুপারহিট সিনেমা ধুরন্ধর-এ তার অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করার রেশ কাটতে না কাটতেই তিনি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে পা রাখতে প্রস্তুত। জানা গেছে, অক্ষয় খান্না তার টলিউড বা তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অভিষেক ঘটাতে যাচ্ছেন আসন্ন মিথলজিক্যাল সিনেমা মহাকালী-র মাধ্যমে। পুরাণ, শক্তি এবং আধুনিক সুপারহিরোর সংমিশ্রণে তৈরি হতে যাওয়া এই সিনেমাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, মহাকালী সিনেমায় অক্ষয় খান্নাকে ভারতীয় পুরাণের অত্যন্ত শক্তিশালী, প্রজ্ঞাময় এবং কৌশলী চরিত্র শুক্রাচার্য-এর ভূমিকায় দেখা যাবে। অসুরদের গুরু হিসেবে পরিচিত এই পৌরাণিক চরিত্রটি কেবল একজন জ্ঞানী ব্যক্তিই নন, বরং গভীর দর্শন ও রাজনীতির ধারক হিসেবেও স্বীকৃত। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এই চরিত্রটির মানসিক গভীরতা, গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা এবং নৈতিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি অক্ষয়কে এই চরিত্রে অভিনয় করতে বিশেষভাবে আগ্রহী করে তুলেছে। তার মতো একজন শক্তিশালী অভিনেতার উপস্থিতি সিনেমাটির ওজন এবং গ্রহণযোগ্যতা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন নির্মাতারা।

পূজা কোল্লুরু পরিচালিত এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন ভূমি শেট্টি। তিনি দেবী কালী দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে মহাকালী নামের এক ভয়ংকর সুপারহিরো চরিত্রে দর্শকদের সামনে আসবেন। সিনেমাটি বহুল আলোচিত প্রশান্ত ভার্মা সিনেমাটিক ইউনিভার্স-এর অংশ হিসেবে নির্মিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই সিনেমাটিক ইউনিভার্স ইতিমধ্যেই ভারতীয় পুরাণকে আধুনিক সুপারহিরো ঘরানার সঙ্গে যুক্ত করে দর্শকদের কাছে আলাদা এক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। নির্মাতারা দাবি করেছেন, এই ছবিতে চোখধাঁধানো ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, রোমাঞ্চকর অ্যাকশন এবং আবেগে ভরপুর এক শক্তিশালী গল্প থাকবে যা দর্শকদের মুগ্ধ করবে।

সম্প্রতি শুটিং সেট থেকে প্রকাশিত কিছু ছবিতে দেখা গেছে, তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত অক্ষয় খান্না। তার স্বভাবসুলভ সংযত আচরণ এবং পেশাদার মনোভাব ইতিমধ্যেই টলিউড দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ধুরন্ধর সিনেমার বিশাল সাফল্যের পর অক্ষয়ের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে, আর ঠিক এই সময়েই দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে তার পদার্পণ ক্যারিয়ারের জন্য একটি অত্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত। তার এই টলিউড অভিষেক ভবিষ্যতে বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার মধ্যে আরও বড় পরিসরে বা ক্রস-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


নেপালের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সুনেরাহ ও রেহানের রোমান্স: আসছে মিউজিক্যাল ফিল্ম ‘ও জান’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

নেপালের মুস্তাং জেলার মনোরম শহর জমসম, যা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, সেখানেই চিত্রায়িত হয়েছে সুনেরাহ বিনতে কামাল ও ফররুখ আহমেদ রেহানের নতুন মিউজিক্যাল ফিল্ম ‘ও জান’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই স্থানটি বলিউড নির্মাতাদেরও অত্যন্ত পছন্দের। এই মিউজিক ভিডিওটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে মাইনাস ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে। এই মিউজিক্যাল ফিল্মের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো পর্দায় জুটি বাঁধলেন সুনেরাহ ও রেহান।

গত বছরের আলোচিত গান ‘ময়না’-র সাফল্যের পর একই টিম নিয়ে তৈরি হয়েছে এই দ্বিতীয় প্রজেক্ট। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কোনাল ও নিলয় এবং কথা লিখেছেন আসিফ ইকবাল। সুর ও সংগীতায়োজনে নতুনত্ব আনতে ঢাকার আভ্রাল সাহির ও কলকাতার লিংকন যৌথভাবে কাজ করেছেন। তানিম রহমান অংশুর পরিচালনায় নির্মিত এই ভিডিওতে ব্যতিক্রমী লোকেশন ও সিনেমাটিক ভিজ্যুয়াল দর্শকদের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল জানান, জমসম যেন প্রকৃতির আঁকা এক বিশাল ক্যানভাস। সেখানে প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকলেও জায়গাটির অপার্থিব সৌন্দর্য তাদের সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, দর্শকরা গানটি দেখলে শুধু এর গল্পের নয়, বরং ওই স্থানেরও প্রেমে পড়ে যাবেন। নির্মাতা তানিম রহমান অংশু জানিয়েছেন, বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের যৌথ উদ্যোগে এবং তিন দেশের শিল্পী ও কলাকুশলীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই মিউজিক্যাল ফিল্মটি নির্মিত হয়েছে।

সব প্রস্তুতি শেষে আগামী ৩০ জানুয়ারি গানচিল মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই রোমান্টিক মিউজিক ভিডিওটি।


ফেসবুক লাইভে দেব-শুভশ্রী: দুর্গাপূজায় আসছে নতুন সিনেমা ‘দেশু ৭’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সফল জুটি দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলী দীর্ঘদিনের বিরতি ভেঙে এবং মান-অভিমান ভুলে আবারও দর্শকদের সামনে এক বড় চমক নিয়ে হাজির হয়েছেন। সোমবার রাতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ফেসবুক লাইভে এসে তারা তাদের নতুন সিনেমা ‘দেশু ৭’-এর ঘোষণা দিয়েছেন। দীপক অধিকারী দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলী একটি ফাঁকা প্রেক্ষাগৃহে বসে দীর্ঘ ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের এই লাইভ আড্ডায় অংশ নেন। সেখানে ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি নিজেদের খুনসুটি এবং অতীত স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসেন এই তারকা জুটি।

লাইভের শুরুতেই দেব জানান যে দিনটি তাদের কাছে অত্যন্ত বিশেষ এবং আসন্ন ছবিটি নিয়ে তারা দারুণ উত্তেজিত। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে শুভশ্রী দেবকে প্রশ্ন করেন যে বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ছবির জন্য কেন তার কাছেই প্রস্তাব এলো। এর উত্তরে দেব অতীত স্মৃতিরোমন্থন করে বলেন, তাদের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের লড়াইটা ছিল অনেক কঠিন। বিশেষ করে ‘খোকাবাবু’ ও ‘খোকা ৪২০’ সিনেমার সময় যখন শুভশ্রীকে অলিখিতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তখন তারা দক্ষিণ ভারত থেকে পরিচালক এনে কাজ করেছিলেন। দেবের মতে, সেই লড়াইটা তাদের দুজনেরই ছিল। শুভশ্রীও সহমত পোষণ করে বলেন, লড়াই-ই জীবন এবং পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পরও যেন দর্শক তাদের কাজ ও গল্পের মাধ্যমে মনে রাখে, সেই যুদ্ধটাই তারা করে যেতে চান।

দর্শকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে এই জুটি জানিয়েছে, গত বছর ‘ধূমকেতু’ সিনেমার ঐতিহাসিক সাফল্যের পর তারা আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন। তাদের নতুন সিনেমা ‘দেশু ৭’ একটি রোমান্টিক-অ্যাকশন-রিভেঞ্জ থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্র হতে যাচ্ছে। এটি দেব ও শুভশ্রী জুটির সপ্তম সিনেমা। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর দুর্গাপূজায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই সিনেমাটি। সিনেমার মুক্তির ৯ মাস আগেই এর অগ্রিম টিকিট বুকিং শুরু হয়েছে, যা টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এক নজিরবিহীন ঘটনা। ১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বুকিংয়ে দর্শকরা ‘ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো’-এর জন্য বিশেষ গোল্ড টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন, যাতে দেব ও শুভশ্রীর অটোগ্রাফ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ‘চ্যালেঞ্জ’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছিলেন দেব ও শুভশ্রী। সেই ছবিটির আকাশচুম্বী সাফল্যের পর তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যদিও মাঝখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনে এই জুটি ভেঙে গিয়েছিল, কিন্তু গত বছর ‘ধূমকেতু’ সিনেমার মাধ্যমে তারা আবারও পেশাগতভাবে এক হন এবং বক্স অফিসে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আবারও ‘দেশু ৭’ নিয়ে আসছেন তারা। এর আগে এই জুটি ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’, ‘রোমিও’, ‘খোকাবাবু’ ও ‘খোকা ৪২০’-এর মতো সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছে।


রবীন্দ্রনাথের ‘শাস্তি’ নিয়ে বড় পর্দায় আসছেন পরীমনি ও চঞ্চল চৌধুরী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি এবার নিজেকে মেলে ধরছেন সাহিত্যনির্ভর একটি বিশেষ চলচ্চিত্রে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী ছোটগল্প ‘শাস্তি’ অবলম্বনে নির্মিত হতে যাচ্ছে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে এই অভিনেত্রীকে। এই সিনেমায় পরীমনির বিপরীতে অভিনয় করবেন দেশের শক্তিমান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। সাহিত্যের ধ্রুপদী চরিত্র এবং দুই তারকার মেলবন্ধনে নির্মিতব্য এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে ইতোমধ্যেই দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনেমাটির নির্মাতা লীসা গাজী, প্রধান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, পরীমনি এবং সিনেমার অন্যান্য কলাকুশলীরা। নতুন এই যাত্রা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট সবাই। নির্মাতা জানান, রবীন্দ্রনাথের গল্পের গভীরতা ও আবেগকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে নিজের মনে লালন করা এক সুপ্ত বাসনা পূরণ হতে চলায় অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন পরীমনি। তিনি জানান, অনেকেই তাকে জিজ্ঞেস করতেন তার পছন্দের চরিত্র কী বা তিনি কেমন চরিত্রে অভিনয় করতে চান। জবাবে তিনি সবসময় বলতেন যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোনো একটি চরিত্রে অভিনয় করা তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। ‘শাস্তি’র মতো একটি গভীর ও বহুমাত্রিক গল্পে কাজ করার জন্য তিনি মুখিয়ে ছিলেন। অবশেষে সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে চলায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং কাজটি সুন্দরভাবে শেষ করার ব্যাপারে আশাবাদী।

নিজের ক্যারিয়ারের বর্তমান অবস্থান এবং কাজের ধরণ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন পরীমনি। তিনি বলেন, ইদানীং তিনি যে ধরনের কাজ করছেন, তাতে প্রথাগত গ্ল্যামারাস হিরোইন ইমেজের চেয়ে অভিনয়ের সুযোগ বেশি। তার মতে, শুধু বাণিজ্যিক সিনেমা বা জমকালো পোশাক পরে নাচানাচি করলেই একজন শিল্পী সার্থক হন না। দিন শেষে তিনি এমন একটি কাজ করতে চান যা দর্শকের হৃদয়ে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবে। তিনি মনে করেন, ‘শাস্তি’ গল্পের চন্দরা চরিত্রটি তাকে সেই মানসিক তৃপ্তি দিতে পারবে।

পরীমনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক সময় হিরোদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে শিডিউল বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। তবে সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে তিনি এখন শুধুমাত্র ভালো ও মানসম্মত কাজের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন। বাণিজ্যিক ধারার বাইরে এসে সাহিত্যনির্ভর এই চলচ্চিত্রে পরীমনি ও চঞ্চল চৌধুরীর রসায়ন দর্শকদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে বলে আশা করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।


১ কোটি ২০ লাখের সিনেমা আয় করল ১২০ কোটি: গুজরাটি ছবি লালোর অভাবনীয় সাফল্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

সিনেমার বাজেট মাত্র ১ কোটি ২০ লাখ রুপি, অথচ বক্স অফিসে আয় করেছে ১২০ কোটি রুপি। গত বছরের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে গুজরাটি সিনেমা লালো—কৃষ্ণ সাদা সাহাতে। লাভের শতাংশের বিচারে এটি পেছনে ফেলে দিয়েছে ধুরন্ধর এবং কান্তারার মতো বড় বাজেটের হিট সিনেমাগুলোকেও। প্রচারের খরচসহ অত্যন্ত স্বল্প বাজেটে নির্মিত এই সিনেমাটি গুজরাটি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সিনেমার পরিচালক অঙ্কিত সাখিয়া ও অভিনয়শিল্পীরা এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনের সংগ্রামের গল্প তুলে ধরেছেন।

সিনেমাটির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল অহেতুক খরচ কমানো এবং গল্পের প্রতি অবিচল থাকা। পরিচালক ও অভিনেতারা জানিয়েছেন, শুটিং চলাকালীন তারা কোনো বিলাসবহুল ভ্যানিটি ভ্যান ব্যবহার করেননি। প্রধান অভিনেতা করণ জোশী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি কখনোই এমন বিলাসবহুল সুবিধা চাননি, কারণ তার মূল মনোযোগ ছিল অভিনয়ের দিকে। তিনি মনে করেন, ভ্যানিটির লোভে যদি অভিনয় হারিয়ে যায়, তবে সব শেষ হয়ে যাবে। সিনেমার আরেক অভিনয়শিল্পী শ্রুহাদ গোস্বামী জানান, শুটিংয়ের সময় তারা সবাই একটি ধর্মশালায় থাকতেন। একটি ছোট রুমে আটজন গাদাগাদি করে থাকতেন, যেখানে মাত্র দুটি খাট ছিল এবং বাকিদের মেঝেতে ঘুমাতে হতো। বিলাসিতা ত্যাগ করে তাদের এই কৃচ্ছ্রসাধনই সিনেমার বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছে।

অরম্যাক্সের বক্স অফিস রিপোর্ট অনুযায়ী, লালো এখন পর্যন্ত গুজরাটি সিনেমার ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়ের ছবি। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে যেখানে পুরো গুজরাটি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মোট আয় ছিল ৮৪ কোটি রুপি, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪২ কোটি রুপিতে। আর এই বিশাল উল্লম্ফনের পেছনে মূল অবদান লালোর। এটিই প্রথম কোনো গুজরাটি সিনেমা যা ১০০ কোটি রুপির মাইলফলক অতিক্রম করার গৌরব অর্জন করেছে।

সিনেমাটি তৈরির শুরুর দিকের সংগ্রামের কথা স্মরণ করে পরিচালক অঙ্কিত সাখিয়া জানান, প্রজেক্টটি শুরু করার সময় তাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো বাজেটের ধারণা ছিল না। তারা কেবল ভালো কিছু তৈরি করতে চেয়েছিলেন। ভাগ্যক্রমে তার বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থায়নে কাজ শুরু হয়। শুটিং শেষ হওয়ার পর তারা বুঝতে পারেন যে সিনেমাটি পেশাদারভাবে মুক্তি দিতে হলে আরও অর্থের প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত বন্ধুদের সহায়তা ও তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে সিনেমার চূড়ান্ত বাজেট দাঁড়ায় ১ কোটি ২০ লাখ রুপি। অঙ্কিত আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, একসময় তার পকেটে ১০ রুপিও ছিল না, কিন্তু বন্ধুদের আত্মবিশ্বাস ও সহায়তায় শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি আলোর মুখ দেখে এবং ইতিহাস সৃষ্টি করে।


নেটফ্লিক্সের শীর্ষে ডিজাস্টার থ্রিলার ‘দ্য গ্রেট ফ্লাড’: বাঁচার এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ান পরিচালক কিম বায়ং-উ পরিচালিত নতুন সিনেমা ‘দ্য গ্রেট ফ্লাড’। গত ১৯ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি বর্তমানে নেটফ্লিক্সের বিদেশি ভাষার সিনেমার তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে। এক বিধ্বংসী বন্যার কবলে পড়ে পানিতে ভাসতে থাকা একটি অ্যাপার্টমেন্টে কয়েকজন মানুষের বেঁচে থাকার করুণ ও রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই ছবি। সমালোচকরা ইতিমধ্যেই এটিকে গত বছরের অন্যতম সেরা ডিজাস্টার থ্রিলার হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয়েছে সিউল শহরকে কেন্দ্র করে, যা ভয়াবহ এক বন্যায় প্লাবিত হয়ে পড়ে। গল্পের মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কিম দা-মি এবং অভিনেতা পার্ক হ্য-সু। সিনেমায় দেখা যায়, গুন-আন-না (কিম দা-মি) এবং সন হে-জু (পার্ক হ্য-সু) একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগারে আটকা পড়েছেন। চারদিকে ক্রমশ বাড়তে থাকা পানির স্তরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই দুজনকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য মরণপণ সংগ্রাম করতে হয়। প্রযুক্তির সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই সংঘাত সিনেমাটিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

পরিচালক কিম বায়ং-উ এই সিনেমায় পানির দ্বৈত রূপ অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, পানি যেমন জীবনের উৎস এবং মানবদেহের একটি বড় অংশের উপাদান, তেমনি এটি ধ্বংসেরও প্রতীক হতে পারে। সিনেমায় শুরুতে পানিকে কেবল একটি ভয়াবহ বিপর্যয় হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও কাহিনীর অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পানির অর্থ ও তাৎপর্য পরিবর্তিত হতে থাকে। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ এবং মানুষের অসহায়ত্বকে পরিচালক তার মুনশিয়ানায় পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন।

সিনেমার চিত্রনাট্য ও নির্মাণশৈলী নিয়ে অভিনয়শিল্পীদের মধ্যেও শুরুতে বেশ কৌতূহল ও সংশয় ছিল। অভিনেত্রী কিম দা-মি জানান, প্রথমবার চিত্রনাট্য পড়ার সময় দৃশ্যগুলো কল্পনা করা তার জন্য বেশ কঠিন ছিল এবং এগুলো কীভাবে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা হবে তা নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন। তবে নির্মাতার ওপর তার পূর্ণ আস্থা ছিল। অন্যদিকে অভিনেতা পার্ক হ্য-সু জানান, চিত্রনাট্য পড়ার সময় তিনিও ভাবছিলেন এটি বাস্তবে রূপ দেওয়া কতটা সম্ভব। মূলত পরিচালক কীভাবে প্রকৃতির এই বিশাল পরিবর্তনকে পর্দায় দেখাবেন, সেই আগ্রহ থেকেই তিনি সিনেমাটিতে কাজ করতে রাজি হন।

‘দ্য গ্রেট ফ্লাড’ সিনেমার দৃশ্যগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অভিনয়শিল্পীদের দীর্ঘ ও কঠোর প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। যেহেতু সিনেমার বড় একটি অংশের শুটিং পানির নিচে করতে হয়েছে, তাই তাদের মাসের পর মাস বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। পরিচালক জানান, অভিনয়শিল্পীদের স্কুবা ডাইভিং এবং দক্ষভাবে সাঁতার কাটা শিখতে হয়েছে যাতে তারা জলমগ্ন দৃশ্যগুলোতে সাবলীলভাবে অভিনয় করতে পারেন। তাদের এই কঠোর পরিশ্রম এবং নির্মাতার দক্ষ পরিচালনার ফসল হিসেবেই সিনেমাটি আজ বিশ্বজুড়ে দর্শকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।


banner close