বলিউডের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অন্যতম মেধাবী অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে বেশিরভাগ ছবিতেই রোমান্টিক ছবিতে দেখা গেছে তাকে। তবে সেই বৃত্ত ভেঙে রোমান্টিক খোলস থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। যখনই সুযোগ পেয়েছেন ভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এই অভিনেত্রীর কথায়, এমন অনেক চরিত্র আছে, যা পর্দায় তুলে ধরার জন্য মরিয়া হয়ে আছি। সেই অপেক্ষা খুব বেশিদিন লম্বা হলো না। খুব সহজেই নিজের ইচ্ছে পূরণ হতে যাচ্ছে তার। বলিউডের কালজয়ী সিনেমা ‘ডন’। শুরুতে অমিতাভ বচ্চন এবং পরবর্তীতে শাহরুখ খান এই ছবিতে অভিনয় করে বাজিমাত করেছেন। এবার ডনের নতুন কিস্ততে তৃতীয় প্রজন্ম হতে চলেছেন রণবীর সিং-এ খবর আগেই সবার জানা। তবে কে হবেন রণবীরের নায়িকা, এ নিয়ে এখনো জল্পনা তুঙ্গে।
শুরুতে কিয়ারা আদভানিকে এ অ্যাকশন থ্রিলারে অভিনয়ের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল। তবে গর্ভাবস্থার কারণে অভিনেত্রী মেগা-বাজেটের অ্যাকশন সিনেমা থেকে সরে আসেন। এরপরই জোর আলোচনা শুরু হয়, তাহলে কে হবেন রণবীরের নায়িকা। এবার জানা গেল, ‘ডন ৩’-এ অভিনয়ের জন্য কৃতি শ্যাননের সঙ্গে নির্মাতা ফারহান আখতারের কথা হয়েছে এবং কৃতি এই সিনেমায় কাজ করতে তুমুল আগ্রহী। তাই আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনি সিনেমাটিতে সাইন করবেন।
ফারহান আখতার এবং এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টে ‘ডন ৩’-তে একজন অভিজ্ঞ অভিনেত্রীকে অভিনয়ের জন্য খুঁজছিলেন এবং কৃতিতে ‘রোমা’ চরিত্রে অভিনয় করার জন্য উপযুক্ত মনে করেছেন। ফারহান আখতার এরইমধ্যে ‘ডন ৩’-এর লোকেশন খোঁজার কাজ শুরু করেছেন। এক্ষেত্রে বেশকিছু লোকেশন তিনি খুঁজেও পেয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, খুব শিগগিরই একটি আন্তর্জাতিক স্টান্ট দলের সাথে অ্যাকশন ব্লকে কাজ করবেন ফারহান। ‘ডন ৩’-এর শুটিং মূলত ইউরোপে হবে। স্ক্রিপ্টও লক করা হয়েছে। প্রি-প্রোডাকশনের কাজ আগামী কয়েক মাস ধরে চলবে এবং দলটি ২০২৫ সালের অক্টোবর বা নভেম্বরের মধ্যে সিনেমাটি ফ্লোরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
সিনেমা অঙ্গনে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া ‘লাকি ভাস্কর’-এর পরবর্তী কিস্তি বা সিক্যুয়েল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন পরিচালক ভেঙ্কি আটলুরি। সম্প্রতি তার নতুন চলচ্চিত্র ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সন্স’-এর প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তবে এই নতুন প্রকল্পের জন্য দর্শকদের আরও কিছুটা সময় সবুর করতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে ভেঙ্কি আটলুরি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ‘লাকি ভাস্কর ২’ অবশ্যই হবে। তবে এই মুহূর্তে তার হাতে থাকা অন্যান্য কাজগুলো সম্পন্ন করার পরই তিনি এই সিক্যুয়েল নিয়ে কাজ শুরু করতে চান। তার হিসাবমতে, ছবিটির কাজ শুরু করতে কমপক্ষে আরও দুই বছর সময় প্রয়োজন। প্রথম কিস্তিটি দর্শকদের মধ্যে বিপুল উদ্দীপনা সৃষ্টি করায় সিক্যুয়েলের মান বজায় রাখাকে তিনি একটি বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। তাই তড়িঘড়ি না করে একটি মানসম্পন্ন ও শক্তিশালী চিত্রনাট্য নিয়ে বড় পর্দায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন এই নির্মাতা।
দুলকার সালমান অভিনীত ‘লাকি ভাস্কর’ ২০২৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল। আর্থিক জালিয়াতি ও অপরাধ জগতের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবিটি বক্স অফিসে যেমন সাফল্য পেয়েছিল, তেমনি কুড়িয়েছিল সমালোচকদের অকুণ্ঠ প্রশংসা। এরপর থেকেই ছবিটির সিক্যুয়েল নিয়ে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে এক ধরণের প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়। যদিও দ্বিতীয় কিস্তির অভিনয়শিল্পী বা কাহিনীর বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এই ঘোষণায় দুলকার ভক্তদের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা ছড়িয়েছে।
নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত ‘রামায়ণ’ সিনেমাটি মুক্তির এখনো বেশ কয়েক মাস বাকি থাকলেও এরই মধ্যে এটি বড় ধরনের বাণিজ্যিক সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই ছবির দুই পর্বের সংগীতস্বত্ব প্রায় ৮০ কোটি টাকায় কিনে নিয়েছে টি-সিরিজ। হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সংগীতস্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রে এটি অন্যতম সর্বোচ্চ মূল্যের চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই স্বত্ব কেনার দৌড়ে সনি মিউজিক থাকলেও শেষ পর্যন্ত টি-সিরিজই বিশাল অংকের বিনিময়ে চুক্তিটি নিশ্চিত করেছে, যা ‘রিফান্ডেবল অ্যাডভান্স’ হিসেবে প্রদান করা হবে।
এর আগে চলতি বছর রণবীর সিং অভিনীত একটি সিনেমার সংগীতস্বত্ব ৩০ কোটি টাকায় বিক্রির রেকর্ড ছিল, যা ভেঙে ‘রামায়ণ’ নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল। ছবিটির ট্রেলার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সিনেমাটির বড় একটি আকর্ষণ হলো এর সংগীত বিভাগ, যেখানে প্রথমবারের মতো বিশ্বখ্যাত সুরকার হ্যান্স জিমার এবং অস্কারজয়ী এ আর রাহমান একত্রে কাজ করছেন। এই দুই কিংবদন্তির যুগলবন্দী নিয়ে দর্শক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় মহাকাব্য ‘রামায়ণ’-কে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ছবিতে রামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর, সীতার ভূমিকায় সাই পল্লবী এবং রাবণ হিসেবে দেখা যাবে যশকে। এছাড়া লক্ষ্মণ চরিত্রে রবি দুবে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন সানি দেওল, অরুণ গোভিল, লারা দত্ত ও রাকুল প্রীত সিং। নীতেশ তিওয়ারি আধুনিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানের ভিএফএক্স ব্যবহার করে বিশাল বাজেটে এই ছবিটি নির্মাণ করছেন। শুধু সংগীতস্বত্ব থেকে বিপুল আয়ের বিষয়টি ছবিটির শক্তিশালী বাণিজ্যিক অবস্থানের প্রমাণ দিচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘রামায়ণ’ সিনেমাটি দুটি পর্বে মুক্তি পাবে। প্রথম পর্বটি চলতি বছরের দীপাবলিতে এবং দ্বিতীয় পর্বটি ২০২৭ সালের দীপাবলিতে প্রেক্ষাগৃহে আসার কথা রয়েছে। ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মুক্তির আগেই বিপুল অংকের অর্থ আয় হওয়াকে সিনেমাটির ব্যবসায়িক সফলতার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হওয়ার পর এবার দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘আইস্ক্রিন’-এ মুক্তি পেতে যাচ্ছে নাজিফা তুষি অভিনীত বহুল আলোচিত মিনি সিরিজ ‘অ্যানি’। এই উপলক্ষ্যে সম্প্রতি আইস্ক্রিনের প্রধান কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, সিরিজের নির্মাতা সাদ, প্রযোজক এহসানুল হক বাবুসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কলাকুশলীরা।
সিরিজটির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ‘হাওয়া’খ্যাত অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। গত জুন মাসে জার্মানির সম্মানজনক ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’-এর ‘উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে ‘অ্যানি’-র ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। কাহিনি বিন্যাস অনুযায়ী, অ্যানি একজন সংগ্রামী তরুণ নার্স, যে তার পাঁচ ভাইবোনকে আগলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে। তবে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া একটি পৈশাচিক হামলার শিকার হওয়ার পর সে এক অন্ধকার জগতে প্রবেশ করে এবং প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত হয়ে ওঠে। সিরিজে তুষির পাশাপাশি আরও অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান, সাইমন সাদিক, সারিকা সাবরিন এবং ফারহানা মিঠু।
এই সিরিজটির মাধ্যমেই প্রায় পাঁচ বছরের বিরতি ভেঙে অভিনব এক গল্পের মাধ্যমে ফিরেছেন ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ খ্যাত প্রখ্যাত নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ। এর আগে কান চলচ্চিত্র উৎসবে অফিশিয়াল সিলেকশনে বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন সাদ। প্রযোজক এহসানুল হক বাবু সিরিজটি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক উৎসব পেরিয়ে এবার দেশের দর্শকদের কাছে সিরিজটি পৌঁছে দিতে পারছি, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। আমরা বিশ্বাস করি, দর্শক অ্যানির গল্প ও অভিনয়ে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা উপভোগ করবেন।’ দ্রুতই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এটি মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে।
রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সমাজের অভিজাত শ্রেণির অন্ধকার দিকের গল্প নিয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে নতুন চলচ্চিত্র ‘গুলশানের চামেলি’। এই সিনেমায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকারের অভিনয়ের বিষয়টি আগেই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল। এই ছবির মাধ্যমেই ‘পাখি’ খ্যাত টালিউড অভিনেত্রী মধুমিতা সরকারের ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক হতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিনেমাটিতে বাঁধন একজন আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করবেন। তবে পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল কিংবা অভিনেত্রী বাঁধন—কেউই এখনই এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নির্মাতা জানিয়েছেন, আগামী ১ আগস্ট ছবিটির আনুষ্ঠানিক মহরত অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই অনুষ্ঠানেই শিল্পী ও কুশলীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ইধিকা পাল, সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়দের মতো একাধিক টালিউড অভিনেত্রী বাংলাদেশের সিনেমায় কাজ করলেও মধুমিতার জন্য এটিই প্রথম বড় পর্দার কাজ হতে যাচ্ছে। এর আগে তিনি মোশাররফ করিমের বিপরীতে একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন।
মধুমিতা সরকার সিনেমাটি নিয়ে তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন, চিত্রনাট্য ও তার চরিত্রটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। চরিত্রের মধ্যে বিভিন্ন স্তর থাকায় এখানে অভিনয়ের দারুণ সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। আব্দুল্লাহ জহির বাবুর চিত্রনাট্যে নির্মিতব্য ‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমাটির মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন যৌনকর্মীকে কেন্দ্র করে, যিনি ক্ষমতার নোংরা রাজনীতির কারণে বারবার বিচারহীনতা ও অন্যায়ের শিকার হন। নির্মাতা জানিয়েছেন, এই বছরই শুটিং শুরু করে আগামী বছরের কোনো এক ঈদে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘ এক যুগ পর আবারও মঞ্চে পারফর্ম করে দর্শকদের মাতাতে প্রস্তুত ঢালিউডের একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা কাজী মারুফ। আগামী ২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’-এর মূল আয়োজন। এই জমকালো আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দর্শকদের সামনে উপস্থিত হবেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে রুপালি পর্দা ও মঞ্চ থেকে দূরে থাকা এই অভিনেতার ফিরে আসার খবরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উন্মাদনার সৃষ্টি হয়েছে।
পর্দায় একসময় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করা কাজী মারুফ বেশ কয়েক বছর ধরেই সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। প্রবাসজীবনে তিনি নিয়মিত অভিনয়ের সঙ্গে খুব একটা যুক্ত না থাকলেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সবসময় যুক্ত রেখেছেন। তবে দীর্ঘ ১২ বছরের বিরতি ভেঙে নিউইয়র্কের মতো এত বড় মাপের কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজনে মঞ্চে উঠে সরাসরি পারফর্ম করার এই সিদ্ধান্তকে তার ভক্ত ও অনুরাগীরা অত্যন্ত বিশেষভাবে দেখছেন এবং এই পরিবেশনা ঘিরে তাদের প্রত্যাশাও অনেক।
প্রিয়জন ফিল্মস ও লেমন স্টুডিওর যৌথ উদ্যোগে এবং আমেরিকান বাংলাদেশি প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (এবিপিএ) সার্বিক সহযোগিতায় এবারের নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল আয়োজিত হচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ৩০ জুলাই থেকে শুরু করে তিন দিনব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। এই উৎসবে শর্টফিল্ম, তথ্যচিত্র এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র—এই তিন বিশেষ বিভাগে নির্বাচিত সিনেমাগুলো দর্শকদের জন্য প্রদর্শিত হবে। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি তারকাদের বর্ণিল উপস্থিতি, আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এবারের উৎসবটি বিগত বছরগুলোর চেয়ে আরও বেশি জাঁকজমকপূর্ণ হবে বলে দৃঢ় প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল আয়োজনে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা ও কলাকুশলী নিউইয়র্কে গিয়ে পৌঁছেছেন। কাজী মারুফের মঞ্চে ফেরার পাশাপাশি এই আয়োজনে আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন মুহূর্ত থাকছে। বাংলা চলচ্চিত্রে দীর্ঘ কয়েক দশকের অসামান্য ও অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের কিংবদন্তি অভিনেতা আহমেদ শরীফকে এবারের নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সম্মানজনক ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ বা আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হবে, যা এই বিশাল আয়োজনকে আরও বেশি মর্যাদাপূর্ণ করে তুলবে।
অবশেষে সব প্রতীক্ষা ও উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে প্রকাশিত হয়েছে বহুল আলোচিত বিগ বাজেট চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ’-এর ট্রেলার। গত সপ্তাহে সান দিয়েগো কমিক-কন আয়োজনে ছবিটির ট্রেলার মুক্তি আকস্মিকভাবে স্থগিত করা হলে অনুরাগীদের মাঝে চরম হতাশা ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই মহাকাব্যের প্রথম ঝলক সামনে আসতেই সাধারণ দর্শক ও ভক্তরা একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তাদের এই দীর্ঘ অপেক্ষা পুরোপুরি সার্থক হয়েছে। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম উদ্দীপনা ও তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি এবং প্রযোজক নামিত মালহোত্রার যৌথ প্রয়াসে নির্মিত এই সিনেমায় ফুটে উঠেছে রামায়ণের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ট্রেলারে হনুমান রূপী সানি দেওলের অনুপস্থিতি কিছুটা কৌতূহল জাগালেও, পুরো নেটদুনিয়াজুড়ে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভগবান রামের চরিত্রে রণবীর কাপুর এবং রাবণের চরিত্রে দক্ষিণী সুপারস্টার যশের মধ্যকার মুখোমুখি লড়াই। পর্দায় যশের অবিশ্বাস্য রাজকীয় উপস্থিতি, ক্ষমতা, ডাবিংয়ে কণ্ঠের গাম্ভীর্য এবং তীব্র আবেগ দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন ট্রেলারপ্রেমীরা। নেটিজেনরা তার এই উপস্থিতিকে এক উন্মুক্ত হিংস্র পশুর মতো বর্ণনা করে বলছেন যে, ভয়ংকর খল চরিত্রে অভিনয় করেও সিনেমা হলে তিনিই হয়তো সবচেয়ে বেশি করতালি পাবেন।
কেবল অভিনয় নয়, ছবিটির সামগ্রিক ভিজ্যুয়াল, ডিএনইজির আন্তর্জাতিক মানের স্পেশাল ইফেক্টস এবং আবহসংগীতও দর্শকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে। ট্রেলারে দেখানো রাবণের পেছনের গল্প, ভগবান রামের নিখুঁত বর্ণনা, সীতার চরিত্র রূপায়ণ, জটায়ু ও রাবণের মধ্যকার দুর্দান্ত যুদ্ধ, শিবধনুকের দৃশ্য, পুষ্পক বিমান এবং ঐরাবতের শ্বাসরুদ্ধকর উপস্থাপনা দেখে ভক্তরা একে কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং ঐতিহাসিক এক ঘটনা হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, এই মহাকাব্যিক সিনেমার আবহসংগীত পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো একজোট হয়েছেন অস্কারজয়ী প্রখ্যাত সুরকার হ্যান্স জিমার এবং ভারতের কিংবদন্তি সংগীত জাদুকর এ আর রহমান, যা ছবিটির আবেদন ও গাম্ভীর্য আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশাল বাজেট ও আন্তর্জাতিক মানের আয়োজনের কারণে ‘রামায়ণ’ ছবিটি ইতিমধ্যেই গোটা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রযোজক নামিত মালহোত্রা জানিয়েছেন, প্রায় ছয়-সাত বছরের নিবিড় পরিকল্পনায় সর্বমোট ৪ হাজার কোটি রুপি বা প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বিশাল বাজেটে দুই খণ্ডে তৈরি হচ্ছে এই চলচ্চিত্রটি, যা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অভাবনীয় ঘটনা। হলিউডের বড় বড় ছবির তুলনায় অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও বাস্তবমুখীভাবে এই বাজেট ব্যবহার করে বিশ্বের সবচেয়ে মহান মহাকাব্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়েছেন নির্মাতারা। বিশ্বজুড়ে দুটি পর্বে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই সিনেমাটি; যার প্রথম অংশ আগামী অক্টোবর ২০২৬-এ দীপাবলি উৎসবকে সামনে রেখে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রেক্ষাগৃহে আসবে ঠিক এক বছর পর, ২০২৭ সালের দীপাবলিতে।
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পেশাদার সংগীতের সঙ্গে অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে যুক্ত আছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার। দীর্ঘ এই বর্ণিল ক্যারিয়ার পার করার পরও নতুন মৌলিক গান সৃষ্টির প্রতি তার আগ্রহ ও মনোযোগ এতটুকুও কমেনি, বরং নিয়মিত বিরতিতেই তিনি শ্রোতাদের জন্য নতুন সব চমৎকার গান নিয়ে হাজির হন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই গত রোববার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছেন তার একেবারে নতুন মৌলিক গান ‘বুড়ো নাবিকের গল্প’। এই গানটির মধ্য দিয়ে তিনি দীর্ঘদিনের চেনা ছকের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকের একটি আবেগময় গল্প সুরের মাধ্যমে তার ভক্ত ও শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেছেন।
‘বুড়ো নাবিকের গল্প’ গানটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর হৃদয়স্পর্শী কথা ও গভীর অন্তর্নিহিত মানবিক অর্থ। ‘সিন্ধু নাবিক, ভেবে সব দিক, জলের সাথে নিলো আড়ি/ সেই সে নাবিক, আজ চার দেয়ালে, দেবে না আর দূর পাড়ি/’—এমন চমৎকার ও আবেগঘন কথার গানটি বাপ্পা মজুমদার নিজেই লিখেছেন। গানটির পরতে পরতে লুকিয়ে আছে সন্তানের প্রতি একজন বাবার অন্তহীন দায়িত্ববোধ ও তার জীবনের শত নীরব ত্যাগের এক অব্যক্ত গল্প। নিজের স্বপ্ন ও দূরযাত্রার বাসনা বিসর্জন দিয়ে একজন বাবা কীভাবে তার সন্তানের জন্য নিজেকে চার দেয়ালে আবদ্ধ করে নেন, তারই এক নিখুঁত চিত্রায়ণ ফুটে উঠেছে এই গানের কথায়।
গানের কথার পাশাপাশি এর সুর ও সংগীত আয়োজনের গুরুদায়িত্বও বাপ্পা মজুমদার বরাবরের মতোই অত্যন্ত নিপুণভাবে নিজেই সামলিয়েছেন। তার নিজস্ব সিগনেচার সুরের মূর্ছনা এবং ব্যতিক্রমী সংগীত আয়োজনের কারণে গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছে। বাপ্পা মজুমদারের এই অপূর্ব সৃষ্টির নেপথ্যের কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন আরও বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ব্যক্তি। এই সুমধুর গানটির রেকর্ডিং এবং মিক্স-মাস্টারিংয়ের কাজটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছেন আমজাদ হোসেন বাপ্পী, যার ফলে গানটির অডিও কোয়ালিটি পেয়েছে দারুণ এক প্রাণবন্ত রূপ।
অডিওর পাশাপাশি ‘বুড়ো নাবিকের গল্প’ গানটির মিউজিক ভিডিওতেও গানটির মূল গল্পের সেই একই আবহ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সময়ের আধুনিক ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই গানের ভিডিওটি সম্পূর্ণ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে। এই অভিনব ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন তরুণ প্রতিভাবান নির্মাতা আহাদ অন্তর। বাপ্পা মজুমদারের সুললিত কণ্ঠ, গভীর অর্থবহ কথা এবং এআই প্রযুক্তির চমৎকার দৃষ্টিনন্দন ভিডিও—সব মিলিয়ে ‘বুড়ো নাবিকের গল্প’ গানটি বাংলা সংগীতপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য ও উপভোগ্য উপহার হিসেবে শ্রোতৃমহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
ছোট পর্দা দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করে ওপার বাংলার জনপ্রিয়তার চূড়ায় পৌঁছানো প্রতিভাবান অভিনেতা জিতু কমল এবার প্রথমবারের মতো পা রাখতে যাচ্ছেন ওটিটি দুনিয়ায়। ‘গৃহপ্রবেশ’ কিংবা ‘অপরাজিত’-এর মতো দর্শকনন্দিত কাজগুলোতে নিজের অভিনয় প্রতিভার অসামান্য স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। সবশেষ তাকে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এ অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল। তবে এবার আর ড্রয়িংরুমের ছোট পর্দায় নয়, দর্শকদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন রূপে ওয়েব সিরিজের পর্দায় হাজির হতে যাচ্ছেন প্রশংসিত এই অভিনেতা।
ভারতীয় গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘হইচই’-এর একটি নতুন ওয়েব সিরিজের মাধ্যমেই জিতু কমলের এই ডিজিটাল অভিষেক হতে যাচ্ছে। এই মেগা প্রজেক্টে তার বিপরীতে প্রধান সারির অভিনয়শিল্পী হিসেবে প্রখ্যাত অভিনেত্রী পাওলি দাম এবং শোলাঙ্কি রায়ের নাম প্রবলভাবে শোনা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে টলিউডের আরেক শক্তিমান ও গুণী অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কেও এই সিরিজে দেখা যেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে, যা দর্শকদের মাঝে দারুণ কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
সিরিজটির গল্প, প্রেক্ষাপট বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে ভক্তদের মাঝে উন্মাদনা তৈরি হলেও এই প্রজেক্ট নিয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কিংবা অভিনয়শিল্পীদের কেউ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। তবে সম্প্রতি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিক ঘিরে তৈরি হওয়া নানা জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনার সময়ে জিতু কমল নিজেই একটি বিষয় সবার কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, এই মুহূর্তে তিনি আর ছোট পর্দায় বা টেলিভিশন ধারাবাহিকে ফিরছেন না, বরং নিজের অভিনয় ক্যারিয়ারের নতুন ধাপে তিনি ওয়েব সিরিজ ও সিনেমাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।
ছোট পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে জিতু কমল বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং বড় পর্দার কাজের দিকেই নিজের পুরো মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন। নতুন এই ওয়েব সিরিজটির প্রস্তুতির পাশাপাশি বড় পর্দায় তার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের কাজ চলমান রয়েছে। ওটিটির এই নতুন যাত্রার পাশাপাশি খুব শিগগিরই সিনেমা হলেও তাকে দেখতে পাবেন দর্শকরা, কারণ বর্তমানে তার অভিনীত দুটি নতুন চলচ্চিত্র ‘এরাও মানুষ’ এবং ‘চোর’ মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। এই প্রজেক্টগুলোর মাধ্যমেই জিতু কমল তার ক্যারিয়ারে নতুন এক মাত্রা যোগ করতে চলেছেন বলে মনে করছেন সিনেবোদ্ধারা।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করার পর এবার দেশের দর্শকদের ঘরে পৌঁছাতে পুরোপুরি প্রস্তুত বহুল আলোচিত মিনি সিরিজ ‘অ্যানি’। গুণী নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ এবং তরুণ প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাজিফা তুষির এই অনবদ্য যৌথ সৃষ্টিটি খুব শিগগিরই মুক্তি পেতে যাচ্ছে জনপ্রিয় দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘আইস্ক্রিন’-এ। বিদেশের মাটিতে অভাবনীয় সাড়া ফেলার পর দেশের বিনোদনপ্রেমীরাও সিরিজটি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের মুন্সিয়ানায় চমৎকার গল্পের এই সিরিজটি দেশের ওটিটি অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
দেশের মাটিতে মুক্তির আগে ‘অ্যানি’ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দারুণ এক মাইলফলক অর্জন করেছে। জার্মানির মর্যাদাপূর্ণ সিরিজ উৎসব ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’-এর সম্মানজনক “উইমেন ইন সিরিজ” বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত ও প্রদর্শিত হওয়ার বিরল গৌরব অর্জন করেছে সিরিজটি। এর আগে গত ৯ জুন জার্মানির কোলন শহরে অনুষ্ঠিত এই এক্সক্লুসিভ উৎসবে সিরিজটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, শুধুমাত্র ওয়েব সিরিজের জন্য নিবেদিত এমন একটি আন্তর্জাতিক ও সুপরিচিত উৎসবে এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো সিরিজ প্রদর্শিত হওয়ার ইতিহাস তৈরি করেছে, যা দেশের বিনোদন শিল্পের জন্য নিঃসন্দেহে এক বিশাল প্রাপ্তি।
আন্তর্জাতিক এই অসামান্য স্বীকৃতি অর্জনের পর সিরিজটি দেশে মুক্তির লক্ষ্যে সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘আইস্ক্রিন’-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার আইস্ক্রিনের প্রধান কার্যালয়ে নির্মাতা ও প্রযোজকদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, সিরিজের নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ, প্রযোজক এহসানুল হক বাবু, সহ-প্রযোজক শিহাব নূরুন নবী ও তানভীর হোসেনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কলাকুশলীরা। দেশীয় দর্শকদের কাছে সিরিজটি পৌঁছে দেওয়ার এই আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপে সংশ্লিষ্ট সবাই গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক সফল সফর শেষে নিজ দেশের দর্শকদের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রযোজক এহসানুল হক বাবু। তিনি জানান, সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যালের সম্মানজনক সীমানা পেরিয়ে এবার আইস্ক্রিনের মাধ্যমে দেশের দর্শকদের কাছে সিরিজটি পৌঁছে দিতে পারা তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে দর্শক এই সিরিজের গল্প, নির্মাণশৈলী ও অভিনয়ে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার স্বাদ পাবেন। সিরিজটিতে নাম ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি; এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পর্দা মাতাতে দেখা যাবে ইয়াশ রোহান, সাইমন সাদিক, সারিকা সাবরিন, ফারহানা মিঠু ও নাজাহসহ একঝাঁক জনপ্রিয় ও গুণী তারকাকে।
হলিউডের তুমুল জনপ্রিয় অ্যাডভেঞ্চার-কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘জুমানজি’-র তৃতীয় ও চূড়ান্ত কিস্তি ‘জুমানজি: ওপেন ওয়ার্ল্ড’-এর বহুল প্রতীক্ষিত প্রথম ট্রেলার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে সনি পিকচার্স। সদ্য প্রকাশিত এই ট্রেলারে দর্শকদের উন্মাদনা বাড়িয়ে আবারও একসঙ্গে পর্দায় হাজির হয়েছেন ডোয়েন জনসন, কেভিন হার্ট, জ্যাক ব্ল্যাক ও ক্যারেন গিলানের মতো জনপ্রিয় তারকারা। মূলত ২০১৭ সালের ব্লকবাস্টার হিট ‘জুমানজি: ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ এবং ২০১৯ সালের ‘জুমানজি: দ্য নেক্সট লেভেল’-এর অভূতপূর্ব সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এই নতুন ও শেষ সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে। আগের দুটি ছবি বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ১.৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করে এক বিশাল মাইলফলক স্থাপন করেছিল, যার ফলে নতুন এই কিস্তি ঘিরে ভক্তদের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী।
নতুন সংস্করণের এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি মূলত ১৯৯৫ সালের সেই জনপ্রিয় ক্লাসিক ‘জুমানজি’ সিনেমার মূল গল্পকেই বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত আধুনিক ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করেছে। এখানে পুরোনো আমলের ঐতিহ্যবাহী বোর্ড গেমের পরিবর্তে একটি জাদুকরী ভিডিও গেমকে কেন্দ্র করে সিনেমার মূল কাহিনি রোমাঞ্চকরভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত নতুন ট্রেলারে দেখা গেছে যে, আগের ছবিগুলোর মতোই এবারও দমফাটানো কমেডি, রুদ্ধশ্বাস অ্যাকশন এবং চরিত্র অদলবদলের মতো মজার সব ঘটনা নিয়ে গ্র্যান্ড এন্ট্রির মাধ্যমে ফিরছে ‘জুমানজি’ টিম। ট্রেলারের প্রতিটি দৃশ্যেই যেন রোমাঞ্চ ও বিনোদনের এক নিখুঁত মেলবন্ধন ফুটে উঠেছে, যা দর্শকদের সিনেমা হলে যাওয়ার জন্য আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে।
‘জুমানজি: ওপেন ওয়ার্ল্ড’-এ মূল চার তারকার পাশাপাশি আগের কিস্তিগুলোর মতো এবারও পর্দায় নিজেদের চরিত্র নিয়ে ফিরছেন ড্যানি ডিভিটো, নিক জোনাস, অকওয়াফিনা, মারিন হিঙ্কল, বিবি নিউওয়ার্থ, ল্যামর্ন মরিস এবং রিস ডার্বির মতো একঝাঁক গুণী অভিনয়শিল্পী। তাদের সঙ্গে এই শেষ কিস্তিতে একেবারেই নতুন মুখ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ড্যান হিল্ডেব্র্যান্ড ও জ্যাক জিউকস। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির আগের দুই কিস্তির সফল পরিচালক জেক ক্যাসডানই এবারও অত্যন্ত দক্ষ হাতে ছবিটির পরিচালনার মূল দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জেফ পিঙ্কনার ও স্কট রোজেনবার্গের সঙ্গে যৌথভাবে চমৎকার এই ছবিটির চিত্রনাট্যও তিনি নিজেই রচনা করেছেন, যা সিনেমাটির গল্পের গভীরতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
বিগ বাজেটের এই সিনেমাটির প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন ম্যাট টলম্যাক, ডোয়েন জনসন, ড্যানি গার্সিয়া, হিরাম গার্সিয়া এবং পরিচালক জেক ক্যাসডান স্বয়ং। সব মিলিয়ে একটি শক্তিশালী প্রযোজনা ও নির্মাণ দল ছবিটির নেপথ্যে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। মুক্তির দিক থেকেও ছবিটিতে একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ছবিটিকে আগামী ১১ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনে সিনেমাটির চূড়ান্ত মুক্তির তারিখ বড়দিন বা ক্রিসমাস উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে উৎসবের ছুটিতে দর্শকরা পরিবারসহ এই রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চার উপভোগ করতে পারেন।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তা এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি রাখা হয়েছে এবং সেখানে তার জরুরি অস্ত্রোপচার চলছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) অভিনেত্রীর অফিসিয়াল পেজের অ্যাডমিনের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে অভিনেত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তার অগণিত ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দোয়া ও প্রার্থনা চাওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, আহত মেঘলা মুক্তা বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই স্পর্শকাতর ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ধরনের ভুল তথ্য বা ভিত্তিহীন গুজব যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে সবার প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভক্তদের আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে যে, অভিনেত্রীর শারীরিক অবস্থা বা চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে তা কালক্ষেপণ না করে অফিসিয়ালভাবেই সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
তবে মেঘলা মুক্তা ঠিক কোথায়, কখন এবং কীভাবে এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি অভিনেত্রীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা ঠিক কতটা গুরুতর বা অস্ত্রোপচারের সর্বশেষ পরিস্থিতি কী, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে অতিরিক্ত কোনো তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি। ফলে তার এই আকস্মিক দুর্ঘটনা ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিনোদন অঙ্গনের সহকর্মীদের মাঝে এক ধরনের গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, প্রতিভাবান অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তা তার ক্যারিয়ারের শুরুতে ভারতের তেলেগু ভাষার চলচ্চিত্র ‘সাকালা কালা ভাল্লাভুডু’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক ও সমালোচকদের মাঝে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। ভিনদেশি চলচ্চিত্রে সফল অভিষেকের পর পরবর্তীতে দেশের নিজস্ব চলচ্চিত্র অঙ্গন এবং বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মের একাধিক জনপ্রিয় প্রযোজনায় নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রদর্শন করে তিনি দেশের দর্শকদের কাছেও একটি পরিচিত ও প্রিয় মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। সম্ভাবনাময়ী এই অভিনেত্রীর আকস্মিক দুর্ঘটনার খবরে বিনোদন অঙ্গনেও শঙ্কার ছায়া নেমে এসেছে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক গান হারিয়ে গেলেও কিছু গান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নেয়। এমনই একটি কালজয়ী ও জনপ্রিয় গান হলো প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ধ্রুব গুহর গাওয়া ‘যে পাখি ঘর বোঝেনা’। প্রকাশের প্রায় এক দশক পর গানটি এবার ইউটিউবে ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ভিউয়ের এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই ইউটিউবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর থেকেই গানটি শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল এবং সময়ের পরিক্রমায় এর জনপ্রিয়তা এতটুকুও কমেনি; বরং নতুন প্রজন্মের কাছেও এটি সমানভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অগণিত দর্শক-শ্রোতার নিরন্তর ভালোবাসা অর্জনের পর অবশেষে এই হৃদয়স্পর্শী গানটি ইউটিউবের ১০০ মিলিয়ন ভিউয়ের অভিজাত ক্লাবে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে নিয়েছে।
তুমুল জনপ্রিয় এই গানটির সাফল্য কেবল শিল্পীর কণ্ঠেই সীমাবদ্ধ নয়, এর নেপথ্যের কারিগরদের অবদানও অনস্বীকার্য। গানটির অসাধারণ কথা ও সুর সৃষ্টি করেছেন প্লাবন কোরেশি এবং সংগীতায়োজনে ছিলেন তরিক আল ইসলাম। তাদের তৈরি আবেগময় কথামালা ও সুরের মাধুর্যের সঙ্গে ধ্রুব গুহর স্বতন্ত্র কণ্ঠের অপূর্ব সমন্বয় গানটিকে সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে দীর্ঘদিন জনপ্রিয়তার শীর্ষে ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, গানটির দৃষ্টিনন্দন মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন স্বনামধন্য নির্মাতা শুভব্রত সরকার। গল্পনির্ভর এই নান্দনিক ভিডিওটিতে মডেল হিসেবে অভিনয় করেছেন তারেক ও তারিন, পাশাপাশি ভিডিওতে খোদ ধ্রুব গুহর উপস্থিতিও দর্শকদের কাছে এক বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
নিজের গাওয়া গানের এমন ঐতিহাসিক অর্জনে স্বভাবতই অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত ও আবেগাপ্লুত শিল্পী ধ্রুব গুহ। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, এটি তার দীর্ঘ সংগীতজীবনের অন্যতম আনন্দের ও গৌরবের একটি মুহূর্ত। একটি গান যখন বছরের পর বছর ধরে মানুষের হৃদয়ে সগৌরবে বেঁচে থাকে, তখন একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। এই অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্য তিনি দেশ ও দেশের বাইরের সব বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতা-দর্শকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ভক্তদের এই ভালোবাসা, সমর্থন ও অনুপ্রেরণাই তাকে ভবিষ্যতে আরও নতুন গান সৃষ্টির সাহস জোগায় এবং এই বিশাল অর্জনটি কেবল তার একার নয়, বরং গানটির সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি মানুষের।
বাংলা গানের বিশাল ডিজিটাল অঙ্গনে এখনো পর্যন্ত ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ভিউ অতিক্রম করা গানের সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়। সেই গুটি কয়েক গানের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ‘যে পাখি ঘর বোঝেনা’র এই গর্বিত অন্তর্ভুক্তি শিল্পী ধ্রুব গুহর বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনের মুকুটে নিঃসন্দেহে একটি নতুন পালক যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে এই বিপুল সাফল্য বিশ্বজুড়ে বাংলা গানের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল উপস্থিতি, প্রসার ও বিপুল গ্রহণযোগ্যতারও একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এমন মাইলফলক অর্জন দেশের অন্যান্য শিল্পীদেরও ভবিষ্যতে আরও মানসম্মত ও কালজয়ী গান তৈরিতে অনুপ্রাণিত করবে বলে সংগীতবোদ্ধারা মনে করছেন।
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় সুপারস্টার আল্লু অর্জুন ‘পুষ্পা’ সিনেমার অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার আরও বড় পরিসরে দর্শকদের সামনে হাজির হতে যাচ্ছেন। ‘জওয়ান’ খ্যাত প্রশংসিত নির্মাতা অ্যাটলি কুমারের পরিচালনায় এবার তিনি অভিনয় করছেন ‘রাকা’ নামের একটি মেগা প্রজেক্টে। চমকপ্রদ খবর হলো, বিশাল আয়োজনের এই সিনেমাটি একটি নয়, বরং দুটি পর্বে নির্মিত হতে যাচ্ছে। দুই পর্ব মিলিয়ে ছবিটির সর্বমোট বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার কোটি রুপিরও বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২৮৭ কোটি টাকার সমপরিমাণ। এই বিপুল বাজেটের কারণে সিনেমাটি যে নিঃসন্দেহে ভারত তথা গোটা উপমহাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল একটি প্রজেক্ট হতে যাচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া সিনেমাটির ঘনিষ্ঠ সূত্রের তথ্যমতে, ‘রাকা’র গল্পে মূলত দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সময় ও প্রেক্ষাপট অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে। এর মধ্যে একটি অংশ থাকবে সুপ্রাচীন বৈদিক যুগের আবহে এবং অপর অংশটি আবর্তিত হবে একেবারেই আধুনিক বা বর্তমান সময়কে কেন্দ্র করে। এই দুই ভিন্ন প্রেক্ষাপটের চমৎকার মেলবন্ধনে দর্শকরা সিনেমা হলে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন। ছবির মূল ও কেন্দ্রীয় চরিত্রে যথারীতি থাকছেন আল্লু অর্জুন। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে তার বিপরীতে আধুনিক রূপের নায়িকা হিসেবে পর্দা শেয়ার করবেন ম্রুনাল ঠাকুর এবং পৌরাণিক বা বৈদিক যুগের অংশে আল্লুর সঙ্গী হিসেবে দেখা যাবে দীপিকা পাড়ুকোন, জাহ্নবী কাপুর ও রাশমিকা মানদানার মতো জনপ্রিয় বলিউড ও দক্ষিণী তারকাদের।
তারকা বহুল এই মেগা প্রজেক্টে চমকের শেষ এখানেই নয়; গুঞ্জন রয়েছে যে, সিনেমাটিতে বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানও একটি বিশেষ ক্যামিও বা অতিথি চরিত্রে উপস্থিত থাকতে পারেন, যা দর্শকদের উন্মাদনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। শুধু তাই নয়, সিনেমাটির নির্মাণশৈলী ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সেরা টেকনিশিয়ানদের দিয়ে এর কাজ করানো হচ্ছে বলে বেশ আগে থেকেই শোনা যাচ্ছে। নির্মাতা অ্যাটলি কুমার তার স্বভাবসুলভ গ্র্যান্ড স্কেল ও দুর্দান্ত অ্যাকশনের সঙ্গে আল্লু অর্জুনের মতো একজন মেগাস্টারের নিজস্ব ক্যারিশমাকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে চাইছেন, যা ভারতীয় অ্যাকশন ও ফ্যান্টাসি সিনেমার ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইতোমধ্যেই গত ৮ এপ্রিল আল্লু অর্জুনের জন্মদিন উপলক্ষে ‘রাকা’ সিনেমাটির বহুল প্রতীক্ষিত ফার্স্টলুক পোস্টার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। ওই পোস্টারে অভিনেতাকে একেবারেই এক ব্যতিক্রম ও ভয়ংকর রূপে আবিষ্কার করেছেন ভক্তরা। ন্যাড়া মাথার আল্লু অর্জুনের মুখমণ্ডলটি অবিকল মানুষের মতো হলেও, তার হাতে দেখা গেছে ঘন-লম্বা পশম ও তীক্ষ্ণ নখ, যা দেখে মনে হচ্ছে এটি কোনো ভয়ংকর পশুর দেহ। ফার্স্টলুকের এই অদ্ভুত ও রহস্যময় রূপ সিনেমাটির গল্প নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও ছবিটির আনুষ্ঠানিক মুক্তির তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে জোর গুঞ্জন রয়েছে যে, সব কাজ ও প্রস্তুতি পরিকল্পনামাফিক শেষ হলে আগামী বছরের ডিসেম্বরে বক্স অফিসে ঝড় তুলতে বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে পারে ‘রাকা’।