ভারতীয় শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুরের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে তার পরিবারে শুরু হয়েছে উত্তরাধিকার নিয়ে বড়সড় আইনি দ্বন্দ্ব। প্রায় ৩০ হাজার কোটি রুপির (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা) বিপুল সম্পত্তি নিয়ে টানাপোড়েনে মুখোমুখি হয়েছেন তার তৃতীয় স্ত্রী প্রিয়া কাপুর, সাবেক স্ত্রী বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের দুই সন্তান সামাইরা-কিয়ান এবং সঞ্জয়ের মা রানি কাপুর। এ নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টেও মামলা গড়িয়েছে। এরই মাঝে প্রিয়া কাপুর বড়সড় এক পদক্ষেপ নিলেন। সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি হাজির হলেন স্বামীর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে।
ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, দিল্লিতে অটো কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে যোগ দেন প্রিয়া। তিনি অরিয়াস ইনভেস্টমেন্টের পরিচালক হিসেবে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। শুরুতেই প্রয়াত সঞ্জয় কাপুরকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রিয়া বৈঠকে জানান, শিল্প সংস্থা যেকোনো দায়িত্ব তাকে দিলে, তিনি তা গ্রহণে প্রস্তুত। সূত্র জানায়, প্রিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েই বৈঠকে ডাকা হয়েছিল।
গত জুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৌমাছির কামড়ের জটিলতায় মারা যান সঞ্জয় কাপুর। তার মৃত্যুর পরই অরিয়াস ইনভেস্টমেন্টের পরিচালক পদে বসানো হয় প্রিয়াকে। তবে এই নিয়োগ মেনে নেননি সঞ্জয়ের মা রানি কাপুর ও বোন মন্দিরা কাপুর স্মিথ। তাদের অভিযোগ, প্রিয়া এভাবে বিপুল ক্ষমতা হাতে নিয়ে সঞ্জয়ের সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছেন এবং রানিকে কিছুই দেননি। মন্দিরার অভিযোগ, ‘প্রিয়া আমার মায়ের মাথার ওপরের ছাদটাই কেড়ে নিয়েছেন। তাই আইনি লড়াই ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।’
তারা দাবি করেছেন, শুরুতে আদালতে না গিয়েও বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রিয়া কারিশমার সন্তানদের প্রাপ্য অংশ দিতে রাজি না হওয়ায় মামলা গড়িয়েছে। মন্দিরার মতে, আদালতের রায়ই শেষ পর্যন্ত জানাবে সঞ্জয়ের সম্পদের প্রকৃত হিসাব এবং উইলের ভেতরের আসল তথ্য।
আদালতে মামলার সর্বশেষ শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি জ্যোতি সিং সরাসরি প্রিয়াকে প্রশ্ন করেন, কেন উইল এখনো সন্তানদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়নি? তিনি নির্দেশ দেন, ২০২৫ সালের ১২ জুন পর্যন্ত সঞ্জয়ের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিস্তারিত তালিকা আদালতে জমা দিতে হবে।
এরই মধ্যে প্রিয়ার দাবি, কারিশমার দুই সন্তান সামাইরা ও কিয়ান ইতোমধ্যেই বাবার সম্পত্তি থেকে ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তবে আইএএনএসর খবরে জানা গেছে, এই দাবি সত্য নয়। সূত্র জানিয়েছে, এই সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এখনো প্রিয়ার হাতেই রয়েছে আরকে ফ্যামিলি ট্রাস্টের মাধ্যমে। কারিশমার সন্তানদের এ বিষয়ে কোনো অধিকার নেই।
আদালতে প্রিয়ার আইনজীবী আরও জানান, কথিত ওই উইল আসলে নিবন্ধিত নয়। এতে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, সঞ্জয়ের মা রানি কাপুর প্রিয়াকে উইল নিয়ে স্পষ্টতা চাইতে অন্তত ১৫টি ই–মেইল পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো উত্তর পাননি। সন্তানদের কাছেও এখনো উইলের কপি বা ব্যক্তিগত সম্পদের হালনাগাদ তথ্য পৌঁছায়নি।
সঞ্জয়ের হঠাৎ মৃত্যুর মাত্র ৭ সপ্তাহ পর যে উইল সামনে আসে, সেটি নাকি লেখা হয়েছিল মৃত্যুর ১১ সপ্তাহ আগে। ওই উইল অনুযায়ী সঞ্জয়ের পুরো ব্যক্তিগত সম্পত্তি তার তৃতীয় স্ত্রী প্রিয়া কাপুরের নামে করে দেওয়া হয়েছে, সন্তানদের জন্য কোনো অংশ রাখা হয়নি। সন্তানদের আইনজীবীর দাবি, উইলটি জালিয়াতি ও গোপন করার ফল।
চাঞ্চল্যকর মামলায় শেষ পর্যন্ত কী হয়, সেটা জানতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং হলিউডের পরিবর্তিত কর্মপরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশ ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন জনপ্রিয় হলিউড তারকা ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের এই সময়ে হলিউডে স্বাধীনভাবে কাজ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন এই ৩৫ বছর বয়সী অভিনেত্রী। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য সানডে টাইমস'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও শৈল্পিক বাস্তবতা ভেঙে পড়ছে, যা সৃজনশীল কাজের জন্য একেবারেই অনুকূল নয়। এই পরিস্থিতির কারণে তিনি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে, বিশেষ করে ইউরোপে স্থায়ীভাবে সিনেমা নির্মাণ ও কাজ করার পরিকল্পনা করছেন।
ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিবেশ নেই বললেই চলে। উদাহরণ হিসেবে তিনি তাঁর পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘দ্য ক্রোনোলজি অব ওয়াটার’-এর কথা উল্লেখ করেন। লিডিয়া ইউকনাভিচের আত্মজীবনী অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সাহসী কিছু বিষয় নিয়ে তৈরি হওয়ায় তা যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ফলে বাধ্য হয়ে এর শুটিং সম্পন্ন করতে হয়েছে লাটভিয়ায়। স্টুয়ার্ট স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তিনি আমেরিকান দর্শকদের জন্য সিনেমা নির্মাণ চালিয়ে যেতে চান, তবে সেটি হয়তো ইউরোপে বসে তৈরি করে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সম্ভব হবে। তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিবেশে শিল্পীদের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু প্রস্তাব ও মন্তব্য এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নির্মিত সিনেমার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাবকে ‘ভয়ংকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন স্টুয়ার্ট। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বিদেশে নির্মিত সিনেমাগুলোকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন। অভিনেত্রীর মতে, এ ধরনের রক্ষণশীল ও কঠোর নীতি স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে এবং শিল্পীদের দেশান্তরী হতে বাধ্য করবে। এই প্রশাসনিক চাপ এবং রক্ষণশীল মনোভাবের কারণেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আর নিজের ভবিষ্যৎ দেখছেন না।
উল্লেখ্য যে, ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার বিরোধের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ২০১২ সালে যখন স্টুয়ার্ট তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংকটে ছিলেন, তখন ট্রাম্প একজন রিয়েলিটি শো তারকা হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক পোস্ট করেছিলেন। বর্তমানে সেই সময়ের কথা স্মরণ করে স্টুয়ার্ট জানান, ট্রাম্পের সেই আচরণ ছিল পাগলামির নামান্তর। সেই সময় থেকেই তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্কের যে তিক্ততা শুরু হয়েছিল, বর্তমানে ট্রাম্পের রাজনৈতিক নীতিমালার কারণে তা আরও গভীর হয়েছে। শিল্পীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে রাজনৈতিক ছায়ার এই বিস্তারই শেষ পর্যন্ত ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টকে দেশ ছাড়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্তের দিকে ধাবিত করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমান সময়ে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে রহস্য ও রোমাঞ্চকর থ্রিলারধর্মী কন্টেন্টের জয়জয়কার থাকলেও নতুন বছরে ভিন্ন এক চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত ৯ জানুয়ারি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া রোমান্টিক কমেডি ঘরানার সিনেমা ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’ বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মুক্তির পরপরই এটি নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক টপ চার্টের শীর্ষস্থান দখল করে নেয় এবং দুই সপ্তাহ পেরিয়ে আজও এটি জনপ্রিয়তার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে দাপটের সঙ্গে টিকে আছে। মূলত ২০২১ সালে প্রকাশিত জনপ্রিয় মার্কিন লেখিকা এমিলি হেনরির বেস্টসেলার উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি এখন সিনেমাপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সিনেমাটির গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পপি ও অ্যালেক্স নামের দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যাদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন এমিলি ব্যাডার ও টম ব্লাইথ। দুই বন্ধুর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের মাঝে লুকিয়ে থাকা প্রেম এবং এক বিশেষ ভ্রমণকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে ছবির কাহিনী। এমিলি হেনরির লেখা বইগুলো বর্তমানে বিশ্বসাহিত্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ার কারণে পাঠকদের মাঝে এই সিনেমাটি নিয়ে শুরু থেকেই প্রবল কৌতূহল ছিল। সিনেমার চরিত্রগুলোর গভীরতা এবং আবেগঘন উপস্থাপন দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে পপি চরিত্রের খামখেয়ালি স্বভাব এবং অ্যালেক্সের স্বচ্ছ ও স্তরবহুল ব্যক্তিত্বের চমৎকার মেলবন্ধন সিনেমাটিকে সাধারণ রোমান্টিক কমেডির চেয়ে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এই সিনেমার আকাশছোঁয়া সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো প্রধান দুই অভিনয়শিল্পীর অসামান্য রসায়ন। এমিলি ব্যাডার ও টম ব্লাইথ পর্দায় বন্ধুত্বের টানাপোড়েন এবং প্রেমের মায়াজাল এতই নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে দর্শক একবারের জন্যও পর্দা থেকে চোখ ফেরাতে পারেন না। এছাড়া ভ্রমণকেন্দ্রিক সিনেমা হওয়ায় এতে প্রদর্শিত চোখজুড়ানো সব লোকেশন দর্শকদের এক ধরণের প্রশান্তি দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে থ্রিলার ও সহিংসতার আধিক্য থাকার পর এমন একটি স্নিগ্ধ ও ধ্রুপদী রোমান্টিক সিনেমা যেন দর্শকদের জন্য এক স্বস্তির পরশ হয়ে এসেছে।
২০২৬ সালের শুরুতেই এমন একটি রোমান্টিক সিনেমার সাফল্য নেটফ্লিক্সের জন্য নতুন এক কৌশলগত দ্বার খুলে দিয়েছে। আগে থেকেই জনপ্রিয় উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে সিনেমা নির্মাণের এই ধারাটি নেটফ্লিক্সের জন্য সবসময়ই লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে। ‘দ্য কিসিং বুথ’ বা ‘টু অল দ্য বয়েজ’-এর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজির পর এমিলি হেনরির প্রথম এই চলচ্চিত্র রূপান্তরটি স্ট্রিমিং জায়ান্টটিকে নতুন করে আশাবাদী করে তুলছে। জানা গেছে, এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নেটফ্লিক্স কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে এমিলি হেনরির আরও দুটি জনপ্রিয় উপন্যাস ‘হ্যাপি প্লেস’ ও ‘ফানি স্টোরি’ নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে ‘পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন’ কেবল একটি সিনেমাই নয়, বরং এটি সমসাময়িক দর্শচাহিদার পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের নাট্যঙ্গনে এক অবিশ্বাস্য ও অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত পারিবারিক গল্পের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘এটা আমাদেরই গল্প’। মাত্র ২৪টি পর্ব প্রকাশের মাধ্যমেই নাটকটি ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্মিলিতভাবে ২.৬ বিলিয়ন বা ২৬০ কোটির বেশি ভিউ অর্জন করে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছে। বাংলাদেশের কোনো ধারাবাহিক নাটকের ক্ষেত্রে এত অল্প সময়ে এমন বিশাল ভিউ পাওয়ার নজির এর আগে কখনও দেখা যায়নি। সিনেমাওয়ালার ব্যানারে নির্মিত এই সিরিয়ালটি কেবল দেশেই নয়, বরং প্রবাসীদের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য এবং ভারত-পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকদের হৃদয় জয় করেছে।
নাটকটির নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ গত ২৭ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই খুশির খবরটি সবার সাথে শেয়ার করেন। তিনি জানান, দর্শকদের ভালোবাসায় সিরিজের প্রতিটি পর্ব এরই মধ্যে ইউটিউবে ১ কোটিরও বেশি ভিউ অতিক্রম করেছে। এমনকি প্রতিটি নতুন পর্ব ইউটিউবে মুক্তির মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই মিলিয়ন ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করছে, যা দেশীয় নাটকের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গল ও বুধবার রাত সাড়ে নয়টায় চ্যানেল আই-এর পর্দায় প্রচারের পর বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সিনেমাওয়ালার অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে নতুন পর্বগুলো উন্মুক্ত করা হচ্ছে।
‘পরিবারই শুরু, পরিবারই শেষ’—এই মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নির্মিত নাটকটি মূলত গভীর পারিবারিক বন্ধন, মমত্ববোধ আর মান-অভিমানের এক জীবন্ত দলিল। দর্শকরা এই নাটকের গল্পের মধ্যে নিজেদের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাচ্ছেন বলেই এটি এত দ্রুত জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পারিবারিক আবহের এই গল্পে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন একঝাঁক জনপ্রিয় শিল্পী, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইরফান সাজ্জাদ, কেয়া পায়েল, খায়রুল বাশার, সুনেরাহ বিনতে কামাল, ইন্তেখাব দিনার, দীপা খন্দকার, মনিরা আক্তার মিঠু এবং নাদের চৌধুরী।
নাটকটির অভিনয়ের পাশাপাশি এর টাইটেল গানটিও দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক আরফিন রুমির সুরে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি নিজে এবং সংগীতশিল্পী দোলা। নির্মাতার মতে, এই অভাবনীয় সাফল্য কেবল তাদের একার নয়, বরং এটি পুরো বাংলা নাটকের জয়। দর্শকদের অব্যাহত ভালোবাসা ও সমর্থনের কারণেই এই বিশাল অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিউ ইনসাইট অনুযায়ী, এশিয়াসহ আফ্রিকার দর্শকরাও নিয়মিতভাবে এই নাটকের পর্বগুলো উপভোগ করছেন, যা বাংলা নাটকের বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতার এক নতুন বার্তা দিচ্ছে।
ব্রিটেনের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মাননা বাফটা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে আধিপত্য বিস্তার করেছে অ্যাকশন ও রাজনৈতিক থ্রিলারধর্মী চলচ্চিত্র ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’। ছবিটির ঝুলিতে জমা পড়েছে সর্বোচ্চ ১৪টি মনোনয়ন। এর পরপরই ১৩টি মনোনয়ন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দর্শকপ্রিয় ভ্যাম্পায়ার থ্রিলার ‘সিনার্স’। বাফটার সুদীর্ঘ ইতিহাসে ১৯৮২ সালের ‘গান্ধী’ সিনেমার ১৬টি মনোনয়নের রেকর্ড এখনও অক্ষুণ্ণ থাকলেও এবারের তালিকায় বেশ কিছু নতুন ইতিহাস ও মাইলফলক যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে হলিউড সুপারস্টার লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও এবং পরিচালক ক্লোয়ি জাও বাফটার মঞ্চে নিজেদের নামকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।
‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ ছবিতে একজন সাবেক বিপ্লবীর চরিত্রে অসামান্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা বিভাগে মনোনীত হয়েছেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। এটি বাফটার এই বিভাগে তাঁর সপ্তম মনোনয়ন, যা একটি বিরল রেকর্ড। বাফটার ইতিহাসে এর আগে মাত্র ছয়জন অভিনেতা এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পেরেছিলেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন মাইকেল কেইন, ড্যানিয়েল ডে-লুইস এবং ডাস্টিন হফম্যানের মতো কিংবদন্তিরা। একই ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন তরুণ প্রতিভা চেস ইনফিনিটি, যিনি অস্কারের মনোনয়ন তালিকায় জায়গা না পেলেও বাফটার নজরে এসেছেন। এছাড়া ছবিটির পরিচালক পল টমাস অ্যান্ডারসনসহ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে শন পেন ও বেনিসিও দেল তোরো এবং পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে টিয়ানা টেলর মনোনীত হয়ে ছবিটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছেন।
এবারের মনোনয়ন তালিকায় নারী নির্মাতাদের জয়জয়কারও লক্ষ্যণীয়। উইলিয়াম শেক্সপিয়রের পারিবারিক শোকগাথা নিয়ে নির্মিত ‘হ্যামনেট’ ছবির জন্য সেরা পরিচালক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন চীনের ক্লোয়ি জাও। বাফটার ইতিহাসে কোনো নারী পরিচালকের জন্য এটিই সর্বোচ্চ মনোনয়নপ্রাপ্ত ছবির রেকর্ড। এছাড়া এবারের ৪৬টি মনোনীত চলচ্চিত্রের এক-চতুর্থাংশের বেশি পরিচালনা করেছেন নারীরা। ‘হ্যামনেট’ মোট ১১টি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে, যার মধ্যে শেক্সপিয়রের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য জেসি বাকলি সেরা অভিনেত্রী বিভাগে লড়বেন। তবে এই ছবি থেকে পল মেসকাল সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে মনোনয়ন পেলেও অস্কারের মনোনয়ন দৌড়ে তিনি পিছিয়ে পড়েছেন।
অন্যান্য ছবির মধ্যে মাইকেল বি. জর্ডান অভিনীত ‘সিনার্স’ এবং টিমোতি শালামে অভিনীত ‘মার্টি সুপ্রিম’ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মনোনয়ন পেয়েছে। ব্লুজ সংগীত ও কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতির সাথে ভ্যাম্পায়ার রোমাঞ্চের মিশেলে তৈরি ‘সিনার্স’ পেয়েছে ১৩টি মনোনয়ন। অন্যদিকে টেবিল টেনিস ভিত্তিক বায়োপিক ‘মার্টি সুপ্রিম’ ১১টি বিভাগে লড়বে। নরওয়ের পারিবারিক ড্রামা ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ এবং গিয়ের্মো দেল তোরোর কারিগরি শৈলীতে সমৃদ্ধ ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ প্রতিটি ছবিই ৮টি করে মনোনয়ন পেয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে আছে। বিশেষ করে ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ ছবিটি সেরা অ-ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগেও জায়গা করে নিয়েছে।
অস্কার ও বাফটার মনোনয়ন তালিকার মধ্যে এবার কিছু উল্লেখযোগ্য বৈপরীত্য দেখা গেছে। ব্র্যাড পিট অভিনীত ‘এফ১’ ছবিটি অস্কারে সেরা চলচ্চিত্রের মনোনয়ন পেলেও বাফটায় এটি কেবল তিনটি কারিগরি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে। আবার অস্কারে প্রশংসিত এমা স্টোন ‘বুগোনিয়া’ ছবির জন্য বাফটায় সেরা অভিনেত্রী বিভাগে মনোনীত হলেও তাঁর সহশিল্পী জেসি প্লেমনস অস্কারে উপেক্ষিত থেকে বাফটায় জায়গা করে নিয়েছেন। অন্যদিকে নেটফ্লিক্সের ভাইরাল হিট ‘কেপপ ডিমন হান্টার্স’ সরাসরি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ায় বাফটার নিয়মানুযায়ী অযোগ্য ঘোষিত হয়েছে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি লন্ডনের রয়্যাল ফেস্টিভ্যাল মিলনায়তনে জাঁকজমকপূর্ণ এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করবেন অভিনেতা অ্যালান কামিং, যেখানে ৮ হাজার ৩০০ ভোটারের রায়ে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
রণবীর কাপুর অভিনীত ‘অ্যানিম্যাল’ মুক্তির পর থেকেই সিনেমা প্রেমীদের মাঝে এক ধরণের উন্মাদনা কাজ করছে। প্রথম পর্বের অভাবনীয় সাফল্যের পর থেকেই দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এর পরবর্তী কিস্তির জন্য। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ‘অ্যানিম্যাল’-এর সিক্যুয়েল অর্থাৎ ‘অ্যানিম্যাল পার্ক’ নিয়ে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করেছেন স্বয়ং রণবীর কাপুর। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এই সিক্যুয়েল নিয়ে ভক্তদের মধ্যে চলা আলোচনাগুলো কোনোভাবেই স্রেফ গুজব নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রজেক্ট।
রণবীর কাপুর জানান, ‘অ্যানিম্যাল’ সিনেমার শুটিং চলাকালীনই পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার মাথায় এর সিক্যুয়েলের ভাবনাটি ছিল। সিনেমার চিত্রনাট্য এমনভাবেই সাজানো হয়েছিল যাতে গল্পের রেশ পরবর্তী কিস্তিতেও বজায় থাকে। মূলত সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই প্রথম পর্বের একেবারে শেষ দৃশ্যে ‘অ্যানিম্যাল পার্ক’ নামটি দেখানো হয়েছিল, যা দর্শকদের মাঝে তীব্র কৌতূহল ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল। অভিনেতা স্পষ্ট করেছেন যে, বড় পর্দায় রণবীরের সেই বিধ্বংসী রূপ আবারও ফিরিয়ে আনতেই এই সিক্যুয়েলের আয়োজন করা হচ্ছে।
তবে সিক্যুয়েল নিয়ে সবুজ সংকেত মিললেও দর্শকদের বড় পর্দায় এটি দেখতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। রণবীর কাপুর জানিয়েছেন, এখনই সিনেমাটির শুটিং শুরু হচ্ছে না। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার বর্তমান ব্যস্ততা। পরিচালক বর্তমানে অন্য একটি বড় প্রজেক্টের কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। সেই কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পরই তিনি ‘অ্যানিম্যাল পার্ক’-এর প্রি-প্রোডাকশন ও প্রস্তুতির কাজ শুরু করবেন। ফলে শুটিং ফ্লোরে গড়াতে এবং বড় পর্দায় মুক্তি পেতে সিনেমাটির আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এবারের কিস্তিতে দর্শকদের জন্য সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে থাকতে পারে রণবীরের দ্বৈত চরিত্র। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মহলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে যে, ‘অ্যানিম্যাল পার্ক’-এ রণবীরকে একই সঙ্গে নায়ক এবং এক চরম ভয়ংকর খলনায়কের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। এই দ্বৈত অবতার সিনেমার গল্পে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং রণবীরের অভিনয় দক্ষতার আরেকটি বিধ্বংসী রূপ দেখার সুযোগ করে দেবে বলে ভক্তরা আশা করছেন। এটি সিনেমার উত্তেজনাকে আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যানিম্যাল’ বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেলেও এর অতিরিক্ত সহিংসতা ও বিভিন্ন বিতর্কিত দৃশ্য নিয়ে নানা মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে কয়েকশ কোটি টাকার ব্যবসা করে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছিল। সেই জনপ্রিয়তার রেশ ধরেই নির্মাতারা এখন দ্বিতীয় কিস্তি নির্মাণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা আবারও বক্স অফিসে ঝড় তুলবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
বলিউড ও টলিউড তথা উপমহাদেশের সংগীত জগতের শীর্ষস্থানীয় নাম অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক জগত থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গত এক দশক ধরে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করা এই সুরের জাদুকর মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তার মাধ্যমে এই বড় সিদ্ধান্তটি জানান। গায়কের এমন আকস্মিক ঘোষণায় তাঁর অগণিত ভক্ত ও সংগীত সংশ্লিষ্টদের মাঝে রীতিমতো স্তম্ভিত হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থাকা অবস্থায় সিনেমার গান থেকে সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্তকে সংগীত বিশেষজ্ঞরা একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক মাধ্যম হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে অরিজিৎ সিং তাঁর শ্রোতাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে শ্রোতাদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন তিনি পেয়েছেন, তা তাঁর কাছে অমূল্য। তবে একই বার্তায় তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, এখন থেকে তিনি আর নতুন কোনো প্লেব্যাক বা চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেবেন না। নিজের দীর্ঘ পথচলা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি এই অধ্যায়ের ইতি টানার ঘোষণা দেন। তবে সিনেমার বাইরে ব্যক্তিগত কোনো প্রজেক্ট, অ্যালবাম কিংবা লাইভ কনসার্টে তিনি নিয়মিত থাকবেন কি না, সে বিষয়ে বর্তমানে কোনো স্পষ্ট বার্তা দেননি তিনি।
অরিজিৎ সিংয়ের এই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’ সিনেমার ‘ফির মহব্বত’ গানটির মাধ্যমে। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আশিকি ২’ সিনেমার কালজয়ী গান ‘তুম হি হো’। এই একটি গান তাঁকে রাতারাতি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা এনে দেয় এবং প্লেব্যাক সংগীতের সংজ্ঞাই বদলে দেয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ‘চান্না মেরেয়া’, ‘মুসকুরানে’ কিংবা ‘হামারি আধুরি কাহানি’র মতো গভীর আবেগীয় গানের পাশাপাশি ‘দিল্লিওয়ালি গার্লফ্রেন্ড’ বা ‘ঘুনঘুর’-এর মতো ছন্দময় গান গেয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন নিজের বহুমুখী প্রতিভা। শাস্ত্রীয় সংগীত থেকে শুরু করে রক, পপ কিংবা জ্যাজ—সব ধারার গানেই তিনি ছিলেন সমান সাবলীল।
কেবল হিন্দি সিনেমা নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের সংগীতকেও অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন অরিজিৎ। ‘বোঝে না সে বোঝে না’, ‘মেঘবালিকা’ কিংবা ‘বসন্ত এসে গেছে’র মতো তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান বাঙালি শ্রোতাদের প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে আছে। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় অরিজিৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চলচ্চিত্র পাড়ায় ব্যাপক চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। ভক্তদের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছে না, অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন সৃজনশীলতার কোনো নতুন দিগন্ত অন্বেষণেই হয়তো তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। কারণ যা-ই হোক, রূপালি পর্দার পেছনের এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী কণ্ঠস্বরের অনুপস্থিতি আগামী দিনগুলোতে ভারতীয় সংগীত জগতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তামিল সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের অভিনয় জীবনের শেষ এবং বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘জন নায়াগান’-এর মুক্তি নিয়ে আইনি জটিলতা আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে। গত সোমবার মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ছবিটির সেন্সর ছাড়পত্র সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা করে বিষয়টি পুনরায় একক বিচারকের বেঞ্চে ফেরত পাঠিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি এম এম শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি জি অরুল মুরুগনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তের ফলে ছবিটির প্রযোজনা সংস্থা কেভিএন প্রোডাকশনস আপাতত কোনো আইনি স্বস্তি পাচ্ছে না, যার ফলে ছবিটির মুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন অনিশ্চয়তা।
মূলত কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড (সিবিএফসি) এবং ‘জন নায়াগান’-এর প্রযোজকদের মধ্যে চলমান দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কারণেই ছবিটির মুক্তি আটকে রয়েছে। গত ৯ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও সেন্সর সার্টিফিকেশন পেতে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে তা সম্ভব হয়নি। আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, সিবিএফসির পরীক্ষণ কমিটির একজন সদস্য ছবিটির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। বেঞ্চের মতে, আগে একক বিচারকের দেওয়া আদেশে সিবিএফসিকে তাদের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে উপস্থাপনের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রসূন জোশীর দেওয়া স্থগিতাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যালেঞ্জ না করায় আদালত মামলাটি পুনরায় একক বিচারকের বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসে সিবিএফসির পরীক্ষণ কমিটি ছবিটির ১৪টি দৃশ্য কর্তনের শর্তে ‘ইউএ ১৬+’ সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। নির্মাতারা সেই শর্ত মেনে নিলেও সেন্সর বোর্ড চূড়ান্ত ছাড়পত্র দিতে কালক্ষেপণ করে। পরবর্তীতে সিবিএফসি দাবি করে যে, ছবিটির কিছু দৃশ্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন একটি অভিযোগ পাওয়ায় তারা সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রযোজকেরা হাইকোর্ট এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান মেলেনি। শীর্ষ আদালত বিষয়টি পুনরায় হাইকোর্টে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলে টানা ২২ দিনের আইনি টানাপোড়েন শেষে গত সোমবার এই রায় ঘোষণা করা হয়।
‘জন নায়াগান’ সিনেমাটি থালাপতি বিজয়ের ভক্তদের কাছে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ একটি প্রজেক্ট, কারণ এই ছবির মাধ্যমেই তিনি তার কয়েক দশকের দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চলেছেন। এরপর তিনি পুরোপুরি সক্রিয় রাজনীতিতে মনোনিবেশ করবেন এবং তার রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)-এর হয়ে আগামী তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এইচ বিনোথ পরিচালিত এই সিনেমাটি মূলত তেলেগু সুপারহিট ছবি ‘ভগবন্ত কেশরী’-র রিমেক, যেখানে বিজয়ের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন মমিতা বাইজু, ববি দেওল ও পূজা হেগড়ে। রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করার আগে বিজয়ের শেষ পর্দায় উপস্থিতি দেখার জন্য ভক্তরা উন্মুখ হয়ে থাকলেও আইনি মারপ্যাঁচে ছবিটির মুক্তি এখন সময়ের আবর্তে বন্দি হয়ে আছে।
হলিউডের উদীয়মান তারকা সিডনি সুইনির আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা এখন বক্স অফিসের নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। এইচবিওর জনপ্রিয় সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’ দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া ২৮ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য হাউসমেইড’ প্রেক্ষাগৃহে রীতিমতো ঝড় তুলেছে। মাত্র ৪৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৫৪০ কোটি টাকা বাজেটে নির্মিত এই মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারটি গত ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ২৯৪.৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি) আয় করে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে ছবিটি নির্মাতা পল ফিগের ক্যারিয়ারের আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
দীর্ঘ ১৫ বছর আগে পল ফিগ পরিচালিত ‘ব্রাইডসমেইডস’ ছবিটি ২৮৯.৬ মিলিয়ন ডলার আয় করে রেকর্ড গড়েছিল। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে ‘দ্য হাউসমেইড’ নির্মাতার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমায় পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের আলোচিত বই থেকে নির্মিত সিনেমা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ এবং সিডনি সুইনির আগের হিট ছবি ‘এনিওয়ান বাট ইউ’-কেও আয়ের দিক থেকে পেছনে ফেলেছে এই নারীকেন্দ্রিক থ্রিলারটি। সিডনি সুইনির ক্যারিয়ারের জন্য এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে মূল চরিত্রে থেকে বড় বাজেটের সিনেমা টেনে নেওয়ার ক্ষমতা তার রয়েছে।
পরিচালক পল ফিগ এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন, হলিউডের প্রচলিত একটি ধারণা আছে যে নারীকেন্দ্রিক বা মাঝারি বাজেটের ছবিগুলো প্রেক্ষাগৃহের চেয়ে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জন্য বেশি উপযোগী। কিন্তু ‘দ্য হাউসমেইড’ সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। ফিগ বলেন, ‘হলিউড বারবার অবাক হয় যে নারীরা প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখতে আসেন। অথচ সত্য হলো, তাদের যদি ভালো কন্টেন্ট দেওয়া হয়, তবে তারা অবশ্যই থিয়েটারে ভিড় করবেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, এই সিনেমাটি তিনি দর্শকদের দলগত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে বানিয়েছিলেন, যার ফল এখন হাতেনাতে পাওয়া যাচ্ছে।
ফ্রেইডা ম্যাকফ্যাডেনের বেস্টসেলার উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিতে সিডনি সুইনি অভিনয় করেছেন মিলি ক্যালোওয়ে চরিত্রে। গল্পের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মিলি লং আইল্যান্ডের এক বিত্তশালী উইনচেস্টার পরিবারে আবাসিক গৃহকর্মীর কাজ নেন। সেই প্রাসাদে মিলি ও তার নিয়োগকর্তা নিনা উইনচেস্টারের (আমান্ডা সেফ্রিড) মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বদলানোর গল্পই এই ছবির মূল আকর্ষণ। ভুক্তভোগী ও নিয়ন্ত্রণকারীর মধ্যকার রহস্যময় এই লড়াই দর্শকদের দারুণভাবে আবিষ্ট করে রেখেছে।
লায়ন্সগেট এবং হিডেন পিকচার্সের সমন্বয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি শুরুর আগেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। উপন্যাসের জনপ্রিয়তা এবং তারকাদের বলিষ্ঠ অভিনয় ছবিটিকে সফলতার শিখরে নিয়ে গেছে। যেহেতু মূল বইটি একটি ট্রিলজি বা তিন খণ্ডের সিরিজ, তাই প্রথম ছবির এই বিশাল সাফল্যের পর এর সিকুয়েল ‘দ্য হাউসমেইডস সিক্রেট’ নির্মাণের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, সিডনি সুইনি পরবর্তী পর্বেও তার চরিত্রে ফিরবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মহামারীর পরবর্তী সময়ে যেখানে বিশ্ব বক্স অফিস এখনো থমকে আছে, সেখানে ‘দ্য হাউসমেইড’-এর এই জয়জয়কার হলিউডের মাঝারি বাজেটের সিনেমার নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
দুই বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের একটি রহস্যময় পোস্ট ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক শোরগোল চলছিল। ‘পৃথিবীটা ভালো লোকেদের নয়’— এমন একটি বার্তার পোস্টার শেয়ার করার পর থেকেই অনুরাগী ও নেটিজেনদের মনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে টালিউডের অন্দরমহলে অনির্বাণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্ক এবং তাকে বয়কটের ডাক দেওয়ার গুঞ্জনের মাঝেই এমন মন্তব্য আসায় অনেকেই একে অভিনেতার চাপা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে ধরে নিয়েছিলেন। তবে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন অভিনেতা নিজেই।
আসলে এই বিস্ফোরক উক্তিটি কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং অনির্বাণের গানের দল ‘হুলিগানইজম’-এর নতুন একটি মিউজিক ভিডিওর শিরোনাম। গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই গানটি মুক্তি পেয়েছে। ‘পৃথিবীটা ভালো লোকেদের নয়’ শিরোনামের এই গানটির চিত্রায়ণ সম্পন্ন হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরে বর্ধমান ও কলকাতার বিভিন্ন লোকেশনে। সমসাময়িক সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে গানটি মুক্তি পাওয়ার পর অনির্বাণ এর পেছনের মূল দর্শনটি তুলে ধরেছেন। তার মতে, বর্তমান পৃথিবীতে ক্ষমতা আর টাকার দাপটই শেষ কথা। যাদের এই সম্পদ নেই, তারা কেবল বোকাই বনে যাচ্ছেন। এই কঠিন বাস্তবতা এবং টাকার জালে ফেঁসে যাওয়ার জীবনসংগীতই ফুটে উঠেছে তাদের এই নতুন সৃষ্টিতে।
সম্প্রতি টালিউডের তারকা অভিনেতা দেব এবং শুভশ্রী গাঙ্গুলির একটি নতুন প্রজেক্টে অনির্বাণের থাকা না-থাকা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা নাটকীয়তা ও আলোচনা চলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই এমন একটি পোস্ট আসায় অনেকেই এর সাথে ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সম্পর্ক খুঁজে পাচ্ছিলেন। তবে অনির্বাণ বিষয়টিকে স্রেফ ‘কাকতালীয়’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তাদের ডিজিটাল প্রচারণার দলটি অনেক আগে থেকেই এই দিনটি নির্ধারণ করে রেখেছিল। ফলে বর্তমান গুঞ্জনের সঙ্গে প্রচারণার সময়ের মিল পাওয়া গেলেও এর পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল না। ‘হুলিগানইজম’-এর এই নতুন গানটি মুক্তির পর থেকেই দর্শক মহলে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলছে, যা একই সঙ্গে অনির্বাণের বহুমুখী প্রতিভার আবারও প্রমাণ দিচ্ছে। মূলত ক্ষমতার অসম লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের বোকা বনে যাওয়ার গল্পই এই গানের মাধ্যমে বলতে চেয়েছেন শিল্পী।
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় জুটি বিজয় দেবেরকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দান্না আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন এক মহাকাব্যিক গল্প নিয়ে। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে গত সোমবার নির্মাতারা তাদের নতুন এই চলচ্চিত্রের নাম ও মুক্তির তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। ‘রানাবালি’ শিরোনামের এই ছবিটি পরিচালনা করছেন রাহুল সাংকৃত্যন, যা আগামী ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ‘গীতা গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’ ছবিতে এই জুটির রসায়ন দর্শক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল, ফলে নতুন এই প্রজেক্ট নিয়ে ভক্তদের মাঝে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।
চলচ্চিত্রটির পটভূমি নিয়ে নির্মাতা সূত্র জানিয়েছে, ‘রানাবালি’ মূলত ১৯ শতকের ভারতের প্রেক্ষাপটে নির্মিত একটি পিরিয়ড ড্রামা। ১৮৫৪ থেকে ১৮৭৮ সালের মধ্যবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু বাস্তব ঐতিহাসিক ঘটনার অনুপ্রেরণায় ছবিটির চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়েছে। এতে বিজয় দেবেরকোন্ডাকে নাম ভূমিকায় অর্থাৎ ‘রানাবালি’ চরিত্রে দেখা যাবে এক অত্যন্ত রুক্ষ ও প্রভাবশালী লুকে, যা তার আগের চরিত্রগুলো থেকে একেবারেই ভিন্ন। অন্যদিকে রাশমিকা মান্দান্না পর্দায় হাজির হবেন ‘জয়াম্মা’ নামের একটি বলিষ্ঠ চরিত্রে।
ছবিটির অন্যতম বড় আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেতা আর্নল্ড ভসলু। হলিউডের কালজয়ী সিনেমা ‘দ্য মামি’-খ্যাত এই অভিনেতাকে এখানে ব্রিটিশ অফিসার ‘স্যার থিওডোর হেক্টর’-এর চরিত্রে দেখা যাবে, যিনি ছবিটির প্রধান খলনায়ক হিসেবে বিজয়ের বিপরীতে লড়াই করবেন। দীর্ঘ সময় পর বিজয় দেবেরকোন্ডা এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মিথ্রি মুভি মেকার্স এই ছবির মাধ্যমে তৃতীয়বারের মতো একসঙ্গে কাজ করছে। এর আগে পরিচালকের সাথে বিজয়ের ‘ট্যাক্সিওয়ালা’ ছবিটিও বেশ সফল হয়েছিল।
টি-সিরিজের ব্যানারে উপস্থাপিত এই বিগ বাজেটের ছবিটির সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন ভারতের জনপ্রিয় সুরকার জুটি অজয়-অতুল। ঐতিহাসিক আবহে নির্মিত এই ছবিটিতে তৎকালীন ভারতের রাজনীতি ও সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বড় পর্দার এই ধ্রুপদী লড়াই এবং বিজয়-রাশমিকা জুটির ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চলতি বছরের অন্যতম সফল সিনেমা হতে যাচ্ছে ‘রানাবালি’।
কাজের সংখ্যায় নয়, বরং মানের দিকেই বরাবর নজর অভিনেত্রী নিশাত প্রিয়মের। ওটিটি ও নাটকে নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেত্রী এবার আসছেন নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘মিডল ক্লাস ফ্যামিলি’ নিয়ে। এহসান এলাহী বাপ্পী ও আফনান শ্যামলের যৌথ পরিচালনায় নির্মিত এই ধারাবাহিকে উঠে আসবে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত জীবনের নানা টানাপোড়েন এবং বাস্তব সংকটের গল্প। নাটকটির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে রয়েছেন নজরুল ইসলাম রাজু।
নাটকটিতে প্রিয়মকে দেখা যাবে ‘তুলি’ নামের একটি বিশেষ চরিত্রে। চরিত্রটি মূলত এক উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ের, যে কি না ভালোবাসে এক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেকে। দুই মেরুর জীবনযাপন ও পারিবারিক বাস্তবতার সংঘাতে তাদের সম্পর্কে যে সংকট তৈরি হয়, তাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই গল্পে। চরিত্রটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত প্রিয়ম জানান, এমন একটি চরিত্রে কাজ করা তার জন্য দারুণ উপভোগ্য ছিল। এর জন্য তিনি পরিচালক ও পুরো টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর আগেও নজরুল ইসলাম রাজুর পরিচালনায় ‘সিটি লাইফ’ ধারাবাহিকে কাজ করেছিলেন তিনি।
শিগগিরই মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচার হতে যাওয়া এই ধারাবাহিকে প্রিয়মের বিপরীতে অভিনয় করছেন সৈয়দ জামান শাওন। উল্লেখ্য, প্রিয়মকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ‘ফ্যাকড়া’ নামের একটি ওয়েব ফিল্মে। এর আগে ‘মহানগর’ ও ‘অদৃশ্য’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ওয়েব কনটেন্টে তার অনবদ্য অভিনয় দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বক্স অফিসে একের পর এক রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রেক্ষাগৃহ মাতানোর পর এবার দর্শকদের ড্রয়িংরুমে ঝড় তুলতে আসছে আদিত্য ধর পরিচালিত মেগা ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘ধুরন্ধর’। রণবীর সিং ও অক্ষয় খান্না অভিনীত এই হাই-ভোল্টেজ স্পাই থ্রিলারটি প্রেক্ষাগৃহে অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। সিনেমা ব্যবসার তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘স্যাকনিল্ক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩০ জানুয়ারি (শুক্রবার) থেকে জনপ্রিয় স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে রেকর্ড ব্রেকিং এই সিনেমাটি।
কেবল বক্স অফিসেই নয়, ওটিটি স্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রেও বড় ধরণের বাজিমাত করেছে ‘ধুরন্ধর’। জানা গেছে, সিনেমাটি এবং এর সম্ভাব্য সিক্যুয়েলের ডিজিটাল স্বত্ব বাবদ নেটফ্লিক্সের সঙ্গে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৩০ কোটি রুপির একটি বিশাল চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ারে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে এত বড় অঙ্কের আয় এবারই প্রথম, যা তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের মুকুটে একটি নতুন পালক যুক্ত করল। প্রেক্ষাগৃহে যারা সিনেমাটি দেখার সুযোগ পাননি, তারা এখন ঘরে বসেই এই সিনেমা উপভোগ করতে পারবেন।
গত ৫ ডিসেম্বর মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে ‘ধুরন্ধর’। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ছবিটির মোট আয় এখন পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৩৯ কোটি রুপি। কেবল ভারতের বাজারেই মুক্তির ৪৮ দিনে এটির নেট সংগ্রহ ৮৮৪ কোটি এবং গ্রস কালেকশন প্রায় ৯৯৫ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। আয়ের এই বিশাল অংক দিয়ে ছবিটি সানি দেওলের ‘গদর ২’ কিংবা আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা ২’-এর মতো দানবীয় হিটগুলোকেও অনায়াসে পেছনে ফেলে দিয়েছে। বর্তমানে ভারতের বাজারে সর্বোচ্চ আয়কারী হিন্দি ছবির তকমাটি এখন গর্বের সঙ্গে ধরে রেখেছে ‘ধুরন্ধর’।
ঢালিউডের আলোচিত অভিনেতা ও প্রযোজক অনন্ত জলিল সিনেমা জগত থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মূলত নিজের তৈরি পোশাক ব্যবসায় বড় ধরণের ধস নামার কারণেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। সাভারে অবস্থিত তাঁর বিশাল শিল্প কারখানায় একসময় প্রায় ১২ হাজার জনবল কাজ করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে মাত্র ৪ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়িক এই চরম সংকট কাটিয়ে ওঠাকেই এখন তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, যার ফলে আপাতত সিনেমার রঙিন ভুবন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন এই তারকা।
অনন্ত জলিল স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিনয় বা পেন্ডিং থাকা সিনেমার কাজ শেষ করা নিয়ে তিনি কোনো চিন্তাই করছেন না। নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে তিনি বলেন, তিনি কখনোই সিনেমার জন্য অন্ধভাবে পাগল ছিলেন না, বরং একজন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী হিসেবে শুটিংয়ের ফাঁকেও সবসময় ব্যবসার খোঁজ রাখতেন। তাঁর মতে, ব্যবসার এমন নাজুক অবস্থায় যদি তিনি পূর্ণ মনোযোগ না দেন এবং সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তবে সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই ব্যবসার চাকা সচল ও স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তিনি সিনেমায় আর সময় দেবেন না।
২০০৮ সালে শোবিজ অঙ্গনে পা রাখা এই তারকা জানান, সিনেমা তাদের মূল পেশা নয় বরং শখের জায়গা। তাই তিনি যখন ফিরবেন, স্ত্রী বর্ষাকে নিয়েই ফিরবেন; আর না করলে দুজনের কেউই কাজ করবেন না। তাঁর হাতে থাকা ‘নেত্রী দ্য লিডার’ এবং ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এর মতো বড় বাজেটের সিনেমাগুলোর কাজ বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। এছাড়া জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে মাসুদ রানা সিরিজের ‘চিতা’ সিনেমার মহরত হলেও শুটিং শুরু হয়নি। এই সিনেমাগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনন্ত জলিল জানিয়েছেন, যদি কখনো ব্যবসায়িক সুদিন ফিরে আসে তবেই কাজগুলো শেষ করবেন, নতুবা প্রজেক্টগুলো আলোর মুখ দেখবে না।