বলিউডের প্রখ্যাত নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজের বহু প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘ও রোমিও’ বড় পর্দায় আসার ক্ষেত্রে সব ধরনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠেছে। মুম্বাইয়ের একটি আদালত সিনেমাটির মুক্তির ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার আবেদন নামঞ্জুর করায় এখন এটি নির্ধারিত সময়েই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। মুম্বাইয়ের কুখ্যাত গ্যাংস্টার হুসেন উস্তারার জীবনের ছায়া অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে—এমন দাবি তুলে তাঁর কন্যা সানোবার শেখ আদালতের কাছে এর প্রদর্শনী বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে আদালত সব তথ্য-প্রমাণ ও যুক্তি পর্যালোচনা করে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির পক্ষেই রায় প্রদান করেছেন।
‘ও রোমিও’ সিনেমাটি নিয়ে শুরু থেকেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল, যার অন্যতম কারণ এর তারকাসমৃদ্ধ অভিনয়শিল্পী তালিকা। এই সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা শহীদ কাপুর। তাঁর পাশাপাশি নারী প্রধান চরিত্রে রয়েছেন বর্তমান সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরি এবং দিশা পাটানি। এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অবিনাশ তিওয়ারি এবং বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরকে। বিশাল ভরদ্বাজের চিরচেনা শৈল্পিক নির্মাণ এবং মুম্বাইয়ের অন্ধকার জগতের আবহে নির্মিত হওয়ায় এটি চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইনি লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার পর সিনেমাটির প্রযোজনা ও বিপণন সংশ্লিষ্টরা এখন চূড়ান্ত প্রচারণার দিকে মনোনিবেশ করছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পেতে আর কোনো বাধা রইল না। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইনি বিতর্কের অবসান ঘটার পর সিনেমাটির প্রতি সাধারণ দর্শকদের কৌতূহল আরও বেড়েছে, যা বক্স অফিসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারি মাসের অন্যতম বড় আকর্ষণ হিসেবে ‘ও রোমিও’ দর্শকদের মাতাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের বহুল প্রতীক্ষিত যুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’-এর মুক্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১৭ এপ্রিল সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা প্রায় ক্ষীণ হয়ে এসেছে। মূলত সিনেমার শুটিং এখনো পুরোপুরি শেষ না হওয়া এবং ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পাওয়ার বিষয়টি ঝুলে থাকায় নির্ধারিত সময়ে সিনেমাটি দর্শকদের সামনে আসা নিয়ে বড় ধরণের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশাত্মবোধক ও সংবেদনশীল গল্পের সিনেমা হওয়ায় এর সেন্সর প্রক্রিয়া ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বেশ দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন, যা আগামী দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
কারিগরি সমস্যার পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিও সালমান খানকে বেশ চাপে ফেলেছে। একদিকে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ক্রমাগত হুমকি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে শুটিং চালিয়ে যাওয়ার মানসিক চাপ এবং অন্যদিকে গত বছর তাঁর অভিনীত ‘সিকান্দার’ সিনেমাটি বক্স অফিসে আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়া—সব মিলিয়ে সালমান ও নির্মাতারা এখন বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে সম্প্রতি পরিচালক রোহিত শেঠির বাড়ির সামনে হামলার ঘটনা ও সরাসরি হত্যার হুমকির মতো ঘটনাগুলো পুরো বলিউডে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এমন অস্থির পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে মেগা বাজেটের এই সিনেমাটি মুক্তি দিয়ে কোনো ধরণের ব্যবসায়িক বা নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি নিতে চাইছেন না সংশ্লিষ্টরা।
পরিচালক অপূর্ব সখিজা ও সালমান খান উভয়েই এখন সিনেমার গুণগত মান বজায় রাখার ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। ‘সিকান্দার’ ব্যর্থ হওয়ার পর সালমানের জন্য এই সিনেমাটি ক্যারিয়ারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই তাড়াহুড়ো না করে যথেষ্ট সময় নিয়ে যত্নসহকারে সিনেমাটি বড় পর্দায় আনার পক্ষেই মত দিয়েছেন অভিনেতা ও নির্মাতা পক্ষ। যদিও ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’-এর নতুন মুক্তির তারিখ সম্পর্কে এখনো সালমানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে সব বাধা কাটিয়ে শক্তিশালী এক দেশাত্মবোধক গল্পের মাধ্যমে সালমান আবারও তাঁর বক্স অফিস রাজত্ব ফিরে পাবেন বলে আশা করছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে লক্ষ্য করে ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চলচ্চিত্র পাড়ায় ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই সিনেমার কাস্টিং নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মাঝে এবার উঠে এসেছে মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ তানজিয়া জামান মিথিলার নাম। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, শাকিব খানের এই প্রজেক্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মিথিলার সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চলছে। সিনেমাটির দ্বিতীয় প্রধান নায়িকার চরিত্রের জন্য নির্মাতা আজমান রুশোর সঙ্গে মিথিলা ইতোমধ্যে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছেন এবং চরিত্রটি তাঁর বেশ পছন্দ হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সিনেমাটির প্রধান নারী চরিত্রটি। গুঞ্জন রয়েছে যে, ‘রকস্টার’ সিনেমার প্রধান নায়িকা হিসেবে কোনো পাকিস্তানি শীর্ষ তারকাকে দেখা যেতে পারে। মেগাস্টার শাকিব খানের সাম্প্রতিক সিনেমাগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জনপ্রিয় তারকাদের অন্তর্ভুক্ত করার যে ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তার ধারাবাহিকতায় এবারও নতুন কোনো চমক আসার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে এখনো মুখে কুলুপ এঁটে আছেন প্রযোজনা সংশ্লিষ্টরা। পরিচালক আজমান রুশোও গণমাধ্যমে এ বিষয়ে এখনই সরাসরি মুখ খুলতে রাজি হননি। তিনি জানিয়েছেন, দ্বিতীয় নায়িকার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে এবং সব চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো জল্পনায় কান না দেওয়াই শ্রেয়।
বর্তমানে শাকিব খান তাঁর বহুল আলোচিত ‘প্রিন্স’ সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভারতের বিভিন্ন লোকেশনে বর্তমানে এই সিনেমার দৃশ্যধারণ চলছে। জানা গেছে, ‘প্রিন্স’-এর কাজ শেষ করার পর ঢালিউড কিং দুই সপ্তাহের একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি নেবেন এবং এরপরই পুরোপুরি মনোনিবেশ করবেন ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংয়ে। ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঈদের বিগ বাজেটের এই সিনেমাটি বড় পর্দায় বিশেষ ধামাকা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাস্টিং থেকে শুরু করে নির্মাণের কারিগরি দিক—সবকিছুতেই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নির্মাতা ও প্রযোজনা সংস্থা।
বিশ্বজুড়ে সমাদৃত মার্কিন রক ব্যান্ড ‘থ্রি ডোরস ডাউন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং প্রধান ভোকালিস্ট ব্র্যাড আর্নল্ড আর নেই। ক্যানসারের সাথে দীর্ঘ এক বছরের প্রাণান্তকর লড়াই শেষে ৪৭ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এই গ্র্যামি-মনোনীত রকস্টার। গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজ বাসভবনে ঘুমের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ব্যান্ডের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যেই ছিলেন। ব্র্যাড আর্নল্ড স্টেজ–৪ কিডনি ক্যানসারে (ক্লিয়ার সেল রেনাল কার্সিনোমা) আক্রান্ত ছিলেন, যা পরবর্তীতে তাঁর ফুসফুসেও ছড়িয়ে পড়েছিল।
২০২৫ সালের মে মাসে ব্র্যাড আর্নল্ড প্রথমবারের মতো তাঁর শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি ভক্তদের সামনে প্রকাশ করেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে, তাঁর শরীরে স্টেজ–৪ ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। অসুস্থতার খবর জানিয়েও অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি; জানিয়েছিলেন মৃত্যুর ভয় তাঁকে গ্রাস করতে পারেনি এবং ভক্তদের কাছে প্রার্থনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সংগীত জীবনের বাইরেও ব্যক্তিজীবনে তাঁর এই দৃঢ় মানসিকতা ভক্তদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে ব্র্যাড আর্নল্ডের হাত ধরেই গঠিত হয় ‘থ্রি ডোরস ডাউন’। ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘দ্য বেটার লাইফ’ প্রকাশের পরপরই আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং প্রায় ছয় মিলিয়নের বেশি কপি বিক্রি হয়। ব্যান্ডটির এখন পর্যন্ত প্রকাশিত ছয়টি অ্যালবামের ঝুলিতে রয়েছে একাধিক গ্র্যামি মনোনয়ন এবং বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডের মতো সম্মাননা। বিশেষ করে ব্র্যাড আর্নল্ডের লেখা ও গাওয়া ‘ক্রিপ্টোনাইট’, ‘হেয়ার উইথাউট ইউ’, ‘হোয়েন আই’ম গন’ এবং ‘লুজার’-এর মতো কালজয়ী গানগুলো তাঁকে রক সংগীতের ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
ব্র্যাড আর্নল্ডের মৃত্যুতে বিশ্ব সংগীত অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর শক্তিশালী কণ্ঠ এবং অসাধারণ লেখনী কয়েক দশক ধরে ভক্তদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল। তাঁর প্রয়াণ রক সংগীতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে তাঁর সৃষ্টি ও কালজয়ী সুরগুলো আগামী দিনগুলোতেও সংগীতপ্রেমীদের মাঝে বেঁচে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, অসংখ্য কালজয়ী গানের কারিগর শাহ নেওয়াজ আর নেই। গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৩টা ৩৩ মিনিটে কানাডার মন্ট্রিয়ালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালকের বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তাঁর মৃত্যুর সংবাদটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে স্বদেশ নেওয়াজ। গুণী এই শিল্পীর প্রয়াণে দেশের সংগীত অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে শাহ নেওয়াজ গত বছরের ৭ ডিসেম্বর মন্ট্রিয়ালের রয়েল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দীর্ঘদিন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই দীর্ঘ চিকিৎসাকালে একাধিকবার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি পরলোকে পাড়ি জমান। দীর্ঘ সংগীত জীবনে তিনি নিভৃতে থেকে বাংলা গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন।
আধুনিক বাংলা গানের বিকাশে শাহ নেওয়াজ ছিলেন এক নিভৃতচারী কারিগর। প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করতেন তিনি, তবে তাঁর সৃষ্ট সুর পৌঁছে গেছে কোটি মানুষের হৃদয়ে। তাঁর সুরে ছিল এক গভীর অন্তর্মুখী আবেশ ও সংযম। বিশেষ করে বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্বর্ণযুগে তাঁর সুরারোপিত বহু গান আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পায়। তাঁর অমর সৃষ্টিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রফিকুল আলমের কণ্ঠে ‘আশা ছিল মনে মনে প্রেম করিব তোমার সনে’, যা আজও বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে এক অনন্য আবেগ। এ ছাড়া নজরুল ইসলাম বাবুর কথায় এবং মলয় কুমার গাঙ্গুলী ও দিলরুবা খানের কণ্ঠে ‘রেললাইন বহে সমান্তরাল’ গানটি তাঁর সংগীত পরিচালনার এক কালজয়ী নিদর্শন। ১৯৮৩ সালে বিটিভির নাটকে ব্যবহৃত এই গানটি এখনো সমানভাবে জনপ্রিয়।
সংগীত জীবনে শাহ নেওয়াজ শাহনাজ রহমতুল্লাহর কণ্ঠে ‘বন্ধু রে তোর মন পাইলাম না’ এবং ‘আমার মাটির জায়নামাজ’-এর মতো জনপ্রিয় ও আধ্যাত্মিক চেতনার গান উপহার দিয়েছেন। তাঁর সুরে গান গেয়েছেন দেশের কিংবদন্তি শিল্পী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার, সৈয়দ আব্দুল হাদী, রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমীন এবং এন্ড্রু কিশোর। শুধু দেশের ভেতরেই নয়, তাঁর সুরের জাদু ছড়িয়ে পড়েছিল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও। ভারতের প্রখ্যাত শিল্পী ভূপেন হাজারিকা এবং হৈমন্তী শুক্লার মতো শিল্পীরাও তাঁর সুরের মায়ায় কণ্ঠ দিয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে শাহ নেওয়াজ স্ত্রী, এক কন্যা ও দুই পুত্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মরদেহ মন্ট্রিয়ালের স্থানীয় একটি কবরস্থানে সমাহিত করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সুরের এই জাদুকর চলে গেলেও তাঁর সৃষ্ট কালজয়ী গানগুলো চিরকাল বাংলা সংগীতের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে এবং নতুন প্রজন্মের সংগীতকর্মীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।
হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও চর্চিত জুটি টম হল্যান্ড এবং জেন্ডায়াকে নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। 'স্পাইডারম্যান' খ্যাত এই পর্দার ওপারের জুটির বাস্তব জীবনের প্রেম নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে যে, জেন্ডায়া মা হতে চলেছেন এবং টম হল্যান্ড প্রথমবারের মতো বাবা হতে যাচ্ছেন। এই খবরে বিশ্বজুড়ে তাদের ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলেও বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই মুখরোচক গুঞ্জনের সূত্রপাত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি প্যারোডি অ্যাকাউন্ট থেকে। কোনো নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বা এই তারকা দম্পতির সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিনিধি এখন পর্যন্ত খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেননি। মূলত একটি ভাইরাল পোস্টকে কেন্দ্র করেই এই জল্পনার ডালপালা মেলেছে। এর আগেও একাধিকবার জেন্ডায়ার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, যা সে সময় তার মা সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে এবারের জল্পনাটি নেটিজেনদের কাছে একটু ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে জেন্ডায়ার সাম্প্রতিক পোশাক নির্বাচনের কারণে।
বেশ কিছু সাম্প্রতিক অনুষ্ঠানে জেন্ডায়াকে প্রথাগত ফিটিং পোশাকের বদলে বেশ ঢিলেঢালা ও ওভারসাইজ পোশাকে দেখা গেছে। সাধারণত ফ্যাশন সচেতন হিসেবে পরিচিত এই অভিনেত্রীর এমন আকস্মিক পরিবর্তনকে অনেক ভক্তই তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গোপন সংকেত হিসেবে ধরে নিচ্ছেন। তারা মনে করছেন, শরীরের পরিবর্তন আড়াল করতেই তিনি হয়তো এমন পোশাক বেছে নিচ্ছেন। তবে টম বা জেন্ডায়া কেউই এখন পর্যন্ত এই আলোচনা নিয়ে মুখ খোলেননি, যা রহস্যকে আরও ঘনীভূত করছে।
ব্যক্তিগত জীবনের এই শোরগোলের মাঝেই জেন্ডায়া তার ক্যারিয়ারের অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমানে বেশ কিছু বড় মাপের প্রজেক্ট তার হাতে রয়েছে। এর মধ্যে রবার্ট প্যাটিনসনের বিপরীতে একটি রোম্যান্টিক ছবি ছাড়াও রয়েছে জনপ্রিয় সিরিজ 'ইউফোরিয়া সিজন ৩', ব্লকবাস্টার মুভি 'ডুন পার্ট ৩' এবং টম হল্যান্ডের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত 'স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে'। সব মিলিয়ে পেশাগত ব্যস্ততা এবং ব্যক্তিগত জীবনের গুঞ্জন—উভয় কারণেই বর্তমানে বিশ্ব বিনোদনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই তারকা জুটি। তবে শেষ পর্যন্ত এই খবরটি নিছক গুঞ্জন নাকি নতুন কোনো শুভ সংবাদ, তা জানার জন্য ভক্তদের আরও কিছুকাল অপেক্ষা করতে হবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে ভারতের বিভিন্ন লোকেশনে শুরু হয়েছে ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘প্রিন্স’-এর শুটিং। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের বেশ পরে এই কাজ শুরু হলেও বর্তমানে কোনো বাধা ছাড়াই পুরোদমে এগিয়ে চলছে সিনেমাটির দৃশ্যধারণ। প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সিনেমার পুরো টিম এখন ভারতে অবস্থান করছে এবং পূর্বপরিকল্পিত দৃশ্যগুলোর কাজ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে। মেগাস্টার শাকিব খানের এই নতুন প্রজেক্টটি নিয়ে শুরু থেকেই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য যে, প্রথম পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের ডিসেম্বরেই ভারতের বিভিন্ন স্থানে এই সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে শিল্পী ও কলাকুশলীদের ভিসা প্রাপ্তিতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হওয়ায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সময় বাঁচাতে পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশে সিনেমার কাজ শুরু করেন। এমনকি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সিনেমার কিছু বিশেষ অংশের দৃশ্যধারণ শ্রীলঙ্কাতেও করা হয়। তবে গল্পের প্রয়োজনে ভারতের নির্দিষ্ট কিছু লোকেশন অপরিহার্য হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেখানেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয় এবং সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে টিম এখন সেখানে অবস্থান করছে।
ভারতে কাজ শুরু করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ ও প্রযোজক শিরিন সুলতানা এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে আগ্রহী নন। আপাতত কাজের গতি বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনা এড়াতে তারা কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুটিংয়ের একটি বড় অংশ শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমের কাছে সিনেমার বিস্তারিত ও অন্যান্য কলাকুশলীদের তথ্য তুলে ধরা হবে। বর্তমানে পুরো ইউনিটের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মানসম্পন্ন কাজ উপহার দেওয়া।
শিডিউল নিয়ে শুরুতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হলেও ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি আসন্ন রোজার ঈদেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই সিনেমাটি ঈদ উৎসবে শাকিব খানের ভক্তদের জন্য বড় পর্দার বিশেষ আকর্ষণ হতে যাচ্ছে। দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে চিত্রায়িত এবং আধুনিক নির্মাণশৈলীর এই সিনেমাটি ঢালিউডের ব্যবসায়িক সাফল্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সব বাধা পেরিয়ে সিনেমাটির কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এর সাথে যুক্ত শিল্পী ও কলাকুশলীরা।
বলিউড সুপারস্টার অক্ষয় কুমার এবং প্রখ্যাত নির্মাতা প্রিয়দর্শনের বহু প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ভূত বাংলা’র মুক্তির তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের ঘোষিত সময়ের প্রায় এক মাস আগেই বড় পর্দায় ফিরছে এই জনপ্রিয় জুটি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভৌতিক-কমেডি ঘরানার এই সিনেমাটি আগামী ১০ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। শনিবার সামাজিক মাধ্যমে একটি টিজার শেয়ার করার মাধ্যমে অভিনেতা অক্ষয় কুমার নিজেই এই রোমাঞ্চকর তথ্যটি ভক্তদের সাথে শেয়ার করেছেন।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘ভূত বাংলা’ আগামী বছরের ১৫ মে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও দর্শকদের আগ্রহ ও নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতির কথা বিবেচনায় রেখে মুক্তির তারিখটি এগিয়ে আনা হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে সিনেমাটির টিজার প্রকাশের পাশাপাশি এর দিন গণনা শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন অক্ষয় কুমার। টিজারের ক্যাপশনে তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘ভূত বাংলা’র কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে এবং আগামী ১০ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের সাথে দেখা হচ্ছে। এই ঘোষণাটি ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে, কারণ দীর্ঘ বিরতির পর ফের ভৌতিক হাসির আমেজে পর্দায় আসছেন অক্ষয়।
সিনেমাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে কারণ দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফের একসঙ্গে কাজ করছেন অক্ষয় কুমার ও প্রিয়দর্শন। বলিউডে এই জুটিকে সফলতার অন্যতম কারিগর মনে করা হয়। এর আগে তারা ‘হেরা ফেরি’, ‘গরম মশলা’, ‘ভুল ভুলাইয়া’ এবং ‘ভাগাম ভাগ’-এর মতো কালজয়ী ও ব্যবসাসফল কমেডি সিনেমা উপহার দিয়েছেন। ২০১০ সালে ‘খাট্টা মিঠা’ মুক্তির পর এই জুটি আর কোনো কাজ করেনি। ফলে ‘ভূত বাংলা’র মাধ্যমে তাদের প্রত্যাবর্তন ভক্তদের কাছে এক বিশাল প্রাপ্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
‘ভূত বাংলা’ সিনেমায় অক্ষয় কুমারের পাশাপাশি একঝাঁক শক্তিমান তারকা শিল্পীকে দেখা যাবে। এতে অভিনয় করেছেন পরেশ রাওয়াল, তাবু, রাজপাল যাদব এবং ওয়ামিকা গাব্বি। এছাড়া সিনেমাটিতে প্রয়াত প্রবীণ অভিনেতা আসরানিকেও দেখা যাবে, যা দর্শকদের জন্য বাড়তি এক আবেগের জায়গা তৈরি করেছে। বালাজি মোশন পিকচার্সের ব্যানারে এটি প্রযোজনা করেছেন একতা কাপুর ও শোভা কাপুর এবং সহ-প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন অক্ষয় কুমার নিজে। সব মিলিয়ে একটি জমজমাট বিনোদনমূলক সিনেমা দেখার আশায় এখন মুখিয়ে আছেন সিনেমাপ্রেমীরা।
ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভ ও কলকাতার অভিনেত্রী মন্দিরা চক্রবর্তী অভিনীত ‘নীলচক্র’ সিনেমাটি নিয়ে হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। গত বছর ঈদে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি সম্প্রতি ইউটিউবে ‘চক্রব্যূহ’ নামে প্রকাশ পাওয়ায় দর্শকদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টার এই চলচ্চিত্রটি দেখে দর্শকরা প্রথমে নতুন কোনো সিনেমা মনে করলেও পরে স্পষ্ট হয় যে, এটি আসলে ‘নীলচক্র’ সিনেমারই একটি পরিবর্তিত ও এডিটেড সংস্করণ। নতুন নামে এটি প্রচার হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে নানা কৌতূহল ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ইউটিউবে মুক্তি পাওয়া এই সংস্করণে দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্মিত মূল সিনেমাটির ভাষা পরিবর্তন করে কলকাতার ঢঙে ডাবিং করা হয়েছে। শুধু ডাবিং নয়, সিনেমার বেশ কিছু দৃশ্যেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এমন অদ্ভুত ও অনাকাঙ্ক্ষিত রূপান্তর দেখে দর্শকরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। নেটিজেনদের মধ্যে গুঞ্জন ওঠে যে, সিনেমাটির কপিরাইট বা স্বত্ব অন্য কোথাও বিক্রি করা হয়েছে কি না। তবে বিষয়টি নিয়ে সিনেমাটির নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।
এই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির বিষয়ে সিনেমাটির পরিচালক মিঠু খান বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইউটিউবে সিনেমাটি এভাবে মুক্তি পাওয়ার খবর তিনি আগে জানতেন না এবং কোনো ইউটিউব চ্যানেলের কাছে এর কপিরাইট বা প্রচারের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। পরিচালকের মতে, এটি একটি বড় ধরনের পাইরেসির ঘটনা। তিনি ধারণা করছেন, সিনেমাটির পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ কলকাতায় সম্পন্ন হওয়ায় সেখানকার কোনো ল্যাব বা কারিগরি কাজের সাথে যুক্ত কেউ অসাধু উপায়ে এটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছে।
পরিচালক মিঠু খান আরও জানান, অনুমতি ছাড়া সিনেমাটির নাম ও ভাষা পরিবর্তন করে ইউটিউবে প্রকাশ করায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তারা বর্তমানে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছেন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি ইউটিউব থেকে সিনেমাটির পাইরেটেড সংস্করণ সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। বিনোদন অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং যথাযথ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিনোদন অঙ্গনে জনপ্রিয় তারকাদের পেশাদার জীবন থেকে আকস্মিক বিরতি নেওয়ার এক বিশেষ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং চলচ্চিত্রে আর গান না গাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই জনপ্রিয় স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান জাকির খানও পেশাদার জীবন থেকে সাময়িক বিরতির কথা জানিয়েছেন। তারকাদের এমন সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়ে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন জগতে নানা জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই বিষয়টি নিয়ে নিজের গভীর জীবনবোধ ও তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন ওটিটির জনপ্রিয় চরিত্র ‘কালিন ভাইয়া’ খ্যাত অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠী। তিনি মনে করেন, একজন শিল্পীর জন্য নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে এবং সৃজনশীলতা বজায় রাখতে নিয়মিত বিরতি নেওয়া কেবল জরুরিই নয়, বরং অপরিহার্য।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পঙ্কজ ত্রিপাঠী বলেন যে, সৃজনশীল কাজ অত্যন্ত শ্রমসাধ্য এবং গভীর মানসিক চাপের। তিনি অত্যন্ত চমৎকার একটি রূপকের আশ্রয় নিয়ে জানান যে, শিল্পীরা কোনো কারখানার যান্ত্রিক পণ্য নন। একটি কারখানায় প্রতিদিন যেমন যন্ত্রের সাহায্যে হাজার হাজার ম্যাচবক্স বা দিয়াশলাই তৈরি করা হয়, একজন শিল্পীর কাজ বা সৃষ্টি সেভাবে যান্ত্রিক উপায়ে হতে পারে না। বর্তমানের এই চরম প্রতিযোগিতার যুগে প্রতিটি অভিনেতা বা সংগীতশিল্পীকে অনেক সংগ্রাম ও দীর্ঘ ত্যাগের বিনিময়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে হয়েছে। ক্রমাগত বিরতিহীন কাজ করতে থাকলে সেই সৃষ্টির আনন্দ ও কাজের গুণমান একসময় একঘেয়েমিতে রূপ নিতে পারে।
পঙ্কজ ত্রিপাঠী আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতিদিন শুটিং সেটে যাওয়ার জন্য মনের ভেতরে এক ধরনের সজীবতা, উত্তেজনা এবং কাজের প্রতি গভীর তাগিদ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বিরামহীন কাজ করতে থাকলে সেই প্রেরণা একসময় হারিয়ে যায়, যা শিল্পীর কাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই অরিজিৎ সিং কিংবা জাকির খানের মতো তারকারা যে কাজ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাকে তিনি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, সৃজনশীল মনের সতেজতা বজায় রাখতে মাঝেমধ্যে কর্মবিরতি প্রয়োজন, যাতে নতুন উদ্যমে আবারও শ্রেষ্ঠ কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব হয়। পঙ্কজ ত্রিপাঠীর এই স্পষ্ট ও সংবেদনশীল মন্তব্য শোবিজ অঙ্গনের শিল্পীদের কাজের পরিবেশ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছে বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি অভিনীত নতুন ওয়েব সিরিজ ‘তস্করি: দ্য স্মাগলার টাইম’। প্রথম ভারতীয় ওয়েব সিরিজ হিসেবে এটি নেটফ্লিক্সের নন-ইংলিশ বা ইংরেজি ভাষা ব্যতীত অন্য ভাষার সিরিজের বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। বিশ্বজুড়ে ভারতীয় কন্টেন্টের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা এবার ইমরান হাশমির এই সিরিজের মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
নেটফ্লিক্সের অফিশিয়াল ডেটা প্ল্যাটফর্ম ‘টুডুম’-এর সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ‘তস্করি’ সিরিজটি রেকর্ড ৫৪ লাখ ভিউ অর্জন করেছে। এই বিপুল পরিমাণ ভিউয়ারশিপ নিয়ে সিরিজটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইমরান হাশমির এই দুর্ধর্ষ ক্রাইম থ্রিলারটি এমনকি বর্তমান সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় কোরিয়ান রোমান্টিক কমেডি সিরিজ ‘ক্যান দিস লাভ বি ট্রান্সলেটেড?’-কেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। একই সময়ে কিম সিওন হো অভিনীত কোরিয়ান এই সিরিজটি প্রায় ৪০ লাখ ভিউ সংগ্রহ করে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে।
ইমরান হাশমির অনবদ্য অভিনয় এবং পাচার বা স্মাগলিং জগতের অন্ধকার দিক নিয়ে তৈরি টানটান উত্তেজনার গল্পের কারণে সিরিজটি কেবল ভারতে নয়, বরং আন্তর্জাতিক দর্শকদের মাঝেও সমানভাবে সমাদৃত হচ্ছে। বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, ইমরান হাশমি তাঁর ক্যারিয়ারের এক নতুন সোনালী অধ্যায় পার করছেন, যেখানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তাঁর অভিনীত কন্টেন্টগুলো বৈশ্বিক মানের প্রতিযোগিতায় প্রথম সারিতে উঠে আসছে। এর আগে ভারতের অনেক সিরিজ বৈশ্বিক তালিকায় জায়গা করে নিলেও একদম চূড়ায় পৌঁছানোর কৃতিত্ব এবারই প্রথম ‘তস্করি’ অর্জন করল। এই সাফল্য আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় গল্পের এক শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে। মূলত শক্তিশালী নির্মাণশৈলী এবং ইমরান হাশমির আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাই এই ঐতিহাসিক অর্জনের প্রধান কারিগর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এইচবিওর জনপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’-এর তৃতীয় মৌসুমে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসার পর এবার নতুন এক চমক নিয়ে আসছেন কে-পপ ব্যান্ড ব্ল্যাকপিঙ্কের জনপ্রিয় সদস্য লিসা। প্রথমবারের মতো নেটফ্লিক্সের একটি রোমান্টিক কমেডি সিনেমায় দেখা যাবে এই বিশ্বখ্যাত গায়িকাকে। এই সিনেমায় কেবল অভিনয়ই নয়, বরং লিসা নির্বাহী প্রযোজকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করবেন। মিডল চাইল্ড প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিতব্য এই সিনেমাটির প্রযোজনা করছেন ডেভিড বার্নাড, যিনি এর আগে ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’ সিরিজের সফল প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। লিসার এই নতুন পদযাত্রা তাঁর বহুমুখী প্রতিভার এক অনন্য স্বাক্ষর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিনেমার নাম ও বিস্তারিত কাহিনী এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, নব্বইয়ের দশকের ক্ল্যাসিক রোমান্টিক কমেডি সিনেমা ‘নটিং হিল’ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এই নতুন কাজটির পরিকল্পনা করা হয়েছে। জানা গেছে, ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’-এর শুটিং চলাকালীনই প্রযোজক ডেভিড বার্নাড ও লিসা এই সিনেমার মূল ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখছেন ‘সেট ইট আপ’ খ্যাত লেখক কেটি সিলভারম্যান। এ ছাড়া লিসা নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় ‘এক্সট্র্যাকশন’ ইউনিভার্সের একটি সিনেমাতেও কাজ করেছেন, যা তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
থাইল্যান্ড থেকে মাত্র ১৩ বছর বয়সে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমানো লিসা ২০১৬ সালে ব্ল্যাকপিঙ্ক ব্যান্ডে যোগ দিয়ে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পান। প্রায় এক দশকের সফল ক্যারিয়ারে তিনি এশিয়া থেকে ইউরোপ—প্রতিটি মহাদেশেই কোটি কোটি অনুরাগীর মন জয় করেছেন। ব্যান্ডের পাশাপাশি একক ক্যারিয়ারেও তিনি সমান উজ্জ্বল। তাঁর প্রথম একক পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যালবাম ‘অলটার ইগো’ গত বছর বিলবোর্ডের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল, যা একজন এশীয় শিল্পীর জন্য অত্যন্ত গৌরবের। বর্তমানে ২৯ বছর বয়সী এই তারকা সংগীতের পাশাপাশি অভিনয় জগতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে মরিয়া। লিসার নতুন এই সিনেমাটি নেটফ্লিক্সের দর্শকদের জন্য এক দারুণ উপহার হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিনোদন বিশ্লেষকরা।
নেদারল্যান্ডসের রটারডাম শহরে অনুষ্ঠিত ৫৫তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রটারডাম (আইএফএফআর)-এ ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের সিনেমা ‘মাস্টার’। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে উৎসবের জমকালো আয়োজনে সিনেমাটি মর্যাদাপূর্ণ ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জয় করেছে। রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত এই চলচ্চিত্রের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের সমসাময়িক সিনেমার জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ বছরের আইএফএফআর আসরটি বাংলাদেশের জন্য শুরু থেকেই ছিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এবারই প্রথম এই সম্মানজনক উৎসবে একসঙ্গে দেশের তিনটি সিনেমা বিভিন্ন বিভাগে অংশ নেওয়ার বিরল সুযোগ পেয়েছিল।
পুরস্কার জয়ের এই অভাবনীয় মুহূর্তের সাক্ষী হতে নেদারল্যান্ডসে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত এবং সিনেমার প্রধান তিন অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম ও নাসির উদ্দিন খান। পুরস্কার ঘোষণার সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তাঁরা। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এটি পুরো টিমের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফসল এবং বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি দিন। জাকিয়া বারী মম-ও তাঁর আনন্দঘন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে এই আন্তর্জাতিক অর্জনকে দেশের চলচ্চিত্রের এক নতুন দিগন্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। উৎসবস্থলে বাংলাদেশের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ‘মাস্টার’ টিমের আনন্দ ও উচ্ছ্বাস উপস্থিত আন্তর্জাতিক দর্শক ও সমালোচকদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘মাস্টার’ সিনেমাটির কাহিনী গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের একটি মফস্বল উপজেলার স্থানীয় রাজনীতি ও ক্ষমতার জটিল টানাপড়েনকে কেন্দ্র করে। গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সামাজিক বাস্তবতার এক নিপুণ চিত্রায়ণ করেছেন নির্মাতা সুমিত। সিনেমাটিতে আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম ও নাসির উদ্দিন খান ছাড়াও অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, লুৎফর রহমান জর্জ ও শরিফ সিরাজের মতো গুণী শিল্পীরা। আইএফএফআর-এর এবারের আসরে ঢাকা থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিল্পী ও কুশলী অংশ নিয়েছিলেন, যা বাংলাদেশি সিনেমার বৈশ্বিক প্রসারের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা। ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জয়ের ফলে ‘মাস্টার’ সিনেমাটি এখন আন্তর্জাতিক ডিস্ট্রিবিউশন ও বড় পরিসরে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। তরুণ নির্মাতাদের বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণে এই জয় নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।