বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

সংসার, প্রেম, ক্যারিয়ার দ্বৈরথ

প্রেম আর ক্যারিয়ারের দ্বৈরথের যেন বিরাম নেই।
আপডেটেড
২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৩:১১
তানজিনা আলম
প্রকাশিত
তানজিনা আলম

আমেরিকান সংগীত ব্যক্তিত্ব লেডি গাগার একটা বিখ্যাত উক্তি- ‘কিছু নারী পুরুষদের অনুসরণ করেন আর কিছু নারী তাদের স্বপ্নকে অনুসরণ করেন। তবে কোনদিকে যাবেন এ নিয়ে দ্বিধায় থাকলে মনে রাখবেন, এক দিন ঘুম থেকে উঠে আপনার ক্যারিয়ার কখনো বলবে না, আমি তোমাকে আর ভালোবাসি না।’ অন্যদিকে একদমই বিপরীতমুখী কথা বলেছেন বলিউড অভিনেত্রী কাজল। তার মতে, ‘বিয়ের আগে ক্যারিয়ারই আমার প্রায়োরিটি ছিল। কিন্তু বিয়ের পর দায়িত্ব, প্রায়োরিটি- সবই বদলে গেছে। ক্যারিয়ার আমার জীবনের একটি অংশ, কিন্তু আমার স্বামী আর সন্তানদের প্রতি ভালোবাসাই আমার গোটা জীবন।’

সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মী দুটো কথার দুটোই সত্য হতে পারে। যেমন ছোটবেলায় পড়া, ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো’ এবং ‘দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো’ বিপরীতমুখী দুটো কথা, কিন্তু দুটোই সমানভাবে প্রচলিত।

প্রেম আর ক্যারিয়ারের দ্বৈরথের যেন বিরাম নেই। ক্যারিয়ার মেয়েদের জীবনের একটা অঙ্গ বলে মনে করেন প্রায় সবাই। আর সেখানেই বিপত্তি হয়-ক্যারিয়ারকে সময় দিলে অভিমান জমে প্রেমের সম্পর্কে। আর নিজের ইচ্ছাকে কষ্ট দিয়ে অন্যের আকাঙ্ক্ষা পূরণ ও সহজ নয়। যা-ই বাছাই করা হোক, সে ক্ষেত্রে অন্যটা কেন করলাম না, তা নিয়ে অনুশোচনা করার সুযোগ নেই। আর দুই দিকের খুঁটিনাটি ভালো করে ভেবে সিদ্ধান্ত নিলে এই অনুশোচনা কম হবে। তবে সবচেয়ে ভালো দুটোকেই ভারসাম্য করে চলার শিল্প রপ্ত করে ফেললে।

ভালোবাসা ছাড়া যেমন জীবনটা ফাঁকা লাগে, ঠিক তেমনই জীবনে একটা কিছু করার ইচ্ছেটাকেও দমিয়ে রাখা কঠিন। সেই ছোটবেলা থেকে ভালো রেজাল্টের পেছনে ছোটা, রাতের পর রাতে জেগে ডিগ্রি নেয়া, অফিস পলিটিক্স সহ্য করে খেটে প্রমোশন পাওয়া- সব আজ নতুন সম্পর্ক বা সম্পর্কের মোড় বদলানোর কারণে বাদ দিতে হবে, এসবেরও কোনো মানে নেই।

একজন ব্যক্তি তার জীবনের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা, বাস্তবায়ন করতে পারলে তাতে সবচেয়ে বেশি খুশি হওয়ার কথা প্রিয়জনেরই। তা ছাড়া আর্থিক স্বনির্ভরতাও থাকে। কিন্তু পার্টনারের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া না থাকলে ক্যারিয়ার আর প্রেমকে একসঙ্গে নিয়ে চলা মুশকিল। ক্যারিয়ার থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা, পরিকল্পনা আর পরিবারের থেকে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স, দুটোই ঘর-অফিস দুই জায়গায়ই কাজে দেয়। ক্যারিয়ারে সফল হওয়া মানেই শুধু স্যালারিতে অতিরিক্ত সংখ্যা যোগ হওয়া না। এতে আত্মবিশ্বাস, নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধি পায়, নিজস্ব পরিচিতি তৈরি হয়। আবার ব্যস্ততা না থাকলে অলস মস্তিষ্কেও দুশ্চিন্তা, ডিপ্রেশন ভর করে। তার মানে এই নয়, বড় কোনো অফিসেই কাজ করতে হবে। মূল বিষয় কোনো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা। কারণ, কাছের মানুষ যখন ব্যস্ততা বা অন্য কোনো কারণে পাশে থাকতে পারে না, তখন ক্যারিয়ারই জীবনের মানে খুঁজতে সাহায্য করে। তবে যেকোনো ক্ষেত্রে নিজের ১০০ শতাংশ দেয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, ট্রান্সফার হলে বা অন্য ডিপার্টমেন্টে কাজ করতে হলে তখনো কী একই রকম কেরিয়ারিস্ট থাকবেন কি না, কলিগদের আড্ডা আর অফিস পার্টি দারুণ লাগে বলেই ক্যারিয়ারকে বেছে নিচ্ছেন কি না। আবার আর্থিকভাবে পার্টনারের ওপর নির্ভরশীল হলে যদি কখনো বিচ্ছেদ হয়ে যায়, তখন বিকল্প কিছু কাজের কথা ভেবে রেখেছেন কি না।


দ্বার খুলল বইমেলার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধনের পর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:২৭
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

লেখক, পাঠক, প্রকাশকসহ বইপ্রেমীদের বছরব্যাপী অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে খুলল অমর একুশে বইমেলার দুয়ার। বুধবার রাজধানীর বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলা একাডেমি আয়োজিত এ বছরের বইমেলার প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘পড়ো বই গড়ো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত সাতটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। যার মধ্যে রয়েছে- শেখ হাসিনা সম্পাদিত শেখ মুজিবুর রহমান রচনাবলি-১, কারাগারের রোজনামচা পাঠ বিশ্লেষণ, অসমাপ্ত আত্মজীবনী পাঠ বিশ্লেষণ ও আমার দেখা নয়াচীন পাঠ বিশ্লেষণ, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ রচিত আমার জীবন নীতি, আমার রাজনীতি এবং জেলা সাহিত্য মেলা ২০২২ (১ম খণ্ড)।

অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি সচিব মো. আবুল মনসুর।
বাংলা একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি আরিফ হোসেন ছোটন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার হস্তান্তরের পর বিজয়ীদের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন। ছবি: ফোকাস বাংলা

অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২২ প্রাপ্ত ১৫ জন কবি, লেখক ও গবেষকের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এবার কবিতায় ফারুক মাহমুদ ও তারিক সুজাত, কথাসাহিত্যে তাপস মজুমদার ও পারভেজ হোসেন, প্রবন্ধ বা গবেষণায় মাসুদুজ্জামান, অনুবাদে আলম খোরশেদ, নাটকে মিলন কান্তি দে ও ফরিদ আহমদ দুলাল, শিশুসাহিত্যে ধ্রুব এষ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় মুহাম্মদ শামসুল হক, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণায় সুভাষ সিংহ রায়, বিজ্ঞান বা কল্পবিজ্ঞান বা পরিবেশ বিজ্ঞানে মোকারম হোসেন, আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথা বা ভ্রমণকাহিনিতে ইকতিয়ার চৌধুরী এবং ফোকলোরে আবদুল খালেক ও মুহম্মদ আবদুল জলিল পুরস্কৃত হয়েছেন।

বাংলা একাডেমি সূত্র মতে, বইমেলা ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। তবে, দর্শক, ক্রেতা ও পাঠকরা রাত সাড়ে ৮টার পরে মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকতে পারবেন না। সরকারি ছুটির দিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং দুপুরে খাবার ও নামাজের জন্য এক ঘণ্টা বিরতি থাকবে।

এবারের মেলায় ৬০১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯০১টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত বছর ৫৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭৪টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। এবার বাংলা একাডেমি মাঠে ১১২টি প্রতিষ্ঠানকে ১৬৫টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪৮৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৩৬টি স্টল বরাদ্দ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া, প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ হয়েছে ৩৮টি। পাশাপাশি লিটলম্যাগ চত্বরে ১৫৩টি স্টল থাকছে, যা ২০২২ সালে ছিল ১২৭টি, ২০২১ সালে ১৪০টি এবং ২০২০ সালে ছিল ১৫৫টি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বইমেলার উদ্বোধন করেন, এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। ছবি: ফোকাস বাংলা

এর আগে জাতীয় সঙ্গীত এবং অমর একুশের সঙ্গীত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ সমবেত কণ্ঠে পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপরই সবাই ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী স্মারকে স্বাক্ষর করে বইমেলা উদ্বোধনের পর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

এদিকে, যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বইমেলা ভেন্যু ও এর আশেপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মেলার ১১ লাখ বর্গফুট জায়গার প্রতিটি স্থান সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকছে।


মধ্যবয়সের খাদ্যাভ্যাস

আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৮:৫৩
সিরাজাম মুনিরা

সাধারণত মধ্যবয়স বলতে ৩১ থেকে ৫০ বছর বয়সকে বুঝানো হয়। জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো এই মধ্যবয়স। এই পর্যায়ের প্রাথমিক সময়কাল জীবনের অন্য সব সময়ের চেয়ে কিছুটা আলাদা। উদাহরণস্বরূপ, অনেক মহিলা মধ্যবয়সের শুরুর দিকের বছরগুলোতে গর্ভাবস্থা, প্রসব এবং স্তন্যপান করানোর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। জীবনের এই পর্যায়ের শেষ ভাগে মহিলারা প্রি-মেন্সট্রুয়াল সিনড্রোমের মুখোমুখি হন এবং মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে মহিলাদের হাড়ের ঘনত্ব হ্রাসসহ বেশ কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়।

পুরুষদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এই সময়ে পরিবারের দায়িত্ব নিতে গিয়ে বেশ পরিশ্রম করতে হয় দিনভর। পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, হাঁটুতে ব্যথা, শরীরের ক্লান্তিসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। মানবজীবন চক্রের এই পর্যায়ে প্রাপ্ত বয়স্করা বার্ধক্যের প্রথম বাহ্যিক লক্ষণগুলো অনুভব করতে শুরু করেন, বলিরেখা দেখা দিতে শুরু করে তাদের মুখে। এ ছাড়াও হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা শুরু হয় এবং শরীরে চর্বি জমে বিশেষ করে তলপেটে।

এতক্ষণ তো মধ্যবয়স্কদের নানা সমস্যা ও জটিলতার কথা বলা হলো, এগুলো শুনে ভয় পেয়ে গেলেন? ভয় পাওয়ার কারণ নেই। সঠিক ডায়েট ও লাইফস্টাইল মেইনটেইন করলে মধ্যবয়সের এসব বাধা অতিক্রম করে আপনিও থাকতে পারবেন তরুণের মতো শক্তিশালী এবং বার্ধক্য ঠিক এই মুহূর্তেই আপনার দরজায় কড়া নাড়বে না।আজকের লেখায় রইলো পাঁচটি টিপস, যেগুলো মেনে চললে মধ্যবয়সের জটিলতাগুলো খুব সহজেই আপনাকে ঘিরে ধরবে না -

আদর্শ ওজন বজায় রাখা: শরীর সুস্থ থাকার প্রধান উপায় হচ্ছে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। ওজন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে অনেকগুলো শারীরিক সমস্যার উৎপত্তি ঘটবে। ডায়াবেটিস, হার্ট ডিজিজ থেকে শুরু করে ঘটতে পারে স্ট্রোকের মতো ঘটনাও। তাই আপনার অতিরিক্ত ওজন থাকলে এখনই সচেতন হন। খাদ্যতালিকা থেকে ফাস্টফুড, প্রসেসড ফুড, বাইরের খাবারসহ বাদ দিয়ে দিন সব অপ্রয়োজনীয় খাবার। প্রয়োজনে সহায়তা নিন একজন দক্ষ পুষ্টিবিদের!

সঠিক পুষ্টিকর খাবার: মধ্যবয়সী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অন্য সব বয়স থেকে খাদ্যাভ্যাস কিছুটা সতর্কের সঙ্গে বাছাই করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তারা গুরুত্ব দেবে যেসব খাবারের ওপর তা হলো-
হোল গ্রেইন/কার্বোহাইড্রেট: সাদা চাল, আটার পরিবর্তে লাল চাল ও লাল আটা রাখবে খাদ্যতালিকায়। প্যাকেটজাত খাবারের পরিবর্তে খেতে হবে বাসায় বানানো খাবার। সাদা চিনি যতটা সম্ভব পরিহার করতে হবে। প্রয়োজনে মধু খাওয়া যেতে পারে।

প্রোটিন ও ফ্যাট: প্রোটিনের জন্য মুরগি, মাছ ও ডিম উৎকৃষ্ট উৎস। অনেক সময় মায়েরা নিজেরা না খেয়ে সন্তানের জন্য রেখে দেন, যা মোটেও ঠিক নয়। মায়ের পুষ্টি নিশ্চিত করতে তাকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় প্রোটিন খেতে হবে। এ ছাড়া ফ্যাটের জন্য স্বাস্থ্যকর তেল, বীজ ও বাদামজাতীয় খাবার রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়।

ভিটামিন ও মিনারেলস: প্রয়োজনীয় মিনারেলসের চাহিদাপূরণ করতে খাদ্যতালিকায় অবশ্যই কয়েক কালারের মৌসুমি ফল ও সবজি রাখতে হবে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এ সময় ত্বকে দেখা দেয়া বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করবে এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।
এ ছাড়া হাড়ের ক্ষয় রোধে ভিটামিন-ডি, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের ওপর জোর দিতে হবে। ভিটামিন-ডি-এর জন্য প্রতিদিন রোদে থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ম্যাগনেশিয়ামের জন্য পালংশাক, লাল চাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়। ক্যালসিয়ামের জন্য দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য খেতে হবে।

• খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফাইবার জাতীয় খাবার রাখতে হবে। সে জন্য শাকসবজি খেতে হবে পরিমাণমতো।
• রক্তের ধমনীতে চর্বি জমা রোধ করতে খেতে হবে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার। ওমেগা-৩-এর মধ্যে সামুদ্রিক মাছ, মাছের তেল ও স্পিরুলিনা উল্লেখযোগ্য। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ওমেগা-৩ থাকলে ঠেকানো যাবে হার্ট-অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো ডিজিজ।
• কফি-দুধ চা, অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
• প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট এক্সারসাইজ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। এ ছাড়াও প্রয়োজনে একজন পুষ্টিবিদের শরণাপন্ন হতে হবে।

তাই আপনি যদি ইতিমধ্যে মধ্যবয়সে পা দিয়ে থাকেন, তাহলে উল্লেখিত উপদেশগুলো মেনে চলার চেষ্টা করবেন। আশা করা যায়, এতে করে আপনার আগত বার্ধক্য এবং শারীরিক অসুস্থতা কিছুটা হলেও দেরি করে আসবে।

লেখক: পুষ্টিবিদ, ডায়েট কনসালটেন্ট ও স্থূলতা ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ
ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


থাইরয়েড চিকিৎসায় চাই সচেনতা

আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৮:৫৪
ডা. শাহজাদা সেলিম

থাইরয়েড বিষয়ে জনসচেতনতার ঘাটতি রয়েছে, কিন্তু থাইরয়েডজনিত রোগের ব্যাপকতা ও গভীরতার বিবেচনায় এ বিষয়ে সম্যক ধারণা থাকা সময়ের দাবি। ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে চার থেকে পাঁচ কোটি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত। বিশ্বে প্রায় ৮০ কোটি মানুষ এই রোগের শিকার। এ পরিপ্রেক্ষিতে এই আলোচনা।

থাইরয়েডগ্রন্থি একটি অতিপ্রয়োজনীয় অন্তক্ষরা (এন্ডোক্রাইন) গ্লান্ড যা গলার সামনের অংশে অবস্থিত। এটি মানব শরীরের প্রধান বিপাকীয় হরমোন তৈরিকারী গ্লান্ড। থাইরয়েড থেকে নিঃসৃত প্রধান কার্যকরী হরমোনগুলো তৈরি করতে সাহায্য করে টিএসএইস নামক আরেকটি হরমোন, যা মস্তিষ্কের ভেতরে পিটুইটারি নামের গ্লান্ড থেকে নিঃসৃত হয়।

থাইরয়েড হরমোনের অন্যতম কাজ হচ্ছে শরীরের বিপাকীয় হার বা বেসাল মেটাবলিক রেট বাড়ানো। থাইরয়েড হরমোনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে স্নায়ুর পরিপক্বতা। এ জন্য গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড হরমোনের স্বল্পতায় গর্ভের বাচ্চা বোকা হয় অথবা বুদ্ধিদীপ্ত হয় না। যেসব উদ্দীপনায় বিপাক ক্রিয়া বেড়ে যায় যেমন- যৌবনপ্রাপ্তি, গর্ভাবস্থা, শরীরবৃত্তীয় কোনো চাপ ইত্যাদি কারণে থাইরয়েড গ্লান্ডের আকারগত বা কার্যকারিতায় পরিবর্তন হতে পারে।

থাইরয়েডগ্রন্থি থেকে মূলত দুই ধরনের সমস্যা দেখা যায়, গঠনগত ও কার্যগত। এরা বিভিন্ন প্রকার উপায়ে প্রকাশ পেতে পারে।
গঠনগত সমস্যায় থাইরয়েডগ্রন্থি ফুলে যায় যেটাকে গয়টার বা গলগণ্ড বলা হয়, যার রয়েছে নানা প্রকারভেদ। এ ছাড়া থাইরয়েড গ্লান্ডের গোটা বা নডিউল এবং থাইরয়েড গ্লান্ডের ক্যানসার হতে পারে।
কার্যগত সমস্যা দুই রকমের হয়ে থাকে তা হলো- থাইরয়েড গ্লান্ডের অতিরিক্ত কার্যকারিতা বা হাইপারথাইরয়েডিজম ও থাইরয়েড গ্লান্ডের কার্যকারিতা হ্রাস বা হাইপোথাইরয়েডিজম, এ ছাড়া থাইরয়েড গ্লান্ডের প্রদাহ বা থাইরয়েডাইটিস হতে পারে।

থাইরয়েড গ্লান্ডের অতিরিক্ত কার্যকারিতা বা হাইপারথাইরয়েডিজম
হাইপারথাইরয়েডিজম রোগে থাইরয়েড গ্লান্ড বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে পড়ে। থাইরয়েড গ্লান্ডের অতিরিক্ত কার্যকারিতার ফলে নিচের -
• প্রচণ্ড গরম লাগা ও হাত-পা ঘামা।
• পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, খাওয়ার রুচি স্বাভাবিক বা বেড়ে যাওয়ার পরও ওজন কমে যাওয়া, ঘন ঘন পায়খানা হওয়া।
• হার্ট ও ফুসফুসীয় সমস্যা: বুক ধড়ফড়, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হার্ট ফেইলিওর, এনজাইনা বা বুকে ব্যথা।
• স্নায়ু ও মাংসপেশির সমস্যা: অবসন্নতা বা নার্ভাসনেস, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, উত্তেজনা, আবেগপ্রবণতা, সাইকোসিস বা মানসিক বিষাদগ্রস্ততা, হাত-পা কাঁপা, মাংসপেশি ও চক্ষুপেশির দুর্বলতা ইত্যাদি হতে পারে।
• এ ছাড়া হাড়ের ক্ষয় বা ওস্টিওপোরোসিস, মাসিকের সমস্যা, বন্ধ্যাত্ব পর্যন্ত হতে পারে।

হাইপারথাইরয়েডিজমের কারনে যেসব রোগ হতে পারে
• গ্রেভস ডিজিস: এক ধরনের অটোইমিউন রোগ যাতে থাইরয়েড গ্লান্ডের পাশাপাশি রোছ আক্রান্ত হতে পারে এবং চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসে।
• মাল্টিনডিউলার গয়টার
• অটোনামাসলি ফাংশনিং সলিটারি থাইরয়েড বডিউল
• থাইরয়েড গ্লান্ডের প্রদাহ বা থাইরয়েডাইটিস
• থাইরয়েড গ্লান্ড ছাড়া অন্য কোনো উৎসের কারণে থাইরয়েড হরমোনের আধিক্য।
• ক্যানসার ও অন্যান্য।

হাইপারথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা
হাইপারথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা হচ্ছে অ্যান্টিথাইরয়েড ওষুধ। যেটি থাইরয়েডগ্রন্থির কার্যকারিতাকে কমিয়ে দেবে। ওষুধ ব্যতিরেকে কখনো কখনো সার্জারি করা প্রয়োজন হতে পারে। যখন অ্যান্টি-থাইরয়েড ওষুধ ব্যবহার করা হয়, এটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেড় থেকে দুই বছর ব্যবহার করা হয়। তার পর এই ওষুধ তাকে বন্ধ করে দিতে হবে। রোগী যদি স্বাভাবিক থাকে, খুব ভালো কথা, তবে যদি আবারও রোগ ফিরে আসে তবে সাধারণত রেডিও আয়োডিন দিয়ে গ্লান্ড নষ্ট করে দিতে হয়।

থাইরয়েড গ্লান্ডের কার্যকারিতা হ্রাস বা হাইপোথাইরয়েডিজম
হাইপোথাইরয়েডিজম মূলত নিম্নলিখিত কারণে দেখা যায়। যেসব অঞ্চলে আয়োডিনের অভাব রয়েছে, সেখানে আয়োডিনের অভাবজনিত কারণে হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা যায়। এ ছাড়া অটোইমিউন হাইপোথাইরয়েডিজমে থাইরয়েড গ্লান্ডের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সক্রিয় হলে গ্লান্ড নষ্ট হয়ে যায় এবং থাইরয়েড গ্লান্ড কাজ করে না। চিকিৎসাজনিত কারণেও এই অসুখ হতে পারে। অপারেশনের কারণে থাইরয়েড গ্লান্ড বাদ দিতে হলে বা অন্য কারণেও থাইরয়েড নষ্ট হয়ে গেলে এই সমস্যা হতে পারে।
হাইপারথাইরয়েডিজমের ওষুধের ডোজ বেশি হলে তার থেকেও হাইপোথাইরয়েডিজম হতে পারে। নবজাতক শিশুদের মধ্যে থাইরয়েড গ্লান্ড তৈরি বা কার্যকর না হলে কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা যায়।

হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণ :
• অবসাদগ্রস্ত হওয়া, সঙ্গে অলসতা ও ঘুম ঘুম ভাব।
• ত্বক খসখসে হয়ে যায়।
• ক্ষুধামন্দা শুরু হয়।
• চুল পড়তে শুরু করে।
• ওজন অল্প বেড়ে যায়, তবে ৫-৬ কিলো পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
• স্মৃতিশক্তি কমে যায়।
• শীত শীত ভাব দেখা যায়।
• কোষ্ঠকাঠিন্য শুরু হয়।
• মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।
• ব্লাড প্রেশার বাড়তে পারে।
• মাসিকের সমস্যা হতে পারে।
• বন্ধ্যাত্বও সমস্যা হতে পারে।
• গর্ভধারণকালে গর্ভপাত হতে পারে।
• কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজমে শিশুর ব্রেনের বিকাশ হয় না।

থাইরয়েড ক্যানসার
থাইরয়েডগ্রন্থির কোনো অংশ টিউমারের মতো ফুলে উঠলে বলা হয় থাইরয়েড নেডিউল। এসব থাইরয়েড নেডিউলের এক শতাংশ থেকে থাইরয়েড ক্যানসার হতে পারে। থাইরয়েডগ্রন্থির কোনো অংশের কোষসংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেলে তাকে থাইরয়েড ক্যানসার বলে।
তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে থাইরয়েডগ্রন্থি বা এর অংশবিশেষ ফুলে ওঠা মানেই কিন্তু ক্যানসার নয়।

থাইরয়েড ক্যানসারের লক্ষণ
• গলার সম্মুখভাগে ফুলে উঠা। ফোলা অংশটি বেশ শক্ত হয়।
• একটি বা একাধিক টিউমার হতে পারে এবং উভয় পাশেও টিউমার হতে পারে, আশপাশের লিঙ্ক নোডগুলো ফুলে উঠতে পারে।
• ওজন কমে যায়। খাওয়ার রুচি কমে যেতে পারে।
• গলার স্বর পরিবর্তন হতে পারে। গলার স্বর মোটা বা ফ্যাসফেসে হতে পারে।
• তবে থাইরয়েড নিডিউল বা ক্যানসার ছাড়াও গলার সামনে ফুলে উঠতে পারে।
• শ্বাসনালির ওপর চাপ সৃষ্টির ফলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

খেয়াল রাখতে হবে যে, নিকট বংশে থাইরয়েড ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের জন্য অবশ্যই এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

থাইরয়েড ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা সময়মতো চিকিৎসা করলে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। তবে অবশ্যই সময়মতো চিকিৎসা করাতে হবে। গলার সামনে ফুলে উঠলে যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা হরমোন বিশেষজ্ঞকে দেখানো উচিত। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন এটা কোন ধরনের রোগ।

বিশেষভাবে জানা প্রয়োজন
• থাইরয়েড গ্ল্যান্ড মানব শরীরে প্রধান বিপাকীয় হরমোন তৈরিকারী গ্ল্যান্ড।
• বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হরমোনটি শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
• বড়দের ক্ষেত্রে প্রজননে অক্ষমতা, মহিলাদের মাসিকের সমস্যা, পেটের বাচ্চা নষ্ট হওয়াসহ নানা সমস্যা হতে পারে।
• থাইরয়েড ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা সময়মতো চিকিৎসা করলে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।
• গর্ভবতী অবস্থায় মায়ের হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে বাচ্চা বোকা ও বুদ্ধিহীন হতে পারে।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়


‘পাঞ্জেরী বইয়ের বৈঠক’ নিয়ে আরজে শান্তর বিশেষ অনুষ্ঠান

আরজে শান্ত ও কামরুল হাসান শায়ক
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ২২:৫০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বইমেলায় বই প্রকাশের পাশাপাশি প্রতি বছরই নানা চমক নিয়ে আসে প্রকাশনা সংস্থা পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড। ব্যতিক্রম হচ্ছে না এ বছরও। পাঠকের জন্যে এ বছরের নতুন বইয়ের পেছনের গল্পগুলো এবং চুম্বক অংশ লেখকের নিজস্ব স্বরে তুলে ধরতে বইমেলায় আসছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘পাঞ্জেরী বইয়ের বৈঠক’।

পিবিএস ডটকম ডটবিডির সৌজন্যে পাঞ্জেরীর অন্যতম কর্ণধার কামরুল হাসান শায়কের পরিকল্পনা এবং তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন রেডিও জকি (আরজে) শান্ত।

বইমেলায় খ্যাতিমান লেখকদের প্রকাশিত বইয়ের বহুমাত্রিক ঘটনাপ্রবাহ, গল্পের ভেতরের গল্প তুলে ধরা হবে এই আয়োজনে। সঙ্গে তুলে ধরা হবে লেখকের জীবনের গল্প।

‘পাঞ্জেরী বইয়ের বৈঠক’ অনুষ্ঠানটি একযোগে দেখা যাবে পাঞ্জেরী, পিবিএস এবং স্টোরি টেলিং প্ল্যাটফর্ম টার্নিং টকস বাংলাদেশের সোস্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে।

গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স। তুলে ধরছে দেশ-বিদেশের বইমেলায়। নতুন এই অনুষ্ঠানও বেশ সাড়া ফেলবে বলে আশা করছেন প্রকাশনা সংস্থাটির কর্মকর্তারা।


হিমালয়ের দুর্গম গিরিতে নির্ভীক শাকিল

আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:২৬
শাকিব হুসাইন

গল্পটা এক তরুণ পর্বতারোহীর। নাম ইকরামুল হাসান শাকিল। জন্ম গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১৯৯৪ সালে। গাজীপুরের জনতা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে উত্তরা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। তিন ভাইয়ের মধ্যে ইকরাম সবার বড়। ২০১৯ সালে বাবা মো. খবির উদ্দিন মারা গেলে সংসারের ভার এসে পড়ে ইকরামের ওপর। সংসার ও পড়াশোনার খরচ চালাতে সুপারশপে বিক্রয়কর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন।

এই জীবন সংগ্রামের মধ্যেও সৃজনশীল কাজ চালিয়ে গেছেন তিনি। খেলাধুলায়ও ভালো ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা ছিল ইকরামের। ছোটবেলা থেকেই চাইতেন, তার নাম ও ছবি যেন পত্রিকার পাতায় ছাপা হয়। গাজীপুরে ধূমপানের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করেছেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু। তার পর ২০১০ সালে যোগ দেন পদাতিক নাট্যসংসদ বাংলাদেশে। এই নাট্যদলের হাত ধরেই তার প্রথম ভারতে যাওয়া। ‘নুরু মিয়ার কিচ্ছা’ নামে একটি নাটক লিখেছেন তিনি, তা এখন মঞ্চস্থ করছে পদাতিক।

২০১৩ সালে যোগ দেন ‘বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব’-এ। পর্বতারোহণের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নেন ভারত থেকে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো ২০ হাজার ২৯০ ফুট উচ্চতার কেয়াজো-রি পর্বতশৃঙ্গ জয় করতে যান এম এ মুহিতের নেতৃত্বে সাত পর্বতারোহী। তাদের একজন ইকরামুল হাসান। তবে শেষ পর্যন্ত মুহিত, ইকরাম ও কাজী বাহলুল শৃঙ্গটি জয় করেন। ২০১৭ সালে লারকে পিক জয়ের অভিযানেও ছিলেন তিনি। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে খুব কাছাকাছি গিয়ে তা জয় করা হয়নি। পরের বছর ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেইনিয়ারিং থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন তিনি। প্রশিক্ষণের সময়ই তিনি জয় করেন ‘দ্রৌপদী-কা-ডান্ডা-২’ শৃঙ্গ।

২০১৯ সালে বাংলাদেশসহ পাঁচ দেশের আট পর্বতারোহী ‘হিমলুং’ জয়ের অভিযানে নামেন । সেই দলে অংশ নিয়ে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হিমলুংয়ের চূড়ায় পা রাখেন।

ইকরামুলের স্বপ্ন আকাশসমান। সব সময় নিজের সেরাটাই ছুঁতে চায়। তাই তো নেমে পড়েছেন এক দুর্গম অভিযানে। এ সম্পর্কে তিনি জানান, নেপালে এর আগেও কয়েকবার পর্বত অভিযানে এসেছি। সে সময় সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় উঠে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। তবে এবার যে কারণে এসেছি সেটি আমার জন্য একটু বেশিই রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। এমনকি এ কাজে সফল হতে পারলে লাল-সবুজের হয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্ব করতে পারব।

হিমালয় পর্বতের পশ্চিমে নেপাল তিব্বতের সীমান্ত এলাকা হিলশা থেকে শুরু করে পূর্বের কাঞ্চনজঙ্ঘা বেসক্যাম্প পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দুর্গম পথ পাড়ি দিচ্ছি। মূলত দীর্ঘ এই পথকে ‘গ্রেট হিমালয় ট্রেইল’ বলা হয়ে থাকে। আর তাইতো একবুক স্বপ্ন নিয়ে লাল-সবুজের হয়ে প্রথমবার মতো এই অভিযান করছি।

১০ জুলাই ঢাকা থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পৌঁছাই। মূলত সেদিন থেকেই আমার ট্রেকিংয়ের পরিকল্পনা শুরু করতে হয়েছিল।

‘গ্রেট হিমালয়ান ট্রেইল’-এর আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি নিতে কাঠমান্ডুতে ১৫ দিন কেটে গেল। এর মাঝে সব ধরনের জটিলতা নিয়ে আলাপ-আলোচনা মিটিয়ে ফেলতে হলো। ২৫ জুলাই কাঠমান্ডু শহর ছেড়ে বাসে চেপে পৌঁছালাম নেপালগঞ্জে।

হাতে বেশি সময় নেই। তাই নেপালগঞ্জ থেকে তারা এয়ারলাইনসের ছোট একটি যাত্রীবাহী বিমানে করে ৪৯ মিনিটের আকাশপথে যাত্রা শেষে পৌঁছালাম সিমিকোটে। সেখানে পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়নি। কেননা, এখানকার প্রকৃতির মেজাজ সম্পর্কে ক্ষুদ্র ধারণা ছিল। মূলত সেই অভিজ্ঞতাই আমাকে সাহস জুগিয়েছে।

জুলাইয়ের ২৮ তারিখ সকাল থেকে অভিযান শুরু করলাম। একটানা চার দিন ট্রেকিং করে পশ্চিম নেপালের তিব্বত বর্ডারে ৩ হাজার ৬৪২ মিটার উচ্চতার হিলশা গ্রামে পৌঁছাই।

আগস্টের প্রথম সকালেই হিলশা থেকে মূল অভিযান শুরু করে হোমলা জেলার ইয়ারি, তুমকোট, মোছু, তাপলুং, কেরমি, ধারাপুরি, সিমিকোট হয়ে মোগু জেলায় পৌঁছাতে হয়েছে।

এরপর খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে আবারও মোগু জেলার পিপলান, বাম, গামগাধি, রারা, মাঙরি। সেখান থেকে তিয়ার হয়ে আপার ডোলপা জেলায় প্রবেশ করি। এভাবে নেপালের উঁচু-নিচু দুর্গম বিপজ্জনক পথ ধরে টানা ৪১ দিনের ট্রেকিং শেষে বর্তমানে মুস্তাং জেলার অন্নপূর্ণা সার্কিট করে বাংলাদেশ নেপালের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ নেপাল ফ্রেন্ডশিপ অভিযানে ২টি ৬ হাজার মিটারের পর্বত অভিযানে অংশগ্রহণ করি এবং ডোলমা খাং (৬,৩৩২ মি.) পর্বত সফলভাবে আরোহণ করে ফের গ্রেট হিমালয়ান ট্রেইলের মানাসলু সার্কিট, রুবি ভ্যালি শেষ করে এখন ল্যাংটাং অঞ্চলে আছি।

তিনি আরও বলেন, নেপালের সব থেকে রিমোট (প্রত্যন্ত অঞ্চল), সীমাবদ্ধ, দুর্গম ও বিপজ্জনক এই দীর্ঘ উচ্চ হিমালয়ের পথ পাড়ি দিতে অতিক্রম করতে হয়েছে ১৮টি কঠিন পর্বতের পাস। যার মধ্যে ৯টি ৫ হাজার মিটারের ওপরে; ছারকোলা (৫১৪৯ মি.), ইয়ালা লা (৫৪১৪ মি.), নিঙমা গ্যানজেন (৫৫৬৪ মি.), নাঙলা (৫৩৮৮ মি.), মোলা লা (৫০২৭ মি.), নেওয়ার (৫৫৫৭ মি.), তুচে লা (৫১২১ মি.), থ্রঙলা পাস (৫,৪১৬ মি.), লারকে পাস (৫,১০৬ মি.) এবং ৯টি চার হাজার ও তিন হাজার মিটারের; নারা লা (৪৫৬০ মি.), অনামি (৪৪৫৮ মি.), ইয়াম বোর লা (৪৮১৩ মি.), শিমেন লা (৪৩৫৪ মি.), খোমা লা (৪৫৬৫ মি.), ভিমা লুজুঙ লা (৪৪৯৮ মি.), মানাগি পাস (৩,০৪৫ মি.), পাসাং পাস (৪,৮৫০ মি.), খুরপু পাস (৩,৭৬০ মি.) ছিল।

ট্রেইলে পাড়ি দিতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পথ হারিয়ে প্রায় দুই দিন আটকে ছিলাম। এ সময় শরীরে শক্তি জোগাতে অনাহারে দিন-রাত কাটাতে হয়েছে। শুধু হালকা শুকনো জাতীয় খাবার পেটে গিয়েছে। এভাবেই দুর্গম পথে কয়েক দিন কাটাতে হয়েছে।

এমনকি কখনো কখনো পাথুরে পথ নামতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে বিপদের সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবুও স্বপ্ন জয়ের পথে ধীরে ধীরে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে সেখান থেকে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছি।

‘গ্রেট হিমালয়ান ট্রেইল’-এর অসংখ্য বরফগলা খরস্রোতা ঠাণ্ডা পানির নদীতে নেমে পার হতে হয়েছে। হিমালয় পর্বতের কোল ঘেঁষে কত গ্রাম, নদী, জঙ্গল, পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অসংখ্য রোমাঞ্চকর বৈচিত্র্যময় সুন্দর ও ভয়ানক অভিজ্ঞতাও হয়েছে, যা কখনোই ভোলার নয়। ভয়ানক সুন্দর এই পৃথিবীর বুকে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতেও যেন দ্বিধা নেই।

হিলশা থেকে শুরু করে পূর্বের কাঞ্চনজঙ্ঘা বেসক্যাম্প পর্যন্ত টানা ১৭০০ কিলোমিটার পথ ১৫০ দিনে পাড়ি দিতেই আমি এখন হিমালয়ের গভীরে অবস্থান করছি। কিন্তু অর্থাভাবে সেই স্বপ্ন ধীরে ধীরে ফিকে হতে বসেছে। নিজেকে ভয়ংকর সুন্দরের সঙ্গে আলিঙ্গন ও দেশের জন্য গৌরবের কৃতিত্ব বয়ে আনতে প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা।

অভিযানটি সম্পন্ন করতে এখনো প্রায় ৬ লাখ টাকা প্রয়োজন। অভিযান শুরুর আগে দারাজ, বিএমটিসি পাশে দাঁড়ালেও এখনো সম্পূর্ণ অর্থ জোগান হয়নি। সম্পূর্ণ টাকা জোগাড় করতে না পারলে মাঝপথেই ফিরে আসতে হবে।

অত্যন্ত বিপৎসঙ্কুল এবং কষ্টসাধ্য পর্বতাভিযান এই গ্রেট হিমালয় ট্রেইল। সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত ৫০ জনেরও কম পর্বতারোহী এই অভিযান পুরোটা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এই অভিযানে সফল হতে পারলে ইতিহাসের পাতায় নাম উঠবে লাল-সবুজের পতাকার।


সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব না বাড়ুক…

কর্মজীবী মায়েরা চেষ্টা করুন বাড়িতে থাকার সময়টাতে ওদের সঙ্গে গল্প করে, খেলা করে, স্কুলের কাজে সাহায্য করে কাটাতে। মডেল: মা তানজিনা তানি ও আয়দিন
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৮:৪৫
তানজিনা আলম

অন্নপূর্ণা দেবী কুলবধূ বেশে খেয়া পারের জন্য নদীর ঘাটে এলে মাঝি ঈশ্বরী পাটনী তার পরিচয় জানতে চান। কুলবধূ স্বামীর নাম মুখে আনবেন না। মাঝিও রাজি হয়ে তাকে নৌকায় তুলল। কুলবধূ নৌকায় কাঠের সেঁউতিতে পা রেখে বসলে মুহূর্তেই কাঠের সেঁউতি সোনায় রূপান্তরিত হলো। মাঝি বুঝলেন- এ তো কুলবধূ নয়, নিশ্চয়ই কোনো দেবী। অন্নপূর্ণা ছদ্মবেশ ছেড়ে বললেন, ‘তুমি কী বর চাও’। মাঝি তখন যা চাইবে তা-ই পাবে। ফলে সে তার সন্তানদের মায়ের ইচ্ছার কথাই দেবীকে জানায়: ‘প্রণামিয়া পাটনী কহিছে জোড় হাতে/ আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’

সন্তানের প্রতি চিরন্তন এই ভালোবাসার অসংখ্য নজিরই ঘটে প্রতিদিন। মা সন্তানকে ভালোবাসবেন- এটাই যেন স্বাভাবিক। কিন্তু বিচ্ছেদ, দূরত্ব কিংবা স্বামীর অকালপ্রয়াণের কারণে সন্তানের দেখভাল যদি একাই করতে হয়, তাহলে সন্তানের প্রতি দায়িত্বও থাকে বেশি। সন্তানের সঙ্গে যাতে দূরত্ব না বাড়ে মায়ের, নজর দিন কিছু বিষয়ে-

নিয়মিত একসঙ্গে সময় কাটান

যেহেতু বাবা- মা দুজনের ভূমিকাই সমানভাবে পালন করতে হবে, সে জন্য একসঙ্গে সময় কাটানো খুবই জরুরি। সন্তানের সঙ্গে যাতে অন্তত রাতের খাবার সারতে পারেন, একসঙ্গে ঘুমাতে যেতে পারেন সেই বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন। কর্মজীবী মায়েরা চেষ্টা করুন বাড়িতে থাকার সময়টাতে ওদের সঙ্গে গল্প করে, খেলা করে, স্কুলের কাজে সাহায্য করে কাটাতে।

আত্মীয়দের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক

নিজের চারদিকে একটি সুরক্ষিত সামাজিক বলয় গড়ে তুলুন। বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, কলিগ, প্রতিবেশী, বাড়ির কাজের লোকের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে যারা আপনাকে ভালোবাসেন তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখুন। এসব জায়গায় বাচ্চাদের বেড়াতে নিয়ে যান, উৎসবে উপহার বিনিময় করুন এবং ছুটিতে একসঙ্গে ঘুরুন।

শখ পূরণে সাহায্য করুন

একা মায়েরা অনেক সময় সন্তানের ব্যাপারে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। সন্তানদের আঁকড়ে রাখা এর অন্যতম লক্ষণ। বরং বাচ্চা একটু বড় হলে তাকে নতুন বন্ধু তৈরিতে উৎসাহ দিন। শখের কাজে যুক্ত করুন-যাতে সে তার সৃষ্টি এবং কল্পনার একটি নিজস্ব জগৎ খুঁজে পায়। বইপড়া, গান শোনা, খেলাধুলায় উৎসাহ দিন যাতে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেকে মেলে ধরতে পারে।

কাজ দিন সন্তানকেও

শিশুদের স্বাবলম্বী করে তুলতে নিজের জিনিস গুছিয়ে রাখা, সহজ রান্না, দরকার হলে জরুরি কাজ পরিচালনা করা- এগুলো ছেলেবেলা থেকেই শেখান।

সন্তানকে জানান সঠিকটাই

সন্তানের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার রাখুন। ডিভোর্স হয়ে থাকলে বলুন যে, বাবার সঙ্গে খুব ঝগড়া হচ্ছিল বলে আপনারা আলাদা থাকছেন। বাবার দোষটাকে বড় করে দেখিয়ে দোষারোপ করার চেষ্টা করবেন না। বরং কে ঠিক বা কে ভুল সেটা ওদেরই বুঝে নিতে দিন। তবে পরিবারের কেউ যদি আপনার অবস্থান নিয়ে ওদের সামনে নেতিবাচক মন্তব্য করে, তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ জানান।

বাবা সঙ্গে না থাকায় যাতে নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগে তাই স্পর্শ, কথাবার্তা, আচার-আচরণে এই দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করুন আপনি সন্তানকে ভালোবাসেন এবং ছেড়ে যাবেন না। একই সঙ্গে নিজের যত্ন নিন। বিরতি নিন। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন কিংবা উপযুক্ত কারও কাছে সন্তানকে রেখে বেড়িয়ে আসুন।


কর্মযজ্ঞে নারী কারুশিল্পীরা

এ কারুশিল্প প্রদর্শনীতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নারী শিল্পীরা। ছবি: শফিকুর রহমান
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৮:৪৬
হাসান মাহমুদ রিপন

অবসরে বসে থাকেন না এখন আর গ্রামীণ নারীরাও। সাংসারিক কাজের ফাঁকে এখন তারা হাতে তৈরি নানা কারুপণ্য তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটান। নিখুঁতভাবে নিজেদের শৈল্পিকচিত্র ফুটিয়ে তুলছেন যার যার শিল্পকর্মে। এমন চিত্রই দেখা যায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসবে। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে কারুশিল্প প্রদর্শনী। এ প্রদর্শনীতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নিয়ে আসা হয়েছে নানা বিষয়ের ওপর দক্ষ নারী কারুশিল্পীদের। এ কারুশিল্প প্রদর্শনীতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ২১ জন নারী শিল্পী। পুরুষ কারুশিল্পীদের পাশাপাশি এসব নারী কারুশিল্পীরা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি করছেন নজরকাড়া সব কারুপণ্য। লোকজ উৎসবে আসা দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হচ্ছেন তাদের হাতের তৈরি কারুপণ্য দেখে।

কথা হয় কর্মরত নকশিকাঁথা কারুশিল্পী হোসনে আরার সঙ্গে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কারুশিল্পী হিসেবে এ মেলায় অংশগ্রহণ করে আসছেন। তিনি বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন থেকে তার সূক্ষ্ম কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বর্ণপদক ও নগদ টাকাও পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন। সহকারী হিসেবে কাজ করেন তার দুই মেয়ে আসমা ও নারগিস। হোসনে আরার বাড়ি সোনারগাঁ পৌরসভার গোয়ালদী গ্রামে। তিনি নকশিকাঁথার পাশাপাশি সুই-সুতার সূক্ষ্ম কাজ করা পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, শাড়ি, রুমাল, কুশন কভারসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিস তৈরি করে থাকেন। তিনি আরও জানান, নকশিকাঁথার প্রশিক্ষক হিসেবে তাকে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন নিয়োগ করেছেন। এক সময় তিনিও প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। তার শিক্ষক ছিলেন হাসনা হেনা।

বাঁশের ছোট্ট একটি যন্ত্র। এতে লম্বা ও আড়াআড়িভাবে লাগানো হয়েছে পাটের সুতা। পাশেই দেখা গেল কাপড়ের সাদা ও রঙিন সুতা। একজন নারী বাঁশের যন্ত্রের ওপর থাকা পাটের সুতার ভেতরে উলের সুতা ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। যন্ত্রটি একটু একটু করে নড়ছে। এভাবেই তৈরি হচ্ছে শতরঞ্জি। শতরঞ্জি স্টলে দেখা গেল এ দৃশ্য। রংপুর থেকে উৎসবে এসেছেন ঐতিহ্যবাহী শতরঞ্জি কারুশিল্পী শিউলি বেগম। শিউলি বেগম জানান, বিয়ের আগে তিনি শতরঞ্জির কাজ জানতেন না। শতরঞ্জির কাজের হাতেখড়ি হয়েছে বাবা-মায়ের কাছে। ১০ বছর ধরে এ উৎসবে কর্মরত কারুশিল্পী হিসেবে কারুশিল্প মেলায় অংশ নিচ্ছেন।

উৎসবে মৌলভীবাজারের মণিপুরি কারুপণ্য নিয়ে এসেছেন রেহেনা পারভীন ও রুমা আক্তার। তারা তাদের ঐতিহ্যবাহী তাঁতবস্ত্রসহ বাঁশের তৈরি বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করছেন প্রদর্শনীতে। বিশেষ করে তাদের কোমর তাঁতের তৈরি শাল, ওড়না ও থ্রি-পিসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। রেহেনা পারভীন জানান, তারা নিয়মিতভাবে এ মেলা ৮ বছর ধরে অংশ নিচ্ছেন। বাপ-দাদা থেকে এ পেশায় আসা। তাদের সঙ্গে ছেলেমানুষ না থাকায় তারা অন্য কোনো মেলায় অংশ নিতে পারেন না। নিরাপত্তার অভাব। তিনি জানান, এ লোকজ মেলায় নিরাপত্তা রয়েছে। তারা বিভিন্ন অর্ডারের কাজও করে।

উৎসবে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থেকে ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির টেপা পুতুল নিয়ে এসেছেন আরতি রানী পাল। আরতি রানী জানান, বংশানুক্রমে তিনি ছোটবেলা থেকেই এ কাজ করছেন। ৭-৮ বছর ধরে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন এ লোকজ উৎসবে। উৎসবে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে কাজের প্রশংসা পেয়ে খুবই ভালো লাগে আরতি রানীর।

রংপুর থেকে উৎসবে এসেছেন ঐতিহ্যবাহী শতরঞ্জি কারুশিল্পী শিউলি বেগম

চট্টগ্রাম থেকে তালপাতার হাতপাখার কারুশিল্পী হিসেবে লোকজ মেলায় অংশ নিয়েছেন বাসন্তী রানী সূত্রধর। তিনি জানান, এ মেলায় কর্মরত কারুশিল্পী হয়ে অংশ নেয়ার তার জন্য গৌরবের। যান্ত্রিক জীবনে এখন তালপাতার হাতপাখার কদর কমে গেছে। এখন এ পাখা আর কেউ ব্যবহার করেন না। তালপাতার হাতপাখা এখন ঐতিহ্য। তাদের তৈরি হাতপাখা কেউ কিনে নিলে তার ভালো লাগে।

লোকজ উৎসবে নতুন কাগজের কারুশিল্পী হিসেবে অংশ নিয়েছেন নমিতা চক্রবর্তী। তিনি জানান, কাগজের কারুপণ্যের ব্যাপক চাহিদা। কাগজ দিয়ে তিনি বিভিন্ন প্রকার কারুপণ্য তৈরি করে থাকেন। তার তৈরি কারুপণ্য লোকজ উৎসবে বিক্রি কম হলেও তার তৈরি কারুপণ্য সুনামধন্য বিভিন্ন শোরুমে চাহিদা রয়েছে।

লোকজ উৎসবে অংশ নেয়া নারী কারুশিল্পীরা তাদের নিজস্ব ও মেধা ও মনন কাজে লাগিয়ে তৈরি করছেন সুনিপুণ সব কারুকর্ম। পুরুষদের পাশাপাশি আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে লালনের অন্যতম দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন এ নারীরা। নিখুঁতভাবে তৈরি এসব শিল্পকর্ম দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে সংসারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনছে। দারিদ্র্যকে জয় করার পাশাপাশি এসব নারীরা আমাদের সামনে উপস্থিত হচ্ছেন ঐতিহ্য রক্ষার সংগ্রামে সাহসী সৈনিক হিসেবে।


সন্তানের অভিভাবকত্বে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত

পৃথিবীর প্রতি সাতজন শিশুর একজন শিশু সিঙ্গেল মাদারের পরিচয়ে বড় হয়। প্রতিকি ছবিটিতে ফ্রেমবন্দী হয়েছেন- হ্যাপি জাফরিন ও মেয়ে অপ্সরা
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৮:৪৬
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

‘বাবার নাম ভুলিয়ে দেয়ার’ যে গালি দেশে দেশে প্রচলিত, এর পেছনে অভিভাবক হিসেবে কেবল বাবার স্বীকৃতি প্রচলনের প্রমাণ থেকে যায়। এর শুরুটা হয় বিয়ের পর মেয়েদের নিজেদের নামের শেষে স্বামীর নাম জুড়ে দেয়া থেকেই। ক্রমে সন্তানরাও একই নাম ধারণ করে। প্রথাগতভাবে পুরুষ প্রধান সমাজ হওয়ার কারণে ছেলেমেয়েরাও দাদার বাড়িকে নিজের বাড়ি আর নানার বাড়িকে চেনেন মায়ের বাড়ি বা নানাবাড়ি হিসেবে। অবশ্য এর সঙ্গে সম্পত্তি এবং বংশ মর্যাদার সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশও কাজ করে। অভিভাবকত্বের এই ধারণা পৃথিবীর উন্নত এবং অনুন্নত প্রায় সব দেশেই সমান। আধুনিক এ সময়ে এসে এই একটি ব্যাপারে জাত, গোত্র, দেশ নির্বিশেষে সবাই ঐক্যের পরিচয় দিয়েছে।

সব মিলে সামাজিক এই ব্যবস্থার ঝামেলায় পড়েন সিঙ্গেল মাদাররা। মাতা মেরি থেকে শুরু করে হাল আমলে বাংলাদেশের অভিনেত্রী বাঁধন, সন্তানের একক অভিভাবকত্বের অধিকার পাওয়ার পথ কারও জন্যই মসৃণ নয়, কখনো ছিলও না। অবাক হওয়ার মতো ঘটনা হচ্ছে- পৃথিবীর প্রতি সাতজন শিশুর একজন শিশু সিঙ্গেল মাদারের পরিচয়ে বড় হয়, এই শিশুদের জন্যে হলে এমন একটি সমাজ প্রয়োজন, যেখানে পিতৃপরিচয়ের কারণে বেড়ে ওঠা থেমে থাকবে না।

গত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন ‘মায়েরা এককভাবে সন্তানের অভিভাবক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার স্বপক্ষে’ এই রায় পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের অভিভাবকত্বের স্বীকৃতি দেয়নি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে অভিভাবক হিসেবে মায়ের নাম লিখার স্বীকৃতি দিয়েছে।

আংশিক হলেও এটি একটি বড় পদক্ষেপ, দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছর পরে হলেও নিজের সন্তানকে নিজের পরিচয়ে বড় করার এ স্বাধীনতাটুকু পেয়েছেন সিঙ্গেল মাদাররা। সন্তান গর্ভে আসা থেকে শুরু করে নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করে সন্তান জন্ম দেয়া, লালন-পালন, বড় করে তোলা এবং পড়াশোনার দেখাশোনা সর্বক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ অবদান মায়ের হলেও সন্তান শুধু বাবার পরিচয়ে বড় হওয়ার মানসিক দীনতার কষ্ট হয়তো শুধু মায়েরাই বুঝতে পারেন।

সর্বক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ অবদান মায়ের হলেও সন্তান শুধু বাবার পরিচয়ে বড় হওয়ার মানসিক দীনতার কষ্ট হয়তো শুধু মায়েরাই বুঝতে পারেন

সিঙ্গেল মাদারের সংখ্যা পৃথিবীতে খুব নগণ্য তাও কিন্তু নয়, গ্যালাপ নিউজের ২০২০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীতে ১৩ শতাংশ মা সিঙ্গেল মাদার। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সাব সাহারান আফ্রিকায় ৩২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন পূর্ব এশিয়ায় ৩ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ায় এর পরিমাণ ৮ শতাংশের বেশি।

আট শতাংশের বেশি এই নারীদের অভিভাবকত্বের অধিকার দিতে বাংলাদেশের ৫১ বছর লেগেছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের লেগেছে ৭৫ বছর, এই রায় কতটুকু স্বস্তিদায়ক, তা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানেন। ২০০৭ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে এক তরুণীর বাবার নাম পূরণ করতে না পারায় এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহ না করতে পারার ঘটনায় প্রথম এই ইস্যু সামনে আসে। সামনে না আসা ইস্যু রয়েছে অগণিত, সমাজে প্রতিষ্ঠিত অনেক নারীরাও বাংলাদেশের নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়েন। নারী যতই প্রতিষ্ঠিত হন, সমাজের জানতে হবে তার সন্তানের বাবা কে? যদি সে বাবা সন্তানের জন্ম হওয়াকেও না চান তবুও।

পরিসংখ্যান বলে সিঙ্গেল মাদাররা সামাজিক, পারিবারিক চাপ, অভিভাবকত্ব নিয়ে, সন্তানের ভবিষ্যৎ ভাবনায় একাকিত্ববোধ, অপরাধবোধে ভোগেন। সামাজিক, অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অভাব, আত্মবিশ্বাসের অভাব ও সন্তানকে মানুষ করার ক্ষেত্রে সারাক্ষণ উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা নিয়েই অতিবাহিত করেন অধিকাংশ সময়। যার প্রভাব পড়ে নিজের শরীর এবং মনের ওপর। ফলে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন খুব অল্প বয়সেই। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ থেকে খারাপতর হতে থাকে।

এই রায় হয়তোবা মানসিক বিপর্যস্ততা কমাতেও অনেকখানি সহায়তা করবে। সেই সঙ্গে মনে রাখা প্রয়োজন যেকোনো আইন তখনই ফলপ্রসূ হয় যখন সামাজিকভাবে ওই আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়।


আট লেখকের হাতে এসবিএসপি সাহিত্য পুরস্কার

ক্যাপশন: কথাসাহিত্যিক রাহিতুল ইসলামসহ এবার এসবিএসপি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন ৮ লেখক ও কবি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৫১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ‘এসবিএসপি সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন ৮ লেখক ও কবি। ২০২১ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের জন্য সম্মাননাটি দিল সোনার বাংলা সাহিত্য পরিষদ।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন গল্পকার ইলিয়াস ফারুকী, প্রাবন্ধিক মামুন রশীদ, শিশুসাহিত্যিক ইমরুল ইউসুফ, কথাসাহিত্যিক রাহিতুল ইসলাম ও কবি খান মুহাম্মদ রুমেল। শিশুসাহিত্যিক মাহমুদউল্লাহ, কবি মিনার মনসুর ও কথাসাহিত্যিক দীলতাজ রহমান পেয়েছেন বিশেষ সম্মাননা।

রাজধানীর বাংলামটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ২৭ জানুয়ারি এসবিএসপি সাহিত্য পুরস্কার দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে লেখকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ও সাহিত্য পত্রিকা ‘কালি ও কলম’ সম্পাদক সুব্রত বড়ুয়া, একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা, কথাসাহিত্যিক নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর এবং পুরস্কারের চলতি আসরের পৃষ্ঠপোষক ওয়েবম্যাগ ‘কাব্যশীলন’ সম্পাদক কবি ফারুক মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ড. মাসুদ পথিক, এসবিএসপি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ফখরুল হাসান, প্রেসিডিয়াম কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী তারেক হাসান ও কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হোসনে আরা জেমী।

তথ্যপ্রযুক্তি আর ডিজিটাল বাংলার মানুষের সংগ্রাম ও উন্নয়নের গল্প লিখে এবার সাহিত্য পুরস্কারটি পেয়েছেন কথাসাহিত্যিক রাহিতুল ইসলাম। প্রথমা থেকে প্রকাশিত ‘কল সেন্টারের অপরাজিতা’ বইয়ে একটি মেয়ের জীবনসংগ্রামের কথা উঠে এসেছে। তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সাহিত্য রচনা করে এবারই প্রথম কোনো তরুণ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

কল সেন্টারের অপরাজিতা উপন্যাস সম্পর্কে রাহিতুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মানুষের গল্প লিখি, আর আমার লেখা বই যদি মানুষের উপকারে আসে তখনই আমি মনে করব আমার লেখা সফল হয়েছে।’

বাংলা সাহিত্যের নানা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য গত ছয় বছর ধরে কবি-লেখকদের পুরস্কৃত করে আসছে সোনার বাংলা সাহিত্য পরিষদ।

একই অনুষ্ঠানে এসবিএসপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ছায়েদুল ইসলাম গ্রন্থ স্মারক পেয়েছেন কবি ও গল্পকার সালমা সুলতানা, কবি শব্দনীল, গল্পকার শফিক নহোর, সমাজসেবক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী, কবি আহমেদ ইউসুফ, লেখক রফিক মজিদ, রম্য গল্পকার মেহবুবা হক রুমা, শিশুসাহিত্যিক মিজানুর রহমান মিথুন ও আবৃত্তিশিল্পী সাফিয়া খন্দকার রেখা।


চিয়া সিড চাষে সিরাজগঞ্জে আশা

আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:১২
গোলাম মোস্তফা রুবেল

সিরাজগঞ্জে জেলা সবজি চাষের জন্য বেশ পরিচিত। এবার ওষধি ও পুষ্টি গুন সম্পন্ন সুপার ফুড হিসেবে খ্যাত চিয়া সীড চাষ হচ্ছে এ জেলায়। । দানাদার এ ফসল মানবদেহে বিভিন্ন রোগের কার্যকরী ঔষধ হিসেবে কাজ করায় এর চাষাবাদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অন্য ফসলের চেয়ে এ চাষাবাদে লাভের স্বপ্ন বুনছেন কৃষক। জেলার উল্লাপাড়ার কয়ড়া সরাতলা গ্রামের মাটিতে এর পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু হলেও এখন সফলতা দেখছেন সিরাজগঞ্জের মানুষ।

উল্লাপাড়ার কয়ড়া সরাতলা গ্রামের গোলাম হোসেন ২০২১ সালে শখের বশে নিজের ২৫ শতক জমিতে চিয়া সীড চাষাবাদ করেন। তাতে প্রথম বছরেই প্রায় ১৩৫ কেজি বীজ পান। বিক্রি শেষে ৪০ কেজি বীজ তিনি চাষাবাদের জন্য রাখেন। কিন্তু সেই বীজে চাষাবাদে ভাল ফলন মেলেনি। তবে তিনি হাল ছেড়ে দেননি। চলতি বছর বিদেশ থেকে চাষাবাদের জন্য তিনি ৯০ কেজি মেক্সিক্যান হাইব্রীড চিয়া সীড বীজ আমদানি করেন। এই বীজ তিনি জেলার উল্লাপাড়া, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, রংপুর সদর, শরিয়তপুরের জাজিরার কৃষকের মাধ্যমে ১৭০ বিঘা জমিতে চিয়া সীড চাষাবাদ করিয়েছেন।

উল্লাপাড়া কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া সরতলা, রতদিয়ার, হরিশপুর গ্রামের মাঠে চিয়াসীড চাষাবাদের উদ্যোক্তা গোলাম হোসেন ২১ বিঘা, সাবেক ইউপি সদস্য ঠান্ডু মিয়া ২৯ বিঘা, হেলাল উদ্দিন ৩০ বিঘা জমিতে এর চাষাবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে এসব জমিতে চিয়া সীডের গাছ বড় হয়ে ফুল ও ফল ধরেছে। প্রতিটি গাছের সাথে অসংখ্য ফুল ও ফল ধরেছে। লম্বা আকৃতির চিয়া সীডের গাছগুলো বাতাসে দোল খাচ্ছে। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া চিয়া চাষে উপযোগী হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লাপাড়ার চিয়াসীড চাষাবাদের উদ্যোক্তা গোলাম হোসেন বলেন, এই শস্যে দুধের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি ক্যালসিয়াম, কমলালেবুর চেয়ে সাতগুণ বেশি ভিটামিন সি, পালংশাকের চেয়ে তিনগুণ বেশি আয়রন ও সামুদ্রিক মাছের চেয়ে তিনগুণ বেশি ওমেগা-৩ আছে, এই কারণে এই শস্যকে সুপারফুড বলা হয়। দৈনিক এক আউন্স চিয়া বীজ খেলে শতকরা ১৮ ভাগ ক্যালসিয়ামের চাহিদা, ২৭ ভাগ ভিটামিন সি চাহিদা এবং ৩০ ভাগ ওমেগা-৩ চাহিদা পূরণ হতে পারে। যা মানবদেহের ক্ষতিকারক কোলেস্টরল (এলডিল) হ্রাস করে এবং উপকারী এইচডিএল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়া ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে চিয়া বীজ।

চাষী হেলাল উদ্দিন বলেন, এই শস্যে কোনো রোগ নেই। তাই কোনো কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। উৎপাদনে খরচ খুব কম। বিঘাতে ১০ হাজার টাকা মাত্র। বিঘাতে ১০০ থেকে ১২০ কেজি চিয়া বীজ উৎপাদন করা সম্ভব। এই শস্য বীজ থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত ১০০ থেকে ১২০ দিন লাগে।

আরেক চাষী ঠান্ডু মিয়া বলেন, খাবার গুণের পাশাপাশি পুষ্টি চাহিদা পূরণ করার লক্ষ্যে উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে সুপার ফুড চিয়া সিড চাষ শুরু করি। প্রথম অবস্থায় বাজারজাত নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু এখন জমি থেকেই বিক্রি হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। প্রতি কেজি চিয়া সিড প্রায় হাজার টাকায় বিক্রি করা যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিস সূত্রে জানা যায়, আমেরিকা ও মেক্সিকোর মরুভূমি দেশে চিয়া সীডের চাষাবাদ হয়। এতে রয়েছে ওমেগা—৩, ফাইবার, ম্যাংগানিজ, ফসফরাস, প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেটসহ পাশাপাশি এতে রয়েছে ভিটামিন বি, থায়ামিন, নিয়াসিন, আয়রণ, দস্তা, ফ্যাটিক এসিড, ম্যাগনেসিয়াম। নানা উপায়ে এ বীজ খাওয়া যায়। এতে মানুষের শারিরীক অনেক উপকার হয়। প্রচার- প্রচারণা ও চাহিদার কারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বাজারে প্রকার ভেদে ১৩শ’ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা দরে কেজি দরে চিয়া সীড বীজ বিক্রি হচ্ছে। যা সাধারণত বিদেশে থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। সম্ভাবনাময়ী এ চাষাবাদ দেশে ছড়িয়ে দেয়া গেলে আমদানী ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কৃষকরা বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকতা সুর্বনা ইয়াসমিন সুমি জানান, উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে চিয়াসীড চাষাবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা এই চাষাবাদে সার্বক্ষনিক মনিটরিংসহ কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছি। এ বীজের অনেক দাম। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মাঠে গাছের ফুল ও ফল ভাল দেখা যাচ্ছে। আশা করছি এ চাষাবাদে কৃষকরা ভাল লাভবান হতে পারবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বাবলু চন্দ্র সুত্রধর বলেন, বর্তমানে চিয়া সিড শুধু ওজন কমানোর জন্য বা ডায়েটের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে না, নিরপেক্ষ স্বাদের কারণে চিয়া সিড সব ধরনের খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার উপযুক্ত। সব ধরনের আবহাওয়ায় জন্মানো চিয়া বীজ দেখতে সাদা ও কালো রঙের তিলের মতো ছোট হয়ে থাকে। অনেকেই চিয়া সিডকে তোকমা বলে ভুল করে থাকে। দেখতে প্রায় একই রকম হলেও জন্মস্থান ও পুষ্টিগুণের দিক থেকে রয়েছে কিছু পার্থক্য। চিয়া সাধারণত তিন মাসের ফসল। এর আয়ুকাল ৯০ থেকে ১০০ দিন। অক্টোবর মাসে বীজ বপন করতে হয়। ৩৩ শতকের বিঘায় মাত্র তিন শ গ্রাম বীজ লাগে। চাষের পদ্ধতি খুব সহজ। রোগবালাইও কম হয়। তাই ধীরে ধীরে সিরাজগঞ্জে এই চিয়া সিডের চাষ বেড়েই চলছে। আমরা কৃষি অধিদপ্তর থেকে কৃষককে সবধরনের সহযোগীতা করে যাচ্ছি।

লেখক : প্রতিনিধি,সিরাজগঞ্জ

বিষয়:

সানস্ক্রিন সম্পর্কে যা জানা দরকার

বাইরে যাওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ত্বকে প্রয়োগ করুন।
আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৮:১৬
চলতি হাওয়া ডেস্ক

রোদ থেকে ত্বক বাঁচাতে সুরক্ষা অনুষঙ্গ প্রয়োজন সবারই। তাই প্রতিদিন বাড়ি থেকে বের হলে তো বটেই, বরং ঘরে থাকলেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় এ আনুষঙ্গিক সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য এবং টিপস জেনে নিন-

এসপিএফ কি?

SPF মানে সান প্রটেকশন ফ্যাক্টর। এর দ্বারা বোঝা যায়, কত শতাংশ অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে পৌঁছাবে এবং কতক্ষণ সানস্ক্রিন ত্বককে রক্ষা করবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এসপিএফ ৩০ মানে হলো যে ৩০ ভাগের ১ ভাগ রেডিয়েশন সানস্ক্রিনের পরত ভেদ করে ত্বকে পৌঁছাতে পারবে।

মনে রাখা উচিত-

  • বাইরে যাওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ত্বকে প্রয়োগ করুন। প্রকৃতপক্ষে এটি তাৎক্ষণিক কাজ করে, তবে কিছুক্ষণ আগে ব্যবহার করা হলে এটি ত্বকে ভালোভাবে মিশে যাবে এবং কাপড়ে লেগে বা ঘামে মুছে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
  • বাইরে বের হওয়ার সময় কেবল সানস্ক্রিনের ওপরই নির্ভর করবেন না। বরং সম্ভব হলে স্কার্ফ, টুপি, বড় হাতাসহ জামাকাপড় এবং সানগ্লাস ব্যবহার করুন। বেলা ১১টা-৩টা এ সময়টা সতর্ক থাকুন। কেননা, এ সময়টাতে অতিবেগুনি রশ্মি শক্তিশালী থাকে।
  • এসপিএফযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করেন বলে আলাদা সানস্ক্রিন অনেকেই ব্যবহার করতে চান না। এই ভুল করবেন না। যেকোনো প্রসাধনীর সঙ্গে আলাদাভাবে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

সূত্র: বিবিসি


কপালজুড়ে টিপের শোভা

ছোট্ট টিপ নারীর সৌন্দর্য অনেকটা বাড়িয়ে দিতে পারে অনায়াসেই। মডেল: মাধবীলতা
আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৮:১৬
তানজিনা আকতারী

বাঙালি নারীর সাজের যে চিরন্তন ধারা, টিপ সেই চিরাচরিত ধারার ভালোবাসার অনুষঙ্গ। অঙ্গে জড়ানো শাড়ি, কাজল টানা চোখ আর কপালে টিপ। শুধু এটুকু সাজেই প্রতিটি বাঙালি নারীই হয়ে ওঠেন অনন্যা।

গোলাকার, লম্বাটে, ডিম্বাকৃতি, কুমকুম বা চন্দনের ছোঁয়ায় হাতে আঁকা এসবই ছিল এক দশক আগের টিপের ধরন। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিপেও এসেছে বৈচিত্র্য। এসেছে বড় টিপে বিভিন্ন রঙে আলপনা আঁকা, পাথরের কারুকাজ, বড় টিপে মেটাল নয়তো কাঠের বাহারি নকশার সমাহার। একটি টিপ কেটে অন্য টিপের ওপর বসিয়েও নকশায় আনা যায় ভিন্নতা। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে আবার কখনো পোশাকের রঙের সঙ্গে মিল না রেখেও টিপ হয়ে উঠছে সাজের মুখ্য উপাদান। শাড়ি, লেহেঙ্গা, সালোয়ার-কামিজ, জিনস টপস সব পোশাকের সঙ্গেই টিপ মানানসই। একটি ছোট্ট টিপ নারীর সৌন্দর্য অনেকটা বাড়িয়ে দিতে পারে অনায়াসেই।

কোন মুখে কেমন টিপ মানাবে সেটি নির্ভর করে সাজের অন্য সব অনুষঙ্গের ওপর।

সুন্দর করে সাজার পর যদি ভুল একটি টিপ পরেন তাহলে দেখতে বেশ বেমানান লাগবে। কোন মুখে কেমন টিপ মানাবে সেটি নির্ভর করে সাজের অন্য সব অনুষঙ্গের ওপর। যাদের মুখের আকৃতি গোলাকার, সাধারণত সব ধরনের টিপ তাদের চেহারায় মানিয়ে যায়। পানপাতা বা হার্টশেপ মুখ যাদের তারা যেকোনো আকার ও ডিজাইনের টিপ পরতে পারেন। আর চেহারা লম্বাটে হলে গোল টিপ মানাবে ভালো। কপাল ছোট হলে ছোট টিপ বেছে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আর কপাল ছড়ানো ও বড় হলে বেছে নিতে হবে বড় টিপ। মুখের আকৃতি চৌকো হলে চারকোনা ছোট টিপ পরলে মুখের আকৃতিতে একটা ভারসাম্য বজায় থাকবে। যে ধরনের টিপই পরা হোক না কেন, ভ্রু-যুগলের ঠিক মাঝামাঝিতে টিপ বসাতে হবে। অনেকেই কিছুটা নিচুতে বা কিছুটা উঁচু করে টিপ পরতে ভালোবাসেন। যেভাবেই আপনার চেহারায় ভালো লাগে, সেখানেই বসিয়ে দিন। যেভাবেই পরুন না কেন, টিপ যাতে বাঁকাভাবে বসানো না হয়, খেয়াল রাখতে ভুলবেন না কিছুতেই।

যেকোনো মার্কেটের ছোট-বড় প্রায় সব কসমেটিকের দোকানেই মিলবে বাহারি নকশা ও মাপের টিপ। আর নতুনত্বের খোঁজ পেতে চাইলে চোখ রাখতে হবে অনলাইনের দোকানগুলোতে। বিভিন্ন পেজে মিলবে নিত্যনতুন আকার ও নকশার বিভিন্ন ধরনের টিপ। ফরমায়েশ দিয়ে নিজের করে পেতে পারেন সেগুলোও।


‘সৌন্দর্যে কোঁকড়া চুলের কদর-যত্ন’

শীতে অনেকেই গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে থাকেন। কিন্তু এটা করা একদমই অনুচিত। কেননা, গরম পানি ব্যবহারের ফলে চুল আরও শুষ্ক হয়ে যায়। মডেল: সাদিয়া ইমি
আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৮:১৭
জান্নাতুল ফেরদৌস

নারীর রূপ ও সৌন্দর্যে অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ তার চুল। প্রাচীনকাল থেকেই নারীর সৌন্দর্যে চুল বিশেষ অংশ হিসেবে বিবেচিত। কবি বলেছেন, ‘তোমার ওই চুলে দেখেছিলাম মায়ার কারুকাজ, সেই মায়াতে বিভোর আমি, স্পন্দিত হয়ে আজ।’ নারী কিংবা পুরুষ যেকোনো ব্যক্তির চুল তার সৌন্দর্যের প্রথম ও সবচেয়ে লক্ষণীয় অংশ। শুধু সৌন্দর্যবর্ধনেই নয়, চুলের ধরন ও স্টাইলের সঙ্গে কীভাবে চুলকে একজন নারী তার সঙ্গে বহন করছেন তা তার নিজস্ব ব্যক্তিত্বেরও বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। চুলের ধরন যেমনই হোক না কেন সুন্দর চুলরাশি একজন মানুষের সৌন্দর্য ও রূপকে পূর্ণতা প্রদান করে। চুল গোছাল ও পরিপাটি থাকলে নিজের ভেতরে অন্যরকম আত্মবিশ্বাস লক্ষ করা যায়।

বর্তমান সময়ে চুলের সাজসজ্জায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস ও রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহার করে কোঁকড়া চুল সোজা করার প্রচলন রয়েছে। কিন্তু চুল সোজা করার ক্ষেত্রে চলে এসেছে কিছুটা পরিবর্তন। নারীরা এখন প্রাকৃতিক চুলের গড়নের ওপরই বিশ্বাস রাখছেন। চুলের কোনো ধরনের ক্ষতি না করে কীভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে চুলকে সুন্দর ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখা যায় বর্তমানে সে দিকেই তাদের খেয়াল। অনেকেই স্বাভাবিক কোঁকড়া কিংবা হালকা ঢেউ খেলানো চুলের অধিকারী হন। যেহেতু কোঁকড়া বা ঢেউ খেলানো চুল সোজা চুলের চেয়ে কিছুটা শুকনো প্রকৃতির হয়, এ কারণে সঠিক পরিচর্যা না করলে বয়সের সঙ্গে সঙ্গেই তা হয়ে ওঠে রুক্ষ ও নির্জীব। তাই কোঁকড়ানো চুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে অবশ্যই আলাদা করে নিতে হবে বিশেষ কিছু যত্ন।

কোঁকড়া বা ঢেউ খেলানো চুল সোজা চুলের চেয়ে কিছুটা শুকনো প্রকৃতির হয়, এ কারণে সঠিক পরিচর্যা না করলে বয়সের সঙ্গে সঙ্গেই তা হয়ে ওঠে রুক্ষ ও নির্জীব।

প্রথমেই কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে দৈনিক চুলের যত্ন নিতে হবে-

চুল স্বাস্থ্যকর রাখার জন্য অত্যাবশ্যকীয় কাজ হলো প্রতিদিন চুল ধোয়া। নিয়মিত চুল ধোয়ার ফলে চুলে খুশকি, ধুলাবালি থাকতে পারে না। ফলে অনেকাংশেই প্রকৃতির তাণ্ডব থেকে চুল রক্ষা পায়।

কোঁকড়া চুলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ফ্রিজিং বা চুলে জট পাকিয়ে যাওয়া। কোনোমতেই চুল বশে আসতে চায় না। অনেক সময় তো জট খুলতে গিয়ে খোয়া যায় অনেক চুল। মূলত চুলের শুকনো ভাবই চুলে জট পাকানোর প্রধান কারণ। শীতকালে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়। কেননা, এ সময় আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় চুল আরও দ্রুত ফ্রিজ হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত চুলে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনিং করতে হবে। কন্ডিশনার চুলের ফ্রিজিং রোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। শ্যাম্পু করার আগে অবশ্যই চুলগুলোকে কোনো প্যাক, মাস্ক বা নারিকেল তেল লাগিয়ে তৈরি করে নিতে হবে। এতে শ্যাম্পু করার পর চুলের সফটনেস ও শাইনিভাব বজায় থাকবে। শ্যাম্পুর পর চুলে ভালো করে কন্ডিশনিং করতে হবে। কন্ডিশনার চুলের আর্দ্রভাব বজায় রেখে চুলকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া চুলে ডিপ মাস্ক কন্ডিশনার প্যাক ব্যবহার করলে উপকারী ফলাফল পাওয়া যায়।

চুল সব সময় অবশ্যই ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুতে হবে। কোঁকড়া চুল সোজা চুলের চেয়ে তুলনামূলক বেশি শুষ্ক প্রকৃতির হয়। শীতে অনেকেই গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে থাকেন। কিন্তু এটা করা একদমই অনুচিত। কেননা, গরম পানি ব্যবহারের ফলে চুল আরও শুষ্ক হয়ে যায়। এমতাবস্থায় সহনীয় তাপমাত্রার ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করা যেতে পারে।

কোঁকড়া চুলে সরাসরি ব্রাশ বা চিরনি ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ, এতে চুল ভেঙে বা ছিঁড়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে চুলে আঙুল বুলিয়ে কিছুটা ঠিক করে তারপর চিরনি ব্যবহার করা যায়, তবে তা মোটা দাঁতের হতে হবে। ভেজা চুলে কোনোভাবেই ব্রাশ ব্যবহার করা উচিত না।

কোঁকড়া চুলের অন্যতম সমস্যা হলো, ঘুম থেকে ওঠার পর কোঁকড়া চুলকে পাওয়া যায় নাজেহাল অবস্থায়। এ জন্য রাতে ঘুমানোর আগে চুলগুলো হালকা খোঁপা বা পনিটেল করে বেঁধে ঘুমানো উচিত। এর ফলে চুলের সঙ্গে বালিশের ঘর্ষণ কম হয় এবং চুলের ভঙ্গুরতা রোধ পায়।

কোঁকড়া চুলের চটপট সাজ

হাতে একদমই সময় নেই, এ ক্ষেত্রে করে নিতে পারেন একটি ‘মেসি বান’। প্রথমে চুলগুলোকে ব্রাশ না করে শুধু আঙুল দিয়ে আঁচড়িয়ে পেছনে খানিক উঁচুতে পেঁচিয়ে একটি এলোমেলো খোঁপা করে নিন। সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন ন্যুড বা কালো রঙের একটি পাঞ্চক্লিপও। নিকোল কিডম্যানকে আমরা প্রায়ই এ স্টাইলটিতে দেখতে পাই।

ভেজা চুলে কোনোভাবেই ব্রাশ ব্যবহার করা উচিত না।

সব সময় করার মতো স্টাইল বিশেষত কোঁকড়ানো চুলের জন্য একটি মানানসই স্টাইল ‘ব্রেইড হাফ বান’। এটি করতে হলে প্রথমত সামনের অর্ধেক পরিমাণ চুলগুলোকে মাথার সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিয়ে বিনুনি করতে হবে ও নিচের চুলগুলোকে ছেড়ে দিতে হবে। এরপর বিনুনি পেঁচিয়ে মাথার ওপরে একটি খোঁপা করে নিলেই হয়ে গেল ব্রেইড হাফ বান।

আরিয়ানা গ্রান্ডের সিগনেচার পনিটেল কি শুধু সোজা চুলের জন্যই? মোটেই নয়! উঁচু করে পনিটেল বাঁধলে কোঁকড়া চুলেও দুর্দান্ত লাগে। প্রথমে পুরো চুলটা উলটে আঁচড়ে নিন, তারপর মাথার ঠিক মাঝখানে পনিটেল বাঁধুন। যেকোনো ফর্মাল পোশাকের সঙ্গে এটি খুবই আনুষঙ্গিক একটি স্টাইল।

যেকোনো অনুষ্ঠান, পার্বণে কোঁকড়া কিংবা হালকা ঢেউ খেলানো চুলধারীদের জন্য মানানসই স্টাইল ‘হাফ আপ হাফ ডাউন’। প্রথমে আপনার চুলগুলো মাঝখানে সিঁথি করে দুভাগ করে দুই পাশ থেকে দুটো বিনুনি বের করে নিন। তারপর এই বিনুনি দুটো মাথার মাঝখানে এনে একে অন্যের সঙ্গে ক্রিসক্রস করে ক্লিপ দিয়ে এঁটে বাকি চুলটা নিচে ফেলে রাখুন। এতে একটা অনন্য সুন্দর লুক আসবে। টিনএজারদের জন্য এটি একটি মানানসই হেয়ার স্টাইল।

কোনো আলাদা স্টাইল করতে চাইছেন না, সময় নেই হাতে? জাস্ট চুল ভালো করে আঁচড়ে নিয়ে মাঝখানে সিঁথি করুন। এবার চুলগুলোকে খানিক এলোমেলো করে নিন। এর ফলেও একটা অন্যরকম সুন্দর স্টাইল ফুটে উঠবে।


banner close