বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

আর্থ ক্যাম্পের গল্প

ফাহিম ফয়সাল
প্রকাশিত
ফাহিম ফয়সাল

ক্যাম্প- শব্দটি শুনলেই আমাদের মাথায় আসে সৈন্য , সামন্ত, যুদ্ধের কথা ! কিন্তু আজকে এমন এক ব্যতিক্রমী ক্যাম্পের গল্প বলবো যেখানে নেই হাতি , ঘোড়া , তরোয়াল কিন্তু তাদের আছে অফুরন্ত সাহস , মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা এবং পরিবেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ।
পরিবেশ নিয়ে নিজের ভাবনা ও প্রকৃত উপলব্ধি নিয়ে আর্থক্যাম্প নামক এ গল্পের শুরু গত ৬ জানুয়ারি এক শুক্রবার ভোরে- সিলেট শুকতারা ন্যাচার রিট্রিটে পাহাড়ের কোলের অনন্য স্থাপনাটিই যেন প্রকৃতিকে ভালোবাসতে বাধ্য করবে যে কাউকে।
বাংলাদেশ ইয়ুথ এনভায়রনমেন্টাল ইনিশিয়েটিভ এর উদ্যোগে এবং ঢাকাস্থ মার্কিন ও ফ্রান্স দূতাবাস এবং আরণ্যক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় পরিবেশ ও প্রকৃতি নিয়ে এমনি এক ব্যতিক্রমি ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয় । এতে অংশ নেয় দেশের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১ জন খুদে পরিবেশবিদ । গত ৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ ক্যাম্প চলে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
৬ জানুয়ারি - সন্ধ্যায় সুর্য প্রায় গোধুলীলগ্ন , দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তির ছাপ কারো চোখে মুখে - একঝাক অচেনা মানুষদের সাথে পরিচিত হবো কীভাবে সে ভাবনা মাথায় চলার সময়ই ইসিপি হাজির হয় নিজের প্রথম মুগ্ধতা নিয়ে। ২৪টা প্রশ্নের সেট ধরিয়ে দেয় হাতে, ২৪ জনের থেকে না কি উত্তর নিতে হবে! খেলার ছলেই যেন কয়েকজনের সাথে কথা হয়ে গেল! রাতের খাবারের সময় পরিচিত হলাম মেন্টর এবং বাকি টিমমেটদের সাথে। কেমন যেন একটা অচেনা মায়ার জাল বিস্তৃত হতে লাগলো। যে আমি কারোর সাথে রুম ভাগাভাগি করতে পারি না, আজ একদমই অচেনা কয়েকজনের সাথে রুম ভাগাভাগি যেন কোনো বিষয়ই ছিল না! কত আপন, কত পরিচিত যেন সবাই আমার! এভাবেই কেটে গেল প্রথম রাত।
পরদিন ভোরবেলায় সবার ঘুম ভাঙল অদ্ভুত ও বিচিত্র কিছু পাখির ডাক শুনে । শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে সবার চোখ যখন ঢুলুঢুলু – ঠিক তখনি সবাই মেতে উঠে নতুন এক খেলায় –প্রকৃতিতে থাকা উপাদানগুলো দিয়েই দলগতভাবে করতে হলো ল্যান্ড আর্ট। আবারও একদল অচেনা মানুষের সাথে কাজ হলো। তারপর সকালের নাস্তা শেষে যখন আরেক সেশন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সবাই – তখন মাথায় আসছিলো সেশন না আবার কি বিরক্তিকর একটা জিনিষ- কিন্তু শিহাব স্যার যখন যখন প্লানেটারি বাউন্ডারি বোঝাচ্ছিলেন – হল্রুমে তখন পিনপতন নিরবতা – সবাই হা হয়ে তাকিয়ে রয়েছে – পরিবেশ মানেই যে শুধু প্লাস্টিক আর ডাস্টবিন না -আরো কত কত কিছু জড়িয়ে ।
মধ্যাহ্নভোজের পরের সেশন যেন সবার জন্য ছিলো অন্যরকম। যেখানে আমরা সবাই বিছানায় গা এলানোর চেষ্টা করতাম সেই আমরাই বিস্ফোরক চোখে শুনলাম পলিটিক্যাল ইকোলজি। সবার মাথা যেন ঘুরে গিয়েছিল ঐ এক সেশনেই! সন্ধ্যার পর নদী ও পরিবেশ নিয়ে আয়োজিত সেশনে খালিকুজ্জামান স্যারের (সাথে সরাসরি আলোচনায় মেতেছিলাম আমরা সবাই। এতটা খোলামেলা কথাবার্তা বলাটাও যেন অকল্পনীয় ছিল। শুধু অতিথিরাই নন, আমাদের ফেলোদের অনেকেও এত সুন্দর করে নিজেদের ভাবনা দেখিয়েছেন, একে অপরের কথা যেন মুগ্ধ হয়ে শুনেই যাচ্ছিলাম আমরা।
দ্বিতীয় দিন আর তৃতীয় দিন কেটে গেল নানাধরনের সেশন আর প্রেজেন্টেশনে। এরপর প্রতিদিনই বিভিন্ন সেশনে পালাক্রমে চলতে থাকে – নদী , কৃষি , নগরায়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং পরিবেশের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা , তর্ক , বিতর্ক , ৪১ জন ফেলো বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে তাদের মতামত প্রদর্শন করে এবং এতো জটিল এবং কঠিন বিষয়গুলোর সমাধানও প্রস্তুত করে তারা ।এর মাধ্যমে সবাই সবাইকে জানতে পারছিলাম আমরা। প্রত্যেকটা ফেলোর সাথেই অন্যরকম সম্পর্কে জড়িয়ে যাচ্ছিলাম। আর সেই সাথে মেন্টরদের স্নেহমাখা শাসনেও যেন পরিবারকে খুঁজে পাচ্ছিলাম। চতুর্থ দিন আমরা গেলাম ফিল্ড ট্রিপে, চা বাগানে । সত্যি বলতে যতটা আনন্দ নিয়ে আমরা চা বাগানে গিয়েছিলাম – চা শ্রমিকদের দুঃখ , দুর্দশা –আমাদের ঠিক ততটাই কষ্ট দিচ্ছিলো ।
তাদের জীবন ও সেখানকার জীববৈচিত্র্য নিয়ে নিজেদের উপলব্ধি দিয়ে প্রেজেন্টেশন সাজিয়ে অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করে ফেলোরা । এরপরই হয় সমাপনী অনুষ্ঠান – সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের পরিবেশ, বিজ্ঞান, এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা সিভানি রসনায়কাম, বিওয়াই ই আই এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন ব্যারিষ্টার নাসের আলম, আরণ্যক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রাকিবুল হাসান মুকুল, হেড অফ প্রোগ্রাম – মাসুদ আলম খান । তারপরই দেশীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধনে ফেলো এবং মেন্টররা মেতে উঠেন এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় ৷ আর সেই সাথে সাথে কোথাও গিয়ে যেন সিক্ত হতে থেকে অনেকের চোখ। শেষ দিন সকালের সেশনে আর আড়ালে নয়, তীব্রভাবে প্রকাশিত হয় ফেলোদের আবেগ। মাত্র ৬ দিনের ভেতর যেন এক অন্যরকম হৃদয়ের বন্ধনে আবদ্ধ ছিল সবাই। চোখ বেয়ে নোনাজলের পরিধি যেন সর্বত্র ছড়িয়ে যাচ্ছিল। জাগতিক নিয়ম মেনে অবশেষে শেষ হয় ৬ দিনের এই আর্থক্যাম্প। ভেজা নয়নে বিদায়ী ফেলোদের মনে যেন একটানা বেজে চলছিল – বুকের গভীরে আছে প্রত্যয় , আমরা করবো জয় একদিন ।

আয়োজকরা পরিবেশ এবং প্রকৃতি রক্ষায় এমন ক্যাম্পিং নিয়মিত করার কথা জানিয়েছেন । বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া প্রথম থেকে তৃতীয় বর্ষের যে কেউ এতে অংশ নিতে পারবে । বিস্তারিত জানতে চোখ রাখো - https://www.byei.org/


ক্যানসার গবেষণায় তরুণদের সম্মেলন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাংলার তারুণ্য ডেস্ক

দেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে ক্রমশ উদ্বেগ বেড়েই চলছে। কিন্তু ক্যানসারের ধরন, বর্ধিত ক্যানসার ঝুঁকি প্রতিরোধ, বাংলাদেশে ক্যানসার গবেষণার বর্তমান অবস্থার উন্নতির জন্য গবেষণা ইত্যাদি বিষয়গুলোতে জাতীয় পরিসরে দৃশ্যমান কোনো আলোচনা দেখা যায় না। এ জন্য ক্যানসার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ট্রাস্ট অব (বাংলাদেশ সিসিআরটিবি) আয়োজন করেছে জাতীয় পর্যায়ে একটি ক্যানসার গবেষণার কনফারেন্স। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে গত ২২ ডিসেম্বর ক্যানসার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয় ন্যাশনাল কনফারেন্স অন ক্যানসার রিসার্চ-২০২২। যেখানে একত্রিত হয়েছেন বাংলাদেশে ক্যানসার গবেষণার সঙ্গে জড়িত প্রথিতযশা গবেষকরা।

এই সম্মেলনে ক্যানসার সমস্যা সমাধানের গ্রান্ড চ্যালেঞ্জের পোস্টার প্রদর্শনী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এই সম্মেলনে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তরুণ শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণা ধারণাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য ফান্ডিং পাবেন ক্যানসার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে।

সম্মেলনের শুরুতে আগত অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান ক্যানসার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ট্রাস্ট বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক হাফিজ খান। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্যে ক্যানসার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ট্রাস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুশতাক ইবনে আয়ুব সম্মেলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে ক্যানসার গবেষণা হলেও সমন্বিত উদ্যোগের অভাব রয়েছে এবং উন্নত বিশ্বের সমপর্যায়ে গবেষণাকে পৌঁছানোর জন্য আমাদের একসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। সম্পদ ও মেধার পূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের ক্যানসারসংকট মোকাবিলায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ দেশে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষকদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান। প্রধান অতিথি জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান দেশে ক্যানসারের মৌলিক গবেষণার জন্য আমাদের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ও শক্তিমত্তার দিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, গবেষণার জন্য কী নেই সেটা নিয়ে হতাশ না হয়ে, দেশে যা কিছু আছে তার সঠিক ব্যবহার কীভাবে করা যায় তা ভাবতে হবে। তিনি বিশেষ করে বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে ক্যানসার গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করার আহ্বান জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে দেশের জ্যেষ্ঠ ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম এ হাই, দেশের ক্যানসার গবেষণায় সবার ঐক্যবদ্ধ যাত্রার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স অন ক্যানসার রিসার্চ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন।

কনফারেন্সে ক্যানসার-সংক্রান্ত গবেষণাপত্র উপস্থাপনার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ ক্যানসার গবেষণার কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, সমন্বয় সাধন, ক্যানসার প্রতিরোধে প্রযুক্তির প্রগতি এবং ক্যানসার চিকিৎসার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান, প্রেসিডেন্ট, ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেল অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অনকোলজি ক্লাব বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ ক্যানসার হসপিটাল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার হোমের ডিরেক্টর, প্রফেসর এম এ হাই। বিশিষ্ট বক্তাদের মধ্যে ছিলেন প্রফেসর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকস, ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট লন্ডনের অধ্যাপক ড. হাফিজ খান, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের ক্যানসার এপিডেমিওলজি বিভাগের সাবেক প্রধান ড. মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ তালুকদার, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস, এল পাসো-র ফার্মাসিউটিকেলস/বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. নুরুন্নবি।


ওয়ার্ল্ড ইকোনমিকস কাপে বাংলাদেশের ছয় পদক

আপডেটেড ২৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ২০:৩৫
আবীর হাসান

বাংলাদেশের তরুণরা সব সময়ই সম্ভাবনাময়ী। অর্থনীতির বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা জিতে নিয়েছে ছয় পদক। তিনটি রৌপ্য ও তিনটি ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে তারা। বাংলাদেশের পাশাপাশি ছিল জাপান, যুক্তরাজ্য, জার্মানি। এদের পেছনে ফেলেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করেছে বাংলাদেশি তরুণরা। চীনে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিকস কাপ থেকে তরুণদের এই অর্জন এসেছে। ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিপড়ুয়া স্কুল শিক্ষার্থীদের এই প্রতিযোগিতা। গত দুই বছর করোনা মহামারির কারণে পুরো প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয় অনলাইনে। বৈশ্বিক পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশসহ এ বছর অংশ নেয় ৩৮টি দেশের ৫২টি দলের ২৬৫ প্রতিযোগী। বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব খুঁজে বের করার লক্ষ্যেই সূচনা হয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিকস কাপের।

এবার বাংলাদেশ দলে ছিল মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ফাহিম মোশাররফ রাতুল ও রায়হান হক, ম্যাপললিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আসহাব রিবাত। এরা প্রত্যেকেই রৌপ্যপদক জয় করেছে। পাশাপাশি গ্রীনহারেল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অনুশ্রী চক্রবর্তী, মাস্টারমাইন্ডের রুবাইয়া হাসাইয়ান ফারহিন এবং ইন্টারন্যাশনাল হোপ স্কুলের ইহান ফায়াজ ফারুক জয় করেছে ব্রোঞ্জপদক।

জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড আয়োজিত প্রতিযোগিতায় প্রায় দেড় হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে জাতীয় ক্যাম্পের জন্য বাছাই করা হয় ২২ সদস্যকে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে ছয় সদস্যকে নিয়ে তৈরি হয় অর্থনীতির বিশ্বকাপের ‘টিম বাংলাদেশ’।

ইকোনমিকস ওয়ার্ল্ড কাপের আসরটি তিনটি ভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর। বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে মূলত ম্যাক্রো ও মাইক্রো ইকোনমিকসের ভেতর থেকেই প্রশ্নগুলো করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে প্রতিযোগীদের ১৫০ মিনিটের মধ্যে চিন্তাভাবনা করে কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করে আনতে হয়। সর্বশেষ ধাপে তাদের একটি বিষয় দেয়া হয়, যা থেকে ২৪ ঘণ্টার ভেতর দলগতভাবে একটি প্রেজেন্টেশন দিতে হয় জুরি বোর্ডের সামনে। আর সেই প্রেজেন্টেশনের ভেতর সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা অবশ্যই থাকতে হবে।

বাংলাদেশ দলের ফাহিম মোশাররফ রাতুল জানিয়েছেন, ‘আমাদের সবারই এই প্রথম এ ধরনের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা হলো। তাই বাংলাদেশকে অর্থনীতির এই বিশ্ব আসরে তুলে ধরার ব্যাপারটা মাথায় ছিল। এই অর্জনে আমরা গর্বিত। দেশকে সম্মানিত করতে পেরে আমাদের দারুণ ভালো লাগছে। বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে দেশ ও দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সাফল্য বয়ে আনছে। আমরা সব সময় চাই, আমাদের এই ধারাবাহিকতা যেন অব্যাহত থাকে।’

এবারের প্রতিযোগিতা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল বলে জানায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা। বিশ্বখ্যাত এমআইটি, অক্সফোর্ড ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত জুরি বোর্ড প্রতিযোগীদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ গত বছরের প্রথম আসরেও একটি স্বর্ণ, দুটি রৌপ্য ও দুটি ব্রোঞ্জপদক অর্জন করে।


‘দূর আকাশের গ্যালাক্সি নিয়ে গবেষণা করছি’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আহমাদ মুদ্দাসসের
    তারুণ্য

নিজ বিভাগে উজ্জ্বল তরুণ ইশতিয়াক এইচ আকিব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। গবেষণার সুযোগের অভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড্রপআউট হয়ে দেশের বাইরে পড়তে যান। কোরিয়ায় আন্ডারগ্রেড শেষ করে এখন জোতির্বিদ্যায় গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী হিসেবে বাস করছেন ফ্রান্সে। পড়াশোনা ও গবেষণা করছেন অভজারভেটরি দে প্যারিসে। তার সঙ্গে কথা বলেছেন আহমাদ মুদ্দাসসের

দৈনিক বাংলা: কোন স্কুলে পড়েছেন? কলেজ জীবন কেমন ছিল? এখন কোথায় আছেন?

আকিব: আমার স্কুল ছিল পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়। স্কুলজীবনে অলিম্পিয়াড করতাম। শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস, ফিজিক্স অলিম্পিয়াড থেকে বন্ধু পেয়েছি। স্কুল শেষ করে নটর ডেম কলেজে ভর্তি হই। নটর ডেম কলেজ থেকে বিজ্ঞান কংগ্রেসে অংশ নেয়ার সুবাদে অলিম্পিয়াডকেন্দ্রিক বন্ধু সার্কেল গড়ে ওঠে। বন্ধুদের সঙ্গে মিলে কলেজে আড্ডা, কংগ্রেস ও অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়া, কলেজের পিছনে আরামবাগ এলাকায় ঘুরে বেড়ানো, দার্শনিক চিন্তা-ভাবনা করা, এভাবে বন্ধুত্ব গাঢ় হয়। আমি বর্তমানে ফ্রান্সে পড়াশোনা করছি।

দৈনিক বাংলা: এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে?

আকিব: জ্বি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ছিলাম। তখনই আমি জার্মানির ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোনমিতে এক মাসের একটি গবেষণার সুযোগ পাই। কিন্তু ইয়ার সিস্টেম হওয়ায় ক্লাস পরীক্ষা মিস না দিয়ে সেখানে অংশ নেয়ার উপায় ছিল না। পরে ঈদের বন্ধে সেখানে গিয়েছিলাম।

দৈনিক বাংলা: এখান থেকে কোরিয়ায় কোথায় ভর্তি হলেন এবং কীভাবে?

আকিব: কোরিয়াতে আমি ভর্তি হই কাইস্টে (কোরিয়া অ্যাডভান্স ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি) ওখানে ভর্তির জন্য স্যাট ও টোফেল পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তাছাড়া আমি কেন ওখানে পড়তে চাই, আমার পছন্দের বিষয়ে আমার পুরোনো অভিজ্ঞতা কেমন, ভবিষ্যতে কী করতে চাই এরকম কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমার বিজ্ঞান কংগ্রেস, ফিজিক্স অলিম্পিয়াড এবং জার্মানিতে গবেষণার অভিজ্ঞতা সাহায্য করেছে। তাছাড়া কলেজ থেকে একজন শিক্ষকের রেকমেন্ডেশন লেটারও দরকার হয়েছে। কাইস্টে সব বিদেশি শিক্ষার্থীকে মোটামুটি ফুল স্কলারশিপ দেয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যা পাইনি তার সবই এখানে পেয়েছি। কাইস্ট বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় (কিউ এস র‍্যাংকিং টপ ৫০) এবং তাদের মূল ফোকাস গবেষণাতে। এখানে যখন খুশি কোর্স এবং বিষয় পছন্দ করার স্বাধীনতা ছিল। যেমন আমি চার বছরের ব্যাচেলর্স ডিগ্রি তিন বছরে শেষ করেছি। প্রতি সেমিস্টারে বেশি করে কোর্স নিয়ে। কাইস্টেও অবজারভেশনাল অ্যাস্ট্রোনমির কোনো রিসার্চ গ্রুপ ছিল না। তাই আমি যখন আমার ব্যাচেলর থিসিসের জন্য পোলান্ডের একটি গ্রুপে কাজ করতে চাই, কাইস্ট থেকে আমাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে।

দৈনিক বাংলা: কোভিডকালে কীভাবে পড়াশোনা চালিয়ে গেলেন?

আকিব: কাইস্টে এক সেমিস্টার পড়ে দেশে আসি। কিন্তু ফেরত যাওয়ার সময়ে টাইফয়েড বাধাই। তাই ওই সেমিস্টারে উইথড্র করি। এর পরের বার যাওয়ার সময় কোভিড শুরু হয়। তাই ভিসা জটিলতায় দুই বছরের জন্য দেশে আটকা পড়ে যাই। তবে এই দুই বছরে অনলাইনে সব ক্লাস নরমাল শিডিউলেই হয়েছে। ২০২২-এর ফেব্রুয়ারিতে কাইস্টে ফেরত যাই। অনলাইনে সেমিস্টার করতে তেমন অসুবিধা হয়নি।

দৈনিক বাংলা: ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোনমিতে নতুনদের ইন্টার্নশিপ পেতে কীভাবে ভূমিকা রেখেছেন?

আকিব: জার্মানিতে যে গবেষণার কাজটি করি সেটি মূলত দ্বাদশ শ্রেণি ও সদ্য দ্বাদশ শ্রেণি পাস করেছে এমন শিক্ষার্থীদের জন্য। বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যেন এই প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারে, সে জন্য ক্যাম্পের আয়োজন করি। সেই ক্যাম্পে অংশ নেয়া চার-পাঁচজন পরবর্তী সময়ে এই প্রোগ্রামে সুযোগ পায়। তাছাড়া আমার পরে বিজ্ঞান কংগ্রেস, ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের অনেককেই কাইস্টে অ্যাপ্লাই করতে সহায়তা করেছি। তাদের মধ্যে প্রায় দশজনের মতো এখন কাইস্টে পড়ছে।

দৈনিক বাংলা: কোনো গবেষণা আছে কি না? কী নিয়ে?

আকিব: আমার ব্যাচেলর্স থিসিস ছিল গ্রহ আছে বা তৈরি হচ্ছে এমন তারার সমবর্তন (পোলারাইজেশন) মাপা নিয়ে। এই কাজটি করেছিলাম পোলান্ডের একটি গ্রুপের সঙ্গে। থিসিস শেষ হওয়ার পরেও এদের সঙ্গে এই কাজে যুক্ত আছি। আর ফ্রান্সে মাস্টার্সের অংশ হিসেবেও গবেষণা করছি। আমাদের ছায়াপথকে ঘিরে প্রায় ৫০টির মতো ছোট সাইজের গ্যালাক্সি (Dwarf Galaxy) প্রদক্ষিণ করে। এই গ্যালাক্সিগুলোর প্রদক্ষিণ পথ ও উৎপত্তি নিয়ে গবেষণা করছি। আর বর্তমানে মহাকাশবিদ্যা নিয়ে ফ্রান্সে মাস্টার্স করছি।

দৈনিক বাংলা: মাস্টার্সের জন্য ফ্রান্স কেন বেছে নিয়েছেন?

আকিব: ফ্রান্সে প্যারিস অবজারভেটরি পৃথিবীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও পুরোনো অবজারভেটরির একটি। ফ্রান্সের সব জ্যোতির্বিদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এর সঙ্গে যুক্ত। তাছাড়া ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির অনেক বড় প্রজেক্টেই এখানকার গবেষকরা সরাসরি কাজ করেন। তাই এখানে আসার সিদ্ধান্ত নেয়া। এছাড়া প্যারিসের মতো শহরে থাকার সুযোগও একটি কারণ ছিল। এখানকার মিউজিয়ামগুলোতে বিশ্বসেরা শিল্পকর্ম রাখা আছে। প্যারিস জীবন্ত শিল্পীদের শহর।

দৈনিক বাংলা: পিএইচডি কোথায় করবেন? কোন বিষয়ে?

আকিব: ইউরোপেই পিএইচডি করার ইচ্ছা। ইউরোপে মহাকাশবিষয়ক গবেষণার কোলাবোরেশন ও সুযোগ বেশ ভালো। পিএইচডি ঠিক কোথায় করব সেটি নির্ভর করবে কোন প্রজেক্টে সুযোগ পাই তার ওপর- সেটি প্যারিস অবজারভেটরিতে হতে পারে বা অন্য কোনো দেশেও হতে পারে। অবজারভেশনাল অ্যাস্ট্রোনমিতেই পিএইচডি করার ইচ্ছা- বিশেষত কসমোলজির ওপর।

দৈনিক বাংলা: স্কুলজীবনে কী ভেবেছিলেন? বড় হয়ে কী হবেন?

আকিব: স্কুলজীবন থেকেই জ্যোতির্বিজ্ঞানী হওয়ার ইচ্ছা ছিল।

দৈনিক বাংলা: যারা ফ্রান্স বা কোরিয়ায় স্কলারশিপ পেতে চায় তাদের জন্য পরামর্শ দিন।

আকিব: ফ্রান্স বা কোরিয়া দুই জায়গাতেই ব্যাচেলর্সে অল্প কিছু যায়গা ছাড়া ফ্রেঞ্চ/ কোরিয়ানে পড়তে হয়। কোরিয়াতে কাইস্টের মতো দুই একটি প্রতিষ্ঠান ইংরেজিতে ব্যাচেলরস অফার করে ও স্কলারশিপ দেয়। কাইস্টে সুযোগ পেতে স্যাটে ভালো স্কোর এবং রিলেভেন্ট এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটি থাকতে হবে। যেমন আমার ক্ষেত্রে ছিল অলিম্পিয়াড ও বিজ্ঞান কংগ্রেস। আর মাস্টার্স লেভেলে সুযোগ পেতে ব্যাচেলরস লেভেল ভালো জিপিএ এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি। বাংলাদেশে ব্যাচেলরস লেভেলে গবেষণার সুযোগ কম হলেও যতটুকু আছে সেটুকু করা উচিত। মাস্টার্স অ্যাপ্লিকেশনে দুই-তিনটি রিকমেন্ডেশন লেটার দরকার হয়, যা নিতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের শিক্ষক বা রিসার্চ সুপারভাইজার থেকে।

দৈনিক বাংলা: আপনাকে ধন্যবাদ।

আকিব: ধন্যবাদ।


banner close