বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ

আপডেটেড
২৭ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৮:২৫
রাকিবুল হাসান রোকেল
প্রকাশিত
রাকিবুল হাসান রোকেল
প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৮:২৪

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুললেই মেলে কোটি টাকা। প্রতি তিন মাস পর পর মসজিদের আটটি দানবাক্স খোলা হয়। বিপুল পরিমাণ টাকা ছাড়াও দানবাক্সে পাওয়া যায় বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার। দানবাক্সে কী পরিমাণ টাকা জমা পড়ল সে হিসাবের অপেক্ষায় থাকেন অনেকে। টাকা গণনা দেখতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে আসেন উৎসাহী মানুষ। ঠিক এ কারণেই পর্যটকদেরও পছন্দের জায়গায় পরিণত হয়েছে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি। শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দার তীরে প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে পাগলা মসজিদ গড়ে ওঠে। বর্তমানে সেটি সম্প্রসারিত হয়ে ৩ একর ৮৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করেন কবি ও লোকসংস্কৃতি গবেষক জাহাঙ্গীর আলম জাহান। তিনি জানান, এই মসজিদ সম্পর্কে বেশ কিছু জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। যেমন- এক দিন দেখা গেল নদীর প্রবল স্রোতধারার মধ্যে মাদুরে আসন পেতে এক সাধক পুরুষ ভেসে আসছেন। তিনি প্রায় মাঝ নদীতে স্থির হয়ে যান। এভাবেই কয়েক দিন কেটে যায়। এরপর কয়েক দিনের মধ্যে সে স্থানটি শুকিয়ে চরে পরিণত হয়। কিন্তু সাধক তখনও ধ্যানে মগ্ন। স্থানীয় জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে এসে এই দৃশ্য দেখে বিস্মিত হয়ে যান। তার পরের ঘটনা আরও চমকপ্রদ। পাশের রাখুয়াইল এলাকার জনৈক গোয়ালার একটি গাভী দুধ দিচ্ছিল না। গোয়ালা শত চেষ্টা করেও গাভীর বাঁট (ওলান) থেকে বের করতে পারছিলেন না এক ফোঁটা দুধও। গাভীটিকে নজরে রাখা হলো পুরো একটা দিন। দেখা গেল পাল থেকে হঠাৎ গাভীটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পালাচ্ছে। তারপর নদী সাঁতরে সেই সাধকের চরায় উঠে আসে। সাধকের কাছে একটা পাত্র ছিল। গাভিটি সেই পাত্রে ওলানের সব দুধ ঢেলে দেয়। তারপর নদী সাঁতরে আবার ফিরে আসে পালে। কয়েকদিন এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি লক্ষ করেন গোয়ালা। তিনি নিশ্চিত হন, এ সাধক সত্যিকারের একজন কামেল পুরুষ। গোয়ালা পরম ভক্তি নিয়ে এক দিন সেই সাধক পুরুষের শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেন। কিছুদিনের মধ্যে গোয়ালার অবস্থা। অভাবনীয় উন্নতি হলো। তার এই উন্নতি অন্যদেরও মধ্যেও সাড়া ফেলে দেয়। রাখুয়াইলসহ আশপাশের এলাকার তাঁতি, জেলেসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ দলে দলে শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে লাগল। সাধক পুরুষের অলৌকিকতার খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে দিকিবিদিক। সেই শিষ্যরা সাধকের সেই চরাভূমিতে একটি হুজরাখানা তৈরি করে দেন। মৃত্যুর পর সাধককে হুজরাখানার পাশেই সমাহিত করা হয় এবং সেখানেই নির্মাণ করা হয় মসজিদ। সেটাই পরে পাগলা মসজিদ নামে পরিচিতি পায়। এই কাহিনি পুরোটাই জনশ্রুতিনির্ভর। এর পক্ষে কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।

গুরুদয়াল কলেজের সাবেক অধ্যাপক ও সাহিত্যিক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। ১৯৭৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি তৎকালীন ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকায় এ মসজিদ নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখছিলেন। তাতে দাবি করেছিলেন, হয়বতনগরের প্রতিষ্ঠাতা দেওয়ান হৈবৎ খানের অধস্তন তৃতীয় পুরুষ জোলকরণ খানের বিবি সাহেবা মূলত এই পাগলা মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা। বেগম সাহেবা ছিলেন নিঃসন্তান এবং প্রজারা তাকে ‘পাগলা বিবি’ বলে ডাকতেন। স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে তিনি দেওয়ানবাড়ি থেকে একরশি দূরে নরসুন্দার তীরে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। এই তথ্যও হয়বতনগর দেওয়ানবাড়ি থেকে পাওয়া। এর পেছনেও সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। পাগলা মসজিদের সঙ্গে এ রকম নানা জনশ্রুতি জড়িয়ে আছে।

তবে ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাচীন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই এলাকায় এক সময় বৌদ্ধ, যোগী ও নাথযোগী সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। বিশেষ করে বর্তমান কাতিয়ারচর ও সগড়াসহ আশপাশের এলাকায় একসময় নাথযোগী ও বিভিন্ন লোকধর্মে বিশ্বাসী মানুষ বসবাস করতন। তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের একটি কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। এ থেকে অনুমান করা যায়, নরসুন্দারে জেগে ওঠা চরাভূমিতে হয়তো নাথযোগী সম্প্রদায়ের কোনো সিদ্ধ পুরুষ তার সাধনপীঠ প্রতিষ্ঠা করে তাতে যুগ সাধনায় রত ছিলেন। তার শিষ্য ছিলেন স্থানীয় গোয়ালা, তাঁতি, জেলে, মাঝি ইত্যাদি সম্প্রদায়ের লোকজন। এ সময় সমগ্র বাংলাদেশেই উল্লিখিত সম্প্রদায় ও গোত্রের নর-নারী যে গোরক্ষনাথের বিশেষ অনুরাগী ও অনুসারী ছিলেন মনে করা হয়। নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই কোনটা সত্যি ইতিহাস।

পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পৌর মেয়র মো.পারভেজ মিয়া। তিনি জানান, পাগলা মসজিদের দানের টাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। কমপ্লেক্সটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম স্থাপত্য হিসেবে বানানো হবে। এ জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ কোটি টাকা। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। ২০০ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া পাঁচ হাজার নারীর জন্য নামাজের আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

দান করেন কারা :

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুললেই মিলে কোটি কোটি টাকা। দানের এই টাকার পরিমাণ প্রতিনিয়ত শুধু বেড়েই চলেছে। দিনে তো বটেই, রাতের আঁধারেও অনেকে গোপনে এসে দান করে থাকেন মসজিদের দানবাক্সগুলোতে। টাকা ছাড়াও মেলে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। এ ছাড়া প্রতিদিন মসজিদে দান করা হয় হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল। কারা দান করেন এসব টাকা এবং কোন খাতে ব্যয় হয় এসব অর্থ সে তথ্য জানার চেষ্টা করেছে দৈনিক বাংলা।

পাগলা মসজিদের নৈশপ্রহরী মো. মকবুল হোসেন। তিনি এই মসজিদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন ২৭ বছর। তিনি বলেন, ‘শুধু মুসলিম নয়, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এখানে এসে দান করেন। টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়াও প্রচুর পরিমাণ হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলও দান করেন অনেকে। করোনার শুরুতে যখন জনসমাগম বন্ধ ছিল, তখনো অনেকে গভীর রাতে এসে দানবাক্সে দান করেছেন।’ তিনি জানান, অতীতে এই মসজিদে কেবল আশেপাশের এলাকার মানুষ দান করতেন। আর এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এসে টাকা-পয়সা দান করেন। এ ছাড়া বিদেশিরা অনেক সময় আসেন, পুরো মসজিদ ঘুরে দেখে যাওয়ার সময় দানবাক্সে বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন।

মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান জানান, প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে দান করছেন এই মসজিদে। যারা দান করতে আসেন তারা বলেন, এখানে দান করার পর তাদের আশা পূরণ হয়েছে। আর এ বিষয়টির কারণেই এখানে দান করেন তারা।

ব্যয় হয় যেসব খাতে :

পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শওকত উদ্দিন ভূইয়া জানান, প্রতি মাসে পাগলা মসজিদের স্টাফ খরচ বাবদ ব্যয় হয় ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০২১ সালে দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত ১২৪ জন ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য এবং অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচের জন্য ১৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও করোনাকালীন সময়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, পাগলা মসজিদের টাকায় ২০০২ সালে মসজিদের পাশেই একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে এই মাদ্রাসায় ১৩০ জন এতিম শিশু পড়াশোনা করছে। মসজিদের টাকায় তাদের যাবতীয় ভরণপোষণ ও জামাকাপড় দেওয়া হয়ে থাকে। ওয়াকফ স্টেটের অডিটর দ্বারা প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে পাগলা মসজিদের আয়-ব্যয়ের অডিট করা হয়।

পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্স পরিচালনা করার জন্য ৩১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। এই কমিটিতে জেলা প্রশাসক সভাপতি এবং কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি, আইনজীবী, সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই কমিটিতে আছেন।

বিগত দুই বছরে যে পরিমাণ টাকা জমা পড়েছে দানবাক্সগুলোতে:
২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি দানবাক্সগুলো খুলে পাওয়া গেছে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা, এরপর ১৯ জুন পাওয়া গেছে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৪ টাকা, একই বছরের ৬ নভেম্বর পাওয়া গেছে রেকর্ড পরিমাণ ৩ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৫ টাকা।
পরে ২০২২ সালের ১৩ মার্চ পাওয়া গিয়েছিল ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৫ টাকা, ৩ জুলাই পাওয়া গিয়েছিল ৩ কোটি ৬০ লাখ ২৭ হাজার ৪১৫ টাকা, একই বছরের ২ অক্টোবর পাওয়া গিয়েছিল ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকা।

আশপাশের দর্শনীয় স্থান :

কিশোরগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য ভ্রমণ স্থানের মধ্যে রয়েছে শহরের পূর্বদিকে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান, সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে ফুলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর বাড়ি। করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নে অবস্থিত ঈশা খাঁর জঙ্গলবাড়ি দুর্গ, পাকুন্দিয়া উপজেলা এগারসিন্দুরে অবস্থিত ঈশা খাঁর দুর্গ, শেখ শাহ মাহমুদ মসজিদ ও বালাখানা এবং শেখ সাদী মসজিদ। জেলার হোসেনপুর উপজেলার গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি, শহরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সামনের মুক্তমঞ্চ।

যেভাবে যাবেন

কিশোরগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ এবং কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের খুব কাছেই ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ অবস্থিত। কিশোরগঞ্জ শহরের যেকোনো এলাকা থেকে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে পাগলা মসজিদে যেতে পারবেন।

ঢাকা থেকে ট্রেনে কিশোরগঞ্জ
রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কিশোরগঞ্জ উদ্দেশে তিনটি আন্তনগর ট্রেন ছেড়ে যায়। এগারসিন্ধুর প্রভাতী বুধবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৭টায়, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ও এগারসিন্ধুর গোধূলি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ট্রেনের শ্রেণি অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারিত রয়েছে। কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে অটোরিকশা রিজার্ভ করে পাগলা মসজিদ আসতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা খরচে যাওয়া যাবে।

ঢাকার মহাখালী থেকে বাসে করে গাজীপুর হয়ে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল বাসস্ট্যান্ড আসতে পারবেন। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৩৩০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকার গোলাপবাগ (সায়েদাবাদ) থেকে যাতায়াত ও অনন্যা সুপার বাসে করে ভৈরব হয়ে গাইটাল বাসস্ট্যান্ডে যাওয়া যায়। বাস ভাড়া জনপ্রতি ৩৫০ টাকা। মহাখালী থেকে সময় লাগবে প্রায় ৪ ঘণ্টা এবং গোলাপবাগ থেকে সময় লাগবে সাড়ে ৪ ঘণ্টা। গাইটাল বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩০ টাকায় রিজার্ভ অটোরিকশা ভাড়ায় সরাসরি পাগলা মসজিদ আসতে পারবেন। এ ছাড়া গাইটাল বাসস্ট্যান্ড থেকে লোকাল অটোরিকশায় জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়ায় বটতলা মোড়ে নেমে ৫-৭ মিনিট হাঁটলেই পাগলা মসজিদে পৌঁছা যাবে।

কোথায় খাবেন :
কিশোরগঞ্জ শহরে কাঁচালংকা, গাংচিল, তাজ, পানসী, ধানসিঁড়ি, ইস্টিকুটুম, দারুচিনি, কয়লা, ময়নামতি, হোটেল খাওয়া-দাওয়া, কোহিনূর ইত্যাদি রেস্টুরেন্টে পছন্দের খাবার খেতে পারবেন। এ ছাড়া অষ্টগ্রামে বিখ্যাত পনির খেতে চাইলে সুগন্ধা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও রাজলক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে যেতে পারেন।

কোথায় থাকবেন :

কিশোরগঞ্জ শহরে রাত্রিযাপনের জন্য হোটেল আল মোবারক ,গাংচিল, নিরালা, হোটেল শেরাটন, রিভার ভিউ, উজান ভাটিসহ বেশ কিছু ভালো মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। এ ছাড়া যোগাযোগ করে জেলা পরিষদের ডাক-বাংলোতে থাকতে পারবেন।

লেখক: প্রতিনিধি,কিশোরগঞ্জ


ফাল্গুনের বাহারি সাজ

শাড়িতে নিজেকে জড়াতে পারেন বসন্ত বরণে। মডেল: পাপড়ি সুলতানা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতকাহন ডেস্ক

ঋতুরাজ বসন্তকে বরণে প্রস্তুত হচ্ছে প্রকৃতি। বসন্ত রাজাকে বরণ করতে প্রকৃতিতে যেমন লাগছে রঙের ছোঁয়া ঠিক তেমনি বসন্ত বরণে কী পরবেন, কেমন সাজবেন… এমন পরিকল্পনাও ঘুরছে অনেকের মনে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কেমন হতে পারে পয়লা ফাল্গুনের সাজসজ্জা।

শাড়িতে ফাল্গুনি সাজ

বাঙালি ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়ে আটপ্রৌড়ে করে বাসন্তী রঙা সুতি, তাঁতের টাটকা শাড়িতে নিজেকে জড়াতে পারেন বসন্ত বরণে। তবে প্রকৃতির রং বদলে শামিল হতে সবুজের বিভিন্ন শেড যেমন- কচি পাতা সবুজ, গাঢ় সবুজ ইত্যাদি রং বেছে নিতে পারেন। আবার হলুদ-কমলা গাঁদা ফুলের মতো প্রস্ফুটিত হতে পারেন। এদিকে পরের দিনটাতেই কিন্তু ভালোবাসা দিবস। সেদিন বেছে নিতে পারেন লাল রং বা প্রিয়জনের পছন্দের রঙের পোশাক।

শাড়ির সঙ্গে চাই হাতভর্তি রিনিঝিনি রেশমি কাঁচের চুড়ি। গলায় ফুলের মালা না পরতে চাইলে আজকাল বাজারে কাঠ, পুঁতি, মাটি, মেটাল, পাথর বিভিন্ন ধরনের কারুকার্যময় কানের ও গলার সেট পাওয়া যায়। পায়ে চাইলে পরে নিতে পারেন চিকন কাজের নূপুর।

ফাল্গুনের সাজসজ্জার পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে আরও একটি জরুরি বিষয়ে। আর তা হলো সারা দিনের হাঁটাহাঁটির কথা মাথায় রেখে হিল না পরে ফ্ল্যাট জুতা পরাই হবে বুদ্ধিমতির কাজ।

ফাল্গুনে মেকআপ

বসন্তের শুরুর দিনটাতে মেকআপটা খুব ভারী করা ঠিক নয়। মেকআপ নেওয়ার আগে অবশ্যই মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে সানস্ক্রিন লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করবেন। এরপর মুখে লাগাবেন ম্যাট ফাউন্ডেশন। তারপর খানিকটা ফেস পাউডার লাগাবেন হালকাভাবে। আর সব সময় মনে রাখবেন পোশাকের রং অনুযায়ী হবে মেকআপের রং।

চোখে গাঢ় করে কাজলের রেখা টেনে দিয়ে ঠোঁট রাঙাতে পারেন লাল লিপস্টিকে। কাজল, আইলাইনার, আইশ্যাডো, গ্লিটার- যেটাই ব্যবহার করুন না কেন, সব যেন হয় একই রঙের। এরপর কপালে টিপ আর হাতে পরুন কাচের চুড়ি। আর বসন্তের সাজে ফুলের কোনো না কোনো অনুষঙ্গ তো রাখতেই হবে। হোক তা চুলে, হাতে কিংবা ভিন্ন কোনো গয়না হিসেবে।

ফাগুন দিনে চুলের সাজে নানা রঙের তাজা ফুলের ব্যবহার নারীকে করে তোলে অনন্যা। খোঁপা বা বেণি করে চুলে গাদা ফুলের মালা পেঁচিয়ে নিতে পারেন। কেউ যদি চুল ছেড়ে রাখতে চান তাহলে একপাশে গুঁজে নিতে পারেন গোলাপ বা জারবেরা ফুল। যখন বড় ফুল পরবেন, তখন গলা ও কানের গয়নাটা খানিকটা হালকা বেছে নেবেন। মেরুন, হলুদ, সাদা, নীল রঙের চন্দ্রমল্লিকা, ক্যালানডুলা ফুলগুলোও বেছে নিতে পারেন গাঁদা, গোলাপের বিকল্প হিসেবে।


বরিশালে জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তিন বোনের পেইজ ‘আপন বোন’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশালের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তিন বোনের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পেইজ রয়েছে। যা স্থানীয়দের কাছে দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে।

তারা ইতোমধ্যে বরিশালের ভাষায় তাদের হাস্যরসাত্মক ভিডিওগুলির মাধ্যমে ১.৫ মিলিয়ন বেশি ফলোয়ার এবং ৮০০ কোটির বেশি ভিউ সংগ্রহ করেছে, যা বাংলাদেশের একটি বড় কিশোর-কিশোরী দর্শককে আকর্ষণ করেছে।

নেহা, সাবিনা ও সামিয়া সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে উঠেছেন, এবং তাদের সাফল্য তাদেরকে দেশের শীর্ষস্থানীয় ভিডিও কন্টেন্ট নির্মাতাদের তালিকায় স্থান দিয়েছে।

তারা ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ভিডিও কন্টেন্ট আপলোড দেয়া শুরু করেন। তারা ফেইসবুকের অন্যান্য বিখ্যাত ভিডিও নির্মাতাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তারা খুব কম সময়েই অনেক মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে পেরেছেন।

তারা তিন বোনেরা শুধুমাত্র নিজেদের সাফল্যে সন্তুষ্ট নয় এবং তারা অন্যদেরকে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হতে অনুপ্রাণিত করছে যেনো ফেইসবুকে অন্যরাও জীবিকা অর্জন করতে পারেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়, নেহা এবং সাবিনা বলেন, ‘আমরা এই কাজটি করে নিজেরা অর্থ আয় করছি। ফলে ফেসবুক বাংলাদেশে বেকারত্ব দূর করতে সাহায্য করছে। আমরা চাই অন্যরাও ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের আঞ্চলিক ভাষা সারা বাংলায় পৌছে দিচ্ছি- কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে। এটা আমাদের অন্যরকম এক ভালো লাগা কাজ করছে।’


প্রকাশ হলো বিশেষ স্মারকগ্রন্থ ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’

ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ পেল যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর বিশেষ স্মারকগ্রন্থ ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন দেশবরেণ্য কবি - সাহিত্যিকরা তাঁদের লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অমর একুশে বইমেলা – ২০২৪ এর উদ্বোধন শেষে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শনের সময় ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এসময় যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি নুরুল হুদাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

জাতির পিতাকে নিয়ে লিখিত স্মারকগ্রন্থ ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের সম্পাদক ও প্রকাশক যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও নির্বাহী সম্পাদক যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। সম্পাদনা পর্ষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জহুরুল ইসলাম মিল্টন, উপগ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাড. শেখ নবীরুজ্জামান বাবু। সম্পাদনা সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন উপবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. রাশেদুল হাসান সুপ্ত, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. বজলুল করিম মীর। বইটির প্রচ্ছদ শিল্পী ওবায়দুল কবির রিক্ত।

‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের সম্পাদকীয়তে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ লিখেছেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০-১৯৭৫), বাঙালির জাতির চেতনার ধমনীতে প্রবাহিত শুদ্ধতম নাম, ইতিহাসের মহানায়ক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। তিনি বাঙালির হাজার বছরের চেতনাকে ধারণ ও লালন করেছেন। বঙ্গবন্ধু আমাদের চিরন্তন প্রেরণার উৎস। তার কর্ম, নীতি, আদর্শ ও দর্শন বেঁচে থাকবে অনন্তকাল।’

‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থটি অমর একুশে বইমেলা – ২০২৪ এ যুবলীগের স্টলে ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ’তে পাওয়া যাচ্ছে। শুভেচ্ছা মূল্য ১০০০ টাকা।


নতুন আঙ্গিকে দেশীদশের যাত্রা শুরু

নবসাজের দেশীদশ উদ্বোধন করেন দেশের সৃজনশীল শিল্পের অন্যতম প্রধান শিল্পী হাশেম খান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৪ ১৯:১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশীয় পোশাকের সৃজনশীল দশটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ দেশীদশ আজ বুধবার বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের লেভেল চারে নতুন সাজে নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করেছে।

যাত্রা শুরুর এই আনন্দঘন মূহুর্তে প্রধান অতিথি হিসেবে নবসাজের দেশীদশ উদ্বোধন করেন দেশের সৃজনশীল শিল্পের অন্যতম প্রধান শিল্পী হাশেম খান। এছাড়াও সেসময়ে দেশীদশ প্রাঙ্গনে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বরেণ্য শিল্পী জামাল আহমেদ।

নতুন আঙ্গিকের এই যাত্রার সময় এই দীর্ঘ পথচলায় দেশীদশের শুরু থেকে যারা সাথে রয়েছেন সেইসব শুভাকাঙ্খী, পৃষ্ঠপোষক আর এই শিল্পের অগ্রজ মানুষদের সম্মিলনে এক উৎসবমুখর পরিবেশ হয়ে উঠে দেশীদশ চত্বর। দেশীদশের উদ্যোক্তারা দেশীয় ফ্যাশনশিল্প বিকাশে আগামীতেও একসাথে কাজ করে এই অনন্য উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

২০০৯ সাল হতে এক অনন্য ভাবনায় গঠিত হয়েছিল স্বনামধন্য ১০টি ফ্যাশন ব্র্যান্ড নিপুণ, কে ক্রাফট, অঞ্জনস্, রঙ বাংলাদেশ, বাংলারমেলা, সাদাকালো, বিবিআনা, দেশাল, নগরদোলা ও সৃষ্টি -এর সম্মিলিত উদ্যোগ দেশীদশ। জন্মলগ্ন হতে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের ফ্যাশনশিল্প উন্নয়নে প্রতিনিয়ত অবদান রেখে চলেছে দেশীদশ। দেশীয় সংস্কৃতি, দেশীয় উৎসব, দেশীয় পোশাক নিয়ে কাজ করাই দেশীদশের মূল চিন্তাধারা। দেশীয় উপকরণে উৎসবনির্ভর পোশাক তৈরি করেই মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে দেশীদশ।

বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ছাড়াও দেশীদশ আউটলেট রয়েছে সিলেটের কুমারপাড়া ও চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ে আফমি প্লাজায়। আউটলেট ছাড়াও অনলাইনে দেশীদশ এর পেজে যুক্ত হয়েও কেনাকাটা করা যায়।


বিয়ের সাজের গল্প

কনের সাজে চিত্রনায়িকা জাহারা মিতু।
আপডেটেড ১৯ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০২
সৈয়দা লাইবা বিনতে মঈন

জীবনের বিশেষ মুহূর্ত বিয়ে। আর এর মূল আকর্ষণ কনের সাজ। কনের সাজে বা ব্রাইডাল সাজে ভিন্নমাত্রা যোগ করে বিয়ে উৎসবকে দেওয়া যায় অনন্যতা। এখন চলছে বিয়ে মৌসুম। ট্রেন্ডি, ফিউশন ও ট্রাডিশনসহ বিভিন্ন সাজ নিয়ে ইদানীং তাই যথেষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সাতকাহনের আজকের মূল প্রতিবেদনে রইলো বর্তমান সময়ের বর-কনের সাজের নানা আয়োজনের খোঁজ।

মনের মতো বিয়ের পোশাক

বিয়ের পোশাকের দিকেও রাখতে হবে আলাদা নজর। কোন রঙের পোশাকে কনেকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় এবং উজ্জ্বল দেখাবে বিষয়টি মাথায় রেখে তা নির্বাচন করতে হবে। প্রথাগত লাল বেনারসি শাড়িতেই যেসব কনেকে অপরূপ লাগবে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। বেনারসি-কাতানের পাশাপাশি নানা রঙের জামদানি, অরগানজা, সিল্ক ও মসলিনে ঝুঁকছেন কনেরা। এসব কাপড় দিয়ে তৈরি করা লেহেঙ্গা আর গাউনের আবেদনও রয়েছে ব্যাপক।

বর্তমান সময়ে রঙের ক্ষেত্রে এসেছে বেশ পরিবর্তন। কনেরা প্রাধান্য দিচ্ছেন সাদা, মিন্ট, হালকা গোলাপি, আইভরি, মিন্ট, ল্যাভেন্ডার ও গোল্ডেন রঙের মতো হালকা রংগুলোকে। তবে বিয়ের শাড়ি বা এর অনুষঙ্গ উজ্জ্বল রঙের হওয়া ভালো।

গয়নায় বৈচিত্র্য

বিয়ের সাজ মানেই জমকালো পোশাক-গহনা হতে হবে, এ ধারণা থেকে বেরিয়ে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে নিজেদের সাজিয়ে তুলছেন এখনকার কনেরা। একটা সময় পর্যন্ত ভাবাই যেত না বিয়ের দিনে বউয়ের গায়ে সোনা ছাড়া ইমিটেশনের গহনা উঠবে। এখন কিন্তু বিয়েতে প্রাধান্য পাচ্ছে সোনার বাইরেও সোনার প্রলেপ দেওয়া বা ভিন্ন ভিন্ন ধাতুর তৈরি ঐতিহ্যবাহী নকশার গহনা। কাটা কাজের নকশা, গলাজুড়ে ভরাট নকশা, মিসরীয় সভ্যতার গহনার নকশা এখন শোভা পায় আধুনিক কনের গহনায়।

আরেকটি বিষয় পোশাকের সঙ্গে মানানসই গহনা, ব্যাগ, জুতা ইত্যাদি এক্সেসরিজও থাকা চাই। বিয়ের জুতা মানেই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ঝাঁ চকচকে জুতা- এমন ধারণা এখন অনেকটাই ফিকে। বরং একটু আরামদায়ক জুতাই এখন পছন্দ বেশিরভাগ কনের।
কনের ব্যাগের দিকেও কিন্তু নজর থাকে সবার! আর তাই ব্যাগ কেনার সময় বিয়ের পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং করে কেনাই ভালো। পোটলি, বটুয়া বা বক্স ক্লাচ এখন ট্রেন্ডি ব্রাইডাল ব্যাগ। এর বাইরে অনেক কনের পছন্দের তালিকায় থাকে কাজ করা ছোট পার্সও।

মডেল: চিত্রনায়িকা জাহারা মিতু।

বিয়ের সাজে নিজস্বতা

একেবারেই ন্যাচারাল লুক মনে হয় এমন সাজ-ইদানীং ব্রাইডাল সাজের ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। তাই বিউটিশিয়ানকে বলতে হবে, ন্যাচারাল মনে হয়; এমন সাজে সাজিয়ে দিতে। এখনকার কনেরা আগের সময়ের মতো ভারী মেকআপ একদমই পছন্দ করছেন না। নিজেকে মেকআপ দিয়ে পরিবর্তন না করে বরং নিজস্বতাকে ফুটিয়ে তোলাই যেন এখনকার মেকআপ ট্রেন্ড। ন্যুড মেকআপের চলের পাশাপাশি লাটে মেকআপ, গ্লোয়ি-ডিউই মেকআপই বেছে নিচ্ছেন এখনকার কনেরা।

আটপৌরে সাবলীল মেকআপকেও প্রাধান্য দিচ্ছেন অনেকেই। এমন মেকআপ করা হচ্ছে এখনকার সময়ে, যাতে করে মেকআপ অনেকটা সময় ঠিকঠাক থাকে। হালকা কিন্তু অনেক লম্বা সময় থাকে এমন স্টাইলের গ্রহণযোগ্যতাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

বিয়ের আগে ত্বকের বিশেষ যত্ন

মেকআপ যতই ভালো হোক না কেন, ত্বক ও চুল যদি সুন্দর ও উজ্জ্বল না হয় তাহলে দেখতে মোটেও সুন্দর লাগবে না। তাই বিউটি এক্সপার্টদের পরামর্শ মেনে, মাসখানেক সময় হাতে রেখেই রূপচর্চা শুরু করতে হবে। নিয়ম মেনে ভালোভাবে করতে হবে খাওয়া-দাওয়া। বিয়ের সপ্তাহখানেক আগেই ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া শুরু করতে হবে। হাত-পায়ের ওয়াক্সিং, ফেসিয়াল, চুলের ট্রিটমেন্ট আগেই করে ফেলা উচিত।

নয়তো বিয়ের আগে একসঙ্গে সব কাজ করতে গেলে এগুলো আপনার গোটা সাজকেই মাটি করে দিতে পারে। বিয়ের ঠিক এক বা দুদিন আগে ভ্রু প্লাক করতে হবে। বিয়ের দিন সাজার সময় ভ্রু প্লাক করতে গেলে সেখানে দ্রুত মেকআপ করার সময় ভ্রুর জায়গাটিতে যন্ত্রণা, চুলকানি, লাল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে, যা আপনার সুন্দর সাজগোজকে মাটি করে দিতে পারে।

নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি ফাস্টফুড, কোল্ড ড্রিঙ্কস, ভাজাভুজি ও মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন। প্রচুর ফল ও সবজি খান ও মেডিটেশন করুন। বিয়ের অনুষ্ঠানের আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। এতে আপনার ত্বকে ব্রণ বা অন্য কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে এবং মেকআপ ত্বকে খুব সুন্দরভাবে বসবে।

চোখ থাকুক বরের সাজেও

এবার আসা যাক বরের সাজসজ্জায়। বরবেশে বিয়েতে বরের সাজও এখন কম যায় না। বরের পোশাক এখন একই ধরনের রং থেকে বেরিয়ে আরও বর্ণিল হয়েছে। লাল ছাড়াও মেরুন, নীল, সোনালি, গোলাপি, ফিরোজা, সবুজ বা কালো রঙের বরের পোশাক দেখা যায় এখন। এখনকার বরেরা আবার কনের শাড়ি কিংবা লেহেঙ্গার সঙ্গে মিল রেখে নিজের পোশাক বাছাই করেন। তা হতে পারে কনের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে রং কিংবা কনট্রাস্ট কোনো কালার।

বর সাজতে হলে ভারী শেরওয়ানি পরতে হবে এমনও নয়। ফুল আর পাখির নকশা করা প্রিন্স কোট পরেও ভিন্ন বেশে বর সাজতে পারেন। অভিনবত্ব চাইলে যোধপুরি প্যান্টের সঙ্গে প্রিন্স কোট পরা যেতে পারে। বর সাজতে পারেন স্যুট-বুটেও। অনুষঙ্গ হিসেবে কোটপিন, টাই, বো, পকেট স্কয়ার জুতার প্রতি বিশেষ নজর থাকতে হবে। সঙ্গে এক জোড়া কাফলিংস যেন থাকে। বরের সাজটা তাতে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। সনাতন ধর্মের বর শেরওয়ানি ছাড়াও তসর, সিল্কের ভারী কাজের পাঞ্জাবির সঙ্গে ধুতি, দোপাট্টা পরতে পারেন। মাথায় পাগড়ির বদলে পরতে পারেন শোলার টোপর।

বরের বিয়ের পাগড়ি পরার নকশা এবং রঙে এখন ব্যাপক বৈচিত্র্য এসেছে। কেনা পাগড়ির বদলে হাতে বাঁধা পাগড়িতে বিয়ের সাজে আসে ভিন্নতা। সোনালি, তামাটে, লালের মতো উজ্জ্বল রঙ কিংবা ঘিয়ে রঙের পাগড়িতে বর বেশি জমকালো হয়ে ওঠে। আর তা যদি হয় জামদানি, কাতান, মসলিন, হাফসিল্ক কাপড়ের তবে তা আরও চমৎকারভাবে ফুটে ওঠে।


'জয় বাংলা,জিতবে এবার নৌকা' গানের নতুন সংস্করণ ছাড়ালো একশ কোটি ভিউ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় ‘টিম জয় বাংলা’র একদল তরুণ শিল্পীর উদ্যোগে বানানো ‘জয় বাংলা, জিতবে আবার নৌকা’ গানের নতুন সংস্করণের ভিউ ছাড়িয়েছে এক শ কোটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনপ্রিয়তা এবং ভিউ বিবেচনায় নির্বাচনী প্রচারণা গানের ক্যাটাগরিতে বিশ্ব রেকর্ড করেছে ‘জয় বাংলা, জিতবে আবার নৌকা’ গানের নতুন সংস্করণ।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার জন্য গত ১৮ নভেম্বর এ গানটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও গানটির প্রযোজক ও গীতিকার তৌহিদ হোসেন।

নির্বাচনকালীন সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ফ্ল্যাশমব, রিল, শর্টস আকারে অসংখ্যবার পোস্ট হয়েছে এ গানটি। শুধু টিকটকেই এ গানটি ব্যবহার করে দেড় লক্ষাধিক ভিডিও বানিয়ে আপলোড করা হয়েছে। যা কোটি কোটি দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। আর ফেসবুকে এ গানটির ভিউ হয়েছে ২৫ কোটিরও বেশি। জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম, শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলেও গানটি প্রকাশের পর ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায়। কিছু কিছু চ্যানেলের ভিডিও প্রায় কোটিবার দেখা হয়েছে।

এ ছাড়া এ গানটি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ফেসবুক ও ইউটিউবে অসংখ্য ভিডিও বানিয়ে আপলোড করা হয়েছে। যার সবগুলোই সাড়া ফেলেছে দর্শকমহলে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ‘জয় বাংলা জিতবে আবার নৌকা’ গানটি বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাওয়া হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে ভিডিও তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের বাইরেও বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন উৎসব-আয়োজনেও জনপ্রিয় ছিল গানটি। সব মিলিয়ে নতুন সংস্করণের ভিউ ছাড়িয়েছে একশ কোটি। প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে ভিউ সংখ্যা।

এ বিষয়ে গানটির গীতিকার ও প্রযোজক তৌহিদ হোসেন বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচারণায় গানটি দারুণ সাড়া ফেলবে, এটা ভাবনায় ছিল আমাদের। তবে ভাবতেই অবাক লাগে, মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে গানটি অতিক্রম করেছে এক শ কোটির বেশি ভিউ। যা নির্বাচনী গানের ক্ষেত্রে রীতিমত বিশ্বরেকর্ড। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে গানটি নির্মাণ করা হয়েছে। একদল উদ্যামী তরুণকে নিয়ে তৈরি করা গানটি গতবারের মতো এবারও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উৎসর্গ করেছি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই গানটির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। যা আমাদের জন্য অন্যতম বড় একটি প্রাপ্তি।

প্রসঙ্গত, গানটির প্রথম সংস্করণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রবল জনপ্রিয়তা পায় সারাদেশে। পরবর্তী সময়ে উপজেলা নির্বাচন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন, উপ- নির্বাচনসহ সকল নির্বাচনেও গানটির জনপ্রিয়তা ছিল সর্বোচ্চ। তারই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের গেল ৫ বছরের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরে গানটির নতুন সংস্করণ তৈরি করে ' টিম জয় বাংলা' র একদল তরুণ শিল্পী। এবারের আয়োজনেও গানের গীতিকার ও প্রযোজক হিসেবে ছিলেন জনাব তৌহিদ হোসেন। সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন- সরোয়ার ও জিএম আশরাফ। সংগীতায়োজন করেছেন ডিজে তনু ও এলএমজি বিটস।


সত্যের নির্মলতম আদর্শ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৮:৪২
এম. নজরুল ইসলাম

বিশ্বসংসারে এমন আড়ালচারী কিছু মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়, যাঁরা নিভৃতে কাজ করেন দেশ ও মানুষের কল্যাণে। ব্যক্তিগত মোহের ঊর্ধ্বে উঠে দেশচিন্তায় শুধু নয়, নিজেকে নিয়োজিত রাখেন বিশ্বমানবের কল্যাণে। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল সেই বিরল ব্যক্তিত্ব যিনি নিজেকে নিয়ে ভাবিত হতে না পারার বিরল শক্তি তিনি অর্জন করেছেন। পাদপ্রদীপের আলোয় নিজেকে আলোকিত করার সব সুযোগ ও সুবিধা থাকা সত্তে¡ও নিজেকে রেখেছেন মোহমুক্ত। যাঁরা পারিবারিকভাবে নিতান্ত সাদামাটা জীবনে অভ্যস্ত, রাজনৈতিক আবহে বেড়ে ওঠার পরও এমন নিভৃত জীবন কাটানো তাঁদের পক্ষেই সম্ভব। ক্ষমতা কখনো তাঁর মোহভঙ্গ করতে পারেনি। তাঁর জীবনাচার লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই, তিনি রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘সত্যের নির্মলতম আদর্শকে’ রক্ষা করেছেন। আত্মপ্রবঞ্চনা ও পরপ্রবঞ্চনার পঙ্কিল আবর্তের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলেননি। সত্যকে তিনি ভয় করেননি। মিথ্যার সুবিধা ভোগে প্রবৃত্ত হননি কোনো দিন।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘মানুষের ধর্ম’ প্রবন্ধের ভূমিকায় লিখেছেন, ‘মানুষের একটা দিক আছে, যেখানে বিষয়বুদ্ধি নিয়ে সে আপন সিদ্ধি খোঁজে। সেইখানে আপন ব্যক্তিগত জীবনযাত্রা নির্বাহে তার জ্ঞান, তার কর্ম, তার রচনাশক্তি একান্ত ব্যাপৃত। সেখানে সে জীবরূপে বাঁচতে চায়।

কিন্তু মানুষের আর একটা দিক আছে, যা একান্তই ব্যক্তিগত বৈষয়িকতার বাইরে। সেখানে জীবনযাত্রার আদর্শে যাকে বলি ক্ষতি তাই লাভ, যাকে বলি মৃত্যু সেই অমরতা। সেখানে বর্তমান কালের জন্য বস্তু-সংগ্রহ করার চেয়ে অনিশ্চিত কালের উদ্দেশে আত্মত্যাগ করার মূল্য বেশি। সেখানে জ্ঞান উপস্থিত-প্রয়োজনের সীমা পেরিয়ে যায়, কর্ম স্বার্থের প্রবর্তনাকে অস্বীকার করে। সেখানে আপন স্বতন্ত্র জীবনের চেয়ে যে বড়ো জীবন, সেই জীবনে মানুষ বাঁচতে চায়।

স্বার্থ আমাদের যেসব প্রয়াসের দিকে ঠেলে নিয়ে যায় তার মূল প্রেরণা দেখি জীবপ্রকৃতিতে। যা আমাদের ত্যাগের দিকে, তপস্যার দিকে ঠেলে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম। ’

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল সেই মানুষের ধর্ম পালন করে চলেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে তিনি। বাবা বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া। বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর নানা। কিন্তু এই পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচিতির বাইরে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নিজেকে ভিন্ন পরিচয়ে পরিচিত করেছেন। তিনি একজন প্রখ্যাত অটিজম বিশেষজ্ঞ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের একজন সদস্য। ২০১৩ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। বাংলাদেশের অটিজমবিষয়ক জাতীয় কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বব্যাপী অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করেছেন। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বিষয়ভিত্তিক দূত হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। ২০১৯ সালে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সৃষ্টিশীল নারী নেতৃত্বের ১০০ জনের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন নিজ যোগ্যতাগুণে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) বিশেষজ্ঞ হিসেবে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগেই ২০১১ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো অটিজমের মতো অবহেলিত একটি বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভারতের কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীও অংশ নেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশে ‘নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিস-অ্যাবিলিটি ট্রাস্ট অ্যাক্ট ২০১৩’ পাস করা হয়।

মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজম নিয়ে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৪ সালে সায়মা ওয়াজেদকে ‘এক্সিলেন্স ইন পাবলিক হেলথ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে। উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যাবলিতে অটিজমের বিষয়টি তিনিই সংযুক্ত করেন। বাংলাদেশে অটিজমবিষয়ক বিভিন্ন নীতি নির্ধারণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে অটিজমবিষয়ক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে সায়মা ওয়াজেদ কাজ করেছেন। ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক সম্মেলনে সায়মা ওয়াজেদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

‘মানুষের দায় মহামানবের দায়, কোথাও সীমা নেই। অন্তহীন সাধনার ক্ষেত্রে তার বাস। ...দেশ কেবল ভৌমিক নয়, দেশ মানসিক। মানুষে মানুষে মিলিয়ে এই দেশ জ্ঞানে জ্ঞানে, কর্মে কর্মে। ...আমরাও দেশের ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি। সেই ভবিষ্যেক ব্যক্তিগতরূপে আমরা ভোগ করব না। ...ভবিষ্যতে যাঁদের আনন্দ, যাঁদের আশা, যাঁদের গৌরব, মানুষের সভ্যতা তাঁদেরই রচনা। তাঁদেরই স্মরণ করে মানুষ জেনেছে অমৃতের সন্ধান, বুঝেছে যে তার সৃষ্টি, তার চরিত্র, মৃত্যুকে পেরিয়ে।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কথাগুলো সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। ‘সেই মানুষই একান্ত দরিদ্র যাহার স্মৃতিসঞ্চয়ের মধ্যে অক্ষয় গৌরবের ধন বেশি কিছু নাই।’ তিনি কবিগুরু কথিত সেই ‘স্মৃতিভাণ্ডারের সম্পদ’ আঁকড়ে ধরে ‘অক্ষয় গৌরবের’ অন্য এক জীবন বেছে নিয়েছেন। যেমনটি পণ্ডিত জওয়াহেরলাল নেহরুর স্ত্রী কমলা নেহরু সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, ‘...সকলের চেয়ে বড়ো তাঁর সুদৃঢ় সত্যনিষ্ঠা। পলিটিক্সের সাধনায় আত্মপ্রবঞ্চনা ও পরপ্রবঞ্চনার পঙ্কিল আবর্তের মধ্যে তিনি নিজেকে কখনো হারিয়ে ফেলেননি। সত্য যেখানে বিপজ্জনক, সেখানে সত্যকে তিনি ভয় করেননি; মিথ্যা যেখানে সুবিধাজনক, সেখানে তিনি সহায় করেননি মিথ্যাকে। মিথ্যার উপচার আশু প্রয়োজনবোধে দেশপূজার যে অর্ঘ্যে অসংকোচে স্বীকৃত হয়ে থাকে, সেখানে তিনি সত্যের নির্মলতম আদর্শকে রক্ষা করেছেন। ’ এই জীবনই তিনি শ্রেয় মনে করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

উপনিষদে বলা হয়েছে, ‘অসম্ভ‚তি ও সম্ভ‚তিকে এক করে জানলেই তবে সত্য জানা হয়। অসম্ভ‚তি যা অসীমে অব্যক্ত, সম্ভ‚তি যা দেশে কালে অভিব্যক্ত। এই সীমায় অসীমে মিলে মানুষের সত্য সম্পূর্ণ। মানুষের মধ্যে যিনি অসীম তাঁকে সীমার মধ্যে জীবনে সমাজে ব্যক্ত করে তুলতে হবে। অসীম সত্যকে বাস্তব সত্য করতে হবে। তা করতে গেলে কর্ম চাই।’

কল্যাণমন্ত্রে যাঁর দীক্ষা, রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘মানুষের ধর্ম’ যিনি ধারণ করেন হৃদয়ে, জনগণের সেবা যাঁর ব্রত, তিনি অমৃতের সন্তান। তিনি কবিগুরু কথিত সেই ‘স্মৃতিভাণ্ডারের সম্পদ’ আঁকড়ে ধরে ‘অক্ষয় গৌরবের’ অন্য এক জীবন বেছে নিয়েছেন। এই জীবনই তিনি শ্রেয় মনে করেছেন। শুভ জন্মদিন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

লেখক: সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং অস্ট্রিয়াপ্রবাসী মানবাধিকারকর্মী, লেখক ও সাংবাদিক


শীতকালীন সবজি দিয়ে সুস্বাদু চিকেন স্ট্যু  

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আফরোজা খানম মুক্তা

এখন বাজারে প্রচুর শীতকালীন সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এসব সবজি দিয়ে মজাদার রান্না করা যায়। আজ আপনাদের জন্য রইল শীতকালীন সবজি দিয়ে সুস্বাদু চিকেন স্ট্যুর রেসিপি। তো, আসুন রেসিপিটি জেনে নেওয়া যাক।

উপকরণ: চিকেন ১টি, আলু ৩টি, গাজর ২টি, পেঁপে ৩০০ গ্রাম, টমেটো ১টি, বরবটি ৫/৬টি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, রসুন কুচি ২ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ২ টেবিল চামচ, সয়াবিন তেল ২ টেবিল চামচ, চালের গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা ৩/৪ পিস করে, তরল দুধ আধা কাপ, ক্যাপসিকাম আধা কাপ।

রান্নার প্রণালি: চিকেন, লেবুর রস, গোলমরিচ গুঁড়া, লবণ দিয়ে মেরিনেট করুন ৩০ মিনিট। কড়াইয়ে সয়াবিন তেল গরম হলে এলাচ দারুচিনি লবঙ্গ তেজপাতা ফোড়ন দিন। পরে পেঁয়াজ কুচি ও রসুন কুচি দিয়ে নেড়ে সামান্য ভেজে মেরিনেট করা চিকেন ছেড়ে দিন। এরপর হলুদ গুঁড়া, আদা ও রসুন বাটা, আলু, পেঁপে, গাজর, লবণ, টমেটো, কাঁচা মরিচ কুচি, বরবটি দিয়ে পরিমাণ মতো পানি দিন।

সব সবজি সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। নামানোর আগে চালের গুঁড়া গুলিয়ে সেই পানি, ক্যাপসিকাম, দুধ দিয়ে নেড়ে মিশ্রণ বানিয়ে কড়াইতে মিশিয়ে দিন। পরিবেশনের সময় বিট লবণ, ছেঁকা পাউরুটি দিয়ে পরিবেশন করুন। ব্যস, এভাবেই রান্না হয়ে গেল শীতকালীন সবজি দিয়ে সুস্বাদু চিকেন স্ট্যু।

লেখক: স্বত্বাধিকারী, শৌখিন কারুশিল্প


পোশাকে বিজয়ের আনন্দ

পতাকা-পোশাকে বিজয়ের আনন্দ। ছবি: বিশ্বরঙ।
আপডেটেড ৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০২
মইনুল হক রোজ

বিজয়ের এই মাসে ফ্যাশন হাউসগুলোর আয়োজনে থাকে ভিন্নতা। বৈচিত্র্যপূর্ণ ডিজাইন আর লাল-সবুজ রঙের প্রাধান্য দিয়ে ফ্যাশন হাউসগুলো বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশীয় কাপড় দিয়ে তৈরি করেছে শাড়ি, থ্রি-পিস, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও শিশুদের পোশাক।

পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে নিজস্ব উইভিংয়ে করা ডিজাইন, টাই অ্যান্ড ডাই, স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, অ্যাপলিক, অ্যামব্রয়ডারিসহ বিভিন্ন মাধ্যম। কারও পোশাকে উঠে এসেছে বাংলাদেশের মানচিত্র, কারোর নকশায় প্রাধান্য পেয়েছে জাতীয় পতাকা, কোনোটায় রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নানা ছবি, লেখা, কবিতার লাইন ও জাতীয় ফুল। অর্থাৎ বিজয় উৎসবের বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করে ডিজাইন করা হয়েছে বিজয় দিবসের পোশাকগুলোতে। সাতকাহনের আজকের মূল প্রতিবেদনে রইল তারই খোঁজখবর।

বিশ্বরঙ

দেশের স্বাধীনতার গৌরব এবং সৃজনশীল শিল্পের স্বাধীনতা এ দুইয়ের প্রতি রয়েছে বিশ্বরঙ-এর বিনম্র শ্রদ্ধাবোধ। দেশীয় সব উৎসব-পার্বণে ফ্যাশন হাউস ‘বিশ্বরঙ’-এর থাকে বিশেষ বিশেষ আয়োজন। ‘বিশ্বরঙ’-এর ফ্যাশনের মূল ভাবনা গড়ে উঠেছে দেশীয় আত্মপরিচয়কে ঘিরে। বিজয় দিবসের পোশাকগুলো ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, দায়িত্ব ও মূল্যবোধ থেকেই করা হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্বরঙ-এর রয়েছে লাল-সবুজের বিশেষ আয়োজন, দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ রয়েছে পোশাকের নকশায়। টি-শার্টে রয়েছে বাংলাদেশের পতাকার গ্রাফিক্যাল ফর্মের নান্দনিক উপস্থাপনায় টাইফোগ্রাফি, ক্যালিওগ্রাফির সমন্বয়। শাড়ির আঁচল যেন একটি সবুজ জমিনের মাঝে টকটকে লাল সূর্যে থাকছে দেশাত্ববোধক গানের টাইফোগ্রাফি। দেশীয় রং, দেশীয় কাপড় এ আয়োজনের মূল উপাদান।

এ ছাড়া প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহার পরিকল্পনায় ‘যাপিত জীবনে লাল-সবুজের প্রভাব’ শিরোনামে নির্মিত হয়েছে ফ্যাশন ভিডিও। ভিডিওতে প্রকাশ পেয়েছে লাল-সবুজ রঙ কীভাবে আমাদের যাপিত জীবনে প্রভাব ফেলে। আমাদের নাগরিক সময়ের যাপিত জীবনের প্রেমময়তায়, সুখে-দুঃখে, ভালোবাসায়, দেশমাতৃকার আরাধনায় লাল-সবুজের প্রভাব আমাদের মননে, সময়ে... ।

শীতের আগমনে পোশাকগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে মোটা সুতি ও খাদি কাপড়। ‘বিশ্বরঙ’-এর শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, উত্তরীয়, মগ ইত্যাদিতে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশ সংবলিত লেখা ও লাল-সবুজ রঙের মাধ্যমে উঠে এসেছে দেশীয় ভাবনা। পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান এসেছে ডিজাইনের অনুসঙ্গ হিসেবে। কাজের মাধ্যম হিসেবে এসেছে টাইডাই, ব্লক, বাটিক, এপ্লিক, কাটওয়ার্ক, স্ক্রিনপ্রিন্ট ইত্যাদি।

‘বিশ্বরঙ’-এর বিজয় দিবসের বিশেষ আয়োজনে বিশেষভাবে থাকছে ‘বাংলাদেশ’ লেখা সংবলিত টি-শার্ট। শুধু বিজয়ের মাসেই নয়, বরং সারা বছরই লাল-সবুজ হতে পারে ফ্যাশন সচেতনদের ফ্যাশন ভাবনা, দেশপ্রেমী মনের পরিচয়।

বিজয়ের এই ডিসেম্বর মাসজুড়ে ‘লাল-সবুজের উৎসব’ চলছে মাসব্যাপী বিশ্বরঙ-এর সব শোরুম এবং অনলাইনে। পোশাক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য পেতে পারেন ‘বিশ্বরঙ’-এর ই-কমার্স সাইট এবং ফেসবুক পেইজে।

বিশ্বরঙ- এর বিজয় দিবসের আয়োজন।

অঞ্জন’স

রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে অর্জিত মহান বিজয় দিবস আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। প্রত্যেক বাংলাদেশি এই দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপন করে থাকে। এই উদযাপনকে আরও বেশি প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর করতে অঞ্জন’স প্রতি বছর পোশাকের বিশেষ আয়োজন করে থাকে। এবারের বিজয় দিবসের পোশাকগুলো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার রঙ লাল ও সবুজ রং দিয়ে সাজানো হয়েছে। মোটিফ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে জাতীয় ফুল শাপলা ও বিভিন্ন ধরনের জ্যামিতিক নকশা। শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ-ওড়না, ফতুয়া, টি-শার্ট থাকছে এবারের আয়োজনে। বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের পোশাকও থাকছে এবারের এই বিজয় দিবস আয়োজনে। নতুন এই ডিজাইনের পোশাকগুলো অঞ্জন’সের সব শোরুম ও অনলাইন স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে।

অঞ্জন’স- এর বিজয় দিবসের আয়োজন।

রঙ বাংলাদেশ

দেশের স্বনামধন্য ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘রঙ বাংলাদেশ’-এর এবারের বিজয় উৎসব আয়োজন পোশাকে বিজয়ের ঐতিহ্য। পোশাকের ডিজাইনে রয়েছে দেশের প্রথম জাতীয় পতাকার ছাপ, বাংলাদেশের মুদ্রা ও জিওমেট্রিক থিম। লাল-সবুজ কালার কম্বিনেশনে পোশাকে তুলে ধরা হয়েছে বিজয় উল্লাসের ছাপ। বিজয় উৎসবের পোশাক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে পাঞ্জাবি, শাড়ি, কামিজ, টিউনিক, উত্তরীও এবং ব্যান্ডেনা, যা ছোট-বড় সবার জন্য সমানভাবে মানানসই।

দেশে এবং দেশের বাইরে পজিটিভ বাংলাদেশকে তুলে ধরতে চাওয়ার প্রত্যাশায় গড়া ‘আমার বাংলাদেশ’ সাব-ব্র্যান্ডের অধীনে তৈরি হয়েছে সব সামগ্রী। শুধু বড়দেরই নয়, প্রতিটি উপলক্ষে ছোটদের পোশাককে সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকে বলেই বাচ্চাদের সংগ্রহও হয় বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।

রয়েছে পরিবারের সবার জন্য একই ধরনের ম্যাচিং পোশাক। বাবা-মা, মা-মেয়ে, বাবা-ছেলে, এমনকি পরিবারের সবাই একই থিমের পোশাক পরে উদযাপন করতে পারবে এবারের বিজয় উৎসব।

রঙ বাংলাদেশের ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সব আউটলেটেই পাওয়া যাচ্ছে বিজয় উৎসবের আয়োজন। এ ছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও অর্ডার করা যাবে পোশাকগুলো।

রঙ বাংলাদেশ- এর বিজয় দিবসের আয়োজন।

কে-ক্র্যাফট

বিজয়ের আবেগ ছড়িয়ে দিতে প্রতি বিজয়েই থাকে কে ক্র্যাফটের বিশেষ আয়োজন, যা লাল-সবুজে উজ্জীবিত। বিজয় দিবসের এ দিনটি কাটুক না লাল-সবুজের পোশাকে।

সময়, আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুযায়ী পোশাক ভাবনায় এই দিনে মেয়েদের প্রধান সঙ্গী হতে পারে লাল-সবুজের শাড়ি। এ ছাড়া বেছে নিতে পারেন আরামদায়ক সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি কিংবা ভিন্ন কোনো প্যাটার্নের টপ বা টিউনিক। শীতে উষ্ণতার প্রয়োজনে অন্য কোনো রঙের পোশাকে জড়িয়ে নিতে পারেন লাল-সবুজের শাল।

প্রতি বছরের মতোই ছেলেদের পোশাকে থাকছে পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, শাল, কটি, মাফলার। বিজয়ের ফ্যাশনে লাল অথবা সবুজ রঙের পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে পরতে কটি বেছে নিতে পারেন চমৎকার সব সংগ্রহ থেকে। শিশুদের জন্য রয়েছে নানা পোশাকের আয়োজন এবং বরাবরের মতোই থাকছে যুগল ও পরিবারের সব সদস্যের সঙ্গে মিলিয়ে পরার জন্য উপযোগী পোশাক।

কে-ক্র্যাফটের এবারের বিজয়-২৩ আয়োজন করা হয়েছে প্রধানত রাগ, ডুডলিং, জিওমেট্রিক, জামদানি, ট্যাডিশনালসহ নানা মোটিফের অনুপ্রেরণায়। এ ছাড়া থাকছে বাংলাদেশের পতাকা এবং মানচিত্র নিয়ে করা নানা পোশাক। কটন, ডিজাইন্ড কটন, কোটা কটন, লিনেন, নিট ও তাঁতের মতো আরামদায়ক ফ্যাব্রিকে তৈরি পোশাকগুলোতে নকশা ফুটিয়ে তুলতে স্ক্রিনপ্রিন্ট, হাতের কাজ ও অ্যামব্রয়ডারি করা হয়েছে। রঙ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে গ্রিন, বোটল গ্রিন, ফরেস্ট গ্রিন, পেইল গ্রিন, রেড, অরেঞ্জ, অফ-হোয়াইট । তবে অন্যান্য রঙের সমন্বয়ও থাকছে। বিজয়ের ভাবনায় লাল-সবুজের পোশাক ছাড়াও নানা রকম স্যুভেনির ও উপহার সামগ্রীও থাকবে। কে-ক্র্যাফটের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, খুলনাসহ সব আউটলেট ছাড়াও অনলাইন শপ থেকে বিজয়ের পোশাক কেনা যাবে।

কে ক্র্যাফটের বিজয় দিবসের আয়োজন।

সাদাকালো

বিজয়ের ৫২ বছরে সাদাকালো’র এবারের থিম ‘অপরাজেয় বাংলা’। মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদের নির্মিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত ‘অপরাজেয় বাংলা’ ভাস্কর্যটির নামকরণ করেছিলেন মুক্তিযাদ্ধা ও সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের সম্মিলিত প্রতিরোধ ও আক্রমণে পাক বাহিনী পরাজিত হয়েছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামে সর্বস্তরের মানুষের এই অংশগ্রহণের প্রতীকী চিহ্নই ‘অপরাজেয় বাংলা’। সাদাকালো অপরাজেয় সব স্তরের মানুষের এই আত্মদানকে সম্মান জানাতে এবারের বিজয় দিবসের থিম হিসেবে বেছে নিয়েছে ‘অপরাজেয় বাংলা’।

এ ছাড়া শাড়ি, পাঞ্জাবি ও কামিজের বিভিন্ন নকশায় ফুটে উঠেছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জোগাতে রচিত গান ‘গোবিন্দ হালদার’-এর রচয়িত ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’-এর বিভিন্ন লাইন। সাদাকালো-এর ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সব আউটলেটেই পাওয়া যাবে চমৎকার এই বিজয় সমারোহ। আউটলেট ছাড়াও কেনাকাটার সহজ উপায় প্রতিষ্ঠানটির ই-কমার্স সাইট ও ফেসবুক পেজে পাওয়া যাবে বিজয় আয়োজনের সব সংগ্রহ, সঙ্গে এবার অনলাইন অর্ডারে থাকছে বিশেষ অফার।

সাদাকালো’র বিজয় দিবসের আয়োজন।


ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’র ইউনেস্কো স্বীকৃতি লাভ

রিকশা চিত্রকর এস এ মালেক
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আসমা ফেরদৌসি

বাংলাদেশের ৫ম বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেল ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’। গতকাল (৬ ডিসেম্বর) বতসোয়ানার উত্তর-পূর্ব চোবে ডিস্ট্রিক এর কাসান শহরে ১৮তম ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যর আন্তঃসরকারী কমিটির অধিবেশনে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২:৫৪ মিনিটে এই ঘোষণা করা হয়। ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিভাগ কর্তৃক সর্বশেষ ২০১৭ সালে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি বুনন কৌশল-এর স্বীকৃতির পর দীর্ঘ ৫ বছর পর এ অর্জন।

মূলত বিশ্বের বিভিন্ন অধরা বা স্পর্শতীত আর্ট (intangible art) বা কৌশলকে সুরক্ষার জন্য এ শিল্পকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। সারা বিশ্বের বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষার জন্য ইউনেস্কোর ২০০৩ সালে কনভেনশন উপর ভিত্তি করে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের বিশ্ব তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। প্রতিবছর ৪-৯ ডিসেম্বর ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যর আন্তঃসরকারী কমিটির চূডান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর সভাটিতে বাংলদেশের প্রতিনিধি হয়ে অংশগ্রহণ করেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মোহাম্মদ তালহা ও প্রথম সচিব ওয়ালিদ বিন কাশেম।

গত বছর নভেম্বর মাসের শেষদিকে ‘Rickshaws and Rickshaw Painting in Dhaka’ ঢাকা শহরের রিকশা ও রিকশাচিত্র উপর একটি চূড়ান্ত মনোনয়ন ফাইল ইউনেস্কোর ইনটেনজিবল কালচারার হেরিটেজ বিভাগে প্রেরণ করা হয়। ইউনেস্কোর নিয়মানুযায়ী রাষ্টীয় পক্ষ হিসেবে সংষ্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হয়ে বাংলা একাডেমি এ ফাইল অগ্রায়িত করা হয়েছিল। যদিও এর শুরুটা হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে। ২০১৮ সালের ইউনেস্কোর আন্তঃসরকারী কমিটির ১৩তম অধিবেশনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে রিকশা ও রিকশাচিত্রের ফাইলটি সংশোধন ও তথ্য হালনাগাদ করার উদ্দেশ্যে ফিরিয়ে আনা হয় এবং পরবর্তীতে বেশ কয়েক দফা সংশোধনের পর চলতি বছরের প্রথমে এ উপাদানটি ইউনেস্কোর ২০০৩ কনভেনশন-এর আর্টিকেল ১২-এর অত্যাবশকীয় শর্তানুযায়ী বাংলাদেশের বিমূর্ত সংস্কৃতির অনলাইনভিত্তিক জাতীয় ইনভেন্টরিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধিত সংস্করণ চূড়ান্তভাবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির জন্য প্রেরণ করা হয়। এ স্বীকৃতির মধ্যে দিয়ে রিকশা চিত্রের দেশ হিসেবে আরেকবার বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হলো বাংলাদেশের নাম। ঢাকা শহরের রিকশা ও রিকশাচিত্র ঐতিহ্যগত কারুশিল্প উৎপাদনে জ্ঞানও দক্ষতা বা Traditional craftsmanship ক্যাটাগরিতে চলমান বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যর হিসেবে এই স্বীকৃতি মিলেছে। ইউনেস্কো থেকে প্রতিবছর ৫টি ক্যাটাগরিতে বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যর উপরবিশ্বের ঐতিহ্যরঅংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে— মৌখিক ঐতিহ্য বা ওরাল ট্রেডিশনাল অ্যান্ড এক্সপ্রেশনস (oral tradition and expressions), পরিবেশনা শিল্প বা পারফরমিং আর্টস (performing arts), সামাজিক অনুশীলন, আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব অনুষ্ঠান বা সোসাল প্র্যাকট্রিস (social practice), রিচুয়ালস অ্যান্ড ফেসটিভস ইভেন্ট (ritual and festive event), প্রকৃতি এবং মহাবিশ্ব সম্পর্কিত জ্ঞান ও অনুশীলন বা নলেজ অ্যান্ড প্র্যাকটিস কনর্সানিং ন্যাচার অ্যান্ড ইউনির্ভাস (knowledge and practice concerning nature and universe) এবং ঐতিহ্যগত কারুশিল্প উৎপাদন করার জ্ঞান ও দক্ষতা বা ট্র্যাডিশনাল ক্রাফটম্যানশিপ (traditional craftsmanship)। এগুলো সাধারণত আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত।

বাংলাদেশে রয়েছে এ সকল বিমূর্ত সাংস্কৃতিক উপাদানের হাজারো ভান্ডার। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যর সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা এবং প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে, তাই বাংলাদেশ বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (আইসিএইচ)-এর সুরক্ষার জন্য ইউনেস্কোর ২০০৩ কনভেনশন স্বাক্ষর করেছে। ইতিমধ্যে আমাদের বাউল গান (২০০৮), ঐতিহ্যবাহী জামদানি বুনন শিল্প (২০১৩), পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা (২০১৬), সিলেট অঞ্চলের শীতলপাটি বুনন শিল্প (২০১৭) এবং সর্বশেষ যুক্ত হলো ঢাকা শহরের রিকশা ও রিকশাচিত্র ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যর প্রতিনিধিত্বমূলক (Representative List of the Intangible Cultural Heritage of Humanity) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবার স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

এ রিকশাচিত্র বাংলার শহুরে লোকচিত্রকলার অন্যতম শৌখিন শিল্পকলা। রিকশাকে সুসজ্জিত করে তোলার উদ্দেশ্যে রিকশাচিত্র বা পেইন্টিং করা হয়ে থাকে। রিকশার প্রায় প্রতিটি অংশই আর্কষণীয় ও রঙিন করে তোলার জন্য চিত্রায়িত করে তোলা হয়। এর মধ্যে ব্যাক প্লেট বা পেছনের আয়তাকার টিনেরপাত/বোর্ড থেকে শুরু করে গদি বা সিট, সিটের পাশের অংশ, পেছনের অংশ, পট্টি, হুড, হুডের উপরের অংশ, চালকের বসার সিট, স্টিংয়ারিং-এর সামনের অংশ ইত্যাদি সব অংশ জুড়ে বিভিন্ন চিত্রকর্ম ও ঝালর, ঘন্টা, ফুলদানি নানাবিধ সামগ্রী দিয়ে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়। তাই ইউনেস্কোর ঐতিহ্যর তালিকায় রিকশাসহ রিকশাচিত্র শিল্প স্থান পেয়েছে।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরকে বলা হয় রিকশার শহর। বর্তমানে রিকশা হচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম সহজলভ্য যাত্রী প্রিয় বাহন। শহরময় রিকশাগুলো চলমান জীবন্ত চিত্রপ্রদর্শনীর মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিকশা পেইন্টাররা তাদের নিজস্ব শিল্পশৈলী, উপস্থাপন রীতি ও স্বকীয় স্টাইলে একটি সম্পূর্ণ রিকশাকে রঙিন করে তোলে। এই শিল্প অপ্রতিষ্ঠানিক শিল্পীদের মাধ্যমে বিকাশিত হয়েছে। রিকশা পেইন্টের মাধ্যমে চিত্রকররা তাদের ভালো লাগা বিভিন্ন বিষয়গুলো তুলে ধরেন। রিকশা পেইন্টিং-এর বহুল ব্যবহৃত চিত্র গুলো হচ্ছে বোরাক, স্বাস্থ্যবান গাভী, মোনাজাতরত শিশু, পশু-পাখি, ফুল-লতাপাতা, বিভিন্ন নায়ক-নায়িকা, সিনেমার দৃশ্য, এছাড়াও বিভিন্ন বিখ্যাত স্থাপত্য যেমন তাজমহল, সংসদভবনসহ নানা সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়বার্তা ও রিকশাআর্টের অংশ। এ শিল্পকর্মটি তার নিজম্ব শিল্পশৈলী, স্বকীয়তা ও বিষয়বস্তুর কারণে ইতিমধ্যে দেশি-বিদেশী শিল্প প্রেমীদের কাছে সমাদৃত হয়েছে। সাধারণত গুরু-শিষ্যের মাধ্যমে রিকশাচিত্রায়ন বিদ্যা প্রসারিত হয়ে থাকে। এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াই হচ্ছে লিভিং হেরিটেজ (living heritage) বা চলমান ঐতিহ্য। এসব চলমান ঐতিহ্যকে বিশ্ব ঐতিহ্যর তালিকায় সুযোগ রয়েছে যা যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে রাষ্ট্রপক্ষ হয়ে। তবে এ মনোনয়ন ফাইলটি বা প্রস্তাবটি ৩১ মার্চের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে প্রেরণ করতে হবে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ মনোনয়ন ফাইল প্রেরণ করা হয়ে থাকে। ইউনেস্কো কর্তৃক নির্ধারিত বিমূর্ত সাংষ্কৃতিক ঐতিহ্য ফর্মে যেকোনো চলমান ঐতিহ্যর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মতিক্রমে প্রয়োজনীয় তথ্য সহকারে আবেদন করতে পারে। এছাড়াও আর্জেন্ট সেইফগার্ডিং (urgent safeguarding) বা জরুরী সুরক্ষার জন্য পৃথক ফর্ম রয়েছে যা বিলুপ্তপ্রায় বিমূর্ত সাংষ্কৃতিক ঐতিহ্যর জন্য প্রযোজ্য। বাংলাদেশের পাঁচটি বিমূর্ত সাংষ্কৃতিক ঐতিহ্যই চলমান ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

ইউনেস্কোর ২০০৩-এর কনভেনশনের আর্টিকেল ১১ ও ১২ অনুযায়ী বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগত উপাদগুলোর সুরক্ষা করা ও এর তালিকা তৈরি করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই এদেশের বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপাদানগুলো চিহ্নিত করে সুরক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টির ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের উদ্যোগে ‘heritagehub.gov.bd’ নামে একটি অনলাইনভিত্তিক জাতীয় ইনভেন্টরি ও একটি মোবাইল এ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এতে ঘরে বসেই নিজ জেলার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জাতীয় ইরভেন্টরির অর্ন্তভুক্ত করে তা সুরক্ষার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। যেটি ইউনেস্কোর স্বীকৃতির জন্য অত্যাবশকীয় শর্তসমূহের একটি। বিগত অনেক মনোনয়ন ফাইল শুধুমাত্র একটি হালনাগাদকরণ জাতীয় ইনভেন্টরির অনুপস্থিতির কারণে মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছিল।

ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংষ্কৃতিক ঐতিহ্য বিভাগ থেকে স্বীকৃতির ফলে নতুন করে রিকশা ও রিকশাচিত্র শিল্প সুরক্ষার পথ প্রসারিত হলো। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এ স্বীকৃতির ফলে রিকশাচিত্রকররা উৎসাহের সাথে কাজ করে যাবে এবং এ শিল্পকে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে কাছে ছড়িয়ে দিবে। সারাবিশ্বে রিকশাচিত্র বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি সরকারী ও বেসরকারী স্তরে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও নীতিমালা গ্রহণের উদ্যোগী হলে এ শিল্পসহ বাংলাদেশের অন্যান্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যর সঠিকভাবে সুরক্ষার পথ সুগম হবে।

লেখক: কীপার (জনশিক্ষা বিভাগ), বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর


অ্যাভাসকুলার নেক্রোসিস: হাড় নষ্ট হয়ে যাওয়া রোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডা. মো. সফিউল্যাহ প্রধান

অ্যাভাসকুলার নেক্রোসিস এমন একটি রোগ, যা হাড়ের স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে রক্ত সরবরাহ বন্ধের ফলে হয়। রক্ত সরবরাহ বন্ধ হলে হাড়ের টিস্যু মারা যায় এবং হাড় ভেঙে যায়। যখন কোনো জয়েন্ট যেমন হিপ জয়েন্টের কাছাকাছি রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়, তখন জয়েন্টের পৃষ্ঠটি ভেঙে যেতে পারে। এই অবস্থা যেকোনো হাড়ে হতে পারে, এটি সাধারণত লম্বা হাড়ের শেষ মাথায় হয়। সাধারণত ১টি হাড়, একই সময়ে অনেক হাড় অথবা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন হাড়কে ক্ষয়গ্রস্ত করে।

কোথায় কোথায় নেক্রোসিস হতে পারে:

  • গোড়ালি
  • চোয়ালে
  • হাঁটুতে
  • হাতের হিউমেরাস ও কাঁধের জয়েন্টে
  • পায়ের ফিমার ও হিপ জয়েন্টে

অ্যাভাসকুলার নেক্রোসিসের কারণ:

  • কোনো কারণে জয়েন্টে আঘাত পেলে
  • জয়েন্ট ভেঙে গেলে
  • কোনো কারণে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হলে
  • দীর্ঘদিন ধরে কর্টিকোস্টেরয়েড ওষুধ সেবন করলে
  • দীর্ঘদিন ধরে এবং অতিরিক্ত মদ্য পান করলে
  • দীর্ঘদিন ধরে কোনো রোগে আক্রান্ত হলে যেমন: ডায়াবেটিস
  • রক্তে কোনো রোগ থাকলে। যেমন: সিকেল সেল অ্যানিমিয়া ও লিউকেমিয়া
  • রেডিয়েশনের বা কেমোথেরাপি কারণে
  • এইচআইভি/এইডস রোগের জন্য।
  • অটো ইমিউন রোগের জন্য
  • হাইপার লিপিডেমিয়ার কারণে
  • হাইপার কোয়াগুলেবেল অবস্থায় থাকলে
  • প্যানক্রিয়াটাইটিস, গাউচার রোগ, সিস্টেমেটিক লুপাস ইরাইথিম্যাটাস রোগ থাকলে
  • কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করলে
  • জয়েন্ট ডিসলোকেশন

রোগের লক্ষণ:

  • হাঁটাচলা করার সময় ব্যথা লাগা
  • পায়ে টান লাগা
  • সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় ব্যথা অনুভব করা
  • দাঁড়ানোর সময় ব্যথা অনুভব করা
  • হাঁটু ভেঙে বসতে না পারা
  • আক্রান্ত অঙ্গ ছোট হয়ে যাওয়া
  • কুচকিতে, উরুতে, নিতম্বে ব্যথা হওয়া
  • বিশ্রাম নেয়ার সময় ব্যথা অনুভব হওয়া
  • ক্রস পায়ে বসতে না পারা

রোগ নির্ণয়:

  • এক্স-রে
  • এমআরআই
  • সিটি স্ক্যান
  • হাড়ের স্ক্যান
  • বায়োপসি
  • হাড়ের কার্যকারিতা পরীক্ষা

চিকিৎসা:

এই রোগের চিকিৎসা কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, যেম: বয়স, রোগের পর্যায়, হাড়ের ক্ষতির পরিমাণ।

নন সার্জিক্যাল চিকিৎসা:

আক্রান্ত স্থানে ঠাণ্ডা বা গরম সেঁক, কিছু ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ওষুধ, ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন ও বিশ্রাম কার্যকর।

সার্জিক্যাল চিকিৎসা:

  • কোর ডি কম্প্রেশন
  • হাড় গ্রাফটিং
  • অস্টিওটমি
  • সম্পূর্ণ হিপ জয়েন্ট প্রতিস্থাপন

জটিলতা:

চিকিৎসা করা না হলে এই রোগ ধীরে ধীরে খারাপ রূপ ধারণ করে, অ্যাভাসকুলার নেক্রোসিসের ফলে হাড়ের মসৃণ আকৃতি নষ্ট হয়। ফলে আর্থ্রাইটিস হতে পারে। ব্যথা বা অন্য কোনো লক্ষণ প্রকাশ পেলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক (আইআইএইচএস) ও কনসালট্যান্ট

ডিপিআরসি, শ্যামলী, ঢাকা।


শীতে মেয়েদের ফ্যাশন

তরুণীরা এখন বেশি জ্যাকেট পছন্দ করে থাকেন।মডেল: নিক্কি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফিচার ডেস্ক

এসে গেছে শীত। চারদিকে শীতের আমেজ ছড়িয়ে যাচ্ছে জোর কদমে। এখনো পর্যন্ত কনকনে ঠান্ডা না লাগলেও গরম পোশাক পরার মতো শীতল বাতাস লেগে যাচ্ছে শরীরে। যারা স্টাইলিশ পোশাক পরতে চান, তাদের জন্য এ সময় থেকে শুরু করে পুরো শীত জুড়েই উপযোগী সময়। চমত্কার সব স্টাইলিশ পোশাক হতে পারে আপনার এ সময়ের সঙ্গী। শুধু পোশাক নয় এসময় পোশাকের সাথে মিল রেখে বদল করতে পারেন অন্যান্য সাজসজ্জাও।

শীতকালে চাদর, জ্যাকেট, সোয়েটার বা যত ধরনের ভারী পোশাক সবই পরা যায়। সব ধরনের পোশাক পরা গেলেও মেয়েরা শীতে মেরুন অথবা কালো রঙের পোশাক পরতে পারেন। তরুণীরা এখন বেশি জ্যাকেট পছন্দ করে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে ডেনিম, ফ্লানেল, কর্ড, উল, মোটা ক্যানভাসের কাপড়, প্যারাসুটের কাপড় এবং চামড়ার তৈরি জ্যাকেট। ভারী কাপড়ের লম্বা পোশাকও আরামদায়ক শীতে। ভেলভেটের কোটি জড়িয়ে নিলে শীত এবং ফ্যাশন দুইদিকই বজায় থাকবে। অন্যদিকে পার্টি কিংবা দাওয়াতে গেলে ভেলভেটের ফুলহাতা বা হাতাকাটা হলে ওপরে আড়াআড়ি কিংবা লম্বা করে নরম বা পশমি চাদর জড়িয়ে নিতে পারেন।

ভারী কাপড়ের লম্বা পোশাকও আরামদায়ক শীতে,সাথে পরতে পারেন বুট।  মডেল: নিক্কি
ভারী কাপড়ের লম্বা পোশাকও আরামদায়ক শীতে,সাথে পরতে পারেন বুট। মডেল: নিক্কি

আঁটসাঁট জিনস থেকে শুরু করে ঢোলা জিনস, সবই চলছে মেয়েদের হাল ফ্যাশনে। ব্যাগি, স্ট্রেট কাট, বুটকাট লেগ, ফ্লেয়ার জিনস হাল ফ্যাশনে পছন্দ করছেন প্রায় সব বয়সী নারীরা। মোটা কাপড়ের থ্রি পিসের সঙ্গে পরতে পারেন জেগিংস। এর সঙ্গে গায়ে জড়িয়ে নেওয়া যায় পাতলা চাদর।

শীতে অফিসে ফর্মাল ভাবে বেনী, পনিটেইল বা চুল হালকা ফুলিয়ে বাধা যেতে পারে। পার্টি হলে চুল খোলা রাখতে পারেন বা হালকা ফুলিয়ে স্টাইল করতে পারেন। বিয়ের অনুষ্ঠান হলে মানানসই খোপা করতে পারেন।

শীতকালে যথাসম্ভব পা ঢাকা জুতা পরুন। এতে করে পা ফাটার সমস্যা থেকে মুক্ত থাকবেন এবং পায়ে ঠাণ্ডাও লাগবে না। মেয়েরা কেডস, পার্টি স্যু, অফিসে নর্মাল স্যু বা পোশাক বুঝে বুট বা উঁচু হিলের সু পরতে পারেন।


শুভ্রতা ছড়াচ্ছে সারি ঘাটের সারি সারি সাদা কাশফুল

আপডেটেড ৬ অক্টোবর, ২০২৩ ১৬:০৪
শামসুল ইসলাম সনেট

শুভ্রতা ছড়াচ্ছে কেরানীগঞ্জের সারি ঘাটের সারি সারি সাদা কাশফুল, যতদুর চোখ যায় শুধু সাদা আর সাদা। পাখির চোখে দেখলে মনে হবে মাটিতে লুটে পড়েছে সাদা মেঘের ভেলা। বিকেলের নীল আকাশে সাদা মেঘ আর সারি ঘাটের সাদা কাশফুল যেন এখানে মিলে মিশে একাকার।

ব্যাস্ত নগরী ঢাকার সব চেয়ে কাছের উপজেলা কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নের সারিঘট সারা বছর ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত থাকলেও এখানে বর্ষা আর শরতে ভিন্ন মাত্র যোগ করে প্রকৃতি। বর্ষাকালে স্বচ্ছ থৈ থৈ পানিতে সারি সারি নৌকা আর শরতে সাদা কাশফুলের দোলা যে কারো মন ছুয়ে যাবে। সারি ঘাট প্রথম দেখায় যে কাউকে প্রেমে ফেলবে, ঢাকার ভেতর এত কাশফুল হয়তো দেখেওনি কেউ আগে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কাশফুলের সাদার শুভ্রতায় যে কারো মন হারিয়ে যাবে অজানায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, আইনতা এলাকার রাস্তার পাশে কৃত্রিম লেক, লেকের শোভা বাড়াচ্ছে নানা রঙের অর্ধশতাধিক ছোট নৌকা, আর লেকের উপর ঝুলন্ত সেতু আপনাকে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু না দেখার কষ্ট ভুলিয়ে দিবে। তবে লেকের সৌন্দর্য আপনাকে ততটা মুহিত করবে না, যতটা করবে সাদা কাশফুল।

সারি ঘাটে পৌঁছা মাত্রই বাতাসে উড়ে আসা কাশফুলের পাপড়ি আপনাকে স্বাগত জানাবে, আর ফুলের সাদা আবাহ আপনাকে এতটাই আকর্ষণ করবে যে, গাড়ি থেকে নেমে কাশবনে প্রবেশের ২ মিনিটের ঘুরা পথ অনেক লম্বা মনে হবে!

শরৎকালে কাশ ফুলকে কেন্দ্র করে সারি ঘাটে বসে গ্রাম্য মেলা। কাশফুল, মেলায় বসা অস্থায়ী নাগর দোলা আর বাহারি সাজে সজ্জিত সুন্দরী রমণীর হাত ধরে চলা যুবকের মুক্ত বাকে সারি ঘাট হয়ে উঠে এক আনন্দপুরী।

তাই শহুরের যান্ত্রিকতার ভিড়ে একটু প্রাকৃতির ছোঁয়া ও সবুজঘেরা পরিবেশের পাশাপাশি নৌকাভ্রমণে প্রতিদিন এখানে আসছেন শত শত মনুষ।

তবে চিন্তারও শেষ নেই ঘুরতে আসা পর্যটকদের, তাদের চিন্তা সেদিন আর হয়তো বেশি দূরে নয়, যেদিন হারিয়ে যাবে সারি ঘাটের সারি সারি সাদা ফুল। সারি ঘাটের স্বচ্ছ পানিতে মাছের পরিবর্তে ভেসে বেড়াবে ময়লার স্তুপ।

যাত্রাবাড়ী থেকে ঘুরতে আসা মিম জানায়, মা বোন আর বান্ধবী মিলে সারি ঘাটের কাশফুল দেখতে এসেছেন। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার সুবাদে এ ব্যাপারে তাদের জানা শুনা ছিল, তবে তাদের মা আসতে চাচ্ছিলেন না এখানে। তবে এখানে আসার পর সে মা’ই যেন সবচেয়ে বেশি খুশি।

পুরান ঢাকার চকবাজার থেকে সজল এসেছেন সদ্য বিয়ে করা স্ত্রীকে নিয়ে। তিনি জানান, সারি ঘাটের সুনাম সুনেছি অনেক। তবে এখানে এসে দেখি সারি ঘাট কল্পনার চেয়ে সুন্দর।

নারায়ণগঞ্জ থেকে মৌসুমি এসেছেন ফটোগ্রাফার নিয়ে ফটোসেশন করতে। কাশবনে নানা ভঙ্গিতে নিচ্ছিলেন ছবি। তাকে সারি ঘাট নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, জায়গাটির কথা বহু শুনেছি, টিভিতে, সোশাল মিডিয়ায় দেখেছি। তবে এখন এসে দেখি এটা আরও সুন্দর।

স্থানীয় যুবক সায়মন চৌধুরী জানান, রাজধানীর আশেপাশে অনেক কাশবন আছে তবে এত বড় কাশবন কোথাও নেই। তা ছাড়া এই এলাকাটি শহরের খুব কাছে এবং নিরাপদ হওয়ায় লোক সমাগম বেশি হয়।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফয়সল বিন করিম বলেন, দ্রুত নগরায়নের ফলে দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার চিরায়ত রুপ। কেরানীগঞ্জেও দিনদিন বাড়ছে মানুষ, কমছে আবাদি অনাবাদি জমি, তাই যেখানেই মানুষ প্রাকৃতিক পরিবাশ পাচ্ছে তাতেই ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তা ছাড়া এলাকাটি শহরের কাছে এবং নিরাপদ জোন হওয়ায় দিনদিন লোকসমাগম বাড়ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে এলাকাটিতে বাড়তি নজরদারির কথাও জানান এ কর্মকর্তা।


banner close