রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ

আপডেটেড
২৭ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৮:২৫
রাকিবুল হাসান রোকেল
প্রকাশিত
রাকিবুল হাসান রোকেল
প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৮:২৪

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুললেই মেলে কোটি টাকা। প্রতি তিন মাস পর পর মসজিদের আটটি দানবাক্স খোলা হয়। বিপুল পরিমাণ টাকা ছাড়াও দানবাক্সে পাওয়া যায় বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার। দানবাক্সে কী পরিমাণ টাকা জমা পড়ল সে হিসাবের অপেক্ষায় থাকেন অনেকে। টাকা গণনা দেখতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে আসেন উৎসাহী মানুষ। ঠিক এ কারণেই পর্যটকদেরও পছন্দের জায়গায় পরিণত হয়েছে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি। শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দার তীরে প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে পাগলা মসজিদ গড়ে ওঠে। বর্তমানে সেটি সম্প্রসারিত হয়ে ৩ একর ৮৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করেন কবি ও লোকসংস্কৃতি গবেষক জাহাঙ্গীর আলম জাহান। তিনি জানান, এই মসজিদ সম্পর্কে বেশ কিছু জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। যেমন- এক দিন দেখা গেল নদীর প্রবল স্রোতধারার মধ্যে মাদুরে আসন পেতে এক সাধক পুরুষ ভেসে আসছেন। তিনি প্রায় মাঝ নদীতে স্থির হয়ে যান। এভাবেই কয়েক দিন কেটে যায়। এরপর কয়েক দিনের মধ্যে সে স্থানটি শুকিয়ে চরে পরিণত হয়। কিন্তু সাধক তখনও ধ্যানে মগ্ন। স্থানীয় জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে এসে এই দৃশ্য দেখে বিস্মিত হয়ে যান। তার পরের ঘটনা আরও চমকপ্রদ। পাশের রাখুয়াইল এলাকার জনৈক গোয়ালার একটি গাভী দুধ দিচ্ছিল না। গোয়ালা শত চেষ্টা করেও গাভীর বাঁট (ওলান) থেকে বের করতে পারছিলেন না এক ফোঁটা দুধও। গাভীটিকে নজরে রাখা হলো পুরো একটা দিন। দেখা গেল পাল থেকে হঠাৎ গাভীটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পালাচ্ছে। তারপর নদী সাঁতরে সেই সাধকের চরায় উঠে আসে। সাধকের কাছে একটা পাত্র ছিল। গাভিটি সেই পাত্রে ওলানের সব দুধ ঢেলে দেয়। তারপর নদী সাঁতরে আবার ফিরে আসে পালে। কয়েকদিন এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি লক্ষ করেন গোয়ালা। তিনি নিশ্চিত হন, এ সাধক সত্যিকারের একজন কামেল পুরুষ। গোয়ালা পরম ভক্তি নিয়ে এক দিন সেই সাধক পুরুষের শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেন। কিছুদিনের মধ্যে গোয়ালার অবস্থা। অভাবনীয় উন্নতি হলো। তার এই উন্নতি অন্যদেরও মধ্যেও সাড়া ফেলে দেয়। রাখুয়াইলসহ আশপাশের এলাকার তাঁতি, জেলেসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ দলে দলে শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে লাগল। সাধক পুরুষের অলৌকিকতার খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে দিকিবিদিক। সেই শিষ্যরা সাধকের সেই চরাভূমিতে একটি হুজরাখানা তৈরি করে দেন। মৃত্যুর পর সাধককে হুজরাখানার পাশেই সমাহিত করা হয় এবং সেখানেই নির্মাণ করা হয় মসজিদ। সেটাই পরে পাগলা মসজিদ নামে পরিচিতি পায়। এই কাহিনি পুরোটাই জনশ্রুতিনির্ভর। এর পক্ষে কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।

গুরুদয়াল কলেজের সাবেক অধ্যাপক ও সাহিত্যিক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। ১৯৭৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি তৎকালীন ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকায় এ মসজিদ নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখছিলেন। তাতে দাবি করেছিলেন, হয়বতনগরের প্রতিষ্ঠাতা দেওয়ান হৈবৎ খানের অধস্তন তৃতীয় পুরুষ জোলকরণ খানের বিবি সাহেবা মূলত এই পাগলা মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা। বেগম সাহেবা ছিলেন নিঃসন্তান এবং প্রজারা তাকে ‘পাগলা বিবি’ বলে ডাকতেন। স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে তিনি দেওয়ানবাড়ি থেকে একরশি দূরে নরসুন্দার তীরে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। এই তথ্যও হয়বতনগর দেওয়ানবাড়ি থেকে পাওয়া। এর পেছনেও সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। পাগলা মসজিদের সঙ্গে এ রকম নানা জনশ্রুতি জড়িয়ে আছে।

তবে ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাচীন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই এলাকায় এক সময় বৌদ্ধ, যোগী ও নাথযোগী সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। বিশেষ করে বর্তমান কাতিয়ারচর ও সগড়াসহ আশপাশের এলাকায় একসময় নাথযোগী ও বিভিন্ন লোকধর্মে বিশ্বাসী মানুষ বসবাস করতন। তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের একটি কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। এ থেকে অনুমান করা যায়, নরসুন্দারে জেগে ওঠা চরাভূমিতে হয়তো নাথযোগী সম্প্রদায়ের কোনো সিদ্ধ পুরুষ তার সাধনপীঠ প্রতিষ্ঠা করে তাতে যুগ সাধনায় রত ছিলেন। তার শিষ্য ছিলেন স্থানীয় গোয়ালা, তাঁতি, জেলে, মাঝি ইত্যাদি সম্প্রদায়ের লোকজন। এ সময় সমগ্র বাংলাদেশেই উল্লিখিত সম্প্রদায় ও গোত্রের নর-নারী যে গোরক্ষনাথের বিশেষ অনুরাগী ও অনুসারী ছিলেন মনে করা হয়। নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই কোনটা সত্যি ইতিহাস।

পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পৌর মেয়র মো.পারভেজ মিয়া। তিনি জানান, পাগলা মসজিদের দানের টাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। কমপ্লেক্সটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম স্থাপত্য হিসেবে বানানো হবে। এ জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ কোটি টাকা। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। ২০০ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া পাঁচ হাজার নারীর জন্য নামাজের আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

দান করেন কারা :

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুললেই মিলে কোটি কোটি টাকা। দানের এই টাকার পরিমাণ প্রতিনিয়ত শুধু বেড়েই চলেছে। দিনে তো বটেই, রাতের আঁধারেও অনেকে গোপনে এসে দান করে থাকেন মসজিদের দানবাক্সগুলোতে। টাকা ছাড়াও মেলে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। এ ছাড়া প্রতিদিন মসজিদে দান করা হয় হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল। কারা দান করেন এসব টাকা এবং কোন খাতে ব্যয় হয় এসব অর্থ সে তথ্য জানার চেষ্টা করেছে দৈনিক বাংলা।

পাগলা মসজিদের নৈশপ্রহরী মো. মকবুল হোসেন। তিনি এই মসজিদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন ২৭ বছর। তিনি বলেন, ‘শুধু মুসলিম নয়, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এখানে এসে দান করেন। টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়াও প্রচুর পরিমাণ হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলও দান করেন অনেকে। করোনার শুরুতে যখন জনসমাগম বন্ধ ছিল, তখনো অনেকে গভীর রাতে এসে দানবাক্সে দান করেছেন।’ তিনি জানান, অতীতে এই মসজিদে কেবল আশেপাশের এলাকার মানুষ দান করতেন। আর এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এসে টাকা-পয়সা দান করেন। এ ছাড়া বিদেশিরা অনেক সময় আসেন, পুরো মসজিদ ঘুরে দেখে যাওয়ার সময় দানবাক্সে বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন।

মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান জানান, প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে দান করছেন এই মসজিদে। যারা দান করতে আসেন তারা বলেন, এখানে দান করার পর তাদের আশা পূরণ হয়েছে। আর এ বিষয়টির কারণেই এখানে দান করেন তারা।

ব্যয় হয় যেসব খাতে :

পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শওকত উদ্দিন ভূইয়া জানান, প্রতি মাসে পাগলা মসজিদের স্টাফ খরচ বাবদ ব্যয় হয় ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০২১ সালে দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত ১২৪ জন ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য এবং অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচের জন্য ১৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও করোনাকালীন সময়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, পাগলা মসজিদের টাকায় ২০০২ সালে মসজিদের পাশেই একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে এই মাদ্রাসায় ১৩০ জন এতিম শিশু পড়াশোনা করছে। মসজিদের টাকায় তাদের যাবতীয় ভরণপোষণ ও জামাকাপড় দেওয়া হয়ে থাকে। ওয়াকফ স্টেটের অডিটর দ্বারা প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে পাগলা মসজিদের আয়-ব্যয়ের অডিট করা হয়।

পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্স পরিচালনা করার জন্য ৩১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। এই কমিটিতে জেলা প্রশাসক সভাপতি এবং কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি, আইনজীবী, সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই কমিটিতে আছেন।

বিগত দুই বছরে যে পরিমাণ টাকা জমা পড়েছে দানবাক্সগুলোতে:
২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি দানবাক্সগুলো খুলে পাওয়া গেছে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা, এরপর ১৯ জুন পাওয়া গেছে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৪ টাকা, একই বছরের ৬ নভেম্বর পাওয়া গেছে রেকর্ড পরিমাণ ৩ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৫ টাকা।
পরে ২০২২ সালের ১৩ মার্চ পাওয়া গিয়েছিল ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৫ টাকা, ৩ জুলাই পাওয়া গিয়েছিল ৩ কোটি ৬০ লাখ ২৭ হাজার ৪১৫ টাকা, একই বছরের ২ অক্টোবর পাওয়া গিয়েছিল ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকা।

আশপাশের দর্শনীয় স্থান :

কিশোরগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য ভ্রমণ স্থানের মধ্যে রয়েছে শহরের পূর্বদিকে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান, সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে ফুলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর বাড়ি। করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নে অবস্থিত ঈশা খাঁর জঙ্গলবাড়ি দুর্গ, পাকুন্দিয়া উপজেলা এগারসিন্দুরে অবস্থিত ঈশা খাঁর দুর্গ, শেখ শাহ মাহমুদ মসজিদ ও বালাখানা এবং শেখ সাদী মসজিদ। জেলার হোসেনপুর উপজেলার গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি, শহরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সামনের মুক্তমঞ্চ।

যেভাবে যাবেন

কিশোরগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ এবং কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের খুব কাছেই ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ অবস্থিত। কিশোরগঞ্জ শহরের যেকোনো এলাকা থেকে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে পাগলা মসজিদে যেতে পারবেন।

ঢাকা থেকে ট্রেনে কিশোরগঞ্জ
রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কিশোরগঞ্জ উদ্দেশে তিনটি আন্তনগর ট্রেন ছেড়ে যায়। এগারসিন্ধুর প্রভাতী বুধবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৭টায়, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ও এগারসিন্ধুর গোধূলি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ট্রেনের শ্রেণি অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারিত রয়েছে। কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে অটোরিকশা রিজার্ভ করে পাগলা মসজিদ আসতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা খরচে যাওয়া যাবে।

ঢাকার মহাখালী থেকে বাসে করে গাজীপুর হয়ে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল বাসস্ট্যান্ড আসতে পারবেন। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৩৩০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকার গোলাপবাগ (সায়েদাবাদ) থেকে যাতায়াত ও অনন্যা সুপার বাসে করে ভৈরব হয়ে গাইটাল বাসস্ট্যান্ডে যাওয়া যায়। বাস ভাড়া জনপ্রতি ৩৫০ টাকা। মহাখালী থেকে সময় লাগবে প্রায় ৪ ঘণ্টা এবং গোলাপবাগ থেকে সময় লাগবে সাড়ে ৪ ঘণ্টা। গাইটাল বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩০ টাকায় রিজার্ভ অটোরিকশা ভাড়ায় সরাসরি পাগলা মসজিদ আসতে পারবেন। এ ছাড়া গাইটাল বাসস্ট্যান্ড থেকে লোকাল অটোরিকশায় জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়ায় বটতলা মোড়ে নেমে ৫-৭ মিনিট হাঁটলেই পাগলা মসজিদে পৌঁছা যাবে।

কোথায় খাবেন :
কিশোরগঞ্জ শহরে কাঁচালংকা, গাংচিল, তাজ, পানসী, ধানসিঁড়ি, ইস্টিকুটুম, দারুচিনি, কয়লা, ময়নামতি, হোটেল খাওয়া-দাওয়া, কোহিনূর ইত্যাদি রেস্টুরেন্টে পছন্দের খাবার খেতে পারবেন। এ ছাড়া অষ্টগ্রামে বিখ্যাত পনির খেতে চাইলে সুগন্ধা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও রাজলক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে যেতে পারেন।

কোথায় থাকবেন :

কিশোরগঞ্জ শহরে রাত্রিযাপনের জন্য হোটেল আল মোবারক ,গাংচিল, নিরালা, হোটেল শেরাটন, রিভার ভিউ, উজান ভাটিসহ বেশ কিছু ভালো মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। এ ছাড়া যোগাযোগ করে জেলা পরিষদের ডাক-বাংলোতে থাকতে পারবেন।

লেখক: প্রতিনিধি,কিশোরগঞ্জ


নারকেল দুধে কোপ্তা পোলাও

আপডেটেড ১০ এপ্রিল, ২০২৪ ২৩:৪৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঈদ মানেই ভুরিভোজ খাওয়া-দাওয়া। আর যেকোনো উৎসবেই পোলাও আমরা অনেকভাবেই খেয়ে থাকি। ঈদ আয়োজনে ব্যতিক্রমী স্বাদের পোলাও রান্না করে ফেলতে পারেন। নারকেল দুধে কোপ্তা পোলাও রান্না করে পরিবেশন করতে পারেন অতিথি আপ্যায়নে। প্রশংসা কুড়াবেন নিশ্চিত। জেনে নিন রেসিপি।

কোপ্তা তৈরির উপকরণ

মুরগি/খাসি অথবা গরুর মাংসের কিমা ২ কাপ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, চিনাবাদাম বাটা ১ টেবিল চামচ, গরম মসলা গুঁড়া ২ চা চামচ, কাঁচা মরিচ বাটা ২ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, ধনিয়া গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ২ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১/৪ কাপ, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, নারকেল দুধ আধা কাপ, কাঁচা মরিচ ৫/৬টি, ঘি ২ টেবিল চামচ, তেল ২ টেবিল চামচ, লবণ ও চিনি স্বাদ মতো।

পোলাও রান্নার উপকরণ

পোলাও এর চাল ২ কাপ, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, গাজর কুচি ১/৪ কাপ, এলাচ ২টি, দারুচিনি ১ টুকরা, তেজপাতা ২টি, নারকেলের দুধ ১ কাপ, পানি ৩ কাপ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, ঘি ৩ টেবিল চামচ, তেল ৩ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা ৩ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ৭/৮টি, লবণ ও চিনি স্বাদ মতো।

প্রস্তুত প্রণালি

কিমার সাথে বাটা মসলাগুলো অর্ধেক পরিমাণে মিশিয়ে ১৫ মিনিট মেখে রাখুন। ছোট ছোট বলের আকারে কোপ্তা বানিয়ে নিন এবার কড়াইতে তেল ও ঘি গরম করে পেঁয়াজ কুচি বাদামী করে ভেজে সমস্ত বাটা মসলা দিয়ে মসলা কষিয়ে নিন। কষানো মসলায় কোপ্তা দিয়ে ৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। এবার নারকেলের দুধ ও কাঁচা মরিচ দিয়ে আরও ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। ঝোল ঘন হয়ে আসলে নামিয়ে আরেকটি পাত্রে তেল ও ঘি গরম করুন। এতে পেঁয়াজ হালকা ভেজে গরম মসলা ও চাল দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন। তারপর পানি, ১ কাপ নারকেল দুধ, লবণ ও চিনি দিয়ে নেড়ে বলক আসলে মৃদু আঁচে ২০ মিনিট ঢেকে রান্না করুন। পোলাও রান্না হলে কিছু অংশ তুলে রেখে রান্না করা কোপ্তা, গাজর, বেরেস্তা, লেবুর রস দিয়ে ২/৩টি লেয়ার দিয়ে বাকি নারকেলের দুধ দিয়ে ১৫ মিনিট দমে রেখে পছন্দ মতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন


ঈদে অতিরিক্ত খাবার খেয়েছেন, যা করবেন

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঈদের দিন বেশি খেয়ে ফেলা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মীসহ নিজের পারিবার পারিজন সব মিলিয়ে সবার আবদার রাখতে গেলে উৎসব-আয়োজনে স্বাভাবিকভাবেই বেশি খাওয়া হয়ে যায়। এদিন সবার ঘরেই বাহারি সব খাবার তৈরি হয়। এটা সেটা খেতে খেতে সবারই অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে যায়। অনেক সময় ব্যস্তার কারণে খুব দ্রুত খাবার খেতে হয়। ফলে ঈদের দিন ক্লান্তি আর অবসাদ কাজ তরে। তাই ঈদে অতিরিক্ত খেয়ে ফেললেও কয়েকটি কাজের মাধ্যমে সমস্যা এড়ানো যেতে পারে।

হাঁটাহাঁটি করা

বেশি খেয়ে ফেললে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই খাওয়ার পর একটু হাঁটাহাঁটি করুন। এতে খাবার দ্রুত হজম হবে এবং যথেষ্ট পরিমান পানি পান করেুন। এতে খাবারের মাধ্যমে শরীরে জমা হওয়া অতিরিক্ত লবণের মাত্রা কমবে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

খেয়েই শুয়ে পরা থেকে বিরত থাকা

বেশি খাবার খাওয়ার পর অনেকে শুয়ে পরেন। ফলে খাবার হজম হতে সমস্যা হয় ও অ্যাসিডিটি বেড়ে যায়। পেট ফুলে যায়, বুকে ব্যথা ও নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

কোমল পানীয় পান না করা

অতিরিক্ত খাওয়ার পর কোমল পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকুন। কোমল পানীয় বলতে কার্বোনেটেড ব্রেভারেজ ডিংকস। এর ফলে গ্যাস্ট্রিক আরও বেড়তে পারে। ফলে পেট ভরা ভরা ও অস্বস্তি লাগতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া

ঈদ খেকে শুরু করে অনেক দিন পাড়া মহল্লার ওষুধের দোকান বন্ধ থাকে। অনেকেরই অতিরিক্ত খাওয়ার পর বমি বমি ভাবসহ নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এমনটি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আগে থেকে ওষুধ আনতে হবে।

খাওয়া শুরু করার ২০ মিনিটের মধ্যে মস্তিষ্ক সক্রিয় হয়ে ওঠে, তাই প্রথম ১০ মিনিট খুবই ধীরে ধীরে খাবার খেতে হবে। একবার খাবার মুখে নিয়ে অনন্ত ৯০ বার চাবানো উচিত। ধীরে ধরে খাবার খেলে কম ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়। এর ফলে ওজনও কমে।

খাবার খাওয়ার সময় যখনই মনে হবে অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে তখনই খাওয়া বন্ধ করতে হবে। খাবার খাওয়া সময় গল্প, ফোন ও টিভির মনিটরে তাকিয়ে থাকা যাবে না। একবেলা ভারি খাবার খেলে অন্যবেলায় কম ক্যালোরি ও হালকা খাবার খাওয়া ভালো।

বিষয়:

ঈদে ঝটপট তৈরি করুন শাহী বোরহানি

আপডেটেড ৬ এপ্রিল, ২০২৪ ২০:৫৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঈদ মানেই আনন্দ ঈদ মানেই খুসি। সারা পৃথিবীর সকল মুসলিমদের কাছে এ দিনটি অনেক বৈশিষ্টমণ্ডিত। রমজান মাসে সারাদিন উপোশ করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যেমন সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য লাভ করেন তেমনি ঈদের দিন না খেয়ে থাকাকেও অনেকে ইসলামের দৃষ্টিতে সুচোখে দেখেন না।

আর বাঙালি মুসলমানদের ঈদ মানেই সকাল থেকে সন্ধ্যা খাবারের ফোয়ারা। সকালে মিষ্টান্ন, দুপুরে ভারি খাবার। সন্ধায় ঝাল খাবারসহ কত রকমরে পদ। পদের আলাপের যাওয়ার আগে এমন একটি পদ নিয়ে আলোচনা করব যে পদটি না থাকলে আসল পদটিই যেন পূর্ণতা পায় না। সে পদটির নাম বোরহারি। এটি একটি পানীয় যা কিনা খাবার হজম করতে সহায়তা করে।

পানীয়টির নামের উৎপত্তি অজানা। আরবি বুরহান শব্দ থেকে এসেছে শব্দটি যার অর্থ ‘প্রমাণ’। বিকল্পভাবে, এটি ফারসি শব্দ বোরানি থেকেও উদ্ভূত হতে পারে, যা দই এবং সবুজ শাক দিয়ে তৈরি একটি খাবারকে বোঝায়। সে হিসেবে আমরা অনায়াসে দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটাই নিতে পারি।

বাজারে হরেক রকমের নামিদামি বোরহানি পাওয়া গেলেও ভোজন রসিকরা কিন্তু সব সময় বাহিরের আশায় বসে থাকেন না। দেখা যায় যে যারা ভোজন রসিক তারা কিঞ্চিত রান্নাতেও পারদর্শি।

ঘরেই তৈরি করুন শাহী বোরহানি

পথমে আধা কাপ পানি সঙ্গে ৪ টেবিল চামচ পুদিনা পাতা, ১ টেবিল চামচ ধনেপাতা, কয়েকটি কাঁচামরিচ, ২ টেবিল চামচ চিনি, সামান্য লবণ ও আধা চা চামচ ছেঁচে নেওয়া আদা ব্লেন্ড করে নিন। একটু সময় নিয়ে ব্লেন্ড করে মিহি করুন। এরপর আড়াই কাপ টক দই, ১ চা চামচ বিট লবণ, ১ চা চামচ সাদা গোলমরিচের গুঁড়া, ১ চা চামচ টালা ধনিয়ার গুঁড়া, ১ চা চামচ টালা জিরার গুঁড়া ও ১ চা চামচ সরিষা বাটা দিয়ে আবার ব্লেন্ড করুন। ভালো করে সব মিশে গেলে গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন দারুণ স্বাদের বোরহানি। এই বোরহানি এক সপ্তাহ পর্যন্ত ফ্রিজে রেখে খাওয়া যাবে।

বিষয়:

ঈদে ইজি ফ্যাশনের নান্দনিক পাঞ্জাবি

ছবি: ইজি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাঞ্জাবি হচ্ছে ঈদের নামাজের অন্যতম অনুষঙ্গ। পাঞ্জাবি ছাড়া ঈদের নামাজে যেন তৃপ্তিই পাওয়া যায় না। যার কারণে শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্টসহ বিভিন্ন পোষাকের পর পাঞ্জাবি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ঈদের জন্য পাঞ্জাবি শুধু গুরুত্বপূর্ণই না বরং অপরিহার্য। নতুন পাঞ্জাবি ছাড়া ঈদের আনন্দ যেন ধুসর ও বর্ণহীন। আর এক্ষেত্রে যদি ডিজাইন ও রঙের বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা থাকে তাহলে ঈদের আনন্দ হয়ে ওঠে আরেকটু বর্ণিল।

আনন্দপ্রিয় ও ফ্যাশন সচেতন তরুণদের ঈদকে আরও রঙিন করে তুলতে শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন হাউজ ইজি তাদের ঈদের সমাহারে মনকাড়া ডিজাইনের পাঞ্জাবির সমাহার ঘটিয়েছে। বাহারি ডিজাইনের বৈচিত্র্যময় নতুন নান্দনিক পোশাকে সবসময় নিজেদের ভিন্নতা তুলে ধরার লক্ষ্যে এবারের ঈদেও ইজি তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখেছে। রঙ ছড়িয়েছে নতুন ও মনকাড়া ডিজাইনের পাঞ্জাবিতে।

ফ্যাশন প্রিয়দের মন রাঙাতে আকর্ষণীয় সব পোশাক ও ফ্যাশন অনুষঙ্গে সেজেছে দেশীয় ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির। এই মুহূর্তেও সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘ইজি’র ফ্যাশন হাউসের আউটলেটগুলো।

ছেলেদের ফ্যাশনে এক্সক্লুসিভ কালেকশনে বরবারই একধাপ এগিয়ে ইজি। সব ধরনের ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে এবারের ঈদে বাহারি সব ডিজাইন কালেকশন রয়েছে ইজির শোরুমগুলোতে।

পাঞ্জাবির পাশাপাশি থাকছে নতুন-নতুন ডিজাইনের সব শার্ট। অসংখ্য নতুন ডিজাইনের টি-শার্ট, পলো-শার্ট, ফরমাল শার্ট, ক্যজুয়াল শার্ট, পাঞ্জাবি, কটি, কাবলি-পাঞ্জাবি ও প্যান্টসহ আরও অনেক কিছু।

ইজির স্বত্তাধিকারী ও ডিজাইনার তৌহিদ চৌধুরী বলেন, ‘শুধু মুনাফা নয় ক্রেতাদের সেবা দেওয়া মূল লক্ষ্য। ঢাকা ছাড়াও আমাদের বাংলাদেশের সকল জেলাতেই ইজির শোরুম রয়েছে।’

বিষয়:

ফেনীতে টপটেন মার্ট উদ্বোধন করলেন তামিম ইকবাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতকাহন প্রতিবেদক

দেশের অন্যতম লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড টপটেন মার্ট এবার চালু হলো ফেনীতে। গত ২৬ মার্চ শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ্ কায়সার সড়কে কাজী প্যালেসে নতুন শো রুমটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান। তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম তরুণ তারকা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

উদ্বোধন শেষে তামিম ইকবাল বলেন, আমি সত্যিকার অর্থে এই ধরনের ব্র্যান্ডের জিনস প্যান্ট টি-শাট পছন্দ করি। আশা করি তাদের এই প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হবে। ফেনী শহরে আসা হয়নি, এখানে এসে খুব ভালো লাগছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফেনী পৌরসভার মেয়র মো. নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী, টপটেন মার্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

টপটেন মার্টের এক ছাদের নিচে পাওয়া যাবে ছেলে ও মেয়েদের সম্পূর্ণ লাইফস্টাইল আউটফিট। ছেলেদের জন্য রয়েছে শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, স্যুট ব্লেজার জুতা ইত্যাদি। রয়েছে মেয়েদের শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি পিস, টপস, অর্নামেন্টস, জুতা ইত্যাদি। ব্রাইডাল কালেকশনে রয়েছে শেরওয়ানি ও লেহেঙ্গা ইত্যাদি। মেয়ে বা ছেলেদের পোশাকের লাক্সারি কালেকশন রয়েছে এখানে। সবার জন্য পছন্দের জুতাও কেনা যাবে এখানে।

টপটেন মার্টের যেকোনো স্টোর থেকে পণ্য কিনলে মিলবে ৭ শতাংশ ছাড়। তবে অনলাইন কেনা এই ছাড় মিলবে না। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এই ছাড় চলবে। তবে কসমেটিক্স ও প্রেসিডেন্ট ব্রান্ডের পণ্যে থাকছে না এই ছাড়।


দেশীয় আয়োজনে ঈদ আনন্দ

ছবি: বিশ্বরঙ
আপডেটেড ২৯ মার্চ, ২০২৪ ২০:২৮
মইনুল হক রোজ

ঈদ মানেই আনন্দ। এই আনন্দের বেশ বড় একটা অংশজুড়েই থাকে বাহারি নকশার নতুন পোশাক। তাই দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো ঈদকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের পছন্দের কথা বিবেচনায় রেখে আয়োজন করে থাকে নানা ডিজাইনের পোশাক ও আনুষঙ্গিক পণ্যের। সাতকাহনের ঈদ আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে রইল বেশ কিছু ক্রেতাপ্রিয় ফ্যাশন হাউসের ঈদ আয়োজনের খোঁজখবর।

ঈদ আয়োজনে বিশ্বরঙ

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ উৎসবের এই আনন্দের রঙে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে বরাবরের মতোই দেশীয় কাপড় ও উপকরণ ব্যবহার করে ‘বিশ্বরঙ’ এবারও ঈদুল ফিতরের আয়োজনে পোশাকে ট্রেন্ডি এবং ট্র্যাডিশনাল লুকের নান্দনিক উপস্থাপন করেছে। এবারের ঈদ আয়োজন সাজানো হয়েছে কালের আবর্তে প্রায় হারিয়ে যাওয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের হাতে তৈরি বাহারি রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ব্যবহৃত নকশার অনুপ্রেরণায়।

দেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে আরামদায়ক কাপড় যেমন- সুতি, ধুপিয়ান সিল্ক, তসর সিল্ক, লিলেন, কাতান, জ্যাকার্ড কাপড় ব্যবহার করেছে, রঙের ব্যবহারেও কনট্রাস্ট কালারের পাশাপাশি রঙেও ম্যাচিউরড টোনের পরিমিত ব্যবহার লক্ষণীয়। কাজের মাধ্যম হিসেবে রয়েছে স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লক, ডিজিটাল প্রিন্ট, মেশিন এমব্রয়ডারি, কম্পিউটার এমব্রয়ডারি, হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, কারচুপি, নকশিকাঁথা, জারদৌসীসহ মিশ্র মাধ্যমের নিজস্ব বিভিন্ন কৌশল।

এবারের ঈদ আয়োজনে ‘বিশ্বরঙ’ প্রতিটি শ্রেণির মানুষের জন্যই ভিন্ন কিছু যোগ করেছে। বাচ্চাদের জন্য এনেছে নান্দনিক সব কালেকশন, সেই সঙ্গে প্রাপ্ত বয়স্ক এবং নারীদের জন্য আছে ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের ছোঁয়া।

‘বিশ্বরঙ’-এর সব শোরুম ছাড়াও অনলাইন শপে ঈদ আয়োজনের পোশাক পাওয়া যাবে।

এই ঈদে আজরাখ প্রিন্টে সাদাকালো

সাদাকালো প্রতিবছরই যেকোনো উৎসবে তার ক্রেতা সুহৃদের জন্য ভিন্ন মাত্রায় বিষয়ভিত্তিক নতুন নতুন কাজ নিয়ে আসে। এ বছরও তার ভিন্নতা হয়নি। সাদাকালো এবার সিন্ধি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক ‘আজরাখ’ প্রিন্ট নিয়ে কাজ করেছে।

ছবি: সাদাকালো

আজরাখ প্রিন্ট হলো এক ধরনের টেক্সটাইল ব্লকপ্রিন্টিং, যা ভারতের কচ্ছ জেলার আজরাখপুর গ্রামে পাওয়া যায়। এই প্রিন্টটি সাধারণত একটি জাল বা ওয়েব-লাইক ডিজাইন হয়। আজরাখ প্রিন্ট তৈরি করতে প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে বিভিন্ন ধাপে ডাইং এবং রেজিস্ট প্রিন্টিং করা হয়।

এবার সাদাকালো এই প্রিন্টে ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করতে স্ক্রিন, ব্লক, এমব্রয়ডারিসহ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, মেয়েদের টপস্, কুর্তিসহ শিশুদের পোশাক তৈরি করেছে।

দেশালের ঈদ কালেকশন

বাংলাদেশের প্রকৃতি ও দেশীয় সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত নানা রকম রং ও মোটিফের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে দেশালের এবারের ঈদ কালেকশন। বছরের সবচেয়ে বড় উৎসবকে সামনে রেখে এই কালেকশনে ব্র্যান্ডটি নিয়ে এসেছে ৪০০-রও বেশি ডিজাইন।

এবারের ঈদের সময়ের গরম আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে দেশালের ঈদ কালেকশনে প্রাধান্য পেয়েছে সুতির পোশাক। এ ছাড়া ঈদের আভিজাত্য ও জাঁকজমক উৎসবের বিষয়টি মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে সিল্ক শাড়ি, এন্ডি সিল্কের শাড়ি ও পাঞ্জাবি। ডিজাইনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখায় হয়েছে তরুণদের পছন্দের বিষয়টি, তৈরি করা হয়েছে ডিজিটাল প্রিন্টের বিভিন্ন কালেকশন।

ছবি: দেশাল

তবে পরিবারের সব বয়সি নারী-পুরুষের জন্যই বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক আছে এবারের কালেকশনে। কটন-ভেজিটেবল ডাই-হ্যান্ড অ্যাম্ব্রডারি শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, টপস্, পঞ্চ, টু পিস, কাফতান, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, ছোটদের ফ্রক, পঞ্চ, পাঞ্জাবি, ফতুয়া মিলিয়ে আছে চার শতাধিকেরও বেশি ডিজাইন।

দেশালের প্রতিটি কালেকশনের মতোই এবারও ডিজাইনের ক্ষেত্রে দেশীয় মোটিফ প্রাধান্য পেয়েছে। সারা দেশজুড়ে দেশালের ১২টি আউটলেটে পাওয়া যাচ্ছে নতুন এই কালেকশন। এ ছাড়া দেশাল অনলাইনে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সহজেই পণ্য অর্ডার করতে পারবেন ক্রেতারা।

ইজির ঈদ আয়োজন

পাঞ্জাবি হচ্ছে ঈদের নামাজের অন্যতম অনুষঙ্গ। আনন্দপ্রিয় ও ফ্যাশন সচেতন তরুণদের ঈদকে আরও রঙিন করে তুলতে জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউস ইজি তাদের ঈদের সমাহারে মনকাড়া ডিজাইনের পাঞ্জাবির সমাহার ঘটিয়েছে। বাহারি ডিজাইনের বৈচিত্র্যময় নতুন নান্দনিক পোশাকে সব সময় নিজেদের ভিন্নতা তুলে ধরার লক্ষ্যে এবারের ঈদেও ইজি তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখে রং ছড়িয়েছে নতুন ও মনকাড়া ডিজাইনের পাঞ্জাবিতে।

ছেলেদের ফ্যাশনে এক্সক্লুসিভ কালেকশনে বরবারই এক ধাপ এগিয়ে ইজি। তারই ধারবাহিকতায় ঈদের সমাহারে মনকাড়া ডিজাইনের শার্টের সন্নিবেশ ঘটিয়েছে তারা। বাহারি ডিজাইনের বৈচিত্র্যময় নতুন নান্দনিক পোশাকে সব সময় নিজেদের ভিন্নতা তুলে ধরার লক্ষ্যে এবারের ঈদেও ইজি তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখে রং ছড়িয়েছে নতুন ও মনকাড়া ডিজাইনের শার্টে।

ছবি: ইজি

সব ধরনের ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে এবারের ঈদে বাহারি সব ডিজাইন কালেকশন রয়েছে ইজি শোরুমগুলোতে। পাঞ্জাবি-শার্টের পাশাপাশি থাকছে নতুন ডিজাইনের টি-শার্ট, পলো শার্ট, ফরমাল শার্ট, ক্যজুয়াল শার্ট, কটি, কাবলি পাঞ্জাবি, প্যান্ট ইত্যাদি।

ইজির স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার তৌহিদ চৌধুরী বলেন, শুধু মুনাফা নয় কাস্টমারদের সেবা দেওয়া মূল লক্ষ্য। ঢাকা ছাড়াও বাংলাদেশের সব জেলাতেই ইজির শো-রুম রয়েছে এবং সবগুলোতেই ঈদের সব কালেকশন পাওয়া যাবে।

আর্টিজ্যানের এক্সক্লুসিভ ঈদ কালেকশন

আসছে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ফ্যাশন ব্র্যান্ড আর্টিজ্যান এনেছে এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের পাঞ্জাবি, শার্ট, পলো শার্ট ও টি-শার্ট। এ সময়ের আবহাওয়া উপযোগী কালারফুল ডিজাইনের এসব কালেকশন তৈরি করা হয়েছে শতভাগ সুতিসহ আরামদায়ক কাপড়ে। কাটিং ও প্যাটার্নে আনা হয়েছে বৈচিত্র্য।

ছবি: আর্টিজ্যানে

ফ্যাশন ডিজাইনার ও আর্টিজ্যানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হোসাইন বলেন, এবারের ঈদ উদযাপন হবে বসন্তের শেষ দিকে। এর পরই গ্রীষ্মের শুরু। তাই সবদিক বিবেচনা করেই এবারের ঈদ পোশাকের ডিজাইন, কালার ও কাপড় নির্বাচন করা হয়েছে। আর্টিজ্যানের এসব পোশাক কেনা যাবে পাইকারি ও খুচরা। ক্রেতাদের জন্য আর্টিজ্যানের আছে বেশ কয়েকটি শোরুম।

ঈদে বালুচর-এর পাঞ্জাবি

বালুচর ফ্যাশন হাউস ঈদের জন্য নিয়ে এনেছে নতুন নতুন ডিজাইনের নান্দনিক সব পাঞ্জাবি, কুর্তা ও কটি। সুতিসহ আরামদায়ক কাপড়ে তৈরি এসব পাঞ্জাবি ও কুর্তার ডিজাইনে আছে তারুণ্যের আমেজ। বালুচর কাপড়ে রয়েছে সুতি, জাকুয়ার্ড, চিকেন কারী, রিমি কটন, শাহি সিল্ক, চিকুয়েন্স, ব্যাম সিল্ক, ভয়েল, এমব্রয়ডারি, প্রিন্ট, হাতের কাজসহ নানা মাধ্যমে। রঙেও আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। এ ছাড়া কাটিংয়েও আছে নতুনত্ব।

ছবি: বালুচর

বালুচর ফ্যাশন হাউসের সঞ্চালক শাহিন চৌধুরী বলেন, এই ঈদে যেহেতু অনেক গরম থাকবে তাই ছেলেদের পাঞ্জাবিতে কটনের মধ্যেই হালকা কালারের রং নির্বাচন করেছি, এর পাশাপাশি ডিজাইনের ক্ষেত্রে সিম্পল কাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ঈদে প্রিন্টের দাপট কিছুটা মলিন হবে, এক রঙের কাপড়ে নতুনত্ব আসবে, থাকবে কাটিং আর প্যাটার্নে ভেরিয়েশন, সেমি লং প্যাটার্ন তার জায়গা ধরে রাখবে, ফিউশনধর্মী পাঞ্জাবিতেও থাকবে ডিজাইনে নতুনত্ব।

নতুন ডিজাইনের নান্দনিক সব পাঞ্জাবি কেনা যাবে খুচরা ও পাইকারি ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেটের নিচতলা ও তৃতীয় তলার বালুচরের শোরুম থেকে।

বার্ডস আইয়ে ঈদ পাঞ্জাবি সমাহার

পাঞ্জাবিপ্রিয় মানুষের রুচি ও বৈচিত্র্য বিবেচনা করে বাহারি রঙের নান্দনিক ডিজাইনের পাঞ্জাবির সমাহার নিয়ে এসেছে ফ্যাশন হাউস বার্ডস আই। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ফ্যাশন হাউসটি তাদের শোরুমে এনেছে বিভিন্ন মোটিফের পাঞ্জাবি। এ ক্ষেত্রে তারা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ফ্যাশনেবল তরুণদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়েছে। আর পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে আরামদায়ক কাপড়কেই প্রাধান্য দিয়েছে বার্ডস আই।

ছবি: বার্ডস আই

ঈদ উপলক্ষে তাদের প্রতিটি আউটলেটেই নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাঞ্জাবি ছাড়াও তাদের কালেকশনে আরও রয়েছে বাহারি ডিজাইনের সব টি-শার্ট, পলো টি শার্ট, পাঞ্জাবি, ক্যাজুয়াল শার্ট ইত্যাদি। চায়না, ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশি কাপড়ের তৈরি শত শত ডিজাইনের এসব পোশাক সারা দেশের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় চলছে।

কারুপল্লীতে ঈদ সমাহার

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র কারুপল্লী এনেছে ঈদের বর্ণিল পোশাক। নিজস্ব ডিজাইনের এসব পোশাকের রঙে ও নকশায় রয়েছে ঈদের নান্দনিক আমেজ। সুতিসহ আরামদায়ক কাপড়ে তৈরি করা হয়েছে এসব পোশাক। এর মধ্যে আছে তাঁতের সুতি শাড়ি, জামদানি শাড়ি, বেনারসি শাড়ি, থ্রি-পিস, ফতুয়া, শার্ট, পাঞ্জাবি এবং শিশুদের পোশাক।

ছবি: কারুপল্লী

বিভিন্ন প্রিন্টসহ নানা ধরনের হাতের কাজের মাধ্যমে নকশা করা এসব পোশাক। এ ছাড়া হস্ত ও কুটির শিল্পের প্রতিষ্ঠান করুপল্লীতে রয়েছে গ্রামীণ নারীদের তৈরি দেশীয় রকমারি গহনা, উপহার ও নানা ধরনের হস্তশিল্প সামগ্রী। কারুপল্লীর এসব পোশাক ও পণ্যের দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালেই রয়েছে।

ঈদে মেঘ

ফ্যাশন হাউস মেঘ এবারও ঈদ উপলক্ষে এনেছে বড় ও ছোটদের রকমারি পোশাক। এসব পোশাকের মধ্যে আছে ছেলেদের পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ, আনস্টিচ ও ছোটদের ফতুয়া, পাঞ্জাবি, ফ্রক ও টি-শার্ট।

ছবি: মেঘ

এ ছাড়া পরিবারের সবার ও কাপলদের জন্য রয়েছে একই রং ও নকশার পোশাক। খুচরার পাশাপাশি পাইকারি কেনা যাবে এসব পোশাক। ঘরে বসে অনলাইনেও কেনা যাবে।


ঈদে মজাদার দুই পদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাজমা আক্তার

ঈদের দিনে অতিথি আপ্যায়নে কিংবা পরিবারের সদস্যদের জন্য নানা পদের রান্নার আয়োজন থাকে। ঈদের দিনের সেই আয়োজনে যুক্ত হতে পারে দুটি পদ। আর মজাদার এই দুটি পদের রেসিপি দিয়েছেন রন্ধন শিল্পী নাজমা আক্তার

শাহি টুকরা

উপকরণ: পাউরুটি: ৫ পিস (সাইড কেটে তিন কোনা বা যেকোনো শেপে কেটে নিতে হবে), দুধ হাফ কাপ, জাফরান ১-৪ চা-চামচ, ঘি হাফ কাপ, কাঠবাদাম ২ টেবিল চামচ, কাজুবাদাম ২ টেবিল চামচ, এলাচি গুঁড়া ১ চিমটি, পানি ১ কাপ, চিনি হাফ কাপ, গরুর দুধ হাফ লিটার, কনডেন্স মিল্ক হাফ কাপ, গুঁড়া দুধ হাফ কাপ।

প্রস্তুত প্রণালি:

প্রথম এক চা-চামচ ঘি প্যানে গরম করে বাদামগুলো হালকা ভেজে তুলে রাখতে হবে। বেশি ভাজা যাবে না। এরপর হাফকাপ দুধে জাফরান ভিজিয়ে সাইডে রেখে বাকি হাফ লিটার দুধ একটা প্যানে জাল করতে হবে। বারবার নেড়ে মিডিয়াম আঁচে জ্বাল করতে হবে যেন সর না পরে। দুধ একটু ঘন হয়ে আসলে তাতে দুধে ভেজানো জাফরান দিতে হবে। (এখানে জাফরান বা কেওড়া জল যেকোনো একটা দেওয়া যাবে। দুটো একসঙ্গে দেওয়া যাবে না। এরপর একে একে গুঁড়া দুধ, কনডেন্স মিল্ক, এলাচ গুঁড়া, ভেজে রাখা বাদাম কিছু সাজানোর জন্য রেখে বাকি সব দিয়ে ভালো করে জ্বাল করে মালাই তৈরি করে নামিয়ে ঠাণ্ডা করতে হবে। এরপর আরেকটা পাত্রে ১ কাপ পানি হাফ কাপ চিনি জ্বাল করে পাতলা সিরা তৈরি করে নামিয়ে রাখতে হবে। এরপর আবার একটা পাত্রে ঘি গরম করে তাতে কেটে রাখা পাউরুটির টুকরোগুলো ভেজে নিতে হবে গোল্ডেন রং করে। এরপর ভেজে রাখা পাউরুটির টুকরোগুলো হালকা গরম চিনির সিরায় ৩০ সেকেন্ড ডুবিয়ে উঠিয়ে সার্ভিং ডিশে নিয়ে তার ওপর আগে থেকে তৈরি করা ঠাণ্ডা মালাই দিয়ে তার ওপর বাকি বাদাম কুঁচি দিয়ে সাজিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে দারুণ স্বাদের শাহি টুকরা।

ক্যারামেল পুডিং

উপকরণ: গরুর দুধ ১ কেজি, গুঁড়া দুধ হাফ কাপ, ডিম ৪টি, চিনি হাফ কাপ, ভেনিলা এসেন্স ১-৪ চা-চামচ, ক্যারামেল-এর জন্য চিনি ৪ টেবিল চামচ, পানি ২ টেবিল চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি:

প্রথমে চুলায় একটা পাত্র বসিয়ে তাতে লিকুইড দুধ, গুঁড়া দুধ ও চিনি নিয়ে জাল করে নিতে হবে। ভালো করে নেড়ে জ্বাল করে শুকিয়ে ৩ কাপ করে নিতে হবে। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা হতে রেখে অন্য একটি পাত্রে ৪ টেবিল চামচ চিনি, দুই টেবিল চামচ পানি দিয়ে ক্যারামেল করতে হবে। চুলায় মিডিয়াম আঁচে বসিয়ে নাড়াচাড়া করা যাবে না। যখন হালকা রং আসতে শুরু করবে তখন পাত্রের হাতল ধরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ক্যারামেল তৈরি করে নিতে হবে। এরপর সম্পূর্ণ চিনি গলে যখন একটা সুন্দর রং আসবে চুলা বন্ধ করে অনবরত নেড়ে ক্যারামেল তৈরি করতে হবে, না হলে চুলার জ্বাল অন তাকলে ক্যারামেল পুরে তেঁতো হয়ে যাবে।

এরপর যে পাত্রে পুডিং তৈরি করতে হবে সেই পাত্রে ক্যারামেল ঢেলে ঠাণ্ডা করে সেট করে নিতে হবে। এরপর ডিমগুলো ফেটিয়ে জ্বাল করা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে দুধ যেন গরম না থাকে। একদম ঠাণ্ডা করে ডিম মেশাতে হবে। তার সঙ্গে সামান্য ভেনিলা এসেন্স মিশিয়ে যে পাত্রে ক্যারামেল সেট করা আছে, সেই পাত্রের ওপর চালনি বসিয়ে দুধ, ডিমের মিশ্রণ ঢেলে ঢাকনা লাগিয়ে চুলায় একটি পাত্র বসিয়ে তাতে একটা কিচেন টাওয়াল দিয়ে তার ওপর পুডিংয়ের পাত্র বসিয়ে দিতে হবে যেন ভাব দেওয়ার সময় পাত্রটা নড়ে না যায়, তাহলে পুডিংয়ের ভেতর ভালো হবে না। এরপর পানি এমনভাবে দিতে হবে, যাতে পুডিংয়ের পাত্র একদম ডুবে না যায় আবার পানি যেন একদম তলায় না থাকে। ২৫-৩০ মিনিট জ্বাল করে নরমাল টেম্পারেচারে ঠাণ্ডা করে ২-৩ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে মোল্ড আউট করে নিতে হবে। তৈরি হয়ে যাবে দারুণ স্বাদের পারফেক্ট ক্যারামেল পুডিং।

(গরম পুডিং কখনোই মোল্ড আউট করতে নেই। ভালো করে ঠাণ্ডা করে তারপর মোল্ড আউট করতে হবে।)

বিষয়:

সুন্দোরা বিউটিতে ঈদের অফার

আপডেটেড ২৮ মার্চ, ২০২৪ ১৭:৪৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঈদের কেনাকাটায় এখন ব্যস্ত সবাই। মার্কেট ঘুরে কিংবা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমে এখন চলছে ঈদের কেনাকাটার ধুম। ঠিক এই সময়ে ‘সুন্দোরা’ নিয়ে এসেছে ঈদে বিশাল মূল্যছাড়! সুন্দোরা বিউটিতে পারফিউম, স্ক্রীন কেয়ার, মেকআপ এবং ক্যান্ডেলের উপর ৬০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাওয়া যাচ্ছে। সেইসঙ্গে সুন্দোরা কিডস্‌ জোনে খেলনা এবং আরও অন্যান্য আইটেমের উপর সর্বোচ্চ ৬০% ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। এই আকর্ষণীয় অফারটি চলবে চাঁদ রাত পর্যন্ত। সুন্দোরা হলো বিউটি প্রোডাক্ট, বাচ্চাদের প্রোডাক্ট এবং বিভিন্ন ধরণের ১00টি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল পার্টনার। ‘সুন্দোরা’- এর বনানী, গুলশান এবং ধানমন্ডি ষ্টোরে আপনাদের স্বাগতম জানাচ্ছে। অনলাইনে পণ্য পেতে sundora.com.bd এ লগইন করুন এবং ঈদের কেনাকাটায় মেতে ওঠুন।


ফ্যাশন হাউজ ভিভা ক্রিয়শন্সের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আপডেটেড ২৪ মার্চ, ২০২৪ ২১:২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে সম্প্রতি উদযাপিত হলো ফ্যাশন হাউজ 'ভিভা ক্রিয়শন্স' এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর গুলশান এভিনিউতে অবস্থিত ফ্যাশন হাউজটির নিজস্ব কার্যালয়ে এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী, ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আলী আজম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) কামরুল আহসান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার)।

অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য অলিলা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভিভা ক্রিয়শন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এবং অলিলা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ভিভা ক্রিয়শন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিনা নাহিদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভিভা ক্রিয়েশন্সের বৈচিত্র্যময়, লাক্সারী ও রুচিশীল সংগ্রহ দেখে আমি মুগ্ধ। বর্তমানে রুচি ও মননে বাংলাদেশের মানুষের পোশাক ও সাজসজ্জা চোখে পড়ার মতো। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি খুব অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে দেখে ভালো লাগছে। প্রতিষ্ঠানটির আরও সমৃদ্ধি কামনা করছি।'

অলিলা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও ভিভা ক্রিয়েশন্সের ডিরেক্টর জিল্লুর রহমান এমপি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গ্রাহকদের মুগ্ধতা এবং প্রশংসায় আমরা অনুপ্রাণিত। সাশ্রয়ী মূল্যে একই ছাদের নিচে ভারতীয় উপমহাদেশের ৩০০ ডিজাইনারের কালেকশন ক্রেতাদের হাতের নাগালে এনেছে ভিভা ক্রিয়শন্স। আগামী দিনে আমাদের কালেকশন আরও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।'

ভারতীয় উপমহাদেশের অত্যাধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী বিয়ের সব কালেকশন নিয়ে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে যাত্রা শুরু করে শপিংমল ভিভা ক্রিয়েশন্স।


ওয়েস্টার্ন-ফিউশন ঈদ আয়োজন

ছবি: ‘ট্রেন্ডজ’
আপডেটেড ২২ মার্চ, ২০২৪ ১৫:৩৯
রোজ হক

দরজায় কড়া নাড়ছে আসন্ন ঈদুল উল ফিতর। এরই মধ্যে ওয়েস্টার্ন-ফিউশন ঘরানার দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো তাদের ঈদ আয়োজন সম্পন্ন করেছে। আজকে রইল তেমনই তিনটি ব্র্যান্ডের ঈদ আয়োজনের খোঁজখবর।

ঈদে ফ্যাশনে ট্রেন্ডজ

সময় উপযোগী সব ফ্যাশনেবল কালেকশন নিয়ে কাজ করে থাকে দেশের অন্যতম ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘ট্রেন্ডজ’। তারুণ্যের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে এবারের রমজানের ঈদেও ‘ট্রেন্ডজ’ চলতি আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে ডিজাইনগুলো করেছে তাদের এবারের ঈদ কালেকশনে। নারী ও পুরুষের জন্য তৈরি করা এসব পোশাকের রং আর ডিজাইনের ক্ষেত্রে বেছে নেওয়া হয়েছে চলতি সময়টাকে।

এবারের ঈদে ফ্যাশন সচেতন ছেলেদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি, ফরমাল শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্ট, টি-শার্ট, পলো শার্ট, টুইল ও ডেনিম প্যান্ট। আর অন্যদিকে নারীদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় ফিউশন লেডিস টপস, ফতুয়া, লেডিস শার্ট, টি-শার্ট এবং ফরমাল ও ডেনিম প্যান্ট। ছেলেদের ফরমাল শার্ট ও প্যান্টগুলো করা হয়েছে করপোরেট অফিস এবং বিভিন্ন পার্টিতে যাওয়ার উপযোগী করে। আর ক্যাজুয়াল পোশাকগুলো করা হয়েছে ফ্যাশন ও স্টাইলের বিষয়টিকে মাথায় রেখেই। একই সঙ্গে টি-শার্টগুলোতে রাখা হয়েছে আধুনিক প্রিন্ট, টুইল এবং ডেনিম প্যান্টগুলোতে রয়েছে আকর্ষণীয় ফিট ও ওয়াশ শেড।

‘ট্রেন্ডজ’-এ এবার ঈদে পাওয়া যাবে ছেলেদের বাহারি রঙের এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের পাঞ্জাবি। সময় উপযোগী এসব পাঞ্জাবির ডিজাইন বর্তমানের ট্রেন্ডটাকে মাথায় রেখেই করা হয়েছে। পাঞ্জাবি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নতমানের হ্যান্ডলুম সিল্ক, কটন সিল্কসহ কটন কাপড়। সব মিলিয়ে অন্যবারের চাইতে এবারের ঈদে ‘ট্রেন্ডজ’-এর পোশাকগুলো অনেকটা আলাদা হয়েছে বলা যায়। ফিট, ডিজাইন, কাপড়ের ধরন- সব ক্ষেত্রেই রয়েছে নতুনত্বের ছোঁয়া।

অন্যদিকে নারীদের পোশাকগুলোর ক্ষেত্রে রঙের দিকটি খুব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়েছে। বর্তমান আবহাওয়ার সঙ্গে মিল রেখেই এসব পোশাকের রং নির্বাচন করা হয়েছে। সাদা, লাল, মেরুন, কালো, গোলাপিসহ বিভিন্ন রঙের পোশাক রয়েছে এবারের আয়োজনে। সব পোশাকে রয়েছে হাতের কারচুপি, মেশিন এমব্রয়ডারির কাজসহ ভিন্নধর্মী কিছু কারুকাজের উপস্থিতি।

‘ট্রেন্ডজ’-এর সব ঈদ কালেকশন পাওয়া যাবে বসুন্ধরা সিটি ও উত্তরা-১-এর শোরুমগুলোয়।

সারা’র বর্ণিল আয়োজন

বরাবরের মতোই প্রতিবছর ঈদকে সামনে রেখে বাহারি ডিজাইনের পোশাকের আয়োজন থাকে দেশের অন্যতম ফ্যাশন লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘সারা’তে। ‘উৎসবের আলিঙ্গন’ থিমে ‘সারা লাইফস্টাইল’-এর এবারের ঈদুল ফিতর কালেকশন পাওয়া যাবে ‘সারা’-এর ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের সব আউটলেট এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।

ছবি: ‘সারা’

‘সারা’র এবারের ঈদ আয়োজনের পোশাকের ডিজাইনে স্ক্রিন প্রিন্ট, সাবলিমেশন প্রিন্ট, কারচুপি, এমব্রয়ডারি, অল ওভার প্রিন্ট থাকছে। পোশাকের মোটিফ ও নকশায় রাখা হয়েছে উৎসবের আমেজ। এ ছাড়া এবস্ট্র্যাক্ট, ফ্লোরাল, ট্র্যাডিশনাল ও জিওমেট্রিক বিভিন্ন মোটিফ রয়েছে এসব পোশাকের ডিজাইনে। আনারকলি, প্রিন্সেস লাইন, ডাবল লেয়ার, এ লাইন, সিমেট্রিক, এসিমেট্রিক বিভিন্ন কাজ থাকছে পোশাকগুলোর প্যাটার্নে। এসব পোশাকে ফ্যাব্রিক হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে জর্জেট, কটন, ভিসকস, ডবি সিল্ক, ক্রেপ জর্জেট, নিট, ডেনিম, জ্যাকার্ড কটন ইত্যাদি।

ঈদুল ফিতরের এবারের আয়োজনে মেয়েদের জন্য ‘সারা লাইফস্টাইল’ এনেছে শাড়ি, থ্রি পিস, ফ্যাশন টপস, আনারকলি থ্রি পিস, কুর্তি, কো অর্ডস, ডেনিম প্যান্ট, শ্রাগ, ওয়ান পিস, টু পিস, স্কার্ফ, সারারা, কাফতান, টি-শার্ট। ‘সারা’র এবারের আয়োজনে ছেলেদের জন্য থাকছে এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবি, ক্যাজুয়াল শার্ট, ফরমাল শার্ট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, ডেনিম প্যান্ট, চিনো প্যান্ট, কার্গো প্যান্ট, কোটি, পায়জামা ইত্যাদি।

‘সারা’র ঈদ আয়োজনে গুণগত মান ও ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আকার, ডিজাইন ও প্যাটার্নের ভিন্নতার দিক বিবেচনা করে এসব পোশাকের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্রেতারা এসব পোশাক পেয়ে যাবেন ২৫০ টাকা থেকে ৯,৯৯০ টাকার মধ্যে। পাশাপাশি এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবি ও শাড়ি থাকছে এবারের ‘সারা’র ঈদের কালেকশনের অন্যতম আকর্ষণ।

মেয়ে শিশুদের জন্য থাকছে টি-শার্ট, পার্টি ফ্রক, কটন ফ্রক, থ্রি পিস, ফ্যাশন টপস, টু পিস, লেহেঙ্গা। এ ছাড়া ছেলে শিশুদের জন্য থাকছে সিঙ্গেল শার্ট, ফ্যাশনেবল শার্ট-প্যান্ট সেট, পাঞ্জাবি, পায়জামা, ডেনিম প্যান্ট, নিট প্যান্ট, টি-শার্ট, ইনফ্যান্ট সেট, নিউ বর্ন সেট, ইনফ্যান্ট পাঞ্জাবি সেট, পলো শার্ট ইত্যাদি।

এ ছাড়া ‘সারা’র এবার ঈদের বিশেষ আয়োজনের মধ্যে থাকছে ফুল ফ্যামিলি একই ডিজাইনের পোশাকের সংগ্রহ (বাবা-ছেলে-মা-মেয়ে)। তা ছাড়া কাপলদের জন্য থাকছে একই ডিজাইনের বিভিন্ন পোশাকের আয়োজন।

তাভাস এন্ড ডিমান্ড

‘তাভাস এন্ড ডিমান্ড’ লাইফস্টাইলও এবার ঈদের সংগ্রহে নিয়ে এসেছে সব বয়সীদের জন্য আকর্ষণীয় ডিজাইনের বিভিন্ন পোশাকের আয়োজন।

এই ফ্যাশন হাউস দুটির ঈদ কালেকশনের এবারের থিম সমুদ্র এবং রোদ্রোজ্জ্বল আবহ থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া। স্ক্রিন প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট, কারচুপি, এমব্রয়ডারির কাজ, জিওমেট্রিক, ট্র্যাডিশনাল, ফ্লোরাল এমন অনেক কিছুই থাকছে পোশাকের মোটিফ হিসেবে। এ লাইন, সিমেট্রিক, এসিমেট্রিক নিয়ে বিভিন্ন কাজ থাকছে পোশাকগুলোর প্যাটার্নে। এ ছাড়া কালারের ক্ষেত্রে ভাইব্রেন্ট রাখা হয়েছে এবারের ঈদ কালেকশনে।

ছবি: ‘তাভাস এন্ড ডিমান্ড’

মেয়েদের জন্য ‘তাভাস’ এনেছে সিঙ্গেল পিস কামিজ, লন থ্রি পিস, আকর্ষণীয় পার্টি থ্রি পিস, এথনিক কুর্তি, ফ্যাশন টপস, কাফতান ইত্যাদি।

‘তাভাস এন্ড ডিমান্ড’ এবারের আয়োজনে ছেলেদের জন্য থাকছে পাঞ্জাবি, কাবলি সেট, সিঙ্গেল পিস কাবলি, ক্যাজুয়াল শার্ট, ফরমাল শার্ট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, ফতুয়া, কাতুয়া, ডেনিম প্যান্ট, চিনো প্যান্ট, কার্গো প্যান্ট, পায়জামা ইত্যাদি। প্রকৃতি ও ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সুতিসহ আরামদায়ক কাপড়ে তৈরি এসব পোশাকের কাটিং ও প্যাটার্নে রয়েছে বৈচিত্র্য। এসব পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে কটন, ভিসকস, শার্টিন, নেট, ডেনিম ও টুইল ফ্যাব্রিক্স, জ্যাকার্ড কটন, ডবি কটন, জর্জেট, সিল্ক ইত্যাদি। এ ছাড়া এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবি রয়েছে ঈদ কালেকশনের মূল আকর্ষণ হিসেবে।

শুধু বড়দের জন্য নয় ‘তাভাস এন্ড ডিমান্ড’ ঈদ আয়োজনে রয়েছে ছেলে শিশুদের শর্ট স্লিভ, ফুল স্লিভ শার্ট, ফতুয়া, লং প্যান্ট, কোয়ার্টার প্যান্টসহ ভাইব্রেন্ট কালারের পাঞ্জাবি। এর বাইরেও রয়েছে কাতুয়া, লং ও শর্ট স্লিভ শার্ট, পলো টি-শার্ট, ফ্যাশনেবল শার্ট-প্যান্ট সেট, বয়েজ কার্গো ইত্যাদি। থাকছে বাবা-ছেলের পাঞ্জাবি ও কাবলির মিনিমি।

‘তাভাস এন্ড ডিমান্ড’ এবার ঈদের বিশেষ আয়োজনের মধ্যে থাকছে ফুল ফ্যামিলি (বাবা-ছেলে-মা-মেয়ে) একই ডিজাইনের পোশাকের সংগ্রহ।

সারা বাংলাদেশে ‘তাভাস এন্ড ডিমান্ড’-এর আউটলেটে পেয়ে যাবেন সব ঈদ কালেকশন।

বিষয়:

দেশীয় আয়োজনে ঈদ আনন্দ

ছবি: অঞ্জন’স
আপডেটেড ২২ মার্চ, ২০২৪ ০২:২০
মইনুল হক রোজ

ঈদ মানেই আনন্দ। আর এই আনন্দের বেশ বড় একটা অংশ জুড়েই থাকে বাহারি নকশার নতুন পোশাক। আর তাই দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো ঈদকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের পছন্দের কথা বিবেচনায় রেখে আয়োজন করে থাকে নানা ডিজাইনের পোশাক ও আনুষঙ্গিক পণ্যের। সাতকাহনের ঈদ আয়োজনের প্রথম পর্বে রইল দেশীয় অন্যতম তিন শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন হাউসের ঈদ আয়োজনের খোঁজখবর।

অঞ্জন’স

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই উৎসব। আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসবের এই দিনটিকে আরও বেশি উৎসবমুখর ও আনন্দময় করতে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশীয় ফ্যাশন হাউস অঞ্জন’স নিয়ে এসেছে এক্সক্লুসিভ ঈদ কালেকশন-২০২৪। সব বয়সীদের জন্য এই আয়োজন সাজানো হয়েছে ট্রেন্ডি, স্টাইলিশ ও বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের পোশাক দিয়ে।

এবারের ঈদ কালেকশনে মেয়েদের জন্য রয়েছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ওড়না, টপস ও বিভিন্ন ধরনের জুয়েলারি, ছেলেদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি-পাজামা, শার্ট, ফতুয়া, টি-শার্ট ও কটি। শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি-পাজামা, শার্ট, সালোয়ার-কামিজ ও ফ্রক। এবারের ঈদ বসন্তের শেষ এবং গ্রীষ্মের শুরুতে; পোশাক ডিজাইন, রং নির্বাচন ও ফ্যাব্রিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

শাড়ি : রাজশাহী বলাকা সিল্ক, মসলিন, হাফসিল্ক, কটন সিল্ক, লিনেন কটন, টাঙ্গাইল কটন ও ভয়েল কাপড়ের শাড়িগুলোতে ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট ও এম্ব্রয়ডারি করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে এক্সক্লুসিভ শাড়িগুলোতে অলওভার এম্ব্রয়ডারি ও কারচুপি করা হয়েছে।

সালোয়ার-কামিজ, ওড়না: কটন, লিনেন কটন, জ্যাকার্ড কটন, রেয়ন কটন, সফট সিল্ক, ডুপিয়ান-সহ বিভিন্ন কাপড়ে মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ ও শট, লং ও মিডিয়াম লেন্থের টপস করা হয়েছে। কামিজ ও টপসগুলোতে সমসাময়িক ট্রেন্ড ও প্যাটার্ন বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। স্ক্রিন প্রিন্ট, এম্ব্রয়ডারি ও ডিজিটাল প্রিন্টের আনস্টিচ সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যাবে এবারের ঈদ আয়োজনে।

পাঞ্জাবি: সাদা, লাল, মেরুন, কালো, নীল, সবুজ, বাদামিসহ বিভিন্ন রঙের পাঞ্জাবি রয়েছে এবারের ঈদ কালেকশনে। কটন, জ্যাকার্ড কটন, এন্ডি কটন, রেয়ন কটন, ভয়েল-সহ বিভিন্ন কাপড়ের পাঞ্জাবিগুলোয় এমব্রয়ডারি, কারচুপি, ডিজিটাল প্রিন্ট ও স্ক্রিন প্রিন্ট করা হয়েছে। কলিদার কাট, রেগুলার ফিট ও স্লিম ফিট পাঞ্জাবি দিয়ে সাজানো হয়েছে ছেলেদের ঈদ কালেকশন। পাঞ্জাবি ছাড়াও কাতান, জ্যাকার্ড ডিজাইন ও ভারী কটন কাপড়ের কটি ও কটন কাপড়ে ফুল স্লিভ ও হাফ স্লিভ শার্ট ও ফতুয়া রয়েছে ঈদ কালেকশনে।

জুয়েলারি: সিলভার ও বেইজ মেটাল ব্যবহার করে পাথর এবং অন্যান্য বিডসের সমন্বয়ে নিজস্ব ডিজাইনে আধুনিক ও ঐতিহ্যমণ্ডিত নকশায় নেকলেস, চোকার, আংটি, কানের দুল, নাকফুল, চুড়িসহ বিভিন্ন ধরনের গয়না রয়েছে এবারের ঈদ কালেকশনে।

প্রতিবারের মতো এবারের ঈদ কালেকশনেও একই পরিবারের জন্য রয়েছে একই রঙের একই ডিজাইনে গ্রুপ পোশাক। অঞ্জন’সের সব আউটলেট ও অনলাইন স্টোরে ঈদ কালেকশনগুলো পাওয়া যাচ্ছে।

কে ক্র্যাফট

ঈদ আয়োজনের পোশাক নিয়ে হাজির হয়েছে কে ক্র্যাফট। ঈদের সকাল, বিকেল এবং সন্ধ্যায় কাঙ্ক্ষিত পোশাক নির্বাচনে ক্যাজুয়াল কিংবা এক্সক্লুসিভ সবই মিলবে এবার। এবং অবশ্যই হবে আবহাওয়া, পরিবেশ উপযোগী ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।

বিভিন্ন মোটিফের বিচিত্র ব্যবহার তুলে ধরা হয়েছে পোশাকে। ফ্লোরাল, জিওমেট্রিক, মুঘল, কাশ্মীরি, ইউক্রেনিয়ান, বেলারুশ ও ইজিপ্সিয়ানের বিভিন্ন মোটিফ অনুপ্রেরণায় এবারের সিরিজ পোশাক। এ ছাড়া ট্র্যাডিশনাল, ট্রাইবাল, ফোক, জামদানি, ওরিয়েন্টাল, আলাম, মিক্সড-সহ নানা মোটিফ ফুটিয়ে তুলতে হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি, কারচুপি, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট, সিকুইন ওয়ার্ক, ডিজিটাল প্রিন্ট এবং টাই-ডাই মিডিয়ার ব্যবহার হয়েছে।

কাট, প্যাটার্ন ও নকশার সমন্বয়ে করা পোশাকের জন্য ফ্যাব্রিক নির্বাচন করা হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও স্বস্তিতে থাকাকে প্রাধান্য দিয়ে। বৈচিত্র্যময় রং নির্বাচন করে থাকছে- কটন, জ্যাকার্ড কটন, জর্জেট, লিনেন, সিল্ক, হাফ সিল্ক, দুবাই সিল্ক, অরগানজা, ডুপিয়ন সিল্ক, মমো সিল্ক, সুইস কটন, ভিসকজ, নীব কটন, এলেক্স, টু-টোন, সাটিন ফ্যাব্রিক।

ছবি: কে ক্র্যাফট

মেয়েদের জন্য ট্র্যাডিশনাল, ক্ল্যাসিক, এথনিক, রেট্রো, ফিউশন, ইয়ক বেইজড, লং প্যাটার্ন-সহ বিভিন্ন প্যাটার্নের পোশাক সারিতে থাকছে- সালোয়ার-কামিজ, ডাবল লেয়ার্ড সালোয়ার কামিজ, লং-কুর্তি, রেগুলার কুর্তি, টপস্, ডাবল লেয়ার্ড কুর্তি, টিউনিক, কাফতান, প্যান্টসহ টপস-স্কার্ট, টপস-পালাজো সেট ও বিভিন্ন প্যাটার্নের প্যান্ট ।

এ ছাড়া ঈদকে সামনে রেখে কটন, সিল্ক, হাফ সিল্ক, মসলিন, খাদি মসলিন শাড়ির বৈচিত্র্যপূর্ণ ডিজাইনের একটি বড় আয়োজন থাকছে।
ছেলেদের জন্য রয়েছে পছন্দের ব্র্যান্ড কে ক্র্যাফটের রেগুলার ও ফিটেড পাঞ্জাবি। এ ছাড়া রয়েছে কাট বেইজড একরঙা পাঞ্জাবিও। এ ছাড়া পাওয়া যাবে রেগুলার ও স্লিম ফিট ক্যাজুয়াল শার্ট, এথনিক শার্ট, শেরওয়ানি, কটি, ফতুয়া, পলো শার্ট ও টি-শার্ট।

মেয়ে শিশুদের জন্য উৎসব ভিত্তিক পোশাকে থাকছে সালোওয়ার-কামিজ, ফ্রক, কুর্তি, টপস, কাফতান, লেহেঙ্গা সেট, টপস সেট, স্কার্ট, পার্টি ফ্রক, টপস-কটি সেট, পালাজো। ছোট ছেলেদের পোশাক আয়োজনে নানা রঙের পাঞ্জাবি, হাফহাতা কাট-এর শার্ট এবং ফতুয়া। শিশুদের পোশাকে প্যাটার্ন, ফ্যাব্রিক এবং রঙের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্যাটার্নে ভিন্নতা এবং রঙে উৎসবের আমেজ বহন করবে।

এ ছাড়া ছোট মেয়েরা, বোন অথবা মায়ের সঙ্গে মিলিয়ে পরার জন্য সালোওয়ার-কামিজ, কুর্তি এবং বাবা ও ছেলের জন্য পাঞ্জাবি, শার্ট ও ফতুয়া থাকবে বরাবরের মতো। এবারে যুগলদের জন্য থাকবে বিশেষ আয়োজন।

কে ক্র্যাফটের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, কুমিল্লার সব শো-রুম ছাড়াও অনলাইন শপে ঈদ আয়োজনের পোশাক পাওয়া যাবে।

রঙ বাংলাদেশ

বছরের সবচেয়ে বড় উৎসব রমজানের ঈদ। রোজা শুরুর আগে থেকেই আরম্ভ হয়ে গেছে উদযাপনের প্রস্তুতি। ঈদের আনন্দকে আরও বেশি উৎসবমুখর ও রঙিন করে তুলতে দেশের শীর্ষ সারির অন্যতম ফ্যাশন ব্র্যান্ড রঙ বাংলাদেশ প্রস্তুতি নিয়েছে ব্যাপক।

প্রতিবারের মতো এবারও থিমনির্ভর কালেকশন তৈরি করেছে রঙ বাংলাদেশ। এ বছরের মূল থিম ক্লাসিক্যাল ফোর এলিমেন্টস। আগুন, পানি, মাটি ও বাতাস গ্রিক মিথোলজি মতে এই চার উপাদানে গঠিত হয়েছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। মাটি, আগুন, পানি ও বাতাসের নানান রূপ-বৈচিত্র্যের চমৎকার বিন্যাস ঘটানো হয়েছে এই আয়োজনের রঙ ও নকশায়। এ ছাড়া পাখির রং, আলপনা ও জিওমেট্রিক থিমের সামগ্রী তৈরি করা হয়েছে এবারের ঈদে।

এবারের ঈদ কালেকশন তৈরি করা হয়েছে আরামদায়ক কাপড়ে। বিভিন্ন ধরনের কটন, স্লাব কটন, জ্যাকার্ড কটন, লিনেন, হাফসিল্ক, জর্জেট, ভিসকস ও বারফি কাপড় দিয়ে পোশাকগুলো করা হয়েছে। মূল রং হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মেরুন, নীল, ফিরোজা, আকাশী, ব্রাউন, লাল, লাইট অরেঞ্জ, কফি ও ডিপ সবুজ।

ছবি: রঙ বাংলাদেশ

পোশাকের নকশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নানা ভ্যালু অ্যাডেড মিডিয়ার ব্যবহারে। নানান আধুনিক ও ঐতিহ্যগত প্যাটার্নের কাট এন্ড সুইং ছাড়াও রয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি ও কারচুপি কাজের ব্যবহার।

শুধু বড়দের নয়- ঈদে ছোটদের পোশাককে সমান গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বাচ্চাদের আকর্ষণীয় পোশাক। রয়েছে পরিবারের সবার জন্য একই ধরনের ম্যাচিং পোশাক। ফলে বাবা-মা, মা-মেয়ে, বাবা-ছেলে এমনকি পরিবারের সবাই একই ডিজাইন বা থিমের পোশাক পরে উদযাপন করতে পারবে এবারের ঈদ উৎসব। এ ছাড়া আমাদের সাব ব্র্যান্ড হিসেবে থাকছে: তরুণ প্রজন্মের পছন্দকে মাথায় রেখে তৈরি করা ওয়েস্ট রঙের পোশাক, বয়োজ্যেষ্ঠদের আপন ভুবন শ্রদ্ধাঞ্জলি আর শিশুতোষ ফ্যাশনের আনন্দময় জগৎ রঙ জুনিয়রের ঈদ আয়োজন।

রঙ বাংলাদেশ-এর এবারের সংগ্রহে আছে:

মেয়েদের পোশাক: শাড়ি, থ্রি পিস, সিঙ্গেল কামিজ, কুর্তি, টিউনিক, টপস, ওড়না, রেডি ব্লাউজ, ব্লাউজপিস, আনস্টিচড থ্রি পিস, গাউন ইত্যাদি।

ছেলেদের পোশাক: পাঞ্জাবি, পায়জামা, কাতুয়া, কাবলি সেট, শার্ট, টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট, টুপি, উত্তরীয়, ইত্যাদি। ছোটদের পোশাক: থ্রি পিস, সিঙ্গেল কামিজ, ফ্রক, স্কার্ট টপস, পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট। আছে টিনএজারদের উপযোগী টপস। এ ছাড়া আরও রয়েছে জুয়েলারি, মেয়েদের ব্যাগ, পার্স, লেডিস জুতা, মানিব্যাগ, বেড কাভার, পিলো কাভার, টেবিল ম্যাট, ফ্লোর ম্যাট, শো-পিস, জুট আইটেম। উপহার সামগ্রী হিসেবে রয়েছে নানা ডিজাইনের ব্যাগ ও মগ।

রঙ বাংলাদেশ-এর ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সব আউটলেটেই পাওয়া যাবে এই ঈদ আয়োজনের সামগ্রী। এ ছাড়া ঈদ আয়োজনের সব পণ্যই পাবেন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।


পাসপোর্ট ছাড়াই মিলবে সৌদি আরব ভ্রমণের সুযোগ, তবে হজ নয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

এখন থেকে পাসপোর্ট ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব ভ্রমণ করা যাবে। এ উপলক্ষে এরই মধ্যে ডিজিটাল নথি তৈরির ব্যবস্থা করেছে সৌদি সরকার। সম্প্রতি দেশটির সংবাদমাধ্যম অ্যারাবিয়ান বিজনেসের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

অ্যারাবিয়ান বিজনেস জানিয়েছে, রিয়াদের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি সম্মেলন লিপ ইয়ার ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্মেলনে আগত দর্শনার্থীদের সামনে ওই ডিজিটাল নথি ব্যবস্থা প্রদর্শন করেছে সৌদি আরবের পাসপোর্ট বিভাগ। অন্যদিকে উন্নত প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) গুরুত্ব তুলে ধরে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই ডিজিটাল ডকুমেন্ট সার্ভিস সৌদি নাগরিক, দর্শনার্থীসহ সুবিধাভোগীদের দেওয়া ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত সমাধানগুলোর একটি। এর আওতায় থাকা ব্যক্তিরা সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ সেবাগুলো পাবেন।

এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, একটি একক নম্বর দেওয়ার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সৌদি আরবে আগমন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা। এই ব্যবস্থা দর্শনার্থী বা ভ্রমণকারীদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘অ্যাবশার’ ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার দেবে। সেখান থেকে তারা নিজেদের ডিজিটাল পরিচয় বা একক নম্বর পাবেন।

এই ডিজিটাল পরিচয় ব্যক্তির মোবাইল ফোনে থাকবে। এর মাধ্যমে ভ্রমণকারী সৌদি আরবের কোন স্থানে রয়েছেন, তাও জানা যাবে। ফলে কোনো কাগুজে পাসপোর্টের প্রয়োজন হবে না।

তবে এ সুবিধা হজযাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। বরং এ বছর থেকে অনুমতি ছাড়া হজ পালন করলে কঠোর শাস্তির বিধান চালু করেছে সৌদি আরব। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানায়, এ বছর অনুমতি ছাড়া হজ করলে গুনতে হবে ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ লাখ টাকার সমান। এ ছাড়া যিনি বা যারা অনুমতিবিহীন ব্যক্তিদের মক্কায় পরিবহন করে ধরা পড়বেন, তাদেরকেও একই পরিমাণ অর্থ জরিমানা করা হবে।


২০২৮ সালের মধ্যে ঢাকায় রাইডশেয়ারিং সুবিধায় নারী কর্মশক্তি বাড়বে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভালো রাইডশেয়ারিং সুবিধা পাওয়ায় ২০২৮ সালের মধ্যে রাজধানীতে নারী কর্মশক্তির হার ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই সময়ের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ নারী ঢাকার কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পারেন। যাতায়াতের সুব্যবস্থার ফলে ঢাকায় নারী কর্মজীবী বাড়ছে।

সম্প্রতি অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন সম্ভাবনার তথ্য উঠে এসেছে। ‘রাইড-হেইলিং: অ্যা প্ল্যাটফর্ম ফর উইমেনস ইকোনমিক অপারচুনিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছে রাইডশেয়ারিং অ্যাপ উবার।

প্রতিবেদনটিতে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টিতে রাইডশেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যকর ভূমিকার কথা উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, কর্মশক্তিতে আরও বেশি নারীকে যুক্ত করতে রাইডশেয়ারিং সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের নারীদের কর্মশক্তিতে অংশগ্রহণের পরিমাণ কম। ২০২২ সালে বিশ্বে নারীদের কর্মশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ছিল ৪৭ শতাংশ, যা বাংলাদেশে ছিল ৪৩ শতাংশ। প্রতিবেদনটি অনুসারে, নারীর যাতায়াতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দুটি চ্যালেঞ্জ হলো- নিরাপদ যানবাহনের স্বল্পতা এবং কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে বর্তমান ভারসাম্যহীনতা।

এতে আরও বলা হয়, এমন প্রেক্ষাপটে নারীদের কর্মশক্তিতে যোগদান কিংবা আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের জন্য উচ্চ অবস্থানে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে রাইডশেয়ারিং সার্ভিসগুলো।

উবার বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড নাশিদ ফেরদৌস কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সুযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে উবার। দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য কর্মশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো খুবই জরুরি। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াতব্যবস্থার ফলে আরও বেশিসংখ্যক নারীর জন্য কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর মাধ্যমে নারীরা নিরাপদে ও সুবিধাজনকভাবে সরাসরি কমর্স্থল বা নিজের কাছাকাছি গণপরিবহন স্টেশন পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারেন। বর্তমান ও ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক সাফল্যে অবদান রাখায় নারীদের সাহায্য করতে পেরে উবার গর্বিত।’


banner close