সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মধ্যবয়সের খাদ্যাভ্যাস

আপডেটেড
১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৮:৫৩
সিরাজাম মুনিরা
প্রকাশিত
সিরাজাম মুনিরা
প্রকাশিত : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৮:৫৩

সাধারণত মধ্যবয়স বলতে ৩১ থেকে ৫০ বছর বয়সকে বুঝানো হয়। জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো এই মধ্যবয়স। এই পর্যায়ের প্রাথমিক সময়কাল জীবনের অন্য সব সময়ের চেয়ে কিছুটা আলাদা। উদাহরণস্বরূপ, অনেক মহিলা মধ্যবয়সের শুরুর দিকের বছরগুলোতে গর্ভাবস্থা, প্রসব এবং স্তন্যপান করানোর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। জীবনের এই পর্যায়ের শেষ ভাগে মহিলারা প্রি-মেন্সট্রুয়াল সিনড্রোমের মুখোমুখি হন এবং মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে মহিলাদের হাড়ের ঘনত্ব হ্রাসসহ বেশ কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়।

পুরুষদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এই সময়ে পরিবারের দায়িত্ব নিতে গিয়ে বেশ পরিশ্রম করতে হয় দিনভর। পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, হাঁটুতে ব্যথা, শরীরের ক্লান্তিসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। মানবজীবন চক্রের এই পর্যায়ে প্রাপ্ত বয়স্করা বার্ধক্যের প্রথম বাহ্যিক লক্ষণগুলো অনুভব করতে শুরু করেন, বলিরেখা দেখা দিতে শুরু করে তাদের মুখে। এ ছাড়াও হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা শুরু হয় এবং শরীরে চর্বি জমে বিশেষ করে তলপেটে।

এতক্ষণ তো মধ্যবয়স্কদের নানা সমস্যা ও জটিলতার কথা বলা হলো, এগুলো শুনে ভয় পেয়ে গেলেন? ভয় পাওয়ার কারণ নেই। সঠিক ডায়েট ও লাইফস্টাইল মেইনটেইন করলে মধ্যবয়সের এসব বাধা অতিক্রম করে আপনিও থাকতে পারবেন তরুণের মতো শক্তিশালী এবং বার্ধক্য ঠিক এই মুহূর্তেই আপনার দরজায় কড়া নাড়বে না।আজকের লেখায় রইলো পাঁচটি টিপস, যেগুলো মেনে চললে মধ্যবয়সের জটিলতাগুলো খুব সহজেই আপনাকে ঘিরে ধরবে না -

আদর্শ ওজন বজায় রাখা: শরীর সুস্থ থাকার প্রধান উপায় হচ্ছে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। ওজন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে অনেকগুলো শারীরিক সমস্যার উৎপত্তি ঘটবে। ডায়াবেটিস, হার্ট ডিজিজ থেকে শুরু করে ঘটতে পারে স্ট্রোকের মতো ঘটনাও। তাই আপনার অতিরিক্ত ওজন থাকলে এখনই সচেতন হন। খাদ্যতালিকা থেকে ফাস্টফুড, প্রসেসড ফুড, বাইরের খাবারসহ বাদ দিয়ে দিন সব অপ্রয়োজনীয় খাবার। প্রয়োজনে সহায়তা নিন একজন দক্ষ পুষ্টিবিদের!

সঠিক পুষ্টিকর খাবার: মধ্যবয়সী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অন্য সব বয়স থেকে খাদ্যাভ্যাস কিছুটা সতর্কের সঙ্গে বাছাই করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তারা গুরুত্ব দেবে যেসব খাবারের ওপর তা হলো-
হোল গ্রেইন/কার্বোহাইড্রেট: সাদা চাল, আটার পরিবর্তে লাল চাল ও লাল আটা রাখবে খাদ্যতালিকায়। প্যাকেটজাত খাবারের পরিবর্তে খেতে হবে বাসায় বানানো খাবার। সাদা চিনি যতটা সম্ভব পরিহার করতে হবে। প্রয়োজনে মধু খাওয়া যেতে পারে।

প্রোটিন ও ফ্যাট: প্রোটিনের জন্য মুরগি, মাছ ও ডিম উৎকৃষ্ট উৎস। অনেক সময় মায়েরা নিজেরা না খেয়ে সন্তানের জন্য রেখে দেন, যা মোটেও ঠিক নয়। মায়ের পুষ্টি নিশ্চিত করতে তাকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় প্রোটিন খেতে হবে। এ ছাড়া ফ্যাটের জন্য স্বাস্থ্যকর তেল, বীজ ও বাদামজাতীয় খাবার রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়।

ভিটামিন ও মিনারেলস: প্রয়োজনীয় মিনারেলসের চাহিদাপূরণ করতে খাদ্যতালিকায় অবশ্যই কয়েক কালারের মৌসুমি ফল ও সবজি রাখতে হবে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এ সময় ত্বকে দেখা দেয়া বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করবে এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।
এ ছাড়া হাড়ের ক্ষয় রোধে ভিটামিন-ডি, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের ওপর জোর দিতে হবে। ভিটামিন-ডি-এর জন্য প্রতিদিন রোদে থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ম্যাগনেশিয়ামের জন্য পালংশাক, লাল চাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়। ক্যালসিয়ামের জন্য দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য খেতে হবে।

• খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফাইবার জাতীয় খাবার রাখতে হবে। সে জন্য শাকসবজি খেতে হবে পরিমাণমতো।
• রক্তের ধমনীতে চর্বি জমা রোধ করতে খেতে হবে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার। ওমেগা-৩-এর মধ্যে সামুদ্রিক মাছ, মাছের তেল ও স্পিরুলিনা উল্লেখযোগ্য। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ওমেগা-৩ থাকলে ঠেকানো যাবে হার্ট-অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো ডিজিজ।
• কফি-দুধ চা, অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
• প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট এক্সারসাইজ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। এ ছাড়াও প্রয়োজনে একজন পুষ্টিবিদের শরণাপন্ন হতে হবে।

তাই আপনি যদি ইতিমধ্যে মধ্যবয়সে পা দিয়ে থাকেন, তাহলে উল্লেখিত উপদেশগুলো মেনে চলার চেষ্টা করবেন। আশা করা যায়, এতে করে আপনার আগত বার্ধক্য এবং শারীরিক অসুস্থতা কিছুটা হলেও দেরি করে আসবে।

লেখক: পুষ্টিবিদ, ডায়েট কনসালটেন্ট ও স্থূলতা ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ
ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


আজ ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’

নিজের স্ত্রীর প্রশংসা করুন
ওয়াইফ অ্যাপপ্রিসিয়েশন ডে।
আপডেটেড ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:১৭

সংসার মানেই শুধু একই ছাদের নিচে বসবাস নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট-বড় মুহূর্তে একে অন্যের হাত ধরে এগিয়ে চলা। কখনো সুখের দিনে হাসির সঙ্গী হয়ে, কখনো কঠিন সময়ে নীরব আশ্রয় হয়ে একজন স্ত্রী হয়ে ওঠেন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সেই মানুষটির প্রতি কৃতজ্ঞতা কিংবা ভালোবাসা প্রকাশের আবেদন ফুরায় না। বরং ব্যস্ত জীবনে জমে থাকা না-বলা কথাগুলো কখনো কখনো নতুন করে বলারও প্রয়োজন হয়। সেই সুযোগ করে দিতেই আজ পালিত হচ্ছে ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’।

প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় রোববার যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হয় ‘ওয়াইফ অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে’। ২০০৬ সাল থেকে দেশটিতে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও পরিচিতি পেয়েছে। ‘ডেজ অব দ্য ইয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো স্ত্রীদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং পরিবার ও দাম্পত্য জীবনে তাঁদের অবদানকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া।

সংসার সামলানো থেকে শুরু করে কঠিন সময়ে সঙ্গীর পাশে দাঁড়ানো, পরিবারের নানা দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া কিংবা প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্নের মাধ্যমে একজন স্ত্রী দাম্পত্য জীবনকে অনেকটাই সহজ করে তোলেন। ব্যস্ত জীবনে এসব অবদান অনেক সময় চোখে পড়ে না, কিংবা কৃতজ্ঞতার কথাটুকুও বলা হয়ে ওঠে না। তাই এই দিনটি হতে পারে সেই না-বলা কথাগুলো প্রকাশ করার একটি সুন্দর উপলক্ষ।

দিনটিকে বিশেষ করে তুলতে আয়োজনও হতে পারে একেবারে নিজের মতো করে। প্রিয় ফুলের তোড়া, পছন্দের কোনো উপহার কিংবা ছোট্ট একটি গয়না দিয়ে চমকে দেওয়া যেতে পারে স্ত্রীকে। চাইলে দু’জন মিলে প্রিয় কোনো রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া, একসঙ্গে সিনেমা দেখা কিংবা শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে কোথাও ঘুরে আসার পরিকল্পনাও করা যায়। তবে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য সবসময় দামি উপহারের প্রয়োজন হয় না।

অনেক সময় একটি ছোট্ট চিঠি কিংবা কয়েকটি আন্তরিক কথাই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে মূল্যবান উপহার। সেখানে বলা যেতে পারে, কেন তিনি জীবনে এতটা গুরুত্বপূর্ণ, তাঁর কোন অভ্যাসগুলো ভালো লাগে কিংবা দীর্ঘ পথচলায় তাঁর পাশে থাকার জন্য কতটা কৃতজ্ঞতা রয়েছে। কারণ সংসারের ব্যস্ততায় অনেক অনুভূতিই হয়তো মনের মধ্যে থেকে যায়, মুখে বলা হয় না।

আজ তাই হতে পারে সেই না-বলা কথাগুলো বলার দিন। একটি ‘ধন্যবাদ’, একটি ‘ভালোবাসি’ কিংবা ‘তুমি পাশে আছ বলেই জীবনটা সুন্দর’—এমন ছোট্ট একটি বাক্যও প্রিয় মানুষটির মুখে এনে দিতে পারে বড় এক হাসি। শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার মূল্য কোনো উপহারের দামে নয়, বরং আন্তরিকতা ও যত্নে। আর সেই যত্নের কথাই আজ একটু আলাদা করে মনে করিয়ে দেয় ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’।


পরীক্ষার ‘ফেল’ যখন সাফল্যের সিঁড়ি, বিশ্ব বদলে দেওয়া ৯ ‘ফেল্টুস’ মানুষের গল্প

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

আমাদের সমাজে পরীক্ষার খাতায় গৎবাঁধা প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারাকে অনেক সময় ব্যর্থতার সমার্থক মনে করা হয়। জিপিএ-৫ বা ভালো ফলের চাপে পিষ্ট হয়ে অনেক শিক্ষার্থীই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। কিন্তু ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ‘ফেল’ মারা কিংবা ঝরে পড়া অনেক মানুষই পরবর্তী জীবনে বদলে দিয়েছেন মানবসভ্যতা। সনদ নয়, বরং দৃষ্টিভঙ্গি আর অদম্য জেদই যে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি—তা প্রমাণ করেছেন এই আলোকিত মানুষগুলো।

১. রিচার্ড ব্র্যানসন: স্কুল পালানো সেই ধনকুবের
মাত্র ১৬ বছর বয়সেই স্কুলের পাঠ চুকিয়ে দেন বিশ্বখ্যাত উদ্যোক্তা ও ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্র্যানসন। শিক্ষাজীবনে শিক্ষকরা তার ওপর এতটাই ত্যক্ত-বিরক্ত ছিলেন যে, তার হেডমাস্টার রবার্ট ড্রেসন বলেছিলেন— “ব্র্যানসন হয় একদিন জেলে যাবে, না হয় কোটিপতি হবে।” শিক্ষকদের সেই ধারণা ভুল হয়নি। মাত্র ১৬ বছরেই ‘স্টুডেন্ট’ ম্যাগাজিন দিয়ে যাত্রা শুরু করে আজ তিনি ৪০০টি কোম্পানির নিয়ন্ত্রক এবং ৫.১ বিলিয়ন ডলারের মালিক।

২. জ্যাক মা: ব্যর্থতার পাহাড় ডিঙানো কিংবদন্তি
চীনের শীর্ষ ধনী জ্যাক মা’র জীবন যেন ব্যর্থতার এক মহাকাব্য। প্রাথমিক পরীক্ষায় দু’বার এবং মাধ্যমিকে তিনবার ফেল করেছিলেন তিনি। এমনকি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ বার আবেদন করে প্রতিবারই প্রত্যাখ্যাত হন। চাকরির ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ; কেএফসিতে ২৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে ২৩ জনের চাকরি হলেও বাদ পড়েছিলেন একমাত্র তিনি। কিন্তু দমে যাননি। আজ তার গড়া ‘আলিবাবা’ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান।

৩. জেকে রাউলিং: অক্সফোর্ড যাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল
হ্যারি পটার সিরিজের স্রষ্টা জেকে রাউলিং আজ বিশ্বের সবচেয়ে দামী লেখকদের একজন। অথচ তার শিক্ষাজীবন ছিল বাধাগ্রস্ত। এ-লেভেলে বাজে ফলের কারণে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগই পাননি। পরে ইউনিভার্সিটি অফ এক্সটার থেকে শিক্ষা শেষ করে লেখালেখিতে মন দেন। আজ তার বই পড়েনি এমন তরুণ খুঁজে পাওয়া কঠিন।

৪. স্টিভ জবস: কলেজ ড্রপআউট থেকে প্রযুক্তির জাদুকর
অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস কলেজের গণ্ডি পার করতে পারেননি। পড়াশোনায় আগ্রহ কম থাকলেও তার ছিল উদ্ভাবনী চিন্তা। মাত্র ২০ বছর বয়সে গ্যারেজে বসে অ্যাপল শুরু করেন। মাঝপথে নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কৃত হয়েও ফিরে আসেন বীরদর্পে। আইফোন বা ম্যাকবুকের মতো বৈপ্লবিক প্রযুক্তি আজ তারই দূরদর্শী চিন্তার ফসল।

৫. বিল গেটস: মাইক্রোসফটের নেপথ্যে হার্ভার্ডের সেই ছাত্র
বিশ্বের দীর্ঘ সময়ের শীর্ষ ধনী বিল গেটস হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেন। তার লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তি দিয়ে বিশ্ব জয় করা। ডিগ্রি না থাকলেও তার তৈরি ‘মাইক্রোসফট’ আজ পৃথিবীর প্রতিটি কম্পিউটারের অপরিহার্য অংশ। তিনি প্রমাণ করেছেন, উদ্ভাবনী শক্তির কাছে কাগজের সনদ নগণ্য।

৬. সায়মন কোয়েল: সংগীত দুনিয়ার দাপুটে বিচারক
সংগীতের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘আমেরিকান আইডল’ বা ‘এক্স ফ্যাক্টর’-এর জনপ্রিয় বিচারক সায়মন কোয়েল ও-লেভেল পরীক্ষায় কোনোমতে পাস করে পড়াশোনা ছেড়ে দেন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াই তিনি আজ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার প্রতিষ্ঠান বিএমজে রেকর্ডস থেকে বিক্রি হয়েছে ১৫০ কোটিরও বেশি রেকর্ড।

৭. বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ: বখে যাওয়া ছাত্র থেকে অস্কার মনোনয়ন
শার্লক হোমস খ্যাত অভিনেতা বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ ছাত্রজীবনের এক পর্যায়ে ড্রাগ এবং খারাপ সঙ্গের পাল্লায় পড়ে ও-লেভেলে খুব খারাপ রেজাল্ট করেন। পরে তিনি উপলব্ধি করেন এবং ঘুরে দাঁড়ান। আজ তিনি গোল্ডেন গ্লোব ও অস্কার মনোনীত বিশ্বখ্যাত অভিনেতা।

৮. ধীরুভাই আম্বানি: গড়পড়তা ছাত্র থেকে শিল্পপতি
ভারতের রিলায়েন্স সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ধীরুভাই আম্বানি স্কুলজীবনে ছিলেন একেবারেই সাধারণ মানের ছাত্র। বেশি দূর পড়াশোনা করতে পারেননি। কিন্তু তার ব্যবসায়িক বুদ্ধি এবং ঝুঁকি নেওয়ার সাহস তাকে এশিয়ার অন্যতম সেরা ধনীতে পরিণত করেছে।

৯. উইনস্টন চার্চিল: ফেল করা ছাত্র যখন যুদ্ধজয়ী বীর
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল স্কুলে বার বার ফেল করতেন। শিক্ষকরা ভেবেছিলেন তিনি জীবনে কিছুই করতে পারবেন না। কিন্তু সেই ‘ফেল্টুস’ ছাত্রই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনকে নেতৃত্ব দিয়ে রক্ষা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারও অর্জন করেন।


ব্যর্থতা মানেই জীবনের শেষ নয়, বরং এটি একটি নতুন শুরুর সুযোগ। ওপরের এই সফল মানুষগুলো আমাদের শিখিয়ে গেছেন— পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিই একজন মানুষকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। তাই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই হেরে যাওয়া নয়, বরং সাফল্যের বীজ বপন করার এটিই শ্রেষ্ঠ সময়।


পবিত্র আশুরা আজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ জুন, ২০২৬ ১১:৪৩
অনলাইন ডেস্ক

আজ ১০ মহররম। মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ দিন। হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ পবিত্র আশুরা হিসেবেও পরিচিত।

মহান আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা পাওয়ার আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা, নামাজ, দান-খয়রাত ও জিকির-আসকারের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন।

আরবি ‘আশারা’ শব্দের অর্থ দশ। আর আশুরা মানে দশম। আর মহররম অর্থ সম্মানিত। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তার পরিবারের সদস্যরা কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে নির্মমভাবে শহীদ হন।

শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হযরত ইমাম হুসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা জোগায়। সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা জোগায়।

শিয়া সম্প্রদায় এদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এর মধ্যে তাজিয়া মিছিল উল্লেখযোগ্য।

ইসলামের ইতিহাসে এ দিনের গুরুত্ব অনেক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘(রমজানে পর) শ্রেষ্ঠ মাস হচ্ছে আল্লাহর মাস, যাকে তোমরা মহররম বলে থাক।’ (সুনানে কুবরা, নাসায়ি, হাদিস: ৪২১৬)

আশুরার ঐতিহাসিক পটভূমি: আশুরার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানবজাতির ইতিহাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—একটি মুক্তি ও বিজয়ের, অন্যটি ত্যাগ ও শাহাদাতের।

ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, এই দিনে মহান আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা (আ.) ও তার অনুসারীদের ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দেন। ফেরাউনের সৈন্যবাহিনী যখন তাদের ধাওয়া করছিল, তখন আল্লাহর নির্দেশে সাগরের বুকে পথ সৃষ্টি হয়। মুসা (আ.) ও তার অনুসারীরা নিরাপদে পার হয়ে যান, আর ফেরাউন ও তার বাহিনী সাগরে নিমজ্জিত হয়। এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় হিসেবে হযরত মুসা (আ.) আশুরার দিনে রোজা রাখতেন।

অন্যদিকে, ইসলামের ইতিহাসে আশুরার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনা। হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম ইরাকের কারবালা প্রান্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (রা.) অন্যায় ও জুলুমের কাছে মাথা নত না করে শাহাদাত বরণ করেন। তার পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে সত্য, ন্যায় ও আদর্শের জন্য সংগ্রামের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

আশুরার রোজার গুরুত্ব: রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর দেখেন, ইহুদিরা হযরত মুসা (আ.)-এর মুক্তির স্মরণে এই দিনে রোজা রাখে। তখন তিনি বলেন, ‘মুসা (আ.)-এর ব্যাপারে আমাদের অধিকার তোমাদের চেয়ে বেশি।’ এরপর তিনি নিজে আশুরার রোজা পালন করেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার উৎসাহ দেন।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আশুরার রোজার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার বিগত এক বছরের ছোট গুনাহ ক্ষমা করে দেন (সহিহ মুসলিম)।

রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা বিশেষ গুরুত্ব বহন করত। বর্তমানে এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সুন্নাহ আমল হিসেবে পালিত হয়।

রোজা রাখার সুন্নাহ পদ্ধতি: রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজাকে অন্য ধর্মাবলম্বীদের রীতি থেকে পৃথক রাখার জন্য ১০ মহররমের সঙ্গে আরও একটি দিন যুক্ত করে রোজা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন।

সুন্নাহ অনুযায়ী ৯ ও ১০ মহররম রোজা রাখা উত্তম। অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা রাখা যায়। এবার ১০ মহররম শুক্রবার হওয়ায় যারা ৯ মহররম (বৃহস্পতিবার) ও ১০ মহররম (শুক্রবার) রোজা রাখছেন, তারা সুন্নাহর উত্তম পদ্ধতি অনুসরণ করছেন।

যারা গতকাল বৃহস্পতিবার রোজা রাখতে পারেননি, তারা আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার (১০ ও ১১ মহররম) রোজা রাখতে পারেন। এতে সুন্নাহ পূর্ণভাবে আদায় হবে।

ছুটির দিনে ইবাদতের সুবর্ণ সুযোগ: এবার আশুরার দিনটি শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনে পড়েছে। ফলে কর্মব্যস্ততার বাইরে থেকে অধিক সময় ইবাদত-বন্দেগিতে ব্যয় করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

দিনটিকে অর্থবহ করে তুলতে যে আমলগুলো করা যেতে পারে-

জুমার প্রস্তুতি ও ইবাদত: শুক্রবার নিজেই মুসলমানদের জন্য সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। তাই গোসল, পরিচ্ছন্নতা, সুগন্ধি ব্যবহার এবং সময়মতো মসজিদে গিয়ে জুমার খুতবা মনোযোগসহকারে শোনা গুরুত্বপূর্ণ আমল।

কোরআন তিলাওয়াত ও নফল ইবাদত: দিনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কোরআন তিলাওয়াত, তওবা-ইস্তিগফার, জিকির-আজকার ও নফল নামাজের মাধ্যমে অতিবাহিত করা যেতে পারে।

দোয়া ও মোনাজাত: রোজাদারের দোয়া বিশেষভাবে কবুল হয়। তাই ইফতারের পূর্ব মুহূর্তগুলোতে নিজের, পরিবারের, দেশ ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা যেতে পারে।

কারবালার শিক্ষা ও আশুরার প্রকৃত বার্তা: আমাদের দেশে আশুরাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন দেখা যায়। বিশেষ করে কারবালার শোক স্মরণে তাজিয়া মিছিলের আয়োজন দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্য।

তবে ইসলামের মূল শিক্ষা হলো ধৈর্য, সংযম এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য। তাই শোক প্রকাশের নামে বাড়াবাড়ি, আত্মনিগ্রহ বা শরীরের ক্ষতি করার মতো কোনো কাজ ইসলামের মূল শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

হযরত ইমাম হুসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগের প্রকৃত শিক্ষা হলো সত্যের পক্ষে অবিচল থাকা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং ন্যায়বিচারের জন্য প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা।

পবিত্র আশুরা কেবল একটি ঐতিহাসিক দিন নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, কৃতজ্ঞতা, তওবা এবং নৈতিকতার শিক্ষা গ্রহণের এক অনন্য সুযোগ। এই দিনের রোজা, ইবাদত ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে একজন মুসলমান তার জীবনকে আরও আলোকিত করতে পারে।


ঈর্ষার ভয়ঙ্কর ক্ষতি ও হতাশার জীবনকে শান্তিপূর্ণ করার ইসলামিক নির্দেশনা

আপডেটেড ৩ মে, ২০২৬ ১৬:৪৯
কামরুজ্জামান

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যখন মানুষ নিজেদেরকে নিখুঁত দেখানোর প্রচেষ্টার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। উজ্জ্বল রঙিন স্ক্রিনে আমাদের সামনে এসে হাজির হয় অন্যদের জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো। কে বিদেশে ছুটি কাটাচ্ছে, কার বাড়ি কত পরিপাটি, কে ক্যারিয়ারে কত সফল সবই দেখা যাচ্ছে এমনভাবে যেন সবার এক ত্রুটিহীন জীবন। এই অতি-সংযুক্ত ডিজিটাল দুনিয়ায় একটি নীরব ঘাতক ব্যাধি প্রায়ই আমাদের অন্তরে বিনা দাওয়াতে প্রবেশ করে: আর তা হলো ঈর্ষা বা পরশ্রীকাতরতা। ইসলামিক ধর্মতত্ত্বে, এই ধ্বংসাত্মক আবেগকে বলা হয় ‘হাসাদ’। এটি এমন এক নীরব বিষাক্ত ব্যাধি যা কেবল পরিবার বা সমাজকেই টুকরো টুকরো করে না, বরং ব্যক্তির মানসিক ও শারীরিক সুস্থতাকেও মারাত্মকভাবে ধ্বংস করে। কারণ, হাসাদ বা ঈর্ষা ব্যক্তির মানসিক চাপ বৃদ্ধি করে। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুসারে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ মানব শরীরকে কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনে ক্রমাগত প্লাবিত করে রাখে, যা সময়ের সাথে সাথে রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, রক্তচাপ বাড়ায়, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। তাই আজ আমরা এক বিরাট নতুন সমস্যার সম্মুখীন। কিন্তু এর সুন্দর ও সেরা সমাধান রয়েছে আমাদের পবিত্র ইসলাম ধর্মে।

ঈর্ষা কী? অন্যের সাফল্যে অনুভূতি প্রকাশের দুটি উপায়
ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে ঈর্ষাকে বুঝতে হলে, প্রথমেই আমাদের অন্তরের দুটি ভিন্ন অবস্থার মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। সত্যি বলতে, মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিই হলো অন্যের কাছে কী আছে তা লক্ষ্য করা। কোনো বন্ধু বা প্রতিবেশীর সাফল্যে মনে কিছুটা আকাঙ্ক্ষা অনুভব করাটা পুরোপুরি মানবিক। ইসলাম এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে এবং ক্ষতিকর ঈর্ষা (হাসাদ) ও বৈধ প্রশংসার (গিবতাহ) মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে। হাসাদ তখন হয়, যখন অন্য কারো ওপর বর্ষিত কোনো নিয়ামত দেখে মনে মনে সেই নিয়ামতটি তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার এক অন্ধকার ও তিক্ত আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা হয়। এর মূলে রয়েছে ক্ষোভ। যখন কেউ শুধু নিজের জয়ই চায় না বরং চায় অন্যজন যেন হেরে যায়।

অন্যদিকে, ‘গিবতাহ’ হলো একটি সুস্থ অনুপ্রেরণা। এটি হলো অন্য কারো সাফল্য, সম্পদ বা ধর্মানুরাগ দেখে নিজের জন্যও একই নিয়ামত কামনা করা, তবে অন্যজনকে তা থেকে বঞ্চিত করার ইচ্ছা ছাড়াই। গিবতাহ আমাদের আত্ম-উন্নয়ন এবং কঠোর পরিশ্রমের দিকে অনুপ্রেরণার সাথে ধাবিত করে, অন্যদিকে হাসাদ আমাদের তিক্ততা ও পরশ্রীকাতরতার অন্ধকারময় অনুভূতির অতল গহ্বরে টেনে নামায়।

ঈর্ষা বা অন্তরের আগুন কীভাবে দৈনন্দিন জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে
যখন আমাদের মধ্যে হাসাদ শিকড় গাড়ে, তখন এটি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে আমূল পরিবর্তন করে ফেলে। এটি আমাদের অতি-সমালোচক এবং সন্দেহপ্রবণ করে তোলে, যার ফলে আমরা চারপাশের মানুষের আনন্দে শরিক হতে পারি না। এর ক্ষতিকর প্রভাব এত ভয়ঙ্কর যে, এটি ভাইবোনের সম্পর্ক ভেঙে দেয়, আজীবনের বন্ধুত্ব নষ্ট করে এবং কর্মক্ষেত্রকে বিষাক্ত রণক্ষেত্রে পরিণত করে। আরও দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, ঈর্ষা ধীরে ধীরে মানুষের আধ্যাত্মিক সুস্থতাকে ধ্বংস করে দেয়। এটি আমাদের নিজেদের জীবনের বিপুল নিয়ামতগুলো থেকে আমাদের অন্ধ করে রাখে এবং চিরস্থায়ী অতৃপ্তির এক চক্রে আটকে ফেলে।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এই আবেগের ধ্বংসাত্মক প্রকৃতিকে এক গভীর ও সতর্কতামূলক উপমার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, "তোমরা ঈর্ষা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা আগুন যেমন কাঠকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়, ঈর্ষাও তেমনি মানুষের নেক আমলগুলোকে ধ্বংস করে দেয়" (সুনান আবু দাউদ)।

ঠিক যেমন একটি স্ফুলিঙ্গ নীরবে একটি পুরো বন পুড়িয়ে দিতে পারে, তেমনি অবদমিত ঈর্ষা কেবল নিয়ত ও অন্তরের পবিত্রতাকে কলুষিত করার মাধ্যমে সারাজীবনের দানশীলতা, দয়া ও ইবাদতকে ভস্মীভূত করে দিতে পারে।

ঈর্ষা যেভাবে মানুষকে অসুস্থ করে দেয়
আধুনিক বিজ্ঞান ক্রমশ এমন কিছু বিষয় প্রমাণ করছে যা ইসলামিক পণ্ডিতরা বহু শতাব্দী ধরে শিখিয়ে আসছেন: মন, শরীর এবং আত্মা নিবিড়ভাবে একে অপরের সাথে সংযুক্ত। একটি অসুস্থ আধ্যাত্মিক অন্তর অনিবার্যভাবেই একটি রোগাক্রান্ত শারীরিক দেহের দিকে পরিচালিত করে। যখন আমরা ঈর্ষা পোষণ করি, তখন আমরা আমাদের শরীরকে দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপের মধ্যে ফেলে দিই। ক্রমাগত তুলনার তিক্ততা মস্তিষ্কের ফাইট অর ফ্লাইট (লড়ো অথবা পালাও) প্রতিক্রিয়াকে উদ্দীপ্ত করে, যা আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিনে ভরিয়ে দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই হরমোনের ঝড় আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

মনোবিজ্ঞানী ও চিকিৎসকেরা বলেন যে, ক্রমাগত ঈর্ষা গুরুতর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন, তীব্র উদ্বেগ বা টেনশন, ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন এবং ঘুমের অভাব, যেগুলো দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তোলে। যখন কেউ অন্যের সাফল্য নিয়ে যন্ত্রণায় থাকে তখন তার শরীর বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলশ্রুতিতে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ মানব দেহে উচ্চ রক্তচাপ, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মাইগ্রেন ও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যার মতো জটিল রোগ-ব্যাধি তৈরি করে। আধুনিক মনোবিজ্ঞানের আবির্ভাবের অনেক আগেই ইসলাম মন ও শরীরের এই সংযোগকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ঈমানদারদের তাদের অন্তরকে বিদ্বেষ থেকে রক্ষা করার নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে, ইসলাম গভীর এক প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার রূপরেখা প্রদান করে।

যেভাবে অন্তরকে ঈর্ষার কলুষতা থেকে শুদ্ধ রাখা যায়
হাসাদ যদি রোগ হয়, তবে আমরা কীভাবে এর নিরাময় করব? ঈর্ষার কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ইসলাম অত্যন্ত ব্যবহারিক এবং আধ্যাত্মিক ভিত্তিসম্পন্ন একটি ব্যবস্থার নির্দেশনা প্রদান করে।

১. কৃতজ্ঞতা (শুকর) আদায় করা: ঈর্ষা অভাববোধের মানসিকতায় বেড়ে ওঠে; আর কৃতজ্ঞতা প্রাচুর্যের মানসিকতায় বিকশিত হয়। আমরা যখন সচেতনভাবে আমাদের প্রাপ্ত নিয়ামতগুলোর দিকে মনোযোগ দিই, তখন আমরা ঈর্ষাকে তার শ্বাসপ্রশ্বাস থেকে বঞ্চিত করি। আমাদের জীবন বিধান পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, “যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নিয়ামত বাড়িয়ে দেব” (কোরআন ১৪:৭)। হাসাদ থেকে মুক্ত থাকার জন্য আমরা আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া প্রতিদিনের অলৌকিক ঘটনা যেগুলো আল্লাহর দেয়া নেয়ামত যেমন-আমাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, প্রিয়জন—প্রতিদিন এগুলো মনে মনে অথবা লিখিত আকারে হিসাব রাখা শুরু করা। এই প্র্যাকটিস আমাদের কৃতজ্ঞতাবোধকে অনেক বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।

২. যার প্রতি ঈর্ষা হয় তার জন্য দোয়া করা: ইসলামি আদর্শের হয়তো সবচেয়ে কঠিন, কিন্তু সবচেয়ে কার্যকর মনস্তাত্ত্বিক কৌশল এটি। যখন কারো প্রতি ঈর্ষা অনুভব হয়, তখন সঙ্গে সঙ্গে তার কল্যাণের জন্য দোয়া শুরু করা। প্রার্থনা করা যেন আল্লাহ তার সম্পদ বৃদ্ধি করেন, তার পরিবারকে রক্ষা করেন এবং তার সাফল্যে বরকত দেন। এটি শুনতে বিপরীতমুখী মনে হতে পারে, কিন্তু যাকে ঈর্ষা হয় তার জন্য নিজের মুখে কল্যাণ কামনা করাটা নিজের অহংকারকে ভেঙে দেয়। এটি মস্তিষ্কে তথা চিন্তা-ভাবনাকে নতুন করে সাজায় এবং শত্রুতাকে মমতায় রূপান্তরিত করে।

৩. রিজিকের বণ্টনকারীকে চেনা: ইসলামি ধর্মতত্ত্বে ‘রিজিক’ বলতে সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে একজন মানুষের জন্য নির্ধারিত মোট প্রাপ্তিকে বোঝায়—যেমন সম্পদ, স্বাস্থ্য, বুদ্ধিমত্তা এবং সুযোগ-সুবিধা। যখন আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করি যে আল্লাহ পরম ন্যায়বিচারক এবং চূড়ান্ত রিজিকদাতা, তখন আমরা বুঝতে পারি যে অন্য কারো সাফল্য আমাদের প্রাপ্তিকে কমিয়ে দেয় না। কাউকে ঈর্ষা করা মানে হলো, সূক্ষ্ম আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গিকে থেকে, ঐশী প্রজ্ঞাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। যখন আমরা বিশ্বাস করি যে আমার জীবনের একটি বিশেষ উদ্দেশ্য আছে এবং আল্লাহ তা শুধু আমার জন্যই পরিকল্পনা করেছেন, তখন আমরা গভীর প্রশান্তি অনুভব করি। দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দূর হতে শুরু করে।

নিজস্ব প্রাপ্তিতে শান্তি খুঁজে নেওয়ার উপায়
মূলত, ঈর্ষার বিরুদ্ধে লড়াই হলো আমি যেমন, ঠিক তেমন হিসেবে নিজেকে গভীরভাবে মেনে নেওয়ার দিকে একটি যাত্রা। এটি হলো অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করার ক্লান্তিকর ইঁদুর দৌড় থেকে বেরিয়ে আসা এবং অন্যের জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোর সঙ্গে নিজের জীবনে থাকা সংগ্রামের ও কষ্টের তুলনা করা বন্ধ করার এক সুমহান অনুশীলন। এই তুলনা বন্ধ করতে শেখাই হাসাদের বিরুদ্ধে সাফল্য ও শান্তির পথ।

হাসাদ-এর স্ফুলিঙ্গগুলোকে চিহ্নিত করে কৃতজ্ঞতা, প্রার্থনা এবং মহান প্রভুর ওপর ভরসা রেখে সেগুলোকে নিভিয়ে ফেলার মাধ্যমে, আমরা কেবল আমাদের নেক আমলগুলোকেই রক্ষা করি না; বরং, আমরা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত করি, শারীরিক প্রাণশক্তি বজায় রাখি এবং নিজেদের জীবনের প্রকৃত আনন্দকে পুনরায় ফিরে পাই। আসুন, আমরা আমাদের অন্তরকে পবিত্র করার চেষ্টা করি, চারপাশের মানুষের সাফল্য উদযাপন করি এবং আমাদের যে সুন্দর অংশটুকু আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে তার মধ্যেই এক গভীর ও অটল শান্তি খুঁজে নিই।

সহকারী অধ্যাপক (ইসলামিক স্টাডিজ), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।


ভোরে কিচিরমিচির, সন্ধ্যায় ডানার নাচন তিরাইল এখন পাখিদের স্থায়ী আবাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার তিরাইল গ্রাম। শুধু শীত মৌসুমেই নয়, এখন বছরের প্রায় পুরো সময়জুড়েই হাজার হাজার শামুকখোলসহ নানা প্রজাতির পাখি এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। ভোরের আলো ফুটতেই কিচিরমিচিরে মুখর হয়ে ওঠে গ্রাম, আর সন্ধ্যা নামলেই আকাশজুড়ে ডানার নাচন তিরাইল তখন হয়ে ওঠে এক জীবন্ত পাখির রাজ্য।

গ্রামের কড়ই, শিমুল ও বাঁশবাগানজুড়ে গড়ে উঠেছে শামুকখোল পাখির বিশাল কলোনি। কোথাও মা পাখি ছানাদের মুখে তুলে দিচ্ছে খাবার, কোথাও দল বেঁধে নীড়ে ফিরছে, আবার কেউ খাবারের সন্ধানে উড়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ আকাশে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় একসঙ্গে হাজারো পাখির নীড়ে ফেরার দৃশ্য এলাকাবাসীর কাছে প্রতিদিনের এক অনন্য প্রাকৃতিক নিদর্শনে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের কাছে ‘শামুকখোল’ নামে পরিচিত এই সারসজাতীয় পাখি মূলত খাল-বিলের শামুক, মাছ ও পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করে। ধূসর-সাদা দেহ, কালো প্রান্তযুক্ত ডানা ও বাঁকা ঠোঁটের জন্য সহজেই চোখে পড়ে এ পাখি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পাখিগুলো তিরাইল গ্রামে নিয়মিত প্রজনন করছে এবং এখন এটি তাদের স্থায়ী আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম (৬২) বলেন, আগে শীত এলেই পাখি আসত, এখন আর যায় না। সারা বছরই থেকে যায়। তিরাইল এখন ওদের স্থায়ী ঘর হয়ে গেছে। কৃষক রহিম সরদার (৪৫) বলেন, ভোরে পাখির ডাকেই আমাদের ঘুম ভাঙে, সন্ধ্যায় ডানার শব্দে মন শান্ত হয়। এটা শুধু সৌন্দর্য না— আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। গৃহবধূ রাবেয়া খাতুন (৩৮) বলেন, “পাখির বাচ্চা ফোটে, বড় হয়, উড়তে শেখে— সবকিছু এখানেই হয়। এটা প্রমাণ করে ওরা এখন এখানেই স্থায়ী।

তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে রয়েছে শঙ্কার বার্তা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসচেতন মানুষের শিকার ও নিধনের কারণে পাখির সংখ্যা আগের তুলনায় কমছে। বিশেষ করে রাতে ফাঁদ পাতা ও গুলতি ব্যবহার করে পাখি শিকারের ঘটনাও মাঝে মাঝে ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত নজরদারি না থাকলে একদিন এই পাখির রাজ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, তিরাইল গ্রামে পাখির স্থায়ী আবাস গড়ে ওঠা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এটি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, একটি পরিবেশগত সম্পদও। আমরা পাখি নিধন বন্ধে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করছি এবং যেকোনো ধরনের শিকার বা ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাখি ও প্রকৃতি রক্ষায় এলাকাবাসীর সহযোগিতা অপরিহার্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিবছর শীত মৌসুমে নাটোরে বিপুল সংখ্যক অতিথি পাখির আগমন ঘটে। পাখির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বন বিভাগের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। অতিথি পাখি হত্যা ও নিধন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অতিথি পাখি শুধু নয়, এখন স্থায়ী বসবাসকারী এই পাখিরাই তিরাইলের প্রকৃত পরিচয় হয়ে উঠেছে। তারা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, বরং পরিবেশের সুষম ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই পাখির গ্রামকে রক্ষা করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। সচেতনতা, সামাজিক প্রতিরোধ ও কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগই পারে তিরাইলকে দেশের অন্যতম পাখির গ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে।


৫০০ বছরের গৌরবময় সাক্ষী ঐতিহাসিক সোনামসজিদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাঁচশ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনামসজিদ। মধ্যযুগীয় সুলতানি স্থাপত্যশৈলীর এই নিদর্শনটি শুধু ইতিহাসপ্রেমী নয়, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছেও এক অনন্য আকর্ষণ।
সোনামসজিদটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামে অবস্থিত। রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিশ্বরোড মোড় থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে। যাতায়াতের জন্য বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি বা অটোরিকশা সহজলভ্য।
মসজিদটি নির্মিত হয় বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রি.) শাসনামলে। প্রধান প্রবেশপথের শিলালিপি অনুযায়ী, জনৈক মজলিস-ই-মাজালিস মজলিস মনসুর ওয়ালী মুহাম্মদ বিন আলী এটি নির্মাণ করেন।
১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ১৯০০ সালে ব্রিটিশ সরকার এটি পুনঃনির্মাণ করে। ইটের তৈরি এই মসজিদের ওপর পাথরের স্তর বসানো হয়েছে।
বাইরের পরিমাপ ৮২ ফুট দ্ধ ৫২.৫ ফুট, ভেতরের পরিমাপ ৭০ ফুট ৪ ইঞ্চি দ্ধ ৪০ ফুট ৯ ইঞ্চি এবং উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট। এতে রয়েছে তিনটি মাঝারি গম্বুজ, ছয়টি করে পাশের গোলাকার গম্বুজ এবং তিনটি চৌচালা গম্বুজ—যা স্থাপত্যশৈলীতে অনন্য।
চারদিকে চারটি অষ্টকোণাকৃতির বুরুজ, প্রবেশপথে তোরণ, দেয়ালে খোদাইকৃত পাথরের কারুকার্য ও ইটের সজ্জা ইতিহাসপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর ও শহীদ মেজর নাজমুল হক টুলুর কবর, যা দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
পর্যটকরা এখানে এসে নামাজ আদায়সহ আশপাশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখেন। বগুড়ার কায়েস আলী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই সোনামসজিদের গল্প শুনেছি, আজ নিজ চোখে দেখে খুব ভালো লাগলো।’
রাজশাহীর মাইনুল ইসলাম দিপু বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই এখানে আসার ইচ্ছে ছিল। সবকিছু দেখে আনন্দিত হলাম।’
সোনামসজিদের আশপাশে রয়েছে দারাসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসা, খঞ্জন দিঘির মসজিদ, তহখানা কমপ্লেক্স, তিন গম্বুজ মসজিদ, শাহ নিয়ামতউল্লাহর মাজার ও ধনিয়াচক মসজিদ—যা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কে ভারী যানবাহনের গতিবেগের কারণে মসজিদে কম্পন অনুভূত হয়, যা স্থাপনাটিকে ঝুঁকিতে ফেলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, ‘পুরাতন মসজিদ কোনো ক্ষতি না হয়, সেই আশঙ্কা থাকেই।’
শাহবাজপুর ইউনিয়নের কবির আলী জানান, পর্যটকরা সড়ক, টয়লেট ও বিশ্রামাগারের অভাবে সমস্যায় পড়েন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আসিফ বলেন, ‘সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য ৪৮১ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান। মসজিদের সামনে ঢালাই ও উন্নত প্রযুক্তির কাঁচের দেওয়াল নির্মাণ করা হবে, যাতে কম্পনের কারণে কোনো ক্ষতি না হয়।’
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহার আলী বলেন, ‘সোনামসজিদসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৫০০ বছরের গৌরবময় ইতিহাসের ধারক এই সোনামসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটনের এক উজ্জ্বল প্রতীক। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটি চিরকালই এক অপূর্ব দর্শনীয় স্থান হিসেবে সমাদৃত থাকবে।
সূত্র: বাসস


মরুর বুকে ফুলের বাগান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

লাতিন আমেরিকার দেশ চিলির আতাকামা মরুভূমিতে এক বিরল দৃশ্য দেখা দিয়েছে। বছরের বেশির ভাগ সময় যেখানে ধুলা উড়তে থাকে, সেই নির্জন মরুপ্রান্তরে এখন ছড়িয়ে আছে রঙিন ফুলের গালিচা। এ যেন মরুর বুকে ক্ষণিকের এক রূপকথা।
চিলির লানোস দে চায়ে জাতীয় উদ্যান এলাকায় এ বছর অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পর বুনো ফুল গাছে ভরে গেছে আতাকামা মরুভূমি। বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক এই মরুভূমিতে বছরে গড়ে মাত্র দুই মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। তবে এ বছরের শীতে পাহাড়ি অঞ্চল এবং পাদদেশে নজিরবিহীনভাবে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে।
সেই বৃষ্টির পানিতেই মাটির নিচে ঘুমিয়ে থাকা দুই শতাধিক প্রজাতির বীজ জেগে ওঠে ফুলে ফুলে ভরে গেছে। গোলাপি, বেগুনি, হলুদ আর নীল—নানা রঙের এই উৎসবে মরুভূমি যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে।
চিলির জাতীয় প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের উদ্ভিদবিদ ভিক্টর আরদিলেস বলেন, ‘বছরের পর বছর এই বীজগুলো মাটির নিচে ঘুমিয়ে থাকে। যথেষ্ট আর্দ্রতা পেলে তারা জেগে ওঠে, অঙ্কুরিত হয়, আর ফুটে ওঠে ফুল।’
তবে সব বীজ যে জেগে ওঠে, তা নয়। পর্যাপ্ত পানি, তাপমাত্রা, আলো আর আর্দ্রতা—এই চারটি উপাদান একসঙ্গে না মিললে ফুল ফোটে না। এই সৌন্দর্যের আয়ুও খুব বেশি নয়। নভেম্বর নাগাদ বেশির ভাগ ফুল ঝরে যাবে। কেবল শক্ত প্রাণের কিছু বুনো ফুল জানুয়ারি পর্যন্ত টিকে থাকবে।
এই ক্ষণস্থায়ী ফুলেল মরু দেখার জন্য ছুটে আসছেন হাজারো মানুষ। রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে ৮০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অনেকেই আসছেন এই রঙিন গালিচা দেখতে। পর্যটক মারিৎসা বারেরা বললেন, ‘ভাবনার চেয়েও বেশি মোহময় এই দৃশ্য।’
এই বিরল প্রকৃতি রক্ষায় চিলি সরকার ২০২৩ সালে ৫৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে। নাম দেওয়া হয়েছে ডেজার্ট ব্লুম ন্যাশনাল পার্ক। গবেষকেরা বলছেন, পৃথিবীর আর কোথাও মরুভূমি এভাবে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে না। তাই আতাকামার এই ক্ষণিকের রূপ, যত দিন আছে, উপভোগ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।


সাপে কাটলে কি করবেন? কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা অতীব জরুরি?

আপডেটেড ১০ জুলাই, ২০২৫ ১৩:৩৯
ইউএনবি

বৃষ্টি মৌসুমগুলোতে ভারী বর্ষণের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে দেখা দেয় বন্যা। আর বন্যা মানেই নানা ধরণের কীট-পতঙ্গের পাশাপাশি শুরু হয় সাপের উপদ্রব। এমনকি এই চিত্র কেবল গ্রামেরই নয়, শহরাঞ্চলগুলোরও একই অবস্থা। এছাড়া যারা বর্ষার সময় বনে বা পাহাড়ে ঘুরতে যান তাদেরও প্রায় সময় সাপের কবলে পড়তে হয়। তাছাড়া বিগত বছরগুলোতে দেশ জুড়ে সাপে কাটার ঘটনা আশঙ্কাজনক মাত্রায় রয়েছে। সব থেকে উদ্বেগের ব্যাপার হলো- সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে অনেকেই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন। তাই চলুন, সাপে কামড়ালে কি করণীয় এবং কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে তা জেনে নেওয়া যাক।

সাপে কাটলে কি করা উচিত

সাপে কাটা ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। হাসপাতালে যাওয়ার পথে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাণরক্ষার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো নেওয়া উচিত:

- সাপে কামড়ানো ব্যক্তি প্রায় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রে এই মানসিক অবস্থা প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির ভয় দূর করে তাকে আশ্বস্ত করতে হবে এবং সাহস দিতে হবে। বিশেষত নির্বিষ সাপের দংশনে মৃত্যু হয় না। আর বাংলাদেশের অধিকাংশ সাপেরই বিষ নেই। বিষধর সাপের সংখ্যা খুবই কম। তাছাড়া এগুলো অধিকাংশ সময় শিকারের শরীরে পর্যাপ্ত বিষ ঢুকিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়।

- ব্যক্তির আক্রান্ত অঙ্গকে অবশ্যই স্থির করে রাখতে হবে। খুব বেশি নড়াচড়া করা যাবে না। হাঁটাচলা বা অধিক ঝাঁকুনির সম্মুখীন না করে স্থির ভাবে আধশোয়া অবস্থায় রাখা উত্তম।

- ক্ষতস্থানে একটু চাপ প্রয়োগ করে ব্যান্ডেজ বেধে দিতে হবে। এই প্রাথমিক চিকিৎসাটি প্রেসার ইমোবিলাইজেশন নামে পরিচিত। ব্যান্ডেজের বদলে গামছা, ওড়না বা এ জাতীয় কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে।

- রোগী শ্বাস না নিলে অবিলম্বে তার মুখে শ্বাস দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

- আক্রান্ত স্থান জীবাণুমুক্ত করার জন্য সাবান দিয়ে ধুয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে হাল্কা ভাবে মুছে নিতে হবে।
পড়নে অলঙ্কার বা ঘড়ি কিংবা তাগা, তাবিজ থাকলে তা খুলে ফেলতে হবে। নতুনবা এগুলো রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা চিকিৎসা প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।

সাপে কামড়ালে যে ভুলগুলো করা উচিত নয়

- সাপে কাটা ব্যক্তিকে ওঝার কাছে নিয়ে অযথা সময় নষ্ট করা ঠিক নয়।

- আক্রান্ত অঙ্গে কোনও ধরণের ভেষজ ওষুধ, উদ্ভিদের বীজ, লালা, গোবর, কাদা, বা পাথর লাগানো যাবে না।

- অনেকেই মনে করে থাকেন যে, আক্রান্ত স্থানে মুখ দিয়ে টেনে বিষ বের করলে রোগী ভালো হয়ে যায়। কিন্তু সাপের বিষ আসলে লসিকা ও রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়, যা এই পদ্ধতিতে বের করা অসম্ভব। এছাড়া আক্রান্ত স্থানে যিনি মুখ দিচ্ছেন, তার জন্যও বিষয়টি ক্ষতিকর।

- কামড়ানোর স্থানে অনেকে শক্ত বাঁধন বা গিট দিয়ে বাঁধেন। কিন্তু এমনটি একদমি উচিত নয়। বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে কামড়ানোর স্থান থেকে কিছুটা ওপরের দিকে শক্ত করে বাঁধা হয়। মূলত এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এতে বরং উল্টো রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে সঠিক রক্ত প্রবাহের অভাবে টিস্যুতে পচন বা নেক্রোসিস-এর উপক্রম হতে পারে।

- দংশনের স্থানে ছুরি বা ব্লেড দিয়ে আঁচড় দেওয়া যাবে না। বিষ বের করার জন্য অনেকে এমনটি করেন। কিন্তু এর জন্য অবশ্যই বিশেষজ্ঞের সরণাপন্ন হওয়া উচিত।

- ব্যথা দূর করতে মোটেই অ্যাস্পিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যাবে না।

- কোনও ধরণের রাসায়নিক পদার্থ লাগানো বা তা দিয়ে আক্রান্ত স্থানে সেঁক দেওয়া ঠিক নয়।

- অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তির খাবার বা ঢোক গিলতে কিংবা কথা বলতে সমস্যা হয়। পাশাপাশি নাসিক কণ্ঠস্বর, বমি, বা অতিরিক্ত লালা নিঃসরণের মত ঘটনা ঘটে। এগুলোর প্রতিকার হিসেবে তাকে কিছু খাইয়ে বমি করানোর চেষ্টা করা হয়। এই কাজটি একদমি অনুচিত।

শেষাংশ

সাপে কাটা ব্যক্তিকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিকভাবে এই করণীয়গুলো যথেষ্ট কার্যকর। সাপের বিষ বের করার বা দংশনের ব্যথা উপশমে বিভিন্ন ভুল ধারণাগুলো সমাজে প্রচলিত রয়েছে। এগুলো পরিহার করে ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া আবশ্যক। প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে আক্রান্ত অঙ্গ নাড়াচাড়া না করা এবং অতিরিক্ত চাপ প্রশমনের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। সেই সাথে দংশিত স্থান জীবাণুমুক্ত করা একটি উৎকৃষ্ট উপায়। সর্বপরি, চিকিৎসা সংক্রান্ত এই প্রাথমিক জ্ঞান যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার আত্মবিঃশ্বাস যোগায়।


হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির বাসা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

নিপুণ বাসা তৈরির দক্ষ করিগর বাবুই পাখি ও এর বাসা এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। পরিবেশ বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, নতুন বণায়নে বাসযোগ্য পরিবেশ ও খাদ্যের অভাব, নির্বিচারে তালগাছ কর্তন, অসাধু শিকারীর ফাঁদসহ বহুবিধ কারণে কালের আবর্তে প্রকৃতির স্থপতি, বয়ন শিল্পী এবং সামাজিক বন্ধনের প্রতিচ্ছবি বাবুই পাখি ও এর দৃষ্টিনন্দন বাসা ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে।

আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগেও গ্রামগঞ্জে ব্যাপকভাবে বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়ত। কিচিরমিচির শব্দ আর এদের শৈল্পিক বাসা মানুষকে পুলকিত করত। অপূর্ব শিল্প শৈলীতে প্রকৃতির অপার বিস্ময় এদের সেই ঝুলন্ত বাসা বাড়ির তালগাছসহ নদীর পাড়ে, পুকুর পাড়ে, বিলের ধারে এখন আর সচরাচর চোখে পড়ে না। আগের মতো বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয় না গ্রাম বাংলার জনপদ।

নিরীহ, শান্ত প্রকৃতির এই বাবুই পাখি উচু এবং নিরিবিলি পরিবেশে বাসা তৈরি করে। গ্রামগঞ্জের তাল, সুপারি, নাড়িকেল, খেজুর গাছে বাসা তৈরি করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে এরা। এসব গাছের সংকটে মাঝে মাঝে হিজল গাছেও বাসা বাধতে দেখা যায় তাদের।

এই পাখি বাসা তৈরির কাজে ব্যবহার করে খড়ের ফালি, ধানের পাতা, তালের কচি পাতা, ঝাউ ও কাঁশবনের লতা। চমৎকার আকৃতির এই বাসা বিশেষ করে তাল গাছের ডালে এমনভাবে সাটানো থাকে যাতে কোনো ঝড়-তুফানে সহসাই ছিড়ে না পড়ে। এদের বাসা শুধু শৈল্পিক নিদর্শনই নয়, মানুষের মনে চিন্তার খোরাক জোগায় এবং স্বাবলম্বী হতে উৎসাহিত করে। এটি দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমই মজবুত ও টেকসই । ঠোট দিয়ে বাবুই পাখি আস্তর ছড়ায়। পেট দিয়ে ঘঁষে তা আবার মসৃণ করে। বাসা বানাতে শুরুতেই দুটি নিম্নমুখী গর্ত করে থাকে। পরে তা একদিকে বন্ধ করে ডিম পাড়ার জায়গা করে।

অন্যদিকে লম্বা করে প্রবেশ ও প্রস্থান পথ তৈরি করে। ব্যালেন্স করার জন্য বাসার ভিতরে কাদার প্রলেপ দেয়। এমন বাসাও তৈরি করে যেখানে বসে দোলনার মতো দোল খায়। আধুনিক যুগে যা বড়ই যুক্তি সংগত। বাসার ভিতরে ঠিক মাঝখানে একটি আড়া তৈরি করে বাবুই পাখি। যে আড়াতে পাশাপাশি বসে এরা প্রেম আলাপসহ নানা রকম গল্প করে। এ আড়াতেই এরা নিদ্রা যায়। কি অপূর্ব বিজ্ঞান সম্মত চেতনাবোধ। ছোট হলেও বুদ্ধিতে সব পাখিকে হার মানায়।

এক গাছ থেকে আরেক গাছ, এক বাসা থেকে আরেক বাসায় এরা সঙ্গী খুঁজতো। পছন্দ হলে সঙ্গী বানানোর জন্য কত কিছুই না করে। পুরুষ বাবুই নিজের প্রতি আকর্ষণ করার জন্য ডোবার গোসল সেরে ফুর্তিতে নেচে নেচে উড়ে বেড়ায় এক ডাল থেকে অন্য ডালে। এরপর উচুঁ গাছের ডালে বাসা তৈরির কাজ শুরু করে। অর্ধেক কাজ হলে কাঙ্খিত স্ত্রী বাবুইকে ডেকে সেই বাসা দেখায়। বাসা পছন্দ হলেই কেবল পুরো কাজ শেষ করে। তা না হলে অর্ধেক কাজ করেই নতুন করে আরেকটি বাসা তৈরির কাজ শুরু করে। অর্ধেক বাসা বাঁধতে সময় লাগে ৪-৫ দিন।

কাঙ্খিত স্ত্রী বাবুই পাখির পছন্দ হলে বাকিটা শেষ করতে সময় লাগে আরো ৪ দিন। পুরুষ বাবুই এক মৌসুমে ৬ টি পর্যন্ত বাসা বুনতে পারে। তাছাড়া এরা ঘর করতে পারে ৬ টির সঙ্গে। স্ত্রী বাবুইদের এতে কোনো বাঁধা নেই। প্রজনন প্রক্রিয়ায় স্ত্রী বাবুই ডিমে তা দেয়ার দুসপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা ফোটে। আর বাচ্চা বাসা ছেড়ে প্রথম উড়ে যায় জন্মের তিন সপ্তাহের মধ্যে।

কৃষকের ধান ঘরে ওঠার মৌসুম হলো বাবুই পাখির প্রজনন মৌসুম। দুধ ধান সংগ্রহ করে এনে স্ত্রী বাবুই বাচ্চাদের খাওয়ায়। তবে এখন সঙ্গত কারণেই বাবুই পাখি তালগাছ ছেড়ে ভিন্ন গাছে নীড় বেঁধেছে। এই দক্ষ স্থপতি বাবুই পাখির নীড় ভেঙে দিচ্ছে এক শ্রেণীর অসাধু মানুষ। এক সময় গাজীপুরের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামে গ্রামে দেখা যেতো অগণিত বাবুই পাখির বাসা। এই এলাকার গাঁও গ্রাম ঘুরেও এখন আর দৃষ্টি নন্দন বাবুই পাখির ঝুলন্ত বাসা আগের মতো দেখা যায় না।

উপজেলার আধবই গ্রামের পাখি প্রেমিক নওশীন বাবু ঐশী বলেন, সারাবিশ্বে বাবুই পাখির প্রজাতির সংখ্যা ১১৭টি। তবে বাংলাদেশে তিন প্রজাতির বাবুই পাখির বাস। তিনি আরও বলেন, বাবুই পাখির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো রাতের বেলায় ঘর আলোকিত করার জন্য এরা জোনাকি পোকা ধরে নিয়ে বাসায় রাখে এবং সকাল হলে আবার তাদের ছেড়ে দেয়। ধান, চাল, গম ও পোকা-মাকড় প্রভৃতি তাদের প্রধান খাবার।

উপজেলা কৃষক ইব্রাহিম বলেন, নিপুণ কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা টিকিয়ে রাখতে হলে বৃক্ষ নিধনকারীদের হাত থেকে উক্ত গাছ রক্ষা করতে হবে। প্রকৃতিক সোন্দর্য বৃদ্ধিতে বাবুই পাখির বাসা তৈরির পরিবেশ সহজ করে দিতে হবে।


গরুর মাংসের কিছু সহজ রেসিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ মানেই নানান পদের গরুর মাংস রান্না। সকাল, দুপুর কিংবা রাত- সব বেলাতেই গরুর কোন না কোন পদ থাকেই। অনেকে সময় স্বল্পতা আর অতিরিক্ত ঝুট ঝামেলা এড়িয়ে চলার জন্য এক বা দুই পদের বেশি মাংস রান্না করতে চান না। আবার অনেকে রান্না করতে চাইলেও রেসিপি না জানার কারণে মজাদার গরুর মাংসের খাবার খাওয়া থেকে বঞ্চিত হন।

গরুর মাংস রান্নার কিছু সহজ রেসিপি রয়েছে। যা জানলে আপনিও খেতে পারবেন মজাদার সব গরুর মাংসের খাবার। আসুন জেনে নিই, গরুর মাংসের সহজ কিছু রেসিপি।

গরুর মাংসের শাহী রেজালা: কোরবানির ঈদে গরুর মাংসের শাহী রেজালা ছাড়া কল্পনাও করা যায় না। সহজ এবং সবার প্রিয় এই রেসিপিটি সবার খুব পরিচিত। যেভাবে গরুর মাংসের রেজালা তৈরি করবেন।

যা লাগবে: ১ কেজি গরুর মাংস, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদা বাটা, রসুন বাটা, হলুদ জিরা, ধনিয়া, লবণ, কিশমিশ, আলু বুখারা, টক দই, বাদাম বাটা, চিনি, কাঁচা মরিচ বাটা বা পেস্ট, জয়ফল/ জয়ত্রী/ পুস্তদানা, গরম মসলা (এলাচি/ দারুচিনি) তেজপাতা ও তেল।

যেভাবে রান্না করবেন: মাংস ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার সব উপকরণ পরিমাণমতো নিয়ে দই আর অল্প পানি দিয়ে একসাথে মিশিয়ে ঘণ্টাখানেক প্রস্তুত করে রেখে দিন। এরপর মাংসে তেল, কাঁচামরিচ পেস্ট, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, হলুদ, জিরা, ধনিয়া, লবণ, বাদাম বাটা, চিনি, জয়ফল, জয়ত্রী, পুস্তদানা বাটা, তেজপাতা, গরম মসলা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মেশানো হয়ে গেলে মাংসের মিশ্রণটি চুলায় বসিয়ে দিন।

অল্প আঁচে গরম হতে থাকবে এবং মাংস সিদ্ধ হচ্ছে কিনা কিছুক্ষণ পরে দেখে নিন। মাংস সেদ্ধ হয়ে আসলে কিশমিশ ও আলুবোখারা দিয়ে দিন। এরপর ঢাকনা দিয়ে হালকা আঁচে আরও কিছু সময় জ্বাল দিন। তারপর লবণ ঝাল হয়েছে কিনা দেখে নিন। বাগার দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন। অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই হয়ে যাবে মজাদার গরুর মাংসের রেজালা।

কড়াই গোস্ত: গরুর কড়াই গোস্ত পছন্দ করেন না এমন মানুষ পাওয়া যাবে না। কোরবানির ঈদের সবচেয়ে পছন্দের মাংস রান্নার মধ্যে গরুর কড়াই গোস্ত অন্যতম।

উপকরণ: গরুর মাংস ১ কেজি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, হলুদগুঁড়া ১ টেবিল চামচ, মরিচগুঁড়া ১ টেবিল চামচ, মাংসের মসলা ১ চা চামচ, দারচিনি ও এলাচ ৩/৪ টুকরো, জয়ফল, জয়ত্রী বাটা ১ চা চামচ, টক দই ১ কাপ, টমেটো কিউব ১ কাপ, তেজপাতা ২টি, তেল ১ কাপ, রসুন কোয়া ২/৩টি, লবণ পরিমাণ মতো।

প্রস্তুত প্রণালী: গরুর মাংস ধুয়ে নিয়ে একটি চালুনি পাত্রে রেখে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার একটি পাত্রে মাংস, টক দই, লবণসহ সব মসলা একসঙ্গে ভালো করে মেখে ২০/২৫ মিনিট মেরিনেট করে রাখুন।

হাঁড়িতে তেল গরম করে অর্ধেক পেঁয়াজ কুচি, দারচিনি, এলাচ, তেজপাতা হালকা বাদামী করে ভেজে মেরিনেট করা মাংস দিয়ে নেড়ে কষাতে হবে। পরিমাণমতো পানি দিয়ে মৃদু আঁচে রান্না করতে হবে। কিছু সময় পর মাংস সেদ্ধ হল কিনা দেখে নিন। মাংস সিদ্ধ হয়ে আসলে ও মাংসের ওপর তেল ভেসে উঠলে নামিয়ে রাখতে হবে। তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি, রসুনের কোয়া, টমেটো কুচি হালকা বাদামী করে ভেজে মাংস কড়াইতে দিয়ে ২/৩ মিনিট দমে রেখে নামিয়ে ফেলুন। এভাবেই তৈরি হয়ে যাবে গরুর মাংসের কড়াই গোস্ত।

গার্লিক বিফ: যারা রেস্তোরাতে খেয়ে অভ্যস্ত তারা বাড়িতেও রান্না করে নিতে পারেন মজাদার কিছু রান্না। গার্লিক বিফ এই রকম একটি খাবার আইটেম। ঝাল প্রিয় মানুষের জন্য অনেক পছন্দের মাংসের আইটেম এটি।

উপকরণ: গরুর মাংস ১ কেজি, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১ কাপ, মরিচ গুঁড়া ১ কাপ, আদা বাটা আধা চা চামচ, রসুন বাটা আধা চা চামচ, রসুনের কোয়া ৬/৭টি, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, টেস্টিং সল্ট সামান্য, তেল আধা কাপ, মাংসের মসলা আধা চা চামচ, টমেটো সস আধা কাপ, টক দই ১ কাপ, গরম মসলা গুঁড়া আধা চা চামচ ও লবণ স্বাদ মতো।

প্রস্তুত প্রণালী: গরুর মাংস ধুয়ে নিয়ে একটি চালুনি পাত্রে রেখে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার একটি পাত্রে মাংস, তেল, টক দই, হলুদ, মরিচ, আদা, রসুন, পেঁয়াজ, লবণসহ সব মসলা নিয়ে আধাঘণ্টা মেরিনেট করে রাখুন। কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ বাদামী করে ভেজে মাংস দিয়ে নেড়ে কষাতে হবে। কষানো হলে সামান্য পানি দিয়ে নেড়ে ঢেকে রাখতে হবে। মাংস সিদ্ধ হয়ে আসলে টমেটোসস, কাঁচামরিচ ফালি ও রসুনের কোয়া দিয়ে ১০ মিনিট দমে রেখে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।


স্মার্ট ব্যাটারি ব্যবস্থাপনায় সারাদিন চলবে স্মার্টফোন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্মার্টফোন এখন আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং কাজ, বিনোদন ও স্বাস্থ্যসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত একটি অপরিহার্য প্রযুক্তি। এসব কাজে নিরবিচ্ছিন্ন ব্যবহার নিশ্চিতে স্মার্টফোনের ব্যাটারি পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যবহারকারীদের চাহিদা অনুযায়ী ডিভাইস যেন অতিরিক্ত গরম না হয়, হ্যাং না করে এবং দীর্ঘক্ষণ কার্যকর থাকে—এই সবকিছু মাথায় রেখেই বাজারে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্মার্ট ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।

স্মার্ট ব্যাটারি: আধুনিক চাহিদার সমাধান

আগে ভালো ব্যাটারি মানে ছিল উচ্চ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ক্ষমতা। কিন্তু এখন ব্যাটারি মূল্যায়নে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়। অ্যাডাপটিভ পাওয়ার এলোকেশন, ইউজার বিহেভিয়ার অ্যানালাইসিস এবং তাপ নিয়ন্ত্রণ—এই আধুনিক প্রযুক্তিগুলো ব্যাটারির পারফরম্যান্সকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যারা বাইরে দীর্ঘ সময় থাকেন, ভিডিও কল, সোশ্যাল মিডিয়া বা নেভিগেশনের মতো ব্যাটারি-নির্ভর কাজে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এসব প্রযুক্তি কার্যকর সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে।

এআই: শক্তির নতুন চালিকাশক্তি

বর্তমান বাজারের বেশিরভাগ স্মার্টফোনেই এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। এটি অ্যাপ প্রিডিকশন, ব্যাকগ্রাউন্ড টাস্ক সীমিতকরণ এবং স্ক্রিন-অফ অপ্টিমাইজেশনের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় শক্তি খরচ কমিয়ে দেয়। ব্যবহারকারীরা চাইলে নির্দিষ্ট অ্যাপকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন কিংবা ব্যাটারি কমে গেলে ‘আল্ট্রা পাওয়ার সেভিং মোড’ চালু করতে পারেন। ফলে ব্যাটারি ব্যাকআপ যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি ডিভাইস ব্যবহারে ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণও বাড়ে।

চার্জিং প্রযুক্তিতে বিপ্লব

শুধু ব্যাটারি ব্যবস্থাপনাই নয়, স্মার্ট চার্জিং প্রযুক্তিতেও এসেছে দারুণ অগ্রগতি। এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ইনফিনিক্সের নতুন নোট ৫০ সিরিজ। এই সিরিজের প্রতিটি মডেলে রয়েছে ৫২০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, যার চার্জিং ক্ষমতা ৪৫ ওয়াট থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০০ ওয়াট পর্যন্ত। সেই সঙ্গে রয়েছে ম্যাগচার্জ প্রযুক্তি-ভিত্তিক ৫০ ওয়াটের ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা।

চার্জিং প্রযুক্তিতেও ব্যবহৃত হয়েছে এআই, যা চার্জিং স্পিড ও ব্যাটারির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে ব্যাটারির দীর্ঘস্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

স্মার্টফোন ব্যবহারে নতুন মাত্রা

নোট ৫০ সিরিজে যুক্ত হয়েছে ইনফিনিক্সের নিজস্ব এআই প্রযুক্তি, যা ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করে ডিভাইস পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে ডিপ সিক এআই, ওয়ান-ট্যাপ এআই ক্যামেরা এবং এআই নয়েস মিউট।

এছাড়া রয়েছে বায়ো-এক্টিভ হ্যালো লাইট নোটিফিকেশন—যা কাজের বিঘ্ন না ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছে দেয়।

সব মিলিয়ে ইনফিনিক্স নোট ৫০ সিরিজ শক্তিশালী ব্যাটারি, কার্যকর চার্জিং প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে স্মার্টফোন ব্যবহারে নতুন এক অভিজ্ঞতা উপহার দিচ্ছে, যা ব্যবহারকারীর আধুনিক চাহিদা পূরণে সক্ষম।


নারীরা যে কারণে পোপ হতে পারেন না

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পোপ হলেন ক্যাথলিক চার্চের সর্বোচ্চ নেতা। ১.৪ বিলিয়ন মানুষের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু। যিশুর প্রধান শিষ্য। ফলে আস্থার দিক থেকে খ্রিষ্টান সমাজ ও চার্চে পোপের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ধরা হয়। এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে শুধুমাত্র পুরুষকেই বেছে নেওয়া হয়। সেখানে কোনো নারীর জায়গা নেই।

যাজক হিসেবে সবসময়ই পুরুষদের নির্বাচিত করায় বারবারই প্রশ্নের মুখে পড়েছে চার্চ। কয়েক শ বছর থেকেই যাজকের দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন নারীরা। ১২ বছর ধরে রোমান ক্যাথলিকদের ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর প্রয়াত হয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। তার প্রয়াণের পর এবার নতুন করে শুরু হবে পোপ নির্বাচন। তখন নতুন করে উঠেছে প্রশ্নটি।

পোপের মৃত্যু পর বা পদ্যত্যাগ করার পর ১৫-২০ দিন সময় নেয় রোমান ক্যাথলিক চার্চ‌। এই সময়ের মধ্যে সারা বিশ্ব থেকে চার্চের সবচেয়ে প্রবীণ কর্মকর্তারা রোমে এসে উপস্থিত হন। তাদের সম্মিলিতভাবে ‘কলেজ অব কার্ডিনালস’ বলা হয়। ভ্যাটিকান থেকে তাদের কাছে পোপ নির্বাচনে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ আসে।

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সকলকে তাদের পছন্দের ব্যক্তির নাম কাগজে লিখে জানাতে হয়। কঠোর প্রোটোকল অনুসারে, এই নির্বাচনে শুধুমাত্র পুরুষরাই অংশগ্রহণ করতে পারবেন, কোনো নারী নয়।

পোপ হওয়ার অধিকার থেকে নারীদের বাদ দেওয়ার বিষয়টি চার্চের দীর্ঘদিনের রীতির সঙ্গে যুক্ত। এই বিষয়টি কেবল পুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। ক্যানন আইন (ক্যানন ১০২৪) অনুসারে, শুধুমাত্র দীক্ষিত পুরুষদেরই পোপ হিসেবে নিযুক্ত করা যেতে পারে। আসলে খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস যে প্রভু যীশু কেবল পুরুষদের শিষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, যে নিয়ম ক্যাথলিক চার্চে বহুদিন ধরে চলছে।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিলিজিওন অ্যান্ড পাবলিক পলিসি প্রোগ্রামের ডিরেক্টর রেভারেন্ড টমাস রিজের মতে, পোপের মতো পদের জন্য অর্ডিনেশন প্রয়োজন এবং নারীদের পুরোহিত হওয়ার অনুমতি নেই।

একবার প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসকে প্রশ্ন করা হয়, নারীরা কি কখনো পোপ হতে পারবেন না? উত্তরে পোপ বলেন, আপনি যদি সেইন্ট দ্বিতীয় জন পলের ঘোষণা ভালোভাবে পড়ে থাকেন তাহলে সেই নির্দেশনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। নারীরা অন্য অনেক কাজে পুরুষের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো করতে পারেন। তবে পোপ হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ওপর বিধিনিষেধ আছে।

ইতিহাসের দিক থেকে, পোপ হওয়ার মানদণ্ড মতবাদের পরিবর্তে নজিরের ওপর ভিত্তি করে। ১৪৫৫ সালে পোপ ক্যালিক্সটাস তৃতীয় ছিলেন পোপ নির্বাচিত হওয়া শেষ অ-পুরোহিত এবং ১৩৭৮ সালে আরবান ষষ্ঠ ছিলেন শেষ অ-কার্ডিনাল পুরোহিত যাকে নির্বাচিত করা হয়েছিল।

ক্যাথলিক চার্চের ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে, যিশুখ্রিষ্ট ১২ জন পুরুষকে তার শিষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। যারা পরে তাদের পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অন্যান্য পুরুষদের বেছে নিয়েছিলেন। ফলস্বরূপ, চার্চ এই পুরুষতান্ত্রিক ঐতিহ্য বজায় রেখেছে। ঠিক সেই কারণেই নারীরা কখনো যাজক হতে পারে না।


মহাবিস্ময়কর সৃষ্টি ‘আঙ্গুলের ছাপ’

আপডেটেড ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ১৩:২১
মো. আব্দুল বাকী চৌধুরী

বর্তমান অত্যাধুনিক যুগে জীবন চলার পথে যেকোনো কাজেই এগিয়ে যান না কেন, আঙ্গুলের ছাপ ছাড়া প্রশ্নবিদ্ধসহ প্রতিবন্ধকতায় সম্মুখীন হবেন। আর আপনিই যে আপনি, তা কেবল আঙ্গুলের ছাপেই শনাক্তপূর্বক বলে দিবে। মজার ব্যাপার হলো যে আপনার আঙ্গুলের ছাপ শুধুই আপনার; সারা পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে ৮০০ কোটি মানুষের ছাপের সঙ্গে কোনো মিল হবে না। শুধু তাই নয়, সৃষ্টির গোড়া থেকে শুরু করে যত মানুষ এই ধরায় এসেছেন এবং পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার আগ পর্যন্ত যত মানুষ আসবেন, কারও আঙ্গুলের ছাপের সঙ্গে মিল তথা এক হবে না। আঙ্গুলের এই ব্যতিক্রম ছাপের ব্যাপারে এখন বিজ্ঞানীরা জোর গলায় বললেও এ কথাটি ১৪০০ বছর আগেই পবিত্র কোরআন শরিফের সুরা ক্বিয়ামাহ (মক্কায় অবতীর্ণ)-তে উল্লেখ করা হয়েছে। আর যেভাবেই বলি না কেন, আঙ্গুলের ছাপ আল্লাহতায়ালার মহাবিস্ময়কর সৃষ্টি।

এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য, বর্তমানে আধুনিক বিজ্ঞান কি বলেছে জানেন? এ ব্যাপারে বিজ্ঞান বলে যে গর্ভাবস্থায় যখন ভ্রূণের মাত্র ১০ সপ্তাহ বয়স, তখন তার আঙ্গুলের ছাপ গঠিত হয়। আর সেটা সারাজীবন একই থাকে; পরিবর্তন হয় না। কোনো দুই ব্যক্তির আঙ্গুলের ছাপ কখনই এক হয় না। এমনকি জমজ ভাই-বোনদের ক্ষেত্রেও না। কিন্তু কেন? এর কারণ মায়ের গর্ভে প্রতিটি শিশুর বেড়ে ওঠার পরিবেশ একেবারেই আলাদা হয়; যা তাদের আঙ্গুলের ছাপের ওপর প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া আপনার আঙ্গুলের ছাপে আরও অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে? এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে আঙ্গুলের ছাপ কেবল আপনাকে শনাক্ত করবে, তাই নয়। একইসঙ্গে আপনার জ্বিনগত দিক দিয়ে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য বহন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের আঙ্গুলের ছাপ আঁকা-বাঁকা, তাদের বহুমূত্র ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেশি থাকে। এই রকম আরও নানা রোগের চিহ্ন বহন করে থাকে, যা এখনো গবেষণার পর্যায়ে আছে।

এক সময় শুধু অপরাধীকে ধরতে আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নাগরিকদের পরিচয়ের জন্য; যেমন- আইডেন্টেটি কার্ড ও পাসপোর্ট বইসহ বায়োমেট্রিক্স তথ্য সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে এই ছাপ ব্যবহার করা হয়। তা ছাড়া বাংলাদেশে মোবাইল সিম কিনতে আঙ্গুলের ছাপ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি, অনেক অফিসে ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। এই আঙ্গুলের ছাপের বিষয়টি আল্লাহর কুদরতের এক অকাট্য প্রমাণ বৈ কিছু নয়। পবিত্র কোরআনে ১৪০০ বছর আগেই আল্লাহতায়ালা এই সৃষ্টির কথা বলেছিলেন। আর এতে এটাই প্রমাণ করে, কোরআন কখনো মানুষের লেখা নয়; বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত এক পরিপূর্ণ জীবনবিধান। ১৬৮৪ সালে সর্বপ্রথম ইংলিশ ফিজিশিয়ান, উদ্ভিদ বিজ্ঞানী এবং অনুবীক্ষণ যন্ত্রবিদ ‘নিহোমিয়া গ্রিউ’ বৈজ্ঞানিক দৈনিক-ই প্রকাশ করে এতে করতল ও আঙ্গুলের ছাপের রহস্যের সংযোগ সূত্রের ধারণার উত্থাপন করেন। তবে ১৬৮৪ সালের পূর্বে ফিঙ্গার প্রিন্ট সম্পর্কে আর কোনো বিজ্ঞানীর আলোকপাতের কথা পাওয়া যায় না। এর পরবর্তীতে দীর্ঘ বিরতির পর ১৮০০ সালের পর ফিঙ্গার প্রিন্ট পুনরায় জোরভাবে বৈজ্ঞানিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং এ ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন আঙ্গিকে গুরুত্ব দেন। এসব বিজ্ঞানীদের মধ্য উল্লেখযোগ্য হলেন, জেন জিন্সেন, সৈয়দ মুহাম্মাদ কাজী আজিজুল হক (খুলনা) ও ব্রিটিশ কর্মকর্তা এওয়ার্ড হেনরি। অবশ্য ১৬৮৫ সালে ডার্চ ফিজিসিয়ান ‘গোভার্ড বিডলো’ এবং ইটালিয়ান বিজ্ঞানী ‘মারসিলো বিডলো’ এনাটমির ওপর বই প্রকাশ করে ফিঙ্গার প্রিন্টের ইউনিক গঠনের ওপর নানা বিষয় তুলে ধরেন। প্রকাশ থাকে, খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দে ব্যবসায়িক কাজে ছোট ছোট শুকনো কাদার খণ্ডে ব্যাবিলিয়ানদের আঙ্গুলের ছাপ দেওয়ার রীতি প্রচলিত ছিল। আর ১৮৯১ সালে আর্জেন্টিনার হুয়ান ভুসেটিস অপরাধী ধরার পদ্ধতি আবিষ্কার করার মাধ্যমে আধুনিক যুগের আঙুলের ছাপের ব্যবহার শুরু করেন।

কথা প্রসঙ্গে আবার আল কোরআনের কথাই ফিরে আসি। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য, আল্লাহতায়ালা যখন কোরআনে বারবার বিচার দিবস ও পুনরুত্থানের কথা বলেছেন। তখন কাফিররা এই বলে হাসাহাসি করত যে পচাগলা হাড়গুলোকে কীভাবে একত্রিত করা যাবে? একজনের অস্থির সঙ্গে অন্যজনেরগুলো কি বদল হবে না? এ ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন প্রতি-উত্তরে বলেছেন, ‘মানুষ কি মনে করে যে আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করতে পারব না? বরং আমি তার অঙ্গুলিগুলোর ডগা পর্যন্ত সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম’ (আল কিয়ামাহ, আয়াত ৩-৪)। বস্তুত এখানে মহান রব ফিঙ্গার প্রিন্টের সক্রিয়তার ওপর ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর আল্লাহতায়ালা কেবল মানুষের অস্থিতে মাংস পরিয়েই উত্থিত করবেন না; বরং এমন নিখুঁতভাবে মানুষকে পুনরায় জীবিত করবেন, যেমন- জীবদ্দশায় তার আঙ্গুলের সূক্ষ্ম রেখা পর্যন্ত সুবিন্যস্ত ছিল। এখানে এটাই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে পুনরুত্থানে কত নিখুঁতভাবে পুনরায় মানুষকে হুবহু অবয়ব দেওয়া হবে। কাফিররা বলে গলা পচা অস্থি একজনেরগুলোর সঙ্গে অন্যজনেরগুলো কি মিশ্রিত হবে না? এ ক্ষেত্রে আল্লাহ বুঝিয়ে দিয়েছেন যে অস্থি মিশ্রিত হওয়া তো দূরে থাক; বরং নিখুঁতভাবে তিনি মানুষকে পুনরুত্থিত করবেন।

আসলে যেভাবেই বলি না কেন, ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রকারান্তরে ডেটা ব্যাংক বলে অভিহিত। কেননা জ্বিনের মধ্য সন্নিবেশিত প্রায় সব বৈশিষ্ট্য, শুধু শারীরিক গঠনই নয় বরং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পর্যন্ত আঙ্গুলের ছাপে এনকোড করা থাকে। তাই আল্লাহ এখানে কাফিরদের জবাব ও জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন দিয়েছেন যে শুধু মাত্র আঙ্গুলের ডগার প্রিন্ট দিয়ে যদি একটি মানুষের সম্যক বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। তবে প্রত্যেক মানুষকে তার নিজের অস্থি দিয়ে পুনর্বিন্যস্ত করা কোনো ব্যাপারই না। এ সূত্র ধরে হয়তো অনেকেই বায়োমেট্রিকস বায়োলজিক্যাল ডেটা পরিমাপ এবং বিশ্লেষণ করার প্রযুক্তি সম্পর্কে অবহিত আছেন। এখানে গ্রিক শব্দ ইওঙ, যার অর্থ জীবন বা প্রাণ এবং গবঃৎরপ হলো পরিমাপ করা। মূলত বায়োমেট্রিকস এমন একটি প্রযুক্তি, যেখানে কোনো ব্যক্তির গঠনগত এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে অদ্বিতীয়ভাবে চিহ্নিত বা শনাক্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে ফিঙ্গার প্রিন্টের ব্যাপারে আগেই উল্লেখ করেছি, একজনের আঙ্গুলের ছাপ বা টিপ-সই অন্য কোনো মানুষের সঙ্গে মিল নেই। আর এটি মাথায় রেখে প্রথমেই আঙ্গুলের ছাপ ডেটাবেইসে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে ফিঙ্গার প্রিন্ট রিডারের মাধ্যমে আঙ্গুলে ছাপ ইনপুট নিয়ে ডেটাবেইজে সংরক্ষিত আঙ্গুলের ছাপের সঙ্গে তুলনাপূর্বক যেকোনো ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়। আসলে ফিঙ্গার প্রিন্ট রিডার হচ্ছে বহু ব্যবহৃত একটি বায়োমেট্রিক ডিভাইস, যার সাহায্যে মানুষের আঙ্গুলে ছাপ বা টিপসইগুলো ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে, তা পূর্ব থেকে সংরক্ষিত আঙ্গুলের ছাপ বা টিপসইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। তবে যারা দৈহিকভাবে আঙ্গুলের কাজ করেন, সে ক্ষেত্রে রেখাগুলো মিলে বা মুছে গেলে, এই পরীক্ষায় জটিলতার কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

উপর্যুক্ত বর্ণনার প্রেক্ষিতে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, আঙ্গুলের ছাপ আল্লাহতায়ালার মহাবিস্ময়কর সৃষ্টি।

লেখক: বিশিষ্ট গবেষক, অর্থনীতিবিদ এবং লেখক হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সম্মাননা ও পদকপ্রাপ্ত।


banner close