বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২

রানিকে নতুন বাংলাদেশ দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম

রানিকে নতুন বাংলাদেশ দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম
সাজিদ ইকবাল।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • সাজিদ ইকবাল

শিহাব ভাই কুইন্স ইয়াং লিডার্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ২০১৫ সালে। পরের বছর পেল ওসামা। এরপর আমিও কল্পনা করতে শুরু করি, হয়তো এক দিন আমারও ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হবে। সেই কল্পনা বাস্তবে রূপ পেতে শুরু করে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি দিকে। কুইন্স ইয়াং লিডার নির্বাচন কমিটি তখন তরুণ সমাজসেবক এবং উদ্যোক্তাদের খুঁজছে।

২০১২ সাল থেকে আমরা ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চল এবং শিল্পকারখানাগুলোয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে দিনের আলো কাজে লাগানোর গবেষণা নিয়ে কাজ করে আসছি। এ ছাড়া তরুণদের পরিবেশবান্ধব টেকসই উদ্ভাবনে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এবং সেমিনার আয়োজন করেছি। সেই সুবাদে সাহস করে ২০১৭ সালের কুইন্স ইয়াং লিডার্স প্রোগ্রামে আবেদনপত্র জমা দিই।

বেশ কিছু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর নির্বাচক কমিটি আমার মেন্টরের রেফারেন্স লেটার চাইল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং সফল নারী উদ্যোক্তা রোকেয়া রহমান আমার কাজের প্রশংসা করে তাদের উত্তর দিলেন। এর কিছু দিনের মধ্যেই ২০১৬ সালের নভেম্বরে জানতে পারলাম রানি এলিজাবেথের ইয়াং লিডার হিসেবে চূড়ান্তভাবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছি।

এরপর থেকে রানির সঙ্গে দেখা করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সময়টা খুব একটা সহজও ছিল না। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির ‘লিডিং চেঞ্জ’ নামক এক বছরের নেতৃত্ব উন্নয়ন কোর্সের ক্লাস শুরু হয়ে গেল।

দেখতে দেখতে ২০১৭ সালের জুলাই মাস চলে এল। আমি এবং রাহাত প্লেনে উঠে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হই রানি এলিজাবেথের সঙ্গে দেখা করতে। লন্ডনে নামার পর আমাদের এয়ারপোর্টে সংবর্ধনা দিয়ে কুইন্স ইয়াং লিডার্স প্রোগ্রাম কমিটি বরণ করে নিল। এরপর কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে শুরু হলো দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণের শেষ দিনগুলো ছিল অভূতপূর্ব। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে অভ্যর্থনা, কমনওয়েলথ সেক্রেটারির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, বিবিসি ওয়ার্ল্ডের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন, জনপ্রিয় ফুটবলার ডেভিড বেকহামের সঙ্গে দিন কাটানো এবং ফেসবুক কার্যালয় ভ্রমণ করেছি আমরা।

অবশেষে রানি এলিজাবেথের কাছ থেকে সম্মাননাটি গ্রহণের উদ্দেশ্যে আমরা বাকিংহাম কলেজ কর্তৃক আমন্ত্রণ পাই। আমন্ত্রণপত্র নিয়ে আমরা প্যালেসে প্রবেশ করি। উচ্ছ্বাস এবং আবেগময় সেই সময়টি ভাষায় প্রকাশ করা বড় কঠিন।

অবশেষে এল সেই ক্ষণ

অবশেষে আমরা রানির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে বসি। ঘরটির মধ্যে আমন্ত্রিত বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনার, রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রী মহোদয় এবং রাজপরিবারের বিভিন্ন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। রাজকীয় বাজনা শুরু হলো এবং রানী এলিজাবেথ সামনের মঞ্চে উঠে আসলেন। একে একে অ্যাওয়ার্ড প্রদানের পর আমার এবং বাংলাদেশের নাম প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠল।

তখনো বিশ্বাস হচ্ছিল না, এটি কী বাস্তব না স্বপ্ন! সামনে গিয়ে সম্মান জানালাম, রানি হাসিমুখে হাত মিলিয়ে সম্মাননা হাতে তুলে দিলেন। তিনি প্রথমেই আমাকে ধন্যবাদ জানালেন, এত দূর থেকে ওনার সঙ্গে দেখা করতে আসার জন্য এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য। তিনি বাংলাদেশ ভ্রমণের স্মৃতিকথাও স্মরণ করলেন।

‘এরপর রানি এলিজাবেথ আমাকে প্রজেক্ট এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। পরিবেশের কথা চিন্তা করে ভিন্নধর্মী কাজ করার জন্য তিনি আমাকে আবারো ধন্যবাদ জানালেন।’ বললেন, ‘আমাদের মিলিতভাবে পরিবেশ রক্ষার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, তাহলেই বাংলাদেশ, কমনওয়েলথ এবং সমগ্র বিশ্ব উপকৃত হবে।’

রানিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম সবুজ-শ্যামল সম্ভাবনাময় এক নতুন বাংলাদেশ ঘুরে যেতে।

লেখক: উদ্যোক্তা, কুইন্স ইয়াং লিডার পুরস্কারজয়ী


উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ যাত্রা, অতঃপর…

উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ যাত্রা, অতঃপর…
ইব্‌তেসাম আফরিন। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ইব্তেসাম আফরিন

কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে আমি যখন পিএইচডি শুরু করি, তখন মানুষ সবে লকডাউনে অভ্যস্ত হতে শুরু করেছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের ঘটনা এটা। অ্যাডমিশন লেটার এসে পৌঁছেছিল ঠিকই, তবে ঝামেলা দেখা দিল পাসপোর্ট নিয়ে। সে সময় পাসপোর্ট অফিসের প্রিন্টিং সমস্যায় নতুন ইস্যু করা পাসপোর্ট হাতে এসে পৌঁছতে বাড়তি সময় লেগেছিল।

উচ্চশিক্ষার্থে যারা বিদেশে গিয়েছেন, তারা হয়তো আমার অবস্থাটা বুঝবেন। আইইএলটিএস, ভর্তির আবেদন ফি, আগের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ট্রান্সক্রিপ্ট তোলা, এমন নানান সব কাজে সঞ্চিত অর্থ ততদিনে তলানিতে পৌঁছেছে। কোভিডের কারণে সীমান্ত বন্ধ থাকায় এবং ভিসা প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে সেপ্টেম্বর সেশনে সরাসরি ক্লাস করার সুযোগ আমার হলো না।

এদিকে উচ্চশিক্ষার জন্য আমার কর্মস্থল থেকেও ছুটি নিয়ে নিয়েছি। অগত্যা যতদিন কানাডায় পড়তে যাওয়ার স্টাডি পারমিট না পাচ্ছি, ততদিন পরিবারের সহযোগিতায় দিন কাটতে লাগল। অনলাইনে ক্লাস শুরু করলাম। দিন-রাত মিলিয়ে মাত্র তিন ঘণ্টার বিশ্রামের ওপর নির্ভর করে প্রথম বর্ষের প্রথম টার্ম চালিয়ে নিই। কেবল মানসিক শক্তির জোরে নিজেকে চালিয়া নিচ্ছি। তখন পর্যন্ত ভরসা একটাই- আমার ফুল ফান্ডিং অফার আছে, আর বর্তমানের যে দুরবস্থা তা হয়তো শিগগিরই কেটে যাবে।

অবশেষে ভিসা-সংক্রান্ত সব জটিলতা কাটিয়ে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কানাডার অন্টারিওতে আমার ক্যাম্পাসে পৌঁছাই। ততদিনে বিমান ভাড়াটা জোগাড় করে দিয়েছে আমার বাবা ও আপুরা। তাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

কানাডায় পড়ার আগে আমার ইংল্যান্ডে পড়ার অভিজ্ঞতা আছে। সেবার কমনওয়েলথ স্কলারশিপ পেয়ে ডারহাম ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স করতে গিয়েছিলাম। তাই এ যাত্রায় জীবনযাপনের ধারা নিয়ে আমি ভালোই আত্মবিশ্বাসি ছিলাম। তবে এখানেই বাদ সাধে বৈদেশিক মুদ্রার চড়া বিনিময় হার।

স্কলারশিপ এজেন্সি পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহ করলেও আরও কত শত খরচের খাত যে আছে! বৈদেশিক মুদ্রার তফাতটা তাই হাড়ে হাড়েই টের পেতে শুরু করি। আমি যখন কানাডায় এলাম, তখন এক কানাডীয় ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রার মান ৬০-৬২ টাকার মতো। আর প্রতি মার্কিন ডলার কিনতে হতো সম্ভবত ৮০ থেকে ৮৪ টাকায়। কানাডা যাওয়ার আগ পর্যন্ত যেকোনো খরচ ডলারেই দিতে হচ্ছিল।

২০২১ সালে যখন কানাডায় পড়তে গেলাম, স্বাভাবিকভাবেই নিজের আবাস, খাবার খরচ, যাতায়াত খরচ- জীবন নির্বাহের জন্য যা যা প্রয়োজন তা চালিয়ে নেয়ার জন্য একটা শিক্ষার্থীবান্ধব বাজেট বানিয়ে ফেললাম। খেয়ে-পরে সমান সমান অবস্থা, ভালোই দিন কেটে যাচ্ছিল তখন। প্রয়োজনে ধারেকাছে কিছু জায়গায় ঘোরাঘুরিও করে ফেলেছি এরমধ্যে। তবে সময় যতই যাচ্ছে, বিশ্ব ততই অস্থিতিশীল হচ্ছে। এর প্রভাব আমিও যে টের পাইনি, তা বললে ভুল হবে। ছোট্ট দুটি উদাহরণ দিই।

২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে আমি যেই কমলার ব্যাগ কিনেছিলাম ৪ ডলারে, এ বছর সেই একই জিনিসের দাম বেড়ে হয়েছে ৮ ডলার। ২০২১ সালে ৩ লিটার তেলের দাম মাত্র ৯ ডলার হলেও হাল আমলে তা বেড়ে প্রায় ১৫ ডলারে পৌঁছেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি জিনিসের দামই দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

আমরা যারা শিক্ষার্থী, তাদের ২০২১ সালে তৈরি করা বাজেটে এখনকার বিদেশি বাজার প্রেক্ষাপট আর মিলছে না একদমই। ভর্তুকি দেয়ার কেউ নেই। টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্সের বেতন নামেমাত্র বেড়েছে, যা নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি সামাল দেয়ার মতো যথেষ্ট নয়। এমন সময়গুলোতে পরিবারের সেফটি নেটের কথা খুব মনে পড়ে। মনে পড়ে কানাডা আসার আগে তারা আমাকে যে রকমভাবে হাতটা ধরে রেখেছিল, তা কতটা অমূল্য।

ডলারের বিনিময় মূল্য বাড়ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জীবনযাত্রার খরচ। এমনকি ৬০-৬২ টাকার কানাডিয়ান ডলারের মূল্যমান এখন ৭৫ টাকার বেশি। যারা এ বছর বাংলাদেশ থেকে বাইরে পড়াশোনার জন্য যাচ্ছে, আমি তাদের কথা ভাবি। বিমান ভাড়া, আবেদন ফি কিংবা পর্যাপ্ত টাকা ব্যাংকে দেখাতে গিয়ে তাদের গত বছরের চেয়ে ১২ শতাংশের বেশি খরচ হচ্ছে। মুদ্রামানের এই তফাত শুধু যে খরচের ওপর প্রভাব ফেলছে তা নয়, আমার মনে হয়, এটির প্রভাব আরো দীর্ঘস্থায়ী এবং গাঢ়।

আমার পর্যবেক্ষণে এর অন্যতম কারণ হলো, বাংলাদেশের প্রায় শিক্ষার্থীই যারা বিদেশে পড়তে যায় তারা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে তাদের পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে থাকে। বিদেশে নিজেদের ভরণ-পোষণ যা-ই হোক না কেন, দেশের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থে নড়চড় হতে দেখি নাই আমি অনেকের ক্ষেত্রেই। এখন, যদি আমাকে কেউ জিজ্ঞাসা করে, ডলারের মূল্য বৃদ্ধিতে আমি কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি কিনা, ভেবে বলতে গেলে ক্ষতির মাত্রাটা ক্রমশ বর্ধমান। শুধু আমি না, যেকোনো শিক্ষার্থীর জন্যই ডলারের মূল্য বৃদ্ধি বড় এক পেরেশানের কারণ। তবে, যেহেতু আমি স্কলারশিপ পাচ্ছি, আমি হয়তো তুলনামূলকভাবে ভালো আছি। কিন্তু, আমার পরিচিত অনেকেই আছেন যারা নিজস্ব ফান্ডে পড়াশোনা করছেন, তাদের জীবনের গল্প মহাকাব্যের চেয়ে কম নয়। তাই ডলারের দাম বৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের জন্য অশনি সংকেতই দিচ্ছে।

মন্দের মধ্যেও যদি ভালো কিছু বলতে হয়, দেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার সময় ডলারের দাম বৃদ্ধি যতটা না গতরে লাগে, বিদেশ থেকে দেশে টাকা পাঠাবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মুখমণ্ডল যেন একটু উজ্জ্বল দেখায়। কারণ ডলারের দাম যে ১০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে! মুদ্রাস্ফীতি এই এক ক্ষেত্রেই মধুর মনে হলেও এর শেষ পরিণতির ভুক্তভোগী আমাদের মতো জনসাধারণই।

লেখক: পিএইচডি ক্যান্ডিডেট, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি


সাফজয়ী ফুটবলার গড়ার কারিগর

সাফজয়ী ফুটবলার গড়ার কারিগর
মনিকা চাকমা, আনাই মগিনি ও আনুচিং মগিনিদরে মাঝে তাদের শিক্ষক বীরসেন চাকমা। ছবি: দৈনিক বাংলা
সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙামাটি
প্রকাশিত

ফুটবলারের খোঁজে নানান জায়গায় ঘুরে বেড়ান বীরসেন চাকমা। খোঁজ পেলে প্রশিক্ষণের জন্য তুলে দেন শান্তি মনি চাকমার হাতে। ধ্যানজ্ঞান এককরে এভাবেই তারা রাঙামাটির ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গড়ে তোলেন নারী ফুটবল দল। তাদের সে চেষ্টা যে বৃথা যায়নি, সাফজয়ী নারী ফুটবল দল তার প্রমাণ। দলের পাঁচ তারকা ফুটবলারের শুরুটা হয়েছে পাহাড়ের কোলঘেঁষা সেই স্কুলে, এই দুজনের হাতে। রাঙামাটি থেকে ফুটবলার গড়ার কারিগরদের কথা জানাচ্ছেন সুপ্রিয় চাকমা শুভ

ঘাগড়া (বহুমুখী) উচ্চ বিদ্যালয়ের অবস্থান রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলটির নাম ক্রমেই সুপরিচিত হয়ে উঠছে। কারণ, সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের মনিকা চাকমা, আনাই মগিনি, আনুচিং মগিনি, ঋতুপর্ণা চাকমা ও গোলরক্ষক রূপনা চাকমার স্কুল এটি। ফুটবলে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণও তারা পেয়েছেন এখানেই। এই ফুটবলারদের এককাট্টা করতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন বীরসেন চাকমা। গ্রামে গ্রামে ঘুরে ফুটবলার খুঁজে বেড়ানো তার নেশা। আর সেই খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দেন ঘাগড়া স্কুলের ফুটবল প্রশিক্ষক শান্তি মনি চাকমা।

আনাই মগিনি, আনুচিং মগিনি ও মনিকা চাকমার বাড়ি খাগড়াছড়িতে। এদের মধ্যে মনিকা থাকতেন সবচেয়ে দুর্গম উপজেলা লক্ষ্মীছড়িতে। সেখান থেকে ঘাগড়াতে চলে আসেন তিনি। ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়ি ঘাগড়াতেই। তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলটিতে পড়ে চলে যান বিকেএসপিতে। রূপনা চাকমার বাড়ি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ভূঁইয়ো আদামে। রূপনা এখন ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়েন। বাকিরা এখান থেকেই এসএসসি পাস করেন।

সাফজয়ী নারী দলের ফুটবলার আনাই মগিনির সঙ্গে তার শৈশব-কৈশোরের স্কুল নিয়ে কথা হয়। কীভাবে স্কুলে এসে ভর্তি হলেন, বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলেন, স্কুলের সকাল-বিকেল প্রশিক্ষণ এবং সেখান থেকে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার দিনগুলো উঠে এল তার কথায়। বীরসেন চাকমা ও শান্তি মনি চাকমার কথা বললেন বারবার করে। জানালেন, ‘বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টে আমরা জিতলাম। এরপর ভর্তি হই ঘাগড়া স্কুলে ভর্তি হই। শান্তি মনি স্যার আমাদের ট্রেনিং দিতেন। আর সবকিছুতে সব সময় সঙ্গে ছিলেন বীরসেন স্যার। যেকোনো সমস্যায় স্যার এগিয়ে আসতেন। ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়েছি এই স্কুলে।’

ছড়িয়ে যাচ্ছে স্বপ্ন

প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে ঘাগড়া বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবলের দীক্ষা দেন শান্তি মনি চাকমা। বিদ্যালয় থেকে সেরা ফুটবলার তৈরির চেষ্টায় নারী ফুটবলারদের আবাসিক হোস্টেলের ব্যবস্থা করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মনেপ্রাণে ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছা থেকে অনেক ছাত্রী বাড়ি ছেড়ে হোস্টেলে এসে ওঠে প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য। রূপনাদের স্বপ্ন ছড়িয়ে গেছে তাদের মধ্যেও। জাতীয় দলে খেলার অদম্য ইচ্ছা থেকে নিয়মিত অনুশীলন করে যাচ্ছে বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী নবনিতা চাকমা। জানতে চাইলে বলেছে, ‘জাতীয় দলের হয়ে মনিকা, আনাই, আনু, রিতু, রূপনা দিদিদের মতো বড় খেলোয়াড় হতে চাই। আমাদের সকাল-বিকেল প্রতিদিন ফুটবল অনুশীলন করাচ্ছেন শান্তি মনি স্যার।’

একই স্বপ্ন নবম শ্রেণির আরেক ছাত্রী জুলেখা চাকমার। বড় ফুটবলার হবে সে। সে কারণেই বাংলাদেশের মেয়েদের বিজয়ে তার আনন্দ যেন আর ধরে না। মেন্টি চাকমাও দেখে একই স্বপ্ন। থাকে স্কুলের হোস্টেলে। আগ্রহ নিয়ে বলে, ‘ঘাগড়া স্কুলে সকালে এবং বিকেলে অনুশীলন হয়ে থাকে। ফুটবলকে ভালোবেসে ফুটবল অনুশীলনের জন্য স্কুলের হোস্টেলে থাকি। এক দিন যেন স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।’

‘মনে হচ্ছে যেন নিজেই চ্যাম্পিয়ন’

মনিকা-ঋতুপর্ণাদের প্রথম বড় টুর্নামেন্ট ছিল বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট। তারা সে সময় মঘাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। বীরসেন চাকমা তখন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। সে ব্যাপারে জানতে চাইলে কিছুটা আক্ষেপের সুরেই বীরসেন বলেন, ‘২০১২ সালে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ঘাগড়ার মঘাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু জেলা পর্যায়ে কোনো ক্লাবই তাদের স্বীকৃতি দেয়নি। শুধু তা-ই নয়, যখন তারা বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও পৌরসভা মেয়রের কাছে গিয়েছিলাম। নিজের জন্য না, গিয়েছিলাম খেলোয়াড়দের জন্য। মেয়েদের এত দূর আসার পেছনে শান্তি মনি চাকমা, সুইলা মং মারমা, চন্দ্র বিকাশ দেওয়ানসহ অনেকে ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু সরকারি-বেসরকারিভাবে কেউ পাশে দাঁড়াননি। সে যা হোক, তাদের এই অর্জনে খুব গর্ববোধ হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন চ্যাম্পিয়ন আমি নিজে হয়েছি।’

বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টের পর সব খেলোয়াড়কে একত্র রাখতে ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়েছিল বলে জানালেন বিদ্যালয়ের ফুটবল কোচ শান্তি মনি চাকমা। তিনি বলেন, ‘তখন বিদ্যালয়ে এসে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে থাকি। এভাবে ধাপে ধাপে তারা শিরোপা অর্জন করে। একপর্যায়ে ডাক পায় ফেডারেশনে। আজ তারা জাতীয় দলের সেরা খেলোয়াড়।’

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এই মেয়েদের খেলা দেখছেন শান্তি মনি চাকমা। সে সম্পর্কে বলেন, ‘তাদের প্রতিটি খেলাই দেখেছি। চমৎকার খেলেছে। ছোটবেলা থেকে যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি, তাদের বিজয় দেখে আমার পরিশ্রমকে আর কিছু মনে হয় না।’

ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রী যেমন আছে, ছাত্রও আছে। সবার খেলার ব্যবস্থাও আছে। তবু মেয়েরাই কেবল উঠে আসছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশিক্ষক শান্তি মনি চাকমা বলেন, ‘এর আগে ছেলেদের প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। কিন্তু ছেলেরা এক দিন এলে তিন দিন প্রশিক্ষণে আসত না। নিয়মিত অনুশীলন হতো না। নারী ফুটবলাররা মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন করায় তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তাদের অনুশীলনের ফলাফল এখন সবার চোখের সামনে। ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয় সুনাম অর্জন করেছে।’

মনিকা-রূপনাদের উঠে আসার সে গল্পই শোনালেন ঘাগড়া (বহুমুখী) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চন্দ্রা দেওয়ান। বললেন, ‘তারা সর্বপ্রথম খেলেছিল প্রাথমিকের বঙ্গমাতা খেলাটি। তখনই তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সব ব্যবস্থা করেছিলেন বীরসেন চাকমা। তিনি মনিকাকে লক্ষ্মূছড়ি থেকে, আনাই-আনুকে এনেছিলেন খাগড়াছড়ি থেকে। তখন রূপনা ছিল না। বঙ্গমাতার পরে তাদের ভর্তি করানো হয়। শুধু তাদের নয়, বিভিন্ন জায়গা থেকে খেলোয়াড় সংগ্রহ করা হয়েছিল। তারা প্রতিদিন শান্তি মনি চাকমার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিত। একসময় তারা জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পায়।’



পুরান ঢাকার পুরোনো ক্যাফে

পুরান ঢাকার পুরোনো ক্যাফে
নিউ ক্যাফে কর্নার
ফিচার প্রতিবেদক
প্রকাশিত

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে নগর জীবন। নগর জীবনে ক্লান্তিময় পথ পেরিয়ে এগিয়ে চলে জীবনযাত্রা। সময়ের পাতায় পরিবর্তন হয় দিনক্ষণ কিন্তু সময় তার ইতিহাসের চিহ্ন ঠিকই রেখে যায়। আমাদের আনাচ-কানাচে অনেক ঐতিহাসিক স্থান আছে, যা আমাদের চোখের অন্তরালেই থেকে যায়। ঠিক তেমনি একটি স্থান ক্যাফে কর্নার। পুরান ঢাকার পুরোনো খাবার দোকান। বাংলাবাজার পার হয়ে প্যারিদাস রোডের পথে। লালকুঠির ঠিক আগের মোড়ে হাতের বাঁ দিকের ছোট্ট দোকানটিই ক্যাফে কর্নার। প্রায় ৭০ বছর ধরে পুরান ঢাকার মানুষের কাছে জনপ্রিয় এক রেস্তোরাঁ ‘নিউ ক্যাফে কর্নার’। 

দীর্ঘদিনের সেই চিরচেনা, সেই স্বাদ ধরে রেখেছে রেস্তোরাঁটি। কথিত আছে, কবি জসীমউদ্‌দীন, শামসুর রাহমানের মতো বিখ্যাত মানুষরাও নাকি খেতে আসতেন এখানে। আমি আর সহধর্মিণী সানন্দা বের হয়েছি বৈকালিক ভ্রমণে। আজ নতুন গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছেন ভ্রমণসঙ্গী। আজকের গন্তব্য ক্যাফে কর্নার। চলতি পথে সানন্দা বলল ছোট বেলায় যখন গল্পের বই কিনতে বের হতো তখন বাবার সঙ্গে ক্যাফে কর্নারে মুখরোচক খাবার খেতে আসতো। এই ক্যাফে কর্নারে অনেক গুণী মানুষের পদধূলি পড়েছে। তাই সেই পথেই আজ আমাদের যাত্রা। পথের ঠিকানা অনেক দিন ধরে না আসার জন্য ভুলে গেছেন সঙ্গিনী। তাই বাধ্য হয়েই পথচারীর সহায়তা নিতেই হলো। আমরা এসে উপস্থিত হলাম কাঙ্ক্ষিত ক্যাফে কর্নারের সামনে। দোকানে ঢুকে মনে হলো কোনো সাদাকালো ছবির ফ্রেমে ঢুকে গিয়েছি। ছয়-সাতটা টেবিল আর লোহার রডের চেয়ারগুলো যেন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। সাদা প্লাস্টিক বোর্ডের ওপর নীল হরফের মূল্য তালিকা হলদে হয়ে এসেছে। নেই কোনো বর্তমান সময়ের জাঁকজমকপূর্ণ আবাহ, তবে ইতিহাসের স্মৃতিচিহ্ন ঠিকই ধরে রেখেছে। প্রবেশেই দেখা পেলাম প্রবীণ, নবীনের মেলবন্ধন। সবাই চুটিয়ে আড্ডায় মত্ত। বসার কোনো জায়গাই নাই, তাই নিরুপায় হয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হলো বৈকি। অপেক্ষার পালা শেষ করে আমরা বসার সুযোগ পেলাম। হাসিমুখে এগিয়ে এলেন একজন। জানতে চাইলেন কী খাবেন। বলতেই আমি বললাম কী কী আছে বৈকালিক খাবারের আয়োজনে। উত্তরে বলা হলো ‘ক্রাম্প চপ’, ফিশ ফ্রাই, চিংড়ি ফ্রাই, কিমা-আলুর চপ, কাটলেট, চিকেন ফ্রাই। কী লাগবে, আমি খানিক ভেবে বললাম সব আইটেম চেখে দেখতে চাই। তাই সবগুলোই দেন। আমরা অপেক্ষা করতে লাগলাম খাবারের জন্য। লক্ষ্য করলাম আশপাশের প্রায় টেবিল থেকে ‘ক্রাম্প চপ’ দেয়ার জন্য বলা হচ্ছে। তখন বুঝতে আর বাকি রইল না ‘ক্রাম্প চপ’ এখানের জনপ্রিয় খাবার। স্বল্প সময়ের মধ্যে আমাদের মাঝে পরিবেশন করা হলো খাবার সমূহ। সবার প্রথমেই মুখে দিলাম ক্রাম্প চপে, অসাধারণ স্বাদ খাসির মাংসের তৈরি।

 নিউ ক্যাফে কর্নারের বিখ্যাত ‘ক্রাম্প চপ’

 একে একে সব আইটেম চেখে দেখলাম, অসাধারণ স্বাদ। কথা হলো উপস্থিত একজন ক্রেতা রফিক সাহেবের সঙ্গে। তিনি বললেন- ক্যাফে কর্নার আকারে ছোট হলেও এক কালে এবং এখনও এর খাবারের কদর বড় বড় মানুষের কাছে আছে। ষাট-সত্তরের দশকে এখানে নামিদামি কবি-সাহিত্যিকদের আড্ডা জমত। এখনো লেখক-প্রকাশকরা বসে খান, গল্প করেন। খাবারের টানে এখনো ছুটে আসেন পুরোনো খদ্দেররা। প্রৌঢ় খদ্দেরদের ভিড়টাই বেশি তবে এখন প্রচুর তরুণ আসেন। 

ক্যাফে কর্নার শুরু হয়েছিল নিবারণ ঘোষের হাত ধরে। ঘোষ পরিবার দেশ ছেড়ে চলে গেলে ১৯৯৫ সালে দোকানটির মালিকানা হাতবদল হয়। তবে ব্যবসা বদল হয়নি। বর্তমান মালিক সোলায়মান সাহেব। পুরোনো মেন্যুটি জনপ্রিয় হওয়ায় তিনি আর তাতে কোনো পরিবর্তন করেননি। উপস্থিত লোকের কাছ থেকে জানা যায় ক্রাম্প চপের দাম শুরু হয়েছিল প্রতিটি ১০ আনা থেকে, যা এখন ১০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। ‘এখন খাসির মাংসের কেজি ৭০০ টাকা। তাই দাম বাড়াতে হয়েছে। ক্যাফে কর্নারে ক্রাম্প চপের চল শুরু করেছিলেন দোকানটির প্রথম রাঁধুনি জোসেফ গোমেজ। তার কাছ থেকে কাজ শিখে ‘কারিগর’ বা রাঁধুনি হিসেবে ২৬ বছর কাজ করেন জন গোমেজ।

এই রেস্তোরাঁর জনপ্রিয় আইটেম হলো ক্রাম্প চপের। রেস্তোরাঁর শুরু থেকেই এই আইটেমটি রয়েছে খাবার তালিকায়। খাসির মাংসের কাটলেটের মতো খাবারটি পরিবেশন করা হয় গরম-গরম পাউরুটির সঙ্গে। ১৪০ টাকায় মিলবে ব্রিটিশদের অত্যন্ত পছন্দের এই খাবারটি। এ ছাড়া সকালের নাশতা করতেও চলে যেতে পারেন। মাত্র ১৫ টাকায় পাবেন পরোটা ও ডালভাজি। চাইলে পরোটার সঙ্গে নিতে পারেন ডিম কিংবা খাসির ভুনা। খাসির ভুনা পাবেন ৮০ টাকায়। দুপুর ও রাতের খাবার তালিকায় রয়েছে মোরগ-পোলাও। দাম পড়বে ১১০ টাকা। নাশতা আইটেমে থাকছে আলুর চপ, মোগলাই পরোটা, কাটলেট, চিংড়ি ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই ও ফিশ ফ্রাই। দাম পড়বে মাত্র ১০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যেই। 




ফটোফি বর্ষসেরা আলোকচিত্রী ইমন

ফটোফি বর্ষসেরা আলোকচিত্রী ইমন
ফটোফি বর্ষসেরা আলোকচিত্রী পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিজয়ীর হাতে সনদ তুলে দেন অতিথিরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

লালমনিরহাটের ছেলে ইমন মোস্তাক আহমেদ। জীবিকার তাগিদে বাড়ি ছেড়ে পড়ে থাকতে হচ্ছে ঢাকা শহরে। তবে ইট-পাথরের এই শহরের অলিগলিতে তিনি তার ফেলে আসা প্রকৃতিকে খুঁজে বেড়ান। কয়েক বছর ধরে তিনি মোবাইলফোনের ক্যামেরায় ধারণ করছেন প্রকৃতির শহুরে রূপ। তারই প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর তোলা ‘ইন দ্য সার্চ অব লস্ট হারমোনি’ ছবিতে।

আর এই ছবির জন্য তরুণ ইমন জিতে নিয়েছেন একাদশ ‘ফটোফি বর্ষসেরা আলোকচিত্রী পুরস্কার’। ঢাকার ফটোফি একাডেমি অব ফাইন-আর্ট ফটোগ্রাফি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে ইমন মোস্তাক আহমেদ পেয়েছেন একটি ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও ২০ হাজার টাকা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আলোকচিত্রী শফিকুল আলম কিরণ, ফটোসাংবাদিক ও গবেষক সাহাদাত পারভেজ, আলোকচিত্রী জয় কে রায় চৌধুরী প্রমুখ।

শফিকুল আলম কিরণ বলেন, ‘স্টিললাইফও যে জীবন্ত হতে পারে, ইমনের ছবিগুলো দেখলে তা অনুভব করা যায়। ক্যামেরা ও ক্যামেরা সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতাকে ডিঙিয়ে ইমন এগিয়ে যাচ্ছে, তাকে অভিবাদন জানাই।’

ফটোফির প্রধান সমন্বয়ক সিরাজুল লিটন বলেন, ‘২০১১ সাল থেকে এই পুরস্কার দেয়া শুরু হয়েছে। প্রতিশ্রুতিশীল ফাইন-আর্ট আলোকচিত্রীদের উৎসাহিত করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।’


অনলাইনে পাখির হাসপাতাল !

অনলাইনে পাখির হাসপাতাল !
বাজরিগার
ফিচার প্রতিবেদক
প্রকাশিত

ফেসবুকে বাংলাদেশি একটি প্রাইভেট গ্রুপ, তাও আবার শুধুমাত্র পাখি পালকদের ! তাতে সদস্য সংখ্যা নাকি ৪৭ হাজারের বেশি ! অবিশ্বাস্য হলেও এমনই এক অভিনব ভার্চুয়াল কমিউনিটির সন্ধান পাওয়া গেছে। যাদের মূল কাজ খাঁচায় লালন পালন বৈধ এমন সব পাখিদের সবচেয়ে ভালো রক্ষণাবক্ষেণ এবং সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। তাই গ্রুপের নাম দেয়া হয়েছে বার্ড হসপিটাল অব বাংলাদেশ ৷ সংক্ষেপে বিএইচবি।

২০২০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরে পাখি পালক সুলতান আহমেদ মিজুর উদ্যোগে তৈরি হওয়া এই গ্রুপে নবীন-প্রবীণ অভিজ্ঞ পাখি পালকদের সমন্বয়ে গঠিত এডমিন প্যানেলের মোট সদস্য সংখ্যা ১৫ জন। যারা সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে একশটি পাখির শারীরিক ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান দেন। একেকজন একেক শহরে, এমনকি একেক দেশে বসেও। সেবাগ্রহিতারাও শুধুমাত্র দেশের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নন। এই ভার্চুয়াল হসপিটাল থেকে অহরহ সেবা নিচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিসহ পশ্চিমবঙ্গের বহু পাখি পালক।

সম্প্রতি ঢাকার একটি রেস্তরাঁয় অনাড়ম্বরে উদযাপিত হলো সেই বার্ড হসপিটালের দুই বছর পূর্তি ও তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ অনুষ্ঠান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ পাখি পালক ডা. এম এ মান্নান, আইনজীবী ও চলচ্চিত্রকার খান জেহাদ, সফল বার্ড ব্রিডার ইয়াসমিন লিপি, মাহমুদ মাহাদী, তাহমিদুল কবির তন্ময় এবং অনলাইনে যুক্ত ছিলেন ডা. সালাহউদ্দিন শাকিল (ময়মনসিংহ) ,আবু সাঈদ (রাজবাড়ি), মৌমিতা আহমেদ (কুড়িগ্রাম), শাহেদ আলম (খাগড়াছড়ি) , মো. আরমান হোসেন শাওন (ফেনি) এবং মো. আরিফ (কাতার) সহ অনেকেই।