শনিবার, অক্টোবর ১, ২০২২

পেনসিলে আঁকা হাওর

পেনসিলে আঁকা হাওর
নিকলির হাওর। ছবি: লেখক
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

আতিক মোহাম্মদ শরীফ

আগস্টের শেষে সন্ধ্যায় হঠাৎ বন্ধু মঞ্জিলের ফোন আসে। বলে, কোথায় আছিস? কাছেই, জানালাম আমি। দেখা হলো ওর সঙ্গে। তবে ও একা নয়। আরেক বন্ধু সাগরও আছে ওর সঙ্গে।

হঠাৎ জরুরি তলব? জানতে চাইলাম আমি।

প্ল্যান আছে ওদের। খুলে বলল, কোথাও বেড়াতে যেতে চায়। আমাকে নিয়ে।

কোথায়?

কিশোরগঞ্জের নিকলী।

দিনক্ষণ ঠিক হলো। যথসময়ে তিন বন্ধু বেরিয়ে পড়লাম, মাইক্রোবাসে। দিনটা ছিল শুক্রবার। সকাল সাতটায় ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু হলো আমাদের। একটানা দুই ঘণ্টা চলল আমাদের মাইক্রোবাস। সকাল নয়টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম ভৈরবে। কিছুক্ষণের যাত্রাবিরতি সেখানে। সকালের নাশতাটা সেখানেই সারলাম, জান্নাত হোটেলে। তারপর বাজিতপুর হয়ে আমাদের মাইক্রোবাস ছুটল নিকলীর পথে। হাওরের নৈসর্গিক সোন্দর্য দৃষ্টিসীমার মধ্যে আসা শুরু করে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে। মুগ্ধতার শুরু সেখানেই। এগোতে এগোতে একসময় সারি বাঁধা নৌকার ঘাটে পৌঁছাই। নীল দিগন্ত আর ফেনিল জলরাশি মিলেমিশে যেন একাকার। এরপর নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি পার্কিং করে নৌকা ঠিক করার পালা।

হাওরের বুকে আকাশ-পানি যেন একাকার। ছবি: লেখক
হাওরের বুকে আকাশ-পানি যেন একাকার। ছবি: লেখক

মাঝিরা নিজ নিজ নৌকার সুবিধা বোঝাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দুই হাজার টাকা চুক্তিতে উঠে পড়লাম একটা নৌকায়। গন্তব্য মিঠামইন। চারপাশে উন্মুক্ত প্রকৃতি। নীল আকাশ, ফেনিল জলরাশি সবকিছু যেন মুগ্ধতা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল। খোলা আকাশের নিচে ছই ছাড়া নৌকায় বসে একদল সৌন্দর্যপিয়াসী। শ্রাবণের মেঘমুক্ত আকাশ থেকে আসা রোদের দাবদাহ কম নয়। কিন্তু চারপাশের সৌন্দর্য, ছলকে ছলকে আসা হাওরের জলধোয়া বাতাস ক্লান্তি ভর করতে দেয়নি দেহমনে।

মিঠামইনের কাছাকাছি এসে দেখা পেলাম বেশ কিছু হিজলগাছের। পানিতে নামার জন্য আদর্শ জায়গা। অনেকেই ভিড় করেছেন এখোনে, গোসলের জন্য। একদল কিশোর এসেছে এ সুযোগে ব্যবসা করতে। সাবান-শ্যাম্পু ফেরি করছে ওরা।