শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

মুগ্ধতার আরেক নাম - স্বর্ণমন্দির

স্বর্ণমন্দির
ফিচার প্রতিবেদক
প্রকাশিত
ফিচার প্রতিবেদক

ভারতের পশ্চিম প্রান্তে পাঞ্জাব প্রদেশ দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রদেশ। রাজনৈতিক দিক দিয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লবী ইতিহাস ও পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াগা বর্ডারের কারণে। সংস্কৃতির দিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাঞ্জাবি ভাষা থেকে শুরু করে পাঞ্জাবি মিউজিক, মুভি, পাঞ্জাবি খাবার ও ধাবা সারা ভারতে জনপ্রিয়, ধর্মীয় দিক থেকে সারা পৃথিবীতে অন্যতম সেরা একটি জায়গা। কারণ পাঞ্জাবের অমৃৎসরে রয়েছে শিখ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় তীর্থস্থান স্বর্ণমন্দির। পাঞ্জাবের অমৃৎসর ঘুরতে গিয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ দিক এক্সপ্লোর করার অভিজ্ঞতা নিয়েই আজকের এই লেখা।

আমার পাঞ্জাব অভিজ্ঞতার মধ্যে ছিল শিখ সম্প্রদায়ের কাছে পূতপবিত্র স্বর্ণমন্দিরকে নানাভাবে এক্সপ্লোর করা, স্বর্ণমন্দিরে অবস্থিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কমিউনিটি কিচেনে খাবার খাওয়া, ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহাসিক ওয়াগা বর্ডারের কুচকাওয়াজ দেখা, পাঞ্জাবের ঐতিহ্যবাহী পাগড়ি পরা ও সেই পাগড়ি পরে ঘোরা, পাঞ্জাবের বিখ্যাত কিছু লোকাল খাবার খাওয়া। এ ছাড়া জালিয়ানওয়ালা বাগ, পার্টিশন মিউজিয়াম, খালসা কলেজসহ অমৃৎসর শহর ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে।

পাঞ্জাবে গেলে সবারই আগ্রহের মূল জায়গা থাকে স্বর্ণমন্দির এবং আমারও এর ব্যতিক্রম ছিল না। কোনো একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় তীর্থস্থানে যেতে পারা যে কারো জন্য দারুণ একটি অভিজ্ঞতা। মুসলমান হয়ে শিখ সম্প্রদায়ের পবিত্র স্বর্ণমন্দির যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমার জন্য জীবনের অন্যতম দারুণ ঘটনার একটি। স্বর্ণমন্দির আমাকে নানা দিক দিয়ে ইমপ্রেস করেছে। অমৃৎসর পৌঁছে আমাদের প্রথম কাজ ছিল সঙ্গে থাকা বিশাল ব্যাগটি নিরাপদ স্থানে রাখা। সাধারণত ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ডসহ নানা স্থানে এই ব্যবস্থা আছে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানলাম অমৃৎসরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ স্থান স্বর্ণমন্দির। আপনি যেখান থেকেই যত ব্যাগ নিয়ে আসুন খুবই পরিকল্পিতভাবে কোনো খরচ ছাড়াই স্বর্ণমন্দিরের লকারে রাখতে পারবেন। জুতা বা ব্যাগ রাখা থেকে শুরু করে খাবার- স্বর্ণমন্দিরে সব ফ্রি! সবকিছু এত পরিকল্পিত ও সমস্যাহীন যে এখানে আসার সঙ্গে সঙ্গে নানা প্রসেস দেখে আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন।