বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২

ফটোফি বর্ষসেরা আলোকচিত্রী ইমন

ফটোফি বর্ষসেরা আলোকচিত্রী পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিজয়ীর হাতে সনদ তুলে দেন অতিথিরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক,
প্রকাশিত
প্রতিবেদক,

লালমনিরহাটের ছেলে ইমন মোস্তাক আহমেদ। জীবিকার তাগিদে বাড়ি ছেড়ে পড়ে থাকতে হচ্ছে ঢাকা শহরে। তবে ইট-পাথরের এই শহরের অলিগলিতে তিনি তার ফেলে আসা প্রকৃতিকে খুঁজে বেড়ান। কয়েক বছর ধরে তিনি মোবাইলফোনের ক্যামেরায় ধারণ করছেন প্রকৃতির শহুরে রূপ। তারই প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর তোলা ‘ইন দ্য সার্চ অব লস্ট হারমোনি’ ছবিতে।

আর এই ছবির জন্য তরুণ ইমন জিতে নিয়েছেন একাদশ ‘ফটোফি বর্ষসেরা আলোকচিত্রী পুরস্কার’। ঢাকার ফটোফি একাডেমি অব ফাইন-আর্ট ফটোগ্রাফি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে ইমন মোস্তাক আহমেদ পেয়েছেন একটি ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও ২০ হাজার টাকা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আলোকচিত্রী শফিকুল আলম কিরণ, ফটোসাংবাদিক ও গবেষক সাহাদাত পারভেজ, আলোকচিত্রী জয় কে রায় চৌধুরী প্রমুখ।

শফিকুল আলম কিরণ বলেন, ‘স্টিললাইফও যে জীবন্ত হতে পারে, ইমনের ছবিগুলো দেখলে তা অনুভব করা যায়। ক্যামেরা ও ক্যামেরা সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতাকে ডিঙিয়ে ইমন এগিয়ে যাচ্ছে, তাকে অভিবাদন জানাই।’

ফটোফির প্রধান সমন্বয়ক সিরাজুল লিটন বলেন, ‘২০১১ সাল থেকে এই পুরস্কার দেয়া শুরু হয়েছে। প্রতিশ্রুতিশীল ফাইন-আর্ট আলোকচিত্রীদের উৎসাহিত করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।’

আর্জেন্টিনার টিভি-রেডিও প্রায় প্রতিদিন আমার সাক্ষাৎকার নিচ্ছে

আব্দুল্লাহ আল সাকী আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের পাঁড় ভক্ত
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ২১:৪৬
আব্দুল্লাহ আল সাকী

স্প্যানিশ শিখছি বেশ কয়েক বছর হলো। অনেক দিনের ইচ্ছার প্রতিফলন এই ভাষা শেখা। বিবিএর পর সবাই যখন ব্যস্ত হয়ে গেল চাকরি বা মাস্টার্সের জন্য, তখন আমি গিয়ে ভর্তি হলাম স্প্যানিশ শিখতে। সুফলও পেলাম হাতেনাতে। একাধিকবার স্পেন ভ্রমণ এবং বাংলাদেশে অবস্থিত স্পেনের দূতাবাসে কাজ করার সুযোগ পেয়ে গেলাম।

ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনা আর ছোটবেলা থেকে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের ভক্ত। নেহাল ভাই আমার খুব কাছের এক বড় ভাই। উনি এক দিন জিজ্ঞেস করলেন, আর্জেন্টিনার এক ভক্তের সাক্ষাৎকার নিতে চায় সে দেশের একটি রেডিও, স্প্যানিশেই ওদের সঙ্গে একটা সাক্ষাৎকার দিতে আমি আগ্রহী কি না। সুযোগটা হাতছাড়া করলাম না। ‘রাদিও কন বস’ নামে সেই রেডিওতে কথা বললাম।

পর দিনই আর্জেন্টিনার ‘আমেরিকা টিভির’ প্রযোজক লাউতারো আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার এত এত সমর্থক থাকার ব্যাপারটা সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে এবারই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে, আর্জেন্টাইনদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হয়েছে।

পোল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম রাউন্ডে আর্জেন্টিনার শেষ খেলার পরপরই লাউতারো হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিলেন। আমাকে বললেন, তুমি একটু বাইরে গিয়ে ভিডিও করে পাঠাও। রাত তখন সাড়ে ৩টা। এত রাতে কই যাব? পরে ওকে বাংলাদেশি টিভি চ্যানেল ‘সময় টিভির’ একটা লাইভ রিপোর্টের লিংক পাঠালাম। সেটা দেখে লাউতারো বললেন, তুমি একটু প্রস্তুত থাকো লাইভে কথা বলার জন্য।

আর্জেন্টিনার টিভি চ্যানেল আমেরিকা টিভির অনুষ্ঠানে আব্দুল্লাহ আল সাকী

এদিকে আমার প্রচণ্ড ঘুম পাচ্ছে, সন্ধ্যা থেকে অ্যালার্জিজনিত কারণে হাঁচি-কাশি দিতে দিতে ক্লান্তিকর অবস্থা। চোখ চুলকাচ্ছে। ঘুমাতে পারলে বাঁচি। ঢুলু ঢুলু চোখ নিয়ে কথা বলতে সমস্যা হচ্ছিল। তবু ওই অবস্থায় জার্সিটা পরে মোবাইলের ক্যামেরায় ওদের সঙ্গে আলাপ হলো।

আর্জেন্টাইনরা এবার বাংলাদেশের এই সমর্থকদের নিয়ে অনেক বেশি জানতে ইচ্ছুক। বিস্ময়ে ভরা ওদের প্রশ্নগুলো একই রকম- এত ভক্ত বা সমর্থক কেন এবং কীভাবে?

এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে শেষমেশ কী হয় সেটা জানি না, তবে ওদের জাতীয় ফুটবল দলের প্রতি এই অনুরাগটা অন্তত এত দিনে হলেও ওই দেশ পর্যন্ত, ওদের কাছ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে।

ওরা মূলত অবাক হয়েছে একটা কারণে। এটা আর্জেন্টিনা না, এটা বাংলাদেশ। তবুও মানুষ এমনভাবে আর্জেন্টিনার খেলা উপভোগ করছে, জয় উদ্‌যাপন করছে। যেন এটা আর্জেন্টিনাই। সাক্ষাৎকারে আমাকে জিজ্ঞেস করল, এই ভালোবাসাটা তোমাদের মধ্যে কীভাবে এল। আমি উত্তর দিলাম, এটার শুরু ১৯৮৬ সালে। যখন মেক্সিকো বিশ্বকাপে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন দিয়েগো মারাদোনা নামে সেই আর্জেন্টাইন তরুণ। সে সময় ধীরে ধীরে টিভি পৌঁছাতে শুরু করেছে মানুষের কাছে। এরপর ১৯৯০ সালে সেই মারাদোনা, আর্জেন্টিনা উন্মাদনা এবং ফাইনালে হৃদয়ভঙ্গ।

ব্যক্তিগতভাবে আমি আটানব্বই বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনার ফ্যান, যখন বাতিস্তুতা-ওর্তেগারা খেলত। এরপর তো আরেক বিস্ময় বালকের উত্থান, যার কথা অবশ্যই নতুন করে বলার কিছু নেই। লিওনেল মেসি যার নাম। যার হাতে একটা বিশ্বকাপ দেখার অপেক্ষায় আমরা সবাই।

এদিকে ‘কোদেরে আর্খেনটিনা’ নামে একটি ব্র্যান্ড বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলায় বার্তা দিয়ে একটি ৪৫ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের কাজের জন্য যোগাযোগ করে আমার সঙ্গে। স্ক্রিপ্ট নিয়ে, অনুবাদ করে সেটার পেছনে কণ্ঠদানের কাজ করার অভিজ্ঞতাটিও ছিল অত্যন্ত আনন্দদায়ক।

সে দিনের আমেরিকা টিভির সাক্ষাৎকারের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই আমার সঙ্গে আর্জেন্টিনার বিভিন্ন রেডিও, টিভি চ্যানল যোগাযোগ করে ইন্টারভিউ নিচ্ছে। তার পাশাপাশি এই বিজ্ঞাপনের কাজটি করলাম। এ সব কিছু মিলিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের বাংলাদেশি ভক্ত হিসেবে এবারের বিশ্বকাপটা সবার কাছে তো বটেই, আমার কাছে আরও বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


ক্রিকেট বুঝি না তবু বাংলাদেশকে সমর্থন করি

ক্রিকেট না বুঝেও বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের ভক্ত আর্জেন্টাইন তারকা ড্যান লানদে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ২১:৪৭
ড্যান লানদে

‘আচ্ছা বাংলাদেশ হারছে না জিতছে?’ লিখেছেন এক আর্জেন্টাইন। সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন, ‘এগিয়ে যাও বাংলাদেশ।’ ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের রোববারের ক্রিকেট ম্যাচে এক ফেসবুক গ্রুপে এভাবেই বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছেন আর্জেন্টাইনরা। কেউ কেউ আবার বাংলাদেশের পতাকা-জার্সির খোঁজ শুরু করেছেন। তাদের সিংহভাগ ক্রিকেট বোঝেন না। কেবল আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি বাংলাদেশিদের সমর্থনে মুগ্ধ হয়ে পাল্টা সমর্থন জানাতে এককাট্টা হয়েছেন। ‘ফ্যানস আর্খেনটিনোস দে লা সেলেকসিয়ন দে ক্রিকেট দে বাংলাদেশ’ গ্রুপটির নামের বাংলা করলে দাঁড়ায়—বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আর্জেন্টাইন ভক্ত। গ্রুপটি খুলেছেন ড্যান লানদে নামের এক আর্জেন্টাইন ভ্রমণবিষয়ক লেখক। রোববার তিনি কথা বলেন দৈনিক বাংলার সাপ্তাহিক আয়োজন বাংলার তারুণ্যের সঙ্গে।

গুগল ঘেঁটে আপনার সম্পর্কে জানলাম। তবে আমাদের পাঠকদের নিজের কোনো পরিচয় দেবেন?

আমার নাম ড্যান লানদে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে রুলো দে বিয়াখে (@rulodeviaje) নামেও চেনেন। আমি আর্জেন্টিনার ইউনিভার্সিটি অব বুয়েনস আইরেসের অর্থনৈতিক বিজ্ঞান অনুষদে পড়েছি। আমার বিষয় ছিল উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা। পরামর্শক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করলেও ২০১১ সালে কাজ থেকে এক বছরের বিরতি নিয়েছিলাম। আর সেটাই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। বুঝলাম, ভ্রমণ আর সেটার গল্প বলতেই চাই আমি।

ভ্রমণ নিয়ে লেখা শুরু করলাম, ইনস্টাগ্রামে কনটেন্ট বানাতাম। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্কৃতিকে এক করতে নানা প্রকল্প নিয়ে কাজ করছি। কেবল প্রকৃতিদর্শন নয়, ভ্রমণ থেকে আমি আরও কিছু চেয়েছি। এখন নিজেকে ভ্রমণ, লেখালেখি এবং যে পৃথিবীতে আমাদের বাস, সেটার গল্প বলায় নিবেদিত করতে চাই।

বাংলাদেশের ক্রিকেট দলকে সমর্থন জানানোর ইচ্ছা হলো কেন?

বিগত কয়েক সপ্তাহে আমরা বাংলাদেশের অনেক ভিডিও দেখেছি। সেখানে আর্জেন্টিনার পতাকা আর জার্সি গায়ে বহু মানুষ দেখা গিয়েছে। কেউ বিজয় উদযাপন করছে, কেউ কেউ একসঙ্গে জড়ো হয়ে খেলা দেখছে। আমাদের জাতীয় দলকে এমনভাবে সমর্থন করছে যেন তারা আর্জেন্টাইনই। বাংলাদেশ যেন আরেকটি আর্জেন্টিনা।

মানুষের এত ভালোবাসা আমদের মুগ্ধ করেছে। মনে হয়েছে আমাদের অন্তত ধন্যবাদ জানানো উচিত। বিশ্বকাপ শুরুর পর আমি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়েছিলাম, যারা আর্জেন্টিনার ভক্ত। তাই আমরা আর্জেন্টাইনদের নিয়ে একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলে এমন একটি খেলায় বাংলাদেশিদের সমর্থন করতে চেয়েছি যেটা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রিকেট কতটা বোঝেন?

আমি ক্রিকেটের কিছুই বুঝি না। আমি ভালোবাসি ফুটবল। আর্জেন্টিনায় আমি রিভার প্লেট ক্লাবের ভক্ত। যতদূর মনে পড়ে, শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের সময় একবার ক্রিকেট ম্যাচ দেখেছিলাম। তবে খেলার নিয়মকানুন জানি না। জানি না কীভাবে খেলতে হয়। ক্রিকেটের প্রতি সমর্থন দেখানোটা প্রতীকী। কিছুটা মজা করেই শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশে যদি তারা আমাদের ফুটবলকে সমর্থন দেয়, আমাদের উচিত তাদের ক্রিকেটকে সমর্থন দেয়া।

ফেসবুক গ্রুপটি আর্জেন্টাইনে পরিপূর্ণ ছিল, যারা কেউ ক্রিকেট বুঝত না। তবে সেটা কোনো ব্যাপার না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, দুটি দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা। যা হোক, এখন নতুন এক স্বপ্ন দেখছি আমি। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো গিয়ে সেখানে একটি ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে চাই।

আর্জেন্টাইনদের জন্য খোলা ফেসবুক গ্রুপ এখন বাংলাদেশি দিয়ে পরিপূর্ণ। এমনটা কী ভেবেছিলেন?

গ্রুপ নিয়ে যা হলো, তা স্রেফ পাগলামি। বুঝিনি এর এত বড় প্রভাব থাকবে। ফেসবুকে গ্রুপ খোলা নিয়ে পোস্টটিও টুইটারে ভাইরাল হয়েছে। এক দিনের কম সময়ের মধ্যে ৩০ হাজার মানুষ যোগ দিয়েছে। এরপর দেখলাম বাংলাদেশ থেকেও অনেকে যোগ দিতে শুরু করেছে। হাজারও পোস্ট, হাজারও মেসেজ। সবকিছু যেন নিয়ন্ত্রণ ছাড়া হওয়ার জোগাড়। অনেকে ফেসবুকে রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছেন, মেসেজ করেছেন। কেউ অভিবাদন তো, কেউ ধন্যবাদ দিতে চান। কেউ কেউ আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে, আবার আমার পরিবারের সদস্যদেরও বার্তা পাঠিয়েছেন। শুরুতে কিছুটা ভয়ই পেয়েছিলাম। এরপর মনে হলো, এত ভেবে কী হবে! অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচ ও পরবর্তী উদযাপনে মনোযোগী হলাম।

আপনাকে দিয়ে শুরু করেছিলাম, শেষও আপনাকে দিয়ে করি। আপনার ওয়েবসাইটে দেখলাম, আপনি ভ্রমণ আর সৃজনশীলতা এক করতে চান। সেটা কেমন?

ভ্রমণবিষয়ক লেখকের পাশাপাশি আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা নিয়ে পড়াই। আমি সব সময় শিক্ষার্থীদের বলি, যেকোনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কিংবা সমস্যা সমাধানের অনেক পথ আছে। ভ্রমণ কিংবা কোনো দেশ সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। মানুষ সাধারণত একই জায়গায় একই জিনিস দেখতে যায়। আমার কাছে এই পৃথিবী খুবই চমৎকার এক জায়গা, যার বর্ণনা হাজারও ভাবে দেয়া যায়। মানুষ যত, তাদের দেখার চোখও তত।

কোনো জায়গা সম্পর্কে আমরা যা বলতে চাই, তা আমাদের পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করে। একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তা অনন্য হয়ে ওঠে। আমি সব সময় সৃজনশীল প্রকল্পের মাধ্যমে এই বিশ্বকে তুলে ধরতে চাই। আমার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে (@rulodeviaje) তা শেয়ারও করি।

এর একটি উদাহরণ এই ফেসবুক গ্রুপ। এটা এমন আর্জেন্টাইন ক্রিকেটের ভক্তদের গ্রুপ যাদের ক্রিকেট সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। অথচ দেখুন কীভাবে তা সবার মাঝে ছড়িয়ে গেছে। এখন একটাই প্রত্যাশা, এমন ফলাফলে বিশ্বকাপ শেষ হোক, যা আমরা সবাই চাই। এরপর বাংলাদেশ ঘুরে আসতে চাই।


মুখের সমস্যায় অবহেলা নয়

আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:৫১
ডা. আরমান আরেফিন

বহু মানুষ হামেশাই মুখের ঘায়ের সমস্যায় ভোগেন। তবে বেশিরভাগ মানুষই এই সমস্যাকে তেমন আমল দেন না।,বেশিরভাগ সময়ই মুখের ঘা খুব জটিল দিকে যায় না। সাধারণত পেটের অসুখ, ভিটামিনের অভাব ইত্যাদি কারণেই এই সমস্যা হয়। বেশিরভাগ সময়ই মুখের ঘা খুব জটিল দিকে যায় না। সাধারণত পেটের অসুখ, ভিটামিনের অভাব ইত্যাদি কারণেই এই সমস্যা হয়। তবে বেশকিছু সময় এই সমস্যা থেকে হতে পারে ক্যান্সার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,ওরাল ক্যান্সার মূলত জিহ্বা, মুখ, মুখের পেছনে গলা ও ঠোঁটের স্কোয়ামাশ টিস্যুতে হয়ে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। এই মুখ বা ওরাল ক্যান্সার কেন হয় , এর উপসর্গ, চিকিৎসা,করণীয় নিয়েই আজকের এই আলোচনা।

মুখের ক্যান্সার কি ও ধরণসমূহ

মুখ বলতে বোঝায় ঠোঁট, চোয়াল, তালু, জিহ্বা, দাঁত, মাড়ি, মুখের তলদেশ, টনসিল ও পাশের এলাকা। ঠোঁট, জিহ্বা, গলার উপরের অংশ, গাল, মাড়ি, মুখের মেঝে ইত্যাদির ক্যান্সার সময়মতো নির্ণয় এবং চিকিৎসা না করা হলে এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে। সাধারণত মুখ গহ্বর ও জিহ্বায় কোষের কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধির মাধ্যমে ওরাল ক্যান্সারের কোষের অস্তিত্ব প্রকাশ পায়। মুখের ক্যান্সার মুখের টিস্যুকে প্রভাবিত করতে পারে।

মুখের ক্যান্সারের ধরণগুলো হলো : ঠোঁট, জিহ্বা, মাড়ি , গালের ভিতরের আস্তরণ, তালু (মুখের ছাদ), মুখের মেঝে (জিহ্বার নিচে)

কারণ

মুখে ক্যান্সার হওয়ার অন্যতম প্রধান একটি কারণ হলো তামাক গ্রহণ করা। পান, জর্দা, সাদাপাতা, গুল, বিড়ি, সিগারেট, অ্যালকোহল ইত্যাদির নিয়মিত গ্রহণ মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও অন্যান্য কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে -

* হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) ইনফেকশন।

* খাদ্য তালিকায় ফল-মূল, শাক-সবজির পরিমাণ কম থাকাও এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

* মুখের ভিতর অসুস্থ ও তীক্ষ্ণ দাঁতের আঘাতে সৃষ্ট ক্ষত দীর্ঘদিন থাকলে তা থেকেও ক্যান্সার হতে পারে।

* পরিবারের কারও এই ক্যান্সার হওয়ার পূর্ব ইতিহাস থেকে থাকলে।

* দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

* অপুষ্টিজনিত কারণ।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য ,এক গবেষণায় দেখা গেছে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের এই রোগে আক্রান্ত হবার প্রবণতা দ্বিগুন।

উপসর্গ বা লক্ষণ

মুখের ক্যান্সারের উপসর্গগুলো অনেকসময় প্রাথমিকভাবে বোঝা যায় না। আবার যাদের মধ্যে এসব উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা যায় তারাও প্রাথমিকভাবে এগুলোকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। যে কারণে অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় রোগীরা যখন তাদের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান ততদিনে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। মুখের ক্যান্সারের উপসর্গ বা লক্ষণসমূহ ;

* মুখের গহ্বরের (মুখ) পর্দায় (ঝিল্লি) ৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কোন সাদা বা লালচে দাগ থাকা।

* ১ মাসের চেয়ে বেশি সময় গলাব্যথা স্থায়ী থাকে।

* মুখের কোন ক্ষত ৩-৪ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে না সেরে উঠা।

* মুখগহ্বরের দেয়ালে বা ঝিল্লিতে কোন অস্বাভাবিক পিন্ড বা টিউমারের উপস্থিতি অনুভব করা।

* কোনও কারণ ছাড়াই দাঁত আলগা হওয়া বা পড়তে থাকা।

* ঢোক গিলতে অসুবিধা হওয়া।

* মুখ-গহ্বরে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ বা ব্যথা।

* ২-৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মুখ খোলা ,ঠোঁট ,জিহবা ,কান ,ঘাড় ,টন্সিল অঞ্চলে ব্যথা থাকলে তা অবহেলা করা যাবে না ও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

নির্ণয়

মুখের ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য বেশকিছু পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। সেগুলো হলো - বায়োপসি, এফএনএসি, এক্স-রে, ওপিজি, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, পিইটি স্ক্যান,এন্ডোস্কোপি ইত্যাদি।

মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসা

মুখের ক্যান্সারের তিন প্রকার চিকিৎসা রয়েছে- প্রথমত সার্জারি, দ্বিতীয়ত কেমোথেরাপি, তৃতীয়ত রেডিওথেরাপি। যখন ক্যান্সারের আকার অনেক ছোট থাকে তখন সার্জারি বেশি ফলপ্রসূ। এজন্য প্রত্যেকের উচিত প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সারের চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা।

সার্জারি:

মুখের ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা হল অস্ত্রোপচার টিউমার অপসারণ। অস্ত্রোপচারের মধ্যে ক্যান্সারযুক্ত লিম্ফ নোড এবং ঘাড় এবং মুখের অন্যান্য টিস্যু অপসারণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

রেডিওথেরাপি:

রেডিয়েশন থেরাপি ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত অস্ত্রোপচারের পরে ওষুধের সাথে পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য করা হয়। ডাক্তার দিনে এক বা দুইবার টিউমারের স্থানে রেডিয়েশন দেয়া হয়ে থাকে। টিউমারের আকারের উপর নির্ভর করে চিকিৎসা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সপ্তাহে ২দিন বা ৫ দিন করে ২ সপ্তাহ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত এই থেরাপি চলতে পারে। ক্যান্সার এডভান্স স্টেজের রেডিয়েশন থেরাপির সাথে কেমোথেরাপিও দরকার হতে পারে।

এখানে জেনে রাখা ভালো রেডিয়েশন থেরাপির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। যেমন - মুখে ঘা, মুখ শুকিয়ে আসা, দাঁত ক্ষয়ে যাওয়া, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া, চামড়া এবং মুখের বিভিন্ন ইনফেকশন, অবসাদ, স্বাদ এবং গন্ধ নিতে অপরাগতা ইত্যাদি।

কেমোথেরাপি:

কেমোথেরাপি হল মৌখিকভাবে বা অন্ত:সত্ত্বা (আইভি) লাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ খাওয়ার একটি পদ্ধতি। কেমোথেরাপি কখনও কখনও ক্যান্সারের উন্নত পর্যায়ে রেডিওথেরাপির সাথে মিলিত হয়। এটি ক্যান্সার কোষের ডিএনএকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য করা হয়, তাদের বিভাজন এবং গভীর টিস্যুতে বেড়ে ওঠার ক্ষমতা দূর করে।

রেডিওথেরাপির মতো কেমোথেরাপিরও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। যেমন - চুল পড়া, মুখ এবং মাড়িতে ব্যথা, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, রক্তশূন্যতা, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব এবং বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি।

ঝুঁকি কমাতে করণীয়

* ধূমপান অথবা অন্য কোনো তামাক পাতা সেবন পরিহার করতে হবে।

* অ্যালকোহল পরিহার করতে হবে।

* দীর্ঘক্ষণ সূর্যতাপ পরিহার করুন।

* মুখ গহ্বর পরিষ্কার রাখুন এবং নিয়মিতভাবে দাঁতের ডাক্তার দেখাবেন।

* অনিরাপদ যৌন মিলন পরিহার করতে হবে।

সচেতনতা এবং কিছু কথা

মুখের ক্যান্সার প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসা করা অনেকটাই সহজ হয়। তবে রোগ বেশিদূর এগিয়ে গেলে চিকিৎসা বেশ কঠিন। কাজেই মুখ বা দাঁতের কোন সমস্যাই অবহেলা করবেন না। সমস্যা যতই ছোট হোক না কেন সেটা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা বাঞ্চনীয়।

লেখক : দন্ত বিশেষজ্ঞ ,

ম্যান্ডি ডেন্টাল কলেজ এন্ড হাসপাতাল

(জেডএইচ শিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল )


অচলায়তন ভেঙে বিশ্বকাপে নারী রেফারি

বাঁ থেকে নিউজা ব্যাক, স্টেফানি ফ্রাপার্ট, কারেন ডিয়াজ। ছবি- টুইটার
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:৩৭
মাহ্‌মুদুল হাসান উৎস

শুরু থেকেই কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে চলছিল নানান বিতর্ক। ড্রেসকোড, স্টেডিয়ামে বিয়ার পান নিষিদ্ধসহ অনেক আজগুবি বিধিনিষেধ চাপিয়েছিল কাতার প্রশাসন। কিন্তু এর মধ্যেই চিরকালীন অচলায়তন ভেঙে পুরুষ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ম্যাচ পরিচালনায় দেখা গেল তিন নারী রেফারিকে। ঐতিহাসিক ঘটনাটি জার্মানি কোস্টারিকার গ্রুপ পর্বের সর্বশেষ ম্যাচে কাতারের আল খোরে অবস্থিত আল বায়েত স্টেডিয়ামে দেখা গিয়েছে।

কাতার বিশ্বকাপে প্রথম নারী রেফারি হিসেবে অভিষেক হয়েছে ফ্রান্সের স্টেফানি ফ্রাপার্টের। তার সঙ্গে ছিলেন রুয়ান্ডার সালিমা মুকাসাঙ্গা ও জাপানের ইয়োশিমা ইয়ামাশিতা। সহকারী পরিচালক হিসেবে আছেন ব্রাজিলের নিউজা ব্যাক, মেক্সিকোর কারেন ডিয়াজ মেদিনা ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথেরিন নেসবিট। প্রথমবারের মতো পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপে নারী রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন ওনারা।

মাঠে বেশ ভালোভাবেই নিজেদের দায়িত্ব সামলেছেন ওনারা। দুই একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত প্রায় সব ম্যাচেই থাকে, যা নিয়ে বিরোধী দলের সাপোর্টাররা আলোচনা-সমালোচনা করেন। তবুও সব মিলিয়ে এটি ছিল দুর্দান্ত একটি ম্যাচ।

ফিফা রেফারিজ কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা জানান, ‘এর মাধ্যমে অনেক বড় একটি প্রক্রিয়ার ইতি ঘটল। অনেক বছর আগে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ফিফার বালক টুর্নামেন্ট ও বিভিন্ন সিনিয়র টুর্নামেন্টে নারী রেফারির দায়িত্ব দিয়ে। এর মাধ্যমে আমরা এটা জোর দিয়ে বলতে চাই, কাজের ক্ষেত্রে আমরা কেবল কর্মীর গুণটাই দেখি, তার লিঙ্গ নয়।’ এর পাশাপাশি তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি আশা করি, ভবিষ্যতে পুরুষদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় এলিট নারী রেফারিদের অংশগ্রহণকে স্বাভাবিক হিসেবেই ধরা হবে, বিষয়টি এবারের মতো চমকপ্রদ কিছু হবে না।’

পুরুষ বিশ্বকাপে নারী রেফারির খবর প্রকাশের পরপরই ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে দেখা দেয় উন্মাদনা। ফিফার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রায় সবাই। এর মাধ্যমে লিঙ্গ বৈষম্য দূর হবে বলেও প্রত্যাশা করেছেন অনেকে। শ্রেষ্ঠ জয়িতা বিজয়ী বাংলাদেশি নারী অধিকার অ্যাক্টিভিস্ট আয়শা মুক্তি এ প্রসঙ্গে জানান, ‘কাতার প্রশাসন এই বিশ্বকাপকে সংখ্যালঘুদের জন্য কঠিন করে তুলেছিল, কিন্তু ফিফা নারী রেফারি নিয়োগ দিয়ে কাতার প্রশাসনের এহেন আচরণের এক ঠাণ্ডা জবাব দিল।’ যাই হোক, সব বাধাবিপত্তি কাটিয়ে বেশ ভালোভাবেই চলছে কাতার বিশ্বকাপ। পাশাপাশি নারী রেফারি নিয়োগে ফিফার এই সিদ্ধান্ত ছিল অনবদ্য। তাই জাতীয় কবি কাজী নজরুলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমরা আরও একবার বলতে পারি- ‘বিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’


আন্দোলন থেকেই মুক্তির হাতছানি

আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:৩৭

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ইরানের পশ্চিমাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা কুর্দি নারী মাহসা আমিনীকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে অর্থাৎ ইরানের সরকারি মান অনুযায়ী হিজাব পরিধান করেননি। তাই তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তিনি কোমায় চলে যান। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।

মাহসার মৃত্যুর পর ইরানসহ পুরো বিশ্বই যেন এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে। ইরানে শুরু হয় আন্দোলন। যে আন্দোলন খুব দ্রুতই বেগ পেতে শুরু করে। এমনকি শীর্ষস্থানীয় ইরানি অভিনেতা তারানেহ আলিদুস্তিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আন্দোলনের সমর্থনে বেরিয়েছিলেন সে সময়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতেও স্থান পেতে থাকে মাহসা আমিনীর মৃত্যুর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ফুলে ফেঁপে ওঠা আন্দোলনের চিত্র। ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল স্বীকার করেছেন যে, পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনীর মৃত্যুর কারণে দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলমান বিক্ষোভে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।

পোস্টারে মাহসা আমিনী। ছবি: সংগৃহীত
Caption

আন্দোলন এতটাই বেগ পেয়েছে যে, কয়দিন আগে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ইরানের ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২-এর প্রথম ম্যাচের আগে কাতারের খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ‘সে হার নেইম, মাহসা আমিনী’ স্লোগানে চারপাশ সরব হয়ে ওঠে। শুধু তাই নয়, স্টেডিয়ামের বাইরে নারী, পুরুষ, শিশু অনেককেই ‘জান, জিন্দেগি, আজাদি’ (নারী, জীবন, স্বাধীনতা) লেখা টি-শার্ট পরে অবস্থান করতে দেখা গেছে। জান, জিন্দেগি, আজাদি মূলত ইরানের বিক্ষোভের একটি বিখ্যাত স্লোগান।

দুই মাসেরও অধিক সময় ধরে চলা এ সহিংস আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জাফর মোনতাজেরি একটি ধর্মীয় সম্মেলনে বলেছেন, ইসলামি নীতি-নৈতিকতা নিয়ে খবরদারি করার জন্য তৈরি সে দেশের নৈতিকতা পুলিশ হিসেবে পরিচিত বিশেষ পুলিশ বাহিনীকে ভেঙে দেয়া হয়েছে। তবে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বা সরকারের আরও উঁচু মহল থেকে এমন সিদ্ধান্তের কথা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, হিজাব বাধ্যতামূলক করার আইনটিতে পরিবর্তন আনার কোনো পথ রয়েছে কি না পার্লামেন্ট এবং বিচার বিভাগ তা খুঁটিয়ে দেখছে। এ ব্যাপারে সংসদ এবং বিচার বিভাগ উভয়ই কাজ করছে। আমরা সংসদের সাংস্কৃতিক কমিশনের সঙ্গেও একটি বৈঠক করেছি। আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে এ আলোচনার ফলাফলও পাওয়া যাবে বলেই আশা করছি।

তবে যদি কোনো পরিবর্তন আসেও সেটি কী ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের চার বছর পর কার্যকর হওয়া হিজাব আইনে পরিবর্তন আনবে কি না সে ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করেননি। উল্লেখ্য, নারীদের ইসলামি ড্রেস কোড বা পোশাক পরিধানসহ ইসলামি বিভিন্ন নীতি-নৈতিকতার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই ছিল মরালিটি বা নৈতিকতাবিষয়ক এই পুলিশ বাহিনীর অন্যতম প্রধান কাজ।

সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা ও সিএনএন


ঋতুস্রাব যখন অনিয়মিত...

গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সাবিনা শারমিন বলেন, “মাসিক অনিয়মিত হওয়ার মূল কারণ হরমোনাল ইমব্যালেন্স
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:৩৭
নাহিন আশরাফ

মাসিক চক্র একটি বিশেষ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। প্রতিটি সুস্থ-স্বাভাবিক নারীর এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। নারীদেহে মাসিক চক্র সম্পন্ন হয় বলেই নারীরা সন্তান ধারণ করতে পারে। একজন নারীর জীবনে মাসিক একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কিন্তু অনেক সময় মাসিক নিয়ে দেখা যায় অনিয়ম। বিশেষ করে তরুণীরা পড়ছে এই সমস্যায়, অবিবাহিত মেয়েদের ঋতুস্রাব বা মাসিক অনিয়ম দেখে স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সবাই আতঙ্কিত হয়ে যায়।

দিন দিন এই সমস্যায় ভুগতে থাকা নারীর সংখ্যা বেড়েই চলছে কিন্তু কেন হচ্ছে এই অনিয়ম? এ ব্যাপারে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সাবিনা শারমিন বলেন, “মাসিক অনিয়মিত হওয়ার মূল কারণ হরমোনাল ইমব্যালেন্স। রোগীরা এসে বলে মাসিক হচ্ছে না, তার সঙ্গে থাকে অবাঞ্ছিত লোম এবং আরো বেশ কিছু সমস্যা। নারীর মাসিক সাধারণত ২৮ দিন পরপর হয়। তবে ২১ দিনের আগে বা ৩৫ দিনের পরে হলে এবং ৩ দিনের কম বা ৭ দিনের বেশি হলে তাকে অনিয়মিত মাসিক বলা হয়। এই অনিয়মিত মাসিক অনেকের জীবনের প্রথম মাসিক শুরু হওয়ার পর থেকেই দেখা দেয়, অনেকের আবার বেশ কিছুদিন মাসিক নিয়মিত থাকার পরে হঠাৎ অনিয়ম হয়ে যায়। মাসিকের সময় রক্তপাত বেশি হলে কিংবা অতিরিক্ত কম হলে সেটিকেও অনিয়মিত মাসিকের পর্যায় ধরা হয়। সাধারণত ৩০ থেকে ৮০ মিলিলিটারের মধ্যে রক্তপাত হলে সেটাকে স্বাভাবিক ধরা হয়। কিন্তু ৩০-এর কম কিংবা ৮০-এর বেশি হলে সেটিকেও অনিয়মিত মাসিক বলা হয়।

হরমোনাল ইমব্যালেন্স অনেক কারণে হতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত কম বা বেশি কাজ করা, ডায়াবেটিস, টিউমার, মানসিক চাপ, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম ইত্যাদি অনেক কারণে এমন হতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম। যাকে সংক্ষেপে পিসিওএস বলা হয়। পিসিওএস মূলত নারীদেহে পুরুষ হরমোনের আধিক্যের কারণে হয়ে থাকে, এ হরমোনকে বলা হয় এন্ড্রোজেন। এ রোগের লক্ষণ নিয়ে ডা. সাবিনা শারমিন বলেন, নারীর শরীরে উচ্চমাত্রায় পুরুষালি হরমোন বেড়ে যাওয়ার কারণে বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন- ব্রনের সমস্যা, শরীরে পুরুষের মতো লোম যাকে বলা হয় হিরসুটিজম, কারণ ছাড়াই ওজন বেড়ে যাওয়া, মাথার চুল পড়া। পিসিওএস-এর ফলে ইনসুলিন হরমোনের কাজে বাধাগ্রস্ত হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও রক্তের মাধ্যমে কিছু হরমোনের পরীক্ষা দ্বারা এই রোগ নির্ণয় করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থির যেকোনো সমস্যার কারণে মাসিক অনিয়মিত হতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ অনেক সময় অনিয়মিত মাসিকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের মস্তিষ্কে হাইপোথ্যালামাস নামক একটি অংশ রয়েছে, মানসিক চাপে ভুগলে অনেক সময় হাইপোথ্যালামাস ঠিকমতো কাজ করে না। তখন মাসিক দেরিতে শুরু হয়। এই হরমোনাল ইমব্যালেন্স হওয়ার সঠিক কারণ এখনো অজানা। কিছু গবেষণা থেকে জানা গেছে এটি জেনেটিক কারণে হতে পারে। আবার অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলও এর কারণ।

আমাদের দেশে একটি প্রচলিত কথা আছে অনিয়মিত মাসিক সমস্যা দেখলেই পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা মনে করেন বিবাহ দিয়ে দিলেই বুঝি এর সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু ডা. সাবিনা শারমিন বলেন, এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। বিবাহের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা এর একমাত্র সমাধান। ডা. সাবিনা শারমিন আরো বলেন, অনিয়মিত মাসিক দেখা দিলে কোনো বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে, তিনি লক্ষণ বুঝে এবং রোগীর ইতিহাস শুনে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেবেন। কিন্তু জীবনযাত্রায় আনতে হবে পরিবর্তন যেমন ওজন বেশি থাকলে কমাতে হবে, কার্বোহাইড্রেট কমাতে হবে এবং বেশি করে প্রোটিন জাতীয় খাবার ও আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে। প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে এবং অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম প্রয়োজন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তাই আতঙ্কিত না হয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চললেই অনিয়মিত মাসিক নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।


স্বপ্নে কেন দৌড়াতে পারি না?

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দুঃস্বপ্ন কাকে বলে? স্বপ্নে যখন খুব ভয়ংকর বিপদের মুখোমুখি হই, কিছুতেই তা থেকে পরিত্রাণের উপায় মেলে না, তখনই আসলে দুঃস্বপ্ন জেঁকে বসে। কিন্তু দুঃস্বপ্নের মাত্রাটা বাড়িয়ে দেয় আপনার দৌঁড়াতে না পারার অক্ষমতা। হয়তো দেখছেন ভয়ংকর কোনো সাপ তাড়া করছে আপনাকে, কিংবা দুর্ধর্ষ কোনো খুনি। তখন আপনি কী করবেন? নিশ্চিতভাবেই দৌড়ানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু স্বপ্নে ও চেষ্টা করে লাভ নেই। কারণ, চাইলেও আপনি স্বপ্নে দৌড়াতে পারবেন না। অথচ দেখবেন, আপনার সামনে দিয়ে অন্যরা দৌড়ে মাইলকে মাইল পার হচ্ছেন। আবার আপনি উড়তে পারবেন, অনেক কাজ করতে পারবেন, কিন্তু দৌড়াতে পারবেন না। কেন?

ঘুমের বেশ কয়েকটা পর্যায় আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রেম। মানে র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট। এ পর্যায়ে মানুষ স্বপ্ন দেখেন। ঘুমের এই পর্যায়টা কিছুটা অদ্ভুত। কারণ, এ সময় শরীর অসাড় হয়ে থাকে, পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীর মতো। আবার চোখ নড়েচড়ে, হৃদস্পন্দনের গতিও এ সময় বেশি থাকে। এ সময় মস্তিষ্ক থেকেও পাওয়া অল্প কিছু সংকেত শরীরে পৌঁছায়, বাকিটা পৌঁছায় না। এ সময়ই আসলে মানুষ স্বপ্ন দেখেন।

ঘুমের এ পর্যায়ে মস্তিষ্ক থেকে বেশকিছু হরমোন নিঃসরণ বন্ধ থাকে। সেগুলো নরএপিনেফ্রিন, সেরাটোনিন ও হিস্টামিন। এসব হরমোনের অন্যতম কাজ মস্তিষ্ক থেকে শরীরেরে বিভিন্ন অঙ্গে নড়াচড়া করার সংকেত বয়ে নিয়ে যাওয়া। এসব সংকেত পেলেই তবে অঙ্গগুলো কাজ করে। কিন্তু এসব হরমোন নিঃসৃত হয় না বলে ঘুমের এ পর্যায়ে আমরা নড়াচড়া করতে পারি না। দ্রুত নড়াচড়ার অনুভূতিটিও তাই এ সময় মস্তিষ্কে কাজ করে না।

এ সময় যদি স্বপ্ন দেখেন, তাহলে সেই স্বপ্ন ধীরগতির হবে। অর্থাৎ হাঁটতে পারবেন, তবে সেটি খুব দ্রুত নয়। দৌড়ানো, কাউকে দ্রুত আঘাত করার মতো স্বপ্ন এ সময় দেখতে পারবেন না। কারণ, দ্রুত নড়াচড়ার অনুভূতিটিই আপনার মাথায় কাজ করবে না তখন। কিন্তু উড়তে পারবেন। আসলে ঘুমের মধ্যে যে উড়ছেন, কীভাবে উড়ছেন, সেই যুক্তিবোধ তখন কাজ করে না। তাই যেটিকে আপনি ওড়া ভাবছেন সেটি ঠিক ওড়া বলা চলে না। এই মুহূর্তে আপনি এক জায়গায় রয়েছেন, পরের মুহূর্তে হয়তো আরেক জায়গায় আবিষ্কার করলেন নিজেকে, এটিকে স্বপ্নে ওড়া বলে মনে হলেও বাস্তবের ওড়ার মতো কোনো ব্যাপার নয় এটি।


পৃথিবীর পথে আর্টেমিসের মূল যান

আপডেটেড ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৫:২৩
মাহমুদুল হাসান উৎস

নাসার আর্টেমিস-১-এর মূল যান ওরিয়ন চাঁদের কক্ষপথ ত্যাগ করেছে। বর্তমানে পৃথিবীতে ফেরার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে এটি। ১ ডিসেম্বর রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে মহাকাশযানের ক্যাপসুলটিকে চাঁদের কক্ষপথের বাইরে চলে এসে। এই মিশনটি লাইভ টেলিকাস্ট করেছে নাসা।

গত ১৬ নভেম্বর নাসার সর্বাধুনিক স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল আর্টেমিস-১ মহাকাশ মিশন। এর মূল মহাকাশযান হলো ওরিয়ন। সব ঠিকঠাক থাকলে ২০২৪ সাল নাগাদ চাঁদে আবারও মানুষ পাঠানো হবে।

এখন পর্যন্ত আর্টেমিস ১-এর সবচেয়ে বড় সফলতা হচ্ছে চাঁদের চারপাশের দূরবর্তী কক্ষপথে মহাকাশযান স্থাপন করা। গত ২৫ নভেম্বর এই কাজটি সম্পন্ন হয়েছিল। আর্টেমিস মিশন ম্যানেজার মাইক সারাফিন গত বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সন্মেলনে বলেন, ‘আমাদের মিশন ম্যানেজমেন্ট সদস্যরা ওরিয়নকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করে দিয়েছে।’

বর্তমানে ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের দূরবর্তী কক্ষপথ ত্যাগ করে পৃথিবীর পথে রয়েছে। তবে ১১ ডিসেম্বরে পৃথিবীতে অবতরণ করবে এটি। এর সর্বোচ্চ গতি থাকবে ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার। প্রায় ২৫ দিন ১১ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট পর পৃথিবীতে ফিরে আসছে। যাত্রাকালে ওরিয়ন মহাকাশযান প্রায় ২১ লাখ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে।

অবতরণের স্থান হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। ওরিয়নকে ফিরিয়ে আনার জন্য নাসা এবং মার্কিন নৌবাহিনী সম্মিলিতভাবে কাজ শুরু করেছে। নাসা জানিয়েছে, ওরিয়নের সফল অবতরণে তারা আশাবাদী।

সূত্র: স্পেস ডটকম


মানুষ কেন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বিশ্বাস করে?

আপডেটেড ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৫:০৩
শুভ সালাউদ্দিন
    জীববিজ্ঞান

সাধারণ যেকোনো ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খোঁজা মানুষের একটি বড় বদ অভ্যাস। যেমন নিল আর্মস্ট্রংরা চাঁদে গেছেন- এটি বিশ্বাস করার চেয়ে তারা চাঁদে যাননি, মানুষকে ভাঁওতা দিয়ে বোকা বানিয়েছে- এ গল্পে বিশ্বাস করতে মানুষ বেশি পছন্দ করে। এর কারণ মানুষের কনসপিরেসি থিওরিতে আস্থা বেশি।

ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বা কনসপিরেসি থিওরির একটি বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা আছে। কোনো ঘটনাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে কল্পনার রংতুলি দিয়ে রহস্যময় করে তোলার প্রবণতাকেই আসলে কনসপিরেসি থিওরি বলে। এই থিওরি একদল লোককে প্রবলভাবে প্রভাবিত করে এবং বেশির ভাগ সময়েই সমাজে পাকাপোক্তভাবে গেড়ে বসে। কোনো ষড়যন্ত্রতত্ত্ব জনপ্রিয় কোনো ব্যক্তি, প্রভাবশালী অভিনেতা বা রাজনৈতিক ব্যক্তির মাধ্যমে সমাজে প্রথম ছড়ায়। তারপর ধীরে ধীরে সেটি সমাজে ছড়িয়ে পড়ে, মানুষ সেটি ধ্রুব সত্য বলে মনে করে একসময়।

ষড়যন্ত্রতত্ত্বের ওপর মানুষের এই আস্থা আজকের নয়। আদিকাল থেকেই চলে আসছে এটি। কিন্তু প্রাচীনকালে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত ছিল না বলেই ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলো শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু ফেসবুক, ইউটিউবের এই যুগে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব দেশকালের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে গোটা বিশ্বে।

চাঁদ অভিযানের কথাই ধরা যাক। বহু লোক মনে করে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ক্ষমতার লড়াইয়ে জিততে চাঁদ অভিযানের নাটক সাজিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বিশ্বাস কোনো দুর্গম মরুভূমিতে চাঁদ অভিযানের মঞ্চস্থ হয়েছিল এই নাটক। অনেকে আবার বিশ্বাস করে এলিয়েন বা ভিনগ্রহীরা একাধিকবার এসেছে পৃথিবীতে। মার্কিন বিজ্ঞানীদের সঙ্গে তাদের দেখা-সাক্ষাতও হয়েছে, এমনকি এলিয়েনদের সঙ্গে যৌথ গবেষণা চালাচ্ছে মার্কিন বিজ্ঞানীরা; এরিয়া ৫১-এর ভেতর।

এসব ষড়যন্ত্রতত্ত্বের ব্যাখ্যাও আছে। ইউটিউব, অনলাইন কিংবা বইপত্র পাওয়া যায় সঠিক ব্যাখ্যা। তার পরও ষড়যন্ত্রতত্ত্বকেই আঁকড়ে ধরতে চায় কিছু মানুষ। কেন?

0 0 1 1 0 0 1 0 0 1 0 0 1 1: ভালো করে খেয়াল করুন সংখ্যাগুলো। এগুলোর কোনো প্যাটার্ন খুঁজে পাচ্ছেন কি? যদি পান, তাহলে আপনি একা নয়, অধ্যাপক মার্ক লর্চের টুইটার পোলে ৫৬ শতাংশ লোক বলেছে তারা প্যাটার্ন খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো অধ্যাপক সিকোয়েন্সটি শুধু কয়েন টস করে সেটির ফলাফলকে বাইনারি নম্বর দ্বারা প্রকাশ করেছেন। এদের মধ্যে প্যাটার্ন থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তার পরও আপনি সম্ভবত প্যাটার্ন খুঁজে পেয়েছেন। কেন?

এর বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এদের একটি হলো ইল্যুউশনারি প্যাটার্ন পার্সেপশন- মানে যেকোনো র‌্যান্ডম জিনিসে আমাদের প্যাটার্ন বের করার স্বয়ংক্রিয় প্রবণতা। বিশ্ব এক অনিশ্চিত জগৎ। এখানে টিকে থাকার স্বার্থেই আমাদের মস্তিষ্ক প্রতিনিয়ত প্যাটার্ন খুঁজে সেগুলোকে অর্থবোধক করে তুলতে চায়। বিবর্তনের দৃষ্টিকোণেও এর যুক্তি আছে। প্রাচীনকালে মানুষ শিকারের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তখন এই প্রবণতা মানুষকে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।

কেউ একবার দুর্গন্ধযুক্ত খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে পরে তারা এ কাজ থেকে বিরত থেকেছে। আকাশে কালো মেঘ জমেছে, তার মানে ঝড় হবে, অমুক গাছের পাতা বিপজ্জনক, তাই সেগুলো ব্যবহার না করা, কালো ছায়া মানে কোনো হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের আশঙ্কা। এসব কারণেই একটু সন্দেহপ্রবণ মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে গিয়েছে।

বিবর্তনের ধারায় মানব মস্তিষ্কের সেরেব্রাল কর্টেক্স বিশেষ করে ফ্রন্টাল কর্টেক্স, অসিপিটাল ও টেম্পরাল লোব বৃদ্ধি পেয়েছে। সঙ্গে মানুষের সাদৃশ্য খোঁজার ক্ষমতাও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাই অনেক সময় যেখানে কোনো সাদৃশ্য নেই, সেখানেও প্যাটার্ন খুঁজে পায় মানুষ।

২০১৭ সালে ইউরোপিয়ান জার্নাল অব সোশ্যাল সাইকোলজিতে প্রকাশিত আর্টিকেলে বলা হয়, গবেষকরা ২০০-৪০০ জন লোকের মধ্যে পাঁচটি পরীক্ষা পরিচালনা করেন। দেখা যায়, র‌্যান্ডম টসের মধ্যেও সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছে অনেকে। এমনকি এলেবেলে কোনো পেন্টিংয়েও সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছে। এসব মানুষই অযৌক্তিক ঘটনায় বিশ্বাস করে বেশি।

ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসের আরেকটি কারণ হলো এজেন্সি ডিটেকশন। এটি হলো কোনো কাজের পেছনে মোটিভ বের করার প্রবণতা। এটিকে থিওরি অব মাইন্ড বা টম দিয়ে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। টম হলো অন্যদের বিশ্বাস, ধারণা, মোটিভ, ভাবনাচিন্তা অর্থাৎ মানসিক অবস্থা সম্পর্কে অনুমান করতে পারার ক্ষমতা। এটি প্রত্যেকেরই থাকে।

মনে করুন, আপনার এক বন্ধু আছে। সে সব সময়ই দেরি করে আসে আড্ডায়। ধরা যাক, একদিন সে মিনিট পাঁচেক আগে এসে গেল। আপনি চমকে যাবেন। সেও কিন্তু ভাববে, আপনাকে ভালোই চমকে দিয়েছে এবং আপনি খুশি হয়েছেন। এখন আপনারা ছোট্ট একটি হাসি দিয়ে অন্য কথা শুরু করতে পারেন। এই যে কথা না বলেই একে অন্যের মুড বুঝে ফেলার ক্ষমতা, এটিকেই থিওরি অব মাইন্ড দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়।

এটি আমাদের সমাজে সবার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আমরা বুঝতে পারি কে আমাদের বন্ধু, কে আমাদের শত্রু, কে আমাদের পছন্দ করে, কে করে না ইত্যাদি। সাধারণত তিন-চার বছর বয়স থেকেই এই ক্ষমতা রপ্ত করতে শুরু করে মানুষ। রপ্তটি যদি ঠিকঠাকভাবে না হয়, তাহলে সমাজের সঙ্গে মানিয়ে চলতে সমস্যায় পড়তে হয়।

কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই এজেন্সি ডিটেকশন ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে, তারা সব কিছুতেই চক্রান্ত খুঁজে পায়। মনে করে, এলিয়েন পৃথিবীতে এসেছে, কিন্তু সরকার আমাদের থেকে লুকাতে চাচ্ছে। কিংবিা অমুকে সিক্রেট পরিকল্পনা করছে, তাকে সবাই মেরে ফেলতে চাইছে ইত্যাদি।

এ ছাড়া জীববিজ্ঞানীরা আরও একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেটা হলো, অ্যাডাপটিভ কনসপিরাসিজম হাইপোথিসিস। ধরুন আপনি রাস্তায় হাঁটছেন, হাঠৎ দেখতে পেলেন একটি সাপ, আপনি ভয় পেয়ে সরে দাঁড়ালেন। পরে খেয়াল করলেন, আসলে ওটি সাপ নয়, দড়ি! এটি হাস্যকর ঘটনা, কিন্তু এতে কোনো ক্ষতি হয়নি আপনার।

আবার হাঁটতে থাকলেন। এবারি দেখতে পেলেন, একটি দড়ি। নির্দ্বিধায় হাঁটা চালিয়ে গেলেন কিন্তু এবার দড়ি নয়, সত্যিকার অর্থেই সাপ ছিল। সেটি আপনার জীবন কেড়ে নিতে পারে। এখানে আমরা দুই ধরনের ভুল বা এরর দেখতে পাচ্ছি-

টাইপ ওয়ান এরর (ফলস পজিটিভ): এমন প্যাটার্ন খুঁজে পাওয়া, যেখানে সত্যিকার অর্থে কোনো প্যাটার্ন নেই। ঝুঁকি কম।

টাইপ টু এরর (ফলস নেগেটিভ): প্যাটার্ন থাকার পরও না খুঁজে পাওয়া। উচ্চ ঝুঁকি।

প্রথম ধরনের ভুল করলে খুব বেশি আসে-যায় না, কিন্তু দ্বিতীয় ধরনের ভুল করলে আপনার জীবন-মরণের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। অর্থাৎ শত্রু না থাকার পরও প্রস্তুতি নেয়া, শত্রু থেকেও অপ্রস্তুত থাকার চেয়ে ভালো। এ জন্য মস্তিষ্কের ডিফল্ট পজিশন হলো, বিশ্বাস করে নেয়া সব প্যাটার্নই সত্যি।

এ ছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ডোপামিন লেভেল। ডোপামিন এক ধরনের হরমোন এবং নিউরোট্রান্সমিটার, যেটি আবেগ এবং অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত। ডোপামিন লেভেল একটি নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কম বা বেশি হলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়।

যদি ডোপামিন কম থাকে তাহলে পারকিনসনের মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। আবার বেশি হলে হ্যালুসিনেশন, প্যারানয়া, ডিল্যুশন ইত্যাদি সাইকোলজিক্যাল সমস্যা দেখা দেয়।

যারা জিনগত কারণে একটু বেশি ডোপামিন নিঃসরণ করে, তারা ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বেশি বিশ্বাস করে। সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পিটার ব্রুগার তার সহকর্মী ক্রিস্টিন মোর ৪০ জন লোকের ওপর একটি গবেষণা চালান। তারা ওই লোকগুলোর শরীরের ওপর এল-ডোপা প্রয়োগ করেন। ফলে তাদের ডোপামিন নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। এরপর দেখা যায়, তারা র‌্যান্ডম জিনিসে প্যাটার্ন খুঁজে পাচ্ছে। অথচ ডোপামিন প্রয়োগের আগে র‌্যান্ডম জিনিসে সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়ার প্রবণতা ছিল না বললেই চলে।

এরপর গবেষকরা উল্টো কাজ করলেন। এ পরীক্ষাটি করলেন এমন কিছু মানুষের ওপর, যারা সব কিছুতেই সাদৃশ্য খুঁজে পায়। তাদের ওপর প্রয়োগ করা হলো নিউরোলেপটিকস ড্রাগ।

এই হ্যালুসিনেশন, ডিল্যুশন, প্যারানয়াসহ বিভিন্ন সাইকোলজিক্যাল অসুখের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধ ডোপামিন রিসেপ্টর ব্লক করে দেয়। ওষুধ প্রয়োগ করার পর দেখা গেল, ওই লোকগুলোর প্যাটার্ন খুঁজে পাওয়ার ক্ষমতা একেবারেই কমে গেছে।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক গবেষণায় আরও কিছু কারণ বের করেছে। কোনো কিছুর ব্যাখ্যা না পেলে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা, কম বিশ্লেষণী ক্ষমতা, হতাশা, ক্ষমতাহীনতা, একাকিত্ব, স্বল্পশিক্ষা ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত মানুষ ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বেশি বিশ্বাস করে।

বাস্তবতার চেয়ে গালগল্প অনেক মুখরোচক, তাই কোনো একটি ঘটনার সত্যতার থেকে সেটি নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাড়িয়ে বলা বিভিন্ন কথা বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সঠিক জ্ঞানের অভাবে অনেকে সব কিছুতেই বিশ্বাস করছে। তাই কনসপিরেসি থিওরি আরও বেড়েই চলেছে। তবে আশার বিষয় হলো, সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে এর মোকাবিলা করা সম্ভব।

সূত্র: ইনভার্স ডট কম ও ভেরি ওয়েল মাইন্ড


বান্দরবানে কাজুবাদামে নতুন স্বপ্ন 

আপডেটেড ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:০৬
মইনুল হক রোজ

কাজুবাদাম অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার। বর্তমানে দেশব্যাপী এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অঞ্চলভেদে এর একেকটি নাম রয়েছে। তবে ইংরেজিতে ক্যাশনাট আর বাংলায় কাজুবাদাম নামেই এর পরিচিতি। লাভের দিক বিবেচনা করলে কাজুবাদাম একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। কেননা এই কাজুবাদাম শুধু বাদাম নয়, এর বহুমাত্রিক ব্যবহার বিদ্যমান। বান্দরবানে কাজুবাদামের চাষ নিয়ে রইলো প্রতিবেদন ।

শুরুর কথা

কাজুবাদাম আমাদের দেশে নতুন নয়। অনেক আগে থেকেই এর চাষ হয়ে আসছে। পার্বত্যাঞ্চলে কাজুবাদাম চাষের শুরু সেই আশির দশক থেকেই। তবে সে সময় এটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ না থাকায় এ অঞ্চলের চাষিদের মধ্যে তা নিয়ে আগ্রহ ছিল কম। তবে গেল বেশকিছু বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে পার্বত্যাঞ্চলগুলোতে বৃদ্ধি পাচ্ছে এর চাষ। বিশেষ করে কাজুবাদামের ফলন ও বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় এর চাষ নিয়ে সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন বান্দরবানের চাষিরা। এ জেলার প্রায় সব উপজেলায় চাষ হলেও রুমা ও থানচিতে তুলনামূলক বেশি চাষ হয় এই দেশীয় কাজু বাদামের।

চাষিদের কথা

বান্দরবান জেলার রুমা ও থানছি উপজেলায় রাস্তার ধারে দেখা মেলে ছোট-বড় কাজুবাদাম বাগানের। জ্যৈষ্ঠ মাসে অন্যান্য ফলের পাশাপাশি এই ফলও পরিপক্ব হয়ে পাকতে শুরু করে। এতে থোকায় থোকায় ঝুলতে দেখা যায় লাল-হলুদ রঙের পাকা কাজুবাদাম। স্থানীয় ভাষায় এটি টাম নামে পরিচিত। বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে প্রতি বছর (২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী ) ১ হাজার ৬০০ টন থেকে ১ হাজার ৮০০ টন কাজুবাদাম উৎপাদিত হয়। যার ৯০ শতাংশ কাজুই উৎপাদিত হয় বান্দরবনে।

কুহালং ইউনিয়নের তুংখ্যং পাড়ার গরামং মারমা দৈনিক বাংলাকে বলেন,এলাকায় এখন কাজুবাদাম চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। চাষিরা কাজুবাদাম চাষে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছেন। এখন ন্যায্য মূল্য পেলে ভালো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে শুষ্ক মৌসুমে বাগানে পানি সেচ ও সারের সহযোগিতা পেলে খুব ভালো হতো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

একই ইউনিয়নের কিবুক পাড়ার উচিংমং মারমা বললেন,তার বাগানে ৮০০ কাজুবাদাম গাছ আছে। এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছেন প্রতি গাছ থেকে প্রায় ৩-৪ মণ ফল পেতে পারেন বলে আশা করছেন। প্রত্যাশামতো ফলনা হলে তা থেকে প্রায় ৪লক্ষ টাকার মতো আয় হবে তার।

যা বলছে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর

বান্দরবান কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কাজুবাদাম চাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। ২০২০-২০২১ সালে সাত উপজেলায় মোট ২৮৪২ জন কাজুবাদাম চাষ করতেন। সেখানে ২০২১-২০২২ সালে মোট ৪১৩২ জন কাজুবাদাম চাষ করেছেন। চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট ২৪২০ হেক্টর জায়গায় চাষকৃত জমি থেকে প্রায় ১৩০৮ মেট্রিক টন কাজুবাদাম উৎপাদন হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১.৩১ মেট্রিক টন বাদাম উৎপাদন হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পার্বত্য জেলা বান্দরবানে দিন দিন কাজুবাদামের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজুবাদামের চারা লাগানোর ৩ থেকে ৫ বছর ভালো ফলন দেয় এবং রোগবালাইও কম। এ জেলার মাটি কাজুবাদাম চাষের উপযোগী হওয়ায় ভালো ফলন পাচ্ছেন চাষিরা। ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি আগের চেয়ে চাষকৃত পণ্যের দামও ভালো পাচ্ছেন। যে কারণে বান্দরবান জেলায় কাজুবাদাম চাষের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে চাষিদের সার, কৃষি উপকরণ প্রদানসহ সার্বিক পরামর্শও দেয়া হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে কাজুবাদাম গাছে পানি সেচ ব্যবস্থা করার জন্য বাঁধ নির্মাণ ও অবিক্রীত কাজুবাদাম সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে বান্দরবান জেলার সাত উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে, যেখানে কাজুবাদাম চাষ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। সেটি করা গেলে কাজুবাদাম চাষ, প্রক্রিয়াজাত ও বাণিজ্যিকরণের মধ্য দিয়ে এই পার্বত্য উপজেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি এখানকার অধিবাসীদেরও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

উৎপাদন চলছে কাজুবাদামের চারার।  ছবি : সংগৃহীত উৎপাদন চলছে কাজুবাদামের চারার। ছবি : সংগৃহীত

রয়েছে বেসরকারি উদ্যোগও

বর্তমানে বান্দরবানে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও কাজুবাদামের চারা উৎপাদন ও বিপণন করা হয়। বর্তমানে বান্দরবানে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও কাজুবাদামের চারা উৎপাদন ও বিপণন করা হয়। বেশকিছু নার্সারি নিয়মিতভাবে কাজুবাদাম চারা উৎপাদন করছে।প্রাথমিকভাবে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম থেকে উন্নতজাতের কাজুবাদামের বীজ আনা হয়েছে এবং চারা উৎপাদন করে বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলা ও আশপাশের জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

কাজুবাদাম চাষের পাশাপাশি একটি কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত কারখানাও চালু হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে যাত্রা শুরু করা এই কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত কারখানাটির নাম কিষানঘর। প্রায় ২০ শতক জমিতে গড়ে ওঠা কারখানাটি তিন পার্বত্য জেলায় সবচাইতে বড় বাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা। এই কারখানাটির কো-ফাউন্ডার তোয়াহ চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বললেন, ‘আমাদের এই কারখানাটির যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৯ সাল থেকে। বান্দরবানের রুমা ও থানচি উপজেলার দুর্গম পাহাড় থেকে বাছাই করা কাজুবাদাম সংগ্রহ করে বান্দরবানের ফ্যাক্টরিতে এনে প্রসেস করে তা প্যাকেটজাত করি। বর্তমানে আমাদের কারখানায় প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় টন কাজুবাদাম প্রসেস ও প্যাকেটজাত করার সক্ষমতা রয়েছে।’

কথা প্রসঙ্গে তোয়াহ চৌধুরী আরও জানালেন, বর্তমানে তাদের প্রায় ৭০০ চাষি তালিকাভুক্ত রয়েছেন। যাদের কাছ থেকে তারা কাজুবাদাম ক্রয় করে থাকেন। এর পাশাপাশি তারা নিয়মিতভাবে এসব কৃষককে নানাভাবে সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। যেমন- বর্তমানে কিষানঘর ও ইউএসএইড যৌথভাবে কাজুবাদাম চাষ কৃষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চারা, সার ও শুষ্ক মৌসুমে সেচ সাহায্য প্রদানের ব্যাপারে কাজ করছে।

বর্তমান বিশ্ববাজারে কাজুবাদামের ব্যাপক চাহিদা আছে। এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা থাকায় এবং বান্দরবান অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটি কাজুবাদাম চাষের উপযোগী হওয়ায় এটি চাষের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষদের আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে হাতছানি দিচ্ছে। সঠিক ও সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্য দিয়ে কাজুবাদাম চাষ ও প্রক্রিয়াজাত করে দেশে বিক্রির পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য সহযোগিতা: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বান্দরবান ও বাসু দাস, প্রতিনিধি, বান্দরবান


তেল ছাড়া রুই মাছের দই রোস্ট

আপডেটেড ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:০৬
তাবাচ্ছুম আক্তার সিলভী

মাছে-ভাতে বাঙালি। তাই পাতে মাছ থাকলে বাঙালি যেন একটু বেশিই আনন্দিত হন। মাছের দই রোস্ট তেমনই এক আইটেম যা গরম ধোঁয়া ওঠা ভাত, পোলাও কিংবা রুটির সঙ্গে একদম যুতসই বটে। রেসিপি দিয়েছেন তাবাচ্ছুম আক্তার সিলভী।

উপকরণ

রুই মাছ ৪ পিস

টকদই- ৩-৪ টেবিল চামচ

পেঁয়াজ: ছোট ২টি

আদা ১ চা চামচ

রসুন ১ চা চামচ

কাঁচামরিচ ৪-৫টি

হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ

জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ

কিশমিশ ৭-৮টি

টমেটো সস ৩ টেবিল চামচ

গরম মসলা ৩ চা চামচ

লবণ স্বাদমতো

চিনি: ১/২ চা চামচ (ইচ্ছা হলে)

লেবুর রস ২ টেবিল চামচ

পানি ১ কাপ

প্রস্তুত প্রণালি

প্রথমে মাছ ধুয়ে লেবুর রস ও লবণ মাখিয়ে একটি পাত্রে রেখে দিতে হবে। আর অন্যদিকে মসলা তৈরি করতে ব্লেন্ড জারে একে একে টকদই, পেঁয়াজ টুকরো, কাঁচামরিচ ২-৩টি, আদা, রসুন, মরিচ গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, জিরার গুঁড়া, কিশমিশ ৭-৮টি, টমেটো সস, এক কাপ পানি, লবণ দিয়ে পেস্ট করে নিতে হবে। অন্য একটি প্যানে এই পেস্ট ঢেলে দিয়ে ও চুলার আঁচ অল্প রেখে লবণ লেবু মাখা মাছটা দিয়ে দিতে হবে। এবার একটু নেড়েচেড়ে মসলা মিশিয়ে আঁচ বাড়িয়ে রান্না করতে হবে। ৫ মিনিট হলে এতে কিছু কিশমিশ ও কাঁচামরিচ আর গরম মসলা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এবার ঝোল শুকিয়ে মাছের গায়ে লেগে আসবে। সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হবে যেন ভেঙে না যায়। এবার রুই রোস্টটা প্যান থেকে নামিয়ে সার্ভিং ডিসে সাজিয়ে দিয়েছি, কিছু কিশমিশ দিলেই পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।

এ রান্নায় কোনো তেল ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু খেতে দারুণ মজার আর স্ব্যাস্থ্যসম্মত। এটি পোলাও বা সাদা ভাত দিয়েও খাওয়া যায়।


তাকের নান্দনিক ব্যবহার

ছবি: ফাহ্‌মিদা তাপসী
আপডেটেড ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:০৬
তানজিনা আকতারী

বাইরে থেকে ফিরেই দেয়ালে লাগানো ছোট একটি তাক, তার ওপরে কয়েকটি মানিপ্ল্যান্ট। সারা দিনের ক্লান্তি শেষে বাড়ি ফিরেই মন হয়ে উঠল চনমনে, তাই তো? একঘেয়ে দেয়ালে কিছুটা বৈচিত্র্য আনতে নানা সাজের তাক হতে পারে পছন্দের সহজ অনুষঙ্গ। প্রাচীনকাল থেকেই ঘরের বিভিন্ন স্থানে তাক ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। আগে বাড়ি তৈরির সময় দেয়াল কেটে তাক বা শেলফ বসানোর প্রচলন ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে যেমন তাক ব্যবহারের নান্দনিকতা বেড়েছে, তেমনি তাকের আকার ও আকৃতিতে এসেছে ভিন্নতা। বাসার প্রতিটি ঘরেই তাক বসিয়ে নিতে পারেন অনায়াসেই। তবে তার জন্য চাই সঠিক পরিকল্পনা। কারণ, বসার ঘরের আবহের সঙ্গে যে তাক মানাবে, সেটা একেবারেই বেমানান হবে শোবার ঘরে। একইভাবে রান্নাঘরের তাকের ধরনের সঙ্গে মিলবে না ডাইনিং রুমের তাকের ধরন।

ঘরের অন্যান্য আসবাবপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঘরে বা বারান্দায় শেলফ বসিয়ে নিলে তা দেখতে ভালো লাগবে। কাঁচ, কাঠ, রড, প্লাইউড, প্লাস্টিকের তাক বসানো যায়, আবার একতলা, দোলতলা,তিনতলা তাক বসিয়েও তাক লাগিয়ে দিতে পারেন আগত অতিথিকে। আবার তাকের সঙ্গে হুক বসিয়ে চাবি বা সুন্দর কোনো শো-পিস ঝুলিয়ে দিলেও ভালো দেখাবে। যদি ঘরে স্টিল বা রড আয়রনের আসবাব থাকে তবে দেয়ালের এক কোণে পছন্দের রড আয়রনের তাক বসিয়ে নিতে পারেন। আবার যে ঘরে কাঠ বা বোর্ডের আসবাব রয়েছে সেই ঘরে ফাঁকা দেয়াল বেছে নিয়ে তাক সেট করে নিয়ে পছন্দের ব, খেলনা, পুতুল, ইন্ডোর প্ল্যান্ট বা অন্য যেকোনো প্রয়োজনীয় জিনিস রাখতে পারেন। এ ছাড়া ডাইনিং রুমের তাকগুলোর আদলে রাখতে পারেন পাল্লা বা ড্রয়ারের আবহ। এতে একসঙ্গে রাখা যাবে অনেক জিনিস। খাবার ঘরে তৈজসপত্রসহ প্রয়োজন হয় নানা ধরনের অনুষঙ্গের। তাকগুলো ড্রয়ারের মতো বন্ধ থাকলে বাইরে থেকে দৃষ্টিকটু লাগবে না। এদিকে খাবার ঘরে সব তাক একই আয়তনে না বানিয়ে তাতে আনতে পারেন ইচ্ছেমতো যেকোনো আকৃতি, চাইলে ফরমায়েশ দিয়ে দোকান থেকে বানিয়ে নিতে পারেন। এতে খাবার ঘরের অন্দরসাজে আসবে বৈচিত্র্য। তিন কোনা, চার কোনা, গোলাকার যেকোনো আকারের তাক সেট করে দারুণ সব শো-পিস সাজিয়ে ড্রয়িংরুমের আবহে আনতে পারেন ভিন্নতা।

শোবার ঘরেও থাকতে পারে তাকের আয়োজন। কাপড়চোপড় রাখার তাকগুলোতে পাল্লার ব্যবস্থা না রাখাই ভালো। বিছানার ওপরের দেয়ালে চাইলে তাক বসিয়ে বই রাখার আয়োজন করতে পারেন। প্রসাধনসামগ্রী রাখতে আয়নার নিচে তাকের ব্যবস্থা রাখাই যায়। ড্রিল মেশিনে তাক সেট করার সময় খেয়াল রাখতে হবে তা মজবুত হলো কি না, আর সেটি শক্তভাবে দেয়ালের সঙ্গে আটকে থাকবে কি না। যে জিনিস রাখার জন্য তাক বসানো হচ্ছে, সেটির ভার বহন করতে পারবে কি না। ঘরের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, মূলত দৃষ্টিনন্দন করে তাক তৈরি করলেই এটি হয়ে উঠবে নান্দনিক সৌন্দর্যের অনুষঙ্গ।


নিমন্ত্রণের সাজ

মডেল: তানিয়া আহ্‌মেদ ছবি কৃতজ্ঞতা: রুবাবা মূসা
আপডেটেড ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:১০
তানজিনা আলম

চারদিকে শীতের আমেজ, ছুটি এবং নানান রকম নিমন্ত্রণ। কখনো কখনো শুধু শীতের পিঠাপুলি নিয়েও উৎসব। বলা হয়, শীত মানেই বিয়ের ঋতু। হিম হিম বাতাস গায়ে মেখে পিকনিক, বিয়েবাড়ি, গ্রামের বাড়ির আতিথেয়তা যেন পুরো বছরের জন্য আনন্দ অনুভূতির পুঁজি।

শীতকাল মানে সাজ-সজ্জার পৌষ মাস। ভারী ফাউন্ডেশন নষ্ট হয়ে যাওয়ার কিংবা গরমে ফিনিশিং গলে যাওয়ার ভয় নেই। এ দেশে সারা বছর মূলত যে রকম আবওহাওয়ায় কাটে, তাতে গ্লিটার, শিমার ব্যবহারের বিশেষ সুযোগ হয়ে ওঠে না। কিন্তু শীতকালে এসব সুযোগ হয়ে যায়।

পার্টির সাজ শুরু করুন মুখ পরিষ্কার করা দিয়ে। ক্লিনজার দিয়ে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করে নিতে পারেন ত্বকে অনেক শুষ্ক চামড়া থাকলে। এরপর টোনার তুলায় নিয়ে মুখে, গলায় এবং ঘাড়ে বুলিয়ে নিন। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে সামান্য ময়েশ্চারাইজার দিন। হাত খোলা জামা পরলে হাতেও ব্যবহার করুন ময়েশ্চারাইজার।

সাজের ভিন্নতা তৈরি করতে মাঝে মাঝেই ইউটিউবে ঢুঁ মারেন। দেশি ও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ও বিউটি ব্লগগুলো দেখেন তানিয়া আহ্‌মেদ।
Caption

মেকআপ লাগানোর আগে সানস্ক্রিন মুখে ও গলায় ভালো করে লাগিয়ে নিন। সানস্ক্রিন লাগালে যদি ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যায় তা হলে ত্বকের ধরন অনুযায়ী সানস্ক্রিন বেছে নিন। ক্রিমজাতীয় সানস্ক্রিনের বদলে জেলজাতীয় কিংবা তরল সানস্ক্রিন এ ক্ষেত্রে ভালো হবে। হেয়ারলাইন, কপালে, নাকে, গালে ও জলাইনে ভালো করে লাগিয়ে নিন। এই জায়গাগুলোয় সান এক্সপোজার সব থেকে বেশি থাকে। এরপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে প্রাইমার ব্যবহার করতে হবে। শীতে ত্বকে ভীষণ রুক্ষতা পেয়ে বসে বলে প্রাইমার অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে।

তবে শীতকালে ইলিউমিনেটিং প্রাইমার পছন্দের শীর্ষে রাখা যায়। এতে মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুখে ন্যাচারাল গ্লোও আসবে। পাওয়া যাবে মেকআপ অ্যান্ড বিউটি স্টোরে। দাম কিংবা এক্সপায়ার ডেট না মিললে ব্যবহার করুন সাধারণ প্রাইমার। এরপর স্কিন টোনের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন লাগান। ইলিউমিনেটিং ফাউন্ডেশনও ব্যবহার করতে পারেন। স্পঞ্জ সামান্য ভিজিয়ে বা ব্রাশ দিয়ে ভালোভাবে মুখে, কানে, গলায়, ঘাড়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। বলা হয়, মেকআপ সুন্দর হয় ব্লেন্ডিংয়ের ওপর। তাই ব্লেন্ড এবং ব্লেন্ড। এখনো ত্বক খুব শুষ্ক লাগলে কয়েক ফোঁটা স্কিনকেয়ার অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে।

কোনো দাগ বা অ্যাকনে থাকলে সামান্য কনসিলার স্পটে লাগিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। দাগ গাঢ় হলে একটু কালার কারেক্টর ব্যবহার করতে হবে। ফেইস পাউডার, লুজ পাউডার যেটিই আপনাকে মানায় সেটি ব্যবহার করুন একটু করে। সামান্য কনসিলার নিয়ে চোখের পাতায় ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিলে তাতে আইশ্যাডো সুন্দর ফুটে ওঠে। প্রথমে কোনো ম্যাট শেডের ব্রাউন শ্যাডো নিয়ে চোখের ক্রিজে লাগাতে হবে। মেকআপের বড় ধর্ম বোধহয় এই, ধৈর্য ধরে যত পরিপাটি ব্লেন্ড করা যাবে, সাজ তত বেশি আকর্ষণীয় হবে।

রাতের পার্টিতে ব্রোঞ্জ কালারের শ্যাডো দেখতে ভালো লাগে। পোশাকের সঙ্গে না মিলিয়ে চাইলে শ্যাডোতে কনট্রাস্ট আনা যায়। রং বাছাইয়ে সমস্যা হলে গোল্ডেন, সিলভার, কপার, রোজ, অলিভ, পার্পেল কিংবা কোনো নিউট্রাল শেড বেছে নেয়া যায়। চোখের বাইরের কোণে একটু গাঢ় শেডের শ্যাডো লাগানোর পর এবার আই ব্রো-এর ঠিক নিচে কোনো হাল্কা শিমার শেড লাগান। প্রতিটি কালার এমনভাবে ব্লেন্ড করুন যাতে আলাদা আলাদা রংয়ের পার্থক্য বোঝা যায়। বাইরের কোণে যে গাঢ় শেড ব্যবহার করা হয়েছে সেটিই নিচের পাতার বাইরের কোণেও ব্যবহার করতে পারেন। ওপরের এবং নিচের পাতার ভেতরের কোণে কোনো হাল্কা রঙের শিমার শেড লাগালে চোখ উজ্জ্বল লাগবে।

রাতের সাজে চোখকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে সাজাতে ভালোবাসেন অভিনেত্রী তানিয় আহ্‌মেদ। দিনের বেলায় এর ঠিক উল্টা হয়। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে নিজের সাজ নিজেই সারতে ভালোবাসেন এই অভিনেত্রী।

চোখের গঠন অনুযায়ী সরু কিংবা মোটা করে লাইনার লাগিয়ে নিতে হবে। উইঙ্গড আইলাইনারে যে কাউকে মানিয়ে যায়। চোখের পাতায়ও ঘন আই পেনসিল ব্রাউন, অলিভ, টিল, ব্লু ট্রাই করতে পারেন। পার্টিতে একটু জমকালো সাজতে চাইলে ফলস ল্যাশ ব্যবহার করতে পারেন। তবে দামি ল্যাশ গ্লু না হলে চোখে জ্বালাপোড়া হতে পারে, বারবার ল্যাশ খুলে যাওয়ার আশঙ্কা তো আছেই। এরপর চোখের পাতায় কয়েক দফায় মাস্কারা লাগালেই চোখের মেকআপ শেষ! এটুকু সময়েই নিশ্চিত দারুণ লাগছে নিজেকে দেখতে।

লিপস্টিকের ক্ষেত্রে শীতের আবহাওয়াতে গাঢ় শেড মেরুন, মভ, চকলেট, রানি গোলাপি, লাল ব্যবহার করতে পারেন। তবে গাঢ় লিপকালার পছন্দ না হলে ফুশিয়া পিঙ্ক, ব্রাউন, বেবি পিঙ্ক, কোরাল ইত্যাদিও ব্যবহার করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, চোখ এবং ঠোঁট দুটিই যেন খুব বেশি রঙিন না লাগে। অর্থাৎ চোখে যদি কোনো ব্রাইট কালার ব্যবহার করেন, তা হলে ঠোঁটে বেশি ব্রাইট রং না ব্যবহার করলেই ভালো লাগার সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া লিপ গ্লস বা লিপ টিন্ট ব্যবহারের সুযোগ তো থাকছেই।

ব্লাশনের ক্ষেত্রে পিচ, কোরাল, বেবি পিঙ্ক শেড ভালো লাগবে। এরপর সামান্য হাইলাইটার ব্রাশে নিয়ে আই-ব্রো-এর আর্চ, নাকের ডগা, থুঁতনি, চিক বোন, কিউপিড্স বো-তে (অর্থাৎ ওপরের ঠোঁটের মাঝের অংশে) লাগান। হাতের কাছে যদি হাইলাইটার না থাকে, তাহলে কোনো গোল্ডেন বা সিলভার আইশ্যাডোও লাগাতে পারেন।

খোলা চুল ব্লো ড্রাই করে তো রাখতেই পারেন শীতকালে। কিন্তু খোলা চুল সামলাতে যদি অসুবিধা হয়, তাহলে চুল বেঁধে রাখাই শ্রেয়। আর অনুষ্ঠানে শরীরে চাঁদর বা পঞ্চ থাকে বলে টানটান খোঁপাও করতে পারেন। এ ছাড়া মেসি বান, সাইড রোল কিংবা ফ্রেঞ্চ রোল-ও ট্রাই করতে পারেন। চুলে বাড়তি উজ্জ্বলতা আনতে দৈর্ঘ্য বরাবর শাইন সিরাম লাগিয়ে নিন।

এবার পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে নিন জুয়েলারি, ক্লাচ ব্যাগ এবং পায়ে একজোড়া স্টিলেটো। ব্যস, হয়ে যান নিজেই নিজের শো-স্টপার!


banner close