শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ যাত্রা, অতঃপর…

ইব্‌তেসাম আফরিন। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইব্তেসাম আফরিন

কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে আমি যখন পিএইচডি শুরু করি, তখন মানুষ সবে লকডাউনে অভ্যস্ত হতে শুরু করেছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের ঘটনা এটা। অ্যাডমিশন লেটার এসে পৌঁছেছিল ঠিকই, তবে ঝামেলা দেখা দিল পাসপোর্ট নিয়ে। সে সময় পাসপোর্ট অফিসের প্রিন্টিং সমস্যায় নতুন ইস্যু করা পাসপোর্ট হাতে এসে পৌঁছতে বাড়তি সময় লেগেছিল।

উচ্চশিক্ষার্থে যারা বিদেশে গিয়েছেন, তারা হয়তো আমার অবস্থাটা বুঝবেন। আইইএলটিএস, ভর্তির আবেদন ফি, আগের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ট্রান্সক্রিপ্ট তোলা, এমন নানান সব কাজে সঞ্চিত অর্থ ততদিনে তলানিতে পৌঁছেছে। কোভিডের কারণে সীমান্ত বন্ধ থাকায় এবং ভিসা প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে সেপ্টেম্বর সেশনে সরাসরি ক্লাস করার সুযোগ আমার হলো না।

এদিকে উচ্চশিক্ষার জন্য আমার কর্মস্থল থেকেও ছুটি নিয়ে নিয়েছি। অগত্যা যতদিন কানাডায় পড়তে যাওয়ার স্টাডি পারমিট না পাচ্ছি, ততদিন পরিবারের সহযোগিতায় দিন কাটতে লাগল। অনলাইনে ক্লাস শুরু করলাম। দিন-রাত মিলিয়ে মাত্র তিন ঘণ্টার বিশ্রামের ওপর নির্ভর করে প্রথম বর্ষের প্রথম টার্ম চালিয়ে নিই। কেবল মানসিক শক্তির জোরে নিজেকে চালিয়া নিচ্ছি। তখন পর্যন্ত ভরসা একটাই- আমার ফুল ফান্ডিং অফার আছে, আর বর্তমানের যে দুরবস্থা তা হয়তো শিগগিরই কেটে যাবে।

অবশেষে ভিসা-সংক্রান্ত সব জটিলতা কাটিয়ে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কানাডার অন্টারিওতে আমার ক্যাম্পাসে পৌঁছাই। ততদিনে বিমান ভাড়াটা জোগাড় করে দিয়েছে আমার বাবা ও আপুরা। তাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

কানাডায় পড়ার আগে আমার ইংল্যান্ডে পড়ার অভিজ্ঞতা আছে। সেবার কমনওয়েলথ স্কলারশিপ পেয়ে ডারহাম ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স করতে গিয়েছিলাম। তাই এ যাত্রায় জীবনযাপনের ধারা নিয়ে আমি ভালোই আত্মবিশ্বাসি ছিলাম। তবে এখানেই বাদ সাধে বৈদেশিক মুদ্রার চড়া বিনিময় হার।

স্কলারশিপ এজেন্সি পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহ করলেও আরও কত শত খরচের খাত যে আছে! বৈদেশিক মুদ্রার তফাতটা তাই হাড়ে হাড়েই টের পেতে শুরু করি। আমি যখন কানাডায় এলাম, তখন এক কানাডীয় ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রার মান ৬০-৬২ টাকার মতো। আর প্রতি মার্কিন ডলার কিনতে হতো সম্ভবত ৮০ থেকে ৮৪ টাকায়। কানাডা যাওয়ার আগ পর্যন্ত যেকোনো খরচ ডলারেই দিতে হচ্ছিল।

২০২১ সালে যখন কানাডায় পড়তে গেলাম, স্বাভাবিকভাবেই নিজের আবাস, খাবার খরচ, যাতায়াত খরচ- জীবন নির্বাহের জন্য যা যা প্রয়োজন তা চালিয়ে নেয়ার জন্য একটা শিক্ষার্থীবান্ধব বাজেট বানিয়ে ফেললাম। খেয়ে-পরে সমান সমান অবস্থা, ভালোই দিন কেটে যাচ্ছিল তখন। প্রয়োজনে ধারেকাছে কিছু জায়গায় ঘোরাঘুরিও করে ফেলেছি এরমধ্যে। তবে সময় যতই যাচ্ছে, বিশ্ব ততই অস্থিতিশীল হচ্ছে। এর প্রভাব আমিও যে টের পাইনি, তা বললে ভুল হবে। ছোট্ট দুটি উদাহরণ দিই।

২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে আমি যেই কমলার ব্যাগ কিনেছিলাম ৪ ডলারে, এ বছর সেই একই জিনিসের দাম বেড়ে হয়েছে ৮ ডলার। ২০২১ সালে ৩ লিটার তেলের দাম মাত্র ৯ ডলার হলেও হাল আমলে তা বেড়ে প্রায় ১৫ ডলারে পৌঁছেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি জিনিসের দামই দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

আমরা যারা শিক্ষার্থী, তাদের ২০২১ সালে তৈরি করা বাজেটে এখনকার বিদেশি বাজার প্রেক্ষাপট আর মিলছে না একদমই। ভর্তুকি দেয়ার কেউ নেই। টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্সের বেতন নামেমাত্র বেড়েছে, যা নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি সামাল দেয়ার মতো যথেষ্ট নয়। এমন সময়গুলোতে পরিবারের সেফটি নেটের কথা খুব মনে পড়ে। মনে পড়ে কানাডা আসার আগে তারা আমাকে যে রকমভাবে হাতটা ধরে রেখেছিল, তা কতটা অমূল্য।

ডলারের বিনিময় মূল্য বাড়ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জীবনযাত্রার খরচ। এমনকি ৬০-৬২ টাকার কানাডিয়ান ডলারের মূল্যমান এখন ৭৫ টাকার বেশি। যারা এ বছর বাংলাদেশ থেকে বাইরে পড়াশোনার জন্য যাচ্ছে, আমি তাদের কথা ভাবি। বিমান ভাড়া, আবেদন ফি কিংবা পর্যাপ্ত টাকা ব্যাংকে দেখাতে গিয়ে তাদের গত বছরের চেয়ে ১২ শতাংশের বেশি খরচ হচ্ছে। মুদ্রামানের এই তফাত শুধু যে খরচের ওপর প্রভাব ফেলছে তা নয়, আমার মনে হয়, এটির প্রভাব আরো দীর্ঘস্থায়ী এবং গাঢ়।

আমার পর্যবেক্ষণে এর অন্যতম কারণ হলো, বাংলাদেশের প্রায় শিক্ষার্থীই যারা বিদেশে পড়তে যায় তারা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে তাদের পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে থাকে। বিদেশে নিজেদের ভরণ-পোষণ যা-ই হোক না কেন, দেশের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থে নড়চড় হতে দেখি নাই আমি অনেকের ক্ষেত্রেই। এখন, যদি আমাকে কেউ জিজ্ঞাসা করে, ডলারের মূল্য বৃদ্ধিতে আমি কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি কিনা, ভেবে বলতে গেলে ক্ষতির মাত্রাটা ক্রমশ বর্ধমান। শুধু আমি না, যেকোনো শিক্ষার্থীর জন্যই ডলারের মূল্য বৃদ্ধি বড় এক পেরেশানের কারণ। তবে, যেহেতু আমি স্কলারশিপ পাচ্ছি, আমি হয়তো তুলনামূলকভাবে ভালো আছি। কিন্তু, আমার পরিচিত অনেকেই আছেন যারা নিজস্ব ফান্ডে পড়াশোনা করছেন, তাদের জীবনের গল্প মহাকাব্যের চেয়ে কম নয়। তাই ডলারের দাম বৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের জন্য অশনি সংকেতই দিচ্ছে।

মন্দের মধ্যেও যদি ভালো কিছু বলতে হয়, দেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার সময় ডলারের দাম বৃদ্ধি যতটা না গতরে লাগে, বিদেশ থেকে দেশে টাকা পাঠাবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মুখমণ্ডল যেন একটু উজ্জ্বল দেখায়। কারণ ডলারের দাম যে ১০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে! মুদ্রাস্ফীতি এই এক ক্ষেত্রেই মধুর মনে হলেও এর শেষ পরিণতির ভুক্তভোগী আমাদের মতো জনসাধারণই।

লেখক: পিএইচডি ক্যান্ডিডেট, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি

ভুতু এষের দুঃখের কথা

আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৬:২৯
ধ্রুব এষ
    গল্প

ভুতু এষ এইমাত্র একটা খুবই দুঃখের কথা শুনেছে।

এত দুঃখের কথা হায়রে। আনুষ্কা পিসি গিয়ে বলল ভুতু এষকে।

‘আর কদিন পরে শীত পড়ে যাবে।’ বক এষ কাল রাতে বলেছেন। ভুতু এষের বাবা বক এষ।

আনুষ্কা পিসিও একটু আগে বলল।

‘শীত পড়ে যাবে।’

ভুতু এষ বলল, ‘কোথায় পড়ে যাবে আনুষ্কা পিসি?’

‘তোমাদের মুণ্ডুতে, আমার বিড়ালছানারা!’ আনুষ্কা পিসি বলল।

বিড়ালছানারা মানে ব্লুপ আর ভুতু এষ। আনুষ্কা পিসির বিড়াল ব্লুপ। কী ভালো আর কী সুন্দর! আনুষ্কা পিসি বলে, ব্লুপের মতো একটা বিড়ালছানা ভুতুও। কী কালো আর কী সুন্দর! তাই বলে ভুতু এষ কি সত্যি সত্যি বিড়ালছানা নাকি? মোটেও না। ভুতু এষ বক এষের ছানা। আনুষ্কা পিসি যে বিড়ালছানা বলে, আদর করে বলে। বক এষ একবার বলেছেন মেয়েকে।

বক এষ এখন ছাদে বসে আছেন। আনুষ্কা পিসির ব্লুপ আর ভুতু এষও ছাদে বসে আছে। বিকেল বেলার রোদ যায় যায়। একটা ফড়িং ব্লুপের মাথায় উড়ছে। আনুষ্কা পিসি তখন তার মোবাইল ফোনে ভিডিও করে বলল, ব্লুপের জন্মদিনের সেরা ভিডিও। ফেসবুকে দেব ১২টায়।

রাত ১২টায় আজ ব্লুপের জন্মদিন। এই দিনে আনুষ্কা পিসি রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছিল ব্লুপকে।

বক এষ বসে আছেন, বই পড়ছেন। তাদের কথা নিশ্চয়ই শুনছেন না। আনুষ্কা পিসি ব্লুপ আর ভুতু এষের দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলল, ‘আমি কুড়িয়ে পেয়েছি ব্লুপকে। বকদাদা কুড়িয়ে পেয়েছেন তোমাকে।’

কী? কী-ই-ই-ই?

ভুতু এষের কী দুঃখ হলো যে, বলার মতো নয়।

শোনেনি। বক এষ তাকে কুড়িয়ে পেয়েছেন? ব্লুপের মতো হারিয়ে গিয়ে মিউ মিউ করে কাঁদছিল রাস্তায়?

কী দুঃখের কথা! কী দুঃখের!

দুঃখে ভুতু এষ অদৃশ্য হয়ে গেল।

দেখে ব্লুপও অদৃশ্য হয়ে গেল।

আনুষ্কা পিসি কী করবে, সেও অদৃশ্য হয়ে গেল।

বক এষই বা কী করেন আর, অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

দুঃখের কথা, ছাদে কেউ একজন থাকল না।


শীতের বারতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফারুক নওয়াজ
    ছড়া

হিমাদ্রির শিখর ছোঁয়া হিমেল হাওয়ার রেশ
বলছে, ওহো আসছি আমি মেঘনা নদীর দেশ!..
আসছি আমি পৌষ-পাবণের আবেশ ছড়িয়ে
আসছি আমি কুঞ্জলতায় পরান জড়িয়ে।...
পর্তুলেকার রূপের প্রভা, আলোকলতার দোল
নীলসোহেলির সুরের মোহে ফুটবে আমের বোল!..

আসছি আমি হাড়কাঁপানি নীলকুয়াশার শীত...
মউল পাতায় শিরশিরানি বাজিয়ে সংগীত...
খেজুররসের অমৃত স্বাদ জড়িয়ে রসনায়...
মিষ্টি রোদে পিঠ ঠেকাতে কে বলো না চায়!
সর্ষেফুলের হলুদ শোভা ভুরুইপাখির ঝাঁক
পদ্মাপাড়ের মাঠের বুকে চোখ জুড়িয়ে থাক।...

আসছি আমি মাঘনিশিতে শিশির ঝরাতে
আসছি আমি নিসর্গকে পুষ্পে ভরাতে..
রংবাহারি গাঁদার বাহার ডেইজি হলিহক
স্বর্ণময়ী সূর্যমুখী রূপসী ঝক-মক..
ক্যালেন্ডুলা পিংকডালিয়া জারবেরা অ্যাস্টার
কারনেশানের রূপের শোভা মন কাড়ে না কার!...

আসছি আমি হিমহাওয়াতে পাখির ডানাতে...
আসছি বনে প্যানজি-পপির ঘুমটি ভাঙাতে...
ভারবেনা আর সিলভিয়ারা হাসবে খুলে মুখ...
ভোরের রোদে ঝকমকাবে সুইট-পিদের সুখ।
তসবিদানা ঝনঝনাবে দুলবে ঘাসের ফুল...
নীলগোলাপের মন নাচাতে গান গাবে বুলবুল।...

আসছি আমি- এসেই গেছি, উত্তরীয় কই?...
সন্ধ্যা হলে জড়িয়ে নিয়ে পড়তে থাকো বই।
লেখাপড়ায় হেলাফেলা- মোটেও উচিত নয়
লেপ মুড়িয়ে থাকবে কেন- কিসের এতো ভয়।...
পৌষে-মাঘে- এই দুটি মাস জাঁকিয়ে এসে আমি-
পরখ করি হিমকাতুরের আলস্য-পাগলামি।

আমাদের দাদাভাই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরীফ খান
    স্মরণ

রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের কফিন যখন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়েছিল, তখন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল। শিশু-কিশোর-তরুণ-তরুণীসহ সর্বস্তরের মানুষ দাদাভাইকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন অনেকেই। গাদাগাদি-ঠাসাঠাসি মানুষ ছিল শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। একসময় উপস্থিত হয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দাদাভাইয়ের কফিনে শ্রদ্ধার্ঘ জানানোর পরে কফিনের পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক মিনিটেরও বেশি। তারপর এগিয়ে যান দাদাভাইয়ের সহধর্মিণী ‘বেগম’ পত্রিকার সম্পাদক নূরজাহান বেগম ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনে। অনেকটা সময় নিয়ে তিনি সান্ত্বনা দিয়েছিলেন সবাইকে। শোকসন্তপ্ত পরিবারটির সঙ্গে কাটিয়েছিলেন বেশ খানিকটা সময়। ওই দিনটাতে আমি সারাটা সময়ই দাদাভাইয়ের কফিনের সঙ্গে সঙ্গে ছিলাম, বিভিন্ন জায়গায় আমার সঙ্গে থেকে আমারই নির্দেশনায় অসংখ্য ছবি তুলেছিলেন আলোকচিত্র সাংবাদিক নজরুল ইসলাম খান, সব নেগেটিভ তিনি ওই দিনই আমাকে উপহার দিয়েছিলেন।

দাদাভাই আমাকে খুবই স্নেহ করতেন। তিনি আমাকে সম্বোধন করতেন ‘বাগেরহাটবাসী’ বলে। আমার কাছে পাখি ও বন্য প্রাণীর গল্প শুনতে চাইতেন। আমার সঙ্গে সুন্দরবনে বেড়াতে যাওয়ার খুবই ইচ্ছা ছিল ওনার, আমার সময় ছিল, তিনি সময় বের করতে পারেননি।

দাদাভাইকে সমাহিত করা হয়েছিল সেগুনবাগিচার ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রাঙ্গণে। দাদাভাই রোকনুজ্জামান খান একাধারে ছিলেন সাংবাদিক, শিশু সাহিত্যিক ও দক্ষ সংগঠক। ১৯৫৫ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগ দেন এবং ‘দাদাভাই’ ছদ্মনামে শিশুদের পাতা ‘কচি-কাঁচার আসর’ সম্পাদনা শুরু করেন। আমৃত্যু তিনি এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ থেকেই তিনি দাদাভাই নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার বিখ্যাত শিশুতোষ রচনা হচ্ছে, ‘হাসতে নাকি জানে না কেউ/ কে বলেছে ভাই’, ‘খোকন খোকন ডাক পাড়ি’ ও ‘আজব হলেও গুজব নয়’। তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছিলেন। দাদাভাই জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৫ সালের ৯ এপ্রিল রাজবাড়ীর পাংশায় নানাবাড়িতে। তার পৈতৃক বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার ভবানীপুর গ্রামে। গত ৩ ডিসেম্বর ছিল দাদাভাইয়ের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৯ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।


মোগল আমলের সাত গম্বুজ মসজিদ

আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৬:১৮
সুদীপ্ত সালাম

মোগল আমলে নির্মিত ঢাকার মোহাম্মাদপুরের সাত গম্বুজ মসজিদ। মসজিদটি ১৬৮০ সালে সুবাদার শায়েস্তা খাঁর পুত্র উমিদ খাঁ নির্মাণ করেন। চারটি বড় মিনার ও তিনটি ছোট মিনারের সমন্বয় তৈরি হওয়াতে এটির নামকরণ করা হয়েছে সাত গম্বুজ মসজিদ।কথিত আছে- সেখানে শায়েস্তা খাঁর মেয়ের কবরও রয়েছে। শায়েস্তা খাঁর মেয়ের কবরটি বিবির মজার বলে পরিচিত। কবরের জায়গাটি ঘিরে বেশ কিছু সবুজ গাছ বেড়ে উঠেছে; যা মসজিদটিসহ পুরো আঙিনাকে সৌন্দর্যের এক ভিন্নমাত্রা দিয়েছে। মসজিদের পেছনে একটি বিশাল সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পানির চৌবাচ্চা রয়েছে।

ছাদে তিনটি বড় গম্বুজ ও চারটি ছোট গম্বুজ রয়েছে। মসজিদটির আয়তন নামাজের স্থান থেকে বাইরের দিকে ১৭.৬৮ দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থে ৮.২৩ মিটার। এটির ভেতর থেকে বাহিরে বের হতে পাঁচটি দরজা রয়েছে। দুপাশে দুইটি দরজা ও তিনটি দরজা মিম্বারের সামনের দিকে। পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে তিনটি মিহরাব।

হালকা লাল ও মৃদু ব্রাউন বর্ণের দান্দনিক এ মসজিদটি কাছে কিংবা দূর থেকে অত্যন্ত রাজকীয় ও সুন্দর দেখায়। মসজিদের ভেতরে প্রায় ৯০-৯৫ জন মুসল্লির নামাজ পড়ার মতো জায়গা রয়েছে। বাইরের প্রশস্ত যেই জায়গাটি আছে সেখানেও প্রায় দুই-আড়াইশ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন একসঙ্গে।

মসজিদের সামনে একটি বড় উদ্যান রয়েছে। উদ্যানটি ঈদের সময় খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটির দেখাশোনা করে।

মোহাম্মদপুর স্ট্যান্ড হয়ে বাঁশবাড়ী রোড দিয়ে একটু সামনে এগোলোই রাস্তার বাম পাশে মসজিদটি অবস্থিত।


শীতে ঘুরে আসুন মৌলভীবাজার

আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:৩৭
সালাহউদ্দিন শুভ

সবুজ চা-বাগানের গালিচা। ঘন কুয়াশায় ঘেরা পথ। বিশাল হাওরের বুকে জেগে উঠছে সূর্য। পাহাড় আর টিলার ভাঁজে ভাঁজে কুয়াশার হাতছানি। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজার জেলার এখনকার চিত্র। চলছে শীতকাল। কুয়াশার চাদরে ঢাকা এই অমিত সম্ভাবনার ভূমি অপেক্ষা করছে অতিথি-পর্যটকদের জন্য। শুধু বাগানই নয়। আরও জনপ্রিয় কিছু স্থান এই শীত মৌসুমেই ঘুরে দেখার সময়।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

চারদিকে শুধু গাছ আর গাছ। চিরহরিৎ এই অরণ্যের নাম লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের অবস্থান। ১৯২৫ সালের দিকে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ১২৫০ হেক্টর জমিতে বনায়ন করে। ১৯৯৬ সালে বনটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। দেশের ৭টি বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে লাউয়াছড়া অন্যতম। আয়তনে ছোট হলেও এ বনে দুর্লভ উদ্ভিদ এবং প্রাণীর এক জীবন্ত সংগ্রহশালা। ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে এ বনে। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী দেখা যায়। বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত। এ ছাড়া এখানে রয়েছে মুখপোড়া হনুমান, বানর, শিয়াল, মেছোবাঘ, বন্য কুকুর, এশীয় অঞ্চলের কালো ভালুক, মায়া হরিণসহ নানা প্রজাতির জীবজন্তু। রয়েছে সবুজ ঘুঘু, বন মোরগ, ইগল, হরিয়াল, কালো মাথা টিয়াসহ নানা বর্ণের নানা রঙের পাখির বসবাস। এ বনে অজগরসহ রয়েছে নানা প্রজাতির সরীসৃপ। রয়েছে হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপও। লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে রয়েছে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ। এর মধ্যে গর্জন, সেগুন, গামার, জামরুল, চাপালিশ, নাগেশ্বর, শিমুল অন্যতম। উদ্যানের পাশ ঘেঁষেই রয়েছে দৃষ্টিনন্দন খাসিয়া সম্প্রদায়ের মাগুরছড়া পানপুঞ্জি।

মাধবপুর লেক

সুনীল আকাশ, গাঢ় সবুজ পাহাড়, শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মতো মনোরম চা-বাগানের দৃশ্যে আপনি হারিয়ে যাবেন আপনমনে। চারদিকে সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত লেকটি সত্যি অপূর্ব। লেকের ঝলমল পানি, ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ, শাপলা-শালুকের উপস্থিতি আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে পরিবেশ। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ‘মাধবপুর লেক’ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্থান। ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) মাধবপুর চা-বাগানের ১১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত এই লেক। চা-বাগানের শ্রমিকরা এটিকে ‘ড্যাম’ বলে অভিহিত করেন। সময়ের পরিক্রমায় এটি বৃহৎ ও আকর্ষণীয় ড্যামে পরিণত হয়েছে।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ

ধলই সীমান্তে ঘটনাস্থল এলাকায় চিরসবুজ চা-বাগানের মাঝে স্থাপন করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ। বর্তমান সরকার এ স্মৃতিসৌধ এলাকায় মুক্তিযুদ্ধে তথ্য ও চিত্র সমন্বয়ে এখানে গড়েছে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান জাদুঘর। হামিদুর রহমান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আক্কাস আলী মণ্ডল এবং মায়ের নাম কায়মুন্নেসা। সেনাবাহিনীর সিপাহী পদে ১৯৭০ সালে যোগ দেন হামিদুর রহমান। পরের বছরের অক্টোবরে হামিদুর রহমান ১ম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট সি-কোম্পানির হয়ে ধলই সীমান্তের ফাঁড়ি দখল অভিযানে অংশ নেন। তার এ বীরত্বে অবশেষে ওই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজিত হয় এবং ধলই সীমান্ত ফাঁড়িসহ এ এলাকা দখল করে নেন মুক্তিযোদ্ধারা। তবে তার আগেই শহীদ হয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর। তাৎক্ষণিক তাকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুরের আমবাসা গ্রামে সীমান্তের কাছেই দাফন করা হয়। পরে ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর সেখান থেকে মরদেহ এনে ঢাকার মীরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

হামহাম জলপ্রপ্রাত

ঝরনার যৌবন হলো বর্ষাকাল। ঝরনার ঝরে পড়া পানি জঙ্গলের ভেতর দিয়ে ঝিরি পথ তৈরি করে বয়ে চলেছে। এ রকম বিভিন্ন ছোট-বড় ঝিরি পথ পেরিয়ে জঙ্গলের পথ পেরিয়ে ঝরনার কাছে পৌঁছাতে হয়। ঝরনায় যেতে হলে কুড়মা বন বিটের চাম্পারায় চা-বাগান হয়ে যেতে হয়। চম্পারায় চা-বাগান থেকে ঝরনার দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার। পথে অত্যন্ত খাড়া মোকাম টিলা পাড়ি দিতে হয় এবং অনেক ঝিরি পথ কাদা মাটি দিয়ে পথ চলতে হয়। ঝিরি পথে কোথাও কোথাও চোরাবালিও তৈরি হয়, কিন্তু সেসব স্থানে পর্যটকদের জন্য কোনো নির্দেশিকা দেখা যায় না, সুতরাং আপনার নিজেকেই যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এছাড়া গভীর জঙ্গলে বানর, সাপ, মশা এবং জোঁকের অত্যাচার সহ্য করে পথ চলতে হয়। বর্ষাকালে হামহামে যাওয়ার কিছু আগে পথে দেখা পাওয়া যায় আরেকটি অনুচ্চ ছোট ঝরনার। হামহামের রয়েছে দুটো ধাপ, সর্বোচ্চ ধাপটি থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে মাঝখানের ধাপে এবং সেখান থেকে আবার পানি পড়ছে নিচের খাদে। পাহাড় অরণ্যঘেরা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত এই জলপ্রপাতটি অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের জন্য এটি হলো অন্যতম স্থান।

ক্যামেলিয়া লেক

চা-বাগানের শ্রমিকদের কাছে যে লেকের নাম ‘বিসলার বান’। তবে এর প্রকৃত নাম হলো ক্যামেলিয়া লেক। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগরে ব্রিটিশ কোম্পানি ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন শমশেরনগর চা-বাগানে দৃষ্টিনন্দন এ লেকের অবস্থান। এ বাগানের আয়তন প্রায় ৪৩২৬ দশমিক ৪৭ একর।

পাথারিয়া পাহাড়

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় পাথারিয়া পাহাড় অঞ্চল অবস্থিত। এই পাহাড়েই রয়েছে মনোমুগ্ধকর মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। প্রায় ২০০ ফুট ওপর থেকে আছড়ে পড়া জলের স্রোত। এ ছাড়া এই পাহাড়ের বুকজুড়ে রয়েছে আরও অসংখ্য ছোট ছোট ঝরনা। যেগুলোর মধ্যে সন্ধ্যানী, মায়াবন, মায়াকানন অন্যতম। যেই দুর্গম ঝরনাগুলোতে বর্ষার মৌসুমে যাওয়াটা বেশ দুষ্কর। এখন এই শীতই হচ্ছে ঘুরে দেখার উত্তম সময়। বড় বড় পাথর, ক্ষীণ জলস্রোত আর প্রশান্তিদায়ক সবুজে ঘেরা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে প্রায় সারা বছরই থাকে পর্যটকদের আনাগোনা। মৌলভীবাজার থেকে বড়লেখাগামী গাড়ি করে বড়লেখা পৌঁছার আগে কাঁঠালতলী নামক বাজারে নামতে হবে। সেখান থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্বে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও পাথারিয়া বনভূমি অবস্থান।

বাইক্কা বিল

দূর দেশগুলোতে যখন শীতের কারণে বরফ বাতাসে উঠছে, তখন পাখিগুলো কোথায় আশ্রয় নেয়? পাখিগুলো ডানা জাপটে উড়ে আসে বাইক্কা বিলে। একাধারে পাখি, মাছ ও গাছগাছালির অভয়ারণ্য বাইক্কা বিল মূলত হাইল হাওরের অন্তর্ভুক্ত একটি অংশ। অগভীর এই হ্রদটিতে বিভিন্ন গাছপালার দেখা মেলে। সেই সঙ্গে রয়েছে স্থানীয় জলাভূমিও। বিলের ঘেরাটোপে প্রবেশ করতেই পাখিদের মন মাতানো কলকাকলিতে মন ভরে উঠবে। যেহেতু বাইক্কা বিলে মাছ ধরা নিষেধ, বিলে থাকা মাছের ঝাঁক প্রতিবছরই পাখিদের আকর্ষণ করে। শীতকালে এখানে পরিযায়ী পাখিরা ভিড় করে। তাই প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অন্যতম পছন্দের জায়গা এই বিল। পাখি দেখতে আসেন অনেকে, বিজ্ঞানীদেরও দেখা যায় দূরবীন নিয়ে বসে পড়তে। বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময় এখানে নৌভ্রমণের অনুমতি দেয়া থাকে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌর শহর থেকে মৌলভীবাজার আসার মাঝ পথে বরুনা নামক এলাকায় এলে পশ্চিম দিকে বাইক্কা বিল যাওয়ার সড়ক।

টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ

রিসোর্ট

কনকনে শীত অবহাওয়া। বাঁশের সঙ্গে ছনের ঘর। চারপাশে সবুজ গাছ আর পাখির কিচিরমিচির আওয়াজ। মৌলভীবাজার অসংখ্য ইকো রিসোর্টগুলোকে সাজানো হয়েছে এভাবেই। প্রাকৃতিক বিভিন্ন স্থানগুলোর পাশাপাশি পর্যটকদের মন কেড়ে নেয় বিভিন্ন পাঁচ তারকা ও ইকো রিসোর্টগুলো। সুলভ মূল্য থেকে শুরু করে বিলাসবহুল সব রিসোর্ট গড়ে উঠেছে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ। যার মধ্যে রয়েছে গ্রান্ড সুলতান টি-রিসোর্ট, লেমন গার্ডেন, বালিশিরা রিসোর্ট, নভেম ইকো রিসোর্টে, ওয়াটারলিলি, টি হ্যাভেন ও টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ, অরণ্যনিবাস ইকো রিসোর্ট অন্যতম। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলা শহরের পাশেই রয়েছে দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, মুক্তানগর রিসোর্ট ও রাঙাউটি রিসোর্ট।

লেখক : প্রতিনিধি,মৌলভীবাজার


আর্জেন্টিনার টিভি-রেডিও প্রায় প্রতিদিন আমার সাক্ষাৎকার নিচ্ছে

আব্দুল্লাহ আল সাকী আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের পাঁড় ভক্ত
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ২১:৪৬
আব্দুল্লাহ আল সাকী

স্প্যানিশ শিখছি বেশ কয়েক বছর হলো। অনেক দিনের ইচ্ছার প্রতিফলন এই ভাষা শেখা। বিবিএর পর সবাই যখন ব্যস্ত হয়ে গেল চাকরি বা মাস্টার্সের জন্য, তখন আমি গিয়ে ভর্তি হলাম স্প্যানিশ শিখতে। সুফলও পেলাম হাতেনাতে। একাধিকবার স্পেন ভ্রমণ এবং বাংলাদেশে অবস্থিত স্পেনের দূতাবাসে কাজ করার সুযোগ পেয়ে গেলাম।

ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনা আর ছোটবেলা থেকে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের ভক্ত। নেহাল ভাই আমার খুব কাছের এক বড় ভাই। উনি এক দিন জিজ্ঞেস করলেন, আর্জেন্টিনার এক ভক্তের সাক্ষাৎকার নিতে চায় সে দেশের একটি রেডিও, স্প্যানিশেই ওদের সঙ্গে একটা সাক্ষাৎকার দিতে আমি আগ্রহী কি না। সুযোগটা হাতছাড়া করলাম না। ‘রাদিও কন বস’ নামে সেই রেডিওতে কথা বললাম।

পর দিনই আর্জেন্টিনার ‘আমেরিকা টিভির’ প্রযোজক লাউতারো আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার এত এত সমর্থক থাকার ব্যাপারটা সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে এবারই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে, আর্জেন্টাইনদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হয়েছে।

পোল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম রাউন্ডে আর্জেন্টিনার শেষ খেলার পরপরই লাউতারো হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিলেন। আমাকে বললেন, তুমি একটু বাইরে গিয়ে ভিডিও করে পাঠাও। রাত তখন সাড়ে ৩টা। এত রাতে কই যাব? পরে ওকে বাংলাদেশি টিভি চ্যানেল ‘সময় টিভির’ একটা লাইভ রিপোর্টের লিংক পাঠালাম। সেটা দেখে লাউতারো বললেন, তুমি একটু প্রস্তুত থাকো লাইভে কথা বলার জন্য।

আর্জেন্টিনার টিভি চ্যানেল আমেরিকা টিভির অনুষ্ঠানে আব্দুল্লাহ আল সাকী

এদিকে আমার প্রচণ্ড ঘুম পাচ্ছে, সন্ধ্যা থেকে অ্যালার্জিজনিত কারণে হাঁচি-কাশি দিতে দিতে ক্লান্তিকর অবস্থা। চোখ চুলকাচ্ছে। ঘুমাতে পারলে বাঁচি। ঢুলু ঢুলু চোখ নিয়ে কথা বলতে সমস্যা হচ্ছিল। তবু ওই অবস্থায় জার্সিটা পরে মোবাইলের ক্যামেরায় ওদের সঙ্গে আলাপ হলো।

আর্জেন্টাইনরা এবার বাংলাদেশের এই সমর্থকদের নিয়ে অনেক বেশি জানতে ইচ্ছুক। বিস্ময়ে ভরা ওদের প্রশ্নগুলো একই রকম- এত ভক্ত বা সমর্থক কেন এবং কীভাবে?

এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে শেষমেশ কী হয় সেটা জানি না, তবে ওদের জাতীয় ফুটবল দলের প্রতি এই অনুরাগটা অন্তত এত দিনে হলেও ওই দেশ পর্যন্ত, ওদের কাছ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে।

ওরা মূলত অবাক হয়েছে একটা কারণে। এটা আর্জেন্টিনা না, এটা বাংলাদেশ। তবুও মানুষ এমনভাবে আর্জেন্টিনার খেলা উপভোগ করছে, জয় উদ্‌যাপন করছে। যেন এটা আর্জেন্টিনাই। সাক্ষাৎকারে আমাকে জিজ্ঞেস করল, এই ভালোবাসাটা তোমাদের মধ্যে কীভাবে এল। আমি উত্তর দিলাম, এটার শুরু ১৯৮৬ সালে। যখন মেক্সিকো বিশ্বকাপে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন দিয়েগো মারাদোনা নামে সেই আর্জেন্টাইন তরুণ। সে সময় ধীরে ধীরে টিভি পৌঁছাতে শুরু করেছে মানুষের কাছে। এরপর ১৯৯০ সালে সেই মারাদোনা, আর্জেন্টিনা উন্মাদনা এবং ফাইনালে হৃদয়ভঙ্গ।

ব্যক্তিগতভাবে আমি আটানব্বই বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনার ফ্যান, যখন বাতিস্তুতা-ওর্তেগারা খেলত। এরপর তো আরেক বিস্ময় বালকের উত্থান, যার কথা অবশ্যই নতুন করে বলার কিছু নেই। লিওনেল মেসি যার নাম। যার হাতে একটা বিশ্বকাপ দেখার অপেক্ষায় আমরা সবাই।

এদিকে ‘কোদেরে আর্খেনটিনা’ নামে একটি ব্র্যান্ড বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলায় বার্তা দিয়ে একটি ৪৫ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের কাজের জন্য যোগাযোগ করে আমার সঙ্গে। স্ক্রিপ্ট নিয়ে, অনুবাদ করে সেটার পেছনে কণ্ঠদানের কাজ করার অভিজ্ঞতাটিও ছিল অত্যন্ত আনন্দদায়ক।

সে দিনের আমেরিকা টিভির সাক্ষাৎকারের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই আমার সঙ্গে আর্জেন্টিনার বিভিন্ন রেডিও, টিভি চ্যানল যোগাযোগ করে ইন্টারভিউ নিচ্ছে। তার পাশাপাশি এই বিজ্ঞাপনের কাজটি করলাম। এ সব কিছু মিলিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের বাংলাদেশি ভক্ত হিসেবে এবারের বিশ্বকাপটা সবার কাছে তো বটেই, আমার কাছে আরও বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


ক্রিকেট বুঝি না তবু বাংলাদেশকে সমর্থন করি

ক্রিকেট না বুঝেও বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের ভক্ত আর্জেন্টাইন তারকা ড্যান লানদে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ২১:৪৭
ড্যান লানদে

‘আচ্ছা বাংলাদেশ হারছে না জিতছে?’ লিখেছেন এক আর্জেন্টাইন। সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন, ‘এগিয়ে যাও বাংলাদেশ।’ ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের রোববারের ক্রিকেট ম্যাচে এক ফেসবুক গ্রুপে এভাবেই বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছেন আর্জেন্টাইনরা। কেউ কেউ আবার বাংলাদেশের পতাকা-জার্সির খোঁজ শুরু করেছেন। তাদের সিংহভাগ ক্রিকেট বোঝেন না। কেবল আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি বাংলাদেশিদের সমর্থনে মুগ্ধ হয়ে পাল্টা সমর্থন জানাতে এককাট্টা হয়েছেন। ‘ফ্যানস আর্খেনটিনোস দে লা সেলেকসিয়ন দে ক্রিকেট দে বাংলাদেশ’ গ্রুপটির নামের বাংলা করলে দাঁড়ায়—বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আর্জেন্টাইন ভক্ত। গ্রুপটি খুলেছেন ড্যান লানদে নামের এক আর্জেন্টাইন ভ্রমণবিষয়ক লেখক। রোববার তিনি কথা বলেন দৈনিক বাংলার সাপ্তাহিক আয়োজন বাংলার তারুণ্যের সঙ্গে।

গুগল ঘেঁটে আপনার সম্পর্কে জানলাম। তবে আমাদের পাঠকদের নিজের কোনো পরিচয় দেবেন?

আমার নাম ড্যান লানদে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে রুলো দে বিয়াখে (@rulodeviaje) নামেও চেনেন। আমি আর্জেন্টিনার ইউনিভার্সিটি অব বুয়েনস আইরেসের অর্থনৈতিক বিজ্ঞান অনুষদে পড়েছি। আমার বিষয় ছিল উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা। পরামর্শক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করলেও ২০১১ সালে কাজ থেকে এক বছরের বিরতি নিয়েছিলাম। আর সেটাই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। বুঝলাম, ভ্রমণ আর সেটার গল্প বলতেই চাই আমি।

ভ্রমণ নিয়ে লেখা শুরু করলাম, ইনস্টাগ্রামে কনটেন্ট বানাতাম। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্কৃতিকে এক করতে নানা প্রকল্প নিয়ে কাজ করছি। কেবল প্রকৃতিদর্শন নয়, ভ্রমণ থেকে আমি আরও কিছু চেয়েছি। এখন নিজেকে ভ্রমণ, লেখালেখি এবং যে পৃথিবীতে আমাদের বাস, সেটার গল্প বলায় নিবেদিত করতে চাই।

বাংলাদেশের ক্রিকেট দলকে সমর্থন জানানোর ইচ্ছা হলো কেন?

বিগত কয়েক সপ্তাহে আমরা বাংলাদেশের অনেক ভিডিও দেখেছি। সেখানে আর্জেন্টিনার পতাকা আর জার্সি গায়ে বহু মানুষ দেখা গিয়েছে। কেউ বিজয় উদযাপন করছে, কেউ কেউ একসঙ্গে জড়ো হয়ে খেলা দেখছে। আমাদের জাতীয় দলকে এমনভাবে সমর্থন করছে যেন তারা আর্জেন্টাইনই। বাংলাদেশ যেন আরেকটি আর্জেন্টিনা।

মানুষের এত ভালোবাসা আমদের মুগ্ধ করেছে। মনে হয়েছে আমাদের অন্তত ধন্যবাদ জানানো উচিত। বিশ্বকাপ শুরুর পর আমি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিয়েছিলাম, যারা আর্জেন্টিনার ভক্ত। তাই আমরা আর্জেন্টাইনদের নিয়ে একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলে এমন একটি খেলায় বাংলাদেশিদের সমর্থন করতে চেয়েছি যেটা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রিকেট কতটা বোঝেন?

আমি ক্রিকেটের কিছুই বুঝি না। আমি ভালোবাসি ফুটবল। আর্জেন্টিনায় আমি রিভার প্লেট ক্লাবের ভক্ত। যতদূর মনে পড়ে, শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের সময় একবার ক্রিকেট ম্যাচ দেখেছিলাম। তবে খেলার নিয়মকানুন জানি না। জানি না কীভাবে খেলতে হয়। ক্রিকেটের প্রতি সমর্থন দেখানোটা প্রতীকী। কিছুটা মজা করেই শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশে যদি তারা আমাদের ফুটবলকে সমর্থন দেয়, আমাদের উচিত তাদের ক্রিকেটকে সমর্থন দেয়া।

ফেসবুক গ্রুপটি আর্জেন্টাইনে পরিপূর্ণ ছিল, যারা কেউ ক্রিকেট বুঝত না। তবে সেটা কোনো ব্যাপার না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, দুটি দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা। যা হোক, এখন নতুন এক স্বপ্ন দেখছি আমি। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো গিয়ে সেখানে একটি ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে চাই।

আর্জেন্টাইনদের জন্য খোলা ফেসবুক গ্রুপ এখন বাংলাদেশি দিয়ে পরিপূর্ণ। এমনটা কী ভেবেছিলেন?

গ্রুপ নিয়ে যা হলো, তা স্রেফ পাগলামি। বুঝিনি এর এত বড় প্রভাব থাকবে। ফেসবুকে গ্রুপ খোলা নিয়ে পোস্টটিও টুইটারে ভাইরাল হয়েছে। এক দিনের কম সময়ের মধ্যে ৩০ হাজার মানুষ যোগ দিয়েছে। এরপর দেখলাম বাংলাদেশ থেকেও অনেকে যোগ দিতে শুরু করেছে। হাজারও পোস্ট, হাজারও মেসেজ। সবকিছু যেন নিয়ন্ত্রণ ছাড়া হওয়ার জোগাড়। অনেকে ফেসবুকে রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছেন, মেসেজ করেছেন। কেউ অভিবাদন তো, কেউ ধন্যবাদ দিতে চান। কেউ কেউ আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে, আবার আমার পরিবারের সদস্যদেরও বার্তা পাঠিয়েছেন। শুরুতে কিছুটা ভয়ই পেয়েছিলাম। এরপর মনে হলো, এত ভেবে কী হবে! অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচ ও পরবর্তী উদযাপনে মনোযোগী হলাম।

আপনাকে দিয়ে শুরু করেছিলাম, শেষও আপনাকে দিয়ে করি। আপনার ওয়েবসাইটে দেখলাম, আপনি ভ্রমণ আর সৃজনশীলতা এক করতে চান। সেটা কেমন?

ভ্রমণবিষয়ক লেখকের পাশাপাশি আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা নিয়ে পড়াই। আমি সব সময় শিক্ষার্থীদের বলি, যেকোনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কিংবা সমস্যা সমাধানের অনেক পথ আছে। ভ্রমণ কিংবা কোনো দেশ সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। মানুষ সাধারণত একই জায়গায় একই জিনিস দেখতে যায়। আমার কাছে এই পৃথিবী খুবই চমৎকার এক জায়গা, যার বর্ণনা হাজারও ভাবে দেয়া যায়। মানুষ যত, তাদের দেখার চোখও তত।

কোনো জায়গা সম্পর্কে আমরা যা বলতে চাই, তা আমাদের পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করে। একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তা অনন্য হয়ে ওঠে। আমি সব সময় সৃজনশীল প্রকল্পের মাধ্যমে এই বিশ্বকে তুলে ধরতে চাই। আমার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে (@rulodeviaje) তা শেয়ারও করি।

এর একটি উদাহরণ এই ফেসবুক গ্রুপ। এটা এমন আর্জেন্টাইন ক্রিকেটের ভক্তদের গ্রুপ যাদের ক্রিকেট সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। অথচ দেখুন কীভাবে তা সবার মাঝে ছড়িয়ে গেছে। এখন একটাই প্রত্যাশা, এমন ফলাফলে বিশ্বকাপ শেষ হোক, যা আমরা সবাই চাই। এরপর বাংলাদেশ ঘুরে আসতে চাই।


মুখের সমস্যায় অবহেলা নয়

আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:৫১
ডা. আরমান আরেফিন

বহু মানুষ হামেশাই মুখের ঘায়ের সমস্যায় ভোগেন। তবে বেশিরভাগ মানুষই এই সমস্যাকে তেমন আমল দেন না।,বেশিরভাগ সময়ই মুখের ঘা খুব জটিল দিকে যায় না। সাধারণত পেটের অসুখ, ভিটামিনের অভাব ইত্যাদি কারণেই এই সমস্যা হয়। বেশিরভাগ সময়ই মুখের ঘা খুব জটিল দিকে যায় না। সাধারণত পেটের অসুখ, ভিটামিনের অভাব ইত্যাদি কারণেই এই সমস্যা হয়। তবে বেশকিছু সময় এই সমস্যা থেকে হতে পারে ক্যান্সার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,ওরাল ক্যান্সার মূলত জিহ্বা, মুখ, মুখের পেছনে গলা ও ঠোঁটের স্কোয়ামাশ টিস্যুতে হয়ে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। এই মুখ বা ওরাল ক্যান্সার কেন হয় , এর উপসর্গ, চিকিৎসা,করণীয় নিয়েই আজকের এই আলোচনা।

মুখের ক্যান্সার কি ও ধরণসমূহ

মুখ বলতে বোঝায় ঠোঁট, চোয়াল, তালু, জিহ্বা, দাঁত, মাড়ি, মুখের তলদেশ, টনসিল ও পাশের এলাকা। ঠোঁট, জিহ্বা, গলার উপরের অংশ, গাল, মাড়ি, মুখের মেঝে ইত্যাদির ক্যান্সার সময়মতো নির্ণয় এবং চিকিৎসা না করা হলে এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে। সাধারণত মুখ গহ্বর ও জিহ্বায় কোষের কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধির মাধ্যমে ওরাল ক্যান্সারের কোষের অস্তিত্ব প্রকাশ পায়। মুখের ক্যান্সার মুখের টিস্যুকে প্রভাবিত করতে পারে।

মুখের ক্যান্সারের ধরণগুলো হলো : ঠোঁট, জিহ্বা, মাড়ি , গালের ভিতরের আস্তরণ, তালু (মুখের ছাদ), মুখের মেঝে (জিহ্বার নিচে)

কারণ

মুখে ক্যান্সার হওয়ার অন্যতম প্রধান একটি কারণ হলো তামাক গ্রহণ করা। পান, জর্দা, সাদাপাতা, গুল, বিড়ি, সিগারেট, অ্যালকোহল ইত্যাদির নিয়মিত গ্রহণ মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও অন্যান্য কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে -

* হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) ইনফেকশন।

* খাদ্য তালিকায় ফল-মূল, শাক-সবজির পরিমাণ কম থাকাও এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

* মুখের ভিতর অসুস্থ ও তীক্ষ্ণ দাঁতের আঘাতে সৃষ্ট ক্ষত দীর্ঘদিন থাকলে তা থেকেও ক্যান্সার হতে পারে।

* পরিবারের কারও এই ক্যান্সার হওয়ার পূর্ব ইতিহাস থেকে থাকলে।

* দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

* অপুষ্টিজনিত কারণ।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য ,এক গবেষণায় দেখা গেছে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের এই রোগে আক্রান্ত হবার প্রবণতা দ্বিগুন।

উপসর্গ বা লক্ষণ

মুখের ক্যান্সারের উপসর্গগুলো অনেকসময় প্রাথমিকভাবে বোঝা যায় না। আবার যাদের মধ্যে এসব উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা যায় তারাও প্রাথমিকভাবে এগুলোকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। যে কারণে অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় রোগীরা যখন তাদের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান ততদিনে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। মুখের ক্যান্সারের উপসর্গ বা লক্ষণসমূহ ;

* মুখের গহ্বরের (মুখ) পর্দায় (ঝিল্লি) ৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কোন সাদা বা লালচে দাগ থাকা।

* ১ মাসের চেয়ে বেশি সময় গলাব্যথা স্থায়ী থাকে।

* মুখের কোন ক্ষত ৩-৪ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে না সেরে উঠা।

* মুখগহ্বরের দেয়ালে বা ঝিল্লিতে কোন অস্বাভাবিক পিন্ড বা টিউমারের উপস্থিতি অনুভব করা।

* কোনও কারণ ছাড়াই দাঁত আলগা হওয়া বা পড়তে থাকা।

* ঢোক গিলতে অসুবিধা হওয়া।

* মুখ-গহ্বরে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ বা ব্যথা।

* ২-৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মুখ খোলা ,ঠোঁট ,জিহবা ,কান ,ঘাড় ,টন্সিল অঞ্চলে ব্যথা থাকলে তা অবহেলা করা যাবে না ও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

নির্ণয়

মুখের ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য বেশকিছু পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। সেগুলো হলো - বায়োপসি, এফএনএসি, এক্স-রে, ওপিজি, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, পিইটি স্ক্যান,এন্ডোস্কোপি ইত্যাদি।

মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসা

মুখের ক্যান্সারের তিন প্রকার চিকিৎসা রয়েছে- প্রথমত সার্জারি, দ্বিতীয়ত কেমোথেরাপি, তৃতীয়ত রেডিওথেরাপি। যখন ক্যান্সারের আকার অনেক ছোট থাকে তখন সার্জারি বেশি ফলপ্রসূ। এজন্য প্রত্যেকের উচিত প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সারের চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা।

সার্জারি:

মুখের ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা হল অস্ত্রোপচার টিউমার অপসারণ। অস্ত্রোপচারের মধ্যে ক্যান্সারযুক্ত লিম্ফ নোড এবং ঘাড় এবং মুখের অন্যান্য টিস্যু অপসারণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

রেডিওথেরাপি:

রেডিয়েশন থেরাপি ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত অস্ত্রোপচারের পরে ওষুধের সাথে পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য করা হয়। ডাক্তার দিনে এক বা দুইবার টিউমারের স্থানে রেডিয়েশন দেয়া হয়ে থাকে। টিউমারের আকারের উপর নির্ভর করে চিকিৎসা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সপ্তাহে ২দিন বা ৫ দিন করে ২ সপ্তাহ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত এই থেরাপি চলতে পারে। ক্যান্সার এডভান্স স্টেজের রেডিয়েশন থেরাপির সাথে কেমোথেরাপিও দরকার হতে পারে।

এখানে জেনে রাখা ভালো রেডিয়েশন থেরাপির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। যেমন - মুখে ঘা, মুখ শুকিয়ে আসা, দাঁত ক্ষয়ে যাওয়া, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া, চামড়া এবং মুখের বিভিন্ন ইনফেকশন, অবসাদ, স্বাদ এবং গন্ধ নিতে অপরাগতা ইত্যাদি।

কেমোথেরাপি:

কেমোথেরাপি হল মৌখিকভাবে বা অন্ত:সত্ত্বা (আইভি) লাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ খাওয়ার একটি পদ্ধতি। কেমোথেরাপি কখনও কখনও ক্যান্সারের উন্নত পর্যায়ে রেডিওথেরাপির সাথে মিলিত হয়। এটি ক্যান্সার কোষের ডিএনএকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য করা হয়, তাদের বিভাজন এবং গভীর টিস্যুতে বেড়ে ওঠার ক্ষমতা দূর করে।

রেডিওথেরাপির মতো কেমোথেরাপিরও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। যেমন - চুল পড়া, মুখ এবং মাড়িতে ব্যথা, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, রক্তশূন্যতা, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব এবং বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি।

ঝুঁকি কমাতে করণীয়

* ধূমপান অথবা অন্য কোনো তামাক পাতা সেবন পরিহার করতে হবে।

* অ্যালকোহল পরিহার করতে হবে।

* দীর্ঘক্ষণ সূর্যতাপ পরিহার করুন।

* মুখ গহ্বর পরিষ্কার রাখুন এবং নিয়মিতভাবে দাঁতের ডাক্তার দেখাবেন।

* অনিরাপদ যৌন মিলন পরিহার করতে হবে।

সচেতনতা এবং কিছু কথা

মুখের ক্যান্সার প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসা করা অনেকটাই সহজ হয়। তবে রোগ বেশিদূর এগিয়ে গেলে চিকিৎসা বেশ কঠিন। কাজেই মুখ বা দাঁতের কোন সমস্যাই অবহেলা করবেন না। সমস্যা যতই ছোট হোক না কেন সেটা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা বাঞ্চনীয়।

লেখক : দন্ত বিশেষজ্ঞ ,

ম্যান্ডি ডেন্টাল কলেজ এন্ড হাসপাতাল

(জেডএইচ শিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল )


অচলায়তন ভেঙে বিশ্বকাপে নারী রেফারি

বাঁ থেকে নিউজা ব্যাক, স্টেফানি ফ্রাপার্ট, কারেন ডিয়াজ। ছবি- টুইটার
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:৩৭
মাহ্‌মুদুল হাসান উৎস

শুরু থেকেই কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে চলছিল নানান বিতর্ক। ড্রেসকোড, স্টেডিয়ামে বিয়ার পান নিষিদ্ধসহ অনেক আজগুবি বিধিনিষেধ চাপিয়েছিল কাতার প্রশাসন। কিন্তু এর মধ্যেই চিরকালীন অচলায়তন ভেঙে পুরুষ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ম্যাচ পরিচালনায় দেখা গেল তিন নারী রেফারিকে। ঐতিহাসিক ঘটনাটি জার্মানি কোস্টারিকার গ্রুপ পর্বের সর্বশেষ ম্যাচে কাতারের আল খোরে অবস্থিত আল বায়েত স্টেডিয়ামে দেখা গিয়েছে।

কাতার বিশ্বকাপে প্রথম নারী রেফারি হিসেবে অভিষেক হয়েছে ফ্রান্সের স্টেফানি ফ্রাপার্টের। তার সঙ্গে ছিলেন রুয়ান্ডার সালিমা মুকাসাঙ্গা ও জাপানের ইয়োশিমা ইয়ামাশিতা। সহকারী পরিচালক হিসেবে আছেন ব্রাজিলের নিউজা ব্যাক, মেক্সিকোর কারেন ডিয়াজ মেদিনা ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথেরিন নেসবিট। প্রথমবারের মতো পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপে নারী রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন ওনারা।

মাঠে বেশ ভালোভাবেই নিজেদের দায়িত্ব সামলেছেন ওনারা। দুই একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত প্রায় সব ম্যাচেই থাকে, যা নিয়ে বিরোধী দলের সাপোর্টাররা আলোচনা-সমালোচনা করেন। তবুও সব মিলিয়ে এটি ছিল দুর্দান্ত একটি ম্যাচ।

ফিফা রেফারিজ কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা জানান, ‘এর মাধ্যমে অনেক বড় একটি প্রক্রিয়ার ইতি ঘটল। অনেক বছর আগে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ফিফার বালক টুর্নামেন্ট ও বিভিন্ন সিনিয়র টুর্নামেন্টে নারী রেফারির দায়িত্ব দিয়ে। এর মাধ্যমে আমরা এটা জোর দিয়ে বলতে চাই, কাজের ক্ষেত্রে আমরা কেবল কর্মীর গুণটাই দেখি, তার লিঙ্গ নয়।’ এর পাশাপাশি তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি আশা করি, ভবিষ্যতে পুরুষদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় এলিট নারী রেফারিদের অংশগ্রহণকে স্বাভাবিক হিসেবেই ধরা হবে, বিষয়টি এবারের মতো চমকপ্রদ কিছু হবে না।’

পুরুষ বিশ্বকাপে নারী রেফারির খবর প্রকাশের পরপরই ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে দেখা দেয় উন্মাদনা। ফিফার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রায় সবাই। এর মাধ্যমে লিঙ্গ বৈষম্য দূর হবে বলেও প্রত্যাশা করেছেন অনেকে। শ্রেষ্ঠ জয়িতা বিজয়ী বাংলাদেশি নারী অধিকার অ্যাক্টিভিস্ট আয়শা মুক্তি এ প্রসঙ্গে জানান, ‘কাতার প্রশাসন এই বিশ্বকাপকে সংখ্যালঘুদের জন্য কঠিন করে তুলেছিল, কিন্তু ফিফা নারী রেফারি নিয়োগ দিয়ে কাতার প্রশাসনের এহেন আচরণের এক ঠাণ্ডা জবাব দিল।’ যাই হোক, সব বাধাবিপত্তি কাটিয়ে বেশ ভালোভাবেই চলছে কাতার বিশ্বকাপ। পাশাপাশি নারী রেফারি নিয়োগে ফিফার এই সিদ্ধান্ত ছিল অনবদ্য। তাই জাতীয় কবি কাজী নজরুলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমরা আরও একবার বলতে পারি- ‘বিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’


আন্দোলন থেকেই মুক্তির হাতছানি

আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:৩৭

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ইরানের পশ্চিমাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা কুর্দি নারী মাহসা আমিনীকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে অর্থাৎ ইরানের সরকারি মান অনুযায়ী হিজাব পরিধান করেননি। তাই তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তিনি কোমায় চলে যান। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।

মাহসার মৃত্যুর পর ইরানসহ পুরো বিশ্বই যেন এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে। ইরানে শুরু হয় আন্দোলন। যে আন্দোলন খুব দ্রুতই বেগ পেতে শুরু করে। এমনকি শীর্ষস্থানীয় ইরানি অভিনেতা তারানেহ আলিদুস্তিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আন্দোলনের সমর্থনে বেরিয়েছিলেন সে সময়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতেও স্থান পেতে থাকে মাহসা আমিনীর মৃত্যুর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ফুলে ফেঁপে ওঠা আন্দোলনের চিত্র। ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল স্বীকার করেছেন যে, পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনীর মৃত্যুর কারণে দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলমান বিক্ষোভে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।

পোস্টারে মাহসা আমিনী। ছবি: সংগৃহীত
Caption

আন্দোলন এতটাই বেগ পেয়েছে যে, কয়দিন আগে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ইরানের ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২-এর প্রথম ম্যাচের আগে কাতারের খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ‘সে হার নেইম, মাহসা আমিনী’ স্লোগানে চারপাশ সরব হয়ে ওঠে। শুধু তাই নয়, স্টেডিয়ামের বাইরে নারী, পুরুষ, শিশু অনেককেই ‘জান, জিন্দেগি, আজাদি’ (নারী, জীবন, স্বাধীনতা) লেখা টি-শার্ট পরে অবস্থান করতে দেখা গেছে। জান, জিন্দেগি, আজাদি মূলত ইরানের বিক্ষোভের একটি বিখ্যাত স্লোগান।

দুই মাসেরও অধিক সময় ধরে চলা এ সহিংস আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জাফর মোনতাজেরি একটি ধর্মীয় সম্মেলনে বলেছেন, ইসলামি নীতি-নৈতিকতা নিয়ে খবরদারি করার জন্য তৈরি সে দেশের নৈতিকতা পুলিশ হিসেবে পরিচিত বিশেষ পুলিশ বাহিনীকে ভেঙে দেয়া হয়েছে। তবে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বা সরকারের আরও উঁচু মহল থেকে এমন সিদ্ধান্তের কথা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, হিজাব বাধ্যতামূলক করার আইনটিতে পরিবর্তন আনার কোনো পথ রয়েছে কি না পার্লামেন্ট এবং বিচার বিভাগ তা খুঁটিয়ে দেখছে। এ ব্যাপারে সংসদ এবং বিচার বিভাগ উভয়ই কাজ করছে। আমরা সংসদের সাংস্কৃতিক কমিশনের সঙ্গেও একটি বৈঠক করেছি। আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে এ আলোচনার ফলাফলও পাওয়া যাবে বলেই আশা করছি।

তবে যদি কোনো পরিবর্তন আসেও সেটি কী ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের চার বছর পর কার্যকর হওয়া হিজাব আইনে পরিবর্তন আনবে কি না সে ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করেননি। উল্লেখ্য, নারীদের ইসলামি ড্রেস কোড বা পোশাক পরিধানসহ ইসলামি বিভিন্ন নীতি-নৈতিকতার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই ছিল মরালিটি বা নৈতিকতাবিষয়ক এই পুলিশ বাহিনীর অন্যতম প্রধান কাজ।

সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা ও সিএনএন


ঋতুস্রাব যখন অনিয়মিত...

গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সাবিনা শারমিন বলেন, “মাসিক অনিয়মিত হওয়ার মূল কারণ হরমোনাল ইমব্যালেন্স
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:৩৭
নাহিন আশরাফ

মাসিক চক্র একটি বিশেষ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। প্রতিটি সুস্থ-স্বাভাবিক নারীর এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। নারীদেহে মাসিক চক্র সম্পন্ন হয় বলেই নারীরা সন্তান ধারণ করতে পারে। একজন নারীর জীবনে মাসিক একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কিন্তু অনেক সময় মাসিক নিয়ে দেখা যায় অনিয়ম। বিশেষ করে তরুণীরা পড়ছে এই সমস্যায়, অবিবাহিত মেয়েদের ঋতুস্রাব বা মাসিক অনিয়ম দেখে স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সবাই আতঙ্কিত হয়ে যায়।

দিন দিন এই সমস্যায় ভুগতে থাকা নারীর সংখ্যা বেড়েই চলছে কিন্তু কেন হচ্ছে এই অনিয়ম? এ ব্যাপারে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সাবিনা শারমিন বলেন, “মাসিক অনিয়মিত হওয়ার মূল কারণ হরমোনাল ইমব্যালেন্স। রোগীরা এসে বলে মাসিক হচ্ছে না, তার সঙ্গে থাকে অবাঞ্ছিত লোম এবং আরো বেশ কিছু সমস্যা। নারীর মাসিক সাধারণত ২৮ দিন পরপর হয়। তবে ২১ দিনের আগে বা ৩৫ দিনের পরে হলে এবং ৩ দিনের কম বা ৭ দিনের বেশি হলে তাকে অনিয়মিত মাসিক বলা হয়। এই অনিয়মিত মাসিক অনেকের জীবনের প্রথম মাসিক শুরু হওয়ার পর থেকেই দেখা দেয়, অনেকের আবার বেশ কিছুদিন মাসিক নিয়মিত থাকার পরে হঠাৎ অনিয়ম হয়ে যায়। মাসিকের সময় রক্তপাত বেশি হলে কিংবা অতিরিক্ত কম হলে সেটিকেও অনিয়মিত মাসিকের পর্যায় ধরা হয়। সাধারণত ৩০ থেকে ৮০ মিলিলিটারের মধ্যে রক্তপাত হলে সেটাকে স্বাভাবিক ধরা হয়। কিন্তু ৩০-এর কম কিংবা ৮০-এর বেশি হলে সেটিকেও অনিয়মিত মাসিক বলা হয়।

হরমোনাল ইমব্যালেন্স অনেক কারণে হতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত কম বা বেশি কাজ করা, ডায়াবেটিস, টিউমার, মানসিক চাপ, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম ইত্যাদি অনেক কারণে এমন হতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম। যাকে সংক্ষেপে পিসিওএস বলা হয়। পিসিওএস মূলত নারীদেহে পুরুষ হরমোনের আধিক্যের কারণে হয়ে থাকে, এ হরমোনকে বলা হয় এন্ড্রোজেন। এ রোগের লক্ষণ নিয়ে ডা. সাবিনা শারমিন বলেন, নারীর শরীরে উচ্চমাত্রায় পুরুষালি হরমোন বেড়ে যাওয়ার কারণে বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন- ব্রনের সমস্যা, শরীরে পুরুষের মতো লোম যাকে বলা হয় হিরসুটিজম, কারণ ছাড়াই ওজন বেড়ে যাওয়া, মাথার চুল পড়া। পিসিওএস-এর ফলে ইনসুলিন হরমোনের কাজে বাধাগ্রস্ত হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও রক্তের মাধ্যমে কিছু হরমোনের পরীক্ষা দ্বারা এই রোগ নির্ণয় করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থির যেকোনো সমস্যার কারণে মাসিক অনিয়মিত হতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ অনেক সময় অনিয়মিত মাসিকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের মস্তিষ্কে হাইপোথ্যালামাস নামক একটি অংশ রয়েছে, মানসিক চাপে ভুগলে অনেক সময় হাইপোথ্যালামাস ঠিকমতো কাজ করে না। তখন মাসিক দেরিতে শুরু হয়। এই হরমোনাল ইমব্যালেন্স হওয়ার সঠিক কারণ এখনো অজানা। কিছু গবেষণা থেকে জানা গেছে এটি জেনেটিক কারণে হতে পারে। আবার অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলও এর কারণ।

আমাদের দেশে একটি প্রচলিত কথা আছে অনিয়মিত মাসিক সমস্যা দেখলেই পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা মনে করেন বিবাহ দিয়ে দিলেই বুঝি এর সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু ডা. সাবিনা শারমিন বলেন, এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। বিবাহের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা এর একমাত্র সমাধান। ডা. সাবিনা শারমিন আরো বলেন, অনিয়মিত মাসিক দেখা দিলে কোনো বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে, তিনি লক্ষণ বুঝে এবং রোগীর ইতিহাস শুনে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেবেন। কিন্তু জীবনযাত্রায় আনতে হবে পরিবর্তন যেমন ওজন বেশি থাকলে কমাতে হবে, কার্বোহাইড্রেট কমাতে হবে এবং বেশি করে প্রোটিন জাতীয় খাবার ও আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে। প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে এবং অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম প্রয়োজন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তাই আতঙ্কিত না হয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চললেই অনিয়মিত মাসিক নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।


স্বপ্নে কেন দৌড়াতে পারি না?

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দুঃস্বপ্ন কাকে বলে? স্বপ্নে যখন খুব ভয়ংকর বিপদের মুখোমুখি হই, কিছুতেই তা থেকে পরিত্রাণের উপায় মেলে না, তখনই আসলে দুঃস্বপ্ন জেঁকে বসে। কিন্তু দুঃস্বপ্নের মাত্রাটা বাড়িয়ে দেয় আপনার দৌঁড়াতে না পারার অক্ষমতা। হয়তো দেখছেন ভয়ংকর কোনো সাপ তাড়া করছে আপনাকে, কিংবা দুর্ধর্ষ কোনো খুনি। তখন আপনি কী করবেন? নিশ্চিতভাবেই দৌড়ানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু স্বপ্নে ও চেষ্টা করে লাভ নেই। কারণ, চাইলেও আপনি স্বপ্নে দৌড়াতে পারবেন না। অথচ দেখবেন, আপনার সামনে দিয়ে অন্যরা দৌড়ে মাইলকে মাইল পার হচ্ছেন। আবার আপনি উড়তে পারবেন, অনেক কাজ করতে পারবেন, কিন্তু দৌড়াতে পারবেন না। কেন?

ঘুমের বেশ কয়েকটা পর্যায় আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রেম। মানে র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট। এ পর্যায়ে মানুষ স্বপ্ন দেখেন। ঘুমের এই পর্যায়টা কিছুটা অদ্ভুত। কারণ, এ সময় শরীর অসাড় হয়ে থাকে, পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীর মতো। আবার চোখ নড়েচড়ে, হৃদস্পন্দনের গতিও এ সময় বেশি থাকে। এ সময় মস্তিষ্ক থেকেও পাওয়া অল্প কিছু সংকেত শরীরে পৌঁছায়, বাকিটা পৌঁছায় না। এ সময়ই আসলে মানুষ স্বপ্ন দেখেন।

ঘুমের এ পর্যায়ে মস্তিষ্ক থেকে বেশকিছু হরমোন নিঃসরণ বন্ধ থাকে। সেগুলো নরএপিনেফ্রিন, সেরাটোনিন ও হিস্টামিন। এসব হরমোনের অন্যতম কাজ মস্তিষ্ক থেকে শরীরেরে বিভিন্ন অঙ্গে নড়াচড়া করার সংকেত বয়ে নিয়ে যাওয়া। এসব সংকেত পেলেই তবে অঙ্গগুলো কাজ করে। কিন্তু এসব হরমোন নিঃসৃত হয় না বলে ঘুমের এ পর্যায়ে আমরা নড়াচড়া করতে পারি না। দ্রুত নড়াচড়ার অনুভূতিটিও তাই এ সময় মস্তিষ্কে কাজ করে না।

এ সময় যদি স্বপ্ন দেখেন, তাহলে সেই স্বপ্ন ধীরগতির হবে। অর্থাৎ হাঁটতে পারবেন, তবে সেটি খুব দ্রুত নয়। দৌড়ানো, কাউকে দ্রুত আঘাত করার মতো স্বপ্ন এ সময় দেখতে পারবেন না। কারণ, দ্রুত নড়াচড়ার অনুভূতিটিই আপনার মাথায় কাজ করবে না তখন। কিন্তু উড়তে পারবেন। আসলে ঘুমের মধ্যে যে উড়ছেন, কীভাবে উড়ছেন, সেই যুক্তিবোধ তখন কাজ করে না। তাই যেটিকে আপনি ওড়া ভাবছেন সেটি ঠিক ওড়া বলা চলে না। এই মুহূর্তে আপনি এক জায়গায় রয়েছেন, পরের মুহূর্তে হয়তো আরেক জায়গায় আবিষ্কার করলেন নিজেকে, এটিকে স্বপ্নে ওড়া বলে মনে হলেও বাস্তবের ওড়ার মতো কোনো ব্যাপার নয় এটি।


পৃথিবীর পথে আর্টেমিসের মূল যান

আপডেটেড ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৫:২৩
মাহমুদুল হাসান উৎস

নাসার আর্টেমিস-১-এর মূল যান ওরিয়ন চাঁদের কক্ষপথ ত্যাগ করেছে। বর্তমানে পৃথিবীতে ফেরার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে এটি। ১ ডিসেম্বর রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে মহাকাশযানের ক্যাপসুলটিকে চাঁদের কক্ষপথের বাইরে চলে এসে। এই মিশনটি লাইভ টেলিকাস্ট করেছে নাসা।

গত ১৬ নভেম্বর নাসার সর্বাধুনিক স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল আর্টেমিস-১ মহাকাশ মিশন। এর মূল মহাকাশযান হলো ওরিয়ন। সব ঠিকঠাক থাকলে ২০২৪ সাল নাগাদ চাঁদে আবারও মানুষ পাঠানো হবে।

এখন পর্যন্ত আর্টেমিস ১-এর সবচেয়ে বড় সফলতা হচ্ছে চাঁদের চারপাশের দূরবর্তী কক্ষপথে মহাকাশযান স্থাপন করা। গত ২৫ নভেম্বর এই কাজটি সম্পন্ন হয়েছিল। আর্টেমিস মিশন ম্যানেজার মাইক সারাফিন গত বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সন্মেলনে বলেন, ‘আমাদের মিশন ম্যানেজমেন্ট সদস্যরা ওরিয়নকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করে দিয়েছে।’

বর্তমানে ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের দূরবর্তী কক্ষপথ ত্যাগ করে পৃথিবীর পথে রয়েছে। তবে ১১ ডিসেম্বরে পৃথিবীতে অবতরণ করবে এটি। এর সর্বোচ্চ গতি থাকবে ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটার। প্রায় ২৫ দিন ১১ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট পর পৃথিবীতে ফিরে আসছে। যাত্রাকালে ওরিয়ন মহাকাশযান প্রায় ২১ লাখ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে।

অবতরণের স্থান হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। ওরিয়নকে ফিরিয়ে আনার জন্য নাসা এবং মার্কিন নৌবাহিনী সম্মিলিতভাবে কাজ শুরু করেছে। নাসা জানিয়েছে, ওরিয়নের সফল অবতরণে তারা আশাবাদী।

সূত্র: স্পেস ডটকম


banner close