রোববার, ৩ মার্চ ২০২৪

অংশীদারত্বের রাজনীতিই গণতন্ত্রের চাবিকাঠি

আলী রীয়াজ।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২ অক্টোবর, ২০২২ ১০:৩৭

আলী রীয়াজ

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ড. আলী রীয়াজের জন্ম ৩ এপ্রিল ১৯৫৮ সাল, ঢাকায়। তিনি ১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের পড়াশোনা শেষ করেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি এবং রাজনৈতিক ইসলাম বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তার স্বীকৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটি ২০১২ সালে ডক্টর রীয়াজকে ‘ইউনিভার্সিটি প্রফেসর’ পদে ভূষিত করে। বাংলাদেশের ৫০ বছরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অর্জন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের অগ্রসরতা এবং সীমাবদ্ধতাসহ আগামীতে এখানকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে দৈনিক বাংলার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অনিন্দ্য আরিফ

দৈনিক বাংলা: মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার নেপথ্যের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল গণতন্ত্র। যে পরিপ্রেক্ষিতেই আমাদের স্বাধীন দেশের সংবিধানে গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় জায়গা দেয়া হয়েছিল। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এসে একটি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অর্জনগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

আলী রীয়াজ: প্রথমেই আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের দিকেই নজর দিতে পারি। এই ঘোষণাপত্রের আইনি এবং নৈতিক ভিত্তি হচ্ছে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন, জনগণের ম্যান্ডেট এবং জনগণের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি। এগুলো হচ্ছে গণতন্ত্রের ভিত্তি। এর সঙ্গে আছে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা। বাংলাদেশের গত ৫০ বছরের ইতিহাসে এই বিষয়গুলো বারবার উপেক্ষিত হয়ে আসছে। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্জন সীমিত, বারবার এর সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্র ১৯৯০-এর পরে এই পথে যতটা অগ্রসর হয়েছিল দুর্ভাগ্য হচ্ছে, গত দেড় দশকে তা থেকে কেবল সরে এসেছে তা নয়, পেছনের দিকে যাত্রা করেছে।

দৈনিক বাংলা: ১৯৭৫-এর শোকাবহ পটপরিবর্তনের পর থেকে দীর্ঘদিনের সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯০-এর পর নির্বাচনী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

আলী রীয়াজ: বাংলাদেশের সূচনালগ্নে গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি ছিল, চর্চাও শুরু হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালে একদলীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা তার অবসান ঘটাল। সেই অধ্যায়ের অবসান হলো অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে। শোকাবহ বললে ১৯৭৫ সালের ঘটনা প্রবাহের তাৎপর্য এবং প্রভাব পুরোটা বোঝা যায় না। এতে করে সেনাশাসনের সূচনাই হলো তা নয়, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের গতিপথও বদলে গেল। ১৯৯০ সালে গণতন্ত্রায়নের পথে যাত্রার সূচনায় নির্বাচনী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলো, এটা ইতিবাচক অগ্রগতি। কিন্তু গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলার উদ্যোগ থাকল না। উপরন্তু সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী সাংবিধানিকভাবেই প্রধানমন্ত্রীর শাসনের, এক ব্যক্তির শাসনের পথ উন্মুক্ত করল। সাংবিধানিক এই ব্যবস্থার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চার বদলে অসহিষ্ণুতা বাড়ল, প্রতিষ্ঠানকে দলের স্বার্থে ব্যবহার করার ধারা শক্তিশালী করা হলো। এ সময় কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে একটা রক্ষাকবচ ছিল- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন। এই ব্যবস্থার অবসান গণতন্ত্রের শেষ রক্ষাকবচটিকেই অপসারণ করেছে।

দৈনিক বাংলা: স্বাধীনতার পর গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামে দীপালি-কাঞ্চন-জয়নাল, রাইফুন বসুনিয়া, নূর হোসেন, ডা. মিলনের মতো অসংখ্য মানুষের সাহসী বলিদান কি এখানকার মানুষের গণতন্ত্রের জন্য আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে না?

আলী রীয়াজ: তাদের আত্মদানের গুরুত্ব অপরিসীম। এরা বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। কিন্তু গত ৫০ বছরে গণতন্ত্রের জন্য আরও অনেক আত্মদান আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা কেবল আন্দোলনের মধ্যেই প্রকাশিত তা কিন্তু নয়, যখনই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে মানুষ তাতে ব্যাপকভাবে অংশ নিয়েছে। নাগরিকদের যে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করার একটা প্রবণতা ছিল সেটাও কিন্তু এই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। নাগরিকরা যেকোনোভাবেই হোক রাজনীতিতে, শাসনব্যবস্থায় অংশ নিতে চান, ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করতে চান- এটাই তো গণতন্ত্রের মূলকথা।

দৈনিক বাংলা: সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সমাজবাদী গণতন্ত্র এবং উদারনৈতিক গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে জনতুষ্টিমূলক কর্তৃত্ববাদের ঢেউ উঠছে। সেখানে আমাদের এখানকার গণতন্ত্রকে কীভাবে সবল রেখে চালিয়ে নেয়া যায়?

আলী রীয়াজ: জনতুষ্টিবাদী কর্তৃত্ববাদের ঢেউ থেকে দক্ষিণ এশিয়া মুক্ত নয়, বাংলাদেশও নয়। আপনি বলছেন ‘গণতন্ত্রকে সবল রেখে চালিয়ে নেয়ার’ কথা। এখন যে শাসন দেখছি তাকে সবল করা বা এগিয়ে নেয়ার কারণ দেখি না। দুটো নির্বাচন হয়েছে ভোটারদের প্রায় অংশগ্রহণ ছাড়া, এমন সব আইন চালু করা হয়েছে, যা মানুষের বাকস্বাধীনতা প্রায় নিশ্চিহ্ন করে ফেলেছে, সমাবেশের অধিকার কেবল সরকারের ইচ্ছার ওপরে নির্ভরশীল, আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে জনগণের অধিকার এবং গণতন্ত্রের পথে পুনর্যাত্রার জন্য এখন দরকার অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি ও অবাধ নির্বাচনের বিষয়ে জোর দেয়া। এর আর কোনো বিকল্প নেই।

দৈনিক বাংলা: গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন কি একই পথরেখা দিয়ে অগ্রসর হতে পারে?

আলী রীয়াজ: অবশ্যই চলতে পারে। শুধু পারে তা নয়, সেটাই হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত। উন্নয়ন মানে হচ্ছে মানুষের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, কল্যাণ নিশ্চিত করা। প্রত্যেককে তার ভাগ্য নির্ধারণের পথ উন্মুক্ত করে দেয়া, তার সম্ভাবনার বাস্তবায়নের পথে বাধাগুলো সরিয়ে দেয়া। আর তা করতে হবে নাগরিকের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। সেটাই তো গণতন্ত্র। ফলে গণতন্ত্র বাদ দিয়ে যা তা উন্নয়ন নয়, প্রবৃদ্ধি হতে পারে বড় জোর, তার সুবিধা পাবে সীমিত সংখ্যক মানুষ। এই দুটোকে পরস্পরের মুখোমুখি করা হচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উদ্দেশ্য হচ্ছে একটা অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার যৌক্তিকতা তৈরি করা। ফলে যারা আকারে-ইঙ্গিতে বা সরাসরি বলেন গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন একরেখায় চলে না তারা আসলে গণতন্ত্র চান না।

দৈনিক বাংলা: দেশে গণতন্ত্র নিশ্চিত করে রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলোর কেমন ভূমিকা থাকা প্রয়োজন?

আলী রীয়াজ: যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়ই দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, রাজনৈতিক দল বাদ দিয়ে তো গণতন্ত্র হয় না। সেই ভূমিকা পালন করতে দলকে কেবল ব্যক্তির অনুসারী হলে হবে না, তাকে হয়ে উঠতে হবে আদর্শের প্রতিনিধি এবং গণতন্ত্রের প্রতি নিবেদিত। দলকেও গণতন্ত্র চর্চা করতে হয়। ক্ষমতায় যাওয়া দলের লক্ষ্য। কিন্তু তাকে বিবেচনা করতে হবে সে বিরোধী দল হলে ক্ষমতাসীন দলের কাছ থেকে কী আচরণ আশা করত; ক্ষমতাসীন দল হিসেবে তাকে সেই আচরণ করতে হবে। মনে রাখা দরকার, গণতন্ত্র মানে সংখ্যাগুরুর নিপীড়ন নয়, সংখ্যালঘুর নিরাপত্তার রক্ষাকবচ। দল কেবল সীমিত সময়ের জন্য দায়িত্ব পালনের ম্যান্ডেট পেতে পারে। নির্বাচনী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে একটি শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহিমূলক শাসনের প্রথম ধাপ। জবাবদিহিতা কেবল নির্বাচনের মধ্যেই সীমিত নয়, কিন্তু নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি দায়িত্ব পালন না করে তবে একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে না। এটাও মনে রাখা দরকার যে, নির্বাচনী প্রতিষ্ঠাগুলো জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, তাদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।

দৈনিক বাংলা: গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন থাকতে পারে?

আলী রীয়াজ: গণমাধ্যম হচ্ছে সিভিল সোসাইটির অংশ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থার একটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে সিভিল সোসাইটি। যারা নাগরিকদের স্বার্থ এবং ইচ্ছাকে প্রতিনিধিত্ব করে, রাষ্ট্র এবং রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর প্রভাবের বাইরে থাকে সেই সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত রূপই হলো সিভিল সোসাইটি। সিভিল সোসাইটির কাজ হচ্ছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা- রাষ্ট্র, সরকার, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য ক্ষমতাশালীদের। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের কাজ হচ্ছে আনুভূমিক বা হরাইজেন্টাল জবাবদিহিতার কাজ করা। যেখানে গণতন্ত্র দুর্বল বা অনুপস্থিত সেখানে গণমাধ্যমের এই ভূমিকা আরও বেশি করে পালন করার দরকার হয়ে পড়ে।

দৈনিক বাংলা: আপনি তো দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করছেন। সেখান থেকে এই অঞ্চল এবং আমাদের দেশের গণতন্ত্র নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী বলছে?

আলী রীয়াজ: আমি আগেই যেটা বলেছি তা হলো, দক্ষিণ এশিয়ায় আমরা গণতন্ত্রের আশানুরূপ বিকাশ দেখতে পাচ্ছি না। এই অঞ্চলে ভারতকে একটা শক্তিশালী গণতন্ত্র বলে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে তার ব্যাপক ক্ষয় দৃশ্যমান হয়েছে, নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। শ্রীলঙ্কায় কার্যত একটি পরিবারের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, একটা বড় ধরনের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজাপক্ষের পরিবার আপাতত ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, কিন্তু গণতন্ত্রের পথযাত্রা মসৃণ হয়েছে এমন বলার সময় আসেনি। পাকিস্তানে গণতন্ত্রের যাত্রা দীর্ঘদিন ধরেই বারবার হোঁচট খাচ্ছে, একভাবে তাতে অগ্রগতিও হচ্ছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পশ্চাৎযাত্রা সহজেই দৃশ্যমান। কিন্তু তা সত্ত্বেও যেটা আশার বিষয় সেটা হচ্ছে- পাকিস্তান-ভারত-শ্রীলঙ্কা সব জায়গায়ই জনগণের মধ্যে গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা আছে, একই ধরনের আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেও আছে। এসব দেশে অনেক রাজনৈতিক দল সেই আকাঙ্ক্ষার পক্ষে লড়ছেন, সিভিল সোসাইটির প্রতিরোধ আছে। ফলে আমি এখনও আশা করি বৈশ্বিকভাবে এবং এ অঞ্চলে এই অবস্থার অবসান হবে।

দৈনিক বাংলা: বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কেমন হারে বৃদ্ধি পেয়েছে? সেখান থেকে আমাদের আশাবাদের কেমন জায়গা রয়েছে?

আলী রীয়াজ: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলতে যদি আপনি পরমতসহিষ্ণুতা, সকলের সমতার প্রতি অঙ্গীকার বোঝেন তবে বলতে হবে সেটা খুব বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে না। কিন্তু সমাজে এই ধারণাগুলো বিকশিত হয় প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র চর্চার মধ্য দিয়ে, রাষ্ট্রের আচরণের মধ্য দিয়ে। সেখানে যেহেতু ব্যত্যয় ঘটছে, যেহেতু ক্ষমতাসীনরাই এক ধরনের বিভাজনকে উস্কে দিচ্ছেন, আইনের সমান প্রয়োগ করছেন না, সেহেতু এই মূল্যবোধ বিকাশের জায়গাটা সীমিত হয়ে যাচ্ছে। আবার একই ধরনের মনোভাব যারা ক্ষমতার বাইরে আছেন তাদের ভেতরেও দেখতে পাই। তাদের মতকে চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করা এটাও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য ইতিবাচক নয়। আশার জায়গা হচ্ছে, এগুলো অপরিবর্তনীয় নয়। রাজনীতি এবং শাসনব্যবস্থায় অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা তৈরি করা গেলে এই ধারাটা বদলানো সম্ভব। কেননা বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও আগ্রহ হচ্ছে অংশীদারত্বের।

দৈনিক বাংলা: আমাদের জনসংখ্যার বড় জায়গায় তরুণরা রয়েছে। এই তারুণ্যের গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা কতটুকু? তাদের জন্য গণতন্ত্র কি সমৃদ্ধ আশাবাদের জায়গা তৈরি করতে পারে?

আলী রীয়াজ: সর্বশেষ জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশের জনসংখ্যার ২৭ দশমিক ৮২ শতাংশই তরুণ। সংখ্যায় সাড়ে চার কোটির বেশি। এই যে তরুণ নাগরিক গোষ্ঠী তাদের মধ্যে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থার কোনো সংকট নেই। এখন পর্যন্ত আমি এমন কোনো জরিপ দেখিনি যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ তরুণ বলছেন যে, তারা গণতন্ত্রের কোনো বিকল্পকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন। ২০১১ সালে ব্র্যাকের করা একটি জরিপ, ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষে থেকে করা ইয়ুথ পারসেপশন সার্ভে, ২০১৫ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিলের করা জরিপ, ২০১৮ সালের ব্র্যাকের করা জরিপের কোথাও কিন্তু আমি দেখছি না যে, তারা গণতন্ত্রের বিকল্প চান। যা দেখা যাচ্ছে তারা প্রচলিত রাজনীতির ব্যাপারে আস্থাশীল নন, কিন্তু তারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। দেশের নীতিনির্ধারক এবং রাজনীতিবিদদের কাজ হচ্ছে এই আশাবাদকে কাজে লাগানোর পথ বের করা- তাদের রাজনীতিবিমুখ না করে রাজনীতিতে তাদের যুক্ত করা। সেটার জন্য দরকার সুস্থ গণতন্ত্র, দরকার অংশগ্রহণমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করা।

দৈনিক বাংলা: আগামীতে এই তরুণদের সামনে যে বাংলাদেশ হাজির হবে, সে সময়ে তাদের কাছে গণতন্ত্রের কী কী সম্ভাবনা হাজির করা যেতে পারে? আমাদের অর্থনীতি এখন যে জায়গায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেই সম্ভাব্য উন্নত সময়ে কোনো পর্যায়ের গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে?

আলী রীয়াজ: আগামীতে যে বাংলাদেশ তৈরি হবে সেটা তো তরুণরাই তৈরি করবেন। সেই বাংলাদেশ তো একটি দলের, একটি গোষ্ঠীর, একটি আদর্শের অনুসারীদের বাংলাদেশ হতে পারে না। কাউকে বাদ দিয়ে তো আগামীর বাংলাদেশ নয়। অর্থনীতির যে সম্ভাবনার কথা আপনি ইঙ্গিত করছেন সেখানে তরুণদের জন্য কী ধরনের সম্ভাবনা তৈরি করা হচ্ছে সেটা ভাবা দরকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ ২০১৬ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য বলছে, দেশে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারের হার বেশি। বিআইডিএসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে শিক্ষিত মানুষের মধ্যেই বেকারের হার বেশি। ৪৭ শতাংশ শিক্ষিতই বেকার। এরাই তরুণ সমাজ। দেশে প্রতি বছর যে ২০ লাখ মানুষ শ্রমশক্তিতে যোগ দেন তারাই তরুণ। তাদের বড় অংশের জন্য কাজের ব্যবস্থা হচ্ছে না। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে অর্জন করতে হলে, তরুণদের অংশগ্রহণের জায়গাটি নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্র দরকার, অংশগ্রহণমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দরকার।

অর্থনীতির যে সম্ভাবনার কথা আপনি ইঙ্গিত করছেন সেখানে তরুণদের জন্য কী ধরনের সম্ভাবনা তৈরি করা হচ্ছে সেটা ভাবা দরকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ ২০১৬ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য বলছে, দেশে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারের হার বেশি। বিআইডিএসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে শিক্ষিত মানুষের মধ্যেই বেকারের হার বেশি। ৪৭ শতাংশ শিক্ষিতই বেকার। এরাই তরুণসমাজ। দেশে প্রতিবছর যে ২০ লাখ মানুষ শ্রমশক্তিতে যোগ দেন তারাই তরুণ। তাদের বড় অংশের জন্য কাজের ব্যবস্থা হচ্ছে না। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে অর্জন করতে হলে, তরুণদের অংশগ্রহণের জায়গাটি নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্র দরকার, অংশগ্রহণমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দরকার


ইতিহাস-ঐতিহ্য-গৌরবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মনিরুল ইসলাম, ঢাবি প্রতিনিধি

পৃথিবীর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন ইতিহাস নেই যে সেই বিশ্ববিদ্যালয় একটি দেশের জন্ম দিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পূর্ব বাংলার মুসলমানদের মধ্যে একটি সচেতন মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ নামক আমাদের এই দেশকে জন্ম দিতে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নির্মাণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা সর্বজনবিদিত। ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিক কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় এ পর্যন্ত ১৯৫ জনের নাম উল্লেখ করা আছে।

সাংবাদিক এবং গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদও তার বইয়ে লিখেছেন, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের ইতিহাস আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস অবিচ্ছেদ্য।

এ ছাড়া স্বাধীনতার পর প্রতিটি গণতান্ত্রিক, মৌলবাদ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই সর্বদা ঝাঁপিয়ে পড়ে। দেশের প্রয়োজনে নিজেকে উৎসর্গ করাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নিজ দায়িত্ব হিসেবে কাঁধে তুলে নিয়েছে। যেকোনো সংকটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে দেশ ও জাতি এটাই আশা করে।

বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির প্রেক্ষাপট

ইতিহাসবিদরা বলছেন, বঙ্গভঙ্গ রদ করার ক্ষতিপূরণ হিসেবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে তখনকার ব্রিটিশ সরকার। লর্ড লিটন যাকে বলেছিলেন, ‘স্প্লেনডিড ইম্পেরিয়াল কমপেনসেশন’।

১৯০৬ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত কনফারেন্সের ২০তম অধিবেশনে মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স’-এর অনারারি জয়েন্ট সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাহেবজাদা আফতাব আহমেদ খাঁ পূর্ববঙ্গে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি সর্বপ্রথম তোলেন। এরপর ১৯১১ সালের শেষ পর্যন্ত অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিভিন্ন প্রোগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।

তবে শুরুতে এসব প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়া হলেও বঙ্গভঙ্গ রদ-পরবর্তী আহত মুসলমান সম্প্রদায়কে খুশি করার জন্য ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ-ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।

একই বছরের ২৭ মে গঠিত হয় ব্যারিস্টার রবার্ট নাথানের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি কমিটি।’ এই কমিটির দায়িত্ব ছিল ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা যায় কি না, সেটি যাচাই-বাছাই করে দেখা এবং এ সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা দেওয়া। এই কমিটি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার পর ডিসেম্বর মাসেই সেটি অনুমোদন করা হয়।

শেষ পর্যন্ত ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইন সভায় ‘দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট-১৯২০’ অনুমোদিত হয়। গর্ভনর জেনারেল সেই আইনে স্বাক্ষর করেন ২৩ মার্চ।

স্যাডলার কমিশনের অন্যতম সদস্য, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক রেজিস্ট্রার স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ ১৯২০ সালের পহেলা ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। পরের বছর ১৯২১ সালের পহেলা জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের বক্তব্য

প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়। সেখান থেকে আমরা মাত্র ছয় হাজার শিক্ষার্থীকে ভর্তি করাতে পারি। সুতরাং এরা তো সেরাদের সেরা। জাতি, পরিবার এবং আমরা বিশ্ববিদ্যালয় এই সেরাদের সেরারা যেভাবে বিকশিত হোক চাই। তবে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়ে তাদের সেই বিকাশটা হয়ে ওঠে না। ফলে জাতিকে যেভাবে তাদের কনট্রিবিউশন করা দরকার পরিপূর্ণভাবে তারা সেই কনট্রিবিউশন করতে পারে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যে মনোবল বা স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসে, এখানে আসার পর সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক সময় তাদের সেই মনোবল আর থাকে না- না হয় স্বপ্ন পূরণ হয়ে ওঠে না। এর মধ্যে কিছু কারণ হলো- হলে তারা সিট পায় না। তবে যদি এই শিক্ষার্থীদের কিছুটা আর্থিক সংগতি থাকে তখন তারা নিজেদের মতো করে চলতে পারবে। এই চলার পথকে যেন আরও সহজতর এবং মসৃণ করা যায় সেজন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে পাঁচ হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগের কথা ভাবছি।

তারই অংশ হিসেবে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, হল, ইনস্টিটিউট এবং বিভাগকেন্দ্রিক যে অ্যালামনাই, তাদের সঙ্গে আমরা বসে এ ব্যাপারে আলোচনা করব। তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা শিক্ষার্থী তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহযোগিতা করা।

এ ছাড়া প্রতিথযশা যেসব ব্যক্তি, দেশের এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যারা আছেন, তাদের সিংহভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গেও আমরা আলোচনা করব। বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষার্থীদের জীবন কল্যাণে সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। আর এই স্কলারশিপের বিষয়টা তারই ধারাবাহিকতা।

আগামী চার বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়কে আমি কোথায় নিয়ে যেতে চাই সে বিষয়ে আমি একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং আরও যারা আছেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি ওয়ার্কশপের মাধ্যমে আমি আমার এই পরিকল্পনা জানাব।

আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে যে রাস্তাগুলো গিয়েছে সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে নয়। এই রাস্তাগুলো সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সিটি কর্পোরেশনের। তাদের সঙ্গে আমরা এ বিষয়ে কথা বলব আর যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথাও কোথাও স্পিডব্রেকার দেওয়ার জন্য আমরা সিটি কর্পোরেশনকে চিঠি দিয়েছি। এ ছাড়া যানজট এবং বহিরাগতমুক্ত করতে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে শিক্ষার্থীদের কিছু মতামত আমি পেয়েছি। এগুলো সংগ্রহ করে আমি আরও কিছু চিঠি তৈরি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে বলেছি।

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কলা, বিজ্ঞান ও আইন- এই তিনটি অনুষদের আওতায় ১২টি বিভাগ, তিনটি আবাসিক হল, ৬০ জন শিক্ষক আর ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে ১৩টি অনুষদ, ৮৪টি বিভাগ, ১৩টি ইনিস্টিটিউট, ৫৬টি ব্যুরো ও গবেষণা কেন্দ্র, ২০টি হল এবং ৩টি হোস্টেল রয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজারের অধিক এবং শিক্ষকের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে কোভিড-১৯ অতিমারি-পরবর্তী ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রায় শতাধিক সেমিনার, কর্মশালা, কনফারেন্স ও সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত গবেষকরা তাদের জ্ঞান ও গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে ‘সেন্টিনিয়াল রিসার্চ গ্রান্টস্’-এর আওতায় বিভিন্ন যুগোপযোগী ২৫১টি গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়ন করা হয়েছে। এই গ্রান্টস্-এর আওতায় পরিচালিত প্রত্যেক গবেষণার ফলাফল শিক্ষক ও গবেষকদের নিকট উপস্থাপনের জন্য বিশেষ কর্মশালার আয়োজন ও আন্তর্জাতিক পিয়ার রিভিউড জার্নালে সেসব প্রকাশের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা Scopus Indexed জার্নালে যেখানে ২০১৮ সালে ৫৮৬টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন, যা ২০২২ সালে তা ১৩৩১টিতে উপনীত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের এ অগ্রগতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিংয়ের ক্রমাগত উন্নতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক স্থাপন এবং প্রকাশনা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো ২০২২ সালের অক্টোবরে দুই দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ‘গবেষণা-প্রকাশনা মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়। এ মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট এবং গবেষণা সেন্টার তাদের সম্পাদিত গবেষণা উদ্ভাবন ও প্রকাশনা উপস্থাপন করেছিল। গবেষণা মেলা আয়োজনকে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই করতে ইতোমধ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকাশনা ও গবেষণার মৌলিকত্ব এবং স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার উন্নয়নে ‘প্ল্যাজিয়ারিজম পলিসি’ গত বছরের ৩০ মে সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ শাহাদৎ হোসেনকে পরিচালক করে Dhaka University Research Co-ordination & Monitoring Cell (DURCMC) গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট খুবই প্রকট। তবে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যানের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ঘটলে শিক্ষার্থীদের জীবনমানে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এই মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় তিন ধাপে ৯৭টি ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে একাডেমিক ভবন থাকবে ১৭টি, ছাত্রী হল ৮টি, ছাত্রদের ১৬টি, হাউস টিউটর ভবন ২২টি, শিক্ষক ও অফিসারদের জন্য ১২টি, স্টাফদের জন্য ৯টি ভবন। অন্য ক্যাটাগরিতে থাকছে ১৩টি ভবন। এ ছাড়া ছাত্রীদের জন্য আলাদা খেলার মাঠ, যানজট নিরসনে পাবলিক প্রাইভেট সড়ক, টানেল, লাইব্রেরি, সাইকেল লেন, সবুজের পরিমাণ বাড়ানোসহ নানা ধরনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মাস্টারপ্ল্যানে।

শিক্ষার গুণগতমানে ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতামূলক যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে ১৬১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় সমঝোতা চুক্তি রয়েছে।

ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিং’ সক্রিয় করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনে আমরা তরুণ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা- কর্মচারীদেরও প্রথমবারের মতো প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। আইসিটি সেলকে কার্যকর করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তির কাজে গতিশীলতা আনয়নের নানা প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক হিসাব ডিজিটালাইজড করার অংশ হিসেবে স্বতন্ত্র অ্যাকাউন্টস ড্যাশবোর্ড চালু করা হয়েছে। এখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের বেতন, ইনকাম ট্যাক্স, প্রভিডেন্ট ফান্ড, পরীক্ষার বিলসহ বিভিন্ন তথ্য দেখতে পারবেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সামগ্রিক অর্থ ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আসবে এবং সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের কার্যক্রমেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের সনদপত্র, নম্বরপত্র ও ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলনের কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন। শিক্ষার্থীরা ভর্তি ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সিটিজেন চার্টার’ এবং সেবা গ্রহণ সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি ও আপিল নিষ্পত্তির লক্ষ্যে তথ্য বাতায়ন চালু করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই বিভিন্ন সেবা গ্রহণে যেকোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে APA লিংকে সরবরাহকৃত নির্ধারিত ফর্মে জানাতে পারেন। এ উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস-ঐতিহ্য অর্জন, মৌলিক দর্শন ও মূল্যবোধকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবার্ষিক স্মৃতিস্তম্ভ, ‘অসীমতার স্তম্ভে বিশালতা, অন্তর্ভুক্ততা ও উদারতা’-এর নির্মাণকাজের ভিত্তি প্রস্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল চত্বরে স্থাপন করা হয়েছে এবং তা নির্মাণাধীন রয়েছে। এ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মলচত্বরের ল্যান্ডস্কেপসহ পরিবেশ, সৌন্দর্য ও প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে এর ব্যবহার-উপযোগিতা ও নান্দনিকতাকে আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ চলমান রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডার গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের চারটি পুনর্গঠিত ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা, ব্যবস্থাপনার বিকেন্দ্রীকরণ নীতি অনুযায়ী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি লাঘব, সময় এবং অর্থসাশ্রয়ে পূর্বসিদ্ধান্ত মোতাবেক ৮টি বিভাগীয় শহরে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ইউনিটে, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীরা কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে এবং বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিকে পঠিত বিভাগ পরিবর্তন করে তাদের পছন্দসই ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মিত একাডেমিক কর্মসূচি যেমন- প্রফেশনাল/এক্সিকিউটিভ মাস্টার্স ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা/সার্টিফিকেট কোর্স/ট্রেনিং প্রোগ্রাম ইত্যাদি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হয়েছে। এসব এখন একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশক্রমে সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদিত নীতিমালা দ্বারা পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে নিয়মিত মাস্টার্স প্রোগ্রামের শূন্য আসনে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি ও অধ্যয়নের সুযোগ দানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। ইতোমধ্যে অনেক বিভাগ/ইনস্টিটিউট এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রকে (টিএসসি) আবর্তন করে শিক্ষার্থীদের পরিচালনায় ও ব্যবস্থাপনায় প্রায় ২৭টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে, যেখানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সমাজের বিভিন্ন অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে নানা ধরনের শিক্ষা, সহশিক্ষামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এসব সংগঠন স্ব স্ব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, কর্মঅভিজ্ঞতা ও দক্ষতা উন্নয়নে সর্বোপরি শারীরিক, মানসিক সুস্থতা ও সৃজনশীল মেধা এবং মনন গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এসব সংগঠনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতীকী অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বাস করে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাজে নিজেদের নিয়োজিত করলে সমাজহিতৈষী, অসাম্প্রদায়িক এবং দক্ষ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি, রেঞ্জার ইউনিট, রোভার স্কাউট গ্রুপ শৃঙ্খলা রক্ষাসহ শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নে নানাভাবে কাজ করে। সম্প্রতি, বেশ কয়েকজন রোভার স্কাউট সদস্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সর্বোচ্চ পদক ‘প্রেসিডেন্টস রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন।

শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি ও বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের ট্রাস্ট ফান্ড গঠন কার্যক্রম বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে নতুন ভর্তিকৃত প্রথমবর্ষের বিশেষ করে নারী ও সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান আমাদের অগ্রাধিকার। অতিসম্প্রতি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠক/ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ কামাল ও তার সহধর্মিণী খ্যাতিমান ক্রীড়াবিদ সুলতানা কামালের নামে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ‘শেখ কামাল-সুলতানা কামাল ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করা হয়েছে। এ ট্রাস্ট ফান্ড থেকে বিশেষ করে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কৃতী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও আবাসিক হল ছাড়া এ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৯০টি ট্রাস্ট ফান্ডের অধীনে বছরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি লাভ করছেন।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও ন্যানোটেকনোলজির যুগে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ন্যানোটেকনোলজি সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা এ সেন্টারে আধুনিক প্রযুক্তির ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে নতুন নতুন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম হবেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান বৃদ্ধি ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করবে। বাংলাদেশে এটিই প্রথম ন্যানোটেকনোলজি সেন্টার। এ সেন্টারে পরিচালিত কার্যক্রম গবেষণার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।


বইমেলায় সোহরাব পাশার ‘নির্বাচিত কবিতা’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অমর একুশে বইমেলা ২০২৪-এ প্রকাশিত হয়েছে কবি সোহরাব পাশার কবিতা সংকলন ‘নির্বাচিত কবিতা’। বইটিতে স্থান পেয়েছে ৩০০টির বেশি কবিতা।
একাধিক পুরস্কার ও পদকে ভূষিত কবি সোহরাব পাশার কবিতায় দার্শনিক ও নান্দনিক ভাবনার উপস্থিতি পাওয়া যায়। তার কবিতার বিষয় ও ভাবে প্রাধান্য পায় প্রেম-প্রকৃতি-নারী-সমাজ-স্বদেশ-সমকাল।

বইটির পরিচিতিতে লেখক সম্পর্কে প্রয়াত কবি আশিক সালামের মূল্যায়ন যুক্ত হয়েছে। ভূমিকা লিখেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর। লেখক বইটি উৎসর্গ করেছেন খ্যাতিমান মননশীল লেখক রাজীব সরকারকে।

মোট ৩২০ পৃষ্ঠার এ বইটির গায়ে মুদ্রিত মূল্য ৬০০ টাকা। প্রচ্ছদ এঁকেছেন আনিসুজ্জামান সোহেল। বইটি প্রকাশ করেছে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ।


লিপ ইয়ার নিয়ে মজার ১০ তথ্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যে বছর ফেব্রুয়ারি মাসে একটা দিন বেশি থাকে ওই বছরকেই লিপ ইয়ার বলা হয়। সেই হিসাবে ২০২৪ সাল লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ।

পুরোপুরি জ্যোর্তিবিজ্ঞানের কারণেই ২৯ ফেব্রুয়ারি ‘লিপ ডে’ হলেও এ নিয়ে বৈজ্ঞানিক আগ্রহ বেশ কমই দেখা যায়। কীভাবে হয় লিপ ইয়ার, এর ইতিহাস কী, ফেব্রুয়ারিতেই কেন? এই একটি দিন ঘিরে আছে এমন নানা প্রশ্ন। সেসবের উত্তর খোঁজা যাক।

১. লিপ ইয়ারের অতিরিক্ত দিনটা জরুরি আমাদের সৌরজগতের ‘বিশৃঙ্খল’ অবস্থার জন্যই। কারণ এক বছরে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে একটা সম্পূর্ণ কক্ষপথ ঘুরে আসতে কিন্তু ঠিক পুরোপুরি ৩৬৫ দিন লাগে না। বরং সব মিলে সময়টা ৩৬৫.২৪২২ দিনের মতো। ফলে প্রতি বছর আসলে এক দিনের চার ভাগের প্রায় এক ভাগ সময় যোগ হয়; যা প্রতি চার বছরে একটা বাড়তি দিন যোগ করে।

২. জুলিয়াস সিজার রোমের ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত ৩৫৫ দিনে বছর, এমন ক্যালেন্ডারই সবাই মেনে চলত; যেখানে প্রতি দুই বছর পরপর একটা অতিরিক্ত ২২ দিনের মাস যুক্ত হতো। কিন্তু এটা আসলে সমস্যার একটা জটিল সমাধান ছিল এবং উৎসবের দিনগুলো ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে যেতে শুরু করে। তাই সিজার তার জ্যোতির্বিজ্ঞানী সোসিজেনেসকে বিষয়টি সহজ করার নির্দেশ দেন।

সোসিজেনেস তখন ৩৬৫ দিনে বছর করে যে অতিরিক্ত ছয় ঘণ্টার মতো থেকে যায় সেটা মিলিয়ে নিতে চার বছর পরপর একটা অতিরিক্ত দিন ক্যালেন্ডারে যুক্ত করেন। আর এভাবেই ২৯ ফেব্রুয়ারির জন্ম; যা পরবর্তীতে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি সূক্ষ পরিমার্জন করেন।

৩. আঙুলের হিসেবে প্রতি চার বছর পরপর আসে লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ। কিন্তু কথা এখানেই শেষ না। যেই বছরটাকে ১০০ দিয়ে ভাগ করা যায় কিন্তু আবার ৪০০ দিয়ে করা যায় না, সেটা লিপ ইয়ার নয়। সে কারণেই গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা বর্ষ অনুযায়ী আমরা ২০০০ সালে লিপ ইয়ার পেয়েছি, ১৬০০ সালে লিপ ইয়ার ছিল, কিন্তু আবার ১৭০০, ১৮০০ ও ১৯০০ লিপ ইয়ার নয়।

ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের ইমেরিটাস অধ্যাপক ইয়ান স্টুয়ার্ট বলেন, ‘এটা খানিকটা স্বেচ্ছাচার মনে হতে পারে’। তবে এর পেছনেও আসলে যুক্তিযুক্ত কারণ আছে।

তিনি বলেন, বছরে ৩৬৫ দিন ও একটা দিনের চার ভাগের এক ভাগ– কিন্তু সেটাও ঠিক পুরোপুরি নয়, বরং তার চেয়ে খানিকটা কম। সেটা একদম যথার্থ চার ভাগের এক ভাগ হলে প্রতি চার বছর পরপর লিপ ইয়ার হত। এই হিসাবটা আসে যখন পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি ও তার সঙ্গী জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার চালু করেন এবং তাতে প্রতি চারশ বছরে তিনটা লিপ ডে বাদ পড়ে। এই হিসাবটা তখন থেকে আজ অবধি চালু আছে।

কিন্তু ইয়ান স্টুয়ার্ট মনে করেন মানুষকে হয়তো ১০ হাজার বছর পর এটা নিয়ে আবার নতুন করে ভাবতে হবে; কিন্তু তত দিনে অবশ্য মানবজাতি নতুন কোনো পদ্ধতিও চালু করে ফেলতে পারে।

৪. ফেব্রুয়ারির ২৯ কেন?

অন্য সব মাসেই আছে ৩০ বা ৩১ দিন করে, কিন্তু ইয়ান স্টুয়ার্ট জানাচ্ছেন রোমান সম্রাট সিজার অগাস্টাসের ব্যক্তিগত ইচ্ছার কাছে বলি হয়েছে ফেব্রুয়ারি। জুলিয়াস সিজারের অধীনে কিন্তু ফেব্রুয়ারি ৩০ দিনে মাস ছিল। কিন্তু সিজার অগাস্টাস যখন সম্রাট হন, তখন তিনি তার নিজের নামাঙ্কিত মাস অগাস্ট ২৯ দিনের হওয়ায় খানিকটা বিরক্ত হন। কারণ তার আগের সম্রাট জুলিয়াসের নামাঙ্কিত মাস-জুলাই ছিল ৩১ দিনের।

অধ্যাপক স্টুয়ার্ট বলেন, তিনি তখন অগাস্টে আরও দুই দিন যুক্ত করে জুলাইয়ের সমান করেন, আর বেচারা ফেব্রুয়ারিকে সেই দুই দিন হারাতে হয়।

৫. ঐতিহ্যগতভাবে লিপ ইয়ারের দিন মেয়েরা ছেলেদের প্রস্তাব দেয় বলে বিভিন্ন ইতিহাসবিদের কথায় উঠে আসে। যার একটা ৫ম শতকে সেন্ট ব্রিজেটের ঘটনা, যেটা নিয়ে অবশ্য বেশ বিতর্ক আছে।

বলা হয়ে থাকে যে তিনি সেন্ট প্যাট্রিকের কাছে অভিযোগ নিয়ে যান যে মেয়েদের তাদের পছন্দের মানুষের কাছে প্রস্তাব নিয়ে যেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। সেন্ট প্যাট্রিক তখন সম্ভবত মেয়েদের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য ওই লিপ ইয়ারের একটি দিন নির্দিষ্ট করে দেন– সবচেয়ে ছোট মাসের সব শেষ দিন।

আরেকটা জনপ্রিয় গল্প প্রচলিত আছে যে স্কটল্যান্ডের রানি মার্গারেট একটা আইন জারি করেন, যে সমস্ত পুরুষ লিপ ইয়ারে মেয়েদের দিক থেকে আসা বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবে তাদের জরিমানা দিতে হবে।

কিন্তু অনেকে আবার বলে থাকেন সেই সময় মার্গারেটের বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর এবং তিনি তখন অনেক দূরে নরওয়েতে ছিলেন। এই রীতি আসলে ১৯ শতক থেকে বেশি প্রচলিত হয়। মনে করা হয়, মেয়েদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়ার এই রীতি চলে আসছে যখন ইংলিশ আইনে লিপ ইয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়নি তখন থেকেই। এই মতবাদ অনুসারে যেহেতু এই দিনের কোন আইনগত ভিত্তি নেই, তাই সাধারণত ছেলেদের প্রস্তাব দেওয়ার প্রথাগত রীতি ভাঙাটা গ্রহণযোগ্য।

ডেনমার্কে যেমন এটা ২৯ ফেব্রুয়ারি নয়, বরং ২৪ ফেব্রুয়ারি; যা জুলিয়াস সিজারের সময় থেকে চলে আসছে।

৭. প্রতি ১৪৬১ জনে একজনের জন্ম লিপ ডে-তে

১৪৬১ জনে ১! লিপ ডে-তে জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে বলা হয় প্রতি ১৪৬১ জনে একজন এদিন জন্ম নেন। চার বছরে হয় ১৪৬০ দিন আর লিপ ইয়ারের অতিরিক্ত এক দিন মিলে হয় ১৪৬১। এক্ষেত্রে তাই সম্ভাব্যতা দাঁড়ায় ১/১৪৬১।

তবে ইয়ান স্টুয়ার্ট বলেছেন, এই হিসাবটাও পুরোপুরি ঠিক নয়, কারণ চারশ বছরে তিনটা লিপ ইয়ার হারাচ্ছি আমরা। এছাড়া নানা বিষয় মিলিয়ে বছরের কিছু নির্দিষ্ট সময়ে শিশুদের জন্ম বেশি হয় বলে মনে করেন তিনি। ২৯ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়াদের বলা হয় ‘লিপার্স’ বা ‘লিপলিংস’।

৮. লিপ ইয়ারের রাজধানী বলে স্বীকৃত টেক্সাসের অ্যান্থনি শহর। ১৯৮৮ সালে এই শহরের বাসিন্দা ও লিপ ইয়ারে জন্ম নেওয়া ম্যারি অ্যান ব্রাউন চেম্বার অব কমার্সের কাছে যান শহরে একটা লিপ ইয়ার উৎসবের আবেদন নিয়ে। তার সেই আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং অ্যান্থনিকে ঘোষণা দেওয়া হয় বিশ্বের লিপ ইয়ার রাজধানী হিসেবে। তারপর থেকে প্রতি বছর সারা বিশ্বের লিপাররা টেক্সাসের এই শহরে জড়ো হয়ে প্যারেডে অংশ নেন, একসাথে বার্থডে ডিনার, নাচানাচি এবং হট এয়ার বেলুনে চড়েন সবাই।

৯. গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ছাড়া অন্যান্য ক্যালেন্ডারেও লিপ ইয়ারের দরকার পড়ে। আধুনিক ইরানের ক্যালেন্ডারটি যেমন সৌর ক্যালেন্ডার, যাতে প্রতি ৩৩ বছরে ৮টা লিপ ডে আছে। ভারতের জাতীয় ক্যালেন্ডার এবং বাংলাদেশের যে বাংলা পঞ্জিকাবর্ষ তাতে লিপ ইয়ার এমনভাবে রাখা হয় যাতে লিপ ডে সব সময় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৯ ফেব্রুয়ারির খুব কাছাকাছি থাকে।

১০. অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাস ওয়েস্ট ইন্ডিজে তার চূড়ান্ত অভিযানের সময় ১৫০৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারির চন্দ্র গ্রহণকে নিজের সুবিধার্থে কাজে লাগান। তিনি যখন জ্যামাইকা দ্বীপে বেশ কয়েক মাস তার নাবিকদের নিয়ে আটকা পড়েন, তখন এক পর্যায়ে স্থানীয় আদিবাসীদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং তারা খাবার ও অন্যান্য জিনিস দিয়ে সহায়তায় অস্বীকৃতি জানায়।

কলম্বাস জানতেন যে একটা চন্দ্রগ্রহণ আসন্ন, তার সহযোগীদের সঙ্গে আলাপ করে তিনি স্থানীয় সব আদিবাসী নেতাদের একসঙ্গে করেন ২৯ ফেব্রুয়ারি। তিনি তাদের বলেন, ঈশ্বর চাঁদকে লাল বর্ণ করে তাদের শাস্তি দেবে। চন্দ্রগ্রহণের সময় বলেন, যদি তারা আবার সহায়তা করতে শুরু করে তাহলে ঈশ্বর তার শাস্তি ফিরিয়ে নেবেন।

আরেকটা ঘটনা হলো- ১৬৯২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ম্যাসচুসেটসের সালেম উইচক্র্যাফট ট্রায়ালের প্রথম ওয়ারেন্ট জারি হয়।

সব কথার শেষ কথা, লিপ ইয়ারে আপনি সৌভাগ্যবান যে বছরে একটা অতিরিক্ত দিন পাচ্ছেন। আবার যারা চাকরিজীবী তারা ভাবতে পারেন যে বছরে একদিন কোনো বাড়তি বেতন ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে।


নির্বাকের পাশে: গান হারানো মানুষের সুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুজন সুপান্থ

অনেক না–পাওয়া নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষেরা আসলে কী পায়?—এই প্রশ্নের উত্তর একেকজনের কাছে একেক রকম। কিন্তু না–পাওয়া নির্বাক মানুষের কাছে এর উত্তর কেমন হবে? সে উত্তর দেওয়া কঠিন। এই কঠিন প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে বরং সহজ কথা বলি; বলি মোজাহিদুল ইসলামের প্রথম গল্পের বই ‘নির্বাকের পাশে’ প্রসঙ্গে।

বইয়ের শুরুতেই লেখক বলছেন, ‘আমার গল্পগুলো জীবনের জাবেদার ডেবিট-ক্রেডিটে হিসাব মেলাতে না পারা মানুষের। যারা ঝাঁ-চকচকে নগর, বুনো বর্ষায় চুপসে যাওয়া শহরতলি কিংবা শীতল কোনো গ্রামে নির্লিপ্ত জীবনকে যাপন করার সংগ্রামে মত্ত। হয়তো আমরা নিজেরাও এমন। অর্থাৎ কোনো অতি বা কল্পমানবের কথা গল্পে উঠে আসেনি।’

তাহলে কার গল্প এসব! কারা জীবনের হিসাব মেলাতে পারে না? অঙ্কে শূন্য পাওয়া ব্যথা নিয়ে আমিও প্রশ্ন ছুঁড়ে দিই শূন্যে—আদৌ পারে কি কেউ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ‘নির্বাকের পাশে’ দাঁড়াই। অনেকটা সময় দাঁড়িয়ে দেখেছি, ব্যাখ্যা নেই, তবু লেখকের হিসাব না মেলানো মানুষের জীবনেও ফুটে থাকে বিচিত্র ফুল। সুন্দর। সেই ফুল ছুঁয়ে দেখি জন ও জীবনের সম্পর্ক। এখানে হিসাব মেলানোর বদলে দেখি, জীবনের বিচিত্র বদল কীভাবে নিজের জীবনেও এসে লাগে। জীবনের এ এক ভিন্ন পিঠ। দুপুরি রোদের আলোয় যা চকচক করে ওঠে। এই রোদে থেমে থাকা যায় অনেকক্ষণ।

এসব গল্পে সুজন সুপান্থ নামের কোনো চরিত্র নেই। তবু পড়তে পড়তে দেখি, চোখ ভরে উঠছে ফেলে আসা জীবনের ছবিতে। বদলে যাচ্ছে কানে আসা শব্দ। ধীরে ধীরে দুপুরি রোদের ভেতর উঁকি দিচ্ছে সন্ধ্যার সুর। আর বুকের ভেতর ঢুকে পড়ছে দ্রুতগামী রেলগাড়ির হাওয়া। সেই হাওয়ায় ফরফর করে উঠছে লুপ্ত–কথা।

সন্ধ্যা ডোবার আগে নদীর তীর থেকে প্রেমিকাকে বিদায় জানিয়ে ঘরে ফিরলে বুকের ভেতর এক আশ্চর্য ব্যথা অনুভব হয়। মনে হয়, যেন ভাষা ভুলে যাওয়া কোনো এক গানের সুর মাথার ভেতর, বুকের ভেতর ঢুকে তার ভাষা খুঁজে বেড়াচ্ছে। মোজাহিদুল ইসলামের গল্পের বই ‘নির্বাকের পাশে’ ওই ভাষা ভুলে যাওয়া সুরের মতোই। কেবল তাঁর কথামঞ্জরি পেরিয়ে গেলে বোঝা যাবে, এই সুর কোন স্কেলে ওঠানামা করছে। যা টিউন করা দূরূহ।

‘নির্বাকের পাশে’র গল্পগুলো পড়তে পড়তে দেখবেন, বইয়ের কোনো এক পৃষ্ঠা থেকে কেউ একজন উঠে এসে পাঠককে চেনা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করছে, কী হে, চলছে কেমন? তোমার পাশের ঘর থেকে এখনো কি সেই পুরোনো কান্নার শব্দ ভেসে আসে? পাঠক এর কী উত্তর দেবেন—জানি না।


‘চেনা নগরে অচিন সময়ে’র মোড়ক উন্মোচন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গ্রিন ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের (জিসিআইএ) অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর সরোজ মেহেদীর লেখা ‘চেনা নগরে অচিন সময়ে’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে গ্রিন ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এসময় তিনি একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে পাঠাভ্যাসের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি ‘চেনা নগরে অচিন সময়ে’ বইটি পাঠকের মনে জায়গা করে নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট রুমে অনুষ্ঠিত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল আজাদ, ফ্যাকাল্টি অব আর্টস অ্যান্ড স্যোশাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল্লাহ, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নিতাই চন্দ্র সূত্রধর, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ক্যাপ্টেন (অব.) শেখ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আরিফুজ্জামান, জয়েন্ট রেজিস্ট্রার মো. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কোভিড-১৯ মহামারিকালে ভারতে যাপিত জীবন এবং সেখান থেকে দেশে ফেরার পথে দেখা নানান ঘটনা, সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন জীবন ও এসবের ওপর নিজের পর্যবেক্ষণ নিয়ে বইটির পাণ্ডুলিপি সাজিয়েছেন লেখক।

মোস্তাফিজ কারিগরের নজরকাড়া প্রচ্ছদে বইটি প্রকাশ করেছে রাজধানীর শাহবাগের উৎস প্রকাশন। এটি বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬০, ৩৬১, ৩৬২ নম্বর স্টলে মিলবে। এছাড়া শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে উৎস প্রকাশনে, রকমারিসহ অনলাইন বিপণন প্ল্যাটফর্মগুলোতেও পাওয়া যাবে বইটি।

পেশায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হলেও সরোজ মেহেদীর মন-মনন সাহিত্যেই আবিষ্ট। এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘আমি লিখি লেখার প্রতি টান অনুভব করি বলে। তবে নিজের লেখা নিয়ে কোনো দাবি নেই। কেউ পড়লে খুশি, না পড়লেও খুশি। খুব ভালো লেখার প্রতিভা নিয়ে জন্মেছি বলে কখনো মনে হয় না। বাংলা ভাষাটাও ঠিকঠাক জানি তা না। তবে নিজে যা বুঝি, যা অনুভব করি, যা দেখি তা নিজের মতো করে বলার জন্য হলেও লিখতে চাই-এই হলো কথা। আমার কাঁচা হাতের বাংলা তাই আর বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ভেতর থেকে কে যেন বলে- রাখো তোমার দুর্বলতা। লেখো, লেখো। তোমার দুর্বল লেখা থেকে উপাদান নিয়েই হয়ত কেউ একজন মারাত্মক সব সবল লেখা লিখবে। সেই লেখায় তুমি ছায়া হয়ে জাজ্বল্যমান থাকবে।’

‘চেনা নগরে অচিন সময়ে’ প্রসঙ্গে সরোজ মেহেদী বলেন, “শিক্ষার টানে ২০১৯ সালে ভারতের চন্ডিগড়ে যেতে হয়েছিল। সেখানে যাপিত জীবন, এর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ মহামারির হানা, ওই দুঃসময়ে দেশে ফেরার সময় নানা সুখকর-অসুখকর ঘটনার অভিজ্ঞতা লিখতে শুরু করি। সেসব ঘটনা, নিজের কিছু পর্যবেক্ষণ নিয়ে দাঁড়িয়েছে ‘চেনা নগরে অচিন সময়ে’ বইটি।”

এই সাহিত্যিক বলেন, “প্রতিটা পাতায় পাতায় যেন মাতৃত্বের মমতা জড়ানো। যে লেখে কেবল সেই বুঝে ‘লেখক জীবন’ তার ‘ব্যক্তিজীবন’র কতটা শত্রু। লেখার নেশা একজন মানুষকে নানাভাবে তার চারপাশের বিত্ত-বৈভব, বৈষয়িকতায় যোজন যোজন পিছিয়ে দেয়। তবু বেঁচে থাকলে কেবল লিখে যেতে চাই। জীবন নিয়ে এর চেয়ে বেশি আর কোনো উচ্চাশা নেই।”

সাহিত্যিক সরোজ মেহেদী বর্তমানে গ্রিন ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন বিভাগের শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর। গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেওয়ার আগে সরোজ মেহেদী সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। শিক্ষকতার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের তুর্কি ভাষা বিভাগে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসেও (বিউপি) খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেছেন তিনি।

সাংবাদিকতা ছেড়ে শিক্ষকতাকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেওয়া সরোজ মেহেদী এখনো বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লেখেন। দেশে-বিদেশে নানা কাজের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সংবাদিকতায় স্নাতক করা মেহেদী তুরস্ক সরকারের স্কলারশিপ নিয়ে ২০১৪ সালে দেশটিতে পাড়ি জমান। তিনি ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘মাস্টার্স রিসার্চ প্রোগ্রাম ইন ব্যাসিক জার্নালিজমে’ প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। ২০১৮ সালে দেশে ফিরে এসে শিক্ষকতা শুরু করেন।

২০১৯ সালে জার্মানি থেকে তুর্কি ভাষায় সরোজ মেহেদীর গবেষণা গ্রন্থ ‘পলিটিক্যাল ইউজ অব মিডিয়া ইন সাউথ এশিয়া: বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া পারসপেকটিভ’ প্রকাশিত হয়। আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা ইনস্টিটিউটের প্রকল্পের আওতায় ‘বাংলা-ইংরেজি-তুর্কি’ ভাষায় একটি পকেট অভিধান লিখেছেন তিনি।


ফাল্গুনের বাহারি সাজ

শাড়িতে নিজেকে জড়াতে পারেন বসন্ত বরণে। মডেল: পাপড়ি সুলতানা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতকাহন ডেস্ক

ঋতুরাজ বসন্তকে বরণে প্রস্তুত হচ্ছে প্রকৃতি। বসন্ত রাজাকে বরণ করতে প্রকৃতিতে যেমন লাগছে রঙের ছোঁয়া ঠিক তেমনি বসন্ত বরণে কী পরবেন, কেমন সাজবেন… এমন পরিকল্পনাও ঘুরছে অনেকের মনে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কেমন হতে পারে পয়লা ফাল্গুনের সাজসজ্জা।

শাড়িতে ফাল্গুনি সাজ

বাঙালি ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়ে আটপ্রৌড়ে করে বাসন্তী রঙা সুতি, তাঁতের টাটকা শাড়িতে নিজেকে জড়াতে পারেন বসন্ত বরণে। তবে প্রকৃতির রং বদলে শামিল হতে সবুজের বিভিন্ন শেড যেমন- কচি পাতা সবুজ, গাঢ় সবুজ ইত্যাদি রং বেছে নিতে পারেন। আবার হলুদ-কমলা গাঁদা ফুলের মতো প্রস্ফুটিত হতে পারেন। এদিকে পরের দিনটাতেই কিন্তু ভালোবাসা দিবস। সেদিন বেছে নিতে পারেন লাল রং বা প্রিয়জনের পছন্দের রঙের পোশাক।

শাড়ির সঙ্গে চাই হাতভর্তি রিনিঝিনি রেশমি কাঁচের চুড়ি। গলায় ফুলের মালা না পরতে চাইলে আজকাল বাজারে কাঠ, পুঁতি, মাটি, মেটাল, পাথর বিভিন্ন ধরনের কারুকার্যময় কানের ও গলার সেট পাওয়া যায়। পায়ে চাইলে পরে নিতে পারেন চিকন কাজের নূপুর।

ফাল্গুনের সাজসজ্জার পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে আরও একটি জরুরি বিষয়ে। আর তা হলো সারা দিনের হাঁটাহাঁটির কথা মাথায় রেখে হিল না পরে ফ্ল্যাট জুতা পরাই হবে বুদ্ধিমতির কাজ।

ফাল্গুনে মেকআপ

বসন্তের শুরুর দিনটাতে মেকআপটা খুব ভারী করা ঠিক নয়। মেকআপ নেওয়ার আগে অবশ্যই মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে সানস্ক্রিন লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করবেন। এরপর মুখে লাগাবেন ম্যাট ফাউন্ডেশন। তারপর খানিকটা ফেস পাউডার লাগাবেন হালকাভাবে। আর সব সময় মনে রাখবেন পোশাকের রং অনুযায়ী হবে মেকআপের রং।

চোখে গাঢ় করে কাজলের রেখা টেনে দিয়ে ঠোঁট রাঙাতে পারেন লাল লিপস্টিকে। কাজল, আইলাইনার, আইশ্যাডো, গ্লিটার- যেটাই ব্যবহার করুন না কেন, সব যেন হয় একই রঙের। এরপর কপালে টিপ আর হাতে পরুন কাচের চুড়ি। আর বসন্তের সাজে ফুলের কোনো না কোনো অনুষঙ্গ তো রাখতেই হবে। হোক তা চুলে, হাতে কিংবা ভিন্ন কোনো গয়না হিসেবে।

ফাগুন দিনে চুলের সাজে নানা রঙের তাজা ফুলের ব্যবহার নারীকে করে তোলে অনন্যা। খোঁপা বা বেণি করে চুলে গাদা ফুলের মালা পেঁচিয়ে নিতে পারেন। কেউ যদি চুল ছেড়ে রাখতে চান তাহলে একপাশে গুঁজে নিতে পারেন গোলাপ বা জারবেরা ফুল। যখন বড় ফুল পরবেন, তখন গলা ও কানের গয়নাটা খানিকটা হালকা বেছে নেবেন। মেরুন, হলুদ, সাদা, নীল রঙের চন্দ্রমল্লিকা, ক্যালানডুলা ফুলগুলোও বেছে নিতে পারেন গাঁদা, গোলাপের বিকল্প হিসেবে।


বরিশালে জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তিন বোনের পেইজ ‘আপন বোন’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশালের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তিন বোনের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পেইজ রয়েছে। যা স্থানীয়দের কাছে দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে।

তারা ইতোমধ্যে বরিশালের ভাষায় তাদের হাস্যরসাত্মক ভিডিওগুলির মাধ্যমে ১.৫ মিলিয়ন বেশি ফলোয়ার এবং ৮০০ কোটির বেশি ভিউ সংগ্রহ করেছে, যা বাংলাদেশের একটি বড় কিশোর-কিশোরী দর্শককে আকর্ষণ করেছে।

নেহা, সাবিনা ও সামিয়া সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে উঠেছেন, এবং তাদের সাফল্য তাদেরকে দেশের শীর্ষস্থানীয় ভিডিও কন্টেন্ট নির্মাতাদের তালিকায় স্থান দিয়েছে।

তারা ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ভিডিও কন্টেন্ট আপলোড দেয়া শুরু করেন। তারা ফেইসবুকের অন্যান্য বিখ্যাত ভিডিও নির্মাতাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তারা খুব কম সময়েই অনেক মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে পেরেছেন।

তারা তিন বোনেরা শুধুমাত্র নিজেদের সাফল্যে সন্তুষ্ট নয় এবং তারা অন্যদেরকে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হতে অনুপ্রাণিত করছে যেনো ফেইসবুকে অন্যরাও জীবিকা অর্জন করতে পারেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়, নেহা এবং সাবিনা বলেন, ‘আমরা এই কাজটি করে নিজেরা অর্থ আয় করছি। ফলে ফেসবুক বাংলাদেশে বেকারত্ব দূর করতে সাহায্য করছে। আমরা চাই অন্যরাও ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের আঞ্চলিক ভাষা সারা বাংলায় পৌছে দিচ্ছি- কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে। এটা আমাদের অন্যরকম এক ভালো লাগা কাজ করছে।’


প্রকাশ হলো বিশেষ স্মারকগ্রন্থ ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’

ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ পেল যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর বিশেষ স্মারকগ্রন্থ ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন দেশবরেণ্য কবি - সাহিত্যিকরা তাঁদের লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অমর একুশে বইমেলা – ২০২৪ এর উদ্বোধন শেষে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শনের সময় ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এসময় যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি নুরুল হুদাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

জাতির পিতাকে নিয়ে লিখিত স্মারকগ্রন্থ ‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের সম্পাদক ও প্রকাশক যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও নির্বাহী সম্পাদক যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। সম্পাদনা পর্ষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জহুরুল ইসলাম মিল্টন, উপগ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাড. শেখ নবীরুজ্জামান বাবু। সম্পাদনা সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন উপবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. রাশেদুল হাসান সুপ্ত, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. বজলুল করিম মীর। বইটির প্রচ্ছদ শিল্পী ওবায়দুল কবির রিক্ত।

‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের সম্পাদকীয়তে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ লিখেছেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০-১৯৭৫), বাঙালির জাতির চেতনার ধমনীতে প্রবাহিত শুদ্ধতম নাম, ইতিহাসের মহানায়ক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। তিনি বাঙালির হাজার বছরের চেতনাকে ধারণ ও লালন করেছেন। বঙ্গবন্ধু আমাদের চিরন্তন প্রেরণার উৎস। তার কর্ম, নীতি, আদর্শ ও দর্শন বেঁচে থাকবে অনন্তকাল।’

‘চেতনায় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থটি অমর একুশে বইমেলা – ২০২৪ এ যুবলীগের স্টলে ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ’তে পাওয়া যাচ্ছে। শুভেচ্ছা মূল্য ১০০০ টাকা।


নতুন আঙ্গিকে দেশীদশের যাত্রা শুরু

নবসাজের দেশীদশ উদ্বোধন করেন দেশের সৃজনশীল শিল্পের অন্যতম প্রধান শিল্পী হাশেম খান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৪ ১৯:১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশীয় পোশাকের সৃজনশীল দশটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ দেশীদশ আজ বুধবার বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের লেভেল চারে নতুন সাজে নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করেছে।

যাত্রা শুরুর এই আনন্দঘন মূহুর্তে প্রধান অতিথি হিসেবে নবসাজের দেশীদশ উদ্বোধন করেন দেশের সৃজনশীল শিল্পের অন্যতম প্রধান শিল্পী হাশেম খান। এছাড়াও সেসময়ে দেশীদশ প্রাঙ্গনে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বরেণ্য শিল্পী জামাল আহমেদ।

নতুন আঙ্গিকের এই যাত্রার সময় এই দীর্ঘ পথচলায় দেশীদশের শুরু থেকে যারা সাথে রয়েছেন সেইসব শুভাকাঙ্খী, পৃষ্ঠপোষক আর এই শিল্পের অগ্রজ মানুষদের সম্মিলনে এক উৎসবমুখর পরিবেশ হয়ে উঠে দেশীদশ চত্বর। দেশীদশের উদ্যোক্তারা দেশীয় ফ্যাশনশিল্প বিকাশে আগামীতেও একসাথে কাজ করে এই অনন্য উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

২০০৯ সাল হতে এক অনন্য ভাবনায় গঠিত হয়েছিল স্বনামধন্য ১০টি ফ্যাশন ব্র্যান্ড নিপুণ, কে ক্রাফট, অঞ্জনস্, রঙ বাংলাদেশ, বাংলারমেলা, সাদাকালো, বিবিআনা, দেশাল, নগরদোলা ও সৃষ্টি -এর সম্মিলিত উদ্যোগ দেশীদশ। জন্মলগ্ন হতে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের ফ্যাশনশিল্প উন্নয়নে প্রতিনিয়ত অবদান রেখে চলেছে দেশীদশ। দেশীয় সংস্কৃতি, দেশীয় উৎসব, দেশীয় পোশাক নিয়ে কাজ করাই দেশীদশের মূল চিন্তাধারা। দেশীয় উপকরণে উৎসবনির্ভর পোশাক তৈরি করেই মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে দেশীদশ।

বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ছাড়াও দেশীদশ আউটলেট রয়েছে সিলেটের কুমারপাড়া ও চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ে আফমি প্লাজায়। আউটলেট ছাড়াও অনলাইনে দেশীদশ এর পেজে যুক্ত হয়েও কেনাকাটা করা যায়।


বিয়ের সাজের গল্প

কনের সাজে চিত্রনায়িকা জাহারা মিতু।
আপডেটেড ১৯ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০২
সৈয়দা লাইবা বিনতে মঈন

জীবনের বিশেষ মুহূর্ত বিয়ে। আর এর মূল আকর্ষণ কনের সাজ। কনের সাজে বা ব্রাইডাল সাজে ভিন্নমাত্রা যোগ করে বিয়ে উৎসবকে দেওয়া যায় অনন্যতা। এখন চলছে বিয়ে মৌসুম। ট্রেন্ডি, ফিউশন ও ট্রাডিশনসহ বিভিন্ন সাজ নিয়ে ইদানীং তাই যথেষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সাতকাহনের আজকের মূল প্রতিবেদনে রইলো বর্তমান সময়ের বর-কনের সাজের নানা আয়োজনের খোঁজ।

মনের মতো বিয়ের পোশাক

বিয়ের পোশাকের দিকেও রাখতে হবে আলাদা নজর। কোন রঙের পোশাকে কনেকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় এবং উজ্জ্বল দেখাবে বিষয়টি মাথায় রেখে তা নির্বাচন করতে হবে। প্রথাগত লাল বেনারসি শাড়িতেই যেসব কনেকে অপরূপ লাগবে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। বেনারসি-কাতানের পাশাপাশি নানা রঙের জামদানি, অরগানজা, সিল্ক ও মসলিনে ঝুঁকছেন কনেরা। এসব কাপড় দিয়ে তৈরি করা লেহেঙ্গা আর গাউনের আবেদনও রয়েছে ব্যাপক।

বর্তমান সময়ে রঙের ক্ষেত্রে এসেছে বেশ পরিবর্তন। কনেরা প্রাধান্য দিচ্ছেন সাদা, মিন্ট, হালকা গোলাপি, আইভরি, মিন্ট, ল্যাভেন্ডার ও গোল্ডেন রঙের মতো হালকা রংগুলোকে। তবে বিয়ের শাড়ি বা এর অনুষঙ্গ উজ্জ্বল রঙের হওয়া ভালো।

গয়নায় বৈচিত্র্য

বিয়ের সাজ মানেই জমকালো পোশাক-গহনা হতে হবে, এ ধারণা থেকে বেরিয়ে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে নিজেদের সাজিয়ে তুলছেন এখনকার কনেরা। একটা সময় পর্যন্ত ভাবাই যেত না বিয়ের দিনে বউয়ের গায়ে সোনা ছাড়া ইমিটেশনের গহনা উঠবে। এখন কিন্তু বিয়েতে প্রাধান্য পাচ্ছে সোনার বাইরেও সোনার প্রলেপ দেওয়া বা ভিন্ন ভিন্ন ধাতুর তৈরি ঐতিহ্যবাহী নকশার গহনা। কাটা কাজের নকশা, গলাজুড়ে ভরাট নকশা, মিসরীয় সভ্যতার গহনার নকশা এখন শোভা পায় আধুনিক কনের গহনায়।

আরেকটি বিষয় পোশাকের সঙ্গে মানানসই গহনা, ব্যাগ, জুতা ইত্যাদি এক্সেসরিজও থাকা চাই। বিয়ের জুতা মানেই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ঝাঁ চকচকে জুতা- এমন ধারণা এখন অনেকটাই ফিকে। বরং একটু আরামদায়ক জুতাই এখন পছন্দ বেশিরভাগ কনের।
কনের ব্যাগের দিকেও কিন্তু নজর থাকে সবার! আর তাই ব্যাগ কেনার সময় বিয়ের পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং করে কেনাই ভালো। পোটলি, বটুয়া বা বক্স ক্লাচ এখন ট্রেন্ডি ব্রাইডাল ব্যাগ। এর বাইরে অনেক কনের পছন্দের তালিকায় থাকে কাজ করা ছোট পার্সও।

মডেল: চিত্রনায়িকা জাহারা মিতু।

বিয়ের সাজে নিজস্বতা

একেবারেই ন্যাচারাল লুক মনে হয় এমন সাজ-ইদানীং ব্রাইডাল সাজের ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। তাই বিউটিশিয়ানকে বলতে হবে, ন্যাচারাল মনে হয়; এমন সাজে সাজিয়ে দিতে। এখনকার কনেরা আগের সময়ের মতো ভারী মেকআপ একদমই পছন্দ করছেন না। নিজেকে মেকআপ দিয়ে পরিবর্তন না করে বরং নিজস্বতাকে ফুটিয়ে তোলাই যেন এখনকার মেকআপ ট্রেন্ড। ন্যুড মেকআপের চলের পাশাপাশি লাটে মেকআপ, গ্লোয়ি-ডিউই মেকআপই বেছে নিচ্ছেন এখনকার কনেরা।

আটপৌরে সাবলীল মেকআপকেও প্রাধান্য দিচ্ছেন অনেকেই। এমন মেকআপ করা হচ্ছে এখনকার সময়ে, যাতে করে মেকআপ অনেকটা সময় ঠিকঠাক থাকে। হালকা কিন্তু অনেক লম্বা সময় থাকে এমন স্টাইলের গ্রহণযোগ্যতাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

বিয়ের আগে ত্বকের বিশেষ যত্ন

মেকআপ যতই ভালো হোক না কেন, ত্বক ও চুল যদি সুন্দর ও উজ্জ্বল না হয় তাহলে দেখতে মোটেও সুন্দর লাগবে না। তাই বিউটি এক্সপার্টদের পরামর্শ মেনে, মাসখানেক সময় হাতে রেখেই রূপচর্চা শুরু করতে হবে। নিয়ম মেনে ভালোভাবে করতে হবে খাওয়া-দাওয়া। বিয়ের সপ্তাহখানেক আগেই ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া শুরু করতে হবে। হাত-পায়ের ওয়াক্সিং, ফেসিয়াল, চুলের ট্রিটমেন্ট আগেই করে ফেলা উচিত।

নয়তো বিয়ের আগে একসঙ্গে সব কাজ করতে গেলে এগুলো আপনার গোটা সাজকেই মাটি করে দিতে পারে। বিয়ের ঠিক এক বা দুদিন আগে ভ্রু প্লাক করতে হবে। বিয়ের দিন সাজার সময় ভ্রু প্লাক করতে গেলে সেখানে দ্রুত মেকআপ করার সময় ভ্রুর জায়গাটিতে যন্ত্রণা, চুলকানি, লাল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে, যা আপনার সুন্দর সাজগোজকে মাটি করে দিতে পারে।

নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি ফাস্টফুড, কোল্ড ড্রিঙ্কস, ভাজাভুজি ও মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন। প্রচুর ফল ও সবজি খান ও মেডিটেশন করুন। বিয়ের অনুষ্ঠানের আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। এতে আপনার ত্বকে ব্রণ বা অন্য কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে এবং মেকআপ ত্বকে খুব সুন্দরভাবে বসবে।

চোখ থাকুক বরের সাজেও

এবার আসা যাক বরের সাজসজ্জায়। বরবেশে বিয়েতে বরের সাজও এখন কম যায় না। বরের পোশাক এখন একই ধরনের রং থেকে বেরিয়ে আরও বর্ণিল হয়েছে। লাল ছাড়াও মেরুন, নীল, সোনালি, গোলাপি, ফিরোজা, সবুজ বা কালো রঙের বরের পোশাক দেখা যায় এখন। এখনকার বরেরা আবার কনের শাড়ি কিংবা লেহেঙ্গার সঙ্গে মিল রেখে নিজের পোশাক বাছাই করেন। তা হতে পারে কনের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে রং কিংবা কনট্রাস্ট কোনো কালার।

বর সাজতে হলে ভারী শেরওয়ানি পরতে হবে এমনও নয়। ফুল আর পাখির নকশা করা প্রিন্স কোট পরেও ভিন্ন বেশে বর সাজতে পারেন। অভিনবত্ব চাইলে যোধপুরি প্যান্টের সঙ্গে প্রিন্স কোট পরা যেতে পারে। বর সাজতে পারেন স্যুট-বুটেও। অনুষঙ্গ হিসেবে কোটপিন, টাই, বো, পকেট স্কয়ার জুতার প্রতি বিশেষ নজর থাকতে হবে। সঙ্গে এক জোড়া কাফলিংস যেন থাকে। বরের সাজটা তাতে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। সনাতন ধর্মের বর শেরওয়ানি ছাড়াও তসর, সিল্কের ভারী কাজের পাঞ্জাবির সঙ্গে ধুতি, দোপাট্টা পরতে পারেন। মাথায় পাগড়ির বদলে পরতে পারেন শোলার টোপর।

বরের বিয়ের পাগড়ি পরার নকশা এবং রঙে এখন ব্যাপক বৈচিত্র্য এসেছে। কেনা পাগড়ির বদলে হাতে বাঁধা পাগড়িতে বিয়ের সাজে আসে ভিন্নতা। সোনালি, তামাটে, লালের মতো উজ্জ্বল রঙ কিংবা ঘিয়ে রঙের পাগড়িতে বর বেশি জমকালো হয়ে ওঠে। আর তা যদি হয় জামদানি, কাতান, মসলিন, হাফসিল্ক কাপড়ের তবে তা আরও চমৎকারভাবে ফুটে ওঠে।


'জয় বাংলা,জিতবে এবার নৌকা' গানের নতুন সংস্করণ ছাড়ালো একশ কোটি ভিউ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় ‘টিম জয় বাংলা’র একদল তরুণ শিল্পীর উদ্যোগে বানানো ‘জয় বাংলা, জিতবে আবার নৌকা’ গানের নতুন সংস্করণের ভিউ ছাড়িয়েছে এক শ কোটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনপ্রিয়তা এবং ভিউ বিবেচনায় নির্বাচনী প্রচারণা গানের ক্যাটাগরিতে বিশ্ব রেকর্ড করেছে ‘জয় বাংলা, জিতবে আবার নৌকা’ গানের নতুন সংস্করণ।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার জন্য গত ১৮ নভেম্বর এ গানটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও গানটির প্রযোজক ও গীতিকার তৌহিদ হোসেন।

নির্বাচনকালীন সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ফ্ল্যাশমব, রিল, শর্টস আকারে অসংখ্যবার পোস্ট হয়েছে এ গানটি। শুধু টিকটকেই এ গানটি ব্যবহার করে দেড় লক্ষাধিক ভিডিও বানিয়ে আপলোড করা হয়েছে। যা কোটি কোটি দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। আর ফেসবুকে এ গানটির ভিউ হয়েছে ২৫ কোটিরও বেশি। জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম, শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলেও গানটি প্রকাশের পর ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায়। কিছু কিছু চ্যানেলের ভিডিও প্রায় কোটিবার দেখা হয়েছে।

এ ছাড়া এ গানটি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ফেসবুক ও ইউটিউবে অসংখ্য ভিডিও বানিয়ে আপলোড করা হয়েছে। যার সবগুলোই সাড়া ফেলেছে দর্শকমহলে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ‘জয় বাংলা জিতবে আবার নৌকা’ গানটি বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাওয়া হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে ভিডিও তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের বাইরেও বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন উৎসব-আয়োজনেও জনপ্রিয় ছিল গানটি। সব মিলিয়ে নতুন সংস্করণের ভিউ ছাড়িয়েছে একশ কোটি। প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে ভিউ সংখ্যা।

এ বিষয়ে গানটির গীতিকার ও প্রযোজক তৌহিদ হোসেন বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচারণায় গানটি দারুণ সাড়া ফেলবে, এটা ভাবনায় ছিল আমাদের। তবে ভাবতেই অবাক লাগে, মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে গানটি অতিক্রম করেছে এক শ কোটির বেশি ভিউ। যা নির্বাচনী গানের ক্ষেত্রে রীতিমত বিশ্বরেকর্ড। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে গানটি নির্মাণ করা হয়েছে। একদল উদ্যামী তরুণকে নিয়ে তৈরি করা গানটি গতবারের মতো এবারও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উৎসর্গ করেছি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই গানটির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। যা আমাদের জন্য অন্যতম বড় একটি প্রাপ্তি।

প্রসঙ্গত, গানটির প্রথম সংস্করণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রবল জনপ্রিয়তা পায় সারাদেশে। পরবর্তী সময়ে উপজেলা নির্বাচন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন, উপ- নির্বাচনসহ সকল নির্বাচনেও গানটির জনপ্রিয়তা ছিল সর্বোচ্চ। তারই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের গেল ৫ বছরের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরে গানটির নতুন সংস্করণ তৈরি করে ' টিম জয় বাংলা' র একদল তরুণ শিল্পী। এবারের আয়োজনেও গানের গীতিকার ও প্রযোজক হিসেবে ছিলেন জনাব তৌহিদ হোসেন। সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন- সরোয়ার ও জিএম আশরাফ। সংগীতায়োজন করেছেন ডিজে তনু ও এলএমজি বিটস।


সত্যের নির্মলতম আদর্শ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৮:৪২
এম. নজরুল ইসলাম

বিশ্বসংসারে এমন আড়ালচারী কিছু মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়, যাঁরা নিভৃতে কাজ করেন দেশ ও মানুষের কল্যাণে। ব্যক্তিগত মোহের ঊর্ধ্বে উঠে দেশচিন্তায় শুধু নয়, নিজেকে নিয়োজিত রাখেন বিশ্বমানবের কল্যাণে। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল সেই বিরল ব্যক্তিত্ব যিনি নিজেকে নিয়ে ভাবিত হতে না পারার বিরল শক্তি তিনি অর্জন করেছেন। পাদপ্রদীপের আলোয় নিজেকে আলোকিত করার সব সুযোগ ও সুবিধা থাকা সত্তে¡ও নিজেকে রেখেছেন মোহমুক্ত। যাঁরা পারিবারিকভাবে নিতান্ত সাদামাটা জীবনে অভ্যস্ত, রাজনৈতিক আবহে বেড়ে ওঠার পরও এমন নিভৃত জীবন কাটানো তাঁদের পক্ষেই সম্ভব। ক্ষমতা কখনো তাঁর মোহভঙ্গ করতে পারেনি। তাঁর জীবনাচার লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই, তিনি রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘সত্যের নির্মলতম আদর্শকে’ রক্ষা করেছেন। আত্মপ্রবঞ্চনা ও পরপ্রবঞ্চনার পঙ্কিল আবর্তের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলেননি। সত্যকে তিনি ভয় করেননি। মিথ্যার সুবিধা ভোগে প্রবৃত্ত হননি কোনো দিন।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘মানুষের ধর্ম’ প্রবন্ধের ভূমিকায় লিখেছেন, ‘মানুষের একটা দিক আছে, যেখানে বিষয়বুদ্ধি নিয়ে সে আপন সিদ্ধি খোঁজে। সেইখানে আপন ব্যক্তিগত জীবনযাত্রা নির্বাহে তার জ্ঞান, তার কর্ম, তার রচনাশক্তি একান্ত ব্যাপৃত। সেখানে সে জীবরূপে বাঁচতে চায়।

কিন্তু মানুষের আর একটা দিক আছে, যা একান্তই ব্যক্তিগত বৈষয়িকতার বাইরে। সেখানে জীবনযাত্রার আদর্শে যাকে বলি ক্ষতি তাই লাভ, যাকে বলি মৃত্যু সেই অমরতা। সেখানে বর্তমান কালের জন্য বস্তু-সংগ্রহ করার চেয়ে অনিশ্চিত কালের উদ্দেশে আত্মত্যাগ করার মূল্য বেশি। সেখানে জ্ঞান উপস্থিত-প্রয়োজনের সীমা পেরিয়ে যায়, কর্ম স্বার্থের প্রবর্তনাকে অস্বীকার করে। সেখানে আপন স্বতন্ত্র জীবনের চেয়ে যে বড়ো জীবন, সেই জীবনে মানুষ বাঁচতে চায়।

স্বার্থ আমাদের যেসব প্রয়াসের দিকে ঠেলে নিয়ে যায় তার মূল প্রেরণা দেখি জীবপ্রকৃতিতে। যা আমাদের ত্যাগের দিকে, তপস্যার দিকে ঠেলে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম। ’

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল সেই মানুষের ধর্ম পালন করে চলেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে তিনি। বাবা বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া। বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর নানা। কিন্তু এই পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচিতির বাইরে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নিজেকে ভিন্ন পরিচয়ে পরিচিত করেছেন। তিনি একজন প্রখ্যাত অটিজম বিশেষজ্ঞ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের একজন সদস্য। ২০১৩ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। বাংলাদেশের অটিজমবিষয়ক জাতীয় কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বব্যাপী অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করেছেন। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) বিষয়ভিত্তিক দূত হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। ২০১৯ সালে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সৃষ্টিশীল নারী নেতৃত্বের ১০০ জনের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন নিজ যোগ্যতাগুণে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) বিশেষজ্ঞ হিসেবে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগেই ২০১১ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো অটিজমের মতো অবহেলিত একটি বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভারতের কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীও অংশ নেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশে ‘নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিস-অ্যাবিলিটি ট্রাস্ট অ্যাক্ট ২০১৩’ পাস করা হয়।

মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজম নিয়ে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৪ সালে সায়মা ওয়াজেদকে ‘এক্সিলেন্স ইন পাবলিক হেলথ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে। উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যাবলিতে অটিজমের বিষয়টি তিনিই সংযুক্ত করেন। বাংলাদেশে অটিজমবিষয়ক বিভিন্ন নীতি নির্ধারণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে অটিজমবিষয়ক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে সায়মা ওয়াজেদ কাজ করেছেন। ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক সম্মেলনে সায়মা ওয়াজেদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

‘মানুষের দায় মহামানবের দায়, কোথাও সীমা নেই। অন্তহীন সাধনার ক্ষেত্রে তার বাস। ...দেশ কেবল ভৌমিক নয়, দেশ মানসিক। মানুষে মানুষে মিলিয়ে এই দেশ জ্ঞানে জ্ঞানে, কর্মে কর্মে। ...আমরাও দেশের ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি। সেই ভবিষ্যেক ব্যক্তিগতরূপে আমরা ভোগ করব না। ...ভবিষ্যতে যাঁদের আনন্দ, যাঁদের আশা, যাঁদের গৌরব, মানুষের সভ্যতা তাঁদেরই রচনা। তাঁদেরই স্মরণ করে মানুষ জেনেছে অমৃতের সন্ধান, বুঝেছে যে তার সৃষ্টি, তার চরিত্র, মৃত্যুকে পেরিয়ে।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কথাগুলো সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। ‘সেই মানুষই একান্ত দরিদ্র যাহার স্মৃতিসঞ্চয়ের মধ্যে অক্ষয় গৌরবের ধন বেশি কিছু নাই।’ তিনি কবিগুরু কথিত সেই ‘স্মৃতিভাণ্ডারের সম্পদ’ আঁকড়ে ধরে ‘অক্ষয় গৌরবের’ অন্য এক জীবন বেছে নিয়েছেন। যেমনটি পণ্ডিত জওয়াহেরলাল নেহরুর স্ত্রী কমলা নেহরু সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, ‘...সকলের চেয়ে বড়ো তাঁর সুদৃঢ় সত্যনিষ্ঠা। পলিটিক্সের সাধনায় আত্মপ্রবঞ্চনা ও পরপ্রবঞ্চনার পঙ্কিল আবর্তের মধ্যে তিনি নিজেকে কখনো হারিয়ে ফেলেননি। সত্য যেখানে বিপজ্জনক, সেখানে সত্যকে তিনি ভয় করেননি; মিথ্যা যেখানে সুবিধাজনক, সেখানে তিনি সহায় করেননি মিথ্যাকে। মিথ্যার উপচার আশু প্রয়োজনবোধে দেশপূজার যে অর্ঘ্যে অসংকোচে স্বীকৃত হয়ে থাকে, সেখানে তিনি সত্যের নির্মলতম আদর্শকে রক্ষা করেছেন। ’ এই জীবনই তিনি শ্রেয় মনে করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

উপনিষদে বলা হয়েছে, ‘অসম্ভ‚তি ও সম্ভ‚তিকে এক করে জানলেই তবে সত্য জানা হয়। অসম্ভ‚তি যা অসীমে অব্যক্ত, সম্ভ‚তি যা দেশে কালে অভিব্যক্ত। এই সীমায় অসীমে মিলে মানুষের সত্য সম্পূর্ণ। মানুষের মধ্যে যিনি অসীম তাঁকে সীমার মধ্যে জীবনে সমাজে ব্যক্ত করে তুলতে হবে। অসীম সত্যকে বাস্তব সত্য করতে হবে। তা করতে গেলে কর্ম চাই।’

কল্যাণমন্ত্রে যাঁর দীক্ষা, রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘মানুষের ধর্ম’ যিনি ধারণ করেন হৃদয়ে, জনগণের সেবা যাঁর ব্রত, তিনি অমৃতের সন্তান। তিনি কবিগুরু কথিত সেই ‘স্মৃতিভাণ্ডারের সম্পদ’ আঁকড়ে ধরে ‘অক্ষয় গৌরবের’ অন্য এক জীবন বেছে নিয়েছেন। এই জীবনই তিনি শ্রেয় মনে করেছেন। শুভ জন্মদিন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

লেখক: সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং অস্ট্রিয়াপ্রবাসী মানবাধিকারকর্মী, লেখক ও সাংবাদিক


শীতকালীন সবজি দিয়ে সুস্বাদু চিকেন স্ট্যু  

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আফরোজা খানম মুক্তা

এখন বাজারে প্রচুর শীতকালীন সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এসব সবজি দিয়ে মজাদার রান্না করা যায়। আজ আপনাদের জন্য রইল শীতকালীন সবজি দিয়ে সুস্বাদু চিকেন স্ট্যুর রেসিপি। তো, আসুন রেসিপিটি জেনে নেওয়া যাক।

উপকরণ: চিকেন ১টি, আলু ৩টি, গাজর ২টি, পেঁপে ৩০০ গ্রাম, টমেটো ১টি, বরবটি ৫/৬টি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, রসুন কুচি ২ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ২ টেবিল চামচ, সয়াবিন তেল ২ টেবিল চামচ, চালের গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা ৩/৪ পিস করে, তরল দুধ আধা কাপ, ক্যাপসিকাম আধা কাপ।

রান্নার প্রণালি: চিকেন, লেবুর রস, গোলমরিচ গুঁড়া, লবণ দিয়ে মেরিনেট করুন ৩০ মিনিট। কড়াইয়ে সয়াবিন তেল গরম হলে এলাচ দারুচিনি লবঙ্গ তেজপাতা ফোড়ন দিন। পরে পেঁয়াজ কুচি ও রসুন কুচি দিয়ে নেড়ে সামান্য ভেজে মেরিনেট করা চিকেন ছেড়ে দিন। এরপর হলুদ গুঁড়া, আদা ও রসুন বাটা, আলু, পেঁপে, গাজর, লবণ, টমেটো, কাঁচা মরিচ কুচি, বরবটি দিয়ে পরিমাণ মতো পানি দিন।

সব সবজি সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। নামানোর আগে চালের গুঁড়া গুলিয়ে সেই পানি, ক্যাপসিকাম, দুধ দিয়ে নেড়ে মিশ্রণ বানিয়ে কড়াইতে মিশিয়ে দিন। পরিবেশনের সময় বিট লবণ, ছেঁকা পাউরুটি দিয়ে পরিবেশন করুন। ব্যস, এভাবেই রান্না হয়ে গেল শীতকালীন সবজি দিয়ে সুস্বাদু চিকেন স্ট্যু।

লেখক: স্বত্বাধিকারী, শৌখিন কারুশিল্প


banner close