মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪

অংশীদারত্বের রাজনীতিই গণতন্ত্রের চাবিকাঠি

আলী রীয়াজ।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২ অক্টোবর, ২০২২ ১০:৩৭

আলী রীয়াজ

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ড. আলী রীয়াজের জন্ম ৩ এপ্রিল ১৯৫৮ সাল, ঢাকায়। তিনি ১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের পড়াশোনা শেষ করেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি এবং রাজনৈতিক ইসলাম বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তার স্বীকৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটি ২০১২ সালে ডক্টর রীয়াজকে ‘ইউনিভার্সিটি প্রফেসর’ পদে ভূষিত করে। বাংলাদেশের ৫০ বছরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অর্জন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের অগ্রসরতা এবং সীমাবদ্ধতাসহ আগামীতে এখানকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে দৈনিক বাংলার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অনিন্দ্য আরিফ

দৈনিক বাংলা: মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার নেপথ্যের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল গণতন্ত্র। যে পরিপ্রেক্ষিতেই আমাদের স্বাধীন দেশের সংবিধানে গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় জায়গা দেয়া হয়েছিল। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এসে একটি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অর্জনগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

আলী রীয়াজ: প্রথমেই আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের দিকেই নজর দিতে পারি। এই ঘোষণাপত্রের আইনি এবং নৈতিক ভিত্তি হচ্ছে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন, জনগণের ম্যান্ডেট এবং জনগণের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি। এগুলো হচ্ছে গণতন্ত্রের ভিত্তি। এর সঙ্গে আছে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা। বাংলাদেশের গত ৫০ বছরের ইতিহাসে এই বিষয়গুলো বারবার উপেক্ষিত হয়ে আসছে। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্জন সীমিত, বারবার এর সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্র ১৯৯০-এর পরে এই পথে যতটা অগ্রসর হয়েছিল দুর্ভাগ্য হচ্ছে, গত দেড় দশকে তা থেকে কেবল সরে এসেছে তা নয়, পেছনের দিকে যাত্রা করেছে।

দৈনিক বাংলা: ১৯৭৫-এর শোকাবহ পটপরিবর্তনের পর থেকে দীর্ঘদিনের সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯০-এর পর নির্বাচনী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

আলী রীয়াজ: বাংলাদেশের সূচনালগ্নে গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি ছিল, চর্চাও শুরু হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালে একদলীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা তার অবসান ঘটাল। সেই অধ্যায়ের অবসান হলো অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে। শোকাবহ বললে ১৯৭৫ সালের ঘটনা প্রবাহের তাৎপর্য এবং প্রভাব পুরোটা বোঝা যায় না। এতে করে সেনাশাসনের সূচনাই হলো তা নয়, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের গতিপথও বদলে গেল। ১৯৯০ সালে গণতন্ত্রায়নের পথে যাত্রার সূচনায় নির্বাচনী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলো, এটা ইতিবাচক অগ্রগতি। কিন্তু গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলার উদ্যোগ থাকল না। উপরন্তু সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী সাংবিধানিকভাবেই প্রধানমন্ত্রীর শাসনের, এক ব্যক্তির শাসনের পথ উন্মুক্ত করল। সাংবিধানিক এই ব্যবস্থার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চার বদলে অসহিষ্ণুতা বাড়ল, প্রতিষ্ঠানকে দলের স্বার্থে ব্যবহার করার ধারা শক্তিশালী করা হলো। এ সময় কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে একটা রক্ষাকবচ ছিল- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন। এই ব্যবস্থার অবসান গণতন্ত্রের শেষ রক্ষাকবচটিকেই অপসারণ করেছে।

দৈনিক বাংলা: স্বাধীনতার পর গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামে দীপালি-কাঞ্চন-জয়নাল, রাইফুন বসুনিয়া, নূর হোসেন, ডা. মিলনের মতো অসংখ্য মানুষের সাহসী বলিদান কি এখানকার মানুষের গণতন্ত্রের জন্য আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে না?

আলী রীয়াজ: তাদের আত্মদানের গুরুত্ব অপরিসীম। এরা বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। কিন্তু গত ৫০ বছরে গণতন্ত্রের জন্য আরও অনেক আত্মদান আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা কেবল আন্দোলনের মধ্যেই প্রকাশিত তা কিন্তু নয়, যখনই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে মানুষ তাতে ব্যাপকভাবে অংশ নিয়েছে। নাগরিকদের যে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করার একটা প্রবণতা ছিল সেটাও কিন্তু এই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। নাগরিকরা যেকোনোভাবেই হোক রাজনীতিতে, শাসনব্যবস্থায় অংশ নিতে চান, ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করতে চান- এটাই তো গণতন্ত্রের মূলকথা।

দৈনিক বাংলা: সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সমাজবাদী গণতন্ত্র এবং উদারনৈতিক গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে জনতুষ্টিমূলক কর্তৃত্ববাদের ঢেউ উঠছে। সেখানে আমাদের এখানকার গণতন্ত্রকে কীভাবে সবল রেখে চালিয়ে নেয়া যায়?

আলী রীয়াজ: জনতুষ্টিবাদী কর্তৃত্ববাদের ঢেউ থেকে দক্ষিণ এশিয়া মুক্ত নয়, বাংলাদেশও নয়। আপনি বলছেন ‘গণতন্ত্রকে সবল রেখে চালিয়ে নেয়ার’ কথা। এখন যে শাসন দেখছি তাকে সবল করা বা এগিয়ে নেয়ার কারণ দেখি না। দুটো নির্বাচন হয়েছে ভোটারদের প্রায় অংশগ্রহণ ছাড়া, এমন সব আইন চালু করা হয়েছে, যা মানুষের বাকস্বাধীনতা প্রায় নিশ্চিহ্ন করে ফেলেছে, সমাবেশের অধিকার কেবল সরকারের ইচ্ছার ওপরে নির্ভরশীল, আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে জনগণের অধিকার এবং গণতন্ত্রের পথে পুনর্যাত্রার জন্য এখন দরকার অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি ও অবাধ নির্বাচনের বিষয়ে জোর দেয়া। এর আর কোনো বিকল্প নেই।

দৈনিক বাংলা: গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন কি একই পথরেখা দিয়ে অগ্রসর হতে পারে?

আলী রীয়াজ: অবশ্যই চলতে পারে। শুধু পারে তা নয়, সেটাই হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত। উন্নয়ন মানে হচ্ছে মানুষের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, কল্যাণ নিশ্চিত করা। প্রত্যেককে তার ভাগ্য নির্ধারণের পথ উন্মুক্ত করে দেয়া, তার সম্ভাবনার বাস্তবায়নের পথে বাধাগুলো সরিয়ে দেয়া। আর তা করতে হবে নাগরিকের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। সেটাই তো গণতন্ত্র। ফলে গণতন্ত্র বাদ দিয়ে যা তা উন্নয়ন নয়, প্রবৃদ্ধি হতে পারে বড় জোর, তার সুবিধা পাবে সীমিত সংখ্যক মানুষ। এই দুটোকে পরস্পরের মুখোমুখি করা হচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উদ্দেশ্য হচ্ছে একটা অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার যৌক্তিকতা তৈরি করা। ফলে যারা আকারে-ইঙ্গিতে বা সরাসরি বলেন গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন একরেখায় চলে না তারা আসলে গণতন্ত্র চান না।

দৈনিক বাংলা: দেশে গণতন্ত্র নিশ্চিত করে রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলোর কেমন ভূমিকা থাকা প্রয়োজন?

আলী রীয়াজ: যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়ই দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, রাজনৈতিক দল বাদ দিয়ে তো গণতন্ত্র হয় না। সেই ভূমিকা পালন করতে দলকে কেবল ব্যক্তির অনুসারী হলে হবে না, তাকে হয়ে উঠতে হবে আদর্শের প্রতিনিধি এবং গণতন্ত্রের প্রতি নিবেদিত। দলকেও গণতন্ত্র চর্চা করতে হয়। ক্ষমতায় যাওয়া দলের লক্ষ্য। কিন্তু তাকে বিবেচনা করতে হবে সে বিরোধী দল হলে ক্ষমতাসীন দলের কাছ থেকে কী আচরণ আশা করত; ক্ষমতাসীন দল হিসেবে তাকে সেই আচরণ করতে হবে। মনে রাখা দরকার, গণতন্ত্র মানে সংখ্যাগুরুর নিপীড়ন নয়, সংখ্যালঘুর নিরাপত্তার রক্ষাকবচ। দল কেবল সীমিত সময়ের জন্য দায়িত্ব পালনের ম্যান্ডেট পেতে পারে। নির্বাচনী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে একটি শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহিমূলক শাসনের প্রথম ধাপ। জবাবদিহিতা কেবল নির্বাচনের মধ্যেই সীমিত নয়, কিন্তু নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি দায়িত্ব পালন না করে তবে একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে না। এটাও মনে রাখা দরকার যে, নির্বাচনী প্রতিষ্ঠাগুলো জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, তাদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।

দৈনিক বাংলা: গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন থাকতে পারে?

আলী রীয়াজ: গণমাধ্যম হচ্ছে সিভিল সোসাইটির অংশ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থার একটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে সিভিল সোসাইটি। যারা নাগরিকদের স্বার্থ এবং ইচ্ছাকে প্রতিনিধিত্ব করে, রাষ্ট্র এবং রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর প্রভাবের বাইরে থাকে সেই সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত রূপই হলো সিভিল সোসাইটি। সিভিল সোসাইটির কাজ হচ্ছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা- রাষ্ট্র, সরকার, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য ক্ষমতাশালীদের। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের কাজ হচ্ছে আনুভূমিক বা হরাইজেন্টাল জবাবদিহিতার কাজ করা। যেখানে গণতন্ত্র দুর্বল বা অনুপস্থিত সেখানে গণমাধ্যমের এই ভূমিকা আরও বেশি করে পালন করার দরকার হয়ে পড়ে।

দৈনিক বাংলা: আপনি তো দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করছেন। সেখান থেকে এই অঞ্চল এবং আমাদের দেশের গণতন্ত্র নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী বলছে?

আলী রীয়াজ: আমি আগেই যেটা বলেছি তা হলো, দক্ষিণ এশিয়ায় আমরা গণতন্ত্রের আশানুরূপ বিকাশ দেখতে পাচ্ছি না। এই অঞ্চলে ভারতকে একটা শক্তিশালী গণতন্ত্র বলে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে তার ব্যাপক ক্ষয় দৃশ্যমান হয়েছে, নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। শ্রীলঙ্কায় কার্যত একটি পরিবারের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, একটা বড় ধরনের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজাপক্ষের পরিবার আপাতত ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, কিন্তু গণতন্ত্রের পথযাত্রা মসৃণ হয়েছে এমন বলার সময় আসেনি। পাকিস্তানে গণতন্ত্রের যাত্রা দীর্ঘদিন ধরেই বারবার হোঁচট খাচ্ছে, একভাবে তাতে অগ্রগতিও হচ্ছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পশ্চাৎযাত্রা সহজেই দৃশ্যমান। কিন্তু তা সত্ত্বেও যেটা আশার বিষয় সেটা হচ্ছে- পাকিস্তান-ভারত-শ্রীলঙ্কা সব জায়গায়ই জনগণের মধ্যে গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা আছে, একই ধরনের আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেও আছে। এসব দেশে অনেক রাজনৈতিক দল সেই আকাঙ্ক্ষার পক্ষে লড়ছেন, সিভিল সোসাইটির প্রতিরোধ আছে। ফলে আমি এখনও আশা করি বৈশ্বিকভাবে এবং এ অঞ্চলে এই অবস্থার অবসান হবে।

দৈনিক বাংলা: বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কেমন হারে বৃদ্ধি পেয়েছে? সেখান থেকে আমাদের আশাবাদের কেমন জায়গা রয়েছে?

আলী রীয়াজ: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলতে যদি আপনি পরমতসহিষ্ণুতা, সকলের সমতার প্রতি অঙ্গীকার বোঝেন তবে বলতে হবে সেটা খুব বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে না। কিন্তু সমাজে এই ধারণাগুলো বিকশিত হয় প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র চর্চার মধ্য দিয়ে, রাষ্ট্রের আচরণের মধ্য দিয়ে। সেখানে যেহেতু ব্যত্যয় ঘটছে, যেহেতু ক্ষমতাসীনরাই এক ধরনের বিভাজনকে উস্কে দিচ্ছেন, আইনের সমান প্রয়োগ করছেন না, সেহেতু এই মূল্যবোধ বিকাশের জায়গাটা সীমিত হয়ে যাচ্ছে। আবার একই ধরনের মনোভাব যারা ক্ষমতার বাইরে আছেন তাদের ভেতরেও দেখতে পাই। তাদের মতকে চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করা এটাও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য ইতিবাচক নয়। আশার জায়গা হচ্ছে, এগুলো অপরিবর্তনীয় নয়। রাজনীতি এবং শাসনব্যবস্থায় অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা তৈরি করা গেলে এই ধারাটা বদলানো সম্ভব। কেননা বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও আগ্রহ হচ্ছে অংশীদারত্বের।

দৈনিক বাংলা: আমাদের জনসংখ্যার বড় জায়গায় তরুণরা রয়েছে। এই তারুণ্যের গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা কতটুকু? তাদের জন্য গণতন্ত্র কি সমৃদ্ধ আশাবাদের জায়গা তৈরি করতে পারে?

আলী রীয়াজ: সর্বশেষ জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশের জনসংখ্যার ২৭ দশমিক ৮২ শতাংশই তরুণ। সংখ্যায় সাড়ে চার কোটির বেশি। এই যে তরুণ নাগরিক গোষ্ঠী তাদের মধ্যে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থার কোনো সংকট নেই। এখন পর্যন্ত আমি এমন কোনো জরিপ দেখিনি যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ তরুণ বলছেন যে, তারা গণতন্ত্রের কোনো বিকল্পকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন। ২০১১ সালে ব্র্যাকের করা একটি জরিপ, ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষে থেকে করা ইয়ুথ পারসেপশন সার্ভে, ২০১৫ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিলের করা জরিপ, ২০১৮ সালের ব্র্যাকের করা জরিপের কোথাও কিন্তু আমি দেখছি না যে, তারা গণতন্ত্রের বিকল্প চান। যা দেখা যাচ্ছে তারা প্রচলিত রাজনীতির ব্যাপারে আস্থাশীল নন, কিন্তু তারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। দেশের নীতিনির্ধারক এবং রাজনীতিবিদদের কাজ হচ্ছে এই আশাবাদকে কাজে লাগানোর পথ বের করা- তাদের রাজনীতিবিমুখ না করে রাজনীতিতে তাদের যুক্ত করা। সেটার জন্য দরকার সুস্থ গণতন্ত্র, দরকার অংশগ্রহণমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করা।

দৈনিক বাংলা: আগামীতে এই তরুণদের সামনে যে বাংলাদেশ হাজির হবে, সে সময়ে তাদের কাছে গণতন্ত্রের কী কী সম্ভাবনা হাজির করা যেতে পারে? আমাদের অর্থনীতি এখন যে জায়গায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেই সম্ভাব্য উন্নত সময়ে কোনো পর্যায়ের গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে?

আলী রীয়াজ: আগামীতে যে বাংলাদেশ তৈরি হবে সেটা তো তরুণরাই তৈরি করবেন। সেই বাংলাদেশ তো একটি দলের, একটি গোষ্ঠীর, একটি আদর্শের অনুসারীদের বাংলাদেশ হতে পারে না। কাউকে বাদ দিয়ে তো আগামীর বাংলাদেশ নয়। অর্থনীতির যে সম্ভাবনার কথা আপনি ইঙ্গিত করছেন সেখানে তরুণদের জন্য কী ধরনের সম্ভাবনা তৈরি করা হচ্ছে সেটা ভাবা দরকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ ২০১৬ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য বলছে, দেশে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারের হার বেশি। বিআইডিএসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে শিক্ষিত মানুষের মধ্যেই বেকারের হার বেশি। ৪৭ শতাংশ শিক্ষিতই বেকার। এরাই তরুণ সমাজ। দেশে প্রতি বছর যে ২০ লাখ মানুষ শ্রমশক্তিতে যোগ দেন তারাই তরুণ। তাদের বড় অংশের জন্য কাজের ব্যবস্থা হচ্ছে না। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে অর্জন করতে হলে, তরুণদের অংশগ্রহণের জায়গাটি নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্র দরকার, অংশগ্রহণমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দরকার।

অর্থনীতির যে সম্ভাবনার কথা আপনি ইঙ্গিত করছেন সেখানে তরুণদের জন্য কী ধরনের সম্ভাবনা তৈরি করা হচ্ছে সেটা ভাবা দরকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ ২০১৬ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য বলছে, দেশে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারের হার বেশি। বিআইডিএসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে শিক্ষিত মানুষের মধ্যেই বেকারের হার বেশি। ৪৭ শতাংশ শিক্ষিতই বেকার। এরাই তরুণসমাজ। দেশে প্রতিবছর যে ২০ লাখ মানুষ শ্রমশক্তিতে যোগ দেন তারাই তরুণ। তাদের বড় অংশের জন্য কাজের ব্যবস্থা হচ্ছে না। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে অর্জন করতে হলে, তরুণদের অংশগ্রহণের জায়গাটি নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্র দরকার, অংশগ্রহণমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দরকার


নারকেল দুধে কোপ্তা পোলাও

আপডেটেড ১০ এপ্রিল, ২০২৪ ২৩:৪৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঈদ মানেই ভুরিভোজ খাওয়া-দাওয়া। আর যেকোনো উৎসবেই পোলাও আমরা অনেকভাবেই খেয়ে থাকি। ঈদ আয়োজনে ব্যতিক্রমী স্বাদের পোলাও রান্না করে ফেলতে পারেন। নারকেল দুধে কোপ্তা পোলাও রান্না করে পরিবেশন করতে পারেন অতিথি আপ্যায়নে। প্রশংসা কুড়াবেন নিশ্চিত। জেনে নিন রেসিপি।

কোপ্তা তৈরির উপকরণ

মুরগি/খাসি অথবা গরুর মাংসের কিমা ২ কাপ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, চিনাবাদাম বাটা ১ টেবিল চামচ, গরম মসলা গুঁড়া ২ চা চামচ, কাঁচা মরিচ বাটা ২ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, ধনিয়া গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ২ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১/৪ কাপ, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, নারকেল দুধ আধা কাপ, কাঁচা মরিচ ৫/৬টি, ঘি ২ টেবিল চামচ, তেল ২ টেবিল চামচ, লবণ ও চিনি স্বাদ মতো।

পোলাও রান্নার উপকরণ

পোলাও এর চাল ২ কাপ, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, গাজর কুচি ১/৪ কাপ, এলাচ ২টি, দারুচিনি ১ টুকরা, তেজপাতা ২টি, নারকেলের দুধ ১ কাপ, পানি ৩ কাপ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, ঘি ৩ টেবিল চামচ, তেল ৩ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা ৩ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ৭/৮টি, লবণ ও চিনি স্বাদ মতো।

প্রস্তুত প্রণালি

কিমার সাথে বাটা মসলাগুলো অর্ধেক পরিমাণে মিশিয়ে ১৫ মিনিট মেখে রাখুন। ছোট ছোট বলের আকারে কোপ্তা বানিয়ে নিন এবার কড়াইতে তেল ও ঘি গরম করে পেঁয়াজ কুচি বাদামী করে ভেজে সমস্ত বাটা মসলা দিয়ে মসলা কষিয়ে নিন। কষানো মসলায় কোপ্তা দিয়ে ৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। এবার নারকেলের দুধ ও কাঁচা মরিচ দিয়ে আরও ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। ঝোল ঘন হয়ে আসলে নামিয়ে আরেকটি পাত্রে তেল ও ঘি গরম করুন। এতে পেঁয়াজ হালকা ভেজে গরম মসলা ও চাল দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন। তারপর পানি, ১ কাপ নারকেল দুধ, লবণ ও চিনি দিয়ে নেড়ে বলক আসলে মৃদু আঁচে ২০ মিনিট ঢেকে রান্না করুন। পোলাও রান্না হলে কিছু অংশ তুলে রেখে রান্না করা কোপ্তা, গাজর, বেরেস্তা, লেবুর রস দিয়ে ২/৩টি লেয়ার দিয়ে বাকি নারকেলের দুধ দিয়ে ১৫ মিনিট দমে রেখে পছন্দ মতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন


ঈদে অতিরিক্ত খাবার খেয়েছেন, যা করবেন

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঈদের দিন বেশি খেয়ে ফেলা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মীসহ নিজের পারিবার পারিজন সব মিলিয়ে সবার আবদার রাখতে গেলে উৎসব-আয়োজনে স্বাভাবিকভাবেই বেশি খাওয়া হয়ে যায়। এদিন সবার ঘরেই বাহারি সব খাবার তৈরি হয়। এটা সেটা খেতে খেতে সবারই অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে যায়। অনেক সময় ব্যস্তার কারণে খুব দ্রুত খাবার খেতে হয়। ফলে ঈদের দিন ক্লান্তি আর অবসাদ কাজ তরে। তাই ঈদে অতিরিক্ত খেয়ে ফেললেও কয়েকটি কাজের মাধ্যমে সমস্যা এড়ানো যেতে পারে।

হাঁটাহাঁটি করা

বেশি খেয়ে ফেললে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই খাওয়ার পর একটু হাঁটাহাঁটি করুন। এতে খাবার দ্রুত হজম হবে এবং যথেষ্ট পরিমান পানি পান করেুন। এতে খাবারের মাধ্যমে শরীরে জমা হওয়া অতিরিক্ত লবণের মাত্রা কমবে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

খেয়েই শুয়ে পরা থেকে বিরত থাকা

বেশি খাবার খাওয়ার পর অনেকে শুয়ে পরেন। ফলে খাবার হজম হতে সমস্যা হয় ও অ্যাসিডিটি বেড়ে যায়। পেট ফুলে যায়, বুকে ব্যথা ও নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

কোমল পানীয় পান না করা

অতিরিক্ত খাওয়ার পর কোমল পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকুন। কোমল পানীয় বলতে কার্বোনেটেড ব্রেভারেজ ডিংকস। এর ফলে গ্যাস্ট্রিক আরও বেড়তে পারে। ফলে পেট ভরা ভরা ও অস্বস্তি লাগতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া

ঈদ খেকে শুরু করে অনেক দিন পাড়া মহল্লার ওষুধের দোকান বন্ধ থাকে। অনেকেরই অতিরিক্ত খাওয়ার পর বমি বমি ভাবসহ নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এমনটি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আগে থেকে ওষুধ আনতে হবে।

খাওয়া শুরু করার ২০ মিনিটের মধ্যে মস্তিষ্ক সক্রিয় হয়ে ওঠে, তাই প্রথম ১০ মিনিট খুবই ধীরে ধীরে খাবার খেতে হবে। একবার খাবার মুখে নিয়ে অনন্ত ৯০ বার চাবানো উচিত। ধীরে ধরে খাবার খেলে কম ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়। এর ফলে ওজনও কমে।

খাবার খাওয়ার সময় যখনই মনে হবে অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে তখনই খাওয়া বন্ধ করতে হবে। খাবার খাওয়া সময় গল্প, ফোন ও টিভির মনিটরে তাকিয়ে থাকা যাবে না। একবেলা ভারি খাবার খেলে অন্যবেলায় কম ক্যালোরি ও হালকা খাবার খাওয়া ভালো।

বিষয়:

ঈদে ঝটপট তৈরি করুন শাহী বোরহানি

আপডেটেড ৬ এপ্রিল, ২০২৪ ২০:৫৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঈদ মানেই আনন্দ ঈদ মানেই খুসি। সারা পৃথিবীর সকল মুসলিমদের কাছে এ দিনটি অনেক বৈশিষ্টমণ্ডিত। রমজান মাসে সারাদিন উপোশ করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যেমন সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য লাভ করেন তেমনি ঈদের দিন না খেয়ে থাকাকেও অনেকে ইসলামের দৃষ্টিতে সুচোখে দেখেন না।

আর বাঙালি মুসলমানদের ঈদ মানেই সকাল থেকে সন্ধ্যা খাবারের ফোয়ারা। সকালে মিষ্টান্ন, দুপুরে ভারি খাবার। সন্ধায় ঝাল খাবারসহ কত রকমরে পদ। পদের আলাপের যাওয়ার আগে এমন একটি পদ নিয়ে আলোচনা করব যে পদটি না থাকলে আসল পদটিই যেন পূর্ণতা পায় না। সে পদটির নাম বোরহারি। এটি একটি পানীয় যা কিনা খাবার হজম করতে সহায়তা করে।

পানীয়টির নামের উৎপত্তি অজানা। আরবি বুরহান শব্দ থেকে এসেছে শব্দটি যার অর্থ ‘প্রমাণ’। বিকল্পভাবে, এটি ফারসি শব্দ বোরানি থেকেও উদ্ভূত হতে পারে, যা দই এবং সবুজ শাক দিয়ে তৈরি একটি খাবারকে বোঝায়। সে হিসেবে আমরা অনায়াসে দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটাই নিতে পারি।

বাজারে হরেক রকমের নামিদামি বোরহানি পাওয়া গেলেও ভোজন রসিকরা কিন্তু সব সময় বাহিরের আশায় বসে থাকেন না। দেখা যায় যে যারা ভোজন রসিক তারা কিঞ্চিত রান্নাতেও পারদর্শি।

ঘরেই তৈরি করুন শাহী বোরহানি

পথমে আধা কাপ পানি সঙ্গে ৪ টেবিল চামচ পুদিনা পাতা, ১ টেবিল চামচ ধনেপাতা, কয়েকটি কাঁচামরিচ, ২ টেবিল চামচ চিনি, সামান্য লবণ ও আধা চা চামচ ছেঁচে নেওয়া আদা ব্লেন্ড করে নিন। একটু সময় নিয়ে ব্লেন্ড করে মিহি করুন। এরপর আড়াই কাপ টক দই, ১ চা চামচ বিট লবণ, ১ চা চামচ সাদা গোলমরিচের গুঁড়া, ১ চা চামচ টালা ধনিয়ার গুঁড়া, ১ চা চামচ টালা জিরার গুঁড়া ও ১ চা চামচ সরিষা বাটা দিয়ে আবার ব্লেন্ড করুন। ভালো করে সব মিশে গেলে গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন দারুণ স্বাদের বোরহানি। এই বোরহানি এক সপ্তাহ পর্যন্ত ফ্রিজে রেখে খাওয়া যাবে।

বিষয়:

ঈদে ইজি ফ্যাশনের নান্দনিক পাঞ্জাবি

ছবি: ইজি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পাঞ্জাবি হচ্ছে ঈদের নামাজের অন্যতম অনুষঙ্গ। পাঞ্জাবি ছাড়া ঈদের নামাজে যেন তৃপ্তিই পাওয়া যায় না। যার কারণে শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্টসহ বিভিন্ন পোষাকের পর পাঞ্জাবি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ঈদের জন্য পাঞ্জাবি শুধু গুরুত্বপূর্ণই না বরং অপরিহার্য। নতুন পাঞ্জাবি ছাড়া ঈদের আনন্দ যেন ধুসর ও বর্ণহীন। আর এক্ষেত্রে যদি ডিজাইন ও রঙের বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা থাকে তাহলে ঈদের আনন্দ হয়ে ওঠে আরেকটু বর্ণিল।

আনন্দপ্রিয় ও ফ্যাশন সচেতন তরুণদের ঈদকে আরও রঙিন করে তুলতে শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন হাউজ ইজি তাদের ঈদের সমাহারে মনকাড়া ডিজাইনের পাঞ্জাবির সমাহার ঘটিয়েছে। বাহারি ডিজাইনের বৈচিত্র্যময় নতুন নান্দনিক পোশাকে সবসময় নিজেদের ভিন্নতা তুলে ধরার লক্ষ্যে এবারের ঈদেও ইজি তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখেছে। রঙ ছড়িয়েছে নতুন ও মনকাড়া ডিজাইনের পাঞ্জাবিতে।

ফ্যাশন প্রিয়দের মন রাঙাতে আকর্ষণীয় সব পোশাক ও ফ্যাশন অনুষঙ্গে সেজেছে দেশীয় ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির। এই মুহূর্তেও সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘ইজি’র ফ্যাশন হাউসের আউটলেটগুলো।

ছেলেদের ফ্যাশনে এক্সক্লুসিভ কালেকশনে বরবারই একধাপ এগিয়ে ইজি। সব ধরনের ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে এবারের ঈদে বাহারি সব ডিজাইন কালেকশন রয়েছে ইজির শোরুমগুলোতে।

পাঞ্জাবির পাশাপাশি থাকছে নতুন-নতুন ডিজাইনের সব শার্ট। অসংখ্য নতুন ডিজাইনের টি-শার্ট, পলো-শার্ট, ফরমাল শার্ট, ক্যজুয়াল শার্ট, পাঞ্জাবি, কটি, কাবলি-পাঞ্জাবি ও প্যান্টসহ আরও অনেক কিছু।

ইজির স্বত্তাধিকারী ও ডিজাইনার তৌহিদ চৌধুরী বলেন, ‘শুধু মুনাফা নয় ক্রেতাদের সেবা দেওয়া মূল লক্ষ্য। ঢাকা ছাড়াও আমাদের বাংলাদেশের সকল জেলাতেই ইজির শোরুম রয়েছে।’

বিষয়:

ফেনীতে টপটেন মার্ট উদ্বোধন করলেন তামিম ইকবাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতকাহন প্রতিবেদক

দেশের অন্যতম লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড টপটেন মার্ট এবার চালু হলো ফেনীতে। গত ২৬ মার্চ শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ্ কায়সার সড়কে কাজী প্যালেসে নতুন শো রুমটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান। তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম তরুণ তারকা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

উদ্বোধন শেষে তামিম ইকবাল বলেন, আমি সত্যিকার অর্থে এই ধরনের ব্র্যান্ডের জিনস প্যান্ট টি-শাট পছন্দ করি। আশা করি তাদের এই প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হবে। ফেনী শহরে আসা হয়নি, এখানে এসে খুব ভালো লাগছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফেনী পৌরসভার মেয়র মো. নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী, টপটেন মার্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

টপটেন মার্টের এক ছাদের নিচে পাওয়া যাবে ছেলে ও মেয়েদের সম্পূর্ণ লাইফস্টাইল আউটফিট। ছেলেদের জন্য রয়েছে শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, স্যুট ব্লেজার জুতা ইত্যাদি। রয়েছে মেয়েদের শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি পিস, টপস, অর্নামেন্টস, জুতা ইত্যাদি। ব্রাইডাল কালেকশনে রয়েছে শেরওয়ানি ও লেহেঙ্গা ইত্যাদি। মেয়ে বা ছেলেদের পোশাকের লাক্সারি কালেকশন রয়েছে এখানে। সবার জন্য পছন্দের জুতাও কেনা যাবে এখানে।

টপটেন মার্টের যেকোনো স্টোর থেকে পণ্য কিনলে মিলবে ৭ শতাংশ ছাড়। তবে অনলাইন কেনা এই ছাড় মিলবে না। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এই ছাড় চলবে। তবে কসমেটিক্স ও প্রেসিডেন্ট ব্রান্ডের পণ্যে থাকছে না এই ছাড়।


দেশীয় আয়োজনে ঈদ আনন্দ

ছবি: বিশ্বরঙ
আপডেটেড ২৯ মার্চ, ২০২৪ ২০:২৮
মইনুল হক রোজ

ঈদ মানেই আনন্দ। এই আনন্দের বেশ বড় একটা অংশজুড়েই থাকে বাহারি নকশার নতুন পোশাক। তাই দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো ঈদকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের পছন্দের কথা বিবেচনায় রেখে আয়োজন করে থাকে নানা ডিজাইনের পোশাক ও আনুষঙ্গিক পণ্যের। সাতকাহনের ঈদ আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে রইল বেশ কিছু ক্রেতাপ্রিয় ফ্যাশন হাউসের ঈদ আয়োজনের খোঁজখবর।

ঈদ আয়োজনে বিশ্বরঙ

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ উৎসবের এই আনন্দের রঙে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে বরাবরের মতোই দেশীয় কাপড় ও উপকরণ ব্যবহার করে ‘বিশ্বরঙ’ এবারও ঈদুল ফিতরের আয়োজনে পোশাকে ট্রেন্ডি এবং ট্র্যাডিশনাল লুকের নান্দনিক উপস্থাপন করেছে। এবারের ঈদ আয়োজন সাজানো হয়েছে কালের আবর্তে প্রায় হারিয়ে যাওয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের হাতে তৈরি বাহারি রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ব্যবহৃত নকশার অনুপ্রেরণায়।

দেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে আরামদায়ক কাপড় যেমন- সুতি, ধুপিয়ান সিল্ক, তসর সিল্ক, লিলেন, কাতান, জ্যাকার্ড কাপড় ব্যবহার করেছে, রঙের ব্যবহারেও কনট্রাস্ট কালারের পাশাপাশি রঙেও ম্যাচিউরড টোনের পরিমিত ব্যবহার লক্ষণীয়। কাজের মাধ্যম হিসেবে রয়েছে স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লক, ডিজিটাল প্রিন্ট, মেশিন এমব্রয়ডারি, কম্পিউটার এমব্রয়ডারি, হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, কারচুপি, নকশিকাঁথা, জারদৌসীসহ মিশ্র মাধ্যমের নিজস্ব বিভিন্ন কৌশল।

এবারের ঈদ আয়োজনে ‘বিশ্বরঙ’ প্রতিটি শ্রেণির মানুষের জন্যই ভিন্ন কিছু যোগ করেছে। বাচ্চাদের জন্য এনেছে নান্দনিক সব কালেকশন, সেই সঙ্গে প্রাপ্ত বয়স্ক এবং নারীদের জন্য আছে ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের ছোঁয়া।

‘বিশ্বরঙ’-এর সব শোরুম ছাড়াও অনলাইন শপে ঈদ আয়োজনের পোশাক পাওয়া যাবে।

এই ঈদে আজরাখ প্রিন্টে সাদাকালো

সাদাকালো প্রতিবছরই যেকোনো উৎসবে তার ক্রেতা সুহৃদের জন্য ভিন্ন মাত্রায় বিষয়ভিত্তিক নতুন নতুন কাজ নিয়ে আসে। এ বছরও তার ভিন্নতা হয়নি। সাদাকালো এবার সিন্ধি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক ‘আজরাখ’ প্রিন্ট নিয়ে কাজ করেছে।

ছবি: সাদাকালো

আজরাখ প্রিন্ট হলো এক ধরনের টেক্সটাইল ব্লকপ্রিন্টিং, যা ভারতের কচ্ছ জেলার আজরাখপুর গ্রামে পাওয়া যায়। এই প্রিন্টটি সাধারণত একটি জাল বা ওয়েব-লাইক ডিজাইন হয়। আজরাখ প্রিন্ট তৈরি করতে প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে বিভিন্ন ধাপে ডাইং এবং রেজিস্ট প্রিন্টিং করা হয়।

এবার সাদাকালো এই প্রিন্টে ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করতে স্ক্রিন, ব্লক, এমব্রয়ডারিসহ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, মেয়েদের টপস্, কুর্তিসহ শিশুদের পোশাক তৈরি করেছে।

দেশালের ঈদ কালেকশন

বাংলাদেশের প্রকৃতি ও দেশীয় সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত নানা রকম রং ও মোটিফের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে দেশালের এবারের ঈদ কালেকশন। বছরের সবচেয়ে বড় উৎসবকে সামনে রেখে এই কালেকশনে ব্র্যান্ডটি নিয়ে এসেছে ৪০০-রও বেশি ডিজাইন।

এবারের ঈদের সময়ের গরম আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে দেশালের ঈদ কালেকশনে প্রাধান্য পেয়েছে সুতির পোশাক। এ ছাড়া ঈদের আভিজাত্য ও জাঁকজমক উৎসবের বিষয়টি মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে সিল্ক শাড়ি, এন্ডি সিল্কের শাড়ি ও পাঞ্জাবি। ডিজাইনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখায় হয়েছে তরুণদের পছন্দের বিষয়টি, তৈরি করা হয়েছে ডিজিটাল প্রিন্টের বিভিন্ন কালেকশন।

ছবি: দেশাল

তবে পরিবারের সব বয়সি নারী-পুরুষের জন্যই বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক আছে এবারের কালেকশনে। কটন-ভেজিটেবল ডাই-হ্যান্ড অ্যাম্ব্রডারি শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, টপস্, পঞ্চ, টু পিস, কাফতান, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, ছোটদের ফ্রক, পঞ্চ, পাঞ্জাবি, ফতুয়া মিলিয়ে আছে চার শতাধিকেরও বেশি ডিজাইন।

দেশালের প্রতিটি কালেকশনের মতোই এবারও ডিজাইনের ক্ষেত্রে দেশীয় মোটিফ প্রাধান্য পেয়েছে। সারা দেশজুড়ে দেশালের ১২টি আউটলেটে পাওয়া যাচ্ছে নতুন এই কালেকশন। এ ছাড়া দেশাল অনলাইনে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সহজেই পণ্য অর্ডার করতে পারবেন ক্রেতারা।

ইজির ঈদ আয়োজন

পাঞ্জাবি হচ্ছে ঈদের নামাজের অন্যতম অনুষঙ্গ। আনন্দপ্রিয় ও ফ্যাশন সচেতন তরুণদের ঈদকে আরও রঙিন করে তুলতে জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউস ইজি তাদের ঈদের সমাহারে মনকাড়া ডিজাইনের পাঞ্জাবির সমাহার ঘটিয়েছে। বাহারি ডিজাইনের বৈচিত্র্যময় নতুন নান্দনিক পোশাকে সব সময় নিজেদের ভিন্নতা তুলে ধরার লক্ষ্যে এবারের ঈদেও ইজি তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখে রং ছড়িয়েছে নতুন ও মনকাড়া ডিজাইনের পাঞ্জাবিতে।

ছেলেদের ফ্যাশনে এক্সক্লুসিভ কালেকশনে বরবারই এক ধাপ এগিয়ে ইজি। তারই ধারবাহিকতায় ঈদের সমাহারে মনকাড়া ডিজাইনের শার্টের সন্নিবেশ ঘটিয়েছে তারা। বাহারি ডিজাইনের বৈচিত্র্যময় নতুন নান্দনিক পোশাকে সব সময় নিজেদের ভিন্নতা তুলে ধরার লক্ষ্যে এবারের ঈদেও ইজি তাদের স্বকীয়তা বজায় রেখে রং ছড়িয়েছে নতুন ও মনকাড়া ডিজাইনের শার্টে।

ছবি: ইজি

সব ধরনের ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে এবারের ঈদে বাহারি সব ডিজাইন কালেকশন রয়েছে ইজি শোরুমগুলোতে। পাঞ্জাবি-শার্টের পাশাপাশি থাকছে নতুন ডিজাইনের টি-শার্ট, পলো শার্ট, ফরমাল শার্ট, ক্যজুয়াল শার্ট, কটি, কাবলি পাঞ্জাবি, প্যান্ট ইত্যাদি।

ইজির স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার তৌহিদ চৌধুরী বলেন, শুধু মুনাফা নয় কাস্টমারদের সেবা দেওয়া মূল লক্ষ্য। ঢাকা ছাড়াও বাংলাদেশের সব জেলাতেই ইজির শো-রুম রয়েছে এবং সবগুলোতেই ঈদের সব কালেকশন পাওয়া যাবে।

আর্টিজ্যানের এক্সক্লুসিভ ঈদ কালেকশন

আসছে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ফ্যাশন ব্র্যান্ড আর্টিজ্যান এনেছে এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের পাঞ্জাবি, শার্ট, পলো শার্ট ও টি-শার্ট। এ সময়ের আবহাওয়া উপযোগী কালারফুল ডিজাইনের এসব কালেকশন তৈরি করা হয়েছে শতভাগ সুতিসহ আরামদায়ক কাপড়ে। কাটিং ও প্যাটার্নে আনা হয়েছে বৈচিত্র্য।

ছবি: আর্টিজ্যানে

ফ্যাশন ডিজাইনার ও আর্টিজ্যানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হোসাইন বলেন, এবারের ঈদ উদযাপন হবে বসন্তের শেষ দিকে। এর পরই গ্রীষ্মের শুরু। তাই সবদিক বিবেচনা করেই এবারের ঈদ পোশাকের ডিজাইন, কালার ও কাপড় নির্বাচন করা হয়েছে। আর্টিজ্যানের এসব পোশাক কেনা যাবে পাইকারি ও খুচরা। ক্রেতাদের জন্য আর্টিজ্যানের আছে বেশ কয়েকটি শোরুম।

ঈদে বালুচর-এর পাঞ্জাবি

বালুচর ফ্যাশন হাউস ঈদের জন্য নিয়ে এনেছে নতুন নতুন ডিজাইনের নান্দনিক সব পাঞ্জাবি, কুর্তা ও কটি। সুতিসহ আরামদায়ক কাপড়ে তৈরি এসব পাঞ্জাবি ও কুর্তার ডিজাইনে আছে তারুণ্যের আমেজ। বালুচর কাপড়ে রয়েছে সুতি, জাকুয়ার্ড, চিকেন কারী, রিমি কটন, শাহি সিল্ক, চিকুয়েন্স, ব্যাম সিল্ক, ভয়েল, এমব্রয়ডারি, প্রিন্ট, হাতের কাজসহ নানা মাধ্যমে। রঙেও আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। এ ছাড়া কাটিংয়েও আছে নতুনত্ব।

ছবি: বালুচর

বালুচর ফ্যাশন হাউসের সঞ্চালক শাহিন চৌধুরী বলেন, এই ঈদে যেহেতু অনেক গরম থাকবে তাই ছেলেদের পাঞ্জাবিতে কটনের মধ্যেই হালকা কালারের রং নির্বাচন করেছি, এর পাশাপাশি ডিজাইনের ক্ষেত্রে সিম্পল কাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ঈদে প্রিন্টের দাপট কিছুটা মলিন হবে, এক রঙের কাপড়ে নতুনত্ব আসবে, থাকবে কাটিং আর প্যাটার্নে ভেরিয়েশন, সেমি লং প্যাটার্ন তার জায়গা ধরে রাখবে, ফিউশনধর্মী পাঞ্জাবিতেও থাকবে ডিজাইনে নতুনত্ব।

নতুন ডিজাইনের নান্দনিক সব পাঞ্জাবি কেনা যাবে খুচরা ও পাইকারি ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেটের নিচতলা ও তৃতীয় তলার বালুচরের শোরুম থেকে।

বার্ডস আইয়ে ঈদ পাঞ্জাবি সমাহার

পাঞ্জাবিপ্রিয় মানুষের রুচি ও বৈচিত্র্য বিবেচনা করে বাহারি রঙের নান্দনিক ডিজাইনের পাঞ্জাবির সমাহার নিয়ে এসেছে ফ্যাশন হাউস বার্ডস আই। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ফ্যাশন হাউসটি তাদের শোরুমে এনেছে বিভিন্ন মোটিফের পাঞ্জাবি। এ ক্ষেত্রে তারা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ফ্যাশনেবল তরুণদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়েছে। আর পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে আরামদায়ক কাপড়কেই প্রাধান্য দিয়েছে বার্ডস আই।

ছবি: বার্ডস আই

ঈদ উপলক্ষে তাদের প্রতিটি আউটলেটেই নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাঞ্জাবি ছাড়াও তাদের কালেকশনে আরও রয়েছে বাহারি ডিজাইনের সব টি-শার্ট, পলো টি শার্ট, পাঞ্জাবি, ক্যাজুয়াল শার্ট ইত্যাদি। চায়না, ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশি কাপড়ের তৈরি শত শত ডিজাইনের এসব পোশাক সারা দেশের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় চলছে।

কারুপল্লীতে ঈদ সমাহার

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র কারুপল্লী এনেছে ঈদের বর্ণিল পোশাক। নিজস্ব ডিজাইনের এসব পোশাকের রঙে ও নকশায় রয়েছে ঈদের নান্দনিক আমেজ। সুতিসহ আরামদায়ক কাপড়ে তৈরি করা হয়েছে এসব পোশাক। এর মধ্যে আছে তাঁতের সুতি শাড়ি, জামদানি শাড়ি, বেনারসি শাড়ি, থ্রি-পিস, ফতুয়া, শার্ট, পাঞ্জাবি এবং শিশুদের পোশাক।

ছবি: কারুপল্লী

বিভিন্ন প্রিন্টসহ নানা ধরনের হাতের কাজের মাধ্যমে নকশা করা এসব পোশাক। এ ছাড়া হস্ত ও কুটির শিল্পের প্রতিষ্ঠান করুপল্লীতে রয়েছে গ্রামীণ নারীদের তৈরি দেশীয় রকমারি গহনা, উপহার ও নানা ধরনের হস্তশিল্প সামগ্রী। কারুপল্লীর এসব পোশাক ও পণ্যের দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালেই রয়েছে।

ঈদে মেঘ

ফ্যাশন হাউস মেঘ এবারও ঈদ উপলক্ষে এনেছে বড় ও ছোটদের রকমারি পোশাক। এসব পোশাকের মধ্যে আছে ছেলেদের পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ, আনস্টিচ ও ছোটদের ফতুয়া, পাঞ্জাবি, ফ্রক ও টি-শার্ট।

ছবি: মেঘ

এ ছাড়া পরিবারের সবার ও কাপলদের জন্য রয়েছে একই রং ও নকশার পোশাক। খুচরার পাশাপাশি পাইকারি কেনা যাবে এসব পোশাক। ঘরে বসে অনলাইনেও কেনা যাবে।


ঈদে মজাদার দুই পদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাজমা আক্তার

ঈদের দিনে অতিথি আপ্যায়নে কিংবা পরিবারের সদস্যদের জন্য নানা পদের রান্নার আয়োজন থাকে। ঈদের দিনের সেই আয়োজনে যুক্ত হতে পারে দুটি পদ। আর মজাদার এই দুটি পদের রেসিপি দিয়েছেন রন্ধন শিল্পী নাজমা আক্তার

শাহি টুকরা

উপকরণ: পাউরুটি: ৫ পিস (সাইড কেটে তিন কোনা বা যেকোনো শেপে কেটে নিতে হবে), দুধ হাফ কাপ, জাফরান ১-৪ চা-চামচ, ঘি হাফ কাপ, কাঠবাদাম ২ টেবিল চামচ, কাজুবাদাম ২ টেবিল চামচ, এলাচি গুঁড়া ১ চিমটি, পানি ১ কাপ, চিনি হাফ কাপ, গরুর দুধ হাফ লিটার, কনডেন্স মিল্ক হাফ কাপ, গুঁড়া দুধ হাফ কাপ।

প্রস্তুত প্রণালি:

প্রথম এক চা-চামচ ঘি প্যানে গরম করে বাদামগুলো হালকা ভেজে তুলে রাখতে হবে। বেশি ভাজা যাবে না। এরপর হাফকাপ দুধে জাফরান ভিজিয়ে সাইডে রেখে বাকি হাফ লিটার দুধ একটা প্যানে জাল করতে হবে। বারবার নেড়ে মিডিয়াম আঁচে জ্বাল করতে হবে যেন সর না পরে। দুধ একটু ঘন হয়ে আসলে তাতে দুধে ভেজানো জাফরান দিতে হবে। (এখানে জাফরান বা কেওড়া জল যেকোনো একটা দেওয়া যাবে। দুটো একসঙ্গে দেওয়া যাবে না। এরপর একে একে গুঁড়া দুধ, কনডেন্স মিল্ক, এলাচ গুঁড়া, ভেজে রাখা বাদাম কিছু সাজানোর জন্য রেখে বাকি সব দিয়ে ভালো করে জ্বাল করে মালাই তৈরি করে নামিয়ে ঠাণ্ডা করতে হবে। এরপর আরেকটা পাত্রে ১ কাপ পানি হাফ কাপ চিনি জ্বাল করে পাতলা সিরা তৈরি করে নামিয়ে রাখতে হবে। এরপর আবার একটা পাত্রে ঘি গরম করে তাতে কেটে রাখা পাউরুটির টুকরোগুলো ভেজে নিতে হবে গোল্ডেন রং করে। এরপর ভেজে রাখা পাউরুটির টুকরোগুলো হালকা গরম চিনির সিরায় ৩০ সেকেন্ড ডুবিয়ে উঠিয়ে সার্ভিং ডিশে নিয়ে তার ওপর আগে থেকে তৈরি করা ঠাণ্ডা মালাই দিয়ে তার ওপর বাকি বাদাম কুঁচি দিয়ে সাজিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে দারুণ স্বাদের শাহি টুকরা।

ক্যারামেল পুডিং

উপকরণ: গরুর দুধ ১ কেজি, গুঁড়া দুধ হাফ কাপ, ডিম ৪টি, চিনি হাফ কাপ, ভেনিলা এসেন্স ১-৪ চা-চামচ, ক্যারামেল-এর জন্য চিনি ৪ টেবিল চামচ, পানি ২ টেবিল চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি:

প্রথমে চুলায় একটা পাত্র বসিয়ে তাতে লিকুইড দুধ, গুঁড়া দুধ ও চিনি নিয়ে জাল করে নিতে হবে। ভালো করে নেড়ে জ্বাল করে শুকিয়ে ৩ কাপ করে নিতে হবে। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা হতে রেখে অন্য একটি পাত্রে ৪ টেবিল চামচ চিনি, দুই টেবিল চামচ পানি দিয়ে ক্যারামেল করতে হবে। চুলায় মিডিয়াম আঁচে বসিয়ে নাড়াচাড়া করা যাবে না। যখন হালকা রং আসতে শুরু করবে তখন পাত্রের হাতল ধরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ক্যারামেল তৈরি করে নিতে হবে। এরপর সম্পূর্ণ চিনি গলে যখন একটা সুন্দর রং আসবে চুলা বন্ধ করে অনবরত নেড়ে ক্যারামেল তৈরি করতে হবে, না হলে চুলার জ্বাল অন তাকলে ক্যারামেল পুরে তেঁতো হয়ে যাবে।

এরপর যে পাত্রে পুডিং তৈরি করতে হবে সেই পাত্রে ক্যারামেল ঢেলে ঠাণ্ডা করে সেট করে নিতে হবে। এরপর ডিমগুলো ফেটিয়ে জ্বাল করা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে দুধ যেন গরম না থাকে। একদম ঠাণ্ডা করে ডিম মেশাতে হবে। তার সঙ্গে সামান্য ভেনিলা এসেন্স মিশিয়ে যে পাত্রে ক্যারামেল সেট করা আছে, সেই পাত্রের ওপর চালনি বসিয়ে দুধ, ডিমের মিশ্রণ ঢেলে ঢাকনা লাগিয়ে চুলায় একটি পাত্র বসিয়ে তাতে একটা কিচেন টাওয়াল দিয়ে তার ওপর পুডিংয়ের পাত্র বসিয়ে দিতে হবে যেন ভাব দেওয়ার সময় পাত্রটা নড়ে না যায়, তাহলে পুডিংয়ের ভেতর ভালো হবে না। এরপর পানি এমনভাবে দিতে হবে, যাতে পুডিংয়ের পাত্র একদম ডুবে না যায় আবার পানি যেন একদম তলায় না থাকে। ২৫-৩০ মিনিট জ্বাল করে নরমাল টেম্পারেচারে ঠাণ্ডা করে ২-৩ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে মোল্ড আউট করে নিতে হবে। তৈরি হয়ে যাবে দারুণ স্বাদের পারফেক্ট ক্যারামেল পুডিং।

(গরম পুডিং কখনোই মোল্ড আউট করতে নেই। ভালো করে ঠাণ্ডা করে তারপর মোল্ড আউট করতে হবে।)

বিষয়:

সুন্দোরা বিউটিতে ঈদের অফার

আপডেটেড ২৮ মার্চ, ২০২৪ ১৭:৪৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঈদের কেনাকাটায় এখন ব্যস্ত সবাই। মার্কেট ঘুরে কিংবা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমে এখন চলছে ঈদের কেনাকাটার ধুম। ঠিক এই সময়ে ‘সুন্দোরা’ নিয়ে এসেছে ঈদে বিশাল মূল্যছাড়! সুন্দোরা বিউটিতে পারফিউম, স্ক্রীন কেয়ার, মেকআপ এবং ক্যান্ডেলের উপর ৬০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাওয়া যাচ্ছে। সেইসঙ্গে সুন্দোরা কিডস্‌ জোনে খেলনা এবং আরও অন্যান্য আইটেমের উপর সর্বোচ্চ ৬০% ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। এই আকর্ষণীয় অফারটি চলবে চাঁদ রাত পর্যন্ত। সুন্দোরা হলো বিউটি প্রোডাক্ট, বাচ্চাদের প্রোডাক্ট এবং বিভিন্ন ধরণের ১00টি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল পার্টনার। ‘সুন্দোরা’- এর বনানী, গুলশান এবং ধানমন্ডি ষ্টোরে আপনাদের স্বাগতম জানাচ্ছে। অনলাইনে পণ্য পেতে sundora.com.bd এ লগইন করুন এবং ঈদের কেনাকাটায় মেতে ওঠুন।


ফ্যাশন হাউজ ভিভা ক্রিয়শন্সের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আপডেটেড ২৪ মার্চ, ২০২৪ ২১:২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে সম্প্রতি উদযাপিত হলো ফ্যাশন হাউজ 'ভিভা ক্রিয়শন্স' এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর গুলশান এভিনিউতে অবস্থিত ফ্যাশন হাউজটির নিজস্ব কার্যালয়ে এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী, ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আলী আজম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) কামরুল আহসান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার)।

অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য অলিলা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভিভা ক্রিয়শন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এবং অলিলা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ভিভা ক্রিয়শন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিনা নাহিদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভিভা ক্রিয়েশন্সের বৈচিত্র্যময়, লাক্সারী ও রুচিশীল সংগ্রহ দেখে আমি মুগ্ধ। বর্তমানে রুচি ও মননে বাংলাদেশের মানুষের পোশাক ও সাজসজ্জা চোখে পড়ার মতো। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি খুব অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে দেখে ভালো লাগছে। প্রতিষ্ঠানটির আরও সমৃদ্ধি কামনা করছি।'

অলিলা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও ভিভা ক্রিয়েশন্সের ডিরেক্টর জিল্লুর রহমান এমপি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গ্রাহকদের মুগ্ধতা এবং প্রশংসায় আমরা অনুপ্রাণিত। সাশ্রয়ী মূল্যে একই ছাদের নিচে ভারতীয় উপমহাদেশের ৩০০ ডিজাইনারের কালেকশন ক্রেতাদের হাতের নাগালে এনেছে ভিভা ক্রিয়শন্স। আগামী দিনে আমাদের কালেকশন আরও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।'

ভারতীয় উপমহাদেশের অত্যাধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী বিয়ের সব কালেকশন নিয়ে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে যাত্রা শুরু করে শপিংমল ভিভা ক্রিয়েশন্স।


ওয়েস্টার্ন-ফিউশন ঈদ আয়োজন

ছবি: ‘ট্রেন্ডজ’
আপডেটেড ২২ মার্চ, ২০২৪ ১৫:৩৯
রোজ হক

দরজায় কড়া নাড়ছে আসন্ন ঈদুল উল ফিতর। এরই মধ্যে ওয়েস্টার্ন-ফিউশন ঘরানার দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো তাদের ঈদ আয়োজন সম্পন্ন করেছে। আজকে রইল তেমনই তিনটি ব্র্যান্ডের ঈদ আয়োজনের খোঁজখবর।

ঈদে ফ্যাশনে ট্রেন্ডজ

সময় উপযোগী সব ফ্যাশনেবল কালেকশন নিয়ে কাজ করে থাকে দেশের অন্যতম ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘ট্রেন্ডজ’। তারুণ্যের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে এবারের রমজানের ঈদেও ‘ট্রেন্ডজ’ চলতি আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে ডিজাইনগুলো করেছে তাদের এবারের ঈদ কালেকশনে। নারী ও পুরুষের জন্য তৈরি করা এসব পোশাকের রং আর ডিজাইনের ক্ষেত্রে বেছে নেওয়া হয়েছে চলতি সময়টাকে।

এবারের ঈদে ফ্যাশন সচেতন ছেলেদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি, ফরমাল শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্ট, টি-শার্ট, পলো শার্ট, টুইল ও ডেনিম প্যান্ট। আর অন্যদিকে নারীদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় ফিউশন লেডিস টপস, ফতুয়া, লেডিস শার্ট, টি-শার্ট এবং ফরমাল ও ডেনিম প্যান্ট। ছেলেদের ফরমাল শার্ট ও প্যান্টগুলো করা হয়েছে করপোরেট অফিস এবং বিভিন্ন পার্টিতে যাওয়ার উপযোগী করে। আর ক্যাজুয়াল পোশাকগুলো করা হয়েছে ফ্যাশন ও স্টাইলের বিষয়টিকে মাথায় রেখেই। একই সঙ্গে টি-শার্টগুলোতে রাখা হয়েছে আধুনিক প্রিন্ট, টুইল এবং ডেনিম প্যান্টগুলোতে রয়েছে আকর্ষণীয় ফিট ও ওয়াশ শেড।

‘ট্রেন্ডজ’-এ এবার ঈদে পাওয়া যাবে ছেলেদের বাহারি রঙের এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের পাঞ্জাবি। সময় উপযোগী এসব পাঞ্জাবির ডিজাইন বর্তমানের ট্রেন্ডটাকে মাথায় রেখেই করা হয়েছে। পাঞ্জাবি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নতমানের হ্যান্ডলুম সিল্ক, কটন সিল্কসহ কটন কাপড়। সব মিলিয়ে অন্যবারের চাইতে এবারের ঈদে ‘ট্রেন্ডজ’-এর পোশাকগুলো অনেকটা আলাদা হয়েছে বলা যায়। ফিট, ডিজাইন, কাপড়ের ধরন- সব ক্ষেত্রেই রয়েছে নতুনত্বের ছোঁয়া।

অন্যদিকে নারীদের পোশাকগুলোর ক্ষেত্রে রঙের দিকটি খুব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়েছে। বর্তমান আবহাওয়ার সঙ্গে মিল রেখেই এসব পোশাকের রং নির্বাচন করা হয়েছে। সাদা, লাল, মেরুন, কালো, গোলাপিসহ বিভিন্ন রঙের পোশাক রয়েছে এবারের আয়োজনে। সব পোশাকে রয়েছে হাতের কারচুপি, মেশিন এমব্রয়ডারির কাজসহ ভিন্নধর্মী কিছু কারুকাজের উপস্থিতি।

‘ট্রেন্ডজ’-এর সব ঈদ কালেকশন পাওয়া যাবে বসুন্ধরা সিটি ও উত্তরা-১-এর শোরুমগুলোয়।

সারা’র বর্ণিল আয়োজন

বরাবরের মতোই প্রতিবছর ঈদকে সামনে রেখে বাহারি ডিজাইনের পোশাকের আয়োজন থাকে দেশের অন্যতম ফ্যাশন লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘সারা’তে। ‘উৎসবের আলিঙ্গন’ থিমে ‘সারা লাইফস্টাইল’-এর এবারের ঈদুল ফিতর কালেকশন পাওয়া যাবে ‘সারা’-এর ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের সব আউটলেট এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।

ছবি: ‘সারা’

‘সারা’র এবারের ঈদ আয়োজনের পোশাকের ডিজাইনে স্ক্রিন প্রিন্ট, সাবলিমেশন প্রিন্ট, কারচুপি, এমব্রয়ডারি, অল ওভার প্রিন্ট থাকছে। পোশাকের মোটিফ ও নকশায় রাখা হয়েছে উৎসবের আমেজ। এ ছাড়া এবস্ট্র্যাক্ট, ফ্লোরাল, ট্র্যাডিশনাল ও জিওমেট্রিক বিভিন্ন মোটিফ রয়েছে এসব পোশাকের ডিজাইনে। আনারকলি, প্রিন্সেস লাইন, ডাবল লেয়ার, এ লাইন, সিমেট্রিক, এসিমেট্রিক বিভিন্ন কাজ থাকছে পোশাকগুলোর প্যাটার্নে। এসব পোশাকে ফ্যাব্রিক হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে জর্জেট, কটন, ভিসকস, ডবি সিল্ক, ক্রেপ জর্জেট, নিট, ডেনিম, জ্যাকার্ড কটন ইত্যাদি।

ঈদুল ফিতরের এবারের আয়োজনে মেয়েদের জন্য ‘সারা লাইফস্টাইল’ এনেছে শাড়ি, থ্রি পিস, ফ্যাশন টপস, আনারকলি থ্রি পিস, কুর্তি, কো অর্ডস, ডেনিম প্যান্ট, শ্রাগ, ওয়ান পিস, টু পিস, স্কার্ফ, সারারা, কাফতান, টি-শার্ট। ‘সারা’র এবারের আয়োজনে ছেলেদের জন্য থাকছে এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবি, ক্যাজুয়াল শার্ট, ফরমাল শার্ট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, ডেনিম প্যান্ট, চিনো প্যান্ট, কার্গো প্যান্ট, কোটি, পায়জামা ইত্যাদি।

‘সারা’র ঈদ আয়োজনে গুণগত মান ও ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আকার, ডিজাইন ও প্যাটার্নের ভিন্নতার দিক বিবেচনা করে এসব পোশাকের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্রেতারা এসব পোশাক পেয়ে যাবেন ২৫০ টাকা থেকে ৯,৯৯০ টাকার মধ্যে। পাশাপাশি এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবি ও শাড়ি থাকছে এবারের ‘সারা’র ঈদের কালেকশনের অন্যতম আকর্ষণ।

মেয়ে শিশুদের জন্য থাকছে টি-শার্ট, পার্টি ফ্রক, কটন ফ্রক, থ্রি পিস, ফ্যাশন টপস, টু পিস, লেহেঙ্গা। এ ছাড়া ছেলে শিশুদের জন্য থাকছে সিঙ্গেল শার্ট, ফ্যাশনেবল শার্ট-প্যান্ট সেট, পাঞ্জাবি, পায়জামা, ডেনিম প্যান্ট, নিট প্যান্ট, টি-শার্ট, ইনফ্যান্ট সেট, নিউ বর্ন সেট, ইনফ্যান্ট পাঞ্জাবি সেট, পলো শার্ট ইত্যাদি।

এ ছাড়া ‘সারা’র এবার ঈদের বিশেষ আয়োজনের মধ্যে থাকছে ফুল ফ্যামিলি একই ডিজাইনের পোশাকের সংগ্রহ (বাবা-ছেলে-মা-মেয়ে)। তা ছাড়া কাপলদের জন্য থাকছে একই ডিজাইনের বিভিন্ন পোশাকের আয়োজন।

তাভাস এন্ড ডিমান্ড

‘তাভাস এন্ড ডিমান্ড’ লাইফস্টাইলও এবার ঈদের সংগ্রহে নিয়ে এসেছে সব বয়সীদের জন্য আকর্ষণীয় ডিজাইনের বিভিন্ন পোশাকের আয়োজন।

এই ফ্যাশন হাউস দুটির ঈদ কালেকশনের এবারের থিম সমুদ্র এবং রোদ্রোজ্জ্বল আবহ থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া। স্ক্রিন প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট, কারচুপি, এমব্রয়ডারির কাজ, জিওমেট্রিক, ট্র্যাডিশনাল, ফ্লোরাল এমন অনেক কিছুই থাকছে পোশাকের মোটিফ হিসেবে। এ লাইন, সিমেট্রিক, এসিমেট্রিক নিয়ে বিভিন্ন কাজ থাকছে পোশাকগুলোর প্যাটার্নে। এ ছাড়া কালারের ক্ষেত্রে ভাইব্রেন্ট রাখা হয়েছে এবারের ঈদ কালেকশনে।

ছবি: ‘তাভাস এন্ড ডিমান্ড’

মেয়েদের জন্য ‘তাভাস’ এনেছে সিঙ্গেল পিস কামিজ, লন থ্রি পিস, আকর্ষণীয় পার্টি থ্রি পিস, এথনিক কুর্তি, ফ্যাশন টপস, কাফতান ইত্যাদি।

‘তাভাস এন্ড ডিমান্ড’ এবারের আয়োজনে ছেলেদের জন্য থাকছে পাঞ্জাবি, কাবলি সেট, সিঙ্গেল পিস কাবলি, ক্যাজুয়াল শার্ট, ফরমাল শার্ট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, ফতুয়া, কাতুয়া, ডেনিম প্যান্ট, চিনো প্যান্ট, কার্গো প্যান্ট, পায়জামা ইত্যাদি। প্রকৃতি ও ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সুতিসহ আরামদায়ক কাপড়ে তৈরি এসব পোশাকের কাটিং ও প্যাটার্নে রয়েছে বৈচিত্র্য। এসব পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে কটন, ভিসকস, শার্টিন, নেট, ডেনিম ও টুইল ফ্যাব্রিক্স, জ্যাকার্ড কটন, ডবি কটন, জর্জেট, সিল্ক ইত্যাদি। এ ছাড়া এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবি রয়েছে ঈদ কালেকশনের মূল আকর্ষণ হিসেবে।

শুধু বড়দের জন্য নয় ‘তাভাস এন্ড ডিমান্ড’ ঈদ আয়োজনে রয়েছে ছেলে শিশুদের শর্ট স্লিভ, ফুল স্লিভ শার্ট, ফতুয়া, লং প্যান্ট, কোয়ার্টার প্যান্টসহ ভাইব্রেন্ট কালারের পাঞ্জাবি। এর বাইরেও রয়েছে কাতুয়া, লং ও শর্ট স্লিভ শার্ট, পলো টি-শার্ট, ফ্যাশনেবল শার্ট-প্যান্ট সেট, বয়েজ কার্গো ইত্যাদি। থাকছে বাবা-ছেলের পাঞ্জাবি ও কাবলির মিনিমি।

‘তাভাস এন্ড ডিমান্ড’ এবার ঈদের বিশেষ আয়োজনের মধ্যে থাকছে ফুল ফ্যামিলি (বাবা-ছেলে-মা-মেয়ে) একই ডিজাইনের পোশাকের সংগ্রহ।

সারা বাংলাদেশে ‘তাভাস এন্ড ডিমান্ড’-এর আউটলেটে পেয়ে যাবেন সব ঈদ কালেকশন।

বিষয়:

দেশীয় আয়োজনে ঈদ আনন্দ

ছবি: অঞ্জন’স
আপডেটেড ২২ মার্চ, ২০২৪ ০২:২০
মইনুল হক রোজ

ঈদ মানেই আনন্দ। আর এই আনন্দের বেশ বড় একটা অংশ জুড়েই থাকে বাহারি নকশার নতুন পোশাক। আর তাই দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো ঈদকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের পছন্দের কথা বিবেচনায় রেখে আয়োজন করে থাকে নানা ডিজাইনের পোশাক ও আনুষঙ্গিক পণ্যের। সাতকাহনের ঈদ আয়োজনের প্রথম পর্বে রইল দেশীয় অন্যতম তিন শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন হাউসের ঈদ আয়োজনের খোঁজখবর।

অঞ্জন’স

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই উৎসব। আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসবের এই দিনটিকে আরও বেশি উৎসবমুখর ও আনন্দময় করতে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশীয় ফ্যাশন হাউস অঞ্জন’স নিয়ে এসেছে এক্সক্লুসিভ ঈদ কালেকশন-২০২৪। সব বয়সীদের জন্য এই আয়োজন সাজানো হয়েছে ট্রেন্ডি, স্টাইলিশ ও বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের পোশাক দিয়ে।

এবারের ঈদ কালেকশনে মেয়েদের জন্য রয়েছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ওড়না, টপস ও বিভিন্ন ধরনের জুয়েলারি, ছেলেদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি-পাজামা, শার্ট, ফতুয়া, টি-শার্ট ও কটি। শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি-পাজামা, শার্ট, সালোয়ার-কামিজ ও ফ্রক। এবারের ঈদ বসন্তের শেষ এবং গ্রীষ্মের শুরুতে; পোশাক ডিজাইন, রং নির্বাচন ও ফ্যাব্রিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

শাড়ি : রাজশাহী বলাকা সিল্ক, মসলিন, হাফসিল্ক, কটন সিল্ক, লিনেন কটন, টাঙ্গাইল কটন ও ভয়েল কাপড়ের শাড়িগুলোতে ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট ও এম্ব্রয়ডারি করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে এক্সক্লুসিভ শাড়িগুলোতে অলওভার এম্ব্রয়ডারি ও কারচুপি করা হয়েছে।

সালোয়ার-কামিজ, ওড়না: কটন, লিনেন কটন, জ্যাকার্ড কটন, রেয়ন কটন, সফট সিল্ক, ডুপিয়ান-সহ বিভিন্ন কাপড়ে মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ ও শট, লং ও মিডিয়াম লেন্থের টপস করা হয়েছে। কামিজ ও টপসগুলোতে সমসাময়িক ট্রেন্ড ও প্যাটার্ন বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। স্ক্রিন প্রিন্ট, এম্ব্রয়ডারি ও ডিজিটাল প্রিন্টের আনস্টিচ সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যাবে এবারের ঈদ আয়োজনে।

পাঞ্জাবি: সাদা, লাল, মেরুন, কালো, নীল, সবুজ, বাদামিসহ বিভিন্ন রঙের পাঞ্জাবি রয়েছে এবারের ঈদ কালেকশনে। কটন, জ্যাকার্ড কটন, এন্ডি কটন, রেয়ন কটন, ভয়েল-সহ বিভিন্ন কাপড়ের পাঞ্জাবিগুলোয় এমব্রয়ডারি, কারচুপি, ডিজিটাল প্রিন্ট ও স্ক্রিন প্রিন্ট করা হয়েছে। কলিদার কাট, রেগুলার ফিট ও স্লিম ফিট পাঞ্জাবি দিয়ে সাজানো হয়েছে ছেলেদের ঈদ কালেকশন। পাঞ্জাবি ছাড়াও কাতান, জ্যাকার্ড ডিজাইন ও ভারী কটন কাপড়ের কটি ও কটন কাপড়ে ফুল স্লিভ ও হাফ স্লিভ শার্ট ও ফতুয়া রয়েছে ঈদ কালেকশনে।

জুয়েলারি: সিলভার ও বেইজ মেটাল ব্যবহার করে পাথর এবং অন্যান্য বিডসের সমন্বয়ে নিজস্ব ডিজাইনে আধুনিক ও ঐতিহ্যমণ্ডিত নকশায় নেকলেস, চোকার, আংটি, কানের দুল, নাকফুল, চুড়িসহ বিভিন্ন ধরনের গয়না রয়েছে এবারের ঈদ কালেকশনে।

প্রতিবারের মতো এবারের ঈদ কালেকশনেও একই পরিবারের জন্য রয়েছে একই রঙের একই ডিজাইনে গ্রুপ পোশাক। অঞ্জন’সের সব আউটলেট ও অনলাইন স্টোরে ঈদ কালেকশনগুলো পাওয়া যাচ্ছে।

কে ক্র্যাফট

ঈদ আয়োজনের পোশাক নিয়ে হাজির হয়েছে কে ক্র্যাফট। ঈদের সকাল, বিকেল এবং সন্ধ্যায় কাঙ্ক্ষিত পোশাক নির্বাচনে ক্যাজুয়াল কিংবা এক্সক্লুসিভ সবই মিলবে এবার। এবং অবশ্যই হবে আবহাওয়া, পরিবেশ উপযোগী ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।

বিভিন্ন মোটিফের বিচিত্র ব্যবহার তুলে ধরা হয়েছে পোশাকে। ফ্লোরাল, জিওমেট্রিক, মুঘল, কাশ্মীরি, ইউক্রেনিয়ান, বেলারুশ ও ইজিপ্সিয়ানের বিভিন্ন মোটিফ অনুপ্রেরণায় এবারের সিরিজ পোশাক। এ ছাড়া ট্র্যাডিশনাল, ট্রাইবাল, ফোক, জামদানি, ওরিয়েন্টাল, আলাম, মিক্সড-সহ নানা মোটিফ ফুটিয়ে তুলতে হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি, কারচুপি, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট, সিকুইন ওয়ার্ক, ডিজিটাল প্রিন্ট এবং টাই-ডাই মিডিয়ার ব্যবহার হয়েছে।

কাট, প্যাটার্ন ও নকশার সমন্বয়ে করা পোশাকের জন্য ফ্যাব্রিক নির্বাচন করা হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও স্বস্তিতে থাকাকে প্রাধান্য দিয়ে। বৈচিত্র্যময় রং নির্বাচন করে থাকছে- কটন, জ্যাকার্ড কটন, জর্জেট, লিনেন, সিল্ক, হাফ সিল্ক, দুবাই সিল্ক, অরগানজা, ডুপিয়ন সিল্ক, মমো সিল্ক, সুইস কটন, ভিসকজ, নীব কটন, এলেক্স, টু-টোন, সাটিন ফ্যাব্রিক।

ছবি: কে ক্র্যাফট

মেয়েদের জন্য ট্র্যাডিশনাল, ক্ল্যাসিক, এথনিক, রেট্রো, ফিউশন, ইয়ক বেইজড, লং প্যাটার্ন-সহ বিভিন্ন প্যাটার্নের পোশাক সারিতে থাকছে- সালোয়ার-কামিজ, ডাবল লেয়ার্ড সালোয়ার কামিজ, লং-কুর্তি, রেগুলার কুর্তি, টপস্, ডাবল লেয়ার্ড কুর্তি, টিউনিক, কাফতান, প্যান্টসহ টপস-স্কার্ট, টপস-পালাজো সেট ও বিভিন্ন প্যাটার্নের প্যান্ট ।

এ ছাড়া ঈদকে সামনে রেখে কটন, সিল্ক, হাফ সিল্ক, মসলিন, খাদি মসলিন শাড়ির বৈচিত্র্যপূর্ণ ডিজাইনের একটি বড় আয়োজন থাকছে।
ছেলেদের জন্য রয়েছে পছন্দের ব্র্যান্ড কে ক্র্যাফটের রেগুলার ও ফিটেড পাঞ্জাবি। এ ছাড়া রয়েছে কাট বেইজড একরঙা পাঞ্জাবিও। এ ছাড়া পাওয়া যাবে রেগুলার ও স্লিম ফিট ক্যাজুয়াল শার্ট, এথনিক শার্ট, শেরওয়ানি, কটি, ফতুয়া, পলো শার্ট ও টি-শার্ট।

মেয়ে শিশুদের জন্য উৎসব ভিত্তিক পোশাকে থাকছে সালোওয়ার-কামিজ, ফ্রক, কুর্তি, টপস, কাফতান, লেহেঙ্গা সেট, টপস সেট, স্কার্ট, পার্টি ফ্রক, টপস-কটি সেট, পালাজো। ছোট ছেলেদের পোশাক আয়োজনে নানা রঙের পাঞ্জাবি, হাফহাতা কাট-এর শার্ট এবং ফতুয়া। শিশুদের পোশাকে প্যাটার্ন, ফ্যাব্রিক এবং রঙের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্যাটার্নে ভিন্নতা এবং রঙে উৎসবের আমেজ বহন করবে।

এ ছাড়া ছোট মেয়েরা, বোন অথবা মায়ের সঙ্গে মিলিয়ে পরার জন্য সালোওয়ার-কামিজ, কুর্তি এবং বাবা ও ছেলের জন্য পাঞ্জাবি, শার্ট ও ফতুয়া থাকবে বরাবরের মতো। এবারে যুগলদের জন্য থাকবে বিশেষ আয়োজন।

কে ক্র্যাফটের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, কুমিল্লার সব শো-রুম ছাড়াও অনলাইন শপে ঈদ আয়োজনের পোশাক পাওয়া যাবে।

রঙ বাংলাদেশ

বছরের সবচেয়ে বড় উৎসব রমজানের ঈদ। রোজা শুরুর আগে থেকেই আরম্ভ হয়ে গেছে উদযাপনের প্রস্তুতি। ঈদের আনন্দকে আরও বেশি উৎসবমুখর ও রঙিন করে তুলতে দেশের শীর্ষ সারির অন্যতম ফ্যাশন ব্র্যান্ড রঙ বাংলাদেশ প্রস্তুতি নিয়েছে ব্যাপক।

প্রতিবারের মতো এবারও থিমনির্ভর কালেকশন তৈরি করেছে রঙ বাংলাদেশ। এ বছরের মূল থিম ক্লাসিক্যাল ফোর এলিমেন্টস। আগুন, পানি, মাটি ও বাতাস গ্রিক মিথোলজি মতে এই চার উপাদানে গঠিত হয়েছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। মাটি, আগুন, পানি ও বাতাসের নানান রূপ-বৈচিত্র্যের চমৎকার বিন্যাস ঘটানো হয়েছে এই আয়োজনের রঙ ও নকশায়। এ ছাড়া পাখির রং, আলপনা ও জিওমেট্রিক থিমের সামগ্রী তৈরি করা হয়েছে এবারের ঈদে।

এবারের ঈদ কালেকশন তৈরি করা হয়েছে আরামদায়ক কাপড়ে। বিভিন্ন ধরনের কটন, স্লাব কটন, জ্যাকার্ড কটন, লিনেন, হাফসিল্ক, জর্জেট, ভিসকস ও বারফি কাপড় দিয়ে পোশাকগুলো করা হয়েছে। মূল রং হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মেরুন, নীল, ফিরোজা, আকাশী, ব্রাউন, লাল, লাইট অরেঞ্জ, কফি ও ডিপ সবুজ।

ছবি: রঙ বাংলাদেশ

পোশাকের নকশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নানা ভ্যালু অ্যাডেড মিডিয়ার ব্যবহারে। নানান আধুনিক ও ঐতিহ্যগত প্যাটার্নের কাট এন্ড সুইং ছাড়াও রয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি ও কারচুপি কাজের ব্যবহার।

শুধু বড়দের নয়- ঈদে ছোটদের পোশাককে সমান গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বাচ্চাদের আকর্ষণীয় পোশাক। রয়েছে পরিবারের সবার জন্য একই ধরনের ম্যাচিং পোশাক। ফলে বাবা-মা, মা-মেয়ে, বাবা-ছেলে এমনকি পরিবারের সবাই একই ডিজাইন বা থিমের পোশাক পরে উদযাপন করতে পারবে এবারের ঈদ উৎসব। এ ছাড়া আমাদের সাব ব্র্যান্ড হিসেবে থাকছে: তরুণ প্রজন্মের পছন্দকে মাথায় রেখে তৈরি করা ওয়েস্ট রঙের পোশাক, বয়োজ্যেষ্ঠদের আপন ভুবন শ্রদ্ধাঞ্জলি আর শিশুতোষ ফ্যাশনের আনন্দময় জগৎ রঙ জুনিয়রের ঈদ আয়োজন।

রঙ বাংলাদেশ-এর এবারের সংগ্রহে আছে:

মেয়েদের পোশাক: শাড়ি, থ্রি পিস, সিঙ্গেল কামিজ, কুর্তি, টিউনিক, টপস, ওড়না, রেডি ব্লাউজ, ব্লাউজপিস, আনস্টিচড থ্রি পিস, গাউন ইত্যাদি।

ছেলেদের পোশাক: পাঞ্জাবি, পায়জামা, কাতুয়া, কাবলি সেট, শার্ট, টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট, টুপি, উত্তরীয়, ইত্যাদি। ছোটদের পোশাক: থ্রি পিস, সিঙ্গেল কামিজ, ফ্রক, স্কার্ট টপস, পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট। আছে টিনএজারদের উপযোগী টপস। এ ছাড়া আরও রয়েছে জুয়েলারি, মেয়েদের ব্যাগ, পার্স, লেডিস জুতা, মানিব্যাগ, বেড কাভার, পিলো কাভার, টেবিল ম্যাট, ফ্লোর ম্যাট, শো-পিস, জুট আইটেম। উপহার সামগ্রী হিসেবে রয়েছে নানা ডিজাইনের ব্যাগ ও মগ।

রঙ বাংলাদেশ-এর ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সব আউটলেটেই পাওয়া যাবে এই ঈদ আয়োজনের সামগ্রী। এ ছাড়া ঈদ আয়োজনের সব পণ্যই পাবেন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে।


পাসপোর্ট ছাড়াই মিলবে সৌদি আরব ভ্রমণের সুযোগ, তবে হজ নয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

এখন থেকে পাসপোর্ট ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব ভ্রমণ করা যাবে। এ উপলক্ষে এরই মধ্যে ডিজিটাল নথি তৈরির ব্যবস্থা করেছে সৌদি সরকার। সম্প্রতি দেশটির সংবাদমাধ্যম অ্যারাবিয়ান বিজনেসের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

অ্যারাবিয়ান বিজনেস জানিয়েছে, রিয়াদের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি সম্মেলন লিপ ইয়ার ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্মেলনে আগত দর্শনার্থীদের সামনে ওই ডিজিটাল নথি ব্যবস্থা প্রদর্শন করেছে সৌদি আরবের পাসপোর্ট বিভাগ। অন্যদিকে উন্নত প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) গুরুত্ব তুলে ধরে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই ডিজিটাল ডকুমেন্ট সার্ভিস সৌদি নাগরিক, দর্শনার্থীসহ সুবিধাভোগীদের দেওয়া ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত সমাধানগুলোর একটি। এর আওতায় থাকা ব্যক্তিরা সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ সেবাগুলো পাবেন।

এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, একটি একক নম্বর দেওয়ার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সৌদি আরবে আগমন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা। এই ব্যবস্থা দর্শনার্থী বা ভ্রমণকারীদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘অ্যাবশার’ ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার দেবে। সেখান থেকে তারা নিজেদের ডিজিটাল পরিচয় বা একক নম্বর পাবেন।

এই ডিজিটাল পরিচয় ব্যক্তির মোবাইল ফোনে থাকবে। এর মাধ্যমে ভ্রমণকারী সৌদি আরবের কোন স্থানে রয়েছেন, তাও জানা যাবে। ফলে কোনো কাগুজে পাসপোর্টের প্রয়োজন হবে না।

তবে এ সুবিধা হজযাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। বরং এ বছর থেকে অনুমতি ছাড়া হজ পালন করলে কঠোর শাস্তির বিধান চালু করেছে সৌদি আরব। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানায়, এ বছর অনুমতি ছাড়া হজ করলে গুনতে হবে ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ লাখ টাকার সমান। এ ছাড়া যিনি বা যারা অনুমতিবিহীন ব্যক্তিদের মক্কায় পরিবহন করে ধরা পড়বেন, তাদেরকেও একই পরিমাণ অর্থ জরিমানা করা হবে।


২০২৮ সালের মধ্যে ঢাকায় রাইডশেয়ারিং সুবিধায় নারী কর্মশক্তি বাড়বে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভালো রাইডশেয়ারিং সুবিধা পাওয়ায় ২০২৮ সালের মধ্যে রাজধানীতে নারী কর্মশক্তির হার ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই সময়ের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ নারী ঢাকার কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পারেন। যাতায়াতের সুব্যবস্থার ফলে ঢাকায় নারী কর্মজীবী বাড়ছে।

সম্প্রতি অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন সম্ভাবনার তথ্য উঠে এসেছে। ‘রাইড-হেইলিং: অ্যা প্ল্যাটফর্ম ফর উইমেনস ইকোনমিক অপারচুনিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছে রাইডশেয়ারিং অ্যাপ উবার।

প্রতিবেদনটিতে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টিতে রাইডশেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যকর ভূমিকার কথা উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, কর্মশক্তিতে আরও বেশি নারীকে যুক্ত করতে রাইডশেয়ারিং সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের নারীদের কর্মশক্তিতে অংশগ্রহণের পরিমাণ কম। ২০২২ সালে বিশ্বে নারীদের কর্মশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ছিল ৪৭ শতাংশ, যা বাংলাদেশে ছিল ৪৩ শতাংশ। প্রতিবেদনটি অনুসারে, নারীর যাতায়াতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দুটি চ্যালেঞ্জ হলো- নিরাপদ যানবাহনের স্বল্পতা এবং কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে বর্তমান ভারসাম্যহীনতা।

এতে আরও বলা হয়, এমন প্রেক্ষাপটে নারীদের কর্মশক্তিতে যোগদান কিংবা আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের জন্য উচ্চ অবস্থানে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে রাইডশেয়ারিং সার্ভিসগুলো।

উবার বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড নাশিদ ফেরদৌস কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সুযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে উবার। দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য কর্মশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো খুবই জরুরি। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াতব্যবস্থার ফলে আরও বেশিসংখ্যক নারীর জন্য কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর মাধ্যমে নারীরা নিরাপদে ও সুবিধাজনকভাবে সরাসরি কমর্স্থল বা নিজের কাছাকাছি গণপরিবহন স্টেশন পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারেন। বর্তমান ও ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক সাফল্যে অবদান রাখায় নারীদের সাহায্য করতে পেরে উবার গর্বিত।’


banner close