সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ছায়াতেও এত আলো কেন?

আপডেটেড
২২ আগস্ট, ২০২৩ ১৮:৫৯
প্রকাশিত
প্রকাশিত : ২১ আগস্ট, ২০২৩ ১৮:৪৭
মানুষ কি চাঁদে গিয়েছিল? ছবি, ভিডিওসহ অসংখ্য অকাট্য প্রমাণ আছে। তবুও একদল মানুষ মাঝে মাঝে প্রশ্ন তোলে, কনস্পাইরেসি থিওরি কপচায়। কিছু ব্যাপ্যারে তাদের খটকা আছে, কিছু প্রশ্ন আছে। সে সব প্রশ্নের একে একে ব্যাখ্যা হাজির করব আমরা দৈনিক বাংলায়। আজ ’চাঁদের ছায়াময় ছবিও কেন এত স্পষ্ট’- এ সংশয়ের ব্যাখ্যা।
চদ্রপৃষ্ঠের অধিকাংশ ছবিতে দেখা যায়, ছায়াতে থাকা জিনিসও অনেক স্পষ্ট। এটা নিয়েও প্রশ্ন আছে সন্দেহবাদীদের। এটা আসলে আলো রিফ্লেকশনের কারণেই হয়। এখন তাহলে প্রশ্ন করতে পারেন, পৃথিবীতে কেন হয় না? এর কারণ, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল। বায়ুমণ্ডলে অনেক ধুলাবালি থাকে গ্যাসীয় পদার্থ থাকে। ফলে কোনো বস্তু থেকে আসা আলো বায়ুমণ্ডলের ধুলোবালি ও গ্যাসীয় পদার্থে শোষিত কিংবা বিচ্ছুরিত হয়। কিন্তু চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই, ধুলোবালি ওড়ার ব্যাপরাটাও নেই, তাই কোনো বস্তু থেকে প্রতিফলিত আলো নির্বিঘ্নে এসে ক্যামেরায় ধরা পড়ে। একারণে ছায়াময় অঞ্চল থেকে আসা আলো ক্যামেরা পরিষ্কারভোবে ক্যাপচার করতে পারে। তাই ছায়াতে থাকা বস্তুগুলোও এত স্পষ্ট।
কিন্তু ছায়াতে কি আলো থাকে যে, সেখান থেকে আলো প্রতিফলিত হবে? এর উত্তর আছে আপনার কাছেই। দিনের বেলা ঠিক দুপুরে যখন সূর্য মাথার ওপর থাকে। তখন কোনো দিক দিয়েই আলো আপনার ঘরে সরাসরি প্রবেশ করতে পারে না। কিন্তু তারপরও কি আপনার ঘর পুরোপুরি অন্ধকার থাকে? যদি আপনি জানলা-দরজা-ঘুলঘুলি বন্ধ রাখেন তাহলে আলাদা কথা। কিন্তু যদি জানালা দরজা খোলা থাকে?
তখন কিন্তু ঘর ঘুটঘুটে অন্ধকার নয়। কারণ সরাসরি সূর্যর আলো না পৌঁছলেও বিভিন্ন বস্তু থেকে প্রতিফলিত মৃদু আলো আপনার ঘরে ঢুকছে। সেসব আলো আবার ঘরের ভেতরকার দেয়ালে প্রতিফলিত হয়ে ঘরময় ছড়িয়ে পড়ছে, ছায়াতেও আপনি যেকোনো বস্তু স্পষ্ট দেখতে পারছেন, এমনকী ছবিও তুলতে পারছেন।
এখন কেউ কেউ বলতে পারেন, এখন না হয় উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরা আছে, উন্নত স্মার্টফোন আছে, তখন এসবের কিছুই ছিল না। তাহলে এত সুন্দর ছবি তোলা হলো কীভাবে?
একটা কথা বলে রাখা ভালো, এখনকার তুমুল জনপ্রিয় যে ডিএসএলআর ক্যামেরা আছে, এর আগের ভার্সন ছিল এসএলআর ক্যামেরা। সেগুলোতে আলোকসংবেদী ফিল্ম ব্যবহার করা হতো। আমাদের দেশে ২০০৫-০৬ সাল পর্যন্তও ফিল্মের ক্যামেরা পাওয়া যেত। কিন্তু এর বহু বছর আগে আশির দশকেই ইউরোপ আমেরিকার বাজারে দাপিয়ে বেড়িয়েছে ডিজিটাল প্রযুক্তির ডিএসএলআর। এতে ফিল্মের বদলে আলোকসংবেদী ইলেকট্রনিক সেন্সর ব্যবহার করা হয়। আর ছবিগুলো সেভ থাকে এসডি কার্ডে। আগে অবশ্য ভিডিও ক্যামেরাতে ম্যাগনেটিক টেপ ব্যবহারের প্রচলনও ছিল। সেন্সরের মান কত উন্নত, লেন্স কত দামী তার ওপর নির্ভর করে ডিএসএলআরের ছবির মান। বাজারে আশির দশকে এলেও ডিএসএলআরের নাসার মাধ্যমেই। আর্মস্ট্রং-অলড্রিনদের আর মাইকেল কলিন্স, তিনজন তিনটি ক্যামেরা সঙ্গে নিয়ে যান। ক্যামেরাটির মডেল ছিল হ্যাসেলব্ল্যাড ৫০০ সিরিজের ক্যামেরা। অর্থাৎ আর্মস্ট্রং-অলড্রিনর যে ক্যামেরাগুলো দিয়েদিয়ে চাঁদে ছবি তুলেছিলেন, সেগুলো ছিল প্রথম দিকের ডিজিটাল ক্যামেরা। এমন ক্যামেরা তৈরি করতে নাসা প্রচুর টাকা খরচ করেছিল। দামি ক্যামেরা, দামি সেন্সর, সুতারাং লো লাইটে ভালো মানের ছবি তোলা সম্ভব ছিল সেগুলো দিয়ে।
সূত্র: নাসা, বিবিসি


সাউথইস্ট ব্যাংকে জাতীয় শোক দিবস পালন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবসহ ১৫ আগস্টের সকল শহিদের প্রতি শ্রদ্ধায় ও স্মরণে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের উদ্যোগে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভার শুরুতে যথাযথ সম্মান এবং ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণভাবে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ‘জাতীয় শোক দিবস ২০২৩’ উপলক্ষে সভাপতি এবং সভায় অংশগ্রহণকারী সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুদ্দিন মো. ছাদেক হোসাইন, উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালকদ্বয়, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহীবৃন্দ, বিভিন্ন শাখার প্রধানগণ ও ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব এবং শেখ রাসেল সহ পরিবারের সকল শহীদ সদস্যদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।


শোকাবহ আগস্ট: শিক্ষার্থীদের ভাবনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. সাইফুল মিয়া

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার সপরিবারের বর্বর ও নৃশংসতম হত্যা বাঙালি জাতির ইতিহাসকে কলুষিত করেছে। মূলত বঙ্গবন্ধু ও তার সপরিবারের হত্যা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়ার পূর্বপরিকল্পনার অংশবিশেষ। শোকাবহ আগস্ট মাসে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল মিয়া।

তাসনিম নিশাত

শোক তারুণ্যের শক্তিতে উদ্ভাসিত হোক

তাসনিম নিশাত

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আগস্ট এলেই মনে পড়ে গ্রিক পুরানের ফিনিক্স পাখির মতো বিশ্বখ্যাত মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে। মহান ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের মানুষটি ছিলেন বলেই বাংলাদেশের লাল-সবুজ পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। শত বছরের ঔপনিবেশিক বঞ্চনা, শোষণ, নিপীড়ন আর গণতন্ত্রের পদস্খলনের বিপরীতে স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র উপহার দিতে ফাঁসির মঞ্চেও আপোস করেননি। একটি কিংবদন্তি বারুদ প্রতিটি বাঙালিকে কেমন অভিন্ন গাঁথুনি দিতে পারে, তা ইতিহাসে বিরল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর বুকে যে ২৯টি গুলি লেগেছিল, তা কাল থেকে কালান্তরে বাঙালি জাতিকে পিছিয়ে দিল কয়েক হাজার বছর। মাত্র সাড়ে তিন বছরে শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি, পররাষ্ট্রনীতিসহ যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশের সবখানে স্থিতিশীলতা নিয়ে আসেন। রক্তগঙ্গার বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতার পরিমেয় আশা অশ্রুর প্রগাঢ়তায় ধূলিসাৎ হয়েছে। সর্বোপরি, জাতির পিতাকে হারানোর শোক তারুণ্যের শক্তিতে উদ্ভাসিত হোক, এমনটাই প্রত্যাশিত।

আনোয়ারুল ইসলাম

আগস্ট মাস এক মনস্তাপের মাস

আনোয়ারুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট মানব সভ্যতার ইতিহাসে নৃশংস, লোমহর্ষক এবং ঘৃণিত এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের জন্ম হয়। সেদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি, বাঙালি জাতির পিতাকে নিজ বাড়িতে সপরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ স্বাভাবিক গতি ফিরে পেয়েছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উপস্থিতি জানান দেয়। আইএমএফ, কমনওয়েলথ, জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত না হলে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে নিজের অবস্থান জানান দিতে পারত। দেশ থেকে দূর হতো অপরাজনীতির কালো ছায়া, দূর্নীতি, চোরাচালান, মুনাফাখুরি ইত্যাদি। শোকাবহ আগস্ট মাসে মহান জাতির নেতা ও তার পরিবারবর্গের বিদ্রোহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

সুস্মিতা চক্রবর্তী

দেশের অগ্রগতি থামিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা সফল হয়নি

সুস্মিতা চক্রবর্তী

শিক্ষার্থী, সমাজত্ত্ব বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

বঙ্গবন্ধু আজীবন বিনাস্বার্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মানুষের সর্বাঙ্গীন মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। বহুবার জেলে বন্দিও হয়েছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় সেনাসদস্যের হাতে পয়েট অব পলিটিক্স খ্যাত জাতির জনক সপরিবারে নির্মল হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এই হত্যাকাণ্ডে এদেশের মানুষ যেমন হারিয়েছিল তাদের অভিভাবককে তেমনি বিশ্ববাসী বঞ্চিত হয়েছিল একজন মহান নেতার সাহচর্যে, যা এক অপূরণীয় ক্ষতি। নোবেল বিজয়ী উইলিবান্ট ওই সময় মন্তব্য করেছিলেন, ‘মুজিব হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যারা মুজিবকে হত্যা করেছে তারা যেকোনো জঘন্য কাজ করতে পারে।’ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে এই দেশ ও জাতি উন্নয়নের গতিশীলতা থেকে বঞ্চিত হয়ে সেনাশাসনের আওতাধীন হয়ে পড়েছিল, যা দেশের অগ্রগতি থামিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশে চলমান উন্নয়ন বলে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

মো. রিয়াদ মিয়া

বঙ্গবন্ধুর আদর্শই হোক জীবন গড়ার মূলমন্ত্র

মো. রিয়াদ মিয়া

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

বঙ্গবন্ধু শুধু একটি শব্দ নয়, তিনি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ইতিহাসে দীপ্যমান উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের নাম। বঙ্গবন্ধু একটি আদর্শের নাম, একটি সংগ্রামের নাম, একটি আত্মবিশ্বাসের নাম, একটি ভালোবাসার নাম। বঙ্গবন্ধু চিরকালই সততা, ন্যায়, কল্যাণ ও আদর্শের প্রতীক। বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তার জীবনের প্রত্যেকটি অংশে আমরা খুঁজে পাই শক্তি, সাহস ও বেঁচে থাকার প্রেরণা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমাদেরকে একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হতে, নৈতিকতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধ অর্জনে সহায়তা করে। তার সংগ্রামী জীবন আমাদেরকে অসীম সাহসিকতায় পথ চলতে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে, ন্যায়ের পথে সাহসের সাথে চলতে আর আত্মবিশ্বাসী ও আত্মপ্রত্যয়ী হতে শেখায়।

সেই ভয়াল কালরাত্রিতে আমরা বঙ্গবন্ধুকে হরালেও তাঁর আদর্শকে ধারণ করার মাধ্যমে আমরা খুঁজে পাবো তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশকে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে আমাদের মাঝে ধারণ করার মধ্য দিয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন চিরকাল আমাদের মাঝে।

মোবাশ্বেরা ছিদ্দীকা

বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন আজীবন

মোবাশ্বেরা ছিদ্দীকা

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আগস্ট মাস বাঙালি জাতির শোকের মাস। এ মাসের ১৫ তারিখে বাংলার আকাশ-বাতাস আর প্রকৃতিও অশ্রুসিক্ত হয়। কারণ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট আর শ্রাবণ মিলে একাকার হয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর রক্ত আর আকাশের মর্মছেঁড়া প্লাবনে। ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার সপরিবারকে হত্যা করে ঘাতকের দল বাংলার ইতিহাসে সংযুক্ত করেছে এক কলঙ্কের অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশই শুধু এতিম হয়নি, বিশ্ববাসী হারিয়েছে একজন মহান সন্তানকে। এই হত্যাকাণ্ডের ফলস্বরূপ বাঙালি হারায়নি শুধু এক মহান ব্যক্তিত্ব, হারিয়েছে এক মহান আদর্শও। যে আদর্শ শিখিয়েছে শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে, জাতীয়তাবোধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ হতে। বঙ্গবন্ধুকে দৈহিকভাবে হত্যা করা হলেও তাঁর মৃত্যু নেই। তিনি চিরঞ্জীব। কেননা একটি জাতিরাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্থপতি তিনিই। বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবেন।

Caption

আগস্ট মাসের ইতিহাসে ঝরছে বঙ্গবন্ধুর রক্ত

প্রত্যুৎ দেবনাথ

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের নির্মম হত্যা শুধু একজন বলিষ্ঠ নেতাকেই হারাইনি, আমরা হারিয়েছি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, শেখ জামাল, স্বাধীনতা সংগ্রামের সংগঠক আব্দুর রবসহ আরও অনেককে। বঙ্গবন্ধু এদেশের উপযোগী সমাজতন্ত্র গঠন করতে চেয়েছিলেন। সাদ্দাম হোসেন বঙ্গবন্ধুকে ‘সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রথম শহীদ’ বলে উল্লেখ করেন। বিভিন্ন কলকারখানা, ব্যাংকসমূহ রাষ্ট্রায়ত্তকরণ, বাকশাল গঠন, সংবিধানের চার মূলনীতি নির্ধারণ করে শ্রমিকদের অর্থনৈতিক মুক্তি ও শোষণ-বঞ্চনার অবসানই ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রধান উদ্দেশ্য। এছাড়াও ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের ছিলেন স্বপ্নদ্রষ্টা। কিন্তু আগস্টে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এ সকল কিছুরই অঘোষিত পরিসমাপ্তি ঘটে। প্রকৃতপক্ষে এটি শুধু একজন মহান নেতার মৃত্যু ছিল না, বরং বাঙালি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার পরাজয়। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির এক বিশ্বস্ত বন্ধু। তাঁর মৃত্যু যেন তাই কলঙ্কিত ও রক্তাক্ত করেছে সমস্ত আগস্ট মাসকে।


আবহাওয়াবিদ পদে আটকে থাকা ৪ জনকে নিয়োগের নির্দেশ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২ মার্চ, ২০২৩ ১৭:২২
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

নিয়োগবিধির দোহাই দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরে সুপারিশপ্রাপ্ত ৪ জনের ঝুলে থাকা নিয়োগ আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মাহমুদুল হক ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন মো. কায়সারুজ্জামান। সঙ্গে ছিলেন মো. আব্দুর রহিম, সাফফাত হোমায়রা ও শেখ কানিজ ফাতেমা। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ রুমি।

২০১৭ সালে ৩৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার দুই বছরেও নিয়োগ না দেয়ায় ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই সুপারিশপ্রাপ্ত আরিফুল হাসান, জিহাদ আলী, উজ্জল হোসেন ও তানজিমা আফরিন রিট দায়ের করেন।

ওই রিটের শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১৮ আগস্ট রুল জারি করা হয়। রুলে রিটকারি চারজনকে দ্রুতই কেন নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ পাঁচজনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

ওই রুলের দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রুলটি যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন আদালত। তাই রিটকারি চারজনসহ সুপারিশপ্রাপ্ত ১১ জনকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিয়োগ দিতে বলা হয়।

রিটকারিদের আইনজীবী মো. কায়সারুজ্জামান বলেন, ‘৩৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে নন ক্যাডারে সহকারী আবহাওয়াবিদ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন রিটকারিরা। এরপর তাদের প্রত্যেকের মেডিকেল চেকআপ, পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ অন্যান্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও কিন্তু শুধুমাত্র নিয়োগবিধির দোহাই দিয়ে তাদের নিয়োগ আটকে দেয়া হয়। অথচ একই সময়ে একই পোস্টে অন্য তিনজনকে নিয়োগ দেয় তারা। অথচ তাদের (রিটকারিসহ ১১ জন) নিয়োগ দেয়া হয়নি। এটি আমরা আদালতে বলেছি। আদালত শুনানি নিয়ে আজ এ রায় দিয়েছেন।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাসুদ রুমী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রুল শুনানি করে আদালত রুলটি আজকে যথাযথ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন। রিটকারিদের নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। যে আইন বাতিলের কারণে তাদের (রিটকারি ৪ জনসহ ১১ জন) নিয়োগ আটকে গেছে, সেই আইনের অধীনেই ভিন্ন তিনজনকে নিয়োগ দেয়া হয়। এই গ্রাউন্ডেই আদালত তাদেরকে (রিটকারি ৪ জনসহ ১১ জন) নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।’

এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে না কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রায়ের বিষয়টি আমরা আবহাওয়া অধিদপ্তরকে জানাবো। এখন তারা সিদ্ধান্ত নেবেন আপিল করবেন কিনা।’

মামলা থেকে জানা যায়, ৩৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে ২০১৭ সালে ৩৯৮ জনকে প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডারের বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি)। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে নিয়োগের জন্য এই প্রার্থীদের সুপারিশ করেছিল পিএসসি। এর মধ্যে ১১ প্রার্থীকে আবহাওয়া অধিদপ্তরে সহকারী আবহাওয়াবিদ হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

৩৫তম বিসিএসে সুপারিশ পাওয়া এই ১১ প্রার্থীর মধ্যে কয়েকজন ৩৬, ৩৭ ও ৩৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে নন-ক্যাডারের জন্য তালিকাভুক্ত হন। কিন্তু পিএসসির নিয়ম অনুযায়ী একবার প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলে পরবর্তীকালে আর আবেদন করা যায় না। তাই পিএসসি তাদের আর নতুন করে কোনো পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেনি। আবহাওয়া অধিদপ্তরে পাঁচ বছরেও নিয়োগের সুরাহা না হওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে তাদের।

রিটকারি মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ‘সুপারিশপ্রাপ্ত অন্যান্য পদের প্রার্থীদের সঙ্গে ২০১৭ সালেই আমাদের ১১ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়েছিল। পুলিশ ভেরিফিকেশন ইতিবাচক ছিল। কিন্তু ছয় বছরেও নিয়োগ পাইনি। যে কারণে আমরা চারজন রিট দায়ের করি।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়োগবিধি ১৯৮২ সালে সামরিক সরকারের আমলে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতের রায়ে সেই নিয়োগবিধি বাতিল হয়। এরপর আর নতুন কোনো নীতিমালা তৈরি করা হয়নি।

বিষয়:

নেত্রোকোনা থেকে ঢাকা : হেঁটে এলেন এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০


৫৭টি জেলা পরিষদে ভোট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০


চোখ ওঠা রোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০


নতুন রূপে ইদ্রাকপুর দুর্গ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০


হেঁটে হেঁটে বিশ্ব দেখছেন ইহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০


দেশে প্রথম আন্তর্জাতিক বোর্ডিং স্কুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০


ঢাকায় ‘গানওয়ালা’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০


বাস মেরামত : হাতে আছে দেড় মাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০


স্বজনহারা ‘তিন কন্যার’ বিয়ে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০


banner close