সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ক্ষতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে  ওপেনএআই

সরকার হাসান
প্রকাশিত
সরকার হাসান
প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৭:৩৪

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ব্যবহার দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেলেও আগামী বছরের শেষে দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে সংস্থাটির।

অ্যানালাইটিক ইন্ডিয়া ম্যাগাজিনের সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্ট এমন কথাই বলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যাট জিপিটি চালাতে প্রতিদিন কোটি টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে সংস্থার। শুধু চ্যাটজিপিটি সেবা দিতেই ওপেনএআই সংস্থা প্রতিদিন খরচ করছে ৭ লাখ ডলার, যা প্রায় ৮ কোটি টাকার সমান।

জিপিটি ৩.৫ এবং জিপিটি ৪ এই দুই সংস্করণকে মনিটাইজ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে লাভের মুখ দেখেনি। উল্টো প্রচুর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে সংস্থাটির।

আরেকটি পরিসংখ্যান বলছে, জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০ কোটি কমেছে, যা মোট ব্যবহারকারীর ১২ শতাংশ।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ওপেনএআই সংস্থার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালিত চ্যাটজিপিটি মেসেজিং পরিষেবাটি চালু হয়। ব্যাপক জনপ্রিয়তাও পায় তারা। তবে দ্রুত কাজ করা এই অ্যাপ এখন কিছুটা হলেও বিপদে। যাত্রার শুরুর দিকে অসংখ্য ব্যবহারকারী এতে আগ্রহ দেখালেও বিগত কয়েক মাসে এই সংখ্যা ক্রমশ নিম্নমুখী। ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিপুল ব্যয়ে নাজেহাল ওপেনএআই সংস্থাটি।

অ্যানালাইটিকস ইন্ডিয়া ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন বলছে, টেকনোলজির এই প্রতিযোগিতার বাজারে অসংখ্য ওপেন সোর্স এলএলএম মডেল রয়েছে। যেগুলো বিনা মূল্যে নিবন্ধন ছাড়াই ব্যবহার করা যায়। যেমন, মাইক্রোসফটের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি মেটার লিয়ামা-২ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্যও বিনা মূল্যে সেবা দিচ্ছে। চ্যাটজিপিটির সেবা বিনা মূল্য নয়। আবার বেশ কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ফলে ওপেনএআইয়ের ব্যবহারকারীরাও অন্য বিকল্প দেখে সুবিধামতো বেছে নিচ্ছেন।

প্রতিবেদন বলছে, ওপেনএআই এখনো ব্যবসা থেকে লাভ করতে পারেনি। বরং মে মাসে ৫৪ কোটি ডলার ক্ষতি হয় সংস্থাটির। তবে আশা ছাড়েনি সংস্থাটি। তাদের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, চলতি বছর তারা ২০ কোটি ডলার লাভ করবে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের শেষে লাভের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা রাখলেও বর্তমানে ক্ষতির সম্মুখীন ওপেনএআই।

তথ্য সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস


চিন্তা করলেই মেসেজ বা ফোনকল চলে যাবে কল্পনার ব্যক্তির কাছে!

ইলন মাস্ক
আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১২:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বহু জটিল কাজ জাদুর মতো সহজ করে দিয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স (এআই)। ফলে মুখ দিয়ে বলা ও হাতের স্পর্শেই এখন করা যায় অনেক কিছু। এবার আরও একধাপ সহজ হচ্ছে। শুধু মনে মনে ভাববেন, আর তাতেই ভাবনার ওই ব্যক্তির কাছে চলে যাবে ফোন বা মেসেজ। এমনটাই বাস্তবে পরিণত করছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক।

মাস্কের সংস্থা নিউরোলিঙ্ক এমন একটি যন্ত্র বা ডিভাইস আবিষ্কার করেছে, যা মানুষের মনকে পড়ে ফেলতে পারে। এটি ফোন করা বা কম্পিউটার চালানোর কাজ করবে। ইতোমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে মানুষের মস্তিষ্কে চিপ বসানো হয়েছে এবং প্রাথমিক পরীক্ষায় তার ভালো ফলাফলও পাওয়া গেছে। চিপ বসানোর পর সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন ওই ব্যক্তি।

নিউরোলিঙ্ক একটি নিউরো-টেকনোলজি কোম্পানি। ২০১৬ সালে ইলন মাস্ক এই সংস্থার সূচনা করেছিলেন। সম্প্রতি ইলন মাস্ক নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘নিউরোলিঙ্কের প্রথম পণ্যটির নাম টেলিপ্যাথি।’

নিউরোলিঙ্কের এই ডিভাইস মস্তিষ্কের সঙ্গে কম্পিউটারকে যোগ করার ইন্টারফেস। সহজ ভাষায় এটি এক ধরনের ব্রেইন চিপ, যা মস্তিষ্ক ও মোবাইল ফোনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে। এই চিপে শয়ে শয়ে ইলেক্ট্রোড তার রয়েছে, যাকে বলা হয় মাইক্রোন-স্কেল থ্রেড। এই ইলেক্ট্রোডগুলো মস্তিষ্কের নিউরন সংকেতগুলোকে প্রক্রিয়া করে। এরপর সেই তথ্য পৌঁছে যায় নিউরোলিঙ্ক অ্যাপে। সেখানে সফটওয়্যারটি ডেটা বা তথ্য ‘ডিকোড’ করে, তার ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

ধরুন আপনি মনে মনে ভাবলেন, কাউকে ফোন করবেন। এই চিপ সেই তথ্য সিগন্যালটি প্রক্রিয়া করে অ্যাপে পাঠাবে। সেখান থেকে তথ্য ডিকোড করে, নিউরোলিঙ্ক অ্যাপ আপনার হয়ে ফোন করে দেবে। এক কথায় বলতে গেলে, শুধু চিন্তা করেই আপনি ফোন বা কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে, যেসব ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল, তাদের ব্যবহারের জন্য এই চিপ ব্যবহার করা হবে। এই ডিভাইসে একটি ছোট ব্যাটারি রয়েছে, যা একটি কমপ্যাক্ট চার্জারের মাধ্যমে তার ছাড়াই চার্জ দেওয়া যাবে। নিউরোলিঙ্কের চিপের মাধ্যমে মানুষ তাদের মস্তিষ্ক দিয়ে ফোন ও কম্পিউটার চালাতে পারবে। যারা স্নায়ুর রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত সুবিধাজনক হবে।

মস্তিষ্কে যেভাবে চিপ বসানো হবে

মস্তিষ্কে এই যন্ত্র ইমপ্লান্ট করা একটু কঠিন। যন্ত্রের ইলেক্ট্রোড তারগুলো এত লম্বা যে, মানুষের হাতে সেগুলো মস্তিষ্কে লাগানো যায় না। তাই মস্তিষ্কে ডিভাইসটি বসানোর জন্য আলাদা সার্জিক্যাল রোবট তৈরি করা হয়েছে। মেশিনে খুব পাতলা সূঁচ এবং সেন্সর ইনস্টল করা আছে। এই রোবট মাথার খুলিতে একটি গর্ত তৈরি করবে এবং মস্তিষ্কের যে অংশ নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে ইলেক্ট্রোড তার ঢুকিয়ে দেবে।

পশুর ওপর সফল পরীক্ষা

গত বছরের মে মাসে নিউরোলিঙ্ক মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানোর জন্য মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমোদন পায়। মানুষের ওপর পরীক্ষা করার আগে নিউরোলিঙ্ক ২০২১ সালে বানরের মস্তিষ্কে এই চিপটি পরীক্ষামূলকভাবে বসিয়েছিল। এর একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। সেখানে দেখা যায়, একটি বানর কম্পিউটারে একটি গেম খেলছে। এর জন্য হাতও নাড়ছে না সে, কেবল মন দিয়েই নিয়ন্ত্রণ করছে গেম। বানরের মস্তিষ্কে যে তার লাগানো রয়েছে, তা মস্তিষ্কের সংকেত কম্পিউটারে পাঠাচ্ছে। ইলন মাস্ক ওই ভিডিও পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘নিউরোলিঙ্ক ডিভাইসটির সাহায্যে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা মস্তিষ্কের শক্তি দিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে সক্ষম হবে।’

আরও যে কাজ করবে এই চিপ

ইলন মাস্কের লক্ষ্য শুধু মন বা মস্তিষ্ক দিয়ে ফোন নিয়ন্ত্রণ করাই নয়। পক্ষাঘাতগ্রস্তদের নিজের পায়ে দাঁড় করানোই পরবর্তী পরিকল্পনা। নিউরোলিঙ্ক শরীরের মোটর ফাংশন এবং তার সঙ্গে কথা বলার ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে

জরিপ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এ সংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ। বুধবার প্রকাশিত এক জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। খবর এএফপির।

মিডিয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা মেল্টওয়াটার এবং সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা উই আর সোশ্যালের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায় যা বিশ্বের জনসংখ্যার ০ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষকে সামাজিক নেটওয়ার্ক মেটার ফেসবুক ব্যবহার করে। এটি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ২ দশমিক ১৯ বিলিয়ন। মেটার ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন। ব্যবহারের দিকে এর পরের অবস্থানে থাকা সামাজিক মাধ্যম হচ্ছে টিকটক। বিশ্বের প্রায় ১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মানুষ এ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট বা বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করার কারণে এসব মিডিয়া ব্যবহার করা সুনির্দিষ্ট লোকের সংখ্যা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনটি ডিজিটাল কনসালটেন্সি কোম্পানি কেপিওস’র সংকলিত পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।


নিউরালিংক প্রথম রোগীর মস্তিস্কে ইমপ্লান্ট ইনস্টল করে সাফল্য পেয়েছে: ইলন মাস্ক

আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৪ ১৬:২৪
বাসস

ইলন মাস্ক মঙ্গলবার বলেছেন, প্রথম একজন রোগীর মস্তিস্কে তার নিউরালিংক স্টার্টআপ ইমপ্লান্টের প্রাথমিক ফলাফলে এর সাফল্যের ‘সম্ভাবনা’ জাগিয়ে তুলেছে।

২০১৬ সালে মাস্ক সহ-প্রতিষ্ঠিত নিউরোটেকনোলজি কোম্পানির লক্ষ্য মস্তিস্ক এবং কম্পিউটারের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের চ্যানেল তৈরি করা। সাতজন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী এবং ইলন মাস্ক কোম্পানিটির প্রতিষ্টায় জড়িত ছিলেন।

কোম্পানির উচ্চাকাকাঙ্খা হলো মানুষের ক্ষমতাকে সুপারচার্জ করা, এএলএস বা পারকিনসন্সের মতো স্নায়ুবিক রোগের চিকিৎসা করা এবং হয়তো একদিন মানুষ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে একটি সিম্বিওটিক সম্পর্ক অর্জন করা।

মাস্ক এক্স-এ একটি পোস্টে বলেছেন, ‘প্রথম এক ব্যক্তি গতকাল নিউরালিংক থেকে একটি ইমপ্লান্ট পেয়েছিল এবং সে সুস্থ হয়ে উঠছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক ফলাফলগুলোতে দেখা যায় এটি নিউরন কার্যক্রমে সংযুক্ত হতে পেরেছে।’

স্টার্ট-আপটি গত বছর বলেছিল, এটি মানুষের মধ্যে মস্তিস্কের প্রতিস্থাপন পরীক্ষা করার জন্য মার্কিন নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে অনুমোদন পেয়েছে।

নিউরালিংকের প্রযুক্তি প্রধানত ‘লিঙ্ক’ নামক একটি ইমপ্লান্টের মাধ্যমে কাজ করবে, এতে মুদ্রার আকারের একটি ডিভাইস চামড়ার নিচে স্থাপন করা হয়। এটি স্থাপনে মাথার খুলি কাটার প্রয়োজন হয় না।

বিষয়:

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৪ আল্ট্রা: প্রযুক্তির প্রবাহে এক নতুন ধারা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো: ফাহিম আলম হৃদয়

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ২৪ আল্ট্রা - প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উদ্ভাবনের এক বিস্ময় । একটি স্মার্ট ফোন কি অর্জন করতে পারে তার সীমানাকেই পুনরায় সংজ্ঞায়িত করে স্যামসাংয়ের এই নতুন উদ্ভাবন। স্যামসাংয়ের এ যাবৎ কালের সব থেকে উন্নত এ আই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যাবহার করা হয়েছে এই ফোনটিতে। ফোনটির অমিলভূত বৈশিষ্ট্য, শক্তিশালী কার্যক্ষমতা, এবং আকর্ষণীয় ডিজাইন আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য।

এটিতে ব্যাবহৃত হয়েছে ১০৮০ x ২৩৪০ পিক্সেলের রেজোলিউশন এবং ১২০ হার্জের এর রিফ্রেশ রেট সহ একটি ৬.২ -ইঞ্চি ডায়নামিক এলটিপিও অ্যামোলেড ২X ডিসপ্লে । তাছাড়াও, একটি কোয়ালকম এসএম৮৬৫০- এসি স্ন্যাপড্রাগণ ৮ম জেনারেশনের তিন চিপসেট দ্বারা চালিত হয় । ফোনটির পিছনে একটি ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ রয়েছে, যার মধ্যে একটি ৫০ মেগাপিক্সেলের ওয়াইড লেন্স, একটি ১০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো লেন্স এবং একটি ১২ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড লেন্স রয়েছে । সামনের ক্যামেরাটি একটি ১২ মেগাপিক্সেলের ওয়াইড লেন্স। এছাড়া ফোনটি স্যামসাংয়ের নিজস্ব ওয়ান ইউ আই এর ৬.১১ ভার্সন সহ অ্যান্ড্রয়েডের সব থেকে নতুন ১৪ ভার্সনটি চলে। এতে একটি ৪০০০ এমএএইচ ব্যাটারি রয়েছে যা ২৫ ওয়াট তারযুক্ত চার্জিং সমর্থন করে। ফোনটি ৮ জিবি, ১২ জিবি র‍্যাম সহ ১৩৮ জিবি, ২৫৬ জিবি,৫১২ জিবি স্টোরেজ বিকল্পে উপলব্ধ। এছাড়াও ফোনটি গ্যালাক্সি এআই দিয়ে সজ্জিত, যা নতুন উন্নত বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসে ।

তবে আগের মডেল যেমন গ্যালাক্সি এস ২২ আল্ট্রার মত ৫০x জুম বা গ্যালাক্সি এস ২৩ আলট্রার মত ১০০x জুম লেন্সটি এবার ব্যাবহৃত হয়নি। আগের মডেলগুলোতে এত বড় বড় জুম লেন্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল যে, আদো এত বেশি ক্ষমতাশালী লেন্সটি দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে কতটুকু গুরুত্ব রয়েছে। এর বদলে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফিচার দেয়া যেতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায়, এবারের এস২৪ সিরিজে এত বড় বড় জুম লেন্স দেয়া হয়নি। এবারের স্যামসাংয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে স্যামসাং এ আই। এই এআই গ্যালাক্সি এস২৪ সিরিজের প্রায় প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে প্রশস্ত করে, যার সাথে বাধা-মুক্ত যোগাযোগ সক্ষম করা থেকে বুদ্ধিমান পাঠ্য এবং কল অনুবাদ, গ্যালাক্সির পাওয়ারফুল ইঞ্জিনের সাথে সৃজনশীল স্বাধীনতাকে সর্বাধিক করা ইত্যাদি। যা এযাবৎ কালের কোনো স্যামসাং ফোনে ব্যাবহৃত হয়নি তো বটেই অ্যান্ড্রয়েডের মধ্যে এটি এখন সব থেকে পাওয়ারফুল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি।

বর্তমান বিশ্ব আস্তে আস্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর হয়ে যাচ্ছে। এর সুবিধাগুলো সকলকে বিমোহিত করছে। বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকার দেশগুলোতে মানুষের কাজ এ আই সঠিকভাবে করছে। মূলকথা, এআইকে তৈরি করা হয়েছে মানুষের কষ্ট কমানোর জন্য, একই ধারাবাহিকতায় স্যামসাং তার নতুন গ্যালাক্সি এস২৪ সিরিজে নতুন এক ক্ষমতাধর, মসৃণ, সুষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিচয় করাচ্ছে , যা পূর্বের সমস্ত রেকর্ডকে ভেঙে দিবে।


বাংলাদেশের নামে প্রথম গ্রহাণু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রাথমিকভাবে নতুন একটি গ্রহাণু আবিষ্কার করেছে জনপ্রিয় বিজ্ঞান গ্রুপ ‘একটুখানি ফিজিকস’ তিন শিক্ষার্থী। গত ১০ অক্টোবরে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সার্চ কোলাবোরেশন (IASC) কর্তৃক আয়োজিত গ্রহাণু সন্ধানের এক ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করে তারা এই কাজ করে। গ্রহাণুটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে মিলিয়ে নামকরণ করা হয়েছে BD1971। বাংলাদেশের নামে এটাই প্রথম কোনো গ্রহাণু।

নামকরণ করা এই তিন শিক্ষার্থী হলেন- নারায়ণগঞ্জের সরকারি কদম রসূল কলেজের অন্তর চন্দ্র, টাঙ্গাইলের ইব্রাহিম খান সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আতিক হাসান এবং ময়মনসিংহের শহীদ সায়েদ নজরুল ইসলাম কলেজের শিক্ষার্থী নওশিন জাহান।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা, সুদূর অতীতে মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝখানে একটি গ্রহ ছিল যা ধ্বংস হয়ে বিভিন্ন খণ্ডে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। সেই ধ্বংসাবশেষগুলোকে আমরা গ্রহাণু বা অ্যাস্টেরয়েড নামে চিনি। এই গ্রহাণুগুলো মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যবর্তী অঞ্চলে বেষ্টনীর আকৃতি গঠন করেছে, যাকে ইংরেজিতে ‘মেইন অ্যাস্টেরয়েড বেল্ট’ বলে।

গ্রহাণু অনুসন্ধানে তারা তাদের দলের নাম দেন ‘একটুখানি ফিজিকস’। গ্রহাণু অনুসন্ধানের কাজে নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার কাজ করেছে অন্তর চন্দ্র। সৌরজগতে গ্রহ ছাড়াও বিপুল সংখ্যক পাথরের বস্তু খণ্ড সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

নাসা ও হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের ‘প্যান-স্টার টেলিস্কোপ’ সেই অ্যাস্টেরয়েড বেল্ট অঞ্চলের ছবি তুলে সারাবিশ্বে সিটিজেন সায়েন্টিস্টদের (যারা পেশাগত বিজ্ঞানী নয় তবে বিজ্ঞানের জন্য কাজ করে) জন্য ছবিগুলো উন্মুক্ত করে দেয়। সেই ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করে নতুন কোনো গ্রহাণুর খোঁজ পেলে তাদের জানাতে হয়।

এই প্রোগ্রাম আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সার্চ কোলাবোরেশন (আইএএসসি) নামের সংস্থা। নাসা ও প্যান-স্টার টেলিস্কোপ হলো- এই প্রোগ্রামের আয়োজক। প্রতিমাসেই IASC সংস্থা বিভিন্ন ক্যাম্পেইন আয়োজন করে। আর ক্যাম্পেইনে যে কেউ যেকোনো বয়সি লোক অংশগ্রহণ করতে পারবে। এর জন্য আগে থেকে ক্যাম্পেইনে আবেদন করতে হবে।


এক ক্লিকেই নির্বাচনী ব্যানার !

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

এক ক্লিকেই তৈরি হবে নির্বাচনী ব্যানার। শুধু দেশেই নয়, বিশ্বে প্রথমবারের মতো নির্বাচনী ডিজিটাল ব্যানার তৈরির ওয়েবসাইট এনেছেন আইটি সেবাখাতের প্রতিষ্ঠান ফিফোটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদ হোসেন। সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি (‘towhidhossain.com’) ওয়েবসাইট থেকে যে কেউ নিজের ছবি যুক্ত করে মাত্র ৫ সেকেন্ড বানিয়ে ফেলতে পারবেন পছন্দের প্রার্থীর সঙ্গে ডিজিটাল ব্যানার।

৭ জানুয়ারি, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগের মনোনীত আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের তথ্য ও ছবি যুক্ত করা আছে ওই ওয়েবসাইটে। যে কেউ নিজের ছবি, নাম, পদবী ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে সহজেই নির্বাচনী ব্যানার বানাতে পারবেন।

‘towhidhossain.com’ সম্পর্কে তৌহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে অনেক কর্মী-সমর্থক নিজের পছন্দের প্রার্থীর সাথে ব্যানার বানাতে চান, কিন্তু সেভাবে সুযোগ পান না। তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রার্থীদের সাথে ছবিসহ ব্যানার বানিয়ে দেয়ার কাজটি সহজ করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। শুধুমাত্র ইন্টারনেট ও নিজের মোবাইল দিয়েই বানানো যাবে এই ব্যানার। একজন ব্যক্তি একাধিক ব্যানারও বানাতে পারবেন। আশা করছি, নির্বাচনী প্রচারে এটা ভালো সাড়া ফেলবে।

তিনি আরও বলেন, সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি এই ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যেই তৈরি করা যাবে ব্যানার। মানুষ এখন সামাজিক মাধ্যমেই বেশি সক্রিয়। সামাজিক মাধ্যমেই নিজেদের মতামত বেশি প্রকাশ করে। এক্ষেত্রে এই ওয়েবসাইটে বানানো ব্যানার কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই উদ্যোগ একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করছি। একই সাথে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এই ওয়েবসাইটটি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে করা হয়েছে এবং অধিকাংশ ছবি অনলাইন থেকে সংগ্রহ করা। যদি কোন মনোনীত প্রার্থী উনার ছবি পরিবর্তন করতে চায় তাহলে [email protected] ইমেইলে নতুন ছবিটি দিলে পরিবর্তন করে দেওয়া হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি


ল্যাপটপের বাইপাস চার্জিং প্রযুক্তি এখন স্মার্টফোনে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাইপাস শব্দটি প্রায় সবার কাছেই পরিচিত। বিভিন্ন অর্থে আমরা এই শব্দ ব্যবহার করে থাকি। এই যেমন, বিকল্প রাস্তা, হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচলের নতুন পথ, অথবা চার্জিং প্রযুক্তি হিসেবে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই শব্দটি বিকল্প কোনো পদ্ধতি বা রাস্তা বোঝায়। বাইপাস যখন চার্জিং প্রযুক্তি, তখন এর মাধ্যমে ল্যাপটপ কাজ করবে ব্যাটারির সাহায্য ছাড়াই, শুধু চার্জারে যুক্ত থেকে। তাই নিরাপদ ও সেরা পারফরম্যান্স পেতে এখন স্মার্টফোনেও এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইনফিনিক্স নোট ৩০ সিরিজ বাজারে আসার পর, স্মার্টফোন বাজারে আবারো আলোচনায় বাইপাস চার্জিং প্রযুক্তি। এর আগে স্যামসাং, সনি, আসুস এবং অন্যান্য কিছু উচ্চমূল্যের স্মার্টফোনে এই প্রযুক্তি পাওয়া যেত। কিন্তু মাঝারি দামের স্মার্টফোনে সম্প্রতি ইনফিনিক্স এই প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে।
সাধারণত, চার্জারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় প্রথমে ল্যাপটপের ব্যাটারি চার্জ হয় এবং এরপর ব্যাটারি থেকে পাওয়ার নিয়ে ডিভাইসটি চলে। এর মানে হলো শক্তির উৎস প্রধানত একটি। তাহলে ল্যাপটপের বাইপাস চার্জিংয়ের অবদান কী এখানে? এই প্রযুক্তি থাকার ফলে, ব্যাটারিকে সম্পূর্ণভাবে পাশ কাটিয়ে, ডিভাইস সরাসরি চার্জার থেকে শক্তি গ্রহণ করতে পারে। এই দুই ধরনের শক্তির উৎসের সাহায্যে আমরা ল্যাপটপ থেকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা পেতে পারি।

বাইপাস চার্জিং প্রযুক্তির সাহায্যে আমাদের স্মার্টফোনগুলোও এখন একইভাবে কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে। ব্যাটারি সাহায্য ছাড়াই ফোন এখন ওয়াল চার্জারে রেখেই কাজ চালিয়ে যাওয়া যায়। এই পদ্ধতিতে যেহেতু কোনো ব্যাটারির ব্যবহার নেই, তাই ব্যাটারি পার্সেন্টেজ বাড়বেও না, কমবেও না। ফোনের মাদারবোর্ড সরাসরি শক্তি গ্রহণ করে ফোন চালু রাখে। বাইপাস চার্জিং মোড ব্যবহার না করলে ফোনটি সাধারণ মোডে ফেরত আসবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের স্মার্টফোনে এই উন্নত প্রযুক্তি কেন প্রয়োজন?

বর্তমানে সাধারণ কাজ, বিনোদন বা গেমিং ইত্যাদি প্রয়োজনে আমরা স্মার্টফোনেই থাকি সারাদিন। এমনও সময় আসে যখন আমাদের স্মার্টফোনকে চার্জে রেখেই কাজ করে যেতে হয়। সাধারণত, চার্জিংয়ের সময় ফোন অনেক তাপ উৎপন্ন করে। ভিডিও এডিটিং বা গেমিংয়ের মতো কাজ করার সময় এই তাপ বেড়ে দ্বিগুণ হয়, যা ফোনের জন্য খুবই বিপজ্জনক। স্মার্টফোনের ব্যাটারি ও অন্যান্য অংশের জন্য অতিরিক্ত তাপ ক্ষতিকর। গরম ফোন হাতে ধরে রাখাও খুব একটা সুখকর অনুভূতি নয়। সুতরাং, চার্জার প্লাগ-ইন করার সময় বাইপাস চার্জিং মোড চালু থাকলে স্মার্টফোন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ চার্জ ব্যাটারিতে পাঠায়। এরপর বাকি শক্তি ফোনের মাদারবোর্ডে পাঠিয়ে দেয়। অর্থাৎ, মাদারবোর্ডে পাওয়ার সাপ্লাইকে বাইপাস করে দেয়।

অল-রাউন্ড ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তিসম্পন্ন ইনফিনিক্স নোট ৩০ সিরিজ এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন ব্যাটারি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হওয়ার পর এই চার্জ বাইপাস হয়ে যায়। নোট ৩০ এবং নোট ৩০ প্রো এই দুটি মডেল এই সিরিজের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের বাজারে নোট ৩০ প্রো স্মার্টফোনটি পাওয়া যাচ্ছে ২৭ হাজার ৯৯৯ টাকায়। এর সাথে ২,০০০ টাকা সমমূল্যের একটি ওয়্যারলেস চার্জার ক্রেতারা পাচ্ছেন বিনামূল্যে। নোট ৩০ স্মার্টফোনের ৮ জিবি+১২৮ জিবি এবং ৮ জিবি+২৫৬ জিবি’র দুটি ভার্সন পাওয়া যাচ্ছে যথাক্রমে ১৮ হাজার ৯৯৯ এবং ২৩ হাজার ৯৯৯ টাকায়।


চ্যাটজিপিটির নামে মামলা ‘গেম অব থ্রোনস’ লেখকের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের নামে মামলা করেছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’ (গট) লেখক জর্জ আরআর মার্টিন ও লেখক জন গ্রিশাম। বিবিসির শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই লেখকের দাবি, সিস্টেমকে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে চ্যাটজিপিটি লেখকদের মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন করেছে।

মার্টিন তার ফ্যান্টাসি উপন্যাস সিরিজ ‘আ সং অব আইস অ্যান্ড ফায়ার’ দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। পরে এ উপন্যাস অবলম্বনে ২০১১ সালে এইচবিওতে নির্মাণ হয় গেম অব থ্রোনস শো, যা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করে।

চ্যাটজিপিটি ও অন্যান্য লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো (এলএলএম) অনলাইনে ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেদের প্রশিক্ষণ দেয়। মামলায় দাবি করা হয়, চ্যাটজিপিটিকে আরও স্মার্ট করে তুলতে লেখকদের অনুমতি ছাড়াই তাদের বই ব্যবহার করা হয়েছে।

এদিকে ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা লেখকের মেধাস্বত্বের প্রতি সম্মান জানায় ও বিশ্বাস করে যে, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তারাও উপকৃত হবেন। মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছেন জোনাথন ফ্রানজেন, জোডি পিকো ও জর্জ সন্ডাজের মতো লেখকরাও।

লেখকদের হয়ে কাজ করা ট্রেড গ্রুপ ‘অথরস গিল্ড’ নিউইয়র্কের ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে মামলা করে। ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা বিশ্বের অনেক নির্মাতার সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করছি। আমরা এআই নিয়ে তাদের উদ্বেগের কারণগুলো বুঝতে এক হয়ে কাজ করছি।’

মামলার বিবরণে পুরো গণমাধ্যম শিল্পে এআই নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, ‘এ ধরনের প্রযুক্তি মানুষের লেখা কনটেন্টের জায়গা করে নিচ্ছে।’ মামলায় ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে ‘বড় ধরনের পরিকল্পিত চুরির’ অভিযোগ আনা হয়েছে।


টেলিগ্রাম বট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টি এইচ মাহির

টেলিগ্রামের অনেক বট সম্পর্কে আমরা জানি না। তাই টেলিগ্রামের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বট সম্পর্কে অবগত করতে এই লেখাটি। এখানে বটগুলোর সরাসরি ইউজার নেম দেয়া হয়েছে। কারণ এক‌ই নামে অনেক বট আছে।

@TGStat_Bot: টেলিগ্রামে অনেকের চ্যানেল থাকে। চ্যানেলের গ্রাফ দেখতে এই বট ব্যবহার করতে পারেন।
@cricbuzz_bot: টেলিগ্রামে খেলার খবর পেতে এই বট ব্যবহার করতে পারেন। এখানে খেলার কমেন্ট্রিসহ স্কোর দেয়া হয়।
@utuberabot: এই বট ব্যবহার করে ইউটিউবের সাম্প্রতিক ট্রেন্ডে থাকা ভিডিও সহজেই পেয়ে যাবেন। প্রত্যেক দেশের আলাদা আলাদা করে তথ্য দিতে পারে এই বটটি।
@ChannelInlineBot: আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেলে ইনলাইন পোস্ট দিতে ব্যবহার করতে পারবেন এই বট। পোস্টের নিছে সরাসরি লিংক এড করা যাবে।
@LivegramBot: লাইভগ্রাম বটটি দিয়ে আপনার নিজস্ব বট তৈরি করতে পারবেন। তবে ইউজারদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে হবে আলাদা আলাদা করে।
@sticker2GIFBot: স্টিকার থেকে gif তৈরি করতে পারবেন এই বটের সাহায্যে। গিফ্টগুলো টেলিগ্রামে সেভ‌ও করতে পারবেন।
@Stickers: টেলিগ্রামের অফিশিয়াল স্টিকার বট এটি। এই বটের সাহায্যে আপনি টেলিগ্রামে স্টিকার যুক্ত করতে পারবেন এবং তা ব্যবহার করতে পারবেন ম্যাসেজে।
@QuizBot: টেলিগ্রামে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বট কুইজ বট। শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক এই বট। বটটির সাহায্য সময়সীমাসহ কুইজ তৈরি করতে পারবেন। গ্রুপ এবং ম্যাসেজে কুইজ টেস্ট দেয়া যাবে। তা ছাড়া এখানে লিডারবোর্ড সুবিধা ও আছে।
@cloud_upload_bot: এই বটটি ক্লাউডভিত্তিক বট। এখানে ফাইল, ছবি, ভিডিও আপলোড করে লিংকের মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন। যাদের টেলিগ্রাম নেই তাদের সঙ্গেও শেয়ার করা যাবে।


যমুনা ফিউচার পার্কে টেকনোর প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ আউটলেট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রিমিয়াম ও স্মার্ট ডিভাইসের গ্লোবাল ব্র্যান্ড টেকনো রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ আউটলেট চালু করেছে।

সম্প্রতি চালু হওয়া এই ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটের ঠিকানা আরআর মোবাইল, শপ নং ১৬ডি অ্যান্ড ১৭এ, লেভেল-৪, ব্লক-সি।

প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ আউটলেট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান, টেক ইউটিউবার আশিকুর রহমান তুষার, স্যামজোনসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে আইস্মার্টইউ টেকনোলোজি বাংলাদেশ লিমিটেডের সিইও রেজওয়ানুল হক বলেন, যমুনা ফিউচার পার্কের এই স্মার্টফোন মার্কেট ক্রেতাদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। ক্রেতার সুবিধার কথা চিন্তা করে, প্রিমিয়াম ডিজাইন, প্রিমিয়াম এক্সপেরিয়েন্স এবং আরও ভালো সার্ভিস দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আমরা টেকনোর প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ স্টোর এই মার্কেটে চালু করলাম। এখানে গ্রাহকরা আমাদের উদ্ভাবনী পণ্যগুলো পরখ করতে পারবে।

টেকনোর প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ আউটলেট চালু উপলক্ষে গ্রাহকদের জন্য টেকনো ক্যামন ২০ সিরিজ এবং স্পার্ক ১০ সিরিজসহ টেকনোর সর্বশেষ স্মার্টফোন ক্রয়ে ক্রেতাদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ক্রয়ে গ্রাহকদের সাপ্তাহিক দুর্দান্ত পুরস্কার জেতার সুযোগ রয়েছে। ব্লকবাস্টার মুভি টিকিট অথবা সি পার্ল বিচ রিসোর্ট এবং স্পা কক্সবাজারে দম্পতির রোমান্টিক ভ্রমণের সুযোগ, অথবা এয়ার অ্যাস্ট্রার সৌজন্যে ঢাকা-কক্সবাজার এয়ার টিকিট।

শুধু তাই নয়, একজন বিজয়ীর রানার বোল্ট ১৬৫আর বাইক জেতার সুযোগ রয়েছে মাসব্যাপী এই উদযাপনে।


চাঁদের মাটিতে পদচিহ্ন আঁকল ভারত

আপডেটেড ২৩ আগস্ট, ২০২৩ ২৩:৪৫

ইতিহাসের চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদে সফলভাবে নভোযান অবতারণ করাল ভারত। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৬ টা ৩৪ মিনিটে ভারতীয় চন্দ্রযান ৩-এর ল্যান্ডার চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করে। চাঁদের দক্ষিণমেরু জয়ী প্রথম দেশ হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখাল ভারত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন আর চিন এই গৌরবের অংশিদার ছিল। এই তালিকায় এখন যুক্ত হলো ভারত।

২৩ আগস্ট ২০২৩। বিকেল ৬টা। ভারতীয় তো বটেই গোটা বিশ্বের তাবৎ বিজ্ঞানপ্রেমীরা ভারতীয় মহাকাশ সংস্থার ইউটিউব চ্যানেলে ঢুঁ মারতে শুরু করেন। চাঁদ অভিযানের রুদ্ধশ্বাস ত্রিশ মিনিট প্রত্যক্ষ করার জন্য। শঙ্কা ছিল, দ্বিধাও ছিল। কারণ এর আগে ২০১৯ সালে চন্দ্রযান তীরে গিয়ে তরি ডুবিয়েছিল। চাঁদের মাটি থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে থাকতেই বিধ্বস্ত হয় চন্দ্রযান ২-এর ল্যান্ডার। তাছাড়া দুইদিন আগে রাশিয়ার লুনার ২৫-এর করুণ পরিণতি দেখে শংকাটা আর বড় আওয়াজে বাজতে শুরু করেছিল ভারতীয়দের মনে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ইসরোর বিজ্ঞানীদের আর দূরে বসে অনালাইনে উপস্থিত ভারতের প্রধানন্ত্রীর শঙ্কিত চেহারাই বলে দিচ্ছিল, দোলচালে আছেন তাঁরাও। তবে গতবারের ভুল থেকে বিজ্ঞানীরা শিক্ষা নিয়েছিলেন বলেই কিনা, এবার কয়েকদিন ধরেই সফলতার মন্ত্র আওড়াচ্ছিল ভারতীয় মিডিয়া। সত্যিই সত্যিই তাঁদের সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিল বিক্রমের কৃত্রিম পা চাঁদের মাটি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে।

খুব কম বাজেটে ভারত মহাকাশে অভিযান চালাচ্ছে গত একদশক ধরেই। চাঁদের কক্ষপথে চন্দ্রনযান ১, মঙ্গলের কক্ষপথে মঙ্গলযান ১ অরবিটার দুটি ঘুরে ঘুরে এখনো ভারতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তির সামর্থ্যের জয়পতাকা ওড়াচ্ছে। কিন্তু ভারতের স্বপ্ন ছিল চাঁদের বুকে ল্যান্ডার অবতারণ করানো। মঙ্গলবার সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।

ভারত তাঁদের মহাকাশযান তৈরি করে নিজেদের ল্যাবরেটরিতেই, ব্যবহার করে নিজেদের স্পেস স্টেশন। ৭৬ বছর আগে সদ্য স্বাধীন হওয়া হতদরিদ্র দেশটা তখন হয়তো স্বপ্নেও ভাবেনি একদিন তারা চাঁদে নভোযান পাঠাবে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৬টা ১৫ মিনিট থেকেই শুরু হয় অবতরণের সবচেয়ে কঠিন সময়টা। অবশ্য বেশ কয়েক ঘণ্টা আগেই ল্যান্ডার বিক্রম চাঁদের ৩০ কিলোমিটার কক্ষপথে অবস্থান করছিল। শেষ ২০ মিনিটে ছিল আসল পরীক্ষা। চাঁদে বায়মণ্ডল নেই, তাই মঙ্গলে বা পৃথিবীতে যত সহজে একটা নভোযানকে অবতারণ করানো সম্ভব, চাঁদে সেটা সম্ভব নয়। বায়ুমণ্ডল নেই বলে মাটি স্পর্শ করার আগমুহূর্তে প্যারাস্যুটের সহায্যে অবতরণের কোনো সুযোগ নেই। তাই খুব ধীরে ধীরে ল্যান্ডারের গতি কমাতে হয়।

এদিন দেখা গেল, চাঁদের মাটি থেকে ৭.৪ কিলোমিটার দূরে থাকতে প্রায় স্থির হয়ে গেল বিক্রম। কারণ চাঁদের দূরত্ব পৃথিবী থেকে প্রায় চার লাখ কিলোমিটার। এত দূর থেকে চাইলেই ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করা যায় না পৃথিবী থেকে। তাই শেষ মুহূর্তে গিয়ে ওই ব্রেক। তখন আসলে ইসরোর বিজ্ঞানীরা দেখে নিচ্ছিলেন, সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা। অবতরণ স্থান, সেখান কোন জায়গাটা বেশি সমতল, ইত্যাদি। তারপর ধীরে সুস্থে বিক্রমকে আবার চালাতে শুরু করেন বিজ্ঞানীরা। শেষ আট শ মিটারে গিয়ে বিক্রম সবচেয়ে সাবধানী ছিল, খুব ধীরে নামো হচ্ছিল তখন সেটাকে। তারপর ১৫০ মিটার ও ৫০ মিটারে গিয়ে আরও দুবার ছোট ছোট ব্রেক নেয় বিক্রম। তারপর আসে সেই কাংখিত মুহূর্ত। বিক্রম অবতরণ করে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে।

বিক্রম যখন চাঁদে অবতরণ করছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী তখন ব্রিকসের সম্মেলনে যোগ দিতে অবস্থান করছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখান থেকেই তিনি ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন ইসরোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে। বিক্রম চাঁদের মাটি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ১৪০ কোটি ভারতীয়কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘দূরের চাঁদমামা এখন ট্যুরের হবে’।

বিক্রম চাঁদের দক্ষিণ মেরু স্পর্শ করা প্রথম দেশ হতে চেয়েছিল। কিন্তু সে পথে বাগড়া দেয় রাশিয়া। গত ১১ আগস্ট তারা লুনার ২৫ মিশন চাঁদের উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপন করে। তাঁদেরও লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ মেরু। কিন্তু তারা মাত্র দশদিনেই চাঁদের মাটি স্পর্শ করতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষমূহুর্তে গিয়ে চাঁদের মাটি থেকে অনেকটা দূরেই বিধ্বস্ত হয় লুনার ২৫-এর ল্যান্ডার। তাই ভারতের কপালেই উঠল চাঁদের দক্ষিণ মেরু জয়ের প্রথম খেতাব। লক্ষ্য এখন পরবর্তী গবেষণা।


ল্যাপলাসের দৈত্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফরাসী বিজ্ঞানী পিয়েরে সায়মন ল্যাপলাস হাজির হাজির করালেরন এক ডেমন বা দৈত্যকে। যিনি ভবিষ্যতের সকল ঘটনা পাই টু পাই বলে দেবেন। ভবিষ্যদ্বাণী করবেন গোটা মহাবিশ্বের প্রতিটা কোণে আগামীতে ঘটবে এমন সকল ঘটনার। ল্যাপলাস জানতেন মহাপুরুষের পক্ষেও সম্ভব নয়। পদার্থবিজ্ঞানে সেই ডেমন ল্যাপলাসের দৈত্য নামে অমর হয়ে গেছে।

তো কী কাজ এই দৈত্যের?

অতিমানবিক এক কাজ করতে হবে সেই দৈত্যের। তবেই আমরা পাব ভবিষ্যতের সকল রূপরেখা। এজন্য দৈত্যকে খাটতে হবে, জানতে গোটা ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন বছরের ইতিহাস। প্রায় ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন আগেই বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে আমাদের মহাবিশ্বের জন্ম হয়েছি। আদুরে বাংলা নামে যেটাকে আমরা বলি মহাবিস্ফোরণ। সেই মহাবিস্ফোরণের সাথে সাথে জন্ম হয়েছিল সময়ের। জন্ম হয়েছিল স্থানের। মোটা কথা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে জনপ্রিয় টার্ম স্পেসটাইম বা স্থানকালের শুরুটাই হয়েছিল মহাবিস্ফোরেণর সাথেই সাথেই। এরপরে প্রথম তিনমিনিটেই প্রচণ্ড গতিতে প্রসারিত হয়েছে স্থানকাল তথা মহাবিশ্ব। বিস্ফোরণের শক্তি থেকে তৈরি হয়েছে বস্তকণা আর আলো। এরপর কালের বিবর্তনে আরো প্রসারিত হয়েছে মহাবিশ্ব। প্রসারণের সাথে সাথে তৈরি হয়ে গ্যালাক্সি, গ্রহ-নক্ষত্র, উপগ্রহ-বামনগ্রহ, বামনগ্রহ, ধূমকেতু আরো কত কী!

মহাবিশ্বে গ্যালাক্সির সংখ্যায় প্রায় ১০ হাজার কোটি। একেকটা গ্যালাক্সিতে আবার কয়েক হাজার কোটি নক্ষত্র থাকে। গোটা মহাবিশ্বে নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ ইত্যাদির সংখ্যা বের করা শুধু কঠিনই নয়, প্রায় অসম্ভব। প্রতিটি গ্রহে, প্রতিটা উপগ্রহে, প্রতিটা নক্ষত্রে প্রতি মুহূর্তে কত ঘটনা ঘটছে। সামান্য একটা ব্যাকেটিরায় দেহেই ঘটছে কত ঘটনা। মানুষের কথা বাদই দিন। চলছে পরমাণুর ভেতরে ইলেকট্রন আর নিউক্লিয়নদের মধ্যেও কত কত অ্যাকশন-রি অ্যাকশন। শুধু পৃথিবীর মাত্র এক মুহূর্তের ঘটনার হিসাব কি কষা সম্ভব?

সম্ভব নয়। পৃথিবীর পাঁচ শ কোটি বছরের হিসাব রাখা আরও কঠিন। সেখানে গোটা মহাবিশ্বের ১৩.৮ বিলিয়ন বছরে প্রতিটা গ্যালাক্সিতে, নক্ষত্রে, গ্রহে, মহাজাগতিক বস্তুতে, প্রতিটা পরমাণুতে ঘটে যাওয়া ঘটনার হিসাব রাখবে কে?

মহাপুরুষই হোক আর দৈত্যই হোক, তার পক্ষে এত হিসাব রাখা সম্ভব?

ল্যাপল্যাস বলেছিলেন, তার সেই দৈত্যের পক্ষে সম্ভব মহাবিশ্বের জীবনের ইতিহাসে যত ঘটনা ঘটেছে, সব ঘটনার হিসাব তার নখদর্পনে থাকবে। সত্যিই যদি এমন কোনো দৈত্য থাকে বা তৈরি করা সম্ভব হয়, তাহলে সেই দৈত্যের পক্ষে সম্ভব মহাবিশ্বে ভবিষ্যতে কী ঘটবে তার সকল ঘটনার জবাব দেওয়ার।

পদার্থবিজ্ঞান অনেক কিছুরই ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে। যেমন আপনার হাতে একটা কলম আছে, সেটা আপনি ছেড়ে দিলেন হাত থেকে। তখন আপনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন সেটা মেঝেতে পড়বে। তেমনি চাঁদে নভোযান পাঠিয়ে আপনি বলতে পারবেন কখন কবে সেটি চাঁদের মাটিতে ল্যান্ড করে। মাঝে মাঝে দুর্ঘটনা অবশ্য ঘটে। মহাকাশযান চাঁদে পৌঁছানোর আগেই হয়তো বিধ্বস্ত হতে পারে। সেটা পদার্থবিদ্যার ব্যার্থতা নয়। ব্যার্থতা বিজ্ঞানীদের। হয়তো মহাকাশ যানের ত্রুটি ছিল, সেটা তাঁরা ধরতে পারেননি। তাঁরা পৃথিবী থেকে চাঁদ পর্যন্ত মহাশূন্যের প্রতিবন্ধকতাগুলোর হিসাব বের করতে পারেননি। মোটকথা হিসাবে ভুল ছিল। আর হিসাবে ভুল থাকলে ল্যাপলাসের দৈত্যেরও ক্ষমতা নেই ঠিকঠাক মতো ভবিষ্যৎ গণনা করার।

ল্যাপলাসের সময় মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বের কথা জানতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। কিন্তু ‘সময়’ তো সবকালেই ছিল। তাই ছিল অতীতের হিসাবও। ল্যাপল্যাস বলেছিলেন, সেই অতীতের সব ঘটনার কথা। সে অতীত যত লম্বাই হোক না কেন। এখন দেখা যাক, ল্যাপলাসের দৈত্যের পক্ষে আসলেই সম্ভব কিনা।

ল্যাপলাসের দৈত্যকে মানুষ বা প্রাণীই হতে হবে তার কোনো মানে নেই। সেটা যন্ত্র হলেও চলবে। হতে পারে সেটা সুপার কম্পিউটার। কিন্তু সেই সুপার কম্পিউটারই কি অতীতের সব হিসাব কষে রাখতে পারে?

পারে না। কারণ, তাপগতিবিদ্যার সূত্র। আরো নিশ্চিত করে বললে শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি।

শক্তির সংরক্ষণশীতা নীতি, যেটাকে আবার কার্নোর ইঞ্জিন তত্ত্ব থেকে বলা যায়, দুনিয়ায় এমন কোনো যন্ত্র তৈরি সম্ভব নয় যে শতভাগ দক্ষতায় কাজ করতে পারে।

সুতরাং এটা নিশ্চিত যত চেষ্টাই করা হোক, এমন কোনো যন্ত্র বা দৈত্য তৈরি করা সম্ভব নয় যে মহাবিশ্বের অতীতের সব ঘটনার হিসাব রাখবে। আবার যত হিসাব কষবে সেগুলোরও শতভাগকে সে আউটপুট হিসেবে বের করতে পারবে না। অর্থাৎ সব ঘটনার হিসাব থেকে সবগুলোর হিসাবকেই ভভিষ্যদ্বাণীতে রূপান্তরিত করেেত পারবে না। কিছু তথ্য হারিয়ে যাবে তার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে। তাই ল্যাপলাসের দৈত্য তৈরি করা কখনোই সম্ভব হবে না, অন্তত আমাদের মহাবিশ্বে পদার্থবিদ্যার যে নীতি রয়েছে, সে অনুযায়ী এমন দৈত্যের জন্ম হবে না কখনো।


banner close