বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বিয়ের সাজের গল্প

কনের সাজে চিত্রনায়িকা জাহারা মিতু।
আপডেটেড
১৯ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০২
সৈয়দা লাইবা বিনতে মঈন
প্রকাশিত
সৈয়দা লাইবা বিনতে মঈন
প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০২

জীবনের বিশেষ মুহূর্ত বিয়ে। আর এর মূল আকর্ষণ কনের সাজ। কনের সাজে বা ব্রাইডাল সাজে ভিন্নমাত্রা যোগ করে বিয়ে উৎসবকে দেওয়া যায় অনন্যতা। এখন চলছে বিয়ে মৌসুম। ট্রেন্ডি, ফিউশন ও ট্রাডিশনসহ বিভিন্ন সাজ নিয়ে ইদানীং তাই যথেষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সাতকাহনের আজকের মূল প্রতিবেদনে রইলো বর্তমান সময়ের বর-কনের সাজের নানা আয়োজনের খোঁজ।

মনের মতো বিয়ের পোশাক

বিয়ের পোশাকের দিকেও রাখতে হবে আলাদা নজর। কোন রঙের পোশাকে কনেকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় এবং উজ্জ্বল দেখাবে বিষয়টি মাথায় রেখে তা নির্বাচন করতে হবে। প্রথাগত লাল বেনারসি শাড়িতেই যেসব কনেকে অপরূপ লাগবে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। বেনারসি-কাতানের পাশাপাশি নানা রঙের জামদানি, অরগানজা, সিল্ক ও মসলিনে ঝুঁকছেন কনেরা। এসব কাপড় দিয়ে তৈরি করা লেহেঙ্গা আর গাউনের আবেদনও রয়েছে ব্যাপক।

বর্তমান সময়ে রঙের ক্ষেত্রে এসেছে বেশ পরিবর্তন। কনেরা প্রাধান্য দিচ্ছেন সাদা, মিন্ট, হালকা গোলাপি, আইভরি, মিন্ট, ল্যাভেন্ডার ও গোল্ডেন রঙের মতো হালকা রংগুলোকে। তবে বিয়ের শাড়ি বা এর অনুষঙ্গ উজ্জ্বল রঙের হওয়া ভালো।

গয়নায় বৈচিত্র্য

বিয়ের সাজ মানেই জমকালো পোশাক-গহনা হতে হবে, এ ধারণা থেকে বেরিয়ে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে নিজেদের সাজিয়ে তুলছেন এখনকার কনেরা। একটা সময় পর্যন্ত ভাবাই যেত না বিয়ের দিনে বউয়ের গায়ে সোনা ছাড়া ইমিটেশনের গহনা উঠবে। এখন কিন্তু বিয়েতে প্রাধান্য পাচ্ছে সোনার বাইরেও সোনার প্রলেপ দেওয়া বা ভিন্ন ভিন্ন ধাতুর তৈরি ঐতিহ্যবাহী নকশার গহনা। কাটা কাজের নকশা, গলাজুড়ে ভরাট নকশা, মিসরীয় সভ্যতার গহনার নকশা এখন শোভা পায় আধুনিক কনের গহনায়।

আরেকটি বিষয় পোশাকের সঙ্গে মানানসই গহনা, ব্যাগ, জুতা ইত্যাদি এক্সেসরিজও থাকা চাই। বিয়ের জুতা মানেই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ঝাঁ চকচকে জুতা- এমন ধারণা এখন অনেকটাই ফিকে। বরং একটু আরামদায়ক জুতাই এখন পছন্দ বেশিরভাগ কনের।
কনের ব্যাগের দিকেও কিন্তু নজর থাকে সবার! আর তাই ব্যাগ কেনার সময় বিয়ের পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং করে কেনাই ভালো। পোটলি, বটুয়া বা বক্স ক্লাচ এখন ট্রেন্ডি ব্রাইডাল ব্যাগ। এর বাইরে অনেক কনের পছন্দের তালিকায় থাকে কাজ করা ছোট পার্সও।

মডেল: চিত্রনায়িকা জাহারা মিতু।

বিয়ের সাজে নিজস্বতা

একেবারেই ন্যাচারাল লুক মনে হয় এমন সাজ-ইদানীং ব্রাইডাল সাজের ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। তাই বিউটিশিয়ানকে বলতে হবে, ন্যাচারাল মনে হয়; এমন সাজে সাজিয়ে দিতে। এখনকার কনেরা আগের সময়ের মতো ভারী মেকআপ একদমই পছন্দ করছেন না। নিজেকে মেকআপ দিয়ে পরিবর্তন না করে বরং নিজস্বতাকে ফুটিয়ে তোলাই যেন এখনকার মেকআপ ট্রেন্ড। ন্যুড মেকআপের চলের পাশাপাশি লাটে মেকআপ, গ্লোয়ি-ডিউই মেকআপই বেছে নিচ্ছেন এখনকার কনেরা।

আটপৌরে সাবলীল মেকআপকেও প্রাধান্য দিচ্ছেন অনেকেই। এমন মেকআপ করা হচ্ছে এখনকার সময়ে, যাতে করে মেকআপ অনেকটা সময় ঠিকঠাক থাকে। হালকা কিন্তু অনেক লম্বা সময় থাকে এমন স্টাইলের গ্রহণযোগ্যতাই বেশি দেখা যাচ্ছে।

বিয়ের আগে ত্বকের বিশেষ যত্ন

মেকআপ যতই ভালো হোক না কেন, ত্বক ও চুল যদি সুন্দর ও উজ্জ্বল না হয় তাহলে দেখতে মোটেও সুন্দর লাগবে না। তাই বিউটি এক্সপার্টদের পরামর্শ মেনে, মাসখানেক সময় হাতে রেখেই রূপচর্চা শুরু করতে হবে। নিয়ম মেনে ভালোভাবে করতে হবে খাওয়া-দাওয়া। বিয়ের সপ্তাহখানেক আগেই ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া শুরু করতে হবে। হাত-পায়ের ওয়াক্সিং, ফেসিয়াল, চুলের ট্রিটমেন্ট আগেই করে ফেলা উচিত।

নয়তো বিয়ের আগে একসঙ্গে সব কাজ করতে গেলে এগুলো আপনার গোটা সাজকেই মাটি করে দিতে পারে। বিয়ের ঠিক এক বা দুদিন আগে ভ্রু প্লাক করতে হবে। বিয়ের দিন সাজার সময় ভ্রু প্লাক করতে গেলে সেখানে দ্রুত মেকআপ করার সময় ভ্রুর জায়গাটিতে যন্ত্রণা, চুলকানি, লাল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে, যা আপনার সুন্দর সাজগোজকে মাটি করে দিতে পারে।

নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি ফাস্টফুড, কোল্ড ড্রিঙ্কস, ভাজাভুজি ও মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন। প্রচুর ফল ও সবজি খান ও মেডিটেশন করুন। বিয়ের অনুষ্ঠানের আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। এতে আপনার ত্বকে ব্রণ বা অন্য কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে এবং মেকআপ ত্বকে খুব সুন্দরভাবে বসবে।

চোখ থাকুক বরের সাজেও

এবার আসা যাক বরের সাজসজ্জায়। বরবেশে বিয়েতে বরের সাজও এখন কম যায় না। বরের পোশাক এখন একই ধরনের রং থেকে বেরিয়ে আরও বর্ণিল হয়েছে। লাল ছাড়াও মেরুন, নীল, সোনালি, গোলাপি, ফিরোজা, সবুজ বা কালো রঙের বরের পোশাক দেখা যায় এখন। এখনকার বরেরা আবার কনের শাড়ি কিংবা লেহেঙ্গার সঙ্গে মিল রেখে নিজের পোশাক বাছাই করেন। তা হতে পারে কনের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে রং কিংবা কনট্রাস্ট কোনো কালার।

বর সাজতে হলে ভারী শেরওয়ানি পরতে হবে এমনও নয়। ফুল আর পাখির নকশা করা প্রিন্স কোট পরেও ভিন্ন বেশে বর সাজতে পারেন। অভিনবত্ব চাইলে যোধপুরি প্যান্টের সঙ্গে প্রিন্স কোট পরা যেতে পারে। বর সাজতে পারেন স্যুট-বুটেও। অনুষঙ্গ হিসেবে কোটপিন, টাই, বো, পকেট স্কয়ার জুতার প্রতি বিশেষ নজর থাকতে হবে। সঙ্গে এক জোড়া কাফলিংস যেন থাকে। বরের সাজটা তাতে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। সনাতন ধর্মের বর শেরওয়ানি ছাড়াও তসর, সিল্কের ভারী কাজের পাঞ্জাবির সঙ্গে ধুতি, দোপাট্টা পরতে পারেন। মাথায় পাগড়ির বদলে পরতে পারেন শোলার টোপর।

বরের বিয়ের পাগড়ি পরার নকশা এবং রঙে এখন ব্যাপক বৈচিত্র্য এসেছে। কেনা পাগড়ির বদলে হাতে বাঁধা পাগড়িতে বিয়ের সাজে আসে ভিন্নতা। সোনালি, তামাটে, লালের মতো উজ্জ্বল রঙ কিংবা ঘিয়ে রঙের পাগড়িতে বর বেশি জমকালো হয়ে ওঠে। আর তা যদি হয় জামদানি, কাতান, মসলিন, হাফসিল্ক কাপড়ের তবে তা আরও চমৎকারভাবে ফুটে ওঠে।


ফাল্গুনের বাহারি সাজ

শাড়িতে নিজেকে জড়াতে পারেন বসন্ত বরণে। মডেল: পাপড়ি সুলতানা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতকাহন ডেস্ক

ঋতুরাজ বসন্তকে বরণে প্রস্তুত হচ্ছে প্রকৃতি। বসন্ত রাজাকে বরণ করতে প্রকৃতিতে যেমন লাগছে রঙের ছোঁয়া ঠিক তেমনি বসন্ত বরণে কী পরবেন, কেমন সাজবেন… এমন পরিকল্পনাও ঘুরছে অনেকের মনে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কেমন হতে পারে পয়লা ফাল্গুনের সাজসজ্জা।

শাড়িতে ফাল্গুনি সাজ

বাঙালি ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়ে আটপ্রৌড়ে করে বাসন্তী রঙা সুতি, তাঁতের টাটকা শাড়িতে নিজেকে জড়াতে পারেন বসন্ত বরণে। তবে প্রকৃতির রং বদলে শামিল হতে সবুজের বিভিন্ন শেড যেমন- কচি পাতা সবুজ, গাঢ় সবুজ ইত্যাদি রং বেছে নিতে পারেন। আবার হলুদ-কমলা গাঁদা ফুলের মতো প্রস্ফুটিত হতে পারেন। এদিকে পরের দিনটাতেই কিন্তু ভালোবাসা দিবস। সেদিন বেছে নিতে পারেন লাল রং বা প্রিয়জনের পছন্দের রঙের পোশাক।

শাড়ির সঙ্গে চাই হাতভর্তি রিনিঝিনি রেশমি কাঁচের চুড়ি। গলায় ফুলের মালা না পরতে চাইলে আজকাল বাজারে কাঠ, পুঁতি, মাটি, মেটাল, পাথর বিভিন্ন ধরনের কারুকার্যময় কানের ও গলার সেট পাওয়া যায়। পায়ে চাইলে পরে নিতে পারেন চিকন কাজের নূপুর।

ফাল্গুনের সাজসজ্জার পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে আরও একটি জরুরি বিষয়ে। আর তা হলো সারা দিনের হাঁটাহাঁটির কথা মাথায় রেখে হিল না পরে ফ্ল্যাট জুতা পরাই হবে বুদ্ধিমতির কাজ।

ফাল্গুনে মেকআপ

বসন্তের শুরুর দিনটাতে মেকআপটা খুব ভারী করা ঠিক নয়। মেকআপ নেওয়ার আগে অবশ্যই মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে সানস্ক্রিন লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করবেন। এরপর মুখে লাগাবেন ম্যাট ফাউন্ডেশন। তারপর খানিকটা ফেস পাউডার লাগাবেন হালকাভাবে। আর সব সময় মনে রাখবেন পোশাকের রং অনুযায়ী হবে মেকআপের রং।

চোখে গাঢ় করে কাজলের রেখা টেনে দিয়ে ঠোঁট রাঙাতে পারেন লাল লিপস্টিকে। কাজল, আইলাইনার, আইশ্যাডো, গ্লিটার- যেটাই ব্যবহার করুন না কেন, সব যেন হয় একই রঙের। এরপর কপালে টিপ আর হাতে পরুন কাচের চুড়ি। আর বসন্তের সাজে ফুলের কোনো না কোনো অনুষঙ্গ তো রাখতেই হবে। হোক তা চুলে, হাতে কিংবা ভিন্ন কোনো গয়না হিসেবে।

ফাগুন দিনে চুলের সাজে নানা রঙের তাজা ফুলের ব্যবহার নারীকে করে তোলে অনন্যা। খোঁপা বা বেণি করে চুলে গাদা ফুলের মালা পেঁচিয়ে নিতে পারেন। কেউ যদি চুল ছেড়ে রাখতে চান তাহলে একপাশে গুঁজে নিতে পারেন গোলাপ বা জারবেরা ফুল। যখন বড় ফুল পরবেন, তখন গলা ও কানের গয়নাটা খানিকটা হালকা বেছে নেবেন। মেরুন, হলুদ, সাদা, নীল রঙের চন্দ্রমল্লিকা, ক্যালানডুলা ফুলগুলোও বেছে নিতে পারেন গাঁদা, গোলাপের বিকল্প হিসেবে।


শীতকালীন সবজি দিয়ে সুস্বাদু চিকেন স্ট্যু  

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আফরোজা খানম মুক্তা

এখন বাজারে প্রচুর শীতকালীন সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এসব সবজি দিয়ে মজাদার রান্না করা যায়। আজ আপনাদের জন্য রইল শীতকালীন সবজি দিয়ে সুস্বাদু চিকেন স্ট্যুর রেসিপি। তো, আসুন রেসিপিটি জেনে নেওয়া যাক।

উপকরণ: চিকেন ১টি, আলু ৩টি, গাজর ২টি, পেঁপে ৩০০ গ্রাম, টমেটো ১টি, বরবটি ৫/৬টি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, রসুন কুচি ২ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ২ টেবিল চামচ, সয়াবিন তেল ২ টেবিল চামচ, চালের গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা ৩/৪ পিস করে, তরল দুধ আধা কাপ, ক্যাপসিকাম আধা কাপ।

রান্নার প্রণালি: চিকেন, লেবুর রস, গোলমরিচ গুঁড়া, লবণ দিয়ে মেরিনেট করুন ৩০ মিনিট। কড়াইয়ে সয়াবিন তেল গরম হলে এলাচ দারুচিনি লবঙ্গ তেজপাতা ফোড়ন দিন। পরে পেঁয়াজ কুচি ও রসুন কুচি দিয়ে নেড়ে সামান্য ভেজে মেরিনেট করা চিকেন ছেড়ে দিন। এরপর হলুদ গুঁড়া, আদা ও রসুন বাটা, আলু, পেঁপে, গাজর, লবণ, টমেটো, কাঁচা মরিচ কুচি, বরবটি দিয়ে পরিমাণ মতো পানি দিন।

সব সবজি সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। নামানোর আগে চালের গুঁড়া গুলিয়ে সেই পানি, ক্যাপসিকাম, দুধ দিয়ে নেড়ে মিশ্রণ বানিয়ে কড়াইতে মিশিয়ে দিন। পরিবেশনের সময় বিট লবণ, ছেঁকা পাউরুটি দিয়ে পরিবেশন করুন। ব্যস, এভাবেই রান্না হয়ে গেল শীতকালীন সবজি দিয়ে সুস্বাদু চিকেন স্ট্যু।

লেখক: স্বত্বাধিকারী, শৌখিন কারুশিল্প


পোশাকে বিজয়ের আনন্দ

পতাকা-পোশাকে বিজয়ের আনন্দ। ছবি: বিশ্বরঙ।
আপডেটেড ৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০২
মইনুল হক রোজ

বিজয়ের এই মাসে ফ্যাশন হাউসগুলোর আয়োজনে থাকে ভিন্নতা। বৈচিত্র্যপূর্ণ ডিজাইন আর লাল-সবুজ রঙের প্রাধান্য দিয়ে ফ্যাশন হাউসগুলো বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশীয় কাপড় দিয়ে তৈরি করেছে শাড়ি, থ্রি-পিস, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও শিশুদের পোশাক।

পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে নিজস্ব উইভিংয়ে করা ডিজাইন, টাই অ্যান্ড ডাই, স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, অ্যাপলিক, অ্যামব্রয়ডারিসহ বিভিন্ন মাধ্যম। কারও পোশাকে উঠে এসেছে বাংলাদেশের মানচিত্র, কারোর নকশায় প্রাধান্য পেয়েছে জাতীয় পতাকা, কোনোটায় রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নানা ছবি, লেখা, কবিতার লাইন ও জাতীয় ফুল। অর্থাৎ বিজয় উৎসবের বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করে ডিজাইন করা হয়েছে বিজয় দিবসের পোশাকগুলোতে। সাতকাহনের আজকের মূল প্রতিবেদনে রইল তারই খোঁজখবর।

বিশ্বরঙ

দেশের স্বাধীনতার গৌরব এবং সৃজনশীল শিল্পের স্বাধীনতা এ দুইয়ের প্রতি রয়েছে বিশ্বরঙ-এর বিনম্র শ্রদ্ধাবোধ। দেশীয় সব উৎসব-পার্বণে ফ্যাশন হাউস ‘বিশ্বরঙ’-এর থাকে বিশেষ বিশেষ আয়োজন। ‘বিশ্বরঙ’-এর ফ্যাশনের মূল ভাবনা গড়ে উঠেছে দেশীয় আত্মপরিচয়কে ঘিরে। বিজয় দিবসের পোশাকগুলো ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, দায়িত্ব ও মূল্যবোধ থেকেই করা হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্বরঙ-এর রয়েছে লাল-সবুজের বিশেষ আয়োজন, দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ রয়েছে পোশাকের নকশায়। টি-শার্টে রয়েছে বাংলাদেশের পতাকার গ্রাফিক্যাল ফর্মের নান্দনিক উপস্থাপনায় টাইফোগ্রাফি, ক্যালিওগ্রাফির সমন্বয়। শাড়ির আঁচল যেন একটি সবুজ জমিনের মাঝে টকটকে লাল সূর্যে থাকছে দেশাত্ববোধক গানের টাইফোগ্রাফি। দেশীয় রং, দেশীয় কাপড় এ আয়োজনের মূল উপাদান।

এ ছাড়া প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহার পরিকল্পনায় ‘যাপিত জীবনে লাল-সবুজের প্রভাব’ শিরোনামে নির্মিত হয়েছে ফ্যাশন ভিডিও। ভিডিওতে প্রকাশ পেয়েছে লাল-সবুজ রঙ কীভাবে আমাদের যাপিত জীবনে প্রভাব ফেলে। আমাদের নাগরিক সময়ের যাপিত জীবনের প্রেমময়তায়, সুখে-দুঃখে, ভালোবাসায়, দেশমাতৃকার আরাধনায় লাল-সবুজের প্রভাব আমাদের মননে, সময়ে... ।

শীতের আগমনে পোশাকগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে মোটা সুতি ও খাদি কাপড়। ‘বিশ্বরঙ’-এর শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, উত্তরীয়, মগ ইত্যাদিতে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশ সংবলিত লেখা ও লাল-সবুজ রঙের মাধ্যমে উঠে এসেছে দেশীয় ভাবনা। পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান এসেছে ডিজাইনের অনুসঙ্গ হিসেবে। কাজের মাধ্যম হিসেবে এসেছে টাইডাই, ব্লক, বাটিক, এপ্লিক, কাটওয়ার্ক, স্ক্রিনপ্রিন্ট ইত্যাদি।

‘বিশ্বরঙ’-এর বিজয় দিবসের বিশেষ আয়োজনে বিশেষভাবে থাকছে ‘বাংলাদেশ’ লেখা সংবলিত টি-শার্ট। শুধু বিজয়ের মাসেই নয়, বরং সারা বছরই লাল-সবুজ হতে পারে ফ্যাশন সচেতনদের ফ্যাশন ভাবনা, দেশপ্রেমী মনের পরিচয়।

বিজয়ের এই ডিসেম্বর মাসজুড়ে ‘লাল-সবুজের উৎসব’ চলছে মাসব্যাপী বিশ্বরঙ-এর সব শোরুম এবং অনলাইনে। পোশাক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য পেতে পারেন ‘বিশ্বরঙ’-এর ই-কমার্স সাইট এবং ফেসবুক পেইজে।

বিশ্বরঙ- এর বিজয় দিবসের আয়োজন।

অঞ্জন’স

রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে অর্জিত মহান বিজয় দিবস আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। প্রত্যেক বাংলাদেশি এই দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপন করে থাকে। এই উদযাপনকে আরও বেশি প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর করতে অঞ্জন’স প্রতি বছর পোশাকের বিশেষ আয়োজন করে থাকে। এবারের বিজয় দিবসের পোশাকগুলো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার রঙ লাল ও সবুজ রং দিয়ে সাজানো হয়েছে। মোটিফ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে জাতীয় ফুল শাপলা ও বিভিন্ন ধরনের জ্যামিতিক নকশা। শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ-ওড়না, ফতুয়া, টি-শার্ট থাকছে এবারের আয়োজনে। বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের পোশাকও থাকছে এবারের এই বিজয় দিবস আয়োজনে। নতুন এই ডিজাইনের পোশাকগুলো অঞ্জন’সের সব শোরুম ও অনলাইন স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে।

অঞ্জন’স- এর বিজয় দিবসের আয়োজন।

রঙ বাংলাদেশ

দেশের স্বনামধন্য ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘রঙ বাংলাদেশ’-এর এবারের বিজয় উৎসব আয়োজন পোশাকে বিজয়ের ঐতিহ্য। পোশাকের ডিজাইনে রয়েছে দেশের প্রথম জাতীয় পতাকার ছাপ, বাংলাদেশের মুদ্রা ও জিওমেট্রিক থিম। লাল-সবুজ কালার কম্বিনেশনে পোশাকে তুলে ধরা হয়েছে বিজয় উল্লাসের ছাপ। বিজয় উৎসবের পোশাক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে পাঞ্জাবি, শাড়ি, কামিজ, টিউনিক, উত্তরীও এবং ব্যান্ডেনা, যা ছোট-বড় সবার জন্য সমানভাবে মানানসই।

দেশে এবং দেশের বাইরে পজিটিভ বাংলাদেশকে তুলে ধরতে চাওয়ার প্রত্যাশায় গড়া ‘আমার বাংলাদেশ’ সাব-ব্র্যান্ডের অধীনে তৈরি হয়েছে সব সামগ্রী। শুধু বড়দেরই নয়, প্রতিটি উপলক্ষে ছোটদের পোশাককে সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকে বলেই বাচ্চাদের সংগ্রহও হয় বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।

রয়েছে পরিবারের সবার জন্য একই ধরনের ম্যাচিং পোশাক। বাবা-মা, মা-মেয়ে, বাবা-ছেলে, এমনকি পরিবারের সবাই একই থিমের পোশাক পরে উদযাপন করতে পারবে এবারের বিজয় উৎসব।

রঙ বাংলাদেশের ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সব আউটলেটেই পাওয়া যাচ্ছে বিজয় উৎসবের আয়োজন। এ ছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও অর্ডার করা যাবে পোশাকগুলো।

রঙ বাংলাদেশ- এর বিজয় দিবসের আয়োজন।

কে-ক্র্যাফট

বিজয়ের আবেগ ছড়িয়ে দিতে প্রতি বিজয়েই থাকে কে ক্র্যাফটের বিশেষ আয়োজন, যা লাল-সবুজে উজ্জীবিত। বিজয় দিবসের এ দিনটি কাটুক না লাল-সবুজের পোশাকে।

সময়, আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুযায়ী পোশাক ভাবনায় এই দিনে মেয়েদের প্রধান সঙ্গী হতে পারে লাল-সবুজের শাড়ি। এ ছাড়া বেছে নিতে পারেন আরামদায়ক সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি কিংবা ভিন্ন কোনো প্যাটার্নের টপ বা টিউনিক। শীতে উষ্ণতার প্রয়োজনে অন্য কোনো রঙের পোশাকে জড়িয়ে নিতে পারেন লাল-সবুজের শাল।

প্রতি বছরের মতোই ছেলেদের পোশাকে থাকছে পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, শাল, কটি, মাফলার। বিজয়ের ফ্যাশনে লাল অথবা সবুজ রঙের পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে পরতে কটি বেছে নিতে পারেন চমৎকার সব সংগ্রহ থেকে। শিশুদের জন্য রয়েছে নানা পোশাকের আয়োজন এবং বরাবরের মতোই থাকছে যুগল ও পরিবারের সব সদস্যের সঙ্গে মিলিয়ে পরার জন্য উপযোগী পোশাক।

কে-ক্র্যাফটের এবারের বিজয়-২৩ আয়োজন করা হয়েছে প্রধানত রাগ, ডুডলিং, জিওমেট্রিক, জামদানি, ট্যাডিশনালসহ নানা মোটিফের অনুপ্রেরণায়। এ ছাড়া থাকছে বাংলাদেশের পতাকা এবং মানচিত্র নিয়ে করা নানা পোশাক। কটন, ডিজাইন্ড কটন, কোটা কটন, লিনেন, নিট ও তাঁতের মতো আরামদায়ক ফ্যাব্রিকে তৈরি পোশাকগুলোতে নকশা ফুটিয়ে তুলতে স্ক্রিনপ্রিন্ট, হাতের কাজ ও অ্যামব্রয়ডারি করা হয়েছে। রঙ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে গ্রিন, বোটল গ্রিন, ফরেস্ট গ্রিন, পেইল গ্রিন, রেড, অরেঞ্জ, অফ-হোয়াইট । তবে অন্যান্য রঙের সমন্বয়ও থাকছে। বিজয়ের ভাবনায় লাল-সবুজের পোশাক ছাড়াও নানা রকম স্যুভেনির ও উপহার সামগ্রীও থাকবে। কে-ক্র্যাফটের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, খুলনাসহ সব আউটলেট ছাড়াও অনলাইন শপ থেকে বিজয়ের পোশাক কেনা যাবে।

কে ক্র্যাফটের বিজয় দিবসের আয়োজন।

সাদাকালো

বিজয়ের ৫২ বছরে সাদাকালো’র এবারের থিম ‘অপরাজেয় বাংলা’। মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদের নির্মিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত ‘অপরাজেয় বাংলা’ ভাস্কর্যটির নামকরণ করেছিলেন মুক্তিযাদ্ধা ও সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের সম্মিলিত প্রতিরোধ ও আক্রমণে পাক বাহিনী পরাজিত হয়েছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামে সর্বস্তরের মানুষের এই অংশগ্রহণের প্রতীকী চিহ্নই ‘অপরাজেয় বাংলা’। সাদাকালো অপরাজেয় সব স্তরের মানুষের এই আত্মদানকে সম্মান জানাতে এবারের বিজয় দিবসের থিম হিসেবে বেছে নিয়েছে ‘অপরাজেয় বাংলা’।

এ ছাড়া শাড়ি, পাঞ্জাবি ও কামিজের বিভিন্ন নকশায় ফুটে উঠেছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জোগাতে রচিত গান ‘গোবিন্দ হালদার’-এর রচয়িত ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’-এর বিভিন্ন লাইন। সাদাকালো-এর ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সব আউটলেটেই পাওয়া যাবে চমৎকার এই বিজয় সমারোহ। আউটলেট ছাড়াও কেনাকাটার সহজ উপায় প্রতিষ্ঠানটির ই-কমার্স সাইট ও ফেসবুক পেজে পাওয়া যাবে বিজয় আয়োজনের সব সংগ্রহ, সঙ্গে এবার অনলাইন অর্ডারে থাকছে বিশেষ অফার।

সাদাকালো’র বিজয় দিবসের আয়োজন।


শীতে মেয়েদের ফ্যাশন

তরুণীরা এখন বেশি জ্যাকেট পছন্দ করে থাকেন।মডেল: নিক্কি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফিচার ডেস্ক

এসে গেছে শীত। চারদিকে শীতের আমেজ ছড়িয়ে যাচ্ছে জোর কদমে। এখনো পর্যন্ত কনকনে ঠান্ডা না লাগলেও গরম পোশাক পরার মতো শীতল বাতাস লেগে যাচ্ছে শরীরে। যারা স্টাইলিশ পোশাক পরতে চান, তাদের জন্য এ সময় থেকে শুরু করে পুরো শীত জুড়েই উপযোগী সময়। চমত্কার সব স্টাইলিশ পোশাক হতে পারে আপনার এ সময়ের সঙ্গী। শুধু পোশাক নয় এসময় পোশাকের সাথে মিল রেখে বদল করতে পারেন অন্যান্য সাজসজ্জাও।

শীতকালে চাদর, জ্যাকেট, সোয়েটার বা যত ধরনের ভারী পোশাক সবই পরা যায়। সব ধরনের পোশাক পরা গেলেও মেয়েরা শীতে মেরুন অথবা কালো রঙের পোশাক পরতে পারেন। তরুণীরা এখন বেশি জ্যাকেট পছন্দ করে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে ডেনিম, ফ্লানেল, কর্ড, উল, মোটা ক্যানভাসের কাপড়, প্যারাসুটের কাপড় এবং চামড়ার তৈরি জ্যাকেট। ভারী কাপড়ের লম্বা পোশাকও আরামদায়ক শীতে। ভেলভেটের কোটি জড়িয়ে নিলে শীত এবং ফ্যাশন দুইদিকই বজায় থাকবে। অন্যদিকে পার্টি কিংবা দাওয়াতে গেলে ভেলভেটের ফুলহাতা বা হাতাকাটা হলে ওপরে আড়াআড়ি কিংবা লম্বা করে নরম বা পশমি চাদর জড়িয়ে নিতে পারেন।

ভারী কাপড়ের লম্বা পোশাকও আরামদায়ক শীতে,সাথে পরতে পারেন বুট।  মডেল: নিক্কি
ভারী কাপড়ের লম্বা পোশাকও আরামদায়ক শীতে,সাথে পরতে পারেন বুট। মডেল: নিক্কি

আঁটসাঁট জিনস থেকে শুরু করে ঢোলা জিনস, সবই চলছে মেয়েদের হাল ফ্যাশনে। ব্যাগি, স্ট্রেট কাট, বুটকাট লেগ, ফ্লেয়ার জিনস হাল ফ্যাশনে পছন্দ করছেন প্রায় সব বয়সী নারীরা। মোটা কাপড়ের থ্রি পিসের সঙ্গে পরতে পারেন জেগিংস। এর সঙ্গে গায়ে জড়িয়ে নেওয়া যায় পাতলা চাদর।

শীতে অফিসে ফর্মাল ভাবে বেনী, পনিটেইল বা চুল হালকা ফুলিয়ে বাধা যেতে পারে। পার্টি হলে চুল খোলা রাখতে পারেন বা হালকা ফুলিয়ে স্টাইল করতে পারেন। বিয়ের অনুষ্ঠান হলে মানানসই খোপা করতে পারেন।

শীতকালে যথাসম্ভব পা ঢাকা জুতা পরুন। এতে করে পা ফাটার সমস্যা থেকে মুক্ত থাকবেন এবং পায়ে ঠাণ্ডাও লাগবে না। মেয়েরা কেডস, পার্টি স্যু, অফিসে নর্মাল স্যু বা পোশাক বুঝে বুট বা উঁচু হিলের সু পরতে পারেন।


নিজের মতো করে গিফট বক্স তৈরির সুবিধা আনলো কিউরেটো

আপডেটেড ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১২:২২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

উপহার দেওয়ার আনন্দকে দ্বিগুণ করতে নতুন কনসেপ্ট নিয়ে হাজির হয়েছে অনলাইন ফ্ল্যাটফর্ম কিউরেটো। পারসোনালাইজড গিফট বক্সের মাধ্যমে কিউরেটো সাধারণ মুহূর্তগুলোকে অসাধারণ স্মৃতিতে পরিণত করবে। কিউরেটেড উপহারের শিল্পকে চমৎকারভাবে চিন্তাশীল জীবনধারার সাথে মিলিয়েছে বাংলাদেশের উদ্ভাবনী ও আধুনিক গিফটিং প্ল্যাটফর্ম কিউরেটো। শুধু অনুষ্ঠানের সময়কালের বাইরেও এই উপহারের রেশ রয়ে যাবে দীর্ঘদিন।

বিভিন্ন উৎসব কিংবা বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে কিউরেটো’র পারসোনালাইজড গিফট বক্স তৈরি করে নেয়া যাবে। জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, বিশেষ কোনো দিবস, বিয়ে, কর্পোরেট কোনো অনুষ্ঠানে কিউরেটোর এসব গিফট বক্স তৈরি করে নেয়া যাবে। এমনকি প্রিয়জনের বিভিন্ন পছন্দের ভিত্তিতেও তৈরি করে নেয়া যাবে এই গিফট বক্স। যেমন কেউ যদি চা পছন্দ করেন, তার জন্য বিভিন্ন ধরনের চায়ের সংগ্রহ। কফি পছন্দ করলে কফি এমনকি কেউ যদি পাস্তা পছন্দ করেন তার জন্য পাস্তা ও পাস্তার বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সাজানো যাবে গিফট বক্সটি।

কিউরেটো প্ল্যাটফর্মটিতে সব সময়ের জন্য রয়েছে, পার্টির জন্য ‘হাউজ ওয়ার্মিং’ কালেকশন, ‘পিংক আওয়ার’ সেট। ভালো কফি পছন্দ করেন এমন মানুষের জন্য আছে ‘কফি কনোইজার’ ও ‘কফি লাভার’স ডিলাইট’ নামে দুটি কালেকশন। চা-প্রেমীদের জন্য আছে ‘চা অ্যান্ড টা’ ও ‘টি টাইম ব্লিস’ কালেকশন দুটি। ‘টেস্ট অফ ইতালি’ ও ‘পাস্তা নাইট’ সিলেকশন দিচ্ছে আন্তর্জাতিক স্বাদ চেখে দেখার সুযোগ। ‘চকলেট ফন্ডি ফান’ কালেকশনে পাবেন বিভিন্ন ধরনের চকোলেট। যারা হাতে-কলমে কিছু করতে চান, তাদের জন্য থাকছে ‘ডিওয়াইআই পপসিকল কিট।’

এছাড়া করপোরেট ক্ষেত্রে কাস্টমাইজড উপহার দেওয়ার সুবিধাও রয়েছে কিউরেটোতে। এতে সহকর্মীদের পছন্দ জেনে আপনার অনুভূতি কিউরেটেড উপহারের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারবেন।
যেভাবে পাবেন কিউরেটোর কাস্টমাইজড গিফট বক্স

এই গিফট বক্স তৈরি করে নিতে আপনাকে যেতে কিউরেটোর www.curato.com.bd ওয়েবসাইটে। সেখানে গিয়ে আপনার পছন্দ কিংবা দিবস অনুযায়ী কী কী দিয়ে বক্স সাজাতে চান সেগুলো সিলেক্ট করবেন। এমনকি সেখানে আগে থেকে তৈরি করা কিছু গিফট বক্সও থাকে। চাইলে সেগুলোও নিতে পারবেন।
দাম

গিফট বক্সে কী কী নিতে চান সেগুলোর দাম ওয়েবসাইট থেকেই নির্বাচন করতে পারবেন। এমনকি আপনি কত টাকা থেকে কত টাকার মধ্যে বক্স তৈরি করে নিতে চান সেটিও সেখান থেকেই নির্বাচন করতে পারবেন।


সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন ইপশিতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

সুন্দর ও আকর্ষণীয় দেখাতে মেকআপের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটা অনেক সময়ই জরুরি হয়ে যায়। বিভিন্ন উৎসব, পার্টি বা বিয়েতে নতুন করে সাজতে দেখা যায় সবাইকে। তবে সময়, বয়স এবং উৎসবের ধরন বুঝে মেকআপ সবাই করতে পারেন না। যারা অভিজ্ঞ এবং মেকআপ নিয়েই যাদের কাজ, তারাই কেবল আপনাকে সুন্দর ও সুশ্রী হিসেবে দেখাতে পারেন। এবং সেটা সম্ভব হয় অনিন্দ্য সুন্দর মেকআপের ফলে।

আর এই কাজটি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে করেন ফারজানা রহমান। যাকে সবাই চেনেন ইপশিতা নামে। তবে এক দিনে তিনি সবার প্রিয় মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেননি। দিনে দিনে তিনি রপ্ত করেছেন এবং ভরিয়েছেন মেকআপ-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার ঝুলি।

আন্তর্জাতিকভাবে মেকআপ এবং ত্বকের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ফারজানা রহমান ইপশিতা। নারীদের সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলার পেছনে তার মেকআপের হাত রয়েছে। কারণ, অসংখ্য তারকা অভিনেত্রী ও শিল্পী তার কাছে নিয়মিত মেকআপ নিয়ে থাকেন।

ফারজানা রহমান ইপশিতার পরিচয় দেয়ার আগে তার স্বপ্ন সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। তিনি ছোটবেলা থেকেই একজন বড় মেকআপ আর্টিস্ট হতে চেয়েছিলেন এবং এটাই ছিল তার স্বপ্ন। আর এ কারণেই তিনি তার স্বপ্ন পূরণ করতে মেকআপের ওপর দেশ-বিদেশ থেকে নানা ধরনের ডিগ্রি নিয়েছেন। তবে তার আগে ২০১৫ সালে তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেছেন। তারপর যুক্তরাষ্ট্রের এলিজাবেথ গ্র্যাডি বোস্টন থেকে মেকআপ আর্টিস্ট্রিতে ডিপ্লোমা করেছেন। এরপর তিনি লন্ডন থেকে এশিয়ান ব্রাইডাল মেকআপ কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি বিখ্যাত মেকআপ আর্টিস্ট মারিও ডেডিভানোভিকের কাছ থেকে মাস্টার ক্লাস সম্পন্ন করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি এসব ট্রেনিং ও কোর্সের মাধ্যমে জেনেছি কীভাবে একজন নারীকে সব সময় সুন্দরী ও আকর্ষণীয় দেখায়। এটাই আমার কাজের ও সফলতার বড় বিষয়।’

ব্যাংকার বাবা ও রাজনীতিবিদ মায়ের সুসন্তান ইপশিতা মেকাপ আর্টিস্ট হিসেবে বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি ২০১৯ সালে ইন্টারন্যাশনাল বিউটি ইন্ডাস্ট্রি (আইবিএ) থেকে সেরা আন্তর্জাতিক মেকআপ শিল্পীর পুরস্কার জিতেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের টেলিভিশন রিপোর্টার ইউনিটি থেকে ২৭তম টিভি পুরস্কারে ২০২১ সালের সেরা মেকআপ শিল্পী হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন। এ ছাড়া দেশের মিরর ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে সেরা মেকআপ বিশেষজ্ঞের পুরস্কার জিতেছেন।

নতুন মেকাপ আর্টিস্ট তৈরিতে ইপশিতা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তার প্রয়োজন হলে আমি তাদের সাহায্য করি। আমি সবাইকে অনুপ্রাণিত করি। নতুনদের নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। আমি মেকআপ এবং ত্বকের ওপর প্রফেশনাল ওয়ার্কশপের আয়োজন করি এবং তাদের প্রশিক্ষণ দেই।’

তিনি সবশেষ স্বপ্ন সম্পর্কে বলেন, ‘এখন আমার লক্ষ্য হলো মেকওভারের ওপর একটি স্কুল খোলা। যেখানে আমরা আন্তর্জাতিক একাডেমির মতো প্রশিক্ষণ দিতে পারব। যাতে করে মেয়েরা স্বাবলম্বী হিসেবে সমাজে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেন।’


কলেজে ক্লাস শুরুর আগে

আপডেটেড ১৭ আগস্ট, ২০২৩ ২০:৫৯
মাহাথির আরাফাত

পছন্দের কলেজে মনোনীত হওয়ার পর তোমরা হয়তো সবাই উদগ্রীব হয়ে বসে আছ কবে ক্লাস শুরু হবে, কবে যাবে তোমাদের কাঙ্ক্ষিত ক্যাম্পাসে। পুরোদমে ক্লাস শুরু হতে বেশ কিছু দিন লাগতে পারে। তার আগে নিজেকে আরো গুছিয়ে নেওয়া জরুরি। নতুন পরিবেশে গিয়ে যাতে সমস্যায় না পড়তে হয় সেজন্য আগেভাগে সব জেনে নাও।

ভর্তি প্রক্রিয়া

ভর্তির কার্যক্রম যথাযথভাবে সেরে ফেল। কলেজে জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যা যা দরকার সব জোগাড় করে রাখো। এখন প্রতিটি কলেজেরই অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থাকে। তাই নিজের কলেজের ফেসবুক পেইজ খুঁজে বের করে অবশ্যই ফলো করবে। কলেজের যাবতীয় নোটিশ বা ভর্তিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ওখান থেকেই জানতে পারবে।

বই কেনা

বই কেনা শুরু করে দাও। বিশেষ করে বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি। এইচএসসির প্রতিটি বিষয়ই দুটি করে পত্র। আপাতত প্রথম পত্রটাই কিনে রাখো। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কোন প্রকাশনীর বই কিনবে তা স্যার কিংবা সিনিয়র কারো সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে পারো। তাছাড়া অনেক কলেজ থেকেই নির্দিষ্ট একটা বুকলিস্ট দেওয়া হয়। তোমাদের কলেজে তেমন কোনো বাধ্যবাধকতা আছে কিনা তা আগে থেকে জেনে নিয়ো।

প্রাইভেট-কোচিং

এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে অনেকে প্রাইভেট পড়া শুরু করে দিয়েছ হয়তো। কোন স্যার কী পড়ান, কতটুকু পড়ান, কেমন বোঝান- এসব খুঁটিনাটি বিষয় সিনিয়র কারো সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে তারপর প্রাইভেট বা কোচিং শুরু করলে ভালো হয়।

সিলেবাস আয়ত্ত করা

আগের পড়াশোনা থেকে এখন আরেকটু ওপরের ধাপে এসেছ তোমরা। নতুন শ্রেণির পড়ার সিলেবাসটা আয়ত্ত করো আগে। তবে বাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজি ব্যাকরণ আগের থেকে তুলনামূলক সহজ হয়েছে। পূর্বের শ্রেণিতেই তোমরা অনেক কিছু পড়ে এসেছ। এখন কিছু টপিক কেবল বেড়েছে। সেগুলো চিহ্নিত করো। তাছাড়া আগে সকল বিষয়ের প্রশ্নের প্যাটার্ন ও মান বণ্টন জেনে পড়তে গেলে ভালো লাগবে।

পড়ার টেবিল

এখন পড়ার টেবিল সাজাও নতুন বই দিয়ে। পুরনো বইগুলো টেবিল থেকে সরিয়ে ফেল। ঝকঝকে তকতকে করে রাখবে পড়ার টেবিল। এতে পড়ার আগ্রহ পাবে। তবে শুরুতেই এত সিরিয়াস পড়াশোনা করার দরকার নেই। হাসি-আনন্দে অল্প অল্প পড়ো। মাত্র তো কলেজে পা দিলে। কীভাবে পড়তে হবে, কতটুকু পড়তে হবে তা নিজে নিজেই একসময় বুঝতে পারবে।

ক্যাম্পাস

কলেজের ক্যাম্পাসে মানিয়ে নেওয়া শিখতে হবে। ভিন্ন একটা পরিবেশে প্রবেশ করবে তোমরা। পড়ার পরিবেশ, সহপাঠী, কলেজের ভবন, স্যার-ম্যাডাম সবই যেন অপরিচিত। তাই হীনম্মন্যতা ভর করতে পারে কারো কারো। দ্বিধাবোধ হবে হয়তো। এজন্য নিজেকে গুটিয়ে নিলে চলবে না। সহপাঠীদের সঙ্গে নম্র-ভদ্র ব্যবহার করবে। বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ হলে সব কিছু ‌কাটিয়ে উঠা সহজ হয়। চেষ্টা করবে কলেজের ইউনিফর্ম পরে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে। ইউনিফর্ম বানিয়ে রাখো এখনই। বাসায় পরে ট্রায়াল দাও। কেননা হঠাৎ করে নতুন পোশাক পরলেও আমাদের লজ্জা ও অস্বস্তিবোধ হয়।

এক্সট্রা কারিকুলাম

কলেজের লাইব্রেরি, বিতর্ক ক্লাব, স্পোকেন ইংলিশ ক্লাব, খেলাধুলার সংগঠন, সাহিত্য সংগঠন ইত্যাদি বিষয়েও খোঁজখবর নিতে পারো। পড়াশোনার পাশাপাশি একজন ভালো শিক্ষার্থীর এসব ক্ষেত্রেও মনোযোগী হওয়া উচিত। যার যে-বিষয়ের প্রতি ঝোঁক আছে, সে সেখানে সময় দিতে পারো।

সবার কলেজ-জীবনের জার্নি স্বাচ্ছন্দ্যে ভরে উঠুক এই কামনা করি।


কাপড়ে রং লেগে গেলে…

যদি সাদা জামায় রং লাগে তা হলে সেটা থেকে রং তোলার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নন ক্লোরিন ব্লিচ
আপডেটেড ১ আগস্ট, ২০২৩ ১৯:২৪
চলতি হাওয়া ডেস্ক

সাদা জামার সঙ্গে অন্য কোনো রঙের জামা ভিজিয়েছেন ধোয়ার জন্য। ব্যস সাদা জামায় লেগে গেল রং! অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত হালকা রঙের জামায় গাঢ় রঙের জামার রংও লাগতে পারে আলাদা না ভেজানো হলে। জামা থেকে রং তোলা না গেলে সে জামাটাই চলে যায় বাতিলের খাতায়। তাই জেনে নিন ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি, যা দিয়ে কাপড়ের রং লেগে গেলে তোলা যাবে সহজেই-

  • নরম ব্রিসলের কোনো টুথব্রাশে টুথপেস্ট লাগিয়ে নিন। রং লাগা জামার ওপর ঘষতে থাকুন। রং উঠে গেলে ধুয়ে নিন।
  • যদি সাদা জামায় রং লাগে তা হলে সেটা থেকে রং তোলার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নন ক্লোরিন ব্লিচ। সাদা পোশাক গরম পানিতে নন ক্লোরিন ব্লিচ দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • এক বালতি ঠাণ্ডাপানিতে আধকাপ ভিনেগারের সঙ্গে ১ চা-চামচ ডিটারজেন্ট মেশান। এই পানিতে ৩০ মিনিট জামা ভিজিয়ে রেখে তারপর ধুয়ে ফেলুন। রং তোলা সহজ হবে।
  • লেবুর রস ও খাবার সোডা একসঙ্গে মিশিয়ে দাগের ওপর ঘষুণ। দাগ উঠে যাবে।


শরীর ঠাণ্ডা করা দুই শরবত

পাকা আমের লাচ্ছি
আপডেটেড ১ আগস্ট, ২০২৩ ১৯:২৪
তাহ্‌মিনা জামান

গরমের দাবদাহে কমবেশি সবাই ক্লান্ত। বাইরে থেকে ফিরে এসে প্রাণ ঠাণ্ডা করা এক গ্লাস শরবত হলে যেন সোনায় সোহাগা। ঝটপট তৈরি করা যায় সুস্বাদু ও পুষ্টিকর দুই পানীয়ের রেসিপি জেনে নিন। রেসিপি দিয়েছেন তাহ্মিনা জামান

পেস্তা বাদামের শরবত

উপকরণ

ঠাণ্ডা দুধ- ১ লিটার

পেস্তা বাদাম কুচি- ১ কাপ

চিনি- স্বাদ অনুযায়ী

বরফ কুচি- ১ কাপ

জাফরান – কয়েক টুকরো

পেস্তা বাদামের শরবত

প্রণালি

প্রথমে পেস্তা বাদাম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। ২ ঘণ্টা পর বাদামগুলো পানি থেকে তুলে ফেলুন। এবার ব্লেন্ডারে বাদামসহ সব উপকরণ দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে মজাদার ঠাণ্ডা পেস্তা বাদামের শরবত। পরিবেশন করার সময় শরবত গ্লাসে ঢেলে উপরে আরেকটু জাফরান আর বাদাম কুচি দিয়ে দিন।

পাকা আমের লাচ্ছি

উপকরণ

টক দই বা মিষ্টি দই ৪-৬ টেবিল চামচ

গুড়া দুধ ৩-৪ টেবিল চামচ

আম পরিমাণমতো

চিনি ৬-৮ টেবিল চামচ

পরিমাণমতো বরফ কুচি

ঠাণ্ডা পানি

পছন্দমতো পরিমাণে বাদাম (বিভিন্ন রকম- পেস্তা, কাজু ইত্যাদি)

প্রণালি

ব্লেন্ডারে সব উপকরণ একসঙ্গে নিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। মনে রাখবেন, দইয়ের পরিমাণ যতো বেশি হবে, লাচ্ছি ততো ঘন ও সুস্বাদু হবে। ভালোভাবে ব্লেন্ড করা হয়ে গেলে পানি মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়ুন।

লাচ্ছি পরিবেশন করার আগে সাজিয়ে নেয়ার জন্য কিছু উপকরণ যোগ করতে পারেন । যেমন- বাদাম, লেবুর গোল কাটা অংশ ইত্যাদি। এবার আপনার পছন্দমতো গ্লাসে পরিবেশন করুন মজাদার লাচ্ছি।


বর্ষার দিনে আঁখি যুগলের সাজকথা

চোখ যেহেতু ভীষণ স্পর্শকাতর অঙ্গ, তাই বর্ষার দিনে সাজের সময় সচেতন থাকতে হবে। মডেল: নাজিফা তুষি
আপডেটেড ১ আগস্ট, ২০২৩ ১৯:১৭
তানজিনা আকতারী

‘ঝিরি ঝিরি কাঁপে কালো নয়ন-পল্লব’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর লেখা ‘১৪০০ সাল’ কবিতায় এভাবেই নারীর চোখের বন্দনা করেছেন। কোনো কবি আখ্যা দিয়েছেন পিঙ্গল আঁখি, পটোল চেরা চোখ, হরিণী নয়না। কতই না স্তুতিবাক্য এই নেত্রযুগলকে কেন্দ্র করে। ধনুকের মতো বাঁকা ভ্রু-জোড়াও যুক্ত হয়েছে নারী সৌন্দর্যের অংশ হিসেবে। এত প্রশংসাবাক্য শুনে মেয়েরা মনের আনন্দে যুগ যুগ ধরেই সাজিয়ে চলেছে তাঁদের চোখ জোড়াকে নানা সাজসজ্জায়।

এই মেঘ, এই বৃষ্টি নয়তো ভ্যাপসা গরম। মেঘ-বৃষ্টির এমন লুকোচুরি খেলায় সাজসজ্জা নষ্ট হয়ে যায় সহজেই। আর চোখ যেহেতু ভীষণ স্পর্শকাতর অঙ্গ, তাই বর্ষার দিনে সাজের সময় সচেতন থাকতে হবে। কাজলটানা ঘন কালো চোখ সবাইকে আকর্ষণ করে। চোখ ছোট যাদের, তাদের পুরু করে কাজল লাগালে চোখ আরও ছোট দেখাবে। বড় চোখে কাজলের পুরু রেখা দারুণ মানানসই।

দিনের বেলা হালকা করে কিন্তু রাতে গাঢ় করে কাজলরেখা টানলে চোখ হয়ে ওঠে মোহনীয়। কিন্তু আচমকা ভিজিয়ে দেয়া বৃষ্টিতে লেপ্টে যেতে পারে সাধের কাজলটানা চোখ। তাই কেনার সময় ওয়াটারপ্রুফ কাজল দেখে কিনবেন। আর কাজলরেখা টানার সময় চোখের নিচে পাউডার দিলেও কিছুটা উপকার হবে। এ ছাড়া কেউ চাইলে পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে যে আইশ্যাডো মানাবে, তা বেছে নিতে পারেন চোখ সাজানোর কাজে। এ ক্ষেত্রে পছন্দের রঙের আইশ্যাডো দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে পারেন চোখের পাতা।

পছন্দের রঙের আইশ্যাডো দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে পারেন চোখের পাতা

অনেকেই চকচকেভাবে চোখ সাজাতে পছন্দ করেন। কিন্তু বাতাসের আদ্রতা থাকার কারণে গ্লিটারমিশ্রিত আইশ্যাডো ঠিকভাবে চোখের পাতায় বসতে চায় না। তাই বর্ষার দিনের এমন আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে গ্লিটার আইশ্যাডো এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে চাইলে আইলাইনার আর পানিরোধী মাসকারা লাগাতে পারেন অনায়াসেই। বৃষ্টির পানিতে মাসকারা গলে গিয়ে চোখের চারপাশে ছড়িয়ে বাজে দেখানোর সম্ভাবনা থাকে। মাসকারা দিতে চাইলেও সেটি যাতে পানিরোধী হয়, নজর রাখতে হবে সেই বিষয়েও।

চন্দ্রাকৃতির দীর্ঘ পল্লব দেখাতে চাইলে ভ্রু-যুগলকে সুন্দর ও কিছুটা মোটা করে এঁকে নিলে ভালো দেখাবে। কালচে ব্রাউন রঙের ওয়াটারপ্রুফ কাজল সে ক্ষেত্রে দারুণ কাজের। চোখের সাজ শেষ হলে সেটিং স্প্রে ব্যবহার করতে ভুলবেন না। এতে বেড়াতে গিয়ে গরমে ঘেমে নেয়ে একাকার হলেও মেকআপ সরে যাওয়ার আতঙ্ক আর থাকবে না।


অটুট থাকুক বন্ধুত্ব

দেশি পোশাক ব্র্যান্ডগুলো বন্ধু দিবসকে ঘিরে নানা আয়োজন রাখে। ছবি কৃতজ্ঞতা: কে-ক্রাফট
আপডেটেড ১ আগস্ট, ২০২৩ ১৯:০৪
চলতি হাওয়া ডেস্ক

বন্ধুদের জন্য প্রতিটি দিনই বিশেষ হয়ে ওঠে। তাই বলা যায়, বন্ধু দিবস তো প্রতিদিনই। তবুও বন্ধুদের জন্য, বন্ধুদের সঙ্গে একটা দিন বিশেষভাবে পালন করা যেতেই পারে। তাই এই সুন্দর সম্পর্ক উদযাপনের জন্য প্রতি বছরের আগস্ট মাসের প্রথম রোববার ফ্রেন্ডশিপ ডে উদযাপিত হয়ে আসছে।

বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা বিনিময় গ্রিটিংস কার্ডে অথবা সোশ্যাল মিডিয়ার মেসেজ ও স্ট্যাটাস দিয়ে হতে পারে। পাশাপাশি প্রিয় বন্ধুটিকে অন্য কোনো বিশেষ উপহার দিতে পারলে কেমন হয়? দিতে পারেন মিনিংফুল কোনো গিফট। বিশেষ দিনটিকে আরও বেশি স্মৃতিময় করে তুলবে ছোট্ট একটা গিফট।

বিশেষ দিনটিকে আরও বেশি স্মৃতিময় করে তুলবে ছোট্ট একটা গিফট

আসছে ফ্রেন্ডশিপ ডে উপলক্ষে বন্ধুকে দিতে পারেন পছন্দের কিংবা প্রয়োজনীয় এমন কোনো গিফট, যেমন নোট বুক, ওয়ালেট, পার্স, সুভেনির, হোম ডেকর আইটেম, জুয়েলারি, ফটো ফ্রেম অথবা অ্যালবাম, মগ, ফ্লাওয়ার ভাস, পারসনাল কেয়ার অথবা প্রসাধনী ছাড়াও অনেক কিছু। বন্ধু যদি বই পড়তে ভালোবাসে তা হলে তার হাতে তুলে দিন আপনার পছন্দের কোনো বই কিংবা তার পছন্দের লেখকের বই। এখন কে ক্র্যাফটেও মিলবে এমনই পছন্দের বইয়ের সংগ্রহ।

বন্ধুকে অনেক উপহারই দেয়া যায়। মেয়ে বন্ধু হলে সুন্দর রুচিশীল কোনো পোশাক কিনে উপহার দিতে পারেন। যেমন সালওয়ার কামিজ, টিউনিক, কুর্তি, টপস, শাড়ি। আর ছেলে বন্ধুর ক্ষেত্রে ফরমাল শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্ট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, পাঞ্জাবি কিংবা ফতুয়া।

দেশি পোশাক ব্র্যান্ডগুলো বন্ধু দিবসকে ঘিরে নানা আয়োজন রাখে। কে-ক্রাফট, আড়ং, দেশি দশ এর বিভিন্ন আউটলেটে ইতোমধ্যেই বন্ধু দিবসের উপহারের পসরা বসেছে। বন্ধু দূরে থাকলে তার কাছে উপহার পাঠিয়ে দেয়ার সুব্যবস্থাও রাখছে অনেক ব্যান্ড, যার মধ্যে কে-ক্রাফট অন্যতম। ওয়েবসাইট বা অনলাইন পেজে অর্ডারের মাধ্যমে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।


চোখের ফোলাভাব দূর করতে

আপডেটেড ১৯ জুলাই, ২০২৩ ২২:১৪
চলতি হাওয়া ডেস্ক

চোখের ফোলাভাব দূর করতে জেনে নিন ছোট তিনটি টিপস। কাজের ফাঁকেই সেরে ফেলতে পারবেন ফোলাভাব কমানোর এ প্রক্রিয়াগুলো:

  • রাতে সবুজ চা পান শেষে টি-ব্যাগ ফেলে না দিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠাণ্ডা টি-ব্যাগ চোখে রেখে দিন ৫-৬ মিনিট। একই কাজ করতে পারেন বাইরে থেকে ফিরে এসেও। চোখের ক্লান্তি তো দূর হবেই, সেই সঙ্গে ফোলাভাবও বিদায় নেবে।
  • শসা কুচি করে একটা আইস ট্রেতে রেখে দিন ফ্রিজে। সারা দিন পর বাড়ি ফিরে একটা পাতলা কাপড়ে ঠাণ্ডা শসার কুচি নিয়ে চোখের ওপর দিয়ে রাখুন। দেখবেন দ্রুতই চোখের ফোলাভাব বিদায় নেবে।
  • বরফের টুকরা বা সারা রাত ফ্রিজে রেখে দেয়া চামচ চোখেরনিচে ব্যবহার করলে প্রদাহ বা ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।


banner close