বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ডাক্তারদের কর্মস্থলেই চেম্বারের ব্যবস্থা হচ্ছে

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘ইনস্টিটিউশনাল প্রাকটিস বিষয়ক এক জরুরি সভায়’ সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

অফিস সময়ের বাইরে কর্মস্থলে বসেই যাতে চিকিৎসকরা রোগী দেখতে পারেন সে বিষয়ে ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১ মার্চ থেকে পাইলট কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই ‘ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস’ কার্যক্রম শুরু হবে।

রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘ইনস্টিটিউশনাল প্রাকটিস বিষয়ক এক জরুরি সভায়’ সভাপতির বক্তব্যে একথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা অফিস সময়ের বাইরে সরকারি হাসপাতালেই চেম্বারে রোগী দেখতে পারবেন। আর এতে চিকিৎসক নেতারাসহ সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়েছে সরকার। কাজটি শুরু করতে দ্রুতই একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে দেয়া হচ্ছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস অর্থ্যাৎ সরকারি হাসপাতালেই রোগী দেখার এ কার্যক্রম শুরু হলে রোগীরা আরও বেশি চিকিৎসাসেবা পাবেন। আর তখন চিকিৎসকদের এ বিষয়ে আরও সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। সেই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালেই কাজটি শুরু হলে দেশের লাখ লাখ মানুষ বিভিন্ন ক্লিনিক, ফার্মেসিতে ডাক্তার দেখানোর ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবেন।’

জাহিদ মালেক বলেন, ১ মার্চ থেকে দেশের ৫০টি উপজেলা, ২০টি জেলা এবং পাঁচটি মেডিকেল কলেজে এই সেবা শুরু হবে। দেশের দুর্বল জায়গা হলো উপজেলা হাসপাতালগুলো। সরকার সেগুলো উন্নত করার চেষ্টা করছে। এগুলোতে প্রয়োজনীয় লোকবল ও যন্ত্রপাতি দেয়া হবে।

সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সারাহ ইসলামের মরোনোত্তর অঙ্গদানের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন সারাহ থেকে চারজন মানুষের বেঁচে যাওয়া-এটা কতোটা মহৎ কাজ হয়েছে।’

মন্ত্রী সবাইকে মরণোত্তর অঙ্গদানে উৎসাহিত করেন।

সভায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তাফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

রং ফর্সাকারী ক্রিমে বিপদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০৩
ডা. সৈয়দ সামিনা মাহ্জাবিন

‘আমি ত্বক ফর্সা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা পুড়ে গেল।’ এমন কথা প্রতিদিন অন্তত একজন রোগীর কাছ থেকে হলেও আমাদের শুনতে হচ্ছে।

এসব রোগীর মধ্যে এমন অনেকে আছেন, যারা মানসিকভাবে হতাশ হয়ে গিয়েছেন। কারণ তারা রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার করে উপকার পাননি, বরং ভালো ত্বকটা আরও খারাপ করেছেন। চিকিৎসকের কাছে এসেছেন সেসব ক্রিম নিয়ে, যেগুলো তারা কোনো ধরনের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই বাজার থেকে কিনেছেন।

ফর্সা হওয়ার আশায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বাজারের এসব ক্রিম মেখে ভয়ংকর সমস্যায় ভুগতে থাকা মানুষের সংখ্যা এখন নেহাত কম নয়।

প্রকৃত সত্য হচ্ছে, রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহারে গায়ের রং খুব কমই ফর্সা হয়। এরপর ব্যবহার বন্ধ করে দিলেও ত্বকে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দেয়। ত্বকের কোথাও সাদা আর কোথাও কালো হয়ে যেতে পারে।

কেন ক্ষতিকর

ফর্সা হওয়ার ক্রিমে মার্কারি, লেড, স্টেরয়েড, নানা প্রিজার্ভেটিভসহ অজস্র রাসায়নিক থাকে। এসব রাসায়নিকের কারণে ত্বকে ফুসকুড়ি হওয়া, রং বদলে যাওয়া, কালশিটে দাগ পড়া, ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাল সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যাওয়া, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, বিষণ্ণতা, মানসিক অস্থিরতা থেকে বৈকল্য, স্নায়ুজনিত সমস্যা হতে পারে।

স্টেরয়েড মেশানো ক্রিম মুখে মাখলে পাতলা হয়ে যেতে পারে ত্বক, অতিরিক্ত সূর্য-সংবেদী হতে পারে ত্বক, ব্রণ ও অবাঞ্ছিত লোম, মুখে মেছতা পড়তে পারে। পাশাপাশি মুখে, গলায়, হাতে বিভিন্ন রকমের অ্যালার্জি, র‍্যাশ হয়, ত্বক শুকিয়ে নিষ্প্রাণ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

যারা নিয়মিত ফর্সা হওয়ার ক্রিম মাখেন, তাদের চোখে জ্বালা থেকে শুরু করে নানা রকম অসুবিধা হতে পারে। মার্কারি থেকে ত্বকের ক্ষতির পাশাপাশি সফট টিস্যুরও সমস্যা হয়, এমনকি ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও রয়েছে।

আবার অনেক রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহারের কারণে ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে তাই বাজারের নামী, বেনামী রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার না করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে রেগুলার স্কিন কেয়ার রুটিন করা উচিত।

লেখক: স্কিনলজিক লেজার অ্যান্ড এস্থেটিক সেন্টার


জানুয়ারি মাসে ৪৩১ জনের করোনা শনাক্ত

করোনাভাইরাস
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২২:৩১
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে ৪৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ২০২০ সালের মার্চ মাসে দেশে ৫১ জনের শরীরে ভাইরাসটি পাওয়া যায়। সংক্রমণ শুরুর পর কোনো এক মাসে শনাক্তের সংখ্যা সেটিই ছিল সর্বনিম্ন। আর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শনাক্তের সংখ্যা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। আর এ সময় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২ জন। তাদের নিয়ে চলতি বছরের প্রথম মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৪৩১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১২ জন। তাদের নিয়ে গত জানুয়ারি মাসে শনাক্ত হলো ৪৩১ জন। এটা দেশে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন শনাক্ত রোগী সংখ্যা। ২০২০ সালের ৮ মার্চে দেশে প্রথম করোনাতে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। সে মাসে করোনাতে শনাক্ত হয়েছিল ৫১ জন। মহামারিকালে সেটাই ছিল একমাসে সর্বনিম্ন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। সে হিসেবে গত জানুয়ারিতে করোনা শনাক্ত হয়েছে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে শনাক্ত হয় ৫৪০ জন আর নভেম্বরে শনাক্ত হয় এক হাজার ৩৪৫ জন।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২ হাজার ২৬০ জনের, বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ। তার আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল শূন্য দশমিক ৭১ শতাংশ। করোনা শনাক্ত হওয়া ১২ জনের মধ্যে ১০ জন ঢাকার, আর বাকি দুইজন পাবনা জেলার বাসিন্দা। দেশে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসেবে করোনাতে শনাক্ত হয়েছে ২০ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৮ জন, আর এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২৯ হাজার ৪৪২ জন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত তিন রোগী শনাক্তের তথ্য জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চে করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রথম রোগীর মৃত্যু হয়। করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডবে ২০২২ সালের ২৮ জুলাই দেশে একদিনে ১৬ হাজার ২৩০ জন রোগী শনাক্ত হয়। আর ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট একদিনে ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এটিই দেশে মহামারিতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।


মলদ্বারের রক্তক্ষরণে চিকিৎসা কী

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:১৭
ডা. রাজীব দে সরকার

অনেকেরই পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়ার সমস্যা হয়। কখনো পায়খানার সঙ্গে রক্ত জড়িয়ে থাকে, কখনোবা প্যানে বা কমোডে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত লেগে থাকে। অনেক সময় রক্ত পায়খানা ছাড়াও ঝরতে পারে, যা সাধারণত জামা-কাপড়ে লেগে থাকে। আবার পায়খানা শেষ হওয়ার পরও ফোঁটা ফোঁটা রক্ত পড়তে পারে। এ সময় অনেকেরই অসহ্য ব্যথা হয়। কখনো কখনো ব্যথামুক্ত রক্তক্ষরণের ইতিহাসও পাওয়া যায়।

রোগী যদি প্রাথমিক অবস্থাতেই চিকিৎসকের কাছে আসেন, তখন ওষুধ সেবন ও মলদ্বারে অয়েন্টমেন্ট দিয়েই রোগ নির্মূল করা সম্ভব। কিন্তু যথাসময়ে এই চিকিৎসা না নিলে অস্ত্রোপচার ছাড়া কিছুই করার থাকে না। সাধারণত শরীরের অর্ধেকটা অবশ করে (স্পাইনাল অ্যানেসথেশিয়া) এই সার্জারি করি আমরা।

ফিস্টুলা-ইন-অ্যানো: মলাশয়ের সঙ্গে যদি মলদ্বারের বাইরের পরিবেশের কোনো অস্বাভাবিক রাস্তা তৈরি হয়ে যায়, সেটাকে আমরা বলি পেরি-অ্যানাল ফিস্টুলা বা ফিস্টুলা-ইন-অ্যানো। মলাশয়ের ভেতরের সঙ্গে এই অ্যাবনরমাল কমিউনিকেশন বাইরের চামড়ায় হতে পারে। আবার নিকটবর্তী কোনো অঙ্গ যেমন, মেয়েদের ক্ষেত্রে ভ্যাজাইনার সঙ্গেও হতে পারে। ফিস্টুলার সঙ্গে অনেক রোগ-সম্পর্কিত থাকতে পারে। যেমন টিউবারকুলোসিস, ক্রনস ডিজিজ, অ্যাকটিনো-মাইকোসিস, ফরেন বডি, ম্যালিগনেন্সি, ইনফেকশন বা অ্যাবসেস ইত্যাদি।

এই রোগে আক্রান্ত রোগীর মলদ্বারের রক্তক্ষরণের পাশাপাশি ফিস্টুলার ফুটো দিয়ে বা মলদ্বারের ভেতর থেকে পুঁজ বের হতে পারে। অনেক সময় পুঁজ ও রক্ত একসঙ্গে ঝরতে পারে। সঙ্গে ব্যথাও থাকে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে জ্বরও আসতে পারে।

ফিস্টুলা-ইন-অ্যানোকে মোটা দাগে সিম্পল ফিস্টুলা এবং কমপ্লেক্স ফিস্টুলা- এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। রোগের তীব্রতা বা ফিস্টুলা ট্র্যাক্টের এক্সটেনশন দেখার জন্য আমরা এন্ডো অ্যানাল আল্ট্রাসাউন্ড, ফিস্টুলোগ্রাম অথবা ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ফিস্টুলোগ্রামের এর সাহায্য নিই।

ফিস্টুলা হয়ে গেলে অস্ত্রোপচার ছাড়া সাধারণত ভালো করা যায় না। রোগী এবং রোগের ধরন বিবেচনায় ফিস্টুলেকটমি, ফিস্টুলোটমি, এলআইএফটি, কাটিং সেটন, ভিএএএফটি, ফিল্যাক (লেজার) ইত্যাদি নানা ধরনের অস্ত্রোপচার করতে হয়। সনাতনী পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক এসব অস্ত্রোপচার আমাদের দেশেই এখন প্রচুর হচ্ছে এবং রোগীরা সম্পূর্ণ সুস্থ জীবনযাপন করছেন। তাই মলদ্বারের কোনো রোগ নিয়ে সংকোচ না করে লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া মাত্র দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মলদ্বারের রক্তক্ষরণের আরও একটি বড় কারণ পাইলস বা হেমোরয়েড, এ বিষয়ে পরের পর্বে আলোচনা করব। সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

লেখক: জেনারেল সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


জোড়া শিশু নুহা-নাবার প্রথম সফল অস্ত্রোপচার

শিশু নুহা ও নাবা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

কুড়িগ্রামের মেরুদণ্ড জোড়া লাগানো ৯ মাস ১২ দিনের শিশু নুহা ও নাবার প্রথম ধাপের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর শিশু দুটি ভালো আছে বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘নুবা ও নাবার চিকিৎসার প্রথম ধাপের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ওরা ভালো আছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নুহা ও নাবার চিকিৎসার খরচ বহন করছেন জানিয়ে অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শিশু দুটির চিকিৎসার সব খোঁজ-খবর তিনি নিচ্ছেন।’

বিএসএমএমইউ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২৯ জানুয়ারি সকাল ৯টায় থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত শিশু দুটির অস্ত্রোপচার হয়। নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের ডিন ও নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন। ছয় ঘণ্টা ধরে চলা এ অস্ত্রোপচারে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. দেবাশীষ বণিকসহ ১০ জন চিকিৎসক অংশ নেন।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন বলেন, মেরুদণ্ড ও স্পাইন জোড়া লাগা দুই শিশুর অস্ত্রোপচার অত্যন্ত জটিল, স্পর্শকাতর ও সময়সাপেক্ষ। বেশ কয়েক ধাপে অস্ত্রোপচার করা লাগবে। নিউরো সার্জন, ইউরোলজিস্টস, শিশু সার্জন, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জন, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট, শিশু পুষ্টিবিদসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকের প্রয়োজন হবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত রোববার তাদের প্রথম ধাপের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

মেরুদণ্ডে জোড়া লাগানো যমজ শিশু নুহা ও নাবা চিকিৎসাধীন রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেনের অধীনে। তাদের চিকিৎসায় ১৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেনকে প্রধান করে সেখানে রয়েছেন শিশু সার্জারি, প্লাস্টিক ও রিকন্সট্রাকটিভ সার্জারি, ভাসকুলার সার্জারি, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন, অ্যানেসথেসিয়াসহ অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসকরা।

নুহা-নাবার অস্ত্রোপচার নিয়ে আশাবাদী হলেও তারা একেবারেই ঝুঁকিমুক্ত নয় জানিয়ে এর আগে অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন জানিয়েছিলেন, হয়তো একজন পুরোপুরি সুস্থ থাকলেও আরেকজন নিউরোলজিক্যাল কিছু সমস্যায় ভুগতে পারে। তবে পৃথিবীতে এ ধরনের অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ রয়েছে এমন উদাহরণও কম নয়।


নিপসমের পরিচালক হলেন মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা

ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের (পার-২ শাখা) সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আলমগীর কবীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা নিপসমের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজের স্থলাভিষিক্ত হবেন। তাকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার/ স্বাস্থ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাকে নিপসমের পরিচালক হিসেবে বদলি/পদায়ন করা হলো।

অধ্যাপক সেব্রিনা ফ্লোরা ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) হিসেবে নিয়োগ পান। তার আগে তিনি ২০১৬ সালে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ( আইইডিসিআর) পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন। তার নেতৃত্বে দেশে নিপাহ, জিকা ভাইরাস, মধ্যপ্রাচ্যের শ্বাসযন্ত্রের সিন্ড্রোম সম্পর্কিত ভাইরাস নিয়ে গবেষণা হয়।

করোনাকালে প্রতিদিন করোনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নানা তথ্য ও করোনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর ও নানারকম পরামর্শ দিয়ে দেশের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন সেব্রিনা ফ্লোরা। নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিতি ও স্পষ্ট বক্তব্যের কারণে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

গত বছর কোভিড-১৯ টিকা বিষয়ক জাতীয় কারিগরি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সেব্রিনা ফ্রোরার শারীরিক অসুস্থতা ধরা পড়লে তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। ভর্তি করা হয় সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে পাঁচবার নেক্রোসেক্টোমি করা হয়ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ভেন্টিলেটরে ছিলেন। এরপর গত ২৯ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন।

অধ্যাপক সেব্রিনা ফ্লোরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করার পর জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) থেকে রোগতত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। পরে তিনি সেখানে সহকারী অধ্যাপক হিসেবেও কাজ করেছেন। তিন বছর কাজ করেছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলে (বিএমআরসি) সহকারী পরিচালক হিসেবে। পরে তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। সেব্রিনা ফ্লোরা ফাউন্ডেশন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের ফেলো।


মধ্যবয়সের খাদ্যাভ্যাস

আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৮:৫৩
সিরাজাম মুনিরা

সাধারণত মধ্যবয়স বলতে ৩১ থেকে ৫০ বছর বয়সকে বুঝানো হয়। জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো এই মধ্যবয়স। এই পর্যায়ের প্রাথমিক সময়কাল জীবনের অন্য সব সময়ের চেয়ে কিছুটা আলাদা। উদাহরণস্বরূপ, অনেক মহিলা মধ্যবয়সের শুরুর দিকের বছরগুলোতে গর্ভাবস্থা, প্রসব এবং স্তন্যপান করানোর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। জীবনের এই পর্যায়ের শেষ ভাগে মহিলারা প্রি-মেন্সট্রুয়াল সিনড্রোমের মুখোমুখি হন এবং মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে মহিলাদের হাড়ের ঘনত্ব হ্রাসসহ বেশ কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়।

পুরুষদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এই সময়ে পরিবারের দায়িত্ব নিতে গিয়ে বেশ পরিশ্রম করতে হয় দিনভর। পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, হাঁটুতে ব্যথা, শরীরের ক্লান্তিসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। মানবজীবন চক্রের এই পর্যায়ে প্রাপ্ত বয়স্করা বার্ধক্যের প্রথম বাহ্যিক লক্ষণগুলো অনুভব করতে শুরু করেন, বলিরেখা দেখা দিতে শুরু করে তাদের মুখে। এ ছাড়াও হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা শুরু হয় এবং শরীরে চর্বি জমে বিশেষ করে তলপেটে।

এতক্ষণ তো মধ্যবয়স্কদের নানা সমস্যা ও জটিলতার কথা বলা হলো, এগুলো শুনে ভয় পেয়ে গেলেন? ভয় পাওয়ার কারণ নেই। সঠিক ডায়েট ও লাইফস্টাইল মেইনটেইন করলে মধ্যবয়সের এসব বাধা অতিক্রম করে আপনিও থাকতে পারবেন তরুণের মতো শক্তিশালী এবং বার্ধক্য ঠিক এই মুহূর্তেই আপনার দরজায় কড়া নাড়বে না।আজকের লেখায় রইলো পাঁচটি টিপস, যেগুলো মেনে চললে মধ্যবয়সের জটিলতাগুলো খুব সহজেই আপনাকে ঘিরে ধরবে না -

আদর্শ ওজন বজায় রাখা: শরীর সুস্থ থাকার প্রধান উপায় হচ্ছে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। ওজন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে অনেকগুলো শারীরিক সমস্যার উৎপত্তি ঘটবে। ডায়াবেটিস, হার্ট ডিজিজ থেকে শুরু করে ঘটতে পারে স্ট্রোকের মতো ঘটনাও। তাই আপনার অতিরিক্ত ওজন থাকলে এখনই সচেতন হন। খাদ্যতালিকা থেকে ফাস্টফুড, প্রসেসড ফুড, বাইরের খাবারসহ বাদ দিয়ে দিন সব অপ্রয়োজনীয় খাবার। প্রয়োজনে সহায়তা নিন একজন দক্ষ পুষ্টিবিদের!

সঠিক পুষ্টিকর খাবার: মধ্যবয়সী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অন্য সব বয়স থেকে খাদ্যাভ্যাস কিছুটা সতর্কের সঙ্গে বাছাই করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তারা গুরুত্ব দেবে যেসব খাবারের ওপর তা হলো-
হোল গ্রেইন/কার্বোহাইড্রেট: সাদা চাল, আটার পরিবর্তে লাল চাল ও লাল আটা রাখবে খাদ্যতালিকায়। প্যাকেটজাত খাবারের পরিবর্তে খেতে হবে বাসায় বানানো খাবার। সাদা চিনি যতটা সম্ভব পরিহার করতে হবে। প্রয়োজনে মধু খাওয়া যেতে পারে।

প্রোটিন ও ফ্যাট: প্রোটিনের জন্য মুরগি, মাছ ও ডিম উৎকৃষ্ট উৎস। অনেক সময় মায়েরা নিজেরা না খেয়ে সন্তানের জন্য রেখে দেন, যা মোটেও ঠিক নয়। মায়ের পুষ্টি নিশ্চিত করতে তাকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় প্রোটিন খেতে হবে। এ ছাড়া ফ্যাটের জন্য স্বাস্থ্যকর তেল, বীজ ও বাদামজাতীয় খাবার রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়।

ভিটামিন ও মিনারেলস: প্রয়োজনীয় মিনারেলসের চাহিদাপূরণ করতে খাদ্যতালিকায় অবশ্যই কয়েক কালারের মৌসুমি ফল ও সবজি রাখতে হবে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এ সময় ত্বকে দেখা দেয়া বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করবে এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।
এ ছাড়া হাড়ের ক্ষয় রোধে ভিটামিন-ডি, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের ওপর জোর দিতে হবে। ভিটামিন-ডি-এর জন্য প্রতিদিন রোদে থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ম্যাগনেশিয়ামের জন্য পালংশাক, লাল চাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়। ক্যালসিয়ামের জন্য দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য খেতে হবে।

• খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফাইবার জাতীয় খাবার রাখতে হবে। সে জন্য শাকসবজি খেতে হবে পরিমাণমতো।
• রক্তের ধমনীতে চর্বি জমা রোধ করতে খেতে হবে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার। ওমেগা-৩-এর মধ্যে সামুদ্রিক মাছ, মাছের তেল ও স্পিরুলিনা উল্লেখযোগ্য। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ওমেগা-৩ থাকলে ঠেকানো যাবে হার্ট-অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো ডিজিজ।
• কফি-দুধ চা, অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
• প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট এক্সারসাইজ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। এ ছাড়াও প্রয়োজনে একজন পুষ্টিবিদের শরণাপন্ন হতে হবে।

তাই আপনি যদি ইতিমধ্যে মধ্যবয়সে পা দিয়ে থাকেন, তাহলে উল্লেখিত উপদেশগুলো মেনে চলার চেষ্টা করবেন। আশা করা যায়, এতে করে আপনার আগত বার্ধক্য এবং শারীরিক অসুস্থতা কিছুটা হলেও দেরি করে আসবে।

লেখক: পুষ্টিবিদ, ডায়েট কনসালটেন্ট ও স্থূলতা ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ
ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


মলদ্বারের রক্তক্ষরণ: ফিস্টুলা না ফিশার?

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডা. রাজীব দে সরকার

প্রতিদিন আমাদের হাসপাতালের আউটডোরে এবং চেম্বারে প্রচুর রোগী আসেন যাদের পায়খানার সঙ্গে রক্ত যায়। কখনো পায়খানার সঙ্গে রক্ত জড়িয়ে থাকে, কখনো-বা প্যানে বা কমোডে রক্ত ফোঁটা ফোঁটা লেগে থাকে। অনেক সময় রক্ত পায়খানা ছাড়াও ঝরতে পারে, যা সাধারণত জামা-কাপড়ে লেগে থাকে। আবার পায়খানা শেষ হবার পরও ফোঁটা ফোঁটা রক্ত পড়তে পারে। এ সময় অনেকেরই অসহ্য ব্যথা হয়। কখনো কখনো ব্যথামুক্ত রক্তক্ষরণের হিস্ট্রিও পাওয়া যায়। অবস্থা যেমনই হোক ওপরের সবগুলো ঘটনা আমাদের রোগী বা তার স্বজনদের জন্য ভীতিকর ও দুশ্চিন্তার।

মলদ্বারে আক্রান্ত যেকোনো রোগী বড় কোনো রোগের দুশ্চিন্তা নিয়েই আমাদের কাছে আসেন। বুঝতেই পারছেন, রোগটা যেহেতু মলদ্বারের এবং রোগী তার লজ্জা ভেঙ্গেই চিকিৎসকের কাছে এসেছেন, সুতরাং শারীরিকভাবে প্রচণ্ড কষ্টে না থাকলে রোগীরা সাধারণত আমাদের কাছে আসেন না। রোগের তীব্রতা যখন অনেক বেশি হয়, তখনই রোগীরা আমাদের শরণাপন্ন হন। তাই চিকিৎসক হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো রোগীকে সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষা করে রোগীকে তার রোগ সম্পর্কে জানানো এবং তাকে রোগের ধরন, বিস্তার, জটিলতা ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে যথাযথ কাউন্সেলিং করা।

মলদ্বার মানবদেহের ভাইটাল অর্গান না হলেও প্রচণ্ড সেন্সিটিভ একটা দেহাংশ। মানবদেহের এই স্থানে কোনো রোগ বা উপসর্গ দেখা দিলে লজ্জা বা দ্বিধার কারণে রোগীরা সাধারণত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে চান না। আবার খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইলের কারণে এই মলদ্বারে নানা রোগ বাসা বাঁধে।

আজ মলদ্বারের রক্তক্ষরণের বিষয়ে সংক্ষেপে রোগীদের কিছু জিজ্ঞাসার উত্তর দেবার চেষ্টা করব। মলদ্বারের রক্তক্ষরণের কারণগুলো আমরা দুই ভাগে ভাগ করে বলতে পারি। (১) মলদ্বারে ব্যথাসহ রক্তক্ষরণ আর (২) ব্যথাহীন রক্তক্ষরণ। মলদ্বারে ব্যথাসহ রক্তক্ষরণের কারণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ক্রনিক অ্যানাল ফিশার এবং ফিস্টুলা-ইন-অ্যানো। এই পর্বে আমরা ব্যথাযুক্ত রক্তক্ষরণের এই দুইটি কারণ নিয়ে কথা বলব।

ক্রনিক অ্যানাল ফিশার: ক্রনিক অ্যানাল ফিশার হলো মলদ্বারের মুখ বাইরে থেকে ভেতরের দিকে লম্বালম্বিভাবে ছিঁড়ে যাওয়া। এই ছিঁড়ে যাওয়ার বেশ কিছু কারণ আছে। তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য বা নিয়মিত শক্ত পায়খানা হওয়া, প্রসব পরবর্তী সময়, প্রসবকালীন মলদ্বারে বেশি প্রেশার পরা, শাক-সবজি ও পানি কম খাওয়া, রেড মিট বেশি পরিমাণে খাওয়া ইত্যাদি।

রোগীর মূল কমপ্লেইন থাকে মলদ্বারের রক্তক্ষরণ (তাজা লাল রক্তক্ষরণ) ও প্রচণ্ড ব্যথা। ব্যথা বর্ণনা করতে গিয়ে রোগীরা অনেক সময় এভাবে বলেন, তাদের মনে হয় পায়খানা করার সময় বা পায়খানা করার পরে মলদ্বারের ভেতরে ‘ছুরির মতো কিছু দিয়ে কেটে ছিঁড়ে যাচ্ছে’ বা ‘কাঁটা কাঁটা লাগছে’। এ ছাড়া হালকা পেটে ব্যথা, বদহজম, মাথাব্যথা ও নিদ্রাহীনতাও এই রোগে দেখা যেতে পারে।

একবার ফিশার হয়ে গেলে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না করা হলে ফিশার আরও বাড়তে থাকে বা আরও ভেতরের দিকে ছিঁড়তে থাকে, একই সঙ্গে বাড়ে রোগীর ভোগান্তি। চিকিৎসা না নিলে টিসু ইসকেমিয়া ও নন-হিলিংয়ের কারণে ধীরে ধীরে ক্রনিক ডিপ ফিশারে পরিণত হয়।

লেখক: জেনারেল সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


সিকেডি রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে ১০ গুণ বেশি

সোমবার বিএসএমএমইউয়ের ‘কিডনি ডিজিজ রিসার্চ গ্রুপ গবেষণা ফলাফল প্রকাশ করে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকতে নিতে হয় ডায়ালাইসিস। কিন্তু গবেষণা জানাচ্ছে, যেসব কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস নিতে হয়, তারা করোনায় আক্রান্ত হলে তাদের ৫০ শতাংশের মৃত্যু সম্ভাবনা থাকে। আবার করোনায় আক্রান্ত ক্রনিক কিডনি ডিজিজের ( সিকেডি) রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চাইতে ১০ গুণ বেশি। আবার কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট অর্থ্যাৎ কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এমন রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি ৫০ শতাংশ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) করোনার দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাব নিয়ে ‘মাল্টিটিউড অব ইস্যুস ইন কোভিড: রেনাল, কার্ডিয়াক অ্যান্ড মেটাবোলিক ইনফ্লুয়েন্স’ ও ‘লং টার্ম হেলথ কনসিকোয়েন্সেস অ্যাজ এ পোস্ট কোভিড-১৯ সিকোয়াল ইন হেলথ কেয়ার ওয়ার্কার্স’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফলে এ তথ্য উঠে আসে।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে ‘কিডনি ডিজিজ রিসার্চ গ্রুপ’এই গবেষণা ফলাফল প্রকাশ করে।

গবেষণায় পাওয়া গেছে, করোনা টিকার কার্যকারিতা কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে এমন রোগীদের অনেক কম। করোনার টিকা নেফ্রাইটিস রোগের পুনরাগম ঘটাতে পারে।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, বিএসএমএমইউর অর্থায়নে ২০২২ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ৮০৪ জন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীর একটি প্রাথমিক গবেষণা পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাাচাার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ গবেষণার তথ্য জানিয়ে বলেন, করোনায় আক্রান্তদের ১২ শতাংশ ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় ভুগছেন। অপরদিকে, করোনায় বাংলাদেশে পেশাজীবীদের মাঝে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা বেশী মৃত্যুবরণ করেছেন। আবার যারা করোনাতে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশ চিকিৎসক এবং ৩৪ শতাংশ নার্স লং কোভিডে ভুগছেন। করোনায় যাদের ডায়াবেটিস ছিল না তাদের ডায়াবেটিস হয়েছে। করোনায় অনেকের মায়োপ্যাথি হয়েছে।

উপাচার্য বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল চিকিৎসকদের গবেষণার কাজ করতে হবে। একবার গবেষণার কাজ করলেই হবে না। ধারাবাহিকভাবে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, ডায়াবেটিস, ওজনাধিক্য, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘ মেয়াদী অসংক্রামক রোগ। অন্যদিকে কোভিড নিউমোনিয়া, একটি সংক্রামক রোগ। কোভিড হলে এই দুই ধরণের রোগের কিছু জটিলতা দেখা যায় এবং একটির মাধ্যমে অন্যটি প্রভাবিত হয়।

তাই কোভিড নিউমোনিয়া হলে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। অপর দিকে যাদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের কোভিড জটিলতাও বেশী হয়।

আরেক গবেষণায় কথা জানিয়ে অনুষ্ঠানে বলা হয়, সকল কোভিড আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ১০ শতাংশের ডায়াবেটিস আছে এবং তাদের ১৫ শতাংশের চিকিৎসাধীন থাকার প্রয়োজন হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, যাদের ওজনাধিক্য, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ আছে তারা কোভিডের টিকা নেবে, কিন্তু অবশ্যই টিকা গ্রহণের সময় রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকতে হবে। তবেই টিকা নেয়ার পর একজন ব্যক্তি কোভিড থেকে সুরক্ষা পাবে।

অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, কোভিড পরবর্তী কিছু জটিলতা নিয়েও রোগীরা আসছেন। তাদেরকে পোস্ট কোভিড বা লং কোভিড সিন্ড্রোম বলা হয়। দুর্বলতা, গায়ে ব্যথা, মাথা ধরা ঘুম কম হওয়া ইত্যাদি সমস্যা নিয়ে রোগীরা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সাথে সাথে কোভিড টিকা গ্রহণের মাধ্যমে কোভিড জটিলতা প্রতিরোধ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।


অন্তঃসত্ত্বা মায়ের খাবার-দাবার

আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৯:০৫
তামান্না চৌধুরী

একজন অন্তঃসত্ত্বা মাকে নিজের প্রয়োজনীয় পুষ্টির পাশাপাশি সন্তানের জন্যও পুষ্টি সংগ্রহ করতে হয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই এ সময় তার বাড়তি খাদ্যের প্রয়োজন হয়। আর অবশ্যই এ খাদ্য হতে হবে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। তবেই সন্তান হবে সুস্থ ও মেধাবী।

গর্ভবতী মায়েদের প্রতিদিন ভাত, মাছ (মলা, ঢেলা ইত্যাদি ছোট মাছ), সম্ভব হলে মাংস, ডিম, দুধ এবং ঘন ডাল, সিমের বিচি প্রভৃতি খেতে হবে। এ ছাড়া গাঢ় সবুজ ও হলুদ রঙের শাকসবজি ও তাজা ফলমূল, বিশেষত পাকা আম, পেঁপে, কাঁঠাল, পেয়ারা, আনারস, কচুশাক, পুঁইশাক, ডাঁটাশাক, লালশাক, গাজর, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া এসব ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত।

কারণ ভিটামিন ‘এ’ শরীরে আয়রন (লৌহ) ব্যবহারে সাহায্য করে। আমলকী, পেয়ারা, বাতাবিলেবু, কামরাঙা, পাতি লেবু, কাগজি লেবু, কুল ইত্যাদি খেলে সহজেই ভিটামিন ‘সি’-র অভাব পূরণ হবে। শরীরে আয়রন (লৌহ) শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন ‘সি’ও অত্যন্ত জরুরি। গর্ভবতী মায়েদের জন্য ক্যালসিয়ামও গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যালসিয়ামের অভাবে উচ্চরক্তচাপ, প্রি-একলাম্পশিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দুধ, ঘি, মাখন, ডিমের কুসুম, ছোট মাছ (কাঁটাসহ) কলিজা, ডাল, মাংস এবং সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। কোনো কারণে সব ধরনের পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করা সম্ভব না হলেও বাড়িতে তৈরি স্বাভাবিক খাবার যেমন- একটু বেশি ভাত, বেশি পরিমাণ ঘন ডাল, তরকারি এবং পর্যাপ্ত ফলমূল খেলে এই প্রয়োজন মিটবে।

গর্ভবতী মায়ের খাদ্যে আয়োডিনযুক্ত লবণ এবং সামুদ্রিক মাছ ও সামুদ্রিক মাছের তেল থাকা উচিত।

প্রচুর শাকসবজি ও তাজা ফলমূল খেলেও আয়োডিনের অভাব পূরণ করা যায়। গর্ভকালীন সময়ে দৈনিক ১৫-২০ গ্লাস বিশুদ্ধ ও আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানি পান করা উচিত। এ সময় মায়েদের বারে বারে খেতে হয়।

খাবারের পাশাপাশি একজন হবু মাকে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন তার। সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম।

তবে এত কিছুর পরও গর্ভবতী নারীর কিছু সমস্যা হতে পারে। রক্তপাত, মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, দীর্ঘ সময় পেটের শিশু নড়াচড়া না করা, জ্বর, পা ফুলে যাওয়া এর যেকোনো একটা হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

লেখক: পুষ্টিবিদ, অ্যাপোলো হাসপাতাল।


বেসরকারি হাসপাতালের মান অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করছে সরকার

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বেসরকারি হাসপাতাল ক্যাটাগরি নির্ধারণ পর্যালোচনা সভায় কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ছবি: বাসস
আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৯:৩৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশের একেক বেসরকারি হাসপাতাল ও অন্যান্য সেবা খাতের একেক রকমের চার্জ, টেস্ট ফি সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকারিভাবে একটি গাইডলাইন তৈরি করে হাসপাতালগুলোর মান অনুযায়ী ক্যাটাগরি তৈরি হচ্ছে। সেই ক্যাটাগরি মান অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রোববার সারা দেশের বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ক্যাটাগরি নির্ধারণ বিষয়ে পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, একটি কমিটি করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এতে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি পাবে, যত্রতত্র ফি দিয়ে দেশের জনগণের অযাচিত অর্থ ব্যয় হবে না।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ক্যাটাগরি নির্ধারণের ধরন প্রসঙ্গে জাহিদ মালেক জানান, হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা, যন্ত্রপাতি, অবস্থান, লোকবল, সুযোগ-সুবিধা ভেদে বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ, বি, সি এবং ডি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে। এই ক্যাটাগরির মান ভেদে এবং সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী সরকার তাদের নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করে দেবে। এতে মানুষ আগে থেকেই জানতে পারবে কোন হাসপাতালে গেলে কী সুবিধা পাওয়া যাবে এবং চিকিৎসা বাবদ কত ব্যয় হবে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে বর্তমানে অলিগলিতে ক্লিনিক হয়ে গেছে। কিছু ক্লিনিক মানসম্মত সেবা দিলেও অধিকাংশেরই সেবার মান ভালো না। ফি ও নেয়া হয় ইচ্ছেমতো। স্ট্যান্ডার্ড ও নিয়ম অনুযায়ী যন্ত্রপাতি নাই। যেসব মেশিন আছে, সেগুলোও ঠিকমতো কাজ করে না। মানসম্পন্ন চিকিৎসক থাকে না। অথচ ফি নেয়া হয় অনেক বেশি। এসব অনিয়ম আর চলতে পারবে না।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তাফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান মিলন, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুবিন খান, মহাসচিব আনোয়ার হোসেন খান।


চলতি বছরে নিপাহ ভাইরাসে ৫ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৯:৫৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

নিপাহ ভাইরাসে চলতি বছরে আক্রান্ত হয়েছেন মোট আটজন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সভায় এ কথা জানান জাহিদ মালেক। সারাদেশের বেসরকারি হাসপাতাল/ ক্লিনিক/ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ক্যাটাগরি নির্ধারণ বিষয়ে পর্যালোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন,‘বাংলাদেশের বেশকিছু জায়গায় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে আমাদের কাছে রোগী এসেছে আটজন, তাদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেছেন। নিপাহ ভাইরাসের মৃত্যুর হার অনেক বেশি। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি মৃত্যু হয়ে থাকে।’

নিপাহ ভাইরাস দ্রুত ছড়ায় উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, ‘সাধারণত খেজুরের কাঁচারস পানে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। পাশাপাশি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ মানুষের সংস্পর্শে এলে সেই মানুষটিও আক্রান্ত হয়। এবং সেই সংখ্যাটা অনেক। তাই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রথমে মানুষকে সচেতন করতে হবে। গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা দেয়া হচ্ছে।’

সাধারণ হাসপাতালের পাশাপাশি আলাদা হাসপাতালেও নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পৃথক একটি আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) করা হয়েছে। সেখানে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে- যোগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

নিপাহ ভাইরাস রোধে সচেতন থাকার তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে নিপাহ ভাইরাসের কিন্তু কোন ওরকম প্রতিষেধক নেই, টিকা নেই, ওষুধও নেই। কেবলমাত্র লক্ষণনির্ভর চিকিৎসা হয়। করোনা ভাইরাসের টিকা থাকলেও নিপাহ ভাইরাসের নেই। কাজেই এখানে সবাইকে সজাগ এবং সচেতন থাকতে হবে। খেজুরের কাঁচারস পান করা যাবে না। সেইসঙ্গে আধ-খাওয়া, পাখিতে খাওয়া ফল খাওয়া যাবে না।’

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস মূলত ছড়ায় বাদুড়ের মাধ্যমে। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এ সময়টায় খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। আর খেজুর গাছে বাঁধা হাঁড়ি থেকে রস খাওয়ার চেষ্টা করে বাদুড়। সে সময় বাদুড় হাঁড়িতে মল-মূত্র ত্যাগ করায় এবং রসের সঙ্গে তাদের লালা মিশে যাওয়ায় ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। কাঁচা রস খেলে মানুষ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে এ ভাইরাস। বিশ্বে যেসব রোগ মহামারি আকার নিতে পারে তার একটি তালিকা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সে তালিকায় আছে নিপাহ ভাইরাসের নামও।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তথ্যমতে, ২০০১ সালে প্রথম মেহেরপুর জেলায় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০০৩ সালে শনাক্ত হয় নওগাঁয়। তবে পরের বছরই সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয় ফরিদপুর জেলায়। সেখানে শনাক্ত ৩৫ জনের মধ্যে মৃত্যু হয় ২৭ জনের। বাংলাদেশে গত ২৪ বছরে ৩৩টি জেলায় নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়েছে ৪১টি।

আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন জানান, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত খেজুরের রসের মাধ্যমেই এ রোগ ছড়াচ্ছে বলে দেখা গেছে। তাই শীতের সময় খেজুরের রস ও বাদুড়ে খাওয়া ফল এড়িয়ে যেতে হবে। আক্রান্ত রোগীকে সেবা দেয়ার ক্ষেত্রেও সাবধানতা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।


জিমে অননুমোদিত স্টেরওয়েড, জানে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ১১:০৭
এমি জান্নাত

আবিদের (ছদ্মনাম) ২২ বছর। সেজানের (ছদ্মনাম) বয়স ২৫ বছর। একজনের সমস্যা লিভার এনজাইম অস্বাভাবিক। অপরজনের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এই বয়সে এমন সমস্যা দুজনের কারও হওয়ার কথা না। হয়েছে জিমে গিয়ে সঠিক মাত্রায় ও বয়স অনুপাতে স্টেরয়েড না নেয়ায়। দুজনই শুকিয়ে যাচ্ছিলেন। আচরণ ও শারীরিক অস্বাভাবিকতা দেখে পরিবারের সন্দেহ হয়। চিকিৎসার জন্য আনা হয় ঢাকায়। তাদের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

রাজধানীসহ দেশের প্রায় অলিগলিতে এখন জিমের দেখা পাওয়া যায়। এসব জিমের অনেকগুলোয় যে ধরনের স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এসব অননুমোদিত কৃত্রিম স্টেরয়েডের বেশির ভাগ আসছে চীন কিংবা ভারত থেকে। তবে বডি বিল্ড করতে গিয়ে এভাবে যে স্টেরয়েডের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে, তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জানা নেই।

জিমে স্টেরয়েডের যথেচ্ছ ব্যবহার
আবিদ ও সেজান চিকিৎসা নিচ্ছেন ডা. রায়হান শহীদুল্লাহর কাছে। তিনি বলেন, ‘স্টেরয়েড সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। চিকিৎসকরা রোগের ধরন অনুযায়ী সেবনের পরামর্শ দেন। অপরটি জিমে বডি বিল্ডিংয়ের জন্য ব্যবহার হয়, যেগুলো আর্টিফিশিয়াল বা কৃত্রিম। বাংলাদেশে এগুলো উৎপাদন করে না। এসব কৃত্রিম স্টেরয়েডের বেশির ভাগই চীন ও ভারত থেকে আনা হয়, যার অধিকাংশেরই কোনো অনুমোদন নেই।’

এই চিকিৎসক আরও বলেন, ‘কোনো ফার্মেসিতে এটা পাবেন না। দু-একটা পাওয়া গেলেও সেটা নির্দিষ্ট কোনো রোগের জন্য, যেমন- ব্রেন ক্যানসার, স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর এগুলো খুব ব্যয়বহুল এবং সুলভও না। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া এগুলো কোনো ফার্মেসি বিক্রিও করতে পারবে না।’

তাহলে জিমে এমন স্টেরয়েড না জেনেই দেয়া হচ্ছে কি না- এই প্রশ্নে চিকিৎসক রায়হান শহীদুল্লাহ বলেন, ‘তিন-চার বছর ধরে মানুষ কিছুটা হলেও জানতে পারছে। ১০ বছর আগেও মানুষ জানত না বা বুঝত না। অনেকে এগুলোকেই সাপ্লিমেন্ট মনে করত।’

নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
স্টেরয়েডের প্রধান কাজ হলো মাসল বা মাংসপেশি বাড়ানো। যেটা ব্যায়াম করে এক বছরে বাড়ানো যায়, সেটা স্টেরয়েড ব্যবহার করে দুই বা তিন মাসে করে ফেলা যায়। এতে শরীরে প্রাকৃতিকভাবে যে হরমোন তৈরি হয়, সে প্রক্রিয়া স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

চিকিৎসকরা বলছেন, ছেলেদের ক্ষেত্রে যথেচ্ছ কৃত্রিম স্টেরয়েড ব্যবহারে টেস্টোস্টেরন হরমোন উৎপাদনই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পুরুষের নানা শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ এই হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া এসব কৃত্রিম স্টেরয়েড ব্যবহারে লিভারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ক্রিয়াও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ডা. রায়হান শহীদুল্লাহ বলেন, ‘সঠিক নিয়মে ব্যায়াম না করলে অস্থিসন্ধি আক্রান্ত হতে পারে। লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে। এমন সমস্যায় অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করতে হতে পারে। আর বডি বিল্ড করতে স্টেরয়েড নিলেও চার সপ্তাহ পর তা বন্ধ করতে হবে। হরমোনের ভারসাম্য স্বাভাবিক করতে বিশেষ থেরাপিও নিতে হয়।’

মিস্টার বাংলাদেশ এবং ফিটনেস কোচ সাকিব নাজমুস জিমে স্টেরয়েডের ব্যবহার নিয়ে বলেন, ‘এটি ব্যবহার করলেও স্বল্প মেয়াদে, অর্থাৎ সর্বোচ্চ পাঁচ মাস ব্যবহার করা যেতে পারে। কখনোই দীর্ঘমেয়াদি নয়। আর বিশেষ কারণ ছাড়া এ ধরনের স্টেরয়েড নেয়ার পরামর্শ তো দূরের কথা, নিরুৎসাহিত করা উচিত।’

আপনি স্টেরয়েড নেয়ার পরামর্শ দেন কি না- জানতে চাইলে নাজমুস সাকিব বলেন, ‘আমি কখনোই পরামর্শ দিই না, যদি না সে প্রতিযোগিতায় যায়। স্বল্প মেয়াদে নিলেও বিশেষ কিছু ওষুধ ও ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীর থেকে তা অপসারণ করতে হয়। সেটারও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়। ওজন কমানো বা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলেও স্টেরয়েড আসলে কোনোভাবেই অনুমোদিত না।’

জিমে স্টেরয়েডের ব্যবহার বন্ধে করণীয়
ডা. রায়হান শহীদুল্লাহ বলেন, ‘প্রতিটি জিমে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা যেতে পারে। বাংলাদেশে যেহেতু বডি বিল্ডিংয়ের প্রচলন এখন অনেক বেশি, তাই গণমাধ্যমের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানাতে হবে। সবাইকে, বিশেষ করে তরুণদের বোঝাতে হবে যে স্টেরয়েড ব্যবহার করলে আপনারা কখনোই সুস্থ থাকতে পারবেন না। হয়তো দেখতে স্বাস্থ্যবান মনে হবে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তা ক্ষতি করে ফেলে। কাজেই এর ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে হবে।’

যা বলছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘স্টেরয়েড সাধারণত ডাক্তাররা ব্যবহার করেন। ডাক্তার কোনো জটিল পরিস্থিতির মধ্যে গিয়ে বাধ্য হয়ে রোগীর জীবন বাঁচাতে স্টেরয়েড দিয়ে থাকেন। জিমে এটি ব্যবহার করা হয়, এটি তো আমি ভাবতেই পারছি না।’

বিষয়টি জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে স্বাস্থ্যসচিব বলেন, ‘আমি জিমে খোঁজ নেব। এটি তো হতে পারে না। বডি বিল্ডিং একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে তার জন্য সময় লাগবে। তাড়াহুড়া করে বডি বিল্ড করার নামে ব্যবসা করবে- এটা তো মেনে নেয়া যাবে না।’


মাইগ্রেনের ব্যথায় করণীয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী

মাইগ্রেন একধরনের মাথাব্যথা। মাথার একদিকে হয় বেশি। তবে দুদিকেও হতে দেখা গেছে। আবার এক পাশ থেকে শুরু হয়ে গোটা মাথাতেও এ ব্যথা ছড়িয়ে যেতে পারে। যাদের মাইগ্রেন হওয়ার প্রবণতা আছে, তাদের শব্দ, আলো, গন্ধ, বাতাসের চাপের তারতম্য ও কিছু খাবার যেমন চকলেট, আঙুরের রস, পনির ইত্যাদির প্রভাবে পুনরায় নতুন করে ভয়ংকর মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। সঙ্গে থাকে জ্বর জ্বর ভাব, বমি ভাব, গা গুলিয়ে ওঠা।

আরও আছে মাসের তিন-চারটে দিন বাধাধরা মাথা ধরা, ঠাণ্ডা। তীব্র যন্ত্রণায় চোখ মেলে তাকানো যায় না, চোখ বন্ধ করে শুয়ে শান্তি নাই, চোখের মণির পেছনে ব্যথা। আলোর দিকে তাকাতে না পারা।

অনেকে মনে করেন এটি জিনগত, কেউ বলেন সেরোটোনিন হরমোনের সমস্যা।

মূলত গ্রিক শব্দ এমিক্রেনিয়া থেকে মাইগ্রেন শব্দটির শুরু। এর অর্থ হচ্ছে আধকপালে মাথাব্যথা।

মাইগ্রেন এড়াতে

জীবনশৈলীতে কিছু পরিবর্তন করলে হতে পারে আরাম। এর মধ্যে রয়েছে ঘুম।

সুনিদ্রা চাই। সঠিক সময়ে ঘুমানো আর সঠিক সময়ে ঘুম থেকে জাগা, এটা হতে হবে নিয়মিত। আর ঘুমানোর ২ ঘণ্টা আগে কোনো ডিভাইসের স্ক্রিনের দিকে তাকানো যাবে না।

চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। চিনি খেলে বাড়ে মাইগ্রেনের প্রকোপ।

খাওয়া দাওয়া নিয়মিত

খাবার খেতে হবে নিয়মিত এক সময়ে। কোনো মিল বাদ দেয়া যাবে না, প্রচুর পানি পান করতে হবে, যাতে প্রস্রাব তরল এবং স্বচ্ছ থাকে। চা- কফি এলকোহল পান মাইগ্রেনে প্রভাব ফেলে।

নিয়মিত ব্যায়াম মাইগ্রেনের জন্যও উপকারী। সপ্তাহে ১৫০ মিনিট হাঁটতে হবে। অথবা অন্য শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। তবে হাঁটা বা দৌড়ানো ভালো।

স্ট্রেস তথা মানসিক চাপ কমাতে হবে। স্ট্রেস পুষে না রেখে স্ট্রেসের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এরপর তার সমাধান। ইয়োগা, প্রাণায়াম, ব্রিদিং এক্সসারসাইজ মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে অনেক ভালো কাজ করে।

আবার মাইগ্রেনের ব্যথা কমলেও এর হ্যাং ওভার থেকে যায় অনেক।

মাইগ্রেনের ব্যথায় ম্যাসাজ থেরাপি ভালো কাজ করে, নিতে হবে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম। পানি খেতে হবে প্রচুর। ঘাড় ব্যথায় আইসপ্যাক দেয়া যেতে পারে, ঘরে আলো কম করে দিন, অন্ধকার হলে আরও ভালো।

মাইগ্রেনের ব্যথা কমলে ক্ষুধা লাগে অনেকের। তখন একবারে অনেক এবং তাড়াহুড়ো করে খাওয়া যাবে না, কম কম করে বারে বারে খেতে হবে।

লেখক: সাবেক অধ্যক্ষ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ


banner close