শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
করোনায় মৃত্যুর তিন বছর

ছায়া দেয়া লোকগুলোর বেশি মৃত্যু-ভোগান্তি

আপডেটেড
১৮ মার্চ, ২০২৩ ০০:০৪
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ১৮ মার্চ, ২০২৩ ০০:০০

করোনার নিম্নমুখী সংক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে কমে এসেছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুও। টানা ৩১ দিন ধরে করোনায় মৃত্যুহীন রয়েছে দেশ। এদিকে করোনা মহামারি নিয়ে খুশির খবর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই করোনা মহামারি শেষ হওয়ার খবর দিতে পারবেন তারা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখন এমন একটা খবর দিল, তখন গত তিন বছরে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করছে। ইতিমধ্যে এই ভাইরাসে দেশের ২৯ হাজার ৪৪৫ জন নাগরিকের প্রাণ গেছে। শূন্য থেকে ১০০ বছর বা তারও ঊর্ধ্বের বয়সের মানুষই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী মোট মৃত্যু ১৬ হাজার ৪২১ জন বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, যাদের বয়স ৬০ বছর থেকে ১০০ বা তদূর্ধ্ব।

পরিবারের ছায়া হয়ে থাকা বা নতুনদের পথ দেখানোর দায়িত্ব যাদের, সেই জনগোষ্ঠীর এত বড়সংখ্যক সদস্যকে হারিয়ে ছায়াশূন্য হয়েছে বহু পরিবার। বাংলাদেশে মোট মৃত্যু ৫৬ শতাংশের বয়সই ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে।

মৃতদের মধ্যে ১০ হাজার ৩৩৬ জনের বয়স ৪১ বছর থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। বাকি তিন হাজারে বয়স শূন্য থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

সরকারি হিসাবে দেশে করোনায় মোট শনাক্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৩৭ হাজার ৯৫৪ জন।

বিশ্বে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে চীনের উহানে। ফেব্রুয়ারি শেষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও চীন একটি যৌথ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ৬০ বছরের বেশি বয়সী এবং যাদের উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ আছে, তাদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি। চীনে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ৮০ শতাংশের বয়স ছিল ৬০-এর ওপর।

করোনায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি একজনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। এটিই এখন পর্যন্ত এই রোগে শেষ মৃত্যু। সেদিন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে করোনায় মৃত্যু হলো ২৯ হাজার ৪৪৫ জনের।

১৬ মার্চ অধিদপ্তর জানায়, নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে দেশে রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ আর মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

বাংলাদেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিন রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। এর ঠিক ১০ দিন পর ১৮ মার্চে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম রোগীর মৃত্যুর কথাও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

ডেল্টার তাণ্ডব ছিল সবচেয়ে বেশি
মহামারিকালে করোনার বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডবে দেশে এক দিনে ২০২২ সালের ২৮ জুলাই রেকর্ডসংখ্যক ১৬ হাজার ২৩০ জন রোগী শনাক্ত হন। আর ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট এক দিনে ২৬৪ জনের মৃত্যুর খবর দেয়া; যা কি না দেশে মহামারীতে এক দিনে সর্বোচ্চ।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, করোনায় আক্রান্ত ২৯ হাজার ৪৪৫ জনের মধ্যে পুরুষ ১৮ হাজার ৭৮৯ জন আর নারী ১০ হাজার ৬৫৬ জন আর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১২ হাজার ৯৪৪ জনের।

বয়সভিত্তিক বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। এ বয়সে মারা গেছেন ৯ হাজার ৯৯ জন। এ ছাড়া শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ৯১ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২০৩ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৬৯৮ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ হাজার ৭৩৬ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ৪৪৯ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৬ হাজার ৮৮৭ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৫ হাজার ১৫৯ জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ হাজার ৭৪৫ জন, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে ৩৮০ জন আর ১০০ বছরের ঊর্ধ্বে মারা গেছেন ৩৮ জন।

দেশে মারা যাওয়াদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ২৪ হাজার ৯৭৪ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৩ হাজার ৬৫৩ জন, বাড়িতে ৭৮৩ জন আর হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে ৩৫ জনকে। তবে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে যারা আগে থেকেই অন্য জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন তাদের মৃত্যু বেশি।

যারা হাসপাতালে মারা গেছেন তারাই তালিকায়
মহামারির শুরু থেকে স্বাস্থ্য বিভাগ কেবল হাসপাতালে মৃত্যু হলেই সেটি করোনায় মৃত্যু বলে জানাত, বাড়িতে কিংবা হাসপাতালে আনার পথে কারও মৃত্যু হলে সেটি অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হতো না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় সরকারি হিসাবে যে মৃত্যুর তথ্য দেয়া হয় তারচেয়ে ‍প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। সেই সঙ্গে করোনার উপসর্গ নিয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের অধিদপ্তরের তালিকাতেই রাখা হয়নি। একই কথা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। সংস্থাটি গত বছর ( ২০২২) জানায়, মহামারি শুরুর পর থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় ১ কোটি ৪৯ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া এই হিসাব মহামারির প্রথম দুই বছরে করোনায় যত মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, তারচেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি। সংস্থাটির গবেষকদের বিশ্বাস, অনেক দেশই করোনায় মৃত্যুর হিসাব ঠিকঠাকভাবে রাখেনি। তাই উঠে আসেনি।

শুরুতে প্রস্তুতি থাকলে মৃত্যু কমত
দেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায়, বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের তুলনায় করোনায় শনাক্ত এবং মৃত্যু কম হয়েছে। তবে যত মৃত্যু হয়েছে সেটিও কমানো যেত যদি বাংলাদেশের প্রস্তুতি থাকত। মূলত প্রস্তুতিহীন স্বাস্থ্য বিভাগের কারণে ২৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

মহামারিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র একাধিকবার জানিয়েছে, অধিদপ্তরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটি করোনায় মৃত্যু কমানোর উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ করে। কিন্তু আদতে এ নিয়ে কার্যকর বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, বিশ্লেষণ করা হয়নি মৃত্যুর ঘটনাও।

করোনায় শূন্য মৃত্যু লক্ষ্যমাত্রা রেখে কাজ করার দরকার মন্তব্য করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় কেন এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে মৃত্যু হচ্ছে তার পর্যালোচনা দরকার ছিল। তাতে অন্তত কিছু মৃত্যু কমানো সম্ভব হতো বা হবে। সঙ্গে দরকার ছিল মৃত্যু কমানোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ।

অথচ সরকারের একাধিক খামখেয়ালিপূর্ণ সিদ্ধান্ত, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতিহীনতায় এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সরকার পদক্ষেপ নিতে দেরি করেছে, স্বাস্থ্য বিভাগ সরকারকে সঠিক তথ্য দিতে অপারগ ছিল। হাসপাতালগুলোতে পদক্ষেপ নেয়া হয়নি, বেশির ভাগ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন ছিল না, ছিল না আইসিইউ। এমনকি করোনাকালে দেশের ৬৪ জেলায় আইসিইউ করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই আইসিইউ তিন বছর পরও হয়নি।

সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাধিকবার দ্বিমত পোষণ করে সুপারিশ দিয়েছে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। কিন্তু সে সুপারিশ আমলে নেয়নি সরকার। যার কারণে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টিকারী ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটে বাংলাদেশেও শনাক্ত এবং মৃত্যু বাড়ে সে সময়।

সে সময় ডেল্টার দাপটের কারণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। কিন্তু ঈদুল আজহার কারণে সে লকডাউন শিথিল করা হয়। আর তাতেই ঢাকা ছেড়ে গ্রামমুখী হয় মানুষ। প্রাইভেট কার, মাইক্রো, বাসে, লঞ্চে কিংবা ফেরিতে গাদাগাদি করে গ্রামে গিয়েছে ঈদ উদযাপন করতে। আবার ঈদের পরের কয়েক দিনে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই একভাবে ঢাকায় ফিরেছে মানুষ।

সে সময়ই পরামর্শক কমিটির সদস্যরা বলেছেন, শিথিলতার এ নির্দেশনায় তাদের ‘সায়’ ছিল অধিদপ্তর যেখানে বারবার ভিড় এড়িয়ে চলার কথা বলছে, সেখানে সংক্রমণের ‘পিক টাইম’-এ এ ধরনের ঘোষণা দেশকে আরও খারাপ অবস্থায় নিয়ে যাবে। এরপর লকডাউনের ভেতরে সরকার পোশাক কারখানা খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়। এতে করে কমিটির আশঙ্কাকে সত্যি করে দেশে ঈদের পর থেকে দৈনিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর একের পর এক রেকর্ড দেখতে হয় বাংলাদেশকে। আর এতে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করা তালিকায় বিশ্বে যেসব দেশে দৈনিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু সবচেয়ে বেশি হচ্ছে, সেই তালিকায় অষ্টম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটি করোনায় মৃত্যু কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে জানিয়ে বলেছিল, করোনায় শূন্য মৃত্যুর টার্গেট নিয়ে কাজ করতে হবে। এ জন্য কমিটির পক্ষ থেকে লিখিত প্রতিবেদন দেয়া হয়, যেখানে এ-সংক্রান্ত দিকনির্দেশনাও ছিল।

সেই কমিটির সদস্য অধ্যাপক আবু জামিল ফয়সাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সে নির্দেশনা কিংবা প্রস্তাবনা অনুযায়ী কাজ হয়নি।’

‘সংক্রমণের তখনকার তীব্রতা এবং যেভাবে ছড়াচ্ছিল, তখন সেসব প্রস্তাবনা খুব উল্লেখযোগ্য ছিল।’

তিনি বলেন, তখনকার সময়ে যেসব অপ্রতুলতা ছিল, যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, তার জন্য অবশ্যই মৃত্যু বেশি হয়েছে…আইসিইউ ছিল না, হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ছিল না, উপজেলা তো দূরে থাক, বিভাগীয় শহরের হাসপাতালেও সেন্ট্রাল অক্সিজেন ছিল না। অথচ তখন সেগুলো প্রয়োজন ছিল। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বা একেবারেই না থাকার কারণে মৃত্যু বেশি হয়েছে।

এই না থাকার মধ্যেও তখন যদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে সরকার বেশি নজর দিত তাহলেও মৃত্যু কমানো সম্ভব হতো, বলেন আবু জামিল ফয়সাল।

মৃত্যু কমানো যেত কি না প্রশ্নে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, সে সময়ে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুতিহীনভাবে সময় ক্ষেপণ করেছে। হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করেনি, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা বাড়াতে পারেনি, ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে এখনো আইসিইউ নেই। যখন জটিল রোগীদের আইসিইউ দরকার হতো, তখন তাদের ঢাকায় পাঠানো হতো। ঢাকার হাসপাতালগুলোতেও আইসিইউ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এসব কারণে যখন চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হচ্ছে, তখন তাকে বাঁচানো যায়নি- বলেন তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাকালে দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগীদের মৃত্যু বেশি দেখতাম। কারণ তারা নিজ এলাকায় চিকিৎসা পেতেন না, চিকিৎসাব্যবস্থাই ছিল না। পুরো হাসপাতাল-ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা ছিল। এসব কারণে মৃত্যু হয়েছে বেশি।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেনও মনে করেন, উদ্যোগের অভাব ছিল, ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ছিল, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। যার কারণে সংক্রমণ বেড়েছে এবং সংক্রমণ বাড়ার কারণে মৃত্যু বেড়েছে।


নির্বাচিত

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা: সীমাবদ্ধতা, সম্ভাবনা ও আগামীর পথ- ডাঃ আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী

ছবি: ডাঃ আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যেকোনো দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো সুস্থ নাগরিক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বড় রূপান্তর ঘটলেও জনসংখ্যার অনুপাতে সরকারি হাসপাতালের শয্যা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট এখনো বড় বাস্তবতা। এই বাস্তবতায় দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল এখন প্রায় ৬৩ শতাংশ বিশেষায়িত সেবার দায়িত্ব সামলাচ্ছে। হৃদরোগ, ক্যানসার, কিডনি জটিলতা কিংবা ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক ব্যাধি যখন বাড়ছে, তখন বেসরকারি খাতের আধুনিক ক্যাথল্যাব, ডায়ালাইসিস ও আইসিইউ সুবিধাই সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক ভরসার জায়গা তৈরি করেছে।

আমাদের দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রেখেই চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করছে। এই অগ্রযাত্রায় ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আইএসও ৯০০১:২০১৫ স্বীকৃতি অর্জন করেছে। প্রতিদিন গড়ে শত শত রোগীর নির্ভুল ল্যাব টেস্ট, ২৪ ঘণ্টার কার্ডিয়াক ও ট্রমা কেয়ার ছাড়াও সংকটজনক রোগী পরিবহনে আমাদের রয়েছে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স ও হেলিসার্ভিস। পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে হাসপাতালে ১০ শতাংশ ফ্রি বেড এবং বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষও আধুনিক চিকিৎসার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়।শুধু তাই নয়- দক্ষ জনশক্তি ( ডাক্তার ও নার্স) তৈরি করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি ।

দেশে আধুনিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগী এখনো বিদেশে যান, যার মূল কারণ আস্থার সংকট ও দীর্ঘদিনের মনস্তাত্ত্বিক অভ্যাস। তবে আস্থার এই পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পেছনে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলার ঘাটতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভুল-ভ্রান্তিও অনেকাংশে দায়ী। আমাদের দেশে প্রায়ই দেখা যায়, সংকটাপন্ন রোগীর আইনগত অভিভাবকের বাইরেও অসংখ্য অনাকাঙ্ক্ষিত দূরসম্পর্কের স্বজন এসে চিকিৎসায় অযাচিত হস্তক্ষেপ ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। এতে আইসিইউ বা ইমার্জেন্সির মতো সংবেদনশীল জায়গায় সংক্রমণ বাড়ে এবং চিকিৎসকদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। সুচিকিৎসার স্বার্থেই হাসপাতালে বহিরাগতদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

সাধারণ মানুষের ওপর চিকিৎসার আর্থিক চাপ কমাতে জাতীয় পর্যায়ে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবীমা চালু করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। একজন মানুষ যখন হঠাৎ জটিল রোগে আক্রান্ত হন, তখন ‘আউট অব পকেট’ খরচের ধাক্কায় পুরো পরিবার আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যবীমা চালু থাকলে রোগী কোনো অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা ছাড়াই মানসম্মত সেবা নিতে পারবেন, যা উন্নত বিশ্বের চিকিৎসা কাঠামোর প্রধান ভিত্তি। পাশাপাশি চিকিৎসা যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হলে সেবামূল্য অনেকটাই সাধারণের নাগালে চলে আসবে।

স্বাস্থ্য খাতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হলে মানহীন ও অনুমোদনহীন ভুঁইফোড় ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, হাসপাতালে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রোগীদের প্রতি চিকিৎসকদের সহমর্মী যোগাযোগের মাধ্যমেই কেবল আস্থার সংকট দূর হতে পারে। সরকারি নীতি সহায়তা ও বেসরকারি খাতের কার্যকর সমন্বয়েই বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

লেখক পরিচিতি :
ডাঃ আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা
এবং ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।


নির্বাচিত

সাড়ে পাঁচ মাসে হামে মৃত্যু ৯৮৬, আক্রান্ত ১ লাখ ৮০ হাজার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গত সাড়ে পাঁচ মাসে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৮৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮৬ জনে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের পরিস্থিতিবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৪৮ জনের শরীরে। আর পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৫২৭ জনের। অর্থাৎ, হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৫ জনে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৯৬৪ জনের শরীরে। এ সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ৮০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪০৫ জন।


নির্বাচিত

দেশের স্বাস্থ্য খাতে ২৪ লাখ ডলারের সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

বাংলাদেশের মাতৃ, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উপকরণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ২৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমানের কাছে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক প্রশিক্ষণ মডেল হস্তান্তর করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তার আওতায় থাকছে নবজাতকের শরীর উষ্ণ রাখার সরঞ্জাম, শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়ক চিকিৎসা উপকরণ, গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য থেরাপিউটিক ফুড এবং টিকার কোল্ড চেইন বজায় রাখার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে এফএইচআই ৩৬০, ঝপাইগো, জেএসআই ও ইউনিসেফের মাধ্যমে এসব সরঞ্জাম দেশজুড়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে। দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানও এ কার্যক্রমের আওতায় থাকবে।

বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং দেশজুড়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরে সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংসদসহ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ক্রিস্টেনসন। এর আগে তিনি তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন।


নির্বাচিত

হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজন মৃত্যুবরণ করেছেন এবং একই সময়ে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৯৮ জন। বুধবার (২৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত একদিনে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।

বিগত ১৫ মার্চ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৮৫১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারানো শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫০ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ৯৮ জনের শরীরে এর উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ১৯টি শিশু ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৫৪ জন।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬ জনে এবং নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৫১ জন। এই দীর্ঘ সময়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৫ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।


নির্বাচিত

আরও ১৬ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এবং টিকাদান কার্যক্রমের আওতার বাইরে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের যেসব সুনির্দিষ্ট এলাকায় (পকেট এরিয়া) শিশুরা টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সেখানে বিশেষভাবে টিকাদান অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষে সরকারের মজুত থাকা ১৬ লাখ ডোজ হাম-রুবেলার টিকা ব্যবহার করা হবে। গত রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়।

স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় জানানো হয় যে, বর্তমানে হামে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৭৪ শতাংশেরই বয়স ৬ মাস থেকে ৫ বছর। মূলত এই বয়সসীমার শিশুদের মধ্যেই সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্যসচিব আজ সোমবার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, মাঠ পর্যায়ে যে সকল ছোট ছোট এলাকায় শিশুরা টিকা পায়নি, তাঁদের সবাইকে খুঁজে বের করে এই ১৬ লাখ টিকা প্রদানের মাধ্যমে পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের ৫ এপ্রিল থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখের বেশি শিশুকে হামের প্রথম ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, চলতি বছরের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে দেশে মোট ৯১৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৮১৫ জনের হামের উপসর্গ ছিল এবং ৯৯ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন। নিহতদের অধিকাংশই ৫ বছরের কম বয়সী এবং তাঁরা কোনো ধরণের প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করেননি।

সংকট উত্তরণে সরকার শুধুমাত্র টিকাদানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং হামের চিকিৎসা নির্দেশিকা বা গাইডলাইন ব্যাপকভাবে প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে টিকার সংকট এড়াতে প্রয়োজনীয় মজুত নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।


নির্বাচিত

ধূমপায়ীদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত, বাড়ছে হৃদরোগের অদৃশ্য ঝুঁকি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পরিবেশগত দূষণ ও ধূমপানের প্রভাবে মানুষের রক্তপ্রবাহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, যারা নিয়মিত বায়ুদূষণ কিংবা ধূমপানের সংস্পর্শে থাকেন, তাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশের হার অনেক বেশি। এছাড়া রক্তের এই প্লাস্টিক কণার উপস্থিতির সাথে হার্ট অ্যাটাকের একটি নিবিড় যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

অক্সফোর্ড একাডেমিক এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ইতালির রোমে অবস্থিত সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির সান্ত'আন্দ্রেয়া হাসপাতালে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। পাসকুয়ালে পাওলিসোর নেতৃত্বে একদল গবেষক হৃদ্‌যন্ত্রের রক্তনালি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেখেছেন যে, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে এই প্লাস্টিক কণা বিদ্যমান। এর বিপরীতে যারা হার্ট অ্যাটাক ছাড়াই হৃদরোগে ভুগছিলেন, তাদের মধ্যে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ এবং সুস্থ রক্তনালির অধিকারীদের মধ্যে মাত্র ৩২ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাকেনস্যাক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ড. ক্রেইগ বাসম্যান এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ‘হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।’ তাঁর মতে, গবেষণার এই ফলাফল মাইক্রোপ্লাস্টিক ও হৃদরোগের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত প্রদান করে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ধূমপায়ীদের রক্তে উচ্চ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার সম্ভাবনা অধূমপায়ীদের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। গবেষকরা ধারণা করছেন, বায়ুদূষণ ও ধূমপানের ফলে ফুসফুসের মাধ্যমে এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা সরাসরি রক্তপ্রবাহে মিশে যাওয়ার সুযোগ পায়। যারা বায়ুদূষণ ও ধূমপান—উভয় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে আছেন, তাদের প্রত্যেকের রক্তেই উচ্চ মাত্রার প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, যারা এই কোনো ঝুঁকির মধ্যেই নেই, তাদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক এমানুয়েলে বারবাতো এ বিষয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান ব্যক্ত করে জানান যে, এই গবেষণা মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায় এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ দেয়নি, তবে পরিবেশগত দূষণ ও শারীরিক ঝুঁকির মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত ১৫ জুলাই ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি সীমিত সংখ্যক মানুষের ওপর চালানো হলেও এর ফলাফল আধুনিক জনস্বাস্থ্যে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।


নির্বাচিত

বিশ্বে প্রথম মডার্নার নতুন এমআরএনএ টিকার অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

করোনাভাইরাসের প্রতিষেধকের সফলতার পর এবার ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সাধারণ সর্দিকাশি মোকাবিলায় এমআরএনএ প্রযুক্তির নতুন একটি টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা মডার্নার তৈরি এই টিকাটির নাম রাখা হয়েছে ‘এমফ্লুসিভা’। মূলত প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে এই প্রতিষেধকটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। মডার্নার এই টিকায় মেসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রচলিত ফ্লু টিকার তুলনায় শরীরে অধিক মাত্রায় অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম এবং ভাইরাসের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশ কার্যকর।

প্রাথমিকভাবে ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের জন্য এই টিকা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলেও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য অনুমোদনের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণগুলো মারাত্মক রূপ নিতে পারে, যা অনেক সময় প্রবীণদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়। গবেষকদের মতে, এমফ্লুসিভা এই জীবনঝুঁকি কমিয়ে আনতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে যে, প্রচলিত প্রতিষেধকের চেয়ে মডার্নার এই টিকাটি ইনফ্লুয়েঞ্জা দমনে অনেক বেশি শক্তিশালী।

উল্লেখ্য যে, কোভিড-১৯ টিকা তৈরির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এই বিশেষ প্রযুক্তিতে শরীরের কোষকে নির্দিষ্ট ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ভারতের দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এমস) এক গবেষণায় দেখা গেছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিরা নিউমোনিয়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন এবং তাদের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। এমন প্রেক্ষাপটে এমআরএনএ প্রযুক্তির এই ফ্লু টিকা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে প্রবীণদের ভাইরাসজনিত শ্বাসকষ্টের সমস্যা ও হাসপাতালে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


নির্বাচিত

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ৭৫৮

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দেশে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে আরও পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে নতুন করে ১২৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯৫৯ জনকে সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত পাঁচ শিশুর কারও মৃত্যুই ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ৯৬ জনের মৃত্যু হামের কারণেই হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্তসহ দেশে এ পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬৫৫ জনে। এছাড়া সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯০৫-এ উপনীত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১২৪ জন রোগী। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৫ জন। বিভাগভিত্তিক সংক্রমণের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বর্তমানে ঢাকা বিভাগেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।

বিভাগভিত্তিক তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় সর্বোচ্চ ৩৯৪ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, সিলেটে ১১৯ জন এবং বরিশালে ১১৪ জন সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে। খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৬০, ৩৭, ৩১ ও ১০ জন। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংক্রমণ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন থাকার এবং সময়মতো বাচ্চাদের হামের টিকা প্রদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। মূলত প্রান্তিক ও জনবহুল অঞ্চলগুলোতে এই রোগের দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।


নির্বাচিত

পিৎজা, বার্গার, পোড়া তেলের সমুচা খেয়ে দেশটা রোগে ভরে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুষম খাদ্যের অভাব এবং জাঙ্ক ফুড গ্রহণের প্রবণতাকে দায়ী করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল মন্তব্য করেছেন যে, অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে দেশ আজ নানা রোগে জর্জরিত। শনিবার ঢাকার ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পুষ্টিহীনতা, বাল্যবিবাহ এবং শিশুদের সঠিকভাবে বুকের দুধ না দেওয়ার ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘চিজ দিয়ে পিজা খাই, চিজ দিয়ে বার্গার খাই, পোড়া তেলের সমুচা খাই। এগুলো খেতে খেতে আজকে আমাদের দেশটা রোগে ভরে গেছে।’

শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, মায়ের শাল দুধ শিশুদের জন্য উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রধান উৎস। বর্তমান সময়ে সিজারিয়ান অপারেশনের ক্রমবর্ধমান হার এবং আধুনিকতার দোহাই দিয়ে শিশুকে মায়ের থেকে দূরে রাখা বা সঠিক সময়ে বুকের দুধ না দেওয়ার প্রবণতাকে তিনি একটি বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আজ আর নেই কফি হাউসের সেই আড্ডাটা, ঠিক তেমনি আমাদের মাতৃ-শিশু সেবাও আজ নেই। আমরা মডার্ন হয়ে গেছি।’ এই তথাকথিত আধুনিকতার কারণেই ব্রেস্ট ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া ও কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক রোগগুলো সমাজকে গ্রাস করছে বলে তিনি মনে করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তাই শুধুমাত্র রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা নয়, বরং জনসচেতনতা বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি শুধুমাত্র দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বছর প্রতিটি গ্রামে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে হলে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক উপায়ে শিশুদের বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন তিনি।


নির্বাচিত

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে গত রোববার সকাল আটটা থেকে সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণহানি বেড়ে ৮২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নতুন করে হাম ও উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ১০৫ জনের মধ্যে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এ সময় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে হাম ও উপসর্গের রোগী ১ হাজার ১০৫ জন।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭৩০ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮২৫ শিশু মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৫ আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৫৫৫।

এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫৪ রোগী। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার ৪৬৭ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।


নির্বাচিত

ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি রোগী ১০ হাজার ছাড়াল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও একজন। এডিস মশাবাহিত এই রোগ নিয়ে ২৪২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর ১০ হাজার ১২ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে এইডিস মশাবাহিত এ রোগে চলতি বছর ৩৩ জনের মৃত্যু হল। যার মধ্যে জুলাই মাসেই ১৫ জন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪২ জন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হন ৭৭ জন। ৩৫ জন ভর্তি হন দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে। দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে আরো আরও ২১ জন ভর্তি হয়েছেন।

দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে বরিশালে ১০ জন, চট্টগ্রামে ৩৮ জন, খুলনায় ৪০ জন ও ময়মনসিংহে ২১ জন হাসপাতালে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ্য হয়ে ২৪১ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দেশে ১০ হাজার ১২ জন ডেঙ্গু নিয়ে হসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯ হাজার ৬৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।

গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।


নির্বাচিত

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৬৯

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাম ও হামের উপসর্গে দেশে আরও পাঁচ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল চার শিশুর। এছাড়া সারাদেশে আরও ৯৬৯ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ৯০ শিশুর। হাম শনাক্ত হয়ে শিশুটি ঢাকায় মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকায় দুই এবং সিলেট ও বরিশালে একটি করে শিশু মারা গেছে। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৬৬৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৪ শিশু। এ পর্যন্ত মোট ৭৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ শিশুর। এ সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৫০০ শিশুর। হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৮০ শিশু।

১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯০ হাজার ৬০৫ শিশু। আর হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৪৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৪৩ শিশু।


নির্বাচিত

ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৩৫০

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৪৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫০ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৫৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১ জন, খুলনা বিভাগে ৭০ জন, বরিশালে বিভাগে ৯৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন রয়েছেন।

এ পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮ হাজার ৩২৩ জন। ৭ হাজার ৫৭০ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ৭২৮ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।


নির্বাচিত

banner close