বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মায়ের দুধ পায় না অর্ধেক শিশু, পরিবার ঝুঁকছে ফর্মুলায়

আপডেটেড
১৯ মার্চ, ২০২৩ ১১:৫৯
মুসলিমা জাহান
প্রকাশিত
মুসলিমা জাহান
প্রকাশিত : ১৯ মার্চ, ২০২৩ ১১:৫৭

রাজধানীর ঢাকা শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগে সাতটি কক্ষে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। ১৮৪ নম্বর কক্ষে পাঁচ মাস বয়সী মেয়েকে ‘ডাক্তার দেখিয়ে’ বের হন সাদ্দাম হোসাইন ও রোমানা আক্তার দম্পতি। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রের সঙ্গে আরেকটি রঙিন স্টিকার দিয়েছেন; যাতে একটি কোম্পানির বয়সভেদে ফর্মুলা দুধের (কৌটাজাত গুঁড়া দুধ) নামের পাশে টিক চিহ্ন রয়েছে।

ঘটনাটি এ বছরের পয়লা ফেব্রুয়ারির। শিশুটির বাবা সাদ্দাম হোসাইন জানান, মেয়ের ওজন কম, ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এসেছেন। শিশুটির মা বলেন, ‘বুকে দুধ আছে, ডাক্তার বলছে বাবুর ওজন কম, কৌটার দুধ খাওয়ালে ভালো হবে।’

দেশে শিশুদের চিকিৎসার সবচেয়ে বড় হাসপাতালটি বর্তমানে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট নামে পরিচিত। সরকারি অনুদানপুষ্ট স্বায়ত্তশাসিত এই হাসপাতালটির সেই কক্ষে ওই দিন রোগী দেখেন দুজন চিকিৎসক। তাদের একজন আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাইয়্যেদা মাহিনূর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দুই বছরের কম বয়সী শিশুকে ফর্মুলা দুধের পরামর্শ দিই না। তবে কর্মজীবী মা অথবা কোনো মা বেশি পীড়াপীড়ি করলে শুরুতে বুকের দুধের জন্য কাউন্সেলিং করি, না মানলে বাধ্য হয়ে ফর্মুলা দুধ দিতে হয়।’

বিদেশি একটি ফর্মুলা দুধের (রিপ্রেজেন্টেটিভ) প্রতিনিধির নির্ধারিত কর্ম-এলাকা এই হাসপাতালসহ শ্যামলী, মোহাম্মদপুর। গত পাঁচ বছর ধরে তার প্রাত্যহিক কাজ দুপুর ১২টার পর হাসপাতালটির চিকিৎসকদের ‘সালাম দেয়া’ এবং নার্সসহ অন্য স্টাফদের সঙ্গে ‘হাসি মুখে’ কুশল বিনিময়। তাদের জন্য নানান উপঢৌকনের ব্যবস্থাও করেন তিনি। প্রতিনিধির কাজের ফলাফল হিসেবে হাসপাতাল এলাকায় গত পাঁচ বছরে এই কোম্পানির ফর্মুলা দুধের বিক্রি অন্তত ছয়গুণ বেড়েছে বলে জানান এই প্রতিনিধি।

বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৯-এর তথ্য অনুযায়ী জন্মরে প্রথম ছয় মাসে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ার হার ছিল ৬৫ শতাংশ। ২০১৭ সালে তথ্য নিয়ে জরিপটি করা হয়। অথচ নগর স্বাস্থ্য জরপি বলছে, ২০২১ সালে শহর এলাকায় এ হার ৫২ শতাংশের কম।

শিশুর বিকাশের জন্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মায়ের বুকের দুধের কোনো বিকল্প নেই।

নগর স্বাস্থ্য জরিপ ২০২১ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক তহবিল ইউনিসেফের তথ্য ও জরিপ বলছে, ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে কেবল বুকের দুধ খাওয়ানো গেলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা যায়, কমে মৃত্যুঝুঁকি। কিন্তু দেশে জন্মের প্রথম ছয় মাসে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার বাড়ছে না। বরং শহর এলাকায় এ হার কমছে। বুকের দুধ খাওয়াতে চান এমন মায়েরা পাচ্ছেন না সঠিক দিকনির্দেশনা। ফর্মুলা দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ আসে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের কাছ থেকে।

নিজস্ব অনুসন্ধান এবং জরিপেও ফর্মুলা দুধ ব্যবহারের একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। এতে দেখা যায়, কর্মজীবী মায়েরা বাধ্য হয়ে শিশুকে দেন ফরর্মুলা দুধ। ‘বাচ্চা শুকনা’ বলে আত্মীয়স্বজনের চাপেও দিতে হয়। কোনো কোনো মা অবশ্য ফর্মুলা দুধকে পুষ্টিকর ভেবে দেন। অনলাইন প্রচারেও বাড়ছে ফর্মুলা দুধের ব্যবহার।

কর্মস্থলে ফিরতে হবে বলে দুই মাস বয়সে মেয়েকে ফর্মুলা দুধ খাওয়ানো শুরু করেন রুবানা আহমেদ। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত এই কর্মকর্তার কথা, ‘আগেভাগে অভ্যাস না করালে হুট করে ফর্মুলা খাবে না।’ মেয়ে প্রথম ছয় মাসে ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়ায় ভুগেছে। আবার টাঙ্গাইলের মধুপুরের গৃহিণী চায়না আক্তার বলেন, ‘তোলা (গুঁড়া দুধ) খাওয়ালে শিশুর শরীর বাড়ে, তাই জন্মের পরেই দিয়েছি। বাচ্চা মোটাসোটা না হলে শ্বশুরবাড়িতে কথা শুনতে হতো।’ ইউটিউব চ্যানেলে চিকিৎসকদের ভিডিও দেখে ছেলেকে তিন মাস বয়স থেকে ফর্মুলা দিচ্ছেন বলে জানান সাভারের মোহাম্মদ রনি।

জন্মের প্রথম ছয় মাসে শিশু কী খেয়েছে, এ সময়ে শিশুর রোগে ভোগা, ফর্মুলা দুধের পরামর্শ কার কাছ থেকে এসেছেসহ সাতটি প্রশ্ন রেখে ৭০ জন মায়ের মধ্যে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে একটি জরিপ চালানো হয়েছে। সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে সরাসরি, অনলাইন, মুঠোফোনে। গ্রাম ও শহরের এই মায়েরা বিভিন্ন বয়সের, নানান পেশার।

সর্বশেষ বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৯ (বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে)-এর তথ্য বলছে, ২০১৭ সালে দেশে শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর হার ৬৫ শতাংশ। জরিপটি চালায় জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)। নিপোর্টের ২০১১ সালের একই জরিপে এ হার ছিল ৬৪ শতাংশ। দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় নিপোর্টের ২০২১ সালের নগর স্বাস্থ্য জরিপে দেখা যায়, এ হার আরও কমে ৫২ শতাংশ হয়েছে।

বুকের দুধের গুরুত্ব সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাব, চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের কাছ থেকে ফর্মুলা দুধের পরামর্শ আসা, ফর্মুলা দুধের বিপণনব্যবস্থার প্রভাব, কর্মজীবী নারীদের ছুটির ঘাটতি, স্বজনদের চাপ, অনলাইনে প্রচার, জনসমাগমস্থলে/পাবলিক প্লেসে দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা না থাকার কারণে মূলত মায়েরা ছয় মাস পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না।

চিকিৎসকরা দিচ্ছেন ফর্মুলরা পরামর্শ

সকাল ৯টার পর থেকেই ঢাকা শিশু হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়তে শুরু করে। চলতি বছরের ১১, ১২ জানুয়ারি এবং ১ ফেব্রুয়ারি এই প্রতিবেদক হাসপাতালটির বহির্বিভাগের সামনে সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত অবস্থান করেছেন। এ সময় দেখা যায়, সন্তানকে কোলে নিয়ে বাবা অথবা মা হন্তদন্ত হয়ে ব্যবস্থাপত্রে উল্লিখিত কক্ষে ছুটছেন। কেউ বের হন স্বস্তি নিয়ে, কেউ আরও উদ্বিগ্ন হয়ে। তারা বের হলেই ঘিরে ধরেন ওষুধ কিংবা ফর্মুলা দুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। দেখেন চিকিৎসক তাদের কোম্পানির ওষুধ লিখেছেন কি না, ফর্মুলা দিয়েছেন কি না। ছবি তোলেন।

এ সময় দেখা যায়, ব্যবস্থাপত্রের সঙ্গে চিকিৎসকরা আলাদাভাবে একটা রঙিন স্টিকার দেন। এতে বয়স অনুযায়ী ফর্মুলা দুধের পাশে টিক চিহ্ন দেয়া থাকে। ঘণ্টায় কমপক্ষে ১০ জন বাবা-মায়ের কাছে এমন স্টিকার দেখা যায়। তারা জানান, চিকিৎসক এই দুধ খাওয়াতে বলেছেন। এতে সন্তানদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। কামরাঙ্গীরচর থেকে ছেলেকে নিয়ে এসেছেন নুরুন নাহার। তিনি বলেন, প্রতিবার ওষুধ খাওয়ানোর আগে চিকিৎসক এই দুধ খাওয়াতে বলেছেন।

চিকিৎসকদের সরবরাহ করা ফর্মুলা দুধের বেশ কিছু স্টিকারের ছবি তুলেছেন এই প্রতিবেদক। এতে দেখা যায়, বহির্বিভাগের ১৮৪ ও ১৮৫ নম্বর কক্ষ থেকেই এই স্টিকার এসেছে। এই দুটি কক্ষের টেবিলের ওপরওে প্রকাশ্যেই এই স্টিকার রাখা ছিল। হাসপাতালের নথি বলছে, প্রতিটি কক্ষে দুজন করে চিকিৎসক ছিলেন। তারা সবাই হাসপাতালটির আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

বহির্বিভাগের চিকিৎসক ও আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নূর-উজ-জামান বলেন, রোগীর ডায়রিয়া হলে বা আগে থেকে ফর্মুলা দুধ খেলে তখন প্রয়োজন অনুযায়ী ফর্মুলা দুধের পরামর্শ দেয়া হয়। কিনতে যাতে ভুল না হয়, সে কারণে ব্যবস্থাপত্রে না লিখে স্টিকারে টিক দেয়া হয়। তবে এর বিনিময়ে দুধ কোম্পানির কাছ থেকে কোনো উপহার বা আর্থিক লাভ নেননি বলে জানান তিনি।

এই হাসপাতালসহ শ্যামলী, মোহাম্মদপুর এলাকায় কাজ করেন- এমন তিনজন ফর্মুলা দুধ কোম্পানির প্রতিনিধির (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) সঙ্গে কথা হয়। এর মধ্যে তুলনামূলক নতুন কোম্পানির প্রতিনিধি জানান, ব্যবস্থাপত্রে ফর্মুলা দুধ লেখা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই চিকিৎসককে তার কোম্পানি থেকে স্টিকার সরবরাহ করা হয়। অনেক চিকিৎসক আলাদা কাগজেও লিখে দেন। তবে বেশির ভাগ সময় এ পরামর্শ থাকে মৌখিক।

কেন তার কোম্পানির দুধ এই চিকিৎসকরা লিখছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সাড়ে ১২টার পর চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করি। খাওয়ার পানি, কলমসহ টুকটাক উপহারও দিতে হয়।’ এর বাইরে নিয়মিত মাসোহারার ব্যবস্থা আছে। আয়োজন করতে হয় বৈজ্ঞানিক সেমিনারের। সেখানে চিকিৎসকদের আলোচক হিসেবে রাখতে হয়, দিতে হয় সম্মানী।

ফর্মুলা দুধের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ভূমিকা দেখতে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত সবচেয়ে বড় হাসপাতালটি নমুনা হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ আছে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও।

ডব্লিউএইচও এবং ইউনিসেফের যৌথভাবে করা ‘ফর্মুলা দুধের বিপণন কীভাবে শিশুকে খাওয়ানোর বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে’ শীর্ষক জরিপ বলছে, মা হয়েছেন এমন ৯৮ শতাংশ নারীর প্রবল ইচ্ছা ছিল ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে কেবল বুকের দুধ খাওয়ানোর। কিন্তু সঠিক পরামর্শের অভাবে তারা পারেননি। প্রসব-পরবর্তী অবস্থায় শিশুকে ফর্মুলা দুধ দেয়ার ৬০ শতাংশ পরামর্শ দেন পেশাদার স্বাস্থ্যসেবাদাতারা।

বাংলাদেশসহ আটটি দেশের ৮ হাজার ৫০০ মা-বাবা, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে জরপিটি করা হয়। জরিপের প্রকাশকাল ২০২২।

হাসপাতালে জন্ম নেয়ারা ফর্মুলা পায় বেশি

নিজস্ব জরিপে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৫৫ শতাংশ মা ছয় মাসের আগেই শিশুকে ফর্মুলা দুধ দিয়েছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগই হাসপাতালে সন্তান প্রসব করেছেন। সরকারি জরিপেও এই প্রবণতা লক্ষ করা যায়। তথ্য বলছে, ঘরে জন্ম নেয়া শিশুদের তুলনায় হাসপাতালে জন্ম নেয়া শিশুরা ফর্মুলা দুধ পায় ২০ শতাংশ বেশি।

স্কুলশিক্ষক সুমি আক্তার সন্তান জন্ম দেন মগবাজার কমিউনিটি হাসপাতালে। শিশু জন্মের পর কান্নাকাটি করলে চিকিৎসক ফর্মুলা দুধ খাওয়াতে বলেন। বাসায় ফিরে চেষ্টা করলেও শিশু আর মায়ের দুধ মুখে নেয়নি। হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে শিশু জন্মদানের পর চিকিৎসক ও সেবিকাদের মাধ্যমে একই ধরনের পরামর্শ পেয়েছেন মা রোকেয়া রহমান। তবে এসব পরামর্শ ছিল মৌখিক।

শিশু ও গাইনি বিশেষজ্ঞরা জানান, শিশু জন্মের প্রথম তিন দিনে মায়ের বুকে খুব কম পরিমাণে (শাল) দুধ আসে, ২৪ ঘণ্টায় ১ থেকে ২ চা-চামচ। এই দুধকে অপর্যাপ্ত মনে করেন মাসহ স্বজনরা। এ সময়ে পেটব্যথা, গরমসহ নানা কারণে কান্নাকাটি করে শিশুরা। সিজারের মাধ্যমে সন্তান হলে প্রথম দিন অনেক সময় দুধ নামে না। তখন অনেক অভিভাবক ফর্মুলা দুধ দিয়ে দেন। আবার অনেক চিকিৎসক ফর্মুলা দুধ কোম্পানির প্রলোভনের ফাঁদে আটকে ফর্মুলা দুধের পরামর্শ দেন। হাসপাতালে বিনা মূল্যে দুধের নমুনাও পান মায়েরা।

হাসপাতাল বা বাড়িতে ডেলিভারির সঙ্গে বুকের দুধ পানের কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের গর্ভবতী, প্রসূতি ও গাইনি বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন ছাবিকুন নাহার। তিনি বলেন, সি-সেকশন হলে প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে দুধ নামতে কিছুটা দেরি হতে পারে। এ সময় ধৈর্য ধরে সঠিক পজিশনে নিয়ে শিশুকে বারবার খাওয়াতে হবে। এতে দ্রুত অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসরণ হয়ে শিশু দুধ পাবে। শিশু কান্না করলেই ক্ষুধা লাগছে, এ ধারণাও দূর করা জরুরি।

বাধ্য হন কর্মজীবী মায়েরা

গর্ভকালীন অবস্থায় অসুস্থ থাকায় সন্তান জন্মদানের বেশ আগেই ছুটি নিতে হয়েছিল সরকারি কর্মকর্তা সোহানা ইসলামকে। চাকরিতে যোগদান করতে ছেলেকে তিন মাস বয়স থেকেই ফর্মুলা দুধ দিয়েছেন। এ নিয়ে তার অনেক আক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘অনেকবার মনে হয়েছে সন্তানকে পুষ্টি থেকে বঞ্চিত করছি। কিন্তু চাকরি বাঁচাতে ফর্মুলা দুধ বেছে নিয়েছি।’ একটি স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফরিন শাহনাজও আড়াই মাস বয়স থেকে মেয়েকে ফর্মুলা দুধ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মেয়ের বারবার ডায়রিয়া হচ্ছিল, গ্যাসের সমস্যায় ভুগেছে। তবুও ফর্মুলা চালিয়ে গিয়েছি।’ রাত জাগলে সকালে ঠিকভাবে অফিস করতে পারবেন না বলে রাতে ফর্মুলা দুধ দিয়েছেন ব্যাংকার রুমানা সরকার। একই ধরনের কথা বলেন আর কয়েকজন মা।

নিজস্ব জরিপে অংশগ্রহণকারী যেসব মা ছয় মাসের আগেই ফর্মুলা দুধ দিয়েছেন, তাদের ৮০ শতাংশ কর্মজীবী। ফর্মুলা দেয়ার পর নানা ধরনের রোগে ভোগার হারও এসব শিশুর বেশি। কিন্তু কর্মস্থলে ফেরার তাড়া থেকে দুই মাস পার হতেই ফর্মুলা দুধ দেয়া শুরু করেন বলে জানান মায়েরা। সরকারি জরিপও বলছে, শিশু জন্মের প্রথম মাসে যেখানে ৮৫ শতাংশ মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, শিশুর তিন-চার মাসে সেই হার হয়ে যায় ৪০ শতাংশ। সরকারিভাবে মায়েরা মাতৃত্বকালীন ছুটি দুবার ছয় মাস করে ভোগ করতে পারেন। শ্রম আইন অনুযায়ী, বেসরকারিভাবে এই ছুটি চার মাস।

মায়েরা আরও বলছেন, এর পাশাপাশি শিশুকে কেবল বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য যে যত্ন ও খাবার দরকার, সে ব্যবস্থা নেই অনেক চাকরিজীবী মায়ের। তবে কোনো কোনো মা ফর্মুলা দুধকে পুষ্টিকর ভেবেও দেন। কর্মস্থলে এবং পাবলিক প্লেসে দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা না থাকার কারণেও অনেক মা শিশুকে ফর্মুলা দুধ দেন।

অনলাইন ফর্মুলা দুধের প্রচার

মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে ফর্মুলা দুধের প্রচার জোরেশোরে এখন চলছে অনলাইনে। ফর্মুলা দুধ কোম্পানির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেজ রয়েছে। চিকিৎসকরাও ইউটিউবে ফর্মুলা দুধের পরামর্শ দিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করেন। মায়েদের বিভিন্ন গ্রুপে ফর্মুলা দুধের গুণগান করা হয়। এমন গুণগান শুনে অনেক মা-ই ফর্মুলা দুধ দেন। এমন একজন মা হচ্ছেন তাসলিমা আক্তার। তিনি ছেলের বয়স দুই মাস পার হতেই ফর্মুলা দুধ দেন। দুধ শুরু করার কয়েক দিনের মাথায় হজমের সমস্যা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। পরে ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করাতে হয়েছে। তাসলিমা বলেন, ‘মনে হয়েছে ছেলের ওজন কম। গুঁড়া দুধ খাওয়ালে ছেলের স্বাস্থ্য ভালো হবে। গ্রুপে পোস্ট করে সবার পরামর্শ নিয়ে দুধ দিয়েছি।’ এ রকম দুটি গ্রুপের অ্যাডমিন প্যানেল ঘেঁটে দেখা যায়, তারা ফর্মুলা দুধসহ শিশুখাদ্য বিক্রি করেন। বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে ফর্মুলা দুধের গুণগান করা হয়।

মায়ের দুধ খাওয়ানো নিয়ে কাজ করে জাতিসংঘের এমন একটি সংস্থার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পুষ্টিবিদ (নাম না প্রকাশের শর্তে) বলেন, প্রকাশ্য বা অনলাইনে ফর্মুলা দুধের প্রচার নিষিদ্ধ কিন্তু চলছে। শাস্তিযোগ্য এসব ফৌজদারি অপরাধ প্রকাশ্যেই ঘটছে। পর্যবেক্ষণ নেই। শাস্তি হয় না বলেই দিন দিন ফর্মুলা দুধের আগ্রাসন বাড়ছে বলে মন্তব্য এই জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদের।

করণীয় কী

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় প্রধান (ফিল্ড) মাহবুব আরেফীন রেজানুর বলেন, ‘ফর্মুলা দুধের আধিপত্য কমাতে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিদ্যমান আইনটি সম্পর্কে অংশীদারদের সচেতনতার কাজ জোরেশোরে চলছে। লোকবলের অভাবে তদারকি করা যাচ্ছে না। তবে কোনো চিকিৎসক ফর্মুলা দুধ দিচ্ছেন, প্রমাণ পেলে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’ এখন পর্যন্ত এ ধরনের অপরাধে কেউ শাস্তি পেয়েছেন বলে এই কর্মকর্তা নিশ্চিত করতে পারেননি। যদিও একদল চিকিৎসকের বিদেশ সফর বন্ধ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক এস কে রায় বলেন, গুঁড়া দুধ কোম্পানি অবাধে প্রচার করছে, মায়েরা প্রভাবিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি আইন লঙ্ঘনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।


হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১০৮৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে রোগটি ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া কোনো রোগীর মৃত্যুর তথ্য মেলেনি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম পরিস্থিতি সংক্রান্ত নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুরা ঢাকা, হবিগঞ্জ এবং কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা ছিল।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর সারাদেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৯৮৩ জন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২০১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর ফলে দেশে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩ জনে।

এ ছাড়া একই সময়ে নতুন করে ৬৪ জনের দেহে সংক্রমণটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ২১ হাজার ১৫ জনে পৌঁছেছে।


মহাসড়কের পাশে অব্যবহৃত ২৪ ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের মহাসড়কগুলোর পাশে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃতভাবে পড়ে থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।

একই সাথে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন পড়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিকস নিশ্চিত করে ২৪টি কেন্দ্রেই পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে।

গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বৈঠকে এসব কেন্দ্র চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে, বিদ্যমান ২৪টি ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে নামকরণ করতে হবে এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সাথে আলোচনা করে সড়ক ও মহাসড়কের পাশে খালি জায়গায় প্রকল্পের মাধ্যমে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধন্ত গ্রহণ করা হয়।

এছাড়াও প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে মেশিন, এ্যাম্বুলেন্স ও যন্ত্রপাতির সংস্থান স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে নির্বাহ করতে হবে বলেও বৈঠকে নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন সময়ে এই ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালু করা হয়।

এর উদ্দেশ্য ছিল আহতদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় এনে প্রাণহানি কমানোই। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায়, বছরের পর বছর ধরে এসব সেন্টার অব্যবহৃত পড়ে আছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি ও ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এগুলোর মধ্যে মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। একটি সংশ্লিষ্ট জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এগুলো নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ করে মাথা, বুক, মেরুদণ্ড ও হাড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীর দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

তিন তলা ভবনে ২০ শয্যার আইসিইউ ও ৪০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

এমনই একটি কেন্দ্র হলো সিরাজগঞ্জ সদরের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টার। ঢাকা-রাজশাহী-রংপুর মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে ২০২০ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়।

ছয় বছর অব্যবহৃত থাকার পর গত কোরবানির ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সেবা দিতে ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। পরে এটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।

পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জ সদর ও উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা (মধুখালী), মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী ও রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব কেন্দ্র অবস্থিত।

মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রমা সেন্টারে সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেটিস্ট ও দুজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ মোট ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা ছিল।

এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন নার্সের পাশাপাশি ফার্মাসিস্ট, রেডিওগ্রাফার ও অন্যান্য টেকনিশিয়ান থাকার কথা ছিল।

তবে কোনো কেন্দ্রেই প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ‘মহাসড়কগুলোকে কেন্দ্র করে আমরা চব্বিশটি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। খুব দ্রুতই এগুলোকে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সেন্টার’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে এটিকে আমাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার (হেলথ সিস্টেম) একটি টেকসই অংশ হিসেবে পরিচালনা করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’ সূত্র: বাসস


উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে আনা হবে আধুনিক প্রযুক্তি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সরঞ্জাম বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর সার্বিক মান বৃদ্ধি করে সেগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উপযোগী করতে প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, নারীদের হরমোন ও বিপাকজনিত জটিলতা ‘পিসিওএস’-এর বিস্তারের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বন্ধ্যাত্বের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তবে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে আধুনিক চিকিৎসাপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারে এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত নারীদের স্বাভাবিক মাতৃত্বের পথ অনেকটাই সহজ হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, চীনসহ বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও প্রযুক্তি দ্রুত দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুক্ত করতে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে।

সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন নারীর মধ্যে গড়ে ৮ থেকে ১০ জন পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই শারীরিক সমস্যাটি নারীদের হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য ও বিপাকীয় প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের প্রজনন সক্ষমতাকে ব্যাহত করে এবং গর্ভধারণে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করে।


ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৩২ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫৮ জন খুলনা বিভাগের। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৪ জন, বরিশাল বিভাগে ১৭৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৭৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫৪ জন এবং ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনবহির্ভূত এলাকায় ৮৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে ৮২ জন, ময়মনসিংহে ৫৪ জন, রংপুরে ৪৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গেছেন।

চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৩৭৯ জনে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৬ হাজার ৭০ জন এবং এ যাবত রোগটিতে মোট প্রাণ হারিয়েছেন ১৭৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, পূর্ববর্তী ২০২৫ সালে দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং ৪১৩ জন মারা যান। তার আগের বছর ২০২৪ সালে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। এছাড়া ২০২৩ সালে দেশে রেকর্ড ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।


হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৫৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২০ জনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহজনকভাবে ৪ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এর ফলে গত ১০ এপ্রিল থেকে চলমান পরিস্থিতিতে হাম ও এর উপসর্গজনিত রোগে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩ জনে।


স্বজন ছাড়াও কিডনি প্রতিস্থাপনে দেশে নতুন দ্বার উন্মোচিত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রক্তের সম্পর্ক বা আত্মীয়তার গণ্ডি পেরিয়ে এবার স্বেচ্ছায় দান করা যে কারও কিডনি সংযোজনের দ্বার উন্মোচিত হলো বাংলাদেশে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

সংবাদ সম্মেলনে বিএমইউ উপাচার্য জানান, "বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এর মাধ্যমে নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় নিকট আত্মীয় ছাড়াও স্বেচ্ছায় যে কেউ কিডনি দান করতে পারবেন৷"

দাতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, "ইমোশনাল ডোনার যাচাই বাছাইয়ের জন্য কয়েকটি সংস্থা কাজ করছে। আইনগত ভিত্তিগুলো সংস্থাগুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে প্রতিস্থাপন করা হবে। হাসপাতালের একটি টিম আছে, তারা মেডিকেল ও অন্যান্য জটিল বিষয় দেখে তদন্ত করে ইমোশনাল ডোনার সঠিক কিনা তা জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।"

অর্থনৈতিক লেনদেন প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, "কোনো অবস্থাতেই অর্থ লেনদেন হতে পারবে না। দীর্ঘদিন জটিলতায় কিডনি ট্রান্সফার বন্ধ ছিল। তবে এখন থেকে নিয়মিত কিডনি রোগীরা সেবা পাবে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি কিডনি সফলভাবে ট্রান্সফার হয়েছে।"


হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৯৭

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও দুই শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছাল ৯৪৮ জনে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হামসংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামে দুজন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হামসংক্রান্ত রোগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৮ জনে।

এ ছাড়া নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৫২ জনের। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ২৪৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৭৭ হাজার ৭২৫ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৩৯৫ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৩ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এ ছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন মৃত্যুবরণ করেছে। সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ৪২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সিলেটে ১৬৫, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭৪, বরিশালে ৫৯, খুলনায় ৪০ ও রংপুরে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।


ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে এসব মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা ঘটেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৪। এর মধ্যে জানুয়ারিতে দুজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা গেছেন। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬৭ জনের।

বুলেটিনে জানানো হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৫৯৩ জন ভর্তি হয়েছেন। ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫৫ হাজার ১৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫০ হাজার ৯৪১ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ৫৮৬ জন, খুলনা বিভাগে ২৯০ জন, বরিশালে ১৫৯ জন, ময়মনসিংহে ৮২, রংপুরে ৬৫ জন এবং রাজশাহীতে ১৩৮ জন।


জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূলধারায় আসছে নগর স্বাস্থ্যসেবা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়নের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে নগর স্বাস্থ্যসেবাকে বিচ্ছিন্ন কাঠামো থেকে বের করে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূলধারায় নিয়ে আসার সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সিএসও ফোরাম আয়োজিত ‘টেকসই এসআরএইচআর ইকোসিস্টেম’ শীর্ষক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নগরবাসীকে স্বাস্থ্যসেবার বাইরে রেখে কোনোভাবেই একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

জনমিতিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে দেশের নগর জনসংখ্যা ১০ শতাংশের নিচে থাকলেও বর্তমানে তা ৩০ শতাংশ ছুঁয়েছে এবং ২০৫০ সাল নাগাদ মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই শহরে বসবাস করবে। এ কারণে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও এনজিওভিত্তিক খণ্ডকালীন ব্যবস্থার বদলে সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের যৌথ নেতৃত্বে একটি টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে এ সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিদ্যমান ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে আরও নতুন এক লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ কর্মীকে আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজিটাল অ্যাপের সুবিধায় সজ্জিত করা হবে।

শহরাঞ্চলের নিম্নআয়ের কর্মজীবী মানুষের জন্য সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক স্থাপন এবং বস্তিবাসী, ভাসমান মানুষ ও প্রতিবন্ধী নারী-শিশুদের সেবা নিশ্চিত করতে প্রতি ৫০ হাজার থেকে এক লাখ জনসংখ্যার জন্য একটি করে ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্য ইউনিট নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন দশকের ভবিষ্যৎ চাহিদাকে সামনে রেখে জনকল্যাণমুখী এ নগর স্বাস্থ্য রূপরেখা বাস্তবায়নে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত করার তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী। আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও সিএসও ফোরামের আহ্বায়ক ডা. সায়েদ রুবাইয়েতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত রেহানা বক্তব্য রাখেন।


এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় ২৮ মামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের(ডিএনসিসি) বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া বিভিন্ন বাসা বাড়ি থেকে ২৮টি মামলায় ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকার জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তিন মাসব্যাপী মশক নিধনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা রোববার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালান।

এসময় এডিস মশা লার্ভা পাওয়ার অভিযোগে এই জরিমানা আদায় করেন। এ সময় মিরপুর-১০, রূপনগর, উত্তর পল্লবী, আগারগাও, উত্তরা, নিকুঞ্জ ও বারিধারা এলাকা থেকে এসব জরিমানা আদায় করা হয়েছে। স্থানীয় ট্যুর খুঁজুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতিস দশি চাকমা, এস এম রাসেল ইসলাম নূর, শরিফুল আলম তানভীর, প্রমথ রঞ্জন ঘটক ও দেদারুল ইসলামের নেতৃত্বে এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয় ।

জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী তিন মাসের কর্মসূচির আওতায় ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় মশার বংশ বিস্তার ও প্রজননক্ষেত্র পরিদর্শন করবেন।

এসময় তারা বাসা-বাড়ি গিয়ে সোর্স রিডাকশন, লার্ভিসাইডিং, ছাদ বাগান পরিদর্শন, জনসচেতনতাবিষয়ক মাইকিং, নোবালিউরন ট্যাবলেট প্রয়োগ, লিফলেট বিতরণ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাথে ডেঙ্গু সচেতনতা বিষক দিক নির্দেশনা প্রদান করবেন।


কিডনি রোগীদের জন্য সুখবর, ডায়ালাইসিস সেবা মিলবে সকল জেলা-উপজেলায়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দ্রুততম সময়ের মধ্যেই দেশের সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা চালু করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। এ লক্ষ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে তিন মাসের ডায়ালাইসিস বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করা হয়েছে। এছাড়া নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট উভয় ক্যাটাগরিতেই ২ হাজার ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা বাসস’কে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছি। এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনা’য় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জনকে ডায়ালাইসিস সেবাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অল্প দিনের মধ্যেই আমার সিলেটসহ কয়েকটি জায়গায় ব্যাপকভাবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করবো। এছাড়াও দ্রুত সময়ের মধ্যে সারা দেশের কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে আরও নার্স নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের থেকে এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীকে সরকারি চাকরিতে ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।

গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত সমন্বয় সেলের পক্ষ থেকে এ সভার আয়োজন করা হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী (রেকর্ড অব নোটস) পাঠানো হয়। চলতি বছরের ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। এদিন অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। এরমধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। তবে এ সেবা মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রান্তিক এলাকার বহু রোগী চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সরকার।

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। এর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই ঢাকায়। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে এ সেবা এখনো অপ্রতুল।

নথি অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালু হওয়ার তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা স্থাপনের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আড়াই হাজার নার্সসহ মোট পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে প্রতি ব্যাচে থাকবে ৫০ থেকে ১০০ জন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকের অভাব দূর করতে প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়ন করা হবে। যদি কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক না পাওয়া যায়, তবে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক সেখানে নিয়োগ দেওয়া হবে।

এছাড়াও আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক এবং কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করা; এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা এবং মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে একটি ৬০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন করার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়।

সূত্র: বাসস


হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ১ হাজার ১৯

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৮৫৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শনিবার বিকেলে প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে কেবল রাজধানীতেই পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯ জনে। এই মোট প্রাণহানির মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়ে ১০০ জনের এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে ৯১৯ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে দেশব্যাপী হাম ও সংশ্লিষ্ট উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জনে, যার মধ্যে পরীক্ষাগারে সুনির্দিষ্টভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৬ জন রোগীর শরীরে।

প্রতিবেদনে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও আরোগ্যের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, বিগত প্রায় ছয় মাসে হাম ও এর জটিল উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ২০২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাসেবা শেষে তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৮৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।


অপচিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু: ডা. জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনসুলিন বন্ধ করে ‘কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়ায় এক ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠান হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এই কমিটি গঠন করা হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ছয় সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে আহ্বায়ক এবং অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢামেক হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এবং বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি ও মেডিসিন বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, ইনসুলিন বন্ধ করে কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ফলে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৩৬ বছর বয়সী সুমি বেগম দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন এবং নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। তবে অনলাইনের মাধ্যমে হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের পরামর্শে তিনি ইনসুলিন বন্ধ করে দেন এবং তাদের দেওয়া শর্করাবিহীন খাদ্যতালিকা ও উচ্চমূল্যের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে শুরু করেন। এতে তাঁর রক্তের শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে এবং তিনি ‘সিভিয়ার ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস’-এ আক্রান্ত হয়ে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ২ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঢামেক হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং এর যথাযথ বিচার দাবি করেছেন।


banner close