সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

একদিনে করোনা শনাক্ত ৬০০ জন ছাড়াল

একদিনে করোনা শনাক্ত ৬০০ জন ছাড়াল
করোনা পরীক্ষার জন্য নমূনা সংগ্রহ। ফাইল ছবি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

দেশে করোনায় একদিনে নতুন রোগীর সংখ্যা ৬০০ জন ছাড়িয়ে গেছে। এ সময়ে করোনায় একজনের ‍মৃত্যু হয়েছে। সপ্তাহ ব্যবধানে নতুন রোগী শনাক্ত বেড়েছে ২৬ শতাংশের বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬০১ জন। এর আগের দিন নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৫২৭ জন। এর আগে গত ২৮ জুলাই ৬১৮ জন শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল অধিদপ্তর। 

অধিদপ্তর জানায়, নতুন শনাক্ত হওয়া ৬০১ জনকে নিয়ে সরকারি হিসাবে দেশে করোনা শনাক্ত হলো মোট ২০ লাখ ১৮ হাজার ২১৫ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া একজনসহ দেশে করোনায় মারা গেলেন মোট ২৯ হাজার ৩৪০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ৫ হাজার ১৯৬টি। নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫ হাজার ১৭৯টি। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৪৫ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যিনি মারা গেছেন তিনি পুরুষ, তার বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। তিনি ঢাকা বিভাগের একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এদিকে অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত সপ্তাহে (১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর) শনাক্ত রোগীর হার আগের সপ্তাহের (৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ সেপ্টেম্বর) তুলনায় বেড়েছে। অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, আগের সপ্তাহে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪৭৫ জন। গত সপ্তাহে শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৬৯ জন। অর্থ্যাৎ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে শনাক্ত রোগীর হার বেড়েছে ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ।


কোভিড: প্রথম ডোজের সময় আরও ৩ দিন বাড়ল

কোভিড: প্রথম ডোজের সময় আরও ৩ দিন বাড়ল
করোনা ভাইরাসের টিকা। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে আয়োজিত করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচির সময আরও তিনদিন বাড়ল।

আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। 

গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ বিশেষ কার্যক্রম গতকাল ৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও আগামী ৪, ৬ এবং ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। তাতে নেওয়া যাবে টিকার প্রথম, দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে কর্মসূচির মেয়াদ আরও তিন দিন বাড়ানো হয়েছে। তবে এ কর্মসূচি শেষে দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রথম ডোজ নেওয়ার কোনো সুযোগ আর থাকছে না। এখন যারা প্রথম ডোজ নিচ্ছেন, তাদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে বিশেষ ব্যবস্থায়।

“এ কর্মসূচিতে সব মিলিয়ে এক কোটির বেশি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রথম ডোজ নেননি এমন অনেকে আছেন এর মধ্যে। আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। মানুষ টিকা নিতে চায়। এজন্যই আরও কিছু মানুষকে এর আওতায় আনতে কর্মসূচি আরও তিন দিন চলবে।”

তবে মাঝে সরকারি ছুটি থাকায় ৫ অক্টোবর বাদ দিয়ে আগামী ৪, ৬ ও ৮ অক্টোবর  টিকাদান কর্মসূচি চলবে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির প্রধান ডা. শামসুল হক জানান, ২৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৬ লাখ ২ হাজার ৪৮ জন। ১৫ লাখ ৪ হাজার ৬৩৮ জন দ্বিতীয় ডোজ এবং ৮১ লাখ ৯৭ হাজার ৯২৯ জন বুস্টার বা তৃতীয় ডোজ পেয়েছেন।

দেশের জনসংখ্যার কিছু অংশ এখনও প্রথম ডোজ নেননি। আবার প্রথম ডোজ নেওয়া ব্যক্তিদের অনেকে এখনও দ্বিতীয় ডোজ নেননি। তাদের জন্য বিশেষ এই কর্মসূচির আয়োজন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পাশাপাশি চলছে বুস্টার ডোজ দেওয়ার কার্যক্রম।

শামসুল হক বলেন, এরপর টিকার প্রথম এ দ্বিতীয় ডোজের জন্য কোনো কর্মসূচি চালানো হবে না। তবে কেউ যৌক্তিক কারণে টিকা নিতে না পারলে তাকে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা যদি নিশ্চিত থাকি যে গত ছয় মাস তিনি একদম বিছানায় ছিলেন। টিকা নিতে পারেন নাই। সে ধরনের কোনো যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারলে তাদের টিকা দেওয়া যাবে। কিন্তু এটা ক্যাম্পেইনে না, আমাদের ফিক্সড সেন্টারে নেবেন।

“আর এই কর্মসূচির আওতায় যারা প্রথম ডোজ নিচ্ছেন, তাদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা রেখেছি। তবে ক্যাম্পেইন নয়, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার জন্য কেন্দ্রে আসতে হবে”।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছে ১৩ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজারের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে ১২ কোটি ৩২ লাখ ৯২ হাজার মানুষ দ্বিতীয় ডোজ এবং ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ বুস্টার ডোজ নিয়েছেন।

শনাক্ত ও মৃত্যু-দুটোই বেড়েছে

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে নতুন শনাক্ত রোগী ও মৃত্যু দুটোই বেড়েছে, তবে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে কমেছে শনাক্তের হার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আজ সোমবার জানিযেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ( ২ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ৩ অক্টোবর সকাল ৮টা) করোনাতে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৬৯৬ জন আর এ সময়ে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও দুইজন। তার আগের দিন ( ২ অক্টোবর) অধিদপ্তর নতুন শনাক্ত রোগী ৫৩৫ জন আর একজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল।

নতুন শনাক্ত হওয়া ৬৯৬ জনকে নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনাতে সরকারি হিসেবে শনাক্ত হলেন ২০ লাখ ২৬ হাজার ৯০৮ জন আর এখন পর্যন্ত মারা গেলেন ২৯ হাজার ৩৭১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে পাঁচ হাজার ৮০১ টি আর তাতে রোগী শনাক্তের হার ১২ শতাংশ। আগের দিন শনাক্তের হার ছিল ১৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

দেশে এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক তিন শতাংশ আর মৃত্যু হার এক দশমিক ৪৫ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে তারা পুরুষ এবং বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের ভেতরে। তাদের মধ্যে একজন ঢাকা আর আরেকজন সিলেট বিভাগের। তারা সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া ৬৯৬ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন ৫৯০ জন।

অধিদপ্তর জানাচ্ছে, করোনাতে দেশে গত সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় শনাক্ত রোগী সংখ্যা বেড়েছে।

গত সপ্তাহে ( ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর) করোনাতে শনাক্ত হয়েছেন চার হাজার ৫২২জন আর তার আগের সপ্তাহে ( ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর) শনাক্ত হয়েছিলেন চার হাজার ৭৬ জন। অর্থ্যাৎ গত সপ্তাহে রোগী বেড়েছে ১০ দশমিক নয় শতাংশ।

গত সপ্তাহে মারা গেছেন ১৬ জন আর আগের সপ্তাহে মারা গেছেন ১৪ জন, মৃত্যুর হার বেড়েছে ১৪ দশমিক তিন শতাংশ।

গত সপ্তাহে যে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিয়েছেন সাতজন আর টিকা নেননি নয়জন। যে সাতজন টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন একজন, দ্বিতীয় ডোজ চারজন আর টিকার বুস্টার ডোজ নিয়েছিলেন দুইজন।


প্লাসেন্টা প্রিভিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা

প্লাসেন্টা প্রিভিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা
ডা. ছাবিকুন নাহার।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ডা. ছাবিকুন নাহার

প্লাসেন্টা প্রিভিয়া কী? 

প্লাসেন্টা হলো গর্ভফুল। যার মাধ্যমে বাচ্চা জরায়ুর সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। গর্ভফুলের অবস্থান থাকে সাধারণত জরায়ুর ভেতরে ওপরের দিকে। এই গর্ভফুল কোনো কারণে যদি জরায়ুর নিচের দিকে নেমে যায়, তখন তাকে বলে প্লাসেন্টা প্রিভিয়া।

মায়ের সঙ্গে সন্তানের সংযোগ হচ্ছে এই ফুল এবং এর নালি। আমরা বলি না নাড়ি! নাড়ি ছেঁড়া সন্তানের জন্য খাদ্য পুষ্টি অক্সিজেন সব নিশ্চিত করে বাচ্চা জন্ম হওয়ার এক সেকেন্ড আগ পর্যন্ত। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার কাজ শেষ হয়।

একজন নারীর গর্ভাবস্থার শেষের দিকে সন্তান প্রসবের অংশ হিসেবে জরায়ুর নিচের অংশ স্ফীত হতে শুরু করে। কিন্তু গর্ভফুল জরায়ুর নিচে অবস্থান করলে সন্তান প্রসবের আগেই জরায়ু স্ফীত হওয়ায় গর্ভফুল পৃথক হতে শুরু করে। ফলাফল অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রক্তশূন্যতা হয়ে মা শকে চলে যায় এবং মারা যায়।

উপসর্গ

প্রেগন্যান্সির শেষের দিকে সাধারণত ২৮ সপ্তাহের পর কোনো ব্যথা বেদনা ছাড়া রক্তপাত হওয়া হচ্ছে প্লাস্টেন্টা প্রিভিয়ার উপসর্গ। এ ছাড়া রুটিন আল্ট্রাসাউন্ডেও এটি চিহ্নিত করা যায়।

প্লাসেন্টা প্রিভিয়াতে করণীয়

চিকিৎসকের নিয়মিত ফলোআপে থাকতে হবে। ভারী কাজ এবং রাফ জার্নি করা যাবে না। পুষ্টিকর খাবার খেয়ে রক্তশূন্যতা পূরণ করতে হবে। রক্তের প্রয়োজন হতে পারে যে কোনো সময়, তাই পর্যাপ্ত ডোনার জোগাড় করে রাখতে হবে। বাচ্চা এবং মাকে সব ধরনের সাপোর্ট দিতে পারে, ব্লাড ব্যাংক আছে এবং চব্বিশ ঘণ্টা সিজারিয়ান ফ্যাসিলিটি আছে, এমন হাসপাতালে আগেই কথা বলে রাখতে হবে।

গর্ভফুল এমনভাবে আটকে আছে যে, ফুল আলাদা করা যাবে না- এ পরিস্থিতিতে মায়ের জীবন বাঁচাতে জরায়ু ফেলে দিতে হবে। তাই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে সেটি নিশ্চিত হতে হবে এবং রোগী ও রোগী পক্ষকে কাউন্সেলিং করে তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখতে হবে।

আশার কথা হলো, চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি, সনোগ্রাফির সহজলভ্যতা, মানুষের সচেতনতা এবং ডাক্তারদের যৌক্তিক কর্মনিষ্ঠতা এবং সক্ষমতার জন্য এই মৃত্যুগুলো অনেকাংশেই কমানো সম্ভব হচ্ছে। সচেতনতা বাড়লে আরও কমে আসবে।

গর্ভবতী, প্রসূতি, স্ত্রী ও গাইনিরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন,

ঢাকা মেডিকেল কলেজ


করোনায় শনাক্ত বেড়েছে

করোনায় শনাক্ত বেড়েছে
করোনায় শনাক্ত বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন শনাক্ত বেড়েছে, তবে কমেছে মৃত্যু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আজ রোববার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (১ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ২ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত) করোনা ভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৫৩৫ জন, মারা গেছেন একজন। এর আগের দিন (১ অক্টোবর) ৪৮০ জন নতুন শনাক্ত আর পাঁচজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল অধিদপ্তর।

নতুন শনাক্ত ৫৩৫ জনকে নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনাতে সরকারি হিসেবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা, ২০ লাখ ২৬ হাজার ২১২ জনে দাঁড়ালো। আর মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৩৬৯ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোববার আরও জানিয়েছে, আগামী ৬ অক্টোবর থেকে বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার জন্য শ্যামলীর ২৫০ শয্যা টিবি হাসপাতালে নমুনা দিতে হবে। এর আগে বিদেশ যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা হতো বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে।

২ অক্টোবর সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তিন হাজার ৭২৭টি। তাতে রোগী শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। দেশে এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক তিন শতাংশ আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৪৫ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় একজন নারী মারা গেছেন। তার বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের ভেতরে বলে জানানো হয়েছে। তিনি রংপুর বিভাগের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।


ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি ১২ শ ছাড়াল

ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি ১২ শ ছাড়াল
ডেঙ্গু রোগী ১২শ ছাড়াল। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫৬৮ জন। এ নিয়ে গত দুই দিনে হাসপাতালে ভর্তি হলেও মোট এক হাজার ২০৩ জন।

তাদের নিয়ে দেশে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগী সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়ালো।

আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসের দুইদিনেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ২০৩ জন আর মারা গেছেন তিনজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত মোট ১৭ হাজার ২৯৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মোট রোগীর সংখ্যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবের অনেক বেশি।

যে ৫৬৮ জন গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতারে ভর্তি হয়েছেন তাদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে আছেন ৩৬০ জন আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালে আছেন ২০৮ জন।

দেশে বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন দুই হাজার ২১০ জন।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন মারা গেল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২৬ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। যদিও ফেব্রুয়ারি ও মার্চে প্রকোপ কমে আসে। ওই দুই মাসে ২০ জন করে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। এপ্রিলে হাসপাতালে ভর্তি হয় ২৩ জন রোগী। এরপরই বাড়তে থাকে রোগী সংখ্যা। মে মাসে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১৬৩ জন। জুনে রোগীর সংখ্যা প্রায় তিনগুণের বেশি হয়ে দাঁড়ায় ৭৩৭ জন। এ মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জুলাইয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এক হাজার ৫৭১ জন, মারা যায় নয়জন, আগস্ট মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয় তিন হাজার ৫২১ জন, মারা যায় ১১ জন। আর সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বর মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নয় হাজার ৯১১ জন আর মারা গেছেন ৩৪ জন।

২০০০ সালে বাংলাদেশে প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হলেও ডেঙ্গু সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে ওঠে ২০১৯ সালে। সে বছর এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল আর মৃত্যু হয়েছিল ১৬৪ জনের।


স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই

স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই
ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার

দেশে প্রতিবছর গড়ে ২২ হাজার নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। আর তাদের প্রায় ৭০ শতাংশই সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান। কারণ স্তন ক্যানসার নিয়ে নারীদের অসচেতনতা এবং পারিবারিক সংকোচবোধ। অথচ শুরুতেই ধরা পড়লে স্তন ক্যানসারের নিরাময় সম্ভব। তাই এই সংকোচ দূর করে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগী শনাক্তকরণ-প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল করতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে সম্পৃক্ত করা দরকার। পাশাপাশি এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রয়োজন।

অক্টোবর স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের এক গবেষণায় দেখা যায়, স্তন ক্যানসারে আক্রান্তদের ৮৯ শতাংশই বিবাহিত। তাদের গড় বয়স ৪১ বছরের মধ্যে। স্তন ক্যানসারের বিভিন্ন ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কেবল সচেতনতার অভাবে দেশে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীর সংখ্যা বাড়ছে এবং তাদের চিকিৎসায় বিলম্ব হচ্ছে। যখন চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার আর তেমন কোনো সম্ভাবনা থাকে না, তখন তারা চিকিৎসকের কাছে যান। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি নির্ণয় করতে পারলে এর ৯০ শতাংশই নিরাময় করা সম্ভব।

স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কারণ অনেক। এসবের মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার, লজ্জা বা সংকোচের পাশাপাশি শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব ইত্যাদি। এ ছাড়া খাদ্যাভাস, বয়স, শরীরের বাড়তি ওজন, দীর্ঘদিন ধরে হরমোনের ওষুধ সেবন প্রভৃতি কারণেও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

দুটি উপায়ে প্রাথমিক অবস্থায় স্তন ক্যানসার শনাক্ত করা যায়। স্তনে চাকা বা পিণ্ড হলে, নিপল বা বোঁটা ভেতরে ঢুকে গেলে, অসমান বা বাঁকা হয়ে গেলে, নিপল দিয়ে অস্বাভাবিক রস বা রক্তক্ষরণ হলে, ত্বকের রং বা চেহারায় পরিবর্তন এলে কিংবা বগলে পিণ্ড বা চাকা দেখা গেলে তা স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ বলে বিবেচিত হয়।

২০ বছর বয়স থেকে সারা জীবন প্রতি মাসে একবার নারীদের স্তন পরীক্ষা করানো উচিত। অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন নিজের কাছে ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে স্তন ক্যানসার নিরাময়ের সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

গতকাল ১ অক্টোবর থেকে স্ক্রিনিং শুরু হয়েছে এবং আগামী ১০ অক্টোবর বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় স্তন ক্যানসার দিবস পালন করা হবে। স্ক্রিনিং হচ্ছে স্তন ক্যানসার ঝুঁকির পরিমাপক। আমরা বাংলাদেশে একটি সমাজভিত্তিক সংগঠিত ক্যানসার স্ক্রিনিং জাতীয় কর্মসূচি চাই, যা এখনো নেই। কিছুটা রয়েছে, তবে সেটা অসম্পূর্ণ বা অপর্যাপ্ত। জাতীয় ক্যানসার স্ক্রিনিং কর্মসূচি হাসপাতালভিত্তিক নয়, বরং কমিউনিটি বা সমাজভিত্তিক ও সুসংগঠিত হওয়া উচিত। তাহলেই বেশিসংখ্যক নারী এই স্ক্রিনিং প্রোগ্রামের আওতায় আসবেন।  

অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন: প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী, বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম