সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

ডেঙ্গু ছড়িয়েছে ৫৮ জেলায়, কক্সবাজারে মহামারি

ডেঙ্গু ছড়িয়েছে ৫৮ জেলায়, কক্সবাজারে মহামারি
হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগী। ফাইল ছবি
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত
  • কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য রোহিঙ্গা ঘনবসতিকে দায়ী করা হয়েছে

  • নগরায়ণের সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা

ডেঙ্গু আবারও দেশজুড়ে ছড়িয়েছে। ৬৪ জেলার মধ্যে কেবল ছয় জেলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। ঢাকায় এবারও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। মৃত্যুও বেশি। তবে এডিস মশাবাহিত এই রোগ মহামারি আকার ধারণ করেছে কক্সবাজারে। এই পরিস্থিতির জন্য ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা শিবির ও তাদের অসচেতনতাকে দায়ী করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নথি এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে সর্বশেষ গত বছর এভাবে ৫৮ জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়েছিল। তার আগে ২০১৯ সালে ৬৪ জেলায়ই ডেঙ্গু ছড়ায়। সেবার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এবার অবশ্য প্রকোপ ততটা প্রবল না হলেও তা উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে নগরায়ণের একটা সম্পর্ক রয়েছে। দেশে নগরায়ণের হার বেড়েছে। তবে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়েনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। ডেঙ্গুর চিকিৎসাব্যবস্থা, মশক নিধন কর্মসূচিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ঢাকাকেন্দ্রিক। সচেতনতার ঘাটতি তো আগে থেকেই আছে। ফলে শুরুর দিকে ডেঙ্গু শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন নিয়মিতই দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, ডেঙ্গুর মৌসুমও প্রলম্বিত হচ্ছে।

ঢাকায় রোগী সবচেয়ে বেশি, কক্সবাজারে মহামারি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ বছর এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রাঙামাটি, বান্দরবান, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ হাজার ৮৭৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালগুলোয় ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ১৭ জন। কক্সবাজারে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪২ জন।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে হিসাব দিচ্ছে, প্রকৃত রোগীর সংখ্যা তার কয়েক গুণ বেশি। কারণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুধু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা জানাচ্ছে। এটি স্পষ্ট হয় কক্সবাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করলেই।

কক্সবাজারে ডেঙ্গু শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই দিন আগে সাড়ে ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেই সঙ্গে একই ঘরে অনেক মানুষের বসবাস। তারা পানি জমিয়ে রাখে ঘরের ভেতরে। স্বাস্থ্য সচেতনতা একেবারেই নেই। এ জন্য এবার কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি।

কক্সবাজারে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে মন্তব্য করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘এ রকম মহামারি যদি অন্যান্য জেলায়ও শুরু হয়, তাহলে বিপর্যয় ঘটবে। কাজেই এমন বিপর্যয়ের আগেই তা মোকাবিলার সক্ষমতা আমাদের তৈরি করা উচিত।’

দেশজুড়ে ডেঙ্গু ছড়ানোর কারণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ডেঙ্গুর সঙ্গে নগরায়ণের সম্পর্ক রয়েছে। দেশের সব পৌরসভা, উপজেলা এবং জেলায় জেলায় নগরায়ণ হচ্ছে। সেখানে ভবনের পর ভবন হচ্ছে। সঙ্গে বাড়ছে অটোরিকশার গাড়ির টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের প্যাকেটের মতো পানি জমতে পারে এমন বর্জ্য। ঢাকায় ডিসপোজাল ব্যবস্থা থাকলেও জেলা শহর কিংবা উপজেলা-পৌরসভা পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একেবারেই নেই। ফলে সেখানে পানি জমছে, এডিস মশা ডিম পাড়ছে, বংশবিস্তার ঘটাচ্ছে। এসব কারণেই সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে।

এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নিজ এলাকা গাইবান্ধা পৌরসভার উদাহরণ দিয়ে বলেন, এই পৌরসভায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো সক্ষমতা নেই। এ চিত্র শুধু এখানকার নয়, পুরো দেশের। তাই পুরো দেশের জন্য এখন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন করা দরকার।

অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকার সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা বেশি, সক্ষমতা বেশি। এখানে ডেঙ্গুর ব্যবস্থাপনা নিয়ে চিকিৎসকরাও অনেক অভিজ্ঞ। কিন্তু ঢাকার বাইরে এসব সুবিধা একেবারেই নেই। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকাকেন্দ্রিক সবকিছু। এই ভাবনা থেকে বের হয়ে আসা দরকার। না হলে ভবিষ্যতে করোনা বা চিকুনগুনিয়ার মতো স্বাস্থ্য সমস্যার চেয়েও ভয়াবহ সমস্যা হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করা জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার দৈনিক বাংলাকে বলেন, কোনো জেলায় পাঁচজনের বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়, তাহলে ধরে নিতে হবে যে সেখানে ডেঙ্গু স্থানীয়ভাবে ছড়িয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সেটা ভয়ংকর আশঙ্কার। কেননা ঢাকার বাইরে মশক নিধন কর্মসূচি, চিকিৎসাব্যবস্থা এবং ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়লে তা মোকাবিলার সক্ষমতা নেই বললেই চলে। কক্সবাজারে এমনটাই লক্ষ করা যাচ্ছে।

কবিরুল বাশারের মতে, সক্ষমতার ঘাটতির কারণেই ডেঙ্গু এখন দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে। কাজেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

আর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজির আহমেদের পরামর্শ হলো, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ যেমন শহর ও গ্রামে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে, সেভাবেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও তারা দায়িত্ব পালন করবে।


লিউকেমিয়ায় আতঙ্ক নয়

লিউকেমিয়ায় আতঙ্ক নয়
ডা. মো. গুলজার হোসেন
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • ক্রনিক মাইলয়েড

ক্রনিক মাইলয়েড লিউকেমিয়া বা সিএমএল হলো রক্তের এক ধরনের ক্যানসার।

লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসার হলেও এটা অন্যসব লিউকেমিয়ার তুলনায় অনেকটাই ভালো। কারণ এটি সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ক্ষেত্রবিশেষে নিরাময়যোগ্যও বটে। সিএমএল এর অধিকাংশ রোগীরাই নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধায়নে থাকলে এবং নিয়ম করে ওষুধ খেলে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

তবে দুর্ভাগ্যজনক হলো, আমাদের দেশে রোগীরা যখন জানতে পারে তার সিএমএল বা ক্রনিক মাইলয়েড লিউকেমিয়া হয়েছে তখন স্বাভাবিকভাবেই তারা দিশাহারা হয়ে ওঠে।

পুরো ট্রিটমেন্ট প্রক্রিয়া বুঝিয়ে বলার পর আরও ভালো কিছু পাওয়ার আশায় যাদের সামর্থ্য আছে বিদেশে পাড়ি দেন। সমস্যা হয় তাদের ক্ষেত্রে, যারা সামর্থ্যর হিসাবটা করতে পারেন না। বিদেশ ঘুরে আসার পর তুলনামূলক স্বল্পমূল্যের কার্যকর একটি ওষুধ কেনার সামর্থ্যও হারায়।

সিএমএল কেন হয়?

সেটা কেন হয় তা বলা কঠিন। মূলত রেডিয়েশন থেকে হয়। এ ছাড়া আরও অন্যান্য ট্রিগারিং এজেন্টও আছে।

উপসর্গ

সিএমএল হলে রোগীরা দুর্বলতা বোধ করে। সঙ্গে খাবারে অরুচি হয়। রক্তস্বল্পতা হয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে গায়ে নিম্নতাপের জ্বর হয়। ওজন কমে যায়। একপর্যায়ে প্লীহা বড় হয়ে গিয়ে পেটে চাকা অনুভূত হয়।

পরীক্ষা

সিএমএল রক্তের সিবিসি পরীক্ষাতেই ধরা যায়। তবে আরও নিশ্চিত হতে বোনম্যারো পরীক্ষা এবং সাইটোজেনেটিক পরীক্ষা করা হয়।

চিকিৎসা

সিএমএল-এর চিকিৎসা আবিষ্কার ক্যানসার চিকিৎসায় একটি যুগান্তকারী ঘটনা। মানুষ যে এক দিন ক্যানসার রোগটিকে মামুলি ব্যাপার বানিয়ে ফেলতে পারে তার নমুনা দেখা যায় এই সিএমএল-এর চিকিৎসা আবিষ্কারের ঘটনার ভেতর দিয়ে।

ইমাটিনিব নামক এক ধরনের ওষুধ এই বিসিআর-এবিএল (BCR-ABL) ফিউশন জিনকে নিষ্ক্রিয় করে রাখতে পারে। বিশেষ জিনকে লক্ষ্য করে এরা কাজ করতে পারে বলে একে বলা হয় টারগেটেড থেরাপি। বাংলায় করলে দাঁড়ায় লক্ষ্যভেদী চিকিৎসা। এক সময় সিএমএল-এর চিকিৎসায় বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট ছিল মূল চিকিৎসা। টারগেটেড থেরাপি আসার পর সিএমএল-এর চিকিৎসায় বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন প্রায় নির্বাসিত হয়েছে। ইমাটিনিবের পর একই গোত্রের আরও কিছু ওষুধ বাজারে এসেছে।

ইমাটিনিবের আবিষ্কার পুরো ক্যানসার চিকিৎসায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। ক্যানসার যুদ্ধে নতুন অস্ত্র হিসেবে একে চিহ্নিত করে টাইমস ম্যাগাজিনের এক আর্টিকেলে। একে তখন নাম দেয়া হয় ‘ম্যাজিক বুলেট’।

ইমাটিনিব প্রথম যখন বাংলাদেশে আসে তখন সিএমএল-এর দৈনিক চিকিৎসা ব্যয় ছিল গড়ে ২ হাজার টাকার মতো। এখন বাংলাদেশি ওষুধ কোম্পানিগুলো দেশেই এ ওষুধ তৈরি করে যার একেকটির দাম পড়ে ২৫০-৩৫০ টাকা। অর্থাৎ দৈনিক খরচ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার ভেতর।

এই একটি মুখে খাওয়ার ওষুধেই রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে এবং রোগী সুস্থ মানুষের মতো সাধারণ জীবনযাপন করতে পারে।

ডা. মো. গুলজার হোসেন

রক্তরোগ ও রক্তক্যানসার বিশেষজ্ঞ

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল


রেটিনা সুরক্ষায় সচেতনতা

রেটিনা সুরক্ষায় সচেতনতা
ডা. তারিক রেজা আলী।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

চোখের রেটিনা বা পর্দা যেমন সংবেদনশীল, ঠিক তেমনি স্পর্শকাতর। নানা রকম শারীরিক রোগ ও চোখের সমস্যায় রেটিনা আক্রান্ত হয়। এর ফলে ব্যক্তি পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই এর সুরক্ষায় সচেষ্ট থাকা জরুরি।

রেটিনা হলো চোখের একেবারে ভেতরের একটি পাতলা পর্দা, যার ওপর আলো পড়লে আমরা দেখতে পাই। এটি দশটি পরতে বা স্তরে তৈরি। বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন রোগ হতে পারে।

জনসচেতনতা তৈরি করতে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রোববার বিশ্ব রেটিনা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

বাংলাদেশে রেটিনার রোগ বেড়েই চলেছে। রেটিনার অসংখ্য রোগ হতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম হলো-

১. ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি

ডায়াবেটিস চোখের সব অংশেরই ক্ষতি করে। তবে সবচেয়ে বেশি করে রেটিনার। এর ফলে রোগী অন্ধও হয়ে যেতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, অন্ধত্বের সামগ্রিক কারণের মধ্যে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির জন্য অন্ধত্ববরণ করে শতকরা ১২.৫ ভাগ। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিতে রেটিনায় রক্তক্ষরণ হয় এবং রেটিনা ছিঁড়েও যেতে পারে।

২. উচ্চ রক্তচাপজনিত রেটিনার রোগ

উচ্চ রক্তচাপ একই রকম সর্বব্যাপী রোগ, যাতে আক্রান্ত অসংখ্য মানুষ। ডায়াবেটিস যাদের আছে, তাদের উচ্চ রক্তচাপ থাকা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। এ রোগে চোখের রেটিনার নানা রকম সমস্যা হতে পারে, সবচেয়ে বেশি হয় রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়া। সঠিক চিকিৎসা না হলে এখান থেকেও অন্ধত্ব হতে পারে।

৩. বয়সজনিত ম্যাকুলার ক্ষয়

ম্যাকুলা হলো রেটিনার ৫.৫ মিলিমিটার একটি জায়গা, যা সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল। মূলত এই ম্যাকুলার মাধ্যমেই আমরা কোনো বস্তুকে স্পষ্ট দেখি, রং চিনি। বয়সের কারণে এই ম্যাকুলার কোষগুলো ক্ষয় হতে থাকে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমাদের দেশেও মানুষ এখন দীর্ঘ জীবন পাচ্ছে। তাই সত্তরোর্ধ্ব মানুষের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এই রোগে মানুষ একেবারে অন্ধ হয় না, তবে পড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

৪. অপরিণত শিশুর রেটিনার রোগ

এটি অপেক্ষাকৃত নতুন সমস্যা আমাদের দেশে। কোনো শিশু যদি ৩৫ সপ্তাহের আগে জন্মগ্রহণ করে বা তার ওজন ২০০০ গ্রামের কম হয়, তাহলে এ রোগ হতে পারে। বর্তমানে দেশে অপরিণত শিশুদের যত্ন নেয়ার বিশেষ ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ২৪ সপ্তাহে জন্ম নেয়া শিশুও বেঁচে থাকছে, বড় হচ্ছে। এদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। তাই বিষয়গুলো জানা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেয়া জরুরি।

ডা. তারিক রেজা আলী

সহযোগী অধ্যাপক, (ভিট্রিও-রেটিনা), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়


কিডনি রোগ প্রতিরোধ

কিডনি রোগ প্রতিরোধ
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

কিডনি শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শরীরে বিভিন্ন ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ফলে যে অপ্রয়োজনীয় পদার্থ জমে, সেগুলোকে প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বের করে দেয়াই কিডনির প্রধান কাজ। অতিরিক্ত পানি, পটাশিয়ামসহ ইলেক্ট্রোলাইট সমন্বয় কিডনির বিশেষ একটি কাজ। এ ছাড়া লবণ সমন্বয়ের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করাও কিডনির বিশেষ কাজ। শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতেও ভূমিকা রাখে কিডনি।

সাধারণত কিডনির কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ বা ব্যাহত না হওয়া পর্যন্ত কিডনি রোগের উপসর্গ দেখা যায় না। রোগটি তৃতীয় ধাপে যখন চলে যায় তখন আর ফিরে আসার পথ থাকে না।

কারণ: ১৫-২০ শতাংশ কিডনি রোগের কারণ হতে পারে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধের ব্যবহার। ডায়রিয়া, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ার পর দ্রুত যথাযথ চিকিৎসা নিলে কিডনি আবার ভালো অবস্থানে ফিরে আসে। কিন্তু অবহেলা করলে কিডনি স্থায়ীভাবে বিকল হতে পারে।

আর দীর্ঘদিন বিভিন্ন রোগের কারণে কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে তখন তাকে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ বা ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (সিকেডি) বলা হয়। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস বা কিডনির প্রদাহ হলো এই রোগের অন্যতম কারণ। উন্নত বিশ্বে ২০-২৫ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপ রোগের কারণে কিডনি নষ্ট হয়। আরেকটি কারণ নেফ্রাইটিস।  আবার অনেক সময় বংশগত কারণে বা পরিবারের কারও কিডনি রোগ থাকলে সে ক্ষেত্রে অন্য কারও কিডনি রোগ হতে পারে। পারিবারিক কিডনি রোগের প্রধান কারণ পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ, যা ওষুধের মাধ্যমে নিরাময় হতে পারে। এতে জন্মগতভাবে কিডনির কার্যকারিতা কম থাকে অথবা কিডনির আকার ছোট বা বেশি বড় থাকে। এতেও দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ হতে পারে।

কিডনি রোগের মূল সমস্যা হচ্ছে কোনো লক্ষণ ছাড়াই ধীরে ধীরে কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয় এবং শেষ পর্যায়ে অসুস্থতা প্রকাশ পায়। তবে এর কিছু লক্ষণ হচ্ছে শারীরিক দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য, প্রস্রাব কম হওয়া, ইনফেকশন ইত্যাদি।  কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হলে ডায়ালাইসিস বা  কিডনি প্রতিস্থাপন করাতে হয়।

প্রতিরোধ: দৈনিক আট থেকে ১০ গ্লাস পানি পান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম করা, অ্যালকোহল পরিত্যাগ করা ইত্যাদির মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

বাংলাদেশে ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে ৪০ হাজার মানুষের কিডনি বিকল হয়। আর কিডনি বিকল রোগীদের মাত্র ২০-২৫ শতাংশ চিকিৎসা পায়। মনে রাখা উচিত, কিডনি রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে মারাত্মক নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা গেলে বেশির ভাগ কিডনি রোগই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ডা. শেখ মইনুল খোকন

চিকিৎসক ও গবেষক

ডেঙ্গু শনাক্তে রেকর্ড

ডেঙ্গু শনাক্তে রেকর্ড
এডিস মশা। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যায় মঙ্গলবার আবার রেকর্ড হয়েছে। একদিনে এত রোগী চলতি বছরে আর ভর্তি হয়নি। অবশ্য এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানাচ্ছে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩৮ জন। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ৩৯২ জন। তার আগের দিন ৩৯৯ জনের হাসপাতালে ভর্তির তথ্য দিয়েছিল কন্ট্রোল রুম। 

নতুন ভর্তি হওয়া ৪৩৮ জনের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১৫ জন। ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২৩ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১ হাজার ৫৬০ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে আছেন ১ হাজার ১৯১ জন। ঢাকার বাইরের হাসপাতালে আছেন ৩৬৯ জন।

কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ হাজার সাতজন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৫ জন।

গত একদিনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের নিয়ে চলতি মাসের প্রথম ২০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হলেন ৫ হাজার ৮২৬ জন। মারা গেছেন ২৪ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২৬ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিলে প্রকোপ কিছুটা কম থাকলেও মে মাসে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১৬৩ জন। জুনে ৭৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়, মারা যায় একজন। জুলাইয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১ হাজার ৫৭১ জন, মারা যায় নয়জন। আর আগস্টে হাসপাতালে ভর্তি হয় ৩ হাজার ৫২১ জন, মারা যায় ১১ জন।


একদিনে করোনা শনাক্ত ৬০০ জন ছাড়াল

একদিনে করোনা শনাক্ত ৬০০ জন ছাড়াল
করোনা পরীক্ষার জন্য নমূনা সংগ্রহ। ফাইল ছবি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

দেশে করোনায় একদিনে নতুন রোগীর সংখ্যা ৬০০ জন ছাড়িয়ে গেছে। এ সময়ে করোনায় একজনের ‍মৃত্যু হয়েছে। সপ্তাহ ব্যবধানে নতুন রোগী শনাক্ত বেড়েছে ২৬ শতাংশের বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬০১ জন। এর আগের দিন নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৫২৭ জন। এর আগে গত ২৮ জুলাই ৬১৮ জন শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল অধিদপ্তর। 

অধিদপ্তর জানায়, নতুন শনাক্ত হওয়া ৬০১ জনকে নিয়ে সরকারি হিসাবে দেশে করোনা শনাক্ত হলো মোট ২০ লাখ ১৮ হাজার ২১৫ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া একজনসহ দেশে করোনায় মারা গেলেন মোট ২৯ হাজার ৩৪০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ৫ হাজার ১৯৬টি। নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫ হাজার ১৭৯টি। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৪৫ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যিনি মারা গেছেন তিনি পুরুষ, তার বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। তিনি ঢাকা বিভাগের একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এদিকে অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত সপ্তাহে (১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর) শনাক্ত রোগীর হার আগের সপ্তাহের (৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ সেপ্টেম্বর) তুলনায় বেড়েছে। অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, আগের সপ্তাহে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪৭৫ জন। গত সপ্তাহে শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৬৯ জন। অর্থ্যাৎ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে শনাক্ত রোগীর হার বেড়েছে ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ।