বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২

রেটিনা সুরক্ষায় সচেতনতা

ডা. তারিক রেজা আলী।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চোখের রেটিনা বা পর্দা যেমন সংবেদনশীল, ঠিক তেমনি স্পর্শকাতর। নানা রকম শারীরিক রোগ ও চোখের সমস্যায় রেটিনা আক্রান্ত হয়। এর ফলে ব্যক্তি পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই এর সুরক্ষায় সচেষ্ট থাকা জরুরি।

রেটিনা হলো চোখের একেবারে ভেতরের একটি পাতলা পর্দা, যার ওপর আলো পড়লে আমরা দেখতে পাই। এটি দশটি পরতে বা স্তরে তৈরি। বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন রোগ হতে পারে।

জনসচেতনতা তৈরি করতে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রোববার বিশ্ব রেটিনা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

বাংলাদেশে রেটিনার রোগ বেড়েই চলেছে। রেটিনার অসংখ্য রোগ হতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম হলো-

১. ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি

ডায়াবেটিস চোখের সব অংশেরই ক্ষতি করে। তবে সবচেয়ে বেশি করে রেটিনার। এর ফলে রোগী অন্ধও হয়ে যেতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, অন্ধত্বের সামগ্রিক কারণের মধ্যে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির জন্য অন্ধত্ববরণ করে শতকরা ১২.৫ ভাগ। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিতে রেটিনায় রক্তক্ষরণ হয় এবং রেটিনা ছিঁড়েও যেতে পারে।

২. উচ্চ রক্তচাপজনিত রেটিনার রোগ

উচ্চ রক্তচাপ একই রকম সর্বব্যাপী রোগ, যাতে আক্রান্ত অসংখ্য মানুষ। ডায়াবেটিস যাদের আছে, তাদের উচ্চ রক্তচাপ থাকা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। এ রোগে চোখের রেটিনার নানা রকম সমস্যা হতে পারে, সবচেয়ে বেশি হয় রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়া। সঠিক চিকিৎসা না হলে এখান থেকেও অন্ধত্ব হতে পারে।

৩. বয়সজনিত ম্যাকুলার ক্ষয়

ম্যাকুলা হলো রেটিনার ৫.৫ মিলিমিটার একটি জায়গা, যা সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল। মূলত এই ম্যাকুলার মাধ্যমেই আমরা কোনো বস্তুকে স্পষ্ট দেখি, রং চিনি। বয়সের কারণে এই ম্যাকুলার কোষগুলো ক্ষয় হতে থাকে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমাদের দেশেও মানুষ এখন দীর্ঘ জীবন পাচ্ছে। তাই সত্তরোর্ধ্ব মানুষের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এই রোগে মানুষ একেবারে অন্ধ হয় না, তবে পড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

৪. অপরিণত শিশুর রেটিনার রোগ

এটি অপেক্ষাকৃত নতুন সমস্যা আমাদের দেশে। কোনো শিশু যদি ৩৫ সপ্তাহের আগে জন্মগ্রহণ করে বা তার ওজন ২০০০ গ্রামের কম হয়, তাহলে এ রোগ হতে পারে। বর্তমানে দেশে অপরিণত শিশুদের যত্ন নেয়ার বিশেষ ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ২৪ সপ্তাহে জন্ম নেয়া শিশুও বেঁচে থাকছে, বড় হচ্ছে। এদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। তাই বিষয়গুলো জানা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেয়া জরুরি।

ডা. তারিক রেজা আলী

সহযোগী অধ্যাপক, (ভিট্রিও-রেটিনা), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

চিকিৎসা নিতে আসা ৪২ শতাংশই ক্যানসারে আক্রান্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে ৮৩ হাজার ৭৯৫ জন বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন। তার মধ্যে ৩৫ হাজার ৭৩৩ জন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিল। যা শতকরা ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ।

বুধবার জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের ক্যানসার রেজিস্ট্রি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মিলনায়তনে রিপোর্টের এসব তথ্য তুলে ধরেন সহযোগী অধ্যাপক ডা মো. জহিরুল ইসলাম।

রিপোর্টে বলা হয়, রোগীদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৫ শতাংশ নারী। এই দুই বছর যেসব রোগী এসেছেন, তাদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী সবচেয়ে বেশি। এরপর আছে স্তন, জরায়ু মুখ, অন্ত্র, পাকস্থলী, লিভার, লিম্ফ নোড, মলদ্বার, মুখগহ্বর এবং পিত্তথলি। এর মধ্যে পুরুষরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ফুসফুসের ক্যানসারে এবং নারীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় স্তন ক্যানসারে।

বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ থেকে রোগী বেশি আসে।

অনুষ্ঠানে ক্যানসার এপিডেমিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলেন, আমরা আজকে অনলাইন ভার্সন প্রকাশ করছি। পুরো রিপোর্টটি খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। ন্যাশনাল ক্যানসার রেজিস্ট্রিতে বেসরকারিসহ সবাইকে যুক্ত করতে হবে। তার চেয়ে বেশি জরুরি ন্যাশনাল ক্যানসার স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা রোবেদ আমিন বলেন, যদি অসংক্রামক রোগে ৬৭ শতাংশ মানুষ মারা যায়, তার ১০ শতাংশ ক্যানসারে মারা যাচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে আমাদের প্রকৃত ক্যানসার রোগী কেমন, সেই প্রকৃত সংখ্যা আমরা জানি না। আমাদের কাছে তথ্য আছে কিন্তু ছড়িয়ে ছিটিয়ে। সামগ্রিক যে তথ্য দরকার, একটি দেশের জন্য সেটা কিন্তু আমরা জানি না। ধরে নেয়া হচ্ছে, প্রতি বছর ২ লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে এবং তার ৬০ শতাংশের বেশি মারা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে ক্যানসার কন্ট্রোল স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা ছিল ২০১৫ সাল পর্যন্ত। কিন্তু সেখানে স্বল্প মেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি করণীয়টা ছিল না। না থাকার কারণে ক্যানসার রেজিস্ট্রি একটু পিছিয়ে পড়ে গিয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে যারা আসছেন, তাদের কিন্তু একটি চিত্র তুলে ধরছে এই রিপোর্ট। ক্যানসার প্রতিরোধ করতে গেলে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হচ্ছে শিল্পায়ন, আধুনিকায়ন, কীটনাশকের ব্যবহার, যেকোনো দূষণের একটা প্রভাব আছে। আমাদের লাইফ স্টাইলের জায়গা প্রতিরোধ করার একটা বড় সুযোগ আছে। কিন্ত একটা স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম করে আমরা কিন্তু শুরুতেই শেষ করতে পারি। ক্যানসারের কারণে একটা মানুষের জীবনে যে কষ্ট হচ্ছে, সেটি লাঘব করতে পারি। আমাদের অনেকগুলো জায়গা আছে, যেখানে কাজ করার সুযোগ আছে। এই ডেটাগুলো নিয়ে কাজ করলে আমরা জানতে পারি ক্যানসার ট্রেন্ড কোনদিকে যাচ্ছে।


ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি ২৬৯ জন, মৃত্যু ১

ডেঙ্গু জ্বরের প্রতীকী ছবি।
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ২১:৪৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৬৯ জন আর এ সময়ে মারা গেছেন আরও একজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মঙ্গলবার জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২৬৯ জনের মধ্যে রাজধানী ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩৪ জন আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩৫ জন।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন এক হাজার ২২৭ জন। তাদের মধ্যে রাজধানীর ৫৩ টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আছেন ৭১৯ জন আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালে আছেন ৫০৮ জন।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ১৯৬ জন।

অধিদপ্তর জানাচ্ছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৫৮ জন।

চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৮৩৮ জন আর এখন পর্যন্ত মারা গেছেন তিনজন।

বিষয়:

করোনার টিকার চতুর্থ ডোজ শুরু ২০ ডিসেম্বর

আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৯:১৩
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে করোনার চতুর্থ ডোজের টিকাদান। ২০ ডিসেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হবে। কোনো জটিলতা দেখা না দিলে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে সারা দেশে টিকার চতুর্থ ডোজ দেয়া শুরু হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুর কবির। তিনি জানান, ষাটোর্ধ্ব, সম্মুখসারির যোদ্ধা ও যাদের একাধিক জটিল রোগ রয়েছে, তাদের চতুর্থ ডোজ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ডা. আহমেদুর কবির বলেন, ‘করোনার টিকার চলমান ক্যাম্পেইন শেষ হচ্ছে বুধবার। তাই, এবার চতুর্থ ডোজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘চতুর্থ ডোজ টিকাদানের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় রাজধানীর সাতটি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

এসব হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে ১০০ জনকে করোনার টিকার চতুর্থ ডোজ দেয়া হবে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, এসএমএসের মাধ্যমে আগের দিন বাছাইকৃত ব্যক্তিদের জানিয়ে দেয়া হবে। পরীক্ষামূলক টিকা নেয়া ব্যক্তিদের দুই সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। কোনো জটিলতা দেখা না দিলে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে চতুর্থ ডোজ দেয়া শুরু হবে।

চতুর্থ ডোজ দেয়ার কারণ উল্লেখ করে আহমেদুর কবির বলেন,‘ টিকা নেয়ার চার মাস পর সাধারণত অ্যান্টিবডির মাত্রা কমে যায়। এ ছাড়া সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’


মুখের সমস্যায় অবহেলা নয়

আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:৫১
ডা. আরমান আরেফিন

বহু মানুষ হামেশাই মুখের ঘায়ের সমস্যায় ভোগেন। তবে বেশিরভাগ মানুষই এই সমস্যাকে তেমন আমল দেন না।,বেশিরভাগ সময়ই মুখের ঘা খুব জটিল দিকে যায় না। সাধারণত পেটের অসুখ, ভিটামিনের অভাব ইত্যাদি কারণেই এই সমস্যা হয়। বেশিরভাগ সময়ই মুখের ঘা খুব জটিল দিকে যায় না। সাধারণত পেটের অসুখ, ভিটামিনের অভাব ইত্যাদি কারণেই এই সমস্যা হয়। তবে বেশকিছু সময় এই সমস্যা থেকে হতে পারে ক্যান্সার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,ওরাল ক্যান্সার মূলত জিহ্বা, মুখ, মুখের পেছনে গলা ও ঠোঁটের স্কোয়ামাশ টিস্যুতে হয়ে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। এই মুখ বা ওরাল ক্যান্সার কেন হয় , এর উপসর্গ, চিকিৎসা,করণীয় নিয়েই আজকের এই আলোচনা।

মুখের ক্যান্সার কি ও ধরণসমূহ

মুখ বলতে বোঝায় ঠোঁট, চোয়াল, তালু, জিহ্বা, দাঁত, মাড়ি, মুখের তলদেশ, টনসিল ও পাশের এলাকা। ঠোঁট, জিহ্বা, গলার উপরের অংশ, গাল, মাড়ি, মুখের মেঝে ইত্যাদির ক্যান্সার সময়মতো নির্ণয় এবং চিকিৎসা না করা হলে এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে। সাধারণত মুখ গহ্বর ও জিহ্বায় কোষের কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধির মাধ্যমে ওরাল ক্যান্সারের কোষের অস্তিত্ব প্রকাশ পায়। মুখের ক্যান্সার মুখের টিস্যুকে প্রভাবিত করতে পারে।

মুখের ক্যান্সারের ধরণগুলো হলো : ঠোঁট, জিহ্বা, মাড়ি , গালের ভিতরের আস্তরণ, তালু (মুখের ছাদ), মুখের মেঝে (জিহ্বার নিচে)

কারণ

মুখে ক্যান্সার হওয়ার অন্যতম প্রধান একটি কারণ হলো তামাক গ্রহণ করা। পান, জর্দা, সাদাপাতা, গুল, বিড়ি, সিগারেট, অ্যালকোহল ইত্যাদির নিয়মিত গ্রহণ মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও অন্যান্য কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে -

* হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) ইনফেকশন।

* খাদ্য তালিকায় ফল-মূল, শাক-সবজির পরিমাণ কম থাকাও এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

* মুখের ভিতর অসুস্থ ও তীক্ষ্ণ দাঁতের আঘাতে সৃষ্ট ক্ষত দীর্ঘদিন থাকলে তা থেকেও ক্যান্সার হতে পারে।

* পরিবারের কারও এই ক্যান্সার হওয়ার পূর্ব ইতিহাস থেকে থাকলে।

* দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

* অপুষ্টিজনিত কারণ।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য ,এক গবেষণায় দেখা গেছে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের এই রোগে আক্রান্ত হবার প্রবণতা দ্বিগুন।

উপসর্গ বা লক্ষণ

মুখের ক্যান্সারের উপসর্গগুলো অনেকসময় প্রাথমিকভাবে বোঝা যায় না। আবার যাদের মধ্যে এসব উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা যায় তারাও প্রাথমিকভাবে এগুলোকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। যে কারণে অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় রোগীরা যখন তাদের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান ততদিনে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। মুখের ক্যান্সারের উপসর্গ বা লক্ষণসমূহ ;

* মুখের গহ্বরের (মুখ) পর্দায় (ঝিল্লি) ৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কোন সাদা বা লালচে দাগ থাকা।

* ১ মাসের চেয়ে বেশি সময় গলাব্যথা স্থায়ী থাকে।

* মুখের কোন ক্ষত ৩-৪ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে না সেরে উঠা।

* মুখগহ্বরের দেয়ালে বা ঝিল্লিতে কোন অস্বাভাবিক পিন্ড বা টিউমারের উপস্থিতি অনুভব করা।

* কোনও কারণ ছাড়াই দাঁত আলগা হওয়া বা পড়তে থাকা।

* ঢোক গিলতে অসুবিধা হওয়া।

* মুখ-গহ্বরে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ বা ব্যথা।

* ২-৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মুখ খোলা ,ঠোঁট ,জিহবা ,কান ,ঘাড় ,টন্সিল অঞ্চলে ব্যথা থাকলে তা অবহেলা করা যাবে না ও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

নির্ণয়

মুখের ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য বেশকিছু পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। সেগুলো হলো - বায়োপসি, এফএনএসি, এক্স-রে, ওপিজি, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, পিইটি স্ক্যান,এন্ডোস্কোপি ইত্যাদি।

মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসা

মুখের ক্যান্সারের তিন প্রকার চিকিৎসা রয়েছে- প্রথমত সার্জারি, দ্বিতীয়ত কেমোথেরাপি, তৃতীয়ত রেডিওথেরাপি। যখন ক্যান্সারের আকার অনেক ছোট থাকে তখন সার্জারি বেশি ফলপ্রসূ। এজন্য প্রত্যেকের উচিত প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সারের চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা।

সার্জারি:

মুখের ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা হল অস্ত্রোপচার টিউমার অপসারণ। অস্ত্রোপচারের মধ্যে ক্যান্সারযুক্ত লিম্ফ নোড এবং ঘাড় এবং মুখের অন্যান্য টিস্যু অপসারণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

রেডিওথেরাপি:

রেডিয়েশন থেরাপি ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত অস্ত্রোপচারের পরে ওষুধের সাথে পুনরাবৃত্তি রোধ করার জন্য করা হয়। ডাক্তার দিনে এক বা দুইবার টিউমারের স্থানে রেডিয়েশন দেয়া হয়ে থাকে। টিউমারের আকারের উপর নির্ভর করে চিকিৎসা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সপ্তাহে ২দিন বা ৫ দিন করে ২ সপ্তাহ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত এই থেরাপি চলতে পারে। ক্যান্সার এডভান্স স্টেজের রেডিয়েশন থেরাপির সাথে কেমোথেরাপিও দরকার হতে পারে।

এখানে জেনে রাখা ভালো রেডিয়েশন থেরাপির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। যেমন - মুখে ঘা, মুখ শুকিয়ে আসা, দাঁত ক্ষয়ে যাওয়া, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া, চামড়া এবং মুখের বিভিন্ন ইনফেকশন, অবসাদ, স্বাদ এবং গন্ধ নিতে অপরাগতা ইত্যাদি।

কেমোথেরাপি:

কেমোথেরাপি হল মৌখিকভাবে বা অন্ত:সত্ত্বা (আইভি) লাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ খাওয়ার একটি পদ্ধতি। কেমোথেরাপি কখনও কখনও ক্যান্সারের উন্নত পর্যায়ে রেডিওথেরাপির সাথে মিলিত হয়। এটি ক্যান্সার কোষের ডিএনএকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য করা হয়, তাদের বিভাজন এবং গভীর টিস্যুতে বেড়ে ওঠার ক্ষমতা দূর করে।

রেডিওথেরাপির মতো কেমোথেরাপিরও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। যেমন - চুল পড়া, মুখ এবং মাড়িতে ব্যথা, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, রক্তশূন্যতা, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব এবং বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি।

ঝুঁকি কমাতে করণীয়

* ধূমপান অথবা অন্য কোনো তামাক পাতা সেবন পরিহার করতে হবে।

* অ্যালকোহল পরিহার করতে হবে।

* দীর্ঘক্ষণ সূর্যতাপ পরিহার করুন।

* মুখ গহ্বর পরিষ্কার রাখুন এবং নিয়মিতভাবে দাঁতের ডাক্তার দেখাবেন।

* অনিরাপদ যৌন মিলন পরিহার করতে হবে।

সচেতনতা এবং কিছু কথা

মুখের ক্যান্সার প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসা করা অনেকটাই সহজ হয়। তবে রোগ বেশিদূর এগিয়ে গেলে চিকিৎসা বেশ কঠিন। কাজেই মুখ বা দাঁতের কোন সমস্যাই অবহেলা করবেন না। সমস্যা যতই ছোট হোক না কেন সেটা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা বাঞ্চনীয়।

লেখক : দন্ত বিশেষজ্ঞ ,

ম্যান্ডি ডেন্টাল কলেজ এন্ড হাসপাতাল

(জেডএইচ শিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল )


ডেন্টাল হেলথ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জেলা প্রতিনিধি সম্মেলন

সোমবার বাংলাদেশ ডেন্টাল হেলথ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জেলা প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৫:২৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বাংলাদেশ ডেন্টাল হেলথ সোসাইটির ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জেলা প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত সোমবার জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল হলে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মো. হারুন-অর-রশিদ আওরঙ্গ।

সংগঠনের মহাসচিব মোহাম্মদ খালেদ মোছান্নাহ সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু।

বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাধীনতা দেশজ চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সহকারী অধ্যাপক ডা. আ জ ম দৌলত আল মামুন, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, বোর্ড অ্যাফিলিয়েটেড সোসাইটি ফর মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান হাবিব, এসপিকেএস মেডিকেল ইনস্টিটিউট চেয়ারম্যান গৌরাঙ্গ বিশ্বাস স্বাধীন, বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ইলিয়াস মোল্লা ইলু ও বিএমটিএ সদস্য সচিব শামীম শাহ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে দন্ত্য চিকিৎসা সেবায় ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের অনেক অবদান রয়েছে। তারা আছেন বলেই গ্রামের মানুষের দাঁতের চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য হচ্ছে।

এ সময় ২০১০ সালের বিএমডিসি আইনে ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের যে অধিকার খর্ব করা হয়েছে, তা ফিরে পাওয়ার জন্য বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করবেন বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।


ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা

করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ০০:০৪
জাকিয়া আহমেদ

চীন ও জাপানে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবারও হুমকির মুখে পড়েছে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ফের করোনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। তাই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

দেশে বর্তমানে বিভিন্ন গবেষণাগারে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কম, তাই আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার হারও খুব কম। তবে বিদেশে যাওয়া-আসায় এখন কোনো বিধিনিষেধ না থাকায় যেকোনো সময় করোনাভাইরাসের নতুন কোনো ধরন বাংলাদেশে চলে আসতে পারে। করোনা প্রতিরোধের ব্যাপারে মানুষের সতর্কতা কমে যাওয়ায় ভাইরাসটির মারাত্মক নতুন ধরন বা ভ্যারিয়েন্ট নতুন করে হুমকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানোম গেব্রেয়াসুস গত শুক্রবার বলেছেন, কোভিড মোকাবিলায় কৌশলগত বিভিন্ন ত্রুটির ফলে একটি মারাত্মক নতুন ভ্যারিয়েন্ট উদ্ভবের মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশ এখনো বিশ্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘চীনসহ বিশ্বের পরিস্থিতি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শ কমিটির সঙ্গে শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। দেশের হাসপাতাল এবং বন্দরগুলোতে নজরদারি জারি রয়েছে।’

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনে ফের আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কোভিড নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকারি বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের মধ্যেই টানা পঞ্চম দিনের মতো রেকর্ড কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সংক্রমণ বাড়ছে জাপানেও। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দেশটিতে গত ১ সপ্তাহে ৭ লাখ ৪০ হাজার মানুষের নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে।

দেশে চলতি বছরের শেষ দিকে করোনার প্রকোপ কমতে শুরু করে। সম্প্রতি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন খুবই কম, নেই মৃত্যু। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার কমে এসেছে এক শতাংশের নিচে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান খান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘চীনে অন্য কোনো ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেল কি না, সেটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। চীন এবং জাপান থেকে বাংলাদেশে আসা যাত্রীদের বেলায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। তাদের জন্য কোয়ারেন্টাইন এবং পিসিআর টেস্টের বাধ্যবাধকতা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে আতঙ্কিত না হয়ে বরং সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। উড়োজাহাজ চলাচল এখন স্বাভাবিক। আগে যে হেলথ ডিক্লারেশন ফর্ম পূরণ করতে হতো, সেটিও তুলে দেয়া হয়েছে। দেশের বাইরে যদি সংক্রমণ বাড়তে থাকে, অবিলম্বে এসব ব্যবস্থা চালু করা দরকার।’

জনস্বাস্থ্যবিদ চিন্ময় দাস মনে করেন, চীন-জাপানে করোনার নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্ট কিংবা স্ট্রেইন এসেছে কি না এবং সেটা ভয়ংকর কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কোনো অবহেলার সুযোগ নেই। করোনাভাইরাস একেবারে চলে গেছে বা চলে যাবে- এমন বলার সুযোগ নেই। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন এখন অনেক বড় প্রভাবক। এখানে ভাইরাসের অনেক জিনগত পরিবর্তন (জেনেটিক মিউটেশন) হচ্ছে। তাই এখন ব্যাপকভাবে এ নিয়ে গবেষণা করতে হবে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে চীন ও জাপানে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, আর ইউরোপ-আমেরিকাতেও সামনে বাড়তে পারে। তবে গত দুই বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আমাদের দেশে শীতে করোনার প্রকোপ থাকে না। ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে ফের সংক্রমণ কিছুটা বাড়তে পারে।’


প্রথমবারের মতো সরকারি হাসপাতালে কাটাছেঁড়া ছাড়া ভাল্ব প্রতিস্থাপন

রোগীর সঙ্গে চিকিৎসক দল। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি কোনো হাসপাতালে একজন কার্ডিয়াক সার্জন কোনো প্রকার কাটাছেঁড়া ছাড়াই হৃদযন্ত্রের ভাল্ব প্রতিস্থাপন করেছেন। রোগী ‍সুস্থ আছেন এবং তাকে দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হবে।

সফল এই চিকিৎসা হয়েছে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিউট ও হাসপাতালে। হাসপাতালটির কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগে প্রথমবারের মতো একজন কার্ডিয়াক সার্জন কাটাছেঁড়া ছাড়াই ভাল্ব প্রতিস্থাপন করেছেন।

সাধারণত বয়সজনিত ক্ষয় বা বাতজ্বরের কারণে এওর্টিক ভাল্ব সংকীর্ণ হয়ে পড়লে তা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পড়ে। বিশেষত যেসব রোগীর এর আগে হৃদপিন্ডে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে কিংবা বয়োবৃদ্ধ যেসব রোগীর অস্ত্রোপচার পরবর্তী প্রত্যাশিত আয়ু এক বছরের বেশি কিংবা পারিপার্শ্বিক অন্যান্য শারীরিক সমস্যার জন্য যাদের ভাল্ব অস্ত্রোপচারজনিত মৃত্যঝুঁকি অনেক বেশি, তাদের ক্ষেত্রে বুক কেটে ওপেন হার্ট সার্জারির মাধ্যমে ভাল্ব প্রতিস্থাপন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকরা বলছেন, এসব রোগীর জন্য নতুন এই পদ্ধতিটি হতে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সমাধান।

অপারেশন টেবিলে চিকিৎকরা

২০০২ সালে প্রথম এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু হয়। এরপর থেকে বিশ্বের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ এই চিকিৎসা নিয়েছেন। সেই পথ ধরে সম্প্রতি বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা। আর এর নেতৃত্বে ছিলেন জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও আবাসিক সার্জন ডা. আশ্রাফুল হক সিয়াম এবং হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন।

আশ্রাফুল হক সিয়াম দৈনিক বাংলাকে বলেন, শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের বয়স ৭০ বছর। এর আগে তার বাইপাস সার্জারি হয়। একইসঙ্গে তিনি ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগী। যার কারণে আবারও ওপেন হার্ট সার্জারি করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সিয়াম বলেন, ‘বিকল্প চিন্তা হিসেবে কাটাছেঁড়া ছাড়াই ভাল্ব প্রতিস্থাপনের আমরা সিদ্ধান্ত নেই। রোগীও আমাদের সঙ্গে একমত হন। গত ১ ডিসেম্বর রোগীর বুক না কেটে এবং অজ্ঞান না করেই এওর্টিক ভাল্ব প্রতিস্থাপন করি। এটি চ্যালেঞ্জিং এবং ব্যয়বহুল।’

পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. সিয়াম জানালেন, যেভাবে এনজিওগ্রাম করা হয় সেই একই পদ্ধতিতে পায়ের মধ্যে ক্যানুলার মতো করে তার ভেতর দিয়ে নতুন ভালো ভাল্ব লাগানো হয় আগের ভাল্বের ওপর।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই পদ্ধতির চিকিৎসায় খরচ কোটি টাকার মতো। বাংলাদেশের বেসরকারি হাসপাতালে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার মতো খরচ হলেও হৃদরোগ হাসপাতালে খরচ হয়েছে ১৭ লাখ টাকার মতো।

‘রোগী বর্তমানে সুস্থ আছেন, তাকে কেবিনে দেয়া হয়েছে। দুই থেকে তিনদিনের মতো হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রেখে আমরা ছেড়ে দেব’, বলেন ডা. আশ্রাফুল হক।

২০১৯ সালে ডা. সিয়াম মিনিমাল ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারির মাধ্যমে (ফুটো করে) বাংলাদেশে প্রথম ডাবল ভাল্ব প্রতিস্থাপন করেন।


ডেঙ্গুতে মৃত্যুহীন দিনে হাসপাতালে ৩০৮ জন

হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু আক্রান্তরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ২০:৫৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

মাঝে এক দিন বাদ দিয়ে ফের ডেঙ্গুতে মৃত্যুহীন দিন দেখল বাংলাদেশ। আর এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সোমবার জানিয়েছে, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০৮ জন। এদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ১৭২ জন এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩৬ জন।

দেশে বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১ হাজার ৩৩২ জন।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৮ হাজার ৯২৭ জন। তবে প্রকৃত রোগীর সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি বলে জানান জনস্বাস্থ্যবিদরা।

২০০০ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হলেও এ জ্বর সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল ২০১৯ সালে। সে বছর ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল, আর সরকারি হিসাবে মৃত্যু হয়েছিল ১৬৪ জনের।

বিষয়:

ছয় মাস পর থেকে শিশুর খাবার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৩৭
সামিয়া তাসনিম

শিশু জন্মের ছয় মাস পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ যথেষ্ট। আর ছয় মাস পর থেকে মায়ের দুধের সঙ্গে তাকে বাড়তি খাবারও দিতে হবে।

জন্মের পর থেকে ৬ মাস পর্যন্ত প্রতি কিলোগ্রাম শরীরের ওজনের জন্য প্রতিদিন ১২০ কিলোক্যালরি এবং ৭ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত প্রতি কিলোগ্রাম ওজনের জন্য দৈনিক ১০০ কিলোক্যালরি প্রয়োজন হয় শিশুর। দেহের ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মোট ক্যালরি চাহিদা বাড়তে থাকে, যদিও তখন প্রতি কিলোগ্রাম ওজনে ক্যালরির চাহিদা কমতে থাকে।

ছয় মাস বয়সের পর থেকে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার না দিলে শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। কারণ মায়ের দুধে ভিটামিন সি ও লৌহের পরিমাণ খুব কম থাকে।

এ সময় এই দুটি পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হলে শিশুর এনিমিয়া (রক্তশূন্যতা) হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ সময় ভিটামিন এ ও ডির চাহিদা বেশি হয়, যা শুধু দুধ থেকে পূরণ করা সম্ভব না। ভিটামিন সির জন্য ফলের রস, লৌহের জন্য ডিমের কুসুম এবং ভিটামিন এ ও ডির জন্য কডলিভার তেল খাওয়ানো ভালো। আবার শিশুকে কিছুক্ষণ সকালের রোদে শুইয়ে রাখলে শিশুর ত্বকের নিচে ভিটামিন ডি তৈরি হয়, যা শিশুর চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।

জন্মের সময় সুস্থ ও স্বাভাবিক শিশুর ওজন হয় ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ কিলোগ্রাম। পুষ্টি চাহিদা ঠিকভাবে পূরণ হলে পাঁচ মাসে তার ওজন প্রায় দ্বিগুণ ও এক বছরে তিন গুণ হয়। এই ধারা ঠিক রাখতে শিশুকে প্রতিদিন সুষম খাবার দিতে হবে ছয় মাস বয়স থেকে।

ভাত, ডাল ও সবজি, শাক সেদ্ধ করে একসঙ্গে মিশিয়ে সেই নরম খাদ্য দু-এক চামচ করে খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হয়। অনেকের ধারণা, ভাত শিশুর জন্য ভালো না। কিন্তু ভাত অত্যন্ত সহজপাচ্য শিশুর জন্য। এর সঙ্গে ডাল ও নরম সেদ্ধ সবজি যেমন পেঁপে, গাজর, আলু বা কপি, তেলহীন মাছ একসঙ্গে চটকিয়ে অল্প অল্প করে খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে। সুজিও ভাতের মতো সহজপাচ্য।

লেখক: পুষ্টিবিদ, ল্যাবএইড, গুলশান


স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফেরাতে ‘শিওরকেয়ার’ চালু

শিওরকেয়ার ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৩ ডিসেম্বর, ২০২২ ২২:২৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশে ব্যয়বহুল স্বাস্থ্যসেবায় সিংহভাগ খরচ হয় হাসপাতালে ভর্তি হলে, ওষুধ কিনতে কিংবা রোগ নির্ণয়ে। হার্ট ও কিডনির অসুখ কিংবা ক্যানসারের মতো ব্যয়বহুল রোগ বিপর্যয় ডেকে আনে গোটা পরিবারের জন্য। এই ব্যয় মেটাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যায় কয়েক লাখ মানুষ। মানুষের ওপর এই ব্যয়ের চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে শিওরকেয়ার ফাউন্ডেশন। শিওরকেয়ারের ভাষায়, ‘আমরা চাই আস্থা ফিরে আসুক স্বাস্থ্যসেবায়।’ শিওরকেয়ার অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের মাধ্যমে সদস্য হয়ে এই সেবা নেয়া যাবে। তবে সদস্য পদের মেয়াদ কমপক্ষে ৯০ দিনের হতে হবে।

গত শুক্রবার রাতে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, সিটি হেলথ এবং শিওরকেয়ার যৌথভাবে এর আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

শিওরকেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী চিকিৎসক চৌধুরী হাফিজুল আহসান বলেন, ‘শিওরকেয়ার অ্যাপ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ তাদের মেডিকেল রেকর্ড, ইসিজি, এক্স-রে, ল্যাব রিপোর্ট নিজেরাই সংরক্ষণ করতে পারবেন।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক জগৎ নারুলা। ছবি: দৈনিক বাংলা

সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে হাসপাতালে ভর্তি, ওষুধ কেনা এবং রোগ নির্ণয়ে খরচ সবচেয়ে বেশি। ওই সময়ে চিকিৎসা কেমন হবে, রোগের ধরন এবং রোগ নিরাময় নিয়ে কোনো ধারণা না থাকায় রোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। কিন্তু শিওরকেয়ার আগে থেকেই তার সদস্যদের এসব রোগ সম্পর্কে ধারণা দেবে, কীভাবে প্রতিরোধ করা যাবে সে বিষয়ে সতর্ক করবে এবং অসুস্থ হলে তার পাশে দাঁড়াবে। তা ছাড়া প্রাথমিকভাবে শুধু হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য শিওরকেয়ার সদস্যদের জন্য আর্থিক সুবিধা দেবে।

এর পাশাপাশি অন্য অসুখে হাসপাতালের খরচ এককালীন বহন করা কষ্টকর- এই কথা স্মরণ রেখে, সুস্থ থাকা অবস্থায় ব্যাংকের মাধ্যমে মেম্বারদের হেলথ ইকুইটি লাইন অব ক্রেডিট নিতে উৎসাহিত করবে শিওরকেয়ার। এর সুবিধা হলো, এই টাকা থাকছে ‘যদি লাগে’ এই ভিত্তিতে। এর ফলে আগে থেকে ব্যাংক অনুমোদিত লোন এককালীন ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা যখন-তখন হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয়ভারের জন্য পাওয়া যাবে, যা পরে ৩০ থেকে ৩৬ মাসে পরিশোধ করতে হবে। ফলে রোগী এবং পরিবারের ওপর এককালীন টাকা জোগাড়ের চাপ কমবে। এর ফলে অসুস্থ সদস্যের পরিবার দারিদ্র্যসীমার আরও এক ধাপ নিচে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে। এ ছাড়া অচিরেই ল্যাব টেস্টিং এবং হাসপাতালের খরচের ক্ষেত্রে মেম্বারদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও করবে শিওরকেয়ার।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ডা. হাফিজ বিদেশে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত থাকলেও তার মন পড়ে থাকে বাংলাদেশে। দেশের যেকোনো দুর্যোগে, দুঃসময়ে ও মানবিক কাজে তিনি সাড়া দেন, যার সাম্প্রতিক উদাহরণ কোভিডের সময় বিদেশে বসে দেশের জন্য কাজ করা।

শিওরকেয়ারের ভাষায়, ‘আমরা চাই আস্থা ফিরে আসুক স্বাস্থ্যসেবায়’।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশি, প্রবাসী ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অ্যাপ ডাউনলোড করে (শিওর কেয়ার ফিজিশিয়ান পোর্টাল) শিওরকেয়ার কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন। তাদের নিজেদের পরিচিত, কাজের বর্ণনা এবং মেডিকেলের কোন ক্ষেত্রে কাজ করেন এসব তথ্যাদি সাধারণ মানুষের অবগতির জন্য তুলে ধরতে পারবেন।

এ ছাড়া শিওরকেয়ার দেশি, প্রবাসী এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে সমন্বিত টিম গঠন করেছে। যাতে শিওরকেয়ারের সদস্যদের কেউ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে স্থানীয় চিকিৎসককে সঙ্গে নিয়ে এই টিমের মাধ্যমে একটি সক্রিয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এতে স্বাস্থ্যসেবায় হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা যাবে এবং এই দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে লাগামহীন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে শিওরকেয়ার বিশ্বাস করে।

ডা. দীপু মনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মানুষকে বোঝানো, সদস্য তালিকাভুক্ত করা, সদস্যদের সেবা দেওয়া, হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে কাজ করা, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা এসব অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমাদের এখনও যেতে হবে অনেক দূর। আমরা স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে পারলে যে ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও সোনার বাংলার স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দেখিয়েছেন, সেখানে পৌঁছানো অনেক সহজ হবে।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিওরকেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী চিকিৎসক চৌধুরী হাফিজুল আহসান। ছবি: দৈনিক বাংলা

অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক জগৎ নারুলা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে এর সাফল্য কামনা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, মহাসচিব অধ্যাপক সায়েফ উদ্দিন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. এম জি আজম, সিটি হেলথের পরিচালক ফারুক আজম খানসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) মতিউর রহমান, জাতীয় অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. হারুন-অর-রশীদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইমিরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব, ডা. সামন্ত লাল সেন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. জামালউদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ ক্যান্সার হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক এম এ হাই, অর্কিড প্রিন্টার্সের সিইও হাসিনা নেওয়াজ প্রমুখ।


চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহেই নাবা ও নুহার অস্ত্রোপচার

হাসপাতালে মায়ের পাশে নাবা, নুহা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৪ ডিসেম্বর, ২০২২ ০০:০১
জাকিয়া আহমেদ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সি-ব্লকে গিয়ে দেখা মেলে নুহা আর নাবার। দেশজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠা মেরুদণ্ড জোড়া লাগা ৮ মাস ১৫ দিন বয়সী এই দুই বোনকে চলতি মাসেই আলাদা করবেন চিকিৎসকরা।

কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ীর বাসিন্দা নাসরিন আক্তার দৈনিক বাংলাকে জানান, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পাঁচ মাস পর আলট্রাসনোগ্রাম করা হলেও তখন সন্তানের এই অবস্থা ধরা পড়েনি। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এদের জন্ম হয় ৮ মাস ৪ দিনে। তখনই ওদের জোড়া লেগে থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর কুড়িগ্রাম থেকে রংপুরে যোগাযোগ করা হয়। সেখান থেকে তাদের বলা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অথবা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে। এরপর যোগাযোগ হয় মোহাম্মদ হোসেন স্যারের সঙ্গে।

নাসরিন আক্তার বলেন, ‘অপারেশন হবে, এতদিন তো বাচ্চা দুটোকে নিয়ে হাঁটাচলা করতে পেরেছি, কোলে নিতে পেরেছি। কিন্তু অপারেশনের পরে কী হবে সেটিই বড় চিন্তা, টেনশনে ঘুম হয় না। কারও কোনো সমস্যা হয়ে যায় কি না- এটিই বেশি চিন্তা হচ্ছে।’

এখন পর্যন্ত এই দুই সন্তানের চিকিৎসায় তাদের ৫ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে জানিয়ে নাসরিন বলেন, নিজেদের সঞ্চয়, আত্মীয়স্বজন আর গ্রামবাসীও তাদের সহায়তা করেছেন। একই সঙ্গে সন্তানদের চিকিৎসার জন্য ৮ মাস ধরে ঢাকায় থাকায় বাবা আলমগীর রানা চাকরি হারিয়েছেন। এ অবস্থায় নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কথাও জানান মা নাসরিন।

মেরুদণ্ডে জোড়া লাগানো শিশু (কনজয়েন্ট টুইন) নুহা ও নাবা চিকিৎসাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেনের অধীনে। নিউরো সার্জন, প্লাস্টিক সার্জন, পেডিয়াট্রিক সার্জন, ইউরোলজিস্টসহ আরও সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ‍নুহা ও নাবার চিকিৎসায় ১৯ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন জানান, চলতি মাসের ১৭ তারিখে প্রাথমিকভাবে অস্ত্রোপচারের তারিখ নির্ধারণ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কয়েকটি ধাপে ওদের অস্ত্রোপচার করতে হবে। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ কিছু ডিভাইস দেশের বাইরে থেকে আনতে অর্ডার দেয়া হয়েছে। আমরা সেগুলো ১০ ডিসেম্বরের ভেতরে হাতে পাব।’

তিনি বলেন, ‘ওদের পায়ুপথ এবং যোনিপথ একটি। আগে সেখানে অস্ত্রোপচার হবে। এরপর মেরুদণ্ড আলাদা করার মূল অপারেশন হবে। যেটি সবচেয়ে বড় এবং ঝুঁকিপূর্ণ সার্জারি। তবে ওদের ধাপে ধাপে সাত থেকে আটটি কিংবা আরও বেশি অস্ত্রোপচার দরকার হতে পারে। পুরোটা আসলে নির্ভর করছে প্রতিটি অস্ত্রোপচারের পর ওদের সেরে ওঠার ওপর।’

এই অস্ত্রোপচারের সফলতা নিয়ে আশাবাদী হলেও এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান মোহাম্মদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘হয়তো একজন পুরোপুরি সুস্থ থাকলেও আরেকজন নিউরোলজিক্যাল কিছু সমস্যায় ভুগতে পারে। তবে পৃথিবীতে এ ধরনের অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ রয়েছে এমন উদাহরণও কম নয়।’


মধ্যপ্রাচ্য-আফ্রিকায় এইডস ঝুঁকিতে বাংলাদেশি কর্মীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোতে এইচআইভি (এইডস) আক্রান্তের হার বেশি। বাংলাদেশে থেকে প্রতিবছর প্রচুর মানুষ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোতে কাজের জন্য যাচ্ছেন। এইচআইভি সংক্রমণের জন্য এটি বড় একটি ঝুঁকির বিষয়। এ কথা জানিয়েছেন ইউএনএইডস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. সায়মা হক।

শনিবার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সহযোগিতায় কমিউনিটি ফোরাম অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘এইআইভি/এইডস আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী’ শীর্ষক এক মিডিয়া অ্যাডভোকেসি বৈঠকে তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল।

প্রতিবছর ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সিক্সটিন ডেইজ অব অ্যাকটিভিজম পক্ষ পালিত হয়ে থাকে। তারই অংশ হিসেবে বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে এই অ্যাডভোকেসি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মনজুরুল আহসান বুলবুল জাতীয় নীতিগত কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন হলে দ্রুত সেটি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর যেন একসঙ্গে যৌথভাবে উদ্যোগ নেয়, সে অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নেও জোর দেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান এইডসে আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়টি অধিদপ্তর দেখে জানিয়ে বলেন, এই জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা ও মানবাধিকারসহ অন্যান্য বিষয়গুলো দেখভালের জন্য সংশিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপ-পরিচালক জাহিদ অনোয়ার এইচআইভি আক্রান্ত অভিবাসীদের স্বাস্থ্য বীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি মন্ত্রণালয় বরাবর লিখিতভাবে জানানোর অনুরোধ করেন।

অনুষ্ঠানে এইডসে আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জাতীয় পিএলএইচআইভি নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক হাফিজউদ্দিন মুন্না ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে এই জনগোষ্ঠীর সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করে প্রত্যেককে চিকিৎসার আওতায় আনা, তাদের জন্য ওষুধের পাশাপাশি অন্যান্য চিকিৎসা সহজলভ্য ও চিকিৎসা সেবা বৈষম্যহীন করা, তাদের প্রতি হয়রানি ও বৈষম্যমূলক আচরণ পরিহার করা ও তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, তাদের সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর আওতায় আনা, তাদের জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বিসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


টানা তৃতীয় দিন ডেঙ্গুতে মৃত্যুহীন দেশ

শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫১ জন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকখানি কমে এসেছে। হাসপাতালে যেমন ভর্তি রোগী সংখ্যা কমছে তেমনি গত তিন দিন ধরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহীন রয়েছে দেশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শনিবার জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৫১ জন। তাদের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ২০৭ জন আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪৪ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন ১ হাজার ৭১০ জন।

অধিদপ্তর বলছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৮ হাজার ২০৯ জন। এর মধ্যে চলতি মাসের প্রথম তিন দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৫১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। এর আগের দুই দিন গত ২ এবং ১ ডিসেম্বরেও ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। অর্থাৎ গত তিন দিন ধরে টানা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু নেই। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এর আগে গত ২৮ নভেম্বর ডেঙ্গুতে মৃত্যুহীন দেখেছিল দেশ। সে দিন ২৫ অক্টোবরের পর প্রথম ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি বলে জানায় অধিদপ্তর।

অধিদপ্তর জানাচ্ছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২৬ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। যদিও ফেব্রুয়ারি ও মার্চে প্রকোপ বেশ কমে আসে। ওই দুই মাসে ২০ জন করে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। এপ্রিলে হাসপাতালে ভর্তি হন ২৩ জন রোগী। এরপরই বাড়তে থাকে রোগীর সংখ্যা, মে মাসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১৬৩ জন। পরের মাস অর্থাৎ জুনে রোগীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণের বেশি হয়, ৭৩৭ জন। এ মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মারা যান একজন। জুলাইয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ৫৭১ জন, মারা যান ৯ জন; আগস্টে হাসপাতালে ভর্তি হন ৩ হাজার ৫২১ জন, মারা যান ১১ জন; সেপ্টেম্বরে ভর্তি হন ৯ হাজার ৯১১ জন, মারা যান ৩৪ জন, অক্টোবরে ভর্তি হন ২১ হাজার ৯৩২ জন, মারা যান ৮৬ জন।

২০০০ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হলেও এ জ্বর সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল ২০১৯ সালে। সে বছর ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল, আর সরকারি হিসাবে মৃত্যু হয়েছিল ১৬৪ জনের।

চলতি বছরে ভয়ংকর রূপ ধারণ করে ডেঙ্গু। সাধারণত, আগস্ট সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে এলেও চলতি বছরের অক্টোবরে দেশে রেকর্ডসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। সবচেয়ে বেশি রোগী যে বছর পাওয়া গিয়েছিল, সে বছরের অক্টোবরেও এত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হননি।

বিষয়:

banner close