মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
৮ বৈশাখ ১৪৩৩

আবাসিক চিকিৎসকদের সঙ্গে এ কেমন প্রহসন!

জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ২৮ মার্চ, ২০২৩ ১০:০০

মাসে বেতন ২০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে আর কিচ্ছু নেই। নেই কোনো উৎসব ভাতা কিংবা অন্য কোনো ভাতা। সেই বেতনও পাওয়া যায় দুই-তিন মাস পরপর। নামে আবাসিক থাকলেও প্রতিষ্ঠানে থেকে-খেয়ে কাজ করার সুযোগ পান খুবই কম। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বড় একটি বিষয়। কাজেই ওই ২০ হাজার টাকা বেতনেই থাকা-খাওয়া, পরিবারকে সহযোগিতা। সে বেতনও কখনো কখনো বন্ধ হয়ে যায়। তখন উল্টো সঞ্চয়ের টাকা ভাঙতে হয়, নতুবা পরিবার থেকে আনতে হয়। যার এসব বিকল্প থাকে না, তাকে করতে হয় ঋণ। আর যার কোনো উপায় থাকে না, তাকে বাধ্য হয়ে যুদ্ধে ক্ষান্তি দিতে হয়।

এই মানবেতর জীবন কোনো প্রান্তিক বা শোষিত শ্রমিকশ্রেণির নয়, রোগীর জীবন বাঁচাতে প্রতি মুহূর্তে লড়াই করে যাওয়া এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসকদের। আজকাল দেশে শুধু এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসকের ওপর আস্থা রাখতে চান না বেশির ভাগ রোগী ও তার স্বজন। তা ছাড়া শুধু এমবিবিএস পাস করলেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হওয়াও যায় না। এ কারণে নতুন করে ভর্তি যুদ্ধে নেমে এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসকদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালসহ পোস্টগ্র্যাজুয়েশন দেয়া মেডিকেল কলেজগুলোয় উচ্চতর শিক্ষার জন্য চান্স পেতে হয়। সেই চিকিৎসকদেরই এই মানবেতর জীবন। তাদের বলা হয়, রেসিড্যান্ট ডাক্তার বা বেসরকারি আবাসিক চিকিৎসক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের চিকিৎসকদের ৭০ শতাংশই আবাসিক চিকিৎসক। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হতে পাঠ নেয়ার সুযোগ পেতে ভর্তিযুদ্ধে লড়তে হয় হাজার হাজার এমবিবিএস পাস চিকিৎসকের সঙ্গে। তাদের মধ্যে ১ হাজার বা তার কিছু বেশি চিকিৎসক পোস্টগ্র্যাজুয়েশনের সুযোগ পান। এই সুযোগের পুরস্কার দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা অন-ডিউটিতে থেকে মাসিক বেতন ২০ হাজার টাকা। নেই ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার অনুমতি। কোনো পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে বেতন বন্ধ হয়ে যায়। ছয় মাস পর আবার পরীক্ষা দিয়ে কৃতকার্য হলেই কেবল আবার বেতন পাওয়া শুরু।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন মেডিকেল আবাসিক চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের বয়স ত্রিশের কোটায়। তাদের বৃদ্ধ বাবা-মা, কারও স্ত্রী-সন্তানও রয়েছে। কেউবা আবার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ। তাদের না আছে ঈদ-বোনাস, না আছে বৈশাখী ভাতা, নেই চিকিৎসা ভাতাও। একই বেতনে পাঁচ বছর ধরে তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হওয়ার আশায় সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা বলছেন, এই পাঁচ বছর ধরে কী পরিমাণ অমানবিক এবং শারীরিক ও মানসিক কষ্ট করেন চিকিৎসকরা, তার খবর কতজন জানেন? অথচ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা চালিয়ে নেন এই চিকিৎসকরাই। তারা বলছেন, ২০২৩ সালে এমন অকল্পনীয় অমানবিক নীতি কেন ও কীভাবে চলে, সেটা একেবারেই বোধগম্য নয়। একজন চিকিৎসক বিশেষজ্ঞ হওয়ার চেষ্টার সময় যে সেবা দিচ্ছেন, তার মূল্যায়ন এমন হলে তিনি কেমন সেবা দেবেন?

চিকিৎসকরা বলছেন, বাংলাদেশে যাদের টাকা রয়েছে, তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যান। যাদের টাকা নেই তারা বিকল্প পথ খোঁজেন। কেবল এমবিবিএস পাস করার পর একজন চিকিৎসক আসলে চিকিৎসক হিসেবে স্বীকৃতি পান না। যারা কারণে অনেকেই কোনো রকমে পোস্টগ্র্যাজুয়েশনটা করতে চান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রাষ্ট্র কীভাবে তার মেধাবীদের সঙ্গে এত বড় অন্যায় করে? কী পরিমাণ বৈষম্য আর অমানবিকতার শিকার হতে হয় রেসিডেন্টদের (আবাসিক চিকিৎসক), সেটা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না।’ তারা বলছেন, বেসরকারি আবাসিক চিকিৎসকদের সঙ্গে এই কাতারে আরও রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্সের চিকিৎসকরাও। কয়েক বছর আগে তাদের কিছু টাকা দেয়া হলেও বর্তমানে সেই ভাতাও বন্ধ রয়েছে।

ওই চিকিৎসকরা বলেন, এসব কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকায় পোস্টগ্র্যাজুয়েশনে ভর্তি হওয়া অনেক চিকিৎসকই কোর্স ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ ঢাকা শহরে সব খরচ মিলিয়ে তাদের পক্ষে থাকা সম্ভব নয়। অপরদিকে, বেসরকারি আবাসিক চিকিৎসকদের ফেজ-এ এবং ফেজ-বি পরীক্ষার ফি বাড়ানো হয়েছে। কয়েক বছর আগেও যে পরীক্ষার ফি ছিল ১০ হাজার টাকা, সেটা এখন ২০ হাজার টাকা। ফি বাড়ানো হলেও বাড়েনি এই চিকিৎসকদের বেতন। ফি কেন বাড়ল, তারও কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসকরা বলছেন, বেসরকারি রেসিডেন্ট চিকিৎসক মানে তাদের থাকা-খাওয়ার সব দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তাও নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কয়েকজন আবাসিক চিকিৎসক বলেন, ‘আমাদের হোস্টেল নেই, খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লকের কেবিন ব্লকে কিছু চিকিৎসকের থাকার ব্যবস্থা থাকলেও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলেই কেবল সে সুবিধা পাওয়া যায়। সাধারণ চিকিৎসকরা আবেদন করেও সিট পায় না। কেউ ভাগ্যগুণে পেলেও ‘বড় ভাইদের’ নিয়ম অনুযায়ী চলতে হবে। বেশির ভাগ চিকিৎসক বাইরে থাকেন। বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে বর্তমান দ্রব্যমূল্য বিবেচনায় কোনোভাবেই ২০ হাজারে টেকা সম্ভব নয়। অথচ সরকার থেকে কোনো উদ্যোগ নেই, পোস্টগ্র্যাজুয়েশন দেয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরফ থেকেও কোনো চেষ্টা নেই। বরং এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেউ কেউ কর্তৃপক্ষের রোষানলেও পড়েছেন।

একজন আবাসিক চিকিৎসক বলেন, ‘কেবলমাত্র মা-বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে পড়ে আছি। কোনোরকমে কোর্স শেষ করে বের হতে পারলে জীবন স্বার্থক হবে- এভাবেই ভাবতে বাধ্য হচ্ছি।’

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আবাসিক চিকিৎসকদের ভাতা খুবই অপ্রতুল। অপরদিকে তারা সবাই যে একবারেই পরীক্ষায় পাস করে যাচ্ছেন, তাও নয়। যেভাবে মানবেতর জীবনযাপন করে তারা পোস্টগ্র্যাজুয়েশন করছেন, তাতে তাদের দেখলেই আমি অস্বস্তি আর বিব্রত অবস্থায় পড়ি।’ তিনি বলেন, ‘আবাসিক চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার সুযোগ নেই। তারা নিয়মিতভাবে ভাতাও পান না। দুই-তিন মাস পর টাকাটা পান। সব মিলিয়ে খুবই বিব্রতকর অবস্থা।’

ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি এ নিয়ে কথা বলব। বিএমএর পক্ষ থেকে এ নিয়ে রিভিউ করার অনুরোধ জানাব আমরা। আমি সরকারসহ বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করব, কারণ তারা (আবাসিক চিকিৎসক) সবাই স্বচ্ছল পরিবারের নয়। আর এই আবাসিক চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগ হয়েছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও। তাদের ভাতাও খুবই কম। আমি লিখিতভাবে প্রস্তাব দেব এ বিষয়ে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আবাসিক চিকিৎসকদের এ ভাতা খুবই কম। এ ভাতা আসলে কিছুই নয়। তাই আমরা চেষ্টা করছি আরও অন্তত ১০ হাজার টাকা বাড়িয়ে দিতে।’


রাজশাহীতে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:১২
রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহীতে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আরও ২৩ জন এ রোগের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত এক দিনে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ জন রোগী। বর্তমানে হাসপাতালে সাসপেক্টেড হাম নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩৩ জন।

হাসপাতালটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ৪৫২ জন সাসপেক্টেড হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৬ জনের।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো টিকাদান ও সচেতনতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই অভিভাবকদের শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যেসব শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা বেশি জটিলতার শিকার হচ্ছে। হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের খানিকটা নিয়ন্ত্রণ করা গেছে বলে জানিয়েছে রাজশাহী হাসপাতাল। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে পুরো একটি শিশু ওয়ার্ডকে হাম আইসোলেশন ইউনিটে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আইসিইউতে ১২ বেডের জায়গায় আরও ছয়টি বেড যুক্ত করা হয়েছে। এখন শিশু আইসিইউ-এর মোট বেড সংখ্যা ১৮, যার মধ্যে ১২টি হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য এবং বাকি ছয়টি অন্যান্য শিশু রোগীদের (Non-measles) জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। এছাড়া নওগাঁ, নাটোর ও পাবনা জেলাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছেন। শুধু রাজশাহী বিভাগই নয়, খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর এবং ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার রোগীরাও বর্তমানে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


রামেকে হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি থাকা রোগীর মধ্যে একদিনে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে তাদের মৃত্যু হয়। তবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৩ জন ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হওয়ায় ছাড়পত্র পেয়েছে ১০ জন।

বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৩৩ রোগী। হামের সংক্রমণ শুরুর পর এ পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৪৫২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে সোমবার দুপুর থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হাম উপসর্গ নিয়ে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়।


২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১১ জনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ১ হাজার ২৩৬ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে একজনের। বাকিদের হামের উপসর্গ ছিল।

আজ (মঙ্গলবার) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২২ শিশুর। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১২৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯৮ জন। আরও ৬ হাজার ৮৮৩ শিশুর হামের উপসর্গ রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ও আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর পরের স্থানে আছে রাজশাহী বিভাগ। ঢাকা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৬ শিশু নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ৪৯৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


রামেক হাসপাতালে হাম উপসর্গে এ পর্যন্ত ৪৩ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম উপসর্গে রামেক হাসপাতালে মোট ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১২৩ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে থেকে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ১৮ জন ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৩২ শিশু। হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৪২৯ জন। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৩ শিশু।


হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ মৃত্যু, ভর্তি ১৪৬২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে দুজন এবং উপসর্গ নিয়ে পাঁচজন মারা গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এক দিনে সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৬২ জন। সোমবার অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৮২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা আট হাজার ৫৩৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৯৯ জন।

এতে আরো জানানো হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৪০ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছে ছয় হাজার ১৬ জন। মৃত্যুর হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সবচেয়ে বেশি পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে।

একই সময়ে জেলার তালিকাতেও ঢাকায় সর্বোচ্চ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে নিশ্চিত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১১৮ জনের।


বিএমইউর নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর দায়িত্বগ্রহণ, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান

আপডেটেড ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-এর নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন এবং প্রথম কর্মদিবসেই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব নেন এবং সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) সকালে তার প্রথম কর্মদিবস শুরু করেন।

প্রথম দিনেই তিনি ব্যস্ত সময় পার করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন। কর্মদিবসের শুরুতে তার কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সদ্য সাবেক (অস্থায়ী) উপাচার্যের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় উপ-উপাচার্য, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ, ডিন, রেজিস্ট্রারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, আজকের দিনটি আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিষ্ঠানে আমি ইনটার্নশিপ করেছি। আরপি, হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপালন করেছি। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের যেমন সুনাম আছে তেমন নানাবিধ সমস্যাও আছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গণমানুষের প্রত্যাশা অনেক। সমস্যা সমূহ সমাধানের মাধ্যমে গণমানুষের সেই প্রত্যাশাকে পূরণ করতে হবে। সবাইকে একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন, যে যে পদে চাকুরী করেন সেই পদের কাজ ও দায়িত্ব কি কি সেটা উপলব্ধি করে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে মনোযোগী হতে হবে। যার যে দায়িত্ব সেটা সঠিকভাবে পালন করলেই বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে।

সদ্য সাবেক (অস্থায়ী) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম তার বক্তব্যে নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বে চিকিৎসা শিক্ষা, সেবা ও গবেষণায় অগ্রগতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এ সময় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও নবনিযুক্ত উপাচার্যকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, কোর্স ডিরেক্টর, চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় করেন।

বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জিং অবস্থার মধ্য থেকেই বিদ্যমান জনবলের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। প্রত্যেক মাসে বিভাগের কর্মকান্ডের অগ্রগতি ও মূল্যায়ন করতে হবে।

মেডিক্যাল অফিসারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসা সেবার শুরুর ভিত্তি হলো মেডিক্যাল অফিসারগণ। মেডিক্যাল অফিসারগণ চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে রোগীদের প্রতি চিকিৎসকদের মনোভাবের প্রতিফলন বহন করেন। ব্যক্তি জীবনে, কর্মস্থলে যত সমস্যা ও দুঃখ কষ্ট থাক না কেন রোগীদেরকে হাসিমুখে সেবা প্রদান করতে হবে।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, চিকিৎসা শিক্ষা, সেবা ও গবেষণার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আমাকে এখানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনার থেকে ভাইস-চ্যান্সেলর সকলেরই একটি ধ্যানে থাকতে হবে তা হলো সঠিকভাবে প্রত্যেক এর কাজটি যথাসময়ে পালন করা। শৃঙ্খলা বজায় রেখে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। রোগীসহ সকলের সাথে হাসিমুখে ভালো ব্যবহার করতে হবে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই একটি দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিগত কঠিন সময়ে দেশে যখন ন্যায় বিচার ছিল না, মেধার মূল্যায়ন ছিল না তখনও আমি নির্ভয়ে কথা বলেছি, আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছি। আমি মহান আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পাই না। আমার সাহসের মূল বিষয় হলো সততা। তাই আমি চাই এখানে কর্মরত সকলে শৃঙ্খলার সাথে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করবে।

প্রথম কর্মদিবসেই তিনি বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং কেবিন ব্লকে চিকিৎসাধীন একটি কিডনি প্রতিস্থাপন রোগীর খোঁজখবর নেন।

উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি ১৯৮২ সালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল, সাবেক আইপিজিএমআর ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আইইডিসিআরে অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন।

পেশাগত জীবনে তিনি সংগঠন ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন জেনারেল হাসপাতালে কমনওয়েলথ স্কলার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

গবেষণা ও চিকিৎসা শিক্ষায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই চিকিৎসক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে শতাধিক গবেষণা প্রকাশ করেছেন এবং ক্লিনিক্যাল ও জনস্বাস্থ্য গাইডলাইন প্রণয়নেও অবদান রেখেছেন।


একটি শিশুও টিকার বাইরে থাকবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরে শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে টিকাদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হবে না এবং প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন-আমাদের সরকার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পদক্ষেপ নিয়েছে। যেসব জায়গায় ঘাটতি রয়েছে, আমরা সেগুলো চিহ্নিত করে পূরণ করছি। টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, “কোনো রকম ঘাটতি আমরা রাখব না। আপনারা সবাই সহযোগিতা করুন, সচেতনতা বাড়ান যাতে প্রতিটি শিশু টিকা নেয়। যত বেশি শিশু এই কর্মসূচির আওতায় আসবে, আমরা তত বেশি নিরাপদ থাকব।”

ডা. এম এ মুহিত জানান, ইতোমধ্যে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। টিকাদান কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করছে, যারা প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আক্রান্ত এলাকা শনাক্ত করছে এবং সে অনুযায়ী করণীয় নির্ধারণ করছে।

তিনি বলেন, “ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের সহযোগিতা করছে। আমরা তথ্য ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। আমরা নিশ্চিত করতে চাই—একটি শিশুও যেন টিকার বাইরে না থাকে। ইতোমধ্যে কর্মসূচি শুরু হয়েছে, ইনশাআল্লাহ ভয়ের কোনো কারণ নেই।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চুসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।


নীলফামারীতে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১১ দিন বয়সী আফরিন জান্নাত নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান।

আফরিন জান্নাত খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের খগারহাট এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে স্বজনেরা শিশুটিকে হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান জানান, শিশুটির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়। সেখানে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

পরে রাতে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। জেলায় এটি হামে প্রথম মৃত্যু।


রামেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালটিতে এখন হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৪৯ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে এই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ২৫ জন ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে তিন শিশু। হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৩৭৭ জন। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৮ শিশু।


আগামীকাল থেকে শুরু হামের জরুরি টিকাদান

আপডেটেড ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:২১
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় আগামীকাল সকাল ৯টায় হামের বিশেষ টিকাদান শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রথম পর্যায়ে টিকা দেয়া হবে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালেও একজন মারা গেছেন।

হাম আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে সদ্য জন্ম নেয়া শিশু থেকে বয়স্করা। দুপুরে ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের পরিচালক কর্নেল লতিফা রহমান এক ব্রিফিংয়ে জানান, এই হাসপাতালে গত ২৪ ঘন্টায় ভর্তি হয়েছেন ৭০ জন রোগী। এখন পর্যন্ত সর্বমোট চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩০৪ জনের বেশি। শিশুদের আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট নেই। হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য ওয়ার্ড ও বেডের সংকট নেই। তবে টিকা প্রদান শুরু হলে সংক্রমণের হার কমে আসবে বলে আশার কথাও জানান তিনি।


গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, রোগীদের দুর্ভোগ চরমে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

চিকিৎসক সংকট ও এক্সে-মেশিন বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা। দীর্ঘদিন অপারেশনের ডাক্তার ও এনেস্থিসিয়া না থাকার কারণে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। সেই সাথে নষ্ট হওয়ার পথে মূল‍্যবান মেশিনপত্র। এছাড়াও দীর্ঘদিন এক্স-রে মেশিন বন্ধ থাকায় প্রাইভেট ক্লিনিক গুলোতে বেশি টাকা দিয়ে এক্স-রে করাতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতালের অপারেশনের মেশিন বন্ধ থাকায় অপারেশন করতে এসে ফিরে যাচ্ছে রোগীরা।

বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে বেশি টাকা খরচ করেই অপারেশন করাতে হয় রোগীদের। তাই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সবার উপযোগী করে তোলার অনুরোধ স্থানীয় জনগণের।

গ্রামীন জনপদে স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দেওয়ার লক্ষে ১৯৬৩ সালে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মান করা হয়। রোগীর চাহিদা বিবেচনায় ২০০৬ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করে নতুন ভবনে ২০১৭ সালে রুগীদের সেবা কার্যক্রম শুরু হয়।

বর্তমানে বিভিন্ন পদে জনবল সংকট থাকার কারনে ৪ লক্ষাধিক মানুষের সেবা দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছে কর্তৃপক্ষ। এক্সরে মেশিন, অপারেশন থিয়েটার সবই আছে শুধু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নেই। এ কারণে অপারেশনের সরঞ্জাম ও এক্সরে মেশিনের উপর ধোলার আস্তরণ পড়ে মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। আর কতদিন এভাবে পড়ে থাকলে সুনজরে আসবে কর্তৃপক্ষের এমনটাই মনে করেন স্থানীয়রা।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সূত্র জানায়, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট পদ রয়েছে ১১৭ টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছে ৭০ জন। শূন্য রয়েছে ৪৭ জন। চিকিৎসক পদ রয়েছে ৩১ টি, আছে ১৮ জন, শূন্য রয়েছে ১১ টি, নার্সের পদ রয়েছে ৩০টি, আছে ২৯ জন, শূন্য রয়েছে ১টি, ওয়ার্ড বয় তিনজনের মধ্যে আছে ১ জন, শূন্য রয়েছে ২ টি, সেকমো ২ জনই আছে, ফার্মাসিস্ট মোট ২ জন, আছ ২ জন, পরিচ্ছন্নকর্মী পাঁচজনের মধ্যে আছে একজন, শূন্য রয়েছে ৪টি, পিয়ন চারজনের মধ্যে আছে একজন, শূন্য রয়েছে ৩টি, অফিস সহকারী তিনজনের একজনও নেই, নিরাপত্তা কর্মী দুই জনের একজনও নেই, ওয়ার্ড বয় তিনজনের মধ্যে আছে একজন, শূন্য রয়েছে ২টি, এক্সরে একজন শূন্য, ওটিতে একজন শূন্য।

স্থানীয়রা জানান, চিকিৎসক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এক্সরে মেশিন দাও অনেকদিন হলো বন্ধু রয়েছে। অপারেশনও হয় না। একটি হাসপাতালের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন। লাখ লাখ টাকার সরঞ্জাম এভাবে নষ্ট হচ্ছে অথচ চিকিৎসকের অভাবে চালু হচ্ছে না। কবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজর পড়ে আল্লাহ ভাল জানেন। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি অতি দ্রুত এই সমস্যা কাটিয়ে সেবার মান ভালো করার জন্য।

হাসপাতাল বাজারের বাসিন্দা তপন বলেন, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরকারি হাসপাতাল অথচ এখানে কোন ডেলিভারি রোগীর অপারেশনই হয় না। যে এক্সরে মেশিন টা আছে সেটাও বন্ধ। এখানে আমরা কম খরচে অপারেশন করতে পারব কিন্তু তা আর হয় না। অপারেশন দীর্ঘদিন বন্ধ আছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে সেবা নিতে আসা অসহায় মানুষেরা। অল্প খরচে চিকিৎসা নেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছি গাংনীর অনেক মানুষ। কতদিনে এভাবে পড়ে থেকে এগুলো নষ্ট হবে তা কেউ জানে না। দুই থেকে তিনটা চিকিৎসক নিয়োগ দিলেই এই অপারেশন থিয়েটারটি চালু হবে। কিন্তু সব নিয়োগ হয় এগুলো আর হয় না।

রাশিদা খাতুন বলেন, গাংনী সরকারি হাসপাতালে ডেলিভারি অপারেশন হয় না।তাই বাধ্য হয়ে আমাদের মতো অসহায় মানুষকে স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাতে হয়। এতে আমাদের খরচ বেড়ে যায়। তাই দ্রুত অপারেশনের ডাক্তার প্রয়োজন। কারণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশনের ডাক্তার খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আব্দুল বারী বলেন, কিছুদিন আগে আমার পা ভেঙে গেছে। গাংনী হাসপাতালে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম পরে জানতে পারলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে হয় না। তাই অন্য ক্লিনিক থেকে এক্সরে করিয়েছি।যদি হাসপাতালে এক্সরে মেশিনটা চালু থাকে তাহলে আমার অল্প খরচে হয়ে যেত। কারণ বাইরে অনেক খরচ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে এক্সরে মেশিনটা বন্ধ হয়ে রয়েছে। ধুলাবালির আস্তরণ পড়েছে এক্সরে মেশিনে। কিন্তু পদটি শূন্য থাকার কারণে এটা চালু হচ্ছে না। রুমটির দরজা থাকে তালাবদ্ধ।

কাথুলী গ্রামের আলেয়া খাতুন বলেন, আমার অল্প দিন হলো সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। এটা যদি সরকারি হাসপাতালে হতো তাহলে আমার অনেক খরচ কমে যেত। প্রাইভেট ক্লিনিকে করার কারণে আমার খরচ অনেক বেড়ে গেছে জা পরিবারের জন্য একটা বড় বোঝা। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও এসেছিলাম। এসে দেখি এখানে অপারেশন হয় না। তাই প্রাইভেট হাসপাতালে অপারেশন করতে হয়েছে। অনেক অসহায় পরিবার আছে যাদের সিজারিয়ান অপারেশন করতে গিয়ে চরম অভাবে পড়ে যায়।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব ইন সার্চ মাহাবুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এক্সরে মেশিন বন্ধ থাকার কারণে অত্র এলাকার জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই সরকার বিষয়টি দ্রুত নজরে নিয়ে শূন্য পদটি পূরণ করলে এলাকার মানুষ অনেক উপকার পাবে।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আজিজ বলেন,দীর্ঘদিন এনেস্থিসিয়া ও সার্জারি ডাক্তার না থাকার কারণে অপারেশন হচ্ছে না। এনেস্থিসিয়া, সার্জারি ডাক্তারসহ যেসকল সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধান হলে আমরা অতি দ্রুত অপারেশন শুরু করতে পারবো। গত ৪ বছরে মাত্র একটি সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে।

তিনি আরও বলেন, আর এক্সরে মেশিন যিনি চালাতেন তিনি গত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখে অবসরে গেছেন। তারপর থেকেই এক্সরে বন্ধ আছে। আশা করছি অতি দ্রুত সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। তাছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্য কোনো সমস্যা নেই।

মেহেরপুর-২ (৭৪ গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা বলেন, সার্জারি ও এনেস্থিসিয়া না থাকার কারণে দীর্ঘদিন অপারেশন বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও এক্সরে কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে পদটি শুন্য থাকার কারণে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করে সমাধান করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।


রাজশাহী মেডিকেলে বাড়ছে হামের প্রকোপ: একদিনে ভর্তি ২০, মৃত্যু ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেড়েই চলেছে হামের প্রকোপ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ১৩২ জন হামের রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহভাজন হামের রোগী ভর্তি হয়েছেন ২০ জন। এই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪ জন।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস।

তিনি জানান, মার্চ মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে সন্দেহভাজন হাম নিয়ে মোট ৩৪০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি হওয়া সব রোগীকে প্রাথমিকভাবে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এটি নিশ্চিতভাবে হাম কি না তা পরীক্ষা করা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার এবং বর্তমানে রাজশাহীতে এই পরীক্ষার সুবিধা নেই। তবে গত এক মাসে রামেক হাসপাতালে হামে নিশ্চিতভাবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। এছাড়া নওগাঁ, নাটোর ও পাবনা জেলাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছেন। শুধু রাজশাহী বিভাগই নয়, খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর এবং ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার রোগীরাও বর্তমানে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপ প্রসঙ্গে ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, রোগীর সংখ্যা যদি আরও বাড়ে, তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের আইসোলেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।


গ্রীষ্মের গরমে শরীর সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে বাঙ্গির বহুমুখী পুষ্টিগুণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রচণ্ড তাপদাহ আর গ্রীষ্মের এই মৌসুমে শরীরকে সতেজ ও সুস্থ রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই সময়ে পুষ্টিবিদরা এমন সব খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এমনই এক চমৎকার ও পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল হলো বাঙ্গি। কম ক্যালোরিযুক্ত এই ফলটিতে প্রায় ৯০ শতাংশই পানি, যা ডিহাইড্রেশন রোধে অনন্য ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম এবং প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় বাঙ্গি কেবল একটি সুস্বাদু ফলই নয়, বরং এটি সুস্বাস্থ্যের এক শক্তিশালী উৎস।

বাঙ্গির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এতে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি এবং বিটা-ক্যারোটিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে শ্বেতকণিকা উৎপাদনে সরাসরি সহায়তা করে, যা শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগ থেকে বাঁচতে নিয়মিত বাঙ্গি খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের জন্য বাঙ্গি একটি আদর্শ খাবার হতে পারে। এতে থাকা উচ্চ খাদ্যআঁশ বা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা সহজ হয়।

হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও বাঙ্গি বিশেষ কার্যকরী। ফলটিতে বিদ্যমান পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং এর ফাইবার উপাদান রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে নিয়মিত বাঙ্গি খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস পায়। একই সাথে বাঙ্গি আমাদের বাহ্যিক সৌন্দর্য অর্থাৎ ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও আশীর্বাদস্বরূপ। এটি শরীরের কোলাজেন উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে, যার ফলে অকাল বার্ধক্যের ছাপ এবং বলিরেখা দূর হয়।

পাচনতন্ত্র বা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে বাঙ্গির জুড়ি নেই। বর্তমান সময়ে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা যায়। বাঙ্গিতে থাকা প্রাকৃতিক ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এসব সমস্যা দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। চোখের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও বাঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন এ এবং ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি চোখের পেশী শক্তিশালী করে এবং বয়সের সাথে সাথে হওয়া ছানি পড়ার ঝুঁকি কমায়।

সবশেষে, কিডনি সুরক্ষা এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে বাঙ্গি প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে। এটি একটি শক্তিশালী মূত্রবর্ধক ফল হওয়ায় কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। শরীরের সার্বিক বিপাক প্রক্রিয়া সচল রাখা এবং শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধিতে গ্রীষ্মকালীন এই ফলটি প্রতিটি মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকা প্রয়োজন। তাই সুস্থ ও সতেজ থাকতে এই মৌসুমে বাজারের কৃত্রিম পানীয়র পরিবর্তে পুষ্টিগুণে ভরপুর বাঙ্গি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


banner close