বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩

১২ জেলাসহ ৩৯ উপজেলায় প্রাতিষ্ঠানিক প্র্যাকটিস শুরু বৃহস্পতিবার

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
২৯ মার্চ, ২০২৩ ২৩:৫৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৩ ২৩:৫২

সরকারি চিকিৎসকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্র্যাকটিস আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ১২ জেলা সদর হাসপাতাল এবং ৩৯টি উপজেলা হাসপাতালে এ কার্যক্রম শুরু হবে। কার্যক্রমের আওতায় দ্বিতীয় শিফটে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রোগী দেখবেন চিকিৎসকরা। সপ্তাহে দুইদিন এই সেবা দেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক এই পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে 'ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস' বিষয়ে বিস্তারিত জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, সবার সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ৩০ মার্চ থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস শুরু করবো। চিকিৎসকরা প্রাতিষ্ঠানিক প্র্যাকটিস এখানে করবেন সরকারি হাসপাতালে। প্রথমে আমরা কয়েকটি জেলা হাসপাতালে এই কার্যক্রম শুরু করবো।

জাহিদ মালেক আরও বলেন, ‘আমরা দেখবো, সেখানে কেমন কার্যক্রম চলছে। সেখানে যদি কোনও ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে, আমরা সেটা সংশোধন করে পর্যায়ক্রমে ৫০০টি উপজেলা এবং ৬৪ জেলায় তা বাস্তবায়ন করবো। বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চিকিৎসকরা সরকারি হাসপাতালে চেম্বার করবেন। সপ্তাহে দুই দিন আপাতত এই কার্যক্রম চলবে। তাদের এই সেবা দেয়ার জন্য সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই সম্মানির একটি অংশ চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী এবং আরেকটি অংশ হাসপাতাল পাবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে দেশের ১২ জেলা সদর হাসপাতাল এবং ৩৯ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ব্যবস্থা চালু হচ্ছে বৃহস্পতিবার।

হাসপাতালগুলো হচ্ছে— ঢাকা বিভাগের মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল, রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল। চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী জেলা সদর হাসপাতাল, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল, খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতাল। ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর জেলা সদর হাসপাতাল, খুলনা বিভাগের ঝিনাইদহ জেলা সদর হাসপাতাল, রাজশাহীর নওগাঁ জেলা সদর হাসপাতাল, রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলা সদর হাসপাতাল, কুড়িগ্রাম জেলা সদর হাসপাতাল, বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলা সদর হাসপাতাল, সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল।

এছাড়া ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

চট্টগ্রামের নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কক্সবাজার পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বান্দরবান লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

ময়মনসিংহের জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

খুলনার যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

রাজশাহীর নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রাজশাহী পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নওগাঁর সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নীলফামারীর ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

বরিশাল বিভাগের বরগুনার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

এদিকে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের আওতায় রোগী দেখার ফি নির্ধারণ করেছে মন্ত্রণালয়। সে হিসেবে অধ্যাপক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা। এরমধ্যে ৪০০ টাকা চিকিৎসক পাবেন, সেবার সহায়তাকারী পাবেন ৫০ টাকা এবং হাসপাতাল পাবে ৫০ টাকা।

এছাড়া সহযোগী অধ্যাপক বা সিনিয়র কনসালটেন্টের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকা, যার ৩০০ টাকা চিকিৎসক পাবেন। সহকারী অধ্যাপক বা জুনিয়র কনসালটেন্ট বা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিধারী চিকিৎসকের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ টাকা, যার ২০০ টাকা চিকিৎসক পাবেন। এমবিবিএস বা বিডিএস বা সমমনা ডিগ্রিধারী চিকিৎসকদের ফি ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, এরমধ্যে ১৫০ টাকা চিকিৎসক পাবেন।

এছাড়া লোকাল অ্যানেস্থেশিয়া প্রয়োগে ছোট সার্জারির ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ফি ৮০০ টাকা এবং সার্জারির ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১২১৪

দেশে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সারাদেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় রোগটির বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও সাতটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত হাম এবং এর জটিল উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা পৌঁছেছে ১ হাজার ২১৪ জনে।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত এক দিনে নতুন করে আরও ১ হাজার ১৩৫ জন শিশু হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ২৫ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়েছে বাকি ১ হাজার ১১০ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে কেবল হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১০৩ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এ ছাড়া একই সময়ে নমুনা পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ১০৪ শিশু।

দেশে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে, যার মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ২৭৩। সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে এ পর্যন্ত সর্বমোট ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী, যাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন ছাড়পত্র নিয়ে নিজ বাড়ি ফিরে গেছে।


নির্বাচিত

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সারাদেশে সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশের ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচি পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেন, অস্টিওপোরোসিস একটি নীরব রোগ। এ রোগে হাড় দুর্বল, পাতলা ও ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়ে, ফলে হঠাৎ হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করার সক্ষমতা কমে যায়।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনের কনভেনশন হলে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ‘অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধযোগ্য মহামারি’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ অস্টিওপোরোসিসের কারণে হাড় ভাঙা ও দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সব অঞ্চলের মানুষের কাছে রোগটির প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। তবে বর্তমানে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আক্রান্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

উত্তর-মধ্য বাংলাদেশের ৪৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব পাওয়া গেছে ৪০ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার প্রাদুর্ভাব ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশের বেশি নারীর হাড়ের ঘনত্বে ঘাটতি ছিল। এ ছাড়া শহরাঞ্চলে ৪৬ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি পুরোনো হাসপাতাল ভিত্তিক গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার প্রাদুর্ভাব ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ পাওয়া যায়।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর নারীরা উন্নত দেশগুলোর নারীদের তুলনায় এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন। বাংলাদেশে কতসংখ্যক নারী অস্টিওপোরোসিসে ভুগছেন, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নির্ধারণ করা কঠিন। তাই রোগটির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে আরও গবেষণা ও নিয়মিত স্ক্রিনিং প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, কন্যাশিশু ও তরুণীদের জন্য উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে ভবিষ্যতে অস্টিওপোরোসিস এবং এ রোগের জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে কয়েকটি পদক্ষেপের প্রস্তাব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রথমত, একটি অস্টিওপোরোসিস সোসাইটি গঠন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে সমন্বিতভাবে দেশের ৬৪টি জেলায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হবে। কোনো অঞ্চলের মানুষ যেন সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের অভাবে এ রোগের ব্যথা ও দুর্ভোগে না ভোগেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, চিকিৎসক সমাজ জনগণকে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পাশাপাশি নিয়োজিত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমেও দেশব্যাপী এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, প্রতিবছর অস্টিওপোরোসিস সচেতনতা মাস পালনের প্রস্তাব দেন তিনি। এ উপলক্ষে নিয়মিত অনুষ্ঠান, র‌্যালি ও জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযানের আয়োজন করা যেতে পারে। জেলা হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের জন্য আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি নিয়ে সেমিনার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি, হাড়ের খনিজ ঘনত্ব কমে যাওয়া এবং শৈশবে ক্যালসিয়াম গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত পুষ্টিগত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। এসব বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসা-অঙ্গনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করতে পারেন।

তিনি হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ে স্ক্রিনিং ক্যাম্প আয়োজন এবং নিয়মিত বিরতিতে কমিউনিটি ভিত্তিক স্ক্রিনিংয়ের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। যেসব এলাকায় হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ের ব্যবস্থা নেই, সেখানে ফ্র্যাকচার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুল ব্যবহার করে হাড় ভাঙার ঝুঁকি মূল্যায়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিসের পরিণতি কমাতে দেশব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ডা. আব্দুস সালাম এমপি বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব, প্যানেল আলোচনা ও কুইজ অনুষ্ঠিত হয়।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. ফারুক কাশেম, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলালুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, ‘আজীবন হাড় গড়ুন, সুরক্ষা দিন ও শক্তিশালী করুন’ প্রতিপাদ্যে এবারের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা দিচ্ছে ইনসেপ্টা।

হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ অস্টিওপোরোসিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর ২০ অক্টোবর বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস পালন করা হয়। এ রোগে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, ফলে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

ক্যানসার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য বাজেটের সিংহভাগ বরাদ্দের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের একটি বিরাট অংশ মরণব্যাধি ক্যানসারের চিকিৎসাসেবা উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের একটি বিরাট অংশ মরণব্যাধি ক্যানসারের চিকিৎসাসেবা উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার সকালে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ক্যানসার কংগ্রেস ২০২৬’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান যে, ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসার জন্য অত্যাধুনিক মেশিনপত্র স্থাপন কিংবা তা অপসারণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রিতা বা প্রশাসনিক জটিলতা বরদাশত করা হবে না। এই জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জামাদি আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সব ধরনের শুল্ক সম্পূর্ণ মুক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন যে, স্বাস্থ্য খাতের মোট বাজেটের সিংহভাগ অর্থই ক্যানসার চিকিৎসায় বরাদ্দ দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের মাঝে ম্যানকাসারের বিস্তার রোধ ও এর প্রতিরোধে যা যা করণীয়, তার সবই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সম্পন্ন করবে সরকার।

সুদীর্ঘ সতেরো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা দেশের গোটা স্বাস্থ্য খাতকে মারাত্মকভাবে পঙ্গু ও পিছিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না এবং দায়িত্ব পালনে কেউ ন্যূনতম অবহেলা করলে তার চাকরি রক্ষা হবে না।

বিষয়:

নির্বাচিত

ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৫৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৫৪ জন রোগী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সোমবার সকাল আটটা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ৯ জনের মৃত্যুর পর চলতি বছর সারাদেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৭ জনে। চলতি অক্টোবর মাসের শুরুতেই প্রাণহানির মাত্রা উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে; মাসের প্রথম দিকেই ৭১ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে চলতি বছরের সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। এছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছিল।

চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জনে। তবে আক্রান্তের পাশাপাশি সুস্থতার হারও বাড়ছে; গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৯৬৫ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৯৭ হাজার ২৯৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে নিজ নিজ বাড়ি ফিরে গেছেন।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, যেখানে একদিনেই ৮৪৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১৮ জন, খুলনা বিভাগে ২৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৯৬ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ১৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৭ জন এবং রংপুর বিভাগে নতুন করে ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


নির্বাচিত

হামের উপসর্গে এবং ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ১১ জনের প্রাণহানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    # হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ শিশুর মৃত্যু, ডেঙ্গুতে ৪ # ডেঙ্গু আক্রান্ত ২১৯৩, হাম ও উপসর্গে ১২৭৩

দেশে হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। একদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা, অন্যদিকে ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা। দেশের নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন আরও চারজন। অর্থাৎ দুই রোগে এক দিনেই প্রাণ গেছে ১১ জনের। এ সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭৩ শিশু। আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ১৯৩ জন, যা চলতি বছরের একদিনে সর্বোচ্চ। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম ও ডেঙ্গুবিষয়ক পৃথক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

হামে মৃত্যু ১১৬২, আক্রান্ত দুই লাখের বেশি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০৪ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৬২।

নতুন করে ৯৩ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৮০ শিশুর। সব মিলিয়ে এক দিনে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ২৭৩। এ সময়ে ১ হাজার ১০২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১৫ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৫ হাজার ২৮। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২২ হাজার ৪২১ জন। সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগীদের মধ্যে মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে।

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩০৩, আক্রান্ত লাখের কাছাকাছি: হামের পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রকোপও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ১৯৩ জন। চলতি বছরে একদিনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গুরোগীর এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা।

এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৩ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ২৭৫, যা লাখের কাছাকাছি। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ৭৯৬ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯২ হাজার ৪০৩ জন।

মাসভিত্তিক হিসাবে, অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনেই ডেঙ্গুতে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজন মারা যায়। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গুরোগীর মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ১ হাজার ৩০ জন। এ ছাড়া খুলনায় ৩০৪ জন, চট্টগ্রামে ২৯৩ জন, বরিশালে ২৩৬ জন, রাজশাহীতে ১৬০ জন, রংপুরে ৮৪ জন এবং ময়মনসিংহে ৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

একদিকে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে শিশুদের মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় লাখে পৌঁছেছে। দুই রোগের এই পরিস্থিতি দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর ধারাবাহিকতা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নির্বাচিত

ক্যান্সার চিকিৎসায় যুক্ত হচ্ছে ১৭ নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা সহজ ও সহজলভ্য করতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ছয়টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ১১টি মেশিন স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও জনবল প্রশিক্ষণের কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দেশের ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জন্য ক্যান্সারের চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ সংকট মোকাবিলায় ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু অর্থের অভাব এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে দরিদ্র মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে এবং আগামী দিনে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি

পরিবার পরিকল্পনা খাতকে শক্তিশালী করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী নিয়ে ব্যাপক প্রচারাভিযান শুরু করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত এ ক্যাম্পেইন চলবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

কর্মসূচির আওতায় র‌্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। একই সঙ্গে ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ও পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘দু’টির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে। শুধু প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সামগ্রীও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে পরিবার পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করেই দেশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু পরবর্তী কার্ডিয়াক জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসকদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪ হাজার ৩৫৬ জন। এর মধ্যে ৮৮ হাজার ২৯৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার প্রায় ৯০ শতাংশ।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১,৮৬০

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে সংক্রমিত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬০ জন রোগী। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির এই হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন মৃত্যুসহ চলতি বছর দেশজুড়ে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ২৮১ জনে। মাসভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, একক মাস হিসেবে কেবল সেপ্টেম্বরেই সর্বাধিক ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চলতি অক্টোবরের প্রথম ছয় দিনে ৪২ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে রোগী প্রাণ হারিয়েছেন।

বুলেটিনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীরা হাসপাতালে আসায় চলতি বছরে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯২ হাজার ২১৬ জনে। তবে একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৮৫২ জন এবং এ পর্যন্ত সর্বমোট সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৮৬ হাজার ১৫২ জন। গত এক দিনে বিভাগভিত্তিক আক্রান্তের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ, যেখানে ৭৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি খুলনা বিভাগে ৩৭৬ জন, চট্টগ্রামে ২১৬, বরিশালে ২০০, রাজশাহীতে ১৭৬, ময়মনসিংহে ১১০ এবং রংপুর বিভাগে ৩৮ জন রোগী নতুন করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


নির্বাচিত

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, মোট ১০৩৬ জন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং এর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে দুজন নিশ্চিতভাবে এই রোগে আক্রান্ত ছিলেন। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৯০ জন রোগী। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে দেশের সার্বিক হাম পরিস্থিতির এই হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারী রোগীদের মধ্যে চারজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। আলোচ্য সময়ে বিভাগভিত্তিক নতুন রোগী ভর্তির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৭৩ জন, সিলেটে ১৫২, বরিশালে ১৩৯, খুলনায় ১৩২, ময়মনসিংহে ৮২, রংপুরে ৪৭ এবং রাজশাহী বিভাগে ৩৩ জন রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছেন।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৯৩ জনে, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২২ হাজার ২০ জনের দেহে। এই সময়ে মোট ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৪৭৩ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং এর উপসর্গ নিয়ে এক হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।


নির্বাচিত

দেশের সব হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রোগীর চাপ সামলাতে দেশের সব হাসপাতালকে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে রাজধানীর হাসপাতালগুলোকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালটি চালুর বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এসব তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৯০ হাজার ৩৫৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২৮১ জনের। মৃতদের মধ্যে ১৩২ জন পুরুষ এবং ১৪৫ জন নারী। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নারীর হার ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

চলতি বছর এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে ডেঙ্গুতে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ২৪, চট্টগ্রামে ২৫, খুলনায় ৫৫, ময়মনসিংহে ২৩, রাজশাহীতে ১৯, রংপুরে ছয় এবং সিলেট বিভাগে দুজন মারা গেছেন।

গত রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় রোগীর সংখ্যা ও হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা পর্যালোচনা করা হয়। সভা শেষে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, রোগীর চাপ সামাল দিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে কিছু রোগী জাতীয় বার্ন ইউনিটে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালটি চালুর বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা আরও বাড়াতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিবর্তে কুর্মিটোলা মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতালকে ঢাকার বাইরে থেকে আসা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ঢাকাতেই বেশি। এ কারণে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকদের শয্যা বাড়াতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংকটের সময় সরকারি হাসপাতাল রোগী ফিরিয়ে দেয় না। তবে রোগীর সংখ্যা হাসপাতালের শয্যা সক্ষমতা ছাড়িয়ে গেলে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষকে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই ভোগান্তি কমাতেই ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপও বাড়ছে। তাই আগেভাগেই অতিরিক্ত শয্যা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা প্রস্তুত


নির্বাচিত

হৃদরোগের কোনো সতর্কসংকেত উপেক্ষা করা যাবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর মধ্যে হৃদরোগেই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটছে উল্লেখ করে হৃদযন্ত্রের কোনো প্রাথমিক লক্ষণ বা সতর্কবার্তাকে অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে "বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬" উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলেও বাস্তব জীবনে তার যথাযথ প্রতিফলন ঘটান না, যা হৃদরোগের মতো জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকির ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। তাই হৃদযন্ত্রের সামান্যতম অস্বস্তি বা সংকেত দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, শুধু হৃদরোগ নয়, সংক্রামক ও অসংক্রামক সব ধরনের জটিল রোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে সর্বস্তরে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

চিকিৎসক সমাজকে অনন্য মানবিক মর্যাদার আসনে স্থান দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সৃষ্টিকর্তার পরেই চিকিৎসকেরা আর্তমানবতার সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল এবং করোনা অতিমারি থেকে শুরু করে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে চিকিৎসকেরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হাসান এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির। অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. আ ফ খবির উদ্দিন আহমেদ। এর আগে মন্ত্রী সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল বিএমইউ চত্বরে বেলুন উড়িয়ে বিশ্ব হার্ট দিবসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং বর্ণাঢ্য এক র‍্যালিতে নেতৃত্ব দেন।


নির্বাচিত

স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার পদে নিয়োগের উদ্যোগ

* মাঠপর্যায়ে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে ৪০ শতাংশের বেশি পদ শূন্য * ৫১তম বিশেষ বিসিএসে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া * টিকাদান থেকে রোগ নির্ণয়—জনবল ঘাটতিতে চাপে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় জনবল সংকট এখন শুধু শূন্য পদের পরিসংখ্যান নয়; এটি চিকিৎসাসেবার বিস্তার, রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে ৪০ শতাংশের বেশি পদ শূন্য থাকায় প্রায় ৩৫ হাজার পদে দ্রুত নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ক্যাডারে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

সরকারের ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতি বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শূন্য পদে নিয়োগের অনুমোদন ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পাশাপাশি নিয়োগ সম্পন্ন, কর্মস্থলে পদায়ন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনবল ধরে রাখার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় কর্মী না থাকলে অবকাঠামো ও চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও জনগণ প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট পর্যন্ত অধিদপ্তরের অনুমোদিত ১ লাখ ২৭ হাজার ১০১টি পদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ শূন্য ছিল। এই চিত্র স্বাস্থ্য খাতে জনবল পরিকল্পনা ও নিয়োগ কার্যক্রমের ব্যাপ্তি সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়। একই সঙ্গে এটি দেখায়, চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার কারিগরি, সহায়ক ও মাঠপর্যায়ের পদগুলো পূরণেও সমান গুরুত্ব প্রয়োজন।

মাঠপর্যায়ে শূন্য পদ, বাড়ছে কর্মরতদের দায়িত্বের চাপ: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনবল কাঠামোয় সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা মাঠপর্যায়ের কর্মীস্বল্পতা। ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডের মোট ৫৬ হাজার ৯০৮টি পদের মধ্যে ২০ হাজার ৯৯৫টি শূন্য। অর্থাৎ, এই গ্রেডগুলোতে প্রায় ৩৭ শতাংশ পদে জনবল নেই। এসব পদে স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা কাজ করেন। টিকাদান, স্বাস্থ্যশিক্ষা, রোগ প্রতিরোধ এবং পরীক্ষাগারভিত্তিক রোগ নির্ণয়ে তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য সহকারী অখিল উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন স্বাস্থ্য সহকারীর একটি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও কর্মীসংকটের কারণে অনেককে একাধিক ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অখিল উদ্দিন এ মাসের শুরুতে বলেছিলেন, স্বাস্থ্য সহকারীরা শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যশিক্ষাসহ অন্য সেবা যথাযথভাবে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এই সংকটের প্রভাব বহুমুখী। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সাধারণত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা, রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, নির্ধারিত জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। তাদের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম হলে বিদ্যমান কর্মীদের কাজের পরিধি বাড়ে। এতে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বাড়তি দায়িত্ব সামলানোও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে, ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে অনুমোদিত ২৬ হাজার ২৯৫টি পদের মধ্যে ১৩ হাজার ৯৪৫টি শূন্য। অর্থাৎ, এ স্তরে প্রায় ৫৩ শতাংশ পদেই কর্মী নেই। দুই গ্রেড-গুচ্ছের এই চিত্র দেখায়, জনবল ঘাটতি কেবল একটি নির্দিষ্ট পেশায় সীমাবদ্ধ নয়; স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরেই নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে।

পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ: চিকিৎসকস্বল্পতা কমাতে সরকার পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব এএনএম বজলুর রশীদ জানিয়েছেন, এ নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ক্যাডারে ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন এবং ৩০০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই নিয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসক মিলিয়ে পাঁচ হাজার পদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে প্রথম থেকে নবম গ্রেডে প্রায় ৩ হাজার ২০০ চিকিৎসক ও দন্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তারপরও সংশ্লিষ্ট গ্রেডগুলোতে ২৪ শতাংশ পদ শূন্য ছিল বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নতুন নিয়োগ চিকিৎসকস্বল্পতা কমানোর আরেকটি পদক্ষেপ হলেও সামগ্রিক ঘাটতি কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে নিয়োগের পরবর্তী অগ্রগতি এবং অন্যান্য শূন্য পদ পূরণের ওপর।

এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিকিৎসক নিয়োগ এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ পরস্পরের বিকল্প নয়। চিকিৎসক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন; অন্যদিকে স্বাস্থ্য সহকারী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য কর্মী টিকাদান, রোগ প্রতিরোধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিয়মিত কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করেন। তাই স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন পেশার কর্মীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য থাকা জরুরি।

বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসক পদায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবল নিশ্চিত করা না গেলে নিয়োগের সুফল পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হতে পারে। একইভাবে, জনবল কোথায় কতটা প্রয়োজন, কোন প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের ঘাটতি বেশি এবং কোথায় সেবা সম্প্রসারণের চাপ রয়েছে—এসব বিবেচনায় নিয়ে পদায়ন করা প্রয়োজন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা কাটিয়ে সেবাকেন্দ্রে কর্মী পৌঁছানোই লক্ষ্য: শূন্য পদ পূরণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোকে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব এএনএম বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক (প্রশাসন), বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের কাছে নির্দেশনার অনুলিপি পাঠানো হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, সিভিল সার্জন কার্যালয়গুলোকে শূন্য পদের বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। বাজেট বরাদ্দের অভাবে যেসব কার্যালয়ে নিয়োগ আটকে আছে, সেগুলোকে চলতি অর্থবছরের প্রয়োজনীয় তথ্যসহ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। নিয়োগ শেষ হওয়ার পর নতুন করে পদ শূন্য হলে ছাড়পত্র নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে। আর অনুমোদন বা ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নতুন করে অনুমোদন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

স্থানীয় ও আইনি জটিলতা, সীমানাসংক্রান্ত সমস্যা, কোটা, প্রবেশপত্রের ভুল কিংবা সিটি করপোরেশন-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোথাও নিয়োগ আটকে থাকলে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোকে মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেছেন, শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে ফ্রি হার্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে দিনব্যাপী ‘ফ্রি হার্ট ক্যাম্প’। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘ফ্রি হার্ট ক্যাম্প’। মহাখালী রাওয়া’র বিপরীতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই ফ্রি হার্ট ক্যাম্পে বিনামূল্যে প্রায় তিন শতাধিক রোগীদের বিশেষায়িত চিকিৎসা পরামর্শ দিয়েছেন ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালের সিনিয়র ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. অমল কুমার চৌধুরী, সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিয়াক সার্জারি) ব্রিগে. জেনা. অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, মিনিমালি ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জন (MICS) ডা. আশরাফুল হক সিয়াম, ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. সানিয়া হক, ডা. এম এ হাসনাত, ডা. সামি নজরুল ইসলাম; কার্ডিওভাসকুলার সার্জন ডা. রোমেনা রহমান; পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট ডা. আব্দুল জাব্বার জীবন; কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সারাবান তাহুরা এবং ডায়াবেটিস, থাইরয়েড এবং হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নাসরিন আক্তার তুলি।

একইদিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীদের জন্য অনুরূপ ‘ফ্রি হার্ট ক্যাম্প’ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে শতাধিক রোগীদের বিশেষায়িত চিকিৎসা পরামর্শ দিয়েছেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস-এর কনসালটেন্ট ডা. মো. আশরাফুল আলম সিদ্দিক (হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ)।

এ বিষয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিছক কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা আমাদের হাসপাতালের অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য এবং আমি আশাবাদী সামনেও আমরা অনুরূপ ফ্রি ক্যাম্প এর আয়োজন করব।’

প্রসঙ্গত, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোগীদের জন্য এরকম ফ্রি হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।


নির্বাচিত

ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ২১৫৮

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৫৮ জন। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ২২০ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৪৩ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে গত ২৬ দিনে ১২৮ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গুরোগীর মৃত্যু হয়েছে।

এতে জানানো হয়, গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ১৫৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ৬৯৪ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫৫ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৮ হাজার ৬ জন।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৬৬৪ জন। এর বাইরে খুলনা বিভাগে ৩২৯ জন, বরিশালে ২২৭ জন, চট্টগ্রামে ৩৪৫ জন, ময়মনসিংহে ১৩২ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং রাজশাহীতে ১৭৬ জন।


নির্বাচিত

banner close