বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
১২ আষাঢ় ১৪৩৩

সুষ্ঠু পরিকল্পনাই স্বাস্থ্য খাতের চেহারা পাল্টাবে

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ছবি: সুদীপ্ত সালাম
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল, ২০২৩ ১৬:২৭

বীর মুক্তিযোদ্ধা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী চলে গেলেন। তার প্রয়াণ শোকাভিভূত করেছে জাতিকে। ১৯৪১ সালের ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজানে জন্ম নেয়া ডা. জাফরুল্লাহ মুক্তিযুদ্ধ ও জনস্বাস্থ্যখাতে অবদানের কারণে সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

তিনি মুক্তিযুদ্ধে আগরতলার মেলাঘরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গেরিলা প্রশিক্ষণ নেন এবং ডা. এম এ মবিনের সঙ্গে মিলে সেখানে ৪৮০ শয্যাবিশিষ্ট ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন। ১৯৮২ সালে প্রবর্তিত বাংলাদেশের ‘জাতীয় ওষুধ নীতি’ প্রণয়নের ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

গত বছরের অক্টোবরে দৈনিক বাংলার সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের বিগত পঞ্চাশ বছরের অগ্রগতি, দুর্বলতা এবং সংকট উত্তরণের পথনির্দেশসহ এ খাতসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মাহবুবা জান্নাতের নেয়া সাক্ষাৎকারটি পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

দৈনিক বাংলা: গত ৫০ বছরে দেশে স্বাস্থ্য খাতের পথচলাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী: সত্তরের দশক ছিল সারা বিশ্বে সমাজতন্ত্রের দশক। মুক্তিযুদ্ধের পর এ দেশেও সমাজতান্ত্রিক ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তৃণমূলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা কীভাবে সর্বোচ্চ নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে ভাবা হচ্ছিল। সে সময় তিনজন ব্যক্তি স্বাস্থ্য আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। তারা হলেন ড. তৈয়্যব আলী, ড. এস আই এম জি মান্নান এবং এম এন নন্দী। সে সময় যিনি দেশের স্বাস্থ্যসেবার ইতিবাচক অগ্রগতিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন, তার নাম এখন আর তেমনভাবে উচ্চারিত হয় না। তিনি হলেন অর্থনীতিবিদ এইচ এস শামসুল আলম। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি ছিলেন তিনি। পরে পাকিস্তান পরিকল্পনা কমিশনে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনিই এ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামোটা গড়ে তোলেন। দেশের প্রতিটি থানায় একটি করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তৈরির বিষয়টি তিনি পরিকল্পনা কমিশনে অন্তর্ভুক্ত করলেন। সে সময় ৩০০টি থানা ছিল। এতে করে গ্রামে চিকিৎসক পাঠানোর একটা ব্যবস্থা তৈরি হলো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবও বিষয়টি মেনে নিলেন।

এ ছাড়া ইউনিয়ন সাব সেন্টার প্রতিষ্ঠার ধারণাটি ছিল তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব ড. টি হোসেইনের। প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই হলো যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নের প্রারম্ভ। সে সময় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে জোর দেয়া হয়।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ছবি: সুদীপ্ত সালাম

এ ছাড়া পাকিস্তান আমল থেকেই এ অঞ্চলে ৮টি মেডিকেল কলেজ চালু ছিল। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সেগুলোর সুবিধা পাচ্ছিল। আর যুদ্ধকালে আগরতলায় চিকিৎসা শিবিরে আমরা যেভাবে স্বল্প সময়ে তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আপৎকালীন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়েছি, সেই ধারণা থেকে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কিছু তরুণ জনগোষ্ঠীকে ৬ মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে ব্যাপক পরিসরে পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেয়া শুরু হয়। যার ফলে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে খুব অল্প সময়ে বড় ধরনের সাফল্য এসেছিল।

এরপর আশির দশকের শুরুর দিকে তৈরি হলো ওষুধনীতি। এতে ওষুধশিল্পের ব্যাপক অগ্রগতি হলো। সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ পেল। আশির দশকের শেষ দিকে আসে স্বাস্থ্যনীতি। তবে দেশের চিকিৎসকরা এটা পছন্দ করেননি। সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছিল এতে। এটা করা গেলে রোগীরা আজকে ভীষণভাবে উপকৃত হতো। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো থেকে সর্বক্ষণিক সেবা পেত।

২০১১ সালে সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিতে শুরু করে সরকার। স্থানীয় জনগণের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এ সেন্টারগুলো পরিচালিত হয় মূলত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের দ্বারা। তারা কেবল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেবার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এগুলোও শুরুর দিকে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কর্মীদের রাজস্ব খাতে না আনাসহ তদারকির অভাবে সেগুলোও কাঙ্খিত সেবা দিতে পারছে না এখন আর।

বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য যে, এত ভালো অবকাঠামোগত সুবিধা পেয়েও সঠিক পরিকল্পনা ও দূরদর্শিতার অভাবে স্বাস্থ্য খাতের সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানো হয়নি। প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মী নেই। প্রতি বছর দেশের মেডিকেল কলেজগুলো থেকে ১০ হাজার চিকিৎসক বের হয়। অথচ তারা গ্রামে যায় না, এটা দুর্ভাগ্যজনক।

দৈনিক বাংলা: বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কী?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী: সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ব্যবস্থাপনার অভাব। আমরা বড় বড় হাসপাতাল তৈরি করেছি। কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় জনবল দিতে পারিনি, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দিতে পারিনি। প্রত্যেকটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতালে জনবল সংকট। এভাবে চলতে পারে না।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ছবি: সুদীপ্ত সালাম

তা ছাড়া মেডিকেল যন্ত্রপাতির ওপর ট্যাক্স বেশি ধার্য করে ভুল করা হয়েছে।

ওষুধের দাম বেশি। এখন ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে কোম্পানিগুলো। ফলে তারা কেবল মুনাফার দিকটা দেখছে। দরিদ্র মানুষের কথা ভাবলে সরকারকে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জনগণের আউট অব পকেট এক্সপেনডিচার (নিজ খরচে চিকিৎসা) কমাতে হবে। বর্তমানে চিকিৎসার ৭০ শতাংশ খরচ বহন করে রোগী নিজে। এ অবস্থায় চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে, এমন পরিবারের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাই সরকারকে স্বাস্থ্য খাতে ভর্তুকি বাড়াতে হবে। ফিরে আসতে হবে ১৯৮২ সালের ওষুধনীতিতে। কেননা, এ নীতিতে আমরা ওষুধ কোম্পানিগুলোকে লাভ করার সুযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু ঘুষ দেয়ার সুযোগ দিইনি।

এ ছাড়া বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে এগুলো লোক ঠকানো প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানেও অপারেশনের খরচ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচসহ সব কিছু নির্ধারণ করে দিতে হবে সরকারকে।

দৈনিক বাংলা: এ খাতের সবচেয়ে বড় শক্তির দিক কোনটি আপনার কাছে?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী: সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এ দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী। তাদের সহজেই শেখানো সম্ভব। প্রতি বছর ২০ হাজার চিকিৎসক তৈরি করা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু সুষ্ঠু পরিকল্পনার। সারা বিশ্বে এখন নার্সের চাহিদা অনেক। বিশেষত প্রবীণদের সেবার জন্য নার্স প্রয়োজন। এ অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের পরিবর্তে ৬ মাস বা এক বছরের কোর্স খোলা যেতে পারে। বয়োবৃদ্ধদের সেবা প্রদানের জন্য সংক্ষিপ্ত ও বাস্তবধর্মী কোর্স কারিকুলাম করতে হবে। যেখানে বিদেশি ভাষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের বিদেশে পাঠানো যেতে পারে। কিন্তু নার্সিং সেক্টরটি বরাবরই অবহেলিত রয়েছে এ দেশে।

বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই আরও অনেক বেশি দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি করা যায়। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, তাদের সেভাবে তৈরি করা হচ্ছে না। আমাদের নার্সরা এখনো বিদেশে কাজের সুযোগ পাচ্ছে না।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ছবি: সুদীপ্ত সালাম

দৈনিক বাংলা: স্বাস্থ্য খাতে অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী: জনস্বাস্থ্যে স্যানিটেশন ব্যবস্থা জোরদার করা আর নিরাময়ের দিক থেকে ইউনিয়ন সাব সেন্টারগুলোকে কার্যকর করা। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন চাইলে সর্বপ্রথম এই ইউনিয়ন সাব সেন্টারগুলোকে কার্যকর করতে হবে। চিকিৎসকরা যেন সেখানে থাকেন তার ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। দুই বছর গ্রামে কাজ না করলে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট করতে পারবেন না চিকিৎসকরা, এমন আইন তৈরি হলে চিকিৎসকরা অবশ্যই গ্রামে যাবেন। চিকিৎসকের থাকার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা থাকলে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলে তারা অবশ্যই গ্রামে কাজ করবেন।

দৈনিক বাংলা: আপনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হলে কোন কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতেন?

জাফরুল্লাহ চৌধুরী: আমি প্রথমে ওষুধের দাম কমিয়ে দিতাম। ১৯৮২ সালের ওষুধনীতির পূর্ণ প্রয়োগ করলে ওষুধের দাম অর্ধেক হয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত, রোগীর সেবাপ্রাপ্তির প্রতিটি স্তরে মূল্য নির্ধারণ করে দিতাম, যাতে রোগী প্রতারণার শিকার না হয়। চিকিৎসকের ভিজিট থেকে শুরু করে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা, অপারেশন- সব কিছুর মূল্য নির্ধারণ করে দিতাম। কোন প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সেবার জন্য সর্বোচ্চ কত টাকা আর সর্বনিম্ন কত টাকা নিতে পারবে তা নির্ধারণ করে দেয়া জরুরি। নতুবা স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য বাড়তেই থাকবে। একই ইসিজি কোথাও ১০০ টাকা, কোথাও ৩০০০ টাকা– এটা চলতে পারে না। তৃতীয়ত, মেডিকেল কলেজগুলোতে ছাত্র ভর্তি বাড়াতাম। চতুর্থত, প্রতিটি মেডিকেল কলেজে বিদেশি ছাত্রদের জন্য আলাদা এক হাজার আসন রাখতাম। এতে করে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগও তৈরি হতো। পঞ্চমত, ফিজিওথেরাপি, মাইক্রোবায়োলজি, ডেন্টাল, নার্সিং-এর জন্য আলাদা কলেজ নয়। একই মেডিকেল কলেজ থেকে সবাই পাস করবে। এতে করে সীমিতসংখ্যক অবকাঠামোগত সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার হবে। কিছু নির্ধারিত বিষয়ে একই শিক্ষক কভার করতে পারবেন। যেমন: অ্যানাটমি বিষয়টি প্রত্যেক সেক্টরের শিক্ষার্থীদের জন্য একই। তাহলে কেন আলাদা প্রতিষ্ঠান করে তাদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা হবে? কেন আলাদা প্রিন্সিপাল, শিক্ষক, দারোয়ান, ক্লিনার লাগবে? ষষ্ঠত, যেহেতু মেডিকেল শিক্ষকের অভাব এখনো প্রকট, তাই যেসব শিক্ষক এখনো সুস্থ সবল আছেন, বিশেষ বিবেচনায় তাদের চাকরির বয়স ৭৫ বছর করতাম।

(ডা. জাফরুল্লাহ মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টায় ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। আগে থেকেই ভুগতে থাকা কিডনি জটিলতার পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় লাইফ সাপোর্টে ছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ। তার মরদেহ এখন রাখা আছে বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে।)


হামে আরও ১ শিশুর মৃত্যু প্রাণহানি বেড়ে ৬৪৩

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হামের উপসর্গ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল আটটা তেকে শুক্রবার (১২ জুন) সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশু মারা গেছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৫৩ জনের। শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫৫১ শিশু। নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয় ৯২ শিশুর। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৬৪৩।

প্রতিবেদন বলছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৮৪ হাজার ২৬৬।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২৬ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১০ হাজার ১৮৫ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৩৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৫ হাজার ২৭৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে খুলনায় ওই শিশু মারা যায়।


ছয় হাসপাতালে আদ্-দ্বীনের রোগীদের চিকিৎসা দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন কয়েকশ রোগী। সেবা দেওয়ার বিধান না থাকায় এসব রোগীকে ছয় হাসপাতালকে চিকিৎসা দিতে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত ১১ জুন আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এমতাবস্থায় এ হাসপাতাল থেকে রেফার্ডকৃত রোগীদের তাৎক্ষণিক যথাযথ চিকিৎসা প্রদানের জন্য ছয় হাসপাতালকে নির্দেশ দেওয়া হলো।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও ছয় হাসপাতালের তালিকায় রয়েছে, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।


আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১১ জুন, ২০২৬ ২০:৫৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে চিঠিটি পাঠিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ)। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।

চিঠিটির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, ২ বড় মগবাজার, ঢাকা-এর কারণ দর্শানোর জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।’ চিঠিতে বলা হয়, গত ২৭ মে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ জুন এই হাসপাতালটির ‘লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না’ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ৭ জুন বিকেল পাঁচটার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ৭ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কারণ দর্শানোর সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করলে এই সময়সীমা ৯ জুন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

বিষয়টি উল্লেখ করে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বত্বাধিকারীকে চিঠিতে বলা হয়েছে, ৯ জুন আপনার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যে জবাব ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(২) (খ) ধারা অনুযায়ী আপনার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো। এই অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।


রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১টা থেকে তারা এই কর্মবিরতি শুরু করেন। রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন প্রতিনিধি ডা. তানভীর আহমেদ তৌকির বলেন, “কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে।”রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, “হাসপাতালে ২৬২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছেন। আজ সকাল থেকে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।” স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক একটি নোটিশ এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন অনিয়ম ও বৈষম্যের প্রতিবাদে সারাদেশের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বাংলাদেশ সম্মিলিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সব ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেছেন। সমাবেশে তাদের ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। তারা দাবি করেন, এর আগে বিএমডিসি প্রকাশিত একটি নোটিশের মাধ্যমে তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রথম দাবির বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাকি দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে তারা হতাশা প্রকাশ করেন।এ অবস্থায় সংগঠনটি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, দেশের সব মেডিকেল কলেজের প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বেলা ১১টার পর থেকে ক্লাস বর্জন, সব মিড-লেভেল চিকিৎসকদের চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। কর্মসূচিতে দেশের সব ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।


১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালীকরণে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে গত বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং পরিদর্শন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার নির্দেশনা জারি করেছে। অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী আদেশে সই করেন।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং রোগীদের জন্য অধিকতর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যা সীমিত হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উপজেলা পর্যায়েই অধিকসংখ্যক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং জেলা সদর হাসপাতালের ওপর চাপও কমবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত পরিদর্শন দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পরিদর্শন করবে। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে অবকাঠামোগত সক্ষমতা, বিদ্যমান ভবন, সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং অতিরিক্ত শয্যা স্থাপনের উপযোগিতা যাচাই করা হবে।

নির্দেশনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) পরিদর্শন দলের সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে পরিদর্শন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত, নথিপত্র এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হলে চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়বে। এতে মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা, মেডিসিন, সার্জারি ও অন্যান্য বিশেষায়িত সেবার ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি রোগীদের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজনও অনেকাংশে কমে আসবে।

অফিস আদেশটির অনুলিপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ই-মেইলের মাধ্যমেও নির্দেশনাটি জানানো হয়েছে।


অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, রুমে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটি কার্যক্রম পরিচালনার উপযুক্ত নয়। পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন সুবিধা না থাকা, ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি করা এবং দায়িত্বে চরম অবহেলার বিষয়গুলো তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয়ে তিনি আরও জানান, এ ধরনের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায়, সে বিষয়ে আগামী রোববার (৭ জুন) সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ ধরনের ঘটনা রোধে সরকার আরও কঠোর হতে যাচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এর আগে, গত ২৭ মে ভোরে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৩ ঘণ্টার মধ্যে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শিশুর স্বজনের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রমনা থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। সেদিন রাতেই মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম।


আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, তদন্ত প্রতিবেদন জমা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশু মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর নিকট জমা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত কমিটি আজ তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।

এছাড়া আগামীকাল দুপুর ৪টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল গণমাধ্যমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলেও জানানো হয়েছে।

গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে তিন ঘণ্টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর মৃত এক নবজাতকের স্বজন রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিভিন্ন অসঙ্গতি পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং করণীয় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি। পরে তারা ৩ জুন পর্যন্ত সময় চান। এ কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের উপপরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

এর আগে গত তিন দিন আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে তারা সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ওই দিন বিকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।


ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েক মাসে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে মৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে ৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (৩০ মে) সকালে মমেক হাসপাতালের হাম মেডিক্যাল দলের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত শিশুরা হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়াসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে একজন কিশোরগঞ্জের চৌদ্দশত ইউনিয়নের ৪ মাস বয়সী ছেলে শিশু। গত ২২ মে দিবাগত রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হামের উপসর্গের পাশাপাশি শিশুটি নিউমোনিয়া, হৃদরোগজনিত জটিলতা ও মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত ছিল। দীর্ঘ কয়েকদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। অন্য শিশুটি ময়মনসিংহের সদর উপজেলার আকুয়া এলাকার সাড়ে তিন মাস বয়সী এক কন্যা শিশু। মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৫ মে থেকে সে চিকিৎসাধীন ছিল এবং শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ময়মনসিংহে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩৮ জন শিশুকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে এই বিশেষায়িত ওয়ার্ডে মোট ১১৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশই হামের পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট ও মারাত্মক নিউমোনিয়ার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে, যা চিকিৎসকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১৭ মার্চ থেকে ৩০ মে সকাল পর্যন্ত মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ১ হাজার ৭০৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে উন্নত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ১ হাজার ৫৪৯ জন শিশু ছাড়পত্র পেয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে। তবে অপুষ্টি ও সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়ার কারণে শিশুদের মধ্যে জটিলতা বাড়ছে বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন। বর্তমানে হাসপাতালে আসা প্রতিটি শিশুর নিবিড় পরিচর্যা নিশ্চিত করতে বিশেষ মেডিকেল টিম কাজ করে যাচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, মমেক হাসপাতালে শিশুদের ভিড় বাড়ার সাথে সাথে অভিভাবক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকগণ শিশুদের পরিচ্ছন্ন রাখা এবং যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকার ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও জনসচেতনতাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুহার কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটির মাঝে বিএমইউর বহির্বিভাগে দুই শত রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান 

আপডেটেড ২৭ মে, ২০২৬ ২০:২৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদ উল আযহার ছুটির মাঝে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ এর বহির্বিভাগ-১ এবং বহির্বিভাগ-২ এ আজ ২৭ মে বুধবার ২০২৬ইং তারিখ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা ছিল। এসময় সম্মানিত চিকিৎসকবৃন্দ প্রায় দুইশত (১৯৮) রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। বুধবার চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সম্মানিত উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ। এসময় বিএমইউর সম্মানিত পরিচালক হাসপাতাল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান, সহকারী প্রক্টর ডা. শাহরিয়ার শামস লস্কর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রোগীদের সুবিধার্থে আগামী ৩০ মে শনিবার ২০২৬ইং তারিখে বিএমইউর বহির্বিভাগ খোলা থাকবে। বিএমইউর সম্মানিত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। আগামী ৩০ মে ২০২৬ইং তারিখের বহির্বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম সফল করার জন্য কে বিএমইউর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রচলিত নিয়মে ইনডোর ও জরুরি বিভাগসমূহ খোলা রয়েছে।


বিএমইউতে ঈদের জামাত সকাল ৭টায়, ২৭ ও ৩০ মে খোলা থাকছে বিএমইউর বহির্বিভাগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ এর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ঈদের দিন ২৮ মে ২০২৬ইং তারিখ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই তথ্য জানিয়েছেন বিএমইউর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এর পেশ ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা মুফতী আব্দুল আহাদ। উক্ত ঈদের জামাতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অংশগ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

রোগীদের সুবিধার্থে বিএমইউর বহির্বিভাগ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আগামী ২৭ মে বুধবার এবং ৩০ মে শনিবার ২০২৬ইং তারিখে খোলা থাকবে। বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। ২৭ ও ৩০ মে বহির্বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম সফল করার জন্য বিএমইউর পরিচালক হাসপাতাল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমানকে বিএমইউর প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ২৫ মে ২০২৬ইং তারিখ সোমবার থেকে ৩১ মে রবিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে এই সময়ে প্রচলিত নিয়মে ইনডোর ও জরুরি বিভাগসমূহ খোলা থাকবে। এছাড়া ২৭ ও ৩০ মে বহির্বিভাগ খোলা থাকবে।

পবিত্র ঈদুল আযহা ছুটি শেষে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ১ জুন সোমবার সম্পূর্ণভাবে খুলবে এবং ওইদিন ১ জুন ২০২৬ইং তারিখ সোমবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উদযাপিত হবে।


হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৩ শিশুর। এ রোগ ও উপসর্গে ৫০০ ছাড়িয়েছে মৃত্যু।

শনিবার এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ২ হাজার ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১২ জনে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭১ হাজার ১ জন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৯ হাজার ৩৮৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১ জন এবং সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা ১২ জন।


হামে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আক্রান্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের মধ্যেও দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। নতুন করে মৃত্যু হয়েছে আরও ১১ শিশুর। এর মধ্যে নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামে আর অন্য দুটি হামের উপসর্গ নিয়ে। শুক্রবার (২২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ২৪ ঘণ্টার তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৪১৪ শিশু, আর নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৮৫ শিশু। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৯।

নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ২৬১ জনের। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১০৪ জন। একই সময়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ৭৫ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে ৬০ হাজার ৫৪০ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে এবং বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধে দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন, সময়মতো চিকিৎসা এবং শিশুদের পূর্ণ টিকাদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশুমৃত্যু বাড়তে থাকায় উদ্বেগ: এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটি টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের দাবিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দেওয়া স্মারকলিপিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে প্রান্তিক এলাকায় শিশুর মধ্যে হামের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটির শঙ্কা, অনেক শিশু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যাওয়ায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও টিকাদান কার্যক্রমের ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে শিশুদের জীবন ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় নিয়মিত টিকাদান সেবা নিশ্চিত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহিলা পরিষদ পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে– হামপ্রবণ ও দুর্গম এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ টিকাদান ক্যাম্পেইন চালু, মাঠপর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো, আক্রান্ত শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পুষ্টি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।


বিএমইউতে গর্ভাবস্থায় ও প্রসবোত্তর সময়ে থাইরয়েড রোগ ব্যবস্থাপনায় সর্বাধুনিক চিকিৎসা নির্দেশিকার উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে বুধবার (২০ মে) থাইরয়েড টাস্কফোর্স, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির উদ্যোগে থাইরয়েড সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গর্ভাবস্থায় ও প্রসবোত্তর সময়ে থাইরয়েড রোগ ব্যবস্থাপনায় সর্বাধুনিক চিকিৎসা নির্দেশিকা (গাইডলাইন) এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে এবং বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০২৬ কে সামনে রেখে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিতে বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য হলো থাইরয়েড স্বাস্থ্য রক্ষায় সঠিক পুষ্টি।

এসকল আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউ এর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। মাননীয় উপার্চা তার বক্তব্যে গর্ভাবস্থায় ও প্রসবোত্তর সময়ে থাইরয়েড রোগ ব্যবস্থাপনায় সর্বাধুনিক চিকিৎসা নির্দেশিকা (গাইডলাইন) ইভিডেন্স বেইসড মেডিসিন প্রাকটিসে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন এবং জন্মের পর নবজাতকের থাইরয়েড পরীক্ষাসহ রোগ নির্ণয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে জানানো হয়, এই নতুন গাইডলাইনটি গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের জটিলতা নিরসনে, অকাল প্রসব, গর্ভপাত, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমানো এবং সুস্থ সন্তান জন্মদানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন আয়োজক চিকিৎসকরা। বিশেষ করে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের চিকিৎসকদের জন্য এটি একটি হাতে-কলমে দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির (বিইএস) সভাপতি ডা. ফারিয়া আফসানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বারডেম এর পরিচালক (একাডেমী) অধ্যাপক ডা. মোঃ ফারুক পাঠান। মূল বক্তা ছিলেন বিইএস এর প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ও থাইরয়েড টাস্কফোর্স এর কো-অর্ডিনেটর ডা. শাহজাদা সেলিম, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. এম সাইফুদ্দিন। প্যানেল অব এক্সপার্টস ছিলেন নিনমাস এর পরিচালক ও বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী, বিএমইউ এর এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ হাসনাত, জেড এইচ সিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. শেখ জিনাত আরা নাসরীন, কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মোঃ হাফিজুর রহমান। সঞ্চালক ছিলেন থাইরয়েড টাস্কফোর্স ও বিইএস এর সদস্য সচিব ডা. সৈয়দ আজমল মাহমুদ।

নিনমাস এর পরিচালক ও বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, থাইরয়েড ক্ষুদ্র কিন্তু শক্তিশালী গ্রন্থিটি মানব শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে চারটি সময়ে জন্মের পর-পরই, বয়ঃসন্ধিকালে, মায়েদের গর্ভধারণের পূর্বে এবং বয়স ৫০ হওয়ার পর-পরই অবশ্যই থাইরয়েড স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন। অধ্যাপক ডা. বারী আরো বলেন, থাইরয়েড চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ও মাইক্রোওয়েভ এর মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা যায়। এক্ষেত্রে কোন কাঁটা ছেড়া ছাড়া শুধু সুইয়ের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা যায়; তাতে রোগীকে অজ্ঞান করার প্রয়োজন পড়ে না, কিংবা রোগীকে হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন পড়ে না এবং এই পদ্ধতির কোন বড় ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই, খরচও কম হবে । টিউমার অ্যাবলেশনের পদ্ধতি দেশের মানুষের থাইরয়েড সমস্যা ও লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসায় অবদান রাখবে।

সেমিনারে বলা হয়, গলার নিচের অংশে শ্বাসনালীর সামনে অবস্থিত প্রজাপতির আকৃতির একটি ছোট গ্রন্থি হলো থাইরয়েড। এটি প্রধানত দুটি হরমোন নিঃসরণ করে: থাইরক্সিন এফটি৪ এবং ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন এফটি৩। এই হরমোনগুলো শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (মেটাবলিজম), হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিয়ন্ত্রণ করে। হাইপোথাইরয়েডিজম: গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি করলে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, অবসাদ, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। হাইপারথাইরয়েডিজম: বেশি হরমোন তৈরি করলে ধড়ফড়, ওজন কমা, হাত কাঁপা, অতিরিক্ত ঘাম হয়।

থাইরয়েড গ্রন্থিকে একটি ইঞ্জিনের সাথে তুলনা করা যেতে পারে, যার সঠিক জ্বালানি হলো পুষ্টি। নির্দিষ্ট কিছু খনিজ ও ভিটামিন ছাড়া থাইরয়েড হরমোন তৈরি অসম্ভব। যে উপাদানগুলো জরুরি তা হলো আয়োডিন যেমন আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধজাত পণ্য, ডিম। সেলেনিয়াম যেমন ব্রাজিল নাট, টুনা মাছ, মুরগির মাংস, সূর্যমুখীর বীজ। জিঙ্ক যেমন গরুর মাংস, কুমড়ার বীজ, ছোলা, ডাল। আয়রন ও ভিটামিন ডি। আয়রনের অভাবে থাইরয়েড এনজাইমের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। থাইরয়েড রোগীদের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর অভাব প্রকট থাকে।

গয়ট্রোজেনিক খাবার নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি ও সয়াবিনে গয়ট্রোজেন থাকে যা আয়োডিন শোষণে বাধা দেয়। তবে রান্না করলে এসব যাবারের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমে যায়। খাইরয়েড রোগীরা পরিমিত পরিমাণে রান্না করা এসব সবজি খেতে পারেন। যা এড়িয়ে চলবেন তা হলো ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল, অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার (সাদা ময়দা, চিনিযুক্ত পানীয়)। জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা মৃদু ব্যায়াম ইত্যাদি করা প্রয়োজন।

সেমিনারে সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে থাইরয়েড রোগ নিয়ে আরও গবেষণায় উদ্যোগী হওয়ার, রোগীর সঠিক চিকিৎসা প্রদান এবং রোগ প্রতিরোধে ব্যাপকভিত্তিক কর্মযজ্ঞে লিপ্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।


banner close