রোববার, ৪ জুন ২০২৩
বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস আজ

৫২ শতাংশ মানুষ জানে না যে তারা রোগী

আপডেটেড
১৭ মে, ২০২৩ ১৬:৪৪
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত
জাকিয়া আহমেদ

দেশে অসংক্রামক রোগের কারণে অপরিণত মৃত্যু বাড়ছে। দেশে যত মৃত্যু হয় তার ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে ৩০ থেকে ৭৯ বছরের ১২৮ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের। পুরো বিশ্বেই অকাল মৃত্যুর বড় কারণ উচ্চ রক্তচাপ।

এমন পরিস্থিতিতেই আজ ১৭ মে পালিত হচ্ছে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপুন, নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং দীর্ঘজীবী হোন’।

বিশ্বজুড়ে যেমন উচ্চ রক্তচাপের রোগী বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে বাংলাদেশেও। দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি পাঁচজনে একজন (২১ শতাংশ) উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্যে ‘নীরব ঘাতক’ এই উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদরোগ, হৃদরোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি, স্ট্রোক এবং কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যুর হার কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপের কারণে স্ট্রোক এবং কিডনির ক্ষতি হয়। সরকার অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ২০২৫ সালের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ তুলনামূলকভাবে ২৫ শতাংশ কমানোর (রিলেটিভ রিডাকশন) জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সব স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রে উচ্চ রক্তচাপ চিকিৎসা এবং ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা বলছেন চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ রক্তচাপজনিত বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের প্রকোপ এবং মৃত্যু ক্রমেই বাড়ছে। এর লাগাম টেনে ধরতে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা এক্ষেত্রে কার্যকর এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে প্রধান বাধা উদাসীনতা বা অসচেতনতা। যেমন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত মানুষের অর্ধেকই জানেন না তারা এতে আক্রান্ত। আবার যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের অর্ধেকের বেশি জানেন না উচ্চ রক্তচাপ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ১০০ জনের মধ্যে ৭৭ জন ওষুধ খাচ্ছেন, কিন্তু তাদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেই। আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত নারীদের অর্ধেক (৫১ শতাংশ) এবং পুরুষের দুই-তৃতীয়াংশ (৬৭ শতাংশ) জানেন না যে, তাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে।

গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজ স্টাডির তথ্যমতে, বাংলাদেশে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের প্রধান তিনটি কারণের একটি উচ্চ রক্তচাপ। বাংলাদেশ ২০২৫ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে (এনসিডি) লক্ষ্যমাত্রা এবং ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অঙ্গীকারবদ্ধ হলেও এই রোগের প্রকোপ লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, দেশে মৃত্যুর প্রথম ১৫টি শীর্ষ কারণের মধ্যে রয়েছে হার্ট অ্যাটাক, যা মোট মৃত্যুর ২১ শতাংশ। এরপরই রয়েছে ব্রেন স্ট্রোক (১০ শতাংশ)। মোট মৃত্যুর ১৩ দশমিক ৬ শতাংশের জন্য দায়ী শ্বাসজনিত রোগ, ব্রেন স্ট্রোক ও হৃদরোগ। এ ছাড়া মোট মৃত্যুর ১৫ শতাংশের জন্য দায়ী নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, লিভার ক্যানসার, কিডনি রোগ। আর এ সবকিছুর মূলে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. অসিত কুমার বড়ুয়া জানান, ‘যারা স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের মধ্যে ৪৮ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপের রোগী। আর অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।’

উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ২০১৮ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এনসিডি কর্নার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ‘উচ্চ রক্তচাপ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং ফলোআপ’ কার্যক্রম চলছে। সারা দেশে এই এনসিডি কর্নারের সংখ্যা দুই শতে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তফা জামান জানান, উচ্চ রক্তচাপ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যে গাইডলাইন রয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ মোকাবিলা করা সম্ভব।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘উচ্চ রক্তচাপের কোনো লক্ষণ সেভাবে কেউ খেয়াল করে না। হয়তো অন্য কারণে চিকিৎসকের কাছে এসে বা অন্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর বোঝা যায় তিনি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত।’

দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৩ কোটির মতো রোগী রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে এটা যে কোনো বয়সেই এখন হতে পারে। বিশেষ করে তরুণ বয়সের রোগী তো ঊর্ধ্বগতিতে বাড়ছে।’

তিনি জানান, দেশে যে প্রায় ৩ কোটি রোগী রয়েছেন তাদের মধ্যে ৫২ শতাংশই জানেন না তারা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। যারা জানেন তাদের মধ্যে আবার ৬৫ শতাংশ চিকিৎসা নেন না, আর যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের মধ্যে ১০০ জনের মধ্যে ১৪ জনের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অর্থ্যাৎ ৮৬ জনের রক্তচাপই অনিয়ন্ত্রিত। আর যারা জানেন, তারাও ঠিকমতো চিকিৎসা নেন না, মাঝপথে থামিয়ে দিচ্ছেন।

মাঝপথে চিকিৎসা কেন থামিয়ে দিচ্ছেন রোগীরা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে মানুষের মনে ভুল ধারণা রয়েছে যে, একবার এর ওষুধ খাওয়া শুরু করলে সারা জীবন খেতে হয়। যার কারণে রোগীরা চিকিৎসকের কাছে আসতে চান না। আবার আসার পর যখন ওষুধ দেয়া হয়, তখন সেটা তারা কন্টিনিউ করেন না। এখানে ওষুধের দাম এবং রুটিন মেনে খাওয়াটাও একটি বড় বিষয়।’

কেবল নিম্ন বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত নয়, অনেক উচ্চবিত্তরাও মাঝপথে ওষুধ থামিয়ে দেন। তখন ফের সেটা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। বিশেষ করে গ্রামে যখন উপজেলা পর্যায় থেকে ওষুধ দেয়া হয়, এরপর তারা আর আসেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূরত্ব, অনেক সময় ওষুধ না পাওয়া—এসব কারণে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। আর এসব কারণেই নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়।’

অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপুন, নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং দীর্ঘজীবী হোন’। এর প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিটি মানুষকে নিজের রক্তচাপ মাপতে হবে, ভালো মেশিন দিয়ে মাপতে হবে এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।


জ্বরের প্রথম দিনেই ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

ফাইল ছবি
আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৩ ২০:৩৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

সাধারণত দেশে জুন মাস থেকেই ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়, কিন্তু এবার মে মাসেই সর্বাধিক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ অবস্থায় জ্বর হলেই দ্রুত এনএস-১ পরীক্ষা এবং বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, জ্বর হলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডেঙ্গু আক্রান্তের প্লাটিলেটের প্রয়োজন হয় না।

শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত ‘চেঞ্জিং প্যাটার্ন অফ ডেঙ্গু সিনড্রম’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগ প্রতিরোধে এডিস মশার নিধন, ডেঙ্গুজ্বরের চিকিৎসার ক্ষেত্রে গাইডলাইন অনুসরণের পাশাপাশি রোগ ও রোগীর অবস্থাভেদে চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের ডেঙ্গু চিকিৎসার জাতীয় নীতিমালার প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক ডা. কাজী তারিকুল ইসলাম। সেমিনার শেষে কেবিন ব্লকের সাধারণ জরুরি বিভাগে ডেঙ্গু কর্নার উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রথম প্রাদুর্ভাব শুরু হয় ২০০০ সালে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গ ছিল জ্বর, কাশি, র‌্যাশ হওয়া, মাথা ব্যাথা হওয়া। কিন্তু ২০২১ সালের পর ডেঙ্গুর উপসর্গ পরিবর্তন হয়। তখন ডেঙ্গুতে নতুন উপসর্গ পেটে ব্যাথা পাতলা পায়খানায় পরিবর্তন হয়। এটি এখনো চলমান রয়েছে। সেখানে আরও বলা হয় ২০২২ সালে সর্বমোট আক্রান্ত হন ৬১ হাজার ৭৬৩ জন এবং ২৮১ জন মারা যান, যা অতীতের তুলনায় সর্বাধিক। ২০২৩ সালে ২ জুন পর্যন্ত আক্রান্ত ১৭৯৩ জন এবং মারা যান ১৩ জন। ২০২৩ সালে জানুয়ারিতে ৫৫৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬ জন, মার্চে ১১১ জন ও মে মাসে ৭৮৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ডা. কাজী তারিকুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু জ্বর ধরা পড়লে পর্যাপ্ত পানি জাতীয় খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। অযাচিত অ্যান্টিবায়োটিক সেবন থেকে বিরত থাকবেন। এসময়ে অ্যাসপিরিন জাতীয় ও ব্যাথার ওষুধ বন্ধ রাখতে হবে। বমি, পাতলা পায়খানা, পেট ব্যাথা, শাসকষ্ট, শরীরে কোথাও রক্তপাত হলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

তিনি বলেন, চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্লাটিলেট অথবা রক্ত দেয়ার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রক্ত দেয়ার প্রয়োজন নাই। ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে প্রতিরোধই উত্তম। সেজন্যে মশারি ব্যবহার, বাচ্চাদের ফুল হাতা জামা পরানো, বাড়ির আশেপাশে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য সাধারণ জনগণের সচেতন হতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘একটি গান আছে, ডোরাকাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়, সাদা সাদা ফোটা দেখে এডিস মশা চেনা যায়। এই মশা চিনতে হবে। এই মশাই ডেঙ্গুর জন্য দায়ী। নতুন বিল্ডিং তৈরি করার সময়, উন্নয়নমূলক কাজ করার সময় এবং বৃষ্টির পরে ছাদে পানি জমে থাকে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে দায়ীদের জরিমানা করা যেতে পারে। বাড়ির পেছন পরিষ্কার রাখতে হবে। খালি পাত্র থাকলে তা উল্টো করে রাখতে হবে যাতে করে পাত্রের ভেতরে পানি জমে না যায়। শরীরে ফুল হাতার শার্ট ও পায়ে মোজার ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ডেঙ্গু হয়েছে কিনা তা জানতে জ্বর হলে শুরুতেই এনএস ওয়ান টেস্টটি করে নিতে হবে এবং জ্বর হলেই এ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। ফলমূলসহ পানি জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। ডেঙ্গু প্রথমবার হলে মৃত্যু হার কম কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার হলে মৃত্যুহার বেশি। যারা ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছেন তাদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, ইমিরেটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, জ্বর হলে প্রয়োজন ছাড়া অযথা বাড়তি টেস্ট এবং বার বার টেস্ট না দেয়া হয়। ডেঙ্গু জ্বরের কারণে প্লাটিলেট কমে গেলেই রক্ত দিতে এ হবে এই ধারণা ভুল। আবার রক্ত দেয়া যাবেই না এটাও ঠিক না। রোগীর অবস্থা বুঝে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত রোগীকে কি কি চিকিৎসা দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ডেঙ্গু ও কোভিডে একই ধরনের উপসর্গ অর্থ্যাৎ জ্বর, সর্দি, কাশির লক্ষণ দেখা যায়। তাই জ্বর হলে দুটোর জন্যই পরীক্ষা করাতে হবে। বর্তমানে পানিবাহিত রোগ টাইফয়েড আক্রান্ত রোগীও অনেক পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য জ্বর হলেই প্রথম দিনেই এনএস ওয়ান টেস্টটি করাতে হবে। শরুতে রোগ চিহ্নিত না হলে রোগীর অবস্থার অবনিত হলে রোগীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।

সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. টিটু মিঞা, অধ্যাপক ডা. এমএ জলিল চৌধুরী, বিএসএমএমইউর ইন্টারন্যাশনাল মেডিসিন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ আরাফাত, ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেছা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাসারসহ অন্যরা।

বিষয়:

ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিরাময়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বাড়ানোর আশা

ক্যান্সার সার্ভাইবার দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

জীবন আসলে কতটা অনিশ্চিত হতে পারে, তা ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীরা বলতে পারেন। ক্যান্সার রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসা দুটোই সম্ভব। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বের বিষয় জড়িত। ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিরাময়ে রাষ্ট্রের উদ্যোগ বাড়ানো উচিত।

শনিবার বিকেলে ক্যান্সার সার্ভাইবার দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

ক্যান্সার কমিউনিটি, বাংলাদেশ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সর্বমোট ১০জন ক্যান্সার সার্ভাইবারকে সম্মাননা দেয়া হয়। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন— উদ্যোক্তা ও প্রশিক্ষিক ড. রুবিনা হক, আইনজীবী ও ক্যান্সার সংগঠক দেবাহুতি চক্রবর্তী, গৃহিনী ও ক্যান্সার সংগঠক তাহমিনা গাফফার, চিকিৎসক মো. সালেহ উদ্দিন মাহমুদ তুষার, ব্যবসায়ী খুজিস্তা নূর ই নাহারিন মুন্নি, অনুবাদক ও লেখক অদিতি ফাল্গুনী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিক্ষক রফিকুল আনোয়ার রাসেল, শিক্ষক ড. জেসমিন পারভিন সীমা, সরকারি চাকরিজীবী ও ক্যান্সার সংগঠক নূর-এ-শাফী আহনাফ এবং ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান অ্যান্ড নিউট্রিশনিস্ট আনিকা তাহিসীন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘যারা ক্যান্সার রোগ থেকে সার্ভাইব করেছেন, তারা যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। আপনাদের কষ্ট অন্যদের বোঝানো যাবে না। আগে একসময় এই রোগে মৃত্যু অবধারিত ভাবা হতো। সেটা এখন কমেছে। তবে এখনও ব্যয়বহুল রয়ে গেছে। ৩২ বছর আগে আমার স্ত্রী এই রোগে মৃত্যুবরণ করছেন। তবে ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা এতদিনে অনেক উন্নতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী’র সময় চিকিৎসাব্যবস্থা অনেক পিছিয়ে ছিলো। ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পরদিনই পিজি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলো। কিন্তু চার সপ্তাহ পর অপারেশনের সিরিয়াল পেয়েছিলাম। ক্যান্সারের ক্ষেত্রে যেমন কেয়ার দরকার; ঠিক তেমনই কমিউনিটিটাও দরকার। কেবল পরিবার নয়; পুরো সমাজ যেন এই বিষয়টি জানে, সে দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করব, ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিরাময়ের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগটা বাড়বে।’

বাংলাদেশে ক্যান্সার চিকিৎসায় প্যালিয়েটিভ কেয়ারের প্রতিকৃত অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ জীবন যাপন করি। উপভোগ করতে পারি না। ক্যান্সার কেয়ার কমিউনিটির মতো যারা এভাবে কাজ করে জীবনকে উদযাপন করছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমরা কেউই তো বিশাল কিছু করতে পারি না। ছোটো কাজগুলো মন দিয়ে, প্যাশন দিয়ে করতে পারছি কি না- সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘ক্যান্সার হলো শ দুয়েক রোগের সমাহার। সবগুলোকে মিলিয়ে নাম দেয়া হয়েছে ক্যান্সার। এর মধ্যে কিছু আছে অল্প চিকিৎসা পেলেই ভালো হয়ে যায়, কিছু আছে পাঁচ বছরে, কিছু আছে প্রথাগত চিকিৎসায় ভালো হয় না। আমরা অদ্ভুত এক অন্ধকার জায়গায় বসবাস করি। আমরা আরোগ্য লাভের কথা বলি। কিন্তু আরোগ্য হয় না, সে ব্যাপারে বলি না। আমার মতো অধ্যাপকরাও এখনও অসত্য-অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করি—‘আর কিছু করার নেই, বাড়ি নিয়ে যান’। এটি করার কোনো নৈতিক, ধর্মীয়, আইনগত কোনো অধিকার নেই। এ সময় তিনি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের এ ধরনের কথা না বলার আহ্বান জানান।

মেডিকেল সায়েন্সকে সোশ্যাল সায়েন্সের সঙ্গে মিলিয়ে মানবিকতাকে রক্ষা করতে বলেন অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

ক্যান্সার কেয়ার কমিউনিটি বাংলাদেশের উপদেষ্টা অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসিকিন বলেন, জীবন আসলে কতটা অনিশ্চিত হতে পারে, তার প্রমাণ এখানে উপস্থিত যোদ্ধারা। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমি আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। আমরা এখনও মানুষ আক্রান্ত হবে, চিকিৎসা নিতে আসবে— এইপর্যায়ে আছি! কিন্তু পৃথিবী অনেকদূর চলে গেছে। ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা দেয়ার সেবা থেকে শুরু হয় ক্যান্সার সেবা। শুধু আক্রান্ত হলেই যে চিকিৎসা দেয়া হবে— এভাবে চলে না। সবার আগে দরকার ‘প্যাশেন্টস ভয়েস’ দরকার। সবার আগে ক্যান্সার কন্ট্রোল স্ট্র‍্যাটেজি হোক। একটি অ্যাকশন প্ল্যান।


একদিনে হাসপাতালে বছরের সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১৪১ জন। চলতি বছর একদিনে এত রোগী এর আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শনিবার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (২ জুন সকাল ৮টা থেকে ৩ জুন সকাল ৮টা) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপতালে ভর্তি হয়েছে ১৪১ জন। গত ১ জুন একদিনে ১১২ জন রোগী ভর্তির তথ্য দিয়েছিল অধিদপ্তর।

রেকর্ড সংখ্যাক রোগী গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হলেও এ সময়ে কারও মৃত্যু হয়নি। ঢাকার ভেতরে ভর্তি হয়েছেন ১২৮ জন আর ঢাকার বাইরে ১৩ জন।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩৯৭ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ৩৪৫ জন আর ঢাকার বাইরে ৫২ জন।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে দুই হাজার ২৭৯ জন আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক হাজার ৮৬৯ জন। চলতি বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৫৬৬ জন। তাদের মধ্যে মারা যান ৬ জন। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬ জন ভর্তি হয়, মৃত্যু হয় তিনজনের। মার্চে কারও মৃত্যু না হলেও হাসপাতালে ভর্তি হয় ১১১ জন। এপ্রিলে ভর্তি হয় ১৪৩ জন আর মৃত্যু হয় দুজনের। চলতি মাসে ডেঙ্গুতে মারা যান দুজন। গত মে মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৬ জন আর চলতি মাসের প্রথম দুইদিনে কারও মৃত্যু না হলেও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৫৭ জন।

বাংলাদেশে ২০০০ সালে প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয় দেশে। সে বছরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন আর মৃত্যু হয় ১৭৯ জনের।

২০২০ সালে শুরু হয় করোনা, কমে আসে ডেঙ্গুর প্রকোপ। রোগী শনাক্ত হয় ১ হাজার ৪০৫ জন। তাদের মধ্যে মারা যান সাতজন। এ ছাড়া ২০২১ সালে শনাক্ত হয় ২৮ হাজার ৪২৯ জন, মৃত্যু হয় ১০৫ জনের। ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন মোট ৬২ হাজার। মারা যান ২৮১ জন।

বিষয়:

করোনা ভাইরাস: দৈনিক শনাক্তের হার ফের ৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির ধারাবাহিকতায় দৈনিক রোগী শনাক্তের হার ফের ৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। তবে এ সময়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শনিবার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (২ জুন সকাল ৮টা থেকে ৩ জুন সকাল ৮টা) করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক হাজার ৬৪টি। আর তাতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৫ জন। এ সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি, তবে আগের দিন (২ জুন) দুইজনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এই মৃত্যু হয় টানা ৬৫ দিন পর। এর আগে গত ২৮ মার্চে একজনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৮ জন। তাদের নিয়ে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠলেন মোট ২০ লাখ ছয় হাজার ৩৩১ জন। আর এখন পর্যন্ত সরকারি হিসেবে শনাক্ত হলেন ২০ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭১ জন।

সরকারি হিসাব বলছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৪৪৮ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৬ দশমিক ১১ শতাংশ। দেশে এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশকি ৪৪ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৬৫ জন শনাক্ত হয়েছে তারা সবাই ঢাকা মহানগরের।

করোনার বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের’ তাণ্ডবে দেশে গত বছরের ২৮ জুলাই রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩০ জন রোগী শনাক্ত হন। আর ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যুর খবর দেয়া হয়।


দুই মাস পর করোনায় ২ জনের মৃত্যু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশে দুই মাস পর করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৮৯ জন। শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত দুজনের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী। মৃত দুজন ঢাকা বিভাগের সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন। তাদের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। এর আগে গত ২৮ মার্চ সর্বশেষ করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছিল।

এতে বলা হয়, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জন সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ২০ লাখ ৬ হাজার ৩১৩ জন। সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮৮৫টি ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১ হাজার ৫০৯টি এবং মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ৫১৫টি।


টানা ৬৫ দিন করোনায় মৃত্যুহীন দেশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জুন, ২০২৩ ২০:২৩
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

গত তিনদিন গড়ে করোনায় আক্রান্ত রোগী সংখ্যা ১০০ এর উপরে ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় তা কমে এসেছে। সেই সঙ্গে টানা ৬৫ দিন করোনায় দেশে কারও মৃত্যু হয়নি। করোনার নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ এর বেশি। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ হাজার ১৬৮টি। রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭০ জন। তাদের নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৩৯ হাজার ৪১৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। সবশেষ চলতি বছরের ২৮ মার্চ একজনের মৃত্যু হয়েছিল। সে হিসেবে দেশে গত ৬৫ দিন করোনায় কেউ মারা যায়নি। সবমিলে এখন পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৯ হাজার ৪৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২০ লাখ ৬ হাজার ৩০১ জন।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিন রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। এর ঠিক ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম রোগীর মৃত্যুর কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি। করোনার বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডবে দেশে ২০২২ সালের ২৮ জুলাই রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩০ জন রোগী শনাক্ত হন। আর ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যুর খবর দেয়া হয়। যা দেশে মহামারিতে একদিনে সর্বোচ্চ।


স্বাস্থ্যের বাজেট ৫.৪ থেকে নেমে এলো ৫ শতাংশে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ খাতে ৩৮ হাজার ৫২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৬ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে নতুন অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণে এক হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদায়ী বাজেটের তুলনায় এবারে বেড়েছে তিন দশমিক ২২ শতাংশ। তবে মোট বাজেটে খাতওয়ারি বরাদ্দের নিরিখে এবার স্বাস্থ্যে ব্যয় কমেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ প্রস্তাব করেন। এবারে মোট বাজেটের আকার ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, গতবার যা ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।

স্বাস্থ্যখাতে কম বরাদ্দের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, এবারে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে বরাদ্দ বেড়েছে। কিন্তু গত বছরে মোট বাজেটের বিপরীতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, এবারে সেটা হয়েছে ৫ শতাংশে। অর্থাৎ মোট বাজেটের নিরিখে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

অধ্যাপক আবদুল হামিদ বলেন, গত বছরের তুলনায় উন্নয়ন ব্যয় ১৭ শতাংশ কম প্রস্তাব করা হয়েছে এবং আগামী বাজেটে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে জন্য নতুন কোনো দিকনির্দেশনা আসেনি। এবারের বাজেটে ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা আরও সুলভ করার জন্য ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের আরও কিছু বিদ্যমান ওষুধের কাঁচামাল সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আইভি ক্যানুলা উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপাদান সিলিকন টিউব। তাই রেয়াতি সুবিধায় এই পণ্যটির আমদানির সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ডায়াবেটিক ব্যবস্থাপনার ওষুধ উৎপাদনে বিশেষ কিছু কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টগুলো অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।


করোনার আরেক ঢেউ আসতে পারে জুলাইয়ে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জুন, ২০২৩ ১৯:২০
জাকিয়া আহমেদ

গত ৫ মে করোনাভাইরাসের কারণে জারি করা বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। করোনা নিয়ে ডব্লিউএইচও তাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা জারির তিন বছরের মাথায় এসে এ ঘোষণা দেয়। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস আরও বলেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা তুলে নেয়ার মানে এই নয় যে বিপদ কেটে গেছে। পরিস্থিতি বদলে গেলে আবার জরুরি অবস্থা জারি করা হতে পারে।

সে দিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতি কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক মাইক রায়ান বলেছেন, জরুরি অবস্থা হয়তো শেষ হয়েছে। কিন্তু ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো মনে করছি, ভাইরাসটি সংক্রমণ ছড়াতেই থাকবে। এটাই মহামারির ইতিহাস।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সে কথাকে সত্যি করে করোনা তার সংক্রমণ বাড়িয়ে চলেছে। গত ৬৪ দিন ধরে করোনায় মৃত্যু না হলেও করোনাতে দৈনিক রোগী সংখ্যা ও নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার বাড়ছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগও জানিয়েছে, নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী সংখ্যা বাড়ছে। তারা বলছেন, যদি মানুষ আরও টেস্ট করাতে আসত, তাহলে আরও রোগী পাওয়া যেত।

দেশে গত টানা তিন দিন ধরে করোনাতে রোগী শনাক্ত ১০০-এর বেশি। গত ২৮ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৭৩ জন, যা ছিল আগের ২৯ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত রোগী। সে দিন রোগী শনাক্তের হার ছিল ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর তার পর দিন থেকে টানা তৃতীয় দিনের মতো শনাক্ত হচ্ছেন ১০০-এর বেশি রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানাচ্ছে, গত ২৯ মে শনাক্ত হন ১৫৯ জন। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ২৬ অক্টোবর এক দিনে ১৯৬ জন শনাক্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল অধিদপ্তর। সে হিসাবে গত সাত মাসের মধ্যে সে দিন সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হন; শনাক্তের হার ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ, ৩০ মে রোগী শনাক্ত হন ১১৪ জন; শনাক্তের হার ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। ৩১ শনাক্ত হয় ১০৩ জন; শনাক্তের হার ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

এদিকে রোগী বাড়ার কারণে দুশ্চিন্তা বেড়েছে জনস্বাস্থ্যবিদদের। সেই সঙ্গে চীনের অবস্থা একে আরও নাজুক অবস্থায় ফেলতে পারে বলে জানাচ্ছেন তারা।

প্রসঙ্গত, আগামী মাসে (জুন) করোনা সংক্রমণ তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে চীনা কর্তৃপক্ষ। করোনার নতুন ভেরিয়েন্টের নতুন উপধরন ‘এক্সবিবি’ শক্তিশালী হয়ে ওঠায় নতুন ভ্যাকসিন তৈরিতে তাড়াহুড়ো করছে চীন সরকার। বলা হচ্ছে, জুনের প্রতি সপ্তাহে চীনে সাড়ে ৬ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। বেইজিং সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মতে, নতুন ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমণের হার গত মাস থেকে বেশি। এপ্রিলের শেষ দুই সপ্তাহে প্রচলিত সংক্রামক রোগ হিসেবে ফ্লুকে ছাড়িয়ে গেছে করোনা।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘জুন, জুলাই, আগস্টে রোগী আরও বাড়বে…পিক টাইম। জুলাই নাগাদ একটি ঢেউ আসবে।’

‘এক্সবিবি’ চীনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ভারতেও পাওয়া গেছে রোগী। এর প্রভাব পড়বে দেশে। তবে স্বস্তির বিষয় রোগীর অবস্থা ততটা গুরুতর হবে না মন্তব্য করে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, যদিও যারা বয়স্ক, বিভিন্ন ক্রনিক রোগে আক্রান্ত, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের জন্য অবশ্যই এটা সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ। তারা তো বটেই, তাদের পরিবারের মানুষকেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। সেই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে বিশেষ সতকর্তা নিতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোগী বাড়ছে। সবচেয়ে বড় কথা, নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার কিন্তু অনেক। ফের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সময় এসেছে। মানুষ ভুলেই গেছে করোনার সময়ের কথা। রোগী আরও বাড়বে। এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে।


ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১১২ জন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জুন, ২০২৩ ১৯:০৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১২ জন। হাসপাতালে আগের দিনের তুলনায় রোগী বেড়েছে ১৭ জন। তবে এই সময়ে আক্রান্ত কেউ মারা যায়নি। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় (৩১ মে সকাল ৮টা থেকে ১ জুন সকাল ৮টা) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১২ জন, তার আগের দিন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৯৫ জন। ভর্তি হওয়া ১১২ জনের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৯ জন আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ জন।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন ৩৩৬ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৫৩টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ২৯৩ জন আর অন্যান্য বিভাগের হাসপাতালে রয়েছেন ৪৩ জন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ১৩৪ জন আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৭৮৫ জন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। সবমিলে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৫৬৬ জন। তাদের মধ্যে মারা যান ৬জন। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬ জন ভর্তি হয়, মৃত্যু হয় তিনজনের। মার্চে কারও মৃত্যু না হলেও হাসপাতালে ভর্তি হয় ১১১ জন। এপ্রিলে ভর্তি হয় ১৪৩ জন আর মৃত্যু হয় দুজনের। চলতি মাসে ডেঙ্গুতে মারা যান দুজন। গত মে মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৬ জন।

বাংলাদেশে ২০০০ সালে প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয় দেশে। সে বছরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন আর মৃত্যু হয় ১৭৯ জনের। ২০২০ সালে শুরু হয় করোনা, কমে আসে ডেঙ্গুর প্রকোপ। রোগী শনাক্ত হয় ১ হাজার ৪০৫ জন। তাদের মধ্যে মারা যান সাতজন। এ ছাড়া ২০২১ সালে শনাক্ত হয় ২৮ হাজার ৪২৯ জন, মৃত্যু হয় ১০৫ জনের। ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন মোট ৬২ হাজার। মারা যান ২৮১ জন।

বিষয়:

স্বাস্থ্যে বরাদ্দ বাড়ল ১২ শ কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ খাতে ৩৮ হাজার ৫২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৬ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে নতুন অর্থবছরে এ খাতে এক হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ প্রস্তাব করেন।

বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টগুলো অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। প্রতিরোধযোগ্য রোগগুলো থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতে চলমান রাখা হয়েছে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)। ১৯৮৫ সালে ইপিআই কভারেজ ছিল মাত্র ২ শতাংশ, যা বর্তমানে ৯৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ১০৬টি উপজেলায় মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার (এমএইচভি) কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচির (এসএসকে) আওতায় টাঙ্গাইল জেলার ১১টি উপজেলায় আন্তঃবিভাগীয় রোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি বেনিফিট প্যাকেজের অধীনে ৭৮টি নির্ধারিত রোগের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, গ্রামীণ জনগণের কাছে সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর কার্যকর মাধ্যম হিসেবে আমরা এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৩৮৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছি। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সরকার ও জনগণের সম্মিলিত অংশীদারত্বে পরিচালিত হয়। ক্লিনিকের জন্য জমি প্রদানের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনায়ও ভূমিকা রাখেন। ক্লিনিক পরিচালনা ও ওষুধ-চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যয় নির্বাহের দায়িত্ব সরকারের। ক্লিনিকে মা, নবজাতক ও অসুস্থ শিশুর সমন্বিত সেবা (আইএমসিআই), প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা, সাধারণ আঘাতের চিকিৎসা ছাড়াও পুষ্টিসেবা প্রদান করা হয়। এছাড়া, ক্লিনিকে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগ শনাক্ত করা হয়। বয়স্ক, কিশোর-কিশোরী ও প্রতিবন্ধীদের লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা ও পরামর্শ দেয়া হয়। ক্লিনিক থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ছাড়াও শিশুদের অনুপুষ্টিকণার প্যাকেট দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনা পয়সায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিন প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে দৈনিক গড়ে ৪০ জন সেবাপ্রার্থী সেবা গ্রহণ করে থাকেন, যার ৮০ শতাংশই নারী ও শিশু। সারা দেশে প্রায় ৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাভাবিক প্রসবসেবা দেয়া হয়।


পটাশিয়াম এক জাদুকরী উপাদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আলমগীর আলম

মানুষের প্রতিদিন যে পুষ্টির চাহিদা থাকে তার মধ্যে ভিটামিন মিনারেল অ্যামিনিউ অ্যাসিড, তার সঙ্গে প্রোটিন ও পানি যেমন প্রয়োজন হয়, তেমনি আমাদের শরীরে প্রতিদিনের প্রয়োজন হয় পটাশিয়াম নামে এক যৌগের। খেয়াল করে দেখবেন, আমাদের শরীরে সবকিছুই ব্যালেন্স করে রাখতে হয়, কমবেশি হলেই বিপদে পড়তে হবে। তাই কোনোটাই অতিরিক্ত হবে না, কোনোটাই ঘাটতি রাখা যাবে না।

শরীরের জন্য পটাশিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ইলেকট্রোলাইট উপাদান। এটি আমাদের স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখতে, স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতা সঠিক রাখতে এবং কোষে পুষ্টি পরিবহন করতে সহায়তা করে। পটাশিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা যেমন- মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড়সহ আরও অনেক রকম জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। একজন সুস্থ ব্যক্তির মধ্যে ৪৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকা উচিত। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই খাবারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম পায় না।

পটাশিয়ামের কাজ: রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী, কোষের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য অত্যাবশ্যক, রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে, স্বাস্থ্যকর স্নায়ুতন্ত্র এবং হার্টের ছন্দের জন্য অত্যাবশ্যক, স্ট্রোক প্রতিরোধ করে, পেশি সংকোচনে সহায়তা করে এবং শরীরে পানির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে সোডিয়ামের সঙ্গে কাজ করে।

শরীরে পটাশিয়াম বেশি হলে: শরীরের মধ্যে পটাশিয়ামের উচ্চমাত্রা মোটেও নিরাপদ নয়, যা শরীরে সংবেদন ব্যথা, শরীরে জ্বালা-পোড়াভাব, অসাড় বা অবশভাব, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, রক্তচাপ কমে যাওয়া, অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের কারণ হতে পারে, যা কিনা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুরও কারণ হতে পারে। কিডনিজণিত রোগীদের পটাশিয়াম খুব সাবধানে খেতে হয়, উচ্চ পটাশিয়াম খাবার একদম মানা।

পটাশিয়াম কম হলে: পটাসিয়াম কম হলে হার্টের ছন্দে অস্বাভাবিকতায় মারাও যেতে পারেন। এ ছাড়া এটি আপনাকে হালকা মাথা বা অজ্ঞান করে দিতে পারে।

কোথায় পাবেন পটাশিয়াম

কলা: কলা সবচেয়ে আদর্শ খাবার, এতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে। বলা হয়ে থাকে যে, প্রত্যেক দিন একটি করে কলা খেলে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আলু ও মিষ্টি আলু: পটাশিয়ামের ঘাটতি মেটাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে মিষ্টি আলু। একটি মাঝারি আকৃতির মিষ্টি আলুতে ৫৪১ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম থাকতে পারে।

পালং শাক: পালং শাক সবচেয়ে পুষ্টিগুণসম্পন্ন সবুজ শাকের মধ্যে একটি। পালং শাকে রয়েছে বিপুল পরিমাণে পটাশিয়ামসহ প্রচুর পরিমাণ পানি ও ফাইবার। এ ছাড়া পালং শাকে রয়েছে ভিটামিন-এ, সি এবং কে।

ডাবের পানি: ডাবের পানি হচ্ছে অনেক উপকারী একটি হাইড্রেটিং পানীয়, যা আপনার পটাশিয়ামের ঘাটতি মেটাতেও অনেক কার্যকরী। এক কাপ বা ২৪০ মিলি ডাবের পানিতেও আপনি পেতে পারেন প্রায় ৬০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম।

এ ছাড়া উচ্চ পটাশিয়ামসমৃদ্ধ আরও দুটি ফল হলো তরমুজ ও ডালিম। ডালিমে রয়েছে ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন- সি, ভিটামিন-কে এবং ফোলাট (ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন বি ৯ এর একটি সংমিশ্রণ) একটি মাঝারি আকৃতির ফলে প্রায় ৬৬৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পেতে পারেন। এ ছাড়া ডালিম প্রদাহজনিত সমস্যার বিরুদ্ধে লড়তে শরীরকে সাহায্য করে। এ ছাড়া এক কাপ বা ১৭০ গ্রাম সিদ্ধ বিট রুটে আপনার শরীর পেতে পারে প্রায় ৫১৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম।

লেখক: খাদ্য পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ। প্রধান নির্বাহী, প্রাকৃতিক নিরাময়কেন্দ্র।


টানা তৃতীয় দিনের মতো শনাক্ত শতাধিক রোগী

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে এক শ’র বেশি রোগী। তবে আগের দিনের চাইতে রোগী সংখ্যা কমেছে। আর এ সময়ে কারও মৃত্যু হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বুধবার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (৩০ মে সকাল ৮টা থেকে ৩১ মে সকাল ৮টা) করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১০৩ জন। আগের দিন (৩০ মে) ১১৪ জন, আর তার আগের দিন (২৯ মে) শনাক্ত হন ১৫৯ জন। সে হিসাবে টানা তৃতীয় দিনের মতো দেশে করোনায় শতাধিক রোগী শনাক্ত হলেন।

তবে ভাইরাসটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় কারও মৃত্যু হয়নি। এর আগে গত ২৮ মার্চে একজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল অধিদপ্তর। সে হিসাবে গত ৬৪ দিন ধরে করোনা মৃত্যুহীন রয়েছে দেশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক হাজার ৭৯৮টি, তাতে রোগী রোগী শনাক্তের হার ৬ দশমিক ৩ শতাংশ, আগের দিন যা ছিল ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ।

অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া ১০৩ জনকে নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনাতে শনাক্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৩৯ হাজার ৩৪৭ জন, আর এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৪৪৬ জনের। দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২০ লাখ ছয় হাজার ২৬৭ জন।

নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে দেশে রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২২ শতাংশ, শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

গত একদিনে শনাক্ত হওয়া ১০৩ জনের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর রয়েছেন ৯৭ জন। বাকিদের মধ্যে মাদারীপুর, নরসিংদীতে একজন করে আর চট্টগ্রাম ও সিলেটে শনাক্ত হয়েছেন দুইজন করে।

দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিন রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। এর ঠিক ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম রোগীর মৃত্যুর কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

করোনার বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডবে দেশে ২০২২ সালের ২৮ জুলাই রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩০ জন রোগী শনাক্ত হন। আর ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যুর খবর দেয়া হয়। যা দেশে মহামারিতে একদিনে সর্বোচ্চ।


ডেঙ্গুতে ৫ মাসে হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ছাড়াল

আপডেটেড ৩১ মে, ২০২৩ ১৬:০৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯৫ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সব রেকর্ড ভেঙে ২ হাজারর বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি মাসে ১ হাজার জন ভর্তি হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

বুধবার অধিদপ্তরের দেয়া বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (৩০ মে সকাল ৮টা থেকে ৩১ মে সকাল ৮টা) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৫ জন। আগের দিন মঙ্গলবার ভর্তি হয়ে ছিলেন ৮৪ জন। তবে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ৯৫ জনের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ৮২ জন আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ জন। বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ভর্তি রয়েছে ২৮৩ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ২৪২ জন আর অন্যান্য বিভাগের হাসপাতালে ৪১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে দুই হাজার ২২ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক হাজার ৭২৬ জন। তবে এ সময়ের মধ্যে মারা গেছেন ১৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৫৬৬ জন। তাদের মধ্যে মারা যান ছয়জন। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬ জন ভর্তি হয়, মৃত্যু হয় তিনজনের। মার্চে কারও মৃত্যু না হলেও হাসপাতালে ভর্তি হয় ১১১ জন। এপ্রিলে ভর্তি হয় ১৪৩ জন আর মৃত্যু হয় দুজনের। চলতি মাসে মৃত্যু হয়েছে দুজনের আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩৬ জন।

দেশে ২০০০ সালে প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয় দেশে। সে বছরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল এক লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন আর মৃত্যু হয় ১৭৯ জনের। ২০২০ সালে শুরু হয় করোনা, ওই বছরে কমে আসে ডেঙ্গুর প্রকোপ। রোগী শনাক্ত হয় এক হাজার ৪০৫ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয় সাতজনের। এ ছাড়া ২০২১ সালে শনাক্ত হয় ২৮ হাজার ৪২৯ জন, মৃত্যু হয় ১০৫ জনের, আর গত বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শনাক্ত হয় মোট ৬২ হাজার এবং ২৮১ জন মারা যান।

বিষয়:

banner close