আশঙ্কাজনকহারে ঢাকাসহ সারাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ সংক্রমণ হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, এখনো পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি বা জনস্বাস্থ্যবিষয়ক জরুরি অবস্থা ঘোষণার সময় আসেনি। তবে দেশে ডেঙ্গু রোগী আরও বাড়লে সংকটে পড়তে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ডিজি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক খুরশীদ আলম বলেন, ‘ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গুরোগী ভর্তি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মুগদা হাসপাতালে ডেঙ্গুরোগীদের জন্য শয্যা সংখ্যা ৫০০টি। কিন্তু সেখানে রোগী ভর্তি আছেন ৬০০ জনের মতো। বোঝাই যাচ্ছে, শয্যা না পাওয়া ডেঙ্গুরোগীরা কীভাবে সেখানে আছেন! আমরা অতিরিক্ত কিছু শয্যার ব্যবস্থা সেখানে করেছি। সে অনুযায়ী যথাসাধ্য চিকিৎসাসেবা দিতে চেষ্টা করছি।’
‘মুগদায় নার্স বাড়ানো হচ্ছে, আরও বাড়ানোর জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। অন্য সরকারি হাসপাতাল এখনো খালি আছে, কিন্তু রোগী সেসব হাসপাতালে কম যাচ্ছে। সেজন্য মুগদায় চাপ পড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মুগদা হাসপাতালের আশপাশের জোনগুলো যেমন শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, কদমতলী, বাসাবো, মুগদা থেকে শুরু করে রামপুরা পর্যন্ত পুরো এলাকাতেই ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বেশি। এসব রোগীদের বেশিরভাগই মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরা চেষ্টা করেছিলাম সেখান থেকে কিছু রোগী অন্যত্র সরিয়ে নিতে। কিন্তু রোগীরা রাজি হননি। তারা তাদের বাসাবাড়ির কাছাকাছি থেকেই চিকিৎসা নিতে চান।’
অধ্যাপক খুরশীদ আলম বলেন, ‘আমাদের অন্য হাসপাতালগুলোতে শয্যা খালি ছিল, কিন্তু সেগুলো ধীরে ধীরে ভরে যাচ্ছে। দেশে উদ্বেগজনক হারে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। আমরা চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। সংক্রমণ বাড়তে থাকলে আমরাও সংকটে পড়ে যাব। তবে ডেঙ্গুরোগীদের চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো সংকট নেই।’
‘গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু প্রকোপের পিক (সর্বোচ্চ চূড়া) সময় ছিল। এ বছর কী হবে তা আমরা প্রেডিক্ট (আভাস) করতে পারছি না। জনস্বাস্থ্য বিশেজ্ঞরা বলছেন, এবার এটি প্রলম্বিত হতে পারে। যেহেতু বর্ষা দেরি করে এসেছে, এটি যাবেও দেরিতে।’
তিনি জানান, এ বছর ডেঙ্গু রোগী যে অনেক বাড়বে, সেটা আগেই ধারণা করেছিলেন তারা। সেজন্য সিটি করপোরেশনগুলোকে চিঠিও দেয়া হয়েছিল।
এবার বর্ষা দেরিতে শুরু হয়েছে বিধায় ডেঙ্গু মৌসুম লম্বা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোয় জনবল সংকট নিরসনে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। রাজধানীর সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। নির্দিষ্ট একটি হাসপাতালে না গিয়ে ডেঙ্গু চিকিৎসায় অন্যান্য সেসব হাসপাতালে আছে, সেখানে যাওয়ার অনুরোধ করছি।’
বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা উচিত কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে খুরশীদ আলম বলেন, ‘পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি ঘোষণা করার মত অবস্থায় আমরা মনে করি না যে এখন পর্যন্ত এসেছি। যদি প্রয়োজন হয়; এর আগে যখন কোভিড ছিল, তখন কিন্তু সেটা করা হয়েছিল, এবারও নিশ্চয়ই সেটা করা হবে।’
‘এটি কিন্তু পলিসি লেভেলে কথা হতে হবে। আমরা আমাদের কনসার্নটা পলিসি লেভেলে জানিয়েছি। এ ব্যাপারে কথা বলে আমরা আবার জানাব।”
পরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি ইস্যু করার মত যদি অবস্থা হয়… এখনো আমি মনে করি না, কারণ যখন কিছু করার মত থাকে না, আমরা বুঝি না, তখন হয়ত অনেকের সাহায্য লাগে। কিন্তু ২০০০ সাল থেকে আমাদের দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ হচ্ছে এবং ম্যানেজমেন্টের জন্য একটা স্ট্যান্ডার্ট প্রটোকল আছে।’
‘ডেঙ্গুতে যেটা সমস্যা, হাসপাতালে না। সমস্যাটা হল হাসপাতালে যখন রোগী আসে তখন রোগী আসে শকড হয়ে। শকড রোগীকে ম্যানেজ করাটা কষ্ট হয়ে যায়। আমাদের যেটা দরকার যাতে ফ্যামিলি পর্যায়ে এ পর্যায়ে রোগী না যায়।’
‘এ মুহূর্তে এটা বিয়ন্ড কন্ট্রোল বলব, বা অন্য কিছু বলব– সেরকম আমি বলছি না। তারপরও আপনাদের পরামর্শ আমরা অ্যানালাইসিস করে দেখব।’
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপটা কমানো যাচ্ছে না, আমরা এর উর্ধ্বগতিই দেখছি।” সেইসঙ্গে ডেঙ্গুতে সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ আসছে বলেও মনে করেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা।
আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ডেঙ্গুর ধরন বদলে যাচ্ছে, আমরা গবেষণা বাড়াতে বলেছি। এখনই কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি। কোন ধরনের ওষুধ কোন মাত্রায় মশা নিধনে কার্যকর তা দেখতে বলেছি। নতুন কিছু থাকলে তা নিয়ে আসতে হবে।’
এদিকে, বেসরকারি হাসপাতালগুলো যেন ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করে সেজন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিম পাঠিয়ে মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছেন সচিব। এছাড়া সব প্রাইভেট হাসপাতাল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর তথ্য না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেন তিনি।
অ্যাপোলো চিলড্রেন’স হাসপাতাল, চেন্নাই সফলভাবে তামিলনাড়ুর প্রথম Cochlear™ Nucleus® Nexa™ ইমপ্লান্ট সার্জারি সম্পন্ন করেছে। বিশ্ব শ্রবণ দিবস (৩ মার্চ) উপলক্ষে আয়োজিত এই অস্ত্রোপচারটি রাজ্যের উন্নত শ্রবণ স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ডঃ ভেঙ্কটকার্তিকেয়ন সি-এর নেতৃত্বে এই যুগান্তকারী পদ্ধতিটি সম্পন্ন হয়, যা অ্যাপোলো হাসপাতালকে ভারতে এই পরবর্তী প্রজন্মের কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট প্রযুক্তি চালু করা প্রথম সারির কেন্দ্রগুলোর মধ্যে স্থান করে দিয়েছে।
এই অগ্রগামী অস্ত্রোপচারের প্রাপক বাংলাদেশ থেকে আসা ৯ বছর বয়সী এক কন্যা শিশু। সে বিশেষভাবে এই পদ্ধতির জন্যই চেন্নাই ভ্রমণ করেছে, যা শিশু শ্রবণ সেবায় এই হাসপাতালের ক্রমবর্ধমান খ্যাতির বহিঃপ্রকাশ। শিশুটি জন্মের পর থেকেই উভয় কানে তীব্র শ্রবণশক্তিহীনতা এবং কথা বলা ও ভাষা জনিত সমস্যায় ভুগছিল।
আগামী সপ্তাহগুলোতে চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ শুরু হবে, যেখানে এক্সটার্নাল সাউন্ড প্রসেসরটি সক্রিয় এবং প্রোগ্রাম করা হবে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছে এবং অস্ত্রোপচার পরবর্তী প্রোটোকল অনুযায়ী নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
Cochlear Nucleus Nexa হলো NEXOS™ চিপসেট দ্বারা চালিত বিশ্বের প্রথম স্মার্ট কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সিস্টেম। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যার আপগ্রেড করা যায়, ফলে কোনো অতিরিক্ত অস্ত্রোপচার ছাড়াই রোগীরা আধুনিক সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারবেন। এটি ক্লাসরুম বা কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে শব্দ পরিষ্কারভাবে শুনতে এবং কথা বুঝতে সাহায্য করে।
এই মাইলফলক সম্পর্কে অ্যাপোলো চিলড্রেন’স হাসপাতালের ইএনটি ও হেড নেক রোবটিক সার্জন ডঃ ভেঙ্কটকার্তিকেয়ন সি বলেন, “শিশুদের জন্য এই স্মার্ট ও আধুনিক প্রযুক্তি তাদের কথা বলা এবং ভাষার বিকাশ, একাডেমিক পারফরম্যান্স এবং সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। আমরা আধুনিক উদ্ভাবনের সাথে সঠিক পুনর্বাসনের সমন্বয় ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিশ্চিত করি।”
অ্যাপোলো হসপিটালস চেন্নাই অঞ্চলের সিইও ডঃ ইলাঙ্কুমারন কালিয়ামুর্তি বলেন, “এই সফল অস্ত্রোপচারটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত সাফল্যই নয়, বরং বিশ্বমানের উন্নত শ্রবণ সমাধান প্রদানের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারকেও পুনর্নিশ্চিত করে। আমরা ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর শিশুদের জন্য এই অত্যাধুনিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এক সময়ের ডিসপেনসারি বর্তমানে উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র। দূর থেকে দেখলে বুঝার কোন উপায় নেই এটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র। জীর্ণ একটি টিনের ঘর চতুর্দিকে ভাঙাচোড়া। তিন কক্ষের এই ঘরটিই নাকি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র। বাইরে থেকে কোনো সাইনবোর্ড না থাকলেও বারান্দায় একটি ছোট প্যানায় লেখা রয়েছে এটি যে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র। এটি পৌর এলাকাসহ আশপাশের মানুষদের সেবার অন্যতম ভরসাস্থল। গরীব ও অসহায়দের বিনামূল্যে চিকিৎসায় একসময় সুখ্যাতি ছড়ানো উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র অবকাঠামোর দিক দিয়ে আজ চরম অবহেলিত। নেই চিকিৎসকও। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি যেন নিজেই অসুস্থ হয়ে ধুঁকছে।
এমন ভঙ্গুর দশা ও নাজেহাল চিত্র ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা সদরের বড়পুকুর পাড় সংলগ্ন প্রতিষ্ঠিত প্রাচীনতম উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের।
জানা গেছে, ১৯৬৫ সালের দিকে উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রথমে রুরাল ডিসপেনসারি হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে সেটিকে সরকার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রূপ নেয়। কাগজপত্রে এখানে ৫ জন কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার,একজন মিডওয়াইফারি, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহাকরী রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, মেডিকেল অফিসার মো. আহসানুল হক ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই থেকে জেলার ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্তিতে পাঠানো হয়। যদিও গত ২৬ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসকের সংযুক্তি বাতিল করে নিজ কর্মস্থলে যোগদিতে চিঠি দিয়েছে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন। এখানে কাগজপত্রে কর্মরত থাকা মিডওয়াইফারি লুৎফুন্নাহার ও অফিস সহায়ক রুহুল আমিন কাজ করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বাস্তবে সেবা দেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) মোস্তাফিজুর রহমান ও ফার্মাসিস্ট মো. নূরুল আমিন। জনবল না থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তা সংকট, টিনশেডের তৈরি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দরজা, জানালা, সিলিং ভাঙা, সৌচাগার নেই, পানির ব্যবস্থা না থাকায় রুগ্ন অবস্থায় চলছে কার্যক্রম।
সরেজমিনে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে গিয়ে রোগীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। এ দিন বেলা দেড়টা পর্যন্ত ৪৬ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। আগেরদিন সেবা নেন ৩২ জন। অবশ্য ২ ফেব্রুয়ারির পর স্বাস্থ্য কেন্দ্র ওষুধ সরবরাহ না থাকায় প্রায় বন্ধ ছিলো সেবা কার্যক্রমও।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে সেবা নিতে আসা অন্তত ১০ জন রোগীর সঙ্গে কথা বলে অনেকে মধ্যে সেবা নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে। মেডিকেল অফিসার না থাকায় মানুষ প্রকৃত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না এবং মিডওয়াইফারি না থাকা গর্ভকালীণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নারীরা। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য (গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী), টিকাদান, সাধারণ রোগের চিকিৎসা (জ্বর, কাশি, ডায়রিয়া) ও ওষুধ বিতরণ, এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদন করার কথা থাকলেও এখানে সাধারণ, জ্বর, কাশি ও গর্ভকালীণ মায়েরা আসলে তাদের আয়রন ও ক্যালসিয়াম ওষুধ ছাড়া আর কোনো ধরণের সেবা দেওয়া হয় না। রোগী আসলে তাদের পরামর্শ দিয়ে ২ কিলোমিটার দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এতে রোগীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যে এ হাসপাতালে দিনের বেলায় চলে চিকিৎসা আর রাতের বেলায় বখাটেদের দখলে থাকে । এতদসত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই রোগীদের সেবা প্রদান করছেন দায়িত্বরতরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে এক একর ১৭ শতক জমি আছে। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে জবর দখল নিয়ে নেয়। তৎকালীন সংসদ সদস্যের নির্দেশে ৫ শতক জায়গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জন্য দখলে নিয়ে ভবন করে নেয়। এনিয়ে জনমনে দেখা দেয় প্রশ্ন, জমি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আর ভবন নির্মাণ হয় ভূমি অফিসের।
চিকিৎসা নিতে আসা আবদুল মজিদ বলেন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবেশ ও অবকাঠামোগত দুরবস্থা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। ভবনের ভেতরের অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। চেয়ার-টেবিল ভাঙাচোরা, দরজা ও জানালার বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। সন্ধ্যার পর ভুতোরে পরিবেশ, অন্ধকারে আছন্ন হয়ে পড়ে পৌরসভার বাতির ব্যাবস্থা নেই। অভিযোগ আছে অনেক সময় নেশাগ্রস্তরা ছিনতাইয়ের মত ঘটনাও ঘটিয়েছে।
গোলাপ হোসেন নামে আরেকজন রোগী বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে দুর্গন্ধ আর নোংরা পরিবেশে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয় থাকে। এমন নোংরা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে চিকিৎসা নেওয়া নিজের স্বাস্থ্যকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। হাসপাতাল যেমন চিকিৎসাও তেমনই হয়।
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত উপ সহকারি কমিনিটি মেডিকেল অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান,বলেন, ঝাড়ু দার নেই,পায়খানা নেই,পানির ব্যবস্থা নেই। আমরা মসজিদের ওয়াশরুম ব্যবহার করি। এমন পরিবেশে দায়িত্ব পালন করা আমাদের জন্যও উদ্বেগের। রোগী ও কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সংস্কার জরুরি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসেন বলেন, আমি এই অবকাঠামোর বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল, স্বাস্থ্য বিভাগ ঢাকা ও ময়মনসিংহ যোগাযোগ করছি। আশা করি বর্তমান সরকার খুব দ্রুত সময়ের মাঝেই জনকল্যাণে অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ নিবেন।
ময়মনসিংহ ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন, ডাঃ ফয়সল আহমেদ দৈনিক বাংলা কে বলেন, কিছুদিন আগে জরাজীর্ণ ফুলবাড়িয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। দীর্ঘদিন যাবৎ টিনসেড এর তৈরী এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির বেহাল অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে একটি কমিটি গঠন সেইসাথে সেখানে একজন চিকিৎসককে সংযুক্ত করে দিয়েছি। বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় দ্রততম সময়ে ওই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ এবং জরাজীর্ণ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ভেঙ্গে নতুন করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, এই জরাজীর্ণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নতুন সরকারের কাছে আবেদন করা হবে।
মশার যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করতে সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, মশার উপদ্রব ভয়াবহভাবে বেড়েছে- এটি সত্য। এই সমস্যা থেকে নগরবাসীকে দ্রুত স্বস্তি দিতে সরকার ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধলপুর এলাকায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পরিচালিত মশক নিধন কার্যক্রম ও ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেছেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার মাত্র ৭ দিন আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং শপথ নেওয়ার পরপরই মশা নিধনে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী আরো জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মশা নিধনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে তার মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে আমদানি করা ওষুধের একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যেগুলোর কার্যকারিতা দ্রুত পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় কার্যকারিতা সন্তোষজনক না হলে বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ব্যবহৃত ওষুধ কার্যকর হবে এবং মশক নিধন কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসাধারণের সহযোগিতাও জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবাসিক এলাকায় যেখানে পানি জমে থাকে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং বিশেষ নজর দেওয়ার মাধ্যমে নগরবাসীকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় সুমাইয়া আহমেদ বিন্দু (২০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনার পর রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর করে।
গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে স্বজনদের মোটা অংকের নগদ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে রফাদফা হয়। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় ডিকেএমসি নামক একটি প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত প্রসূতি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পাড়াগাঁও মধ্যপাড়া এলাকার কাউসার আহমেদ জুয়েলের মেয়ে।
রোগীর স্বজনদের দাবি ভুল চিকিৎসায় রোগী মারাগেছে। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি শুয়ে থাকা অবস্থায় রোগীকে খাবার খাওয়ানোয় শ্বাসনালীতে খাবার ঢুকে এমনটি ঘটেছে।
জানা যায়, সুমাইয়া আহমেদ বিন্দু প্রসবব্যথা নিয়ে উপজেলার ডি কে এমসি নামক প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হন। অস্ত্রোপচার (সিজার) শেষে রোগীকে বেডে দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক প্রসূতিকে আইসিইউতে রেফার করে। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরবর্তিতে রোগীর আত্মীয়-স্বজন ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে হসপিটালে ভাঙচুর চালান। এই নিয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তিতে ভিকটিমের বাবা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মোটা অংকের নগদ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা হয় এবং বিষয়টি আপস-মীমাংসা হয়।
নিহত সুমাইয়ার চাচা জাহিদ আমির বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভুল চিকিৎসার কারণে আমার ভাতিজির মৃত্যু হয়েছে। যেহেতু ভাতিজিকে আর ফিরেই পাব না। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে একটি সমঝোতার ভিত্তিতে মীমাংসা শেষ ভাতিজির মরদেহ নিয়ে এসেছি।’
ডিকেএমসি হাসপাতালের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অপারেশনের পর রোগীকে বেডে দেওয়া হয়। সেখানে শোয়া অবস্থায় রোগীকে তার স্বজনরা পানি ও রুটি খাওয়ান। শুয়ে থাকা অবস্থায় রুটি খাওয়ানোর সাথে সাথেই খাবারটা লান্সে চলে গেছে। খাবার শ্বাসনালীতে চলে যাওয়ায় রোগীর অবস্থা সিরিয়াস হয়ে যায়। আমরা তৎক্ষণাৎ রোগীকে আইসিইউতে পাঠিয়ে দেই। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে প্রসূতির মৃত্যু হয়। এখানে চিকিৎসার কোনো ত্রুটি ছিল না। অসাবধানতাবশত খাবার খাওয়ানোর কারণেই এমনটি ঘটেছে।’
ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। রোগীর স্বজনদের দাবি ভুল চিকিৎসার রোগী মারাগেছে। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি শুয়ে থাকা অবস্থায় রোগীকে খাবার খাওয়ানোয় শ্বাসনালীতে খাবার ঢুকে এমনটি ঘটেছে। তবে একপর্যায়ে রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মীমাংসায় গেলে আমরা চলে আসি।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ঢাকায় শপথ গ্রহণ শেষে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফিরেই ভিন্ন বার্তা দিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। সংবর্ধনা কিংবা রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে তার প্রথম গন্তব্য ছিল শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উদ্দেশ্য ছিলো জনগণের চিকিৎসাসেবার বাস্তব চিত্র সরেজমিনে পরিদর্শন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শ্রীমঙ্গলে প্রবেশমুখে অবস্থিত চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি সংক্ষিপ্ত শহর প্রদক্ষিণ শেষে নির্ধারিত পথসভা বাতিল করে সরাসরি হাসপাতালে যান। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পৌঁছে নেতাকর্মীদের বাইরে রেখে তিনি একাই ভেতরে প্রবেশ করেন।
এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। কারও শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে, কারও হাতে হাত রেখে শোনেন তাদের অভিজ্ঞতা, অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা।
মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়ায় অবস্থিত মেহেরপুর ক্লিনিক নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকের এ ঘটনায় রোগীর স্বজনদের হামলায় ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী ও প্রতিষ্ঠানের কর্তব্যরত চিকিৎসক মিজানুর রহমান ও তার ছেলে চিকিৎসক অভি মারধরের ঘটনায় গুরুতর আহত বতর্মানে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই রোগীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা।
জানা গেছে, গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মজিবার রহমানের স্ত্রী নাসিমা বেগম জরায়ু টিউমার অপারেশনের জন্য ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসক দিনভর রোগীকে পর্যবেক্ষণে রেখে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে আসা হয়। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার কিছুক্ষণ পর রোগীর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে রোগীর স্বজনরা অপারেশন থিয়েটারে থাকা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান ও তার ছেলে ডা. অভিকে ব্যাপক মারধর করে।
পরে তারা অপারেশন থিয়েটারের আসবাবপত্র ও দামি চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। আহত চিকিৎসকদের পুলিশ উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
নিহত রোগীর ছেলে নাজমুল বলেন, ‘আমার মাকে অপারেশন থিয়েটারে ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই মারা গেছে। ইনজেকশন দেওয়ার পরেই তিনি চিৎকার করে ওঠেন। কিন্তু ডাক্তার অন্যকোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডা. মিজান নাক, কান, গলার চিকিৎসক সে কীভাবে জরায়ুর অপারেশন করে।’
এ বিষয়ে অভিযোগ ওঠা চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘অপারেশন টেবিলে নেওয়ার পরপরই রোগী হার্ট অ্যার্টাক করলে রোগীর কনভারশন শুরু হয়। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। রোগীর চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল না।’
মেহেরপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেহেদি হাসান দিপু বলেন, ‘ঘটনার পরপরই সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষও যদি লিখিত অভিযোগ দেয় তবে সে বিষয়েও আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণায় দক্ষতা বৃদ্ধি ও গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) হেপাটোলজি বিভাগের উদ্যোগে একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে ‘হাউ টু রাইট রিসার্চ প্রোটোকল’ (How to Write Research Protocol) শীর্ষক এই দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। গবেষণার সঠিক পদ্ধতি ও প্রায়োগিক দিকগুলো নতুন প্রজন্মের গবেষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম। কর্মশালায় প্রধান রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম)-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোঃ জিয়াউল ইসলাম, পিএইচডি। তিনি গবেষণা প্রোটোকল রচনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যেমন—গবেষণার উদ্দেশ্য নির্ধারণ, কার্যকর স্ট্যাডি ডিজাইন নির্বাচন, স্যাম্পল সাইজ গণনা, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং গবেষণার নৈতিক দিক তথা এথিক্যাল ইস্যুগুলো নিয়ে বিস্তারিত ও সচিত্র আলোচনা পেশ করেন।
বিশেষজ্ঞ প্যানেল বা প্যানেল অব এক্সপার্ট হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন বারডেমের জিএইচপিডি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম আজম এবং বিএমইউর হেপাটোলজি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম মোস্তফা। তাঁরা গবেষণার বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং প্রোটোকল রচনার সময় সাধারণ ভুলত্রুটিগুলো এড়িয়ে চলার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ সাইফুল ইসলামের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এই কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা এই প্রশিক্ষণকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ফলপ্রসূ বলে অভিহিত করেছেন। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে বিএমইউর হেপাটোলজি বিভাগ নিয়মিতভাবে এ ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যা ভবিষ্যতে দেশের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক মানে গবেষণা পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। মূলত দক্ষ গবেষক তৈরির মাধ্যমেই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে কর্মশালায় পুনরায় ব্যক্ত করা হয়।
বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের মতোই বাদুড়বাহিত রহস্যজনক ও প্রাণঘাতী আরও একটি ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এতদিন নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বলে মনে করা হলেও নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি আসলে ‘প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস’ বা পিআরভি (PRV)। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) প্রকাশিত জার্নাল ‘ইমার্জিং ইনফেকশাস ডিজিজ’-এ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নতুন এই ভাইরাসের উপস্থিতি দেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নতুন ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা নিপাহ ভাইরাসের মতোই কাঁচা খেজুরের রস পানের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে বলে গবেষকরা প্রমাণ পেয়েছেন।
গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যে বাংলাদেশে পাঁচজন রোগী রহস্যজনক উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে তীব্র জ্বর, বমি, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং লালা নিঃসরণের পাশাপাশি গুরুতর স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়। আক্রান্তরা সবাই অসুস্থ হওয়ার আগে কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। চিকিৎসকরা শুরুতে একে নিপাহ ভাইরাস বলে সন্দেহ করলেও ল্যাব পরীক্ষায় সবার ফলাফল নেগেটিভ আসে। কয়েক সপ্তাহ পর রোগীরা ছাড়া পেলেও তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তিনজন রোগী দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি এবং হাঁটাচলায় সমস্যার সম্মুখীন হন এবং তাদের মধ্যে একজন ২০২৪ সালে অজানা স্নায়বিক জটিলতায় মারা যান। এই ঘটনাটি বিজ্ঞানীদের আরও নিবিড় গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করে এবং শেষ পর্যন্ত পিআরভি ভাইরাসের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া যায়।
প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস এর আগে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে শনাক্ত হলেও সেখানে এর সংক্রমণ ছিল অত্যন্ত মৃদু এবং মূলত সাধারণ শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে পাওয়া এই নতুন ঘটনায় ভাইরাসের ভয়াবহতা ও তীব্রতা অনেক বেশি দেখা গেছে। গবেষকদের ধারণা, এই ভাইরাসটির জিনগত কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন বা পুনর্গঠন (রিঅ্যাসর্টমেন্ট) ঘটেছে, যার ফলে এটি মানুষের শরীরে আরও শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পদ্মা নদীর অববাহিকার কাছে পাওয়া বাদুড়গুলোর লালা ও মলে এই ভাইরাসের জিনগত মিল পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট যে বাদুড়ই এই ভাইরাসের প্রধান উৎস।
গবেষণার অন্যতম লেখক নিশ্চয় মিশ্র ও আরিফুল ইসলাম সতর্ক করে বলেছেন যে, কাঁচা খেজুরের রস পান করার ঝুঁকি এখন আর কেবল নিপাহ ভাইরাসে সীমাবদ্ধ নেই। এই নতুন ভাইরাসটি প্রমাণ করেছে যে বাদুড়বাহিত আরও অনেক উদীয়মান ভাইরাস জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, যেসব এলাকায় কাঁচা খেজুরের রস পান করার প্রচলন আছে, সেখানে শ্বাসতন্ত্রের বা স্নায়বিক রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে নিপাহ ভাইরাসের পাশাপাশি পিআরভি পরীক্ষাকেও নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে কাঁচা খেজুরের রস পান করা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকার জন্য জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে যাতে এই নতুন ও অজানা ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়। মূলত এই নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য দেশের স্বাস্থ্য বিভাগকে নিপাহর পাশাপাশি আরও একটি অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-এর কর্মকর্তাদের পেশাগত উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৬৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী ‘অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ ইয়াহিয়া খাঁন সভাপতি এবং সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান আমিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিএমইউর প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ এবং পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকীর যৌথ স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশের মাধ্যমে এই নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যেই এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নবগঠিত এই কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ডা. হাসনাত আহসান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। এছাড়া সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মোঃ হুমায়ুন কবির, মোহাম্মদ আনিছ উর রহমান, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মোঃ নাজমুল হোসেন (শামীম), মোঃ আনিছুজ্জামান, মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ, মইনুল হক মুন্না এবং মোহাম্মদ আজিজুর রহমান। কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মোহাম্মদ আশিকুর রহমানকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান ও এম.জি. আজম তৌহিদসহ সাতজন কর্মকর্তা বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে যুক্ত হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের কল্যাণ ও দাপ্তরিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অর্থ ও প্রচার বিভাগে অভিজ্ঞদের পদায়ন করা হয়েছে। মোহাম্মদ বদরুল হুদা কোষাধ্যক্ষ এবং শামীম আহম্মদ প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিনকে বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক এবং আইনগত বিষয়সমূহ তদারকির জন্য আবদুল্লাহ হাসানকে আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ধর্ম, সাহিত্য, প্রকাশনা, মহিলা বিষয়ক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য পৃথক পৃথক সম্পাদকীয় ও সহ-সম্পাদকীয় পদে দক্ষ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা এ্যাসোসিয়েশনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে বেগবান করবে।
বিএমইউ অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ১৭ জন সদস্যকে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবিনা ইয়াসমিন, খন্দকার শফিকুল হাসান (রতন), মাসুদ রানা, ড. মোস্তফা কামাল পাশা এবং মোঃ আকতারুজজামানসহ অন্যান্যরা রয়েছেন। ৬৩ সদস্যের এই সুবিশাল কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে একতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। প্রক্টর ও পরিচালকের স্বাক্ষরিত এই আদেশ জারির পর নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে একনিষ্ঠভাবে কাজ করার এবং কর্মকর্তাদের নায্য অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এই কমিটি গঠনের ফলে বিএমইউর প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ কর্মকর্তারা।
শহরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠছে মিনি হাসপাতাল ও ক্লিনিক। আর এসব ক্লিনিকে অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় শহরের কালিতলা থানার সামনে বেসরকারি মাদার কেয়ার হাসপাতালের ডাক্তারের অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। হালিমা বেগম (২৮) নামে ওই গৃহবধূর সিজার করানোর সময় পেটে তুলা সুতা গজ রেখে সেলাই করে দেন ডাক্তার হযরত আলী।
ধীরে ধীরে অসুস্থ হতে থাকেন সেই গৃহবধূ। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ২৯ জানুয়ারি রাতে প্রায় তিন মাস পর আবার অপারেশন করে বাহির করা হয় ব্যান্ডেজের তুলা সুতা গজটি। ওই গৃহবধূ এখন সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। তবে এসব কর্মকাণ্ডের পরও দায়সারা ভাব করছে মাদার কেয়ার হাসপাতাল চেয়ারম্যান হযরত আলী । যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।
গৃহবধূ হালিমা সদরের ২নং সুন্দরবন ইউনিয়নের রামডুবি সদরপুর গ্রামের সবুজের স্ত্রী। বর্তমানে পাহাড়পুর লাইফ কেয়ার হসপিটালে ভর্তি রয়েছে।
এ ব্যাপারে হালিমা বেগমের দুলাভাই মো. সোহরাব হোসেন জানান, গত ১০ আগস্ট ২০২৫ তার সেলিকাকে সিজার করানোর জন্য শহরের কালিতলা মাদার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিয়মানুযায়ী ভর্তি করানো হয়। ওই দিনই রাতে মাদার কেয়ার হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার হযরত সিজার করেন। সিজারের সময় হালিমার পেটের ভেতরে ড্রেসিং করার তুলা সুতা রেখেই সেলাই করে দেন ডাক্তার। এরপর হালিমাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সিজারের কয়েকদিন পর থেকেই পেটের ভেতরে ব্যথা অনুভব করতে থাকেন হালিমা। দিন যত গড়ায় ব্যথা তত বাড়তে থাকে। প্রচণ্ড ব্যথা অুনভব করায় কয়েকদিন পর ৪ বার মাদার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। এ সময় ডাক্তার হালিমাকে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা দেন। পরীক্ষায় পর কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়ে দেন ডাক্তার। কয়েকদিন পরে ব্যথায় কাতরাতে থাকলে লাইফ কেয়ার হাসপাতালের পরিচালক ডা. মমতাজ বেগম পলি দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত বৃহস্পতিবার রাতেই হালিমাকে অপারেশন করেন।
এদিকে অপারেশন শেষে পেটের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া এসব তুলা, সুতা, ময়লা দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন তার স্বজনরা। এ সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং পূর্বের ঘটনার সাথে জড়িত ডাক্তার হযরত আলী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবি জানান।
সাক্ষাতে ডা. হযরত আলীকে সুতা, তুলা, ময়লা দেখালে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, এমনটাতো হওয়ার কথা নয়। রোগীর লোকজনের পছন্দমতো ডাক্তারকে দিয়ে সিজার করেছে। এখানে আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।’
এ ব্যাপারে দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. আসিফ ফেরদৌস বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য ২০১৬ সালে ২ জুলাই বিরল উপজেলার পাকুড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী আনোয়ারার পাথর অপারেশন করতে গিয়ে ভুলবশত কিডনি কেটে ফেলে মাদার কেয়ার হাসপাতালে চেয়ারম্যান ডাক্তার হযরত আলী। এরপর ভুল চিকিৎসায় সদরের ৩নং ফাজিলপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিরামপুর গ্রামের মুনতাহিনা নামে রোগীর মৃত্যু হয়। এর কিছুদিন পরেই দিনাজপুর সদরে গোপালগঞ্জ উত্তর বংশীপুর এলাকার আব্দুল মান্নানের স্ত্রী বিউটি আরা (২৬) ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হলে সেই সময় রোগীর লোকজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনে এ ছাড়া ডাক্তার হযরত আলীর একটি অবৈধ গর্ভপাত মামলায় ৯ বছরের সাজা হয়। ১ বছরের জেল খেটে উচ্চ আদালত থেকে মুক্ত হয়।
দেশে উন্নত চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, আধুনিক এবং কাগজবিহীন করার উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে ‘ই-আইআরবি’ (ইলেকট্রনিক ইনস্টিটিউশনাল রিভিউ বোর্ড) প্ল্যাটফর্ম। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে ‘ই-আইআরবি ইন বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি: ইনোভেটিং রিসার্চ এথিকস’ শীর্ষক এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ডিজিটাল সেবাটির উদ্বোধন করা হয়। পরিবেশবান্ধব এই অটোমেশন প্রক্রিয়া চিকিৎসা গবেষণার নৈতিকতা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গবেষণার গুণগত মানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, গবেষণা হলো টিকে থাকার লড়াই এবং মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য খাতের প্রায় ৮৫ শতাংশ গবেষণাই কার্যকর সুফল বয়ে আনতে পারছে না—এমন বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি গবেষকদের জনকল্যাণমুখী ও অর্থবহ গবেষণায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যেকোনো বড় উদ্যোগের স্থায়ী সাফল্যের জন্য যোগ্য উত্তরসূরি তৈরি করা অপরিহার্য। এই ই-আইআরবি সিস্টেম গবেষণার নৈতিক মান বজায় রেখে জ্ঞানের ভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএমআরসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার গবেষণার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এবং বিশেষ করে গবেষণার কাজে মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—উভয় পক্ষের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর তিনি জোর দেন। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ তাঁর বক্তব্যে বিএমইউ-এর চলমান ডিজিটাল রূপান্তরের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমান প্রশাসন ই-লক বুক, ডিজিটাল ক্লাস এবং অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ইতোমধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ই-আইআরবি চালুর ফলে এখন থেকে গবেষণার অনুমোদনের জন্য টন টন কাগজের অপচয় রোধ হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার ই-আইআরবি-র কারিগরি সুবিধার কথা উল্লেখ করে জানান যে, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গবেষণার প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে ডকুমেন্টেশন বা সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুস শাকুর এবং আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম আখতারুজ্জামান। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহেদা আনোয়ার।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর ফলে উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষায় অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। এখন থেকে গবেষণার প্রস্তাবনা অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে, যার ফলে অনুমোদনের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত পাওয়া সম্ভব হবে। রিম রিম কাগজপত্রের স্তূপ এবং অতিরিক্ত প্রশাসনিক ঝামেলার অবসান ঘটায় শিক্ষার্থীরা গবেষণায় আরও বেশি সময় দিতে পারবেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রেও এই ডিজিটাল অনুমোদন প্রক্রিয়া বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। মূলত বাংলাদেশের চিকিৎসা গবেষণার মানকে বিশ্বপর্যায়ে উন্নীত করতে এবং একটি উন্নত গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তুলতেই বিএমইউ এই আধুনিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং জ্যেষ্ঠ শিক্ষকমণ্ডলী উপস্থিত ছিলেন।
মীরসরাই উপজেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে যক্ষ্মা রোগী। সচেতনতা না বাড়ার কারণে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। গত ৮ বছরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ হাজার ৪২৪ রোগীর যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ৬৪ জন। চলতি বছর মারা গেছেন ৭ জন।
মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, পুরো বছরকে ৪টি ফেজে ভাগ করে রোগীদের কপ পরীক্ষা করা হয়। জানুয়ারি-মার্চ মাস পর্যন্ত প্রথম ফেজ, এপ্রিল-জুন মাস পর্যন্ত দ্বিতীয় ফেজ, জুলাই-সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত তৃতীয় ফেজ, অক্টোবর-ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চতুর্থ ফেজ ধরা হয়। ২০১৮ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারটি ফেজে প্রায় ১৫ হাজার ব্যক্তির কফ পরীক্ষা করে ৭৮২ রোগীর যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। ওই বছর মারা যায় ৭ জন। ২০১৯ সালে শনাক্ত হয় ৮৫১ জন। মারা যায় ১২ জন। ২০২০ সালে কোভিড করোনা ভাইরাস থাকায় অনেকে ভয়ে ঘর থেকে বের হয়নি। তবুও ওই বছর ৫৬৩ জনের যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। মারা যায় ৭ জন। ২০২১ সালে চারটি ফেজে কপ পরীক্ষা করা হয় ৮ হাজার ৬৪১ জনের। রোগী সনাক্ত হয় ৭১৯ জন। এছাড়া ইপি (এস্ট্রা পারমোনালি) রোগী পাওয়া যায় ২৭৪ জন। মারা যায় ৮ জন। ২০২২ সালে প্রায় ১৩ হাজার রোগীকে চারটি ফেজে পরীক্ষা করে ৭১০ জনের শরীরে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। ওই বছর মারা যান ২ জন।
২০২৩ সালে চারটি ফেজে কপ পরীক্ষা করা হয় ৯ হাজার ৩’শ ১২ জনের। মাইক্রোস্কোপি জিনএক্সপার্ট পরীক্ষা করা হয় ১ হাজার ২৮২ জনের। রোগী সনাক্ত হয় ৮৫৮ জন। মারা যায় ৮ জন। ২০২৪ সালে চারটি ফেজে কপ পরীক্ষা করা হয় ৪ হাজার ১২ জনের। মাইক্রোস্কোপি জিনএক্সপার্ট পরীক্ষা করা হয় ৩ হাজার ৫৯৮ জনের। রোগী সনাক্ত হয় ৮৬৩ জন। মারা যায় ১৩ জন। ২০২৫ সালে চারটি ফেজে কপ পরীক্ষা করা হয় ৪ হাজার ৮১৫ জনের। মাইক্রোস্কোপি জিনএক্সপার্ট পরীক্ষা করা হয় ২ হাজার ৬৮৪ জনের। রোগী সনাক্ত হয় ৮৪ জন। মারা যায় জন ৭।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, মাইক্রোস্কোপি জিনএক্সপার্ট পরীক্ষার জন্য বেলজিয়াম থেকে একটি মূল্যবান মেশিন আনা হয়েছে। যাতে কোনো প্রকার ত্রুটি ছাড়াই যক্ষ্মা পরীক্ষা করা হয় বিনামূল্যে। অন্যান্য দেশে এ পরীক্ষাটি করতে ৫০-৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এছাড়া সরকার নির্ধারিত মূল্য দিয়ে উন্নতমানের এক্সরে মেশিনের সাহায্যে এক্সরে সহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগে রক্তের সকল ধরণের পরীক্ষা করানো হচ্ছে বর্তমানে। ফলে দ্রুত সময়ে যক্ষ্মা রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে। যক্ষ্মা ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় একজন থেকে কমপক্ষে ১০ জনের কাছে এ রোগ ছড়াতে পারে।
উপজেলা টিএলসিএ মো. হুমায়ুন কবির জানান, যক্ষ্মা রোগীকে দুই মাস, তিন মাস ও পাঁচ মাস পর পরীক্ষা করা হয়। বেশি জটিল রোগীদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা ফৌজদারহাট হাসপাতালে পাঠানো হয়। যক্ষ্মা ধরা পড়ার পর নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে মৃত্যুহার এড়ানো সম্ভব। যক্ষ্মা রোগী যখন ডায়াবেটিক, হৃদরোগ সহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হন তখন মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে যক্ষ্মা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেয়া হয়। সঠিকভাবে যক্ষ্মা নিরূপন করার জন্য রোগীদের কপ পরীক্ষার পাশাপাশি মাইক্রোস্কোপি জিনএক্সপার্ট পরীক্ষা করা হয়। যেখানে শতভাগ রোগ নির্ণয় সম্ভব। একটানা দুসপ্তাহের বেশী কাশী হলে, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর জর আসা, খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া যক্ষ্মা রোগের অন্যতম লক্ষণ।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করে চিকিৎসা শুরু করা উচিত। এছাড়া এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নিয়মিত সভা, সেমিনার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় শীতকালীন ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। প্রতিদিন গড়ে ৫-৬জন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া তথ্য মতে ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৪৪জন শিশু ডায়রিয়ার আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের ইনডোরে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এছাড়া বহির্বিভাগে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা।
সরেজমিনে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (বিজরুল) গিয়ে দেখা যায়, ৩১ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালটিতে ডায়রিয়ার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি। শীতের শীতল আবহাওয়ায় ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ, দূষিত পানি ও খাবার গ্রহণের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
১৩ মাস বয়সের শিশু বিভাগে নিয়ে ৪ দিন ধরে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছেন বাবা বিপুল। তিনি জানান, দুদিন বার বার পায়খানা করছিলো মেয়ে। প্রথমদিন বাসায় থেকে চিকিৎসা করিয়েছেন মেয়েকে। অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ইকবাল মাহমুদ লিটন বলেন, শীতের সময় রোটা ভাইরাসের সংক্রমণে শিশুর ডায়রিয়া বেশি হচ্ছে। এ সময় শিশুদের ঠান্ডা লাগানো যাবে না। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, শীতের সময় খেজুর রস পান করলে নিপাহ ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে। তাই কাঁচা খেজুর রস না খেতে তিনি জনসাধারণকে পরামর্শ দেন।