সোমবার, ৪ মে ২০২৬
২১ বৈশাখ ১৪৩৩

ওষুধ কিনতেই নাভিশ্বাস

জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ২৭ আগস্ট, ২০২৩ ০৮:২২

রোগ সারাতে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধপথ্য সেবন করেন রোগীরা। অসুখ সারবে বলে আশায় বুক বাঁধেন। কিন্তু সেই ওষুধ এখন রোগ সারানোর বদলে উল্টো যেন চেপে ধরছে রোগীদের। ওষুধের বাড়তি খরচই তুলছে তাদের নাভিশ্বাস। বর্তমানে উচ্চ রক্তচাপের মাত্র একটি ওষুধেই রোগীদের পকেট থেকে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে বছরে ৩ হাজার ৪৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর ডায়াবেটিসের একটি ওষুধে বছরে রোগীদের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৮২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। দুটি ওষুধে রোগীদের মোট বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ২০২২ সালের এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে উচ্চ রক্তচাপের রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৮২ লাখ। এ অসুস্থতায় ভোগা একজনকে দিনে একটি করে এনজিলক খেতে হয়। গত বছরে দাম বাড়ার আগে অর্থাৎ ২০২২ সালের জুনে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর দাম বাড়ানোর আগে এর দাম ছিল ৮ টাকা (১০টির এক পাতা ৮০ টাকা)। এখন প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম ১০ টাকা। মানে এক পাতা ১০০ টাকা। মাসে একজন উচ্চ রক্তচাপের রোগীর খরচ বেড়েছে ৬০ টাকা। এই হিসাবে ৪ কোটি ৮২ লাখ রোগীর মাসে বাড়তি খরচ ২৮৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। বছরে ৩ হাজার ৪৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের ২০২১ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী ১ কোটি ৩১ লাখ। যদিও ২০২২ সালে বারডেম জানায়, দেশের জনসংখ্যার ২৫ দশমিক ২ শতাংশ অর্থাৎ চার কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। চিকিৎসকদের ভাষ্যে, ডায়াবেটিস রোগীদের ৬১ শতাংশই জানেন না যে তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ফলে ধরে নেয়া যায়, ১ কোটি ৩১ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত জেনে ওষুধ খাচ্ছেন।

ডায়াবেটিসের রোগীরা লিনাগ্লিপ নামে একটি ওষুধ সেবন করেন। ২০২২ সালের জুনের আগে এর একটির দাম ছিল ৬০ টাকা (এক পাতা বা ১০টি ট্যাবলেট ৬০০ টাকা)। এখন একটি ট্যাবলেটের দাম ৬৬ টাকা; এক পাতা ওষুধ ৬৬০ টাকা। মাসে এই একটি ওষুধের জন্য রোগীর খরচ বেড়েছে ১৮০ টাকা। বছরে ২ হাজার ১৬০ টাকা। অর্থাৎ বছরে দেশের ডায়াবেটিস রোগীদের মাত্র একটি ওষুধের জন্য বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে ২ হাজার ৮২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমীন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ওষুধের দাম বাড়ার কারণে সব রোগীই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে ক্রনিক ডিজিজ অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি রোগের মতো অসুখে আক্রান্ত রোগীর খরচ অনেক বেশি বেড়ে গেছে। তাদের সারা জীবন এসব ওষুধ কিনে খেতে হবে।’

যদিও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের চিফ অপারেটিং অফিসার রাব্বুর রেজার মতে, সংকট এবং কাঁচামালের দাম বাড়া সত্ত্বেও ওষুধের দাম সেভাবে বাড়েনি। তিনি বলেন, ‘ডলারের সংকট, ওষুধের কাঁচামালের দাম বেড়েছে। কিন্তু সেভাবে ওষুধের দাম বাড়ানো হয়নি। বরং অনেক ওষুধের দাম কমেছে, সেসব নিয়ে কথা হচ্ছে না।’

চিকিৎসা খরচের ৬৪ শতাংশই ওষুধে

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট বলছে, দেশে একজন মানুষের মোট চিকিৎসা খরচ যত হয়, তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই হচ্ছে ওষুধ কেনার পেছনে। গত ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টস ১৯৯৭-২০২০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, চিকিৎসা ব্যয়ের মধ্যে রোগীর সবচেয়ে বেশি খরচ হয় ওষুধের পেছনে; ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ। যার কারণে মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্র হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জনগণের এই ওষুধের খরচের পেছনে বিভিন্ন দেশে সরকারের প্রচুর ভর্তুকি থাকলেও এ দেশে তা তুলনামূলক খুবই কম। ৩০ হাজার কোটি টাকার ওষুধের বাজারে সরকার খরচ করে ৩ থেকে ৫ শতাংশ। বাকি ৯৫ শতাংশই খরচ করতে হয় ব্যক্তিকে নিজের পকেট থেকে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এর অন্যতম লক্ষ্য পয়সার অভাবে যেন কেউ চিকিৎসাবঞ্চিত না হয়। কিন্তু এখন যা দেখা যাচ্ছে, তাতে ২০৩০ সাল নাগাদ ওষুধ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘২০১৬ সালে করা স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চিকিৎসা খরচ মেটাতে গিয়ে বছরে ৮৬ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। এখন এই সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে হচ্ছে। এসব মানুষকে সংসারের অন্যান্য খাতের খরচ কমিয়ে চিকিৎসায় সে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।’

সাধারণ ওষুধের হালচাল

দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ওষুধের অন্যতম নাপা সিরাপ। জ্বর, সর্দি, শরীর ও মাথাব্যথায় শিশুদের জন্য এর বিকল্প কম। ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত এই নাপা সিরাপের দাম ছিল ১৮ টাকা। ২০২২ সালের ৩০ জুন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এ সিরাপের দাম নির্ধারণ করে ২০ টাকা। কিন্তু বছর শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝিতে দাম হয় ২৫ টাকা। আর চলতি বছরের জুনের মাঝামাঝি নাগাদ এক বোতল নাপা সিরাপের দাম দাঁড়ায় ৩৫ টাকা। অর্থাৎ এক সিরাপের দাম বেড়েছে ১৭ টাকা।

একই অবস্থা বহুল বিক্রীত ওষুধ নাপা ট্যাবলেটের। এক পাতায় থাকে ১০টি ট্যাবলেট। ২০২২ সালের জুনের আগে নাপার প্রতি পাতার দাম ছিল ৮ টাকা। ওই বছরের ৩০ জুন ঔষধ প্রশাসনের দাম বাড়ানোর পর হয় ১০ টাকা। চলতি বছরের এপ্রিলে ওই এক পাতার দাম হয়ে যায় ১২ টাকা। অর্থাৎ নাপা ট্যাবলেটের দামও বেড়েছে ৫০ শতাংশ।

বিভিন্ন দূষণের কারণে দেশে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ জন্য সবচেয়ে বেশি যে ওষুধ চিকিৎসকরা খাওয়ার পরামর্শ দেন তার অন্যতম অ্যাভোলাক সিরাপ। ওষুধ বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, পুরো দেশে প্রতিদিন কয়েক লাখ অ্যাভোলাক সিরাপ বিক্রি হয়। সরকার দাম বাড়ানোর আগে অ্যাভোলাকের দাম ছিল ১৪০ টাকা। গত মে মাসের শেষ থেকে সেটি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়।

ওষুধ বিক্রেতারা বলছেন, দফায় দফায় দাম বাড়ায় কোম্পানিগুলো। তাই নির্দিষ্ট করে বাড়ানোর দিন-তারিখ বলা কঠিন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিক্রেতা জানান, কোম্পানিগুলো প্রথমে বাজারে ওষুধের সংকট দেখায়। তারপর বিক্রেতাদের মুঠোফোনে সংকটের কথা জানিয়ে খুদেবার্তা পাঠায়। এরপর দাম বাড়ানোর কথা জানায়।

শুধু নাপা অথবা অ্যাভোলাকই নয়, গত বছরের জুলাই মাসের পর থেকে সরকার-নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করে বহুল ব্যবহৃত, বিক্রেতাদের ভাষায় ‘ফাস্ট মুভিং’ ওষুধগুলোর দাম বাড়ানো হচ্ছে দফায় দফায়।

দেশে অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় ওষুধ আছে ২১৯টি। এর মধ্যে ১১৭টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে অধিদপ্তর। এই ১১৭টির মধ্যে ২০টি জেনেরিকের ৫৩টি ওষুধের খুচরা মূল্য বাড়ানোর অনুমোদন দেয়া হয়।

এতে দেখা গেছে, কোনো কোনো ওষুধের দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। বৃদ্ধির হার ছিল ১৩২ শতাংশ পর্যন্ত। এর বাইরে বাকি সব ওষুধের দাম নির্ধারিত হয় প্রস্তুতকারী কোম্পানির প্রস্তাব এবং সুপারিশের ভিত্তিতে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দেশে এমন কোনো ওষুধ নেই যার দাম বাড়েনি। কেবল একবার নয়, দফায় দফায় দাম বেড়ে ওষুধ এখন সাধারণ মানুষের এক দীর্ঘশ্বাসের নাম।

সরেজমিন ওষুধের দোকান

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গ্যাস্ট্রিক, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধের দাম বেড়েছে ১৩ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত। কোনো কোনো কোম্পানির জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ।

শাহবাগ এলাকা এবং ঢাকা, মুগদা ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ওষুধের দোকানের একাধিক বিক্রেতা দৈনিক বাংলাকে জানান, সরকারিভাবে দাম বেড়েছে একবার। কিন্তু কোম্পানি দাম বাড়িয়েছে কয়েকবার। দাম বাড়ানোর জন্য কৃত্রিমভাবে ওষুধের সংকটও তৈরি করা হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, ভিটামিন বি১, বি৬, বি১২-এর মধ্যে বেশি চলে নিউরো বি, ভিটাবিয়ন, নিওবিয়ন, রেনেটার নিউরোবেস্ট, মায়োলিন। এগুলোর প্রতিটির আগে দাম ছিল ৮০ টাকা পাতা। এখন কোনো কোম্পানি করেছে ৯০ টাকা, কেউ করেছে ১০০ টাকা।

অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে বহুল প্রচলিত অ্যাজিথ্রোমাইসিন। যার মধ্যে জিম্যাক্স অন্যতম। জিম্যাক্স ৩৫ টাকা থেকে হয়েছে ৪০ টাকা। তবে কোনো কোনো কোম্পানি করেছে ৪৫ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিক্রি হয় সেফিক্সিম। এই জেনেরিকের পিস হিসেবে সেফথ্রি ২০০ এমজি আগে বিক্রি হতো ৩৫ টাকায়, এখন ৪৫ টাকা। সেফথ্রি ডিএস ৪০০ এমজি ছিল ৫০ টাকা, হয়েছে ৬০ টাকা প্রতি পিস।

কেমন আছেন রোগীরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শাহেনুর রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ভুগছেন উচ্চ রক্তচাপেও। প্রতি মাসে তার ১ হাজার ৭০০ টাকার ওষুধ লাগত। এখন একই ওষুধের জন্য মাসে তার খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা।

রাজধানীর নিকেতন ১ নম্বর গেটের পরের ছোট্ট ব্রিজ পার হয়ে গুলশানে ঢোকার মুখে লেকপাড়ে টং দোকান চালান দ্বীন মোহাম্মদ। ৪৫ বছরের দ্বীন মোহাম্মদ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। সঙ্গে আড়াই বছর আগে যোগ হয়েছে কিডনি রোগ। দ্বীন মোহাম্মদ জানালেন, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বাদ দিয়েছেন। আর ডায়াবেটিস ও কিডনির ওষুধ খাওয়া কমিয়েছেন। কারণ কেনার সামর্থ্য নেই।

বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন লিটন মুন্সী। জানালেন, ১৩ বছর ধরে স্ট্রোকের কারণে তার মায়ের শরীরের বাম পাশ প্যারালাইজড। সঙ্গে রয়েছে ডায়াবেটিস আর উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি সমস্যা। সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করতে হয়।

লিটন মুন্সী বলেন, ‘এখন মাসের শেষ দিকে পরিকল্পনা করতে হয় সামনের মাসে কোন খরচ বাদ দিয়ে সেই টাকায় মায়ের পুরো ওষুধ কিনব। ওষুধের দাম যদি এত বাড়ে, তাহলে মানুষ বাঁচবে কীভাবে?’

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উল্টো দিকে ওষুধের দোকানমালিক গোলাম মেহেদী হাসান আকন্দ বলেন, ‘পুরো বাংলাদেশে প্রতিদিন কয়েক লাখ অ্যাভোলাক সিরাপ বিক্রি হয়। কয়েক মাস আগে ১৪০ টাকার অ্যাভোলাক-১০০ এমএল ছিল ১৬০ টাকা, এখন সেটি ১৭০ টাকা। বড়টির দাম ছিল ২৫০ টাকা, এখন হয়েছে ২৯০ টাকা।’

নিকেতনের মেসার্স হাসান ফার্মেসির ওষুধ বিক্রেতা সাগর জানান, তার দোকানে দিনে অন্তত পাঁচটি অ্যাভোলাক সিরাপ বিক্রি হয়। সে হিসাবে মাসে বিক্রি হয় ১৫০ বোতল।

এই হিসাবে এক অ্যাভোলাক সিরাপেই এই দোকানের ক্রেতাদের পকেট থেকে ৩০ টাকা বাড়তি ধরে মাসে চলে যাচ্ছে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বাড়তি খরচ, বছরে যা দাঁড়ায় ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা।

রাজধানীর মগবাজারে মেসার্স রমনা ফার্মেসিতে ওষুধ ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে। এখানে অ্যাভোলাক ২০০ এমজির দাম ২৫০ টাকা থেকে হয়েছে ২৯০ টাকা। মানুষ বেশি কেনে বড় বোতলটিই। দোকানটি মাঝারি মানের জানিয়ে রমনা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী এজাজ উদ্দিন বলেন, মাসে ৩০টির মতো অ্যাভোলাকের বড় বোতল বিক্রি হয়।

বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির তথ্যমতে, পুরো দেশে আড়াই থেকে তিন লাখ ওষুধের দোকান রয়েছে। বাংলাদেশে কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির পরিচালক জাকির হোসেন রনি বলেন, দেশে তাদের নিবন্ধিত ওষুধের দোকান রয়েছে আড়াই থেকে তিন লাখ। তবে অনিবন্ধিত রয়েছে এর প্রায় দেড় গুণ।

ওষুধের দাম বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি দিয়ে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আগে ওষুধের যে কাঁচামাল কেনা হতো ৮০ টাকায়, সেটির দাম এখন ১১১ টাকা। তার মানে এখানে দাম বেড়েছে ২৬ টাকা, অর্থাৎ ৩০ শতাংশ। কিন্তু আমাদের ১১১ টাকায় কাঁচামাল কিনে ওষুধ বিক্রি করতে হচ্ছে ১০০ টাকায়। আমাদের আসলে লোকসান হচ্ছে। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দাম আপাতত আর বাড়াব না। অর্থনৈতিক অবস্থা একটু স্থিতিশীল হোক, এরপর সরকারের সঙ্গে আমরা কথা বলব।’

যা বলছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর

ওষুধের দাম বাড়ানোর জন্য কোম্পানিগুলোর চাপের কথা জানিয়েছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ। তিনি মনে করেন, কোম্পানিগুলো আগ্রাসী বিপণন নীতি পরিহার করলে, দামি মোড়ক ব্যবহার না করলে এবং উপহার দেয়া বন্ধ করলে ওষুধের দাম কমবে।

মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘ক্যানসার, কিডনি রোগ বা পক্ষাঘাতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেকে শেষ সম্বল ভিটা বা জমি বিক্রি করেন। এসব রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছেন।’

তার মতে, ডলারের দাম যেভাবে বেড়েছে, ওষুধের দাম সেভাবে বাড়েনি। তিনি বলেন, ‘যখন ক্রাইসিস (ডলার ক্রাইসিস) শুরু হলো, তখন ওরা (কোম্পানি) এসে আমাদের বলল দাম না বাড়ালে তারা চালাতে পারবে না, কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে।’

সবকিছু মিলিয়ে ৫০ শতাংশের বেশি খরচ বেড়েছে জানিয়ে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কাঁচামাল তো তাদের আনতে হবে, দেশে তো আর কাঁচামাল তৈরি হয় না। আমরা দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছি, কারণ আমাদের দেশীয় কোম্পানির লোকসান যাচ্ছিল। কিন্তু যেভাবে বাড়ার কথা ছিল, সেভাবে আসলে বাড়েনি।’


সব টিকার পর্যাপ্ত মজুত আছে, চলবে ৬ মাস: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশে সব টিকার পর্যাপ্ত মজুত আছে। যক্ষ্মা, বিসিজিসহ নয়টি টিকার সবগুলো আমাদের হাতে আছে। আগামী ৬ মাস টিকা দিয়ে যেতে পারব। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে হাসপাতালের লেকচার হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চীনের কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ‘চায়না বাংলাদেশ জয়েন্ট সার্জিক্যাল ক্লিনিক’ চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারগুলো ২০২০ সালের পর থেকে ভ্যাকসিন দেয় নাই, যে কারণে হাম পরিস্থিতিটা সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘(হাম প্রতিরোধক) ভ্যাকসিনের স্টক ছিল না। আমরা খুব তড়িৎ গতিতে—ওই সপ্তাহে আমরা শুরু করতে পারি নাই; কিন্তু পরের সপ্তাহ থেকে আমরা ‘গ্যাভি’ (বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র শিশুদের জন্য টিকা কিনতে সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা) সাহায্যে, ইউনিসেফের সাহায্যে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে আমরা সারাদেশে টিকাদান শুরু করেছি। জলাতঙ্কের টিকার একটি সংকট হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে আমরা সমাধান করেছি। একটা ক্লজ ছিল, বাইরে থেকে এই ভ্যাকসিনটা পরীক্ষা করিয়ে আনতে হতো। যে কারণে সরবরাহ নিতে অনেক দেরি হয়েছিল। আমরা ওই ক্লজটা প্রত্যাহার করেছি। অ্যান্টির‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সবচেয়ে বড় উৎপাদক ইনসেপ্টা এবং পপুলার থেকে আমরা স্থানীয়ভাবে (টিকা) সংগ্রহ শুরু করেছি।’

আগামী দেড় মাসের ভেতরে আমাদের (অ্যান্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের) বাফার স্টক আসছে, যোগ করেন তিনি।

গ্রাম এলাকায় টিকার সংকট নেই জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এমএসআর এবং এডিবি ফান্ড থেকে টিকা কেনা হচ্ছে।’ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে ‘ছয় ট্রাক চিকিৎসা সরঞ্জাম লুটের ঘটনা’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘চিকিৎসা সরঞ্জাম না... এখনো সমস্ত মালগুলো চেক করা যায়নি, তবে আপনাদের নিশ্চয়তার সঙ্গে বলতে পারি এগুলো লোহা জাতীয় জিনিস। কনস্ট্রাকশন ম্যাটেরিয়ালের পার্ট—আমরা ভিডিওতে যা দেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে একটা জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করবে। সে যেই হোক না কেন, যারাই এর সঙ্গে জড়িত, যত বড় অফিসারই হোক, আমরা প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করব। যদি চাকরিজীবী হয়ে থাকে, চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’


হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হামে আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৩৫৮ শিশু। বুধবার (২২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১২৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ শিশুর এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০ শিশুর। এ ছাড়া এ সময় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৯৩৪ জন এবং ২৭ হাজার ১৬৪ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে।


শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বিএমইউতে সেমিনার অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং সুরক্ষা জোরদারে ‘চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট মেন্টাল হেলথ (সিএএমএইচ) সার্ভিস অ্যাকশন প্ল্যান ডিসেমিনেশন ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় দেশ-বিদেশের চিকিৎসক, গবেষক এবং সংশি¬ষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট মেন্টাল হেলথের সহযোগিতায় এবং ইউনিসেফের সহায়তায় আয়োজিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এম এ সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব।

কর্মশালায় শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সেবার মানোন্নয়ন এবং জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য আর অবহেলার সুযোগ নেই। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও সক্ষম হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যখাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, বর্তমানে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা জরুরি।

কর্মশালায় অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহজাবিন মোরশেদসহ বিশেষজ্ঞরা সিএএমএইচএসএএন’র আওতায় প্রণীত অ্যাকশন প্ল্যানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বৃস্তিত পরিসরে পরিচালিত হলে শিশু ও কিশোরদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।


আজ থেকে সারা দেশে মিলবে হামের টিকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জের জিন্দাপার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। গত ৫ এপ্রিল প্রথম ধাপে শুরু হওয়া কর্মসূচি আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত এবং ১২ এপ্রিল শুরু হওয়া কর্মসূচি ১২ মে পর্যন্ত চলবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দেশের সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

গত ৫ এপ্রিল দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। দ্বিতীয় দফায় গত ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ ৪টি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ) একযোগে এই কার্যক্রম শুরু করে সরকার।

সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া বাকি দিনগুলোতে সকাল ৮টা থেকে সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হবে।


হাম ও উপসর্গে আরো ৪ জনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের এবং হাম সন্দেহে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৯৭ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৬০৬ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৬৫ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা তিন হাজার ৪৪৩ জন।

১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ হাজার ৩২৬ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১২ হাজার ৩৯৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১৮১ জনের।


দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ও দুই শিশুর হামে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ এপ্রিল সকাল আটটা থেকে ১৬ এপ্রিল সকাল আটটা পর্যন্ত সময়কালে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১১ শিশু। আর নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ৯২ শিশুর।


রামেকে হাম উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নতুন করে ১১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকরকে বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৯ জন রোগী। বর্তমানে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৪৫ জন রোগী। চলমান এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত মোট ৬১৩ জন রোগী রামেকে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৫১ জন।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ২৪ ঘণ্টায় হামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময় আরও ১১ শিশু ভর্তি হয়েছে।


একমাসে হাম ও হাম সন্দেহে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ১ মাসে সারাদেশে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৩২ ও হাম সন্দেহে ১৬৬ শিশুর। একই সময় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২ হাজার ৩৯৮ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৭৩ জনের।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে আজ ১৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও হাম সন্দেহে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। এ সময় নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৭৬ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে ৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ৩০ জন। এর পরই আছে রাজশাহী বিভাগে। এখানে হাম ও হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৫৫৬ জন ও মৃত্যু হয়েছে ৬৭ জন। সবচেয়ে কম আক্রান্ত হয়েছে রংপুর বিভাগে। এ বিভাগে ৬৪৪ জন শিশু হাম ও হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে এবং এখানে গত এক মাসে কোন মৃত্যুর ঘটনা।


২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১ জন শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি ৮ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১০৫ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭৬ জনের।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এই হিসাব ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে আজ ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে মোট ৩১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬৪ জনের।

এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আসা ১৮ হাজার ২৩১ জনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১ হাজার ৬৫২ জন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৮৯৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন ৯ হাজার ৩০৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে মৃত্যু হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৬ জনই ঢাকা বিভাগের।


হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলছে। এর সঙ্গে বাড়ছে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলও। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। ২৪ ঘণ্টায় বিভাগটিতে মারা গেছে চারজন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দৈনিক বুলেটিনে এসব তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩৭১ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকায় ৬১৫ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৮২ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকায় ৮৬ জন, যা গতকাল ছিল ১২৩ জনে।

এদিকে, এ সময় হাসপাতালে সন্দেহজনক হামে ভর্তি হয়েছে ৭২৯ জন। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৭১৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গ নিয়ে ১৮৬ জন মারা গেছেন।


হাম ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হামেই হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে হাম সন্দেহে।

রোববার (১২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম সন্দেহে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৫১ জন।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে। বাকি ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে (সন্দেহজনক)।

এছাড়া নতুন আক্রান্ত ১৪২৮ জনের মধ্যে ১৫০ জন নিশ্চিতভাবে এবং ১২৬৮ জন সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে রাজধানী ঢাকাসহ ঢাকা বিভাগে। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধুমাত্র এই বিভাগেই ৭০৩ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছে ৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হামের লক্ষণ নিয়ে বা সন্দেহজনক হিসেবে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৫১ জন শিশুর। অর্থাৎ, গত এক মাসে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৭৯ জন শিশুর মৃত্যু হলো।

একই সময়ে সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৯ জন। এছাড়া সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২২৫ জনে।


যথাযোগ্য মর্যাদায় বিএমইউতে বিশ্ব পারকিনসন্স দিবস উদযাপিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) বিশ্ব পারকিনসন্স দিবস উদযাপিত হয়েছে। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লক থেকে একটি জনসচেতনামূলক র‌্যালি বের হয়। এটি উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, পারকিনসন্স দিবস আয়োজনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই রোগের বিষয়ে জনসচেতনা বৃদ্ধি আবশ্যক। আক্রান্ত রোগীদের সচেতন করতে পারলে এবং তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তবে পারকিনসন্স রোগের বিষয়ে প্রিভিলেন্স, এই রোগে স্বাস্থ্যখাতে কী ধরণের প্রভাব পড়ছে এবং এই বিষয়ে এপিডেমিওলজিক্যাল সার্ভে করা প্রয়োজন। যাতে জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোনো রোগ বা বৈশিষ্টে আক্রান্ত মানুষের অনুপাত জানা যায় এবং তাদের রোগ, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও ঝুঁকির কারণগুলো খুঁজে বের করা যায়, যা রোগ প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি হ্রাসে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

র‌্যালিতে বিএমইউর নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. কনোজ কুমার বর্মন, অধ্যাপক ডা. শেখ মাহাবুব আলম, ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মাসুদ রানা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আনিছ আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. কাজী জান্নাত আরা, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও উপাচার্যের একান্ত সচিব লুৎফর রহমান প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, বয়স বাড়লে অনেকেরই হাঁটাচলার গতি কমে যায় এবং হাঁটতে গেলে ভারসাম্য রক্ষা করতে কষ্ট হয়। কিন্তু এর সঙ্গে যদি হাত-পা কাঁপা ও মাংসপেশী শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকে, তা হলে তা পারকিনসন্স রোগের লক্ষণ। পারকিনসন্‌ সাধারণত বৃদ্ধ বয়সের রোগ; তবে কিছু ক্ষেত্রে অল্প বয়সেও পারকিনসন্স দেখা দিতে পারে।


হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্য সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের হাম পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, গত ৪ বছর টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ছেদ পড়ায় বর্তমানে হামের এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিশ্ব পারকিনসন দিবস উপলক্ষ্যে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সচিব বলেন, রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। এ সময় দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই বলেও নিশ্চিত করেন সচিব।

গবেষক এবং পরামর্শক টিমের পরামর্শ অনুযায়ী, ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বছর বয়সি বাচ্চাদের সবাইকে হামের টিকার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

দেশজুড়ে হঠাৎ বেড়ে গেছে হামের প্রাদুর্ভাব। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। গত ৯ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১০ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টা) হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৭৭ শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬৮ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে মারা গেছে ২৩ শিশু। হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ৪০৯। আর সন্দেহজনক হাম নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৯১০। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৬০৯ শিশু।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় শুরু হয়েছে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি। ১২ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এবং ২০ এপ্রিল সারা দেশে একযোগে শুরু হবে টিকা কার্যক্রম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আগে হামের টিকা নেওয়া থাকলেও ৬ মাস থেকে ৫৯ মাসের সব শিশুদের হামের টিকা দিতে পারবে। তবে যাদের জ্বর কিংবা হাসপাতালে ভর্তি, তাদের অসুস্থ অবস্থায় টিকা নেওয়া যাবে না।


banner close